বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৫ / ৬৪ · ২,৪০১২,৫০০ / ৬,৪০৯

২,৪০১.
কোন ব্যান্ডের সকল ইলেকট্রন মুক্তাবস্থায় থাকে?
  1. ক) যোজন ব্যান্ড
  2. খ) পরিবহন ব্যান্ড
  3. গ) নিষিদ্ধ শক্তি ব্যান্ড
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবহন ব্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবহন ব্যান্ড
ব্যাখ্যা
পরিবহন ব্যান্ডের সকল ইলেকট্রন মুক্ত ইলেকট্রন। 

পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ইলেকট্রন অথবা, আংশিক পূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারে। যদি কোন পদার্থের পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে, তাহলে ঐ পদার্থে তড়িৎ পরিবহন সম্ভব হয় না। ঐ সকল জাতীয় পদার্থকে অন্তরক বলে। 

যোজন ব্যান্ড : পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথে অবস্থিত ইলেকট্রনকে যােজন ইলেকট্রন বলে। যােজন ইলেকট্রনগুলাের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে যােজন ব্যান্ড বলে।

পরিবহন ব্যান্ড : পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত ইলেকট্রন তড়িৎ পরিবহনে অংশগ্রহণ করে বলে, এদেরকে পরিবহন ইলেকট্রন বলে। পরিবহন ইলেকট্রনগুলোর শক্তির পাল্লা বা, ব্যান্ডকে পরিবহন ব্যান্ড বলে।  

নিষিদ্ধ শক্তি ব্যান্ড : সাধারণত যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে ইলেকট্রনের কোন শক্তি স্তর বিদ্যমান থাকে না। এজন্য এ স্থানকে নিষিদ্ধ ব্যান্ড বলে। 

সূত্র- ৩৬২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০২.
তাৎক্ষণিক বেগ পেতে হলে- 
  1. সময় ব্যবধান এক হতে হবে 
  2. সময় ব্যবধান শূন্য হতে হবে 
  3. সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হতে হবে 
  4.  সময় ব্যবধান অসীম হতে হবে 
সঠিক উত্তর:
সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হতে হবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হতে হবে 
ব্যাখ্যা

বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ: 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- চোখের পাতা বন্ধ বা খুলতে যে সময় ব্যবধান হয় তাকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বা শূন্যের কাছাকাছি ধরা যেতে পারে। গাণিতিকভাবে At→0 দ্বারা সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি বুঝায়। 
অর্থাৎ, সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমবেগ: 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন- শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

মধ্যবেগ: 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

অসম বেগ: 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসমবেগ বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪০৩.
নিচের কোনটি লবণ?
  1. ক) হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  2. খ) পটাশিয়াম অক্সাইড
  3. গ) সিলভার নাইট্রেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) সিলভার নাইট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিলভার নাইট্রেট
ব্যাখ্যা

- এসিডের প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু ধাতু বা অপর কোন ধাতুধর্মী মূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে যে যৌগ উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO4), জিংক সালফেট (ZnSO4), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), সিলভার নাইট্রেট (AgNO3) ইত্যাদি। 
ধাতু, ক্ষারক বা ক্ষারের সঙ্গে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিক্রিয়ার ফলে হাইড্রোজেন বা জল ছাড়া অপর যে নতুন যৌগটি উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। লবণের দুটি অংশে থাকে। ধাতু বা ধাতুধর্মী তড়িৎ ধনাত্মক অংশটিকে ক্ষারকীয় মূলক এবং অধাতু বা এসিডধর্মী তড়িৎ ঋনাত্বক অংশটিকে এসিড মূলক বলে। 
- ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। এটি একটি অম্ল। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

২,৪০৪.
উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয় কোথায়?
  1. ক)  টর্চ লাইটের রিফ্লেক্টরে
  2. খ) রূপচর্চায়
  3. গ) সৌর চুল্লি নির্মাণে
  4. ঘ) শপিংমলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) শপিংমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শপিংমলে
ব্যাখ্যা
উত্তল দর্পণ
যে দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠ উত্তল তাকে উত্তল দর্পণ বলে। এই দর্পণের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের কাজ করে। 
উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা ছোট ও সোজা হয়।

উত্তল দর্পণের ব্যবহার:
- বিস্তৃত এলাকা দেখতে দোকান বা শপিংমলে নিরাপত্তার কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়িতে ভিউ মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ির পিছনে বিস্তৃত এলাকা ছোট জায়গায় দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- রাস্তার বাতিতে প্রতিফলকরূপে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- প্রতিফলক টেলিস্কোপ তৈরিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
২,৪০৫.
নিচের কোন তরঙ্গটি জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনের ফলে সৃষ্টি হয়? 
  1. গামা রশ্মির তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. এক্স-রশ্মির তরঙ্গ
  4. পানির তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পানির তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানির তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- কিন্তু জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্স-রশ্মির তরঙ্গ, গামা রশ্মির তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৬.
'পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা যায়'- এটি কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ওয়েরস্টেডে
  2. খ) ম্যাক্সওয়েল
  3. গ) ফ্যারাডে
  4. ঘ) ফ্লেমিং
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যারাডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশ:

- 'পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা যায়'- এটি ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন।
- তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎপ্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে
-  ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন যে, পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা যায়।
- এ আবিষ্কার এর উপর ভিত্তি করে ডায়নামো, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি বৈদ্যুতিক যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।
- তাড়িতচৌম্বক আবেশের ফলে সৃষ্ট ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তিকে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি বলে
- ১৮২০ সালে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৭.
ইথিলিনের পলিমার কী? 
  1. পলিইথিলিন 
  2. পলিস্টার 
  3. নাইলন 
  4. পলিপ্রোপিন 
সঠিক উত্তর:
পলিইথিলিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিইথিলিন 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে।
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন; প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪০৮.
পিতল হচ্ছে-
  1. তামা ও লোহার সংকর
  2. তামা ও নিকেলের সংকর
  3. টিন ও দস্তার সংকর
  4. তামা ও দস্তার সংকর
সঠিক উত্তর:
তামা ও দস্তার সংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও দস্তার সংকর
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে। 
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪০৯.
নিচের কোনটি যুগপৎ বিক্রিয়া?
  1. ক) প্রশমন
  2. খ) সংযোজন
  3. গ) বিয়োজন
  4. ঘ) জারণ-বিজারণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জারণ-বিজারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 =2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।

জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)

Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,৪১০.
পানিতে দ্রবীভূত CO2 এর পরিমাণ-
  1. ক) ০.৩%
  2. খ) ০.০২%
  3. গ) ০.০৩%
  4. ঘ) ০.০০৩%
সঠিক উত্তর:
ক) ০.৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০.৩%
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। বায়ুমণ্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে দ্রবীভূত ০.৩% CO2 আছে। তাই জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদের চেয়ে বেশি। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৪১১.
কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) ক্যালরিমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

• তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র:
কোনো বস্তুতে চার্জ বা আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলাে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র। 

• অ্যামিটার:
অ্যামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা পরিমাপ করে।

• ভোল্টামিটার:
ভোল্টামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিভব পার্থক্য, বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা ও বৈদ্যুতিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

• ক্যালরিমিটার:
তাপ পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে ক্যালরিমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪১২.
শব্দের উৎপত্তির কারণ?
  1. ক) শব্দ তরঙ্গ
  2. খ) প্রতিধ্বনি
  3. গ) বস্তুর কম্পন
  4. ঘ) বস্তুর তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুর কম্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুর কম্পন
ব্যাখ্যা
শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারন বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারন এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক ও কম্পনের দিক একই।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৪১৩.
নিচের কোন মৌলকে Noble গ্যাস বলা হয়?
  1. ক্রোমিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. হিলিয়াম
  4. লিথিয়াম
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og) নামক মৌলগুলো অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাস বলে।
- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে।
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

নিস্ক্রিয় গ্যাসের ধর্মসমূহ:
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

২,৪১৪.
মাধ্যাকর্ষণ বল কোন দিকে কাজ করে? 
  1. উপরের দিকে 
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে 
  3. অনুভূমিক দিকে 
  4. যে কোনো দিকে 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪১৫.
কোথায় অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সর্বনিম্ন?
  1. ক) এভারেষ্ট শৃঙ্গে
  2. খ) মেরু বিন্দুতে
  3. গ) বিষুব রেখা বরাবর
  4. ঘ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
গ) বিষুব রেখা বরাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিষুব রেখা বরাবর
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মানঃ 
বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2
মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2 । এ
এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2 ও সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 ms-2। 
 
ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-1 হিসাবের  সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2
 
পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর কোনো ওজন নাই। 
 
উৎস : পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪১৬.
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে কোন তত্ত্বের মাধ্যমে?
  1. ক) স্ট্রিং তত্ত্ব
  2. খ) কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. গ) আপেক্ষিকতা তত্ত্ব
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) কোয়ান্টাম তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কোয়ান্টাম তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই
২,৪১৭.
1 MeV = ?
  1. ক) 1.6×106J
  2. খ) 1.6×10-19J
  3. গ) 1.6×10-13J
  4. ঘ) 1.6×1012J
সঠিক উত্তর:
গ) 1.6×10-13J
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 1.6×10-13J
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪১৮.
শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমার তীব্রতা লেভেল কত?
  1. ক) ২০ ডেসিবেল
  2. খ) ২০০০০ ডেসিবেল
  3. গ) ০ ডেসিবেল
  4. ঘ) ১০ ডেসিবেল
সঠিক উত্তর:
গ) ০ ডেসিবেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ০ ডেসিবেল
ব্যাখ্যা

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কোনো শব্দের তীব্রতা বোঝার জন্য তীব্রতা লেভেল ব্যবহার করা হয়। কোনো শব্দের তীব্রতা ও প্রমাণ তীব্রতার অনুপাতের লগারিদমকে ঐ শব্দের তীব্রতা লেভেল বলে।
শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমার তীব্রতা লেভেল ০ ডেসিবেল। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের তীব্রতা লেভেল ১০ ডেসিবেল।
স্বাভাবিক কথোপকথনের তীব্রতা লেভেল ৬০ ডেসিবেল।
শ্রুতি যন্ত্রণার আরম্ভ হয় ১২০ ডেসিবেল তীব্রতা লেভেলে।
মানুষের শ্রাব্যতার সীমার সূচনা হয় ২০ হার্জ কম্পাংক থেকে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৪১৯.
ডিটারজেন্ট সাধারণত কোন পানিতে ভালোভাবে কাজ করে? 
  1. মিষ্টি পানি 
  2. খর পানি 
  3. দুধ মিশ্রিত পানি 
  4. উষ্ণ পানি  
সঠিক উত্তর:
খর পানি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খর পানি 
ব্যাখ্যা

পরিষ্কারক উপাদান: 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২০.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল? 
  1. রেডন
  2. সোডিয়াম
  3. আয়োডিন
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

হ্যালোজেন মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪২১.
কোনটি ফেরো চৌম্বক পদার্থ?
  1. লোহা
  2. পানি
  3.  সোডিয়াম
  4. সোনা
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) লোহা

ফেরো চৌম্বকত্ব:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

প্যারা চৌম্বকত্ব:
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি।

ডায়া চৌম্বক:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২২.
গ্রিন হাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীতে কী ঘটে? 
  1. সমুদ্রপৃষ্ঠ নিচে নামে
  2. মেরু অঞ্চলে বরফ বৃদ্ধি পায় 
  3. পৃথিবীর তাপমাত্রা হ্রাস পায় 
  4. পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব: 
- শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। 
- এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলো পুড়িয়ে যখন তাপশক্তি তৈরি হয়, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয় যেটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। 
অর্থাৎ, এই গ্রিন হাউস গ্যাস পৃথিবীতে তাপকে ধরে রাখতে পারে এবং এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে, যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণে পৃথিবীর যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে, তার মাঝে বাংলাদেশ একটি। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব দেশ মিলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে। 

- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ হয় না, কিন্তু নিউক্লিয়ার বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এদের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরাপদ মাত্রায় পৌঁছানোর জন্য লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয় যেটি পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 
- আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্র অনেক নিরাপদ হলেও মাঝে মাঝে মানুষের ভুল কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। 
যেমন- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল এবং জাপানের ফুকুশিমার দুর্ঘটনা। 
- তুলনামূলকভাবে পরিবেশের উপর নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষতিকর প্রভাব কম, তবে জলবিদ্যুতের জন্য যখন নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় তখন একদিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বাঁধের পরবর্তী এলাকায় তীব্র খরার সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪২৩.
মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স হিসেব করতে কার্বনের কোন আইসােটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন-১৪
  2. কার্বন-১৩
  3. কার্বন-১২
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
কার্বন-১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন-১৪
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪, পোলোনিয়াম-৮৪ ইত্যাদি।

- কার্বন মৌলের ৬ টি প্রােটন ও তিনটি আইসােটোপ রয়েছে।
যেমন - কার্বন-১২, কার্বন-১৩ ও কার্বন-১৪।
- এই তিনটির মধ্যে কার্বন-১৪ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। এতে ৬টি প্রােটন ও ৮টি নিউট্রন রয়েছে।
- কার্বন-১৪ (14) ব্যবহৃত হয় মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স হিসাব করতে

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪২৪.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মি তড়িৎ নিরপেক্ষ এবং কোনো দিকে বিচ্যুত হয় না? 
  1. পজিট্রন রশ্মি 
  2. বিটা রশ্মি 
  3. আলফা রশ্মি 
  4. গামা রশ্মি 
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামা রশ্মি 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় বিকিরণের বৈশিষ্ট্য: 
- তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কারের পর বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। 
- বিখ্যাত বিজ্ঞানী মাদাম কুরী একটি সহজ পরীক্ষা দ্বারা তেজস্ক্রিয় বিকিরণে তিন ধরণের রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ। আর ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা (β) রশ্মি বলে। 
- যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রন্থ। আর ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা (α) রশ্মি বলে। 
- যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ। আর তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা (γ) রশ্মি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২৫.
নিচের কোনটি জৈব যৌগ নয়?
  1. কস্টিক সোডা
  2. প্রোপিন
  3. পেন্টাইন
  4. বেনজিন
সঠিক উত্তর:
কস্টিক সোডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কস্টিক সোডা
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়।
- এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।
- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি।

• অজৈব যৌগসমূহ:
- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪২৬.
সময়ের সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে কী বলে? 
  1. দ্রুতি
  2. বেগ
  3. মন্দন
  4. সরণ
সঠিক উত্তর:
মন্দন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দন
ব্যাখ্যা
মন্দন: 
- সময়ের সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। 
- অন্য ভাবে একক সময়ে গতিশীল বস্তুকণার বেগের পরিবর্তন কমতে থাকলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে মন্দন বলে। 
- মন্দনের একক ও মাত্রা ত্বরণের অনুরূপ। 

ত্বরণ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। 
- ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো বস্তুর ত্বরণ জানতে হলে বস্তুটির বেগের পরিবর্তনের হার এবং উক্ত পরিবর্তনের দিক উভয়ই জানতে হয়। 

দ্রুতি: 
- কোনো বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে বা দূরত্বের হারকে দ্রুতি বলে। 
- এটি একটি স্কেলার রাশি। 
- বেগের মান দ্বারা দ্রুতি পরিমাপ করা হয়। 

সরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট দিকে সরল পথে কোনো বস্তু যে দূরত্ব বা পথ অতিক্রম করে তাকে সরণ বলে। 
- সরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো গতিশীল বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট দিকে হলে সরণ ঘটে। 

বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৭.
একটি পরমাণুর মৌলিক কণিকা নয় নিচের কোনটি?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. পজিট্রন
সঠিক উত্তর:
পজিট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পজিট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৮.
আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন কে?
  1. স্নেল
  2. গিলবার্ট
  3. রবার্ট হুক
  4. হাইগেন
সঠিক উত্তর:
স্নেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেল
ব্যাখ্যা
• প্রতিসরণ:
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction):
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রগুলোকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।
- সূত্র দু'টি হলো-
১. দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
২. এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।

• অপশন আলোচনা:
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৯.
পর্যায় সারণির বাম থেকে ডানে গেলে মৌলের ধাতব ধর্মের কী পরিবর্তন হয়?
  1. হ্রাস পায়
  2. অল্প বৃদ্ধি পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. অনেক বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metallic Properties): যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি তাদেরকে বলা হয় ধাতু। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে।
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে।
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি।
- পর্যায় সারণির (Periodic Table) বাম দিক থেকে ডান দিকে অগ্রসর হলে মৌলগুলির ধাতব ধর্ম (metallic character) ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।


পর্যায় সারণিতে ধাতব ও অধাতব ধর্মের প্রবণতা:- 

পর্যায় (Row) বাম থেকে ডানে:
-  ধাতব ধর্ম হ্রাস পায় । (যেমন: Na → Mg → Al → Si → P → S → Cl)।
-  অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়।

গ্রুপ (Column) উপর থেকে নিচে:
- ধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায় (যেমন: Li → Na → K → Rb → Cs)।
- অধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

এর কারণ:
ইলেকট্রন বিন্যাস: বাম থেকে ডান দিকে গেলে যোজ্য ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়ে কিন্তু শক্তিস্তরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না।
 - ফলে, পরমাণুর আকার কমে এবং ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা (ধাতব ধর্ম) কমে।
আয়নীকরণ শক্তি: বাম থেকে ডান দিকে বাড়ে যার ফলে ইলেকট্রন ত্যাগ করা কঠিন হয়।

তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২,৪৩০.
আনারসের সুগন্ধি তৈরিতে কোন এস্টার ব্যবহৃত হয়?
  1. মিথাইল বিউটাইরেট
  2. অকটাইল অ্যাসিটেট
  3. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  4. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
সঠিক উত্তর:
মিথাইল বিউটাইরেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R. 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়। 
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

- কৃত্রিম মনোরম স্বাদ ও সুগন্ধি তৈরিতে। 
যেমন: 
এস্টার ⇔ সুগন্ধির প্রকৃতি 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇔ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇔ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇔ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇔ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇔ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇔ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩১.
If 25.2 joules of energy is converted, how many calories does it amount to?
  1. 3.0 calories
  2. 4.0 calories
  3. 5.0 calories
  4. 6.0 calories
  5. 2.0 calories
সঠিক উত্তর:
6.0 calories
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6.0 calories
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 

তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
∴ ২৫.২ জুল = ২৫.২/৪.২ = ৬ ক্যালরির সমতুল্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩২.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি? 
  1. সেলসিয়াস 
  2. ফারেনহাইট 
  3. ক্যালরি 
  4. কেলভিন 
সঠিক উত্তর:
কেলভিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেলভিন 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা (Temperature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৩৩.
পেন্সিলের শিশে প্রধানত থাকে-
  1. ক) কার্বন ব্লেক
  2. খ) লেড
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) গ্রাফাইট
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা

কার্বনের দু’টি রূপভেদ আছে। যথা- গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৩৪.
একটি হোলের চার্জ কত? 
  1. 0 C
  2. 1.6×10-19
  3. - 1.6×10-19 C
  4. 9.1×10-31 C
সঠিক উত্তর:
1.6×10-19
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.6×10-19
ব্যাখ্যা

হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে। ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়, যেটি ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C । 
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
সুতরাং, তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৩৫.
চুম্বকত্ব কী? 
  1. পদার্থের গন্ধের ধর্ম
  2. পদার্থের তাপ ধর্ম
  3. পদার্থের ভৌত ধর্ম
  4. পদার্থের বৈদ্যুতিক ধর্ম
সঠিক উত্তর:
পদার্থের ভৌত ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থের ভৌত ধর্ম
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। 
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৬.
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি পরিমাপ করা হয় তাকে কী বলে?
  1. গ্যালভানোমিটার
  2. তড়িৎ প্রবাহ মিটার
  3. অ্যামমিটার
  4. ভোল্টমিটার
সঠিক উত্তর:
অ্যামমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামমিটার
ব্যাখ্যা
অ্যামমিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামমিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামমিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামমিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৭.
মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. ৭৫ ডেসিবল
  2. ৯০ ডেসিবল
  3. ১০০ ডেসিবল
  4. ১১০ ডেসিবল
সঠিক উত্তর:
৭৫ ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৫ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ। 
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। 
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। 
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। 
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য। 
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। 
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে। 


উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৮.
Joule কি?
  1. ক) বলের একক
  2. খ) ক্ষমতার একক
  3. গ) কাজের একক
  4. ঘ) সরনের একক
সঠিক উত্তর:
গ) কাজের একক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজের একক
ব্যাখ্যা
কাজ: কোন বস্তুর পর বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুর সরণ হয় তাহলে বল ও সরণের গুণফলকে কাজ বলে।
W = Fs
এখানে, 
W = কাজ,
F = বল,
s = সরণ।

কাজের একক: 
Fs = Nm = joule 
joule কাজের আন্তর্জাতিক একক।
২,৪৩৯.
একটি ক্লাস রুমের শব্দের তীব্রতার লেভেল কত? 
  1. 30 dB
  2. 40 dB
  3. 50 dB
  4. 60 dB
সঠিক উত্তর:
50 dB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
50 dB
ব্যাখ্যা
- ক্লাস রুমের শব্দের তীব্রতার লেভেল- 50 dB .

শব্দের তীব্রতার লেভেল: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- এর মূল একক W/m2 । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্ব নিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্ব নিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। 
- এর মান 10-12 Wm-2 বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000 Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪০.
বাংলাদেশে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসে কত শতাংশ মিথেন রয়েছে?
  1. ৭৫-৮৫ ভাগ
  2. ৯৫-৯৯ ভাগ
  3. ৬৫-৭০ ভাগ
  4. ৬০-৬৫ ভাগ
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯ ভাগ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রধান উপাদান হলো মিথেন। এটি সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৯৫–৯৯ শতাংশের মধ্যে থাকে, যা এটিকে একটি উচ্চমানের জ্বালানি হিসেবে পরিচিত করে। মিথেনের এই উচ্চ অনুপাতের কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাসে ছোট পরিমাণে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও নাইট্রোজেনও থাকে, কিন্তু এগুলোর ভগ্নাংশ মিথেনের তুলনায় নগণ্য। তাই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত মিথেন সমৃদ্ধ এবং এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

- সঠিক উত্তর: খ) ৯৫-৯৯ ভাগ।

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 

- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪১.
কাচ শিল্পে কোন খনিজ উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. সিলিকা বালু
  3. নুড়িপাথর
  4. গ্রানাইট পাথর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা বালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা বালু
ব্যাখ্যা
অধাতব খনিজ (Non-Metallic Minerals):
১। চুনাপাথর: 
- সিমেন্ট, গ্লাস, ইস্পাত, সাবান, কাগজ, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি প্রস্তুত করার জন্য চুনাপাথরের প্রয়োজন হয়। 
- এছাড়া গৃহনির্মাণে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও রং তৈরি করতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়। 

২। সিলিকা বালু: 
- এটি এক ধরনের বালু যা কাচ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। 
- এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, রং, অগ্নিচুল্লির ইষ্টক নির্মাণে এর দরকার হয়। 

৩। চীনামাটি: 
- বাসনপত্র, কাগজ, রাবার বস্তু, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, স্যানিটারি জিনিসপত্র প্রভৃতি নির্মাণের জন্য চীনামাটি ব্যবহৃত হয়। 

৪। কঠিন শিলা: 
- মধ্যপাড়া কঠিন শিলা (গ্রানাইট) খনি প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-গর্দস্থ খনি। 
 - এই গ্রানাইট পাথর আধুনিক সুউচ্চ ভবন, সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট, নদী-শাসন, রেললাইন, ফ্লাইওভার ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 

৫। খনিজ বালু/ভারী মানিক: 
- এই খনিজ বালুর মধ্যে জিরকন, মোনাজাইট, রুটাইল, ইলমেটাইট এবং ম্যাগনেটাইট প্রধান। 

৬। পাথর বা কঠিন শিলা: 
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ, নদীর বাঁধ তৈরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে কঠিন শিলার প্রয়োজন হয়। 
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় কঠিন শিলা পাওয়া যায়। 

৭। নুড়ি পাথর: 
- নুড়ি পাথর প্রধানত রাস্তাঘাট, গৃহ, পুল, কালভার্ট, রেলপথ ইত্যাদি নির্মাণে প্রয়োজন হয়। 
- সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ, পিয়ানগঞ্জ, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া; লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম প্রভৃতি স্থানে নুড়িপাথর পাওয়া যায়। 

৮। ইউরেনিয়াম আকরিক: 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম নামক তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। 
- এছাড়া কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু রয়েছে। 
- অস্ট্রেলিয়ার এক ভূ-বিজ্ঞানী কক্সবাজার উপকূলে এ তেজস্ক্রিয় বালুর অবস্থান আবিষ্কার করেন। 

৯। গন্ধক: 
- রাসায়নিক শিল্পে গন্ধকের ব্যবহার অধিক। 
- সালফিউরিক এসিড, বারুদ, কীটনাশক প্রভৃতি তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশে গন্ধকের উৎপাদন নেই বললেই চলে, কেবল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
২,৪৪২.
নিচের কোন রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই?
  1. Gamma Ray
  2. Roentgen Ray
  3. Alpha Ray
  4. Beta Ray
সঠিক উত্তর:
Gamma Ray
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Gamma Ray
ব্যাখ্যা
• Gamma রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর থাকে না। Gamma রশ্মি হল একটি ধরনের উচ্চ-শক্তির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ, যা তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়। এটি আলফা, বিটা কণা থেকে আলাদা কারণ আলফা কণার ইতিবাচক চার্জ এবং ভর থাকে, আর বিটা রশ্মি ইলেকট্রন বা পজিট্রন হওয়ায় তাদেরও চার্জ ও ভর আছে। কিন্তু গামা রশ্মি কেবল তরঙ্গ আকারে থাকে, তাই এর কোনো ভর বা চার্জ নেই। তাই Gamma Ray-ই হলো সেই রশ্মি যার কোনো চার্জ ও ভর নেই।
- সঠিক উত্তর হলো ক) Gamma Ray.

তেজস্ক্রিয়তা:

- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়।
যথা-
১. আলফা কণিকা (α): ধনাত্মক আধান গ্রন্থ, যা ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায়।
২. বিটা কণিকা (β): ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ, যা ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যায়।
৩. গামা রশ্মি (γ): তড়িৎ নিরপেক্ষ, যা কোনো দিকেই বিচ্যুত হয় না।
- এই রশ্মিগুলোর উৎপত্তি পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে হয়ে থাকে।

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। এই রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৩.
হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক -
  1. ক) H₂
  2. খ) H
  3. গ) OH
  4. ঘ) He
সঠিক উত্তর:
খ) H
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) H
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক - H এবং সংকেত H₂। [সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণীর রসায়ন বই]
২,৪৪৪.
নিচের কোনটি গ্রীন শক্তির উদাহরণ নয়? 
  1. বায়ু বিদ্যুৎ 
  2. সৌর শক্তি 
  3. জলবিদ্যুৎ 
  4. কয়লা শক্তি 
সঠিক উত্তর:
কয়লা শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা শক্তি 
ব্যাখ্যা

- 'কয়লা শক্তি' একটি অনবায়নযোগ্য শক্তি যা গ্রীন শক্তি নয়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে-
• সৌর শক্তি, 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে-
কয়লা
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস, 
• নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪৫.
সুপরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড -
  1. ক) আলাদা থাকে
  2. খ) ওভারল্যাপ থাকে
  3. গ) অনেক দূরে থাকে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ওভারল্যাপ থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওভারল্যাপ থাকে
ব্যাখ্যা
পরিবাহী : যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। যেমন : তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী।

পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোন শক্তি ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ Ep এর মান শূন্য হয়। 
এক্ষেত্রে পরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড এর মধ্যে আংশিক উপরিলেপন ঘটে , কাজেই যোজন ইলেকট্রন খুব সহজেই পরিবহন ইলেকট্রনে পরিণত হতে পারে। এই উপরিলেপনের জন্য, পরিবাহীর দুই প্রান্ডে খুব সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকার ফলে এদের রোধ খুব কম হয় অর্থাৎ তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি হয়।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৬.
গোল্ড এর রাসায়নিক প্রতীক কোনটি? 
  1. Au
  2. Ag
  3. Hg
  4. Fe
সঠিক উত্তর:
Au
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Au
ব্যাখ্যা
- গোল্ড এর রাসায়নিক প্রতীক Au
- গোল্ড এর পারমাণবিক সংখ্যা 79. 
- অণু গঠনের সময় কোন মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের কোন পরমাণু যুক্ত হওয়ার সামর্থ্যকেই যোজনী বা যোজ্যতা বলে। 

অন্যদিকে, 
- Hg হচ্ছে পারদের রাসায়নিক প্রতীক। 
- Fe হচ্ছে আয়রনের রাসায়নিক প্রতীক। 
- Ag হচ্ছে সিলভারের রাসায়নিক সংকেত। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৭.
অ্যাডিপিক এসিডের সংকেত কোনটি?
  1. HOOC-(CH2)4-COOH
  2. HOOC-(CH2)6-COOH
  3. NH2-(CH2)6-NH2
  4. NH2-(CH2)4-NH2
সঠিক উত্তর:
HOOC-(CH2)4-COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HOOC-(CH2)4-COOH
ব্যাখ্যা
• অ্যাডিপিক এসিডের সংকেতঃ  HOOC-(CH2)4-COOH
• হেক্সামিথিলিন ডাই অ্যা মিন এর সংকেতঃ  NH2-(CH2)6-NH2
• নাইলন ৬ঃ৬ তৈরিতে অ্যাডিপিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র - মাধ্যমিক রসায়ন, বোর্ড বই।
২,৪৪৮.
মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল কোনটি?
  1. বেগ
  2. দৈর্ঘ্য
  3. ভর
  4. সময়
সঠিক উত্তর:
বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ
ব্যাখ্যা
- মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল হচ্ছে- বেগ, কিন্তু অন্য রাশিগুলো নিজেরাই মৌলিক রাশি তাই অন্য রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না। 

ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
• সময়, 
• তাপমাত্রা, 
• তড়িৎপ্রবাহ, 
• দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন - 
• বেগ, 
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৯.
শব্দের তীব্রতা কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. উৎসের বিস্তার 
  2. মাধ্যমের ঘনত্ব 
  3. উৎসের আকার
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা উৎসের বিস্তার, মাধ্যমের ঘনত্ব ও উৎসের আকার এই সবগুলোর উপরেই নির্ভর করে। 

শব্দের তীব্রতা: 

- শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ। 
- শব্দের তীব্রতা বলতে বুঝি, শব্দ সঞ্চালনের পথে লম্বভাবে অবস্থিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- শব্দের তীব্রতা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে- 
যেমন- 
১। মাধ্যমের ঘনত্ব: 
- যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হবে তার ঘনত্ব বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

২। মাধ্যমের বেগ: 
- মাধ্যমের বেগের দিকে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়। 

৩। উৎসের আকার: 
- উৎসের আকার বড় হলে শব্দ তরঙ্গ বেশি পরিমাণ শক্তি সঞ্চালিত রতে পারে ফলে তীব্রতা বেড়ে যায়। 

৪। উৎসের বিস্তার: 
- শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পনের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- শব্দের তীব্রতা I এবং বিস্তার A হলে, I ∝ A2

৫। উৎস থেকে শ্রোতার দূরত্ব: 
- উৎস ও শ্রোতার মধ্যবর্তী দূরত্ব যতো বাড়বে শব্দের তীব্রতা ততো কমে যাবে কারণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার ফলে শব্দ তরঙ্গের শক্তি কমে যায়। 
- তীব্রতা দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। 
- যদি তীব্রতা I এবং দূরত্ব r হয় তাহলে, I ∝ 1/r2

৬। অনুনাদী বস্তুর উপস্থিতি: 
- উৎসের কাছে কোনো অনুনাদী বস্তু থাকলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায়। 
- একটি সুরশলাকাকে বাতাসে স্পন্দিত করলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় টেবিল বা কোনো ফাঁপা কাঠের বাক্সের সাথে লাগিয়ে স্পন্দিত করলে শব্দের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। 
- এক্ষেত্রে বেশি আয়তনের বায়ু কম্পিত হয় বলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

২,৪৫০.
চোখের শ্বেতমন্ডলের সামনের অংশকে কী বলে?
  1. লেন্স
  2. রেটিনা
  3. কর্নিয়া
  4. আইরিস
সঠিক উত্তর:
কর্নিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নিয়া
ব্যাখ্যা
মানব চক্ষু: 
- চোখ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের অন্যতম। 
- মানব চক্ষুর কার্যপ্রণালি ছবি তোলার ক্যামেরার মতো। 
- মানব চক্ষুর বিশেষ বিশেষ প্রধান অংশগুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো - 
১। অক্ষিগোলক (Eye-ball): 
- চোখের কোটরে অবস্থিত এর গোলাকার অংশকে অক্ষিগোলক বলে। 
- একে চক্ষু কোটরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমার চারদিকে ঘুরানো যায়। 

২। শ্বেতমণ্ডল (Sclera): 
- এটা অক্ষিগোলকের বাহিরের সাদা, শক্ত ও ঘন আঁশযুক্ত অস্বচ্ছ আবরণবিশেষ। 
- এটি চক্ষুকে বাহিরের বিভিন্ন প্রকার অনিষ্ট হতে রক্ষা করে এবং চোখের আকৃতি ঠিক রাখে। 

৩। কর্নিয়া (Cornea): 
- শ্বেতমন্ডলের সামনের অংশকে কর্নিয়া বলে। 
- শ্বেতমণ্ডলের এই অংশ স্বচ্ছ এবং অন্যান্য অংশ অপেক্ষা বাহিরের দিকে অধিকতর উত্তল। 

৪। কোরয়েড বা কৃষ্ণমণ্ডল (Choroid): 
- এটি কালো রঙের একটি ঝিল্লি দ্বারা গঠিত শ্বেতমণ্ডলের ভিতরের গাত্রের আচ্ছাদনবিশেষ। 
- এই কালো রঙের জন্য চোখের ভিতরে প্রবিষ্ট আলোকের প্রতিফলন হয় না। 

৫। আইরিস (Iris): 
- এটি কর্নিয়ার ঠিক পিছনে অবস্থিত একটি অস্বচ্ছ পর্দা। 
- পর্দাটি স্থান ও লোকবিশেষে বিভিন্ন রঙের নীল, গাঢ়, বাদামি, কালো ইত্যাদি হয়ে থাকে। 

৬। মণি বা তারারন্ধ্র (Pupil): 
- এটি কর্নিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মাংসপেশিযুক্ত একটি গোলাকার ছিদ্রপথ। 
- মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণে তারারন্ধ্রের আকার পরিবর্তিত হয়। 

৭। উত্তল লেন্স (Convex lens): 
- এটি কর্নিয়ার পিছনে অবস্থিত জেলির মতো নরম স্বচ্ছ পদার্থে তৈরি একটি উত্তল লেন্স। 

৮। অক্ষিপট বা রেটিনা (Retina): 
- এটি গোলকের পিছনে অবস্থিত একটি ঈষদচ্ছ গোলাপি আলোকগ্রাহী পর্দা। 
- রেটিনার উপর আলো পড়লে স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগায়। 

৯। অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার (Aqueous humour and vitreous humour): 
- লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার। 
- লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪৫১.
ফোটন কণার নিশ্চল ভর হচ্ছে:
  1. - ১
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ফোটনের নিশ্চল ভর (rest mass) শূন্য, কারণ ফোটন সবসময় আলোকে গতি করে এবং কোনো স্থির অবস্থায় থাকতে পারে না।

সঠিক উত্তর: ঘ) ০

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (0)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- পরে ১৯২৬ সালে লুইস প্রতিটি কোয়ান্টার নাম দেন ফোটন। সুতরাং প্রতিটি ফোটনের শক্তি হলো hf. 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
- কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ধারণা পেতে হলে আমাদের ফোটনের ধর্মাবলী জানা প্রয়োজন। 

- নিচে ফোটনের ধর্মগুলো দেয়া হলো- 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৫২.
চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম কী?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম সালফেট
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO)
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়।

এছাড়া আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগের রাসায়নিক নাম হচ্ছে -

- কাপড় কাচার সোডা - Na2CO3.10H2O
- খাবার সোডা - সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3)
- মরিচা - Fe2O3.nH2O

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই
২,৪৫৩.
তেল বা চর্বি হচ্ছে এক ধরনের - 
  1. অ্যালকোহল
  2. এস্টার
  3. ডিটারজেন্ট
  4. অ্যালডিহাইড
সঠিক উত্তর:
এস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস্টার
ব্যাখ্যা
তেল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হলো গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
১. সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তেল। 
২. তেলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
৩. তেল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
২,৪৫৪.
আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে?
  1. ডায়নামো
  2. সৌরকোষ
  3. বাল্ব
  4. টেলিফোন
সঠিক উত্তর:
সৌরকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরকোষ
ব্যাখ্যা
• আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর:
- সৌরকোষ (Solar Cell) সূর্যের আলো শোষণ করে তা তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এটি ফটোভোলটাইক প্রক্রিয়া দ্বারা কাজ করে।

অন্যদিকে,
- ডায়নামো: যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বাল্ব: তড়িৎ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- টেলিফোন: শব্দ ও তড়িৎ সংকেতের আদান-প্রদান করে, আলো নয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৫৫.
FPS পদ্ধতিতে ভরের একক কীভাবে প্রকাশ করা হয়?
  1. আউন্স
  2. গ্রাম
  3. কিলোগ্রাম
  4. পাউন্ড
সঠিক উত্তর:
পাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাউন্ড
ব্যাখ্যা
• সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে,
- দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার।
- ভরের একক গ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে,
- দৈর্ঘ্যের একক মিটার।
- ভরের একক কিলোগ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এফ.পি.এস পদ্ধতিতে,
- দৈর্ঘ্যের একক ফুট।
- ভরের একক পাউন্ড।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫৬.
বিশুদ্ধ পানির pH কত?
  1. পাঁচ
  2. ছয়
  3. সাত
  4. আট
সঠিক উত্তর:
সাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত
ব্যাখ্যা
pH:

- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7। 
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫৭.
তরল পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কেমন?
  1. কঠিনের চেয়ে কম
  2. কঠিনের চেয়ে বেশি
  3. গ্যাসের চেয়ে কম
  4. গ্যাস ও কঠিনের সমান
সঠিক উত্তর:
কঠিনের চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিনের চেয়ে কম
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে যারে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। 
- এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
- যেকোন পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫৮.
কোন মৌলের নিউক্লিয়াসে নিউট্রন নেই?
  1. লিথিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেনের তিনটি প্রধান আইসোটোপের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো প্রোটিয়াম (Protium)। এই প্রোটিয়ামের নিউক্লিয়াসে শুধুমাত্র একটি প্রোটন থাকে, কিন্তু কোনো নিউট্রন নেই। এটিই একমাত্র স্থিতিশীল পরমাণু যার নিউক্লিয়াসে নিউট্রন অনুপস্থিত। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৫৯.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরির ক্ষেত্রে নিচের কোন উপাদানগুলো সমন্বিত করা হয়েছিল? 
  1. কীবোর্ড, মনিটর ও সিপিইউ
  2. ক্যামেরা, স্ক্যানার ও স্পিকার
  3. র‍্যাম, রোম ও মেমোরি 
  4. ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি): 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৪৬০.
৪র্থ শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন সংখ্যা -
  1. ক) ২
  2. খ) ৮
  3. গ) ১৬
  4. ঘ) ৩২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩২
ব্যাখ্যা
প্রতিটি শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রনের সংখ্যা 2n2

৪র্থ শক্তিস্তরে ইলেক্ট্রন সংখ্যা = 2 x 42 = 32
২,৪৬১.
বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের মূল জ্বালানি কোনটি?
  1. CNG ও LPG
  2. প্রোপেন ও বিউটেন
  3. হাইড্রোজেন ও বিউটেন
  4. মিথেন ও হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
প্রোপেন ও বিউটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোপেন ও বিউটেন
ব্যাখ্যা

বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের মূল জ্বালানি হচ্ছে প্রোপেন ও বিউটেন।   

জ্বালানি হিসেবে CNG ও সিলিন্ডার গ্যাস
- আমরা যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে CNG (Compressed Natural Gas) ব্যবহার করি। এটি মূলত উচ্চচাপে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস।
- যানবাহন চালানোর সময় এটি সিলিন্ডার থেকে উচ্চ গতিতে বেরিয়ে এসে ইঞ্জিনে প্রবেশ করে। অর্থাৎ, এখানেও নিঃসরণ ঘটে।
- বাসাবাড়িতে জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে মূলত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসকে উচ্চচাপে সংকুচিত করে তরল অবস্থায় সিলিন্ডারে ভরে রাখা হয়।
- চুলা জ্বালানোর সময় যখন সিলিন্ডারের মুখ খুলে দেওয়া হয়, তখন এটি গ্যাসে পরিণত হয়ে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রেও নিঃসরণ ঘটে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২,৪৬২.
কোন তত্ত্বের সাহায্যে আলোকতড়িৎ ক্রিয়া (Photoelectric Effect) সফলভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব?
  1. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. কণা তত্ত্ব
  3. তরঙ্গ তত্ত্ব
  4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোকতড়িৎ ক্রিয়া বা Photoelectric Effect ব্যাখ্যা করেন।
- তরঙ্গ তত্ত্ব দ্বারা এই ঘটনাটি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব ছিল না, কারণ আলোর তীব্রতা বাড়ালে নির্গত ইলেকট্রনের শক্তি বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটে না। আইনস্টাইন প্রস্তাব করেন যে, আলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা ফোটন (Photon) হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি ফোটনের শক্তি E = hf ।

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার (Photoelectric Effect) ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

• কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

• তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

• তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। - এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬৩.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি পর্যায় (Period) আছে?
  1. ৭ 
  2. ৮ 
  3. ১৭ 
  4. ১৮ 
সঠিক উত্তর:
৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ 
ব্যাখ্যা

পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭ টি পর্যায় ও ১৮ টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬৪.
টমাস আলভা এডিসন কী আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত?
  1. ফোনোগ্রাফ
  2. টেলিফোন
  3. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  4. টেলিভিশন
সঠিক উত্তর:
ফোনোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোনোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
টমাস আলভা এডিসন:
- টমাস আলভা এডিসন ফোনোগ্রাফ, চলমান ছবি তোলার ক্যামেরা ‘কাইনোটোস্কোপ’, বৈদ্যুতিক বাতি ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত।
- ১৮৭৭ সালে এডিসন মেনলো পার্ক ল্যাবে ফনোগ্রাফ আবিষ্কার করেন।
- পরবর্তীকালে আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেলসহ বেশ ক'জন বিজ্ঞানী ফোনোগ্রাফকে আরো উন্নত করে তোলেন।

⇒ মার্কিন বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী টমাস আলভা এডিসন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের মিলানে জন্মগ্রহণ করেন।
- এডিসন বিদ্যুৎ উৎপাদন, গণযোগাযোগ, শব্দ ধারণ ও চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে অনেক যন্ত্র তৈরি করেছেন।
- তিনি ফোনোগ্রাফ, চলমান ছবি তোলার ক্যামেরা ‘কাইনোটোস্কোপ’, বৈদ্যুতিক বাতি ইত্যাদির উদ্ভাবক।
- এডিসনই প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আবাসনে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ করার ধারণা দেন।
- বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিকসহ ১৪টি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এডিসন।

অন্যদিকে,
- আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৫ প্রথম টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
- ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
- টেলিভিশন আবিষ্কার করেন জন এল বেয়ার্ড।

উৎস: Britannica.
২,৪৬৫.
ক্যাসেটের ফিতার শব্দ কী হিসেবে রক্ষিত থাকে? 
  1. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
  2. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
  3. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
  4. মেমোরি চিপ হিসেবে
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
ব্যাখ্যা
- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। 
- এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
- ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়। যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২,৪৬৬.
১ ন্যানো সেকেন্ড হলো- 
  1. ১ সেকেন্ডের ১০ হাজার ভাগের একভাগ 
  2. ১ সেকেন্ডের ১০ লক্ষ ভাগের একভাগ 
  3. ১ সেকেন্ডের ১০ কোটি ভাগের একভাগ 
  4. ১ সেকেন্ডের ১০০ কোটি ভাগের একভাগ 
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ডের ১০০ কোটি ভাগের একভাগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ডের ১০০ কোটি ভাগের একভাগ 
ব্যাখ্যা
• ১ সেকেন্ডের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগকে ১ ন্যানো সেকেন্ড বলে।

অর্থাৎ ১ ন্যানো সেকেন্ড = ১০-৯ সেকেন্ড।
- ১ মিলি সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের এক হাজার ভাগের এক ভাগ।
- ১ মাইক্রো সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ।
- ১ ন্যানো সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের একশত কোটি ভাগের এক ভাগ।
- ১ পিকো সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের এক লক্ষ কোটি ভাগের এক ভাগ।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৬৭.
কোন কারণে চোখে দীর্ঘদৃষ্টির ত্রুটি দেখা দেয়?
  1. চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে
  2. চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে
  3. কোনো কারণে অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ কমে গেলে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia or Farsightedness): 
- যখন কোনো চোখ দূরের বস্তু দেখে কিন্তু কাছের বস্তু দেখতে পায় না তখন এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বলে। 
- সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এই ত্রুটি দেখা যায়। 
- নিম্নলিখিত দুটি কারণে এই ত্রুটি ঘটে। 
যেমন - 
(i) চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে। 
(ii) কোনো কারণে অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ কমে গেলে। 
- এর ফলে দূর থেকে আসা আলো সঠিকভাবে চোখের রেটিনাতে প্রতিবিম্ব তৈরি করলেও কাছাকাছি বিন্দু থেকে আসা আলোক রশ্মি চোখের লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের পর রেটিনার ঠিক উপরে না হয়ে পেছনে মিলিত হয়। 
- ফলে চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় না। 

প্রতিকার: 
- এই ত্রুটি দূর করার জন্য একটি উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করতে হবে। 
- ফলে কাছাকাছি বিন্দু থেকে আসা আলোক রশ্মি চশমার লেন্সে এবং চোখের লেন্সে পর পর দুইবার প্রতিসারিত হওয়ার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যাবে এবং প্রয়োজন মতো অভিসারী হয়ে প্রতিবিম্বটি রেটিনার উপরে পড়বে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৪৬৮.
নিচের কোন উপাদান কার্বনেরই ভিন্ন রূপ?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) হীরক
  3. গ) গ্রাফিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
কার্বনের দু‘টি রূপভেদ আছে যথা গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)। বিভিন্ন রূপভেদে কার্বনের ব্যবহারও বিভিন্ন।
গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
গ্রাফিন হচ্ছে দ্বিমাত্রিক কার্বন ক্রিস্টাল যা খুব ভালো তাপ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী। গ্রাফিনকে গ্রাফাইট থেকে আহরণ করা হয়
উৎসঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ও দ্যা গার্ডিয়ান
২,৪৬৯.
জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু সাধারণত উপস্থিত থাকে।
  2. খ) জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে কম সময় প্রয়োজন হয়।
  3. গ) সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে জৈব যৌগ গঠিত হয়।
  4. ঘ) জৈব যৌগে সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শিত হয়।
সঠিক উত্তর:
খ) জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে কম সময় প্রয়োজন হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে কম সময় প্রয়োজন হয়।
ব্যাখ্যা
• সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে জৈব যৌগ গঠিত হয়।
- জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু সাধারণত উপস্থিত থাকে। এছাড়া হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার ইত্যাদি মৌলও উপস্থিত থাকে।
- জৈব যৌগে সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শিত হয়।
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
২,৪৭০.
Which colour has the shortest wavelength?
  1. Violet
  2. Red
  3. Yellow
  4. Green
  5. Blue
সঠিক উত্তর:
Violet
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Violet
ব্যাখ্যা
আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল। 
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়। 
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়। 
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪৭১.
FPS পদ্ধতিতে ভরের একক-
  1. কিলোগ্রাম
  2. পাউন্ড
  3. গ্রাম
  4. আউন্স
সঠিক উত্তর:
পাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাউন্ড
ব্যাখ্যা
• সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার।
- ভরের একক গ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক মিটার।
- ভরের একক কিলোগ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এফ.পি.এস পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক ফুট।
- ভরের একক পাউন্ড।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
২,৪৭২.
1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে সম্প্রসারণজনিত কাজ হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. আয়তনজনিত ভ্যান্ডারওয়াল ধ্রুবক (a)
  2. আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)
  3. সংকোচনশীল ধ্রুবক (Z)
  4. গ্যাসের তাপ প্রসারাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)
ব্যাখ্যা

• 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা যদি 1.0 K বাড়ানো হয়, তখন গ্যাসটি যখন স্থির চাপে প্রসারিত হয়, তখন যা কাজ করে তাকে আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এটি মূলত তাপ এবং চাপের সম্পর্ককে বোঝায়। আদর্শ গ্যাস সূত্র PV = nRT অনুযায়ী, এক মোল গ্যাসের জন্য তাপমাত্রা 1 K বাড়ালে গ্যাসের চাপ বা আয়তনের পরিবর্তন ঘটালে যে কাজ হয়, তা W = nRΔT হিসাবে প্রকাশ করা যায়। এখানে R হল সেই ধ্রুবক যা তাপ এবং আয়তনের পরিবর্তনকে সম্পর্কিত করে। তাই এটি কোনো ভ্যান্ডারওয়াল ধ্রুবক বা সংকোচনশীল ধ্রুবক নয়, বরং আদর্শ গ্যাসের ধ্রুবক। R এর মান, R = 8.314Jmol-1K-1

- উত্তর: খ) আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)। 

• 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে সম্প্রসারণজনিত কাজ হয় (Gas Constant):
- গ্যাসের তাপমাত্রা বাড়লে তার অণুগুলো দ্রুতগতিতে কম্পিত হয় এবং গ্যাসের আয়তন বৃদ্ধি পায়।
- এই সম্প্রসারণজনিত কাজকে আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
- অর্থাৎ, 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে কাজ হয় তা মূলত আদর্শ গ্যাস ধ্রুবকের মানের সাথে সম্পর্কিত।
- এটি গ্যাসের তাপগতিবিদ্যা এবং থার্মোডাইনামিক্সে গুরুত্বপূর্ণ।
- সম্প্রসারণজনিত কাজকে নির্ণয় করতে মূলত R মান ব্যবহার করা হয়, না কোনো ভ্যান্ডারওয়াল ধ্রুবক বা সংকোচনশীল ধ্রুবক।  

সুতরাং, 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে সম্প্রসারণজনিত কাজ হয়, তা নির্দেশ করে - আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)।  
- সঠিক উত্তর: খ) আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

২,৪৭৩.
'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২১ সালে
  2. খ) ১৯০৫ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯১১ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
- পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪৭৪.
নিচের কোনটির আপেক্ষিক ভেদনযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) অভ্রের
  2. খ) কাঁচের
  3. গ) ইবোনাইটের
  4. ঘ) পলিথিনের
সঠিক উত্তর:
ক) অভ্রের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অভ্রের
ব্যাখ্যা
- কোনো মাধ্যমের ভেদনযোগ্যতা শূন্যস্থানের ভেদনযোগ্যতার কতগুন তার পরিমাপকে ঐ মাধ্যমের আপেক্ষিক ভেদনযোগ্যতা বলে।
- আপেক্ষিক ভেদনযোগ্যতা μr দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- অভ্রের (মাইকা) আপেক্ষিক ভেদনযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি।
২,৪৭৫.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক-
  1. মাইকেল ফ্যারাডে
  2. টমাস আলভা এডিসন
  3. আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল
  4. ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ফ্যারাডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
• তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক 'মাইকেল ফ্যারাডে'।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:

- ওয়েরস্টেড 1820 সালে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথা চিন্তা আসে যদি তড়িৎ প্রবাহের ফলে চুম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হতে পারে তবে কেন চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হবে না?
- তিন দেশের তিনজন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেন্‌জ পৃথক পৃথকভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে 1831 সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুন্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুন্ডলীতে একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।
- আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন ও মাইক্রোফোন আবিষ্কার করেন।
- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭৬.
নিচের কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ? 
  1. গ্লিসারিন 
  2. নিকোটিন 
  3. আয়রন 
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা

পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম ও আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এসব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

অন্যদিকে, 
- আয়রন → ধাতু, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- নিকোটিন → জৈব যৌগ, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- গ্লিসারিন → তরল পদার্থ, উদ্বায়ী নয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭৭.
পটাশ এলামকে সাধারণত কী নামে ডাকা হয়?
  1. ডিটারজেন্ট
  2. সেভিং সোপ
  3. কস্টিক সোডা
  4. ফিটকিরি
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
ব্যাখ্যা

• পটাশ এলামকে সাধারণত ফিটকিরি নামে ডাকা হয়। এটি একটি যৌগ, যা মূলত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম আয়ন এবং পটাশিয়াম আয়ন তৈরি করে। প্রাচীনকাল থেকে পটাশ এলামকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন কাপড়ের রঙ ধরানোর সময় বা পানি পরিশোধনের ক্ষেত্রে। ফিটকিরি ব্যবহার করলে জল স্বচ্ছ হয় এবং ময়লা কণা নীচে বসে যায়। তাই, কস্টিক সোডা বা ডিটারজেন্টের সঙ্গে এটি মিলিত নয়; এটি আলাদা রূপে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক প্রয়োগে ব্যবহারযোগ্য।

- সঠিক উত্তর: ঘ) ফিটকিরি।

• অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি।
- রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] (পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট, ২৪ অণু পানি);
•একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।

• ফিটকিরি:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
-অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ; রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭৮.
পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম কেমন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. হঠাৎ হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

ধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
• Li → Li+ + e- 
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (CI) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
• Cl + e- → Cl- 
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৭৯.
গোয়েন্দা বিভাগে নিচের কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়? 
  1. আলফা রশ্মি 
  2. রঞ্জন রশ্মি 
  3. বিটা রশ্মি 
  4. গামা রশ্মি 
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি 
ব্যাখ্যা

রঞ্জন রশ্মি: 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি উৎপন্ন হয়। 
- এক্স-রের একক রন্টজেন। 
- এক্স-রে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন। 
- রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩x১০১৬ থেকে ৩x১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়। 
 
এক্স-রে এর ব্যবহার: 
- হীরক সনাক্তকরণ, 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা, 
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়, 
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮০.
প্লাজমা অবস্থার জন্য প্রয়োজন -
  1. প্রায় শূন্য তাপমাত্রা 
  2. অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
  3. খুব নিম্ন তাপমাত্রা 
  4. সাধারণ তাপমাত্রা 
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়, তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮১.
তেজস্ক্রিয় মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা -
  1. ক) ৪০ এর বেশি
  2. খ) ৫৬ এর বেশি
  3. গ) ৭৪ এর বেশি
  4. ঘ) ৮২ এর বেশি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮২ এর বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮২ এর বেশি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা হলো যেসকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াস দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে উচ্চভেদন সম্পূর্ণ বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনা।

- তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সকল মৌল নিজে থেকে অন্য মৌলে রূপান্তরিত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- যে বস্তুখণ্ড থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাকে তেজস্ক্রিয় নমুনা বলে।
- ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন হেনরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে। পরবর্তীতে, রাদারফোর্ড, পিয়ারে এবং মেরি কুরিসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা –
(১) প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা (Natural radioactivity) ও
(২) কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা (Artificial radioactivity)

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
২,৪৮২.
যেসব ইলেকট্রন রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে, তাদের কী বলা হয়? 
  1. ফ্রি ইলেকট্রন
  2. মূল ইলেকট্রন
  3. ইনার ইলেকট্রন
  4. যোজ্যতা ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
যোজ্যতা ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজ্যতা ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বন্ধন ও রাসায়নিক বন্ধন গঠনের কারণ: 
- কোনো একটি পরমাণুর বন্ধন গঠনের ক্ষমতাকে তার যোজ্যতা বলে। 
- নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar) এসব মৌলের বন্ধন গঠনের ক্ষমতা নেই, ফলে এদের যোজ্যতা শূন্য। 
- আবার H এর যোজ্যতা এক, O এর যোজ্যতা দুই, N এর যোজ্যতা তিন ও C এর যোজ্যতা সাধারণত চার হয়। 
- কোনো পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে বর্তমান ইলেকট্রনগুলোকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে। 
- এ ইলেকট্রনগুলোই বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। 
- পরমাণুর সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরকে যোজ্যতাস্তর বলে। 
- রাসায়নিক বন্ধনের আধুনিক মতবাদ অনুসারে রাসায়নিক বন্ধন গঠনকালে পরমাণুগুলো সর্বাধিক স্থায়ী ইলেকট্রন গঠন কাঠামো অর্জনের চেষ্টা করে। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ইলেকট্রন গঠনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় He ভিন্ন প্রত্যেকেরই যোজ্যতা স্তরে আটটি করে ইলেকট্রন বর্তমান। 
- He পরমাণুর যোজ্যতা স্তর প্রথম শক্তি স্তর, এখানে মাত্র দুটি ইলেকট্রন বর্তমান থেকেই যোজ্যতাস্তরকে ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৩.
ট্রান্সফরমারে কোনটি পরিবর্তন হয়?
  1. কারেন্ট
  2. ভোল্টেজ
  3. কারেন্ট ও ভোল্টেজ
  4. ফ্রিকোয়েন্সি
সঠিক উত্তর:
কারেন্ট ও ভোল্টেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারেন্ট ও ভোল্টেজ
ব্যাখ্যা
- ট্রান্সফরমার হলো এক ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিকল্প কারেন্ট (AC) ব্যবহারের মাধ্যমে ভোল্টেজ ও কারেন্ট পরিবর্তন করে, কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সি অপরিবর্তিত রাখে। 

ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮৪.
বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি কোন ধরনের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. চৌম্বক শক্তি
  2. আলোক শক্তি 
  3. শব্দ শক্তি 
  4. যান্ত্রিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক শক্তি 
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- এক রূপের শক্তিকে রুপান্তর করে অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 

বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৫.
গ্রুপ-১৭ এর প্রথাগত নাম কি?
  1. লবণউৎপাদক পরিবার
  2. বৈদ্যুতিক পরিবার
  3. হ্যালোজেন
  4. ধাতব পরিবার
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা

• গ্রুপের প্রথাগত নাম হলো “হ্যালোজেন”, যা লবণ তৈরি করার ক্ষমতার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে।
- এটি পিরিয়ডিক টেবিলের অত্যন্ত সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ।
- এই গ্রুপের মৌলগুলো হলো: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At)।
- “হ্যালোজেন” শব্দের অর্থ লবণ উৎপাদনকারী। কারণ এই মৌলগুলো ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণত লবণ (salt) তৈরি করে।

• বৈশিষ্ট্য:
- অক্সিডাইজার হিসেবে শক্তিশালী: অন্যান্য উপাদানের ইলেকট্রন আকারে গ্রহণ করতে সক্ষম।
- এটি একটি অ-ধাতু শ্রেণি, যার বৈদ্যুতিক এবং রাসায়নিক ক্রিয়াশীলতা খুব বেশি।
- সহজে একে অপরের সাথে এবং ধাতুর সঙ্গে যৌগ গঠন করে।

• ব্যবহার:
- ফ্লোরিন (F): টুথপেস্টে ফ্লুরাইড হিসেবে।
- ক্লোরিন (Cl): পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে।
- ব্রমিন (Br) ও আয়োডিন (I): চিকিৎসা এবং রসায়ন শিল্পে ব্যবহৃত।
- এই মৌলগুলো দৈনন্দিন জীবনের অনেক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২,৪৮৬.
1 amu এর মান কত গ্রাম?
  1. 0.167×10-23 গ্রাম
  2. 1.992×10-23 গ্রাম
  3. 1.66×10-23 গ্রাম
  4. 1.66×10-24 গ্রাম
সঠিক উত্তর:
1.66×10-24 গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.66×10-24 গ্রাম
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: 
- পরমাণু ও অণু এত ক্ষুদ্র যে বিজ্ঞানীগণের পক্ষে এদের প্রকৃত ভর সরাসরি পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। 
- তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে ভর বর্ণালী বিক্ষণ পদ্ধতিতে পরমাণুর ভর পরিমাপ করে দেখেছেন, হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 0.167×10-23 গ্রাম এবং কার্বনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 1.992×10-23 গ্রাম। 
- তাই কোন একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে প্রমাণ (Standard) ধরে তার সাপেক্ষে অন্যান্য মৌলের পরমাণু কতগুণ ভারী তা নির্ণয় করা হয় যারে ঐ সংশ্লিষ্ট মৌলের পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বলা হয়। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরকে প্রমাণ হিসাবে ধরে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর গণনা করা হতো। 
- বর্তমানে একটি কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে প্রমাণ ধরে বিভিন্ন পরমাণুর আপেক্ষিক ভর গণনা করা হয়। 
অর্থাৎ, কোন মৌলের (আপেক্ষিক) পারমাণবিক ভর = {মৌলটির একটি পরমাণুর ভর/একটি কার্বন-১২ পরমাণু ভরের (১/১২) অংশ}। 
- কার্বন-12' আইসোটোপের ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে অ্যাটমিক মাস ইউনিট (atomic mass unit সংক্ষেপে amu) বলা হয়। 
1 amu = 1.66×10-24 গ্রাম। 
- আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয়। 
- পর্যায় সারণিতে পরমাণুসমূহের যে পারমাণবিক ভর দেয়া হয়েছে তা সকলই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। 
- কোনো পরমাণুর আইসোটোপ না থাকলে সেগুলোর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ও ভর সংখ্যা সমান হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৭.
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে কোন তত্ত্বের উন্নয়নের মাধ্যমে?
  1. স্ট্রিং থিউরী
  2. কোয়ান্টাম থিউরী
  3. রিলেটিভিটি থিউরী
  4. থিউরী অব এক্সপানশন
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম থিউরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম থিউরী
ব্যাখ্যা

- আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত.১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।
 উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।

২,৪৮৮.
সমন্বিত বর্তনী প্যাকেজিং-এর মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. সেটিকে হালকা রাখা
  2. রঙ পরিবর্তন প্রতিরোধ করা
  3. ভেতরের ট্রানজিস্টর গরম না হওয়া
  4. সার্কিট বোর্ডে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা
সঠিক উত্তর:
সার্কিট বোর্ডে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্কিট বোর্ডে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Intergated Circuit): 
- ১৯৫২ সালের দিকেই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হলেও সত্যিকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় ষাটের দশকে। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করার সময় এই প্রক্রিয়াটিকে আর একটুখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। 
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় যার নাম দেওয়া হয় ইন্টিগ্রেডেট সার্কিট (আইসি, IC) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অল্প জায়গায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর বসানো শুরু হলো এবং তার নাম দেওয়া হলো প্রথমে লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (LSI), পরে ভেরি লার্জ স্কেল ইন্ট্রেগ্রেশন (VLSI)।
- এই সার্কিটগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে প্যাকেজ করা হতো যেন সরাসরি সার্কিট বোর্ডে ব্যবহার করা যায়
- মাইক্রোকম্পিউটার, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ভিডিও ক্যামেরা এবং যোগাযোগের উপগ্রহ এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ছাড়া কোনো দিনই সম্ভব হতো না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮৯.
Which one among the following is responsible for formation of 'Ozone Holes' in the stratosphere?
  1. ক) Chloro Fluoro Carbons
  2. খ) Benzopytene
  3. গ) Hydrocarbons
  4. ঘ) UV radiation
সঠিক উত্তর:
ক) Chloro Fluoro Carbons
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Chloro Fluoro Carbons
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তরের ক্ষয়: 
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন খুব সক্রিয় একটি অনু। যখন স্ট্রেটোস্ফিয়ার অঞ্চলে পৌছে তখন UV রশ্মি দ্বারা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ভেঙ্গে ক্লোরিন ফ্রি র‍্যাডিকেল সৃষ্টি করে।
- ক্লোরিন ফ্রি রেডিক্যাল উন্মুক্ত হয় ওজোন গ্যাস এর সাথে বিক্রিয়া করে।
- ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে হোল সৃষ্টি করে। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৯০.
পদার্থের অবিভাজ্য একক সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন কে?
  1. ডেমোক্রিটাস
  2. জন ডাল্টন
  3. পিথাগোরাস
  4. নীলস বোর
সঠিক উত্তর:
ডেমোক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার একক এটম সম্পর্কে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম। 
- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত, তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। 
- এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪৯১.
পিভিসি প্লাস্টিক পোড়ালে বায়ুতে নিচের কোন গ্যাসটি নিঃসৃত হয়? 
  1. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  2. ওজোন
  3. হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  4. হাইড্রোজেন সায়ানাইড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক: 
- প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজেই ছাচঁযোগ্য। 
- নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছেমতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করা যায়। 
- প্লাস্টিক জাতীয় সবকিছুই পলিমার পদার্থ। 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিকই পানিতে অদ্রবণীয়। 
- প্লাস্টিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম হলো এরা বিদ্যুৎ এবং তাপ পরিবহন করে না, তাই বিদ্যুৎ এবং তাপ নিরোধক হিসেবে এদের বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো গলিত অবস্থায় এদেরকে যেকোন আকার দেয়া যায়। 
- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্ছাদের খেলনা- এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়, এদেরকে থার্মোপ্লাস্টিকস (Thermoplastics) বলে। 
- অন্যদিকে মেলামাইন, বাকেলাইট এগুলো তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না, এসব প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস (Thermosetting Plastics) বলে। 
- প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়।
যেমন: পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) গ্যাস নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন প্লাস্টিক পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবেশ যথেষ্ট নিষ্ক্রিয়। এরা বাতাসের জলীয় বাষ্প এবং অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। প্লাস্টিক কোন পচনশীল বস্তু নয়, এরা দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও পচে না। 
- প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৯২.
কোন ধরনের প্রসারণকে তরল পদার্থের প্রসারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  2. ক্ষেত্র প্রসারণ
  3. তলীয় প্রসারণ
  4. আয়তন প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে।
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয়।
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈর্ঘ্য নেই। যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়। তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায়
- একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়। আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না।
- তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়।
- তরল পদার্থকে তাপ দিতে হলে কোনো না কোনো পাত্রে নিয়ে তাপ দিতে হয়। পাত্রগুলো একটু বিশেষ আকারের হলে প্রসারণ সুষ্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাত্রগুলো সরু লম্বা গলা বিশিষ্ট এবং নিচের দিকে বাল্ব বা গোলকাকৃতির হলে উত্তম হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৩.
সোডিয়াম (Na) পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা 11 এবং নিউট্রন সংখ্যা 12 হলে ভর সংখ্যা কত?
  1. 11
  2. 12
  3. 23
  4. 24
সঠিক উত্তর:
23
উত্তর
সঠিক উত্তর:
23
ব্যাখ্যা

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

পারমাণবিক সংখ্যা: 

- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- কোনো একটি মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৯৪.
আইনস্টাইন নােবেল পুরস্কার পান-
  1. আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
  2. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
  3. কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
  4. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
সঠিক উত্তর:
আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
ব্যাখ্যা
- কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে।
- ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
- এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ভর শক্তি সম্পর্ক E = mc2 স্থাপন করেন তিনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪৯৫.
প্লাজমা অবস্থা কোথায় সাধারণত দেখা যায়?
  1. সূর্যে
  2. মঙ্গল গ্রহে 
  3. পৃথিবীর ভূত্বকে
  4. পৃথিবীর মহাসাগরে
সঠিক উত্তর:
সূর্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যে
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৬.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. সমান শক্তি
  2. সমান রাসায়নিক ধর্ম
  3. সমান ইলেক্ট্রন সংখ্যা
  4. সমান আয়নিক ব্যাসার্ধ
সঠিক উত্তর:
সমান রাসায়নিক ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান রাসায়নিক ধর্ম
ব্যাখ্যা

• একই গ্রুপের মৌলগুলোর রাসায়নিক ধর্ম একই রকম কারণ তাদের বহিঃস্থ শক্তিস্তরে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে, যা তাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা ও যৌগগঠন প্রক্রিয়াকে অভিন্ন করে।

• পর্যায় সারণির গ্রুপ:
- পর্যায় সারণিতে উল্লম্বভাবে সাজানো প্রতিটি কলামকে গ্রুপ বলা হয়।
- একই গ্রুপে থাকা মৌলগুলোর বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা একই থাকে।
- এই ইলেকট্রন বিন্যাসের মিলই তাদের রাসায়নিক ধর্মকে প্রায় অভিন্ন করে তোলে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে বহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন। 
- গ্রুপের মৌলগুলোর ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা একই হওয়ায় তারা একই ধরনের আয়ন তৈরি করে এবং একই ধরনের যোজ্যতা প্রদর্শন করে।

উদাহরণ:
- গ্রুপ-১ (ক্ষার ধাতু): Li, Na, K → সবার বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন = 1 → সবার যৌবসায়নিক ধর্ম প্রায় এক।
- গ্রুপ-১৭ (হ্যালোজেন): F, Cl, Br → সবার বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন = 7 → সহজেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে লবণ তৈরি করে।

অপশন আলোচনা: 
- সমান শক্তি: শক্তিস্তরের সংখ্যা গ্রুপে নেমে আসার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। তাই এটি সঠিক নয়।
- সমান ইলেক্ট্রন সংখ্যা: মোট ইলেকট্রন সংখ্যা মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার ওপর নির্ভর করে; গ্রুপে ভিন্ন হয়।
- সমান আয়নিক ব্যাসার্ধ: গ্রুপে নিচের দিকে গেলে আয়নিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়; একই নয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,৪৯৭.
রঙিন টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রংগুলো হলো-
  1. সবুজ, বেগুনী, লাল
  2. লাল, সবুজ, নীল
  3. নীল, কমলা, লাল
  4. লাল, নীল, হলুদ
সঠিক উত্তর:
লাল, সবুজ, নীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল, সবুজ, নীল
ব্যাখ্যা

• রঙিন টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রং হলো লাল, সবুজ এবং নীল। এগুলোকে সাধারণত RGB (Red, Green, Blue) রঙ বলা হয়। টেলিভিশনের স্ক্রিনে এই তিনটি রঙ বিভিন্ন মাত্রায় মিলিয়ে নানা রঙ তৈরি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, লাল ও সবুজ একসাথে মিলে হলুদ রঙ তৈরি করে, সবুজ ও নীল মিলে সায়ান, আর লাল ও নীল মিলে মজেন্টা। এই প্রক্রিয়াকে অ্যাডিটিভ কালার মিক্সিং বলা হয়। তাই, রঙিন টেলিভিশন বা কম্পিউটার মনিটরে হাজার হাজার ভিন্ন রঙ প্রদর্শনের জন্য মূলত এই তিনটি রঙ ব্যবহার করা হয়। এটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানুষের চোখ মূলত এই তিনটি রঙের আলোকে সনাক্ত করতে পারে।

টেলিভিশন:

- টেলিভিশন শব্দের অর্থ দূরদর্শন।
- ১৯২৬ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী লজি বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের।
- এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র।
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৯৮.
বেনজিনের স্থূল সংকেত কোনটি?
  1. C2H6
  2. CH
  3. C6H6
  4. CH3
সঠিক উত্তর:
CH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH
ব্যাখ্যা
- বেনজিনের স্থূল সংকেত হলো- CH

স্থূল সংকেত (Empirical formula): 
- যে সরলতম সংকেত দ্বারা কোন যৌগের অণুস্থিত বিভিন্ন উপাদান মৌলের পরমাণু সংখ্যার সরল অনুপাত জানা যায় কিন্তু পরমাণুসমূহের সঠিক সংখ্যা জানা যায় না তাকে ঐ যৌগের স্থূল সংকেত বলে। 
- কতিপয় যৌগের আণবিক সংকেত ও স্থূল সংকেত দেখানো হলো: 


স্থূল সংকেত নির্ণয়ের নিয়ম: 
১। প্রথমে যৌগের উপাদান মৌলসমূহের প্রত্যেকের শতকরা পরিমাণ বের করে এদের একত্রে যোগ করতে হবে। যোগফল 100 এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হলে অবশিষ্ট অংশটুকু কার্বন বা অক্সিজেনের শতকরা পরিমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। 
২। প্রতিটি মৌলের শতকরা পরিমাণকে স্ব স্ব পারমাণবিক ভর দ্বারা ভাগ করে মৌলসমূহের আপেক্ষিক সংখ্যা গণনা করতে হবে। 
৩। প্রাপ্ত আপেক্ষিক সংখ্যাগুলোকে ক্ষুদ্রতম আপেক্ষিক সংখ্যা দ্বারা ভাগ করে মৌলের সর্বনিম্ন আনুপাতিক সংখ্যা বের করতে হবে। 
৪। সাধারণত নিকটবর্তী পূর্ণ সংখ্যা মূলত পারমাণবিক অনুপাত। তবে পূর্ণ সংখ্যা না পাওয়া গেলে প্রাপ্ত সকল সংখ্যাকে 2, 3. 4 ইত্যাদি সংখ্যা দ্বারা গুণ করে পূর্ণ সংখ্যায় পরিণত করতে হবে। 
৫। পরিশেষে এভাবে প্রাপ্ত পূর্ণ সংখ্যাগুলোকে স্ব স্ব মৌলের প্রতীকের ডান পার্শ্বে সামান্য নিচে লিখে যৌগটির স্থূল সংকেত পাওয়া যাবে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৯.
২টি আধানের মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান কয়টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ১টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

২টি আধানের মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
- আধান দুটির পরিমাণের উপর
- আধান দুটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর
- আধান দুটি যে মাধ্মে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর। 
[উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড বই, স্থির তড়িৎ, পৃষ্ঠা নং - ৪]

২,৫০০.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর কোন ঘটনাটি ঘটে? 
  1. বিচ্ছুরণ 
  2. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
  3. প্রতিসরণ 
  4. অপবর্তন 
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর 'পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন' ঘটে। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু। 
- এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত।  
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত।
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।