বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

খনিজ সম্পদ: ধাতু, অধাতু ও জীবাশ্মসমূহ

মোট প্রশ্ন৩২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

খনিজ সম্পদ: ধাতু, অধাতু ও জীবাশ্মসমূহ

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩২৪

২০১.
মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে নিচের কোন উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না?
  1. লোহা
  2. নিকেল
  3. ক্রোমিয়াম
  4. কপার
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা
- মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে 'কপার' উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না।

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
- আবার, লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। 
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচে কিছু সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
শিলার বৈশিষ্ট্য কোনটি সঠিক?
  1. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায় না
  2. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায়
  3. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয় এবং গাছ পালা জন্মে
  4. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে না
সঠিক উত্তর:
শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায় না
ব্যাখ্যা
মাটি: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 

শিলা: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

খনিজ পদার্থ ও খনিজ সম্পদ: 
- ভূপৃষ্টের সকল স্থানেই বিভিন্ন ধাতু বা অধাতুর যৌগ পাওয়া গেলেও তা সব সময় লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় না। যদি ভূপৃষ্টের উপরিতলে বা ভূপৃষ্টের অভ্যন্তরে কোন যৌগ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা থেকে কোন ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায়, তবে সেই স্থানকে খনি বলে। আর খনি থেকে প্রাপ্ত পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। 
- আবার যদি এসকল পদার্থ লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় তবে এদের খনিজ সম্পদ বলা হয়। 
- স্বর্ণ, হীরা, কয়লা, সালফার ইত্যাদি খনিতে মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়, তাই এগুলো মৌলিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 
- মৌলিক খনিজ ব্যতিত সকল খনিজই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায় এবং এগুলো যৌগিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না, খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
লেড (Pb) আহরণের জন্য কোন আকরিক ব্যবহৃত হয়? 
  1. চুনাপাথর 
  2. ক্যালামাইন 
  3. গ্যালেনা 
  4. কপার পাইরাইট 
সঠিক উত্তর:
গ্যালেনা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালেনা 
ব্যাখ্যা

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে, এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
ধাতু ⇒ আকরিক: 
• মার্কারি ⇒ সিন্নাবার (HgS), 
লেড ⇒ গ্যালেনা (PbS)
• ক্যালসিয়াম ⇒ চুনাপাথর (CaCO3), 
• অ্যালুমিনিয়াম ⇒ বক্সাইট (Al2O3.2H2O), 
• জিংক ⇒ জিংক ব্লেন্ড (ZnS) ও ক্যালামাইন (ZnCO3), 
• কপার ⇒ কপার পাইরাইট (CuFeS2) ও চালকোসাইট (Cu2S) এবং 
• আয়রন ⇒ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), হেমাটাইট (Fe2O3) ও লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৪.
প্লাস্টার অফ প্যারিস বলা হয়-
  1. শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট
  2. শুষ্ক ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম সালফেটের অণুকে
  4. দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অণুকে
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
• প্লাস্টার অফ প্যারিস (Plaster of Paris - POP) হলো শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট।
- এটি ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট বা জিপসাম (Gypsum) কে গরম করে পানি মুক্ত করলে তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
- শুষ্ক ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) → এটি চুনাপাথর (Limestone) বা মার্বেল নামে পরিচিত।
- দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO₄·2H₂O) → এটি জিপসাম (Gypsum), যা POP তৈরির মূল উপাদান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২০৫.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. মশা
  2. পিঁপড়া
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৬.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্য ধাতুর নয়?
  1. ঘাতসহনীয়তা 
  2. নমনীয়তা
  3. অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা
  4. উচ্চ ঘনত্ব 
সঠিক উত্তর:
অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

- ধাতুর সাধারণ ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ঘাতসহনীয়তা, নমনীয়তা এবং উচ্চ ঘনত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা ধাতুর সাধারণ কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। 

ধাতু-অধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে।আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৭.
বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সালফার
  2. রক ফসফেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আমরা নানা কাজে ব্যবহার করি।
- এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউরিয়া সার উৎপাদন।
- শতকরা প্রায় ২১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিদ্যুৎও উৎপন্ন করা হয় প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে।
- শতকরা প্রায় ৫১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাসই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- প্রায় শতকরা ২২ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয় শিল্পকারখানায়, ১১ ভাগ বাসাবাড়িতে এবং ১১ ভাগ জ্বালানি হিসেবে।
- এছাড়া প্রায় শতকরা ১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত হয়।
- বাকি শতকরা ৫ ভাগ অপচয় (System Loss) হয়।
- আমাদের দেশে ২০০৩ সাল থেকে যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা শুরু হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২০৮.
'হেমাটাইট' কোন খনিজ পদার্থের একটি আকরিক?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. আয়রন
  3. সোডিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
হেমাটাইট
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৯.
যন্ত্রসভ্যতার ভিত্তি কোন খনিজ পদার্থ?
  1. লৌহ
  2. তামা
  3. গ্রাফাইট
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
যেমন- লৌহ (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au), রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

লৌহ আকরিক (Iron Ore): 
- লৌহ যন্ত্রসভ্যতার ভিত্তি। 
- কলকব্জা, রেলপথ, রেলগাড়ি, মোটর, জাহাজ, গৃহের কাঠামো প্রভৃতি নির্মাণে লৌহ অত্যাবশ্যক। 
- লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের উন্নতির সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি জড়িত, কিন্তু প্রচুর লৌহ না থাকলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠা খুবই কষ্টকর। 
- এ লৌহ কিন্তু সরাসরি খনি হতে পাওয়া যায় না, এটা অন্যান্য খনিজ পদার্থের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। 
- এ মিশ্রিত লোহাকে লৌহ আকরিক (Iron Ore) বলা হয়। 
- আকরিকে শতকরা ৪০ ভাগের কম লৌহ থাকলে তা উত্তোলন করা লাভজনক নয়। 
- পৃথিবীর মোট উৎপাদনের প্রায় ৯৮% চীন, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, রাশিয়া, ইউক্রেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা হতে উত্তোলিত হয়। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
যেমন- কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica), গ্রাফাইট, জিপসাম, কয়লা, খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
২১০.
১ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট =_________ জুল।
  1. ১০০০ জুল
  2. ১০২৫ জুল
  3. ১০৫৫ জুল
  4. ১১০০ জুল
সঠিক উত্তর:
১০৫৫ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৫৫ জুল
ব্যাখ্যা
কয়লার জ্বালানি মান বা ক্যালরিফিক মান: 
- কয়লার জ্বালানি মানকে ক্যালরিফিক মান (calorific value) বলে। 
- এ ক্যালরিফিক মান BTU এককে প্রকাশ করা হয়। 
- এক পাউন্ড কয়লাকে পোড়ালে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে সে কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা বা জ্বালানি মান বলে। 
- কয়লার জ্বালানি মানকে BTU তাপ এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- বড় পুকুরিয়া কয়লার ক্যালরিফিক মান হলো 11040 BTU/Ib. 
- রেলওয়ে লোকোমোটিভ ও বয়লারের জ্বালানিরূপে পিট কয়লা ব্যবহার করা হয়। 

ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (BTU): 
- এক পাউন্ড পানির (453.59 g) তাপমাত্রা 1° ফারেনহাইট (1°F) বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপ-শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে এক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (IBTU) বলে। 
- ক্যালরিফিক মান (1 BTU) = 1055 J = 252.145 (calorie)

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২১১.
কোয়ার্টজ নিচের কোনটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. কাঁচ তৈরিতে
  2. সিরিজ কাগজ তৈরিতে
  3. রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১২.
নিচের কোন পরিবেশে লোহার ক্ষয় সবচেয়ে দ্রুত হয়?
  1. শুষ্ক বায়ু
  2. আর্দ্র বায়ু
  3. তেলের আবরণ
  4. নিষ্ক্রিয় গ্যাসে
সঠিক উত্তর:
আর্দ্র বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্দ্র বায়ু
ব্যাখ্যা
• লোহার মরিচা ধরা একটি ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল করোশন প্রক্রিয়া। 
- লোহা (iron) যখন আর্দ্র বায়ু বা আর্দ্র পরিবেশে থাকে, তখন তার ক্ষয় (corrosion) সবচেয়ে দ্রুত হয়। এই প্রক্রিয়াকে মরিচা বা জং ধরা বলা হয়।
- আর্দ্র বায়ুতে পানি ও অক্সিজেন উপস্থিত থাকে, যা লোহার সাথে প্রতিক্রিয়া করে লোহা অক্সাইড (Fe₂O₃·xH₂O) বা জং তৈরি করে।
- আর্দ্রতা বা পানি উপস্থিত থাকলে, লোহা দ্রুত অক্সিডাইজড হয়, যার ফলে ক্ষয় আরও দ্রুত হয়।


ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি: 
- অ্যানোডিক সুরক্ষা: জিংক প্রলেপ (গ্যালভানাইজিং)।
- ক্যাথোডিক সুরক্ষা: বিদ্যুৎপ্রবাহ প্রয়োগ। 
- অ্যালয় গঠন: স্টেইনলেস স্টিল (Cr + Ni মিশ্রণ)। 

অন্যদিকে, 
শুষ্ক বায়ু: এখানে আর্দ্রতা নেই, তাই ক্ষয় কম হয়।

তেলের আবরণ: তেল লোহার উপর একটি আবরণ সৃষ্টি করে, যা লোহাকে বাতাস এবং আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করে।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসে: এখানে কোনো প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় লোহা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন,  নবম-দশম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
২১৩.
উড়োজাহাজের বডি তৈরিতে কোন সংকর ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইটিনল
  2. খ) ক্রায়োলাইট
  3. গ) ডুরালমিন
  4. ঘ) গান মেটাল
সঠিক উত্তর:
গ) ডুরালমিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডুরালমিন
ব্যাখ্যা
উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলে পার্টস ইত্যাদিতে সংকর ধাতু ডুরালমিন ব্যবহৃত হয়৷
ডুরালমিনে আছে ৯৫% এলুমিনিয়াম, ৪% কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা ১%৷

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২১৪.
নিচের কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. নমনীয়তা 
  2. তাপ নিরোধকতা 
  3. ঘাতসহনীয়তা 
  4. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা 
সঠিক উত্তর:
তাপ নিরোধকতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ নিরোধকতা 
ব্যাখ্যা

- ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়- তাপ নিরোধকতা, কারণ ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহন করতে পারে, তাই তারা তাপ নিরোধক নয়। তাপ নিরোধকতা হলো এমন পদার্থের ধর্ম, যা তাপ প্রবাহে বাধা দেয় যেমন- কাঠ, কাচ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 

ধাতু-অধাতু: 

- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৫.
উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম কোনটি?
  1. লিমুলাস
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. নিটাম
সঠিক উত্তর:
নিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৬.
বক্সাইট কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আয়রন
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
আকরিক: 
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৭.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু কোনটি?
  1. টাংস্টেন
  2. হীরা
  3. তামা
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২১৮.
নিচের কোন হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী?
  1. HI
  2. HBr
  3. HF
  4. HCl
সঠিক উত্তর:
HI
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HI
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন এসিড:
- হ্যালোজেন গ্রুপের এসিডগুলোর শক্তি তাদের H—X বন্ধনের (Bond Strength) দুর্বলতা এবং হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) মুক্ত করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
- এসিডের শক্তি: HI > HBr > HCl > HF।
- HI হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী।
- হাইড্রোজেন এবং আয়োডিন পরমাণুর মধ্যে বন্ধন দীর্ঘ এবং দুর্বল, তাই এটি সহজেই H⁺ আয়ন মুক্ত করে।
- আয়োডিনের বড় পরমাণু ব্যাসার্ধ (Atomic Radius) থাকার কারণে এটি H⁺ আয়নকে সহজে আলাদা করতে পারে, যা এসিডের শক্তি বাড়ায়।
- হ্যালোজেন গ্রুপের নিচের দিকে নামার সাথে সাথে এসিডের শক্তি বাড়ে। কারণ বন্ধনের শক্তি দুর্বল হয় এবং H⁺ আয়ন সহজে মুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২১৯.
রান্নার সিলিন্ডারে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. মিথেন
  2. বিউটেন
  3. হেক্সেন
  4. অকটেন
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
ব্যাখ্যা
• রান্নার সিলিন্ডারে প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়।

• LPG:

- রান্নার চুলার সিলিন্ডারে যে গ্যাস ব্যবহৃত হয়, তাকে বলা হয় এলপিজি (LPG – Liquefied Petroleum Gas)।

• এলপিজি মূলত দুটি গ্যাসের মিশ্রণ:
- ৩০% প্রোপেন, 
- ৭০% বিউটেন। 

বিউটেন হলো একটি হাইড্রোকার্বন, যার রাসায়নিক সংকেত C4H10
- এটি একটি স্যাচুরেটেড অ্যালকেন গ্যাস, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় গ্যাস কিন্তু চাপ প্রয়োগ করলে সহজেই তরলে রূপান্তরিত হয়।

• বিউটেন ব্যবহারের কারণ- 

- এটি তরল অবস্থায় সহজে সংরক্ষণযোগ্য, 
- দ্রুত জ্বলে, 
- প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, 
- কম বিষাক্ত। 

তথ্যসূত্র:
- Bangladesh Petroleum Corporation (BPC). 
- ব্রিটানিকা। 
২২০.
সালফানাইড প্রস্তুতিতে সালফার কেন ব্যবহার করা হয়? 
  1.  গ্যাস উৎপাদনের জন্য 
  2. তাপমাত্রা কমানোর জন্য 
  3.  রঙ দেয়ার জন্য 
  4. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য 
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য 
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার হলুদ বর্ণের পদার্থ।
- সালফারের খনি মাটির অনেক নিচে থাকে।
 - ফ্রাশ (Frasch) পদ্ধতিতে সালফারের খনি থেকে সালফারকে নিষ্কাশন করা হয়।
- এক্ষেত্রে মাটির অনেক নিচে সালফারের খনির মধ্যে তিনটি এককেন্দ্রিক পাইপ প্রবেশ করানো হয়, যাকে ফ্লাশ পাইপ বলে।
- সালফার 115° C তাপমাত্রায় গলে যায়। এজন্য সালফারের গলনাঙ্কের চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় গরম পানি (সুপার হিটেড ওয়াটার) তিনটি এককেন্দ্রিক নলের বাইরের পাইপ দিয়ে প্রবাহিত করা হয় যাতে গরম পানির তাপমাত্রায় সালফার গলে যায়।
- এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100° C, কিন্তু চাপ বাড়ালে পানির স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। এভাবে অতিরিক্ত চাপে 100° C থেকে 374° C তাপমাত্রার মধ্যবর্তী যেকোনো তাপমাত্রার পানিকে সুপার হিটেড ওয়াটার বলে। 
- এবার সবচেয়ে ভিতরের পাইপ দিয়ে 20-22 বায়ুমণ্ডল চাপের বাতাস প্রবাহিত করা হয়। একদিকে বাইরের পাইপ দিয়ে গরম পানির চাপে এবং সবচেয়ে ভিতরের পাইপ দিয়ে বাতাসের চাপে গলিত সালফার মাঝের পাইপ দিয়ে মাটির উপরে উঠে এসে বাইরের পাত্রে জমা হয়। 

সালফারের ব্যবহার: 
- সালফার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
(i) সালফিউরিক এসিড প্রস্তুতিতে সালফার ব্যবহার করা হয়। 
(ii) রাবারকে টেকসই করার জন্য রাবারের মধ্যে সালফার যোগ করা হয়, একে রাবারের ভলকানাইজিং বলে। 
(iii) সালফানাইড দ্বারা বিভিন্ন প্রকার ওষুধ তৈরি করা হয়। সালফানাইড ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। সালফানাইড প্রস্তুতিতে সালফার ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২২১.
রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে কোন খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়? 
  1. সিলভার
  2. চুনাপাথর
  3. মাইকা
  4. কোয়ার্টজ
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা (Fe), তামা  (Cu), সোনা (Au) এবং  রূপা (Ag) ইত্যাদি।
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি।

- গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর (CaCO3) খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২২.
সবচেয়ে উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা নিচের কোনটি?
  1. পিট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. অ্যানথ্রাসাইট
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- কোনো এক যুগে ভূপৃষ্ঠস্থ বিশেষ এক ধরনের গাছপালা ভূগর্ভে প্রোথিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ তাপ ও উপরের শিলাস্তরের চাপের ফলে তা রূপান্তরিত হয়ে এক ধরনের শিলাস্তরে পরিণত হয় তাকে কয়লা বলে।
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা কার্বনের সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
- কার্বনের পরিমাণ বেশি হলে তাপ প্রদানের ক্ষমতাও অধিক হয়।
সুতরাং, তাপ প্রদানের ক্ষমতা দ্বারাই কয়লার গুণাগুণ বিচার করা হয়।
- গুণাগুণের পার্থক্য অনুযায়ী কয়লাকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যথা- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পিট।
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট: 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

২। বিটুমিনাস: 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

৪। পিট:
- পিট হচ্ছে এক ধরণের নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

উল্লেখ্য, 
- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই অনুসারে, কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)। 
২২৩.
নিচের কোনটি অধাতু নয়?
  1. সালফার
  2. ক্লোরিন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কপার
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা

কপার (Cu) বা তামা একটি ধাতু।
- এটি পর্যায় সারণীর একটি ডি-ব্লক মৌল এবং এর পারমাণবিক সংখ্যা ২৯।
- এটি নরম, নমনীয় এবং অত্যন্ত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- এটি সাধারণত বৈদ্যুতিক তার, মুদ্রা ও বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

খনিজ পদার্থ:
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। যেমন-সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথাঃ ধাতু ও অধাতু।

ধাতু: ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিনিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক।

অধাতু: কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।

উল্লেখ্য,
-প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৪.
কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি যার মূল উপাদান হচ্ছে- 
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা এবং এর মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ, পরবর্তীতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৫.
কোন শ্রেণির কয়লায় কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে কম?
  1. এ্যানথ্রাসাইড কয়লা
  2. বিটুমিনাস কয়লা
  3. বাদামি কয়লা
  4. পীট কয়লা
সঠিক উত্তর:
পীট কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পীট কয়লা
ব্যাখ্যা

কয়লার শ্রেণী বিভাগ:
- কয়লা কার্বনের সমাবেশ মাত্র। কয়লার গুনাগুন তাপ প্রদান ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল।
- কয়লার গুনাগুনের তারতম্য অনুযায়ী কয়লাকে প্রধানত চার শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়।
যেমন: 
১। এ্যানথ্রাসাইড কয়লা
২। বিটুমিনাস কয়লা
৩। লিগনাইট বা বাদামি কয়লা
৪। পীট কয়লা

নিম্নে বিভিন্ন শ্রেণীর কয়লার বর্ণণা দেয়া হলো: 
১। এ্যানথ্রাসাইড: এ শ্রেণীর কয়লা সবচেয়ে শক্ত ও উৎকৃষ্ট শ্রেণীর। এটার রং ঘন কৃষ্ণবর্ণ, উজ্জল ও ভারী হয়ে থাকে। এটা সহজে প্রজ্জলিত হতে চায় না। তবে একবার প্রজ্জলন হলে নীল আভাযুক্ত প্রচন্ড তাপ উৎপন্ন হয় এবং দীর্ঘ সময় জ্বলতে থাকে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।

২। বিটুমিনাস কয়লা: এটি মধ্যম শ্রেণীর কয়লা যা থেকে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। তবে সামান্য ধোয়াও বের হয়ে থাকে। এতে ৮২ ভাগ কার্বন ও ৫ ভাগ হাইড্রোজেন থাকে। পৃথিবীর সঞ্চিত কয়লার ৭৫ ভাগ কয়লাই এ শ্রেণীভূক্ত।

৩। লিগনাইট বা বাদামী কয়লা: এটি একটি নিকৃষ্ট ধরনের কয়লা। এটি সাধারনত নরম ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে থাকে। এর রং বাদামী বলে একে বাদামী কয়লাও বলা হয়। এতে ৬৫ ভাগ কার্বন থাকে। এ ধরনের কয়লায় গ্যাস ও জলীয় বাষ্প বেশী থাকার ফলে তাপ তুলনামূলক ভাবে কম হয়।

৪। পীট কয়লা: এটি কয়লার মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন মানের। এটাকে পুরপুরি কয়লা বলা যায় না। এতে মাত্র ৪৯% কার্বন থাকে এবং জ্বালালে খুব ধোঁয়া হয়। অত্যন্ত কম কার্বন থাকে বলে তাপ উৎপাদন ক্ষমতা খুব কম এবং খুব তাড়াতাড়ি পুড়ে যায়। 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২২৬.
কত ক্যারেট স্বর্ণ ১০০% বিশুদ্ধ?
  1. ক) ২৫ ক্যারেট
  2. খ) ২৪ ক্যারেট
  3. গ) ২২ ক্যারেট
  4. ঘ) ২১ ক্যারেট
সঠিক উত্তর:
খ) ২৪ ক্যারেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৪ ক্যারেট
ব্যাখ্যা

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২২৭.
পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্ট শিলাকে কী বলা হয়? 
  1. জীবাশ্ম শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। 
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে। 
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা। 
- এই শিলায় জীবাশ্ম নেই। এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অস্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী। 
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়। 

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): 
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম এবং রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি। 

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): 
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৮.
ডিজিটাল ঘড়িতে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে ওঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. ক) এলইডি
  2. খ) সিলিকন চিপ
  3. গ) এলসিডি
  4. ঘ) আইসি
সঠিক উত্তর:
গ) এলসিডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এলসিডি
ব্যাখ্যা
আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলি সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে।
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।

সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই।
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
২২৯.
নিচের কোনটি মেটালয়েড?
  1. ক) থ্যালিয়াম
  2. খ) টেলুরিয়াম
  3. গ) সীসা
  4. ঘ) সেলেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) টেলুরিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টেলুরিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যে সকল মৌলের ক্ষেত্রে ধাতু ও অধাতু উভয় শ্রেণির ধর্ম প্রকাশ পায়; তাদেরকে অপধাতু বা মেটালয়েড বলে।
বোরন, সিলিকন, জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম- এই ছয়টি মৌল হলো অপধাতু।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৩০.
পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য হল-
  1. মাটির অনেক গভীরে থাকে
  2. ভিজা ও নরম
  3. পাহাড়ী এলাকায় পাওয়া যায়
  4. দহন ক্ষমতা কয়লার তুলনায় অধিক
সঠিক উত্তর:
ভিজা ও নরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিজা ও নরম
ব্যাখ্যা
- পীট কয়লা হলো জৈব পদার্থের আংশিক পচন দ্বারা গঠিত স্পঞ্জি উপাদান যা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিদ উপাদান। 
- পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্ন মানের কয়লা যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়। 
- পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে। 
- শুষ্ক অবস্থায় এটি অবাধে জ্বলে। 
- এতে শনাক্তযোগ্য উদ্ভিজ্জ কণিকা বিদ্যমান থাকলেও মণিক নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২৩১.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. বায়োগ্যাস
  3. কয়লা 
  4. তরল পেট্রোলিয়াম
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
জ্বালানি ও জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে জ্বালানি বলা হয়। 
- জ্বালানিই তাপশক্তির প্রধান উৎস। 

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরল পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- এগুলো প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়।

অন্যদিকে, 
- বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস
- এটি সাম্প্রতিক জৈব পদার্থের পচন থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্বল্প সময়ে পুনরায় উৎপাদনযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩২.
গ্রাফাইট মূলত ____ এর একটি রুপ।
  1. ক) কার্বন
  2. খ) আর্গন
  3. গ) হ্যালোজেন
  4. ঘ) জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
ব্যাখ্যা
কার্বন একটি অধাতু। কিন্তু কার্বন এরই অন্য একটি রুপ গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবাহী।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৩৩.
জীবাশ্ম জ্বালানির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—
  1. ক্লোরিন-সমৃদ্ধ
  2. সোডিয়াম-সমৃদ্ধ
  3. সিলিকন-সমৃদ্ধ
  4. কার্বন-সমৃদ্ধ
সঠিক উত্তর:
কার্বন-সমৃদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন-সমৃদ্ধ
ব্যাখ্যা

◉ জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, টার স্যান্ড, অয়েল শেল ইত্যাদি) জৈব উৎস থেকে গঠিত হাইড্রোকার্বন; তাই এদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো কার্বন-সমৃদ্ধতা।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস, ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

২৩৪.
স্বর্ণের সাথে কোন ধাতু মিশিয়ে গয়না টেকসই করা হয়? 
  1. আয়রন
  2. রূপা 
  3. কার্বন 
  4. ক্রোমিয়াম 
সঠিক উত্তর:
রূপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপা 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না, স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৫.
নিচের কোন মৌল ক্ষার ধাতুর উদাহরণ? 
  1. রূপা (Ag)
  2. ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
  3. সোনা (Au)
  4. সোডিয়াম (Na)
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম (Na)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম (Na)
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রুপা (Ag) ও সোনা (Au)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৬.
কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরির উপকরণ কী?
  1. কয়লা
  2. গ্রাফাইট
  3. হীরক
  4. লেড
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
• হীরক ধাতু: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৭.
কয়লা কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. অজৈব পদার্থ 
  2. জৈব পদার্থ
  3. ধাতব পদার্থ 
  4. প্লাস্টিকজাত পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
জৈব পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব পদার্থ
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কাণ্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে, মাটির নিচে পাতা ও কাণ্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
- জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
যেমন- কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৮.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতুর উদাহরণ? 
  1. লিথিয়াম 
  2. সোডিয়াম 
  3. কপার 
  4. ক্যালসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
কপার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌলকে (লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম, সিজিয়াম এবং ফ্রানসিয়াম) ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষারধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত 6 টি (বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম) মৌলকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।  
- এই ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- এরা ক্ষার তৈরি করে, এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর 4 টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম 3 টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম (Rg) ছাড়া অন্য যে 3 টি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৯.
গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী
  2. স্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
  4. তেজস্ক্রিয়তা
সঠিক উত্তর:
তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

• গ্রাফাইট:
- গ্রাফাইট হল কার্বনের একটি রূপ। এটি কার্বনের একটি অ্যালোট্রোপ। 

• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য:
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ ও তাপের সুপরিবাহী।
- এটি অস্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ। 
- গ্রাফাইট খুব নরম এবং পিচ্ছিল।
- গ্রাফাইট রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল।
- গ্রাফাইটের গলনাঙ্ক উচ্চ (প্রায় ৩৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কার্বনের সবচেয়ে স্থিতিশীল রূপ।
- গ্রাফাইটের স্তরযুক্ত গঠন এর ইলেকট্রনগুলোকে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যেতে সাহায্য করে, ফলে বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২৪০.
স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকা ধাতু কোনটি?
  1. পারদ
  2. সোডিয়াম
  3. কপার
  4. ব্রোমিন
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
পারদ: 
'পারদ' একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০ । 
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস। 
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। 
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪১.
ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ কোনটি ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত হয়?
  1. যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে
  2. যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে
  3. ব্যাটারি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে
ব্যাখ্যা

- ইলেকট্রোপ্লেটিং বা তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়ায় যে বস্তুর ওপর প্রলেপ দিতে হয়, সেটিকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের বা ক্যাথোডের সাথে যুক্ত করা হয়। যেহেতু দ্রবণে থাকা ধাতব আয়নগুলো ধনাত্মক চার্জযুক্ত থাকে, তাই সেগুলি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ক্যাথোডের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং সেখানে জমা হয়ে স্তরের সৃষ্টি করে। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এই প্রক্রিয়ায় যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- আর যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- ব্যাটারি হলো শক্তির উৎস, এটি নিজে কোনো প্রান্তের সাথে যুক্ত হয় না বরং এর মাধ্যমেই সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪২.
তামার সাথে নিচের কোনটি মেশালে পিতল হয়?
  1. নিকেল
  2. টিন
  3. সিসা
  4. দস্তা (জিঙ্ক)
সঠিক উত্তর:
দস্তা (জিঙ্ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা (জিঙ্ক)
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে, যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৩.
'জিপসাম' কোন খনিজের আকরিক?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৪.
চকচকে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী মৌলকে কী বলে? 
  1. উপধাতু
  2. ধাতু
  3. অধাতু
  4. খনিজ
সঠিক উত্তর:
ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু
ব্যাখ্যা
- চকচকে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী মৌলকে ধাতু বলে।

পদার্থ: 
- সকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু।
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. বায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
◉ জীবাশ্ম জ্বালানি কয়েক মিলিয়ন বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশেষ থেকে গঠিত হয়, যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম। বায়োগ্যাস জৈব বর্জ্য (গোবর, উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ইত্যাদি) পচিয়ে উৎপাদিত হয়, তাই এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস।

বায়োগ্যাস: 
- বায়োগ্যাস হল জৈব পদার্থের পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন গ্যাসীয় জ্বালানি।
- এটি মূলত মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মিশ্রণ।
- বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য, কারণ জৈব পদার্থ ক্রমাগত উৎপাদিত হতে থাকে এবং এটি পচিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়। 
- অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বর্জ্য ভেঙে মিথেন উৎপন্ন করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 
২৪৬.
জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণার শাস্ত্রকে কী বলা হয়?
  1. Paleontology
  2. Archaeology
  3. Fossilogy 
  4. Anthropology
সঠিক উত্তর:
Paleontology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Paleontology
ব্যাখ্যা

- প্যালিওন্টোলজি (Paleontology) হলো বিজ্ঞানসম্মতভাবে জীবাশ্ম বা ফসিল (fossil) নিয়ে গবেষণা ও অধ্যয়নের শাস্ত্র

জীবাশ্ম: 

- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- Paleobotany হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়, এটি জীবাশ্মবিদ্যার (Paleontology) একটি উপশাখা। 

অন্যদিকে, 
- Fossilogy শব্দটি বিজ্ঞানে প্রচলিত বা স্বীকৃত কোনো শাখা নয়। 
- Archaeology হলো প্রাচীন মানুষের বস্তু, স্থাপনা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণা। 
- Anthropology হলো মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ এবং সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার শাস্ত্র।। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা।

২৪৭.
নিচের কোন ধাতু ইলেকট্রোপ্লেটিংয়ে সাধারণত ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক্রোমিয়াম
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. লোহার অক্সাইড
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৪৮.
কোনটি হ্যালোজেন মৌল নয়? 
  1. আয়োডিন
  2. ব্রোমিন
  3. আর্গন
  4. ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
আর্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্গন
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৯.
জিঙ্ক সালফেটকে কী বলা হয়?
  1. ব্লু ভিট্রিওল
  2. হোয়াইট ভিট্রিওল
  3. চাইনিজ হোয়াইট
  4. গ্রিন ভিট্রিওল
সঠিক উত্তর:
হোয়াইট ভিট্রিওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোয়াইট ভিট্রিওল
ব্যাখ্যা
• জিঙ্ক সালফেটকে বলা হয় হোয়াইট ভিট্রিওল।

• হোয়াইট ভিট্রিওল:
- জিঙ্ক সালফেট একটি অজৈব লবণ, যা হোয়াইট ভিট্রিওল নামে পরিচিত। এর রাসায়নিক সংকেত ZnSO4·7H2O।

• "ভিট্রিওল" শব্দটি ল্যাটিন vitriolum (কাচের মতো) থেকে এসেছে, কারণ এই লবণগুলি কাচের মতো স্বচ্ছ স্ফটিক গঠন করে।

অন্যদিকে,
• ব্লু ভিট্রিওল (কপার সালফেট):  

- আর্দ্র কপার সালফেটকে বলা হয় ব্লু ভিট্রিওল। 
- এর রাসায়নিক সংকেত CuSO4·5H2O
- এটি সাধারণত ছত্রাকনাশক, কীটনাশক এবং ইলেক্ট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহৃত হয়।

• গ্রিন ভিট্রিওল :  
- আর্দ্র ফেরাস সালফেটকে বলা হয় গ্রিন ভিট্রিওল। এর রাসায়নিক সংকেত FeSO4·7H2O।
- এটি একটি সবুজ রঙের স্ফটিক।
- এটি আয়রনের ঘাটতিজনিত রোগ এবং কিছু শিল্প প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

• চাইনিজ হোয়াইট:
- জিঙ্ক অক্সাইড ZnO কে চাইনিজ হোয়াইট বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২৫০.
কয়লার মূল উপাদান কোনটি?
  1. O
  2. C
  3. Ca
  4. Na
সঠিক উত্তর:
C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা- ১। অ্যানথ্রাসাইট,  ২। বিটুমিনাস এবং ৩। লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫১.
কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল?
  1. সালফার
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. মার্কারী
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
মার্কারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কারী
ব্যাখ্যা
- পারদ (Hg - মার্কারী) একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০।
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস।
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে।
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫২.
কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?
  1. ইউরিয়া
  2. কয়লা
  3. জিপসাম
  4. বিটুমিন
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
ব্যাখ্যা

• জিপসাম (CaSO4.2H2O) হলো সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল।

- সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামালসিমেন্ট শিল্পের সহায়ক উপাদানসমূহ:
- চুনাপাথর, কাদামাটি, জিপসাম প্রভৃতি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- যেসব দেশে এসব উপাদান বেশি পাওয়া যায় সেসব দেশ সিমেন্ট শিল্পে উন্নতি লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে এসব কাঁচামালের অভাব রয়েছে।
- ফলে এদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি।
 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৫৩.
Which of the following is not a metal?
  1. Gold
  2. Diamond
  3. Silver
  4. Copper
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
Diamond
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Diamond
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার (Silver), গোল্ড (Gold), কপার (Copper) ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু। 
- আবার কার্বন (গ্রাফাইট ও হীরক-Diamond), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ই্যাদি হচ্ছে অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৫৪.
কোনটি তরল ধাতু হিসেবে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. পারদ
  4. ওসমিয়াম
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
• সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।
• সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
• সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
• উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
• লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
• লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
• সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
• সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।
• পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম (Na) ধাতুকে ব্যবহার করা হয়।
• ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি থাকে অ্যালুমিনিয়াম (Al) ধাতু (ভূত্বকের প্রায় ৭%)।
• কাস্ট আয়রন/ ঢালাই লোহা: এটি সবচেয়ে অবিশুদ্ধ লোহা, এতে প্রায় ২-৪.৫% কার্বন থাকে।
• ইস্পাত বা স্টিল: এতে লোহার সাথে ০.১৫- ১.৫% কার্বন থাকে।
• অ্যান্টমনি ধাতুকে আঘাত করলে শব্দ হয় না।
• মুদ্রা ধাতু: তামা বা কপার, সিল্ভার, গোল্ড ইত্যাদি।
• কালো সোনা: জিরকন, ম্যাগনেটাইট, ইলমোনাইট, কোরান্ডাম, মোনানজাইট, রিটাইল প্রভৃতির সমন্বয়ে গঠিত মূল্যবান খলিজ কালো সোনা নামে পরিচিত।
• পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী ধাতু- ওসমিয়াম (প্লাটিনাম জাতীয়)।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই ও ব্রিটানিকা।
২৫৫.
কোনটি কার্বনের কঠিন ক্রিস্টালাইন রূপ?
  1. অরূপ কার্বন
  2. কার্বন ন্যানোটিউব
  3. ডায়ামন্ড
  4. কাচ 
সঠিক উত্তর:
ডায়ামন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়ামন্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ডায়ামন্ড

Carbon-এর বৈশিষ্ট্য
- পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে ১৯তম সর্বাধিক প্রচুর মৌল।
- মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, নিয়ন ও নাইট্রোজেনের পরেই কার্বন প্রচুর।
- মহাকাশে হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের ফিউশন থেকে কার্বন তৈরি হয়।

কার্বনের রূপ
- Crystalline forms: Diamond, Graphite.
- Fullerenes: Buckyballs, Nanotubes.
- Q-carbon: নতুন ক্রিস্টালাইন ও চৌম্বকীয় রূপ। 
- Amorphous carbon: কোনো নির্দিষ্ট স্ফটিক গঠন নেই। 
- অন্যান্য: Carbon black, Charcoal, Coke.

ব্যবহার
- Coal ও Coke: জ্বালানি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- Charcoal: শোষণকারী পদার্থ, ফিল্টার, জ্বালানি, গানপাউডারে হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  
- Carbon black: কালি, রং, রাবার (টায়ার) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  
- Bone black (Animal charcoal): গ্যাস ও রং শোষণ এর কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২৫৬.
নিচের কোনটি কার্বনের চৌম্বকীয় রূপ?
  1. হীরা
  2. ফুলারিন
  3. কার্বন ব্ল্যাক
  4. Q-কার্বন
সঠিক উত্তর:
Q-কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Q-কার্বন
ব্যাখ্যা

Q-কার্বন হচ্ছে কার্বনের একটি চৌম্বকীয় রূপ। 

কার্বনের বিভিন্ন রূপ
কার্বনের বিভিন্ন রূপ রয়েছে এবং প্রতিটি রূপের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিচে কয়েকটি রূপ আলোচনা করা হলো:

হীরা
- এটি কার্বনের একটি রূপ যা খুব কঠিন।
- হীরা সাধারণত অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফাইট
- এটি কার্বনের আরেকটি রূপ যা নরম এবং পিচ্ছিল।
- এটি পেন্সিল এবং পিচ্ছিলকারক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ফুলারিন
- এটি কার্বনের একটি রূপ যা C₆₀ নামক অণু দ্বারা গঠিত।
- এই অণুগুলো দেখতে অনেকটা ফুটবলের মতো।

কার্বন ন্যানোটিউব
- এগুলো হলো কার্বনের নলাকার গঠন।
- ন্যানোপ্রযুক্তি এবং নতুন যৌগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

Q-কার্বন
- এটি কার্বনের একটি কঠিন এবং চৌম্বকীয় রূপ।

অরূপ কার্বন
- এই কার্বনের কোনো নির্দিষ্ট স্ফটিক গঠন নেই।
- উদাহরণ: কার্বন ব্ল্যাক, কাঠকয়লা এবং কোক।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২৫৭.
কোনটি আয়রন বা লোহার আকরিক?
  1. বক্সাইট
  2. হেমাটাইট
  3. ক্রায়োলাইট
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
ব্যাখ্যা

হেমাটাইট আয়রন বা লোহার আকরিক। 

আয়রন বা লোহার আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট।

আরও,
সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]। 

২৫৮.
ধাতুর ক্ষেত্রে নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করে
  2. পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  4. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
সঠিক উত্তর:
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৯.
বক্সাইট খনিজ থেকে কোন ধাতু উত্তোলন করা যায়? 
  1. লেড 
  2. জিংক
  3. আয়রন 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়। 
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে। 

আকরিক: 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে। 
যেমন- 
• গ্যালেনা থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়। 
বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়। কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়। 
• আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস বলা হয়, আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 
অতএব, আকরিক অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬০.
গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলতে কী বোঝায়?
  1. লোহার উপর রুপার প্রলেপ দেওয়া
  2. লোহাকে তাপে গলিয়ে শক্তিশালী করা
  3. লোহাকে দস্তার প্রলেপ দেওয়া
  4. লোহাকে তাপে গলিয়ে বিশুদ্ধ করা
সঠিক উত্তর:
লোহাকে দস্তার প্রলেপ দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহাকে দস্তার প্রলেপ দেওয়া
ব্যাখ্যা

Galvanizing হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে লোহা বা ইস্পাতের উপর দস্তার (Zinc) আবরণ দেওয়া হয়। এই দস্তার স্তর বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে zinc oxide গঠন করে, যা লোহার উপর প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। এর ফলে লোহা সহজে মরিচা ধরে না এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২৬১.
পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি হ্রাসের জন্য কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. কোক
  2. গ্রাফাইট
  3. চারকোল
  4. হীরক
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
কার্বন: 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক্।  
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক। 

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২৬২.
'গ্রাফাইট' কোন ধরনের খনিজ সম্পদ? 
  1. ধাতব খনিজ
  2. ধাতব ও শক্তি সম্পদ
  3. অধাতব খনিজ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অধাতব খনিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধাতব খনিজ
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়। 
- এক বা একাধিক উপাদানে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে। 
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। 
যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ। 
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ। 
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ: 
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে। 
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে। 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল। 
- অলৌহ বর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি। 

২। অধাতব খনিজ: 
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে। 
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি। 

৩। শক্তি সম্পদ: 
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে। 
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
নিচের কোনটিকে নীরব ঘাতক বলা হয়? 
  1. N2O
  2. CO
  3. NO
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
CO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড (CO): 
- কার্বন মনোক্সাইড মানুষের অজান্তেই খুব সহজেই শ্বাসের সাথে ফুসফুসে চলে যায়। 
- কার্বন মনোক্সাইড সেখানে গিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে একটি জটিল যৌগ তৈরি করে। 
Hb + CO → Hb(CO) 
- যার ফলে অক্সিজেন বহুরূপে কাজ করতে পারে না, শ্বাসকষ্ট হয় এবং হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 
- তাই কার্বন মনোক্সাইডকে নীরব ঘাতক বলা হয়
২৬৪.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে একটি ধাতুর উপর অন্য একটি ধাতুর প্রলেপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. পেইন্টিং 
  2. ভলকানাইজিং 
  3. গ্যালভানাইজিং 
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং 
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোপ্লেটিং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোপ্লেটিং 
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ভলকানাইজিং: 
- রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে ভলকানাইজিং বলে। 

পেইন্টিং: 
- ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করার জন্য রং দেয়াকে পেইন্টিং বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬৫.
নিচের সবচেয়ে কম সক্রিয় ধাতু কোনটি?
  1. গোল্ড
  2. সিলভার
  3. ক্রোমিয়াম
  4. ক্যাডমিয়াম
সঠিক উত্তর:
গোল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোল্ড
ব্যাখ্যা
- সক্রিয়তা সিরিজে 'গোল্ড (Au)' ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 
 
- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৬.
নিচের কোনটি একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত খনিজ?
  1. সোনা
  2. লবণ
  3. চুনাপাথর 
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনা
ব্যাখ্যা

- একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত খনিজ হচ্ছে সোনা (Au)। 

খনিজ সম্পদ: 

- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোনা, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়। 
- সাধারণত দুইভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- (ক) ধাতব খনিজ, (খ) অধাতব খনিজ এবং (গ) জ্বালানি খনিজ। 

অন্যদিকে, 
- চুনাপাথর একটি যৌগিক খনিজ, প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) দ্বারা গঠিত।
- লবণ মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক যৌগ দ্বারা গঠিত খনিজ।
- জিপসাম ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট (CaSO4.2H2O) নামক যৌগ দ্বারা গঠিত একটি সালফেট খনিজ। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।

২৬৭.
ধাতুর সক্রিয়তা ক্রম কোনটি সঠিক?
  1. K> Li> Na> Mg
  2. K> Li> Mg> Na
  3. Li> K> Na> Mg
  4. Li> Na> K> Mg
সঠিক উত্তর:
Li> K> Na> Mg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Li> K> Na> Mg
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সক্রিয়তার সঠিক ক্রম: Li> K> Na> Mg।

• ধাতুর সক্রিয়তাক্রম:

- যে ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে ধাতু ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে ধাতু ততো কম সক্রিয়। 
- ধাতু সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৮.
সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা কোনটি? 
  1. অ্যানথ্রাসাইট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. ক্যালাসাইট
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 

- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট, 
২। বিটুমিনাস এবং 
৩। লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৯.
কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা __________ । 
  1. বেশি
  2. সমান
  3. কিছুটা কম
  4. অনেক বেশি কম
সঠিক উত্তর:
বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক বা বেশি। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭০.
নিচের কোনটি লাফিং গ্যাস?
  1. NO2
  2. N2O
  3. SO2
  4. N2O5
সঠিক উত্তর:
N2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
N2O
ব্যাখ্যা
• লাফিং গ্যাস:
- লাফিং গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত N₂O (ডাই নাইট্রোজেন মনোক্সাইড)।
- এটি একটি বর্ণহীন, মিষ্টি স্বাদের গ্যাস।
- শ্বাস নেওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য মেজাজ চঞ্চল বা হাসির অনুভূতি হয় এজন্যই নাম "Laughing Gas"।

উল্লেখ্য,
- হিলিয়াম (He): হালকা গ্যাস হওয়ায় এটি বেলুন এবং এয়ারশিপে ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S): পচা ডিমের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।
- মিথেন (CH4): পচনশীল জৈব পদার্থ, গবাদি পশুর অস্ত্র থেকে নির্গত হয়।
- আরগন (Ar): এটি বৈদ্যুতিক বাতিতে ব্যবহৃত হয়।
- চিপসের প্যাকেটে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।


উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২৭১.
'ডুরালমিন' সংকর ধাতুর মধ্যে কোন উপাদান সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. কপার
  3. ম্যাঙ্গানিজ
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালমিন' সংকর ধাতুর মধ্যে 'অ্যালুমিনিয়াম' উপাদান সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে যা শতকরা ৯৫ ভাগ। 

সংকর ধাতু: 

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 
 
 
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭২.
কয়লা কোন ধরনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. হাইড্রোজেন জ্বালানি
  2. তেজস্ক্রিয় জ্বালানি
  3. পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি
  4. জীবাশ্ম জ্বালানি
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (O2) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)।
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তীসময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।

- কয়লা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো আর এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৩.
সংকর ধাতু ব্রোঞ্জে কপারের পরিমাণ কত?
  1. ১০%
  2. ৯০%
  3. ৩৫%
  4. ৬৫%
সঠিক উত্তর:
৯০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০%
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু ব্রোঞ্জে কপারের পরিমাণ ৯০% এবং টিনের পরিমাণ ১০%।

• সংকর ধাতু:

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে।
- যেমন বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 

• কয়েকটি সংকর ধাতুর উপাদান ও সংযুক্তি:

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৪.
গ্যালভানাইজিং পদ্ধতিতে কী ব্যবহৃত হয়? 
  1. দস্তা
  2. প্লাস্টিক
  3. টিন
  4. সোনা
সঠিক উত্তর:
দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৭৫.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি? 
  1. জল বিদ্যুৎ
  2. জিও থার্মাল
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. পারমাণবিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 
যেমন: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম। 
- ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত ''পেট্রো + অলিয়াম''। 
- পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। 
অর্থাৎ, পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে। 
- আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়। 
- ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ, তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি। 

অন্যদিকে, 
- পারমাণবিক শক্তি, জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল বা ভূ-তাপীয় শক্তি হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
এসবেসটস কি?
  1. তেজস্ক্রিয় বালি
  2. লোহার আকরিক
  3. এক ধরনের সার
  4. অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ
সঠিক উত্তর:
অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ
ব্যাখ্যা
এসবেসটস অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ।

• এসবেসটস:
- এসবেসটস একটি প্রাকৃতিক খনিজ যা ফাইবার বা তন্তুর মতো গঠনযুক্ত এবং বিভিন্ন নির্মাণ ও শিল্প কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এটি প্রধানত তাপ, আগুন, রাসায়নিক ক্ষয়, এবং বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রতিরোধে কার্যকর।

• এসবেসটসের  বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ তাপ প্রতিরোধ ক্ষমতা: তাপ নিরোধক এবং অগ্নি প্রতিরোধক।
- টেকসই এবং নমনীয়: ফাইবার আকৃতির হওয়ায় এটি শক্তিশালী এবং সহজে গঠিত হয়।

ব্যবহার:
ছাদ, তাপ নিরোধক, পাইপ লাইন এবং ব্রেক প্যাড তৈরিতে।

উৎস: WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২৭৭.
জিংক এর খনিজ উৎস কোনটি?
  1. ক্যাসিটেরাইট
  2. ক্যালামাইন
  3. হেমাটাইট
  4. গ্যালেনা
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
ব্যাখ্যা

• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।

• খনিজ সম্পদ:
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ক্যাসিটেরাইট (SnO2): এটি মূলত টিন (Tin)-এর প্রধান খনিজ আকরিক।
- হেমাটাইট (Fe2O3): এটি আয়রন বা লোহার সবচেয়ে পরিচিত অক্সাইড আকরিক।
- গ্যালেনা (PbS): এটি লেড বা সীসার প্রধান খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৮.
নিচের কোনটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎসের উদাহরণ?
  1. বায়োগ্যাস
  2. কয়লা 
  3. তরল পেট্রোলিয়াম
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস কারণ এটি জৈব পদার্থ (যেমন- কৃষি বর্জ্য, পশুর মলমূত্র ইত্যাদি) থেকে অবায়বীয় পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই জৈব পদার্থগুলো ক্রমাগত পুনরায় পূরণ করা যায়, তাই বায়োগ্যাসকে নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।

জ্বালানি: 

- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে জ্বালানি বলা হয়। 
- জ্বালানিই তাপশক্তির প্রধান উৎস। 

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরল পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- এগুলো প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়। 

বায়োমাস শক্তি: 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়। 
- বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস। 
- এটি সাম্প্রতিক জৈব পদার্থের পচন থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্বল্প সময়ে পুনরায় উৎপাদনযোগ্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৯.
রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে কোন খনিজটি ব্যবহার করা হয়?
  1. কোয়ার্টজ
  2. মাইকা
  3. ম্যাগনেটাইট
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা (Fe), তামা  (Cu), সোনা (Au), কিংবা রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর (CaCO3) খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮০.
ধাতুর ক্ষেত্রে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক? 
  1. ধাতু আঘাতে টুন টুন শব্দ তৈরি করে না।
  2. ধাতুর গলনাঙ্ক কম ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি।
  3. ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।
  4. ধাতু তাপ সুপরিবাহী কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।
ব্যাখ্যা
ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮১.
পিতলের প্রধান ধাতু কী? 
  1. টিন
  2. কপার
  3. কার্বন
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং এক বা একাধিক থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। 
যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%, এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%, এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিলে প্রধান ধাতু লোহা থাকে 99% এবং অপ্রধান অধাতু কার্বন থাকে 1%, এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮২.
কোন মৌলিক পদার্থটি প্রকৃতিতে অবস্থা পরিবর্তন না করে খাঁটি অবস্থায় পাওয়া যায়? 
  1. সালফার
  2. ক্লোরিন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কপার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- সকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়; তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৩.
ধাতুর ঘনত্ব অধাতুর তুলনায় সাধারণত কেমন থাকে? 
  1. কম 
  2. বেশি 
  3. সমান 
  4. অপরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি 
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৪.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা
  2. খনিজ লবণ
  3. কোয়ার্টজ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 

ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

অধাতব খনিজ পদার্থ: 
কোয়ার্টজ (Quartz)
মাইকা (Mica) এবং 
খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৫.
Which metal remains in liquid form at normal temperature?
  1. Sodium
  2. Aluminium
  3. Gold
  4. Mercury
  5. Iron
সঠিক উত্তর:
Mercury
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mercury
ব্যাখ্যা
• পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।  

• ধাতু:
- যেসব উপাদান সাধারণত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয়, পিটিয়ে পাত করা যায়, ঘষলে চকচক করে সেসব উপাদানকে ধাতু বলে 

• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য:  
বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা: ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম।
তাপ পরিবাহিতা: ধাতু তাপ পরিবহনে সক্ষম।
চকচকে ভাব: ধাতুগুলির সাধারণত একটি উজ্জ্বল পৃষ্ঠ থাকে।
নমনীয়তা: ধাতুগুলিকে তারে পরিণত করা যায় বা পিটিয়ে পাতলা করা যায়।
কাঠিন্যতা: ধাতুগুলি সাধারণত কঠিন এবং দৃঢ় হয়। 
ধাতব বন্ধন: ধাতুগুলি ধাতব বন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। 

• পারদ:
- সাধারণ তাপমাত্রায়, একমাত্র তরল ধাতু হলো পারদ (Mercury)।
- এর প্রতীক Hg এবং পারমাণবিক সংখ্যা 80।
- এটি কক্ষ তাপমাত্রায় একটি চকচকে, রূপালী রঙের তরল ধাতু। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২৮৬.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. সালফার
  2. সোডিয়াম
  3. সিলভার
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- খনিজ পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু। 
- আবার কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল খনিজ পদার্থই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমান গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৭.
রাসায়নিকভাবে প্রায় অসক্রিয় ধাতু কোনটি?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) প্লাটিনাম
  3. গ) রূপা
  4. ঘ) সীসা
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাটিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি রাসায়নিকভাবে অধিক সক্রিয় ধাতু।
- জিংক বা দস্তা, লৌহ, সীসা ইত্যাদি মধ্যম মানের সক্রিয় ধাতু।
- কপার বা তামা, পারদ, রূপা ইত্যাদি কম সক্রিয় ধাতু।
- প্লাটিনাম এবং সোনা প্রায় অসক্রিয় ধাতু। এদের বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় প্রকৃতিতে।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২৮৮.
ক্যালামাইন কোন ধাতুর আকরিক ?
  1. আয়রন
  2. লেড
  3. কপার
  4. জিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
জিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিঙ্ক
ব্যাখ্যা

- ক্যালামাইন হচ্ছে জিঙ্ক ধাতুর আকরিক।

আকরিক:
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে।
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। - এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে।

- মার্কারি এর আকরিক:  সিন্নাবার (HgS)।
- জিংক এর আকরিক:  জিংক ব্লেন্ড (ZnS), ক্যালামাইন (ZnCO)।
- লেড এর আকরিক: গ্যালেনা (PbS)।
- আয়রন এর আকরিক: ম্যাগনেটাইট (Fe3O4),  হেমাটাইট (Fe2O3),  লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O)।
- কপার এর আকরিক: কপার পাইরাইট (CuFeS2), চালকোসাইট (Cu2) ।
- অ্যালুমিনিয়াম এর আকরিক: বক্সাইট (Al2O3.2H2O)।
- ক্যালসিয়াম এর আকরিক: চুনাপাথর (CaCO3)।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৯.
নিচের কোনটি অ্যালকেলি মেটাল (Alkali Metals)?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
• অ্যালকেলি মেটাল (Alkali Metals) বা ক্ষারধাতু:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১ (Group 1) এর মৌলসমূহকে অ্যালকেলি মেটাল (Alkali Metals) বলে।
- এরা অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু এবং এদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
এই গ্রুপের ধাতুগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- লিথিয়াম (Li), 
- সোডিয়াম (Na), 
- পটাসিয়াম (K), 
- রুবিডিয়াম (Rb), 
- সিজিয়াম (Cs), 
- ফ্রানসিয়াম (Fr), 

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
২৯০.
সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
  1. হিলিয়াম
  2. পারদ
  3. সোডিয়াম
  4. লিথিয়াম
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
ব্যাখ্যা

• লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।

২৯১.
আয়রনের আকরিক কোনটি? 
  1. লিমোনাইট
  2. ডলোমাইট
  3. ক্রায়োলাইট
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
লিমোনাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিমোনাইট
ব্যাখ্যা
আকরিক: 
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯২.
দানাদার সালফারের রূপভেদ নিচের কোনটি? 
  1. ল্যামডা সালফার
  2. গামা সালফার
  3. ডেল্টা সালফার
  4. রম্বিক সালফার
সঠিক উত্তর:
রম্বিক সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রম্বিক সালফার
ব্যাখ্যা
বহুরূপতা: 
- যদি কোন মৌল ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকৃতিতে থাকতে পারে তার এ ধর্মকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 

সালফারের বহুরূপতা: 
- প্রকৃতিতে সালফারের অনেকগুলো রূপভেদ আছে। 
যেমন: দানাদার, অদানাদার এবং তরল সালফার। 
- দানাদার সালফারের দুটি রূপভেদ হচ্ছে রম্বিক বা আলফা সালফার এবং মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার। 
- অদানাদার সালফারের দুটি বহুরূপতা হচ্ছে প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার এবং দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার। 
- তরল সালফারের রূপভেদ হচ্ছে ল্যামডা সালফার এবং মিউ সালফার। 
এছাড়াও সালফারের আরেকটি বহুরূপতা হচ্ছে কোলয়ডাল সালফার। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৯৩.
সবচেয়ে নরম খনিজ কোনটি?
  1. ট্যালক
  2. চুনাপাথর
  3. পাইরাইটস
  4. সিলিকা
সঠিক উত্তর:
ট্যালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যালক
ব্যাখ্যা
• খনিজ পদার্থের কাঠিন্য:
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত কঠিন হয় এবং একেকটি খনিজের কাঠিন্য একেক রকম।
- বেশি কঠিন খনিজ খুব সহজেই কম কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে; কিন্তু কম কঠিন খনিজ বেশি কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে না। কাঠিন্য অনুযায়ী সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (Talc), যা দিয়ে ট্যালকাম পাউডার তৈরি হয়।
- সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা বা ডায়মন্ড। খনিজ পদার্থের নির্দিষ্ট দ্যুতি থাকে।
- ধাতব খনিজ যেমন: পাইরাইটস ধাতুর মতোই দ্যুতি প্রদর্শন করে অর্থাৎ অনেকটা ধাতুর মতোই চকচক করে।
- খনিজ হীরা অধাতু এবং এটিকে দেখে সাধারণ কাচের মতো মনে হতে পারে কিন্তু এটি কাটার পর এর দ্যুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

উৎস:বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
২৯৪.
জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্লাটিপাস
  2. ইকুইজিটাম
  3. স্ফোনোডন
  4. লিমুলাস
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৫.
কোথায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
  2. দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া
  3. জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ
  4. বরগুনার পাথরঘাটা
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি হতে ২০১২ পর্যন্ত উত্তোলিত পাথরের পরিমাণ প্রায় ১,৮১১ লক্ষ মেট্রিক টন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
ধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি? 
  1. কোয়ার্টজ
  2. সোনা
  3. জিপসাম
  4. গ্রাফাইট
সঠিক উত্তর:
সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনা
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৯৭.
নিচের কোনটি বহুরূপী মৌল?
  1. ক) জিংক
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সালফার
ব্যাখ্যা
একই মৌল প্রকৃতিতে বিভিন্ন ভৌত গুণাগুণ প্রদর্শন করে কিন্তু রাসায়নিক ধর্মের তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। অর্থাৎ কিছু অধাতব মৌলের রাসায়নিক গুণাগুণ মোটামুটি অভিন্ন হলেও ভৌত ধর্মের মধ্যে বিভিন্নতা থাকে। এইসব পদার্থ বা মৌলগুলোকেই বহুরূপী মৌল বলে এবং মৌলের এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় বহুরূপতা। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, গ্রাফাইট ও হিরক একই মৌল কার্বন দ্বারা গঠিত হলেও এদের ভৌত ধর্ম এবং রাসায়নিক ধর্মে পার্থক্য বিদ্যমান। অর্থাৎ হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ। শুধু তাই নয়; প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।

অনুরূপভাবে গন্ধক (সালফার) ও ফসফরাস দুটি মৌলও বহুরূপী। প্রকৃতিতে চার ধরনের গন্ধক ও দুই ধরনের ফসফরাস পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২৯৮.
কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ইউরেনিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. রেডিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

• সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়। 

• সোডিয়াম: 
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু। 
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে। 
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। 
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়। 
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। 
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত। 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

২৯৯.
ক্যালসিয়ামের আকরিক নিচের কোনটি?
  1. বোরাক্স
  2. ক্রায়োলাইট
  3. লিমোনাইট
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
ব্যাখ্যা

• জিপসামের রাসায়নিক সংকেত হলো CaSO4.2H2O (ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট)। এটি ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আকরিক, যা সিমেন্ট এবং প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০০.
নিচের কোন শিলা গ্রাফাইটে রূপান্তরিত হয়? 
  1. কয়লা
  2. গ্রানাইট
  3. বেলেপাথর
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
ব্যাখ্যা

শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
উদাহরণস্বরূপ নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।