বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৬৪ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৬,৪০৯

৩,৭০১.
'স্থির আয়তনে কোনো গ্যাসের চাপ তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক' -এটি দ্বারা নিচের কোন সূত্রটিকে বুঝায়? 
  1. বয়েলের সূত্র
  2. চার্লসের সূত্র
  3. গে-লুস্যাকের সূত্র
  4. আর্গনের সূত্র
সঠিক উত্তর:
গে-লুস্যাকের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গে-লুস্যাকের সূত্র
ব্যাখ্যা

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোনো নির্দিষ্ট ভরের যেকোনো গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0(273 + t)/273; 
- এই সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোনো গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোনো গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

৩,৭০২.
সোডা অ্যাসের সাথে কত অনু পানি যুক্ত হলে কাপড় কাচার সোডা তৈরি হয়?
  1. ক) ৩ অনু
  2. খ) ৭ অনু
  3. গ) ১০ অনু
  4. ঘ) ১২ অনু
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ অনু
ব্যাখ্যা
কাপড় কাচা সোডা:
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) কে সোডা অ্যাস বলা হয়।
- সোডা অ্যাসের 1 অণুর সাথে 10 অণু পানি রাসায়নিকভাবে যুক্ত হলে তাকে কাপড় কাচা বা ওয়াশিং সোডা বলে।
- কাপড় কাচা সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট (Na2CO3.10H2O)।

উৎপাদন প্রনালী: 
- গাঢ় NaOH এর দ্রবণের মধ্যে CO2 কে অধিক পরিমাণে চালনা করলে সোডিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয় যা পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- বিক্রিয়া পাত্রের মধ্যে Na2CO3 এবং পানি থাকে। সোডিয়াম কার্বনেট 10 অণু পানির সাথে যুক্ত হয়ে কাপড় কাচা সোডা (Na2CO3.10H2O) উৎপন্ন হয় ৷



উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই।
৩,৭০৩.
নিচের ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হচ্ছে
  2. ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে
  3. কিসমিস পানি শোষণ করে ফুলে উঠেছে
  4. গাছ মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ করছে
সঠিক উত্তর:
ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে
ব্যাখ্যা
• ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
- ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

অন্যদিকে,
- গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হচ্ছে নিঃসরণের উদাহরণ।
- কিসমিস পানি শোষণ করে ফুলে উঠেছে  অভিস্রবণের উদাহরণ।
- গাছ মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ অভিস্রবণের উদাহরণ।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৪.
ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে তৈরী করা হয়-
  1. ক) ENIAC
  2. খ) IBM
  3. গ) ORPANET
  4. ঘ) INTRANET
সঠিক উত্তর:
ক) ENIAC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ENIAC
ব্যাখ্যা
1946 সালে 1800 ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে ENIAC নামে প্রথম কম্পিউটার তৈরী হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৭০৫.
মরীচিকার ক্ষেত্রে নিচের কোন আলোকীয় ঘটনাটি লক্ষ্য করা যায়?
  1. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  2. ব্যাতিচার
  3. অপবর্তন
  4. বিচ্ছুরণ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয়, তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণভাবে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এ ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।
আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দায়ী -
- হীরার ঔজ্জ্বল্যের জন্য
- মরুভূমির মরিচীকার জন্য
- পদ্ম পাত্র ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে তা চকচক করার জন্য
সূত্র: মাধমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৭০৬.
সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কী?
  1. ক্রেসকোগ্রাফ
  2. সেক্সট্যান্ট
  3. ক্রনোমিটার
  4. অলটিমিটার
সঠিক উত্তর:
ক্রনোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা

• সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম - ক্রনোমিটার।

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্নায়ক যন্ত্র - ক্রেসকোগ্রাফ।
- বিমানের উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র - অলটিমিটার।
- কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করার যন্ত্র হল-  সেক্সট্যান্ট।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৭০৭.
বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর জন্য কোন বৈজ্ঞানিকের অবদান সবচেয়ে বেশি?
  1. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  2. আইজ্যাক নিউটন
  3. টমাস এডিসন
  4. ভোল্টা
সঠিক উত্তর:
টমাস এডিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমাস এডিসন
ব্যাখ্যা
- টমাস এডিসন বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছিলেন।
- তিনি বৈদ্যুতিক বাল্ব উদ্ভাবন করেন এবং বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য একটি কার্যকর বৈদ্যুতিক গ্রিড সিস্টেম চালু করেন।
- এর ফলে বিদ্যুৎ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।

অন্যদিকে,
- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন: বিদ্যুতের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ প্রবাহের বিষয়টি আবিষ্কার করেন।
- আইজ্যাক নিউটন: তার কাজ মূলত পদার্থবিজ্ঞান ও মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ছিল, বিদ্যুৎ ব্যবহারে তার সরাসরি অবদান নেই।
- ভোল্টা: তিনি ব্যাটারি উদ্ভাবন করেছিলেন, যা বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারে বিদ্যুতের প্রসারে তার ভূমিকা সীমিত।
তাই, বিদ্যুৎকে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে টমাস এডিসনের অবদান সবচেয়ে বেশি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৭০৮.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত মৌলিক পদার্থ কয়টি? 
  1. ৭৮টি
  2. ৯০টি
  3. ৯৮টি
  4. ১১৮টি
সঠিক উত্তর:
৯৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৮টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- যার মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৭০৯.
পানি কত ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফোটে?
  1. ১০০°F
  2. ১০০°C
  3. ১২০°F
  4. ১২০°C
সঠিক উত্তর:
১০০°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০°C
ব্যাখ্যা
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 
 
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭১০.
বরফ পানিতে ভাসে কেন?
  1. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
  2. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে বেশি
  3. বরফের দ্রবণীয়তা পানির চেয়ে কম
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
ব্যাখ্যা

◉ বরফ হলো পানির কঠিন রূপ। পানি বরফে পরিণত হলে তার অণুগুলো স্ফটিক আকারে সাজানো হয়, ফলে ফাঁকা জায়গা (empty spaces) তৈরি হয়। এই কারণে বরফের ঘনত্ব (Density ≈ 0.917 g/cm3) পানির ঘনত্বের (Density ≈ 1 g/cm3) চেয়ে কম হয়। কম ঘনত্বের কারণে বরফ পানির উপরে ভেসে থাকে।

ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

৩,৭১১.
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাকে বলা হয় - 
  1. ইলেকট্রন সংখ্যা
  2. পজিট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা
  4. প্রোটন সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা: 

- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11.
- তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭১২.
তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যদি কোনো আয়নের ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. অণু
  2. নিউক্লিয়াস
  3. ক্যাটায়ন
  4. অ্যানায়ন
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিশ্লেষণ:
- কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্নক ও ঋণাত্নক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ।
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি।

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়।
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশি ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭১৩.
নিম্নের কোনটিতে ল্যাকটিক এসিড পাওয়া যায়?
  1. পালংশাক
  2. তেঁতুল
  3. লেবু
  4. দই
সঠিক উত্তর:
দই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দই
ব্যাখ্যা

দই:
- দইতে ল্যাকটিক এসিড পাওয়া যায়।

- দই তৈরির প্রক্রিয়ায় ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিড এ রূপান্তরিত করে।
- এই ল্যাকটিক এসিডই দইয়ের টক স্বাদ এবং ঘন গঠনের জন্য দায়ী।

⇒ ল্যাকটিক এসিড:
- ল্যাকটিক এসিড হলো এক ধরনের জৈব যৌগ, যা একটি কার্বোক্সিলিক এসিড।
- এটি সাধারণত দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) এবং অন্যান্য শর্করা থেকে গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়।
- এটি দই ও অন্যান্য গাঁজনকৃত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
- এটি খাদ্যকে জমাট বাঁধাতে এবং স্বাদ তৈরি করতে সাহায্য করে।
- তীব্র শারীরিক কাজের সময় (যেমন: ব্যায়াম), শরীরে অক্সিজেন সীমিত হলে গ্লুকোজ ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি দেয়।
- ল্যাকটিক এসিড অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

অন্যদিকে,
- পালংশাকে থাকে অক্সালিক এসিড।
- লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।

উৎস: i) বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) Britannica.

৩,৭১৪.
Minimum distance for clear vision of an object -
  1. 25 m
  2. 2.5 cm
  3. 25 mm
  4. 25 cm
সঠিক উত্তর:
25 cm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
25 cm
ব্যাখ্যা
দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব: 

- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম বা নিকটতম দূরত্ব বলে। 
- কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- চোখের লেন্স থেকে ২৫ সে.মি. দূরবর্তী বিন্দুতে স্থাপিত বস্তুটিকে সুন্দর সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। 
- এর থেকে কম দূরত্বে স্থাপিত বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৫.
বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তি কিসে পরিণত হয়?
  1. শব্দ শক্তিতে
  2. রাসায়নিক শক্তিতে
  3. যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. পারমাণবিক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- রেলগাড়ি চলে বাষ্পিয় ইঞ্জিনের বা ইলেকট্রিক শক্তির সাহায্যে। 
- আবার, তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালনা করা হয়। 
অর্থাৎ, বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়। 
 - বাষ্পকে আবার বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালনা করা ছাড়াও আরো অনেক কাজে ব্যবহার করে থাকি। 
যেমন - বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন চালনা করা যায়। এ টারবাইন ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭১৬.
একটি আহিত বস্তুর চারপাশের যে অঞ্চলে তার প্রভাব থাকে তাকে কী বলা হয়? 
  1. তড়িৎ প্রাবল্য
  2. তড়িৎ বিভব
  3. তড়িৎ ক্ষেত্র
  4. তড়িৎ দ্বিমেরু
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ ক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ক্ষেত্র: 
একটি আহিত বস্তুর চারপাশে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে অর্থাৎ অন্য কোনো আহিত বস্তু আনা হলে সেটি আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল লাভ করে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে। 

তড়িৎ বিভব: 
- অসীম থেকে প্রতি একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে। 

তড়িৎ দ্বিমেরু: 
- এক জোড়া সমান ও বিপরীত বিন্দু আধান অল্প দূরত্বে অবস্থিত থাকলে তাকে তড়িৎ দ্বিমেরু বলে। 

তড়িৎ প্রাবল্য: 
- তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি একক ধনাত্মক আধান স্থাপন করলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ প্রাবল্য বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩,৭১৭.
কক্ষ তাপমাত্রায় নিম্নের কোনটি তরল?
  1. ক) Fe
  2. খ) CI2
  3. গ) Br2
  4. ঘ) I2
সঠিক উত্তর:
গ) Br2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Br2
ব্যাখ্যা
- ব্রোমিন সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে। 
- এর সংকেত Br2। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
৩,৭১৮.
কোনটি পলিমার যৌগ?
  1. পলিথিন
  2. ইথিলিন
  3. বিউটেন
  4. ফরমালিন
সঠিক উত্তর:
পলিথিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিথিন
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer):
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরােস (Meros) থেকে।
- পলি শব্দের অর্থ হলাে অনেক (Many) এবং মেরােস শব্দের অর্থ অংশ (Part)।
- অর্থাৎ অনেকগুলাে একই রকম ছােট ছােট অংশজোড়া দিয়ে যে একটি বড় জিনিস পাওয়া যায়, সেটি হচ্ছে পলিমার।

•পলিথিন: 
-  পলিথিন ইথিলিনের পলিমার।
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন পাওয়া যায়।
- তবে এক্ষেত্রে পলিমারকরণ দ্রুত করার জন্য প্রভাবক হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
- তবে উচ্চ চাপ পদ্ধতি সহজসাধ্য না হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতি টি জনপ্রিয় নয়।
- এখন টাইটেনিয়াম ট্রাই ক্লোরাইড (TiCl3) নামক প্রভাবক ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই পলিথিন তৈরি হয়। 


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩,৭১৯.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. ক) বিভব
  2. খ) তাপমাত্রা
  3. গ) বল
  4. ঘ) ত্বরণ
সঠিক উত্তর:
খ) তাপমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি:
কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না।

যৌগিক বা লব্ধ রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ।
- যে গুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২০.
একটি পাত্রে ১ লিটার পানি নিয়ে ১০ মিনিট তাপ দেয়ার পর পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। আরো ৩ মিনিট তাপ প্রয়োগ করলে পানির তাপমাত্রা কত ডিগ্রি বৃদ্ধি পাবে?
  1. ক) ১০০ ডিগ্রি
  2. খ) ৫০ ডিগ্রি
  3. গ) ০ ডিগ্রি
  4. ঘ) ২৫ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
গ) ০ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাই পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পর যতই তাপ প্রয়োগ করা হোক না কেন পানির তাপমাত্রা আর বৃদ্ধি পাবে না।
এই অতিরিক্ত প্রযুক্ত তাপ তরল পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করে।
তবে পানির উপরে চাপ বৃদ্ধি করলে এর স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। যেমন প্রেসার কুকারে পানি ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে।
৩,৭২১.
নিচের কোনটি ফ্রেয়ন নামে পরিচিত? 
  1. CClF3
  2. CCl2F2
  3. CCl2F4
  4. CCl3F4
সঠিক উত্তর:
CCl2F2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CCl2F2
ব্যাখ্যা
ফ্রেয়ন: 
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাঁপা নলের কুণ্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুণ্ডলী বলে। 
- এই কুণ্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়। 
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন (CCl2F2)। 
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে।
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
- এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকীটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে ফলে শীতলীকরণ ঘটে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২২.
To hear an echo, the minimum distance between the source and the reflector must be:
  1. 16.6 meters
  2. 15 meters
  3. 12.6 meters
  4. 8 meters
  5. 20 meters
সঠিক উত্তর:
16.6 meters
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16.6 meters
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৩.
নিচের কোনটির ভেদন ক্ষমতা সবথেকে বেশি?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গ) গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মি চার্জ নিরপেক্ষ অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে এই রশ্মির ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি। স্বল্প আয়নায়ন ক্ষমতা সম্পন্ন, এই রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে ও ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর কোন ভর নেই।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বাের্ড বই।

৩,৭২৪.
মৌলিক রাশি কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৭ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা

যে সকল রাশি পরিমাপের জন্য অন্য রাশির সাহায্য দরকার হয় না বা অন্য রাশি পরিমাপের জন্য যে রাশিগুলাে দরকার হয় সেইসব রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
মৌলিক রাশি সাতটি।
যথাঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই

৩,৭২৫.
ট্যাকোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে নিম্নের কোনটি নির্ণয় করা হয়?
  1. বায়ুর গতিবেগ
  2. তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব
  3. সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ
  4. উড়োজাহাজের গতি
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজের গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজের গতি
ব্যাখ্যা
ট্যাকোমিটার:
- কোনাে ঘূর্ণন যন্ত্রের গতি পরিমাপের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ট্যাকোমিটার (Techometer)।
- এটি সাধারণত রেভোলিউশনস পার মিনিট (RPM) হিসেবে গতি পরিমাপ করে।
- ট্যাকোমিটারের সাহায্যে উড়োজাহাজের গতি নির্ণয় করা যায়।

অন্যদিকে -
- আনেমোমিটার: সাধারণত বায়ুর গতিবেগ মাপা হয় নট (knot) নামক একক দিয়ে। ১ নট = ১.৮২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। সাধারণত অ্যানিমোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর গতিবেগ পরিমাপ করা হয়।
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার। বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।

উৎস: Britannica.
৩,৭২৬.
নিচের কোন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির হয়?
  1. FeCl3
  2. Na2CO3
  3. CH3COONa
  4. Na2SO4
সঠিক উত্তর:
Na2SO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na2SO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। 
- লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে। তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয় মূলক (Basic radical) বলে। 
- আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে। তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক (Acid radical) বলে। 
- তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির। 
যেমন- NaCl, Na2SO4 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ। 

- তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 
যেমন— FeCl3, Zn(NO3)2 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ অম্লীয়। 

- তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 
যেমন- Na2CO3, CH3COONa (সোডিয়াম ইথানয়েট) ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭২৭.
টেলিফোনের আবিষ্কারকের নাম কী?
  1. ক) লজি বেয়ার্ড
  2. খ) গ্রাহাম বেল
  3. গ) ওপেন হেইমার
  4. ঘ) মাদাম কুরী
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাহাম বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাহাম বেল
ব্যাখ্যা
১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। 

- টেলিফোনে পাঁচটি উপাংশ পাঁচটি। যথা- সুইচ, রিংগার, কী প্যাড, মাইক্রোফোন এবং স্পিকার। 
- টেলিফোন মানুষের মুখের কথা তাত্ক্ষণিক প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- টেলিফোন একটি ইংরেজি শব্দ। টেলি অর্থ দূর এবং ফোন অর্থ ধ্বনি।

সূত্র- ৩৭৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৭২৮.
কোথায় বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম?
  1. ভূ-পৃষ্ঠে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভরশীল। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর আদর্শমান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সেই স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুবীয় (নিরক্ষীয়) অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে কম তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে বেশি তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৭২৯.
একটি বাল্বে "30W - 120V" লেখা আছে। রোধ কত?
  1. 806.67 Ohm
  2. 16.67 Ohm
  3. 480 Ohm
  4. 320 Ohm
সঠিক উত্তর:
480 Ohm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
480 Ohm
ব্যাখ্যা
R = V2/P = 1202/30 = 120 ×120/30 = 480 Ohm
৩,৭৩০.
কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়-
  1. ক) মোমে
  2. খ) পারদে
  3. গ) কর্পূরে
  4. ঘ) লবণে
সঠিক উত্তর:
ক) মোমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোমে
ব্যাখ্যা
তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। হাইড্রোজেন ও কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। মোম জ্বালালে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়। বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে। তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে কঠিন মোমে পরিণত হয়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৭৩১.
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির ডিজিটাল সংকেতের স্তরগুলো কীভাবে উপস্থাপন করা হয়?
  1. ০ এবং ১
  2. উচ্চ এবং নিম্ন
  3. সত্য এবং মিথ্যা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system) এবং 
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system) । 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- ডিজিটাল সংকেত একটি বিশেষ ধরনের সংকেত যা একটি নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মান ধারণ করে। এই সংকেতের মধ্যে অন্য কোনো স্তর বা মধ্যবর্তী মান থাকে না। 
- এই ধরনের সংকেতকে চৌকো তরঙ্গ (square waves) বলা হয়, কারণ এটি কেবল দুটি স্তরের (উচ্চ এবং নিম্ন) মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।
- ডিজিটাল সিগন্যালের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের পরিবর্তে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহৃত হয়।
- ইলেকট্রনিক্সে এই ধরনের সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারি (binary) সংকেত বলা হয়।
- ডিজিটাল সংকেতের জন্য, দুটি আলাদা অবস্থায় কাজ করা যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ট্রানজিস্টরের সচল (on) বা অচল (off) অবস্থা দ্বারা এই সংকেতকে বোঝানো সম্ভব।
- এছাড়াও, প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি, অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা এবং অচৌম্বকায়িত অবস্থা ব্যবহার করেও ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটি চিহ্নিত করা যায়।
- ডিজিটাল সংকেতের দুটি স্তরকে সাধারণত 0 এবং 1, সত্য এবং মিথ্যা, অথবা উচ্চ এবং নিম্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি জনপ্রিয় ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩২.
কোন পদার্থটির আপেক্ষিক তাপ বেশি?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. মাটি
  3. তামা
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত পদার্থগুলোর মধ্যে পানির আপেক্ষিক তাপ বেশি।

• আপেক্ষিক তাপ:
- 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে।
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg- 1K- 1.
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 kg- 1K- 1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130J তাপের প্রয়োজন।
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়।

• নিচে কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ উল্লেখ করা হলো:
- পানির আপেক্ষিক তাপ 4200 Jkg- 1K- 1.
- জলীয় বাষ্পের আপেক্ষিক তাপ 2000 Jkg- 1K- 1.
- রূপার আপেক্ষিক তাপ 230 Jkg- 1K- 1.
- মাটির আপেক্ষিক তাপ 800 থেকে 1400 Jkg- 1K- 1.
- বরফের আপেক্ষিক তাপ 2100 Jkg- 1K- 1.
- তামার আপেক্ষিক তাপ 400 Jkg- 1K- 1.
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg- 1K- 1.
- বায়ুর আপেক্ষিক তাপ 700 থেকে 1000 Jkg- 1K- 1.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৩.
নিউট্রনের চার্জ কেমন? 
  1. ধনাত্মক 
  2. ঋণাত্মক 
  3. শূন্য 
  4. পরিবর্তনশীল 
সঠিক উত্তর:
শূন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর সাংগঠনিক কণা: 
- একমাত্র হাইড্রোজেন ছাড়া সকল পদার্থের পরমাণু তিনটি কণা দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। 
- এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundmental) বা মৌলিক কণা বলে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে। 

ইলেকট্রন: 
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মৌলিক কণিকা যার আধান বা চার্জ ঋণাত্মক (নেগেটিভ)। 
- এ আধানের পরিমাণ -1.60×10-19 কুলম্ব। 
- একে e প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একটি ইলেকট্রনের ভর 9.11×10-28 g। 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 ধরা হয় এবং এর ভর প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের তুলনায় 1840 গুণ কম। তাই এর আপেক্ষিক ভরকে শূন্য ধরা হয়। 

প্রোটন: 
- প্রোটন হলো পরমাণুর অপর একটি মৌলিক কণিকা যার চার্জ বা আধান ধনাত্মক (পজেটিভ)। 
- এ আধানের পরিমাণ +1.60×10-19 কুলম্ব। 
- একে p প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একটি প্রোটনের ভর 1.67×10-24 g। 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 এবং আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন হলো পরমাণুর আরেকটি মৌলিক কণিকা যার কোনো আধান বা চার্জ নেই। 
- হাইড্রোজেন ছাড়া সকল মৌলের পরমাণুতেই নিউট্রন রয়েছে। 
- একে n প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- এর ভর প্রোটনের ভরের চেয়ে সামান্য বেশি। 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান 0 আর আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৩৪.
নিচের কোন যৌগটি একটি লবণ?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) কার্বনিক এসিড
  4. ঘ) পটাশিয়াম নাইট্রেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) পটাশিয়াম নাইট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পটাশিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা

- প্রশমন বিক্রিয়ার সাহায্যে এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয় মূলক বলে।
- আর লবণের ঋণাত্মক অংশটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে। তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক বলে৷
- ক্যালসিয়াম অক্সাইড এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড হলো ক্ষার।
- কার্বনিক এসিড হলো একটি অম্ল।
- পটাশিয়াম নাইট্রেট হলো একটি লবণ।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৭৩৫.
ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে?
  1. ক) নিঃসরণ
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) ঊর্ধপাতন
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাপন
ব্যাখ্যা
কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।

কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।


উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
৩,৭৩৬.
বাল্বের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত হলে কোন শক্তি সৃষ্টি হয়?
  1. আলোক ও চৌম্বক শক্তি
  2. তাপ ও আলোক শক্তি
  3. চৌম্বক ও শব্দ শক্তি
  4. তাপ ও শব্দ শক্তি
সঠিক উত্তর:
তাপ ও আলোক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি: কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৭.
পর্যায় সারণিতে কয়টি পর্যায় বিদ্যমান?
  1. ক) ১৮টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৭টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৮.
জেনারেটর হচ্ছে -
  1. ক) তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
  3. গ) রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
ব্যাখ্যা

যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্রকে জেনারেটর বলে।
তড়িৎ চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়।
জেনারেটর দুই ধরনের হয়ে থাকে।
যেমন, ডি. সি. জেনারেটর ও এ. সি.জেনারেটর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৭৩৯.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি হতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে কত তাপের প্রয়োজন?
  1. ক) ৫ ক্যালরি
  2. খ) ১০ ক্যালরি
  3. গ) ১৫ ক্যালরি
  4. ঘ) ১.৫ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
আমরা জানি এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়াতে ১ ক্যালরি তাপের প্রয়োজন।
তাহলে, এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ (৩০ ডিগ্রি হতে ৪০ ডিগ্রি) ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে ১০ ক্যালরি তাপের প্রয়োজন।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৭৪০.
কার্বোহাইড্রেট এ কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এর অনুপাত কত?
  1. ক) ১:১:২
  2. খ) ১:২:১
  3. গ) ১:৩:২
  4. ঘ) ১:৩:১
সঠিক উত্তর:
খ) ১:২:১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১:২:১
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ যেখানে কার্বন ও হাইড্রোজেন বন্ধন এর মাধ্যমে যৌগটি গঠিত। কার্বোহাইড্রেট এক ধরনের জৈব যৌগ যেখানে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেনের অনুপাত-১:২:১।
৩,৭৪১.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক (frequency) প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কি?
  1. ক) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার বদ্ধ হয়
  2. খ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
  3. গ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
  4. ঘ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার উঠানামা করে
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
ব্যাখ্যা
যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)।
বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭৪২.
পানিতে কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা না যাওয়ার কারণ কী?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর প্রতিফলন
  3. আলোর বিক্ষেপণ
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
• আলো:
- আলো এক প্রকার শক্তি বা বাহ্যিক কারণ যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে 3 × 108 মিটার, বা ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল এবং কিলোমিটারে আলোর গতি ৩ লাখ কিলোমিটার।
- সূর্য হতে পৃথিবীর দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য হতে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগবে ৫০০ সেকেন্ড বা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
- আলো এক সেকেন্ডে যায় ৩,০০,০০০ কিলোমিটার। আলো এই গতিতে চলে এক বছরে অর্থাৎ ৩৬৫ দিনে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাই হলো এক আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ হলো প্রায় ৯.৪৬ × ১০১৫ মিটার বা ৯.৪৬ × ১০১২ কিলোমিটার।

• আলোর প্রতিসরণ:
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয় তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে।
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে।
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না।

• আলোর প্রতিফলন:
- আলোক রশ্মি যখন কোন স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে এসে অন্য এক মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হয়, তখন ওই আলোক রশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমের তল থেকে দিক পরিবর্তন করে আবার প্রথম মাধ্যমের ফিরে আসে, একে আলোর প্রতিফলন বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৪৩.
নিচের কোনটি আয়রনের আকরিক?
  1. ম্যাগনেটাইট
  2. জিপসাম
  3. ডলোমাইট
  4. ক্রায়োলাইট
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেটাইট
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৪৪.
সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে কোন ধরনের কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সাবান তৈরির উপাদান
  2. খ) পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ
  3. গ) উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- দেহ, কাপড়-চোপড় এবং দ্রব্য সামগ্রীর উপর জমা ময়লা পরিষ্কার করার জন্য যে সব দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হয় তাদেরকে পরিষ্কারক সামগ্রী বলে।
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে।
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়।
- সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল যেমন: পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। 
- এছাড়াও ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং জীবাণুনাশক পদার্থ।
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৪৫.
এক্স রে মূলত-
  1. ধনাত্মক আধান যুক্ত
  2. ঋণাত্মক আধান যুক্ত
  3. আধান নিরপেক্ষ
  4. কখনো ধনাত্মক, কখনো ঋণাত্মক
সঠিক উত্তর:
আধান নিরপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধান নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা
• এক্স-রে:
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান।
- এক্স-রে আদান নিরপেক্ষ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে।
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭৪৬.
কোন প্রাণির দুগ্ধে ক্যালরি শক্তি বেশি থাকে?
  1. ভেড়া
  2. গাভী
  3. মহিষ
  4. ছাগল
সঠিক উত্তর:
মহিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিষ
ব্যাখ্যা
- 'মহিষ' প্রাণীর দুগ্ধে ক্যালরি শক্তি বেশি থাকে। 

দুধের শতকরা সংযুক্তি: 

- প্রাকৃতিক খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে দুধ অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। 
- দুধ হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাতৃ প্রজাতির দুগ্ধ গ্রন্থি বা mammary glands থেকে নিঃসৃত সাদা বর্ণের তরল পদার্থ। 
- দুধে প্রাণিদেহের প্রয়োজনীয় সব প্রকার পুষ্টি উপাদান সুষমভাবে থাকে বলে, একে আদর্শ খাদ্য বলে। 
- নবজাতক ও শিশুর দৈহিক প্রবৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনের জন্য দুধ অপরিহার্য, এ কারণে শিশুর জন্য মায়ের দুধের অন্য কোনো বিকল্প নেই। 
- বড় হলে সকলের জন্য গরুর দুধ আদর্শ খাদ্য। 
- দুধে রয়েছে চর্বি, প্রোটিন বা আমিষ, শর্করা ল্যাকটোজ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও পানি। 
- গাভীর দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব হলো 1.029-1.039  । 
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব ল্যাকটোমিটারের সাহায্যে মাপা হয়। 
- দুধের pH মান হলো 6.6-6.9 । 
- দুধকে সংরক্ষণের জন্য 10°C তাপমাত্রা ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পরিবেশ দরকার। 
- তাই ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পাস্তুরিত দুধকে প্যাকেটজাত করে রেফ্রিজেরেটরে সংরক্ষণ করা হয়। 
- পানি হলো দুধের প্রধান উপাদান; প্রাণিভেদে দুধে পানির পরিমাণ 82 - 88% হয়। 
- দুধের চর্বিতে অল্প পরিমাণে কোলস্টেরল ও ফসফোলিপিড থাকে, প্রাণিভেদে চর্বির পরিমাণ 3.5-7.4% হয়। 

- দুধের প্রধান খনিজ উপাদানসমূহ হলো: Ca2+(0.12%), K+(0.13%), Na+(0.05%, Mg2+(0.02%) P(0.09%), Cl-(0.11%)। 
- প্রতিগ্রাম চর্বি, প্রোটিন ও শর্করার খাদ্য মান যথাক্রমে 9 ক্যালরি, 4 ক্যালরি, 4 ক্যালরি। 
- দেহের ক্যালরির চাহিদা = দেহের ওজন (কি. গ্রাম) × 30 ক্যালরি। 
- খাদ্য গ্রহণের অনুমোদিত অনুপাত হলো চর্বি : প্রোটিন : শর্করা = 1g : 1.36g : 5.4g . 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৩,৭৪৭.
গামা রশ্মির বেগ কত? 
  1. শূন্য
  2. শব্দের বেগের সমান 
  3. আলোর বেগের সমান 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগের সমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগের সমান 
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 
- গামা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
- গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৮.
কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  2. মাটিতে লবণাক্ততা বাড়াতে
  3. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. মাটিতে নাইট্রোজেন বাড়াতে
সঠিক উত্তর:
মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
ব্যাখ্যা

কৃষি জমিতে চুন (সাধারণত ক্যালসিয়াম কার্বনেট CaCO3 বা ডলোমাইট CaMg(CO3)2 ব্যবহার করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মাটির অম্লতা বা অ্যাসিডিটি হ্রাস করা।
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৭৪৯.
একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু যে পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে কী বলে?
  1. ক) আর্দ্রতা
  2. খ) বায়ুচাপ
  3. গ) স্থিরাঙ্ক
  4. ঘ) ফারেনহাইট
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুচাপ
ব্যাখ্যা

বায়ু তার ওজনের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের উপর যে চাপ প্রয়োগ করে তাই বায়ুচাপ।
একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু যে পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুচাপ বলে।
বায়ুচাপের একক হল প্যাসকেল।

বায়ুচাপ দুই প্রকার। যথাঃ
১। বায়ুর নিম্নচাপ উষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়, ২। বায়ুর উচ্চচাপ সাধারণত ঠাণ্ডা এলাকায় দেখা যায়।
বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ও যুগান্তর পত্রিকা (ব্যাখ্যা)

৩,৭৫০.
মশা, আরশোলা ও পিঁপড়া মারার জন্য ব্যবহৃত অ্যারোসলের গন্ধ কোন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে?
  1. অভিস্রবণ
  2. নিঃসরণ
  3. ব্যাপন
  4. পাতন
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৫১.
কোন প্রকার বন্ধনের ক্ষেত্রে পোলারায়ন ঘটে? 
  1. ধাতব বন্ধন
  2. আয়নিক বন্ধন
  3. কোভালেন্ট বন্ধন
  4. ভ্যানডার-ওয়ালস বন্ধন
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
ব্যাখ্যা
পোলারায়ন বা আয়নের বিকৃতি (Polarization): 
- যখন কোনো ধাতব পরমাণু এবং অধাতব পরমাণুর মধ্যে বন্ধন গঠিত হয় তখন ধাতব পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং অধাতব পরমাণু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের কাঠামো অর্জন করে। 
- ইলেকট্রন ত্যাগ করার ফলে ধাতব পরমাণু ধনাত্মক চার্জযুক্ত ক্যাটায়নে পরিণত হয় এবং অধাতব পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নে পরিণত হয়। 
- পরবর্তীতে ক্যাটায়ন এবং অ্যানায়ন ইলেকট্রোস্ট্যাটিক আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আয়নিক বন্ধন গঠন করে। 

- আয়নিক বন্ধন গঠনের সময় কোনো ক্যাটায়ন যখন কোনো অ্যানায়নের খুব নিকটে আসে তখন ক্যাটায়নের নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জ দ্বারা অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে, একই সাথে ক্যাটায়নের নিউক্লিয়াস কর্তৃক অ্যানায়নের নিউক্লিয়াসকে বিকর্ষণ করে। 
- এ আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ বলের সম্মিলিত প্রভাবে উভয় পরমাণু নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে কিন্তু অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘ ক্যাটায়নের দিকে সরে আসে, একে ক্যাটায়ন দ্বারা অ্যানায়নের বিকৃতি বা পোলারায়ন বলে।
- এক্ষেত্রে অ্যানায়নটি পোলারায়িত হয়েছে বলা হয়। 
- ক্যাটায়ন দ্বারা এভাবে অ্যানায়নের পোলারায়িত হওয়ার ক্ষমতাকে ক্যাটায়নের পোলারায়ন ক্ষমতা বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৫২.
নিচের কোন লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়?
  1. AgCl
  2. CaCO3
  3. CuSO4
  4. Ag2SO4
সঠিক উত্তর:
CuSO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CuSO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3)
সিলভার সালফেট (Ag2SO4)
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।  

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৫৩.
ফলের রং লাল হয় কিসের জন্য ?
  1. ক) ইথিলিন
  2. খ) প্রপিন
  3. গ) লাইকোপেন
  4. ঘ) মিথিলিন
সঠিক উত্তর:
গ) লাইকোপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লাইকোপেন
ব্যাখ্যা
ফল পাকানোর জন্য দায়ী ফাইটোহরমোনের নাম ইথিলিন। লাইকোপেনের কারণে ফলের রং লাল হয়।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৭৫৪.
পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) স্ফুটন
  2. খ) পাতন
  3. গ) পরিস্রাবণ
  4. ঘ) ক্লোরিনেশন
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
ব্যাখ্যা
সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলােঃ

পরিস্রাবণঃ পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশনঃ যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটনঃ পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতনঃ যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৫৫.
কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. দশা
  4. বিস্তার
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• কম্পাঙ্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
- কম্পাঙ্কের একক s- 1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণার একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল T বলে।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড।

• বিস্তার:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে।

• দশা:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে।

উৎস: 
১. পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।
৩,৭৫৬.
এক ঘনমিটার গ্যাসের আয়তন = কত? 
  1. 103 cm3
  2. 108 cm3
  3. 106 cm3
  4. 109 cm3
সঠিক উত্তর:
106 cm3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
106 cm3
ব্যাখ্যা
গ্যাসের আয়তন (Volume of Gas): 
- গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য হওয়ায় যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রকে গ্যাস পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে ঐ গ্যাসের আয়তন বলা হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে গ্যাস রক্ষিত পাত্রের আয়তনকে গ্যাসের আয়তন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- গ্যাসের আয়তনকে SI এককে ঘনমিটার (Cubic metre) বা m3 এ প্রকাশ করা হয়। 
- এছাড়া ঘন ডেসিমিটার (Cubic decimetre) বা dm3 এবং ঘন সেন্টিমিটার (Cubic Centimetre) বা cm3 এ প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 1 m3 = 1000 L = 103 dm3 = 106 cm3

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৫৭.
শব্দকে যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলা হয় কেন?
  1. কারণ শব্দ মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে
  2. কারণ শব্দ কণার স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়
  3. কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
  4. কারণ শব্দ কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে
সঠিক উত্তর:
কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
ব্যাখ্যা

• শব্দ যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এটি মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে স্পন্দনের দিকের সমান্তরালে অগ্রসর হয়।

• শব্দ:
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ এর সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দ এক প্রকার অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এতে মাধ্যমের কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল।
- বস্তুর কম্পন থেকে শব্দের উৎপত্তি হয়।
- কম্পন বন্ধ হলে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়।

• শব্দের উৎপত্তি:
- কোনো বস্তুতে আঘাত করলে বা কম্পন সৃষ্টি করলে তার চারপাশের মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দিত হয়।
- এই স্পন্দনের ফলে মাধ্যমের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়।
- সংকোচন অংশে কণাগুলো ঘনভাবে অবস্থান করে এবং প্রসারণ অংশে কণাগুলো তুলনামূলকভাবে দূরে সরে যায়।
- এই সংকোচন ও প্রসারণ ক্রমান্বয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- মাধ্যমের কণাগুলো তাদের সাম্য অবস্থানের আশেপাশে সামনে-পেছনে স্পন্দিত হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয় না।
- শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো নিজ অবস্থান ত্যাগ করে না।

• শব্দের সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- উৎসে কম্পন সৃষ্টি হলে সংলগ্ন বায়ু স্তরে কম্পন শুরু হয়।
- এই কম্পন অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- বায়ু, তরল বা কঠিন মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে।
- মাধ্যম না থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।
- শব্দ তরঙ্গ কানে প্রবেশ করলে কর্ণঝিল্লিতে কম্পন সৃষ্টি করে।
- কর্ণঝিল্লির কম্পন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে।

• শব্দের বৈশিষ্ট্য:
- এটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- এটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- এটি শক্তি পরিবহন করে।
- এটি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়।
- শব্দের সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম অপরিহার্য।

• অন্যান্য অপশন:
- মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে: তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়: অনুপ্রস্থ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে: শব্দ কঠিন, তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে চলতে পারে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৩,৭৫৮.
কোন গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের -
  1. ক) সমান
  2. খ) অর্ধেক
  3. গ) দ্বিগুণ
  4. ঘ) চারগুণ
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা

যে কোন গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের দ্বিগুন।
সূত্র: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণী।

৩,৭৫৯.
p-n সংযোগ বা ডায়োডকে কী বলা হয়?
  1. ক) রেকটিফায়ার
  2. খ) অ্যামপ্লিফায়ার
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
ক) রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
p-n সংযোগ বা ডায়োড একমুখীকরণ হিসাবে কাজ করে।
তাই p-n সংযোগ ডায়োডকে রেক্টিফায়ার বলা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৬০.
Which material exhibits the highest electrical conductivity?
  1. Platinum
  2. Copper
  3. Gold
  4. Aluminum
  5. Silver
সঠিক উত্তর:
Silver
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Silver
ব্যাখ্যা
• পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, 
I ∝ V 
বা, I = GV 
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens)। একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশী তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশী। 
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশী। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 

- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। 
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬১.
বায়ুর তাপমাত্রা 1k বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হবে?
  1. ক) 0.6 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
  2. খ) 0.6 ms-1 হ্রাস পাবে।
  3. গ) 1.2 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
  4. ঘ) অপরিবর্তিত থাকবে।
সঠিক উত্তর:
ক) 0.6 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 0.6 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।

কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৩,৭৬২.
ডিটারজেন্টকে পাউডার হিসেবে তৈরি করার জন্য কোন পদার্থ যোগ করা হয়? 
  1. H2SO
  2. Na2SO4 
  3. NaOH 
  4. C12H26O
সঠিক উত্তর:
Na2SO4 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na2SO4 
ব্যাখ্যা

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট সাবানের মতোই এক প্রকার পরিষ্কারক দ্রব্য। 
- ডিটারজেন্ট সাধারণত পাউডারের মতো হয় এবং তরল আকারেও পাওয়া যায়। 
- লরাইল অ্যালকোহলের (C12H26O) সাথে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) বিক্রিয়া করে লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট (C12H26SO4) এবং পানি উৎপন্ন করে। 
- এই লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট (C12H26SO4) এর সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) বিক্রিয়া করে সোডিয়াম লরাইল সালফেট (C12H25SO4Na) এবং পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। 
- সোডিয়াম লরাইল সালফেট (C12H25SO4Na) ডিটারজেন্ট নামে পরিচিত। 
• C12H26O + H2SO4  → C12H26SO4 + H2
• C12H26SO4 + NaOH → C12H25SO4Na + H2
- ডিটারজেন্টকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ডিটারজেন্টের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থ যোগ করা হয়। 
- ডিটারজেন্টকে পাউডার আকৃতির করার জন্য সোডিয়াম সালফেট (Na2SO4) যোগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৬৩.
আলোক রশ্মি একবিন্দুতে মিলিত হয় -
  1. ক) উত্তল লেন্সে
  2. খ) অবতল লেন্সে
  3. গ) গোলীয় দর্পনে
  4. ঘ) সমতল দর্পনে
সঠিক উত্তর:
ক) উত্তল লেন্সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উত্তল লেন্সে
ব্যাখ্যা
- উত্তল লেন্সের প্রান্তভাগ সরু ও মধ্যভাগ মোটা।
- অবতল লেন্সের প্রান্তভাগ মোটা ও মধ্যভাগ সরু। 
- আলোক রশ্মি একবিন্দুতে মিলিত হয় উত্তল লেন্সে।
- অবতল লেন্সে আলোকরশ্মি পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৩,৭৬৪.
কোন তত্ত্বের সাহায্যে বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করার ধারণা ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. ক) আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. খ) থিওরি অব রিলেটিভিটি
  3. গ) ফটো তড়িৎ ক্রিয়া
  4. ঘ) ওয়েব পার্টিকেল ডুয়ালিটি
সঠিক উত্তর:
খ) থিওরি অব রিলেটিভিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) থিওরি অব রিলেটিভিটি
ব্যাখ্যা
- আলাের বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমানা
- 1905 সালে ভৌত রাশি এবং পরিমাপ অইিনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
- থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E=mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানাে হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
৩,৭৬৫.
গামা রশ্মি সম্পর্কিত নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. এটি আলোর ন্যায় গতিশীল
  2. এতে চার্জ থাকে 
  3. এতে ভর থাকে
  4. এটি বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় 
সঠিক উত্তর:
এটি আলোর ন্যায় গতিশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি আলোর ন্যায় গতিশীল
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। 
- এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
- গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে। 
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৭৬৬.
কোন বর্তনী পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে?
  1. সমন্বিত বর্তনী
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেকটিফায়ার
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- 
১। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
২। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৬৭.
গ্যালভানিক কোষ এক ধরনের -
  1. তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
  2. তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ
  3. ইলেকট্রোলাইটিক কোষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ কোষ (Electric Cell):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক শক্তি থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তড়িৎ শক্তি পাওয়া যায় তাকে তড়িৎ কোষ বলে।
- প্রতিটি বৈদ্যুতিক কোষের দুটি প্রান্ত থাকে।
- একটি হলো পজেটিভ বা ক্যাথোড (Cathode) এবং অন্যটি নেগেটিভ বা অ্যানোড (Anode)।
- বৈদ্যুতিক কোষ সর্বপ্রথম ১৮০০ সালে আবিষ্কার সবন ইটালির বিজ্ঞানী আলেকসান্দ্রো ভোল্টা।
- তড়িৎ কোষ দুই প্রকার।
যথা-
• তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বা গ্যালভানিক সেল: যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। একে গ্যালভানিক কোষ বা ভোল্টার কোষও বলা হয়।

• তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ:
- যখন কোন তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থের দ্রাবকে দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থার মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করা হয়, তখন ঐ তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের রাসায়নিক বিয়োজন ঘটে এবং নতুন রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন হয়, এই পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis) বলে।
- যে পাত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণ চালানো হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলা হয়।
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি খনিজ পদার্থ থেকে বিভিন্ন ধাতু উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
- হামফ্রে লেভি তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম অনেকগুলো মৌলিক পদার্থ আলাদা করতে সক্ষম হন।
- তন্মধ্যে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, বেরিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৩,৭৬৮.
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে কোনটি? 
  1. জেনারেটর
  2. বৈদ্যুতিক ঘন্টা
  3. মাইক্রোফোন
  4. বৈদ্যুতিক মোটর 
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক মোটর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক মোটর 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৬৯.
তাপ প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয় -
  1. ক) গ্যাসীয় পদার্থ
  2. খ) তরল পদার্থ
  3. গ) কঠিন পদার্থ
  4. ঘ) এটি নির্দিষ্ট নয়
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যাসীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যাসীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
• তাপ প্রয়োগে করলে সব ধরনের পদার্থই প্রসারিত হয়।
- তবে যে পদার্থের অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ যতো কম সে পদার্থ ততো বেশি প্রসারিত হয়।
- কঠিন বা তরল পদার্থের তুলনায় বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম।
- তাই তাপ প্রয়োগে বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৭০.
কোন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ সংঘটিত হয় না?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ সংঘটিত হয় না। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।   

- Reduction (বিজারণ) শব্দের প্রথমাংশ Red এবং Oxidation (জারণ) শব্দের প্রথমাংশ Ox এর সমন্বয়ে গঠিত শব্দ হলো Redox. 

• রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া:  
- জারণ এবং বিজারণ উভয় প্রক্রিয়া একই সাথে ঘটে।
- একটি পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করার সাথে সাথেই অন্য একটি পদার্থ সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এই কারণে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াগুলিকে একত্রে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়।
- জারণ-বিজারণ একটি যুগপৎ বিক্রিয়া। 

• কিছু বিক্রিয়াতে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে।
→ উদাহরণ-
- সংযোজন বিক্রিয়া, 
- বিয়োজন বিক্রিয়া, 
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া,
- দহন বিক্রিয়া। 

• নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- এ ধরণের বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ তথা ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।

→ উদাহরণ-
- প্রশমন বিক্রিয়া,
- অধ:ক্ষেপণ বিক্রিয়া ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৭৭১.
সিলিকা বিদ্যমান আছে কোনটিতে?
  1. চুনাপাথর
  2. হেমাটাইট
  3. কোয়ার্টজ
  4. মার্বেল
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

অক্সিজেনের পরই প্রকৃতিতে প্রাচুর্যতার দিক দিয়ে সিলিকনের অবস্থান। অক্সিজেনের প্রতি সিলিকনের প্রবল আসক্তি থাকায় প্রকৃতিতে সিলিকন অক্সাইড যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়।
বালি, পাথর ও কোয়ার্টজে সিলিকা রূপে সিলিকন বিদ্যমান থাকে।
এছাড়া সিলিকন ফেল্ডস্পার, মাইকা, এ্যাসবেসটস ইত্যাদিতে সিলিকেট রূপে থাকে।
উৎসঃ রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৭৭২.
চৌম্বক কম্পাস বা দিকদর্শন যন্ত্রে কী ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) প্রাকৃতিক চুম্বক
  2. খ) সংকর চুম্বক
  3. গ) স্থায়ী চুম্বক
  4. ঘ) অস্থায়ী চুম্বক
সঠিক উত্তর:
গ) স্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক কম্পাস বা দিকদর্শন যন্ত্রে স্থায়ী চুম্বক ব্যবহৃত হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
- যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত চুম্বক স্থায়ী হলেও তা দুর্বল প্রকৃতির হয়। তাই চৌম্বক পদার্থের সাথে অন্য পদার্থের মিশ্রণে অথবা বিশেষ প্রক্রিয়ায় (স্পর্শ-ঘর্ষণ পদ্ধতি) স্থায়ী শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা হয়।

স্থায়ী চুম্বকের ব্যবহার:
- সমুদ্রে জাহাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য চৌম্বক কম্পাস বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- এটি Navigation-এর অন্তর্ভুক্ত একটি যন্ত্র।  
- পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠে মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চুম্বক শলাকা সর্বদা উত্তর দক্ষিণ দিক বরাবর অবস্থান করে।
- চুম্বকের এ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে চৌম্বক কম্পাস তৈরি করা হয়েছে।
- চৌম্বক কম্পাস একটি মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চৌম্বক শলাকা দিয়ে গঠিত। চুম্বক শলাকার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করা হয়।
- এছাড়াও মাইক্রোফোন ও স্পিকার, বৈদ্যুতিক মোটরে ইত্যাদিতে স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৭৩.
পৃথিবীর সঙ্গে আপনার যে আকর্ষণ তাকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. তাড়িতচৌম্বক বল
  2. অভিকর্ষ বল
  3. পীড়ন
  4. স্থিতিস্থাপকতা
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৭৪.
Rubber এর অপর নাম
  1. Plastomer
  2. Elastomer
  3. Resin
  4. Soft Plastic
সঠিক উত্তর:
Elastomer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Elastomer
ব্যাখ্যা
Rubber এর অপর নাম Elastomer.
Elastomer হলো এমন উপাদান যা রাবারের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত। যেমন: প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা, বিকৃতির পরে পূনরায় আসল আকারে ফিরে আসার ক্ষমতা।
৩,৭৭৫.
কোন যন্ত্র ব্যবহার করে তাড়িতচুম্বক তৈরি করা হয়?
  1. সলিনয়েড
  2. ব্যাটারি
  3. ক্যাপাসিটর 
  4. রেজিস্টর
সঠিক উত্তর:
সলিনয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সলিনয়েড
ব্যাখ্যা

- তাড়িতচুম্বক (Electromagnet) তৈরির মূল ভিত্তি হলো বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট চৌম্বক ক্ষেত্র। একটি অন্তরিত তামার তারকে যখন সিলিন্ডার বা কুণ্ডলীর আকারে পেঁচানো হয়, তখন তাকে সলিনয়েড বলা হয়। এই সলিনয়েডের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে এর ভেতরে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়, যা এটিকে একটি সাময়িক চুম্বকে পরিণত করে। সলিনয়েডের ভেতরে কাঁচা লোহার দণ্ড রাখলে এর চৌম্বক শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। 

তাড়িতচুম্বক (Electromagnet): 
- শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। তবে, যদি একটি লোহার টুকরো কয়েল বা সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয় এবং সলিনয়েড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে অনেক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। 
- লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেল এই ধাতুগুলোর চৌম্বকীয় ধর্ম রয়েছে। এদের ভেতর ছোট ছোট চৌম্বকের মতো অনেক কণিকা এলোমেলোভাবে থাকে। ফলে সাধারণ অবস্থায় লোহা চৌম্বক হিসেবে কাজ করে না। কিন্তু যখন লোহার টুকরোটি বিদ্যুৎপ্রবাহিত সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয়, তখন ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে লোহার অভ্যন্তরের ছোট ছোট চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়। ফলে লোহার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এবং এটি সলিনয়েডের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। এইভাবে তৈরি হওয়া চুম্বককে বলা হয় তাড়িতচুম্বক। 
- যখন সলিনয়েডে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন লোহার অভ্যন্তরের চৌম্বক কণিকাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে এবং চৌম্বকত্ব হারিয়ে যায়। 
- স্পিকারে বা এয়ারফোনে যে শব্দ শোনা যায় সেখানে তাড়িতচুম্বক ব্যবহার করা হয়। এখানে শব্দের কম্পন এবং তীব্রতার সমান বিদ্যুৎপ্রবাহ পাঠানো হয়, সেই বিদ্যুৎ একটা তাড়িতচুম্বক বা ইলেকট্রোম্যাগনেটের চৌম্বকত্ব শব্দের কম্পন বা তীব্রতার উপযোগী করে তৈরি করে সেটা একটা ডায়াফ্রামকে কাঁপায় এবং সেই ডায়াফ্রাম সঠিক শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৭৬.
কোনো পরিবাহকের রোধ কয়টি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
  1. ক) চারটি
  2. খ) দুটি 
  3. গ) তিনটি 
  4. ঘ) পাচঁটি 
সঠিক উত্তর:
ক) চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চারটি
ব্যাখ্যা
একটি পরিবাহকের রোধ চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
১.পরিবাহীর দৈর্ঘ্য,
২.পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, 
৩.পরিবাহীর উপাদান এবং 
৪.পরিবাহীর তাপমাত্রা।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ,ড. শাহজাহান তপন
৩,৭৭৭.
১ কিউবিক মিটার পানির ভর কত?
  1. ১০ কেজি
  2. ১০০ কেজি
  3. ১০০০ কেজি
  4. ১০০০০ কেজি
সঠিক উত্তর:
১০০০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০০ কেজি
ব্যাখ্যা
গলনাঙ্ক: 
- পানি যখন কঠিন অবস্থায় থাকে তখন তা বরফ। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক। 
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফুটনাঙ্ক: 
- য়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে বলে স্ফুটনাঙ্ক। 
- পানির স্ফুটনাঙ্ক ৯৯.৯৮০ সেলসিয়াস যা ১০০° সেলসিয়াসের খুবই কাছাকাছি, তাই সাধারণভাবে পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াস। 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীন আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি আর তা হচ্ছে ১ গ্রাম/সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৭৮.
মহাশূন্যে একটি বস্তুর ওজন শূন্য হয় কারণ- 
  1. বস্তুর ভর নেই
  2. সেখানে বাতাস নেই
  3. সূর্যের আলো পড়ে না
  4. কোনো অভিকর্ষ বল কাজ করে না
সঠিক উত্তর:
কোনো অভিকর্ষ বল কাজ করে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো অভিকর্ষ বল কাজ করে না
ব্যাখ্যা
ভর ও ওজনের সম্পর্ক: 
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের পরিমাণই হচ্ছে এর ভর। 
- ভর হচ্ছে একটি ধ্রুব রাশি যা ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। 
- ৭৫ কেজি ভরের একজন মহাশূন্যচারীর ভর চাঁদে কিংবা পৃথিবীর কক্ষপথেও ৭৫ কেজিই থাকবে। 
- মহাশূন্যচারী বা কোনো বস্তু যতটুকু পদার্থ দিয়ে তৈরি, বস্তু বা মহাশূন্যচারীর স্থান পরিবর্তনের ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন হয় না বলে তার ভর সর্বত্র অপরিবর্তিত থাকে। 

- যেহেতু বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি, সুতরাং বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভর করে।
- যেসব কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে সেসব কারণে বস্তুর ওজনও পরিবর্তিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন তত কমতে থাকে।
- বস্তুর ওজন বস্তুর মৌলিক ধর্ম নয়, কোনো বস্তুর ওজন থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য।
- মহাশূন্যে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য হলে তখন বস্তুর উপর কোনো মহাকর্ষ বল কাজ করে না
- চাঁদের অভিকর্ষজনিত ত্বরণের মান পৃথিবীতে অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রায় ৬ ভাগ।
সুতরাং, চাঁদে ১ কেজি ভরের বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৯.৮/৬ নিউটন ≈ ১.৬৩ নিউটন (N)। 
- কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে তার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- যদি দূরত্ব বাড়ানো হয় তাহলে তার উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কমে যায়, ফলে বস্তুর ওজন হ্রাস পায়। 
- ভূপৃষ্ঠে ১ কেজি ভরের কোনো বস্তুতুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলেও পৃথিবী থেকে দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে বস্তুর ওজন কমতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৭৭৯.
দ্রবণের মধ্যে যা কম পরিমাণে থাকে এবং দ্রবীভূত হয় তাকে কী বলা হয়? 
  1. দ্রব 
  2. যৌগ 
  3. অণু 
  4. দ্রাবক 
সঠিক উত্তর:
দ্রব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রব 
ব্যাখ্যা

দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়।

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
ক) সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

খ) অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

গ) অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৮০.
বিভব শক্তির অন্য কী নামে পরিচিত? 
  1. তাপ শক্তি
  2. গতি শক্তি
  3. স্থিতি শক্তি
  4. শব্দ শক্তি
সঠিক উত্তর:
স্থিতি শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতি শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তি: 
- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তি বলা হয়। 
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। 
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক। 
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। 
যেমন- পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। 
- একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে। 
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ। 
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ। 
অর্থাৎ, যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। 
যথা- গতি শক্তি এবং বিভবশক্তি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৮১.
নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
  2. বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
  3. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
  4. বায়ু বলতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনকেই বুঝায়
সঠিক উত্তর:
বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
ব্যাখ্যা
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়।
- দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোনো অনুপাতে একত্রে মিশ্রিত করলে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়।
- বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ বায়ুতে এর উপাদানসমূহ যেমন- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৭৮২.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত?
  1. ক) তিন লাখ মিটার/ সেকেন্ড
  2. খ) ত্রিশ লাখ সেন্টিমিটার/ সেকেন্ড
  3. গ) তিন লাখ কিলোমিটার/ সেকেন্ড
  4. ঘ) তিন কোটি কিলোমিটার/ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
গ) তিন লাখ কিলোমিটার/ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিন লাখ কিলোমিটার/ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার বা ত্রিশ কোটি মিটার বা তিন হাজার কোটি সেন্টিমিটার বা এক লাখ ছিয়াশি হাজার মাইল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৭৮৩.
কুমিল্লা থেকে ঢাকায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হবে?
  1. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
  2. আধুনিক ট্রান্সফরমার
  3. স্টেপ-ডাউন ট্রানফরমার
  4. তাড়িত চৌম্বক ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
• কুমিল্লা থেকে ঢাকায় বিদ্যুৎ পরিবহণের ক্ষেত্রে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। কারণ বিদ্যুৎ দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহন করার সময় ভোল্টেজ বৃদ্ধি করা হয় যাতে বিদ্যুৎ লাইনগুলোতে শক্তি ক্ষয় কম হয় এবং পরিবহণ দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ভোল্টেজকে বাড়িয়ে দেয়, ফলে বিদ্যুৎ লাইনগুলোতে কারেন্ট কমে এবং তাপীয় ক্ষয় কমে। তাই, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও নিরাপদভাবে দূরত্ব পারাপারের জন্য স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমারই উপযুক্ত। ঢাকায় পৌঁছে বিদ্যুৎকে ব্যবহারযোগ্য মাত্রায় নামানোর জন্য স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহৃত হয়। অতএব, বিদ্যুৎ পরিবহণের শুরুতে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার প্রয়োজন।

ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।

ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারনে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৩,৭৮৪.
আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য সাধারণত কোন কম্পাঙ্কের শব্দ ব্যবহার করা হয়? 
  1. ১০-১০০ হার্টজ 
  2. ১-১০ মেগাহার্টজ 
  3. ১-১০ কিলোহার্টজ 
  4. ১০-১০০ মেগাহার্টজ 
সঠিক উত্তর:
১-১০ মেগাহার্টজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-১০ মেগাহার্টজ 
ব্যাখ্যা

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
 - রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে ভ্রূণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৮৫.
প্রস্বেদন বলতে বোঝায়- 
  1. পানি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া 
  2. উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া 
  3. উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
  4. উদ্ভিদদেহে পানি শোষণ প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন: 
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়, এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। 
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'. 
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। 
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। 
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। 
- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: ১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, ২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং ৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৮৬.
বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী? 
  1. অ্যামিটার 
  2. ভোল্ট মিটার 
  3. গ্যালভানোমিটার 
  4. ট্রান্সফরমার 
সঠিক উত্তর:
অ্যামিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিটার 
ব্যাখ্যা

- বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপক যন্ত্র হলো অ্যামিটার। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য নির্ণয়ের যন্ত্র হলো ভোল্টমিটার। 
- ট্রান্সফরমার একটি গতিহীন নিশ্চল বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৭৮৭.
যদি রৈখিক বিবর্ধন m < 1 হয়, তাহলে প্রতিবিম্ব কীরূপ হবে?
  1. বিবর্ধিত হবে
  2. খর্বিত হবে
  3. সমান হবে
  4. দ্বিগুণ হবে
সঠিক উত্তর:
খর্বিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খর্বিত হবে
ব্যাখ্যা

• রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। 
- কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L0 এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য L
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/L0 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
• m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৮৮.
কোন বস্তুকে স্থির তরলে নিমজ্জিত করলে বস্তুর উপর যে লব্ধি বল অনুভুত হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) নিম্নমুখী চাপ
  2. খ) প্লবতা
  3. গ) বস্তুর ওজন
  4. ঘ) বস্তুর হারানো ওজন
সঠিক উত্তর:
খ) প্লবতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লবতা
ব্যাখ্যা
কোন বস্তুকে স্থির তরলে নিমজ্জিত করলে বস্তুর উপর যে লব্ধি বল অনুভুত হয় তাকে প্লবতা  বলে। 

- পদার্থ যখন তরল ও বায়বীয় অবস্থায় থাকে তখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হতে পারে, তাই তরল ও বায়বীয় পদার্থকে প্রবাহী পদার্থ বলা হয়।
- প্রবাহী পদার্থ বিশেষ ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থ থেকে কিছু আলাদা ভৌত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। তার মধ্যে অন্যতম একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে প্লবতা।
- তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোন বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে ঊর্ধমুখী বল বা চাপ প্রয়োগ করে। এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে বলা হয় প্লবতা।
- প্লবতার মান বস্তুর নিমজ্জিত অংশ কর্তৃক অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান হয়।

সূত্র: ৯৭ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৮৯.
অ্যালকোহল কী ধরনের পদার্থ? 
  1. দাহ্য
  2. বিস্ফোরক
  3. বিষাক্ত 
  4. উত্তেজক 
সঠিক উত্তর:
দাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাহ্য
ব্যাখ্যা

বিষাক্ত পদার্থ: 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। 
- এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

বিস্ফোরক পদার্থ: 
- এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। 
- তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। 

দাহ্য পদার্থ: 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। 
- এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে, তাই এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ: 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। 
- এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ব্যবহার করতে হবে। 

উল্লেখ্য,
- কিছু অ্যালকোহল (যেমন- মিথানল) বিষাক্ত হলেও, "অ্যালকোহল" শব্দটি সাধারণভাবে সবসময় বিষাক্ত বোঝায় না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৯০.
নিম্নের কোন বাক্যটি সত্য নয়?
  1. ক) প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত
  2. খ) ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত
  3. গ) পদার্থের নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে
  4. ঘ) ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
ব্যাখ্যা
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে। নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।  

ইলেকট্রন: পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। এর ভর অতি সামান্য। একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। ইলেকট্রনের সংকেত e¯। ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10 -19 C। আপেক্ষিক আধান -1।

প্রোটন: ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। ইহার সংকেত H+। প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C। প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। প্রোটনের আরেকটি সংকেত P। আপেক্ষিক আধান +1।

নিউট্রন: নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n। নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g। আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯১.
নিচের কোন পদার্থটির নির্দিষ্ট আকার ও নির্দিষ্ট আয়তন উভয়ই থাকে? 
  1. অ্যামোনিয়া 
  2. পানি 
  3. কয়লা 
  4. অ্যালকোহল 
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯২.
তাপমাত্রার এস. আই (SI) একক হচ্ছে -
  1. ফারেনহাইট
  2. ক্যালরি
  3. সেন্টিগ্রেড
  4. কেলভিন
সঠিক উত্তর:
কেলভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেলভিন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) কেলভিন

• তাপ:

- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- তাপ শক্তির একটি রূপ।
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক।
- তাপের SI একক জুল (J)।
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে 1 ক্যালরি (Cal) বলে।
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। অতএব, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল।

• তাপমাত্রা:
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হল বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
- তাপমাত্রার SI একক কেলভিন
- তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। এগুলোর একটি হল সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং অন্যটি ফারেনহাইট।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৩.
হিলিয়াম ভর্তি বেলুন বাতাসে উপরে উঠে যায়, কারণ- 
  1. হিলিয়াম বিস্ফোরণযোগ্য গ্যাস
  2. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
  3. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে বেশি
  4. হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্বের সমান
সঠিক উত্তর:
হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V.
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক হচ্ছে কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার বা কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kgm-3)। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা [ρ] = ML-3 পাওয়া যায় । 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
-  পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 

দৈনন্দিন জীবনে ঘনত্বের ব্যবহার: 
- দেহের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে বেশি বলে মাটিতে হাটতে, বসতে বা চলাফেরা করা যায়। পানিতে ভাসার ক্ষেত্রে দেহের অভ্যন্তরের বাতাস সহায়তা করে। বাতাসের ঘনত্ব পানির ঘনত্ব থেকে কম। নৌকা, ভেলা, পানিতে ভাসমান দ্রব্য নির্মাণে পানি থেকে কম ঘনত্ব সম্পন্ন বস্তু ব্যবহৃত হয় বা এমন কৌশল ব্যবহৃত হয় যাতে ভাসমান বস্তুকে পানি থেকে হালকা করে দেয়। 
- বেলুন ওড়ানোর জন্য এর মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস পূর্ণ করা হয়। হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে কম তাই বেলুন বাতাসের মধ্যে উপরে উঠে যায়। 
- কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস, এর মধ্যে শ্বাস নেয়া যায় না। কিন্তু এরা অক্সিজেন, নাইট্রোজেন থেকে ভারি বলে বায়ুমণ্ডলের একেবারে নিচে অবস্থান করে, ফলে বায়ুতে স্বচ্ছন্দে শ্বাস নেওয়া যায়। 
- পানি থেকে পানির বাষ্প বা গরম বাতাসের ঘনত্ব কম বলে খাবার রান্না করার সময় বা তপ্ত খাবার ঠান্ডা করার জন্য পাত্রের মুখ খোলা রাখা হয়। 
- জলীয় বাষ্প কম ঘনত্বের কারণে আকাশে উঠে, যা মেঘের সৃষ্টি করে। আবার, বায়ুমণ্ডলের বাতাস থেকে পানির ঘনত্ব বেশি বলে বৃষ্টির পানি পৃথিবী পৃষ্ঠে নেমে আসে। তাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের বাতাসের ঘনত্বের তারতম্য হয় বলেই পৃথিবীতে বায়ু প্রবাহ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯৪.
ফিউজের তারের কোন বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য?
  1. কম রোধ এবং কম গলনাংক
  2. উচ্চ রোধ এবং উচ্চ গলনাংক
  3. কম রোধ এবং উচ্চ গলনাংক
  4. উচ্চ রোধ এবং কম গলনাংক
সঠিক উত্তর:
উচ্চ রোধ এবং কম গলনাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ রোধ এবং কম গলনাংক
ব্যাখ্যা

• ফিউজের তার একটি সুরক্ষা উপকরণ যা অতিরিক্ত কারেন্ট বা শর্ট সার্কিটের সময় সার্কিটকে রক্ষা করে। ফিউজের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি কারেন্ট পেলে গলে যায় এবং সার্কিট খোলার মাধ্যমে যন্ত্রাংশ বা তারকে ক্ষতি হতে বাধা দেয়। এজন্য ফিউজের তারকে এমন উপাদান থেকে তৈরি করা হয় যার গলনাংক খুব কম এবং রোধ তুলনামূলকভাবে বেশি। কম গলনাংকের কারণে এটি সহজেই গলে যায়, আর উচ্চ রোধ নিশ্চিত করে যে তা মাত্রাসীমার উপরে কারেন্টে দ্রুত উত্তপ্ত হয়। তাই ফিউজের তারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চ রোধ এবং কম গলনাংক, যা এটিকে সুরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে কার্যকর করে।
 
 • বৈদ্যুতিক ফিউজ তার: 
- তড়িৎ যন্ত্রপাতির মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। 
- অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহের কারণে আগুন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। 
- এ ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বর্তনীতে এক ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা হলো ফিউজ তার ব্যবহার করা। 
- ফিউজ সাধারণত টিন ও সীসার একটি সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার। 
- এটি একটি চিনামাটির কাঠামোর উপর দিয়ে আটকানো থাকে। 
- এই তারটি সরু এবং গলনাঙ্ক কম। 
- এই তারের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। 
- ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এভাবে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে ফিউজ যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। 

• ফিউজের তারের বৈশিষ্ট্য (Fuse Wire Properties):
- ফিউজের তারে সাধারণত  উচ্চ রোধ (High Resistance) এবং কম গলনাংক (Low Melting Point) থাকে।  
- এটি করার কারণ হলো, অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হলে তারে দ্রুত গলে যায় এবং সার্কিটকে নিরাপদ রাখে।  
- ফিউজের মূল কাজ হলো সার্কিটে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক প্রবাহ (Overcurrent) প্রবেশ করতে না দেওয়া।  
- তাই ফিউজের তারের উচ্চ রোধ ও কম গলনাংক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  
- এতে করে সার্কিটে সমস্যা দেখা দিলে ফিউজ দ্রুত গলে যায় এবং বাকি যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত থাকে।  

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৭৯৫.
P একটি কাজ 25 দিনে করে। Q, P এর চাইতে 25% বেশী কর্মক্ষম। তাহলে Q কাজটি কতদিনে করতে পারবে?
  1. 22 দিনে
  2. 18 দিনে
  3. 20 দিনে
  4. 24 দিনে
সঠিক উত্তর:
20 দিনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20 দিনে
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: P একটি কাজ 25 দিনে করে। Q, P এর চাইতে 25% বেশী কর্মক্ষম। তাহলে Q কাজটি কতদিনে করতে পারবে?

সমাধান:
P, 25 দিনে করে 1 অংশ কাজ
Q, P-এর চাইতে 25% বেশি কর্মক্ষম।
Q, 25 দিনে করে = 1 + 1 এর 25%
= 1 + (25/100)
= 1 + (1/4)
= 5/4 অংশ কাজ

খ, 5/4 অংশ কাজ করে 25 দিনে
1 অংশ কাজ করে (25 × 4)/5 দিনে
= 20 দিনে
৩,৭৯৬.
'Alkaline Earth Metals' নিচের কোনটি? 
  1. রুবিডিয়াম
  2. সিজিয়াম
  3. বেরিয়াম
  4. লিথিয়াম
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৯৭.
বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ কত ভোল্ট থেকে বেশি হলে আমরা অনুভব করতে পারি?
  1. ক) ১.৫ ভোল্ট
  2. খ) ৫০ ভোল্ট
  3. গ) ১১০ ভোল্ট
  4. ঘ) ২২০ ভোল্ট
সঠিক উত্তর:
খ) ৫০ ভোল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫০ ভোল্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বাসাবাড়িতে যে বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া হয় সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি বলা হয়। বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের সাপ্লাই ভোল্টেজ হলো ২২০ ভোল্ট এসি। একটি সাধারণ ব্যাটারির সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ ভোল্ট। বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ ভোল্ট থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি। ২২০ ভোল্ট ইলেকট্রিক শক খেলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৭৯৮.
pH মান 7 এর নিচে হলে দ্রবণটি কী হবে?
  1. ক্ষারীয়
  2. ধাতব 
  3. নিরপেক্ষ 
  4. অম্লীয় 
সঠিক উত্তর:
অম্লীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্লীয় 
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৯.
In a neutralization reaction, what substance is typically generated?
  1. Water
  2. Sodium hydroxide
  3. Hydrochloric acid
  4. Carbon dioxide
  5. Methane
সঠিক উত্তর:
Water
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Water
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization Reaction):
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়।

- যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮০০.
নিচের কোনটি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. সিলভার ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব, আবার চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।