বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২৬ / ৩৯ · ২,৫০১২,৬০০ / ৩,৮২৯

২,৫০১.
‘জ্ঞান হয় পুণ্য'-এই উক্তিটি কার?
  1. থেলিস
  2. সক্রেটিস
  3. এ্যারিস্টটল
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
জ্ঞান:
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে নৈতিক ক্রিয়া বা ন্যায়ের ভিত্তি হলো জ্ঞান।
- তার মতে যার মধ্যে ন্যায়বোধ সম্পর্কে জ্ঞান নেই তার পক্ষে ন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়।
- এজন্যই সক্রেটিস সদগুণ ও জ্ঞানকে একত্রে করে বলেছেন, ''জ্ঞানই পূণ্য''।
- তার মতে ন্যায়ের ভিত্তি হলো প্রকৃত জ্ঞান এবং অন্যায়ের ভিত্তি হলো অজ্ঞতা।

⇒ মূলত: বাক্যটি ছিল এরকম, “Virtue is knowledge’’ বা পূণ্যই জ্ঞান।
- এই বাক্যটিকেই কিছুটা ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, “জ্ঞান হয় পূন্য”।
- এই উক্তিটি পাওয়া যায় প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক Socrates এবং Meno নামক একজন গ্রীক উদীয়মান অভিজাত তরুণের একটি কথোপকথন থেকে।
- এই কথোপকথনটি পাওয়া যায় সক্রেটিস - এর শিষ্য প্লেটোর রচিত গ্রন্থ - Dialogues -এ।

- যেহেতু সক্রেটিসের লিখিত কোন বই এর সন্ধান পাওয়া যায় না; তাই সক্রেটিসকে জানার জন্য তারই ছাত্র প্লেটোর উপর নির্ভর করতে হয়।
- প্লেটো তার রচিত জগদ্বিখ্যাত ‘Dialogues’ গ্রন্থে সক্রেটিসের সাথে অন্যান্যদের জ্ঞানমূলক কথোপকথনগুলোকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছেন। অর্থ্যাৎ, Plato এর Dialogue বইয়ের উক্তিগুলো মূলত সক্রেটিসের; প্লেটোর নিজের উক্তি নয়।
- Dialogue বইটি প্লেটোর রচিত বলে সক্রেটিসের উক্তিগুলো অনেকে প্লেটোর উক্তি বলে মনে করেন। এজন্যই অনেক ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে আলোচ্য প্রশ্নের ক্ষেত্রেও কনফিউশন তৈরী হয়েছে।
সুতরাং, আলোচ্য উক্তিটি নি:সন্দেহে সক্রেটিসের এবং তার ছাত্র, প্লেটো গুরু সক্রেটিসের কথোপথনগুলো সংরক্ষণ করেন এবং তার মাধ্যমেই পরবর্তীতে এটা প্রকাশিত হয়।

উৎস: i) The Dialogues of Plato.
ii) https://psychology.okstate.edu/faculty/jgrice/psyc3120/Meno.pdf
iii) https://www.britannica.com/topic/Meno-by-Plato
iv) নীতিবিদ্যা, মুহাম্মদ আবদুল বারী।
২,৫০২.
কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. ভাষা 
  2. প্রতীক 
  3. আইন 
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
আইন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন 
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃতি:
- সাধারণত সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি মার্জিত রুচি বা অভ্যাসগত উৎকর্ষ।
- মানুষের বিশ্বাস ,আচার-আচরন এবং জ্ঞানের একটি সমন্বিত কাঠামোকে সংস্কৃতি বলা যায় ।

- সংস্কৃতির কিছু সাধারন কিছু উপাদান আছে যা হচ্ছে:
ভাষা,
প্রতীক,
→ আচরণবিধি,
নৈতিকতা,
→ মূল্যবোধ,
→ পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস,
→ আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

অন্যদিকে -
- আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫০৩.
কোনটি ছাড়া স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়?
  1. ক) গনতন্ত্র
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
- সুশাসন ছাড়া স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি রাষ্ট্রে সুশাসন না থাকলে, সে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থিতিশীল হয় না।
- অর্থনৈতিক উন্নয়নের সকল উপাদান যেমন, উৎপাদন, বণ্টন, বিনিয়োগ এমনকি ভোগের ক্ষেত্রেও নানারকম বাঁধার সৃষ্টি হয়।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে বাজার ব্যবস্থাও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়।
- যেমন ধরা যাক বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হয় তখন এর উৎপাদন বাঁধাগ্রস্ত হয়।রাজনৈতিক কর্মসূচি হরতালের কারণে যানবাহন চলাচল না করলে পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণ সম্ভব হয় না। ফলে ভোক্তারা বাজার থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে না। অথবা কিনলেও বেশি অর্থ ব্যয়ে বাধ্য হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য বন্টন সম্ভবপর হয়।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৫০৪.
Johannesburg Plan of implementation সুশাসনের সাথে কোন বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
  3. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন।
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত থয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।
- মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
২,৫০৫.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীসের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে?
  1. ব্যক্তিগত সফলতার
  2. শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার
  3. সামাজিক রীতিনীতি ও আদর্শের
  4. কেবলমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের
সঠিক উত্তর:
সামাজিক রীতিনীতি ও আদর্শের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক রীতিনীতি ও আদর্শের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫০৬.
স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. আইন
  2. সরকার
  3. পুলিশ
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
আইন সম্পর্কিত গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
• আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। 
• প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
• গুরুত্বপূর্ণ উৎস- ধর্ম।
• আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
• আইনের মৌলিক উৎস- সংবিধান।
• স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক- আইন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই কাঠামো তৈরি করে আইন।
- আইন বলে দেয়, একজন ব্যক্তি কখন নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে এবং কখন তা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
- যদি কারও স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় (যেমন: অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মত প্রকাশে বাধা), আইন তাকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রতিকার নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৫০৭.
প্লেটো কয়টি সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
- অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

• প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০৮.
টেকসই উন্নয়নের জন্যে নিম্নের কোন বিষয়টি অপরিহার্য?
  1. শিক্ষা
  2. সুশাসন
  3. আইন
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

• টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫০৯.
'রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সার্বজনীন মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
▪ শ্রমের মর্যাদা : সামাজিক মূল্যবোধ,
▪ পরোপকারিতা : নৈতিক মূল্যবোধ,
▪ ন্যায়পরায়ণতা : সার্বজনীন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
২,৫১০.
জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) এর মতে কয়টি জিনিস থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

নৈতিকতার সংজ্ঞা:
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫১১.
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ কোনটি?
  1. উপযোগবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. বিচারবাদ
  4. জ্ঞানবাদ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫১২.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কীসের উপর নির্ভরশীল?
  1. রাজনৈতিক দলের উপর
  2. জনমতের উপর
  3. প্রশাসনের উপর
  4. সংসদের উপর
সঠিক উত্তর:
জনমতের উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমতের উপর
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনমতের গুরুত্ব:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল।  

উল্লেখ্য,
- ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ই জনমতকে ভয় করে চলে। সরকার জনকল্যাণ স্থাপনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে তা সাধারণত জনমতের দিকে লক্ষ রেখেই করা হয়ে থাকে। জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ।
- গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা জনগণের শাসন।'
- জনসম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- তাই সরকারের উত্থান, পতন, সাফল্য বহুলাংশে জনমতের উপর নির্ভরশীল।

⇒ জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও স্বার্থের অতন্ত্র প্রহরী হয়ে কাজ করে জনমত।
- আধুনিক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা মূলত জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখেই করা হয়।
- জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে।
- জনমত যতক্ষণ পর্যন্ত কোন সরকারের অনুকূলে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নও পরিবর্তনে জনমতের প্রভাব অপরিসীম।
- সুতরাং জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫১৩.
লালফিতার দৌরাত্ম্য কী? 
  1. ক) আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি 
  2. খ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা
  3. গ) রাজনৈতিক দুবৃত্তায়ন 
  4. ঘ) প্রশাসনের দলীয়করণ 
সঠিক উত্তর:
খ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা
ব্যাখ্যা
- লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা
- আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে।
- যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
- আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৫১৪.
“Die to live”-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. কার্ল মার্কস
  3. জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল
  4. ফ্রিডরিখ নিটশে
সঠিক উত্তর:
জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল
ব্যাখ্যা

“Die to live”-উক্তিটি করেছেন জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল।

হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৫১৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় কোনটি?
  1. উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন
  2. দারিদ্র্য দূরীকরণ
  3. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন
  4. স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫১৬.
'অন্যায়ের বিরোধিতা করা' কোন মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 

মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ-
সামাজিক মূল্যবোধ: শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ।
নৈতিক মূল্যবোধ: সত্যবাদিতা, ভাল-খারাপ জ্ঞান, অন্যায়ের বিরোধিতা, সাহায্য করা।
গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাক্-স্বাধীনতা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা।
আধুনিক মূল্যবোধ: সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল (যৌতুক প্রথা বাতিল করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহপ্রথা বন্ধ)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,৫১৭.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - 
  1. গণতন্ত্র
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

২,৫১৮.
ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে -
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) উপজাতি
  3. গ) রাজনৈতিক নেতা
  4. ঘ) গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
ক) সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
- সুশীল সমাজ হচ্ছে রাজনীতি সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
- সুশীল সমাজ হল একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
 -সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
 -সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫১৯.
“সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।” - সুশাসন সম্পর্কিত প্রদত্ত সংজ্ঞাটি কার?
  1. ক) আইএমএফ (IMF)
  2. খ) বিশ্বব্যাংক (WB)
  3. গ) আইএমএফ (IMF)
  4. ঘ) ইউএনডিপি (UNDP)
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক (WB)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক (WB)
ব্যাখ্যা
সুশাসন' শব্দটি সর্বপ্রথম বিশ্বব্যাংক সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- ১৯৮৯ সালে সুশাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উদ্ভাবিত আধুনিক শাসন ব্যবস্থার সংযোজিত রূপ।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, ''সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।''
উৎসঃ বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট।
২,৫২০.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার মূল ধারা ৪টি। এগুলো হচ্ছে: বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা। 

১। বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা। বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে। এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়। আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২। মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩। বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।

৪। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫২১.
অ্যারিস্টটলের মতে সদ্গুণ কীভাবে অর্জিত হয়?
  1. আইনের মাধ্যমে
  2. ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে
  3. অভ্যাসের মাধ্যমে
  4. জন্মগতভাবে
সঠিক উত্তর:
অভ্যাসের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্যাসের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫২২.
বাংলাদেশ-ভারত-এর অভিন্ন একটি ইস্যূ হল পানি। দুই দেশের মাঝে আলোচনায় বিষয়টি সুরাহা না হলে দেশ দুটি কোন আইনের দ্বারস্থ হতে পারে?
  1. ক) ব্যক্তিগত আইন
  2. খ) সরকারি আইন
  3. গ) বেসরকারি আইন
  4. ঘ) আন্তর্জাতিক আইন 
সঠিক উত্তর:
ঘ) আন্তর্জাতিক আইন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আন্তর্জাতিক আইন 
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক আইন:
- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়
তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

- আন্তর্জাতিক আইনকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- শান্তিকালীন আইন, যুদ্ধসংক্রান্ত আইন এবং নিরপেক্ষতার আইন।
- এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক, রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫২৩.
ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
- যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

অন্যদিকে -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫২৪.
দেশের মঙ্গলের জন্য নাগরিকের দায়িত্ব পালনে প্রেরণা যোগায় কোন মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে।
- দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৫২৫.
বর্তমান সময়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোনটির ভূমিকাকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়?
  1. ক) স্বাধীন গণমাধ্যমের
  2. খ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের
  3. গ) সততার
  4. ঘ) সুশীল সমাজের
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশীল সমাজের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুশীল সমাজের
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ নিরপেক্ষ ও নিরাসক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। তাই সুশীল সমাজের ভূমিকাকে বর্তমান সময়ে খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
২,৫২৬.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির প্রভাব কী?
  1. বেকারত্বের হার বৃদ্ধি
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত
  3. বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস
  4. উপরোক্ত সব
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সব
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়।
- রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
- ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৫২৭.
IDA-এর মতে সুশাসনের উপাদান নয় -
  1. ক) সম্পত্তি অধিকার এবং আইনের শাসন 
  2. খ) গুণগত বাজেট এবং পাবলিক বিনিয়োগ প্রক্রিয়া
  3. গ) রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা এবং সাম্য 
  4. ঘ) কার্যকরীতা ও দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্যকরীতা ও দক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্যকরীতা ও দক্ষতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত উপাদান:

• IDA (The International Development Association) ১৯৯৮ সালে সুশাসনের ৬ টি মূল উপাদানের কথা বলেছে।
এগুলো হলো-
⇒ টেঁকসই কাঠামোগত সংস্কার
⇒ সম্পত্তি অধিকার এবং আইনের শাসন 
⇒ গুণগত বাজেট এবং পাবলিক বিনিয়োগ প্রক্রিয়া 
⇒ রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা এবং সাম্য
⇒সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা এবং সমতা
⇒জনসেবার জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা 

এছাড়াও -
• ১৯৯৭ সালে ইউএনডিপি (United Nations Development Program – UNDP) সুশাসনের ৯ টি প্রধান বা মূল উপদানের কথা বলেছে।
এগুলো হলো-
⇒ অংশীদারত্ব 
⇒ আইনের শাসন 
⇒ স্বচ্ছতা 
⇒ সংবেদনশীলতা 
⇒ জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা 
⇒ সাম্য 
⇒ কার্যকরীতা ও দক্ষতা
⇒ দায়বদ্ধতা
⇒ কৌশলগত লক্ষ্য

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
২,৫২৮.
মূল্যবোধ মানুষের কোন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) বাহ্যিক
  2. খ) আত্মিক
  3. গ) অভ্যন্তরীণ
  4. ঘ) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণকে নিয়ন্ত্রন করে। মূল্যবোধ ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির এবং ব্যক্তির সাথে সমাজের আচরণ বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। মানুষের সমাজ জীবনকে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শান্তিময় করতে মূল্যবোধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন)
২,৫২৯.
অধ্যাপক লাস্কির মতে সাম্যের তিনটি বিশেষ দিক রয়েছে- নিচের কোনটি এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি
  2. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
  3. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন
  4. বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
- বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি সাম্যের তিনটি বিশেষ দিক এর অন্তর্ভুক্ত নয়।  

সাম্য: 

- অর্থনীতিতে সাম্যের অর্থ হচ্ছে সুযোগ-সুবিধার সমতা।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "সাম্যের অর্থ হলো প্রথমত সব ধরনের বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত সকলের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত রাখা।"

অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ৩ টি বিশেষ দিক রয়েছে।
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
৩. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৩০.
'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক' মতবাদে কে বিশ্বাসী?
  1. লর্ড এ্যাকটন
  2. জি. ডি. এইচ. কোল
  3. জাঁ জ্যাক রুশো
  4. কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
জি. ডি. এইচ. কোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ডি. এইচ. কোল
ব্যাখ্যা

সাম্য ও স্বাধীনতা:
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটো পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। 
ক. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী'.
খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক'.

⇒ স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন।
- একটির উপস্থিতি অপরটির মৃত্যু ঘটায়। লর্ড এ্যাকটন (Lord Acton) এ মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাম্য ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
বলা বাহুল্য, লর্ড এ্যাকটেনের এ মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তাঁর মতানুসারে স্বাধীনতার অর্থ দাঁড়ায় নিয়ন্ত্রণবিহীন স্বাধীনতা যা প্রকৃত প্রস্তাবে স্বেচ্ছারিতারই নামান্তর। আর সাম্য বলতে বোঝায় সুযোগের সমতা: সকল মানুষ সমান তা নয়।

⇒ 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক। অর্থাৎ সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা। কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য। জি, ডি, এইচ, কোল (G. D. H. Cole) এবং আর, এইচ টনী (R. H. Tawny) উভয়ে এ মতবাদে বিশ্বাসী। তাঁরা সাম্যের উপস্থিতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রকান্ত অপরিহার্য বলে মনে করেন। হার্বার্ট এ, ডীন (Herbert A. Deane) যথার্থই বলেন, "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।" আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটি এক অনন্য সত্য।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩১.
সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করতে মূল্যবোধ শিক্ষা কী সংরক্ষণ করে?
  1. নৈতিকতা
  2. ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করতে মূল্যবোধ শিক্ষা প্রধানত নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে। এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কর্তব্যবোধ এবং সহনশীলতার মতো গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে নাগরিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সুস্থ ও কল্যাণমুখী পরিবেশ নিশ্চিত করে। 

• মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়। তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে্। মূল্যবোধের পরিবর্তনের ফলে বয়সের সাথে আদর্শিক ধর্মীয় বা পবিত্র বিষয়গুলো জাগ্রত হয়। তাই এটি ব্যক্তিজীবনের গাইডলাইন হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে যে বিষয়গুলো কাজ করে সেগুলো হল-পরিবার, বিদ্যালয়, সম্প্রদায়, খেলার সাথি, সমাজ ও প্রথা।
- অন্যদিকে, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বো‌ধ, পারিবারিক ও সামাজিক ভূমিকার শৈথিল্য, ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য্, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর অধিক নির্ভরশীলতা প্রভৃতি মূল্যবোধের অবক্ষয়ের নিয়ামক।
- স্থান, কাল ও জাতিভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
- আবার একই সমাজে বিভিন্ন প্রকার মূল্যবোধ পরিলক্ষিত হয়। যেমন: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, বাহ্যিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক মূল্যবোধ, .সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শারীরিক ও বিনোদনমূলক মূল্যবোধ, বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ, পেশাগত মূল্যবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ndicia24.com

২,৫৩২.
কোন মূল্যবোধ সহজাত?
  1. ব্যক্তিগত
  2. পারিবারিক
  3. আধুনিক
  4. আধ্যাত্মিক
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৩৩.
কোন সংস্থা 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্ট প্রকাশ করে?
  1. UNDP
  2. World Bank
  3. IMF
  4. ADB
সঠিক উত্তর:
ADB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ADB
ব্যাখ্যা

রিপাের্ট প্রকাশ:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
- ১৯৯৭ সালে UNDP 'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।

উৎস - সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

২,৫৩৪.
সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড কী?
  1. আইনের শাসন
  2. সংবিধান
  3. সংস্কৃতি
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে 'আইনের শাসন' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৩৫.
সুশাসন সম্পর্কে 'ম্যাককরনী' নিচের কোন উক্তিটি করেছেন?
  1. সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভার্নেন্স
  2. সুশাসন মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে
  3. রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক
  4. রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক
ব্যাখ্যা
সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

অন্যদিকে,
- সুশাসন মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে -কফি আনান।
- সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভার্নেন্স’ – বিশ্বব্যাংক।
- রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'-মিশেল ক্যামডেসাস।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫৩৬.
নিচের কোনটি সমাজকর্মের মূল্যবোধ?
  1. আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ
  2. আচার-আচরণ পরিচালনা
  3. সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার
  4. সমান সেবাদান
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
সমাজকর্ম মূল্যবোধ:
- সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা (helping profession), যা সাহায্যার্থীর সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতা সমৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে প্রাপ্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদের সদ্ব্যবহার করে থাকে।
- অন্যান্য পেশার ন্যায় সমাজকর্মেরও কতিপয় পেশাগত মূল্যবোধ রয়েছে, যা সমাজকর্ম মূল্যবোধ নামে পরিচিত।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে পেশাগত মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে সমাজকর্মীর জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ কিছু মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে, যা পেশাগত আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সাধারণত যেসব আদর্শ, বিশ্বাস, ধারণা, মৌলিক নীতিমালা ও স্বীকার্য সত্যের উপর পেশাদার সমাজকর্মের সামগ্রিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোর সমষ্টিই হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।

⇒ সমাজকর্ম মূল্যবোধ সম্পর্কে জুডিথ সেভেন ও অন্যান্যরা তাঁদের "Social Work Skill: Demonstrated Begining Direct Practice" গ্রন্থে বলেন, "সমাজকর্ম একটি অনুশীলনধর্মী পেশা, যা কিছু মৌলিক মূল্যবোধ যেমন- আত্মনিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতায়ন, গোপণীয়তা এবং সকল মানুষের মূল্য ও মর্যাদার বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।"
- সমাজবিজ্ঞানী চালর্স এ. লেভী (Charles S. Levy) তাঁর "The Value Base of Social Work" গ্রন্থে বলেন, "জনগণের পছন্দ, ফলাফল, তাদের অধিকতর পছন্দের ধারণা ও জনগণের সাথে কাজ করার রীতিগত সমষ্টি হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।"

⇒ সমাজকর্ম একটি মানবকল্যাণমুখী পেশাগত কর্মকাণ্ড।
- সমাজকর্ম অনুশীলন ও সমাজকর্মীর কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশনা প্রদান ও পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সমাজকর্ম মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ।
- যেমন- ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অধিকার, সকলের সমান সুযোগ দান, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ইত্যাদি।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৩৭.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. আইনের শাসন এড়িয়ে চলা
  3. জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা
  4. সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া
সঠিক উত্তর:
সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি তৈরি করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের চিন্তাভাবনা, আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড যে নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৈশিষ্ট্য:
- নির্বাচনি রায় মেনে নেওয়া: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা করতে শেখায়।
- সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ: নির্বাচিত সরকার নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পায়।
- শান্তিপূর্ণ সরকার গঠন ও পরিবর্তন: সহিংসতা ছাড়াই নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা হয়।
- ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে বৃহত্তর স্বার্থ: ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে রাষ্ট্র ও জাতির কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
- পরমতসহিষ্ণুতা: ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং গণতান্ত্রিক বিতর্কের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য, 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা, যা নির্বাচন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
গণতন্ত্রে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব রয়েছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মো. ইউনুস আলী দেওয়ান ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫৩৮.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় হয়
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  4. দুর্নীতি দূর হয়
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক বিনিয়োগ:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৫৩৯.
কোন মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন -
  1. ক) দুর্নীতি প্রতিরোধ
  2. খ) বৈষম্য
  3. গ) নারীর ক্ষমতায়ন
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
▪ বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায় রয়েছে। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহার, শাসনরীতির অনিয়ম, প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
▪ এ ক্ষেত্রে যদি সরকার সংসদকে কার্যকরি করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ তার কার্যকর ভূমিকা পালন করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নিম্নে সুশাসন নিশ্চিত করার উপায় আলোচনা করা হল - দূর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪১.
‘প্রজাতন্ত্র’ এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Democracy
  2. Republic
  3. Presidential
  4. Parliamentary
সঠিক উত্তর:
Republic
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Republic
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল (democracy)।
- এই শব্দটি Demos ও Kratos শব্দদ্বয় থেকে উদ্ভুত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনগণ এবং Kratos শব্দের অর্থ ক্ষমতা।
- গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে আব্রাহাম লিংকন বলেন, “গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য সরকার"। অর্থাৎ গণতন্ত্র হল জনগণের কল্যাণের জন্য জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার।
- গণতান্ত্রিক সরকার দু'ধরনের- (ক) প্রজাতন্ত্র এবং (খ) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।

⇒ প্রজাতন্ত্র (Republic):
- প্রজাতন্ত্র বলতে গণতান্ত্রিক সরকারকে বুঝায়।
- এটি এমন এক ধরনের সরকার যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়।
- রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যায় না। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত। কাজেই এটি প্রজাতন্ত্র। কিন্তু বৃটেন প্রজাতন্ত্র নয়। কেননা সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করা যায়।
- বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৪২.
“প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  2. ল্যান্ডেল মিল
  3. রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. মারটিন মিনোগ
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। উক্তিটি করেন - ল্যান্ডেল মিল।
→ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ - উক্তিটি করেছেন - রিচার্ড ক্রসম্যান।
→ “প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি করে - অধ্যাপক ম্যাকাইভার।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫৪৩.
“সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।” -  উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. হ্যারল্ড লাস্কি
  3. এফ ই মেরিল
  4. এমিল দুর্খেইম
সঠিক উত্তর:
এফ ই মেরিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এফ ই মেরিল
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৪৪.
আইনের শাসনের মূলকথা কোনটি?
  1. আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান
  2. সকলেরই আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ রয়েছে
  3. শুনানী ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন (Rule of Law):
- সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন আইনের শাসন বিদ্যমান থাকে।
- আইনের শাসনের মূলকথাই হলো-
(ক) আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান,
(খ) সকলেরই আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ,
(গ) শুনানী ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
- আইন হতে হবে সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট ও সহজবোধ্য।
- এছাড়াও আইনের শাসনের জন্য প্রয়োজন সরকারের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, রাষ্ট্রের নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ এবং নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৪৫.
’Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হেগেল
  2. এইচ. ডি. স্টেইন
  3. কার্ল মার্কস
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

⇒ Political Ideals গ্রন্থে তিনি বলেছেন:
- রাজনৈতিক আদর্শ ব্যক্তিজীবনের আদর্শের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।
- বাট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
• The Elements of Ethics,
• Human Society in Ethics and Politics,
• Moral and others,
• Power: A New Social Analysis,
• Political Ideals,
• Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com

২,৫৪৬.
"সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন"- উক্তিটি করেছেন -
  1. জন অস্টিন
  2. এ্যারিস্টটল
  3. হেনরি মেইন
  4. হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন অস্টিন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪৭.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড কোনটি?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. নৈতিকতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইন:
- সুশাসনের মূলভিত্তি হলো আইনের শাসন যা সভ্য সমাজের মানদন্ড। 
- আইনের শাসনের অর্থ আইনের চোখে সকলে সমান, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত সাম্য, স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৪৮.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  2. স্বচ্ছতার অভাব
  3. অসৎ নেতৃত্ব
  4. নৈতিকতার অভাব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা

- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

• দুর্নীতি এবং নৈতিকতা:
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, ক্ষমতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত.
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়,
- তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৪৯.
সুশাসনের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে, সরকারের কর্মকান্ডের -
  1. স্বচছতা বৃদ্ধি
  2. আইনের শাসন
  3. জবাবদিহিতা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যেক নাগরিকেরই কামনা।
- এর মাধ্যমের নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অনেকগুলো শর্তের উপর নির্ভরশীল।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে ত্বরান্বিত করে -
• স্বচছতা বৃদ্ধি
• সরকারের কাজ-কর্মে জবাবদিহিতা,
• আইনের শাসন,
• সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন,
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫০.
‘আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান’ বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে?
  1. ধারা ২৯
  2. ধারা ২৭
  3. ধারা ২৮
  4. ধারা ১৯
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ২৭নং ধারায় আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ১৯নং ধারা :সুযোগের সমতা।
- ২৮নং ধারা : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- ২৯নং ধারা: সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,৫৫১.
নিচের কোনটি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) দায়িত্ববোধ
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতা প্রবর্তন করে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৫২.
‘Political Ideals’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. মেকিয়াভেলি
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

উল্লেখ্য,
- বিখ্যাত দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেলের মতে সচেতনভাবে বা অচেতনভাবেই হোক মানুষের মনে এমন কিছু প্রশ্ন জাগে যাদের কোন যুক্তি সঙ্গত উত্তর ধর্মতত্ত্বে যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি আবার বিজ্ঞান এদের নিয়ে আদৌ মাথা ঘামায় না।
- ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এই যে অনধিকৃত একটি রাজ্য তাতেই দর্শন বিচরণ করে চলেছে।
- আর এ কারণেই রাসেল দর্শনকে বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বের মধ্যবর্তী অনধিকৃত রাজ্য (No Man's Land) বলে অভিহিত করেছেন।
- Power : A New Social Analysis গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- বইটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের মূল বিষয় হচ্ছে মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ক্ষমতা অর্জন করা।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২,৫৫৩.
'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. হেরোডোটাস
  2. আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. বার্কার
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্কার
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে। 
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- বার্কারের মতে, 'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৫৪.
কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস ও নীতি-নৈতিকতা থেকে কোন ধরনের মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
• সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

• পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৫.
ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে, আমরা যা তা হলো ___ এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো _________'
  1. সংস্কৃতি, সভ্যতা
  2. সভ্যতা, সংস্কৃতি
  3. সভ্যতা, সমাজ
  4. সমাজ, সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি, সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি, সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, 
• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে 'আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা'।

এছাড়াও, 
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৬.
মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড হচ্ছে -
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. অর্থনীতি
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের সংজ্ঞা:
- এইচ. ডি. ষ্টেইন (H.D. stain)-এর মতে, "জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহী, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা বর্তমান এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।"
- এম. আর. উইলিয়াম M.R. william)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।"
- এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।"
- ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon)-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচারআচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৫৭.
কোনটি চর্চা ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. ধর্ম
  2. সামাজিক প্রথা
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. প্রযুক্তিগত দক্ষতা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা, জবাবদিহিতা, মানবিকতা ও নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এসব গুণাবলী মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হয়।
- এছাড়া, মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
- এটি ন্যায়পরায়ণ ও জবাবদিহিতামূলক শাসনের ভিত্তি তৈরি।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা ছাড়া সুশাসন সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
→ ধর্ম মানুষের নৈতিকতা গঠনে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি সুশাসনের একমাত্র পূর্বশর্ত নয়।
→ কিছু সামাজিক প্রথা সুশাসনের জন্য সহায়ক হলেও, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বৈষম্যের সৃষ্টি করতে পারে।
→ প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রশাসনিক বা কাজের দক্ষতা বাড়ায়, কিন্তু নৈতিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

২,৫৫৮.
'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জন লক
  2. এরিস্টটল
  3. বার্কলে
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে বলেছেন, "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"

• তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic.

- তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium
- Apologia Socrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,৫৫৯.
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে -
  1. ক) পারিবারিক শিক্ষা
  2. খ) ধর্মীয় শিক্ষা
  3. গ) মূল্যবোধের শিক্ষা
  4. ঘ) উচ্চ শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধের শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধের শিক্ষা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সম্পর্কিত শিক্ষা।
- মূল্যবোধের শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়।
- সেজন্যে ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ড রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৫৬০.
ই-গভর্নেন্সকে Smart সরকার ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  2. চন্দ্রবাবু নাইডু
  3. এপিজে আব্দুল কালাম 
  4. ই.এম হোয়াইট
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৫৬১.
ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) ২৭
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৩০
  4. ঘ) ৩৪
সঠিক উত্তর:
খ) ৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে।যেখানে বলা হযেছে, “আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।” ২৭, ৩০ ও ৩৪ নং ধারায় যথাক্রমে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, বিদেশী খেতাবগ্রহণ নিষিদ্ধগ্রহণ এবং জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান)
২,৫৬২.
মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ কী বিচার করতে পারে?
  1. ন্যায় ও অন্যায়
  2. ভালো ও মন্দ
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো একটি মানবিক গুণ, যা একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। এটি সমাজে বসবাস, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও নৈতিকতা-অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক, অর্থাৎ সময়, সমাজ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
- এটি শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত। 
অর্থাৎ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দ , নৈতিকতা ও অনৈতিকতা বিচার করতে পারে ।

মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- সুতরাং, একটি নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে মূল্যবোধ অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৩.
আইন মূলত কী নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. মানুষের চিন্তা
  2. মানুষের কল্পনা
  3. মানুষের বাহ্যিক আচরণ
  4. মানুষের আবেগ
সঠিক উত্তর:
মানুষের বাহ্যিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের বাহ্যিক আচরণ
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।

- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" 
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।" 
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়। আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৫৬৪.
নিচের কোনটি নাগরিকের সামাজিক অধিকার?
  1. স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
  2. কর্মের অধিকার
  3. শিক্ষার অধিকার
  4. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার অধিকার
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. চলাফেরার অধিকার।
৫. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৬. আইনের চোখে সমানাধিকার।
৭. পরিবার গঠনের অধিকার।
৮. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।
৯. শিক্ষার অধিকার। 

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫৬৫.
'উদারতাবাদ' নিম্নের কোন ধরনের মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে উদারতাবাদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
- এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

⇒ উদারতাবাদ:
- উদারতাবাদ বলতে সেই মতবাদকে বুঝায়, যা' ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায় বলে মনে করে এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে সীমিত করতে চায়।
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৫৬৬.
'মত প্রকাশের অধিকার'- নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার? 
  1. নৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা

• অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।
• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
- তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

২.আইনগত অধিকার 
- আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

সামাজিক অধিকার:
- সামাজিক অধিকার সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার: 

- রাজনৈতিক অধিকার নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি বোর্ড বই। 

২,৫৬৭.
সমাজে সভ্য সুন্দর জীবন যাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ প্রয়োজন তাকে কোন ধরনের স্বাধীনতা বলে?
  1. ক) প্রাকৃতিক স্বাধীনতা
  2. খ) সামাজিক স্বাধীনতা
  3. গ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. ঘ) রাজনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সমাজে সভ্য সুন্দর জীবন যাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে। যেমন চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা। মানুষের অধিকারবোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৬৮.
মানব উন্নয়ন সূচকের মৌলিক নির্দেশক কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

HDI:
- HDI-এর পূর্ণরূপ: Human Development Intex বা মানব উন্নয়ন সূচক।
- UNDP কর্তৃক মানব উন্নয়ন সূচক তথা HDI ধারণাটির উদ্ভাবন হয়।
- HDI মূলত তিনটি প্রধান উপাদানের উপর ভিত্তি করে:
• আয়: এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
• শিক্ষা: মানুষের শিক্ষা গ্রহণের হার, যার মধ্যে গড় বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের বছর এবং শিক্ষার প্রসারের হার অন্তর্ভুক্ত।
• আয়ু: গড় আয়ু, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু পরিস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কোনো দেশের মানব উন্নয়ন সূচক বা HDI টি যদি ০.৫৫০ এর নিচে হয় সে দেশটিকে অনুন্নত দেশ বলা হয়।
- কোন দেশে HDI যদি ০.৫৫০ - ০.৭৯৯ হয় সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়।
- যদি ০.৮০ থেকে বেশি হয় সেসব দেশকে আমরা উন্নত দেশ বলি।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২,৫৬৯.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কোনটি হ্রাস পায়?
  1. কর্মসংস্থান
  2. বেকারত্ব
  3. পুঁজি বিনিয়োগ
  4. শিল্প উৎপাদন
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকারত্ব
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মসংস্থান, পুঁজি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।

সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:

- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে।

⇒ সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- প্রথমেই ধরা যাক সামাজিক ক্ষেত্রের কথা। সুশাসন ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা ও তা বজায় রাখা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ; সন্তানসন্ততিকে শিক্ষিত, রুচিবান ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কেননা এগুলো সবই সম্ভব সুশাসিত সমাজ ও রাষ্ট্রে।

⇒ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সুশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইন না মানলে শাস্তি পেতে হবে, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। সব থেকে বড় কথা আইন মানুষের অধিকার উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আইনের উপস্থিতি ছাড়া উৎকৃষ্ট নাগরিক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে আইন সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় না এবং নাগরিক অধিকার উপভোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সততা ও সতর্কতার সাথে একজন নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ ও প্রার্থী বাছাই করতে পারে না, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে না৷

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৭০.
নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান কী?
  1. মায়া ও মমতা
  2. সততা ও নিষ্ঠা
  3. সহনশীলতা ও সহমর্মিতা
  4. কর্তব্যপরায়ণতা ও উদারতা
সঠিক উত্তর:
সততা ও নিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা ও নিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
নৈতিক শক্তি:
- নৈতিক শক্তি মানে হলো ব্যক্তি নিজের ভেতরে থাকা সেই শক্তি বা মানসিক দৃঢ়তা, যা তাকে সৎ, ন্যায়ের পথে অটল এবং আদর্শবান থাকতে সাহায্য করে।
- এই নৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি হচ্ছে সততা এবং নিষ্ঠা।
- কারণ এগুলো মানুষকে নীতিগতভাবে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং চরিত্রকে দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
- সততা হলো সত্য ভাষণ ও সত্য আচরণ বজায় রাখা।
- একজন সৎ মানুষ নিজের স্বার্থের চেয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকেন।
- অপরদিকে, নিষ্ঠা মানে দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং অটল মনোভাব।
- যে কাজেই নিযুক্ত থাকুন না কেন, নিষ্ঠার সাথে তা পালন নৈতিক শক্তিকে দৃঢ় করে।

⇨ তাছাড়া নৈতিক শক্তির অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে-
→ ন্যায়-নীতি,
→ সহনশীলতা ও সহমর্মিতা,
→ সামাজিক ন্যায়বিচার,
→ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,
→ আইনের শাসন ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৭১.
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ‘সামাজিক চুক্তি মতবাদ’ - এর প্রবক্তা কে?
  1. ক) থমাস হবস্‌
  2. খ) জন লক
  3. গ) সেন্ট অগাস্টিন
  4. ঘ) ক + খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদঃ
১. ঐশ্বরিক মতবাদ (সবচেয়ে পুরোনো) -- প্রবক্তা -- সেন্ট অগাস্টিন
২. বল প্রয়োগ মতবাদ -- তাত্ত্বিক -- ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক
৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ -- তাত্ত্বিক -- থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো
৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ -- (আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য)

সামাজিক চুক্তি মতবাদঃ
এই মতবাদের মূলকথা হলো - সমাজে বসবাসকারী জনগণের পারস্পারিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।
ব্রিটিশ রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবস্‌ ও জন লক ও ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক।

এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত। তারা প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো।
কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কর্তৃপক্ষ ছিল না; ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
মানুষ হয়ে উঠে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। একারণে মানুষের জীবন কষ্টকর ও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।

প্রকৃতির রাজ্যের এই অরাজকতাপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে নিজেদের ওপর শাসন করার জন্য স্থায়ীভাবে শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পন করে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পৌরনীতি বই (উন্মুক্ত)

২,৫৭২.
মূল্যবোধ কী?
  1. সমাজের মানুষের কার্যাবলি
  2. আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি
  3. ব্যক্তির মৌলিক বৈশিষ্ট্য
  4. আইন মেনে চলা
সঠিক উত্তর:
আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

২,৫৭৩.
"আদিম মানুষের জীবন ছিল শান্তি, সদিচ্ছা আর সুখে পরিপূর্ণ"- উক্তিটি করেছেন-
  1. রাসেল
  2. ভল্টেয়ার
  3. হবস
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
রুশো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুশো
ব্যাখ্যা
প্রবৃত্তি বা প্রবণতার স্তর:
 - প্রবণতা বেঁচে থাকার ব্যাপারে বেশ সহায়তা করে। আদিম মানুষেরও মূল সমস্যা ছিল বেঁচে থাকা।
- নৈতিকতার বিকাশের প্রবৃত্তির স্তরটিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দার্শনিক রুশো মনে করতেন যে, "আদিম মানুষের জীবন ছিল শান্তি, সদিচ্ছা আর সুখে পরিপূর্ণ।"
- কিন্তু জীবনের জন্য এসব গুণ উত্তম বলে বিবেচিত হলেও জীবন রক্ষার জন্য আক্রমণাত্মক মনোভাবও অপরিহার্য।
- এ কারণে তাদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই পশু-প্রবণতাগুলোর প্রাধান্য কল্পনা করা যায়।
-অর্থাৎ জ্যঁ জাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) এই মতবাদ প্রচার করেছিলেন যে আদিম মানুষের জীবন ছিল শান্তি, সদিচ্ছা এবং সুখে পরিপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
২,৫৭৪.
'Critique of Practical Reason' বইয়ের রচয়িতা কে?
  1. ইমানুয়েল সান্ট
  2. সক্রেটিস
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Critique of Pure Reason.
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com
২,৫৭৫.
লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে কয় ভাগে ভাগ করেন?
  1. ২ ভাগে 
  2. ৩ ভাগে 
  3. ৫ ভাগে 
  4. ৬ ভাগে 
সঠিক উত্তর:
৫ ভাগে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ভাগে 
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৭৬.
বর্তমানে কিসের উপর উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহ সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) আইন
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সমাজ
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহ সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে সুশাসনের উপর।
- বৈদেশিক সাহায্য বা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সুশাসনের বিকল্প নেই।
- একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন। তাই টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ সুশাসন।
- দুস্থ, দরিদ্র, অসহায় ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনমানের নিশ্চয়তা বিধান করে সুশাসন।

২,৫৭৭.
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরােধী কনভেনশনের নাম-
  1. UNCLOS
  2. UNCTAD
  3. UNCAC
  4. CEDAW
সঠিক উত্তর:
UNCAC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCAC
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন:
- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) বা জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন (ইউএনএসি)) হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

⇒ প্রধান পাঁচ কার্যক্রম:
i) অপরাধ প্রতিরোধ,
ii) আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষে্‌
iii) আন্তর্জাতিক সহযোগিতা,
iv) সম্পত্তি উদ্ধা্‌
v) কারিগরি সহায়তা ও তথ্য বিনিময়।

উল্লেখ্য,
- দুর্নীতি বিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ৩১ অক্টোবর ২০০৩ তারিখে জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন পাস হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
২,৫৭৮.
নৈতিকতার রক্ষাকবচ কী?
  1. আইন
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. সামাজিক নীতি
  4. বিবেকের দংশন
সঠিক উত্তর:
বিবেকের দংশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেকের দংশন
ব্যাখ্যা

নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।

•নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৫৭৯.
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য কি?
  1. ক) সামাজিক মাপকাঠি
  2. খ) নীতিবোধ
  3. গ) শৃঙখলাবোধ
  4. ঘ) সহমর্মিতা
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক মাপকাঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক মাপকাঠি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, পরিবর্তনশীলতা, নৈতিক প্রাধান্য ইত্যাদি। বাকি তিনটি অপশন মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
২,৫৮০.
নৈতিক অধিকার ভোগ করার জন্য ব্যক্তিকে নিচের কোনটি পালন করতে হয়?
  1. ব্যক্তিগত ইচ্ছা
  2. নৈতিক কর্তব্য
  3. সামাজিক দায়িত্ব
  4. অনৈচ্ছিক কর্তব্য
সঠিক উত্তর:
নৈতিক কর্তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক কর্তব্য
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক:
- নৈতিক অধিকার ভোগ করার জন্য ব্যক্তিকে নৈতিক কর্তব্য পালন করতে হয়। 

- উদাহরণস্বরূপ, পিতা-মাতা সন্তানদের লালন-পালন ও শিক্ষা দেয়।
- আবার পিতা-মাতা যখন বৃদ্ধ হন সন্তানরা তাঁদের সেবা-যত্ন করে।
- এক্ষেত্রে নৈতিক অধিকার হচ্ছে পিতা-মাতার অধিকার ভোগ, আবার নৈতিক কর্তব্য হচ্ছে সন্তানদের লালন- পালন ও শিক্ষা দেয়া।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, নৈতিক অধিকার নৈতিক কর্তব্যের উপর নির্ভরশীল।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮১.
World Justice Project কয়টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের সূচক তৈরি করে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

World Justice Project:
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে থাকে।
- 'World Justice Project' আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে ৷
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।
- 'WJP Rule of Law Index' শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

⇒ ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক তৈরি করা হয়:
• রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা,
• নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ,
• জননিরাপত্তা,
• মৌলিক অধিকার,
• দুর্নীতি,
• সরকারি তথ্য প্রকাশ,
• দেওয়ানি বিচার ও
• ফৌজদারি বিচার।

তথ্যসূত্র - World Justice Project ওয়েবসাইট।

২,৫৮২.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. একে অপরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
  3. সুশাসন থাকলে মূল্যবোধ শিক্ষা অপ্রয়োজনীয়
  4. মূল্যবোধ শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত জীবনে প্রযোজ্য, রাষ্ট্রের জন্য নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো গুণাবলি প্রয়োজন হয়, যা মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে বিকশিত হয়।
- যদি মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকে, তাহলে প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে, আইন থাকলেও তা কার্যকর হবে না এবং জনগণের কল্যাণ ব্যাহত হবে।
- এভাবে, মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং একটি ন্যায়সংগত, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৩.
কোনটিকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. আমলাতন্ত্র
  3. গণমাধ্যম
  4. সিভিল সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
- সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম তার ওয়াচডগ ভূমিকার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের নানা ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরার মাধ্যমে রাজনৈতিক সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ পালন করে।
(তথ্যসূত্রঃ স্প্রিনজার ডটকম)
২,৫৮৪.
কোন প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক প্রথম সুশাসনের ধারণা উপস্থাপন করে?
  1. World Development Report
  2. Governance and Development
  3. Poverty Reduction Strategy Paper
  4. Human Development Report
সঠিক উত্তর:
Governance and Development
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Governance and Development
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- ‘সুশাসন’ ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা,
- এটা মূলত রাষ্ট্রের কার্যকর, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক শাসন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন’ (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও,
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫৮৫.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের win win game বলা হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

২,৫৮৬.
'Society' শব্দটি এসেছে-
  1. ক) Socious
  2. খ) Socio
  3. গ) Social
  4. ঘ) Socius
সঠিক উত্তর:
ক) Socious
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Socious
ব্যাখ্যা
- সমাজ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Society'।
- শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Socious' থেকে।
- যার অর্থ সহযোগিতা বা পারস্পরিক বন্ধুত্ব।
- সমাজ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের স্থান।
- মানুষের সংঘবদ্ধ জীবনের সূচনা ঘটে সমাজে।
- মানুষ সমাজেই জন্মগ্রহণ করেন, সমাজেই লালিত-পালিত হয় এবং সমাজেই মৃত্যুবরণ করে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা , এস এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৭.
’Know thyself’ কোন বিখ্যাত দার্শনিকের উক্তি? 
  1. আলেকজান্ডার 
  2. প্লেটো 
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

- Know thyself (নিজেকে জানো) সক্রেটিসের ‍উক্তি।

সক্রেটিস: 
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- তাঁর অন্যতম বাণী ছিল 'সদগুণই জ্ঞান'।
- তাঁর মতে, জ্ঞান দু'প্রকার: একটি হলো আপাত জ্ঞান এবং অপরটি প্রকৃত জ্ঞান।
- তিনি বলেন, সব মানুষের কর্তব্য হলো সত্য জ্ঞানের সন্ধান করা এবং তা তারা তখনই আয়ত্ব করতে পারবে যখন তারা নিজেদেরকে জানতে পারবে।
- জ্ঞানের মতো সদগুণও দু'প্রকার। এক ধরনের সদগুণ মতামত নির্ভর; অন্যটি সত্য নির্ভর। প্রথমটি ক্ষণস্থায়ী এবং দ্বিতীয়টি চিরস্থায়ী।
- সমকালীন সফিস্টদের তুলনায় সক্রেটিস তাঁর জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।
- তিনি বলতেন, 'আমি একটি বিষয় জানি এবং তা হল আমি কিছুই জানি না।'
- প্রশ্নের পর প্রশ্নোত্থাপনের মাধ্যমে তিনি শিষ্যদের বুঝিয়ে দিতেন একটি বিষয় সম্পর্কে তারা কতটা অজ্ঞ।
- তাঁর মতে, দর্শনের শুরু হয় আত্মজিজ্ঞাসা দিয়ে (Know thyself)।
- তিনি মনে করতেন 'পৃথিবীতে মানুষের চাইতে বড় কিছু নেই; আর মানুষের মাঝে আত্মার চাইতে বড় কিছু হয় না।'
- মানুষের কি হওয়া উচিৎ আর কোন গুণের পেছনে ধাবিত হওয়া কর্তব্য এ
- সব বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনায় অবতীর্ণ হতেন।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৮৮.
ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল নিম্নের কোন গ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) The Prince
  2. খ) The Elements of Ethics
  3. গ) The Republic
  4. ঘ) Eudemian Ethics
সঠিক উত্তর:
খ) The Elements of Ethics
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) The Elements of Ethics
ব্যাখ্যা
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা ব্রিটিশ দার্শনিক - বার্ট্রান্ড রাসেল।
- তিনি ১৯৫০ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 

তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Problem of Philosophy
- The Conquest of Happiness
- Religion and Science
- The Principles of Mathematics
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Philosophical Essays
- Power: A New Social Analysis
- Principles of Social Reconstruction
- The Analysis of Matter
- Logic and knowledge.
 
উৎসঃ ব্রিটানিকা
২,৫৮৯.
সভ্য সমাজের মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় কোনটিকে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. নৈতিকতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইন:
- সুশাসনের মূলভিত্তি হলো আইনের শাসন যা সভ্য সমাজের মানদন্ড। 
- আইনের শাসনের অর্থ আইনের চোখে সকলে সমান, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত সাম্য, স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৯০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন' প্রবর্তন করে -
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২,৫৯১.
কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?
  1. অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
  2. আইনের শাসন
  3. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  4. সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়।

নৈতিক মূল্যবোধ:

- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯২.
আধুনিক রাষ্ট্রে কারা আইন প্রণয়ন করেন?
  1. মন্ত্রীবর্গ
  2. বিচারপতিগণ
  3. সংসদ সদস্যগণ
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
সংসদ সদস্যগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ সদস্যগণ
ব্যাখ্যা
আইন:
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা। 

⇒ আইন সভা:
- আইন সভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। আধুনিক রাষ্ট্র সাধারণত জন কল্যাণে নিয়োজিত থাকে। ফলে সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। তাই আইন সভার সদস্যগণ জন কল্যাণে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে নতুন নতুন অনেক বিষয়কে আইনে রুপান্তর করার জন্য তা বিল (আইনের খসড়া) আকারে আইনসভায় উত্থাপন করে থাকে। বিষয়টি যদি সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামত প্রাপ্ত হয় তবে তা আইনে পরিণত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫৯৩.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের উপাদান নয়?
  1. ক) সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. খ) সহনশীলতা
  3. গ) স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
গ) স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান বলে স্বীকার করা হয় তা হলো:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও
- জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,৫৯৪.
Principia Ethica গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) এম ডব্লিউ পামফ্রে
  3. গ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
  4. ঘ) নিকোলা মেকিয়াভেলী
সঠিক উত্তর:
গ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
ব্যাখ্যা
Principia Ethica গ্রন্থটি রচনা করেন ব্রিটিশ অ্যানালিটিক্যাল ফিলোসফার জর্জ এডওয়ার্ড মুর। এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ে নীতিবিদ্যা'র বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে জি.ই. মুর এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থেই জি ই মুর প্রথম পরানীতিবিদ্যা বা Metaethics এর সূত্রপাত করেন।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
২,৫৯৫.
নিম্নের কোনটি বিকৃত সরকারের উদাহরণ?
  1. ন্যায়তন্ত্র
  2. অভিজাততন্ত্র
  3. রাজতন্ত্র
  4. স্বৈরতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
স্বৈরতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরতন্ত্র
ব্যাখ্যা
উদ্দেশ্য নীতি (Principle of Purpose):
- উদ্দেশ্য নীতির অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা শাসক বা শাসক-শ্রেণির স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে নাকি জনসাধারণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং শাসক বা শাসকশ্রেণি কী উদ্দেশ্যে কাজ সম্পাদন করতে চায়।
- এরিস্টটল উদ্দেশ্য নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকটি সরকারকে আবার দু'ভাগে বিভক্ত করেছেন।
(i) স্বাভাবিক সরকার (Normal Government) এবং
(ii) বিকৃত সরকার (Perverted Government) | 

⇒ স্বাভাবিক সরকার:
- যে শাসনব্যবস্থা জনকল্যাণে নিয়োজিত এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সে সরকারকে এরিস্টটল স্বাভাবিক শাসনব্যবস্থা বা সরকার বলেছেন।
- এখানে শাসক ব্যক্তি স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করেন।
- রাজতন্ত্র (Monarchy), অভিজাততন্ত্র (Aristocracy) এবং ন্যায়তন্ত্র (Polity) হচ্ছে স্বাভাবিক সরকার।

⇒ বিকৃত সরকার:
- জনকল্যাণের পরিবর্তে যখন শাসক বা শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই সরকার পরিচালিত হয়, এরিস্টটল তাকে বিকৃত শাসনব্যবস্থা বা সরকার নামে অভিহিত করেছেন।
- স্বৈরতন্ত্র (Tyranny), কতিপয়তন্ত্র (Oligarcly) এবং গণতন্ত্র হচ্ছে (Democracy) বিকৃত সরকার। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯৬.
Empathy হলো-
  1. ক) ঔচিত্যবোধ
  2. খ) শ্রদ্ধাবোধ
  3. গ) সহনশীলতা
  4. ঘ) সহমর্মিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সহমর্মিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
Empathy শব্দটির অর্থ হলো- সহমর্মিতা।
Patience শব্দের অর্থ হলো সহনশীলতা।
Advisability শব্দের অর্থ হলো- ঔচিত্য।
Respect শব্দের অর্থ হলো- শ্রদ্ধা
২,৫৯৭.
দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতি বলতে বুঝায় -
  1. জবাবদিহিতা
  2. দক্ষতা
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল।
- দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা।
- শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
- নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

অন্যদিকে,
 • দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫৯৮.
একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো-
  1. ক) সাম্যবাদ
  2. খ) উপযোগবাদ
  3. গ) স্বর্গীয় রাষ্ট্র
  4. ঘ) সুবর্ণ মধ্যক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুবর্ণ মধ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুবর্ণ মধ্যক
ব্যাখ্যা

- 'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা।
- যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত।

২,৫৯৯.
‘Know Thyself' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1. থেলিস
  2. সক্রেটিস
  3. অ্যারিস্টটল
  4. হেরাক্লাইটাস
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

• সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।

⇒ গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত
করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬০০.
নেতৃত্ব একটি _____ গুণ।
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আদর্শিক
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জনগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে, জাতিকে উন্নতির দিকে অগ্রসর করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক।
- জনপ্রিয় নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বই গণতন্ত্রের বাহন। 

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।