বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৪ / ৬৪ · ২,৩০১২,৪০০ / ৬,৪০৯

২,৩০১.
একই আণবিক সংকেত থাকলেও গাঠনিক সংকেত ভিন্ন এমন যৌগগুলি একে অপরের —
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোমার
ব্যাখ্যা
• আইসোমার:
- আণবিক সংকেত এক কিন্তু গাঠনিক সংকেত ভিন্ন এমন যৌগদ্বয়কে পরস্পরের আইসোমার বলা হয়।
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই, কিন্তু শক্তি অবস্থা ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।
- প্রোটন + নিউট্রন =  ভরসংখ্যা, তাই , 'পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই' এই ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যাও সমান হবে। 

অপশন আলোচনা:
• আইসোবার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।
-  প্রোটন + নিউট্রন =  ভরসংখ্যা, তাই 'ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ' এই ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যাও ভিন্ন হবে। 

• আইসোটোন:
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোটোপ:
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- এইসব ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩০২.
পৃথিবী ও অন্য যেকোনো বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে কী বলে?
  1. অভিকর্ষ 
  2. মধ্যাকর্ষণ
  3. গতি
  4. ক +খ
সঠিক উত্তর:
ক +খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক +খ
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ (Gravitation & Gravity):
- এই মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- মহাবিশ্বের যে কোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে তাকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।
- অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
- অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
- মাধ্যাকর্ষণ বল বা অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না।
- পৃথিবীর কেন্দ্রীয় আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩০৩.
'স্ফুটনাঙ্ক' এর সাহায্যে কোন পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) তরল
  2. খ) গ্যাসীয়
  3. গ) কঠিন
  4. ঘ) প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
ক) তরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তরল
ব্যাখ্যা
- স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।
- গলনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - রসায়ন বোর্ড বই।
২,৩০৪.
পরমশূন্য তাপমাত্রার মান কোনটি?
  1. -২৭৩° সেলসিয়াস
  2. -৪৯৫.৪° ফারেনহাইট
  3. ০ কেলভিন
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
স্থির চাপে একটি নির্দিষ্ট ভরের আদর্শ গ্যাসের তাপমাত্রা ক্রমাগত কমাতে থাকলে যে তাপমাত্রায় পৌছালে তার আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলা হয়।
পরমশূন্য তাপমাত্রার মান -২৭৩° সেলসিয়াস, -৪৯৫.৪° ফারেনহাইট বা ০ কেলভিন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৩০৫.
পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) গলনাঙ্ক 
  2. খ) স্ফুটনাঙ্ক
  3. গ) ঘনীভবন
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংক এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না।

একইভাবে তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।

প্রশ্নে যেহেতু তরল বা কঠিন উল্লেখ করে বলা হয় নি তাই সঠিক উত্তর হিসেবে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক দুইটিই গ্রহণ করতে হবে।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - রসায়ন বোর্ড বই।
২,৩০৬.
ফোটন কণার শক্তি কোন সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. E = mc2
  2. P = mv 
  3. F = ma
  4. E = hf
সঠিক উত্তর:
E = hf
উত্তর
সঠিক উত্তর:
E = hf
ব্যাখ্যা

- ফোটন কণার শক্তি E = hf সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। 

ফোটন কণা: 

- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩০৭.
ক্রায়োলাইট কোন ধাতুর আকরিক?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধাতুর আকরিক:
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
- লেড এর আকরিক-গ্যালেনা (PbS)
- পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩০৮.
কোনো পরিবাহীর রোধ নির্ভর করে তার-
  1. উপাদানের উপর
  2. তাপমাত্রার উপর
  3. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩০৯.
মুদ্রা ধাতু নিচের কোনটি?
  1. Cu
  2. Ca
  3. Na
  4. Mg
সঠিক উত্তর:
Cu
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cu
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১০.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? 
  1. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
  2. সিলভার ক্লোরাইড
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ((NH4)NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩১১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. P ∝ T
  2. V ∝ T
  3. PV = K
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) উপরের সবগুলো

• চার্লসের সূত্র:

- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
গাণিতিকভাবে, V ∝ T.

• বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, PV = K.

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

২,৩১২.
যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের -
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number):
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩১৩.
কোনো মৌলের ধর্ম মৌলের কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. ভর সংখ্যা
  2. প্রকৃত ভর সংখ্যা
  3. প্রকৃত আধান সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি পরমাণুর স্থায়ী কণিকা। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম (Fundamental property)। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১৪.
টিয়ার শেলে প্রাথমিকভাবে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. CS
  2. CO2
  3. O2
  4. NO2
সঠিক উত্তর:
CS
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CS
ব্যাখ্যা
• টিয়ারশেল:
- টিয়ারশেলে ব্যবহৃত গ্যাস হলো টিয়ার গ্যাস, যা সাধারণত মানবিক চোখ, নাক, এবং গলার উপর প্রভাব ফেলে।
- এটি সাধারণত ব্যবহৃত হয় প্রতিবাদ বা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
- টিয়ার শেলে প্রাথমিকভাবে CS গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

• টিয়ার গ্যাসের প্রধান উপাদানগুলো হলো:
- ক্রোমোয়েকটিক এসিড (CS গ্যাস): এটি সবচেয়ে সাধারণভাবে ব্যবহৃত টিয়ার গ্যাস। এটি চোখে জ্বালাপোড়া, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে।
- রাইসিন (CN গ্যাস): এটি পুরনো ধরনের টিয়ার গ্যাস এবং আধুনিক ব্যবহার কম।
- ব্রোমো আ্যাসেটিক এসিড (CA গ্যাস): এটি কম ব্যবহৃত, কিন্তু এর প্রভাবও তীব্র।

- এগুলোর প্রতিটি গ্যাসের প্রভাব আলাদা হতে পারে, তবে সাধারণভাবে, টিয়ার গ্যাসের উপসর্গগুলো হলো চোখে অস্বস্তি, কাশি, এবং শ্বাসকষ্ট।
- যদিও এটি একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, টিয়ার গ্যাসের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সূত্র: National Library of Medicine [লিংক]
২,৩১৫.
সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সিদা
  4. ব্রোঞ্জ
সঠিক উত্তর:
তামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে তামা

পরিবাহী: 

- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের। 
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত
২,৩১৬.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না? 
  1. খনিজ তেল 
  2. সৌর শক্তি 
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়োগ্যাস 
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল 
ব্যাখ্যা

- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না, কারণ এটি অনবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩১৭.
কোনটি ভিনেগারের মূল উপাদান? 
  1. লবণ 
  2. ইথানল 
  3. ইথানয়িক এসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড 
ব্যাখ্যা

সিরকা বা ভিনেগার: 
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
- 25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 
• CH3CH2OH + O2 → CH3COOH + H2

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন, H+ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩১৮.
নক্ষত্র ও সূর্যের পরিমণ্ডলে কোনটির উপস্থিতি জানা যায়?
  1. ক) বায়বীয় পদার্থের
  2. খ) তরল পদার্থের
  3. গ) প্লাজমার
  4. ঘ) কঠিন পদার্থের
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাজমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাজমার
ব্যাখ্যা
প্লাজমা (plasma):
- অত্যধিক উচ্চ তাপমাত্রায় যেমন 104 – 105 K (কেলভিন) তাপমাত্রায় কোন কোন পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থার পর তাদের পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ত্যাগ করে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
- গ্যাসীয় অবস্থার পর ধনাত্মক আয়ন ও ইলেকট্রনের পাশাপাশি সঞ্চরণশীল ও বিদ্যুৎ নিরপেক্ষরূপে থাকার পদার্থের এরূপ অবস্থাকে প্লাজমা অবস্থা বলে।
- নিউক্লিয়ার ফিউশান (fusion) গবেষণার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন নক্ষত্র ও সূর্যের পরিমণ্ডলে প্লাজমার উপস্থিতি জানা যায়। 
- সূর্যের তাপমাত্রা প্রায় এক কোটি কেলভিন, 107 K।
- হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ফিউশান প্রক্রিয়ায় এ তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,৩১৯.
কোনটি জারক পদার্থ নয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) ফ্লোরিন
  4. ঘ) আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
• জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
- জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
- যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

• জারক মনে রাখার উপায়:-
সকল পারঅক্সাইড,অক্সি এসিড,ক্যাটায়ন,ইক্ লবণ,আক্সিজেন, ওযোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল জারক। FeSO4 বাদে অক্সিজেনেরর প্রাচুর্য আছে এমন সকল যৌগ জারক।

• বিজারক মনে রাখার উপায় :-
সকল আস্ লবণ,ধাতু,C ও CO ও হাইড্রোজেন বিজারক।

তাছাড়া H2O2, SO2, O3 তিনটি পদার্থে জারক, বিজারক দুইটা ধর্মই আছে।
২,৩২০.
নিচের কোনটি প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ?
  1. ক) লেকল্যান্স কোষ
  2. খ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
  3. গ) লেড সঞ্চয়ী কোষ
  4. ঘ) এসিড স্টোরেজ কোষ
সঠিক উত্তর:
ক) লেকল্যান্স কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লেকল্যান্স কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩২১.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া একটি-
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. যুগপৎ বিক্রিয়া
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া Cl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

- এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২,৩২২.
সিলিকনের সাথে কোন পদার্থ যোগ করলে তা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়?
  1. গ্যালিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. বোরন
  4. এলুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ডোপিং:
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

• P- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম

• n-টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩২৩.
নিচের কোনটি দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়?
  1. তাপ
  2. তড়িৎ ক্ষেত্র
  3. চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

◉ তেজস্ক্রিয়তা মূলত একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া, যা মৌলিক কণার অবক্ষয়ের মাধ্যমে ঘটে এবং এটি বাইরের পরিবেশগত পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

তেজস্ক্রিয়তা:
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা-
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়-
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪ । তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩২৪.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমান বেশি? 
  1. ক) পুকুর 
  2. খ) নদী 
  3. গ) সমুদ্র 
  4. ঘ) লেকের 
সঠিক উত্তর:
খ) নদী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নদী 
ব্যাখ্যা
১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন। অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক।

জলজ প্রাণির জীবন ধারণের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় অক্সিজেনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা বেড়ে গেলে পানিতে অক্সিজেনের কমে যায় । এজন্য সাগরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাদু পানি ( যেমন- নদী লেকের পানি) অপেক্ষা কম হয়।
প্রবহমান পানিতে (যেমন- ঝর্ণা, নদীতে) আবদ্ধ জলাশ পুকুর, হ্রস) অপেক্ষা অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকে।
২,৩২৫.
pH স্কেলে pH এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Preference of hydrogen
  2. Petroleum of hydrogen
  3. Potenz of hydrogen
  4. Permanent of hydrogen
সঠিক উত্তর:
Potenz of hydrogen
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Potenz of hydrogen
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+


- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩২৬.
কোনটি ক্ষার ধাতু?
  1. লিথিয়াম 
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. বেরিলিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩২৭.
অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  2. সিলভার কার্বনেট
  3. সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. ক্যালসিয়াম সালফেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম নাইট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩২৮.
নিচের কোনটি ইলেকট্রনের সঠিক শক্তির ক্রম? 
  1. 3s < 2p < 4s
  2. 2p < 1s < 3s
  3. 1s < 2s < 2p
  4. 4s < 2p < 3d
সঠিক উত্তর:
1s < 2s < 2p
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1s < 2s < 2p
ব্যাখ্যা
পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতি: 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের তিনটি নীতি আছে। 
যেমন- ১) পাওলির বর্জন নীতি, ২) আউফ-বাউ নীতি এবং ৩) হুন্ডস এর সূত্র। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন প্রথমে সর্বনিম্ন শক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে এবং পরে ক্রমান্বয়ে উচ্চশক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে। 
অর্থাৎ, যে অরবিটালের শক্তি কম সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে এবং যে অরবিটালের শক্তি বেশি সেই অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- অরবিটালের মধ্যে কোনোটির শক্তি কম আর কোনোটির শক্তি বেশি তা অরবিটাল দুটির প্রধান শক্তিস্তরের মান (n) এবং উপশক্তিস্তরের মান (l) এর যোগফলের উপর নির্ভর করে। 
- যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে (n + l) এর মান যে অরবিটালের বেশি তার শক্তিও বেশি এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d অরবিটালের জন্য n = 3 এবং l = 2, অতএব n + l এর মান 3 + 2 = 5; আবার 4s অরবিটালের জন্য n = 4 এবং l = 0, অতএব n + l এর মান 4 + 0 = 4. কাজেই 3d অরবিটালের চেয়ে 4s অরবিটাল কম শক্তিসম্পন্ন। তাই ইলেকট্রন প্রথমে 4s অরবিটালে এবং পরে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে। 

- আবার, দুটি অরবিটালের (n + l) এর মান যদি সমান হয় তাহলে যে অরবিটালটিতে n এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম হবে এবং সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d ও 4p এর n + l এর মান যথাক্রমে 3 + 2 = 5 এবং 4 + 1 = 5 কিন্তু যেহেতু 3d অরবিটালে n এর মান কম, তাই এ অরবিটালের শক্তি কম এবং এ অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে 4p অরবিটালে n এর মান বেশি হওয়ায় এর শক্তি 3d এর চেয়ে বেশি। তাই এ অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- এ হিসাব অনুযায়ী পরমাণুর অরবিটালের ক্রমবর্ধমান শক্তি হবে: 1s < 2s < 2p < 3s < 3p < 4s < 3d < 4p < 5s < 4d < 5p < 6s < 4f < 5d < 6p < 7s < 5f < 6d < 7p < 8s. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩২৯.
কেলাসিত পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. তামা
  2. মাইকা
  3. কোয়ার্টজ
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে।
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে।
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন।
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত।
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়।

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রাবার, সালফার ইত্যাদি।  

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩০.
কোন প্রক্রিয়াতে ভারী পরমাণুর বিভাজন ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করা যায়?
  1. তাপ বিক্রিয়া
  2. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  3.  নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4.  নিউক্লিয়ার ফিশন
সঠিক উত্তর:
 নিউক্লিয়ার ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 নিউক্লিয়ার ফিশন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুইটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। 
যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খণ্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। 
- প্রকৃতি এই শক্তি ব্যবহার করছে। 
- সূর্যে এই বিক্রিয়াটি স্বচ্ছন্দে ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৩১.
দেহের হাড় বৃদ্ধিজনিত চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. Isotope of Plutonium
  2. Isotope of Phosphorus
  3. Isotope of Technetium
  4. Isotope of Iodine
সঠিক উত্তর:
Isotope of Technetium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Isotope of Technetium
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার : চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। যেমন,
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়

i. শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
ii. থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131I ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে
iii. শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা(blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
iv. দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 99m Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়
v. প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।
 
উৎস: রসায়ন ১ম পত্র , এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩২.
এর ইলেকট্রন সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১৩ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১০ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা
পরমাণুর গঠন: 
- পরমানুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে কিছু বৃত্তাকার কক্ষপথ থাকে।

পরমাণুর কণিকা:
- পরমাণুর স্থায়ী কণিকা তিনটি। 
i) ইলেকট্রন
ii) প্রোটন
iii) নিউট্রন
- প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসের ভিতর অবস্থান করে।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরে।

পারমানবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা: 
- পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যাই পারমানবিক সংখ্যা।
- নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিই ভর সংখ্যা।
- পরমাণুর প্রতীকের বাম পাশে উপরে ভর সংখ্যা এবং নিচে পারমানবিক সংখ্যা লিখে প্রকাশ করা হয়।

মৌল ও আয়ন: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে তাদেরকে মৌল বলে।
- আয়নে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে না।
- যদি ইলেকট্রন সংখ্যার ঘাটতি ঘটে তাহলে ধনাত্মক আয়নে রূপান্তরিত হয়।
- ইলেকট্রন সংখ্যা বেশি হলে ঋণাত্মক হয়।

প্রদত্ত আয়নের ক্ষেত্রে,
পারমানবিক সংখ্যা = ১১
ভর সংখ্যা = ২৩
আধান = + 
অর্থাৎ আয়নে ইলেকট্রন সংখ্যা ঘাটতি। একটি ধনাত্মক চিহ্ন অর্থাৎ একটি ইলেকট্রন কম।
∴ উক্ত আয়নে ইলেকট্রনের সংখ্যা = ১১ - ১ = ১০ টি।

উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই।
২,৩৩৩.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে তাকে কী বলে?
  1. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  2. স্টিম বিন্দু
  3. পানির ত্রৈধ বিন্দু
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩৪.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. ইরিডিয়াম
  2. আয়োডিন
  3. ফসফরাস
  4. বেকেরেল
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
২,৩৩৫.
যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, ভরবেগের পরিবর্তনের মান কত হবে?
  1. অসীম
  2. ধ্রুব
  3. শূন্য
  4. উপরের যে কোনোটি হতে পারে 
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

• যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সিস্টেমটি নিউটনের দ্বিতীয় আইন অনুসারে অভ্যন্তরীণ বলের মাধ্যমে ভরবেগের পরিবর্তন করতে পারে না। ভরবেগের পরিবর্তন একটি বস্তুতে বাহ্যিক বলের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে, এবং বাহ্যিক বল শূন্য হলে ভরবেগের মান অপরিবর্তিত থাকে। তাই কোনো বাহ্যিক বল না থাকলে ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) শূন্য। এটি লিনিয়ার মোমেন্টাম সংরক্ষণ নীতির সরাসরি ফল।

• ভরবেগের পরিবর্তন (Change in Momentum):
- ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর ভরের সাথে তার গতিবেগের গুণফল।
- ভরবেগের পরিবর্তন ঘটে তখন, যখন কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হয়।
- যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, বস্তুর ভরবেগ অপরিবর্তিত থাকে।
- এর মানে হলো ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হলে ভরবেগ বাড়তে বা কমতে পারে, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে কোন বাহ্যিক বল প্রয়োগ নেই।  

• ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর অমর গ্রন্থ "ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা" তে বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতি সূত্র নামে পরিচিত। 

নিউটনের সূত্র তিনটি। যথা:

প্রথম সূত্র:
- বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।

দ্বিতীয় সূত্র:
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।

তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।  

২,৩৩৬.
উদ্বায়ী পদার্থ নয় নিম্নের কোনটি?
  1. নিশাদল
  2. অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  3. আয়োডিন
  4. গ্লিসারিন
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

- গ্লিসারিন একটি অ-উদ্বায়ী (non-volatile) পদার্থ। এর স্ফুটনাঙ্ক বেশি এবং বাষ্পের চাপ কম, তাই এটি সহজেই গ্যাসের আকারে বাষ্পীভূত হয় না। গ্লিসারিন হচ্ছে সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। 

উদ্বায়ী পদার্থ: 

- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে এগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই উল্লিখিত পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৩৭.
রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ -
  1. এটি হালকা ও দামে সস্তা
  2. এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
  3. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
  4. এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
সঠিক উত্তর:
এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
ব্যাখ্যা
- রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়।
- এর প্রধান কারণ হলো এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়।
- এলুমিনিয়াম হালকা এবং দামে সস্তা হলেও, এর তাপ পরিবাহিতা খুব ভালো হওয়ায় এটি রান্নার পাত্র হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- এটি তাপকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয় এবং খাদ্য দ্রব্য দ্রুত সিদ্ধ করতে সহায়তা করে।
- এলুমিনিয়াম তাপ সুপরিবাহী পদার্থ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
২,৩৩৮.
এসিড বৃষ্টি হয় বাতাসে -
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
  2. খ) সালফার ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
  3. গ) নাট্রাস অক্সাইড এর আধিক্যে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়েই ঠিক
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
ব্যাখ্যা
কোন ভাবেই কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনো অক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারন নয়।
যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না।
এসিড বৃষ্টির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্য থেকে থাকে। আর এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারন মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইড সমূহ (NO, NO2); এবং এই গ্যাস গুলো দ্বারা সৃষ্ট শক্তিশালী সালফিউরিক এসিড (H2SO4 এবং নাইট্রিক এসিড (HNO3)।
আশা করি এসিড বৃষ্টি নিয়ে আর কোন কনফিউশন নেই।
ধন্যবাদ।
তথ্য সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, হাজারী এবং নাগ।
২,৩৩৯.
একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা-
  1. ক) শূন্য
  2. খ) কম
  3. গ) বেশি
  4. ঘ) একই
সঠিক উত্তর:
ঘ) একই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) একই
ব্যাখ্যা
- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
- যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। যেমন: ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরনের কোষ।
অর্থাৎ যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে।
- একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩৪০.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত?
  1. ক) 0 km/s
  2. খ) 3 × 108 km/s
  3. গ) 3 × 105 km/s
  4. ঘ) 332 km/s
সঠিক উত্তর:
গ) 3 × 105 km/s
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 3 × 105 km/s
ব্যাখ্যা
আলোক:  
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায়  3 × 108 m/s বা 3 × 105 km/s.
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩৪১.
ইলেকট্রনের ভর কত?
  1. 9.11 × 10-28
  2. 1.67 × 10-24 g
  3. -1.6 × 10-19 C
  4. -9.11 × 10-28
সঠিক উত্তর:
9.11 × 10-28
উত্তর
সঠিক উত্তর:
9.11 × 10-28
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) 9.11 × 10⁻²⁸ g 

ইলেকট্রন

- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা।
- এটি সব মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান।
- ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত সামান্য।
- ইলেকট্রনের সংকেত হলো e।
- ইলেকট্রনের প্রকৃত ভর ৯.১১০×১০-২৮ গ্রাম এবং প্রকৃত আধান - ১.৬০×১০-১৯ কুলম্ব।
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান হলো - ১।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন হলো একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৪২.
যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার-
  1. প্রতিসরণ তত কম
  2. বিচ্যুতি তত কম
  3. বিক্ষেপণ তত কম
  4. সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৩.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন?
  1. ক) রোমার
  2. খ) গ্যালিলীও
  3. গ) কেপলার
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
ক) রোমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রোমার
ব্যাখ্যা
১৬৭৫ সালে ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ রোমার সর্বপ্রথম পরীক্ষার সাহায্যে আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন এবং প্রমাণ করেন যে, আলোর দ্রুতি অসীম নয়। আলোর নির্দিষ্ট দ্রুতি আছে।
পরবর্তীকালে আরো অনেক বিজ্ঞানী আলোর দ্রুতি নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
রোমার নভো পদ্ধতিতে আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন। 

উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৪.
ক্যালরিমিতির মূলনীতি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. ভরের সংরক্ষণ
  2. শক্তির সংরক্ষণ
  3. তাপমাত্রার সংরক্ষণ
  4. আয়তনের সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
শক্তির সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি শক্তির সংরক্ষণ নীতির উপর ভিত্তি করে, যেখানে তাপ আদান–প্রদানের সময় শক্তি নষ্ট হয় না, কেবল এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয়।

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি (Fundamental Principles of Calorimetry):
- শীতকালে গোসলের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গরম পানির সঙ্গে ঠান্ডা পানি মেশালে কিছু সময় পর উভয় পানি একই তাপমাত্রায় পৌঁছে যায়।
- গরম পানি ঠান্ডা পানিকে তাপ প্রদান করে, ফলে গরম পানির তাপমাত্রা কমে এবং ঠান্ডা পানির তাপমাত্রা বাড়ে।
- এই তাপ আদান–প্রদানের ফলে একটি সমতাবস্থার তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
- এই ঘটনাই ক্যালোরিমিতির মূল ধারণার ভিত্তি।
 
• ক্যালরিমিতির মূলনীতি:
- তাপ আদান–প্রদানের সময় একটি বন্ধ সিস্টেমে—
- উষ্ণ বস্তুর ত্যাগকৃত তাপ = শীতল বস্তুর গৃহীত তাপ।
 
• মূল শর্তসমূহ:
- বেশি তাপমাত্রার বস্তু কম তাপমাত্রার বস্তুকে তাপ দিতে পারে, কিন্তু উল্টোটি সম্ভব নয়।
- উষ্ণ বস্তু যতটুকু তাপ ত্যাগ করে, শীতল বস্তু ঠিক ততটুকু তাপ গ্রহণ করে।
- এই প্রক্রিয়ায় সিস্টেমের বাইরে কোনো তাপ ক্ষয় বা গ্রহণ হয় না বলে ধরা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

• Other Options:
ক) ভরের সংরক্ষণ
→ এটি ভরের পরিবর্তন সম্পর্কিত।

গ) তাপমাত্রার সংরক্ষণ
→ তাপমাত্রা সংরক্ষিত থাকে না; বরং পরিবর্তিত হয়ে সমতাবস্থায় পৌঁছে।

ঘ) আয়তনের সংরক্ষণ
→ এটি জ্যামিতিক ধারণা।

২,৩৪৫.
বাংলাদেশে উৎপাদিত রাসায়নিক সার এর কাঁচামাল-
  1. ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) LNG
  3. গ) বিটুমিনাস কয়লা
  4. ঘ) খনিজ তেল
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন ব্যবহার করা হয় শতকরা ২১ ভাগ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৩৪৬.
হীরক সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. হীরক কার্বনের একটি রূপ।
  2. আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।
  3. হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
  4. হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
সঠিক উত্তর:
হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
ব্যাখ্যা
• হীরক:
- হীরক কার্বনের একটি রূপ।  
- আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।  
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
- হীরক বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, স্ফটিকাকার পদার্থ।
- হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২,৩৪৭.
ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ যে ধাতুর উপর প্রলেপ দেওয়া হয়, তা যুক্ত থাকে- 
  1. গ্রাউন্ড লাইনে
  2. কেবল ব্যাটারির মধ্যে
  3. ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
  4. ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৪৮.
ক্ষারক এর ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড।
  2. সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়।
  3. সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।
  4. ক্ষার হলো বিশেষ ধরনে ক্ষারক।
সঠিক উত্তর:
সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়।
ব্যাখ্যা
ক্ষারক:

- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- সুতরাং সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

তথ্যসূত্র - সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৩৪৯.
কোনটির সাহায্যে কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়? 
  1. কাজ 
  2. চাপ 
  3. ক্ষমতা 
  4. কর্মদক্ষতা 
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা 
ব্যাখ্যা

কর্মদক্ষতা: 
- কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়।
সুতরাং, কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা
= {(E1 - E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৫০.
১ মেগাওয়াট সমান কত ওয়াট? 
  1. ১০ ওয়াট
  2. ১০ ওয়াট
  3. ১০ ওয়াট
  4. ১০ ওয়াট
সঠিক উত্তর:
১০ ওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ওয়াট
ব্যাখ্যা

কিলোওয়াট: 
- কোনো রোধ বা তড়িৎ যন্ত্রের দুই পাশের বিভব পার্থক্য এক ভোল্ট হলে যদি এর মধ্য দিয়ে এক অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা এক ওয়াট। 
• এক ওয়াট = ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার 
- যখন অনেক বেশি তড়িৎ ক্ষমতা ব্যবহৃত হয় তখন সেটাকে কিলোওয়াট বা মেগাওয়াটে প্রকাশ করা সুবিধাজনক। 
• ১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট বা ১০ ওয়াট। 
১ মেগা ওয়াট = ১০ ওয়াট। 

কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন- বাতি জ্বললে আলোক শক্তি বা পাখা ঘোরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
• ১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষপে ইউনিট বলে। 
- বিদ্যুৎ বিল কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককেই হিসাব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৫১.
নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় কোনটি মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  3. গ) ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  4. ঘ) ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
মডারেটর (Moderator)
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হল:
(ক) ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং
(খ) গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫২.
তড়িৎ প্রলেপনে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) দ্রব
  2. খ) ক্যাথোড
  3. গ) অ্যানোড
  4. ঘ) তড়িৎ বিশ্লেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যানোড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যানোড
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন
- তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সুবিধামতো কোনো ধাতুর উপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বলে।
- সাধারণত কোনো ধাতু যেমন: তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি জিনিসকে মরিচা থেকে রক্ষা করার এবং সুন্দর দেখানোর জন্য এদের উপর কখনো সোনা, রূপা, নিকেল ইত্যাদি মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেয়া হয়।
- যে বস্তুটির ওপর প্রলেপ দিতে হবে সে বস্তুটিকে খুব ভালোভাবে ধুঁয়ে একটি ভোল্টমিটারের ক্যাথোড এবং যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়। 
- প্রলেপ দিতে হবে এমন ধাতুর কোনো লবণের দ্রবণ তড়িৎ দ্রব হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এখন ভোল্টমিটারের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোড রাখা বস্তুটির ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫৩.
অক্সিজেন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. বিজারক
  2. জারণ
  3. জারক
  4. ধনাত্মক
সঠিক উত্তর:
জারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারক
ব্যাখ্যা

• যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে। আর ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
• যেমন- সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

• আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে। আর ইলেক্ট্রন গ্রহনের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
• যেমন- অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৫৪.
Which of the following minerals is found at Jamalganj in Joypurhat district?
  1. Coal
  2. White Clayy
  3. Lime stone
  4. Hard rock
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
Coal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Coal
ব্যাখ্যা
কয়লাক্ষেত্র: 
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।  
- এটিতে কয়লার আনুমানিক মজুদের পরিমাণ ১০৫৪ মেট্রিক টন। 
- গভীরতা: ৬৪০-১১৫৮ মিটার। 
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি। 
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে। 

দেশের কয়লা খনিসমূহ: 
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫। 
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫। 
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯। 
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭। 
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২। 

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
২,৩৫৫.
১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘণ্টা চললে কত শক্তি ব্যয় হয়?
  1. ১০০ জুল
  2. ৬০ জুল
  3. ৬০০০ জুল
  4. ৩৬০০০০ জুল
সঠিক উত্তর:
৩৬০০০০ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬০০০০ জুল
ব্যাখ্যা
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনাে তড়িৎ যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন বাতি জ্বললে আলােক শক্তি বা পাখা ঘুরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ ঘণ্টা
অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলােওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়।

এক কিলােওয়াট ঘণ্টা কতটুকু শক্তি সেটাও বের করা যায়।
১ কিলােওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ জুল
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল।

অর্থাৎ,
১০০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘণ্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = ৩,৬০,০০০০ জুল
∴ ১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘণ্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = (৩,৬০,০০০০ × ১০০)/১০০০ জুল
= ৩৬০,০০০ জুল 

আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলােওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বাের্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলে। আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশােধ করি তা এই এককেই হিসাব করা হয়।

উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই।
২,৩৫৬.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ডায়নামো
  4. ভোল্ট মিটার
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
ব্যাখ্যা

• ডায়নামো যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
- যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্রকে ডায়নামো বলা হয়। ডায়নামো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা চৌম্বকীয় প্রভাবে কাজ করে। এর মূল অংশ হলো একটি রোটর বা ঘূর্ণনশীল কুণ্ডলী, যা হাত, ইঞ্জিন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক উৎস দ্বারা ঘূর্ণিত করা হয়। যখন কুণ্ডলী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘোরে, তখন চৌম্বকীয় প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এইভাবে যান্ত্রিক শক্তি সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক মোটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফর্মার এবং ভোল্টমিটার শক্তি রূপান্তরের জন্য নয়, বরং বিদ্যুৎ প্রয়োগ ও পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) ডায়নামো।

• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় তাকে জেনারেটর বা ডায়নামো বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।
- ডায়নামো দু-প্রকার। যথা:
১. পরিবর্তী প্রবাহ ডায়নামো বা এ.সি. ডায়নামো এবং
২. একমূখী প্রবাহ ডায়নামো বা ডি. সি. ডায়নামো।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

• ভোল্ট মিটার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয় তাকে ভোল্টমিটার বলে।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৩৫৭.
নিচের কোনটি মৃদু ক্ষার?
  1. ক) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) দান করে।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়।
- যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

মৃদু ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়। তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়।
- যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (ii) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (iii) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (iii) হাইড্রোক্সাইড Al(OH), ইত্যাদি। ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫৮.
নিম্নের কোন মৌলটি ডোপিং এর জন্য ব্যবহৃত হয় ?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) লিথিয়াম
  3. গ) আর্সেনিক
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) আর্সেনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আর্সেনিক
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫৯.
বৈদ্যুতিক শক্তি কোন যন্ত্রে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. এলইডি
  2. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  3. টিউবলাইট 
  4. বৈদ্যুতিক পাখা 
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা 
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে তার ভেতরে থাকা মোটরের সাহায্যে ঘোরে। এই ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মূলত বৈদ্যুতিক মোটরই হলো সেই যন্ত্র যা এই রূপান্তরটি ঘটায়। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। (যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৬০.
কত সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে মডেল প্রদান করেন?
  1. ক) ১৯০৮ সাল
  2. খ) ১৯১১ সাল
  3. গ) ১৯১৮ সাল
  4. ঘ) ১৯২১ সাল
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯১১ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯১১ সাল
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল:

- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সোলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে।
- এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়।
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৬১.
পাকা কমলায় কোন ধরনের এস্টার থাকে?
  1. মিথাইল বিউটারেট
  2. অ্যামাইল অ্যাসিটেড
  3. ইথাইল বিউটারেট
  4. অকটাইল অ্যাসিটেড
সঠিক উত্তর:
অকটাইল অ্যাসিটেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকটাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা
- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।
২,৩৬২.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড কোনটি? 
  1. অলিয়িক এসিড
  2. অক্সালিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. লিনোলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,৩৬৩.
নিচের কোন গ্যাসের Breakdown strength (at atmospheric pressure) সবচেয়ে বেশি?
  1. Air
  2. SF6
  3. Nitrogen
  4. Oxygen
সঠিক উত্তর:
SF6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SF6
ব্যাখ্যা
SF6 গ্যাসের Breakdown strength (at atmospheric pressure) সবচেয়ে বেশি

এর বৈশিষ্ট্য: 
- Insulation
- Arc Quenching
- Dielectric Properties
- Chemical Stability
২,৩৬৪.
পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথর বা ইটের যে আকর্ষণ তাকে বলা হয় -
  1. মহাকর্ষ বল
  2. স্থিতিস্থাপকতা
  3. পীড়ন
  4. অভিকর্ষ বল
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা এক টুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩৬৫.
একটি 6- pole ল্যাপ- উন্ড জেনারেটর -এ 300 কন্ডাক্টর আছে। প্রতি কন্ডাক্টরে 5V emf Induced হয়। জেনারেটরে জেনারেটেড ভোল্টেজ হবে- 
  1. 60 v
  2. 1500 v
  3. 360 v
  4. 250 v
সঠিক উত্তর:
250 v
উত্তর
সঠিক উত্তর:
250 v
ব্যাখ্যা
দেয়া আছে, 
number of poles (P) = 6
Number of conductors (Z) = 300
Emf induced per conductor = 5 V
Number of conductors per parallel path = Z/A = Z/P = 300/6 = 50

∴ Total emf = 50 × 5 = 250 V
২,৩৬৬.
নিচের কোন ধাতুটির পারমানবিক ভর পানি অপেক্ষা কম?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পানি (H₂O) এর পারমাণবিক ভর ১৮ (1 পরমাণু হাইড্রোজেন = 1, 1 পরমাণু অক্সিজেন = 16)।
- অ্যালুমিনিয়াম (Al): পারমাণবিক ভর = 27।
- সোডিয়াম (Na): পারমাণবিক ভর = 23।
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg): পারমাণবিক ভর = 24.3। 
• সুতরাং সবগুলো পদার্থের পারমানবিক ভর পানি অপেক্ষা বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৩৬৭.
কোনটির সাহায্যে কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়?
  1. চাপ
  2. ক্ষমতা
  3. কাজ
  4. কর্মদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 

∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1-E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬৮.
Hook's law holds good up to-
  1. ক) Elastic limit
  2. খ) Breaking point
  3. গ) Plastic limit
  4. ঘ) Yeild Point
সঠিক উত্তর:
ক) Elastic limit
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Elastic limit
ব্যাখ্যা
হুকের সূত্র: স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে কোনো বস্তুর পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক। 

অর্থাৎ
পীড়ন ∝ বিকৃতি

স্থিতিস্থাপক সীমা: সর্বোচ্চ যে পরিমান বল প্রয়োগ করে অপসারণ করলে বস্তুটি পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে তাকেই স্থিতিস্থাপক সীমা বলে। স্থিতিস্থাপক সীমার বেশি বল প্রয়োগ করলে বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায় বা বস্তুটি ছিড়ে বা ভেঙ্গে যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই, ড. শাহজাহান তপন।
২,৩৬৯.
পোটেনশিওমিটার দিয়ে নিচের কোনটি পরিমাপ করা যায়? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. উচ্চ মানের রোধ
  3. উচ্চ তড়িৎ প্রবাহ
  4. বিভব পার্থক্য
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য
ব্যাখ্যা
মিটার ব্রীজ (Meter Bridge): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের তারের অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে মিটার ব্রীজ বলা হয়। 
- হুইটস্টোন ব্রীজ নীতি প্রয়োগ করে মিটার ব্রীজ তৈরী করা হয়। 
- পরীক্ষাগারে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ নির্ণয় করার জন্য মিটার ব্রীজ ব্যবহার করা হয়। 

পোস্ট অফিস বক্স (Post Office Box): 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে পোষ্ট অফিসে টেলিগ্রাফের তারের রোধ নির্ণয় করা হতো বলে এটি পোষ্ট অফিস বক্স নামে পরিচিত। 

পোটেনশিওমিটার (Potentiometer): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বিভবপতন পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্য ও বিদ্যুৎচালক শক্তি সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায়, তাকে পোটেনশিওমিটার বলা হয়। 
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে স্বল্প মানের তড়িৎপ্রবাহ ও নিম্নমানের রোধ মাপা সম্ভব হয়। 

অ্যামমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে অ্যামমিটার বলা হয়। 
- অ্যামমিটারের সাথে অতিরিক্ত শান্ট ব্যবহার করে এর পাল্লা বৃদ্ধি করা যায়। 

ভোল্টমিটার: 
- যেকোনো দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৭০.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কোন তত্ত্বের মধ্য দিয়ে?
  1. ক) প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. খ) আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  3. গ) আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. ঘ) হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
ক) প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে দুটি তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানের জগৎকে কাপিয়ে দেয়। এগুলাে হলাে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক প্রদত্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ১৯০৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রদত্ত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
দুটি ধারণাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। কয়েক দশকের সাধনায় এই তত্ত্বগুলাে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থের পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন, বিকাশ ও তত্ত্বকে প্রেরণা জোগায়।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা তাই ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালাে বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে আরেকটি বিপ্লব আনেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব ও আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন
২,৩৭১.
স্টপ ওয়াচের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সময়ে খরচ কমানো
  2. সময়ের গতি বৃদ্ধি করা
  3. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা
  4. একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
ব্যাখ্যা
থামা ঘড়ি (Stop Watch): 
- সময়কাল মাপার জন্য স্টপ ওয়াচ ব্যবহার করা হয়। 
- একসময় নিখুঁত স্টপ ওয়াচ অনেক মূল্যবান সামগ্রীথাকলেও ইলেকট্রনিকসের অগ্রগতির কারণে খুব অল্প দামের মোবাইল টেলিফোনেও আজকাল অনেক সূক্ষ্ম স্টপ ওয়াচ পাওয়া যায়। 
- স্টপ ওয়াচে যেকোনো একটি মুহূর্ত থেকে সময় মাপা শুরু করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সময় মাপা বন্ধ করে কতখানি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সেটি বের করে ফেলা যায়। 
- স্টপ ওয়াচ যত সূক্ষ্মভাবে সময় মাপতে পারে, হাত দিয়ে কখনোই তত সূক্ষ্ম সময়ে বের করতে পারা যায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৭২.
মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল কত?
  1. ০.১ মিলি সেকেন্ড
  2. ১০ সেকেন্ড
  3. ১০০ মিলি সেকেন্ড
  4. ০.০০১ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
১০০ মিলি সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০ মিলি সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল ০.১ সেকেন্ড। 

• শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল:
- মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of Hearing) হল সেই সময়কাল যখন শব্দের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও সেই শব্দের রেশ মস্তিষ্কে থেকে যায়।
- এই সময়সীমা প্রায় ০.১ সেকেন্ড (100 মিলিসেকেন্ড)।

• যদি দুটি শব্দ ০.১ সেকেন্ডের মধ্যে আসে, তবে আমরা সেটিকে একটি শব্দ হিসেবেই শুনি। 
• দুইটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুইটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান দরকার। 
• কোনো শব্দ যদি প্রতিফলিত হয়ে ০.১ সেকেন্ডের পরে আমাদের কানে ফিরে আসে, তবেই আমরা আলাদা প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।
•  প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক পৃষ্ঠ কমপক্ষে ১৬.৫ মিটার দূরে থাকা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,৩৭৩.
যে কোনো আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেডের তীব্রতা সাধারণত কত ডেসিবেল হয়ে থাকে?
  1. 210 dB
  2. 250 dB
  3. 170 dB
  4. 100 dB
সঠিক উত্তর:
170 dB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
170 dB
ব্যাখ্যা
• শব্দদূষণ (Sound Pollution):
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে - ডেসিবল (dB)।

- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল (dB) হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল (dB) শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং মাত্রা ১২০ডেসিবল (dB) হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।

- শব্দ দূষণের কারণ হলো - বাস, ট্রাক, ট্রেন ও লঞ্চের হর্ণ, রেডিও, ক্যাসেট, টেলিভিশন ও মাইক উচ্চ শব্দে বাজানো।
- এছাড়া সাইরেন ও যুদ্ধসামগ্রীর শব্দ, বোমার বিস্ফোরণ, মেঘের গর্জন প্রভৃতি শব্দ দূষণের উৎস।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) - এর মতে সাধারণত ৬০ ডেসিবেল (dB) শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল (dB) শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
- সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

• শব্দের তীব্রতা:
- শব্দের তীব্রতা বলতে শব্দতরঙ্গ যে দিকে সঞ্চারিত হচ্ছে, তার সাথে লম্বভাবে প্রতি একক সময়ে প্রতি একক ক্ষেত্রফল এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শক্তির পরিমাণকে বোঝায়।

- যে কোনো আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেডের তীব্রতা সাধারণত ১৭০ ডেসিবেল হয়ে থাকে।
- কারখানার কোলাহলের শব্দের তীব্রতা : ৮০ ডেসিবেল।
- স্বাভাবিক কথাবার্তার শব্দের তীব্রতা: ৬০ ডেসিবেল।
- হাটবাজারের শব্দের তীব্রতা: ৭০ ডেসিবেল।
- মাইকে ব্যান্ড সংগীতের শব্দের তীব্রতা: ১২০ ডেসিবেল।

উৎস:
১) পদার্থ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) La Salle University [লিংক]
২,৩৭৪.
তড়িৎ ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
  2. মোট ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
  3. তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ
  4. তড়িৎ বিভবের পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ ক্ষমতা দ্বারা বোঝায় কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র একক সময়ে কত তড়িৎ শক্তি ব্যবহার বা রূপান্তর করে।

• তড়িৎ ক্ষমতা (Electric Power):
- তড়িৎ ক্ষমতা বলতে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত বা রূপান্তরিত তড়িৎ শক্তির পরিমাণকে বোঝায়।
- কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র যত বেশি তড়িৎ শক্তি অল্প সময়ে ব্যবহার করে, তার তড়িৎ ক্ষমতা তত বেশি হয়।
- তড়িৎ ক্ষমতা দ্বারা বোঝা যায় কোনো যন্ত্র কত দ্রুত তড়িৎ শক্তিকে আলো, তাপ বা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
- বৈদ্যুতিক বাতি, হিটার, ফ্যান, মোটর ইত্যাদি যন্ত্রের গায়ে তাদের তড়িৎ ক্ষমতার মান লেখা থাকে।
- বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারের প্রচলিত একক হলো কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)।
- কিলোওয়াট-ঘণ্টা একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলা হয়।
- বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ বিল গণনায় এই kWh (ইউনিট) এককই ব্যবহার করা হয়।
- বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণে সরাসরি তড়িৎ ক্ষমতা নয়, বরং যন্ত্র কত সময় ধরে কত ক্ষমতায় ব্যবহৃত হয়েছে—তা বিবেচনা করা হয়।
- তড়িৎ ক্ষমতা যত বেশি হবে, নির্দিষ্ট সময়ে তড়িৎ শক্তি ব্যবহারের পরিমাণও তত বেশি হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৩৭৫.
বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ কী?
  1. ক) হীরক
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) কয়লা
  4. ঘ) প্রেট্রোল
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস।
উৎসঃদৈনিক প্রথম আলো
২,৩৭৬.
মৃদু ক্ষার কী? 
  1. যে ক্ষার এসিডের মতো আচরণ করে
  2. যে ক্ষার পানিতে দ্রবণীয় নয়
  3. যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
  4. যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়
সঠিক উত্তর:
যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: NaOH, KOH ও Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: NH4OH, Fe(OH)2, Fe(OH)3 ও Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৭৭.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের জন্য কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) কোবাল্ট-৬০
  2. খ) আয়োডিন-১৩১
  3. গ) ফসফরাস-৩২
  4. ঘ) কার্বন-১৪
সঠিক উত্তর:
গ) ফসফরাস-৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফসফরাস-৩২
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- পর্যায় সারণিতে 82Pb এর পরবর্তী মৌলসমূহ বিশেষ করে 86Rn থেকে শুরু করে সারণির শেষের দিকের সব মৌল এবং তাদের যৌগসমূহ তেজস্ক্রিয়। 
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের মধ্যে কিছু আইসোটোপ সুস্থিত হলেও বেশির ভাগ আইসোটোপই অস্থিত। 
- এই আইসোটোপগুলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয় বলে এ ধরনের আইসোটোপগুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিভাজন ঘটে এবং মৌলটি অন্য মৌলে পরিবর্তিত হয়। 
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ এরও অধিক। 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি করা হয়। 
- তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত রশ্মিসমূহ অধিক গতিসম্পন্ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এদের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার:
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে।
যেমন- 
ক) রোগ নিরাময়ে ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

কৃষি বিজ্ঞানে
- তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে উন্নত মানের বীজ উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। 
- এছাড়াও উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের (32P) জন্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়

এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৭৮.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িৎদ্বারের ক্যাথোডে কী ঘটে? 
  1. ইলেকট্রন গ্রহণ 
  2. ইলেকট্রন ত্যাগ 
  3. প্রোটন ত্যাগ 
  4. ইলেকট্রন নির্গমন 
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ 
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িৎদ্বারের ক্যাথোডে 'ইলেকট্রন গ্রহণ' ঘটে। 

তড়িৎদ্বার (Electrode): 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড অর্ধেক ডুবানো থাকে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা ঋণাত্বক আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- অপর তড়িৎদ্বারে ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- সম্পূর্ণ কোষের মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার আর যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৭৯.
কোনো বর্তনীর দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব-প্রভেদ মাপা হয় কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
  1. ক) ভোল্টমিটার
  2. খ) গ্যালভানোমিটার
  3. গ) অ্যামিটার
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ভোল্টমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভোল্টমিটার
ব্যাখ্যা
অ্যামিটারের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎপ্রবাহের মান নির্ণয় করা হয়। ভোল্টমিটারের সাহায্যে কোনো বর্তনীর দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব-প্রভেদ মাপা হয়। অ্যামিটারের স্কেল অ্যাম্পিয়ারে এবং ভোল্টমিটারের স্কেল ভোল্টে অংশাঙ্কিত করা থাকে।
(উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান আলোকে)
২,৩৮০.
নিউট্রনের অবস্থান -
  1. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
  2. পরমাণুর বাইরে
  3. পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে
  4. পরমাণুর ২য় প্রধান শক্তিস্তরে
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
ব্যাখ্যা
পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণাসমূহ দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর নাম পরমাণু।
একই পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়,
ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভিন্নরকমের হয়।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং
পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেক্ট্রন থাকে।

[সূত্র -  রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। ]
২,৩৮১.
তামা ও দস্তার মিশ্রণের ফলে সৃষ্ট সংকর ধাতু -
  1. ক) Babbitt Metal
  2. খ) Brass
  3. গ) Moncem Metal
  4. ঘ) Bronze
সঠিক উত্তর:
খ) Brass
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Brass
ব্যাখ্যা
গলিত জিঙ্কের (Zn) সাথে তামা (Cu) মিশিয়ে পিতল (Brass) তৈরী করা হয়৷
ব্রোঞ্জ তৈরী করার জন্য তামার সাথে টিন মেশাতে হয়৷
২,৩৮২.
নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের-
  1. বর্গের সমানুপাতিক
  2. সমানুপাতিক
  3. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
  4. ব্যস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
• কুলম্বের সূত্র:
- দুটি বিন্দু আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল সম্পর্কে বিজ্ঞানী কুলম্ব একটি সূত্র বিবৃত করেন। একে কুলম্বের সূত্র বলে।
সূত্র :
- নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান আধানদ্বয়ের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল আধানদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

- দুটি আধানের পরিমাণ যথাক্রমে q1 ও q2 ও এবং মধ্যবর্তী দূরত্ব d। 
- এদের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলকে স্থির তড়িৎ বল বা কুলম্ব বল বলে এবং এ বলের মান F হলে, কুলম্বের সূত্রানুসারে,

∴ F α q1q2/d2

∴ F = C q1q2/d2
এখানে C একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক যার মান রাশিগুলোর একক এবং বিন্দু আধানদ্বয়ের মধ্যবর্তী মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এ ধ্রুবককে অনেক সময় কুলম্ব ধ্রুবক বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩৮৩.
হ্যালোজেনের হাইড্রো-এসিডগুলোর শক্তি ক্রম হল -
  1. HI > HBr > HCl > HF
  2. HCl > HF > HBr > HI
  3. HF > HCl > HBr > HI
  4. HBr > HF > HCl > HI
সঠিক উত্তর:
HI > HBr > HCl > HF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HI > HBr > HCl > HF
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 

- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 
- হ্যালোজেনের হাইড্রো-এসিডগুলোর শক্তি ক্রম হল - HI > HBr > HCl > HF.

Figure: ptable.com [লিংক]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৮৪.
নিম্নের কোনটি এসিডিক?
  1. ক) ইথার
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) ইথানল
  4. ঘ) ফিনল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফিনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফিনল
ব্যাখ্যা
ফেনল:
- ফেনল হচ্ছে একটি অ্যারােমেটিক হাইড্রক্সি যৌগ। 
- যা কার্বলিক এসিড হিসেবে পরিচিত। 
- ফেনলের আণবিক সংকেতঃ C6H5OH.
-  অ্যারােমেটিক হাইড্রোকার্বনের বেনজিন বলয় থেকে এক বা একাধিক হাইড্রোজেন পরমাণুকে সম-সংখ্যক হাইড্রক্সি মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত করলে যে সব যৌগ উৎপন্ন হয় তাদের একত্রে ফেনল বলে। 
- যেমন: বেনজিন বলয়ের একটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি হাইড্রক্সিল মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে কার্বলিক এসিড নামক ফেনল পাওয়া যায়। 
- রাসায়নিক ধর্মের দিক দিয়ে ফেনল মৃৃদু অম্লধর্মী।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৩৮৫.
অপসারী লেন্স এর অপর নাম-
  1. উত্তল লেন্স
  2. অভিসারী লেন্স
  3. অবতল লেন্স
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
অবতল লেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবতল লেন্স
ব্যাখ্যা
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দিয়ে সীমাবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
- অধিকাংশ লেন্স কাচের তৈরি হয়।
- তবে কোয়ার্টজ এবং প্লাস্টিক দিয়েও আজকাল লেন্স তৈরি হয় এবং এদের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
- লেন্স সাধারণত দুই ধরনের,
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex lens)
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave lens)

উত্তল বা অভিসারী লেন্স : 
উত্তল লেন্সে আলোক রশ্মিসমূহ অভিসারী বা এক বিন্দুতে মিলিত হয়। 

অবতল বা অপসারী লেন্স:
অবতল লেন্সে আলোক রশ্মিসমূহ অপসারী অর্থাৎ পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
২,৩৮৬.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. হীরা
  2. শ্বেত ফসফরাস
  3. রম্বিক সালফার
  4. সিলিকা
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
ব্যাখ্যা

- হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিনস ইত্যাদি হলো কার্বনের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- শ্বেত ফসফরাস, লোহিত ফসফরাস ইত্যাদি হলো ফসফরাসের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- রম্বিক বা আলফা সালফার, মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার, প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার, দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার, ল্যামডা সালফার, মিউ সালফার ইত্যাদি হলো গন্ধকের বিভিন্ন রূপভেদ। এরাও সবাই মৌলিক পদার্থ।
- সিলিকা হলো সিলিকন ডাই-অক্সাইড যা বালি গঠনের প্রধান উপাদান। সিলিকন ও অক্সিজেন নামক মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে সিলিকা নামক যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৩৮৭.
ট্রানজিস্টরের উপযোগিতা নয় কোনটি?
  1. আকার খুব ছোট
  2. যান্ত্রিক কম্পন সহ্য করতে পারে
  3. খুব সামান্য বিভবে কাজ করে
  4. বিশাল পরিমাণে উৎপাদন শক্তি দেয়
সঠিক উত্তর:
বিশাল পরিমাণে উৎপাদন শক্তি দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশাল পরিমাণে উৎপাদন শক্তি দেয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ট্রানজিস্টরের উপযোগিতা হলো- আকার খুব ছোট, খুব সামান্য বিভবে কাজ করে, এর ক্রিয়া তাৎক্ষণিক, এটি দীর্ঘস্থায়ী ও সস্তা এবং যান্ত্রিক কম্পন সহ্য করতে পারে।
ট্রানজিস্টরের অসুবিধা হলো- এটি উষ্ণতার খুব সুগ্রাহী এবং এটি খুব কম উৎপাদন শক্তি দেয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৩৮৮.
ঘর্মাক্ত দেহে পাখার বাতাস আরাম দেয় কেন?
  1. ক) গায়ের ঘাম বের হতে দেয় না
  2. খ) বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
  3. গ) পাখার বাতাস শীতল জলীয়বাষ্প ধারণ করে
  4. ঘ) পাখার বাতাস সরাসরি লোমকূপ দিয়ে শরীরে ঢুকে যায়
সঠিক উত্তর:
খ) বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
By blowing air around, the fan makes it easier for the air to evaporate sweat from your skin, which is how you eliminate body heat. The more evaporation, the cooler and more comfortable you feel.
২,৩৮৯.
পানির অণু কী ধরনের চুম্বকীয় প্রকৃতি প্রদর্শন করে?
  1. ডায়াচুম্বক
  2. অ্যান্টিফেরােচুম্বক
  3. ফেরােচুম্বক
  4. প্যারাচুম্বক
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বক
ব্যাখ্যা

• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
- অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৯০.
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. ফটোতড়িৎ ক্রিয়া
  2. সমবর্তন
  3. ব্যতিচার
  4. অপবর্তন
সঠিক উত্তর:
ফটোতড়িৎ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোতড়িৎ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করা যায়। ফটোতড়িৎ ক্রিয়ায় যখন আলো কোনও ধাতুর উপর পড়ে, তখন ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। প্লাঙ্ক বলেছিলেন, আলো শক্তি কণার আকারে প্রকাশ পায়, যাকে ফোটন বলা হয় এবং প্রতিটি ফোটনের নির্দিষ্ট একটি শক্তি থাকে যা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে। যদি ফোটনের শক্তি ধাতুর ইলেকট্রনকে মুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত হয়, তখন ইলেকট্রন নির্গত হয়। এই তত্ত্ব আলোকে তরঙ্গ নয়, কণার মতো আচরণ করার ব্যাখ্যা দেয় এবং ফটোতড়িৎ ক্রিয়ার অবস্থা বোঝাতে সাহায্য করে। তাই, প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব ফটোতড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়।
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯১.
চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলে যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অস্থায়ী চুম্বক
  2. খ) স্থায়ী চুম্বক
  3. গ) সংকর চুম্বক
  4. ঘ) সিরামিক চুম্বক
সঠিক উত্তর:
ক) অস্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অস্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৯২.
কোনটিকে কার্বনের বিশেষ রূপভেদ 'বুক্‌মিনস্টার ফুলারিন' বা 'বাকি বল' বলা হয়?
  1. ক) C30
  2. খ) C40
  3. গ) C50
  4. ঘ) C60
সঠিক উত্তর:
ঘ) C60
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) C60
ব্যাখ্যা
কার্বনের রূপভেদ
- ক্যাটেনেশনের একটি বিশেষ উদাহরণ হলো ফুলারিন।
- ফুলারিন নামক কার্বনের একটি বিশেষ শ্রেণির রূপভেদ।
- কার্বনের রূপভেদ C60 কে বুক্‌মিনস্টার ফুলারিন বা 'বাকি বল' বলা হয়।
- এর আকৃতি ফুটবলের মতো।
- কার্বনের প্রধান রূপভেদ হলো গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গ্রাফিন হচ্ছে দ্বিমাত্রিক কার্বন ক্রিস্টাল যা খুব ভালো তাপ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- গ্রাফিনকে গ্রাফাইট থেকে আহরণ করা হয়।
- অর্থাৎ গ্রাফাইট, ডায়মন্ড (হীরক), গ্রাফিন এবং ফুলারিন কার্বনের রূপভেদ।

সূত্র:
১. রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
২. রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৩৯৩.
স্থিতিস্থাপকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. বিকৃতি স্থায়ী হয়
  2. পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন
  3. ভর বৃদ্ধি পায়
  4. আয়তন অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন
ব্যাখ্যা

• পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন — স্থিতিস্থাপকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বল অপসারণ করলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও অবস্থায় ফিরে আসে।

• স্থিতিস্থাপকতা:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগে বস্তু বিকৃত হয়।
- বল অপসারণ করলে বস্তু পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। এই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।
- স্থিতিস্থাপকতা বস্তুর একটি ভৌত ধর্ম।

• স্থিতিস্থাপক সীমা:
- নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বস্তু স্থিতিস্থাপক আচরণ করে। এই সীমাকে স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়।
- সীমা অতিক্রম করলে বস্তু স্থায়ী বিকৃত হয়।

• উদাহরণ:
- স্প্রিং টানলে লম্বা হয়, ছেড়ে দিলে আগের দৈর্ঘ্যে ফিরে আসে।
- রাবার ব্যান্ড প্রসারিত করলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

• অন্যান্য অপশন:
- বিকৃতি স্থায়ী হয় → স্থিতিস্থাপক সীমা অতিক্রম করলে ঘটে।
- ভর বৃদ্ধি পায় → স্থিতিস্থাপকতার সাথে সম্পর্ক নেই।
- আয়তন অপরিবর্তিত থাকে → সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

২,৩৯৪.
p-n  জংশনে বহিস্থ ভোল্টেজ কয় ভাবে হতে পারে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
p-n  জংশনে বহিস্থ ভোল্টেজ দুই  ভাবে হতে পারে । 
সম্মুখী বায়াস - ভোল্টেজ যদি এমনভাবে প্রয়োগ  করা হয় যে কোষের ধনাত্মক প্রান্ত p  টাইপ বস্তুর সাথে এবং ঋণাত্মক প্রান্ত n টাইপ বস্তুর সাথে যুক্ত থাকে। 
বিমুখী বায়াস - ভোল্টেজ যদি বিপরীত অভিমুখে প্রয়োগ করা হয় , কোষের ধনাত্মক প্রান্ত n টাইপ এবং ঋণাত্মক প্রান্ত p টাইপ বস্তুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই


২,৩৯৫.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• এই বিক্রিয়ায় একটি অ্যাসিড (HCl) এবং একটি ক্ষার (NaOH) পরস্পর বিক্রিয়া করে লবণ (NaCl) ও পানি (H2O) উৎপন্ন করেছে। অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলা হয়।

• প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) 

• পানি যোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

• বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

• সংযোজন বিক্রিয়া: 
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক মৌল বা যৌগ পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি মাত্র নতুন যৌগ উৎপন্ন করে, তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- উদাহরণ: Fe + S → FeS.
- এখানে আয়রন (Fe) এবং সালফার (S) দুটি ভিন্ন মৌল যুক্ত হয়ে একটি মাত্র উৎপাদ ফেরাস সালফাইড (FeS) তৈরি করেছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৯৬.
কোন শক্তিকে বার বার ব্যবহার করা যায়?
  1. কয়লা
  2. খনিজ তেল
  3. সৌর শক্তি
  4. নিউক্লিয় শক্তি
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' কে বার বার ব্যবহার করা যায়, কারণ এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 

১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বার বার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯৭.
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে কী বলে?
  1. চুন
  2. ফিটকিরি
  3. কস্টিক সোডা
  4. সোডা অ্যাস
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
ব্যাখ্যা

- অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা 'ফিটকিরি' বলে যার রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 

পটাশ অ্যালাম: 
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ। 
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৯৮.
কোনটিকে কৃত্রিম তন্তুর প্রথম ও প্রধান তন্তু বলা হয়ে থাকে?
  1. ক) তুলা
  2. খ) রেশম
  3. গ) রেয়ন
  4. ঘ) পশম
সঠিক উত্তর:
গ) রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেয়ন
ব্যাখ্যা
রেয়ন
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক উদ্ভিজ সেলুলোজ থেকে রেয়ন প্রস্তুত করা হয়। 
- কৃত্রিম তন্তুর মধ্যে রেয়ন হলো প্রথম ও প্রধান তন্তু। 
- রেয়ন বস্ত্র মোটামুটি টেকসই হলেও বেশ সুন্দর, উজ্জ্বল, অভিজাত ও মনোরম।
- অধিক তাপে রেয়ন গলে যায়। তাই রেয়ন বস্ত্র কম তাপে সতর্কতার সাথে ইস্ত্রি করা উচিত। 
- রেয়ন তৈরির উপজাত পরিবেশের জন্য হুমকি। রেয়ন শিল্পে পরিবেশ বান্ধব প্রস্তুতি নিতে হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯৯.
কোন পরমাণু মডেলটি সৌর মডেল নামে পরিচিত?
  1. ডাল্টনের পরমাণু মডেল
  2. বোর পরমাণু মডেল
  3. অ্যাভোগেড্রোর পরমাণু মডেল
  4. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 

- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪০০.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কত?
  1. ক) শূন্য
  2. খ) অসীম
  3. গ) ১০০০ সিসি
  4. ঘ) ২৭৩ সিসি
সঠিক উত্তর:
ক) শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শূন্য
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা: যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩°C ।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়