বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

খনিজ সম্পদ: ধাতু, অধাতু ও জীবাশ্মসমূহ

মোট প্রশ্ন৩২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

খনিজ সম্পদ: ধাতু, অধাতু ও জীবাশ্মসমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩২৪

১০১.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু কোনটি?
  1. হীরক
  2. লিথিয়াম
  3. প্লাটিনাম
  4. ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়। 
- ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম। 

অন্যদিকে, 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। 
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম। 
- পারদ হলো সর্বনিম্ন গলনাঙ্কের ধাতু। 
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০২.
থার্মোমিটারে পারদ কেন ব্যবহার করা হয়?
  1. গলনাঙ্ক কম
  2. অল্প তাপে আয়তন বেশি প্রসারিত হয়
  3. একমাত্র তরল ধাতু
  4. স্ফুটনাংক বেশি
সঠিক উত্তর:
অল্প তাপে আয়তন বেশি প্রসারিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্প তাপে আয়তন বেশি প্রসারিত হয়
ব্যাখ্যা
• পারদ:
- পারদ (Mercury) থার্মোমিটারে ব্যবহারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো:
- এটি তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনে আয়তনে অনেক বেশি প্রসারিত হয়।
- অর্থাৎ, এটি তাপের প্রতি সংবেদনশীল। ফলে খুব সহজে তাপমাত্রা মাপা যায়।
- এছাড়া পারদের গলনাঙ্ক পানির গলনাঙ্কের অনেক কম এবং স্ফুটনাঙ্ক পানির স্ফুটনাঙ্কের অনেক বেশি।
- এজন্য সাধারণত জীবদেহের তাপমাত্রা মাপতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পারদ থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১০৩.
নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা নয়? 
  1. কাঁদাপাথর
  2. বেলেপাথর
  3. চুনাপাথর
  4. মার্বেল
সঠিক উত্তর:
মার্বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্বেল
ব্যাখ্যা

• ভুত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার।
- যথাঃ আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।

• পাললিক শিলাঃ
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।

• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

• অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা: 
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী। 

১০৪.
'চিলি সল্টপিটার' কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. ক্যালসিয়াম 
  2. অ্যালুমিনিয়াম 
  3. সোডিয়াম 
  4. আয়রন 
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম 
ব্যাখ্যা
• আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
১০৫.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ-
  1. ৮০ - ৮৫%
  2. ৮৫ - ৯০ %
  3. ৯০ - ৯২ %
  4. ৯৫ - ৯৯%
সঠিক উত্তর:
৯৫ - ৯৯%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫ - ৯৯%
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas):
- সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের বিভিন্ন উপাদানের অনুপাত তার প্রাকৃতিক উৎসের ভিত্তিতে ভিন্ন হয়ে থাকে।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (৪০%)।
- এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন (7%), প্রোপেন (6%), বিউটেন ও আইসোবিউটেন (4%) এবং পেন্টেন (3%) থাকে।
- কিন্তু বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে তাতে 95-99% মিথেন থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
১০৬.
ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ কোনটি?
  1. পিট কয়লা
  2. লিগনাইট কয়লা
  3. বিটুমিনাস কয়লা
  4. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
সঠিক উত্তর:
পিট কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিট কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- প্রাকৃতিক কারণে গাছপালা ভূগর্ভে মাটির নিচে চাপা পড়ে। 
- দীর্ঘকাল যাবৎ অধিক চাপ ও তাপের প্রভাবে চাপাপড়া গাছপালার মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তখন স্তরীভূত ও কঠিন পদার্থরূপে পরিণত ঐ দহনযোগ্য জীবাশ্মকে কয়লা বলে। 
- ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ হলো পিট কয়লা। 
- তারপর ধারাবাহিক রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লিগনাইট কয়লা, বিটুমিনাস কয়লা ও শেষে উন্নত অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় পরিণত হয়। 

বাংলাদেশের কয়লা ক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ হলো কয়লা। 
- অনেক দেশে কয়লাকে black diamond বলা হয়। 
- বাংলাদেশের রাজশাহীর বগুড়া জেলার জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ি ও দীঘিপাড়া এবং রংপুর জেলার খালিসপুর ইত্যাদি পাঁচটি খনিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা আছে। 
- সিলেট জেলায় উন্নতমানের বিটুমিনাস ও লিগনাইট কয়লার খনি আছে। 
- ফরিদপুরে বাঘিয়া ও চান্দাবিল, খুলনার কোলা বিল ও সিলেটে পীট (peat) জাতীয় নিম্নমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১০৭.
জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞান কোনটি? 
  1. প্যালিয়েন্টোলজি
  2. ফসিওলজি
  3. ফাইটোজেনি
  4. মরফোলজি
সঠিক উত্তর:
প্যালিয়েন্টোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যালিয়েন্টোলজি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম (Fossil): 
✔ জীবাশ্ম বা ফসিল শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Fossilis" থেকে, যার অর্থ "খুঁড়ে তোলা" (dug out)। 
✔ প্রাচীনকালে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যেকোনো কিছুই জীবাশ্ম হিসেবে গণ্য করা হতো। 
✔ তবে আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা তাদের চিহ্নকে জীবাশ্ম বলে। 

বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম: 
- ট্রেস ফসিল (Trace Fossil): জীবের চলাচলের চিহ্ন, যেমন—গমন পথ, ট্রেইল, জীবজনিত গর্ত। 
- ইকনোফসিল (Ichnofossil): ট্রেস ফসিলের আরেকটি নাম। 
- জার্মান ভাষায় "Lebenspuren" নামেও পরিচিত। 

জীবাশ্মবিদ্যা (Palaeontology): 
- জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞান "প্যালিয়েন্টোলজি" নামে পরিচিত। 
- এই শাস্ত্র প্রাগৈতিহাসিক জীব ও তাদের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৮.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস- 
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  3. পাহাড়ী নদী
  4. উপরের সব সঠিক
সঠিক উত্তর:
উপরের সব সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সব সঠিক
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তরটি হলো ঘ) উপরের সব সঠিক।
• বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উল্লেখিত সবগুলো উৎসই ব্যবহার করা হয়। 
প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas):
- এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস। মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বৃহৎ অংশ গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে (প্রায় ৪০% এর বেশি)।
খনিজ তেল (Oil/Liquid Fuel):
- তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ করে ফার্নেস তেল (HFO) এবং ডিজেল (HSD) ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটিও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস (প্রায় ২০% এর কাছাকাছি)।
পাহাড়ী নদী (Hydro/জলবিদ্যুৎ):
- বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হলো কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কাপ্তাই বাঁধ) যা পাহাড়ী নদী কর্ণফুলী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। যদিও মোট উৎপাদনে এর ভাগ খুব কম, কিন্তু এটি একটি ব্যবহৃত উৎস।

-  উপরিউক্ত তিনটি প্রধান উৎস ছাড়াও, বাংলাদেশে বর্তমানে কয়লা (Coal), আমদানিকৃত বিদ্যুৎ (Imported Electricity) এবং নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy - সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- যদিও সবগুলোই উৎস, তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের বিদ্যুৎ শক্তির প্রধান উৎস।

উৎস: বিজ্ঞান , সপ্তম শ্রেণি।

১০৯.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. লিমুলাস
  2. উটপাখি
  3. স্ফোনোডন
  4. প্লাটিপাস
সঠিক উত্তর:
উটপাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উটপাখি
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১০.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না।
• অপরদিকে অক্সিজেন আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে।
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস অগ্নি নির্বাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
• বাতাসের নাইট্রোজেন (N2) গ্যাস মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে।

উল্লেখ্য,
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ- হীরক (কার্বনের রূপভেদ)।
• গ্রাফাইট অধাতু হলেও মুক্ত ইলেকট্রন থাকার দরুন এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
• পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়।
• ড্রাই আইস হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড। শুষ্ক বরফ তৈরিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
• কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অত্যাধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়।
• সমআয়তনের হাইড্রোজেন এবং কার্বন মনোক্সাইডের (CO) মিশ্রণকে ওয়াটার গ্যাস (CO+H2) বলে।
• হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ৯৩% অক্সিজেন থাকে।
• সমুদ্রের পানির তুলনায় নদীর পানিতে অক্সিজেন বেশি থাকে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১১১.
কোন পটাশ এলাম নামে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. ফিটকিরি
  3. সেভিং সোপ
  4. ডিটারজেন্ট
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি।
- রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] (পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট, ২৪ অণু পানি);
•একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।

• ফিটকিরি:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
-অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ; রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১২.
নিচের কোনটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া?
  1. লিগনাইট কয়লা → পিট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
  2. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → পিট কয়লা
  3. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা
  4. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
সঠিক উত্তর:
পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- প্রাকৃতিক কারণে গাছপালা ভূগর্ভে মাটির নিচে চাপা পড়ে। 
- সুদীর্ঘকাল যাবৎ অধিক চাপ ও তাপের প্রভাবে ঐ চাপাপড়া গাছপালার মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তখন স্তরীভূত ও কঠিন পদার্থরূপে পরিণত ঐ দহনযোগ্য জীবাশ্মকে কয়লা বলে। 
- ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ হলো পিট কয়লা। 
- তারপর ধারাবাহিক রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লিগনাইট কয়লা, বিটুমিনাস কয়লা ও শেষে উন্নত অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১১৩.
ইস্পাতে কী কী উপাদান থাকে?
  1. লোহা ও নিকেল
  2. লোহা ও কার্বন
  3. লোহা ও ক্রোমিয়াম
  4. লোহা ও জিংক
সঠিক উত্তর:
লোহা ও কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা ও কার্বন
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু:
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
জীবাশ্ম সমন্ধীয় বিজ্ঞান কোনটি?
  1. ফাইটোজেনি
  2. ফসিওলজি
  3. মরফোলজি
  4. প্যালেন্টোলজি
সঠিক উত্তর:
প্যালেন্টোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যালেন্টোলজি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
ক্রায়োলাইট কোন ধাতুর আকরিক?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধাতুর আকরিক:
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
- লেড এর আকরিক-গ্যালেনা (PbS)
- পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৬.
মুদ্রা ধাতু নিচের কোনটি?
  1. Cu
  2. Ca
  3. Na
  4. Mg
সঠিক উত্তর:
Cu
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cu
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
কোনটি ক্ষার ধাতু?
  1. লিথিয়াম 
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. বেরিলিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৮.
রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ -
  1. এটি হালকা ও দামে সস্তা
  2. এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
  3. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
  4. এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
সঠিক উত্তর:
এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
ব্যাখ্যা
- রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়।
- এর প্রধান কারণ হলো এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়।
- এলুমিনিয়াম হালকা এবং দামে সস্তা হলেও, এর তাপ পরিবাহিতা খুব ভালো হওয়ায় এটি রান্নার পাত্র হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- এটি তাপকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয় এবং খাদ্য দ্রব্য দ্রুত সিদ্ধ করতে সহায়তা করে।
- এলুমিনিয়াম তাপ সুপরিবাহী পদার্থ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
১১৯.
হীরক সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. হীরক কার্বনের একটি রূপ।
  2. আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।
  3. হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
  4. হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
সঠিক উত্তর:
হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
ব্যাখ্যা
• হীরক:
- হীরক কার্বনের একটি রূপ।  
- আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।  
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
- হীরক বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, স্ফটিকাকার পদার্থ।
- হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১২০.
ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ যে ধাতুর উপর প্রলেপ দেওয়া হয়, তা যুক্ত থাকে- 
  1. গ্রাউন্ড লাইনে
  2. কেবল ব্যাটারির মধ্যে
  3. ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
  4. ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২১.
Which of the following minerals is found at Jamalganj in Joypurhat district?
  1. Coal
  2. White Clayy
  3. Lime stone
  4. Hard rock
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
Coal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Coal
ব্যাখ্যা
কয়লাক্ষেত্র: 
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।  
- এটিতে কয়লার আনুমানিক মজুদের পরিমাণ ১০৫৪ মেট্রিক টন। 
- গভীরতা: ৬৪০-১১৫৮ মিটার। 
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি। 
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে। 

দেশের কয়লা খনিসমূহ: 
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫। 
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫। 
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯। 
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭। 
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২। 

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
১২২.
নিচের কোন ধাতুটির পারমানবিক ভর পানি অপেক্ষা কম?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পানি (H₂O) এর পারমাণবিক ভর ১৮ (1 পরমাণু হাইড্রোজেন = 1, 1 পরমাণু অক্সিজেন = 16)।
- অ্যালুমিনিয়াম (Al): পারমাণবিক ভর = 27।
- সোডিয়াম (Na): পারমাণবিক ভর = 23।
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg): পারমাণবিক ভর = 24.3। 
• সুতরাং সবগুলো পদার্থের পারমানবিক ভর পানি অপেক্ষা বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
১২৩.
পিতল হচ্ছে-
  1. তামা ও লোহার সংকর
  2. তামা ও নিকেলের সংকর
  3. টিন ও দস্তার সংকর
  4. তামা ও দস্তার সংকর
সঠিক উত্তর:
তামা ও দস্তার সংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও দস্তার সংকর
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে। 
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৪.
কাচ শিল্পে কোন খনিজ উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. সিলিকা বালু
  3. নুড়িপাথর
  4. গ্রানাইট পাথর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা বালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা বালু
ব্যাখ্যা
অধাতব খনিজ (Non-Metallic Minerals):
১। চুনাপাথর: 
- সিমেন্ট, গ্লাস, ইস্পাত, সাবান, কাগজ, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি প্রস্তুত করার জন্য চুনাপাথরের প্রয়োজন হয়। 
- এছাড়া গৃহনির্মাণে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও রং তৈরি করতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়। 

২। সিলিকা বালু: 
- এটি এক ধরনের বালু যা কাচ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। 
- এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, রং, অগ্নিচুল্লির ইষ্টক নির্মাণে এর দরকার হয়। 

৩। চীনামাটি: 
- বাসনপত্র, কাগজ, রাবার বস্তু, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, স্যানিটারি জিনিসপত্র প্রভৃতি নির্মাণের জন্য চীনামাটি ব্যবহৃত হয়। 

৪। কঠিন শিলা: 
- মধ্যপাড়া কঠিন শিলা (গ্রানাইট) খনি প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-গর্দস্থ খনি। 
 - এই গ্রানাইট পাথর আধুনিক সুউচ্চ ভবন, সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট, নদী-শাসন, রেললাইন, ফ্লাইওভার ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 

৫। খনিজ বালু/ভারী মানিক: 
- এই খনিজ বালুর মধ্যে জিরকন, মোনাজাইট, রুটাইল, ইলমেটাইট এবং ম্যাগনেটাইট প্রধান। 

৬। পাথর বা কঠিন শিলা: 
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ, নদীর বাঁধ তৈরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে কঠিন শিলার প্রয়োজন হয়। 
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় কঠিন শিলা পাওয়া যায়। 

৭। নুড়ি পাথর: 
- নুড়ি পাথর প্রধানত রাস্তাঘাট, গৃহ, পুল, কালভার্ট, রেলপথ ইত্যাদি নির্মাণে প্রয়োজন হয়। 
- সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ, পিয়ানগঞ্জ, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া; লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম প্রভৃতি স্থানে নুড়িপাথর পাওয়া যায়। 

৮। ইউরেনিয়াম আকরিক: 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম নামক তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। 
- এছাড়া কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু রয়েছে। 
- অস্ট্রেলিয়ার এক ভূ-বিজ্ঞানী কক্সবাজার উপকূলে এ তেজস্ক্রিয় বালুর অবস্থান আবিষ্কার করেন। 

৯। গন্ধক: 
- রাসায়নিক শিল্পে গন্ধকের ব্যবহার অধিক। 
- সালফিউরিক এসিড, বারুদ, কীটনাশক প্রভৃতি তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশে গন্ধকের উৎপাদন নেই বললেই চলে, কেবল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
১২৫.
নিচের কোন উপাদান কার্বনেরই ভিন্ন রূপ?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) হীরক
  3. গ) গ্রাফিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
কার্বনের দু‘টি রূপভেদ আছে যথা গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)। বিভিন্ন রূপভেদে কার্বনের ব্যবহারও বিভিন্ন।
গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
গ্রাফিন হচ্ছে দ্বিমাত্রিক কার্বন ক্রিস্টাল যা খুব ভালো তাপ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী। গ্রাফিনকে গ্রাফাইট থেকে আহরণ করা হয়
উৎসঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ও দ্যা গার্ডিয়ান
১২৬.
পটাশ এলামকে সাধারণত কী নামে ডাকা হয়?
  1. ডিটারজেন্ট
  2. সেভিং সোপ
  3. কস্টিক সোডা
  4. ফিটকিরি
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিটকিরি
ব্যাখ্যা

• পটাশ এলামকে সাধারণত ফিটকিরি নামে ডাকা হয়। এটি একটি যৌগ, যা মূলত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম আয়ন এবং পটাশিয়াম আয়ন তৈরি করে। প্রাচীনকাল থেকে পটাশ এলামকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন কাপড়ের রঙ ধরানোর সময় বা পানি পরিশোধনের ক্ষেত্রে। ফিটকিরি ব্যবহার করলে জল স্বচ্ছ হয় এবং ময়লা কণা নীচে বসে যায়। তাই, কস্টিক সোডা বা ডিটারজেন্টের সঙ্গে এটি মিলিত নয়; এটি আলাদা রূপে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক প্রয়োগে ব্যবহারযোগ্য।

- সঠিক উত্তর: ঘ) ফিটকিরি।

• অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি।
- রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] (পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট, ২৪ অণু পানি);
•একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।

• ফিটকিরি:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
-অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ; রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম কেমন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. হঠাৎ হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

ধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
• Li → Li+ + e- 
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (CI) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
• Cl + e- → Cl- 
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৮.
যে মৌল বেশি সক্রিয়, প্রকৃতিতে তার যৌগ- 
  1. মৌলিক অবস্থায় পাওয়া যায়
  2. পাওয়া যায় না
  3. কম পরিমাণে পাওয়া যায়
  4. বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

- যে মৌল বেশি সক্রিয়, প্রকৃতিতে তার যৌগ বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়, কারণ তাদের উচ্চ সক্রিয়তার কারণে তারা সহজে অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে যৌগ গঠন করে এবং মুক্ত অবস্থায় থাকে না। 

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৯.
নিচের কোনটি লোহার আকরিক? 
  1. জিপসাম
  2. হেমাটাইট
  3. বক্সাইট
  4. বোরাক্স
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
ব্যাখ্যা
আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩০.
সোডিয়ামের আকরিক কোনটি?
  1. জিপসাম
  2. বোরাক্স
  3. হেমাটাইট
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বোরাক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরাক্স
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

• সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

• আয়রনের আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩১.
জীবাশ্মগত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Parasitology
  2. Paleontology
  3. Ophthalmology
  4. Helminthology
সঠিক উত্তর:
Paleontology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Paleontology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil) ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুঁড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুঁড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূ-ত্বকে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (Paleontology) বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- Ophthalmology হচ্ছে চোখের গঠন, ক্রিয়া ও রোগবিষয়ক চিকিৎসাবিজ্ঞান; চক্ষুবিজ্ঞান। 
- Helminthology হচ্ছে কৃমি সম্পর্কিত বিদ্যা। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩২.
ক্ষার ধাতু নয় কোনটি?
  1. Na
  2. K
  3. Li
  4. Ca
সঠিক উত্তর:
Ca
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca
ব্যাখ্যা

• গ্রুপ ১ এর ধাতুগুলোকে (Li, Na, K) ক্ষার ধাতু বলা হয়, কিন্তু Ca গ্রুপ ২ এর ধাতু হওয়ায় এটি ক্ষার ধাতু নয়।
- Ca কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। 


• ক্ষার ধাতু:
- ক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ১ এর ধাতব মৌল, যেমন লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম।
- খুব প্রতিক্রিয়াশীল, বিশেষত পানি ও বাতাসের সঙ্গে।
- একমাত্র ভ্যালেন্স ইলেকট্রন থাকে, যা সহজেই হারায়।
- হালকা, নরম এবং কম ঘনত্বযুক্ত।
- সাধারণত ধাতব চকচকে এবং সাদা-হলকা রঙের।

• মৃৎক্ষার ধাতু:
- মৃৎক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ২ এর সেই ধাতু যা মূল্যবান, কম প্রতিক্রিয়াশীল এবং রসায়নে স্থিতিশীল।
- অক্সিজেন বা জল দ্বারা সহজে প্রতিক্রিয়াশীল নয়।
- সাধারণ পরিবেশে দাগ বা জং ধরে না।
- ধাতু হিসেবে চিরস্থায়ী চকচকে রূপ বজায় রাখে।
- শিল্প, গহনা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৩.
কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. সিসা 
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
সিসা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিসা 
ব্যাখ্যা

- উল্লিখিত ধাতুগুলোর মধ্যে সিসার গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম। 

গলনাঙ্ক: 

- গলনাঙ্ক হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে কোনো কঠিন পদার্থ তরলে রূপান্তরিত হয়।
- ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে এটি নির্ভর করে পরমাণুগুলোর মধ্যে ধাতব বন্ধনের শক্তি এর ওপর।

লোহা (Fe):
- গলনাঙ্ক 1538°C, উচ্চ, শক্তিশালী ধাতব বন্ধন।

সোনা (Au):
- গলনাঙ্ক: 1064°C, মধ্যম মানের গলনাঙ্ক।

সিসা (Pb):
- গলনাঙ্ক: 327°C, সবচেয়ে কম ও সহজে গলে যায়

তামা (Cu):
- গলনাঙ্ক: 1085°C, লোহা এবং সোনার চেয়ে কম, কিন্তু সিসার চেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেনি।

১৩৪.
alkaline earth metal নিচের কোনটি?
  1. Na
  2. Ca
  3. Cu
  4. Au
সঠিক উত্তর:
Ca
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr) প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৫.
প্রাচীনকালে কপার ও টিন মিশিয়ে যে সংকর ধাতু তৈরি করা হতো, তা কী নামে পরিচিত? 
  1. স্টিল 
  2. ব্রোঞ্জ 
  3. পিতল 
  4. ডুরালমিন 
সঠিক উত্তর:
ব্রোঞ্জ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রোঞ্জ 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- কোনো গরম গলিত ধাতুর মধ্যে অন্য কোনো গরম গলিত ধাতু বা অধাতু মিশিয়ে সেই মিশ্রণকে ঠান্ডা করলে যে কঠিন পদার্থ পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সংকর ধাতু। 
যেমন- 
- প্রাচীনকালে মানুষ গলিত কপারের সাথে গলিত টিন মিশিয়ে মিশ্রণকে ঠান্ডা করে ব্রোঞ্জ তৈরি করেছিল, তাই ব্রোঞ্জ মূলত একটি সংকর ধাতু। 
- লোহা এবং কার্বন মিশিয়ে স্টিল নামক সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। ছুরি, কাঁচি, রেলের চাকা, রেললাইন, জাহাজ, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি স্টিল দ্বারা তৈরি করা হয়। 
- গরম গলিত লোহার মধ্যে গলিত কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে যে সংকর ধাতু তৈরি হয় তাকে স্টেইনলেস স্টিল বলে। হাসপাতালে ডাক্তাররা যে ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার করে তা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি। 
- গলিত কপার এবং গলিত জিংক একত্রে মিশিয়ে পিতল নামক সংকর ধাতু তৈরি হয়। বৈদ্যুতিক সুইচ, পাতিল ইত্যাদি তৈরিতে পিতল ব্যবহৃত হয়। 
- কপার ও টিন মিশিয়ে সংকর কাঁসা বা ব্রোঞ্জ তৈরি হয়। থালাবাসন, গ্লাস ইত্যাদি তৈরিতে ব্রোঞ্জ ব্যবহৃত হয়। 
- অ্যালুমিনিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও লোহার মিশ্রণে ডুরালমিন নামক সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। এটি উড়োজাহাজের বডি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৬.
Bauxite কিসের আকরিক?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. লেড
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- Bauxite হলো অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক।
- এটি অ্যালুমিনিয়ামের একটি মূলে পরিণত হওয়ার জন্য প্রাথমিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বক্সাইটে সাধারণত অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al₂O₃) থাকে, যা পরে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়।

অন্যদিকে,
- লোহার প্রধান আকরিক হেমাটাইট (Hematite) এবং ম্যাগনেটাইট (Magnetite)।
- তামার প্রধান আকরিক কুপ্রাইট (Cuprite) এবং চালকোজাইট (Chalcocite)।
- লেডের প্রধান আকরিক গ্যালেনা (Galena), যা PbS (লেড সালফাইড) আকারে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৩৭.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর কোন ধাতুর প্রলেপ দেয়া হয়?
  1. দস্তা
  2. তামা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. নিকেল
সঠিক উত্তর:
দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর দস্তার  প্রলেপ দেয়া হয়

• গ্যালভানাইজিং:

- যে কোন ধাতুর উপর জিংকের (দস্তা) প্রলেপ দেয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এ ক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।
- লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৩৮.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে গণ্য নয়?
  1. বিটুমিনাস কয়লা
  2. শেল গ্যাস
  3. এনথ্রাসাইট
  4. বায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা

বায়োগ্যাস হলো জৈব পদার্থের পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন একটি নবায়নযোগ্য শক্তি, যা জীবাশ্ম থেকে আসে না।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- মৃত গাছপালা, মৃত প্রাণীদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে যে জ্বালানি তৈরি হয় তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
- এগুলো অ-নবায়নযোগ্য এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করে।

জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- প্রাকৃতিক গ্যাস,
- পেট্রোলিয়াম।

• বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয়। কারণ এটি জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন হয়।

বায়োগ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- বায়োগ্যাস হলো একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
- এটি এটি জৈব বর্জ্য (গোবর, উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ইত্যাদি) থেকে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।
- এতে প্রধানত মিথেন গ্যাস (CH4) থাকে।
- এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, কারণ এটি দীর্ঘকাল ধরে গঠিত নয় এবং পুনরায় উৎপাদনযোগ্য।

উল্লেখ্য-
- শেল গ্যাস: এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক গ্যাস যা শিলা বা Shale-এর মধ্যে আটকা থাকে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির একটি রূপ।
- বিটুমিনাস কয়লা: এটি এক ধরনের কয়লা, যা জীবাশ্ম জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস।
- এনথ্রাসাইট: এটি কয়লার একটি বিশেষ প্রকার, যা সর্বোচ্চ কার্বন সমৃদ্ধ এবং উচ্চ তাপশক্তি সম্পন্ন। এটিও জীবাশ্ম জ্বালানি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৩৯.
কাঁচ কাটা এবং পাথর ছিদ্র ও পালিশের কাজে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গ্রাফাইট
  2. হীরক
  3. লেড
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
হীরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীরক
ব্যাখ্যা
কার্বন: 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক। 

হীরকের ব্যবহার: 
- উজ্জ্বলতার জন্য হীরক মূল্যবান রত্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- বস্তুত এটি সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন। 
- এ কারণে বিভিন্ন হীরক খণ্ডের বিশেষ বিশেষ নাম আছে। 
যেমন কোহিনুর, দি হোবা, কুলিনান প্রভৃতি হীরক খণ্ড পৃথিবী বিখ্যাত। 
- অত্যন্ত কঠিন পদার্থ বলে হীরক কাঁচ কাটা, পাথর ছিদ্র ও খোদাইয়ের কাজে ও পালিশের কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- অতি সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি তৈরি করতে হীরক ব্যবহৃত হয়। 

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১৪০.
সংকর ধাতু কী?
  1. খনিজমল মিশ্রিত ধাতু
  2. শতভাগ বিশুদ্ধ ধাতু
  3. একাধিক ধাতুর মিশ্রণ
  4. একাধিক ধাতুর যৌগ
সঠিক উত্তর:
একাধিক ধাতুর মিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক ধাতুর মিশ্রণ
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
কোন ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না?
  1. ক্রোমিয়াম
  2. নিকেল 
  3. সোনা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

- 'অ্যালুমিনিয়াম' ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১৪২.
তামার সাথে কোন ধরনের ধাতুর সংকরায়নে ব্রোঞ্জ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) টিন
  3. গ) আয়রন
  4. ঘ) এ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টিন
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।
যেমন- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৩.
সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লার নাম কী? 
  1. লিগনাইট 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. বিটুমিনাস 
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট 
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 

- কয়লা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট: 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 

২। বিটুমিনাস: 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৪৪.
'লবণ উৎপাদনকারী' মৌল কোনটি?
  1. ফ্লোরিন
  2. নিয়ন
  3. নাইট্রোজেন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন/ লবণ উৎপাদনকারী মৌল:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৭ এর ৬ টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে।
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (CI), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (1), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
- যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা CI এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৫.
লোহার সাথে কোন পদার্থ মিশিয়ে মরিচাবিহীন স্টিল তৈরি করা হয়?
  1. তামা ও জিংক
  2. কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম
  3. স্বর্ণ ও রূপা 
  4. লোহা ও সিলভার
সঠিক উত্তর:
কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
• বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না; স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়; মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো- 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৬.
কাঠ ও কয়লা প্রধানত কী?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন
  4. ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে।

আবার,
কাঠের প্রধান উপাদান হচ্ছে সেলুলোজ। আবার এ সেলুলোজ কার্বণ, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত। তাই বলা যায় যে, কাঠের অন্যতম উপাদান হচ্ছে কার্বন। অন্যদিকে, কয়লা হচ্ছে কার্বনের একটি সাধারণ রূপ। সর্বোপরি বলা যায় যে, কাঠ ও কয়লা উভয়ের মধ্যেই কার্বনের পরমাণু বিদ্যমান।
১৪৭.
কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে?
  1. ডিজেল
  2. পেট্রোল
  3. অকটেন
  4. সিএনজি
সঠিক উত্তর:
ডিজেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিজেল
ব্যাখ্যা
- ডিজেল পোড়ালে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড আসে। 
- তবে মনে রাখতে হবে, ডিজেল পোড়ালে সবচেয়ে বেশি বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালফারযুক্ত ডিজেল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে এর দহন প্রক্রিয়ায় সালফারের জারন থেকে সালফার অক্সাইড উৎপন্ন ও নির্গত হয়। 
- সালফার ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ বেশি হবে না কম হবে তা ডিজেলে উপস্থিত সালফারের উপর নির্ভর করে। 

• জেনে রাখা ভাল- 
- অন্যদিকে ডিজেল একটি হাইড্রোকার্বন হওয়ায় এটির দহনে সবসময়ই কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। 
- সকল হাইড্রোকার্বনই এমন দহন বিক্রিয়া দেয়। 
- যুক্ত্রাষ্ট্রের Energy Information Administration (EIA) এর তথ্যমতে, 
- ২০১৮ সালে ডিজেল পোড়ানোর কারণে ৪৬১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) নির্গত হয়েছে যা ঐ বৎসরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের শতকরা ৯ ভাগ। 

উৎস: doe.portal.gov.bd & U.S. Energy Information Administration (EIA) Websites.
১৪৮.
কোন সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ইস্পাত
  2. ব্রোঞ্জ
  3. পিতল
  4. ডুরালুমিন
সঠিক উত্তর:
ডুরালুমিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুরালুমিন
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালুমিন' সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
মৃৎক্ষার ধাতু নিচের কোনটি?
  1. বেরিয়াম 
  2. সিজিয়াম 
  3. রুবিডিয়াম 
  4. সোডিয়াম 
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম 
ব্যাখ্যা

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
যেমন- 
• বেরিলিয়াম (Be), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• স্ট্রনসিয়াম (Sr), 
বেরিয়াম (Ba) এবং 
• রেডিয়াম (Ra)। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। 
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি মৌলগুলোকে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই মৌলগুলোর প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 
যেমন- 
• লিথিয়াম (Li), 
• সোডিয়াম (Na), 
• পটাসিয়াম (K), 
• রুবিডিয়াম (Rb), 
• সিজিয়াম (Cs) এবং 
• ফ্রান্সিয়াম (Fr)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫০.
'তামা ও টিন' এর সমন্বয়ে কোন ধাতু গঠিত হয়?
  1. ক) ব্রাস
  2. খ) ইনভার
  3. গ) কাঁসা
  4. ঘ) গান মেটাল
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁসা
ব্যাখ্যা
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। যেমন-
• কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
• পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।

উৎস- রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫১.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ক) প্লাটিপাস
  2. খ) লিমুলাস
  3. গ) ইকুইজিটাম
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
যেমন - লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।
অন্যদিকে,
- ইকুইজিটাম, নিটামপিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সুত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম।
১৫২.
অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী না
  3. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  4. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করে
সঠিক উত্তর:
তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী না
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

অধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। 
- আঘাত করলে শব্দ হয় না। 
- অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়। 
- ঘষলে চকচক করে না। 
- অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই। 
- ওজনে হালকা হয়। 
- সহজে জোড়া লাগানো যায় না। 
- পিটিয়ে পাত করা যায় না। 
- কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ। 
- অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট। 
- অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না। 
- চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Live MCQ লেকচার।
১৫৩.
কোনটি সোডিয়ামের আকরিক?
  1. কোরান্ডাম
  2. ন্যাট্রোন
  3. জিপসাম
  4. গ্যালেনা
সঠিক উত্তর:
ন্যাট্রোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যাট্রোন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধাতুর আকরিক:
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
- লেড এর আকরিক-গ্যালেনা (PbS)
- পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৪.
ভূ-পৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. তামা
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অ্যালুমিনিয়াম ধাতু। পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৮% অংশই অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত। এটি মূলত বক্সাইট আকরিকের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এর রাসায়নিক বিক্রিয়াশীলতা খুব বেশি হওয়ায় এটি শুদ্ধ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না। অ্যালুমিনিয়াম হালকা, জং ধরে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ ভালোভাবে পরিবাহন করতে পারে। এই কারণে এটি বিমান, গাড়ি, বৈদ্যুতিক তার, প্যাকেজিং ও নির্মাণ শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, লোহা, তামা ও জিংক তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পাওয়া যায়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো — ক) অ্যালুমিনিয়াম।

• পৃথিবীতে যে ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তা হলো অ্যালুমিনিয়াম।
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।
- কিন্ত প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায় না।
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে। এগুলো হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৫.
'সিন্নাবার' কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. লেড
  2. কপার
  3. মার্কারি
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
মার্কারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কারি
ব্যাখ্যা
- সিন্নাবার 'মার্কারি' ধাতুর একটি আকরিক। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। 
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
উড পেন্সিলের সীস হিসাবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) সিলভার
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
ব্যাখ্যা

গ্রাফাইট, হীরক, গ্রাফিন, ফুলারিন প্রভৃতি হলো কার্বনের বিভিন্ন রূপভেদ। উড পেন্সিলের সীস হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট। গ্রাফাইট অধাতু হওয়া সত্ত্বেও তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। এছাড়া সোডিয়াম ধাতু নিষ্কাশনে গ্রাফাইট অ্যানোড তড়িদ্বার হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

১৫৭.
নিচের কোনটি পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ভঙ্গুরতা দেখা যায়
  2. এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি
  3. এই শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না
  4. কয়লা এক প্রকার পাললিক শিলা
সঠিক উত্তর:
এই শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ। 

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- এই শিলায় স্তরায়ন এবং কাদার চির খাওয়া দাগ লক্ষ্য করা যায়।
- একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
- এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি।
- ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।
- কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার এই শিলা।
- কাঠিন্য আগ্নেয় শিলার থেকে কম।
- ফাটল বা কেলাসের গঠন থাকে না।

অন্যদিকে -
- আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।
- রূপান্তরিত শিলা: মার্বেল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৮.
কোন অধাতুটি প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়?
  1. ফসফরাস
  2. সিলিকন
  3. সালফার
  4. টিন
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
- আমরা প্রাকৃতিক উৎস থেকে যে সকল সম্পদ আহরণ করি তার মধ্যে খনিজ অধাতু অন্যতম।
- অধাতুসমূহের মধ্যে সালফার, কয়লা, ফসফরাস, সিলিকন ইত্যাদি খনি থেকে উত্তোলন করা হয়।
- প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ফ্লাস পদ্ধতিতে খনি থেকে উত্তোলন করা হয়
- সালফারের গলনাঙ্ক মাত্র ১১৯° সেন্টিগ্রেড হওয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার উত্তপ্ত জলীয় বাস্পের সংস্পর্শে তা গলে যায়।
- রাসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান সালফিউরিক এসিডসহ বারুদ, দেয়াশলাই, রাবার ভলকানাইজিং, সালফাড্রাগ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ উৎপাদনে সালফার ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
নিচের কোনটি অপধাতু?
  1. হিলিয়াম
  2. সিলিকন
  3. ব্রোমিন
  4. জেনন
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা
অপধাতু বা উপধাতু:

- যে সকল মৌল ধাতু ও অধাতু উভয়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে তাদেরকে অপধাতু বলে।
- উদাহরণ: সিলিকন, আর্সেনিক, বোরন, জার্মেনিয়াম, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম ইত্যাদি।

• ট্রানজিস্টর ও মাইক্রোচিপস তৈরিতে সিলিকন ব্যবহৃত হয়।
• ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশলাইটে জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ডুবুরিদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন গ্যাসের সাথে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ব্রোমিন (Br) একমাত্র মৌলিক অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১৬০.
গ্যালভানাজিং কী?
  1. লোহার উপর তামার প্রলেপ
  2. লোহার উপর সীসার প্রলেপ
  3. লোহার উপর দস্তার প্রলেপ
  4. দস্তার উপর সীসার প্রলেপ
সঠিক উত্তর:
লোহার উপর দস্তার প্রলেপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহার উপর দস্তার প্রলেপ
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর দস্তার প্রলেপ দেয়া হয়।

• গ্যালভানাইজিং:
- যে কোন ধাতুর উপর জিংকের (দস্তা) প্রলেপ দেয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এ ক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- এটি ধাতুকে ক্ষয় ও জারক বিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে, বিশেষ করে জলীয় বাষ্প, অক্সিজেন এবং অ্যাসিডিক পরিবেশে।
- লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৬১.
পারমাণবিক চুল্লিতে গ্রাফাইটের ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?
  1. তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. বিক্রিয়াশীলতা বাড়ানোর জন্য
  3. ইলেকট্রোলাইট হিসেবে
  4. নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে
সঠিক উত্তর:
নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে
ব্যাখ্যা

কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক।
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক।

গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১৬২.
রেডিও ও ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা 
  2. ম্যাগনেটাইট
  3. কোয়ার্টজ
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

- রেডিও এবং ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ (Quartz) ব্যবহৃত হয়। কারণ, এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাকে পাইজোইলেকট্রিক এফেক্ট বলা হয়। যখন কোয়ার্টজ স্ফটিকের ওপর যান্ত্রিক চাপ বা বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কম্পিত হয়। ঘড়িতে এই কম্পন ব্যবহার করে নির্ভুল সময় নির্ধারণ করা হয় এবং রেডিওতে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গ বজায় রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়। 

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব ও অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট লোহা বা আয়রন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মাটি এসিডিক হলে এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১৬৩.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ম্যানিস
  2. ভেড়া
  3. তেলাপোকা
  4. লিমুলাস
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৪.
নিচের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন চক্রের শুরু হয়?
  1. নাইট্রিফিকেশন
  2. ডিনাইট্রিফিকেশন
  3. ফিক্সেশান
  4. এসিমিলেশন
সঠিক উত্তর:
ফিক্সেশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিক্সেশান
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন চক্র: 
- নাইট্রোজেন চক্র পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 
- নাইট্রোজেন জীবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি কিন্তু বায়ুমণ্ডলে এটি বিপুল পরিমাণে থাকলেও কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ এটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন একটি জৈবভূরাসায়নিক প্রক্রিয়া যেটি প্রায় নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাসকে জীবের ব্যবহারের উপযোগী করে রূপান্তরিত করে তুলে। 
- এই চক্রের মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস বায়ুমণ্ডল থেকে মাটিতে আসে এবং চক্র শেষে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। 
- নাইট্রোজেন চক্রের কয়েকটি সক্রিয় প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো- 

নাইট্রোজেন ফিক্সেশান (Fixation): 
- নাইট্রোজেন চক্র শুরু হয় নাইট্রোজেন ফিক্সেশান দিয়ে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দিয়ে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত হয়। 
- এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মাটিতেই থাকে এবং এটি হচ্ছে উদ্ভিদের সঙ্গে এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর একধরনের সিম্বিওটিক সম্পর্ক। 

নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): 
- এই প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া প্রথমে নাইট্রাইট পরে নাইট্রেট আয়নে রূপান্তরিত হয়। 
- একবার নাইট্রেটে পরিণত হলে উদ্ভিদ খুব সহজে সেটি পুষ্টির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

এসিমিলেশন (Assimilation): 
- এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রেট গ্রহণ করে সেগুলো ব্যবহার করে নাইট্রোজেন গঠিত অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য অণু গঠন করে যেগুলো হচ্ছে ডিএনএ এবং প্রোটিন তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- প্রাণী তাদের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকে। 

এমোনিফিকেশন (Armonification): 
- যখন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর মৃত্যু ঘটে তখন ব্যাকটেরিয়া এবং ফানজাই তাদের দেহাবশেষ পচিয়ে আবার অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত করে দেয়। 
- নাইট্রোজেন ফিক্সেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়া যেভাবে নাইট্রেটে পরিণত হয়, ঠিক একইভাবে অ্যামোনোফিকেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়াও নাইট্রেটে পরিণত হয়। 

ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): 
- অক্সিজেনের ঘাটতি আছে এরকম এলাকায় এই প্রক্রিয়ায় ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটকে ভেঙে আবার নাইট্রোজেনে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়। 

উল্লেখ্য যে, 
- অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করার কারণে মাটিতে নাইট্রেটের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সেটি একধরনের পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করেছে। 
- কাজেই নাইট্রোজেন চক্রটির সঠিক নিয়ন্ত্রণ মানুষের জন্য একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি।
১৬৫.
আইভরি ব্ল্যাক কি?
  1. ক) রক্ত কয়লা
  2. খ) সক্রিয় কয়লা
  3. গ) কালো রঙ
  4. ঘ) অস্থিজ কয়লা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্থিজ কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্থিজ কয়লা
ব্যাখ্যা

'আইভরি ব্ল্যাক' হলো অস্থিজ কয়লা।

প্রাণিদেহের চর্বিমুক্ত হাড়ের বিধ্বংসী পাতনের ফলে উৎপন্ন হয় প্রাণীজ বা অস্থিজ কয়লা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়লার কার্বনের অনুপাত বাড়তে থাকে এবং কয়লার গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। এজন্য খনিজ কয়লার মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।
যেমন: পীট কয়লা, লিগনাইট, বিটুমিনাস এবং অ্যানথ্রাসাইট।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

১৬৬.
স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে -
  1. কার্বন
  2. লোহা
  3. নিকেল
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
- স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে - লোহা (৭৪%)। 

সংকর ধাতু: 

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৭.
জিংকের (Zn) খনিজ উৎস হচ্ছে - 
  1. সিন্নাবার
  2. বক্সাইট
  3. গ্যালেনা
  4. ক্যালামাইন
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন
ব্যাখ্যা

• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।
- জিংকের (Zn) প্রধান খনিজ উৎস হলো ক্যালামাইন। জিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া, ইমিউন সিস্টেম, কোষের বৃদ্ধিসহ নানা শারীরিক কাজের জন্য অপরিহার্য। প্রাকৃতিকভাবে জিংক বিভিন্ন খনিজের মধ্যে পাওয়া যায়। সিন্নাবার সাধারণত পারদ (Hg) সমৃদ্ধ, বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের উৎস, আর গ্যালেনা সীসার (Pb) প্রধান খনিজ। ক্যালামাইন হলো একটি জিংক-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ, যা ধাতব জিংক উৎপাদনের মূল উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই জিংকের জন্য কেবল ক্যালামাইনকে প্রধান খনিজ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।

• খনিজ সম্পদ:
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- গ্যালেনা সীসার খনিজ উৎস।
- বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ উৎস।
- সিন্নাবার মার্কারির খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৮.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ?
  1. ক) জিপসাম
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ
  4. ঘ) অভ্র
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- কয়লা
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র
১৬৯.
গ্যালেনা (PbS) কোন ধাতুর আকরিক?
  1. সীসা 
  2. তামা
  3. লোহা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
সীসা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীসা 
ব্যাখ্যা

- গ্যালেনা হলো সীসা বা লেড-এর প্রধান আকরিক, এর রাসায়নিক সংকেত PbS (লেড সালফাইড)। এটি পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যাওয়া সালফাইড খনিজগুলোর মধ্যে একটি এবং বাণিজ্যিক সীসা উৎপাদনের প্রধান উৎস। 

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়।
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে।

আকরিক (Ores): 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে।
যেমন- গ্যালেনা (PbS) থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়।
- আবার, বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়।
- কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়।
অতএব, আকরিক অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে।
- আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস (FeS2) বলা হয়, আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭০.
যে সকল যৌগ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু আহরণ করা যায়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. শিলা
  2. আকরিক
  3. খনিজ
  4. খনিজমল
সঠিক উত্তর:
আকরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকরিক
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না, খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 

খনিজ পদার্থ ও খনিজ সম্পদ: 
- ভূপৃষ্টের সকল স্থানেই বিভিন্ন ধাতু বা অধাতুর যৌগ পাওয়া গেলেও তা সব সময় লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় না। যদি ভূপৃষ্টের উপরিতলে বা ভূপৃষ্টের অভ্যন্তরে কোন যৌগ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা থেকে কোন ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায়, তবে সেই স্থানকে খনি বলে। আর খনি থেকে প্রাপ্ত পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। 
- আবার যদি এসকল পদার্থ লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় তবে এদের খনিজ সম্পদ বলা হয়। 
- স্বর্ণ, হীরা, কয়লা, সালফার ইত্যাদি খনিতে মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়, তাই এগুলো মৌলিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 
- মৌলিক খনিজ ব্যতিত সকল খনিজই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায় এবং এগুলো যৌগিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
নিচের কোন জেলায় কঠিন-শিলা খনি পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. নেত্রকোনা
  3. খুলনা
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:

• কঠিন শিলা (Hard Rock):
- রেলপথ, রাস্তাঘাট, গৃহ, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার  পার্বতীপুর, কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- রংপুরের রানীপুকুর থেকে বৈদেশিক সহযোগিতায় শিলা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, এখান থেকে বছরে প্রায় ১৭ লক্ষ টন শিলা উত্তোলন করা যাবে। 

• খনিজ তেলঃ
- দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- এ তেলক্ষেত্রে তেলের মোট মজুতের পরিমাণ প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
- ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- উৎপাদন শুরুর পরবর্তী সাড়ে ছয় বছরে এ তেলক্ষেত্র থেকে ০.৫৬ মিলিয়ন ব্যারেল খনিজ তেল উৎপাদন করা হয়।
- ১৯৯৪ সালের জুলাই মাস থেকে তেল উৎপাদন স্থগিত হয়ে যায়।
- বিশেষজ্ঞগণের মতে, হরিপুর তেলক্ষেত্রটিকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা হয় নি এবং সঠিক উপায়ে মূল্যায়নকার্য পরিচালনার পর পূর্ণমাত্রায় তেল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

* প্রাকৃতিক গ্যাসঃ
- মোট বানিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের ৭১% পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে
- আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি
- সর্বশেষে গ্যাসক্ষেত্র- ভোলা জেলার ইলিশা-১।
- সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র- তিতাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো
১৭২.
কোনটিতে তামা অনুপস্থিত থাকে?
  1. ব্রোঞ্জ
  2. ২১ ক্যারেট স্বর্ণ
  3. ২২ ক্যারেট স্বর্ণ
  4. ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
২৪ ক্যারেট স্বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ ক্যারেট স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ২৪ ক্যারেট স্বর্ণে তামা বা অন্য কোনো খাঁদ থাকে না। 

• সংকর ধাতু:
- কতকগুলো ধাতুকে একত্রে গলানোর পর গলিত মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে ধাতু মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 

• সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
• সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
• প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করাহয়। যেমন- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু।
• স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• সংকর ধাতু মরিচাবিহীন ইস্পাতে কপার অনুপস্থিত।
- এর উপাদান গুলো হলো লোহা, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
• সংকর ধাতু ডুরালুমিনে কপারের পরিমাণ 4% ।
• 21 ক্যারেট ও 22 ক্যারেট স্বর্ণে খাদ হিসেবে কপার ও অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ যথাক্রমে 12.5% ও 8.33%। 
• 24 ক্যারেট স্বর্ণে স্বর্ণের পরিমাণ 100% । অর্থাৎ এতে তামা বা অন্য কোনো খাঁদ থাকে না। 

তথ্যসুত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৭৩.
ইস্পাত সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। কারণ এতে-
  1. বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহার করা হয়েছে
  2. সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
  3. লোহাকে টেম্পারিং করা হয়েছে
  4. সব বিজাতীয় দ্রব্য বের করে দেয়া হয়েছে
সঠিক উত্তর:
সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
ব্যাখ্যা
- সাধারণ লোহার সাথে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা হয়, তাই এটি সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। 
- ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যার মধ্যে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে। 
- এছাড়াও ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম এবং ট্যাংস্টেন লোহার সাথে মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৪.
জিংক ধাতুর আকরিক কোনটি? 
  1. ক্যালামাইন 
  2. চালকোসাইট 
  3. গ্যালেনা
  4. সিন্নাবার 
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালামাইন 
ব্যাখ্যা

- 'ক্যালামাইন' জিংক ধাতুর আকরিক। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। 
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৫.
'জিপসাম' কোন খনিজের আকরিক? 
  1. আয়রন
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৬.
কাঁসা কিসের সংকর ধাতু?  
  1. তামা ও নিকেল
  2. তামা ও দস্তা
  3. তামা ও টিন
  4. তামা ও লোহা
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার (তামা) ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1%; এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
- আবার কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%; এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%; এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৭.
পিতলের উপাদান হলো-
  1. তামা ও টিন
  2. তামা ও নিকেল
  3. তামা ও সিসা
  4. তামা ও দস্তা
সঠিক উত্তর:
তামা ও দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও দস্তা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে। 
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৮.
খাবারের কৌটায় লোহার উপর সাধারণত কোন ধাতুর ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়? 
  1. রূপা 
  2. দস্তা
  3. টিন 
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
টিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিন 
ব্যাখ্যা

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১৭৯.
বাংলাদেশের চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
  1. রানীগঞ্জে
  2. বিজয়পুরে
  3. টেকেরহাটে
  4. বাগালীবাজারে
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুরে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে — নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুরে। 
----------------- 
• 'চীনামাটি':
- চীনামাটি কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের কর্দম; প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে বর্তমান নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮০.
কখন ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়?
  1. কপার আকরিকের ক্ষেত্রে
  2. জিংক আকরিকের ক্ষেত্রে
  3. লোহার আকরিকের ক্ষেত্রে
  4. সালফাইড আকরিকের ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
সালফাইড আকরিকের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফাইড আকরিকের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
আকরিক ঘনীকরণ: 
- বিচূর্ণকৃত আকরিক থেকে খনিজমল সাধারণত ভৌত পদ্ধতিতে দূর করে আকরিক ঘনীকরণ করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। 
- আকরিকের প্রকৃতি অনুসারে আকরিক ঘনিকরণে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
যেমন- 
অভিকর্ষ বলের সাহায্যে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিকের আপেক্ষিক গুরুত্ব খনিজমল থেকে আপেক্ষিক গুরুত্ব থেকে বেশি হয় তবে এ পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়। 
- বিচূর্ণকৃত আকরিককে প্রবাহমান পানি দ্বারা আলোড়িত বা ধৌত করা হয়। ফলে হালকা খনিজমল প্রবাহমান পানির সাথে চলে যায় এবং ভারি আকরিক সঞ্চিত থাকে। এতে আকরিক ঘনীভূত হয়। 

ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক সালফাইড হিসেবে থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- একটি বড় পাত্রে বিচূর্ণকৃত সালফাইড আকরিক নিয়ে তাতে পানি ও অল্প পরিমাণ উপযুক্ত তেল যোগ করা হয়। অতপর পানির মধ্যে বায়ু প্রবাহিত করা হয়, ফলে সালফাইড আকরিকসমূহ তেলে সিক্ত হয়ে পানির উপর ফেনা আকারে ভেসে উঠে। এবার ফেনাসহ আকরিক পৃথক করে নেওয়া হয় এবং পাত্রে খনিজমল পড়ে থাকে। 

চৌম্বক পৃথকীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক অথবা খনিজমল কোন একটির চৌম্বক ধর্ম থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- এই পদ্ধতিতে দুইটি চাকতিতে স্থাপিত একটি চলমান বেল্টে উপর থেকে বিচূর্ণকৃত আকরিক ফেলা হয়। বেল্টটি চলমান হওয়ায় বিচূর্ণকৃত আকরিক বাহিরের দিকের চাকতিটি পার হয়ে ছিটকে পড়তে থাকে। 
- বাহিরের চাকতিটি চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট রাখা হয়। ফলে চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতির কাছে এবং অচৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতি থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। 

রাসায়নিক পদ্ধতি: 
- কিছু কিছু আকরিকের বৈশিষ্ট্য যদি এমন হয় যে, এর সাথে মিশ্রিত খনিজমল কোন দ্রাবকের সাহায্যে দ্রবীভূত করে দূরিভূত করা যায় তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে কোন একটি উপযুক্ত দ্রবক দ্বারা দ্রবীভূত করে আকরিকের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত একটি উপাদানকে পৃথক করা হয়।
- পরবর্তিতে দ্রবণ থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে আকরিক পৃথক করা হয়।
যেমন- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক থেকে খনিজমল দূর করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) যোগ করে ১২০০-২০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে বক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং খনিজমল অদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। অতপর দ্রবণ ছেঁকে খনিজমল দূর করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কী?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. চুনাপাথর
  3. মিথেন গ্যাস
  4. ইলমেনাইট
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
⇒ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। 
- এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে - ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।



ইউরিয়া উৎপাদনের মূলনীতি:
• বাংলাদেশে ৭টি সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদনে কাঁচামাল (Raw Material) হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।




ইউরিয়া উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল তথা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে প্রাপ্ত মিথেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উভয়ই ব্যবহৃত হয় এবং উভয়ই প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান।
যেহেতু মিথেন ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যান্য উপাদানও ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই, কাঁচামাল তথা Raw Material হিসেবে 'প্রাকৃতিক গ্যাস' অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। অপশনে প্রাকৃতিক গ্যাস না থাকলে মিথেন উত্তর হবে।


সূত্র:
১. কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান: American Energy Information Administration [Link]
২. রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
১৮২.
দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় কোন রাসায়নিক উপাদান থাকে?
  1. শ্বেত ফসফরাস
  2. লোহিত ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
লোহিত ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• লোহিত ফসফরাস:
- দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়।
- লোহিত ফসফরাস একটু উষ্ণ অবস্থায় বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
- তাই লোহিত ফসফরাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ম্যাচের কাঠি।
- ম্যাচের কাঠি বারুদে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ তৈরি হয়, তাতে লোহিত ফসফরাস অক্সিজেনর সঙ্গে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে।

• ফসফরাস: রূপভেদ ২ টি।
• শ্বেত ফসফরাস ও
• লোহিত ফসফরাস।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই ও ব্রিটানিকা।
১৮৩.
প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না -
  1. ক) কার্বন
  2. খ) জার্মেনিয়াম
  3. গ) টিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টিন
ব্যাখ্যা
কার্বন: প্রাচূর্যের দিক দিয়ে বিশ্বে কার্বনের অবস্থান চতুর্দশ। জীবন প্রক্রিয়ায় কার্বন একটি অত্যাবশ্যকীয় মৌল বলে এর অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
কার্বন প্রকৃতিতে মূক্ত ও যৌগ উভয় অবস্থায় বিদ্যমান। মুক্ত অবস্থায় ডায়মন্ড ও গ্রাফাইট এ দু'টি স্ফটিকাকার এবং কার্বন অনিয়তাকার বা অদানাদার। কার্বন মূলত: কয়লা হিসেবে থাকে। যৌগাবস্থায় কার্বন চুনাপাথর বা ক্যালসাইট, CaCO3; ম্যাগনেসাইট, MgCO3; ডলোমাইট, CaCO3.MgCO3 ইত্যাদিতে থাকে। এ ছাড়া খনিজ তৈল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ জৈব যৌগে কার্বন থাকে। অজৈব যৌগ যেমন CO, কার্বনেট ও বাইকার্বনেট যৌগেও উলে-খযোগ্য পরিমাণে কার্বন থাকে ।

সিলিকন: অক্সিজেনের পরই প্রকৃতিতে প্রাচুর্যতার দিক দিয়ে সিলিকনের অবস্থান। অক্সিজেনের প্রতি সিলিকনের প্রবল আসক্তি থাকায় প্রকৃতিতে সিলিকন অক্সাইড যৌগ। বালি, পাথর ও কোয়ার্ডে সিলিকা রূপে (SiO2) সিলিকন বিদ্যমান থাকে। এছাড়া সিলিকন ফেল্ডস্পার, মাইকা, এ্যাসবেসটস ইত্যাদিতে সিলিকেট রূপে থাকে ।

টিন: টিন প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়না। এর প্রধান আকরিক হচ্ছে ক্যাসিটেরাইট বা টিন-স্টোন, SnO2 । Fe, Cu ও Zn এর বিভিন্ন পাইরাইট্স আকরিকের সাথেও স্বল্প পরিমাণে টিন মিশ্রিত থাকে ।

সূত্র: ৪২৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
কাচ তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সিলিকা
  2. কার্বন
  3. আয়রন
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
ব্যাখ্যা
• কাচ তৈরিতে প্রধানত সিলিকা (SiO₂) বা সিলিকন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
- সিলিকন ডাইঅক্সাইড মূলত বালি (sand) থেকে প্রাপ্ত হয় এবং এটি কাচের মূল উপাদান।

• কাচ তৈরির প্রক্রিয়া:
- সিলিকা (SiO₂), সোডা (Na₂CO₃), এবং চুন (CaCO₃) মিশিয়ে ১২০০তাপমাত্রায় গলানো হয়।
-  যা ঠান্ডা হলে কাচের আকার ধারণ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১৮৫.
ফেনা ভাসমান পদ্ধতি কোন ধরনের আকরিকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক্লোরাইড আকরিক
  2. হাইড্রোক্সাইড আকরিক
  3. অক্সাইড আকরিক
  4. সালফাইড আকরিক
সঠিক উত্তর:
সালফাইড আকরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফাইড আকরিক
ব্যাখ্যা
আকরিক ঘনীকরণ: 
- বিচূর্ণকৃত আকরিক থেকে খনিজমল সাধারণত ভৌত পদ্ধতিতে দূর করে আকরিক ঘনীকরণ করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। 
- আকরিকের প্রকৃতি অনুসারে আকরিক ঘনিকরণে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
যেমন- 
অভিকর্ষ বলের সাহায্যে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিকের আপেক্ষিক গুরুত্ব খনিজমল থেকে আপেক্ষিক গুরুত্ব থেকে বেশি হয় তবে এ পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়। 
- বিচূর্ণকৃত আকরিককে প্রবাহমান পানি দ্বারা আলোড়িত বা ধৌত করা হয়। ফলে হালকা খনিজমল প্রবাহমান পানির সাথে চলে যায় এবং ভারি আকরিক সঞ্চিত থাকে। এতে আকরিক ঘনীভূত হয়। 

ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক সালফাইড হিসেবে থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- একটি বড় পাত্রে বিচূর্ণকৃত সালফাইড আকরিক নিয়ে তাতে পানি ও অল্প পরিমাণ উপযুক্ত তেল যোগ করা হয়। অতপর পানির মধ্যে বায়ু প্রবাহিত করা হয়, ফলে সালফাইড আকরিকসমূহ তেলে সিক্ত হয়ে পানির উপর ফেনা আকারে ভেসে উঠে। এবার ফেনাসহ আকরিক পৃথক করে নেওয়া হয় এবং পাত্রে খনিজমল পড়ে থাকে। 

চৌম্বক পৃথকীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক অথবা খনিজমল কোন একটির চৌম্বক ধর্ম থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- এই পদ্ধতিতে দুইটি চাকতিতে স্থাপিত একটি চলমান বেল্টে উপর থেকে বিচূর্ণকৃত আকরিক ফেলা হয়। বেল্টটি চলমান হওয়ায় বিচূর্ণকৃত আকরিক বাহিরের দিকের চাকতিটি পার হয়ে ছিটকে পড়তে থাকে। 
- বাহিরের চাকতিটি চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট রাখা হয়। ফলে চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতির কাছে এবং অচৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতি থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। 

রাসায়নিক পদ্ধতি: 
- কিছু কিছু আকরিকের বৈশিষ্ট্য যদি এমন হয় যে, এর সাথে মিশ্রিত খনিজমল কোন দ্রাবকের সাহায্যে দ্রবীভূত করে দূরিভূত করা যায় তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে কোন একটি উপযুক্ত দ্রবক দ্বারা দ্রবীভূত করে আকরিকের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত একটি উপাদানকে পৃথক করা হয়।
- পরবর্তিতে দ্রবণ থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে আকরিক পৃথক করা হয়।
যেমন- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক থেকে খনিজমল দূর করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) যোগ করে ১২০০-২০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে বক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং খনিজমল অদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। অতপর দ্রবণ ছেঁকে খনিজমল দূর করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
নিচের কোন কয়লায় কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. অ্যানথ্রাসাইট
  2. বিটুমিনাস
  3. লিগনাইট
  4. কোনোটিই না
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ। পরবর্তীতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। যথা: 
১। অ্যানথ্রাসাইট: অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
২। বিটুমিনাস: বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
৩। লিগনাইট: লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৭.
কোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে বলে-  
  1. টিনপ্লেটিং
  2. ভলকানাইজিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং 
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৮.
কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো-
  1. শাজিমাটি
  2. চুনাপাথর
  3. জিপশাম
  4. বালি
সঠিক উত্তর:
বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালি
ব্যাখ্যা
কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হল বালি। 
- কাঁচ স্বচ্ছ পদার্থ এবং এটি স্বচ্ছ বলেই এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি ভেদ করে চলে যেতে পারে। 
- কাঁচ তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে বালু এবং বালুর প্রধান উপাদান হলো সিলিকা অর্থাৎ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড। 
- কাঁচ হচ্ছে মূলত সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণ। 
- রাসয়নিকভাবে কাঁচ একটি ক্ষারীয় দ্বি-লবণ। 
- সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে সম্পূর্ণরূপে গলিয়ে শীতল করলে যে শক্ত, অনিয়তাকার স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কাঁচ বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৯.
কোন মৌলটির উপস্থিতি কয়লার মান নষ্ট করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. সালফার
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা

• কয়লার মান নষ্টকারী মৌল (সালফার):
- কয়লায় সালফারের উপস্থিতি কয়লার গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
- সালফারযুক্ত কয়লা জ্বালালে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস (SO2) উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
- এই গ্যাস বায়ু দূষণ ও অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী।
- শিল্পকারখানায় সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করলে যন্ত্রপাতিতে ক্ষয় (corrosion) দেখা যায়।
- তাই উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লাকে নিম্নমানের কয়লা হিসেবে ধরা হয়।

• অন্যান্য মৌলগুলোর প্রভাব:
- নাইট্রোজেন সাধারণত কয়লার মান নষ্ট করার প্রধান কারণ নয়।
- ফসফরাস ধাতব শিল্পে ক্ষতিকর হলেও কয়লার প্রধান মাননষ্টকারী মৌল নয়।
- অক্সিজেন কয়লার দহন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, কিন্তু সরাসরি কয়লার মান নষ্ট করে না।

সুতরাং, কয়লার মান নষ্ট করার জন্য প্রধানত দায়ী মৌল হলো সালফার।  
সঠিক উত্তর: গ) সালফার। 

সূত্র - sciencedirect journal.

১৯০.
’ডলোরাইট' কোন ধরনের শিলা?
  1. রূপান্তরিত শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. পাললিক শিলা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা

• আগ্নেয় শিলা:
-  
গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ব্যাসল্ট, পিউমিস, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিখ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:

- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯১.
কোন দুইটি ধাতুর সংকরায়ণের মাধ্যমে ব্রোঞ্জ তৈরি করা হয়?
  1. ক) তামা ও দস্তা
  2. খ) দস্তা ও টিন
  3. গ) কপার ও টিন
  4. ঘ) কপার ও নিকেল
সঠিক উত্তর:
গ) কপার ও টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কপার ও টিন
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। যেমন:
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
'ডুরালুমিন' সংকর ধাতুতে কোন উপাদান সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. ক্রোমিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালুমিন' সংকর ধাতুতে "অ্যালুমিনিয়াম" উপাদান সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে, যা শতকরা ৯৫ ভাগ। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
কোন খনিজটি কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত? 
  1. ডলোমাইট
  2. জিপসাম
  3. সোনা
  4. বক্সাইট
সঠিক উত্তর:
সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনা
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, 'প্রকৃতিপ্রদ ও অজৈব কঠিন পদার্থ, যাদের মধ্যে কতিপয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংযুক্তি থাকে তাদেরকেই খনিজ পদার্থ বলে'। 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোনা, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়।
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়।
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ: 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ: 
- রাসায়নিক অধাতব খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের অধাতব খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ: 
- কঠিন জ্বালানি খনিজ, যথা- কয়লা। 
- তরল জ্বালানি খনিজ, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয় জ্বালানি খনিজ, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক জ্বালানি খনিজ, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
১৯৪.
তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়ায় ধাতুর প্রলেপ কোথায় পড়ে? 
  1. অ্যানোডে 
  2. ক্যাথোডে 
  3. ব্যাটারিতে 
  4. ইলেকট্রোলাইটে 
সঠিক উত্তর:
ক্যাথোডে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাথোডে 
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন (Electroplating): 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ করে একটি ধাতুর ওপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে। 
- সাধারণত কোনো কম দামি ধাতু (যেমন- তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি) দিয়ে তৈরি জিনিসকে জলবায়ু থেকে রক্ষা করার জন্য কিংবা সুন্দর দেখানোর জন্য সেগুলোর ওপর সোনা, রুপা, নিকেল এরকম মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- যে ধাতব বস্তুটিকে প্রলেপ দিতে হবে, সেটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি পাত্রে রাখতে হবে। এটি হবে ক্যাথোড ইলেকট্রোড।
- যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়।
- তড়িৎ দ্রব হিসেবে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, তার কোনো একটি লবণের দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
- ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে রাখা ধাতব বস্তুর ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৫.
অধাতুর তুলনায় ধাতুর ঘনত্ব সাধারণত- 
  1. বেশি 
  2. কম
  3. সমান 
  4. অপরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি 
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬.
নিচের কোনটি একটি ধাতু? 
  1. ক্লোরিন
  2. সালফার
  3. কার্বন
  4. সিলভার
সঠিক উত্তর:
সিলভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতু: 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি।

অধাতু: 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ক) লোহা
  2. খ) এলুমিনিয়াম
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- এলুমিনিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু। ধাতুসমূহ দেখতে চকচকে, তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি হলো অধাতু। সাধারণত এরা তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী এবং ধাতুর মতো চকচকে হয় না। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

১৯৮.
নিচের কোনটি উপধাতু?
  1. ক) আর্সেনিক
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) বেরেলিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) আর্সেনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আর্সেনিক
ব্যাখ্যা

যে মৌলের মধ্যে ধাতু ও অধাতু উভয়েরই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাকে উপধাতু বা অপধাতু বলে।
যেমন-বােরন (B), সিলিকন (Si), আর্সেনিক (As), টেলুরিয়াম (Te) ইত্যাদি।
সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৯৯.
ইথানল জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ইঞ্জিনে প্রয়োগ করা হয়? 
  1. বাষ্প ইঞ্জিন
  2. বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন
  3. তাপ ইঞ্জিন
  4. হাইড্রোলিক ইঞ্জিন
সঠিক উত্তর:
তাপ ইঞ্জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানলের রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH. 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা ১০ ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২০০.
নিচের কোনটি অধাতু? 
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. জিংক
  4. সিলভার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতু: 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 

অধাতু: 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।