বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

খনিজ সম্পদ: ধাতু, অধাতু ও জীবাশ্মসমূহ

মোট প্রশ্ন৩২৪এই পাতা২০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

খনিজ সম্পদ: ধাতু, অধাতু ও জীবাশ্মসমূহ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩২০ / ৩২৪

৩০১.
গ্যালেনা কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. লেড 
  2. লোহা 
  3. অ্যালুমিনিয়াম 
  4. তামা 
সঠিক উত্তর:
লেড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেড 
ব্যাখ্যা

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়। 
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে। 

আকরিক (Ores): 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে। 
যেমন- গ্যালেনা (PbS) থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়। 
- বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়। আবার, কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়। 
- অতএব, আকরিক হলে সেটা অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে। 
- আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস (FeS2) বলা হয়। আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০২.
অক্সি - এসিটিলিন শিখার প্রমাণ তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮০০ - ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২০০০ - ২৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২৫০০ - ৩০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা:
- অক্সিজেন ও অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাসের মিশ্রণকে অক্সি অ্যাসিটিলিন বলা হয়। 
- এই মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করলে, যে অগ্নিশিখার সৃষ্টি হয় তাকেই অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা বলে। 
- এই শিখার তাপমাত্রা ৩০০০-৩৫০০° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে। 
• ব্যবহার:
- ঝালাই: স্টিল এবং লোহা সহ বিভিন্ন ধাতুর ঝালাইয়ের জন্য।
- কাটিং: ধাতু কেটে আলাদা করার জন্য।
- গরম করা: ধাতুর আকৃতি বদলানোর আগে গরম করার জন্য।

উৎস: britannica.com
৩০৩.
গ্যালভানাইজিং করতে কোনো ধাতুর উপর কিসের প্রলেপ দেয়া হয়? 
  1. কপার
  2. নিকেল
  3. জিংক
  4. সিলভার
সঠিক উত্তর:
জিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিংক
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
-  সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৪.
কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ নয়?
  1. Fe
  2. Cu
  3. Au
  4. Quartz
সঠিক উত্তর:
Quartz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Quartz
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
লোহা (Fe)
তামা  (Cu)
সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩০৫.
ধাতুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. ধাতু তাপ সুপরিবাহী কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. ধাতুর গলনাঙ্ক কম ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  3. ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
  4. ধাতু আঘাতে টুন টুন শব্দ তৈরি করে না
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা
ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
পিতলকে প্রধানত কোন ধাতুর সংকর ধাতু বলা হয়? 
  1. জিঙ্কের সংকর ধাতু 
  2. লোহার সংকর ধাতু 
  3. কপারের সংকর ধাতু 
  4. টিনের সংকর ধাতু 
সঠিক উত্তর:
কপারের সংকর ধাতু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপারের সংকর ধাতু 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু একে অপরের সঙ্গে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্বযুক্ত কঠিন ধাতব পদার্থ গঠন করে, তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
উদাহরণস্বরূপ-
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কাঁসার ক্ষেত্রে প্রধান ধাতু কপার (৯০%) এবং টিন (১০%)। 
- পিতল: পিতলের মধ্যে কপার ৬৫% এবং জিংক ৩৫% থাকায় এটি কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিল: প্রধান ধাতু লোহা (৯৯%) এবং অপ্রধান পদার্থ কার্বন (১%), তাই স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০৭.
কোন কোন সংকর ধাতুর মিশ্রণে বৈদ্যুতিক ফিউজ তার তৈরি হয়? 
  1. তামা ও সীসা
  2. টিন ও সীসা
  3. নিকেল ও টিন
  4. তামা ও নিকেল
সঠিক উত্তর:
টিন ও সীসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিন ও সীসা
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক ফিউজ তার: 
- তড়িৎ যন্ত্রপাতির মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। 
- অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহের কারণে আগুন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। 
- এ ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বর্তনীতে এক ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা হলো ফিউজ তার ব্যবহার করা। 
- ফিউজ সাধারণত টিন ও সীসার একটি সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার। 
- এটি একটি চিনামাটির কাঠামোর উপর দিয়ে আটকানো থাকে। 
- এই তারটি সরু এবং গলনাঙ্ক কম। 
- এই তারের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। 
- ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এভাবে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে ফিউজ যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩০৮.
ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. গ্যালভানাইজিং
  2. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  3. অ্যানিলিং
  4. পেইন্টিং
সঠিক উত্তর:
অ্যানিলিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানিলিং
ব্যাখ্যা

• অ্যানিলিং (Annealing) হলো ধাতুর তাপীয় চিকিৎসা বা হিট ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ধাতুকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করা হয় যাতে এর নমনীয়তা বাড়ে এবং অভ্যন্তরীণ চাপ কমে। এটি ধাতুর ক্ষয়রোধের কোনো পদ্ধতি নয়। 

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
- ধাতুর ক্ষয়রোধ করার জন্য সাধারণত ধাতুর ওপর প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এটি বিভিন্নভাবে করা যায়,
- যেমন:
(i) রং করে
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।
- লোহার তৈরি দরজা-জানালা রং করা হয় যেন লোহা বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে।

- আমরা জানি কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না।
- কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়।
যথা-
- ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
- গ্যালভানাইজিং।

উৎস: রসায়ন, নবম- দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৩০৯.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. পটাস
  2. লৌহ
  3. নিকেল
  4. দস্তা
সঠিক উত্তর:
পটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাস
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। 
যেমন-  
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ: 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ: 
- রাসায়নিক খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ: 
- কঠিন, যথা- কয়লা। 
- তরল, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয়, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৩১০.
নিচের কোন ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়?
  1. সোডিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আয়রন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১১.
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করে, তাকে কী বলে? 
  1. Evolution
  2. Fossilogy
  3. Paleobotany
  4. Anthropology
সঠিক উত্তর:
Paleobotany
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Paleobotany
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- Paleobotany হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়, এটি জীবাশ্মবিদ্যার (Paleontology) একটি উপশাখা। 

অন্যদিকে 
- Evolution হলো জীবের ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করে। 
- Fossilogy শব্দটি বিজ্ঞানে প্রচলিত বা স্বীকৃত কোনো শাখা নয়। 
- Anthropology হলো মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা।
৩১২.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ১.২৫ - ২.৫%
  2. ১০- ১২.৫%
  3. ৫.৫ - ৬.৪৫%
  4. ০.২৫ - ১.৫%
সঠিক উত্তর:
০.২৫ - ১.৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.২৫ - ১.৫%
ব্যাখ্যা
• ইস্পাত বা স্টিল এর গুণাগুণ: 
- কার্বনের পরিমাণ: ০.২৫ - ১.৫%।
- গঠনাকৃতি : স্ফটিকাকার।
- নমনীয়তা ও ঘাতসহতা উভয় ধর্ম বিদ্যমান তবে পেটা লোহার থেকে কম।
- চুম্বক ধর্ম: চুম্বকে পরিণত করা যায়।
- গলনাংক: ১৩০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস.।
- কাঠিন্য: কঠিন, ভঙ্গুরও নয় আবার নরমও নয়।

ব্যবহার: 
কোনো দেশ কতটা উন্নত তা সে দেশের ইস্পাতের ব্যবহার দেখে আন্দাজ করা যায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো-
- গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করতে।
- শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি নির্মাণে।
- যানবাহন, যেমন- গাড়ি, প্লেন, জাহাজ, রেললাইন, ইত্যাদি নির্মাণে।
- ডাক্তারী ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে।

উল্লেখ্য, ঢালাই লোহায় কার্বনের পরিমাণ ২.৫% ও পেটা লোহায় কার্বনের পরিমাণ ০.১২ - ০.২৫%। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৩.
In which district BAPEX has recently discovered a gas field?
  1. Noakhali
  2. Rajshahi
  3. Bogra
  4. Natore
সঠিক উত্তর:
Noakhali
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Noakhali
ব্যাখ্যা
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের খনন:
- নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ওয়াছেকপুর গ্রামে নতুন গ্যাসকূপের (বেগমগঞ্জ-৪) আনুষ্ঠানিক খননকাজের উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। 
- ২৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে এই কূপটির খননকাজ শুরু করা হয়।
-  খনন শেষে প্রতিটি জোন থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের আশা করা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত,
- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৯৭৬ সালে প্রথম গ্যাসের সন্ধানে প্রথম কূপ খনন করা হয়।
- এরপর ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় আরেকটি কূপ খনন করা হয়।

 উৎস: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, প্রথম আলো।
৩১৪.
কয়লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. সালফার
  3. কার্বন
  4. সিলিকন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা

• কয়লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কার্বন (গ)। কয়লা মূলত জীবাশ্ম উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়, যা বহু কোটি বছর ধরে চাপ ও তাপের প্রভাবে রূপান্তরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জীবাশ্ম উদ্ভিদের অর্গানিক যৌগগুলি নষ্ট হয়ে প্রায় সম্পূর্ণ কার্বনে পরিণত হয়। কার্বনই কয়লাকে শক্তি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে। যখন কয়লা দহিত হয়, তখন কার্বনের জ্বালানি শক্তি তাপ ও বিদ্যুতের উৎপাদনে রূপান্তরিত হয়। অন্য উপাদান যেমন হাইড্রোজেন, সালফার বা সিলিকনও উপস্থিত থাকে, কিন্তু এদের পরিমাণ কম এবং মূলত কার্বনের সাথে রাসায়নিক ক্রিয়ায় ছোটখাটো প্রভাব ফেলে। তাই কয়লার মূল কার্যকারিতা নির্ভর করে কার্বনের উপর।

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - ১। অ্যানথ্রাসাইট, ২। বিটুমিনাস এবং ৩। লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৫.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. চাকচিক্য বেশি
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
  3. নমনীয়তা
  4. ঘনত্ব কম
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কম
ব্যাখ্যা
• "ঘনত্ব কম" ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। কারণ ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ ধাতুর ঘনত্ব বেশি হয়। 

• ধাতু:
- যে সকল পদার্থের বিশেষ দ্যুতি আছে, আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বিদ্যমান, পিটিয়ে পাতলা পাত বানানো যায়, টেনে সরু ও লম্বা করা যায়, আঘাত করলে বিশেষ ধাতব শব্দ হয় এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 

• ধাতুর বৈশিষ্ট্য:  
→ চকচকে: ধাতু সাধারণত উজ্জ্বল এবং চকচকে হয়।  
→ নমনীয়: এগুলো সহজে বাঁকানো বা পিটিয়ে পাতলা করা যায়।  
→ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী: ধাতু বিদ্যুৎ এবং তাপের ভাল পরিবাহী।  
ধাতব বন্ধন: ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হতে পারে এবং ধাতব বন্ধন গঠন করে। 
ঘাতসহিষ্ণু: ধাতু আঘাত পেলে সহজে ভাঙ্গে না।  
→ ঘনত্ব: অধিকাংশ ধাতুর ঘনত্ব বেশি। 

উদাহরণ - লোহা, তামা, সোনা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৩১৬.
কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. রেডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়। 

সোডিয়াম: 
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু। 
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে। 
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। 
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়। 
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। 
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত। 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

৩১৭.
কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোঁয়ায় কী উপাদান থাকে যা এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে? 
  1. সালফার
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কান্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে। মাটির নিচে পাতা ও কান্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
-  জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
যেমন- কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
  1. লিথিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. পারদ
  4. হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
• লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।
৩১৯.
উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে কোন উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. কোয়ার্টজ
  2. সোনা 
  3. পর্সেলিন
  4. কাঠ
সঠিক উত্তর:
পর্সেলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্সেলিন
ব্যাখ্যা

উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন উপাদান ব্যবহৃত হয়। 
- উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন বা চীনামাটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদান।
- এটি অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট, কোয়ার্টজ এবং ফেল্ডস্পারের মিশ্রণে তৈরি একটি শক্ত এবং টেকসই সিরামিক উপাদান।
- পর্সেলিন চমৎকার বৈদ্যুতিক অন্তরক বৈশিষ্ট্য এবং যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে, যা উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলিকে খুঁটি বা টাওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করে এবং বিদ্যুতের ফুটো রোধ করে। 

অন্যদিকে, 
ক) কোয়ার্টজ: কোয়ার্টজ নিজে একটি ইনসুলেটিং উপাদান হলেও, উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক শক্তি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অর্জনে এটি সাধারণত পর্সেলিন তৈরির একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সরাসরি ইনসুলেটর হিসেবে নয়।

খ) সোনা: সোনা একটি চমৎকার পরিবাহী (Conductor), ইনসুলেটর (অন্তরক) নয়। এটি বিদ্যুৎ প্রবাহকে সহজেই যেতে দেয়।

ঘ) কাঠ: কাঠ একটি প্রাকৃতিক ইনসুলেটর, কিন্তু এর ইনসুলেশন ক্ষমতা পরিবর্তনশীল এবং এটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি (যেমন আর্দ্রতা) দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়।
আধুনিক উচ্চ ভোল্টেজের লাইনগুলিতে নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বের জন্য কাঠের পরিবর্তে উন্নত উপাদান যেমন পর্সেলিন বা পলিমার ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২০.
নিচের কোন কয়লাতে কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. লিগনাইট 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. বিটুমিনাস 
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট 
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (O2) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)।
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তীসময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।

- কয়লা তিন রকমের হয়। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো আর এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।