বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২৭ / ৩৯ · ২,৬০১২,৭০০ / ৩,৮২৯

২,৬০১.
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কোনটি?
  1. ফৌজদারি আইন
  2. প্রশাসনিক আইন
  3. সাংবিধানিক আইন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়:
(১) সরকারি আইন,
(২) বেসরকারি আইন,
(৩) আন্তর্জাতিক আইন।

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।
- সরকারি আইন আবার কয়েক প্রকার।
- যেমন:
• ফৌজদারি আইন,
• প্রশাসনিক আইন,
• সাংবিধানিক আইন।

• ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

সাংবিধানিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০২.
রেনে দেকার্ত কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
রেনে দেকার্ত(১৫৯৬-১৬৫০), একজন ফরাসি দার্শনিক, গণিতজ্ঞ এবং বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি একজন দ্বৈতবাদী দার্শনিক ছিলেন। তিনি স্কলাস্টিক অ্যারিস্টোটেলিয়ানিজমকে ত্যাগকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন, কারণ তিনি মন-দেহের দ্বৈতবাদের প্রথম আধুনিক সংস্করণ তৈরি করেছিলেন। সেজন্য তাকে আধুনিক দর্শনের জনক বলা হয়েছে। সূত্র- ব্রিটানিকা।
২,৬০৩.
মূল্যবোধ নামক প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে -
  1. ক) নীতি, মান ও বিশ্বাস
  2. খ) শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা
  3. গ) শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন
  4. ঘ) সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও বিনোদন
সঠিক উত্তর:
ক) নীতি, মান ও বিশ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীতি, মান ও বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উৎস
▪ মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ জেনেটিক্যালি নির্ধারিত হয়।
▪ আপনার মূল্যবোধ কী হবে তার ব্যাখ্যা প্রদানে আপনার পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
▪ তথাপি মূল্যবোধের বৈচিত্রতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উপাদান ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
▪ মূল্যবোধকে একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে: নীতি, মান ও বিশ্বাস
▪ এসব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় ব্যক্তি, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান; ভাল-মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়পরায়নতা, নৈতিকতা বচার করে এবং নৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে কাজের দিক নির্দেশনা।
▪ এ উপাদানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বংশগতি থেকে পেয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০৪.
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ২০০৯
  2. খ) ২০০৭
  3. গ) ২০০৮
  4. ঘ) ২০১০
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০৮
ব্যাখ্যা
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক সিনিয়র সচিব নাছিমা বেগম। 
- তিনি সংস্থাটির প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা।
- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৭ জারি করা হয় ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। 
- এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে ২০০৮ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। 
 
(সূত্রঃ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ওয়েবসাইট)
২,৬০৫.
প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের নির্বাচনে ভোট দেবার ক্ষমতা কি ধরনের সাম্য?
  1. অর্থনৈতিক
  2. আইনগত
  3. নৈতিক
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০৬.
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে-
  1. ক) রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নত করা যায়।
  2. খ) সামাজিক বৈষম্য দূর করা যায়।
  3. গ) সার্বিক জীবনাচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
  4. ঘ) সংস্কৃতিহীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা যায়।
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক বৈষম্য দূর করা যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক বৈষম্য দূর করা যায়।
ব্যাখ্যা
.মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূর করা যায়।-
জাতীয় উন্নয়নে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন এর প্রভাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:
- মূল্যবোধ ও সুশাসন জাতীয় জীবনে ঐক্য ও সংহতির সৃষ্টি করে।
- সামাজিক বৈষম্য দূর করে।
- মূল্যবোধের দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি ও টেকসই জীবনযাত্রার উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।
- রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করে।
- শিশু ও সমাজের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)
২,৬০৭.
হল্যান্ড ও ওপেনহাইমের আইনের উৎসসমূহের মধ্যে মূল পার্থক্য কোনটি?
  1. প্রথা
  2. ধর্ম
  3. জনমত
  4. আইনসভা
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) জনমত।

আইন ও আইনের উৎস:

- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি, তা হলো সার্বভৌমের আদেশ।

উল্লেখ্য,
⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে, আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্রথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬০৮.
পূর্ণতাবাদ অনুসারে নৈতিকতার মানদণ্ড কী?
  1. সুখ লাভ
  2. অর্থ সম্পদ 
  3. আত্মোপলব্ধি
  4. ক্ষমতা অর্জন
সঠিক উত্তর:
আত্মোপলব্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মোপলব্ধি
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬০৯.
নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি কোনটি?
  1. পরিবার
  2. বিদ্যালয়
  3. সমাজ
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, 
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
-  সহনশীলতা, 
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

⇒ নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে। নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬১০.
লর্ড ব্রাইসের মতে, আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. সহানুভূতি
  3. নির্লিপ্ততা
  4. আনুগত্য 
সঠিক উত্তর:
আনুগত্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুগত্য 
ব্যাখ্যা

- লর্ড ব্রাইস মানুষের আইন মানার পেছনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন: নির্লিপ্ততা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, শাস্তির ভয় এবং যৌক্তিকতার উপলব্ধি। এর মধ্যে 'অনুগত্য ' অন্তর্ভুক্ত নয়।

আইন মান্য করার কারণ:

- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬১১.
'সৎ গুণই জ্ঞান' উক্তিটি কার?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) জোনাথান হেইট
সঠিক উত্তর:
ক) সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না।
- ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।

অন্যদিকে -
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬১২.
কোন সংস্থার মতে, “অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়?
  1. ক) জাতিসংঘ
  2. খ) ইউএনডিপি
  3. গ) বিশ্বব্যাংক
  4. ঘ) আই.এম.এফ
সঠিক উত্তর:
খ) ইউএনডিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারনা

⇒ UNDP এর মতে, সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।
⇒ বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। 

⇒ সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে। বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে। ‘সবুজ বিপ্লব’ আর ‘কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচির ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৩.
আমলাতন্ত্রের কাজ কী?
  1. আইন প্রণয়ন
  2. নীতি নির্ধারণ
  3. রাষ্ট্র পরিচালনা
  4. নীতি বাস্তবায়ন
সঠিক উত্তর:
নীতি বাস্তবায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন। আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।

আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy যা ফরাসি শব্দ Bureau (Desk বা টেবিল) এবং গ্রিকশব্দ Kratein (শাসন) থেকে উদ্ভূত। তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.

জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভার কে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
আমলাতন্ত্রে কাজের দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দেখা দেয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৬১৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব কী?
  1. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করা
  2. সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা
  3. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল। 

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব -
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি।
২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি।
৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে।
৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে।
৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়।
৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ।
৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে।
৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬১৫.
'Laws does not and can not cover all grounds of morality' - বিখ্যাত এই উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) ম্যাক্সওয়েবার
  2. খ) টি এইচ গ্রিন
  3. গ) জন অস্টিন
  4. ঘ) আর. এম ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
ঘ) আর. এম ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আর. এম ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
• শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়।
• আর. এম ম্যাকাইভার এ জন্যই বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬১৬.
সুশাসনের ভিত্তি কী?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. দলীয়করণ
  3. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
  4. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।

• সুশাসনের ভিত্তি বা উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬১৭.
সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
২,৬১৮.
'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত _______ স্বাধীনতা অর্থহীন'।
  1. নৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬১৯.
'Leviathan' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. মন্টেস্কু
  2. রুশো
  3. টমাস হবস
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
টমাস হবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমাস হবস
ব্যাখ্যা
• Leviathan:
- 'Leviathan' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন থমাস হবস (Thomas Hobbes)।
- এটি ১৬৫১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি রাজনৈতিক দার্শনিকতায় (political philosophy) একটি গুরুত্বপূর্ণ বই হিসেবে বিবেচিত হয়।

- এই গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিষয়ে আলোচনা করেন।
- গ্রন্থটির পূর্ণ নাম "লেভিয়াথান; অর, দ্য ম্যাটার, ফর্ম, অ্যান্ড পাওয়ার অফ এ কমনওয়েলথ, ইক্লেসিয়াস্টিক্যাল অ্যান্ড সিভিল"( The Matter, Form, and Power of a Commonwealth, Ecclesiastical and Civil)।
- এটি হবসের আগের কাজ "ডি সিভে" (De Cive)-এর (১৬৪২) ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেখানে একটি রাজনৈতিক দার্শনিক তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এই তত্ত্বে বলা হয়, রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ভিত্তি একটি কাল্পনিক সামাজিক চুক্তি, যা জনগণ নিজেদের নিরাপত্তা এবং মঙ্গল নিশ্চিত করতে একটি সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।

অন্যদিকে,
- বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Power: A New Social Analysis.
- ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কুর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থের নাম The Spirit of Laws.
- রুশোর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম The Social Contract.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২,৬২০.
‘অবকাশ লাভের অধিকার’ কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. সাংস্কৃতিক অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
- অধিকারের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। এসবের মধ্যে অর্থনৈতিক অধিকার সমূহ হলো:
- অবকাশ লাভের অধিকার
- কর্মের অধিকার
- ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার
- শ্রমিক সংঘ করার অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
২,৬২১.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. নৈতিক জীবনযাপন
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. ধর্মীয় অনুশাসন শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি বা নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো সামাজিক অবক্ষয় বা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৬২২.
জার্মান নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয় কোনটি?
  1. Critique of Practical Reason
  2. Critique of Judgement
  3. Being and Time
  4. Groundwork for Metaphysics of Morals
সঠিক উত্তর:
Being and Time
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Being and Time
ব্যাখ্যা
- Being and Time - ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয়। 
- এই গ্রন্থটির রচয়িতা মার্টিন হাইডেগার। 

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।

তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Judgement.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
২,৬২৩.
গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. নির্বাচন
  2. ক্ষমতার ভারসাম্য
  3. জন সচেতনা
  4. দলীয়করণ
সঠিক উত্তর:
জন সচেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন সচেতনা
ব্যাখ্যা

• জন সচেতনা: 
- জনগনের সচেতনতাই গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, 
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬২৪.
'নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন' - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. আইভর ব্রাউন
  2. থমাস হবস
  3. জেমস মিল
  4. ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
আইভর ব্রাউন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইভর ব্রাউন
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ 'Ethics' যা গ্রিক শব্দ 'ইথস' (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো 'চরিত্র' বা রীতিনীতি (Character or Custom)।
- প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য নৈতিকতা ও সুনাগরিকতার জ্ঞানের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধন।
- এ প্রসঙ্গে আইভর ব্রাউন (Ivor Brown) বলেন, “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।

উল্লেখ্য,
- ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।"
- Godiwalla & Faramarz এর মতে, " নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।"
- Kreitner Eliason foundations of Management- এর মতে ভুল বনাম সঠিক এর সংশ্লিষ্টতার সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করাই হলো নৈতিকতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কীসের বিকাশে সহায়তা করে?
  1. ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সচেতনতা
  2. ধর্মীয় বিশ্বাস
  3. প্রযুক্তিগত দক্ষতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সচেতনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সচেতনতা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬২৬.
ম্যাক করণীর মতে, সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল
  3. রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক
  4. সরকারকে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৭.
কোন প্রতিষ্ঠানের সফলতা কীসের ওপর নির্ভর করে?
  1. ক) শাসনকার্য
  2. খ) ফলপ্রসূ শাসনকার্য
  3. গ) ব্যাক্তিস্বার্থ
  4. ঘ) স্বজনপ্রীতি
সঠিক উত্তর:
খ) ফলপ্রসূ শাসনকার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফলপ্রসূ শাসনকার্য
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২,৬২৮.
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কততম লক্ষ্যে 'শান্তি ও ন্যায়বিচার'-এর কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৪তম
  2. ১৫তম
  3. ১৬তম
  4. ১৭তম
সঠিক উত্তর:
১৬তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬তম
ব্যাখ্যা
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আদলে ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টস গোল (এসডিজি) গ্রহণ করে।
- এসডিজিতে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ১৬৯টি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্যে লক্ষ্যস্থির করা হয়।
- মেয়াদকাল: ২০১৬-২০৩০ সাল।
- বাস্তবায়ন শুরু: ১ জানুয়ারি, ২০১৬ সাল।
- মেয়াদ শেষ: ৩১ ডিসেম্বর, ২০৩০ সাল।

⇒ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা হলো:
১. দারিদ্র্য বিলোপ;
২. ক্ষুধা মুক্তি;
৩. সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ;
৪. মানসম্মত শিক্ষা;
৫. লিঙ্গ সমতা;
৬. নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন;
৭. সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি;
৮. শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
১০.অসমতার হ্রাস;
১১. টেকসই নগর ও জনপদ;
১২. পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন;
১৩. জলবায়ু কার্যক্রম;
১৪. জলজ জীবন;
১৫. স্থলজ জীবন;
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান;
১৭. অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব৷

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৬২৯.
‘Know Thyself' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. এরিস্টটল
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা। 
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।
- সক্রেটিস এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের নিজের সীমা, জ্ঞান ও নিজস্বতা উপলব্ধির ওপর জোর দেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৩০.
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) রিপোর্ট কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. বিশ্ব ব্যাংক
  2. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
- মানব উন্নয়ন সূচক হল (Human Development Index, HDI) একটি পরিমাপের সূচক, যা একটি দেশের মানব উন্নয়নের বিভিন্ন মাত্রার মূল্যায়ন করে।
- মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)।
- এটি মূলত তিনটি প্রধান দিক নিয়ে গঠিত:
১) এটি একটি দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু মূল্যায়ন করে।
২) এটি সাক্ষরতার হার এবং শিক্ষার স্তর বিবেচনা করে।
৩) এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

- HDI-র মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মিলিত চিত্র পাওয়া যায়, যা উন্নয়ন নীতি ও প্রোগ্রাম প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।
২,৬৩১.
'দি রিপাবলিক' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ম্যাকিয়াভেলি
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) মন্টেস্কু
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু। তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- এরিস্টটলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম 'দ্যা পলিটিক্স'।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,৬৩২.
নীতিবিদ্যার মূল কথা নয় কোনটি?
  1. কর্তব্যের জন্য কর্তব্য
  2. শর্তহীন আদেশ
  3. আইনের প্রয়োগ 
  4. সৎ ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
আইনের প্রয়োগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের প্রয়োগ 
ব্যাখ্যা

- আইনের প্রয়োগ নীতিবিদ্যার মূলকথা  নয়।

নৈতিকতা:

- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৩৩.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. কঠোর অনুশাসন
  2. গণতন্ত্রের চর্চা
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. সীমিত ভোটাধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন- ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। 

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:

- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।

⇒ গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৩৪.
'Man multiplies like mice in a bran.' উক্তিটি কার?
  1. ক) উইলিয়াম
  2. খ) ফ্রাঙ্কেল
  3. গ) কনটিলন
  4. ঘ) প্লেটো
সঠিক উত্তর:
গ) কনটিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কনটিলন
ব্যাখ্যা
- কনটিলনের বিখ্যাত উক্তি, 'Man multiplies like mice in a bran.'
- উইলিয়াম বলেছেন, 'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।'
- ফ্রাঙ্কেলের উক্তি, 'মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।'
- প্লেটো বলেছেন, 'শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক।'
২,৬৩৫.
“Law is the passionless reason" উক্তিটি কার?
  1. ক) হল্যান্ড
  2. খ) অধ্যাপক লাস্কি
  3. গ) অধ্যাপক ডাইসি
  4. ঘ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
• আইন:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason.)।

- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও - 
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৬৩৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় হলো -
  1. ক) সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
  2. খ) আনুগত্য প্রদর্শন করা
  3. গ) ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও নাগরিক উভয়কেই তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
এক্ষেত্রে নাগরিকদের করণীয় হলো:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
- আনুগত্য প্রদর্শন করা
- আইন মেনে চলা
- নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়ের মধ্যে রয়েছে:
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা
- স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা
- সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৬৩৭.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য কোনটি?
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

⇒ যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৩৮.
"Society is the whole system of social relationship"-এ উক্তিটি কার?
  1. রুশো
  2. গার্নার
  3. এরিস্টটল
  4. ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা

সমাজ:
- রাষ্ট্র ও সমাজ দুটি ভিন্নধর্মী সংগঠন। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে সংস্থার সৃষ্টি হয় তাই সমাজ।
- ম্যাকাইভার বলেন "Society is the whole system of social relationship."
- সমাজ হচ্ছে গোটা সামাজিক সম্পর্কের ব্যবস্থা।
- যেখানেই মানুষ পরস্পর স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়েছে সেখানেই সমাজ গড়ে উঠেছে।
- এডমন্ড তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, Reflection of the Revolution in France-এ উল্লেখ করেছেন যে সমাজ একটি সংঘবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- গিডিংসের মতে, "সমাজ বলতে এমন এক সংঘবদ্ধ জনসমষ্টিকে বুঝায় যারা কোন সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মিলিত হয়েছে।"
- সমাজ সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
- রাষ্ট্র সমাজের এক প্রধান সংগঠন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৩৯.
নিচের কোন গ্রন্থটি 'ইমানুয়েল কান্ট' রচিত?
  1. Critique of Practical Reason
  2. The Elements of Ethics
  3. Power: A New Social Analysis
  4. An Introduction to the Principles of Morals and Legislation
সঠিক উত্তর:
Critique of Practical Reason
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Critique of Practical Reason
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

অন্যদিকে,
- Power: A New Social Analysis ও The Elements of Ethics বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত। 
- জেরেমি বেন্থাম রচিত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২,৬৪০.
শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. সুশীলসমাজ
  2. এনজিও
  3. গণমাধ্যম
  4. স্থানীয় সরকার
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,৬৪১.
“Nicomachean Ethics” - কার লেখা বই?
  1. ক) Bartrand Russell
  2. খ) Aristotle
  3. গ) Plato
  4. ঘ) James Rachels
সঠিক উত্তর:
খ) Aristotle
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Aristotle
ব্যাখ্যা
গ্রীক ভাষায় প্রকাশিত দার্শনিক এরিস্টটলের লেখা বই - Nicomachean Ethics। তার লেখা অন্যান্য বিখ্যাত বই -
Politics,
The Rhetoric/The Poetics,
Metaphysics ইত্যাদি।
২,৬৪২.
মানবিক মূল্যবোধ কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন করে
  2. ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে
  3. সামাজিক উন্নয়ন করে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে
ব্যাখ্যা
মানবিক মূল্যবোধ:
- মানবিক মূল্যবোধ হচ্ছে শৃঙ্খল ও ন্যায় সমাজ গঠনের প্রথম শর্ত।
- মানবিক মূল্যবোধ বলতে কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাসকে বুঝায়।
- যে চিন্তা–ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের মানবিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই মানবিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, তাদের সেবা করা, উত্তম ব্যবহার, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা প্রভৃতি মানবিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
- মানবিক মূল্যবোধ ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
২,৬৪৩.
অধিকার ও কর্তব্যের উদ্ভব কীসের থেকে?
  1. সমাজবোধ
  2. আইন
  3. বিবেকবোধ
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সমাজবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজবোধ
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে,
- অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি যেসব দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তা কর্তব্য হিসেবে অভিহিত।

- অধিকার ও কর্তব্য সমাজবোধ থেকে উদ্ভূত। অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
- অধিকার ভোগের জন্যে নাগরিককে কিছু কর্তব্য পালন করতে হয়। একজনের অধিকার বলতে অন্য জনের কর্তব্যকে বুঝায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৬৪৪.
'সুশাসন হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় যা সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করে' কে এই উক্তি করেন?
  1. ম্যাক করণী
  2. ল্যান্ডেল মিল
  3. মার্টিন মিনোগ
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
সঠিক উত্তর:
মার্টিন মিনোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্টিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ব্যক্তির সুশাসন সম্পর্কে মতামত:

মার্টিন মিনোগের মতামত:
• মার্টিন মিনোগ বলেন, “সুশাসন হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় যা সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করে"।

মিশেল ক্যামডেসাসের মতামত:
 • 'রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক' উক্তি করেন মিশেল ক্যামডেসাস।
 • তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং  নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য সুশাসন জরুরি।

ম্যাক করণীর মতামত:
 • ম্যাক করণী বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
 
ল্যান্ডেল মিলের মতামত:
 • ল্যান্ডেল মিল মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং জন প্রশাসন ও আইনী কাঠামোর কার্যকারিতা তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৫.
কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা নয়?
  1. ক) আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
  2. খ) সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা
  3. গ) জনঅংশগ্রহণের অভাব
  4. ঘ) বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
সঠিক উত্তর:
খ) সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যাগুলো হলো-
১. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা,
৩. সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
৪. আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
৫. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
৬. আইনের শাসনের অভাব,
৭. সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা,
৮. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
৯. রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
১০. স্বজনপ্রীতি,
১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
১২. জনঅংশগ্রহণের অভাব,
১৩. জনসচেতনতার অভাব
১৪. ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব,
১৫. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অভাব,
১৬. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৪৬.
নাগরিকের কর্তব্যকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
ব্যাখ্যা
অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যা সব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে। নাগরিকের কর্তব্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় —নৈতিক কর্তব্য ও আইনগত কর্তব্য। [পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণী]
২,৬৪৭.
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কোন দেশভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) জার্মানি
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
খ) জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জার্মানির বার্লিনভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা।
- এটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা পিটার ইজেন।
- এটি ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি ধারণা সূচক প্রকাশ করে আসছে।
উৎসঃ টিআই এর ওয়েবসাইট।
২,৬৪৮.
কোনটি গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. জনগণের সম্মতি
  2. বিরোধী দলের দমন
  3. দায়িত্বশীল সরকার
  4. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দলের দমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দলের দমন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন বা কর্তৃত্ব। 
- গণতন্ত্রকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
i) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
ii) পরোক্ষ গণতন্ত্র।
- গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
• জনগণের সম্মতি,
• বহু দল ব্যবস্থা,
• স্বাধীন বিচারব্যবস্থা,
• নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা,
• আইনের শাসন,
• সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
• প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার,
• দায়িত্বশীল সরকার।

উল্লিখিত প্রশ্নে বিরোধী দলের দমন গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৬৪৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একজন নাগরিকের অন্যতম প্রধান কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রের সেবা দান
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. কর প্রদান
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

 সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন।
- নিয়মিত কর প্রদান। 
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬৫০.
ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে?
  1. রাষ্ট্রীয় নীতির অকার্যকারিতা
  2. দক্ষ কর্মীর স্বল্পতা
  3. ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স-এর প্রতিবন্ধকতা: 
- ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা বা অসুবিধা রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:
১. সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ ই-গভর্নেন্স-এর সুবিধাগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে সমানভাবে ইন্টরনেট ব্যবহার করতে পারে না। কেননা ইন্টারনেট ব্যবস্থা এখনো ব্যয়বহুল।
২. ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য তা নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সংশয় থাকে।
৩. অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অনেক গোপন কর্মপন্থা জনমতকে প্রভাবিত ও একমুখী করে থাকে।
৪. ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিবেচেনা ও নির্দেশনা আছে, যেমন- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব, সাইবার আক্রমণের ভীতি এবং এসব ক্ষেত্রে যে ভারসাম্যতা আছে তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা।
৫. রাষ্ট্রীয় নীতির অকার্যকারিতা সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
৬. সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।
৭. অনেক রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ সমস্যা ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধার সৃষ্টি করে।
৮. দক্ষ কর্মীর স্বল্পতা ই-গভর্নেন্স প্রতিক্ষার পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।
৯. অবকাঠামোগত সমস্যা ও ই-গভনেন্স-এর পথে বাধা হয়ে দাড়ায়।
১০. ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী উৎপাদন ও ব্যবসা বাণিজ্যে অনগ্রসরতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
১১. সরকার ও জনগণের মধ্যে অতিরিক্ত যোগাযোগের বিভিন্ন রকম নেতিবাচক ফলও রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৬৫১.
কোন ধরনের স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন?
  1. সামাজিক
  2. আইনগত 
  3. অর্থনৈতিক
  4. নৈতিক
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকা অর্জনের সুযোগ প্রদান।”

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।
- " অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫২.
কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়?
  1. নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
  2. সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ
  3. বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করা
  4. সততা
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৫৩.
‘Moralitas'- ল্যাটিন শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) নৈতিক
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) চরিত্র
  4. ঘ) ন্যায়বোধ
সঠিক উত্তর:
গ) চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চরিত্র
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৫৪.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি সদগুণ নয়?
  1. প্রজ্ঞা
  2. সাহস
  3. বিনয়
  4. উদারতা
সঠিক উত্তর:
উদারতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদারতা
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলা হয়, সেটাকে বাংলায় বলে - সদগুণ।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা। 
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদগুণ বলা হয়।

- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।  
এগুলো হচ্ছে : 
- প্রজ্ঞা,
- সাহস, 
- বিনয় ও 
- ন্যায়। 

উল্লিখিত প্রশ্নে 'উদারতা' প্লেটোর মতে সদগুণ নয়। 

- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৫.
‘বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রধান না করা’- কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. গ) নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,রাজনৈতিক সহনশীলতা, দায়িত্বশীল নীতি কার্যকর করা, বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা, নির্বাচনে জয় পরাজয় কে মেনে নেওয়া ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৫৬.
কোন প্রকারের মূল্যবোধ সুশাসনের মানদণ্ড?
  1. ক) নৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো সুসাশনের মানদণ্ড। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কিছু আদর্শ ও নিয়মনীতি থাকে। যার দ্বারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আচার-আচরণ ও তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
২,৬৫৭.
গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব সম্পর্কে রচিত ‘Perpetual Peace’ গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. বার্টান্ড রাসেল
  3. ম্যাকাইভার
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব সম্পর্কে রচিত ‘Perpetual Peace’ গ্রন্থটি ইমানুয়েল কান্ট-এর লেখা।
- ‘আ পাপেচুয়াল পিস (১৭৯৫)’ রাজনৈতিক দর্শনের ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
- এই বইয়ে কান্ট যুদ্ধ এড়ানোর ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও নৈতিক নির্দেশনা উপস্থাপন করেছেন।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২,৬৫৮.
সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য কোনটি?
  1. প্রশাসন
  2. সমিতি
  3. প্রথা
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য।
- সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৯.
কোন ধরনের মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) জাতীয় মূল্যবোধ
  2. খ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) আধুনিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

• মূল্যবোধ:

- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ঠ্য বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদন্ড।

- এসব মূল্যবোধের আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতিনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
- সুশাসন যেমন গণতন্ত্রের প্রাণ; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও সুশাসনের প্রাণ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬০.
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা' হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের -
  1. রূপকল্প
  2. মূল উদ্দেশ্য 
  3. অভিলক্ষ্য
  4. স্লোগান
সঠিক উত্তর:
অভিলক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিলক্ষ্য
ব্যাখ্যা

 জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল-এর রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

• এটি ২০১২ সালে প্রণীত কৌশলের মূল অভিলক্ষ্য  যা পরবর্তীতে সকল সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিকল্পনায় ব্যবহৃত হয়।
- এই অভিলক্ষ্যের মাধ্যমে দুর্নীতি নিরসন, সততা প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,৬৬১.
কোনটি মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান?
  1. প্রথা ও ঐতিহ্য
  2. শিল্প ও সংগীত
  3. আইন ও বিধি
  4. আধ্যাত্মিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
প্রথা ও ঐতিহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথা ও ঐতিহ্য
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- উল্লিখিত প্রশ্নে 'প্রথা ও ঐতিহ্য' হল মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান।

মূল্যবোধের প্রধান ভিত্তি বা উপাদানগুলি নিম্নরূপ:
১. সামাজিক উপাদান:
- পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কার
- সামাজিক রীতিনীতি
- প্রথা ও ঐতিহ্য
- সামাজিক নিয়মকানুন
- সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ

২. ধর্মীয় উপাদান:
- ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শ
- ধর্মীয় বিধি-নিষেধ
- নৈতিক মূল্যবোধ
- ধর্মীয় রীতিনীতি
- আধ্যাত্মিক চেতনা

৩. শিক্ষাগত উপাদান:
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
- চারিত্রিক শিক্ষা
- নৈতিক শিক্ষা
- জীবন দক্ষতা শিক্ষা
- সচেতনতামূলক শিক্ষা

৪. সাংস্কৃতিক উপাদান:
- ভাষা ও সাহিত্য
- শিল্প ও সংগীত
- লোকজ ঐতিহ্য
- জাতীয় সংস্কৃতি
- সাংস্কৃতিক উৎসব

৫. মানবিক উপাদান:
- করুণা ও সহানুভূতি
- ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা
- সহযোগিতা ও সহমর্মিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- মানবতাবোধ

৬. রাষ্ট্রীয় উপাদান:
- আইন ও বিধি
- নাগরিক অধিকার
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
- দেশপ্রেম
- সামাজিক দায়বদ্ধতা

৭. অর্থনৈতিক উপাদান:
- কর্মনৈতিকতা
- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
- সামাজিক দায়িত্ববোধ
- সততা ও বিশ্বস্ততা

৮. পরিবেশগত উপাদান:
- প্রকৃতি সংরক্ষণ
- পরিবেশ সচেতনতা
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা
- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপন

৯. বৈজ্ঞানিক উপাদান:
- যুক্তিবাদী চিন্তা
- বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
- গবেষণা ও উদ্ভাবন
- প্রযুক্তিগত জ্ঞান
- বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ

১০. নৈতিক উপাদান:
- সত্যবাদিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- সততা
- শৃঙ্খলাবোধ
- দায়িত্বশীলতা

এই সকল উপাদান পরস্পর সম্পর্কিত এবং একে অপরের পরিপূরক।
এগুলির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সমৃদ্ধ মূল্যবোধ, যা সমাজ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২,৬৬২.
“সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়” উক্তিটি কার?
  1. ল্যান্ডেল মিল
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. ম্যাক করণী
  4. এডাম স্মিথ
সঠিক উত্তর:
ম্যাক করণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক করণী
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

- ম্যাক করণী এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬৩.
যৌতুক একটি-
  1. সামাজিক কুপ্রথা
  2. গ্রামীণ প্রথা
  3. কুসংস্কার
  4. পপুলার কালচার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক কুপ্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক কুপ্রথা
ব্যাখ্যা
- যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক কুপ্রথা
- এই প্রথানুসারে বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে স্বামীপক্ষকে অর্থ বা সম্পত্তি প্রদান করতে হয়।
- এই প্রথার পেছনে মূল কারণ হলো দারিদ্র্য। এছাড়া অশিক্ষা, অর্থলিপ্সা, আইনের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি যৌতুক প্রথার জন্যে দায়ী।
- বাংলাদেশে যৌতুক প্রথা নারী নির্যাতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
২,৬৬৪.
'সততার জন্য সদিচ্ছা'র ধারনাটি প্রবর্তক -
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. কফি আনান 
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) Britannica.

২,৬৬৫.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে - 
  1. আমদানি বেড়ে যায়
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. রপ্তানি কমে যায়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

 অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো.মোজাম্মেল হক।

২,৬৬৬.
কোন ধরনের চেতনা একটি জনসমাজকে অন্য জনসমাজ থেকে পৃথক করে রাখে?
  1. সামাজিক চেতনা
  2. রাজনৈতিক চেতনা
  3. জাতীয়তাবাদী চেতনা
  4. ধর্মীয় চেতনা
সঠিক উত্তর:
জাতীয়তাবাদী চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয়তাবাদী চেতনা
ব্যাখ্যা
জাতীয়তা হচ্ছে এক ধরনের আধ্যাত্ম চেতনা ও মানসিক ধারণা। একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্যের সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন অন্য জনসমষ্টি থেকে নিজেদের আলাদা মনে করে তখন সেই জনসমষ্টিকে জাতীয়তা বলে।
জাতীয়তাবাদী চেতনাই একটি জনসমাজকে অন্য জনসমাজ থেকে পৃথক করে রাখে।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনী : প্রথমপত্র)
২,৬৬৭.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত?
  1. আচরণ
  2. অভ্যাস
  3. নৈতিকতা
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- আচরণ মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬৬৮.
Johannesburg Plan of Implementation মূলত কোন বিষয়ের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক স্থাপন করে?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. সামাজিক উন্নয়ন
  3. পেশাগত উন্নয়ন
  4. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• Johannesburg Plan of Implementation:
- Johannesburg Plan of Implementation জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত। 
- ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ  শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementation গৃহীত হয়। 
- Johannesburg Plan of Implementation সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়। 
- এখানে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
 
তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
২,৬৬৯.
Ethics শব্দটির উদ্ভব কোন ভাষা থেকে?
  1. ক) স্পেনিশ
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) ল্যাটিন
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক
ব্যাখ্যা
ইংরেজি Ethics শব্দটির উদ্ভব গ্রিক শব্দ Ethos থেকে।
Ethos শব্দটির অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ। অর্থাৎ Ethics বা নীতিবিদ্যা হলো মানুষের ঐচ্ছিক আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
(সূত্রঃ দর্শন : স্নাতক শ্রেণী)
২,৬৭০.
 নিচের কোনটি মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ নয়?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. আচরনগত মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ 
সঠিক উত্তর:
আচরনগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরনগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আচরনগত মূল্যবোধ নামে কোন মূল্যবোধ নেই।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।

•মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
- ধর্মীয় মূল্যবোধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আধুনিক মূল্যবোধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬৭১.
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?
  1. সংস্কৃতি চর্চায় বাধা প্রদান
  2. বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ
  3. অপসংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান
  4. অন্য সংস্কৃতির প্রতি অসহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর:
বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ
ব্যাখ্যা
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values):
- যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে।
- সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।
- সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
- সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়।
- তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৭২.
মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় কীভাবে?
  1. জন্মগতভাবে
  2. রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে
  3. আচরণের মাধ্যমে
  4. ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা
সঠিক উত্তর:
আচরণের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হচ্ছে বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬৭৩.
'অন্যায়কে অন্যায় বলা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
• সত্যকে সত্য বলা,
• মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
• অন্যায়কে অন্যায় বলা,
• অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
• দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
• বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
• অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬৭৪.
'ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) ধর্মীয়
  3. গ) সামাজিক
  4. ঘ) অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকারসমূহ
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার

অর্থনৈতিক অধিকার সমূহ 
১। অবকাশ লাভের অধিকার
২। কর্মের অধিকার
৩। ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার
৪। শ্রমিক সংঘ করার অধিকার প্রভৃতি।

রাজনৈতিক অধিকার সমূহ
১। সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার  
২। নির্বাচনের অধিকার
৩। আবেদন করার অধিকার 
৪। স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
৫। বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার 
৬। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৭৫.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি?
  1. ধর্ম
  2. সমাজ
  3. পরিবার
  4. নৈতিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
নৈতিক চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা

• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবােধের উৎস নৈতিক চেতনা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

২,৬৭৬.
কোনটি সুশাসনের আদর্শকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে?
  1. এটি শুধুমাত্র পরিমাপযোগ্য ফলাফলের উপর নির্ভরশীল 
  2. এটি মূল্যবোধ-নিরপেক্ষ 
  3. এটি নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত
  4. এটি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়
সঠিক উত্তর:
এটি নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত
ব্যাখ্যা

● সুশাসনের আদর্শকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে- এটি নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।

সুশাসনের আদর্শ:
- সুশাসনের মূল আদর্শ হলো এটি নৈতিক মানদণ্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, অংশগ্রহণ এবং ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর মতামতের গুরুত্ব থাকে।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থ বা জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে।
- এটি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

• সুশাসন কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বা অর্থনৈতিক ফলাফলের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং এতে নৈতিকতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। 
- অর্থাৎ একটি সুশাসিত ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং জনসাধারণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। শুধুমাত্র পরিমাপযোগ্য ফলাফল, মূল্যবোধহীনতা বা অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুশাসনের পূর্ণ মানদণ্ড প্রকাশ করতে পারে না।
- তাই নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়াই সুশাসনের আদর্শকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৭৭.
‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক’ এটি কোন ব্যক্তির উক্তি?
  1. মিশেল ক্যামডেসাস
  2. ইব্রাহিম গানবারি
  3. কফি আনান
  4. বারবার কোনাবল
সঠিক উত্তর:
মিশেল ক্যামডেসাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।

• 'সুশাসন' বিষয় সম্পর্কিত তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস (Michel Camdessus) বলেছেন যে, ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক' (Good Governance is important for countries at all stages of development)।

• জাতিসংঘের আফ্রিকা অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি সুশাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘যে সমস্ত রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শুধুমাত্র সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬৭৮.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. এফ ই মেরিল
  2. এইচ এম জনসন
  3. ক্লাইড ক্লুখোন
  4. অধ্যাপক ডাইসি 
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল:
- "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৭৯.
ই-গভর্নেন্স এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. ক) তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. খ) দ্রুততম সময়ে কাজ সম্পন্ন করা
  3. গ) কম খরচে কাজটি সম্পন্ন করা
  4. ঘ) ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার সাধন করা
সঠিক উত্তর:
ক) তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
 • ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:
→ ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
→ সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা ।
→ প্রশাসনকে গতিশীল করা।
তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা 
→ দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌঁছে দেওয়া ।
→ দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌঁছানো ।
→ সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া ।

→ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা ।
→ দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
→ নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
→ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া ।

→ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ।
→ তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ।
→ গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা ৷
→. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা ।
→ শাসন ব্যবস্থাকে সহজ ও উন্নত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৬৮০.
“সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।” কে এই উক্তি করেন?
  1. ল্যান্ডেল মিল
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ম্যাক করণী
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
সঠিক উত্তর:
মারটিন মিনোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারটিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”
- রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, আইনের শ্বাসন প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

- ‘রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক ‘ উক্তি করেন - মিশেল ক্যামডেসাস।

- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮১.
“Power tends to corrupt and absolute power corrupts absolutely” -উক্তিটি কার?
  1. ক) হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলী
  3. গ) লর্ড অ্যাক্টন
  4. ঘ) গ্ল্যাডস্টোন
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড অ্যাক্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড অ্যাক্টন
ব্যাখ্যা
- “Power tends to corrupt and absolute power corrupts absolutely” –উক্তিটি লর্ড জন অ্যাক্টনের।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
২,৬৮২.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কী প্রশমিত হয়?
  1. উন্নতি
  2. উত্তেজনা
  3. সম্প্রীতি
  4. অগ্রগতি
সঠিক উত্তর:
উত্তেজনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তেজনা
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে উদারতাবাদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
- এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

⇒ উদারতাবাদ:
- উদারতাবাদ বলতে সেই মতবাদকে বুঝায়, যা' ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায় বলে মনে করে এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে সীমিত করতে চায়।
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬৮৩.
মূল্যবোধগুলো সমাজে কী হিসেবে ভূমিকা পালন করে?
  1. অর্থনৈতিক শক্তি
  2. ব্যক্তিগত লাভ
  3. সামাজিক বিভিন্নতা সৃষ্টি
  4. সামাজিক সেতুবন্ধন
সঠিক উত্তর:
সামাজিক সেতুবন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক সেতুবন্ধন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ। মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়। এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা। মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক। আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা। সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়। অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন। যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা। আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৮৪.
‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন'-উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. লর্ড অ্যাকটন
  3. অধ্যাপক লাস্কি
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন' উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।

- মানুষ সামাজিক জীব। আইন মানব সমাজের দর্পণস্বরূপ।
- সমাজে একসাথে বসবাস করার জন্য নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অপরিহার্য।
- মানব কল্যাণের স্বার্থেই নিয়ম-কানুন প্রয়োজন। স্বীকৃত এই নিয়ম-কানুনই হল আইন।

- এরিস্টটল বলেছেন, ‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন' (Law is the passionless reason)।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”

পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮৫.
কোনটির মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়?
  1. শিক্ষা
  2. অর্থনীতি
  3. আইন প্রয়োগ
  4. রাজনীতি
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
ব্যাখ্যা

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬৮৬.
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন-
  1. ক) রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বাধীন ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, স্বাধীন ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী সংসদ, সুষ্ঠু নির্বাচন, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। দুর্বৃত্তায়ন, কাল টাকার প্রভাব, লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি দুর্নীতির কারণ যা কু-শাসনের জন্ম দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সৎ মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও নাগরিকতা(উন্মুক্ত)।
২,৬৮৭.
অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী নামে অভিহিত করেছেন?
  1. Interest Group
  2. Pressure Group
  3. Political Group
  4. Lobby
সঠিক উত্তর:
Lobby
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lobby
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।

উল্লেখ্য,
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন: ১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী, সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী, অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী, প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬৮৮.
জনমতের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. জনমত সৎ ও জনকলাণধর্মী
  2. জনমত সুচিন্তিত মতের বিরোধী
  3. জনমত সুনিদির্ষ্ট ও সুস্পষ্ট নয়
  4. জনমত অযুক্তিভিত্তিক
সঠিক উত্তর:
জনমত সৎ ও জনকলাণধর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত সৎ ও জনকলাণধর্মী
ব্যাখ্যা
জনমতের বৈশিষ্ট্য:
- জনমত হচ্ছে জনগণের সাধারণ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অভিমত,
- জনমত সৎ ও জনকলাণকামী,
- জনমত যুক্তিভিত্তিক, 
- জনমত একজনের মতও হতে পারে আবার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতও হতে পারে,
- মূল জাতীয় সমস্যা ও তার সমাধানকে কেন্দ্র করে জনমত গড়ে ওঠে,
- জনমত সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট,
 - জনমত সুচিন্তিত মত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৬৮৯.
কে ই-গভর্ন্যান্সকে 'স্মার্ট গভর্নমেন্ট' বলে আখ্যায়িত করেন?
  1. ইএম হোয়াইট
  2. চন্দ্রবাবু নাইডু
  3. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  4. বারবার কোনাবল
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উল্লেখ্য:
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে "SMART" শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৯০.
কোনটি আইনগত কর্তব্য?
  1. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
  2. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  4. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
→ সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
২,৬৯১.
মূল্যবোধের বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা দেখা যায় কীসের ভিত্তিতে?
  1. স্থানভেদে
  2. কালভেদে
  3. পারিপার্শ্বিকতাভেদে
  4. ক, খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
= মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৯২.
আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক হলেন -
  1. জন ফিফনার
  2. রবার্ট প্রেসথাস
  3. অধ্যাপক এস ই ফাইনার
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬৯৩.
ব্যক্তির, নাগরিকের রাজনৈতিক সামাজিকিকরণের সূতিকাগার কোনটি?
  1. পরিবার
  2. আইনসভা
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. সংবাদ মাধ্যম
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।
- জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

⇒ আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। 

• পরিবার:
- ব্যক্তির, নাগরিকের রাজনৈতিক সামাজিকিকরণের সূতিকাগার হল পরিবার।
- শৃঙ্খলা, নিয়ম-নীতি, নির্দেশনা, আনুগত্য, মতপ্রকাশ, শিষ্ঠাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, চিন্তা ও আদর্শ- এ সবই শিশুকাল থেকে শুরু করে সারাজীবন ধরে শেখে এবং অর্জন করে নিজ পরিবার থেকে।
- রাষ্ট্রে জনমত গঠনে পরিবার তাই প্রাথমিক ও স্থায়ী বাহন।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯৪.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের _______ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  1. সামরিক শক্তির
  2. সার্বিক উন্নয়নের
  3. শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার
  4. কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের
সঠিক উত্তর:
সার্বিক উন্নয়নের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বিক উন্নয়নের
ব্যাখ্যা
• সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এগুলোর প্রভাব শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো খাতে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক- সবক্ষেত্রে পড়ে।

সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ-
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: সুশাসন রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: নৈতিকতা ও সুশাসন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে এবং দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ায়।
সামাজিক উন্নয়ন: মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তোলে এবং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার: সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৯৫.
আইন হচ্ছে -
  1. ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ চিন্তা ও অনুভূতি
  2. বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম
  3. সমাজের অপ্রচলিত রীতি
  4. ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

এছাড়াও, 
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৯৬.
কার মতে সার্বভৌম শাসকের আদেশই আইন?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. ওপেনহাইম
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হল ফার্সি শব্দ যার অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম। 
- আইন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Law"। Law শব্দের অর্থ স্থির বা অপরিবর্তনীয় এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। 
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন"।
- The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, "আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম"।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।"
- জন অস্টিন বলেন, "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"।
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন হল মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯৭.
"সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন"-কে বলেছেন?
  1. জন অস্টিন
  2. জন লক
  3. এরিস্টটল
  4. উড্রো উইলসন
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটলের মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।" 
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।" -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর মতে, "আইন হল মানুষের স্থায়ী আচার-আচরণ ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা' রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
⇒ রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৬৯৮.
মূল্যবোধ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. শিক্ষা সনদ দ্বারা
  2. প্রচলিত আইন দ্বারা
  3. আচরণের মাধ্যমে
  4. ধর্মীয় আইন দ্বারা
সঠিক উত্তর:
আচরণের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৬৯৯.
’সৎ ভাবে বাঁচতে চাওয়া’ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: 
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া,
- সৎ থাকতে চাওয়া,
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা,
- মিথ্যাবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা।

উল্লেখ্য,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: 

- আর্থিক লেনদেন,
- ক্রয় বিক্রয়,
-  ব্যবাসা বানিজ্য।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ: 
- ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া।
- অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
২,৭০০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের গুণ নয় কোনটি?
  1. ক) সুষ্ঠ জনমত গঠন
  2. খ) নিরপেক্ষতা
  3. গ) ন্যায়নীতিপরায়ণ
  4. ঘ) শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
ক) সুষ্ঠ জনমত গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুষ্ঠ জনমত গঠন
ব্যাখ্যা
নেতৃত্বের গুণাবলি হলোঃ ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, দূরদৃষ্টি, নিরপেক্ষতা, আত্মসংযম, উদারতা,ন্যায়নীতিপরায়ণ।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।