বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৩ / ৬৪ · ২,২০১২,৩০০ / ৬,৪০৯

২,২০১.
বক্সাইট কোন ধাতুর আকরিক?
  1. Al
  2. Ca
  3. Na
  4. Fe
সঠিক উত্তর:
Al
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Al
ব্যাখ্যা
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
বক্সাইট
• কোরান্ডাম, 
• ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
• রকসল্ট, 
• চিলি সল্টপিটার, 
• ন্যাট্রোন, 
• বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
• চুনাপাথর, 
• জিপসাম, 
• ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
• ম্যাগনেটাইট, 
• হেমাটাইট, 
• আয়রন পাইরাইটস, 
• লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,২০২.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরের গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. গ) আয়োনোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের ওজোন গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে। এই স্তর ভূ-পৃষ্ট থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
২,২০৩.
কোনটি জারক পদার্থ নয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরিন
  4. ব্রোমিন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা।
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ। 
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, অক্সিজেন, ওজোন ইত্যাদি হলো গ্যাসীয় জারক পদার্থ।
- তরল ব্রোমিন, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড ইত্যাদি হলো তরল জারক পদার্থ।
- আয়োডিন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, ফেরিক ক্লোরাইড ইত্যাদি হলো কঠিন জারক পদার্থ।

• বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা।
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, সালফিউরাস এসিড ইত্যাদি হলো বিজারক পদার্থের উদাহরণ।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির, (হাজারী-নাগ)।

২,২০৪.
জৈব যৌগ কোনটি?
  1. CO
  2. CO2
  3. CH4
  4. Na2CO3
সঠিক উত্তর:
CH4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH4
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। 
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে। 
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। 
যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি। 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে। 
যেমন- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৫.
তাড়িতচৌম্বক বিকিরণের কণাকে কী বলা হয়?
  1. ফোটন
  2. প্রোটন 
  3. ইলেকট্রন
  4. নিউট্রন 
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা

ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২০৬.
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে কোন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়? 
  1. প্রশমন
  2. অধঃক্ষেপ
  3. জারণ
  4. বিজারণ
সঠিক উত্তর:
জারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৭.
নিচের কোনটি এসিডের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) এটি লাল লিটমাসকে নীল করে।
  2. খ) এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
  3. গ) ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন করে।
  4. ঘ) প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহন করতে পারে।
সঠিক উত্তর:
খ) এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
ব্যাখ্যা
এসিড:

- নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয় এসিডের কারণে।
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়। যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
- যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড। এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়।
- এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. এসিড স্বাদে টক।
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে।
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী।

তথ্যসূত্র - রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২০৮.
বিপরীত আধানযুক্ত আয়নের মধ্যে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. সমযোজী বন্ধন
  2. ধাতব বন্ধন
  3. আয়নিক বন্ধন
  4. হাইড্রোজেন বন্ধন
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন: 
- দুটি বিপরীতধর্মী আধানের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 

সমযোজী বন্ধন: 
- দুটি অধাতব মৌলের পরমাণুর যোজ্যতা স্তরের বিজোড় ইলেকট্রনকে উভয় পরমাণুই শেয়ার করে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করে তাকে সমযোজী বন্ধন বলে। 

বন্ধন গঠন: 
- পরমাণুর যোজ্যতাস্তরের বিজোড় ইলেকট্রন বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণ করে। 

একক বন্ধন: 
- দুটি পরমাণুর প্রত্যেকের ১টি করে ইলেকট্রনের শেয়ারের মাধ্যমে একক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 

ক্যাটায়ন: 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন বলে। 

অ্যানায়ন: 
- ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৯.
আকাশ নীল দেখায় কেন?
  1. নীল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে
  2. নীল সমুদ্রের প্রতিফলনের ফলে
  3. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
  4. নীল আলোর প্রতিফলন বেশি বলে
সঠিক উত্তর:
নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
ব্যাখ্যা
• বিক্ষেপণ:
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে।
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপন বলে।
- এ আলোর বিক্ষেপন নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর।
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি।
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়।
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়।
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,২১০.
মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, কারণ সেখানে- 
  1. তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ।
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২১১.
কোন বিজ্ঞানী আলোর প্রতিসরণ সম্পর্কিত 'অপটিকস' নামক গ্রন্থটি লিখেছিলেন?
  1. এরিস্টটল
  2. টলেমি
  3. ইউক্লিড
  4. লুক্রেটিয়াস
সঠিক উত্তর:
টলেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টলেমি
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রীক ও হেলেনিক তত্ত্ব: 
- খ্রিষ্ট পূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীকরা বিশ্বাস করতেন সব বস্তু আগুন, বায়ু, মাটি ও পানি এই ৪টি মূল উপাদানে তৈরি হয়। 
- দেবী আফ্রেদিতি এই চার উপাদান দিয়ে মানুষের চোখ সৃষ্টি করেছেন। তিনি চোখের মধ্যে আগুন জ্বালান। এটি চোখ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বস্তুর উপর পড়লে বস্তু দেখা যায়, এটি সত্য হলে রাতের বেলা দেখতে না পাওয়ার কারণ নাই। 

- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে পিথাগোরাস মনে করতেন দৃশ্যমান বস্তু থেকে আলো উৎপন্ন হয়। 
- আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে ইউক্লিড অপটিকা নামে একটি বই লিখেন। তিনি সিদ্ধান্ত দেন আলো সরলরেখায় চলে। তিনি আলোর প্রতিফলনের সূত্র দেন, গাণিতিক ভাবে সূত্রটি প্রমাণ করেন। চোখ থেকে রশ্মি বেরিয়ে দেখতে সাহায্য করে এটি তিনি মেনে নিতে পারেন নাই। তিনি প্রশ্ন তোলেন তাহলে বন্ধ চোখ খুললেই আকাশের অসীম দূরের তারা দেখা যায় কিভাবে? 

- খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে এরিস্টটল বৃষ্টি কণার মধ্যে আলোর প্রতিসরণের ফলে রঙধনু সৃষ্টি হয় উল্লেখ করেন। ইউক্লিড আলোর প্রতিফলনের সূত্র এবং দর্পণের ধর্ম বর্ণনা করেন। আলোর প্রতিসরণ প্রক্রিয়া পরিমাপ করেন, কিন্তু তিনি এর গাণিতিক সূত্র জানতেন না। 

- টলেমি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে অপটিকস নামে একটি বই লিখেন, তাতে তিনি আলোর প্রতিসরণ সম্পর্কে বর্ণনা দেন। প্রথম আলোক সম্পর্কীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তথ্যাদি সংগ্রহ করেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন চোখ থেকে আলো এসে বস্তুর উপর পড়ে বলে দেখা যায়। 

- খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫ অব্দে রোমান দার্শনিক লুক্রেটিয়াস উল্লেখ করেন সূর্যের আলো এবং তাপ অতি ক্ষুদ্র পরমাণু দ্বারা গঠিত। এগুলো যখন নির্গত হয় তৎক্ষণাৎ নিমেষে মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ছুটে যায়। এটি কণা তত্ত্বের সদৃশ হলেও এই ধারণা গৃহীত হয় নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১২.
তেজস্ক্রিয়তার এস. আই. লব্ধ একক কোনটি? 
  1. ওহম 
  2. বেকেরেল
  3. কুরী
  4. রন্টজেন
সঠিক উত্তর:
বেকেরেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকেরেল
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২১৩.
রংধনুতে কয়টি রং আছে?
  1. ক) সাতটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) নয়টি
  4. ঘ) ছয়টি
সঠিক উত্তর:
ক) সাতটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাতটি
ব্যাখ্যা

- রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।
রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২১৪.
একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়-
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ডায়োড
  3. ক্যাপাসিটর
  4. সেমিকন্ডাক্টর
সঠিক উত্তর:
ডায়োড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়োড
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২১৫.
নিচের কোনটি আলফা কণিকার বৈশিষ্ট্য?
  1. আয়নিত করার ক্ষমতা খুব কম
  2. ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
  3. ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি
  4. সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয় না
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- এর ভর 6.6×10-27 kg.
- ইহা ধণাত্বক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 C.
- এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44×10-12J পর্যন্ত হয়।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৬.
শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব কত?
  1. ৩৩ মিটার
  2. ১৭.৬ মিটার
  3. ১৬.৫ মিটার
  4. ১৫.৬ মিটার
সঠিক উত্তর:
১৬.৫ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬.৫ মিটার
ব্যাখ্যা
- মানুষের মস্তিষ্কে কোন শব্দের শোনার পর ০.১ সেকেন্ড এটার রেশ থাকে।
- এই সময়ের আগে প্রতিধ্বনি শুনলে মস্তিষ্ক সেটাকে মূল শব্দ থেকে আলাদা করতে পারে না।
- শব্দের বেগ ৩৩০ মি./ সেকেন্ড, সুতরাং, ০.১ সেকেন্ড এর ব্যবধান তৈরি করার জন্য শব্দকে কমপক্ষে ৩৩ মি. দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।
সুতরাং, ১৬.৫ মি. বা ১৬৫০ সে.মি. দূরত্বের কোন প্রতিফলকে শব্দ উৎস থেকে গিয়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড সময় পার হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান বই।
২,২১৭.
হিগস বোসন কণা সম্পর্কিত ভুল তথ্য কোনটি?
  1. হিগস ক্ষেত্রের কাজ মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করে।
  2. বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
  3. হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা।
  4. হিগস বোসন এর স্পিন ঋণাত্মক।
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন এর স্পিন ঋণাত্মক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন এর স্পিন ঋণাত্মক।
ব্যাখ্যা
বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। 
- এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। 
১। গেজ বোসন (Gauge Boson) এবং ২। হিগস বোসন (Higgs Boson) । 

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৮.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. লিমুলাস
  2. উটপাখি
  3. স্ফোনোডন
  4. প্লাটিপাস
সঠিক উত্তর:
উটপাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উটপাখি
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২১৯.
কোন বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. সোনা
  2. তামা
  3. রাবার
  4. ইস্পাত
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,২২০.
কোন বাহ্যিক কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়? 
  1. চাপ 
  2. তড়িৎক্ষেত্র
  3. চৌম্বকক্ষেত্র 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২২১.
গ্যসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে
  2. খ) সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়
  3. গ) নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই
  4. ঘ) কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় আন্তঃকণা আর্কষণ বল বেশি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় আন্তঃকণা আর্কষণ বল বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় আন্তঃকণা আর্কষণ বল বেশি
ব্যাখ্যা
গ্যসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই। এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোকনা কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন। গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় অনেক দূরে দূরে অবস্থান করে তাই এদের আন্তঃকণা আর্কষণ বল খুবই কম। তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে এবং সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
২,২২২.
'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত লবণ কোনটি?
  1. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট
  4. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২৩.
দুটি রেললাইনের মিলিত স্থানে ফাঁকা রাখা হয় কেন?
  1. চলন্ত রেলগাড়ির শব্দ বাড়াতে
  2. লােহা সাশ্রয় করার জন্য
  3. চলন্ত রেলগাড়ির শব্দ কমাতে
  4. তাপীয় প্রসারণে রেল লাইনের বিকৃত রোধে
সঠিক উত্তর:
তাপীয় প্রসারণে রেল লাইনের বিকৃত রোধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপীয় প্রসারণে রেল লাইনের বিকৃত রোধে
ব্যাখ্যা
রেললাইনে দুটি রেলের সংযােগস্থলে ফাঁকা থাকা: 
- সূর্যের তাপে কিংবা যখন ট্রেন চলে তখন চাকার ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে রেল লাইন প্রসারিত হয়। 
- রেললাইনের দুটি রেলের সংযােগস্থলে ফাঁকা রাখা হয়, যাতে রেললাইন প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায়। 
- এরূপ ফাঁক না রাখলে প্রসারণের ফলে লাইন বেঁকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২৪.
কোন বিজ্ঞানী সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলির ঘূর্ণনগতির সূত্রাবলি নির্ধারণ করেন?
  1. ক) কেপলার
  2. খ) নিউটন
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ক) কেপলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কেপলার
ব্যাখ্যা
১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহানস কেপলার (Johannes Kepler) সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্ৰ করে অবিরাম ঘুরছে।
এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন। তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে নামকরণ করা হয়েছে কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্র

কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্রসমূহ:
১. প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২. সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩. একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।

গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলার এর সূত্রাবলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউটন বল সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,২২৫.
তাপ প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয় কোনটি?
  1. বায়বীয় পদার্থ
  2. তরল পদার্থ
  3. কঠিন পদার্থ
  4. মিশ্র পদার্থ
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
পদার্থ:

- তাপ প্রয়োগে করলে সব ধরনের পদার্থই প্রসারিত হয়। 
- তবে যে পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ যতো কম সে পদার্থ ততো বেশি প্রসারিত হয়। 
- কঠিন বা তরল পদার্থের তুলনায় বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম। 
- তাই তাপ প্রয়োগে বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২৬.
কোনটির তারতম্যের কারণে আইসোটোপ তৈরি হয়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) অনাবিষ্কৃত
সঠিক উত্তর:
গ) নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউট্রন
ব্যাখ্যা

- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২২৭.
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• সান্দ্রতা: 
- সান্দ্রতা (Viscosity) হলো প্রবাহীর (তরল/বায়বীয় পদার্থের) বিভিন্ন স্তরে আপেক্ষিক গতির ক্ষেত্রে বাধা। একে প্রবাহীর ঘর্ষণ বলা যায়। 
- তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের সান্দ্রতা বাড়ে এবং তরলের সান্দ্রতা কমে। 

অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 
- গ্যাসের সান্দ্রতা সহগ তার কেলভিন তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
- সান্দ্রতা সহগ/গুনাংকের এস.আই একক হচ্ছে নিউটন-সেকেন্ড/মিটার (Nsm-2 বা Pas), CGS একক হচ্ছে Poise [10 Poise = 1 Nsm-2]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,২২৮.
অপটিক্যাল ফাইবারে দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করা হয় না কেন?
  1. এটি রঙ পরিবর্তন করে
  2. এটি খুব শক্তিশালী
  3. এটি সরলরেখায় যায় না
  4. এটি শোষণ বেশি করে 
সঠিক উত্তর:
এটি শোষণ বেশি করে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি শোষণ বেশি করে 
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবারে দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করা হয় না, কারণ দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ফাইবারের জন্য উপযুক্ত নয় এবং অতিরিক্ত শোষণ (absorption) ও বিক্ষেপণের (scattering) কারণে এতে অনেক বেশি সংকেত ক্ষয় বা শোষণ (signal loss) হয়, যা দীর্ঘ দূরত্বে ডেটা প্রেরণে বাধা দেয়; তাই ইনফ্রারেড আলো ব্যবহৃত হয় যা কম শোষিত হয়, ফলে ডেটা অনেক দূরে পাঠানো যায়।

অপটিক্যাল ফাইবার: 

- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটি একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২২৯.
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১১
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৭
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = 8.
- সুতরাং অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। 

সোডিয়ামের (Na) এর পারমাণবিক সংখ্যা ১১. 
- তাই K শক্তিস্তরে ২টি, L প্রধান শক্তিস্তরে ৮টি এবং বাকি ১টি ইলেকট্রন M শক্তিস্তরে প্রবেশ করবে।



উৎস: রসায়ন- ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি (বোর্ড বই)।
২,২৩০.
একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে ঘড়িটি—
  1. ক) স্লো হবে
  2. খ) ফাস্ট হবে
  3. গ) ঠিক সময় দেবে
  4. ঘ) কোনো রকম প্রভাবিত হবে না
সঠিক উত্তর:
খ) ফাস্ট হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফাস্ট হবে
ব্যাখ্যা
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি
২,২৩১.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না।
• অপরদিকে অক্সিজেন আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে।
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস অগ্নি নির্বাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
• বাতাসের নাইট্রোজেন (N2) গ্যাস মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে।

উল্লেখ্য,
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ- হীরক (কার্বনের রূপভেদ)।
• গ্রাফাইট অধাতু হলেও মুক্ত ইলেকট্রন থাকার দরুন এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
• পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়।
• ড্রাই আইস হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড। শুষ্ক বরফ তৈরিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
• কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অত্যাধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়।
• সমআয়তনের হাইড্রোজেন এবং কার্বন মনোক্সাইডের (CO) মিশ্রণকে ওয়াটার গ্যাস (CO+H2) বলে।
• হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ৯৩% অক্সিজেন থাকে।
• সমুদ্রের পানির তুলনায় নদীর পানিতে অক্সিজেন বেশি থাকে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
২,২৩২.
কিসের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন?
  1. আলোর
  2. শব্দের
  3. তাপের
  4. বেতারের
সঠিক উত্তর:
শব্দের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের
ব্যাখ্যা
- অন্যান্য অপশনগুলোর তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে 'শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়' কে নেওয়া হয়েছে। 

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি। বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে আমাদের কানে প্রবেশ করে। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- যেহেতু, শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চারিত হতে পারে না, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

অন্যদিকে, 
- তাপ পরিবহন ও তাপ পরিচলনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বিকিরণের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। 
- শূন্য মাধ্যমেই আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। আলোক রশ্মি শূন্য মাধ্যম থেকে কোনো মাধ্যমে প্রবেশ করলে আলোর বেগ কমে যায়। 
- বেতার হলো তার ব্যতীত যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়। 

উৎস: সপ্তম, বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩৩.
'ফেমটো' উপসর্গের মান কোনটি?
  1. 10-9
  2. 10-12
  3. 10-15
  4. 10-18
সঠিক উত্তর:
10-15
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10-15
ব্যাখ্যা

• 'ফেমটো' (f) উপসর্গের মান হচ্ছে 10-15  ।  

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৩৪.
ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক কোনটি? 
  1. 1 H.P. = 746 W
  2. 1 H.P. = 550 W
  3. 1 H.P. = 3.6 × 106 W
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
1 H.P. = 746 W
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 H.P. = 746 W
ব্যাখ্যা
ওয়াট: 
- 1 সেকেন্ডে 1 জুল (J) কাজ করার ক্ষমতাকে 1 ওয়াট (W) বলে। 
∴ 1 W = 1 J s -1
1 কিলোওয়াট (kW) = 1000 ওয়াট (W) 
1 মেগাওয়াট (MW) = 1000 কিলোওয়াট (kW) = 106 W = 106 Hs-1

অশ্বক্ষমতা: 
- এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর পূর্বে ক্ষমতার একটি ব্যবহারিক একক ছিল অশ্বক্ষমতা। 
- ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক হলো - 
1 H.P. = 746 Watt

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,২৩৫.
"পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক" এটি সর্বপ্রথম কে বলেন?
  1. প্লেটো
  2. ওয়েবার
  3. নরম্যান
  4. গিলবার্ট
সঠিক উত্তর:
গিলবার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিলবার্ট
ব্যাখ্যা
চুম্বকত্ব: 
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্ম বিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং যাকে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্যাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দিকে (উত্তর -দক্ষিণে) মুখ করে থাকে, তাকেই সাধারণ ভাবে চুম্বক বলা হয়।
- যে ধর্মের জন্য একটি চুম্বক অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে সেই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌত ধর্ম। 
- কোন পদার্থকে কৃত্রিম উপায়ে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা ইত্যাদির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।
- আর যেসব বস্তু চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত (বা বিকর্ষিত) হয় অর্থাৎ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের কে চৌম্বক পদার্থ (Magnetic substance) বলা হয়। যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ।
- একটি চুম্বক শলাকাকে এর ভারকেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি সর্বদাই উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে।
- চুম্বকের এই অবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রানী এলিজাবেথের গৃহ চিকিৎসক ডঃ গিলবার্ট সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি চুম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক। 
- পৃথিবীর এ চুম্বকত্বকে ভূ-চুম্বকত্ব বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩৬.
তাপমাত্রার বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. এটি অনুভব করা যায়
  2. এটি পরিমাপযোগ্য
  3. এটি এক ধরনের শক্তি
  4. এটি বল প্রয়োগে বাঁধা দেয়
সঠিক উত্তর:
এটি পরিমাপযোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি পরিমাপযোগ্য
ব্যাখ্যা

তাপ হলো এক প্রকার শক্তি, যার কারণে কোনো কিছুকে ঠান্ডা বা গরম হিসাবে অনুভব করা যায়। এটি এক ধরনের শক্তি- কোনো পদার্থ নয়। তাই এটি বল প্রয়োগে কোন বাঁধা প্রদান করে না।
তাপমাত্রা কোনো কিছুর তাপীয় অবস্থাকে প্রকাশ করে৷ তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।
তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য সেলসিয়াস স্কেল, ফারেনহাইট স্কেল, কেলভিন স্কেল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের স্কেল রয়েছে।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

২,২৩৭.
বজ্রপাতের সময় মাটিতে কোন উপাদানের বৃদ্ধি ঘটে?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে। নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ। 
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; cals.arizona.edu
২,২৩৮.
নিচের কোনটি ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী নয়?
  1. হাইড্রোফ্লুরোকার্বন
  2. সালফার হেক্সা ক্লোরাইড
  3. নাইট্রাস অক্সাইড
  4. মিথেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোফ্লুরোকার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোফ্লুরোকার্বন
ব্যাখ্যা

ওজোন স্তর: 
- বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার নামক স্তরে ওজোন নামক গ্যাসের একটি পাতলা স্তর রয়েছে যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর অতিবেগুণি রশ্মি থেকে রক্ষা করে।
- এটি ওজোন স্তর নামে পরিচিত।
- পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ওজোন স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ: 
বিভিন্ন কারণে ওজোন স্তর ধ্বংস হচ্ছে। যথা:
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ (কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন টেট্টা ক্লোরাইড, সালফার হেক্সা ক্লোরাইড) সমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু সিএফসি গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- পারমানবিক পরীক্ষার জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণে ওজোন স্তরের ক্ষতি হয়। বিমান চলাচলের জন্য ওজোন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে।
- নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার সৌরশক্তির প্রভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেন অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি করে। নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের অণু অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে অণু ভেঙে রেডিকেলে পরিণত হয় এবং ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে। এছাড়াও জৈব প্রাণীর দহনের ফলে নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগ নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি হয়।
- মিথেন গ্যাস ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।

উল্লেখ্য, হাইড্রোফ্লুরোকার্বনস, সালফার হেক্সাফ্লুরাইড এবং পারফ্লুরোকার্বনস গ্যাসসমূহ গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসেবে বিবেচিত হলেও ওজোনস্তরের ক্ষয়ের জন্যে দায়ী নয়।

উৎস:
১. পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. ব্রিটানিকা। [লিংক] 

২,২৩৯.
নিচের কোন পদার্থের বিজারণ ঘটে?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. কার্বন
  3. ফ্লোরিন
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- জারক পদার্থ অপর পদার্থকে জারিত করে, কিন্তু নিজে বিজারিত হয়। ক্লোরিন, ফ্লোরিন ইত্যাদি প্রায় সকল অধাতু হলো জারক।
- বিজারক পদার্থ অপর পদার্থকে বিজারিত করে, কিন্তু নিজে জারিত হয়। ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি প্রায় সকল ধাতু এবং কার্বন হলো বিজারক পদার্থ।
সুত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,২৪০.
বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার - 
  1. সমানুপাতিক
  2. ব্যস্তানুপাতিক
  3. বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
বর্গমূলের সমানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গমূলের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∞ √T 
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। 
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৪১.
কোন পটাশ এলাম নামে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. ফিটকিরি
  3. সেভিং সোপ
  4. ডিটারজেন্ট
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি।
- রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] (পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট, ২৪ অণু পানি);
•একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।

• ফিটকিরি:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
-অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ; রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪২.
আমাদের ধমনীর রক্তের pH কত?
  1. ক) ৭.২
  2. খ) ৭.৩
  3. গ) ৭.৪
  4. ঘ) ৭.৫
  5. ঙ) উপরের কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭.৪
ব্যাখ্যা
আমাদের ধমনীর রক্তের pH প্রায় ৭.৪ । এর সামান্য হেরফের হলে (~ ০.৪) মারাত্বক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
২,২৪৩.
নিচের কোন কয়লায় কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. বিটুমিনাস
  2. অ্যানথ্রাসাইট
  3. লিগনাইট
  4. কোনোটিই না
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ। পরবর্তীতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। 

- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা: 
১। অ্যানথ্রাসাইট: অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 

২। বিটুমিনাস: বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৪৪.
কোন রঙের বস্তু সকল আলো শোষণ করে নেয়?
  1. ক) সাদা রঙের
  2. খ) কালো রঙের
  3. গ) সবুজ রঙের 
  4. ঘ) লাল রঙের
সঠিক উত্তর:
খ) কালো রঙের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালো রঙের
ব্যাখ্যা

কালো রঙের বস্তু সকল আলো শোষণ করে নেয়। 

- কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে। তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়।
- সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়।
- যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়। যেমন - আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়। আবার, দিনের বেলা সূর্যালোকে গাছের পাতা সবুজ দেখায় কিন্তু লাল আলোতে গাছের পাতা কালো বলে মনে হয়।
- দিনে গাছের সবুজ পাতা সূর্যালোকের সবুজ বাদে সাতটি বর্ণের সবকটিই শোষণ করে ফলে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলোকে শোষণ করে নেয় বলে কোনো আলোই প্রতিফলিত হয় না তাই লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 

২,২৪৫.
কোনটি শক্তি পরিমাপের একক নয়?
  1. ক) Nm
  2. খ) Joule
  3. গ) Unit
  4. ঘ) Watt
সঠিক উত্তর:
ঘ) Watt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Watt
ব্যাখ্যা
শক্তি: 
- কাজ করার সামর্থকে শক্তি বলে।
- শক্তি থাকলেই কাজ হয়। তাই কাজ  শক্তি একই জিনিস।

কাজ: কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে যদি বলের দিকে বস্তুর সরণ হয় তাহলে বল ও সরণের গুণফলকে কাজ বলে।

W = F.s

একক: 
Nm, Joule, Unit( বিদ্যুৎ শক্তি পরিমাপের একক)।

১ unit = ৩.৬ × ১০ joule

উৎস: মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।
২,২৪৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সুপ্ততাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না করে শুধু অবস্থার পরিবর্তন করে
  2. খ) সুপ্ততাপ পদার্থের আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে
  3. গ) পদার্থের অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা

আমরা জেনেছি তাপ প্রয়োগ করলে পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ে একথা সব সময় সত্য নয়। তাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলেও বরফ গলা শুরু হয়ে সম্পূর্ণ বরফ পানি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ে না, গলনাঙ্কে (0°C) স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ বরফের অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

আবার একইভাবে পানির তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে (১০০°C) পৌঁছার পর সম্পূর্ণ পানি বাষ্পে রূপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ পানির অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

যে তাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেবল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় তাকে ঐ পদার্থের অবস্থা পরিবর্তনের সুপ্ত তাপ বলে। এই সুপ্ত তাপ দুই পর্যায়ের : গলনের সুপ্ত তাপ এবং বাষ্পীভবনে সুপ্ত তাপ।

এই তাপ শক্তি পদার্থের তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না, কিন্তু আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে। এ কারণে কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বা বন্ধন শিথিল হয়ে তরলে রূপান্তরিত হয়। আবার তরল অণুগুলোর আন্তঃআণবিক বন্ধন ছিন্ন করে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। আসলে এই তাপ শক্তি বস্তুর অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয়।
এখানে কঠিন থেকে তরলে এবং তরল থেকে বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তর হয়।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,২৪৭.
১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° C বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপ কত ক্যালরি?
  1. ১.০ ক্যালরি
  2. ২.৪ ক্যালরি
  3. ০.১ ক্যালরি
  4. ১০ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
১.০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৪৮.
ভোল্টমিটার কোন যন্ত্রের সাহায্যে বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে?
  1. অ্যামিটার
  2. থার্মোমিটার
  3. ইলেকট্রোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা
ভোল্টমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হবে, ভোল্টমিটারকে সেই দুই বিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- ভোল্টমিটারে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে যার সাহায্যে বিভব পার্থক্য পরিমাপ করা যায়। 
- এর বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি ভোল্ট এককে দাগাঙ্কিত একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হয় ভোল্টমিটারটিকে সেই দুই কিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- তড়িৎ কোষ বা অ্যামিটারের মতো ভোল্টমিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,২৪৯.
বিউটেনের অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা কত?  
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• বিউটেন-এর অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা হলো ৪ টি।

• হাইড্রোকার্বন:  
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন):  
- যেসব হাইড্রোকার্বনে কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র একক বন্ধন থাকে এবং অবশিষ্ট যোজনী হাইড্রোজেন দিয়ে পূর্ণ থাকে, তাদের অ্যালকেন বলে।  
- সাধারণ সংকেত: CnH2n + 2 (যেখানে n = ১, ২, ৩, ৪, …)

• বিউটেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন।  
বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত: C4H10
অর্থাৎ এটি ৪টি কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এর অণুতে ৪টি কার্বন ও ১০টি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে।

তথ্যসূত্র:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৫০.
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ কী? 
  1. এক ধরনের বিষ
  2. এক ধরনের ড্রাগ
  3. এক ধরনের কীটনাশক
  4. এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ড্রাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ড্রাগ
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়।  
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে।
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়।
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।
২,২৫১.
Natrium কার ল্যাটিন নাম?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) টাংস্টেন
সঠিক উত্তর:
গ) সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম এর ল্যাটিন নাম Natrium যা থেকে এর প্রতীক Na এসেছে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,২৫২.
জারক পদার্থ -
  1. ইলেকট্রন ত্যাগ করে
  2. ইলেকট্রন গ্রহণ করে
  3. অন্যকে বিজারিত করে
  4. নিজে জারিত হয়
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,২৫৩.
নিচের কোনটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া?
  1. লিগনাইট কয়লা → পিট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
  2. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → পিট কয়লা
  3. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা
  4. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
সঠিক উত্তর:
পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- প্রাকৃতিক কারণে গাছপালা ভূগর্ভে মাটির নিচে চাপা পড়ে। 
- সুদীর্ঘকাল যাবৎ অধিক চাপ ও তাপের প্রভাবে ঐ চাপাপড়া গাছপালার মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তখন স্তরীভূত ও কঠিন পদার্থরূপে পরিণত ঐ দহনযোগ্য জীবাশ্মকে কয়লা বলে। 
- ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ হলো পিট কয়লা। 
- তারপর ধারাবাহিক রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লিগনাইট কয়লা, বিটুমিনাস কয়লা ও শেষে উন্নত অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,২৫৪.
কোনটি পরম শূন্য তাপমাত্রা? 
  1. 0°C
  2. 273°C
  3. - 273°C
  4. 373°K
সঠিক উত্তর:
- 273°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- 273°C
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
২,২৫৫.
গতির বেগ বৃদ্ধি হলে, ঘর্ষণ বল-
  1. ক) হ্রাস পায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) শূন্য হয়
  4. ঘ) একই থাকে
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
গতির বেগ কমলে ঘর্ষণ বল বাড়ে। গতির বেগ বৃদ্ধি হলে ঘর্ষণ বল কমে।
২,২৫৬.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার থাকে
  2. কঠিন পদার্থের অণুগুলো এদের গড় অবস্থানকে ঘিরে স্পন্দিত হয়
  3. কঠিন পদার্থের অণুগুলো খুব কাছাকাছি থাকে
  4. কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়
সঠিক উত্তর:
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়
ব্যাখ্যা

• কঠিন পদার্থের জন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- এদের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে, অণুগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থান করে এবং অণুগুলো প্রায় স্থির থাকে, তবে সামান্য স্পন্দন করে। কঠিনের অণুগুলোর মধ্যে শক্ত আকর্ষণশক্তি কাজ করে, যার ফলে তারা সহজে স্থানান্তরিত হয় না। তাই “ঘ) কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়” এই বর্ণনা কঠিন পদার্থের জন্য প্রযোজ্য নয়, কারণ বাস্তবে কঠিনে অণুগুলোর মধ্যে বল খুবই প্রবল। অন্য তিনটি বৈশিষ্ট্য কঠিনের প্রকৃতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলিত। সুতরাং, কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অসঙ্গত বৈশিষ্ট্য হলো (ঘ)।

• পদার্থ:
- যার ভর ও আয়তন আছে, একটি নির্দিষ্ট স্থান দখল করে এবং চাপ প্রয়োগে বাধাদান করে তাকে পদার্থ বলা হয়।

• অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা:
- কঠিন পদার্থ, তরল পদার্থ ও বায়বীয় পদার্থ। 
এই ৩ টি অবস্থা ছাড়াও পদার্থের আরো ২ টি অবস্থা দেখা যায়।
যথা 
- তরল স্ফটিক অবস্থা ও প্লাজমা অবস্থা। 

• কঠিন অবস্থা (Solid state):
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে।
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য।
- গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে।

• কঠিন অবস্থার ধর্ম:
- সুনির্দিষ্ট বিন্যাস,
- দৃঢ়তা ও আলোক ধর্ম ,
- নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৫৭.
পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯৮ নিউটন, বৃহস্পতি গ্রহে ঐ বস্তুর ভর কত হবে?
  1. ক) ৯৮ কেজি
  2. খ) ৬০৮ কেজি
  3. গ) ১০ কেজি
  4. ঘ) অনির্ণেয়
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ কেজি
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, কোন বস্তুর ওজন = বস্তুর ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
ভর = ওজন / অভিকর্ষজ ত্বরণ
= ৯৮ / ৯.৮
= ১০ কেজি

সুতরাং, পৃথিবীতে বস্তুর ভর ১০ কেজি। 

যেহেতু বস্তুর ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাই বৃহস্পতি গ্রহেও বস্তুর ভর ১০ কেজি হবে।
২,২৫৮.
কোন যন্ত্র বা উপকরণ তাড়িতচৌম্বক আবেশের সাহায্যে কাজ করে?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ট্রানজিস্টর
  3. অ্যামপ্লিফায়ার
  4. ডায়োড
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• যন্ত্র বা উপকরণগুলোর মধ্যে তাড়িতচৌম্বক (ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক) আবেশের সাহায্যে কাজ করে ট্রান্সফরমার। ট্রান্সফরমার মূলত একটি যন্ত্র যা এক ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক প্রবাহকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে। এটি কাজ করে চৌম্বকীয় আবেশের উপর ভিত্তি করে। যখন প্রাথমিক কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক ধারা প্রবাহিত হয়, তখন এটি একটি পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে সেকেন্ডারি কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। ট্রান্সফরমার সাধারণত বিদ্যুৎ বিতরণ, যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ সংকোচনে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ট্রানজিস্টর, অ্যামপ্লিফায়ার এবং ডায়োড প্রধানত সেমিকন্ডাক্টর তত্ত্বের ওপর কাজ করে, তারা সরাসরি চৌম্বক আবেশের মাধ্যমে কার্যকর হয় না।

- উত্তর: ক) ট্রান্সফরমার।
 
• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

• ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।

- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে প্রদত্ত সংকেত বহির্গামীতে বিবর্ধিত করে তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে।
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৫৯.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি? 
  1. রেটিনা
  2. অন্ধবিন্দু
  3. আইরিশ
  4. পিউপিল
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা
রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২,২৬০.
জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহসমূহের গতি সম্পর্কে কয়টি সূত্র প্রদান করেন?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।
যেমন-
প্রথম সূত্র:
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র:
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: 
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৬১.
একটি পরমাণুর দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ১৮
  2. ৩২
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে। এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে।
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান।
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n এর মান 1, 2, 3 শক্তিস্তর ইত্যাদি।
n = 1 হলে প্রথম প্রধান শক্তিস্তর, n = 2 হলে দ্বিতীয় প্রধান শক্তিস্তর। 
 - পরমাণুর প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3 ...............) থাকতে পারে। 
এই সূত্রানুসারে, 

১ম শেলে অর্থাৎ n=1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2 = 2×12=2 টি, 
২য় শেলে অর্থাৎ n=2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা  2n2 = 2×22= 8 টি, 
৩য় শেলে অর্থাৎ n=3শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2 = 2×32= 18 টি, 
৪র্থ শেলে অর্থাৎ n=4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা  2n2 = 2×42 = 32টি ।
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,২৬২.
আইনস্টাইন কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. জার্মানি
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা
• আলবার্ট আইনস্টাইন:
- আলবার্ট আইনস্টাইন ১৪ মার্চ ১৮৭৯ সালে জার্মানির উলম শহরে জন্মগ্রহন করেন।
- আপেক্ষিকতার সূত্র বা Theory of Relativity আবিষ্কার করেন।
- ভর শক্তি সম্পর্ক (E=mc2) স্থাপন করেন তিনি।
- তিনি ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,২৬৩.
4 kg ভরবিশিষ্ট একটি বস্তুর উপর 40N বল 10 sec ক্রিয়া করে । বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হলো-
  1. ক) 40kg ms-1
  2. খ) 100kg ms-1
  3. গ) 4kg ms-1
  4. ঘ) 400kg ms-1
সঠিক উত্তর:
ঘ) 400kg ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 400kg ms-1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 4 kg ভরবিশিষ্ট একটি বস্তুর উপর 40N বল 10 sec ক্রিয়া করে । বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হলো-

সমাধান:
আমরা জানি,
ত্বরণ = (শেষ বেগ - আদি বেগ)/অতিক্রান্ত সময়
⇒ a = (v - u)/t
বস্তুর ভর m হলে,
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন = mv - mu

আবার,
বল F = ma
⇒ F = m (v - u)/t
⇒ Ft = m(v - u)
⇒ m(v - u) = Ft
⇒ mv - mu = 40 × 10
= 400 Kgms-1

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,২৬৪.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলোক সংকেত পরিবহনের মূলনীতি কোনটি? 
  1. অপবর্তন
  2. বিচ্ছুরণ 
  3. প্রতিসরণ
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবারে আলোক সংকেত পরিবহনের মূলনীতি হচ্ছে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন। 

 অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন-পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়, এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,২৬৫.
নিচের কোনটি আইসোবার হওয়ার প্রধান শর্ত?
  1. ভর সংখ্যা ভিন্ন
  2. ভর সংখ্যা সমান
  3. প্রোটন সংখ্যা সমান
  4. নিউট্রন সংখ্যা সমান
সঠিক উত্তর:
ভর সংখ্যা সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর সংখ্যা সমান
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number):
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৬.
কোথায় সাঁতারকাটা কম আয়াসসাধ্য?
  1. সুইমিংপুল
  2. পুকুর
  3. নদী
  4. সমুদ্র
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
ব্যাখ্যা
- নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে প্লবতা বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- প্লবতা প্রবাহীর ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে (সমানুপাতিক)।
- নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কিছু বেশি।
- তাই সাঁতার কাটার সময় নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানিতে বেশি উর্ধ্বমুখী বল পাওয়া যায়।
- এ কারণে নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও কালের কণ্ঠ।
২,২৬৭.
নিচের কোনটি জারক?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ফ্লোরিন
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) খ ও গ উভয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি সকল ধাতু এবং কার্বন ও হাইড্রোজেন দু'টি অধাতু হল বিজারক। কার্বন ও হাইড্রোজেন ব্যতীত সকল অধাতু যেমন ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ফসফরাস ইত্যাদি হল জারক।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২,২৬৮.
শব্দের তীব্রতা কত উন্নীত হলে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে?
  1. ক) ১২০ ডিবি
  2. খ) ৮৫ ডিবি
  3. গ) ৭৫ ডিবি
  4. ঘ) ৪৫ ডিবি
সঠিক উত্তর:
খ) ৮৫ ডিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮৫ ডিবি
ব্যাখ্যা
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (ডিবি)।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডিবি হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং
- মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৯.
'গোধুলীর' কারণ কী?
  1. বিক্ষেপণ
  2. প্রতিসরণ
  3. প্রতিফলন
  4. অনুরনন
সঠিক উত্তর:
বিক্ষেপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
আলোর বিক্ষেপণ: 
- গোধূলির প্রধান কারণ হলো আলোর বিক্ষেপণ। 
- আলো কোন মাধ্যমে যাওয়ার পথে মাধ্যমের কণাগুলোর সাথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করে তাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা, পানিকণা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বেগুনী, নীল, আসমানি প্রভৃতি বর্ণের বিক্ষেপণ বেশি ঘটে। 
- আলোর বিক্ষেপণ এর ফলেই আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশের খানিকটা অংশ গাড় লাল দেখায়। 

অন্যদিকে, 
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশকালে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়ে যদি পূর্বের মাধ্যমেই ফিরে আসে তবে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে দিক পরিবর্তন করে। এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,২৭০.
ব্যতিচার হওয়ার শর্ত কোনটি?
  1. উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে
  2. একই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক উৎস হতে হবে
  3. তরঙ্গ দুটির বিস্তার সমান হতে হবে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ব্যতিচার (Interference):
- দুটি আলোক উৎস থেকে একই বিড়ারের এবং একই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো নির্গত হয়ে কোনো বিন্দুতে আপতিত হলে উপরিপাতনের ফলে কোথাও উজ্জ্বল এবং কোথাও অন্ধকার সৃষ্টি হয়। আলোর এই উজ্জ্বলতার হ্রাস-বৃদ্ধির ঘটনাকে ব্যতিচার বলে।
- সমদশা সম্পন্ন আলো রশ্মির উপরিপাতনের ফলে উজ্জ্বল বা চরম এবং বিপরীত দশা সম্পন্ন আলো রশ্মির উপরিপাতনের ফলে অন্ধকার বা অবম-এর সৃষ্টি হয়। এটি একটি অবস্থানিক ঘটনা।

ব্যতিচারের শর্তঃ-
১। উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে।
২। একই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক উৎস হতে হবে।
৩। তরঙ্গ দুটির বিস্তার সমান হতে হবে।
৪। তরঙ্গ উৎস দুটি খুব কাছাকাছি হতে হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭১.
জারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়-
  1. অ্যানােডে
  2. ক্যাথােডে
  3. অ্যানােড এবং ক্যাথােড উভয়টিতে
  4. বর্ণিত কোনটিতেই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যানােডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানােডে
ব্যাখ্যা
• জারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে।

- বিজারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথোডে।
- যে ধাতব পাতে ধাতু বা কোন আয়ন ইলেকট্রন ছেড়ে দেয় তাকে ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড বলে অন্যদিকে যে তড়িৎদ্বারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ইলেকট্রন শোষিত হয় তাকে ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড বলে।
- কোন পরমাণু, আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ-ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ-ঋণাত্মক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭২.
জারণ বিজারণ একটি-
  1. ক) আলাদা বিক্রিয়া
  2. খ) সম্পূরক বিক্রিয়া
  3. গ) যুগপৎ ক্রিয়া
  4. ঘ) একক বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যুগপৎ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুগপৎ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
জারণ বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন ত্যাগ করে বিজারক, সে অন্য পদার্থকে ইলেকট্রন গ্রহণ করিয়ে সেই পদার্থের বিজারণ ঘটায় বলে তাকে বিজারক বলে। ইলেকট্রন গ্রহণ করে জারক, অন্য পদার্থের ইলেকট্রন ত্যাগের মাধ্যমে সে পদার্থের জারণ ঘটায় বলে একে জারক বলে।জারণ বিজারণ একই সাথে ঘটে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,২৭৩.
উপসর্গ “ন্যানো (Nano)” দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1.  10-6
  2.  10-9
  3.  10-12
  4.  10-15
সঠিক উত্তর:
 10-9
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 10-9
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “ন্যানো (Nano)” দ্বারা বোঝানো হয়- 10-9 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৭৪.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো কী অনুসারে সাজানো?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ঘনত্ব
  4. গলনাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণি:
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেওয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে। 

আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলো পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার (Number of Protons) ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
• 1913 সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
-  পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় (Period) বা অনুভূমিক সারি এবং 1৪টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বামদিকে গ্রুপ 1 থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ 18 পর্যন্ত বিস্তৃত।
-  মূল পর্যায় সারণির নিচে আলাদাভাবে ল্যান্থানাইড ও অ্যাকটিনাইড সারির মৌল হিসেবে দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে 6 এবং 7 পর্যায়ের অংশ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,২৭৫.
মহাকর্ষসূত্র ও ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) জোহান কেপলার
  2. খ) গ্যালিলিও গ্যালিলি
  3. গ) আইজ্যাক নিউটন
  4. ঘ) নিকোলাস কোপার্নিকাস
সঠিক উত্তর:
গ) আইজ্যাক নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইজ্যাক নিউটন
ব্যাখ্যা
আইজ্যাক নিউটন
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

নিকোলাস কোপার্নিকাস
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহানস কেপলার (১৫৭১-১৬৩০) গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি
- গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৬.
দুটি পরমাণু একে অপরের আইসোটোপ হলে, তাদের কোনটি সমান থাকে? 
  1. ভর সংখ্যা 
  2. ইলেকট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা 
  4. প্রোটন সংখ্যা 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

আইসোেটাপ (Isotopes): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। এদের মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৭৭.
ট্রানজিস্টরে টার্মিনাল হিসেবে থাকে -
  1. ক) ইমিটার
  2. খ) বেস
  3. গ) কালেক্টর
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। যথা:
i) ইমিটার (Emitter),
ii) বেস (Base) এবং
iii) কালেক্টর (Collector)।

- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৮.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বজায় থাকে তাকে কী বলে?
  1. অণু
  2. পরমাণু
  3. প্রোটন
  4. ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে।
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়।
- আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়।

- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন- O2
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন-CO2

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭৯.
সরল ছন্দিত গতির ক্ষেত্রে ত্বরণের দিক সর্বদা কোন অভিমুখে থাকে?
  1. সরণ অভিমুখী
  2. বেগ অভিমুখী
  3. সাম্য অবস্থান অভিমুখী
  4. বাহ্যিক বলের অভিমুখী
সঠিক উত্তর:
সাম্য অবস্থান অভিমুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য অবস্থান অভিমুখী
ব্যাখ্যা

• সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থান অভিমুখী এবং এটি সরণের সমানুপাতিক।

• পর্যাবৃত্ত গতি:
- কোনো বস্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
- পর্যাবৃত্ত গতি দুই ধরনের, ঘূর্ণন গতি, স্পন্দন গতি।

• পর্যায়কাল:
- পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।

• স্পন্দন গতি:
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় এক নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে ঐ গতিকে স্পন্দন গতি বা ছন্দিত গতি বলে।

• সরল ছন্দিত গতি:
- পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি যদি সরল রৈখিক হয় তবে তাকে সরল ছন্দিত গতি বলে।
- এ গতিতে ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক।
- ত্বরণের দিক সর্বদা সাম্য অবস্থান অভিমুখী।

• তরঙ্গ:
- জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না তাকে তরঙ্গ বলে।

• যান্ত্রিক তরঙ্গ ও তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ:
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে।
- মাধ্যম ছাড়াও যে বিশেষ ধরনের তরঙ্গ সঞ্চারিত হয় তাকে তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৮০.
কালো রং হিসেবে ছাপার কালি ও টাইপরাইটারের রিবনে ব্যবহৃত হয় -
  1. কাঠ কয়লা
  2. প্রাণিজ কয়লা
  3. ভুসা কয়লা
  4. সক্রিয় চারকোল
সঠিক উত্তর:
ভুসা কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসা কয়লা
ব্যাখ্যা

কার্বনের ব্যবহার: 
- কার্বনের দু'টি রূপভেদ আছে, যথা গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
- বিভিন্ন রূপভেদে কার্বনের ব্যবহারও বিভিন্ন।

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন (lubrication) করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

হীরকের ব্যবহার:
- ডায়মন্ড বা হীরক ভংগুর হলেও প্রকৃতিতে প্রাপ্ত পদার্থসমূহের মধ্যে অন্যতম কঠিনতম।
- ডায়মন্ড উত্তম তাপ- পরিবাহী হলেও বিদ্যুৎ-অপরিবাহী।
- হীরক একটি মূল্যবান রত্ন, দামী অলংকার প্রস্তুতিতে এর উল্লেখযোগ্য ব্যবহার রয়েছে।
- কম দামী হীরক যা অলংকারে ব্যবহার করা যায়না সেগুলো কাঁচ কাটার কাজে, শক্ত বস্তু মসৃন করার জন্য, কঠিন শিলা জাতীয় পদার্থ ছিদ্র করার যন্ত্রে (drill) এবং শান দেওয়ার পাথর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অদানাদার কার্বনের ব্যবহার: 
১। কাঠ কয়লা: জ্বালানিরূপে, ধাতু নিষ্কাশনে বিজারক পদার্থরূপে, বারুদের উপাদান হিসেবে, তেলের গন্ধ দূরীকরণে জীবাণুনাশক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। 
২। প্রাণিজ কয়লা: এর অত্যধিক শোষণ ক্ষমতার কারণে এটি চিনি পরিশোধনে ও বিরঞ্জনে ব্যবহৃত হয়। 
৩। সক্রিয় চারকোল: গ্যাস মুখোশে এবং চিনি, তৈল প্রভৃতি বিরঞ্জনে ও পরিশোধনে এটি ব্যবহৃত হয়।
৪। ভুসা কয়লা: কালো রং হিসেবে এটি ছাপার কালি, কার্বন পেপার, টাইপরাইটারের রিবন, জুতার কালি প্রভৃতি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী, নাগ)। 
২. রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২৮১.
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে কোন বিক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়? 
  1. জারণ
  2. বিজারণ
  3. প্রশমন
  4. অধঃক্ষেপ
সঠিক উত্তর:
জারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে।
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮২.
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে- 
  1. ট্রানজিস্টর
  2. রেকটিফায়ার
  3. অ্যামপ্লিফায়ার
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে। 
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে। 
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না। 
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৩.
ইস্পাতে কী কী উপাদান থাকে?
  1. লোহা ও নিকেল
  2. লোহা ও কার্বন
  3. লোহা ও ক্রোমিয়াম
  4. লোহা ও জিংক
সঠিক উত্তর:
লোহা ও কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা ও কার্বন
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু:
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৪.
জীবাশ্ম সমন্ধীয় বিজ্ঞান কোনটি?
  1. ফাইটোজেনি
  2. ফসিওলজি
  3. মরফোলজি
  4. প্যালেন্টোলজি
সঠিক উত্তর:
প্যালেন্টোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যালেন্টোলজি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৫.
নিচের কোনটির উপর ভিত্তি করে থার্মোকাপল তৈরি হয়েছে?
  1. Seebeck effect
  2. Faraday’s law
  3. Lenz law
  4. Gauss law
সঠিক উত্তর:
Seebeck effect
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Seebeck effect
ব্যাখ্যা
- থার্মোকাপলে দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- যদিও অধিকাংশক্ষেত্রে তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি করা হয়।
- থার্মোকাপল Seebeck effect এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি, sciencedirect.com।
২,২৮৬.
নিচের কোনটি একটি মিশ্র পদার্থ?
  1. বায়ু
  2. তাপ
  3. বিদ্যুৎ
  4. আলো
সঠিক উত্তর:
বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু
ব্যাখ্যা
• বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ এটি বিভিন্ন গ্যাস যেমন নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, এবং অন্যান্য গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত। এই গ্যাসগুলো একসঙ্গে মিশে একটি একক পদার্থ তৈরি করে, যা সহজেই আলাদা করা যায় না, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন উপাদান সমন্বিত। অন্যদিকে, তাপ, বিদ্যুৎ এবং আলো পদার্থ নয়; এগুলো শক্তির রূপ। তাই বায়ু মিশ্র পদার্থ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, কারণ এটি বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ যা একত্রে থাকলেও প্রত্যেকটি উপাদানের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। বায়ু ছাড়া অন্য কোনো অপশন মিশ্র পদার্থ নয়।

• বায়ুকে মিশ্র পদার্থ বলার কারণ:
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়।
- দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোনো অনুপাতে একত্রে মিশ্রিত করলে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়।
- বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ বায়ুতে এর উপাদানসমূহ যেমন- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে।

অন্যদিকে,
- তাপ, বিদ্যুৎ এবং আলো হলো শক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,২৮৭.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. বেগ
  2. ত্বরণ
  3. মন্দন
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
• দিকের বিবেচনায় রাশিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: সদিক রাশি বা ভেক্টর রাশি এবং নির্দিক রাশি বা স্কেলার রাশি।

ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
- যেমন: সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।
- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।

স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
- যেমন: দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি।
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৮৮.
তরঙ্গের উপরে অবস্থিত পর পর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার দূরত্বকে কী বলে? 
  1. তরঙ্গমুখ
  2. কম্পাঙ্ক
  3. বিস্তার
  4. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
তরঙ্গমুখ: 
- পানির মধ্যে আন্দোলন সৃষ্টি করে তরঙ্গ উৎপন্ন হলে তরঙ্গ বৃত্তের আকারে পানির উপর বিস্তৃত হয়। 
- একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বৃত্তের উপরস্থ পানি কণাগুলাে একবার উপরে উঠছে ও একবার নিচে নামছে বা তরঙ্গচূড়া (crest) ও তরঙ্গখাজ (trough) উৎপন্ন হচ্ছে। 
- তরঙ্গচূড়ায় অবস্থিত সকল কণার দশা একই আবার তেমনি তরঙ্গখাজে অবস্থিত সকল কণার দশা সমান। 
অর্থাৎ, কোনাে তরঙ্গের উপর অবস্থিত সমদশা সম্পন্ন কণাগুলাের গতিপথ (locus)-কে তরঙ্গমুখ বলে। 

তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কোনো কম্পনশীল কণার বা তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার একটি কম্পন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে
তাকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। 
তরঙ্গের উপরে অবস্থিত পর পর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার দূরত্বই তরঙ্গদৈর্ঘ্য। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা একক সময়ে যতগুলো পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে তাকে ঐ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f বলে। 
- কোনো কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক f = N/t . 
- কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা স্থির বা সাম্যাবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
২,২৮৯.
সাধারণ বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চাপে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কত সে.মি? 
  1. ৭.৬ সে.মি.
  2. ৭৬.০ সে.মি.
  3. ০.৭৬ সে.মি.
  4. ০.০৭৬ সে.মি.
সঠিক উত্তর:
৭৬.০ সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৬.০ সে.মি.
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের চাপের পরিবর্তন ও আবহাওয়া: 
- নলের মধ্যে এই পারদ স্তম্ভের দাঁড়িয়ে থাকার কারণ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টত বুঝা যায়, বাটির উন্মুক্ত পারদ তলের উপর সম্পূর্ণ বায়ুমণ্ডল যে চাপ প্রয়োগ করছে সেই চাপ পারদের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে নলের ভিতরে ঊর্ধমুখে ক্রিয়া করে। এই ঊর্ধমুখী চাপ না থাকলে অভিকর্ষজ ত্বরণের জন্য বা পারদের ওজনের জন্য নলের ভিতরের পারদ নিচে নেমে আসতো। 
- সুতরাং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নলের মধ্যকার পারদ স্তম্ভের চাপের সমান। 
- সাধারণ বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চাপের ক্ষেত্রে পারদ স্তম্ভের এই উচ্চতা ৭৬ সে.মি.। 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। 
- এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 

- বায়ু চাপ পরিমাপের এই যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। 
- এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯০.
এক্সরে রশ্মির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এক্সরে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
  2. এক্সরে আলোর সমবেগে গমন করে।
  3. এক্সরে আলোর তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শন করে।
  4. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
সঠিক উত্তর:
এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
ব্যাখ্যা
এক্সরে রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
১. এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২. এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। 
৩. এক্সরে তড়িৎচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪. এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫. এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬. আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন ঘটে ।
৭. এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শন করে।
৮. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
৯. এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১০. এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১১. এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯১.
p-n জাংশন এর অপর নাম কী?
  1. অর্ধপরিবাহী
  2. অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. ট্রায়োড
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
• p-n জাংশন এর অপর নাম হলো অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার। 

• অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার:

- অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার হলো এমন একটি p-n জাংশন ভিত্তিক ডিভাইস, যা AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current)-তে রূপান্তর করে। এটি মূলত একটি অর্ধপরিবাহী ডায়োড।

• p-n জাংশন হলো একটি অর্ধপরিবাহী উপাদান যেখানে p-টাইপ এবং n-টাইপ উপাদান একসাথে যুক্ত থাকে।
- এটি একমুখী বৈদ্যুতিক প্রবাহে সহায়তা করে, অর্থাৎ এটি একদিকে বিদ্যুৎ যেতে দেয়, আরেকদিকে দেয় না।
- এই বৈশিষ্ট্যটির জন্য p-n জাংশনকে রেকটিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে ডায়োড আকারে। তাই এর অপর নাম অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার।

• বৈশিষ্ট্য:
→ একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ:
- বিদ্যুৎ কেবল একদিকে প্রবাহিত হতে পারে (Forward Bias)। 
- বিপরীত দিকে বাধা দেয় (Reverse Bias)। 
→ গঠন:
- একটি p-টাইপ ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহী পদার্থ
→ কাজের ধরন:
- এসি → ডিসি রূপান্তর 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২,২৯২.
ডায়োড কোন ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়? 
  1. দুটি ধাতু 
  2. দুটি ইনসুলেটর 
  3. শুধুমাত্র n টাইপ অর্ধপরিবাহী 
  4. একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী
সঠিক উত্তর:
একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৯৩.
গ্রীষ্মকালে কোন রঙের জামা আরামদায়ক?
  1. ক) নীল
  2. খ) লাল
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) কালো
সঠিক উত্তর:
গ) সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাদা
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
২,২৯৪.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ মানবদেহে কোন রোগের কারণ হতে পারে?
  1. ক্যান্সার
  2. অ্যানিমিয়া
  3. যক্ষ্মা 
  4. ডায়াবেটিস
সঠিক উত্তর:
ক্যান্সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যান্সার
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন- রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২,২৯৫.
সালোকসংশ্লেষণে শক্তির কোন ধরনের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) আলোক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. গ) আলোক শক্তি বিপাকীয় শক্তিতে
  4. ঘ) আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা

সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে যে এরা সূর্যালােকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলােকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

২,২৯৬.
বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরানোর ক্ষেত্রে কীরূপে শক্তির রূপান্তর হয়?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে
  3. বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৭.
পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন অনুপাত কত?
  1. ২:১
  2. ১:২
  3. ১:৫
  4. ১:১
সঠিক উত্তর:
১:২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১:২
ব্যাখ্যা
- পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 1 : 2  ।  

যৌগিক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে।
যেমন -
- যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হোক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ, পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 1 : 2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৯৮.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের গতিবেগ কত মিটার/সেকেন্ড?
  1. ক) ৩৩২
  2. খ) ০
  3. গ) ২৮০
  4. ঘ) ১১২০
সঠিক উত্তর:
খ) ০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল।
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব।

শব্দের বেগ: 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 m/s।
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 m/s পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। যেমন বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 m/s, পানি মাধ্যমে 1450m/s এবং লোহার মধ্যে 5220 m/s।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

উল্লেখ্য, মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৯.
হীরক ও গ্রাফাইটের মূল উপাদান কি?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ভূসা কালি
  3. গ) কোক
  4. ঘ) গ্রাফিন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
ব্যাখ্যা
- একই মৌল প্রকৃতিতে বিভিন্ন ভৌত গুণাগুণ প্রদর্শন করে কিন্তু রাসায়নিক ধর্মের তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না।
- অর্থাৎ কিছু অধাতব মৌলের রাসায়নিক গুণাগুণ মোটামুটি অভিন্ন হলেও ভৌত ধর্মের মধ্যে বিভিন্নতা থাকে।
- এইসব পদার্থ বা মৌলগুলোকেই বহুরূপী মৌল বলে এবং মৌলের এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় বহুরূপতা।
- উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, গ্রাফাইট ও হিরক একই মৌল কার্বন দ্বারা গঠিত হলেও এদের ভৌত ধর্ম এবং রাসায়নিক ধর্মে পার্থক্য বিদ্যমান।
- অর্থাৎ হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ। শুধু তাই নয়; প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।

উৎস : সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩০০.
Liquefied Petroleum Gas এর প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক) মিথেন ও অকটেন
  2. খ) অকটেন ও বিউটেন
  3. গ) প্রোপেন ও বিউটেন
  4. ঘ) মিথেন ও ডেকেন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রোপেন ও বিউটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রোপেন ও বিউটেন
ব্যাখ্যা
- এলপি গ্যাসের মূল উপাদান: প্রোপেন ও বিউটেন। 
- এলপি গ্যাসের পূর্ণরূপ: Liquefied Petroleum Gas (LPG)

Liquefied Petroleum Gas (LPG), also called LP gas, any of several liquid mixtures of the volatile hydrocarbons propene, propane, butene, and butane. It was used as early as 1860 for a portable fuel source, and its production and consumption for both domestic and industrial use have expanded ever since. 
 
উৎস: প্রথম আলো, ব্রিটানিকা