• শক্তি:
- শক্তি হচ্ছে কাজ করার সামর্থ্য। শুধু তা-ই না, যখন কোনো বস্তুর ওপর কোনো বল প্রয়োগ করে ধনাত্মক কাজ করা হয় তখন সেই বলটি আসলে বস্তুটির মাঝে একটা শক্তি সৃষ্টি করে। বস্তুটির মাঝে যতটুকু কাজ করা হয়েছে বস্তুটির মাঝে ততটুকু শক্তি সৃষ্টি হয় এবং যে বল প্রয়োগ করছে তাকে ঠিক সেই পরিমাণ শক্তি দিতে হয়।
- শক্তির একক হচ্ছে জুল (J)।
• শক্তির উৎস:
ক) অনবায়নযোগ্য:
- তেল,
- গ্যাস,
- কয়লা,
- নিউক্লিয়ার।
খ) নবায়নযোগ্য:
- জলবিদ্যুৎ,
- বায়োমাস,
- সৌরশক্তি,
- বায়ুশক্তি,
- জিওথার্মাল।
• অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় না, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এগুলোকে বলা হয় অনবায়নযোগ্য শক্তি।
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল,গ্যাস এবং কয়লা।
- তেল, গ্যাস এবং কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে। মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয়, সেটি মূলত মিথেন (CH4) এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়।
- অনেক দেশ নিউক্লিয়ার শক্তিকে ব্যবহার করছে, সেখানেও একধরনের জ্বালানির দরকার হয়, সেই জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম।
- তেল, গ্যাস, কয়লা বা ইউরেনিয়াম, এই শক্তিগুলোর মাঝে একটা মিল রয়েছে, এগুলো ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায়। মাটির নিচে কতটুকু তেল, গ্যাস, কয়লা আছে কিংবা পৃথিবীতে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে তা বিভিন্ন উপায়ে মানুষ জানতে পেরেছে।
• নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই এগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য (Renewable Energy)।
- নবায়নযোগ্য শক্তি আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে।
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে। তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।