বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৭ / ৬৪ · ২,৬০১২,৭০০ / ৬,৪০৯

২,৬০১.
কোন মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালন করতে পারে না?
  1. কঠিন মাধ্যমে
  2. শূন্য মাধ্যমে
  3. বায়বীয় মাধ্যমে
  4. তরল মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা কণার কম্পনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। এটি কম্পনের শক্তি স্থানান্তর করে মাধ্যমে প্রেরণ করে। কঠিন, তরল এবং বায়বীয় মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে, কারণ এগুলিতে কণা থাকে যা কম্পন প্রেরণ করতে সক্ষম। কিন্তু শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই কোনো কম্পন স্থানান্তর সম্ভব নয়। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালন করতে পারে না।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) শূন্য মাধ্যমে।


শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২,৬০২.
3517Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 15
  2. খ) 35
  3. গ) 17
  4. ঘ) 18
সঠিক উত্তর:
ঘ) 18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 18
ব্যাখ্যা
নিউট্রন সংখ্যা = A - Z
 = 35 - 17
= 18
২,৬০৩.
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত কি গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. অক্সিজেন
  2. নিয়ন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
সঠিক উত্তর:
আর্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্গন
ব্যাখ্যা
আর্গন:
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বান্ধে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
- তাছাড়া বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত নাইট্রোজেন এবং মাঝে মাঝে আর্গন (Ar) গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মুলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
২,৬০৪.
বিদ্যুৎ শক্তির হিসাবের জন্য ব্যবহৃত একক কী?
  1. জুল
  2. ওয়াট
  3. কিলোওয়াট-ঘণ্টা 
  4. ওয়াট-ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
কিলোওয়াট-ঘণ্টা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিলোওয়াট-ঘণ্টা 
ব্যাখ্যা

• বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব করার জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত একক হলো কিলোওয়াট-ঘণ্টা। এটি একটি শক্তি একক যা বোঝায় যে একটি যন্ত্র কত কিলোওয়াট শক্তি ব্যবহার করেছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, সাধারণত ঘণ্টায়। জুল হলো শক্তির মৌলিক একক, ওয়াট হলো শক্তির হার, আর ওয়াট-ঘন্টা শক্তির একটি ছোট একক। 
- সুতরাং, বিদ্যুৎ বিল হিসাব করার জন্য কিলোওয়াট-ঘণ্টা  ব্যবহার করা হয়।

 
 কিলোওয়াট-ঘন্টা:
- বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক কিলোওয়াট-ঘন্টা।
- কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বা উৎসের কাজ করার হারকে এর ক্ষমতা বলে।
- অর্থাৎ কোনো বৈদ্যুতিক উৎস একক সময়ে যে কাজ করে তাকে তার ক্ষমতা বলে।
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার ব্যবহারিক একক হল ওয়াট (Watt)।
- ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ ওয়াট-ঘণ্টা বলা হয়।
- ১ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ১ ইউনিট বলা হয়।
- ১ ইউনিট= ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬০৫.
চাঁদের পৃষ্ঠে একজন মানুষের ওজন পৃথিবীর তুলনায় কেমন হয়?
  1. পৃথিবীর সমান
  2. পৃথিবীর দ্বিগুণ
  3. পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ
  4. পৃথিবীর প্রায় ১/১০ গুণ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ
ব্যাখ্যা

- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ, চাঁদে ওজন পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ হয়।
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। অর্থাৎ পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে।
- উল্লেখ্য, একজন মানুষের ভর (m) পৃথিবী বা চাঁদ - সর্বত্র একই থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৬০৬.
সবচেয়ে শক্ত বস্তু কোনটি?
  1. ক) গ্রানাইট পাথর
  2. খ) পিতল
  3. গ) ইস্পাত
  4. ঘ) হীরা
সঠিক উত্তর:
ঘ) হীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হীরা
ব্যাখ্যা
• কার্বন একটি অধাতু এবং বিজারক পদার্থ।
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক
- হীরা কাচ কাটতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬০৭.
বস্তুর ভরের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. অবস্থানের পরিবর্তনে বস্তুর ভর পরিবর্তিত হয়
  2. বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বলই ভর
  3. বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই ভর
  4. ভরের একক নিউটন
সঠিক উত্তর:
বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই ভর
ব্যাখ্যা
ভর: 
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই হচ্ছে এর ভর।
- ভর হচ্ছে একটি ধ্রুব রাশি যা ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না।
- ৭৫ কেজি ভরের একজন মহাশূন্যচারীর ভর চাঁদে কিংবা পৃথিবীর কক্ষপথেও ৭৫ কেজিই থাকবে।
- মহাশূন্যচারী বা কোনো বস্তু যতটুকু পদার্থ দিয়ে তৈরি, বস্তু বা মহাশূন্যচারীর স্থান পরিবর্তনের ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন হয় না বলে তার ভর সর্বত্র অপরিবর্তিত থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,৬০৮.
হাইপো- এর রাসায়নিক নাম কি?
  1. ক) সোডিয়াম সালফেট
  2. খ) সোডিয়াম থায়োসালফেট
  3. গ) সিলভার ক্লোরাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম বাইসালফেট
সঠিক উত্তর:
খ) সোডিয়াম থায়োসালফেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সোডিয়াম থায়োসালফেট
ব্যাখ্যা

Sodium thiosulfate
chemical compound
Alternative Titles: hypo, sodium hyposulfite
It is used by photographers to fix developed negatives and prints; it acts by dissolving the part of the silver salts coated onto film which remain unchanged by exposure to light.
Source: britannica

২,৬০৯.
273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি কত?
  1. ক) 332 ms-1
  2. খ) 342 ms-1
  3. গ) 338 ms-1
  4. ঘ) 0 ms-1
সঠিক উত্তর:
ক) 332 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 332 ms-1
ব্যাখ্যা
শব্দ
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১০.
কোনো দ্রবণের pH স্কেলের বিস্তৃতির সীমা কোনটি? 
  1. ০-৭
  2. ০-১৪
  3. ১-১৪
  4. ৭-১৪
সঠিক উত্তর:
০-১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০-১৪
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১১.
নিম্নলিখিত কোন পদার্থটি কনভেকশনের মাধ্যমে তাপ স্থানান্তর করতে পারে?
  1. কঠিন ও তরল
  2. বায়বীয় ও কঠিন
  3. তরল ও বায়বীয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
তরল ও বায়বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল ও বায়বীয়
ব্যাখ্যা
তাপ পরিচলন (convection): 
- তরল ও বায়বীয় পদার্থে পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়। 
- একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে বসিয়ে তাপ দিলে পুরো পাত্রের পানিই গরম হতে থাকে। 
- এক্ষেত্রে পানির কণাগুলো তাপ গ্রহণ করে শক্তি অর্জন করে। 
- শক্তি অর্জন করে গরম পানিকণা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। 
- উপরের ঠাণ্ডা পানির কণাগুলো নিচে নেমে এসে তাপ গ্রহণ করে। 
- এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল কণা তাপ গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয়, তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়। 
- এভাবে কণাদের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়ার নাম পরিচলন। 
- তরল পদার্থের কণার মতো বায়বীয় পদার্থের কণারাও উত্তপ্ত হয়ে সহজেই স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৬১২.
কর্পূর কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. অদাহ্য পদার্থ
  2. উদ্বায়ী পদার্থ
  3. অদ্রব্য পদার্থ
  4. তড়িৎ পরিবাহী পদার্থ
সঠিক উত্তর:
উদ্বায়ী পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্বায়ী পদার্থ
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম, আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- আবার কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা এ সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এ সব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৩.
কোন পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয়? 
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন 
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন উভয়ই
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
অর্থাৎ, এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া এবং উত্তপ্ত করলে পুনরায় লবণ পাওয়া, কিংবা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়ে পুনরায় কঠিন হয়ে জমাট বাঁধা—এসবই ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙ্গে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- অণুস্থিত পরমাণুসূহের বন্ধন ভাঙ্গা ও নতুন বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন। 
- কোনো একটি মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মূল পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ধর্মই পরিবর্তিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি দহন, খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন গ্যাস বা কঠিন পদার্থের উৎপত্তি সবই রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এ পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয় এবং শক্তির রূপান্তর ঘটে। 
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬১৪.
পরিবেশ বান্ধব শক্তি কোনটি?
  1. কয়লা
  2. সৌর শক্তি
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. নিউক্লিয় শক্তি
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ বান্ধব শক্তি - সৌর শক্তি, কারণ এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 

শক্তি: 
- শক্তির উৎস হচ্ছে দুইটি। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে সবুজ শক্তি বলা হয়। 
- এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম অনবায়নযোগ্য শক্তির উপর নির্ভরশীল। 
- প্রতি বছর জাতীয় রাজস্বের একটি বড় বরাদ্দ শক্তি আমদানীর পিছনে ব্যয় হয়। 
- বাংলাদেশে সীমিত পরিমান অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস আছে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৫.
চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের-
  1. ছয় ভাগের একভাগ
  2. বিশ ভাগের একভাগ
  3. পাঁচ ভাগের একভাগ
  4. দশ ভাগের একভাগ
সঠিক উত্তর:
ছয় ভাগের একভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয় ভাগের একভাগ
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ, একই বস্তু চাঁদে পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম ওজন অনুভব করে। এর কারণ হলো চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। মহাকর্ষ শক্তি সরাসরি বস্তুটির ওজন নির্ধারণ করে, কারণ ওজন হচ্ছে মহাকর্ষ শক্তির কারণে বস্তুতে কার্যকরী বল। তাই একই বস্তুর ওজন চাঁদে কম হবে। সাধারণভাবে, চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর প্রায় এক ছয় ভাগ হওয়ায়, বস্তুর ওজনও তার ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ছয় ভাগের এক ভাগ।


- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ।

- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়।
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬১৬.
নিচের কোনটি ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা?
  1. ক) জীবাশ্মবিজ্ঞান
  2. খ) এন্ডোক্রাইনোলজি
  3. গ) অণুজীববিজ্ঞান
  4. ঘ) পরিবেশ বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
খ) এন্ডোক্রাইনোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এন্ডোক্রাইনোলজি
ব্যাখ্যা
ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।
আর ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
অঙ্গসংস্থান, শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, হিস্টলজি, ভ্রূণবিদ্যা, কোষবিদ্যা, বিবর্তনবিদ্যা, বাস্তুবিদ্যা, জীবভূগোল, এন্ডোক্রাইনোলজি ইত্যাদি ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা।
অপরদিকে, মৎস্যবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি, প্রাণরসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান, জিনপ্রযুক্তি, ফার্মেসি, জীবাশ্মবিজ্ঞান ইত্যাদি ফলিত জীববিজ্ঞানের শাখা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬১৭.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে -
  1. ক) ১৮০০ সালে
  2. খ) ১৮৬০ সালে
  3. গ) ১৯০০ সালে
  4. ঘ) ১৯৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০০ সালে
ব্যাখ্যা

বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে দুটি তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানের জগৎকে কাপিয়ে দেয়। এগুলাে হলাে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক প্রদত্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ১৯০৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রদত্ত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
দুটি ধারণাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। কয়েক দশকের সাধনায় এই তত্ত্বগুলাে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থের পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন, বিকাশ ও তত্ত্বকে প্রেরণা জোগায়।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা তাই ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালাে বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে আরেকটি বিপ্লব আনেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব ও আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

২,৬১৮.
জীবাশ্মগত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Parasitology
  2. Paleontology
  3. Ophthalmology
  4. Helminthology
সঠিক উত্তর:
Paleontology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Paleontology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil) ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুঁড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুঁড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূ-ত্বকে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (Paleontology) বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- Ophthalmology হচ্ছে চোখের গঠন, ক্রিয়া ও রোগবিষয়ক চিকিৎসাবিজ্ঞান; চক্ষুবিজ্ঞান। 
- Helminthology হচ্ছে কৃমি সম্পর্কিত বিদ্যা। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৯.
চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর তা ছোট ছোট কাগজের কাছে আনা হলে সেগুলো লাফিয়ে চিরুনির কাছে চলে আসে কেন?
  1. ক) বাতাসের জন্য
  2. খ) বৈদ্যুতিক আবেশের জন্য
  3. গ) আঁচড়ানোর ফলে চিরুনি গরম হয় বলে
  4. ঘ) চৌম্বক আবেশের ফলে
সঠিক উত্তর:
খ) বৈদ্যুতিক আবেশের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৈদ্যুতিক আবেশের জন্য
ব্যাখ্যা
চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর সেই চিরুনিটি যখন ছোট ছোট কাগজের কাছে আনা হয় তখন কাগজগুলো লাফিয়ে চিরুনির কাছে চলে আসে৷ ব্যাপারটা ঘটে বৈদ্যুতিক আবেশের জন্য৷
উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
২,৬২০.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ডায়নামো
  3. বৈদ্যুতিক মটর
  4. হুইল
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
ব্যাখ্যা
ডায়নামো যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 

• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে।

• ট্রান্সফর্মার:
-যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৬২১.
রংধনুতে নিচের কোন রংটি অনুপস্থিত ?
  1. ক) বেগুনী
  2. খ) কালো
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) লাল
সঠিক উত্তর:
খ) কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালো
ব্যাখ্যা
রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।
রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল
রংধনুতে কালো রং অনুপস্থিত। 

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬২২.
কোনটি লোহার আকরিক?
  1. জিপসাম
  2. রকসল্ট
  3. ম্যাগনেটাইট
  4. বক্সাইট
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেটাইট
ব্যাখ্যা

• সোডিয়ামের আকরিকঃ
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।
• ক্যালসিয়ামের আকরিকঃ
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।
• আয়রন বা লোহার আকরিকঃ
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিকঃ
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬২৩.
অ্যানোড তড়িৎদ্বার কোথায় সংযুক্ত থাকে? 
  1. ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
  2. ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
  3. ব্যাটারির কেন্দ্রের সাথে
  4. ব্যাটারির বাইরের অংশে
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে দুটি ধাতব পরিবাহী বা গ্রাফাইট দন্ড ব্যবহৃত হয়, যা তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- একটির মাধ্যমে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে, অন্যটির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। 
- তড়িৎদ্বার ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে এবং কোষের বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের জন্য দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যেমন- একটি অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং অপরটি ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৪.
নিচের কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না?
  1. ক) তাপ
  2. খ) চাপ
  3. গ) চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৫.
p-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. ব্রোমিন
  3. ফসফরাস
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 
• p- টাইপ অর্ধপরিবাহী:

- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়।
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে।
- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে।
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে।
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন।
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৬.
স্বর্ণের খাঁদ বের করতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) অ্যাকোয়া রেজিয়া
  2. খ) সালফিউরিক এসিড
  3. গ) ইথানয়িক এসিড
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাকোয়া রেজিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাকোয়া রেজিয়া
ব্যাখ্যা
এক মোল গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও তিন মোল গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের (HCl) আনুপাতিক মিশ্রণ হল রাজঅম্ল বা অ্যাকুয়া রেজিয়া।
স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই অম্ল ব্যবহৃত হয়। 

Aqua regia dissolves gold, though neither constituent acid will do so alone, because, in combination, each acid performs a different task.
Nitric acid is a powerful oxidizer, which will actually dissolve a virtually undetectable amount of gold, forming gold ions (Au3+). The hydrochloric acid provides a ready supply of chloride ions (Cl-), which react with the gold ions to produce chloroaurate anions, also in solution.

Source: MIT
২,৬২৭.
নিচের কোনটি জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) সাধারণত কার্বন পরমাণু উপস্থিত থাকে।
  2. খ) সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শন করে।
  3. গ) বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক বেশি সময় লাগে।
  4. ঘ) সাধারণত আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাধারণত আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাধারণত আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
ব্যাখ্যা
- সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে জৈব যৌগ গঠিত হয়।
- জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু সাধারণত উপস্থিত থাকে। এছাড়া হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার ইত্যাদি মৌলও উপস্থিত থাকে।
- জৈব যৌগে সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শিত হয়।
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
২,৬২৮.
অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের একটি প্রধান সুবিধা কী? 
  1. এটি শুধুমাত্র আলো ধারণ করে
  2. দূরত্ব যতই হোক সংকেতের শক্তি হ্রাস পায় না
  3. এটি তড়িৎ শক্তিতে কাজ করে
  4. এটি কেবল চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব যতই হোক সংকেতের শক্তি হ্রাস পায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব যতই হোক সংকেতের শক্তি হ্রাস পায় না
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬২৯.
তড়িৎ প্রবাহের একক কী? 
  1. ভোল্ট
  2. ওহম
  3. ওয়াট
  4. অ্যাম্পিয়ার
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- ১. পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ এবং ২. অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ। 
পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 

অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬৩০.
সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক-
  1. ফুট
  2. মিটার
  3. ফ্যাদম
  4. কিলোঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদম
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক ফ্যাদম। 
- এক ফ্যাদম সমান ৬ ফিট (১.৮৩ মিটার)। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করার যন্ত্র হচ্ছে ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র হলো হাইগ্রোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র হচ্ছে ম্যানোমিটার। 
- বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র হলো ব্যারোমিটার। 

উৎস:
ব্রিটানিকা।
২,৬৩১.
তাপ সঞ্চালনের সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি কোনটি?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. আবেশ
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা

• তাপ সঞ্চালন:
- উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রার স্থানে তাপের প্রবাহকে তাপ সঞ্চালন বলা হয় ।

• তাপ সাধারনত ৩ টি উপায়ে সঞ্চালিত হয়। যথা-
- পরিবহন
- পরিচলন
- বিকিরন

• বিকিরন:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলা হয় ।
- বিকীর্ণ তাপের শক্তি সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, বা জড় মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত করে না।
- অর্থাৎ তাপ সঞ্চালনের জন্য সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি হলো বিকিরন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৩২.
প্লাস্টিক কোন ধরনের পলিমার?
  1. প্রাকৃতিক
  2. সংশ্লেষিত
  3. জৈব
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংশ্লেষিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশ্লেষিত
ব্যাখ্যা
• প্লাস্টিক হলো সংশ্লেষিত বা কৃত্রিম পলিমার। 

• প্লাস্টিক:
- যে সব পলিমারকে তাপদিলে নমনীয় হয় এবং চাপ দিয়ে বিভিন্ন আকৃতি প্রদান করা যায় সে সব পদার্থকে প্লাস্টিক বলে।
- প্লাস্টিক (plastic) হলো পলিমারের একটি বিশেষ রূপ। 
- কোন প্লাস্টিক পদার্থের প্রক্রিয়াজাত করার গুণাবলি যেমন নমনীয়তা ও আকৃতি প্রদান ইত্যাদি গুণাবলি কে প্লাস্টিসিটি বলে।

• সংশ্লেষিত পলিমার:
- সংশ্লেষিত পলিমার হল পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়া পলিমার।
- এগুলি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। 
- প্লাস্টিক হলো সংশ্লেষিত পলিমার (Synthetic Polymer), যা পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ (যেমন: ইথিলিন, প্রোপিলিন) থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।

• প্লাস্টিকের উদাহরণ:
- পলিথিন।
- পলিস্টাইরিন।
- PVC.

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৩৩.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. ফুলারিন
  2. হীরা
  3. রম্বিক সালফার
  4. ফসফিন
সঠিক উত্তর:
ফসফিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফিন
ব্যাখ্যা
• ফসফিন (PH₃) একটি যৌগিক পদার্থ, কারণ এটি ফসফরাস ও হাইড্রোজেন  দুটি ভিন্ন মৌল দিয়ে গঠিত।
- তাই ফসফিন মৌলিক পদার্থ নয়, এটি একটি যৌগ। 

• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- উদাহরণ:হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

- হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিনস ইত্যাদি হলো কার্বনের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- শ্বেত ফসফরাস, লোহিত ফসফরাস ইত্যাদি হলো ফসফরাসের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- রম্বিক বা আলফা সালফার, মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার, প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার, দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার, ল্যামডা সালফার, মিউ সালফার ইত্যাদি হলো গন্ধকের বিভিন্ন রূপভেদ। এরাও সবাই মৌলিক পদার্থ।
- সিলিকা হলো সিলিকন ডাই-অক্সাইড যা বালি গঠনের প্রধান উপাদান। সিলিকন ও অক্সিজেন নামক মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে সিলিকা নামক যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন হয়।

উৎস:  রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি  ও ব্রিটানিকা।
২,৬৩৪.
পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করা হয়েছে - 
  1. ২৭০.০০ K
  2. ২৭৩.১৬ K
  3. ১০০.০০ K
  4. ৩৭৩.১৬ K
সঠিক উত্তর:
২৭৩.১৬ K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭৩.১৬ K
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) ২৭৩.১৬ K 

• তাপমাত্রা:

- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হল বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।

• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৬৩৫.
ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণের জন্য কোন পদার্থটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. কপার সালফেট 
  2. নিকেল ক্লোরাইড
  3. ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। 
- এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
- ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
- চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,৬৩৬.
নিচের কোন শক্তি পরিবেশ বান্ধব নয়? 
  1. জলবিদ্যুৎ শক্তি 
  2. সৌর শক্তি 
  3. বায়োগ্যাস 
  4. কয়লা 
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
ব্যাখ্যা

- 'কয়লা' পরিবেশ বান্ধব নয়। কারণ, এটি একটি অনবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব নয় এবং এই শক্তির উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৩৭.
বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়ন তত্ত্বের সঠিক গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন-
  1. ক) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. খ) হেনরি বেকরেল
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  4. ঘ) মেরি কুরি
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
- এই তত্ত্ব ব্যবহার করে পরবর্তীতে পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিলো।
- বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়ন তত্ত্বের সঠিক গাণিতিক ব্যাখ্যা দেন প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,৬৩৮.
দোলকের দোলনকাল নির্ভর করে ______ উপর।
  1. ক) দোলকের দৈর্ঘের
  2. খ) মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরনের
  3. গ) দোলকপিণ্ডের ভরের
  4. ঘ) দোলকের দৈর্ঘ্যে ও মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোলকের দৈর্ঘ্যে ও মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোলকের দৈর্ঘ্যে ও মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের
ব্যাখ্যা
t=2π√(L/g)
- একটি সরল দোলকের দোলনকাল কার্যকর দৈর্ঘ্য L এবং অভিকর্ষজ ত্বরন g এর উপর নির্ভর করে।
- দোলনকাল কার্যকর দৈর্ঘ্য L এর বর্গমূলের সমানুপাতিক এবং g এর বর্গমূলের ব্যাস্তানুপাতিক।

তাই বলা যায় দোলনকাল কার্যকর দৈর্ঘ্য L এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভর করে
২,৬৩৯.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ৫০° সেলসিয়াস থেকে ৫১° সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য কত তাপের প্রয়োজন? 
  1. ১ ক্যালরি 
  2. ২ ক্যালরি 
  3. ৩ ক্যালরি 
  4. ৪ ক্যালরি 
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি 
ব্যাখ্যা
• ক্যালরি:
- পদার্থের অণুগুলোর কম্পন বা গতির কারণে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে তাপ।
- যেহেতু এটা শক্তি তাই স্বাভাবিকভাবে অন্য শক্তির মতোই তার একক হচ্ছে জুল (J)।
- তাপের আরো একটি একক আছে, তার নাম ক্যালরি (cal)।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1°C বাড়াতে হলে যে পরিমাণ তাপের দরকার সেটা হচ্ছে ক্যালরি।
- 1 ক্যালরি হচ্ছে 4.2J এর সমান।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৪০.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশির এস.আই একক?
  1. অ্যাম্পিয়ার
  2. ভোল্ট 
  3. ওহম
  4. নিউটন 
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি বা S.I পদ্ধতিতে মোট ৭টি মৌলিক রাশি রয়েছে। তড়িৎ প্রবাহ বা বৈদ্যুতিক প্রবাহ এই ৭টি মৌলিক রাশির একটি এবং এর একক হলো অ্যাম্পিয়ার (Ampere)। যেহেতু এটি একটি মৌলিক রাশির একক, তাই একে মৌলিক একক বলা হয় 

মৌলিক রাশি: 

- যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে। 
- মৌলিক রাশি সাতটি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা ও পদার্থের পরিমাণ। 

মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্যের একক- মিটার, 
• ভরের একক- কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক- সেকেন্ড, 
• তাপমাত্রা/উষ্ণতার একক- কেলভিন, 
• তড়িৎ প্রবাহের একক- অ্যাম্পিয়ার, 
• দীপন তীব্রতার একক- ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক- মোল। 

অন্যদিকে, 
- ভোল্ট: এটি তড়িৎ বিভব বা বিভব পার্থক্যের একক, যা একটি লব্ধ বা উদ্ভূত রাশি।
- ওহম: এটি বৈদ্যুতিক রোধের (Resistance) একক, যা মৌলিক রাশি নয় বরং একটি লব্ধ রাশি।
- নিউটন: এটি বলের (Force) একক। বল একটি লব্ধ রাশি যা ভর, দৈর্ঘ্য ও সময়ের ওপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৪১.
ক্ষারক একটি এসিডকে প্রশমন করলে কি উৎপন্ন হয়?
  1. ক) লবণ ও পানি
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
সঠিক উত্তর:
ক) লবণ ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা
ক্ষারক হলো ঐ সকল পদার্থ যা এসিডকে প্রশমিত করে এর বৈশিষ্ট্যসূচক ধর্ম বিলুপ্ত করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,৬৪২.
নিচের কোনটি এসি কারেন্টের বৈশিষ্ট্য?
  1. শুধু একদিকে চলে
  2. ব্যাটারি থেকে উৎপন্ন হয়
  3. সময়ের সাথে দিক পরিবর্তন হয়
  4. সময়ের সাথে দিক পরিবর্তন হয় না
সঠিক উত্তর:
সময়ের সাথে দিক পরিবর্তন হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সময়ের সাথে দিক পরিবর্তন হয়
ব্যাখ্যা
• AC (Alternating Current) বা পরিবর্তীধারার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি সময়ের সাথে দিক পরিবর্তন করে।

• AC কারেন্টের বৈশিষ্ট্য:
- AC কারেন্ট নির্দিষ্ট সময় পরপর তার দিক পরিবর্তন করে।
- সাধারণত ৫০ Hz বা ৬০ Hz ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে (যেমন: আমাদের গৃহস্থালির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৫০ Hz)।
- অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বা ৬০ বার দিক পরিবর্তন করে।
- AC কারেন্ট জেনারেটর (Alternator) থেকে উৎপন্ন হয়, ব্যাটারি থেকে নয়।
- এর তরঙ্গধারা সাইন ওয়েভ (Sinusoidal Wave) আকারে ওঠানামা করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা
২,৬৪৩.
শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গ্লিসারিন
  2. খ) সাবান
  3. গ) ডিটারজেন্ট
  4. ঘ) ফরমালিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরমালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরমালিন
ব্যাখ্যা
ফরমালিন:
- মিথান্যাল পানিতে দ্রবীভূত করে ফরমালিন প্রস্তুত করা হয়।
- 40% মিথান্যাল 52% পানি ও ৪% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণ ফরমালিন।
- মৃত জীবদেহ সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়।
- ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক
- সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, আসবাব ও ঘর জীবাণুমুক্ত করতে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়।
- কিছু অসাধু অর্থলোভী ব্যবসায়ী মাছ, মাংস, দুধ, ফল, শাক-সবজি সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করে থাকে। 
- ফরমালিন ব্যবহারে খাদ্যের অস্বাভাবিক খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে যায়।
- খাদ্যের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ ও খাদ্যমান বিনষ্ট হয়।
- ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে মানুষের কিডনি, যকৃত, হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ক্যান্সারের ঝুকি বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৬৪৪.
বিটা কণার ভেদন ক্ষমতা -
  1. আলফা কণা অপেক্ষা বেশী
  2. আলফা কণা অপেক্ষা কম
  3. আলফা কণার সমান
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
আলফা কণা অপেক্ষা বেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলফা কণা অপেক্ষা বেশী
ব্যাখ্যা
বিটা (β) রশ্মি
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- বিটা  রশ্মি হচ্ছে অতি উচ্চ দ্রুতি সম্পন্ন ইলেক্ট্রনের প্রবাহ।
- বিটা কণার দ্রুতি আলোর দ্রুতির প্রায় সমান। (শতকরা ৯৮ ভাগ)।
- এটি ঋণাত্বক চার্জযুক্ত। এর আধান  -১.৬×১০-১৯ কুলম্ব। 
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- ভেদন ক্ষমতা আলফা কণা অপেক্ষা বেশী।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান। ৯.১×১০-৩১ কেজি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৫.
চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের কত ভাগ হয়? 
  1. ১/২ 
  2. ১/৬ 
  3. ১/৩
  4. ১/১০ 
সঠিক উত্তর:
১/৬ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬ 
ব্যাখ্যা

পৃথিবী ও চাঁদে বস্তুর ওজন: 
- চন্দ্রে কোনো বস্তর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬)। 
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৬৪৬.
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. N2 গ্যাস
  2. H2 গ্যাস
  3. CH3 গ্যাস
  4. CH4 গ্যাস
সঠিক উত্তর:
CH4 গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH4 গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH4) গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৭.
যে যন্ত্রের সাহায্যে ডুবোজাহাজে পানির নিচ থেকে ওপরের দৃশ্য দেখা যায় -
  1. টেলিস্কোপ
  2. পেরিস্কোপ
  3. বাইনোকুলার
  4. দূরবীক্ষণ যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:
- পেরিস্কোপ হলো কোনো লুক্কায়িত স্থান থেকে পর্যবেক্ষণের জন্য যন্ত্রবিশেষ।
- এর সরলতম আকারে এটি ৪৫ ডিগ্রী কোনে প্রতি প্রান্তে পরস্পরের সাথে সমান্তরালে স্তাপিত দর্পণসহ একটি নল দ্বারা গঠিত।
- পেরিস্কোপ আলোর প্রতিফলন এবং ব্যতিচার নীতির উপর তৈরি হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পরীক্ষায় ব্যবহার করা হতো।
- এটি সাধারণত পানির নিচে বা কোন অবরুদ্ধ স্থানে থাকা জিনিস দেখতে ব্যবহৃত হয়।
- পেরিস্কোপের মাধ্যমে একটি নাবিক বা ব্যবহারকারী সাবমেরিন বা অন্যান্য যানের উপরিভাগের দৃশ্য দেখতে পারে।

উল্লেখ্য,
- সর্বপ্রথম পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয় সাবমেরিনে বা ডুবজাহাজে।

অন্যদিকে,
- বাইনোকুলার এক ধরনের হস্তধৃত দূরবীক্ষণ যন্ত্র, স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমার বাইরে অবস্থিত বস্তু দেখার জন্য ব্যবহার হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ওয়েবসাইট।
২,৬৪৮.
আপেক্ষিক রোধের সাথে পরিবাহকত্বের সম্পর্ক কিরূপ?
  1. ক) সমানুপাতিক
  2. খ) ব্যাস্তানুপাতিক
  3. গ) বর্গের সমানুপাতিক
  4. ঘ) বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাস্তানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক রোধ: স্থির তাপমাত্রায় একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল এবং একক দৈর্ঘ্যরে কোনো পরিবাহীর বিপরীত দুই পৃষ্ঠের রোধকে ঐ পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ বলে।

পরিবাহকত্ব: স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের একক দৈর্ঘ্যরে এবং একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহিতাকে পরিবাহকত্ব বলে।

আপেক্ষিক রোধের বিপরীত রাশিকে পরিবাহকত্ব বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৯.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম?
  1. বায়বীয়
  2. শূন্য
  3. তরল
  4. কঠিন
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
ব্যাখ্যা
• শব্দের গতি:
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৫০.
ক্ষার ধাতু নয় কোনটি?
  1. Na
  2. K
  3. Li
  4. Ca
সঠিক উত্তর:
Ca
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca
ব্যাখ্যা

• গ্রুপ ১ এর ধাতুগুলোকে (Li, Na, K) ক্ষার ধাতু বলা হয়, কিন্তু Ca গ্রুপ ২ এর ধাতু হওয়ায় এটি ক্ষার ধাতু নয়।
- Ca কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। 


• ক্ষার ধাতু:
- ক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ১ এর ধাতব মৌল, যেমন লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম।
- খুব প্রতিক্রিয়াশীল, বিশেষত পানি ও বাতাসের সঙ্গে।
- একমাত্র ভ্যালেন্স ইলেকট্রন থাকে, যা সহজেই হারায়।
- হালকা, নরম এবং কম ঘনত্বযুক্ত।
- সাধারণত ধাতব চকচকে এবং সাদা-হলকা রঙের।

• মৃৎক্ষার ধাতু:
- মৃৎক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ২ এর সেই ধাতু যা মূল্যবান, কম প্রতিক্রিয়াশীল এবং রসায়নে স্থিতিশীল।
- অক্সিজেন বা জল দ্বারা সহজে প্রতিক্রিয়াশীল নয়।
- সাধারণ পরিবেশে দাগ বা জং ধরে না।
- ধাতু হিসেবে চিরস্থায়ী চকচকে রূপ বজায় রাখে।
- শিল্প, গহনা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৫১.
জীব সংরক্ষণ ও পচন নিবারণের জন্য ব্যবহৃত হয় -
  1. গ্লিসারিন
  2. ফরমালিন
  3. ভিনেগার
  4. সাবান
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
ব্যাখ্যা
ফরমালিন: 
- মিথান্যালের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- ফরমালিনে ৪০ ভাগ মিথান্যাল ও ৬০ ভাগ পানি থাকে। 
- মৃত জীবদেহ সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহৃত হয়। 
- ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৫২.
বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তি কীসে পরিণত হয়? 
  1. শব্দ শক্তিতে
  2. যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. রাসায়নিক শক্তিতে
  4. পারমাণবিক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- রেলগাড়ি চলে বাষ্পিয় ইঞ্জিনের বা ইলেকট্রিক শক্তির সাহায্যে। 
- আবার, তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালনা করা হয়। 
অর্থাৎ, বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়। 
- বাষ্পকে আবার বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালনা করা ছাড়াও আরো অনেক কাজে ব্যবহার করে থাকি। 
যেমন - বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন চালনা করা যায়। এ টারবাইন ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৩.
পৃথিবী কোনো বস্তুকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে তা আবার নিচে পড়ে যায় কেন?
  1. চৌম্বক শক্তির কারণে
  2. ভর বৃদ্ধির কারণে
  3. পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে
  4. পৃথিবীর সবল বলের কারণে
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী কোনো বস্তুকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে তা আবার নিচে পড়ে যায়- পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে।  

মহাকর্ষ: 

- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬৫৪.
পুরুষ ও নারীর স্বরের পার্থক্য মূলত কোন ভৌত রাশির উপর নির্ভরশীল?
  1. তীব্রতা
  2. বিস্তার
  3. কম্পাঙ্ক
  4. বেগ
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

- পুরুষ ও নারীর কণ্ঠস্বরের মূল পার্থক্য তৈরি হয় শব্দের তীক্ষ্ণতা (Pitch) বা সুরের বৈশিষ্ট্যের কারণে। শব্দের এই তীক্ষ্ণতা সরাসরি তার কম্পাঙ্ক (Frequency)-এর ওপর নির্ভরশীল। 

শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- পুরুষের গলার স্বর মোটা এবং নারী ও শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ। যখন কোনো একটা শব্দ করা হয় তখন আমাদের ফুসফুস থেকে বাতাস গলা দিয়ে দিয়ে বের হয়ে আসে। আমাদের গলায় ও ফুসফুসে বাতাস ঢোকার জন্য এবং বের হওয়ার জন্য রয়েছে Wind pipe এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে স্বরযন্ত্র (Larynx)। সেখানে দুটো পর্দা ভালভের মতো কাজ করে, এই পর্দা দুটির নাম ভোকাল কর্ড (Vocal Cord)। বাতাস বের করার সময় এগুলো কাঁপতে পারে এবং শব্দ তৈরি করে। 
- বয়সের সাথে সাথে পুরুষের ভোকাল কর্ড শক্ত হয়ে যায়, নারীদেরটি কোমল থাকে। সে জন্য পুরুষেরা কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে মেয়েরা বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে। সে কারণে পুরুষের গলার স্বর মোটা, নারীর স্বর তীক্ষ্ণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৫৫.
ডালটনের পারমাণবিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি সত্য?
  1. সকল মৌলিক পদার্থ অতি ক্ষুদ্র, অবিভাজ্য নিরেট কণার সমন্বয়ে গঠিত
  2. একই মৌলিক পদার্থের পরমাণুগুলো একই প্রকারের
  3. একাধিক পরমাণুর রাসায়নিক মিলনে যৌগিক পরমাণু সৃষ্টি করে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ডালটনের তত্ত্ব:
১। সকল মৌলিক পদার্থ অতি ক্ষুদ্র, অবিভাজ্য নিরেট কণার সমন্বয়ে গঠিত। কণাগুলেকে বলা হয় পরমাণু।
২। একই মৌলিক পদার্থের পরমাণুগুলো একই প্রকারের, কিন্তু বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরমাণুগুলো বিভিন্ন।
৩। একাধিক পরমাণুর রাসায়নিক মিলনে যৌগিক পরমাণু সৃষ্টি করে।

থমসনের পরমাণু মডেল:
- একটি নিরেট ধনাত্মক গোলক এবং এই গোলকের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ইলেকট্রনগুলো ছড়ানো আছে ঠিক যেমন পুডিং এর মধ্যে কিসমিস ছড়ানো থাকে।
- ১৮৯৭ সালে বিজ্ঞানীরা থমসন পরমাণু সম্পর্কে দুটি মতবাদ ব্যক্ত করেন :
১। প্রতিটি পরমাণুতে ইলেকট্রন বিদ্যমান।
২। যেহেতু প্রতিটি পরমাণু বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৬.
সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ____ লবণ।
  1. ক) সোডিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) বেরিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি
২,৬৫৭.
‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত স্কোপোলামিনের মূল উপাদান কোথায় থেকে সংগ্রহ করা হয়? 
  1. তুলসী গাছ থেকে
  2. ধুতরা ফুল থেকে
  3. আফিম গাছ থেকে
  4. গুয়ারানা নির্যাস থেকে
সঠিক উত্তর:
ধুতরা ফুল থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতরা ফুল থেকে
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিঃশ্বাস: 
- স্কোপোলামিন মূলত একটি সিনথেটিক ড্রাগ। 
- এই স্কোপোলামিন 'ডেভিলস ব্রেথ' বা 'শয়তানের নিঃশ্বাস' নামেও বেশ পরিচিত। 
- তবে এটা প্রাকৃতিক কোনো উপাদান নয়। বরং প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে আরো কিছু যোগ করে কৃত্রিমভাবে স্কোপোলামিন তৈরি করা হয়। এটা তরল এবং পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায়। তবে এর গুরুত্বপূর্ণ বা মূল উপাদান আসে ধুতরা ফুল থেকে। 
- স্কোপোলামিন প্রথম দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা জ্ঞিাসাবাদের ক্ষেত্রে ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তখন এর ব্যবহার হতো লিকুইড হিসেবে, ইনজেকশনের মাধ্যমে। 
- আবার চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ওষুধ তৈরিতে এর নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- বমি বমি ভাব, মোশন সিকনেস এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন পরবর্তী রোগীর জন্য ওষুধে এর ব্যবহার আছে। 
- যখন এটি কথা বলানোর জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা 'ট্রুথ সেরাম'। আবার যখন এটি পাউডার ফর্মে নিঃশ্বাসের জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা ‘ডেভিলস ব্রেথ’। আর যখন এটা বমি অথবা মোশন সিকনেসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তখন এটা আসলে মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার হয়। 
- বর্তমানে স্কোপোলামিন মূলত পাউডার হিসেবে প্রতারণার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। অপরাধের ক্ষেত্রে এই ড্রাগ কাগজ, কাপড়, হাত এমনকি মোবাইলের স্ক্রিনে লাগিয়েও এর ঘ্রাণ দিয়ে কিছু সময়ের জন্য কারো মানসিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া সম্ভব। 
- এটা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকলেই মাত্র ১০ মিনিট বা তারও আগে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। মেমোরি আর ব্রেন তখন সচেতনভাবে কাজ করতে পারে না। কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হতে এক ঘণ্টা লাগে। আবার কেউ তিন/চার ঘণ্টার মধ্যেও স্বাভাবিক হতে পারে না।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা (১০ মে, ২০২৪) [লিঙ্ক]।
২,৬৫৮.
বিজ্ঞানের কোন শাখায় মহাবিশ্বের সৃষ্টির রহস্য নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. Oceanography
  2. Ornithology
  3. Cosmology
  4. Archaeology
সঠিক উত্তর:
Cosmology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cosmology
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য:
- মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা ‘মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত।
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে। পরীক্ষা দুটি হলো-
• মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ।
• মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ।

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ:
- ১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল।
- তার 2.5 m টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।
- গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্র“তগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

'মহাজাগতিক - মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ:
- মহাবিশ্বের বিকিরিত শক্তির একটি নির্দিষ্টমাত্রা বা পরিমাণ আছে এবং সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বে ঐ নির্দিষ্ট শক্তিও সম্প্রসারিত অংশে বিকিরিত হচ্ছে। এখনো, ঐ বিকিরিত অবশিষ্ট শক্তির অস্ত্রিত্ব নির্ণয় করা যায়। এই বিকিরণকে মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ বলে।
- ষাটের দশকের মাঝামাঝি ১৯৬৫ সালে এই জাতীয় বিকিরণের প্রথম সন্ধান পান আর্নো অ্যালান পেনজিয়াস এবং রবার্ট উইলসন নামের দুইজন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৯.
কোনটি জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়?
  1. ফেরাস হাইড্রোক্সাইড
  2. ফেরিক হাইড্রোক্সাইড
  3. অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, ফেরিক হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬০.
একই মৌলের আইসোটোপগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন হয়? 
  1. প্রোটন সংখ্যা 
  2. পারমাণবিক সংখ্যা 
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা 
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

- আইসোটোপ হল একই মৌলের পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা একই, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন। নিউট্রন সংখ্যার এই ভিন্নতার কারণেই আইসোটোপগুলোর ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

আইসোটোপ (Isotope): 

- ডালটনের পারমাণবিক মতবাদ অনুযায়ী একটি মৌলের সব পরমাণু সমান ভর বিশিষ্ট।
- কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় যে, একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর ভিন্ন ভিন্ন ভর হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে যাদের ভর যথাক্রমে 1, 2, 3, 4, 5, 6 ও 7 । 
- এই সাতটি আইসোটোপের মধ্যে হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এই স্থায়ী তিনটি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন সেসব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না।
- হাইড্রোজেনের স্থায়ী আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1, কিন্তু প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির ভর সংখ্যা 2 এবং তৃতীয়টির ভর সংখ্যা 3 । 
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে 1 টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২ টি নিউট্রন আছে। 
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। 
যেমন- এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15 টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৬১.
বায়োমাস শক্তির প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন ও নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ও হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ও হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ও হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

বায়োমাস শক্তি: 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে। এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে। এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৬২.
মানুষকে দুটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে তাদের মধ্যে কমপক্ষে কত সময়ের ব্যবধান থাকা প্রয়োজন? 
  1. 0.01 সেকেন্ড
  2. 0.1 সেকেন্ড
  3. 1 সেকেন্ড
  4. 10 সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

প্রতিধ্বনি: 
- শব্দ একধরনের তরঙ্গ, তাই তার প্রতিফলন হতে পারে। 
- সাধারণত বড় ফাঁকা দালানের ভেতর কথা বললে এক ধরনের গমগম আওয়াজ হয়, যাকে প্রতিধ্বনি বলা হয়। এটি প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়। দালানের ভেতর দূরত্ব বেশি নয় বলে শব্দটা আলাদাভাবে শুনতে পাওয়া যায় না। 
- মানুষ যখন কিছু শুনে তার অনুভূতিটা 0.1s পর্যন্ত থেকে যায়, তাই দুটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে 0.1s এর একটা ব্যবধান থাকা দরকার। 
- শব্দের বেগ 330 m/s কাজেই 0.1s এর ব্যবধান তৈরি করতে শব্দকে কমপক্ষে 33 m দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। 
- একটি বড় দেয়াল, দালান কিংবা খাড়া পাহাড়ের সামনে কমপক্ষে এই দূরত্বের অর্ধেক দূরত্বে (16.5 m) দাঁড়ালে শব্দটি গিয়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসতে 0.1s সময় লাগবে এবং সেই শব্দের প্রতিধ্বনি মানুষ শুনতে পাবে। 

- বাদুড়ের চোখ আছে, তারপরও তারা ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড় ওড়ার সময় তার কণ্ঠ থেকে শব্দ তৈরি করে, সামনে কোনো কিছু থাকলে শব্দটি সেখানে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, কতক্ষণ পর শব্দটি ফিরে এসেছে সেখান থেকে বাদুড় দূরত্বটা অনুমান করতে পারে। এ জন্য অন্ধকারেও বাদুড় কোথাও ধাক্কা না খেয়ে উড়ে যেতে পারে। 
- বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ মানুষ শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শ্রুতিসীমার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ। 
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৬৩.
আলফা কণিকার ধর্ম নয় কোনটি?
  1. আয়নিত করার ক্ষমতা কম
  2. ভর 6.6×10-27 kg
  3. ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
  4. ভেদন ক্ষমতা খুব কম
সঠিক উত্তর:
আয়নিত করার ক্ষমতা কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নিত করার ক্ষমতা কম
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:
 
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- এর ভর 6.6×10-27 kg.
- ইহা ধণাত্বক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 C.
- এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44×10-12J পর্যন্ত হয়।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
 
তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬৪.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  2. খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. গ) মাইকেল ফ্যারাডে
  4. ঘ) ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
কোন কোন ধাতুর উপর আলাে পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া বলে।
আলাের তরঙ্গ ধর্মের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না।
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।
সেজন্য তাঁকে ১৯২১ সালে নােবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৬৫.
সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে কোন প্রক্রিয়ায় আসে? 
  1. প্রতিফলন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. পরিবহন
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। 
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬৬.
রাদারফোর্ডের মডেলে পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন ক্লাউড
  2. নিরপেক্ষ কণা
  3. নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
  4. ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট কণা
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬৭.
নিচের কোন রাশির ধারণা নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র থেকে পাওয়া যায়?
  1. কাজ
  2. শক্তি
  3. জড়তা
  4. ভরবেগ
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬৮.
কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. সিসা 
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
সিসা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিসা 
ব্যাখ্যা

- উল্লিখিত ধাতুগুলোর মধ্যে সিসার গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম। 

গলনাঙ্ক: 

- গলনাঙ্ক হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে কোনো কঠিন পদার্থ তরলে রূপান্তরিত হয়।
- ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে এটি নির্ভর করে পরমাণুগুলোর মধ্যে ধাতব বন্ধনের শক্তি এর ওপর।

লোহা (Fe):
- গলনাঙ্ক 1538°C, উচ্চ, শক্তিশালী ধাতব বন্ধন।

সোনা (Au):
- গলনাঙ্ক: 1064°C, মধ্যম মানের গলনাঙ্ক।

সিসা (Pb):
- গলনাঙ্ক: 327°C, সবচেয়ে কম ও সহজে গলে যায়

তামা (Cu):
- গলনাঙ্ক: 1085°C, লোহা এবং সোনার চেয়ে কম, কিন্তু সিসার চেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেনি।

২,৬৬৯.
একটি তড়িৎ মোটরের গতি এবং শক্তি বৃদ্ধি করা যায় -
  1. তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে।
  2. কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি কর।
  3. কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি. সি মোটর ও এ. সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- একটি ডি.সি. মোটরের বিভিন্ন অংশের নাম নীচে দেয়া হলো - 
১। ক্ষেত্র চুম্বক, 
২। আর্মেচার, 
৩। কম্যুটেটর, 
৪। ব্রাশ এবং 
৫। বহিঃবর্তনী। 

- কুণ্ডলীতে বলরেখার পরিবর্তন হবার কারণে কিছু আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির উদ্ভব হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে বৃদ্ধি করা যায়। 
যথা- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭০.
জলজ শামুক ও ঝিনুকের খোলস কি দিয়ে গঠিত?
  1. ক) সালফেট
  2. খ) কার্বনেট
  3. গ) ফসফেট
  4. ঘ) নাইট্রেট
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বনেট
ব্যাখ্যা

ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)।
আগুনের তাপে এই ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন (CaO) এবং কার্বন-ডাই- অক্সাইড তৈরি হয়।

সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৬৭১.
নিচের কোন বিক্রিয়াটি ক্যাথোডে সম্পন্ন হয়?
  1. জারণ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. সংযোজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিজারণ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিজারণ:
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়।
- বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথোডে।

অন্যদিকে,
- জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৭২.
কার্বন- কার্বন দ্বিবন্ধন দেখা যায় কোন সমগোত্রীয় শ্রেণিতে?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যালকিন
  3. অ্যালকাইন
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
অ্যালকিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালকিন
ব্যাখ্যা
• অ্যালকিন (Alkene):
- এটি এমন একটি হাইড্রোকার্বনের সমগোত্রীয় শ্রেণি, যেখানে অন্তত একটি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন (C=C) বিদ্যমান থাকে।
- সাধারণ সূত্র: CnH2n
- উদাহরণ:
- ইথিন (C₂H₄) → CH₂=CH₂
- প্রোপিন (C₃H₆) → CH₂=CH–CH₃

অন্যদিকে,
- অ্যালকেন হলো সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন, যেখানে কার্বন-কার্বনের মধ্যে শুধুমাত্র একক বন্ধন (C–C) থাকে।
- অ্যালকাইন শ্রেণির যৌগগুলোতে কার্বন-কার্বনের মধ্যে ত্রিবন্ধন (C≡C) থাকে।
- অ্যালকোহল হলো এমন যৌগ, যেখানে –OH (হাইড্রক্সিল) গ্রুপ যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৬৭৩.
রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়-
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. কসমিক রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
• রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়।

- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।
- টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জনরশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৪.
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে কোনটি ঘটে?
  1. দ্রবণের ঘনমাত্রা কমে
  2. দ্রবণের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. দ্রাবকের শতকরা পরিমাণ শূন্য হয়
  4. দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

• দ্রবণ:
- দ্রবণ হলো একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যেখানে দুটি বা ততোধিক পদার্থ সমানভাবে একে অপরের সাথে মিশ্রিত থাকে।

• দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Solution):
ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-
i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution)।
ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution)। 
iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution)। 

• সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।

• সম্পৃক্ত দ্রবণের বৈশিষ্ট্য:  
- একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে, দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যমান থাকে।
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে তা অদ্রবীভূত অবস্থায় থেকে যায় । 
- যদি তাপমাত্রা পরিবর্তন করা হয়, তবে দ্রাবকের দ্রবণ ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে এবং দ্রবণটি সম্পৃক্ত নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৫.
সেমিকন্ডাক্টর কয় প্রকারের হয়ে থাকে ?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
সেমিকন্ডাক্টর ২ প্রকারে হয়ে থাকে । 
১। ইন্ট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টর : এ সকল সেমিকন্ডাক্টর এ কোন অপদ্রব্য মেশানো হয় না।
২। এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত সেমিকন্ডাক্টর : এ সকল সেমিকন্ডাক্টর অতিসামান্য অপদ্রব্য নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মেশানো হয় । পর্যায় সারণির ৩য় বা পঞ্চম সারির মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হয়।
২,৬৭৬.
পেরিস্কোপ তৈরিতে কতটি দর্পণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৬৭৭.
‘RADAR’ শব্দটির পূর্ণরূপ কী? 
  1. Radio Data And Response
  2. Radio Direction And Ranging
  3. Radio Detection And Ranging
  4. Radio Detection And Response
সঠিক উত্তর:
Radio Detection And Ranging
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Radio Detection And Ranging
ব্যাখ্যা
RADAR: 
- 'RADAR' শব্দটির পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Detection And Ranging
- এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়। 
- রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়। 
- যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- ১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৭৮.
কোনো সংরক্ষণশীল বলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কোনটি সত্য নয়?
  1. বলের কাজ পথ নিরপেক্ষ
  2. বলের কাজ বন্ধ বৃত্তে শূন্য
  3. বলের দ্বারা শক্তি সৃষ্টি হয়
  4. বলের জন্য বিভবশক্তি সংজ্ঞায়িত করা যায়
সঠিক উত্তর:
বলের দ্বারা শক্তি সৃষ্টি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলের দ্বারা শক্তি সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা

• সংরক্ষণশীল বল (Conservative Force):
- কোনো বস্তু একটি পূর্ণচক্র সম্পন্ন করে আদি অবস্থানে ফিরে আসলে, ঐ বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল দ্বারা কাজের পরিমাণ শূণ্য হয় ঐ বলকে সংরক্ষণশীল বলা হয়ে থাকে। 

বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সংরক্ষণশীল বলের ক্ষেত্রে, বল দ্বারা করা কাজ কেবল শুরু ও শেষ বিন্দুর উপর নির্ভর করে, পথে নয়।
- উদাহরণ: মাধ্যাকর্ষণ বল, স্থিরচাপীয় স্প্রিং বল।
- যদি কোনো কণা সম্পূর্ণ বন্ধ বৃত্তে চলে, তবে কাজ শূন্য হবে।
- সংরক্ষণশীল বল শুধুমাত্র শক্তি স্থানান্তর করে, সৃষ্টি করে না।

উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

২,৬৭৯.
এক ঘনমিটার গ্যাসের আয়তন = কত?
  1. 103 cm3
  2. 109 cm3
  3. 107 cm3
  4. 106 cm3
সঠিক উত্তর:
106 cm3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
106 cm3
ব্যাখ্যা
গ্যাসের আয়তন (Volume of Gas): 
- গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য হওয়ায় যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রকে গ্যাস পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে ঐ গ্যাসের আয়তন বলা হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে গ্যাস রক্ষিত পাত্রের আয়তনকে গ্যাসের আয়তন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- গ্যাসের আয়তনকে SI এককে ঘনমিটার (Cubic metre) বা m3 এ প্রকাশ করা হয়। 
- এছাড়া ঘন ডেসিমিটার (Cubic decimetre) বা dm3 এবং ঘন সেন্টিমিটার (Cubic Centimetre) বা cm3 এ প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 1 m3 = 1000 L = 103 dm3 = 106 cm3

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮০.
নিচের কোনটি স্কেলার রাশি?
  1. দৈর্ঘ্য
  2. সরণ
  3. বল
  4. ত্বরণ
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

• দৈর্ঘ্য একটি স্কেলার রাশি; কারণ এর শুধুমাত্র মান আছে, দিক নেই।

• ভেক্টর রাশি ও স্কেলার রাশি:
- ভৌত রাশি হলো এমন পরিমাপযোগ্য ভৌত বৈশিষ্ট্য যা মান দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
- ভৌত রাশিকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে — স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশি।

• স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
- স্কেলার রাশি প্রকাশের জন্য কেবল সংখ্যামান ও একক প্রয়োজন হয়।
- উদাহরণ: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা।

• ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
- ভেক্টর রাশি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে মান ও দিক উভয়ই উল্লেখ করতে হয়।
- উদাহরণ: সরণ, বেগ, ত্বরণ, বল।

• ভেক্টর রাশির ধর্ম:
- ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
- সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায়।
- ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
- দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
- ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
- ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- সরণ: মান ও দিক উভয়ই আছে।
- বল: মান ও দিক উভয়ই আছে।
- ত্বরণ: মান ও দিক উভয়ই আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৮১.
কোন পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়?
  1. কর্পূর
  2. নিশাদল
  3. মোম
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
মোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোম
ব্যাখ্যা
- মোম পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়। 

গলন: 
- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়। 
যেমন- কঠিন মোমকে তাপ দেয়ার ফলে তা গলে তরল মোমে পরিণত হয়। 
- কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ হলে এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে আরম্ভ করে এবং গলন যতক্ষণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে। 
- এরূপ যে স্থির তাপমাত্রায় কোনো বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে তাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাংক বলে। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে অপদ্রব্য বা ভেজাল মিশ্রিত থাকলে উহা অপেক্ষাকৃত নিম্ন তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে। 

উর্ধ্বপাতন: 
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর। 
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। 
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮২.
বিক্রিয়াগুলোর মধ্যে কোনটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া?
  1. C(s) + O2(g) → CO2(g)
  2. H2(g) + I2(g) → 2HI(g)
  3. C(s) + 2S(s) → CS2(l)
  4. N2(g) + O2(g) → 2NO(g)
সঠিক উত্তর:
C(s) + O2(g) → CO2(g)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C(s) + O2(g) → CO2(g)
ব্যাখ্যা

C(s) + O2(g) → CO2 (g) বিক্রিয়াটি একটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া। 

তাপোৎপাদী ও তাপহারী বিক্রিয়া
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ঋণাত্মক এবং তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ধনাত্মক চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ক) তাপোৎপাদী বিক্রিয়া (Exothermic Reaction)
- এ জাতীয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপের উদ্ভব ঘটে।
- বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি তাপ উৎপন্ন হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় বিধায় বিক্রিয়ার মিশ্রণের তাপমাত্রা ও বিক্রিয়ার পাত্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- এক্ষেত্রে উৎপাদের মোট এনথালপি বিক্রিয়কের মোট এনথালপি অপেক্ষা কম হয়। এ কারণে তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔΗ ঋণাত্মক (negative) হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তির মান কম হয়।
- অর্থাৎ, বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি > উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তি।
- উদাহরণ: C(s) + O₂(g) → CO₂(g); ΔH = - 393.50 kJ

খ) তাপহারী বিক্রিয়া (Endothermic Reaction)
- যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের শোষণ ঘটে, সেগুলোকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে।
- পানিতে কঠিন পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) যোগ করলে দ্রবণ ঠান্ডা হয়ে যায়। এ সকল ক্ষেত্রে তাপ শোষণ ঘটে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়াতে শোষিত তাপের পরিমাণ যদি q হয়, তবে সমীকরণের ডানদিকে ধনাত্মক চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়।
- উদাহরণসমূহ:
1. H₂(g) + I₂(g) → 2HI(g); ΔH = +53 kJ
2. C(s) + 2S(s) → CS₂(l); ΔH = +89.70 kJ
3. N₂(g) + O₂(g) → 2NO(g); ΔH = +180.50 kJ
- তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান উচ্চ হয়। অর্থাৎ, উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি > বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৮৩.
পানি বরফে পরিণত হলে কি ঘটবে?
  1. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
  2. আয়তন বেড়ে যাবে
  3. ভর কমে যাবে
  4. আয়তনের পরিবর্তন ঘটবে না
সঠিক উত্তর:
আয়তন বেড়ে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন বেড়ে যাবে
ব্যাখ্যা
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।

Source: britannica.com
২,৬৮৪.
আলোর প্রতিফলন কয়টি সূত্র মেনে চলে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিফিলন দুইটি সূত্র মেনে চলে। 
যথা-
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোন এবং প্রতিফলন কোণ পরস্পর সমান হয়।

আলোর প্রতিফলন : আলোক রশ্মি যখন কোন স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে এসে অন্য এক মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হয়, তখন ওই আলোক রশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমের তল থেকে দিক পরিবর্তন করে আবার প্রথম মাধ্যমের ফিরে আসে, একে আলোর প্রতিফলন বলে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৮৫.
কোনটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে?
  1. Voltmeter
  2. Ammeter
  3. Diode
  4. Transistor
সঠিক উত্তর:
Diode
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Diode
ব্যাখ্যা
• ডায়োড (গ) মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। রেকটিফায়ার এমন একটি ডিভাইস যা AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) তে রূপান্তর করে। ডায়োডের একমুখী পরিবাহিতার বৈশিষ্ট্য আছে, অর্থাৎ এটি কেবল এক দিক দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত করতে দেয় এবং অপর দিক থেকে প্রতিরোধ করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে, ডায়োডকে পূর্ণ তরঙ্গ বা অর্ধ তরঙ্গ রেকটিফায়ার সার্কিটে ব্যবহার করে AC কারেন্টকে DC তে রূপান্তর করা হয়। অন্যদিকে, ভল্টমিটার ও অ্যামিটার বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্র এবং ট্রানজিস্টর মূলত অ্যাম্প্লিফায়ার বা সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, রেকটিফায়ার নয়।

ডায়োড:

- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৮৬.
সফট ড্রিংক্সে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ডিডিটি
  2. খ) সরবেট
  3. গ) কার্বাইড
  4. ঘ) ফরমালিন
সঠিক উত্তর:
খ) সরবেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরবেট
ব্যাখ্যা
সফট ড্রিংক্সে বেনজোয়েট এবং সরবেট ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ বহুল ব্যবহৃত পানীয় কোকাকোলায় পটাশিয়াম সরবেট ব্যবহার করা হয় প্রিজার্ভেটিভ হিসেবে।
২,৬৮৭.
ক্ষমতা (Power) কী নির্ধারণ করে? 
  1. বল ও ভরের মধ্যে সম্পর্ক 
  2. কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক 
  3. কাজ ও ভরের মধ্যে সম্পর্ক 
  4. বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক 
সঠিক উত্তর:
কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৮৮.
জাল পাসপোর্ট শনাক্তকরণে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. মহাজাগতিক রশ্মি
  3. অবলোহিত রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
- উল্লেখ্য যে, কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮৯.
পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কোনটি?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯০.
কঠিন সাবান তৈরিতে কোন ক্ষার ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
ব্যাখ্যা

◉ কঠিন সাবান তৈরিতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি চর্বি বা তেলের সাথে বিক্রিয়া করে শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকরী সাবান তৈরি করে।

সাবানায়ন: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK. 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৯১.
বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার
  2. খ) স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার
  3. গ) তড়িত চৌম্বক ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) আধুনিক ট্রান্সফর্মার
সঠিক উত্তর:
খ) স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
যে ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়।
- যে ট্রান্সফর্মার মুখ্য কুন্ডলীতে প্রয়োগকৃত নিম্ন বিভবের অধিক পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহকে গৌন কুন্ডলীতে উচ্চ বিভবের অল্প পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তর করে তাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার বলে। 
- যে ট্রান্সফর্মার মুখ্য কুন্ডলীতে প্রয়োগকৃত উচ্চ বিভবের অল্পপরিমাণ তড়িৎ প্রবাহকে গৌন কুন্ডলীতে নিম্ন বিভবের অধিক পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তর করে তাকে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে। 

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯২.
কোন দুইটি রঙের মিশ্রণে কমলা রঙ তৈরি হয়? 
  1. লাল এবং নীল
  2. সবুজ এবং নীল
  3. লাল এবং হলুদ
  4. সাদা এবং নীল
সঠিক উত্তর:
লাল এবং হলুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল এবং হলুদ
ব্যাখ্যা

রং সম্পর্কিত তথ্য: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
• লাল ও নীল রং মিশালে বেগুনী, 
• হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৯৩.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় নিচের কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায়
  2. খ) ক্যান্সার রােগ নিরাময়ে
  3. গ) ঘড়ির কাঁটা ও নম্বর অন্ধকারে জ্বলজ্বল করার কাজে
  4. ঘ) সবগুলাে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলাে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:-
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

- পরবর্তীকালে মাদাম কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যে রেডিয়াম, পােলােনিয়াম, থােরিয়াম, আক্টিনিয়াম প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকেরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।


উৎস-  পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৯৪.
যদি কোনো বস্তু পৃথিবীতে ৬০ নিউটন ওজনের হয়, চাঁদে তার ওজন কত হবে? 
  1. ৫ নিউটন 
  2. ৬০ নিউটন
  3. ২০ নিউটন
  4. ১০ নিউটন
সঠিক উত্তর:
১০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নিউটন
ব্যাখ্যা

- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৬৯৫.
‘টেস্টিং সল্ট’ হিসেবে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট 
  3. পটাশিয়াম নাইট্রেট 
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৯৬.
কোনো বস্তু আমরা দেখতে পাই যখন-
  1. ক) বস্তুটি আলো শোষণ করে
  2. খ) বস্তুটি আলো প্রতিফলিত করে
  3. গ) বস্তুটি আলো প্রতিসরিত করে
  4. ঘ) চোখ থেকে আলো বস্তুতে পড়ে
সঠিক উত্তর:
খ) বস্তুটি আলো প্রতিফলিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বস্তুটি আলো প্রতিফলিত করে
ব্যাখ্যা

আমরা তখনই কোনো বস্তুকে দেখি, যখন ঐ বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে। কোনো আলোর উৎস থেকে আলো গিয়ে কোনো বস্তুতে পড়লে, ঐ বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ে- তখনই ঐ বস্তুটি আমরা দেখতে পাই।
কোনো কোনো বস্তুতে আলো পড়লে তা প্রতিফলিত হয় না, বস্তুটি সমস্ত আলো শোষণ করে নেয়। এসব বস্তু তাই দেখতে কালো দেখায়। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

২,৬৯৭.
প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে-
  1. বেশি থাকে
  2. কম থাকে
  3. সমান থাকে
  4. অপরিবর্তনীয় থাকে
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
ব্যাখ্যা
প্রেসার কুকার: 
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। 
- সাধারণত, পানির স্ফুটনাংক ১০০°C এ থাকে, কিন্তু প্রেসার কুকারে ভেতরের চাপ বাড়ানোর কারণে পানি ১০০°C এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে। 
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়। 
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না। 
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৯৮.
কার্বন-কার্বন একক বন্ধন কোন ধরনের জৈব যৌগে পাওয়া যায়?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যাালকিন
  3. অ্যাালকাইন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যালকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালকেন
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন:
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়।
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম:
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর।
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়।
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল।
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন।

অন্যদিকে,
- কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকিন বলা হয়।
- কার্বন-কার্বন ত্রি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকাইন বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯৯.
K2Cr2O এ Cr এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. +7
  2. +4
  3. +5
  4. +6
সঠিক উত্তর:
+6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+6
ব্যাখ্যা
K2Cr2Oএ Cr এর জারণ সংখ্যা - +6।
জারণ সংখ্যা: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
K2Cr2O7 এ Cr এর জারণ সংখ্যা নির্ণয়:
মনে করি, 
K2Cr2O7 যৌগে Cr এর জারণ সংখ্যা = x 
আমরা জানি, K এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা +1 এবং O এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা -2।
যেহেতু, K2Cr2O7 অণুটি আধান নিরপেক্ষ অণু, সুতরাং K2Cr2O7 অণুতে পরমাণুসমূহের মোট জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 
তাহলে, (+1) × 2 + x × 2 + (-2) × 7 = 0 
বা, +2 +2x -14 = 0 
বা, 2x - 12 = 0 
∴ x = +6 
অতএব, K2Cr2O7 যৌগে Mn এর জারণ সংখ্যা +6 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭০০.
বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন কে? 
  1. জন বেয়ার্ড
  2. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. জি. মার্কনী
  4. গ্রাহাম বেল
সঠিক উত্তর:
জি. মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. মার্কনী
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।