বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৬ / ৬৪ · ২,৫০১২,৬০০ / ৬,৪০৯

২,৫০১.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য সিলিকনের সাথে কোনটি মেশানো হয়?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) বোরন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফসফরাস
ব্যাখ্যা
সিলিকন ক্রিস্টালের সাথে এমন একটা পরমাণু (যেমন ফসফরাস) মিশিয়ে দেওয়া হয় যার শেষ কক্ষপথে থাকে ৫টি ইলেকট্রন। ফসফরাসের এই ৫ম ইলেকট্রনটি বাড়তি একটা ইলেকট্রন, কোনো পরমানুরই তার প্রয়োজন নেই, তাই সেসব পরমাণুর মাঝেই প্রায় মুক্তভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারে।

ফসফরাস মেশানো এ রকম সেমিকন্ডাক্টর অনেকটাই পরিবাহী, কারণ চার্জ পরিবহনের জন্য এখানে কিছু মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। ফসফরাসের মতো শেষ কক্ষপথে ৫ম ইলেকট্রনসহ পরমাণু যোগ করে সেমিকন্ডাক্টরকে মোটামুটি পরিবাহক তৈরি করে ফেলা এই সেমিকন্ডাক্টরকে বলে n-type সেমিকন্ডাক্টর।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,৫০২.
অর্ধপরিবাহী পদার্থের রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে কী হয়?
  1. শূন্য হয় 
  2. বৃদ্ধি পায় 
  3. হ্রাস পায় 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায় 
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫০৩.
নিচের কোন যৌগটি ক্ষারধর্ম প্রদর্শন করে?
  1. ক) Ba(OH)2
  2. খ) Al(OH)3
  3. গ) C2H5OH
  4. ঘ) C6H5OH
সঠিক উত্তর:
ক) Ba(OH)2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Ba(OH)2
ব্যাখ্যা
কোনো ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইড যৌগ যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি প্রস্তুত করে তাকে ক্ষারক বলে। 
যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় এবং হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH⁻) দেয় তাদের ক্ষার বলে। 
Ba(OH)2 এটি একই সাথে ক্ষারক ক্ষার দুটোই হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০৪.
নিচের কোনটি ক্ষমতার মাত্রা?
  1. ML - 2T - 3
  2. ML1T - 2
  3. ML2T - 3
  4. ML - 2T 3
সঠিক উত্তর:
ML2T - 3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ML2T - 3
ব্যাখ্যা
• ক্ষমতা:
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট।
- ক্ষমতার আরেকটি একক হল অশ্বক্ষমতা (HP) ।
- কোনো যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা।
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T - 3
- এক অশ্বক্ষমতা (HP) = ৭৪৬ ওয়াট।

সুতরাং, ক্ষমতা, P = সম্পন্ন কাজ (W) /প্রয়োজনীয় সময় (T)।
⇒ P = (বল × সরণ)/সময়
⇒ P = বল (F) × বেগ (v)
∴ P = Fv

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০৫.
ডায়োড কোন ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়? 
  1. দুটি ইনসুলেটর
  2. দুটি ধাতু
  3. শুধুমাত্র n টাইপ অর্ধপরিবাহী
  4. একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী
সঠিক উত্তর:
একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫০৬.
প্রাকৃতিক উদ্ভিজ তন্তুর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত তন্তু নিম্নের কোনটি?
  1. ক) কার্পাস তুলা
  2. খ) রেশম 
  3. গ) পশম
  4. ঘ) রেয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্পাস তুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্পাস তুলা
ব্যাখ্যা
তুলা
- আমাদের সকলেরই সুতি কাপড় পরার অভিজ্ঞতা আছে। তুলা দিয়ে তৈরি সুতার তাপ পরিবহন এবং পরিচালন ক্ষমতা বেশি থাকার কারণে গরমকালে সুতির পোষাক পরে আমরা বেশ স্বস্তি বোধ করি।
- প্রাকৃতিক উদ্ভিজ তন্তুর মধ্যে কার্পাস তুলা সর্বাধিক ব্যবহৃত তন্তু। এই তুলার আঁশ থেকে সুতা তৈরি হয়। 
- অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে সুতার তন্তুটিকে নলের মতো দেখায় এবং এই নলের ভিতরের ফাঁপা অংশটিকে লুমেন (Lumen) বলে। 
- তুলার তন্তুগুলোকে রোদে শুকালে নলাকৃতি তন্তুটি চ্যাপ্টা হয়ে মোচড়ানো ফিতার মতো আকার ধারণ করে। ফিতার মতো প্রতিটি সুতার আঁশে ১০০ থেকে ২৫০ টি পর্যন্ত পাক বা মোচড় থাকে। 
- সুতি কাপড় আপাতদৃষ্টিতে তেমন উজ্জ্বল না হলেও সুতি বস্ত্র বেশ টেকসই হয়। কারণ সুতা বস্ত্র তৈরির সময় তন্তুর মোচড়ানো পাকগুলো একে অন্যের সাথে সুন্দরভাবে মিশে যায়।
- ময়েশ্চারাইজেশন (moisturization) এর মাধ্যমে সুতি কাপড়কে উজ্জ্বল ও চকচকেও করা যায়। 
- সুতি বস্ত্র যথেষ্ট আরামদায়ক, পঁচনশীল এবং পরিবেশ বান্ধব। তাই সুতি বস্ত্রের চাহিদা সারা পৃথিবীতে ক্রমেই বেড়ে চলছে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৫০৭.
আপেক্ষিকতার নীতি অনুযায়ী কোনটি পরম (Absolute) নয়?
  1. স্থান
  2. ভর
  3. সময়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• স্থান, ভর, সময়—সবই আপেক্ষিক।

• আপেক্ষিকতার নীতি (Principle of Relativity):

- আমরা যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করি, তখন তা অবশ্যই কোনো একটি প্রসঙ্গ কাঠামো (Frame of Reference)-এর সাপেক্ষে করা হয়।
- এই প্রসঙ্গ কাঠামোর তুলনায় বস্তুর রৈখিক দূরত্বকে অবস্থান এবং রৈখিক দূরত্বের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলা হয়।

- প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বে কোনো কিছুই সম্পূর্ণ স্থির নয়।
- অতএব, পরম অবস্থান বা পরম বেগ বলে কিছু নেই।
- আমরা যা পরিমাপ করি, তা সবসময়ই আপেক্ষিক—অর্থাৎ অন্য কিছুর সাপেক্ষে নির্ধারিত।

 
• চিরাচরিত বলবিদ্যার সীমাবদ্ধতা:

- চিরাচরিত বলবিদ্যায় ধারণা ছিল যে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান।

- তার মতে—

- স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব নয়,
- এগুলো পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল।
- বিশেষ করে, যখন কোনো বস্তুর গতি আলোর গতির কাছাকাছি হয়, তখন স্থান ও সময়ের পরিমাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৫০৮.
1 atm = ?
  1. 76 mm(Hg)
  2. 760 mm(Hg)
  3. 76 cm(Hg)
  4. 760 cm(Hg)
  5. 760 m(Hg)
সঠিক উত্তর:
760 mm(Hg)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
760 mm(Hg)
ব্যাখ্যা
গ্যাসের চাপ (Pressure of Gas) :
- গ্যাস অণুগুলো মুক্তভাবে পাত্রের মধ্যে ছোটাছুটি করে।
- গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক পাত্রের দেয়ালের প্রতি একক ক্ষেত্রফলের উপর আরোপিত বলকে গ্যাসের চাপ বলা হয়।
- চাপ = প্রযুক্ত বল পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল
- গ্যাসের চাপের SI একক প্যাসকেল (Pa)।
- একে বায়ু চাপ (atm) বা মিলিমিটার পারদ mm (Hg) এককেও প্রকাশ করা হয়।
- 1 atm = 760 mm(Hg) = 101.325 kPa = 101.325 x 103 Pa = 101.325 x 103 Nm-2.
- প্রতি বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের উপর আরোপিত ১ নিউটন বলকে প্যাসকেল বলা হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৫০৯.
কোমল পানীয় তৈরি করা হয়-
  1. ক) জৈব বা ফ্যাটি এসিড থাকে
  2. খ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট থেকে
  3. গ) দ্রবীভূত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস থেকে
  4. ঘ) কার্বনিক এসিড থাকে
সঠিক উত্তর:
গ) দ্রবীভূত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্রবীভূত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস থেকে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ঠাণ্ডা অবস্থায় ও উচ্চ চাপে পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস দ্রবীভূত করে কোমল পানীয় তৈরি করা হয়।
কোমল পানীয়তে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড (H2CO3) উৎপন্ন করে।

২,৫১০.
কোন অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সর্বাধিক হয়? 
  1. বিষুবীয় অঞ্চল 
  2. মেরু অঞ্চল 
  3. মরুভূমি অঞ্চল 
  4. উপকূলীয় অঞ্চল 
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চল 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ও বস্তুর ওজন: 
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভরশীল। সুতরাং যে সকল কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে সে সকল কারণে বস্তুর ওজনও পরিবর্তিত হয়। 
- বস্তুর ওজন বস্তুর মৌলিক ধর্ম নয়, স্থানভেদে বস্তুর ওজনের পরিবর্তন হয়। 
- পৃথিবীর আকৃতি ও আহ্নিক গতির জন্য বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজন বিভিন্ন হয়।
- পৃথিবী সুষম গোলক না হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সকল স্থান সমদূরে নয়। 
- যেহেতু g এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g এর মানের পরিবর্তন হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় g এর মান সবচেয়ে কম (৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড)। সুতরাং বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত যাওয়া যায়, কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব তত কমতে থাকে এবং g এর মান বাড়তে থাকে (৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড), এর ফলে বস্তুর ওজনও বাড়তে থাকে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় g এর মান মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, ফলে ওজনও সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৫১১.
রাডারে কোন তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. এক্স-রে
  2. অবলোহিত রশ্মি
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. মাইক্রোওয়েভ
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করে দ্রুত খাবার গরম বা রান্না করা যায়।
- রাডার সিস্টেমে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে বস্তুর দূরত্ব, গতি এবং অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। 
- মাইক্রোওয়েভ ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ এবং অন্যান্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• এক্স-রে: 
- বিভিন্ন প্রকার রোগের কারণ অনুসন্ধানে, ক্যান্সার কোষ ধ্বংসের জন্য এই রশ্মি ব্যবহার করা হয়।
- তবে এই রশ্মি কোনো জীবিত কোষে আপতিত হলে সেই কোষ ধ্বংস করে।
- কেলাসিত পদার্থের গঠন অনুসন্ধানে এই রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

• রেডিও তরঙ্গঃ
- মোবাইল ফোন, বিমান চালনা, রেডিও এবং টিভি সংক্রান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

• অবলোহিত রশ্মিঃ
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে, কম্পন সংক্রান্ত বর্ণালী বিদ্যায় এবং অবলোহিত ফটোগ্রাফিতে এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এইচএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
২,৫১২.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. বাতাস
  2. তরল
  3. প্লাজমা
  4. কঠিন
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
বাতাসের চেয়ে তরল পদার্থে শব্দের বেগ বেশি।
কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ বাতাসের চেয়ে বেশি।

হাইড্রোজেনে  শব্দের বেগ ১২৮৪ মি/সে,
পারদে শব্দের বেগ  ১৪৫০ মি/সে,
বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে,
পানিতে ১৪৯৩ মি/সে,
লোহাতে ৫১৩০ মি/সে এবং
হীরায় শব্দের বেগ ১২,০০০ মি/সে।

[উৎস: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান বই,]
২,৫১৩.
আলোর তরঙ্গতত্ত্ব কে উদ্ভাবন করেন?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. ম্যাক্সওয়েল
  3. আইনস্টাইন
  4. হাইগেন
সঠিক উত্তর:
হাইগেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইগেন
ব্যাখ্যা
• আলোকের প্রকৃতি সম্মন্ধে কয়েকটি জনপ্রিয় তত্ত্ব: 
• হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব:
- আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন হাইগেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তুসমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

• নিউটনের কণিকা তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

• ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব :
- এই তত্ত্বের সাহায্যে আলোর সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।

• আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৫১৪.
পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থের উদাহরণ কোনটি? 
  1. পানি
  2. ক্লোরিন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
ডাইইইেলেকট্রিক পদার্থ: 
- তড়িৎ ক্ষেত্রের প্রভাবে যাদের মধ্য দিয়ে আধান মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে তাদেরকে বলা হয় পরিবাহী পদার্থ। 
- আবার যাদের মধ্য দিয়ে আধান চলাচল করতে পারে না তাদের বলা হয় অপরিবাহী বা অন্তরক বা ডাইইলেকট্রিক বা পরাবৈদ্যুতিক মাধ্যম। 
যেমন- রাবার, অ্যাম্বার, কাঁচ ইত্যাদি। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না, সে কারণে অপরিবাহী তড়িৎ পরিবহন করতে পারে না। 
- পদার্থের অণুসমূহ পরমাণু দ্বারা তৈরি, পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসে থাকে ধনাত্মক আধান আর নিউক্লিয়াসকে ঘিরে থাকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন। 
- কোনো অপরিবাহীকে তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে পরমাণুগুলোর ধনাত্মক আধান তড়িৎ ক্ষেত্রের দিকে এবং ঋণাত্মক আধান তড়িৎ ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য সরে যায়। ফলে প্রতিটি অণু এক একটি তড়িৎ দ্বিমেরুতে পরিণত হয়। এভাবে সৃষ্ট দ্বিমেরু আবেশ প্রক্রিয়াকে পোলারায়ন (Polarization) বলে। 
- সকল ডাইইলেকট্রিক অপরিবাহী, কিন্তু সকল অপরিবাহী ডাইইলেকট্রিক নয়। 
- যে সকল অপরিবাহী পদার্থকে তড়িৎ ক্ষেত্রে স্থাপন করলে পোলারায়ন ঘটে তাদেরকে ডাইইলেকট্রিক বলে। 
যেমন- কাঁচ, অভ্র, প্লাস্টিক, রবার, সিরামিক ইত্যাদি। 
- অপরিবাহী তড়িৎ অপরিবাহী তাই তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করতে অপরিবাহী ব্যবহার করা হয়। 
- আর ডাইইলেকট্রিক হচ্ছে উচ্চ পোলারায়িত অপরিবাহী তাই শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ডাইইলেকট্রিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
- ডাইইলেকট্রিক পদার্থ দুই ধরনের হয়। 

১। পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থ: 
- যদি ডাইইলেকট্রিক পদার্থের কোনো অণুর ঋণাত্মক আধানের কেন্দ্র ধনাত্মক আধানের কেন্দ্রের সাথে সমাপতিত না হয় তাহলে সেই ডাইইলেকট্রিক পদার্থকে পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানি, হাইড্রোক্লোরিক এসিড ইত্যাদি পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থ।

২। অ-পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থ: 
- ডাইইলেকট্রিক পদার্থের কোনো অণুর ঋণাত্মক আধানের কেন্দ্র যদি ধনাত্মক আধানের কেন্দ্রের সাথে সমাপতিত হয় তাহলে সেই ডাইইইেলেকট্রিক পদার্থকে অ-পোলার ডাইইইেলেকট্রিক পদার্থ বলে।
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি অ-পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থ। 
- অ-পোলার ডাইইইেলেকট্রিক পদার্থের দ্বিমেরু ভ্রামক শূন্য হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,৫১৫.
ন্যানোসেকেন্ড বলতে বোঝায় - 
  1. ১০-৯ সেকেন্ড
  2. ১০-৬ সেকেন্ড
  3. ১০-১৩ সেকেন্ড
  4. ১০-১২ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
১০-৯ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০-৯ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা


কম্পিউটার: 

- কম্পিউটার এমন এক ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ইনপুট হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে প্রাপ্ত ডেটাসমূহ কেন্দ্রিয় প্রক্রিয়াকরণ অংশের সাহায্যে প্রক্রিয়াকরণ করে আউটপুট হার্ডওয়্যারসমূহের মাধ্যমে ফলাফল প্রদান করে থাকে। 
- Computer শব্দটির আভিধানিক অর্থ গণনাযন্ত্র বা হিসাবকারী যন্ত্র। 
- পূর্বে কম্পিউটার দিয়ে শুধুমাত্র হিসাব-নিকাশের কাজই করা হতো কিন্তু বর্তমানে অত্যাধুনিক কম্পিউটার দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে জটিল হিসাব-নিকাশের কাজ নির্ভুলভাবে করা ছাড়াও বহু রকমের কাজ করা যায়। 
- কম্পিউটার সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি হিসাব-নিকাশ করতে পারে। 
- ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে কম্পিউটারের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়। 
- কম্পিউটারের কাজ করার গতি হিসাব করা হয় সাধারণত ন্যানোসেকেন্ডে। 
- ন্যানোসেকেন্ড বলতে বোঝায় এক সেকেন্ডের একশত কোটি ভাগের একভাগ বা ১০-৯ সেকেন্ড। 

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫১৬.
দূরদূরান্তে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয় -
  1. আরোহী ট্রান্সফর্মার
  2. অবরোহী ট্রান্সফর্মার
  3. স্টেপ আপ ট্রানজিস্টর
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
আরোহী ট্রান্সফর্মার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরোহী ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফর্মার
- ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি সার্কিট থেকে অপর একটি সার্কিটে স্থানান্তর করে।
- ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার - অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে।
- এই ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয়।
- দূরদূরান্তে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার - অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে। 
- স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়। 
- স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫১৭.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার?
  1. ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস
  2. ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
  3. ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস
  4. ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 

• গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

• স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

• তড়িৎ পরিবাহিতা: 
- বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ অপরিবাহী। 
- তবে পানিতে আয়নিক লবণ দ্রবীভূত থাকলে তা তড়িৎ পরিবহন করে। 
- তাই নদী পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী। 

• দ্রবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
-  এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

• ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

• অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

• পানির রাসায়নিক গঠন: 
- পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। 
- এর আনবিক সংকেত H2O এবং আণবিক ভর ১৮। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫১৮.
মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তত - 
  1. বেশি হয়
  2. কম হয়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বেশি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি হয়
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220 ms-1
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫১৯.
কোন মৌলিক গ্যাস সবচেয়ে ভারী?
  1. ক) আর্গন
  2. খ) র‍্যাডন
  3. গ) জেনন
  4. ঘ) নিয়ন
সঠিক উত্তর:
খ) র‍্যাডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) র‍্যাডন
ব্যাখ্যা

আর্গনের পারমাণবিক ভর - ৩৯.৯৫
র‍্যাডনের পারমাণবিক ভর - ২২২
জেননের পারমাণবিক ভর - ১৩১.২৯
নিয়নের পারমাণবিক ভর - ২০.১৮
উৎসঃ ব্রিটানিকা

২,৫২০.
নিউক্লিয়াস থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী শেলটির নাম কী?
  1. N-শেল
  2. L-শেল
  3. M-শেল
  4. K-শেল
সঠিক উত্তর:
K-শেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
K-শেল
ব্যাখ্যা
বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
যেমন- 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
একইভাবে, 
• ২য় শেলে = 8 টি, 
• ৩য় শেলে = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫২১.
মাঝখানে ছিদ্র বিশিষ্ট একটি প্লেটকে উত্তপ্ত করলে, ছিদ্রটির ব্যাস-
  1. বাড়বে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তীত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
ব্যাখ্যা
• তাপীয় প্রসারণ (Thermal Expansion):
- তাপ দিলে পদার্থের কণাগুলো আরও বেশি কাঁপে এবং পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ে। ফলে পদার্থের আকার ও আয়তন বাড়ে।

• যখন কোনো ধাতব প্লেট উত্তপ্ত হয়, তখন তাপীয় প্রসারণ ঘটে  অর্থাৎ প্লেটের প্রতিটি অংশের কণিকা দূরে সরে যায়।
• প্লেটের চারদিকে বিস্তারের মতো ছিদ্রও বাইরের দিকে প্রসারিত হয়, ফলে ছিদ্রের ব্যাস বাড়ে।

উৎস: Physicsexperiments.eu।
২,৫২২.
ব্ল্যাক হোলের ভর -
  1. ক) প্রায় শূন্য
  2. খ) শূন্য
  3. গ) সসীম
  4. ঘ) অসীম
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসীম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
২,৫২৩.
নিচের কোনটি অজৈব যৌগ?
  1. ক) কার্বনিক এসিড
  2. খ) অ্যামিনো এসিড
  3. গ) ফেনল
  4. ঘ) বেনজিন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বনিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বনিক এসিড
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত হাইড্রোকার্বন এবং হাইড্রোকার্বন থেকে উদ্ভূত যৌগসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
অ্যামিনো এসিড, ফেনল, বেনজিন ইত্যাদি হলো জৈব যৌগ।

- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
অ্যামোনিয়া, কার্বনিক এসিড, ভারী পানি ইত্যাদি সবই অজৈব যৌগ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৫২৪.
জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ক) রাসায়নিক সার প্রয়োগ
  2. খ) জৈব সার প্রয়োগ
  3. গ) পানি সেচ
  4. ঘ) নাইট্রোজেন সংবন্ধকরণ
সঠিক উত্তর:
গ) পানি সেচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানি সেচ
ব্যাখ্যা

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে পানি সেচ খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
Source: fao.org

২,৫২৫.
অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভের উদাহরণ কোনটি? 
  1. লবণের দ্রবণ 
  2. বেনজোয়িক এসিড 
  3. অ্যাসিটিলিন 
  4. ভিনেগার 
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিলিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিলিন 
ব্যাখ্যা

ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে দিলে খাদ্যসামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, দুর্গন্ধ হয় না, পচন হয় না সেসব রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে। 
১। অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না এবং সেগুলোকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে, সেসব ফুড প্রিজারভেটিভকে অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম বেনজোয়েট, বেনজোয়িক এসিড, ভিনেগার, লবণের দ্রবণ, চিনির দ্রবণ ইত্যাদি অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ। 

২। অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে আমাদের শরীরের ক্ষতি হয় সেগুলোকে অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিন, অ্যাসিটিলিন ইত্যাদি অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫২৬.
গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর প্রথম সূত্র কোনটি? 
  1. বস্তুর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক 
  2. বস্তুর গতি ভরের উপর নির্ভর করবে 
  3. নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক 
  4. প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে গ্যালিলিওর সূত্র: 
- কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে পড়ার সময় সরাসরি মাটির দিকে পড়তে থাকে। 
- বস্তুর এই খাড়াভাবে পতনের কারণ অভিকর্ষ বা পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- ইটালীর বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পিসা শহরে ১৮০ ফুট উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়ে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিচে পড়ার সময়, ভারী ও হালকা বস্তুর ত্বরণ একই হবে এবং বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পড়বে। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধার পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে তিনটি সূত্র দেন।
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 
 
দ্বিতীয় সূত্র: 
- বাঁধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 
 
তৃতীয় সূত্র: 
- বাঁধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2
 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫২৭.
কয়লার দহনের ফলে কী উৎপন্ন হয়? 
  1. আলো 
  2. তাপ 
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে।
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫২৮.
রঞ্জকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়?
  1. ZnO
  2. TiO2
  3. Al2O3
  4. Fe2O3
সঠিক উত্তর:
TiO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
TiO2
ব্যাখ্যা

- টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড (TiO2) তার উজ্জ্বলতা এবং খুব উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সাদা রঞ্জক। এটি কার্যকরভাবে দৃশ্যমান আলোকে বিচ্ছুরিত (scatters) করে, যার ফলে কোনো প্রলেপ বা পণ্যে মিশ্রিত হলে তা অত্যন্ত সাদা, উজ্জ্বল এবং অস্বচ্ছ দেখায়।

রঞ্জক পদার্থ: 
- রঞ্জক পদার্থ বিশেষ এক ধরনের জৈব যৌগ। 
- এদের বৈশিষ্ট্য হলো এরা না পানিতে দ্রবণীয় না তেলে দ্রবণীয়, এই বিশেষ গুণের কারণে রঞ্জকসমূহ ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের আরও একটি বিশেষ গুণ হলো- এরা শরীরের মিউকাস পর্দার উপর কোনো প্রকার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। 
- বিভিন্ন উপাদানের বর্ণ নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থকে ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য এর সাথে TiO2 ব্যবহার করা হয়। 
- সাধারণত মাইকা থেকে রঞ্জক তৈরি করা হয় এবং এর উপর TiO2 -এর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- ইয়োসিন (Eosin) একটি বহুল পরিচিত রঞ্জক পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫২৯.
যে মৌল বেশি সক্রিয়, প্রকৃতিতে তার যৌগ- 
  1. মৌলিক অবস্থায় পাওয়া যায়
  2. পাওয়া যায় না
  3. কম পরিমাণে পাওয়া যায়
  4. বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

- যে মৌল বেশি সক্রিয়, প্রকৃতিতে তার যৌগ বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়, কারণ তাদের উচ্চ সক্রিয়তার কারণে তারা সহজে অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে যৌগ গঠন করে এবং মুক্ত অবস্থায় থাকে না। 

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩০.
'স্প্রিং তরঙ্গ' কী ধরণের তরঙ্গ?
  1. ক) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  2. খ) আড় তড়ঙ্গ
  3. গ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
গ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ ইত্যাদি।

যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—স্প্রিং তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ ইত্যাদি।

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু মাধ্যমের কণা স্থানান্তরিত হয় না।
২. তরঙ্গের বিস্তার,কম্পন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
৩. সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে।
৪. তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।
৫. তরঙ্গ প্রবাহের দিক আছে।
৬. তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ,ব্যতিচার,অপবর্তন ঘটে।
৭. তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।
৮. যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
৯. তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৩১.
নিচের কোনটি গাঢ় নাইট্রিক এসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য? 
  1. টক স্বাদযুক্ত 
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে না
  3. পানি দ্রবণে নিম্নমাত্ৰায় বিয়োজিত হয় 
  4. বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশা বের হয় 
সঠিক উত্তর:
বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশা বের হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশা বের হয় 
ব্যাখ্যা

গাঢ় নাইট্রিক এসিড: 
- নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড- গ্যাসকে পানিতে দ্রবীভূত করে নাইট্রিক এসিড তৈরি করা হয়। 
- কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে NO2 গ্যাস দ্রবীভূত করে গাঢ় নাইট্রিক এসিড HNO3 তৈরি করা হয়। 
• 3NO2 + H2O → 2HNO3 + NO 
- গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশার মতো গ্যাস বের হয় এবং তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়। 
- নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই বোতলের বর্ণ বাদামি হয়। 
- নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই কাচের বোতলের মধ্যে যদি আলো প্রবেশ করে তবে বোতলের মধ্যের HNO3 আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। 
- HNO3 যাতে আলোর উপস্থিতিতে বোতলের মধ্যে ভেঙে না যায় সেজন্য HNO3 কে বাদামি বোতলের মধ্যে রাখা হয়, কারণ বাদামি বোতলের মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৩২.
‘Plum Pudding Model’ কার সাথে সম্পর্কিত?
  1. জন ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. নিলস বোর
  4. জে. জে. থমসন
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
ব্যাখ্যা

- 'প্লাম পুডিং মডেল' (Plum Pudding Model) হলো পরমাণুর গঠনের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক মডেল, যা ১৯০৪ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী জে. জে. থমসন প্রস্তাব করেন। 

পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। তিনি স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩৩.
p-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়?
  1. আর্সেনিক
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আর্গন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• জার্মেনিয়াম (৪র্থ গ্রুপ) পরমাণুর সাথে ৩য় গ্রুপের মৌল (যেমন- অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম) ডোপিং করলে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়।
- উল্লেখ্য, আর্সেনিক একটি ৫-যোজী মৌল যা ডোপিং করলে n-টাইপ (negative type) অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়।

• ডোপিং (Doping):

- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 
• p- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়।
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে।
- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে।
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে।
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন।
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩৪.
প্রাকৃতিক গ্যাস কোন ধরনের শক্তি? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. বায়োগ্যাস শক্তি 
  3. নাবয়নযোগ্য শক্তি
  4. অনাবয়নযোগ্য শক্তি 
সঠিক উত্তর:
অনাবয়নযোগ্য শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবয়নযোগ্য শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
ক) নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং
খ) অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

নবায়নযোগ্য শক্তি: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো- সৌর শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, ভূতাপীয় শক্তি।

অনবায়নযোগ্য শক্তি: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনাবয়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩৫.
মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত- এটি কে প্রস্তাব করেন?
  1. জন ডাল্টন
  2. নিলস বোর
  3. ডেমোক্রিটাস
  4. রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন।
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত।
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন।
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত।
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান।
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত।
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়।
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন।
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৩৬.
অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়? 
  1. মিথেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপাদান হচ্ছে তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- যখন নির্বাপক যন্ত্রের ভাল্ব খোলা হয় তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। 
- যেহেতু কার্বন ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়। 
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না। 

উৎস: National Emergency Service, 999.gov.bd
২,৫৩৭.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তখনই ঘটে যখন- 
  1. আলো শূন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে
  2. আলো হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে যায়
  3. আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
  4. প্রতিসরণ কোণ সংকট কোণের চেয়ে কম হয়
সঠিক উত্তর:
আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
ব্যাখ্যা
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection): 
- এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১। আলোক রশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যেতে হবে। 
২। এক জোড়া নির্দিষ্ট সচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মিকে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হতে হবে। 

আলোর প্রতিফলন: 
- আপতিত রশ্মির কিছু অংশ বিভেদতল থেকে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
প্রতিফলনের প্রথম সূত্র: আপতিত আলোক রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপাতর বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই তলে অবস্থান করে। 
প্রতিফলনের দ্বিতীয় সূত্র: আপতিত কোণ একং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 

আলোর প্রতিসরণ: 
- প্রথম স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে আলোকরশ্মি দ্বিতীয় স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যমে বিভেদতলে তীর্যকভাবে আপতিত হলে রশ্মিগুচ্ছ বিভেদতল থেকে দিক পরিবর্তন করে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
প্রতিসরণের প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং বিভেদ তলের আপাতন বিন্দুতে অংকিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে। 
প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্র: এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম এবং তীর্যকভাবে আপতিত নির্দিষ্ট বর্ণের একটি আলোকরশ্মির জন্য আপাতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। একে স্নেলের সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৩৮.
ট্রানজিস্টরের যে প্রান্তের চওড়া বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কী বলা হয়?
  1. কালেক্টর (Collector)
  2. বেস (Base)
  3. এমিটার (Emitter)
  4. ডায়োড (Diode)
সঠিক উত্তর:
কালেক্টর (Collector)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালেক্টর (Collector)
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে। 
- প্রকৃতপক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- অপরদিকে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- তাই একটি ট্রানজিস্টরের দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়। 
- একটি ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে। 
- ট্রানজিস্টরের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে।
ট্রানজিস্টরের যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩৯.
নিচের কোনটি লোহার আকরিক? 
  1. জিপসাম
  2. হেমাটাইট
  3. বক্সাইট
  4. বোরাক্স
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
ব্যাখ্যা
আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৪০.
জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার জন্য কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. ক্লোরিন গ্যাস
  3. ফ্লোরিন গ্যাস
  4. হাইড্রোজেন গ্যাস
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন গ্যাস
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠে যে পানি পাওয়া যায় তাতে নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগ সৃষ্টি করতে পারে এরূপ জীবন ধ্বংসকারী জীবাণুও থাকে। তাই ব্যবহারের আগে পানি বিশুদ্ধ করে নিতে হয়। 
- ভূ-গর্ভের পানি সাধারণত রোগ-জীবাণু মুক্ত থাকে, কিন্তু এই পানিতে আর্সেনিকের (As) মতো নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকে। 
- সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয় সেগুলো হলো- পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। 
- জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ক্লোরিন গ্যাস (Cl2) ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)Cl] এবং আরও কিছু পদার্থ যার মধ্যে ক্লোরিন (Cl) আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। 
- আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা হয়, সেটি হচ্ছে মূলত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl) । এর মাঝে যে ক্লোরিন (Cl) থাকে, সেটি পানিতে থাকা রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। 
- ক্লোরিন (Cl)  ছাড়াও ওজন গ্যাস (O3) দিয়ে অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে পানিতে থাকা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করা যায়। বোতলজাত পানির কারখানায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানিকে রোগ-জীবাণু মুক্ত করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৫৪১.
নিচের কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত হয়? 
  1. সোডা অ্যাস
  2. তুঁতে
  3. অ্যামোনিয়া
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থকে মিশ্রণ থেকে পৃথক করা যায়।
যেমন: নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যায়। 
- কঠিন অবস্থায় ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থে তাপ প্রয়োগ করতে থাকলে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ সহজেই বাষ্পীভূত হয়।
- আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণের মধ্যে আয়োডিন একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ
- কাজেই ঐ আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণের মিশ্রণকে তাপ দিলে আয়োডিন সহজেই বাষ্পীভূত হয়। ঐ বাষ্পকে ঠান্ডা করে কঠিন আয়োডিনে পরিণত করা যায়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৪২.
তামার সাথে নিচের কোনটি মিশালে পিতল হয়?
  1. নিকেল
  2. টিন
  3. দস্তা
  4. সীসা
সঠিক উত্তর:
দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন: 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৪৩.
যে রাশি পরিমাপের জন্য অন্য কোনো রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না, তাকে কী বলে?
  1. যৌগিক রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. মৌলিক রাশি
  4. লব্ধ রাশি
সঠিক উত্তর:
মৌলিক রাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক রাশি
ব্যাখ্যা

- যে রাশি পরিমাপের জন্য অন্য কোনো রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না, তাকে মৌলিক রাশি বলে, যা দৈর্ঘ্য, ভর, সময়ের মতো স্বাধীন রাশি এবং পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে। 

ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ, যেগুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৪৪.
সমগ্র পর্যায় সারণিকে কতটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. ৭ টি
  2. ৬ টি
  3. ৮ টি
  4. ১৮ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে।
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪৫.
কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?
  1. জিপসাম
  2. সালফার
  3. সোডিয়াম
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
ব্যাখ্যা
• জিপসাম (CaSO4.2H2O) হলো সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল।

- সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামালসিমেন্ট শিল্পের সহায়ক উপাদানসমূহ:
- চুনাপাথর, কাদামাটি, জিপসাম প্রভৃতি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- যেসব দেশে এসব উপাদান বেশি পাওয়া যায় সেসব দেশ সিমেন্ট শিল্পে উন্নতি লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে এসব কাঁচামালের অভাব রয়েছে।
- ফলে এদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৪৬.
পরমাণুর মধ্যে কয় ধরনের মৌলিক কণিকা থাকে?
  1. ৫ ধরনের
  2. ৪ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ২ ধরনের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 

পরমাণুর মধ্যে তিন ধরনের মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন- 
• ইলেকট্রন, 
• প্রোটন ও 
• নিউট্রন। 

- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
 
প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 

তথ্যসূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪৭.
প্রকৃতিতে কত ধরনের মৌলিক বল আছে? 
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল। 

১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

২. তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে। 

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৪৮.
বাড়ি ও শিল্পকারখানায় অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. রেজিস্টর
  2. সার্কিট ব্রেকার
  3. কনডেনসার 
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার
ব্যাখ্যা

- বাড়ি ও শিল্পকারখানায় অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়, যা অতিরিক্ত কারেন্ট বা শর্ট সার্কিটের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আগুন লাগা বা যন্ত্রপাতির ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। 

ফিউজ ও সার্কিট ব্রেকার: 
- যান্ত্রিক কারণে কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হঠাৎ তড়িৎ প্রবাহ বেড়ে গেলে যন্ত্রটি গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে। বাড়িতে, হাসপাতালে, বিদ্যালয়ে, ছোট বড় শিল্প কারখানায় এই কারণেই তড়িৎ প্রবাহে দুর্ঘটনা হয়। 
- হঠাৎ করে মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করার জন্য সরবরাহ লাইনে সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়। 
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলেই বর্তনীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু ও নিম্ন গলনাংকের একটা তারের ভেতর দিয়ে নেয়া হয়। 
- কোনো কারণে নির্ধারিত মানের অধিক তড়িৎ প্রবাহ হলে ফিউজের সরু তার উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৪৯.
ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ট্রান্সফর্মার
  2. খ) রেকটিফায়ার
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) আইসি
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রানজিস্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। যথা- এমিটার, বেস এবং কালেক্টর।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫০.
বেগ কোন ধরনের রাশি? 
  1. অদিক 
  2. নাল 
  3. ভেক্টর 
  4. স্কেলার
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর 
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি এবং 
খ) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৫১.
সবোর্চ্চ গলনাংক বিশিষ্ট ধাতু হল-
  1. টাংস্টেন
  2. প্লাটিনাম
  3. জারকানিয়াম
  4. টাইটানিয়াম
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
- একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি কারণ টাংস্টেন সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক (৩৪২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বিশিষ্ট, সর্বনিম্ন বাষ্পীয় চাপ বিশিষ্ট এবং ইহা ধাতুগুলোর মাঝে সর্বাধিক প্রসারণযোগ্য। 
- এটি গলে যাওয়ার আগে উচ্চ তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন। 
- টাংস্টেনের (Wolfram) এর সংকেত W. 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৫২.
সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা কোনটি?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) বোসন কণা
  3. গ) ղ-মেসন
  4. ঘ) মিওন
সঠিক উত্তর:
খ) বোসন কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোসন কণা
ব্যাখ্যা

১৯২৪ সালে বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও আলবার্ট আইনস্টাইন বোসন জাতের কণার ব্যাখ্যা দেন।

পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে তাত্ত্বিকভাবে এমন একটি কণার ধারণা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, এর ফলেই এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এ কণাটিই গড পার্টিকেল বা ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিতি পায়। হিগসের এই কণার বৈশিষ্ট্য ও স্বরূপ জানিয়েছিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু।

দুই বিজ্ঞানীর নামে কণাটির নাম দেওয়া হয় হিগস বোসন। ২০০১ সালে এসে গবেষকেরা ওই কণার খোঁজ করতে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মিল্যাবের টেভাট্রন যন্ত্রে। ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতায় নামে সার্ন গবেষণাগারের লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার। ২০১১ সালে সার্নের বিজ্ঞানীরা এ কণার প্রাথমিক অস্তিত্ব টের পান। একই সময়ে ফার্মিল্যাবও তাদের গবেষণায় ইতিবাচক ফল পায়।
শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সার্নের গবেষকেরাই ঘোষণা দিলেন হিগস বোসনের অনুরূপ একটি কণা আবিষ্কারের।

সূত্রঃ প্রথম আলো আর্কাইভ।

২,৫৫৩.
অভিকর্ষজ ত্বরণ কোন বিষয়টির উপর নির্ভর করে না?
  1. বস্তুর ভর
  2. পৃথিবীর ভর
  3. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ভর
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনাে বতুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
অভিকর্ষজ ত্বরণের একক মিটার/সেকেন্ড।
ধরা যাক, M = পৃথিবীর ভর, m = ভূপৃষ্ঠে বা এর নিকটে অবস্থিত কোনাে বস্তুর ভর, d = বস্তু ও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব।
তাহলে মহাকর্ষ সূত্রানুসারে অভিকর্ষ বল, F = GMm/d2

আবার বলের পরিমাপ থেকে আমরা পাই, অভিকর্ষ বল = ভর X অভিকর্ষজ ত্বরণ
                                                                            অর্থাৎ F = mg

এখন,
     mg= GMm/d2
      g= GM/d2
 এ সমীকরণের ডান পাশে বতুর ভর m অনুপস্থিত। সুতরাং অভিকর্ষজ ত্বরণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে না। 

[উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান , অষ্টম শ্রেণি]
২,৫৫৪.
প্রমাণ অবস্থায় এক মোল গ্যাসের আয়তন কত?
  1. 0.224 লিটার
  2. 2.24 লিটার
  3. 22.4 লিটার
  4. 0.0224 লিটার
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
ব্যাখ্যা
মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 
অর্থাৎ, 
• এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৫.
বরফ বিন্দু বলতে বুঝায়-
  1. স্টিম বিন্দু
  2. নিম্ন স্থির বিন্দু
  3. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  4. পানির ত্রৈধ বিন্দু
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্থির বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্থির বিন্দু
ব্যাখ্যা

- তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে পদার্থের যে বিশেষ ধর্মের পরিবর্তন হয় এবং যে ধর্মের পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে সহজ ও নির্ভুল ভাবে তাপমাত্রা নির্ণয় করা যায়, পদার্থের ঐ ধর্মগুলিকে উষ্ণতামিতি ধর্ম বলে। 
- যে সকল পদার্থের উষ্ণতামিতি ধর্মকে ব্যবহার করে থার্মোমিটার তৈরি করা হয় তাদেরকে উষ্ণতামিতি পদার্থ বলে। 
- সাধারণত উষ্ণতামিতি পদার্থের বা তার ধর্মের নাম অনুসারে থার্মোমিটারের নামকরণ করা হয়। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মোমিটারের নলে একটি দাগ কাটা স্কেল প্রয়োজন হয়। 
- দাগ কাটার জন্য দুটি বিশেষ তাপমাত্রাকে নির্দিষ্ট করা হয়, এ দুটি বিশেষ তাপমাত্রাকে থার্মোমিটারের স্থিরাংক (Fixed point) বলে। 
- পারদ থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে বরফের গলনাংককে নিম্ন স্থিরাংক (Lower Fixed point) এবং পানির স্ফুটাঙ্ককে ঊর্ধ্ব স্থিরাংক (Upper Fixed point) ধরা হয়। 
- নলের যে দুটি বিন্দুতে নিম্ন স্থিরাংক এবং ঊর্ধ্ব স্থিরাংক দাগ কাটা হয় তাদের নিম্ন স্থির বিন্দু এবং ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বলে। 

নিম্ন স্থির বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে। 

ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে। 

- থার্মোমিটারের ঊর্ধ্ব এবং নিম্ন স্থির বিন্দুর মধ্যবর্তী তাপমাত্রার ব্যবধানকে মৌলিক অন্তর বা মৌলিক ব্যবধান (Fundamental Interval) বলে। 
- এ মৌলিক ব্যবধানকে সমানভাবে ভাগ করে বিভিন্ন তাপমাত্রার স্কেল তৈরি করা হয়।

.............................................
.............................................................

• বরফ বিন্দু হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। পানির ক্ষেত্রে এটি 0°C বা 32°F তাপমাত্রায় হয়। এটি নিম্ন স্থির বিন্দু হিসেবে পরিচিত কারণ এটি পানির জমাট বাঁধার বিন্দু।অন্যান্য বিকল্পগুলি:

- স্টিম বিন্দু: পানির স্ফুটনাঙ্ক (100°C)।
- ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু: পানির স্ফুটনাঙ্ক।
- পানির ত্রৈধ বিন্দু: সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে যেখানে পানির তিনটি অবস্থা (কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়) একসাথে সাম্যাবস্থায় থাকে (0.01°C এবং 611.73 Pa চাপে)।

- এটি বরফ বিন্দুর তুলনায় সামান্য বেশি তাপমাত্রা কিন্তু একেবারে 0°C নয়।
- তাই, সঠিক উত্তর - বরফ বিন্দু । 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৫৬.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?
  1. পুকুরে
  2. হ্রদে
  3. নদীতে
  4. সাগরে
সঠিক উত্তর:
সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরে
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ।

সাগরে সাঁতার কাটা সহজ:

- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমূখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে।
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়।
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম।
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়।
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৫৫৭.
What is the maximum number of electrons that can occupy the first energy level of an atom?
  1. 2
  2. 4
  3. 6
  4. 8
  5. 10
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা
• শক্তিস্তরে ইলেক্ট্রন সংখ্যা:
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 

এ সূত্রানুসারে, 
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 হলে, 
∴ K শেল অর্থাৎ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2.
= ( 2 x 12) টি 
= 2 টি। 

∴ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = ২টি। 
- এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৫৮.
কোন দ্রাবকটিতে NaCl সবচেয়ে বেশি দ্রবীভূত হয়?
  1. ক) কেরোসিন
  2. খ) পানি
  3. গ) অ্যালকোহল
  4. ঘ) বেনজিন
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
ব্যাখ্যা
- আয়নিক যৌগসমূহ পানিতে সবচেয়ে বেশি দ্রবীভূত হয়।
- NaCl একটি আয়নিক যৌগ। তাই পানিতে NaCl সবচেয়ে বেশি দ্রবীভূত হয়
- আয়নিক যৌগসমূহ পোলার দ্রাবকে (পানি) দ্রবীভূত হয় কিন্তু অপোলার দ্রাবকে (কেরোসিন) দ্রবীভূত হয় না।
- কেলাস থেকে আয়নগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যথেষ্ট শক্তির প্রয়োজন হয়। পোলার দ্রাবক তার বিপরীত চার্জযুক্ত মেরুপ্রান্ত দ্বারা কেলাসের পৃষ্ঠতলে অবস্থিত আয়নগুলোকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের কারণে আয়নগুলো কেলাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং দ্রাবকের অণুসমূহ এদের ঘিরে রাখে। ফলে কেলাসটি দ্রবীভূত হয়। 
- অপোলার দ্রাবক কেলাস থেকে আয়নগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কোন আকর্ষণ বল সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে আয়নগুলো অপোলার দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় না।  

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৯.
সিমেন্ট শিল্পে চুনাপাথর বিয়োজনে কোনটি নির্গত হয়?
  1. ক) CO2
  2. খ) NO2
  3. গ) বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প
  4. ঘ) জলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
ব্যাখ্যা
সিমেন্ট শিল্পে চুনাপাথর বিয়োজনে CO2 নির্গত হয়। 

সিমেন্ট শিল্পের দূষক সমূহ- 
১। সিমেন্ট তৈরীতে CaCO3 কে তাপ দিয়ে CaO এ পরিণত করা হয় এতে প্রচুর CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা বায়ুকে দুষিত করে।
২। সিমেন্ট কারখানায় ঘুর্নায়মান চুল্লীতে উচ্চ তাপ প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন রকমের জ্বালানী যেমন- কোক, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ইত্যাদি দহন করা হয়। এ সব জ্বালানি দহনে প্রচুর পরিমাণে CO2, SO2,NOx ইত্যাদি বায়ু দূষক গ্যাস উৎপন্ন হয় ফলে বায়ু দূষিত হয়। অধিকন্তু নাইট্রোজেন ও সালফারের অম্লীয় অক্সাইডসমূহ অম্ল-বৃষ্টি সৃষ্টি করে যার প্রভাবে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় ও গাছ-পালা বিনষ্ট হয়।
৩। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের থ্যালিয়াম (TI), ক্যাডমিয়াম (Cd), মারকারী (Hg) প্রভৃতি উদ্বায়ী ভারী ধাতু অপদ্রব্য হিসেবে থাকে । চুল্লীর উচ্চ তাপমাত্রায় এসব বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে।
৪ । ক্লিংকারের মধ্যে নিকেল, জিংক, লেড ইত্যাদি ধাতু বিদ্যমান। ক্লিংকারের চূর্ণিত পাউডার থেকে এ সব ধাতু নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে ।
৫। সিমেন্ট কারখানার বর্জ্য পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে পানি দূষণ করে ।
৬। সিমেন্ট কারখানায় সিলিকাযুক্ত প্রচুর পরিমাণ ধুলিকণা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও আশে পাশের লোকজনের ফুসফুস আক্রান্ত হয় ও স্বাস্থ্যহানী ঘটে।

সূত্র: ৩২৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
২,৫৬০.
টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) আর্কিমিডিস
  3. গ) হ্যান্স লিপারহে
  4. ঘ) আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রথম জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন এবং এর সাহায্যে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ এবং চাঁদের পিঠে পাহাড় আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, শাহজাহান তপন

২,৫৬১.
হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী দ্রবণীয় যৌগগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অক্সাইড 
  2. এসিড 
  3. ক্ষার 
  4. লবণ 
সঠিক উত্তর:
ক্ষার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষার 
ব্যাখ্যা

ক্ষারক (Base): 
- সাধারণত ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। 
যেমন- 
• CaO + 2HCl → CaCl2 + H2
• 2KOH + H2SO4 → K2SO4 + 2H2
- CaO এবং KOH ছাড়াও ক্ষারকের উদাহরণ হচ্ছে সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), কপার অক্সাইড (CuO), ফেরাস অক্সাইড (FeO), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি। 
- এসিডের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া বলে। তাই বলা হয় এসিড ক্ষারককে আর ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য 2টি শর্ত রয়েছে- 
(i) যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং
(ii) ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে।
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়।
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক।
- CaO ক্ষারক, ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
- হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৬২.
শব্দের বেগ কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. স্থিতিস্থাপকতা
  2. তাপমাত্রা
  3. ঘনত্ব
  4. চাপ
সঠিক উত্তর:
চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপ
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা, মাধ্যমের ঘনত্ব, স্থিতিস্থাপকতার উপর নির্ভর করলেও মাধ্যমের চাপের ওপর নির্ভর করে না।

• শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার। কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার বৃদ্ধি পাবে।

• শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।
সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৬৩.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য ও সরু চোঙের ব্যাসার্ধ পরিমাপ করা যায়? 
  1. স্ক্রু গজ 
  2. মিটার স্কেল
  3. ভার্নিয়ার স্কেল
  4. স্লাইড ক্যালিপার্স
সঠিক উত্তর:
স্ক্রু গজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ক্রু গজ 
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- এই যন্ত্রে U আকৃতির একটি কাঠামো থাকে। 
- এই U আকৃতি বিশিষ্ট কাঠামোর দুই বাহুর প্রান্তে দুটি নল সংযুক্ত থাকে। 
- একটি নলের মধ্য দিয়ে কীলক বা দন্ড A স্থায়ীভাবে আটকানো থাকে এবং অপর বাহুতে রয়েছে একটি ফাঁপা নল C, যার মধ্য দিয়ে একটি দন্ড B সংযুক্ত থাকে যা সামনে পেছনে সরানো যায়। 
- C নলে মিলিমিটারে দাগাঙ্কিত একটি রৈখিক স্কেল থাকে। 
- C নলের বাইরের অংশ অপর একটি ফাঁপা নল দ্বারা বেষ্টিত থাকে যার বহি:প্রান্তে একটি বেলনাকৃতির টুপি T থাকে। 
- T এর কিনারকে সাধারণত 50 বা 100 ভাগ করা হয়। 
- যখন B স্থায়ী কীলক বা সমতল প্রান্ত বিশিষ্ট দন্ড A কে স্পর্শ করে তখন বৃত্তাকার স্কেল শূন্য দাগ ও রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগ মিলে যায়। 
- যদি দুটি স্কেলের শূন্য দাগ মিলে না যায় তাহলে বুঝতে হবে যন্ত্রটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। 

- টুপি T একবার ঘুরালে যতটুকু সরণ ঘটে এবং রৈখিক স্কেল বরাবরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাকে স্ক্রুর পিচ (pitch) বলা হয়।
- বৃত্তাকার স্কেলের মাত্র একভাগ ঘুরালে, এর প্রান্ত যতটুকু সরে আসে তাকে যন্ত্রের লঘিষ্ট গণন (Least count) L.C বলা হয়। 
- স্পষ্টত: যন্ত্রের পিচকে বৃত্তাকার স্কেলের মোট ভাগ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যন্ত্রের লঘিষ্ঠ গণন পাওয়া যায়। 
সুতরাং, লঘিষ্ঠ গণন = পিচ/বৃত্তাকার স্কেলের ভাগের সংখ্যা 
সাধারণত বৃত্তাকার স্কেলে 100 ভাগ থাকে এবং এই যন্ত্রে পিচ থাকে 1 mm 
∴  লঘিষ্ঠ গণন, L.C = 1 mm/100 = 0.01 mm 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৪.
ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ কোনটি?
  1. রেডিও
  2. টেলিভিশন
  3. ডিজিটাল ঘড়ি
  4. টেপ রেকর্ডার
সঠিক উত্তর:
ডিজিটাল ঘড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিজিটাল ঘড়ি
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিক্স ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- এনালগ পদ্ধতি, ডিজিটাল পদ্ধতি এবং মিশ্র পদ্ধতি। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়। এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে ০ এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিম্বা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

অন্যদিকে, 
- রেডিও, টেপ রেকর্ডার, টিভি ইত্যাদি এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- এনালগ ও ডিজিটাল বর্তনীর সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিকে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলে। শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৫.
যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলে?
  1. রিমেনেন্স
  2. কুরি বিন্দু
  3. চৌম্বক ধারকত্ব
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
কুরি বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি বিন্দু
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৬.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদ্ভাবক কে?
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  2. নিউম্যান
  3. জেক কেলবি
  4. চার্লস ব্যাবেজ
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit) বা আইসি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক উপাদান যা অনেকগুলি ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটার একত্রিত করে একটি ছোট চিপে তৈরি করা হয়। এর উদ্ভাবক হলেন জেক কেলবি। ১৯৫৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টস-এ একটি পূর্ণ কার্যক্ষম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করেন। এই উদ্ভাবনের ফলে কম্পিউটার, মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস আরও ছোট, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়। জেক কেলবির এই কাজ আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং বৈদ্যুতিন যন্ত্রের বিপ্লব ঘটিয়েছে।

- উত্তর: গ) জেক কেলবি।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। 
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৬৭.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হিলিয়াম
  4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- মৌলিক পদার্থের উদাহরণ: হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা, লৌহ প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

• যৌগিক পদার্থ:
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে।
- অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগিক পদার্থের উদাহরণ: পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হলো যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
২,৫৬৮.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপনহার সর্বোচ্চ?
  1. নাইটোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেনের(H2) ব্যাপনহার সর্বোচ্চ।

• ব্যাপন:
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- H2. He, N2, O2 এবং CO2 গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H2 এর আণবিক ভর কম, তাই H2 এর ব্যাপন হার বেশি হবে।
এবং CO2 এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার কম হবে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৬৯.
কোনটির কাজ সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা?
  1. বক্সাইট
  2. হেমাটাইট
  3. জিপসাম
  4. ক্রায়োলাইট
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
ব্যাখ্যা
সিমেন্ট সেটিং-এ জিপসামের ভূমিকা: 
- সিমেন্টের উপাদান ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট (3CaO.Al2O3) সিমেন্ট জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কিন্তু জিপসাম (CaSO4.2H2O) ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেটের সাথে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফো অ্যালুমিনেট তৈরি করে।
- ফলে সিমেন্টের দ্রুত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াটি ধীরে চলে এবং উৎপন্ন কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা শক্তি বেড়ে যায়। 
- সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা জিপসামের কাজ। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,৫৭০.
পৃথিবীতে বিদ্যমান অধিকাংশ শক্তির উৎস কী?
  1. বায়ু শক্তি
  2. সৌরশক্তি
  3. ভূ-তাপীয় শক্তি
  4. জ্বালানি তেল
সঠিক উত্তর:
সৌরশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরশক্তি
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীতে বিদ্যমান অধিকাংশ শক্তির প্রধান এবং চূড়ান্ত উৎস হল সূর্য। সূর্য থেকে প্রাপ্ত শক্তিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত শক্তির উৎসকে চালনা করে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে, যা বায়োমাস শক্তি হিসেবে জমা থাকে। জীবাশ্ম জ্বালানি, যেমন: জ্বালানি তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস- এগুলোতেও মূলত লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সঞ্চিত সূর্যের শক্তিই বিদ্যমান

সৌরশক্তি: 

- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি। 
- সূর্য সকল শক্তির উৎস। পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। 
যেমন- আধুনিক সভ্যতার ধারক জীবাশ্ব জ্বালানিতে আসলে বহুদিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি আছে। 
- এছাড়া সৌরশক্তিকে শীতের দেশে ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। 
- শস্য, মাছ, সবজি ইত্যাদি শুকানোর কাজে সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়, মাছ শুকিয়ে শুটকি তৈরি করে তা বহুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। 
- সৌরশক্তি দ্বারা বয়লারে বাষ্প তৈরি করে তার দ্বারা তড়িৎ উৎপাদনের জন্য টার্বাইন ঘুরানো হয়। 
- আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে সৌরকোষ। সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে তা থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। এছাড়া সৌরকোষের রয়েছে নানা রকমের ব্যবহার।
যেমন: কৃত্রিম উপগ্রহে তড়িৎশক্তি সরবরাহের জন্য সৌরকোষ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২,৫৭১.
সোডিয়ামের আকরিক কোনটি?
  1. জিপসাম
  2. বোরাক্স
  3. হেমাটাইট
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বোরাক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরাক্স
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

• সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

• আয়রনের আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৭২.
এক্সরে কী ধরনের বিকিরণ? 
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  2. পরমাণু কণা বিকিরণ 
  3. শব্দ তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
ব্যাখ্যা

এক্সরে: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমণ্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 
- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৭৩.
ডার্ক এনার্জি কাজ করে-
  1. মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র তৈরিতে
  2. মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করতে
  3. মহাবিশ্বের সংকোচনে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করতে
ব্যাখ্যা
অদৃশ্য বস্তু শক্তিশালী মহাকর্ষ ক্ষেত্র সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। অপরপক্ষে অদৃশ্য শক্তি মহাকর্ষের বিপরীতে কাজ করে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরিত করে। অর্থাৎ অদৃশ্য বস্তু ও অদৃশ্য শক্তি পরস্পরের বিপরীতে কাজ করে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৭৪.
আলফা কণিকা মূলত কী দিয়ে গঠিত? 
  1. একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন
  2. দুটি প্রোটন ও তিনটি নিউট্রন
  3. একটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
  4. দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরণের রশ্মি নির্গত হয়। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- আর যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা কণিকা (α), ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা কণিকা (β) এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা রশ্মি (γ) বলে। 

আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব। 
৩। আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৭৫.
এক ফ্যারাডে সমান কত তড়িৎ চার্জ? 
  1. 89500 C
  2. 69500 C
  3. 96500 C
  4. 98500 C
সঠিক উত্তর:
96500 C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
96500 C
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,৫৭৬.
ডায়োডের মৌলিক ফাংশন কী?
  1. রেকটিফায়ার হিসেবে
  2. রেজিস্টর হিসেবে
  3. ক্যাপাসিটর হিসেবে
  4. ট্রান্সফরমার হিসেবে
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার হিসেবে
ব্যাখ্যা

• ডায়োডের মৌলিক ফাংশন হলো বিদ্যুৎ প্রবাহকে একদিক থেকে অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ করা, যা মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একদিকে সরাসরি প্রবাহকে সহজভাবে সরিয়ে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহকে বাধা দেয়। ডায়োড সাধারণত রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর বা ট্রান্সফরমারের মতো কাজ করে না, কারণ এগুলো ভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য দেখায়।
- তাই ডায়োডের মূল ব্যবহার হচ্ছে এসি সিগনালকে ডিসি-তে রূপান্তর করা, যা শক্তি সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক সার্কিটে অপরিহার্য।


ডায়োড:
• ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
• সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
• একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
• ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
• রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৭৭.
এক্স-রে কী?
  1. দৃশ্যমান আলো
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
  4. ইনফ্রারেড বিকিরণ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
এক্স-রে:
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন।
- এক্স-রে এক ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।

এক্স-রের ব্যবহার :
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়।
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়:
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে।

উৎস: একাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই, শাহজাহান তপন স্যার।
২,৫৭৮.
নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়ায় কোনটি ঘটে?
  1. নিউক্লিয়ার সংযোজন
  2. নিউক্লিয়ার বিভাজন
  3. নিউক্লিয়ার প্রতিস্থাপন
  4. নিউক্লিয়ার অপসারণ
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার বিভাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার বিভাজন
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক শক্তি
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস। 
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়, যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

• ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

• ফিউশন বিক্রিয়া: 
- দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়াকে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- যেমন: হাইড্রোজেন → হিলিয়াম 
1H2 + 1H3 →  2He4 + বিপুল শক্তি। 
- নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ভিত্তি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৭৯.
সাবান উৎপাদনের সময় যে উপজাত উৎপন্ন হয় তা হলো- 
  1. ক্লোরিন
  2. গ্লিসারিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা
সাবান (Soap): 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণকে সাবান বলে। 
- তেল বা চর্বিকে ক্ষারের সাহায্যে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সাবান ও গ্লিসারিন উৎপন্ন হয়। 
- বর্তমানে সাবান শিল্পে চর্বি বা তেল কিংবা উভয়ের মিশ্রণ কষ্টিক সোডা দ্রবণ সহযোগে ফুটানো হয়। বিভিন্ন ধরণের তেল যেমন নারকেল তেল, তুলা বীজের তেল, পাম তেল, বাদাম তেল, অলিভতেল এবং বিভিন্ন পশুর চর্বি সাবানের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• চর্বি বা তেল + কস্টিক সোডা → সাবান + গ্লিসারিন 
- চর্বি বা তেল থেকে এভাবে আর্দ্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ অর্থাৎ সাবান প্রস্তুত করাকে সাবানায়ন (saponification, ল্যাটিন শব্দ soap থেকে) বলা হয়। 
- সাবান শিল্পে উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮০.
ট্রানজিস্টর কী ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি?
  1. কন্ডাক্টর
  2. সেমিকন্ডাক্টর
  3. ইনসুলেটর
  4. সুপারকন্ডাক্টর
সঠিক উত্তর:
সেমিকন্ডাক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকন্ডাক্টর
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর:
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

• ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ দিয়ে তৈরি। 

• ট্রানজিস্টরের উপাদান:
- সিলিকন, 
- জার্মেনিয়াম। 

• গঠন:
- দুই শ্রেণির সেমিকন্ডাক্টর (n-টাইপ ও p-টাইপ) দিয়ে ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়।
- এতে একটি p-টাইপের কেলাসের উভয় পার্শ্বে একটি করে -টাইপ কেলাস বা, n-টাইপের কেলাসের উভয়দিকে একটি করে p-টাইপ কেলাস স্যান্ডউইচ করে যথাক্রমে n-p-n বা, p-n-p জাংশন তৈরি করা হয়।
- এদেরকে যথাক্রমে n-p-n ট্রানজিস্টর ও p-n-p ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এরকমভাবে সজ্জিত কেলাসের প্রথমটিকে নিঃসারক (emitter), মাঝেরটিকে পীঠ বা ভূমি (base) এবং অন্য পাশেরটিকে সংগ্রাহক (collector) বলা হয়। 

• সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী:
- অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি আপেক্ষিক রোধের কয়েকটি পদার্থ আছে সেগুলোকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর।
- যেমন—জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২,৫৮১.
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কিসের নাম?
  1. ক) যুদ্ধ বিমান
  2. খ) কৃত্রিম উপগ্রাহ
  3. গ) নৌ জাহাজ
  4. ঘ) যুদ্ধ জাহাজ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) কৃত্রিম উপগ্রাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃত্রিম উপগ্রাহ
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ।
উৎক্ষেপণ সময়ঃ
১১ মে ২০১৮ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪:১৪ মিনিট
অর্থাৎ ১২ মে ২০১৮ বাংলাদেশ সময় ভোররাত ২:১৪ মিনিট
স্থানঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল-এ অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড LC-39A থেকে Falcon 9 (Block 5) লঞ্চ ভেহিকেল এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট - ১ মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।
মন্ত্রণালয়/বিভাগঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ)
বাস্তবায়নকারী সংস্থাঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
বাস্তবায়নকালঃ ১ জুলাই, ২০১৪ হতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত
প্রাক্কলিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৯৬৭.৯৫ কোটি টাকা
সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৭৬৫.৬৬ কোটি টাকা
নির্মাণ সংস্থাঃ বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান Thales Alenia Space France বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। উৎক্ষেপণ করা হয় SpaceX এর Falcon 9 উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে।
Thales এর চুক্তিমূল্যঃ ১৯০৮.৭৫ কোটি টাকা

সুত্রঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন

২,৫৮২.
'ওলিয়াম' কাকে বলে?
  1. গাঢ় সালফিউরিক এসিড
  2. ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  3. লঘু সালফিউরিক এসিড
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
'ওলিয়াম' (Oleum):
- ওলিয়াম (Oleum) হলো সালফিউরিক এসিডের একটি অত্যন্ত ঘন রূপ, যার মধ্যে সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO₃) গ্যাস দ্রবীভূত থাকে।
- রাসায়নিকভাবে:
• Oleum=H2SO4⋅nSO3

• ব্যবহার:

- উচ্চ ঘনত্বের সালফিউরিক এসিড উৎপাদনে।
- ডিটারজেন্ট, রঞ্জক পদার্থ ও বিস্ফোরকের প্রস্তুতিতে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২,৫৮৩.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ-
  1. বেশি হয়
  2. খুব কম হয়
  3. কম হয়
  4. একই হয়
সঠিক উত্তর:
একই হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একই হয়
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক পাখা:
- ইলেকট্রিক ফ্যান হলো এমন একটি যন্ত্র যা ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি গ্রহণ করে মেকানিক্যাল এনার্জি প্রদান করে।
- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তি গ্রহণ করে বাতাস প্রদান করে।

বৈদ্যুতিক পাখার গতি:
- একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব প্লেট সাধারণত তিনটি সংযুক্ত থাকে।
- যখন একটি পাখার সুইচ অন করা হয় তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মটরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলে পাকাটি ঘুরতে থাকে।
- নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ এর নিয়ন্ত্রণ করে এবং মটর এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুৎ এর পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।
- একটু পাখার ভোল্টেজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক ভোল্টেজ রেগুলেটর এর উপর নির্ভরশীল।
- একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতিক অর্থাৎ ভোল্টের যত বাড়বে পাখার গতি তত বাড়বে।
- বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরার জন্য যতটুকু শক্তি সরবরাহ করা হয় ততটুকুই নিবে শুধু বাঁধা দিয়ে ভোল্টেজকে কমিয়ে দিবে রেগুলেটর।
- তাই পাখা ধীরে ঘুরলে বা দ্রুতগতিতে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ একই হবে।

তথ্যসূত্র - সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৪.
কাঁসা নিচের কোন দুটির মিশ্রন?
  1. তামা ও কপার
  2. তামা ও দস্তা
  3. তামা ও কার্বন
  4. তামা ও টিন
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন
ব্যাখ্যা
- সংকর ধাতু কাসা/ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিনের মিশ্রণ।
- সংকর ধাতু পিতল বা ব্রাশ হল তামা ও দস্তার মিশ্রণ।
২,৫৮৫.
নিচের কোনটির উপর কাজের পরিমাণ নির্ভর করে? 
  1. বল ও দূরত্ব
  2. বল ও সরণ
  3. খাদ্য গ্রহণ
  4. শারীরিক সামর্থ্য
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণ
ব্যাখ্যা
- বল প্রয়োগে বস্তু সরণ ঘটলে কাজ সম্পন্ন হয়। 
- বল এবং সরণের গুণফল দ্বারা কাজের পরিমাপ করা হয়। 
- অভিকর্ষের দিকে বস্তুর সরণ হলে বল দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়। 
- অভিকর্ষের বিপরীতে সরণ হলে বলের বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন হয়। 
- কাজ করার সমার্থ্য হচ্ছে শক্তি। 
- কাজ ও শক্তি পরস্পরের পরিপূরক। এদের উভয়ের একক এক ও অভিন্ন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৬.
নিম্নের কোনটি একটি সিস্টেমের বিশৃঙ্খলার পরিমাপক?
  1. চাপ
  2. আয়তন
  3. এন্ট্রপি
  4. তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
এন্ট্রপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্ট্রপি
ব্যাখ্যা
এন্ট্রপি: 
- কোনো সিস্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। 
- অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে, ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এন্ট্রপি। 
- কোনো বস্তুর এন্ট্রপির মান আজো জানা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো বস্তু যদি তাপ গ্রহণ বা বর্জন করে, তাহলে বস্তুর এন্ট্রপির পরিবর্তন হয়। 
- কোনো বস্তুর তাপমাত্রার সাপেক্ষে গৃহীত বা বর্জিত তাপ পরিবর্তনের হার দ্বারা এন্ট্রপির পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় বস্তুর যে তাপীয় ধর্ম স্থির থাকে, তাকে এন্ট্রপি বলে। এন্ট্রপিরকে s দ্বারা সূচিত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৭.
ক্লোরাইড আয়ন শনাক্ত করতে যে দ্রবণ ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) জলীয় AgNO3
  2. খ) অ্যালকোহলীয় KOH
  3. গ) জলীয় BaCI2
  4. ঘ) জলীয় NaCI
সঠিক উত্তর:
ক) জলীয় AgNO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জলীয় AgNO3
ব্যাখ্যা
• ক্লোরাইড আয়ন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয় জলীয় AgNO3 (সিলভার নাইট্রেট)।
- ক্লোরাইড লবণ (যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড) এর দ্রবণে কয়েক ফোঁটা সিলভার নাইট্রেটের দ্রবণ যোগ করলে সাদা বর্ণের সিলভার ক্লোরাইড এর অধঃক্ষেপ পড়ে।
- এই অধঃক্ষেপের মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের দ্রবণ যোগ করলে অধঃক্ষেপ দ্রবীভূত হয়ে ডাই অ্যামিন সিলভার ক্লোরাইডের দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
এই পরীক্ষা দ্বারা ক্লোরাইড আয়ন সনাক্ত করা যায়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৮.
যে কোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার- 
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. ভেলাটোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার 
সঠিক উত্তর:
ভোল্টমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোল্টমিটার
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
- এ প্রবাহ আবার দু'রকম। 
যথা- 
১। এসি প্রবাহ এবং 
২। ডিসি প্রবাহ। 

- কোনো বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের জন্য দরকার এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য। 
- এই বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহকে শ্রেণি ও সমান্তরাল সংযোগ যুক্ত করা যায়। 
- এছাড়া বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য দরকার অ্যামিটার। 
- যে কোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 
- বেগ পরিমাপক যন্ত্র হলো ভেলাটোমিটার। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৫৮৯.
চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা কোথায় বেশি? 
  1. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
  2. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৫৯০.
বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কতক্ষণের মধ্যে ইউপিএস বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারে?
  1. ক) কোনো সময় লাগে না
  2. খ) দশ মিলিসেকেন্ড
  3. গ) এক সেকেন্ড
  4. ঘ) সর্বোচ্চ দুই সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
খ) দশ মিলিসেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দশ মিলিসেকেন্ড
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এক থেকে দুই সেকেন্ড লাগে আইপিএস চালু হতে। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হওয়ার দশ মিলিসেকেন্ডের ভেতর ইউপিএস বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারে।
উৎস: বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
২,৫৯১.
মোলার দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের আদর্শ পদ্ধতি কী? 
  1. গ্রাম
  2. মোলারিটি
  3. গ্রাম-অণু
  4. গ্রাম-তুল্যভর
সঠিক উত্তর:
মোলারিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোলারিটি
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে মোলার দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার হবে। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- মোলার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯২.
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?
  1. পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
  2. দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
  3. সংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
  4. সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
সঠিক উত্তর:
পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠন (Sodium Chloride Structure): 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড কেলাসে Na+ আয়ন ও CI- আয়নসমূহ স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ দ্বারা সুবিন্যস্থ থাকে। 
- গোলক আকারের এসব আয়নের ব্যাসার্ধ যথাক্রমে 95 ও 181 pm (পিকোমিটার, 1 x 10-12 m)। 
- এক্ষেত্রে ক্যাটায়ন (Na+) ও অ্যানায়ন (Cl-) এর ব্যাসার্ধ অনুপাত হল (95 ÷ 181) = 0.525, যা ব্যাসার্ধ-অনুপাত নিয়মে 0.4140.72 এর মধ্যে অবস্থিত। 
- সুতরাং ব্যাসার্ধ অনুপাত ও ক্যাটায়নের সন্নিবেশ সংখ্যার সম্পর্ক মতে, Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা হল 6 ও NaCl এর কেলাস গঠন হবে অষ্টতলকীয়। 
- বাস্তবে দেখা যায় যে, উভয় আয়নের গোলকের ব্যাসার্ধ অনুসারে একই তলে Naআয়নের চারদিকে চারটি CI- আয়ন স্পর্শ করে থাকে, কিন্তু নিজেরা বিকর্ষণের কারণে স্পর্শ করে না। 
- একই তলে এ পাঁচটি আয়ন থাকে এবং ঠিক উপরে ও নিচে আরো দুটি Cl- আয়ন অবস্থান নিতে পারে। 
- এ ছয়টি CI- আয়ন ও একটি Na+ আয়নের কেন্দ্রের অবস্থানকে দেখানো হয়েছে; এতে Na+ আয়নটি একটি অষ্টতলকের কেন্দ্রে এবং ছয়টি CI- আয়ন ঐ অষ্টতলকের ছয়টি শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত। 
- সুতরাং এ গঠনে Naআয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা 6 হয়েছে। 
- স্থূল সংকেত NaCl অনুসারে প্রতিটি CI- আয়নের চারদিকে ছয়টি Na+ আয়ন থাকতে হবে, তাই CI- আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যাও 6 হবে। 
- এ ছয়টি Na+ আয়ন ও একটি সুষম অষ্টতলক সৃষ্টি করে, যার কেন্দ্রে CI- আয়নটি অবস্থিত। 
- এ প্রকার Na+ আয়ন কেন্দ্রিক ও Clআয়ন কেন্দ্রিক অসংখ্য অষ্টতলক কেলাস জালিতে বিন্যস্ত হয়ে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকীয় NaCl এর কেলাস গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,৫৯৩.
ইথার নামক কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলোক সঞ্চালনের প্রস্তাবনা পাওয়া যায়-
  1. ক) কণা তত্ত্বে
  2. খ) তরঙ্গ তত্ত্বে
  3. গ) তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বে
  4. ঘ) কোয়ান্টাম তত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
খ) তরঙ্গ তত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তরঙ্গ তত্ত্বে
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ তত্ত্বঃ 
আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নেই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৯৪.
কোন তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে?
  1. ক) ট্রান্সফর্মার
  2. খ) ডায়োড
  3. গ) তড়িৎ মোটর
  4. ঘ) ডায়নামো
সঠিক উত্তর:
গ) তড়িৎ মোটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তড়িৎ মোটর
ব্যাখ্যা

- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৫৯৫.
একটি বস্তু সমতল তলে স্থাপন করা হলে কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে স্থিরতা কেমন হবে?
  1. বৃদ্ধি পাবে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. প্রাথমিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে
সঠিক উত্তর:
কমবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমবে
ব্যাখ্যা

- যদি কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তবে স্থিরতা কমবে। 

• কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity): 
- কেন্দ্রন ভর হলো বস্তুর সেই কাল্পনিক বিন্দু যেখানে পুরো ভরের সমানুপাতিক কেন্দ্র ধরা যায়। অন্য কথায়, বস্তুটি যেন ওই বিন্দুর চারপাশে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
- বস্তু স্থিতিশীল থাকে যখন তাকে সামান্য দোলন বা ত্রুটি দিলে তা আবার মূল অবস্থায় ফিরে আসে।
- স্থিতিশীলতার জন্য দুটি মূল পরিমাপক গুরুত্বপূর্ণ:- কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity) এবং ভিত্তি বা সমর্থন ক্ষেত্র (Base Area)
- যদি কেন্দ্রন ভর সমর্থন ক্ষেত্রের কাছে থাকে, বস্তু স্থিতিশীল থাকে।
- সামান্য দোলন হলে কেন্দ্রন ভর সহজে পুনঃব্যালেন্স হয়।
- কেন্দ্রন ভর যত উপরে থাকে, তত সহজে বস্তু ভারসাম্য হারায়।
- ছোট দোলনও বস্তুকে গড়িয়ে বা গুলিয়ে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৫৯৬.
মুস্তাফিজের করা প্রচণ্ড গতির একটা বল তামিম তার ব্যাট দিয়ে থামিয়ে দিলে এখানে বলের ক্ষেত্রে নিউটনের কোন সূত্র কাজ করেছে?
  1. ক) প্রথম সূত্র
  2. খ) দ্বিতীয় সূত্র
  3. গ) তৃতীয় সূত্র
  4. ঘ) চতুর্থ সূত্র
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) তৃতীয় সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৃতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা

• মুস্তাফিজের করা প্রচণ্ড গতির একটা বল তামিম তার ব্যাট দিয়ে থামিয়ে দিলে এখানে বলের ক্ষেত্রে নিউটনের তৃতীয় সূত্র কাজ করেছে। 

নিউটনের প্রথম সূত্র: বল প্রয়ােগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে। উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়ােগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।

উদাহরণঃ
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৯৭.
চার্লসের সূত্রটি কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
  2. স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার পরিপন্থী থাকে।
  3. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ তার আয়তনের সাথে সমানুপাতিক থাকে।
  4. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
সঠিক উত্তর:
স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/273 ; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
২,৫৯৮.
মৌলিক রাশি নয় কোনটি?
  1. বল
  2. দৈর্ঘ্য
  3. তাপমাত্রা
  4. তড়িৎপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল
ব্যাখ্যা
• মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 

যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
• সময়, 
• তাপমাত্রা, 
• তড়িৎপ্রবাহ, 
• দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 

যেমন- 
• বেগ, 
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯৯.
টিউবলাইটে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. আর্গন
  3. সোডিয়াম
  4. ক্রিপ্টন
সঠিক উত্তর:
আর্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্গন
ব্যাখ্যা
• টিউবলাইটে নিষ্ক্রিয়  গ্যাস হিসেবে আর্গন ব্যবহৃত হয়।
- টিউবলাইটে সাধারণত আর্গন গ্যাস (Argon) এবং সামান্য পরিমাণে পারদ বাষ্প (Mercury vapor) ব্যবহৃত হয়।

আর্গন গ্যাসের অন্যান্য ব্যবহার:
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
- এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টিলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
- তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০০.
ধাতু এবং লঘু এসিড কি উৎপন্ন করে?
  1. ক) লবণ + হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন + নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন + অক্সিজেন
  4. ঘ) লবণ + পানি
সঠিক উত্তর:
ক) লবণ + হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লবণ + হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সক্রিয়তা সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরের ধাতুসমূহ লঘু এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই