উত্তর
ব্যাখ্যা
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৮ / ৩৯ · ২,৭০১–২,৮০০ / ৩,৮২৯
• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
• এছাড়াও
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।
⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।
⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।
উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
• সুশাসন ও সুশীল সমাজ:
- সুশাসন ও সুশীল সমাজ বিষয়ে এরিস্টটল তাঁর পলিটিক্স গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
- তিনি ইংরেজি ‘Civil Society’ ধারণাটিকে বাংলা অর্থে ‘সুশীল সমাজ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা কখনও নাগরিক সমাজ, জনসমাজ, লোকসমাজ বা বেসামরিক সমাজ হিসেবেও অভিহিত হয়।
- এরিস্টটল রাষ্ট্রকে একটি সুশীল সমাজ বা রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে দেখতেন, যেখানে নাগরিকরা শাসন ও শাসিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
- এবং রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের নৈতিক ও গুণগত জীবন নিশ্চিত করা।
- তিনি সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং নৈতিক শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।
- রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও কার্যকর শাসনের জন্য তিনি মধ্যবিত্তের প্রাধান্যকে অপরিহার্য মনে করতেন, কারণ এটি ধনী ও দরিদ্রের চরমপন্থার ঝুঁকি কমায়।
- এছাড়া তিনি সুশাসনকে ‘পলটি’ (Polity) বা সাংবিধানিক সরকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং ক্ষমতা সীমিত ব্যক্তির হাতে থাকে না।
- আদর্শ রাষ্ট্রে নাগরিকদের উচিত আত্মনির্ভর, পরস্পরকে চেনা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হওয়া।
- মূলত, এরিস্টটলের কাছে সুশাসন হলো নাগরিকদের সুখী ও নৈতিক জীবন যাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা।
---------------------------------
অন্যদিকে,
- দি এথিক্স (নীতিশাস্ত্র) ও দি লজিক (যুক্তিবিদ্যা) এরিস্টটলের লিখা বই।
- নিকোম্যাচিয়ান এথিক্স এরিস্টটল রচিত নীতিশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়:
- দুর্নীতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- দুর্নীতি সরকারি নীতিসমূহকে কলুষিত করে ও সম্পদের বে-আইনী বন্টন ঘটায়।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা,
- আইনের সংশোধন ও যথাযথ বাস্তবায়ন,
- মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ জরুরি।
- দুর্নীতিকে বর্জন করার জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক নেতৃবন্দের সৎ ও নির্দেশনামূলক পরামর্শ,
- সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
- তাহলেই সমাজ থেকে 'দুর্নীতি' নামক বিষয়টি দূরীভূত হবে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'
⇒ আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
- নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার ভোগ অপরিহার্য।
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলদ্ধি করতে পারে না।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
• সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন দ্বারা সরকারি সম্পদ ও ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন করা হয়।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ "Human Development Report" প্রকাশ করে সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
- জাতিসংঘ সুশাসন বাস্তবায়নে মোট ৮টি মূল নীতি অনুসরণ করে—
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনের শাসন (Rule of Law),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- প্রতিক্রিয়াশীলতা (Responsiveness),
- ঐক্যমত্য (Consensus Oriented),
- সাম্য ও অন্তর্ভুক্তিকরণ (Equity and Inclusiveness),
- কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency),
- জবাবদিহিতা (Accountability)।
- প্রতিটি নীতি সুশাসনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
• যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।
• সামাজিক অধিকারসমূহ হলোঃ
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার
৯. সম্পত্তির অধিকার
১০. ধর্মের অধিকার
১১. পরিবার গঠনের অধিকার
১২. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার
১৩. শিক্ষার অধিকার
১৪. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার ও
১৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’:
- সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’ হিসেবে কাজ করে স্বাধীন প্রচার মাধ্যম।
- গণমাধ্যমের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো ‘ওয়াচডগ’ বা প্রহরীর ভূমিকা পালন করা। এই ভূমিকা পালনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা রোধ করে এবং সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
⇒ সংবাদক্ষেত্রকে বলা হয় দ্য ফোর্থ এস্টেট।
- সংবাদপত্র পরিচালনায় সাংবাদিকদের স্বাধীনতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি একটা বিষয়।
- সংবাদমাধ্যম আছে গণতন্ত্র ও সুশাসনকে সমর্থন-সহযোগিতা করতে। সরকারেরও দায়িত্ব সেই লক্ষ্যেই কাজ করা।
- সরকারের ভুলত্রুটি, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চর্চাসহ বাকি সমস্ত বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করবে।
উৎস: প্রথম আলো।
সুশাসনের উপাদান:
- Asian Development Bank (ADB)-এর মতে, সুশাসন নিশ্চিতকরণে ৪টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো 'Sound Development Management' বা সুষম উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। উপাদানগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• পূর্বাভাসযোগ্যতা (Predictability) এবং,
• স্বচ্ছতা (Transparency)।
এছাড়াও,
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- International Development Association (IDA) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
⇒ প্লেটো সততার কথা উল্লেখ করেন নি।
প্লেটো সততা'র কথা উল্লেখ করেন নি।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ বা মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদগুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।
তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের অভিমত, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।
আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় - একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা।
সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
• জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ইউটিলিটারিয়ান তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন।
- বেন্থাম তার বিখ্যাত বই "An Introduction to the Principles of Morals and Legislation" (১৭৮৯)-এ
ইউটিলিটির ধারণা তুলে ধরেন।
- ইউটিলিটির নীতি: যে কাজ আনন্দ ও সুখ বৃদ্ধি করে এবং দুঃখ ও ক্ষতি হ্রাস করে, সেটি সঠিক।
- মানুষের দুটি প্রধান চালিকা শক্তি:সুখ ও দুঃখ।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য: "সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখ" নিশ্চিত করা।
- শাস্তি শুধুমাত্র তখনই ব্যবহারযোগ্য, যখন তা আরও বড় ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে।
উল্লেখ্য,
- ১৭৯২ সালে বেন্থামকে ফরাসি নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।
• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।
উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
- যে সমাজে বা রাষ্ট্রে সততা, ন্যায়পরায়ণতার মতো মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব।
- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন মূল্যবোধের চর্চা।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি, যা সততা, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত হলে সমাজে দুর্নীতি, অপরাধ ও অবক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
- এগুলো কার্যকর করতে হলে শাসক ও শাসিত উভয়ের মধ্যেই মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজে মূল্যবোধের শিক্ষা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলেই প্রকৃত নাগরিক তৈরি হবে।
- নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম মিলেই সুশাসনকে টেকসই করতে পারে। তাই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।
সূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়। তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।
আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরমরূপ হলো সামাজিক নৈরাজ্য।
রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র যখন আর কাজ করে না এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তখনই সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
ঘুষ, নারী নির্যাতন, অপহরণ ইত্যাদি সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের উদাহরণ।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী
- 'Road to Freedom'-এর রচয়িতা বার্ট্রান্ড রাসেল।
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।
⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics” (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
তথ্যসূত্র: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।
সামাজিক অধিকারসমূহ হলো-
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার
৯. সম্পত্তির অধিকার
১০. ধর্মের অধিকার
১১. পরিবার গঠনের অধিকার
১২. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার
১৩. শিক্ষার অধিকার
১৪. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার
১৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
সুনাগরিক:
- সুনাগরিক ছাড়া সমাজ সুন্দর ও সার্থক হতে পারে না।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইটের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো− জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা।
উৎস: সিভিক এডুকেশন-১ এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা-
(১) নৈতিক অধিকার ও
(২) আইনগত অধিকার।
নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।
আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।
- লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
- যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
- অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
- নির্লিপ্ততা;
- সহানুভূতি;
- শাস্তির ভয়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত- আপেক্ষিকতা।
• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সামাজিক মাপকাঠি
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন
- বিভিন্নতা
- নৈতিক প্রাধান্য
- আপেক্ষিকতা, ইত্যাদি।
⇒ মূল্যবোধের উপাদান :
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা এবং
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ ৩১ অক্টোবর ২০০৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি গৃহীত হয়।
- উপরের অন্যান্য অপশন গুলো যুক্তিযুক্ত নয়।
- সুতরাং সঠিক উত্তর: ৩১ অক্টোবর ২০০৩ সালে।
UNCAC:
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
উৎস: UN ওয়েবসাইট।
সুশাসন:
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।
উৎস: পৌরনীতি, ও নাগরিকতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কর্তব্যের নৈতিকতা:
- কর্তব্যের নৈতিকতা ধারণা প্রবর্তন করেন জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।
- তিনি তার নীতি “কর্তব্যের জন্য কর্তব্য” (Duty for Duty’s Sake)–এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন;
- যেখানে কোনো কাজ নৈতিক কি না তা কাজের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না;
- বরং কাজটি করা উচিত কর্তব্যের তাগিদে।
- এ ধরনের নৈতিকতাকে কান্টিয়ান নীতিশাস্ত্র বলা হয়।
- কান্টের মূল নীতি হলো শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative)।
- এই আদেশ নির্দেশ করে যে মানুষের কাজের নৈতিকতা নির্ধারণ হয় কাজের উদ্দেশ্য এবং সার্বজনীন নৈতিক আইন মেনে চলার ওপর, আবেগ বা সুখের ওপর নয়।
- তিনি নৈতিকতাকে যুক্তি এবং “সদিচ্ছা” (Good Will)-এর ওপর প্রতিষ্ঠা করেন।
- কান্টের দর্শন রেশনালিজম (বুদ্ধিবাদ) ও অভিজ্ঞতাবাদ (Empiricism)-এর এক অনন্য সংমিশ্রণ।
- এখানে তিনি মানুষের স্বায়ত্তশাসন, যুক্তি এবং নৈতিক আইন মেনে চলাকে প্রাধান্য দেন।
- তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ হলো:
- Critique of Pure Reason,
- Critique of Practical Reason,
- Critique of Judgment.
উৎস: ব্রিটানিকা।
- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রাচীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
• অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।
⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।
⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।
⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।
⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।
তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
আধুনিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে বোঝায় এমনসব নীতি ও মানদণ্ড যা ব্যক্তির স্বাধীনতা, যুক্তি, বিজ্ঞান, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, সহনশীলতা, ও প্রগতিকে গুরুত্ব দেয়; যা প্রথাগত ধারণার বদলে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়, যেখানে আইন ও নাগরিক সচেতনতা, শ্রমের মর্যাদা, এবং নৈতিকতা আধুনিক জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
উল্লেখ্য,
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই। মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- এটি ল্যাটিন শব্দ 'Moralitas' থেকে এসেছে যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance) ।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
- নৈতিকতা ব্যক্তির সদ গুণ বিশেষ।
- নৈতিকতা সার্বজনীন।
- নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- নৈতিকতা ধর্ম নিরপেক্ষ।
- নৈতিকতা এক ধরনের শক্তি ও আদর্শ।
- নৈতিকতা ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ সামষ্টিক বিষয়।
- মূল্যবোধ মানুষের অবশ্য পালনীয় আচরণ।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক।
- মূল্যবোধ ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- মূল্যবোধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার।
- মূল্যবোধ শুধু বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।