বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৩৮ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৩,৭৪৭

৩,৫০১.
তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কী স্থানান্তর করে?
  1. শক্তি
  2. ক্ষমতা
  3. বেগ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তি
ব্যাখ্যা
- তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা, স্থানান্তর করে।
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোনো জড় মাধ্যমের একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ বলে।
- তরঙ্গ দুই প্রকার। যথা- অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

• তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যবলী:
- তরঙ্গ সৃষ্টি ও সঞ্চালনের জন্য অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের বা, স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
- মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা, সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। 
- তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা, স্থানান্তর করে। 
- তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। 
- তরঙ্গে প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং অপবর্তন ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০২.
রংধনু কখন দেখা যায়? 
  1. রাতের আকাশে 
  2. বৃষ্টি হওয়ার পর রোদ ওঠার সময় 
  3. মেঘমুক্ত আকাশে 
  4. সকালবেলার কুয়াশায় 
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টি হওয়ার পর রোদ ওঠার সময় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টি হওয়ার পর রোদ ওঠার সময় 
ব্যাখ্যা

রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয়, যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারেনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখেছে। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ ওঠে, তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। 
- এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫০৩.
নিচের কোনটিকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর অপবর্তন
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩,৫০৪.
চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কৌণিক ব্যবধানকে কী বলে?
  1. চৌম্বক অক্ষ
  2. চৌম্বক মেরু
  3. বিচ্যুতি
  4. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
বিচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচ্যুতি
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। 
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মের° N ও S দেখানো হয়েছে। 

N = North Pole (উত্তর মেরু), 
S = South Pole (দক্ষিণ মেরু)। 

ভৌগোলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। চিত্রে NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। চিত্রে AB দন্ডচুম্বকের অক্ষ। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০৫.
মৌলিক বল কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

মৌলিক বল হল সেই চারটি বল যা প্রাকৃতিক ঘটনার সব ধরনের বলকে বর্ণনা করতে সক্ষম। এগুলোই মহাবিশ্বে থাকা সকল কণার মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন শক্তি ও ক্রিয়ার মূল কারণ। 

উত্তর: ঘ) ৪টি।
 
মৌলিক বল: 

- মৌলিক বল মাত্র চারটি। 
- সেগুলো হচ্ছে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।

তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetic Force): 
- যদিও তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এবং চুম্বকের বলকে আলাদা ধরনের বল মনে হয়, আসলে দুটি একই বল শুধু দুভাবে দেখা যায়। 
- মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল অনেক বেশি শক্তিশালী (১০৩৬ গুণ বা ট্রিলিওন ট্রিলিওন ট্রিলিওন গুণ শক্তিশালী)। 

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- এটাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়।

সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এটি হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

৩,৫০৬.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়? 
  1. ফ্যাক্স
  2. রেডিও
  3. মোবাইল
  4. টেলিফোন
সঠিক উত্তর:
রেডিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০৭.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফ্যাদোমিটার 
  2. ব্যারোমিটার 
  3. টেলিস্কোপ 
  4. সিসমোমিটার
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৩,৫০৮.
একটি 20 μF ক্যাপাসিটারে 10V বৈদ্যুতিক পটেনশিয়াল দেয়া হয় তাহলে সেখানে কী পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকবে?
  1. 1mJ
  2. 2mJ
  3. 3mJ
  4. 4mJ
সঠিক উত্তর:
1mJ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1mJ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি 20 μF ক্যাপাসিটারে 10V বৈদ্যুতিক পটেনশিয়াল দেয়া হয় তাহলে সেখানে কী পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকবে?

সমাধান:
শক্তি সঞ্চিত নির্ণয়ের সূত্র,
E = (1/2) × 20 × 10- 6 × 102J
= 10- 3J
= 1mJ
৩,৫০৯.
কোন শব্দ শোনার পর কত সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ মস্তিষ্কে থাকে? 
  1. ১.১ সেকেন্ড
  2. ১.০ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.৫ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১০.
এক শীতের রাতে সাইফ পানি গরম করলো খাওয়ার জন্য। গরম পানি গ্লাসে ঢালার সাথে সাথে গ্লাস ফেটে গেলো। এটা কেন ঘটলো?
  1. ক) ওই রাতে শীত বেশি ছিলো
  2. খ) কাচের গলনাঙ্ক খুব কম
  3. গ) পানি খুব একটা গরম ছিলো না
  4. ঘ) গ্লাসের ভেতরে ও বাহিরে অসম সম্প্রসারণের ফলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লাসের ভেতরে ও বাহিরে অসম সম্প্রসারণের ফলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লাসের ভেতরে ও বাহিরে অসম সম্প্রসারণের ফলে
ব্যাখ্যা
কাচের গ্লাসে গরম পানি ঢাললে গ্লাস ফেটে যায় কারণ হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গ্লাসের কোথাও প্রসারণ বেশি হয়, কোথাও প্রসারণ কম হয়৷ এজন্যই সাইফ দেখতে পেলো তার গ্লাসটি ফেটে গেছে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৫১১.
কোনটিকে 'ঈশ্বর কণা' বলা হয়?
  1. গ্রাভিটন
  2. লেপটন
  3. হিগস বোসন
  4. কোয়ার্ক
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন। 
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
 
উৎস: ব্রিটানিকা
৩,৫১২.
কোনটি বিদ্যুৎ কুপরিবাহী?
  1. তামা
  2. রাবার
  3. লোহা
  4. রূপা
সঠিক উত্তর:
রাবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবার
ব্যাখ্যা
• সুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে। 
যেমন- লোহা, তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।  

• কুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে। 
যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, রাবার, কাঁচ, পাস্টিক ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫১৩.
পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে কী বলা হয়? 
  1. গতি
  2. কম্পাঙ্ক
  3. পর্যায়কাল
  4. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ । 
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল। 
- পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ । 
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T . 
- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ 1 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে। 
অতএব এক্ষত্রে তরঙ্গের বেগ, v = λ/T 
বা, v = (1/T) × λ 
∴ v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T]। 

অন্যদিকে, 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫১৪.
আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যায়, তখন কী ঘটে?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) শোষণ
  3. গ) প্রতিসরণ
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যায়, তখন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলো হচ্ছে আলোর শোষণ, আলোর প্রতিসরণ এবং আলোর প্রতিফলন।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫১৫.
ভিট্রিয়াস হিউমার কোথায় থাকে?
  1. ক) লেন্স ও কর্নিয়ার মাঝে
  2. খ) লেন্স ও রেটিনার মাঝে
  3. গ) রেটিনা ও কর্নিয়ার মাঝে
  4. ঘ) কর্নিয়া ও আইরিশের মাঝে
সঠিক উত্তর:
খ) লেন্স ও রেটিনার মাঝে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লেন্স ও রেটিনার মাঝে
ব্যাখ্যা

লেন্স ও কর্ণিয়ার মাঝে ফাঁকা যায়গায় এক ধরনের স্বচ্ছ লবণাক্ত জলীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। লেন্স ও রেটিনার মাঝখানের ফাঁকা যায়গাও অনুরূপভাবে এক ধরণের জেলি জাতীয় স্বচ্ছ পদার্থে পূর্ণ থাকে। এদের যথাক্রমে অ্যাকুয়াস হিউমার এবং ভিট্রিয়াস হিউমার বলা হয়।
কর্ণিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, ভিট্রিয়াস হিউমার, চক্ষুলেন্স সব কিছু মিলে একত্রে একটি উত্তল লেন্সের কাজ করে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৫১৬.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো বস্তুতে আধানের উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) ইলেকট্রোস্কোপ
  2. খ) ভোল্টমিটার
  3. গ) ক্রোনোমিটার
  4. ঘ) পটেনশিওমিটার
সঠিক উত্তর:
ক) ইলেকট্রোস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইলেকট্রোস্কোপ
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুর চার্জের উপস্থিতি, প্রকৃতি এবং পরিমাণ নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র(Electroscope) বলে। যে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রে স্বর্ণপাত ব্যবহার করা হয় তাকে স্বর্ণপাত তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৫১৭.
কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. সৌর শক্তি
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  3. বায়োগ্যাস
  4. বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস 
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়োগ্যাস,  বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১৮.
সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে কী থাকে?
  1. কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
  2. তামার দণ্ড ও দস্তার দণ্ড
  3. তামার পাত ও দস্তার পাত
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
ব্যাখ্যা
• ড্রাইসেল:
- বিদ্যুৎ কোষ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ ও শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ।
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দন্ড ব্যবহৃত হয়।
- দস্তার চোঙে নিশাদল, কয়লার গুড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে লেই বা কাদার মত অবস্থায় দস্তার চোঙের মধ্যে ভর্তি করা হয়। চোঙের মধ্যে একি কার্বনের দন্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে তা চোঙটিকে স্পর্শ না করে।
- কার্বন দন্ডটির মাথায় পিতলের টুপি লাগানো থাকে। কার্বন দন্ডের চারপাশে গালা বা পিচের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এ কোষের দস্তার চোঙটি ঋণ-মেরু এবং কার্বন দন্ড ধন-মেরু হিসেবে কাজ করে। এ কোষে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড পোলারন নিবারনের কাজ করে।
- ড্রাইসেল ব্যাটারির তড়িৎচালক বল ১.৫ ভোল্ট।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১৯.
বৃষ্টিপাতের পর বাতাসে শব্দের বেগ -
  1. ক) বৃদ্ধি পায়
  2. খ) হ্রাস পায়
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) বৃষ্টিপাতের সাথে শব্দের বেগ সম্পর্কিত নয়
সঠিক উত্তর:
ক) বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
এক পশলা বৃষ্টির পর বাতাসের আর্দ্রতা/জলীয় বাষ্প বেড়ে যায়।
বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। এই কারণে বর্ষাকালে জোরে শব্দ শোনা যায়।

তাছাড়া, 
তাপমাত্রা বাড়লে মাধ্যমের ঘনত্ব কমে, ফলে শব্দের বেগ বাড়ে-
- শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে শব্দের বেগ বেশি।
- রাতের বেলার চেয়ে দিনের বেলায় শব্দের বেগ বেশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫২০.
বিপদ সংকেতের জন্য লাল আলো ব্যবহৃত হয় কেন?
  1. লাল আলোর গতি কম
  2. লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সর্বাধিক
  3. লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম
  4. লাল আলোর বিক্ষেপণ বেশী
সঠিক উত্তর:
লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সর্বাধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সর্বাধিক
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। - এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।

- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। ফলে, বিপদ সংকেতের জন্য লাল আলো ব্যবহৃত হয় । 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২১.
পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ঘড়ির কাঁটার গতি
  2. খ) সিলিং ফ্যানের গতি
  3. গ) সাইকেলের চাকার গতি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

কোনো বস্তু নির্দ্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয়
তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল
বলে।
পর্যাবৃত্ত গতি দু’ ধরণের। ঘুর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি।
এই গতি বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার, সরল রৈখিকও হতে পারে। 

ঘড়ির কাঁটার গতি, সিলিং ফ্যানের গতি, সাইকেলের চাকার গতি সবগুলোই পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ।
 
উৎস: এস এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫২২.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত?
  1. ক) 3 × 108 m/s
  2. খ) 3 × 107 m/s
  3. গ) 3 × 1011 m/s
  4. ঘ) 3 × 109 m/s
সঠিক উত্তর:
ক) 3 × 108 m/s
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 3 × 108 m/s
ব্যাখ্যা
আলোক:  
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 2.9979 × 108 m/s (সংক্ষেপে 3 × 108 m/s)
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
৩,৫২৩.
আলোর দ্বৈত প্রকৃতি (Wave-Particle Duality) দ্বারা কোনটি সঠিকভাবে প্রকাশ পায়?
  1. আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে
  2. আলো কেবল বিভঙ্গ ও ব্যতিচার প্রদর্শনকারী তরঙ্গ
  3. আলো শক্তি কেবল ধারাবাহিক তরঙ্গরূপে সঞ্চারিত হয়
  4. আলো কেবল ইলেকট্রনের প্রবাহজনিত তড়িৎধারা
সঠিক উত্তর:
আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে
ব্যাখ্যা

• আলোর দ্বৈত প্রকৃতি বলতে বোঝায় যে আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে।

• আলোর প্রকৃতি:
- আলো তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ।
- আলো বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পরস্পর লম্ব কম্পনের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়।
- আলো শূন্যস্থানে মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে।
- শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় 3 × 108 m/s.

• আলোর তরঙ্গ ধর্ম:
- আলো বিভঙ্গ, ব্যতিচার, মেরুকরণ প্রদর্শন করে।
- এসব ঘটনা আলোর তরঙ্গ প্রকৃতিকে নির্দেশ করে।
- দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন রঙের ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে।

• আলোর কণাগত ধর্ম:
- আলো ফোটন নামক কণার সমষ্টি।
- ফটোইলেকট্রিক প্রভাব আলোর কণাগত ধর্ম প্রমাণ করে।
- আলো শক্তি কণারূপে শোষিত ও নির্গত হয়।

• দ্বৈত প্রকৃতি:
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে আলোকে একই সাথে তরঙ্গ ও কণা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এই ধারণাকে Wave-Particle Duality বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৫২৪.
By which other name is the Higgs boson particle popularly known?
  1. Neutrino particle
  2. Photon particle
  3. Dark matter particle
  4. God particle
  5. Exotic boson
সঠিক উত্তর:
God particle
উত্তর
সঠিক উত্তর:
God particle
ব্যাখ্যা

• হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- হিগস বোসন ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God Particle) বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫২৫.
মাত্রা সমীকরণ প্রকাশে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ( )
  2. খ) { }
  3. গ) [ ]
  4. ঘ) “ ”
সঠিক উত্তর:
গ) [ ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) [ ]
ব্যাখ্যা
যে সমীকরণ মৌলিক একক এবং লব্ধ এককের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে মাত্রা সমীকরণ বলে।
উদাহরণ : বলের মাত্রা সমীকরণ, [F] = [MLT-2
মাত্রা সমীকরণ প্রকাশে ৩য় বন্ধনী [ ] ব্যবহার করা হয়। 

উৎসঃ ৯ম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই
৩,৫২৬.
অর্ধপরিবাহীর রোধ ও তাপমাত্রার সম্পর্ক কেমন? 
  1. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ বাড়ে
  2. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ হ্রাস পায়
  3. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ দ্বিগুণ হয়
  4. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা বাড়লে রোধ হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা বাড়লে রোধ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতুও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

- অর্ধপরিবাহীর কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৭.
স্ক্রু গজের সাহায্যে কী পরিমাপ করা যায়?
  1. তড়িৎ প্রবাহ
  2. তরলের ঘনত্ব
  3. বড় বস্তুর দৈর্ঘ্য
  4. ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- এই যন্ত্রে U আকৃতির একটি কাঠামো থাকে। 
- এই U আকৃতি বিশিষ্ট কাঠামোর দুই বাহুর প্রান্তে দুটি নল সংযুক্ত থাকে। 
- একটি নলের মধ্য দিয়ে কীলক বা দন্ড A স্থায়ীভাবে আটকানো থাকে এবং অপর বাহুতে রয়েছে একটি ফাঁপা নল C, যার মধ্য দিয়ে একটি দন্ড B সংযুক্ত থাকে যা সামনে পেছনে সরানো যায়। 
- C নলে মিলিমিটারে দাগাঙ্কিত একটি রৈখিক স্কেল থাকে। 
- C নলের বাইরের অংশ অপর একটি ফাঁপা নল দ্বারা বেষ্টিত থাকে যার বহিঃপ্রান্তে একটি বেলনাকৃতির টুপি T থাকে। 
- T এর কিনারকে সাধারণত 50 বা 100 ভাগ করা হয়। 
- যখন B স্থায়ী কীলক বা সমতল প্রান্ত বিশিষ্ট দন্ড A কে স্পর্শ করে তখন বৃত্তাকার স্কেল শূন্য দাগ ও রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগ মিলে যায়। 
- যদি দুটি স্কেলের শূন্য দাগ মিলে না যায় তাহলে বুঝতে হবে যন্ত্রটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। 


- টুপি T একবার ঘুরালে যতটুকু সরণ ঘটে এবং রৈখিক স্কেল বরাবরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাকে ক্রুর পিচ (pitch) বলা হয়। 
- বৃত্তাকার স্কেলের মাত্র একভাগ ঘুরালে, এর প্রান্ত যতটুকু সরে আসে তাকে যন্ত্রের লঘিষ্ট গণন (Least count) L.C বলা হয়। 
- স্পষ্টত যন্ত্রের পিচকে বৃত্তাকার স্কেলের মোট ভাগ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যন্ত্রের লঘিষ্ঠ গণন পাওয়া যায়। 
সুতরাং, লঘিষ্ঠ গণন = পিচ/বৃত্তাকার স্কেলের ভাগের সংখ্যা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৮.
বর্তমানে পৃথিবীর মোট শক্তি ব্যবহারের কত ভাগ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে আসে (প্রায়)? 
  1. অর্ধেক
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. চার ভাগের তিন ভাগ
  4. পাঁচ ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর:
পাঁচ ভাগের এক ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- শুধু যে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের শক্তির ওপর মানুষ ভরসা করে আছে তা নয়, এই মুহূর্তেও তারা এমন শক্তির ওপর ভরসা করে আছে, যেগুলো ফুরিয়ে যাবে না। 
- সে শক্তিগুলো আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই শক্তিগুলো অফুরন্ত, যেগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy)। 
অর্থাৎ, যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, সে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে, তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাই শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৯.
চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
  1. ক) বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে
  2. খ) আলোর বিচ্ছুরণের কারণে
  3. গ) আলোর অপবর্তনের কারণে
  4. ঘ) দৃষ্টিভ্রমের কারণে
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে
ব্যাখ্যা
চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে।
দিগন্তের কাছে তা অধিক পরিমাণে বেঁকে যায় বলেই চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায়।

Source: scientificamerican.com
৩,৫৩০.
বায়ুমন্ডলের চাপের দ্বিগুণ চাপ প্রয়োগে ভূগর্ভের কত গভীরতা থকে পানি তোলা যাবে?
  1. ক) ১০ মিটার(প্রায়)
  2. খ) ১৫ মিটার(প্রায়)
  3. গ) ২৫ মিটার(প্রায়)
  4. ঘ) ২০ মিটার(প্রায়)
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ মিটার(প্রায়)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ মিটার(প্রায়)
ব্যাখ্যা
বায়ুর চাপ P = 1 atm = 760mm(Hg) = 101325 Pa
পানির ঘনত্ব ρ = 1000 kgm-3
ধরি, পানি h গভীরতা থেকে উঠানো যাবে।

আমরা জানি, 
চাপ, P = hρg 
2 × 101325 = h × 1000 × 9.8
h = (2 × 101325)/9800
h = 20.67m

অর্থাৎ, বায়ুর চাপের দ্বিগুণ চাপ দ্বারা প্রায় ২০ মিটার গভীর থেকে পানি উঠানো যাবে।

শর্টকাট: বায়ুচাপের সমান চাপ দিয়ে প্রায় ১০ মিটার গভীর থকে পানি তোলা যায়। তাই দ্বিগুণ চাপ দিয়ে (২ × ১০) বা, ২০ মিটার(প্রায়) গভীরতা থেকে পানি তোলা যাবে।
৩,৫৩১.
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় প্রয়োগ করে-
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের ২য় সূত্র 
  3. নিউটনের ৩য় সূত্র
  4. নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র
সঠিক উত্তর:
নিউটনের ৩য় সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটনের ৩য় সূত্র
ব্যাখ্যা

• পানিতে নৌকা চলার সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটে। 

- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
- অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।

উদাহরণ:
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
- মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৩২.
আমাদের দেশে সরবরাহকৃত পরিবর্তী ভোল্টেজের কম্পাংক কত?
  1. ক) 20 Hz
  2. খ) 50 Hz
  3. গ) 100 Hz
  4. ঘ) 150 Hz
সঠিক উত্তর:
খ) 50 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 50 Hz
ব্যাখ্যা
একমুখীকরণ:
- তড়িৎশক্তি সাধারণত এসি (AC) সরবরাহ হিসেবে উৎপাদন ও বিতরণ করা হয়।
- বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃক সরবরাহকৃত ভোল্টেজ সাইন তরঙ্গ আকারে পরিবর্তিত হয়।
- আমাদের দেশে সরবরাহকৃত পরিবর্তী ভোল্টেজের কম্পাংক 50 Hz
- পরিবর্তী এই ভোল্টেজ ব্যবহার করা হয় আলোকশক্তি, তাপশক্তি উৎপাদনে এবং তড়িৎ মোটর ইত্যাদিতে।
- কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন কাজে ডিসি (DC) সরবরাহের অসংখ্য প্রয়োগ রয়েছে।
- বিশেষ করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা বর্তনী পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ (Direct Current) প্রয়োজন হয়।
- ব্যাটারি বা শুষ্ক কোষ হলো ডিসি প্রবাহের প্রধান উৎস।
- কিন্তু এদের ভোল্টেজ বেশ কম এবং এগুলো প্রায়ই পরিবর্তন করতে হয় বলে বেশ ব্যয়বহুল।
- অর্থাৎ ব্যাটারি দ্বারা আমাদের সব প্রয়োজন মিটানো সম্বব নয়।
- তাই আমাদের প্রয়োজন বৈদ্যুতিক সরবরাহ লাইনের দিক পরিবর্তী তথা এসি ভোল্টেজকে একমুখী তথা ডিসি ভোল্টেজ রূপান্তরিত করা।
- যে প্রক্রিয়ায় এই রূপান্তরের কাজটি সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫৩৩.
বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. তাপ 
  2. শব্দ 
  3. আলোক
  4. যান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক মোটর একটি ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্র যা তড়িৎ শক্তিকে (Electrical Energy) যান্ত্রিক শক্তিতে (Mechanical Energy) রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে 

শক্তির রূপান্তর: 

- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৩৪.
সরল ছন্দিত স্পন্দনের বৈশিষ্ট্য কোনটি ভুল? 
  1. এটি সরল রৈখিক গতি
  2. ত্বরণ সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী
  3. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  4. ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে
ব্যাখ্যা
- ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে এটি ভুল, কারণ এটি সব সময় সাম্যাবস্থান অভিমুখী। 
অর্থাৎ, ত্বরণ সরণের দিকের বিপরীত হতে পারে, কিন্তু “মানের বিপরীত” বলতে কিছু নেই। মান (magnitude) সবসময় ধনাত্মক বা শূন্য হয়। 

সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
যেমন- 
• কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি। 
• তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি। 
• পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩৫.
প্রত্যেক কম্পাঙ্কের জন্য সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কী?
  1. ফোটন 
  2. মেসন 
  3. প্রোটন 
  4. পজিট্রন
সঠিক উত্তর:
ফোটন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন 
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলো এবং অন্যান্য তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের মৌলিক কণা বা শক্তির প্যাকেট। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে, বিকিরিত বা শোষিত শক্তির পরিমাণ বিচ্ছিন্ন এবং একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের (f) জন্য শক্তির এই নির্দিষ্ট পরিমাণকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে। ফোটনের শক্তি (E) সরাসরি কম্পাঙ্কের (f) সমানুপাতিক, যা E = hf সূত্র দ্বারা প্রকাশ করা হয় (যেখানে h হলো প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক)। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের জন্য, ফোটনই হচ্ছে সেই সর্বনিম্ন শক্তির বাহক কণিকা। 

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- মেসন হলো এক ধরণের হ্যাড্রন কণা যা প্রধানত সবল নিউক্লীয় বলের মিথস্ক্রিয়ায় জড়িত এবং এদের শক্তি কম্পাঙ্কের উপর নির্ভরশীল নয়।
- প্রোটন একটি উপ-পারমাণবিক কণা যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় এবং এর একটি নির্দিষ্ট ভর আছে। এটি শক্তির বাহক হিসেবে কাজ করে না।
- পজিট্রন হলো ইলেকট্রনের প্রতিকণা (antiparticle), এটির ইলেকট্রনের সমান ভর এবং ধনাত্মক চার্জ আছে। এটিও পদার্থের একটি গাঠনিক উপাদান (যদিও প্রতিকণা) এবং ফোটনের মতো শক্তি কোয়ান্টা (quanta) নয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৩,৫৩৬.
এক ফ্যাদম সমান কত ফুট?
  1. ক) ৩ ফুট
  2. খ) ৫ ফুট
  3. গ) ৬ ফুট
  4. ঘ) ৭ ফুট
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ ফুট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ ফুট
ব্যাখ্যা
এক ফ্যাদম (Fathom) সমান ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার)। যা দীর্ঘকাল পানির গভীরতার নটিক্যাল একক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
৩,৫৩৭.
পাহড়ের উপর রান্না করতে বেশি সময় লাগে কেন?
  1. ক) বায়ুর চাপ বেশি থাকার কারণে
  2. খ) বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
  3. গ) পাহড়ের উপর বাতাস কম থাকায়
  4. ঘ) পাহড়ের উপর তাপমাত্রা বেশি থাকায়
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
ব্যাখ্যা
- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়।
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়৷
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে।
- তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে।
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে।
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৩৮.
দূর থেকে আমরা কোন রং আগে দেখতে পাই?
  1. ক) নীল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) লাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
• দূর থেকে আমরা লাল রং আগে দেখতে পাই।

- লাল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। তাই লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়।
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর।
- আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে তাঁর বিক্ষেপণ তত কম হয়।
- লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায় তাই উঁচু টাওয়ারে লালা রং এর লাইট ব্যবহৃত হয় যাতে বিমান নিচ দিয়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩৯.
নিচের কোনটি ব্যবহার করে রেক্টিফিক্যাশন করা হয়?
  1. ডায়োড
  2. রেজিস্টর
  3. ক্যাপাসিটার
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
ডায়োড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়োড
ব্যাখ্যা
• Rectification (রেক্টিফিক্যাশন ):
-  শব্দটি মূলত ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত হয় এবং এর অর্থ হলো AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) এ রূপান্তর করা।
-  এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য ডায়োড ব্যবহার করা হয়।

• ডায়োড:
- ডায়োড একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস, যা কেবলমাত্র এক দিক থেকে কারেন্ট প্রবাহিত করতে দেয়।
- যখন AC কারেন্ট ডায়োডের মধ্য দিয়ে যায়, এটি কারেন্টের ঋণাত্মক অংশকে ব্লক করে, ফলে DC পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- ক্যাপাসিটার: এটি চার্জ সঞ্চয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- রেজিস্টর: এটি কারেন্ট প্রবাহকে সীমিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সফরমার: এটি ভোল্টেজের মাত্রা পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫৪০.
অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে- 
  1. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  2. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
  3. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল
  4. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
সঠিক উত্তর:
খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৫৪১.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত 'GPS' এর পূর্ণরূপ কোনটি? 
  1. Global Publication System
  2. Global Pointing System
  3. Global Positioning System
  4. Great Positioning System
সঠিক উত্তর:
Global Positioning System
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Global Positioning System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত GPS এর পূর্ণরূপ 'Global Positioning System'. 
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
৩,৫৪২.
পালতোলা নৌকা কোন শক্তির সাহায্যে চলে?
  1. তাপ শক্তি
  2. আলোক শক্তি
  3. বায়ু শক্তি
  4. তড়িৎ শক্তি
সঠিক উত্তর:
বায়ু শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু শক্তি
ব্যাখ্যা
বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৩.
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে টারবাইন ঘুরানোর জন্য কি করা হয়?
  1. মোটর ব্যবহার করা হয়
  2. পানির গতিশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
  3. পানির বিভবশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
  4. জেনারেটর ব্যবহার করা হয়
সঠিক উত্তর:
পানির বিভবশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানির বিভবশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
ব্যাখ্যা
• জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়।
- একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টারবাইন ঘোরানো হয়।
- এই টারবাইন ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩,৫৪৪.
যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চন্দ্র অবস্থান করে তখন কোনটি ঘটে?
  1. ক) চন্দ্রগ্রহণ
  2. খ) সূর্যগ্রহণ
  3. গ) আমবস্যা
  4. ঘ) পূর্ণিমা
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্যগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে অবস্থান করে। ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে। এ ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে। সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৪৫.
60kg ভরের এক ব্যক্তি 940kg ভরের লিফটে চড়ে উপরে উঠতে থাকলে লিফটের ঝুলন রশিতে টান হবে (g = 10ms-2)
  1. ক) 1000 N
  2. খ) 880 N
  3. গ) 9680 N
  4. ঘ) 11000 N
সঠিক উত্তর:
ঘ) 11000 N
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 11000 N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 60kg ভরের এক ব্যক্তি 940kg ভরের লিফটে চড়ে উপরে উঠতে থাকলে লিফটের ঝুলন রশিতে টান হবে (g = 10ms-2)

সমাধান:
মনে করি, লিফটের ত্বরণ = a

প্রশ্নে ত্বরণ এর মান উল্লেখ করা উচিত ছিল, কিন্তু যেহেতু পিএসসি'র প্রশ্নে ত্বরণ এর মান দেওয়া ছিল না সেহেতু হিসেবের সুবিধার্তে লিফটের ত্বরণ a = 1 ms-2 ধরা হয়েছে। অন্য কোন মান ধরলে উত্তর আসবে না।

দেওয়া আছে
m = 60 + 940 = 1000 kg
g = 10 ms-2

টান = m(g + a)
= 1000(10 + 1)
= 11000 N
৩,৫৪৬.
অ্যামিটার মূলত কোনটি পরিমাপ করে?
  1. তড়িৎ প্রবাহ
  2. ভোল্টেজ 
  3. বিভব পার্থক্য
  4. রোধ 
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- অ্যামিটারের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়। 
- অ্যামিটার বর্তনীর সাথে শ্রেণি সংযোগে যুক্ত থাকে। 
- এই যন্ত্রে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। 
- এই গ্যালভানোমিটারে বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি অ্যাম্পিয়ার, মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা মাইক্রোঅ্যাম্পিয়ার এককে দাগকাটা একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বিদ্যুৎ কোষের মতো অ্যামিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

ভোল্টমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হবে, ভোল্টমিটারকে সেই দুই বিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- ভোল্টমিটারে মূলতঃ এই যন্ত্রে একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। 
- এর বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি ভোল্ট এককে দাগাঙ্কিত একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হয় ভোল্টমিটারটিকে সেই দুই কিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- তড়িৎ কোষ বা অ্যামিটারের মতো ভোল্টমিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৫৪৭.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় ব্যবধান কত হতে হবে? 
  1. 0.1 সেকেন্ড 
  2. 0.05 সেকেন্ড
  3. 0.01 সেকেন্ড
  4. 0.001 সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৪৮.
'আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জনক' বলা হয় কাকে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতা তত্ত্ব:
- আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক। বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
- আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তাই আলবার্ট আইনস্টাইনকে 'আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জনক' বলা হয়।

⇒ ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। যথা -
- প্রথম অনুসিদ্ধান্ত হচ্ছে: কোন বিশ্বজনীন নির্দেশ কাঠামো নাই। সব নির্দেশ কাঠামো আপেক্ষিক। আপেক্ষিক নির্দেশ কাঠামোসমূহ পরস্পর পরস্পরের সাপেক্ষে নির্দিষ্ট গতিবেগে গতিশীল। এসব নির্দেশ কাঠামোতে পদার্থবিদ্যার সূত্রসমূহ একইরূপ সমীকরণ দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
- দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্ত হচ্ছে: পর্যবেক্ষক যেকোন নির্দেশ কাঠামোতে থাকুক না কেন তিনি মুক্ত স্থানে আলোর গতিবেগ একই দেখতে পান। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব উপস্থাপনের ২৪ বৎসর পূর্বে অর্থাৎ ১৮৮১ সনে মাইকেলসন-মর্লে পরীক্ষণ সাহায্যে মুক্ত স্থানে আলোর গতিবেগের অপরিবর্তনশীলতা প্রমাণ করে গেছেন।

• আলবার্ট আইনস্টাইন:
- আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী।
- আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম জার্মানির উল্‌ম শহরে ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ।
- তাকে ২০ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে মনে করা হয়।
- তিনি আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এবং বিখ্যাত সমীকরণ E=Mc2 আবিষ্কার করেন, যা বিজ্ঞানের গতানুগতিক ধারণাকে বদলে দেয়।
- আইনস্টাইন তাঁর ফটোইলেক্ট্রিক প্রভাব আবিষ্কারের জন্য ১৯২১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন।

উৎস: i) পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩,৫৪৯.
কোনটি প্যারা চৌম্বক পদার্থ?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি  পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৩,৫৫০.
যে পদার্থে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না তাকে কী বলা হয়?
  1. অন্তরক
  2. পরিবাহী
  3. অর্ধপরিবাহী
  4. সুপারকন্ডাকটর
সঠিক উত্তর:
অন্তরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তরক
ব্যাখ্যা

পরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই আধান বা তড়িৎ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।

অপরিবাহী পদার্থ:
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি।
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না

অর্ধপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৫১.
আর্কিমিডিসের নীতির সাহায্যে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. প্লবতা
  2. আলোর প্রতিফলন
  3. ভরবেগ
  4. ত্বরণ
সঠিক উত্তর:
প্লবতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লবতা
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতি:
বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল উর্ধ্বচাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে
তাই, কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।।
৩,৫৫২.
আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা করেন কে?
  1. ক) গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) থমাস ইয়াং
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও গ্যালিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও গ্যালিলি
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও গ্যালিলির হাতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা হয়। 

- গ্যালিলিও গ্যালিলির (১৫৬৪-১৬৪২) জন্ম ইতালির পিসায়।
- তাঁর বাবা ভিনসেঞ্জো গ্যালিলি ছিলেন গণিতজ্ঞ ও সংগীতশিল্পী।
- দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মানোন্নয়ন ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতিসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয় তাঁকে।
- এক ওলন্দাজ চশমা নির্মাতার দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণের কথা শুনে ১৬০৯ সালে গ্যালিলি উন্নতমানের দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ করেন।
- ১৬২৪ সালে তিনি প্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেন।  

সূত্র- উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, ডক্টর শাহাজাহান তপন।
৩,৫৫৩.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ-
  1. একই হয়
  2. বেশি হয়
  3. কম হয়
  4. খুব কম হয়
সঠিক উত্তর:
একই হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একই হয়
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ একই হয়। 
- ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফুল স্পিডে বা আস্তে যেভাবেই ঘুরানো হউক না কেন পাওয়ার একই খরচ হয়, কারণ ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ইন্ডাকটর দ্বারা তৈরি। 
- ফ্যান চলার সময় এই রেগুলেটর কমিয়ে দিলে ফ্যানের গতি কমে কিন্তু ইন্ডাকটর উত্তপ্ত হয়, এই উত্তাপের কারণে বৈদ্যুতিক পাওয়ার খরচ হয়। 
- আবার ইলেকট্রনিক রেগুলেটরের বেলায় ভিন্ন, এটি একটি ভেরিয়েবল রেজিস্টর যা তৈরি হয় থাইরিস্টর ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে। 
- এতে উত্তাপের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকার কারণে রেগুলেটর লসও খুবি নগন্য হয়, ফলে ফ্যানের গতি কমালে পাওয়ার কম খরচ হবে এবং ফ্যানের গতি বাড়ালে পাওয়ার খরচ বাড়বে। 
- তাই ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম হলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। 

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৪.
গামা রশ্মিকে কোন মাধ্যমে প্রভাবিত করা যায়?
  1. বিদ্যুৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. বিদ্যুৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্র উভয়ই
  4. কোনো মাধ্যমে নয়
সঠিক উত্তর:
কোনো মাধ্যমে নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো মাধ্যমে নয়
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি হলো উচ্চ শক্তির একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো গামা রশ্মি বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ বা আধানহীন, তাই এটি কোনো বৈদ্যুতিক আধান বহন করে না। আধানহীন হওয়ার কারণে গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র (Electric Field) বা চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) দ্বারা প্রভাবিত বা বিচ্যুত হয় না। 

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি হচ্ছে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)।
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন কণা, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৫৫.
বিদ্যুৎ আবিষ্কারের সাথে কোন শিল্প বিপ্লবের সম্পর্ক রয়েছে?
  1. ১ম শিল্প বিপ্লব
  2. ২য় শিল্প বিপ্লব
  3. ৩য় শিল্প বিপ্লব
  4. ৪ র্থ শিল্প বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
২য় শিল্প বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২য় শিল্প বিপ্লব
ব্যাখ্যা
বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে। বর্তমান বিশ্বও টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট তিনটি শিল্পবিপ্লব ঘটেছে। এ শিল্পবিপ্লবগুলো বদলে দিয়েছে সারা বিশ্বের গতিপথ, বিশ্ব অর্থনীতির গতিধারা।

• ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব। এতে এক ধাপে অনেকদূর এগিয়ে যায় বিশ্ব।

• এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের ফলে একেবারেই পাল্টে যায় মানুষের জীবনের চিত্র। কায়িক পরিশ্রমের জায়গা দখল করে নেয় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি। শারীরিক শ্রমের দিন কমতে থাকে দ্রুততর গতিতে। এটিকে বলা হয় দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব। প্রথম শিল্পবিপ্লব থেকে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের প্রভাব আরও বিস্তৃত।

• দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট। শুরু হয় ইন্টারনেটভিত্তিক তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। ইন্টারনেটের আবির্ভাবে তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারা বিশ্বের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ম্যানুয়াল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের।

• চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আসছে এ ভার্চুয়াল জগতেরই আরও বিস্তৃত পরিসর নিয়ে। যেখানে মানুষের আয়ত্তে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস বা যন্ত্রের ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণ রূপেই মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে! এ নিয়েই এখন তোলপাড় চলছে সারা দুনিয়াজুড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর এ ডিজিটাল বিপ্লবকেই বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। বিশ্ব এখন জোর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে। বাংলাদেশও রয়েছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে।

উৎস: www.jugantor.com.
৩,৫৫৬.
ক্যাসেটের ফিতার শব্দ কী হিসেবে রক্ষিত থাকে? 
  1. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
  2. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
  3. মেমোরি চিপ হিসেবে
  4. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
ব্যাখ্যা

- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
- ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
- চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়। যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, লাইভ লেকচার এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৫৫৭.
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. বিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর আকারের অর্ধেক হবে
  2. বিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর আকারের সমান হবে
  3. বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন হবে না
  4. বাস্তব বিম্ব গঠিত হবে
সঠিক উত্তর:
বিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর আকারের সমান হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর আকারের সমান হবে
ব্যাখ্যা
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
১. দর্পণ থেকে বস্তু দূরত্ব যত, দর্পণ থেকে বিম্বের দূরত্ব তত।
২. বস্তু ও বিম্ব সংযোগকারী রেখা দর্পণ তলকে লম্বভাবে ছেদ করে।
৩. সমতল দর্পণে গঠিত বিম্ব অসদ ও সোজা।
৪. বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়।
৫. বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন ঘটে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৮.
বেগ নির্ণয়ের জন্য কোন মৌলিক রাশিগুলোর প্রয়োজন হয়? 
  1. তাপমাত্রা এবং ভর
  2. ভর এবং সময়
  3. দূরত্ব এবং সময়
  4. দীপন তীব্রতা এবং ভর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব এবং সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব এবং সময়
ব্যাখ্যা

ভৌত রাশি: 
- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায় যেখানে ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। পানির তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায় যেখানে পানির তাপমাত্রাও একটি রাশি ইত্যাদি। 

মৌলিক রাশি: 
- এসকল রাশির মধ্যে কয়েকটি রাশি রয়েছে যেগুলো পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না। এ রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ, যেগুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৫৯.
যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের-
  1. আইসোটোন
  2. আইসোবার
  3. আইসোটোপ
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number):
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬০.
'স্পিকার' কোন শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তরিত করে?
  1. তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে
  3. শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে
  4. শব্দ শক্তিকে তাপ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
স্পিকার:
- স্পিকার মাইক্রোফোনের বিপরীত কাজটি করে।
- এটি তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

⇒ তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে পরিণত করার জন্য স্পিকারের ভিতর স্থায়ী চুম্বকের সামনে একটি ছোট তড়িতচুম্বক রাখা হয়।
- স্থায়ী চুম্বকটি স্থিরভাবে অবস্থান করে কিন্তু তড়িতচুম্বকটি ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে।
- যখন মাইক্রোফোন থেকে আগত তড়িৎ শক্তি তড়িতচুম্বকের মধ্যে প্রবাহিত হয়, তখন স্থির চুম্বক হতে সৃষ্ট চৌম্বক ক্ষেত্র এবং চলমান চৌম্বক ক্ষেত্রে মিথস্ক্রিয়া ঘটে।
- এর ফলে ঝুলন্ত তড়িতচুম্বকটি সামনে পিছনে চলাচল করে।
- এ চলাচলের ফলে বায়ুর সংকোচন-প্রসারণ ঘটে এবং শব্দের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬১.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. অ্যামপ্লিফায়ার
  2. রেজিস্ট্যান্স 
  3. রেকটিফায়ার
  4. ক্যাপাসিটর 
সঠিক উত্তর:
অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামে পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৬২.
কোন ধরনের মাধ্যম শব্দ তরঙ্গকে বহন করতে পারে না?
  1. কঠিন মাধ্যমে
  2. তরল মাধ্যমে
  3. শূন্য মাধ্যমে
  4. বায়ু মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• শব্দ তরঙ্গ হলো কণার কম্পন থেকে উৎপন্ন সংকেত, যা কণার মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে। শব্দের জন্য কোনো মাধ্যমের কণা থাকা আবশ্যক। কঠিন, তরল এবং বায়ুর কণার উপস্থিতি থাকায় শব্দ এগুলোতে চলতে পারে। কিন্তু শূন্য বা ভ্যাকুয়ামে কণা নেই, তাই শব্দের জন্য কোন মাধ্যম নেই এবং শব্দ তরঙ্গ শূন্যে চলতে পারে না। সুতরাং, শূন্য মাধ্যম শব্দ বহন করতে অক্ষম।

শব্দ তরঙ্গ:
- বস্তু একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। 
- তরঙ্গ চলাচলের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গ প্রবাহের দিক ও কম্পনের দিক একই। 
- সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৬৩.
যে স্থানে g-এর মান বেশি, সেখানে বস্তুর ওজন কেমন হয়? 
  1. বেশি 
  2. কম 
  3. শূন্য 
  4. অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সে স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে g - এর মান বেশি হওয়ায় বস্তুর ওজনও বেশি। 
- আবার পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজনও শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৫৬৪.
পরমশূন্য তাপমাত্রা হল-
  1. ক) 0°C
  2. খ) 0K
  3. গ) 273K
  4. ঘ) 212°F
সঠিক উত্তর:
খ) 0K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 0K
ব্যাখ্যা
স্থির চাপে গাণিতিকিভাবে যে তাপমাত্রায় যেকোনো গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়, সেই তাপমাত্রাকে (-273°C বা 0K) পরম শূন্য তাপমাত্রা বলা হয়। সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩,৫৬৫.
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে কোনটি? 
  1. রেজিস্টর 
  2. ট্রান্সফরমার 
  3. রেকটিফায়ার 
  4. ট্রানজিস্টর 
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার 
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
অর্থাৎ, এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে- রেকটিফায়ার। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। 
যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 
 
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
 
উৎস: 
১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন। 
৩। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৬.
একটি চুম্বক শলাকাকে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি কোন দিকে মুখ করে থাকে?
  1. পূর্ব-পশ্চিম
  2. উত্তর-দক্ষিণ
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
উত্তর-দক্ষিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: (খ) উত্তর-দক্ষিণ

 • চুম্বকত্ব: 
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্ম বিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং যাকে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্যাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দিকে (উত্তর -দক্ষিণে) মুখ করে থাকে, তাকেই সাধারণ ভাবে চুম্বক বলা হয়। 
- যে ধর্মের জন্য একটি চুম্বক অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে সেই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌত ধর্ম। 
- কোন পদার্থকে কৃত্রিম উপায়ে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা ইত্যাদির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- আর যেসব বস্তু চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত বা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ (Magnetic substance) বলা হয়। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে এর ভারকেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি সর্বদাই উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে। 
- চুম্বকের এই অবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রানী এলিজাবেথের গৃহ চিকিৎসক ড. গিলবার্ট সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি চুম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক। 
- পৃথিবীর এ চুম্বকত্বকে ভূ-চুম্বকত্ব বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৭.
ভেক্টর রাশির ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায় না।
  2. খ) ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
  3. গ) ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
  4. ঘ) ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
সঠিক উত্তর:
গ) ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়।
এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

 ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি।  

ভেক্টর রাশির ধর্ম (Properties of vector):
ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। যেমন-
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬৮.
পরপর দুটি সুস্পন্দ বিন্দুর বা দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক 
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সমান 
  3. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তিনগুণ
  4. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক 
ব্যাখ্যা

স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে।
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
​- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৯.
বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) ওয়াট-সেকেন্ড
  2. খ) ওয়াট-ঘন্টা
  3. গ) কিলোওয়াট-সেকেন্ড 
  4. ঘ) কিলোওয়াট-ঘন্টা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কিলোওয়াট-ঘন্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কিলোওয়াট-ঘন্টা
ব্যাখ্যা
বোর্ড অফ ট্রেড ইউনিট কে সংক্ষেপে ইউনিট বলা হয়। এটি বিদ্যুৎ শক্তি পরিমাপের একক। পদার্থ বিজ্ঞান এ ব্যবহৃত একক 1 কিলোওয়াট/ঘন্টা কে বাণিজ্যিকভাবে হিসেবের সুবিধার্থে 1 ইউনিট বলা হয়। 
এটি বিদ্যুৎ এর বানিজ্যিক ব্যবহারের একক। এটি ইউনিট নামেই বেশ পরিচিত। 
 
SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৩,৫৭০.
A microphone is a device that captures sound input and converts it into ____________________.
  1. Heat energy
  2. Solar energy
  3. Gravitational energy
  4. Electrical energy
  5. Wind energy
সঠিক উত্তর:
Electrical energy
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Electrical energy
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোফোনে শব্দ শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রুপান্তর করা হয়। আর স্পীকারে তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রুপান্তর করা হয় ।

• শক্তির রূপান্তর:
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
- বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
- কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
- বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
- কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
- কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
- ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি।
৩,৫৭১.
বজ্রপাতের সময় যে বৈদ্যুতিক ঝলক দেখা যায়,তা পদার্থের কোন অবস্থা?
  1. ক) প্লাজমা অবস্থা
  2. খ) গ্যাসীয় অবস্থা
  3. গ) তরল অবস্থা
  4. ঘ) কঠিন অবস্থা
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাজমা অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাজমা অবস্থা
ব্যাখ্যা
• প্লাজমা পদার্থের অণুসমূহ পরস্পরের কাছাকাছি থাকে, তবে তাদের মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি কঠিন পদার্থের মত প্রবল নয়। 
• বজ্রপাতের সময় যে বৈদ্যুতিক ঝলক দেখা যায় তা প্লাজমা।

- প্লাজমা অবস্থা হলো পদার্থের চতুর্থ অবস্থা।
- প্লাজমা অবস্থায় পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা থাকে
- প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস। 
- এ অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়।
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- সূর্যসহ মহাবিশ্বের নক্ষত্রসমূহের অভ্যন্তরভাগ প্লাজমা অবস্থার উদাহরণ ।
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
 
উৎস : পদাথবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭২.
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত -
  1. ক) আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  2. খ) আলোর প্রতিসরণ
  3. গ) শব্দের প্রতিধ্বনি
  4. ঘ) শব্দের প্রতিসরণাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দের প্রতিধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দের প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা

প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 

- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকেই শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূলধ্বনি ও প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড হওয়া প্রয়োজন।
শব্দের প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
হাইড্রোফোন নামে এক রকমের যন্ত্রের সাহায্যে মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে সময়ের ব্যবধান নিখুঁতভাবে পাওয়া যায়।


প্রতিধ্বনির ব্যবহারসমূহ- 
১. হিমশৈল জাহাজের অস্তিত্ব নির্ণয়ে
২. বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ নির্ণয়ে
৩. পাতলা পাতের পুরুত্ব নির্ণয়ে
৪. ক্ষতিকারক অণুজীব ধ্বংস করতে প্রতিধ্বনি ব্যবহার করা হয়
৫. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করবার ক্ষেত্রে। 

সূত্র: National Ocean Service [লিঙ্ক]

৩,৫৭৩.
কোন মাধ্যমে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত সঞ্চালিত হয়?
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. শূন্য
  4. বায়ু 
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
ব্যাখ্যা

শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়; আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩,৫৭৪.
চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক্স-রের ভেদন ক্ষমতা ব্যবহার করে কী করা হয়?
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন
  2. রঙিন ছবি তোলা 
  3. রেডিওগ্রাফি গ্রহণ
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
রেডিওগ্রাফি গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিওগ্রাফি গ্রহণ
ব্যাখ্যা

এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। 
- এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। 
- বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। 
- এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৭৫.
কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা কম? 
  1. কালো
  2. সাদা
  3. হলুদ
  4. বেগুনি
সঠিক উত্তর:
সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদা
ব্যাখ্যা
- সাদা রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম, কারণ সাদা রঙের বস্তু তার উপর আপতিত প্রায় সমস্ত আলো বা তাপ বিকিরণ করে। 
- ফলে গরমের সময় সাদা কাপড় পরলে আরাম পাওয়া যায়। 
- অপরদিকে কালো রঙের বস্তু বা কাপড়ের তাপ শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। 
- কালো রঙের বস্তু বা কাপড় তাপ বিকিরণ করতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭৬.
নিচের কোন পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না?
  1. লোহা 
  2. নিকেল
  3. রূপা 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপা 
ব্যাখ্যা

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট প্রভৃতি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৭৭.
বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কোন ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়?
  1. চল ঘর্ষণ
  2. স্থিতি ঘর্ষণ
  3. প্রবাহী ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা - 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ: 
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাঁধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 

- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭৮.
ধনুক থেকে তীর ছুড়লে শক্তির কী ধরণের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) স্থিতি শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
  2. খ) স্থিতি শক্তি থেকে গতি শক্তি
  3. গ) গতি শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
  4. ঘ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে গতি শক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) স্থিতি শক্তি থেকে গতি শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্থিতি শক্তি থেকে গতি শক্তি
ব্যাখ্যা
ধনুক থেকে তীর ছুড়লে স্থিতি শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার।
১. গতি শক্তি এবং
২. বিভবশক্তি বা স্থিতিশক্তি।

বিভবশক্তি বা স্থিতিশক্তি:
বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক। আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। 

গতিশক্তি:
গতিশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ। গতিশীল অবস্থায় বস্তু যে শক্তি লাভ করে তাই হচ্ছে গতিশীল বস্তুটির গতিশক্তি। স্থির বস্তুতে বল প্রয়োগ করলে বস্তু গতি প্রাপ্ত হয়।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নমব-দশম শ্রেণি।
৩,৫৭৯.
ঘর্ষণ বল ও টান বল কোন ধরনের বলের উদাহরণ?
  1. চৌম্বক বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. স্পর্শ বল
  4. অস্পর্শ বল
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ বল
ব্যাখ্যা
বল: 
- যে বাহ্যিক কারণ বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটাতে চায় তাকে বল বলে। 
- যে বল বস্তুকে গতিশীল করে বা গতি বাড়িয়ে দেয় তাকে ত্বরণ সৃষ্টিকারী বল বলে। 
- যে বল গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দেয় বা বেগ কমিয়ে দেয় তাকে মন্দন সৃষ্টিকারী বল বলে। 
- কোনো বস্তুকে ঠেলতে বা টানতে হলে প্রত্যক্ষ স্পর্শ প্রয়োজন তাই এই বলকে বলা হয় স্পর্শ বল। 
যেমন- ঘর্ষণ বল, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বল, টান বল ইত্যাদি স্পর্শ বলের উদাহরণ। 
- দুটি চুম্বকের বিপরীতমেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে এবং সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বা বিকর্ষণ হচ্ছে অস্পর্শ বল। 
- পৃথিবী তার পৃষ্ঠস্থ ও নিকটস্থ সকল বস্তুকে এর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বল হচ্ছে অভিকর্ষ বা মহাকর্ষ বল। 

বলের কিছু বৈশিষ্ট: 
১। বল প্রয়োগে কোনো বস্তুর জড়তার পরিবর্তন হয় বা হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। 
২। বল সর্বদা জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল থাকে। অর্থাৎ, বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে আরেকটি বল ক্রিয়া করে। একারণে বলের ক্রিয়াকে মিথস্ক্রিয়াও বলে। 
যেমন- যখন কোনো বস্তুকে দড়িতে বেঁধে টানা হয় তখন প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে দড়িতে যে একটা বল ক্রিয়া করে তাকে টান বল বলে। 
৩। বল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়। অর্থাৎ, বল প্রয়োগে বস্তু ত্বরণ বা মন্দন হয়। একটি গতিশীল বস্তুকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এতে এর বেগ বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ ত্বরণ হবে। গতিশীল গাড়ীকে পিছন থেকে টেনে ধরলে এর বেগ হ্রাস পাবে বা মন্দন হবে। 
৪। বল বস্তুকে বিকৃত করতে পারে বা ভৌত ধর্মের পরিবর্তন করতে পারে। 
৫। বল একটি ভেক্টর রাশি কারণ এর মান ও দিক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮০.
বিকৃতির একক কী?
  1. m
  2. Nm-2
  3. kgm-3
  4. একক নেই
সঠিক উত্তর:
একক নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক নেই
ব্যাখ্যা
বিকৃতি:
- কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে বস্তুর দৈহিক পরিবর্তন ঘটে।
- এই পরিবর্তন দৈর্ঘ্যে, আকারে বা আয়তনে হতে পারে। কোন বস্তুর একক মাত্রায় যে পরিবর্তন ঘটে তাকে বিকৃতি বলে ।
- যদি কোনো বস্তুর আদি মাত্রা = x এবং বল প্রযুক্ত হবার পর মাত্রা =y, মাত্রার পরিবর্তন = x ~ y 
তাহলে একক মাত্রার পরিবর্তন বা বিকৃতি = x~y / x

বিকৃতি যেহেতু একই রাশির অনুপাত সেহেতু এর কোনো একক নাই ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮১.
কুরি তাপমাত্রা বলতে কী বোঝায়? 
  1. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থ তাপ পরিবাহনের ক্ষমতা হারায় 
  2. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থ সর্বাধিক চুম্বকায়িত হয় 
  3. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় 
  4. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গলতে শুরু করে 
সঠিক উত্তর:
যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় 
ব্যাখ্যা

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮২.
MRI কোন্ নীতিতে কাজ করে?
  1. শরীরের ত্রি-মাত্রিক চিত্র তৈরি করতে এক্স-রে ব্যবহার করে
  2. তেজস্ক্রিয় ট্রেসার দ্বারা নির্গত গামা-রে সনাক্তের মাধ্যমে 
  3. শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
  4. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- MRI (Magnetic Resonance Imaging) মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনকে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে সারিবদ্ধ করে এবং তাদের শক্তি নির্গমনের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে, যা এক্স-রে বা শব্দ তরঙ্গের চেয়ে ভিন্ন। 

এমআরআই (MRI): 
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়। 

- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- শরীরের যে অংশের এমআরআই স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮৩.
বিটা রশ্মি কোন ধরনের বিকিরণ হিসেবে পরিচিত?
  1. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  2. প্রোটনের প্রবাহ
  3. নিউট্রনের প্রবাহ
  4. মেসনের প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত একটি ধরনের ইলেকট্রন বিকিরণ হিসেবে পরিচিত। এটি পরমাণুর অস্থির নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয় যখন একটি নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হয় বা প্রোটন নিউট্রনে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ-শক্তির ইলেকট্রন বা পজিট্রন নির্গত হয়, যাকে আমরা বিটা কণা বলি। বিটা রশ্মি অতিসূক্ষ্ম কণার মাধ্যমে অণু এবং অণুর সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া করতে পারে, ফলে এটি বিভিন্ন পদার্থে প্রবেশ করতে সক্ষম। বিকিরণের ধরনের দিক থেকে, এটি কেবল ইলেকট্রনের প্রবাহ এবং প্রোটন, নিউট্রন বা মেসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৫৮৪.
Which substance does not allow charge to flow through it?
  1. Silver
  2. Aluminum
  3. Copper
  4. Glass
  5. Gold
সঠিক উত্তর:
Glass
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Glass
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- মূলত: সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৫.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে কোন ধরনের রশ্মি নির্গত হয় না?
  1. বিটা রশ্মি
  2. এক্স-রে রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
এক্স-রে রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্স-রে রশ্মি
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয়তা:
- বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড এবং ভিলার্ড পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন প্রকার রশ্মি নির্গত হয়। যথা-
১. আলফা রশ্মি,
২. বিটা রশ্মি এবং
৩. গামা রশ্মি।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- যে সকল মৌলের পারমাণবিক ওজন ২০৬ এর অধিক, সে সকল পদার্থ তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অবিরাম প্রক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা কণা ধনাত্মক চার্জ যুক্ত, ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত এবং চার্জ নিরপেক্ষ হতে পারে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি নিউক্লিয়ার ঘটনা ।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় যেমন- রেডিয়াম হতে হিলিয়াম ও র‍্যাডন সৃষ্টি হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৬.
50 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ কত হবে?
  1. ক) 356 ms-1
  2. খ) 362 ms-1
  3. গ) 332 ms-1
  4. ঘ) 273 ms-1
সঠিক উত্তর:
খ) 362 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 362 ms-1
ব্যাখ্যা
0°C বা 273K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
বাতাসের তাপমাত্রা অথবা আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শব্দের দ্রুতির বৃদ্ধি ০.৬ ms-1.
∴ 50°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ = 332+(50×0.6) ms-1 = (332 + 30)ms-1 = 362 ms-1
৩,৫৮৭.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করেন?
  1. জুল
  2. ফ্যারাডে
  3. নিউটন
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুল
ব্যাখ্যা
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H. 
বা, W = JH 
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন। 
- এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৮.
সবুজ কাঁচের মধ্যদিয়ে একটি হলুদ ফুলের রং দেখা যাবে -
  1. ক) সবুজ
  2. খ) হলুদ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) কালো
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালো
ব্যাখ্যা
একটা বস্তু সব রং শোষন করে যেটা প্রতিফলিত করে, সেটাকেই তার রং বলে মনে হয়। 
হলুদ রঙের ফুল হলুদ রং ছাড়া বাকি সব রং শোষণ করে নেবে এবং হলুদ রঙ প্রতিফলিত করবে।
হলুদ রং সবুজ কাঁচের মধ্যদিয়ে আসার সময় কাঁচ দ্বারা শোষিত হয়ে যাবে।
ফলে সব রং শোষিত হয়ে যাবে এবং ফুলটি কালো দেখাবে।
৩,৫৮৯.
p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে গরিষ্ঠ আধান বাহক কোনটি ?
  1. ক) ধনাত্মক আধান
  2. খ) ঋণাত্মক আধান
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ধনাত্মক আধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধনাত্মক আধান
ব্যাখ্যা
p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে গরিষ্ঠ আধান বাহক ধনাত্মক আধান । p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে চতুর্যোজী মৌলের সাথে ত্রিযোজী মৌলের ডোপিং করা হয় । ফলে সহযোজী বন্ধনের সময় একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে, হোলের সৃষ্টি হয় । এই হোল পূরণ করতে ইলেকট্রনের প্রয়োজন হয় । এই ইলেকট্রন যেখান থেকে আসে সেখানে আবার হলের সৃষ্টি হয় । এতে মনে হয় ধনাত্মক হল পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেক্ট্রনের বিপরীত দিকে চলমান । তাই গরিষ্ঠ বাহক হল ধনাত্মক হোল। p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে লঘিষ্ঠ বাহক ইলেকট্রন বা ঋণাত্মক আধান।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই
৩,৫৯০.
আলোর প্রতিসরণের সূত্র কে আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. হাইগেন
  2. স্নেল
  3. রবার্ট হুক
  4. গিলবার্ট
সঠিক উত্তর:
স্নেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেল
ব্যাখ্যা

• আলোর প্রতিসরণের সূত্র বা Refraction of Light এর সূত্র প্রথম আবিষ্কার করেন হল্যান্ডের বিজ্ঞানী স্নেল, যিনি এটি স্নেলস সূত্র (Snell’s Law) হিসেবে পরিচিতি পান। এই সূত্রটি আলোর প্রবাহ একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় তার দিক পরিবর্তনের পরিমাণ নির্ধারণ করে। সূত্র অনুযায়ী, আলোর পতনের কোণ এবং প্রতিসরণের কোণের sine এর অনুপাত সমান হয় দুই মাধ্যমের মধ্যে আলোর বেগের অনুপাতের। স্নেল এই সম্পর্কটি গণিতগতভাবে স্থাপন করে আলোর প্রতিসরণের বিজ্ঞানকে আরও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করেন।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) স্নেল।


• প্রতিসরণ:
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction):
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রগুলোকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।
- সূত্র দু'টি হলো-
১. দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
২. এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।

• অপশন আলোচনা:
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯১.
কোন পরিস্থিতিতে একটি বাস্তব গ্যাস সবচেয়ে বেশি আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে?
  1. উচ্চ চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রা
  2. উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপ 
  3. নিম্ন চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রা
  4. উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপ 
ব্যাখ্যা

- বয়েল, চার্লস ও অ্যাভোগেড্রোর সূত্রের সমন্বয়ে আদর্শ গ্যাসের অবস্থার সমীকরণ PV = nRT পাওয়া যায়।
- এখানে, R = মোলার গ্যাস ধ্রুবক।
- প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে S.I এককে R এর মান 8.314 JK- 1mol- 1 .

- যেসকল গ্যাস যেকোনো তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের সূত্রসমূহ মেনে চলে তাদের আদর্শ গ্যাস বলে।
- কিন্তু বাস্তবে কোনো গ্যাসই সকল তাপমাত্রা ও চাপে এসব সূত্র মেনে চলে না।
- কেবলমাত্র “অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে” বাস্তব গ্যাস সমূহ আদর্শ আচরণ করে অর্থাৎ, গ্যাসের সূত্রগুলো মেনে চলে।

- প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ (STP = Standard Temperature & Pressure) ⇒ 0° C বা 273k ও 1atm বা 76cm(Hg)

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৫৯২.
দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ -
  1. এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
  2. এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
  3. অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
  4. প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
সঠিক উত্তর:
এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে, যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়। 
- ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়। 
- ফলে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর জন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৯৩.
পদার্থের ভৌত অবস্থা মূলত নির্ভর করে -
  1. ক) অণুগুলোর গতিশক্তির উপর
  2. খ) আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  3. গ) চৌম্বক শক্তির উপর
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন আছে
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই ।
- আন্ত:আণবিক আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে।  এ দুটি শক্তি পরস্পর বিপরীতমুখী। তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

কঠিন পদার্থ (Solid)- 
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ত্রি মাত্রিক গঠন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে আন্ত:আণবিক বলের মান খুব বেশি হওয়ায় অণুগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হতে পারে না। অণুগুলোর শুধুমাত্র দোলন বা কম্পনের স্বাধীনতা থাকে। 

তরল পদার্থ (Liquid)- 
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিস্ট আকৃতি নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে অণুগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকলেও এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল তুলনামূলকভাবে কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। ফলে এদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এ জন্য অণুগুলির চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকে। তাই কঠিন পদার্থকে তরল পদার্থে রূপান্তরিত করলে আয়তন বেড়ে যায় ।

পানি ব্যতিক্রম ধর্মী তরল পদার্থ। কারণ বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করলে আয়তন কমে যায়। এর কারণ হলো বরফের গঠণ কাঠামোতে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে যা তরল পানির ক্ষেত্রে পূরণ হয়। এ ছাড়া তরল পানিতে হাইড্রোজেন বন্ধনের উপস্থিতি পানির আয়তন হ্রাসের অন্যতম কারণ ।

গ্যাস (Gas)- 
বাষ্পীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে পারষ্পরিক আকর্ষণ খুবই কম। ফলে এরা যথেষ্ট দূরে দূরে অবস্থান করে এবং বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে। ফলে পাত্রের পুরো জায়গা এরা দখল করে। তবে চাপ প্রয়োগে অণুসমূহ কাছাকাছি আসে এবং গ্যাসের আয়তন কমে যায়। তাপ বাড়ালে উল্টো ঘটনা ঘটে। আন্ত:আণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস অণুসমূহ আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।

সূত্র: ৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯৪.
আলো যে সাতটি বর্ণের সমষ্টি, এটা কে প্রমাণ করেন?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. ম্যাক্সওয়েল
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটন
ব্যাখ্যা
• আইজ্যাক নিউটন প্রথম প্রমাণ করেন যে সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের সমন্বয়ে গঠিত।

• 1672 সালে নিউটনের প্রিজম পরীক্ষা:
- তিনি একটি প্রিজমের মাধ্যমে সূর্যের আলো পাঠিয়ে দেখেন যে এটি সাতটি আলাদা রঙে বিভক্ত হয়।
- এই সাতটি রঙ হলো: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল (VIBGYOR)
- নিউটন দ্বিতীয় একটি প্রিজম ব্যবহার করে আলাদা রঙগুলো আবার মিলিয়ে সাদা আলো তৈরি করেন।
- এটি প্রমাণ করে যে সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের সমষ্টি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৫৯৫.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র মাপের বিদ্যুৎ প্রবাহের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়?
  1. ওহমমিটার
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. ভোল্টমিটার
  4. অডিওমিটার
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র মাপের বিদ্যুৎ প্রবাহের অস্তিত্ব নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - গ্যালভানোমিটার।

অন্যদিকে,
- রোধ পরিমাপ করার যন্ত্র - ওহমমিটার।
- কোন তড়িৎ বর্তনীর দুটি বিন্দুর বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজের পরিমাণ মাপক যন্ত্র - ভোল্টমিটার।
- শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অডিওমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,৫৯৬.
প্রাণিজ আমিষের উদাহরণ না কোনটি?
  1. ক) মাছ
  2. খ) পনির
  3. গ) ছানা
  4. ঘ) বাদাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদাম
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ।
প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির- এগুলাে প্রাণিজ আমিষ।
উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৫৯৭.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি? 
  1. ডিগ্রী  
  2. কেলভিন 
  3. সেলসিয়াস 
  4. ফারেনহাইট 
সঠিক উত্তর:
কেলভিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেলভিন 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা (Temperature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের এস. আই (S.I) বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯৮.
"আলো চিড় অতিক্রম করার সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনাটি" - নিচের কোন তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করে? 
  1. তরঙ্গ তত্ত্ব
  2. কণা তত্ত্ব
  3. দ্বৈতনীতি
  4. কোয়ান্টাম তত্ব
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গ তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গ তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• "আলো চিড় অতিক্রম করার সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনা" বা প্রকাশিত আলো যখন একটি সরু ছিদ্র বা ধারকের পাশ দিয়ে যায় এবং তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়, এটিকে প্রকাশের বিচ্যুতি বা diffraction বলা হয়। এটি মূলত তরঙ্গের আচরণের ফলাফল, কারণ কণা হিসেবে আলো এমনভাবে বেঁকে যেতে পারে না। তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো তরঙ্গ কোনো বাধা বা ছিদ্রের সংস্পর্শে আসে, তখন তরঙ্গের অংশ সীমানার চারপাশ দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি  বিচ্যুত ধারা তৈরি করে। সুতরাং আলো চিড় অতিক্রমের সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory) দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

- সঠিক উত্তর: ক) তরঙ্গ তত্ত্ব। 

• আলো চিড় অতিক্রমের সময় বেঁকে যাওয়া (Light Diffraction):
- আলো চিড় অতিক্রম করার সময় যখন বাঁকানো বা বিকৃত হয়, সেটিকে আলো তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
- এই ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্বের মাধ্যমে বোঝানো যায়, কারণ আলোকে তরঙ্গ হিসেবে ধরা হলে তা চিড় বা বাধার পাশ দিয়ে বেঁকে যেতে পারে।
- কণা তত্ত্বের মাধ্যমে এই ধরনের বেঁকানো ঘটনার ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, কারণ কণার মতো আচরণ করলে আলো সরলরেখায় চলার প্রবণতা দেখায়।
- দ্বৈতনীতি বা কোয়ান্টাম তত্ত্ব আলোকে কণার ও তরঙ্গের দুই রূপে ব্যাখ্যা করে, তবে শুধুমাত্র চিড়ের প্রান্ত দিয়ে বেঁকে যাওয়া ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্ব দ্বারা সবচেয়ে সরলভাবে বোঝা যায়।
- এটি ফ্রিঞ্জ প্যাটার্ন বা হালকা ও গাঢ় রেখার উদাহরণ তৈরি করতে পারে, যা তরঙ্গের হস্তক্ষেপ (interference) প্রমাণ করে।

আলােকের প্রকৃতি সম্মন্ধে যেসব তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে সেগুলি হলাে
(i) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

(ii) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

(iii) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।

(iv) আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৩,৫৯৯.
ডিজিটাল ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে উঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. এলইডি
  2. আইসি
  3. এলসিডি
  4. সিলিকন চিপ
সঠিক উত্তর:
এলসিডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলসিডি
ব্যাখ্যা
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। 
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে। 
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়। 
- সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়। 
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই। 
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে
৩,৬০০.
কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশনের জন্য কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়?
  1. স্টেপ-ডাউন ট্রানফরমার
  2. তাড়িত চৌম্বক ট্রান্সফরমার
  3. আধুনিক ট্রান্সফরমার
  4. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ পরিবহন সাধারণত উচ্চ ভোল্টেজে করা হয় যাতে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় শক্তির ক্ষতি কমানো যায়। এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে লোড সেন্টারের দিকে বিদ্যুৎ পাঠানোর আগে ভোল্টেজকে বৃদ্ধি করতে হয়। এই ক্ষেত্রে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ইনপুট ভোল্টেজকে আউটপুটে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে, যার ফলে লম্বা দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় লাইন রোধজনিত শক্তি ক্ষতি অনেক কম হয়। এরপর গন্তব্যে পৌঁছালে ভোল্টেজকে ব্যবহার উপযোগী মাত্রায় নামানোর জন্য স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। সুতরাং কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য প্রধানত স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহৃত হয়।
 
ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।

ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারনে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই।