বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২৮ / ৩৯ · ২,৭০১২,৮০০ / ৩,৮২৯

২,৭০১.
সুশাসনের ধারণা কোন ধরনের ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?
  1. ক) সমাজতন্ত্র
  2. খ) গণতন্ত্র
  3. গ) রাজতন্ত্র
  4. ঘ) আমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ। আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব। তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
২,৭০২.
বিশ্বব্যাংক ও UNDP অনুসারে, 'সুশাসনের মাধ্যমে  নাগরিকগণ তাদের কী ধরনের আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহ প্রকাশ করতে পারে'?
  1. ধর্মীয় 
  2. আর্থ-সামাজিক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
আর্থ-সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্থ-সামাজিক
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
​- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
​- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
​- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
​- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।

• এছাড়াও 
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
​- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৭০৩.
সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ যে মতবাদ তাকে কী বলা হয়?
  1. ভাববাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. কর্তব্যবাদ
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৭০৪.
ন্যায়পরায়ণতার একটি মূলনীতি হিসেবে কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  2. সামাজিক প্রভাব বৃদ্ধি
  3. ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রাধান্য
  4. ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচার
সঠিক উত্তর:
পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।
- আইনের শাসন।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭০৫.
মূল্যবোধ শিক্ষা কী প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে সুশাসন নিশ্চিত করে?
  1. ন্যায়বিচার
  2. আইনের শাসন
  3. সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন,  সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে সুশাসন নিশ্চিত করে।

মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:

• সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এ উপাদান অনুপস্থিত সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা:
- মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

• নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত ও বিকশিত করে।

• কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে:
- কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। কর্তব্যবোধ না থাকলে সুশাসন ও প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্যই নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধকে নাগরিকের অন্যতম গুণ বলা হয়।

• সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা:
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতাকে মূল্যবোধের যেমন উপাদান মনে করা হয় তেমনি তা সুশাসনের ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য মনে করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭০৬.
বিনা বিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে কোন ধরনের সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়?
  1. নাগরিক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. আইনগত
সঠিক উত্তর:
আইনগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭০৭.
'জনসমষ্টি' রাষ্ট্রের কততম উপাদান?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
১ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় বসবাস করে, যাদের একটি সরকার আছে সর্বোপরি যারা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে সর্বোতভাবে মুক্ত থাকে।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।
⇒ রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা:
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও.
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
- এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭০৮.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি মৌলিক সততা নয়?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) পরোপকারিতা
  4. ঘ) আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
গ) পরোপকারিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরোপকারিতা
ব্যাখ্যা
- মৌলিক সততা বলতে সেসব সদগুণাবলীকে বুঝায় যা বিভিন্ন শ্রেণীর সদগুণাবলির ভিত্তি।
প্লেটোর মতে মৌলিক সততা চারটি। এগুলো হলো:
- জ্ঞান
- সাহসিকতা
- আত্মসংযম ও
- ন্যায়পরায়ণতা।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,৭০৯.
জন অস্টিন আইনের কতটি উৎস চিহ্নিত করেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ১টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭১০.
কোন গ্রন্থে এরিস্টটল সুশীল সমাজ (Civil Society) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন?
  1. দি পলিটিক্স
  2. নিকোম্যাচিয়ান এথিক্স
  3. দি লজিক 
  4. দি এথিক্স
সঠিক উত্তর:
দি পলিটিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দি পলিটিক্স
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও সুশীল সমাজ:
- সুশাসন ও সুশীল সমাজ বিষয়ে এরিস্টটল তাঁর পলিটিক্স গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
- তিনি ইংরেজি ‘Civil Society’ ধারণাটিকে বাংলা অর্থে ‘সুশীল সমাজ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা কখনও নাগরিক সমাজ, জনসমাজ, লোকসমাজ বা বেসামরিক সমাজ হিসেবেও অভিহিত হয়।
- এরিস্টটল রাষ্ট্রকে একটি সুশীল সমাজ বা রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে দেখতেন, যেখানে নাগরিকরা শাসন ও শাসিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। 
- এবং রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের নৈতিক ও গুণগত জীবন নিশ্চিত করা।

- তিনি সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং নৈতিক শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।
- রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও কার্যকর শাসনের জন্য তিনি মধ্যবিত্তের প্রাধান্যকে অপরিহার্য মনে করতেন, কারণ এটি ধনী ও দরিদ্রের চরমপন্থার ঝুঁকি কমায়।
- এছাড়া তিনি সুশাসনকে ‘পলটি’ (Polity) বা সাংবিধানিক সরকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং ক্ষমতা সীমিত ব্যক্তির হাতে থাকে না।
- আদর্শ রাষ্ট্রে নাগরিকদের উচিত আত্মনির্ভর, পরস্পরকে চেনা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হওয়া। 
- মূলত, এরিস্টটলের কাছে সুশাসন হলো নাগরিকদের সুখী ও নৈতিক জীবন যাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা।
--------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- দি এথিক্স (নীতিশাস্ত্র) ও দি লজিক (যুক্তিবিদ্যা) এরিস্টটলের লিখা বই। 
- নিকোম্যাচিয়ান এথিক্স এরিস্টটল রচিত নীতিশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

২,৭১১.
দুর্নীতি প্রতিরোধে জরুরি- 
  1. মূল্যবোধ জাগ্রত না করা
  2. আইনের সংশোধন না করা 
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  4. জনগণের মধ্যে অসচেতনতা
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়: 
- দুর্নীতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- দুর্নীতি সরকারি নীতিসমূহকে কলুষিত করে ও সম্পদের বে-আইনী বন্টন ঘটায়।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা,
- আইনের সংশোধন ও যথাযথ বাস্তবায়ন,
- মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ জরুরি।
- দুর্নীতিকে বর্জন করার জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক নেতৃবন্দের সৎ ও নির্দেশনামূলক পরামর্শ,
- সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
- তাহলেই সমাজ থেকে 'দুর্নীতি' নামক বিষয়টি দূরীভূত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭১২.
'অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. আধ্যাত্মিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
• ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।
- সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২,৭১৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কী?
  1. সাম্যে বিশ্বাস না করা
  2. ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব না দেওয়া
  3. ক্ষমতা নেতা ও দলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা
  4. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭১৪.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজ নয়?
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) কর আদায়
  3. গ) স্বাস্থ্যসেবা
  4. ঘ) দেশ রক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাস্থ্যসেবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাস্থ্যসেবা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে সেগুলো হলো তার অপরিহার্য বা আবশ্যিক কার্যাবলি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আইন প্রণয়ন করা
- দেশ রক্ষা করা
- নিরাপত্তা বিধান করা
- রাজস্ব আদায় করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রের যাবতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ হলো ঐচ্ছিক কাজ। যেমনঃ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, শিক্ষার ব্যবস্থা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭১৫.
সুশাসনের জন্য অপরিহার্য নয় কোনটি?
  1. ক) বহুদলীয় ব্যবস্থা
  2. খ) স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম
  4. ঘ) জবাব্দিহিতামূলক সরকার
সঠিক উত্তর:
ক) বহুদলীয় ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বহুদলীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
২,৭১৬.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের আবশ্যিক কার্যাবলি নয়?
  1. ক) আইন প্রণয়ন করা
  2. খ) জনগণের কল্যাণ সাধন
  3. গ) নিরাপত্তা রক্ষা করা
  4. ঘ) রাজস্ব আদায়
সঠিক উত্তর:
খ) জনগণের কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জনগণের কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কাজ করে থাকে তা হলো রাষ্ট্রের আবশ্যক কাজ।
যেমনঃ আইন প্রণয়ন, নিরাপত্তা বিধান, রাজস্ব আদায় ইত্যাদি। অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যাবলি সমূহ হলো ঐচ্ছিক কাজ।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭১৭.
‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই।’—উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. আর্নেস্ট বার্কার
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. টি এইচ গ্রিন
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭১৮.
নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে কোনটির ভূমিকা অপরিহার্য?
  1. উচ্চশিক্ষা
  2. অধিকার ভোগ
  3. কর্তব্য পালন
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
অধিকার ভোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকার ভোগ
ব্যাখ্যা

- নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার ভোগ অপরিহার্য।
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলদ্ধি করতে পারে না।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)

২,৭১৯.
সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
  2. কর্মের অধিকার
  3. চলাফেরার অধিকার
  4. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার অধিকার
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. সভা-সমিতির অধিকার।
৫. চলাফেরার অধিকার।
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার।
৯. সম্পত্তির অধিকার।
১০. ধর্মের অধিকার।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭২০.
সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের -
  1. সোপান
  2. প্রাণ
  3. চালিকাশক্তি
  4. মৌলিক গুণ
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭২১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা নয় কোনটি?
  1. ক) ব্যক্তিপূজা
  2. খ) পেশাদারিত্ব
  3. গ) স্বজনপ্রীতি
  4. ঘ) দারিদ্র্য
সঠিক উত্তর:
খ) পেশাদারিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পেশাদারিত্ব
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা হল ব্যক্তিপূজা, স্বজনপ্রীতি, দারিদ্র্য।সুশাসনের একটি উপাদান হলো পেশাদারিত্ব। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এদের প্রচুর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। পেশাদারিত্বের বৃদ্ধি পেলে প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭২২.
রাষ্ট্রের চতুর্থ কলাম বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) সামরিক বাহিনী
  2. খ) সুশীল সমাজ
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) এনজিও
সঠিক উত্তর:
গ) গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
সংবাদমাধ্যম তথা গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের অঘোষিত চতুর্থ স্তম্ভ বা কলাম বা বিভাগ বলা হয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ তথা শাসন, আইন ও বিচার বিভাগকে নজরদারির মাধ্যম এবং জনগণের সাথে সরকারের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ গণযোগাযোগ তত্ত্ব ও প্রযোগ : শায়ন্তী হায়দার ও সাইফুল সামিন)
২,৭২৩.
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কোনটি অধিকতর প্রয়োজন?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  3. দায়িত্ববোধ
  4. ধর্মীয় সহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা:
- ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বলতে বোঝায় একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্য ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য "ধর্মীয় সহিষ্ণুতা" সবচেয়ে প্রয়োজন।
- ধর্মীয় সহিষ্ণুতা মানুষের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে, যা বিভিন্ন ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।ঃ

উল্লেখ্য,
- সামাজিক সেতুবন্ধন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সহনশীলতা ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে সহায়তা করে।
- শৃঙ্খলাবোধ সমাজে নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭২৪.
ব্যক্তি জীবনে মূল্যবোধ অর্জনের সর্বোত্তম সময় কোনটি?
  1. শিশুকাল
  2. শিক্ষাজীবন
  3. চাকরিজীবন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাজীবন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭২৫.
জাতিসংঘ (UN) সুশাসন বাস্তবায়নে কয়টি মূল নীতি অনুসরণ করে?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি 
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন দ্বারা সরকারি সম্পদ ও ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন করা হয়।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

- ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ "Human Development Report" প্রকাশ করে সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
- জাতিসংঘ সুশাসন বাস্তবায়নে মোট ৮টি মূল নীতি অনুসরণ করে—
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনের শাসন (Rule of Law),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- প্রতিক্রিয়াশীলতা (Responsiveness),
- ঐক্যমত্য (Consensus Oriented),
- সাম্য ও অন্তর্ভুক্তিকরণ (Equity and Inclusiveness),
- কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency),
- জবাবদিহিতা (Accountability)।
- প্রতিটি নীতি সুশাসনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

২,৭২৬.
সুবর্ণ-মধ্যক কী?
  1. ক) একটি নক্ষত্র
  2. খ) একটি দার্শনিক ধারণা
  3. গ) গাণিতিক পরিভাষা
  4. ঘ) সমবাহু ত্রিভূজের মধ্যমা
সঠিক উত্তর:
খ) একটি দার্শনিক ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একটি দার্শনিক ধারণা
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক বা গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন। দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে। (সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
২,৭২৭.
'শিক্ষার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সাংস্কৃতিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা

• যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।
• সামাজিক অধিকারসমূহ হলোঃ
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার
৯. সম্পত্তির অধিকার
১০. ধর্মের অধিকার
১১. পরিবার গঠনের অধিকার
১২. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার
১৩. শিক্ষার অধিকার
১৪. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার ও
১৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৭২৮.
নৈতিক আচরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ -
  1. ক) স্বেচ্ছাচারিতা
  2. খ) স্বাধীনতা
  3. গ) বাধ্যবাধকতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- নৈতিকতা বিষয়ক সামাজিক চিন্তা-চেতনা যেসব অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদেরকে আমরা এককথায় নৈতিক অবধারণ বা নীতিবাক্য বলতে পারি ।
- এই সব নীতি-বাক্যগুলো ‘চুরি করা অন্যায়', “মিথ্যা বলা ভাল নয়' ইত্যাদি আকারে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করি।

• নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক হলেও এর ব্যক্তিবাদী দিকটি কিন্তু গুরুত্বহীন নয়।
- চরণের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা তথা স্বাধীনতাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে নেয়ায় নৈতিকতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্তণ তথা আত্ম-নির্দেশনাকে তার এক মৌলিক নীতি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য।
- পাশ্চাত্য নীতি-দর্শনের আদি গুরু হিসেবে পরিচিত সক্রেটিস থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কালের সকল দার্শনিক এ বিষয়ের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭২৯.
'মেরিডা কনভেনশন' নিম্নের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. জেন্ডার বৈষম্য
  3. দুর্নীতি
  4. সমস্যা সমাধানে সুশীল সমাজের উদ্যোগ
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন:
- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) বা জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন (ইউএনএসি)) হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

⇒ প্রধান পাঁচ কার্যক্রম:
i) অপরাধ প্রতিরোধ,
ii) আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষে্‌
iii) আন্তর্জাতিক সহযোগিতা,
iv) সম্পত্তি উদ্ধা্‌
v) কারিগরি সহায়তা ও তথ্য বিনিময়।

উল্লেখ্য,
- দুর্নীতি বিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ৩১ অক্টোবর ২০০৩ তারিখে জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন পাস হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
২,৭৩০.
আইনগত কর্তব্য কোনটি?
  1. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
  2. সততার সাথে ভোট প্রদান করা
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  4. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
সঠিক উত্তর:
সততার সাথে ভোট প্রদান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততার সাথে ভোট প্রদান করা
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক

২,৭৩১.
যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামতকে কী বলা হয়?
  1. প্রচারণা
  2. জনমত
  3. সিদ্ধান্ত
  4. আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমত: 
- যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে সাথে জনমতের ধারণাও বিকশিত হতে থাকে।
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল।
- গণতন্ত্র ও জনমত প্রায় সমার্থক শব্দ।
- গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন।
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনমত ও সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৩২.
সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’ হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  4. নির্বাহী বিভাগ
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’:
- সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’ হিসেবে কাজ করে স্বাধীন প্রচার মাধ্যম।
- গণমাধ্যমের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো ‘ওয়াচডগ’ বা প্রহরীর ভূমিকা পালন করা। এই ভূমিকা পালনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা রোধ করে এবং সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

⇒  সংবাদক্ষেত্রকে বলা হয় দ্য ফোর্থ এস্টেট।
- সংবাদপত্র পরিচালনায় সাংবাদিকদের স্বাধীনতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি একটা বিষয়।
- সংবাদমাধ্যম আছে গণতন্ত্র ও সুশাসনকে সমর্থন-সহযোগিতা করতে। সরকারেরও দায়িত্ব সেই লক্ষ্যেই কাজ করা।
- সরকারের ভুলত্রুটি, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চর্চাসহ বাকি সমস্ত বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করবে। 

উৎস: প্রথম আলো।

২,৭৩৩.
Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে বিভক্ত করেছেন- 
  1. ৩ ভাগে
  2. ৪ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৩৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের দায়িত্ব শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ - 
  1. বন্ধ করে দেওয়া
  2. প্রসারিত করা
  3. কমিয়ে দেওয়া
  4. খ ও গ 
সঠিক উত্তর:
প্রসারিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসারিত করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
→ সরকারের করণীয় হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগকে বিস্তৃত করা।
→ নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এই সুযোগকে বর্ধিত করতে পারে।
→ রাষ্ট্রের ভূমিকা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তখনই সহায়ক হয় যখন রাষ্ট্র স্বচ্ছতার নীতির ভিত্তিতে নাগরিকদের প্রতি তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৩৫.
কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক?
  1. ক) স্বাধীন বিচার বিভাগ
  2. খ) ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ
  3. গ) নৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাধীন বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাধীন বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বিচার বিভাগ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক।
- স্বাধীন বিচার বিভাগ না থাকায় বা বিচার বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পেলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ বিনষ্ট হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার শেষ সুযোগটুকুও হাতছাড়া হয়।   

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৩৬.
নিচে উল্লিখিত কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. World Development Report
  2. Governance and Development
  3. World Bank Annual Report
  4. Global Governance Report
সঠিক উত্তর:
Governance and Development
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Governance and Development
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।

এছাড়াও, 
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৩৭.
নীতিগত ও নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি সমাজে কী ইঙ্গিত করে?
  1. শিক্ষার অবক্ষয়
  2. আইনের অবক্ষয়
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. সুশাসনের অবক্ষয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। যেমন- ইভ-টিজিং পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় ফলে সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব দেখা দেয়।
- এটি সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব তৈরি করে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৩৮.
কত সালে ADB 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
ADB ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎবাণী।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৩৯.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) সুশাসন নিশ্চিতকরণে কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- Asian Development Bank (ADB)-এর মতে, সুশাসন নিশ্চিতকরণে ৪টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো 'Sound Development Management' বা সুষম উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। উপাদানগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• পূর্বাভাসযোগ্যতা (Predictability) এবং,
• স্বচ্ছতা (Transparency)। 

এছাড়াও,
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- International Development Association (IDA) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

২,৭৪০.
স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. ক) আইনের চোখে সকলে সমান
  2. খ) মূল্যবোধের বিকাশ
  3. গ) সদাজাগ্রত জনমত
  4. ঘ) সরকারের দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) সদাজাগ্রত জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সদাজাগ্রত জনমত
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার হলেও এটি অর্জন ও সংরক্ষণ অত্যন্ত দুরূহ কাজ।
- স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ হলো জনগণের সর্তক দৃষ্টি বা সদা জাগ্রত জনমত। 
- স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে সর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে, যেন স্বাধীনতার ওপর হুমকি না আসে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৪১.
প্লেটো কোন সদগুণের কথা উল্লেখ করেন নি?
  1. সততা
  2. ন্যায়
  3. সাহস
  4. প্রজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
সততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা
ব্যাখ্যা

⇒ প্লেটো সততার কথা উল্লেখ করেন নি।

প্লেটো সততা'র কথা উল্লেখ করেন নি।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ বা মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদগুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৪২.
”যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না” - কার অভিমত?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. জন লক
  4. মার্টিন লুথার কিং
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের অভিমত, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৭৪৩.
'The Life You Can Save' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. পিটার সিঙ্গার
  2. বেন্থাম
  3. কান্ট
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
ব্যাখ্যা
পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।
- তিনি জৈব-নৈতিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত এবং আধুনিক Animal Rights আন্দোলনের প্রবর্তক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।
- তথ্য যেখানে থেমে যায়, দর্শন সেখান থেকে শুরু হয়। এজন্য তিনি বলেন "দার্শনিকরা তাদের স্বীয় কাজে ফিরে এসেছে"।
- যেমন, তাঁর Animal Liberation গ্রন্থটির কথা বলা যাক। উপযোগবাদকে গ্রহণ না করেও এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দার্শনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
- গোটা গ্রন্থের দুই-তৃতীয়াংশ অ-মানব প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ব্যবহারিক কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World.

তথ্যসূত্র - Britannica ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
২,৭৪৪.
নিজেকে সকল প্রকার লোভ-লালসার উর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করা নাগরিকের কোন ধরনের গুণের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বুদ্ধি
  2. খ) বিবেক
  3. গ) আত্মসংযম
  4. ঘ) ন্যায়বোধ
সঠিক উত্তর:
গ) আত্মসংযম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
সুনাগরিকের প্রধানত তিনটি গুণ। যথা- বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করার নাম ই আত্মসংযম। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা- নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
২,৭৪৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় কোনটি?
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
  3. একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
সঠিক উত্তর:
একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় - একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা। 

সুশাসন:

- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৭৪৬.
নৈতিক মূল্যবােধের মূল উৎস কোনটি?
  1. ধর্ম
  2. পরিবার
  3. সমাজ
  4. নৈতিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
নৈতিক চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবােধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচারণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশুরা তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা পায়।
- সুতরাং,  নৈতিক মূল্যবােধের উৎস - নৈতিক চেতনা।
- নৈতিক চেতনা হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ নীতি, যা তাদের আচরণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলে।
- এটি ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রভাব থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যার মধ্যে ধর্ম, পরিবার এবং সমাজও অন্তর্ভুক্ত।
- তবে নৈতিক চেতনা নিজেই একটি প্রধান উৎস যা মানুষকে সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
- যদিও পরিবারের সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা পায় কিন্তু নৈতিক মূল্যবােধের মূল উৎস মানুষের নৈতিক চেতনা।
 
উল্লিখিত প্রশ্নে নৈতিক মূল্যবোধের মূল উৎস হিসেবে দেওয়া অপশন গুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো: ঘ) নৈতিক চেতনা

তথ্যসূত্র: ১) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪৭.
সহনশীলতা কোন ধরনের রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ?
  1. ক) রাজতন্ত্র
  2. খ) গণতন্ত্র
  3. গ) সমাজতন্ত্র
  4. ঘ) পুঁজিবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• সহনশীলতা:
- সহনশীলতা বা পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ।
- অপরের বা অন্য দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। অন্য ব্যক্তি ও দলকে মত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
- সহনশীল মনোভাব না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারে না।
- যে সমাজের জনগণ যত বেশি সহনশীল সে সমাজ তত বেশি গণতান্ত্রিক।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৪৮.
দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. ইতালি
  2. যুক্তরাজ্য
  3. জার্মানি 
  4. অস্ট্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

• জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ইউটিলিটারিয়ান তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন।
- বেন্থাম তার বিখ্যাত বই "An Introduction to the Principles of Morals and Legislation" (১৭৮৯)-এ
ইউটিলিটির ধারণা তুলে ধরেন।
- ইউটিলিটির নীতি: যে কাজ আনন্দ ও সুখ বৃদ্ধি করে এবং দুঃখ ও ক্ষতি হ্রাস করে, সেটি সঠিক।
- মানুষের দুটি প্রধান চালিকা শক্তি:সুখ ও দুঃখ।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য: "সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখ" নিশ্চিত করা।
- শাস্তি শুধুমাত্র তখনই ব্যবহারযোগ্য, যখন তা আরও বড় ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে।

উল্লেখ্য,
- ১৭৯২ সালে বেন্থামকে ফরাসি নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২,৭৪৯.
সুশাসনের উপাদান কোনটি?
  1. ক) অদক্ষতা
  2. খ) দুর্নীতি
  3. গ) স্বজনপ্রীতি
  4. ঘ) বিকেন্দ্রীকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিকেন্দ্রীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি হলো সুশাসনের উপাদান। এসবের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
অন্যদিকে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের পথে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক।
২,৭৫০.
নিচের কোনটি আইনগত কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রোগীর সেবা করা
  2. দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  3. নির্বাচনে ভোটদান করা
  4. শোকার্তকে সান্ত্বনা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনে ভোটদান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনে ভোটদান করা
ব্যাখ্যা

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

২,৭৫১.
রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য কিসের চর্চা প্রয়োজন?
  1. মূল্যবোধের
  2. ক্ষমতার
  3. রাজনীতির
  4. আমলাতন্ত্রের
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের
ব্যাখ্যা

- যে সমাজে বা রাষ্ট্রে সততা, ন্যায়পরায়ণতার মতো মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব। 
- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন মূল্যবোধের চর্চা। 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি, যা সততা, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত হলে সমাজে দুর্নীতি, অপরাধ ও অবক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। 
- এগুলো কার্যকর করতে হলে শাসক ও শাসিত উভয়ের মধ্যেই মূল্যবোধ থাকতে হবে। 
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজে মূল্যবোধের শিক্ষা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলেই প্রকৃত নাগরিক তৈরি হবে।
- নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম মিলেই সুশাসনকে টেকসই করতে পারে। তাই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।

সূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। 

২,৭৫২.
নৈতিক মূল্যবােধের উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. রাষ্ট্র
  3. সমাজ
  4. নৈতিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
নৈতিক চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবােধের উৎস নৈতিক চেতনা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৫৩.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  2. কর আদায় বৃদ্ধি
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়। তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৭৫৪.
নীতিবিদ্যাকে "মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান" হিসেবে কে আখ্যায়িত করেন?
  1. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  2. নিকোলাস রেসার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

• উইলিয়াম লিলি- 
তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৫৫.
“মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।” উক্তিটি কার?
  1. নিকোলাস রেসার
  2. এম. আর. উইলিয়াম
  3. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  4. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ।
- এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

এছাড়াও,
- এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”

- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।”

- নিকোলাস রেসার (Nicholas Rescher)-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয় ।"

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৫৬.
নিম্নের কোনটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য নয়?
  1. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান
  2. শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত। যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান, রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৫৭.
"আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল”- উক্তিটি বলেছেন কে?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. স্যার হেনরি মেইন
  3. জন অস্টিন
  4. এ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
স্যার হেনরি মেইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার হেনরি মেইন
ব্যাখ্যা

- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৫৮.
সুশাসনের উপাদান হিসেবে UNDP কোনটি অন্তর্ভুক্ত করেছে?
  1. সমতা
  2. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  3. প্রশাসনিক একচ্ছত্র কর্তৃত্ব
  4. রাজনৈতিক মতামত
সঠিক উত্তর:
সমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতা
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে,
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”
(Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels).

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
২,৭৫৯.
সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরমরূপ কোনটি?
  1. ক) সামাজিক বৈষম্য
  2. খ) নৈতিক অধপতন
  3. গ) সামাজিক ঐক্য
  4. ঘ) সামাজিক নৈরাজ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সামাজিক নৈরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সামাজিক নৈরাজ্য
ব্যাখ্যা

সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরমরূপ হলো সামাজিক নৈরাজ্য।
রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র যখন আর কাজ করে না এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তখনই সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
ঘুষ, নারী নির্যাতন, অপহরণ ইত্যাদি সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের উদাহরণ।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী

২,৭৬০.
‘Road to Freedom’ কে রচনা করেন?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. নেলসন ম্যান্ডেলা
  4. ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

- 'Road to Freedom'-এর রচয়িতা বার্ট্রান্ড রাসেল। 

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics” (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র:  i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৭৬১.
'ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সাংস্কৃতিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) সামাজিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক
ব্যাখ্যা

যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।
সামাজিক অধিকারসমূহ হলো-
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার
৯. সম্পত্তির অধিকার
১০. ধর্মের অধিকার
১১. পরিবার গঠনের অধিকার
১২. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার
১৩. শিক্ষার অধিকার
১৪. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার
১৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৭৬২.
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো— বুদ্ধি, আত্মসংযম এবং আর কোন গুণ?
  1. বিবেক 
  2. প্রজ্ঞা
  3. নিষ্ঠা
  4. জ্ঞান
সঠিক উত্তর:
বিবেক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক 
ব্যাখ্যা

সুনাগরিক:
- সুনাগরিক ছাড়া সমাজ সুন্দর ও সার্থক হতে পারে না।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।
-  অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইটের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো− জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১ এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৬৩.
'দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. অর্থনৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।

যেমন:-
দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার।
→ প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া।
→ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

- নৈতিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত নয়। এ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে না।
- Dictionary of Social Science গ্রন্থে বলা হয়েছে, “নৈতিক অধিকার মানুষের নৈতিক অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলো কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুরক্ষিত নয় ।” (Moral rights which are dependent on the ethical feelings of man and they are not guaranteed by any legal authority.)

তথ্যসূত্র: পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
২,৭৬৪.
‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ম্যাকাইভার
  2. অ্যালান বল
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. হ্যারল্ড লাসওয়েল
সঠিক উত্তর:
অ্যালান বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালান বল
ব্যাখ্যা
• অ্যালান বল:
→ রাজনৈতিক পদ্ধতির ঐক্যবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
→ অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) তাঁর Comparative Politics and Government নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilising the political process” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৬৫.
আইন কী?
  1. প্রথা ও নিয়ম
  2. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বিধিবিধান
  3. প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাস
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বিধিবিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বিধিবিধান
ব্যাখ্যা
আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বিধিবিধান।

আইন:

- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা।

⇒ আইন সভা:
- আইন সভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। আধুনিক রাষ্ট্র সাধারণত জন কল্যাণে নিয়োজিত থাকে। ফলে সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। তাই আইন সভার সদস্যগণ জন কল্যাণে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে নতুন নতুন অনেক বিষয়কে আইনে রুপান্তর করার জন্য তা বিল (আইনের খসড়া) আকারে আইনসভায় উত্থাপন করে থাকে। বিষয়টি যদি সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামত প্রাপ্ত হয় তবে তা আইনে পরিণত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৬৬.
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে শাসনকার্য পরিচালনা হচ্ছে -
  1. কুশাসন
  2. সুশাসন
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. রাজনেতিক ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
- ম্যাক করণী বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, সুশাসন সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে সামাজিক নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।"
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৭৬৭.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন?
  1. সুশাসন ছাড়া মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
  2. মূল্যবোধ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
  3. মূল্যবোধ ও সুশাসন একে অপরের জন্য নিরপেক্ষ।
  4. সুশাসনের জন্য আইনই যথেষ্ট, মূল্যবোধের প্রয়োজন নেই।
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন হলো একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য শাসন ব্যবস্থা, যা নীতি, ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নৈতিক আদর্শ এবং নীতি, যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং পরস্পরকে সমর্থন করে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য, কারণ এটি শাসক ও জনগণের আচরণকে নৈতিকতার দিকে পরিচালিত করে।
- সুশাসন তখনই কার্যকরী হতে পারে, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয়।
- সুশাসন এবং মূল্যবোধ একে অপরকে শক্তিশালী করে, যা সমাজের সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৬৮.
নিচের কোনটি নৈতিক অধিকারের বৈশিষ্ট্য?
  1. সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত
  2. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত
  3. আইনগত ভিত্তি নেই
  4. ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে
সঠিক উত্তর:
আইনগত ভিত্তি নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত ভিত্তি নেই
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা-
(১) নৈতিক অধিকার ও 
(২) আইনগত অধিকার।

নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৬৯.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, আইন মান্য করার কারণ- 
  1. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
  2. শাস্তির ভয়
  3. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।
- লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
- যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
- অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
- নির্লিপ্ততা;
- সহানুভূতি;
- শাস্তির ভয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৭০.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আপেক্ষিকতা
  2. আইনের শাসন
  3. নাগরিক সচেতনতা
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিকতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত-  আপেক্ষিকতা।

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে:

- সামাজিক মাপকাঠি
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন
- বিভিন্নতা
- নৈতিক প্রাধান্য
- আপেক্ষিকতা, ইত্যাদি।

⇒ মূল্যবোধের উপাদান :
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা এবং
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৭৭১.
নৈরাজ্যবাদের মূল কথা কী?
  1. ক) রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই
  2. খ) রাষ্ট্র ও সরকার অপরিহার্য
  3. গ) ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান
  4. ঘ) রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করতে হবে
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
- নৈরাজ্যবাদের মূলকথা হচ্ছে, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই।
- নৈরাজ্যবাদীদের মতে রাষ্ট্র ও সরকার নিপীড়নের যন্ত্র মাত্র। তারা মনে করেন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে হবে।
- রাষ্ট্র যখন থাকবে না তখন একটি সংঘ সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। সংঘের কাজ হবে চুক্তি বাস্তবায়ন করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা।
- গডউইন, প্র“ধোঁ, প্রিন্স ক্রপটকিন, টলষ্টয় প্রমুখ নৈরাজ্যবাদের সমর্থক।
- ক্রপটকিনের মতে, “কোন আইন কিংবা কোন সরকার থাকবে না।” 
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি , এইচ এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৭২.
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি কার?
  1. United Nations
  2. Asian Development bank
  3. World bank
  4. UNDP
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এটি কার অভিমত? → বিশ্বব্যাংক।
→ “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি কার? → UNDP.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৭৩.
জিরোসাম গেম (Zero-Sum game) আর্ন্তজাতিক সম্পর্কে কোন তত্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ?
  1. ক) বাস্তববাদ
  2. খ) মার্স্কবাদ
  3. গ) গঠনবাদ
  4. ঘ) উদারতাবাদ
সঠিক উত্তর:
ক) বাস্তববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
জিরো সাম গেম (Zero Sum Game) হচ্ছে বিখ্যাত ‘গেম থিওরি’র একটা অংশ। 
এটা দিয়ে বোঝায় যেকোনো ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক পক্ষ কোনো নির্দিষ্ট জিনিস পেতে চাইলে, এক পক্ষ যে পরিমাণ সম্পদ অর্জন করবে, অন্য পক্ষ ঠিক সে পরিমাণ সম্পদ হারাবে। এতে নিট ফলাফল শূন্য হবে।
 
জিরো সাম গেমের বৈশিষ্ট্য:
১। এ ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় যোগান সব সময়ই কম থাকবে।
২। সম্পদের পরিমাণ একই থাকবে। কোনো কিছুর সংযোজন বা বিয়োজন ঘটবে না।
৩। সব পক্ষের জন্যই সম্পদের নেট পরিবর্তন হবে শূন্য।  
 
=====
উদারতাবাদ (Liberalism) হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন। এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস। উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

বাস্তববাদ” (Realism) - অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল। মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
 
অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
২,৭৭৪.
বিশ্বব্যাংক কত সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৭৫.
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি গৃহীত হয়?
  1. ৩১ জানুয়ারি ২০০৩
  2. ৩১ অক্টোবর ২০০৬
  3. ৩১ অক্টোবর ২০০৩
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮
সঠিক উত্তর:
৩১ অক্টোবর ২০০৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ অক্টোবর ২০০৩
ব্যাখ্যা

◉ ৩১ অক্টোবর ২০০৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি গৃহীত হয়।
- উপরের অন্যান্য অপশন গুলো যুক্তিযুক্ত নয়।
- সুতরাং সঠিক ‍ উত্তর: ৩১ অক্টোবর ২০০৩ সালে।

UNCAC:

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

২,৭৭৬.
বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. নৈতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক অধিকার (Political Rights):
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে থাকে তাকেই রাজনৈতিক অধিকার বলে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃত।

রাজনৈতিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
→ স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার। 
→ নির্বাচনের অধিকার। 
→ আবেদন করার অধিকার।
→ সরকারি চাকরি লাভের অধিকার।
→ বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার।
→ সরকারের সমালোচনা করার অধিকার।
→ ভোট প্রধানের অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৭৭.
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) সামাজিক অধিকার
  3. গ) সাংস্কৃতিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
২,৭৭৮.
ইউনেস্কো সুশাসনের উপাদান গুলোর কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদান গুলোর পাশাপাশি কোনটির উল্লেখ করেছেন?
  1. বৈধতা এবং মানবাধিকার
  2. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
  3. আইনের শাসন এবং সাম্য
  4. সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

সুশাসন: 
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি, ও নাগরিকতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৭৯.
নিচের কোনটি নাগরিকের 'আইনগত কর্তব্য' নয়?
  1. মহামারীতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  2. নির্বাচনে ভোটদান করা
  3. আইন মেনে চলা
  4. নিয়মিত কর প্রদান করা
সঠিক উত্তর:
মহামারীতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহামারীতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮০.
সমাজ বা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে কোনটির অভাব দেখা দেয়?
  1. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ
  2. ব্যক্তি নিরাপত্তা
  3. ব্যক্তিগত মতামত
  4. ব্যক্তি সচেতনতা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি নিরাপত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি নিরাপত্তা
ব্যাখ্যা
শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজ বা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়।
- এর ফলে রাষ্ট্রের অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৮১.
সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল-
  1. ক) আন্তর্জাতিক আইন
  2. খ) বেসরকারি আইন
  3. গ) প্রশাসনিক আইন
  4. ঘ) সরকারি আইন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরকারি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরকারি আইন
ব্যাখ্যা
- আইন মানব সমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষ সামাজিক জীব। 
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়ঃ (১) সরকারি আইন (২) বেসরকারি আইন (৩) আন্তর্জাতিক আইন
(১) সরকারি আইন : সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে। 
২. বেসরকারি আইন : এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।
৩. আন্তর্জাতিক আইন : আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৭৮২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তিভূমি গড়ে ওঠে নাগরিকের কোন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে?
  1. ক) সামাজিক দায়িত্ব
  2. খ) রাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য
  3. গ) আইন মান্য করা
  4. ঘ) সৎ যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক দায়িত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়া ইত্যাদির কাজের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের দায়িত্ব পালন করেন যার ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তিভূমি গড়ে ওঠে। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৮৩.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. শিক্ষা
  2. সুশাসন
  3. আইন
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৮৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি আবশ্যক নয়?
  1. দায়বদ্ধতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. পরমত সহিষ্ণুতা
  4. স্বৈরাচারী মনোভাব
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচারী মনোভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচারী মনোভাব
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
• পরমত সহিষ্ণুতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• স্বচ্ছতা:
- রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

• আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

• ন্যায়পরায়ণতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

• সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

দায়বদ্ধতা:
- নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮৫.
সক্রেটিসের মতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হল -
  1. ক) নিজেকে জানা
  2. খ) মনের উন্নতি
  3. গ) আত্মার বিকাশ
  4. ঘ) সত্যের আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যের আবিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যের আবিষ্কার
ব্যাখ্যা
শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষীর বক্তব্য:
বহুকাল ধরে দার্শনিকগণ শিক্ষা সম্বন্ধে তাঁদের চিন্তাধারা বা মতবাদ প্রকাশ করে আসছেন। কিন্তু অদ্যাবধি শিক্ষার কোন সার্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়নি। শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও দার্শনিক-শিক্ষা চিন্তাবিদদের মধ্যে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে।

- গ্রীক দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ সক্রেটিসের মতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হল ‘সত্যের আবিষ্কার ও মিথ্যার
অপনোদন।'

- দার্শনিক প্লেটো বলেছেন, ‘মনের ও দেহের পরিপূর্ণ উন্নতি ও বিকাশ সাধনের জন্যে প্রয়োজনীয় সবকিছুই শিক্ষার উদ্দেশ্য বলে পরিগণিত।'
 
-  এরিস্টটল অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ‘ধর্মীয় অনুশাসনের অনুমোদিত
কার্যকলাপের মাধ্যমে সুখ আহরণই শিক্ষার উদ্দেশ্য।'

- চিন্তাবিদ জন লক অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেছেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সুস্থ দেহে সুস্থ মন
প্রতিপালনের নীতিমালা আয়ত্তকরণ।'

- শিক্ষা-চিন্তাবিদ হার্বার্ট মনে করেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে শিশুর মধ্যে সুকায়িত সম্ভাবনা ও অনুরাগের পূর্ণ বিকাশ এবং তার নৈতিক চরিত্রের কাঙ্ক্ষিত আত্মপ্ৰকাশ ৷’

- শিশু শিক্ষাবিদ ফ্রোয়েবেল মন্তব্য করেছেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে একটি সুন্দর, বিশ্বাসযোগ্য ও পবিত্র
জীবনের উপলব্ধি।'

- শিক্ষাবিদ পার্কারের মতে, একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সমাজে আত্মপ্রকাশের জন্যে যে সমস্ত গুণ নিয়ে শিক্ষার্থী পৃথিবীতে এসেছে, শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সে সকল গুণের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন ।
 
উৎস: বিএ /বিএসএস প্রোগ্রম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৭৮৬.
"মানুষের প্রকৃত সত্ত্বা রাজনেতিক নয় বরং সামাজিক" উক্তিটি কার?
  1. কার্ল মার্কস
  2. জে জ্যাক রুশো
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
কার্ল মার্কস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা
- মার্কস রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে ভিন্নধর্মী মতবাদ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর মতে সমাজ ও রাষ্ট্র এক নয়; আর উভয়ের
উৎপত্তিও সম্পূর্ণ ভিন্ন।
- মার্কস মনে করেন যে, সমাজ একটি স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান কিন্তু রাষ্ট্র তা নয় ।
- তার মতে ,  "মানুষের প্রকৃত সত্ত্বা রাজনেতিক নয় বরং সামাজিক"।
- মানুষ রাজনৈতিক জীব নয় বরং যে সব সামাজিক শক্তি মানুষকে দ্বন্দ্ব- সংঘাতে লিপ্ত করতো তা রাজনৈতিক ক্ষমতার ও রাষ্ট্রের অধীনস্থ হয়।

- রাষ্ট্র কোন নৈতিক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি হয় নি বরং তা পুঁজিপতি শ্রেণী কর্তৃক সমাজের অপরাপর শ্রেণী বিশেষ করে বিত্তহীন শ্রেণীর উপর শ্রেণী শোষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- মার্কস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, উৎপাদনের শক্তিগুলো অর্থাৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক অন্যান্য সকল সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান , এস এস এইচ এল , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮৭.
প্লেটো সদগুণ বলতে নিচের কোনটিকে বোঝান নি?
  1. প্রজ্ঞা
  2. সুখ
  3. সাহস
  4. ন্যায়
সঠিক উত্তর:
সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখ
ব্যাখ্যা
সদগুণ:
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার বা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮৮.
কর্তব্যের নৈতিকতা বা ক্যান্টিয়ান এথিক্স-এর প্রবক্তা কে? 
  1. এডওয়ার্ড উইলসন
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. হ্যারল্ড উইলসন
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

কর্তব্যের নৈতিকতা:
- কর্তব্যের নৈতিকতা ধারণা প্রবর্তন করেন জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট। 
- তিনি তার নীতি “কর্তব্যের জন্য কর্তব্য” (Duty for Duty’s Sake)–এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন;
- যেখানে কোনো কাজ নৈতিক কি না তা কাজের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না;
- বরং কাজটি করা উচিত কর্তব্যের তাগিদে।
- এ ধরনের নৈতিকতাকে কান্টিয়ান নীতিশাস্ত্র বলা হয়।

- কান্টের মূল নীতি হলো শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative)। 
- এই আদেশ নির্দেশ করে যে মানুষের কাজের নৈতিকতা নির্ধারণ হয় কাজের উদ্দেশ্য এবং সার্বজনীন নৈতিক আইন মেনে চলার ওপর, আবেগ বা সুখের ওপর নয়।
- তিনি নৈতিকতাকে যুক্তি এবং “সদিচ্ছা” (Good Will)-এর ওপর প্রতিষ্ঠা করেন।
- কান্টের দর্শন রেশনালিজম (বুদ্ধিবাদ) ও অভিজ্ঞতাবাদ (Empiricism)-এর এক অনন্য সংমিশ্রণ।
- এখানে তিনি মানুষের স্বায়ত্তশাসন, যুক্তি এবং নৈতিক আইন মেনে চলাকে প্রাধান্য দেন।

- তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ হলো:
- Critique of Pure Reason,
- Critique of Practical Reason,
- Critique of Judgment.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২,৭৮৯.
সুশাসনের প্রেক্ষিতে দার্শনিক রাজাকে আদর্শ শাসক হিসেবে অভিহিত করেছেন কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলী
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেটো
ব্যাখ্যা

- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রাচীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

২,৭৯০.
ভদ্রবেশী অপরাধ কোনটি? 
  1. ছিনতাই
  2. দুর্নীতি
  3. মাদকাসক্তি
  4. নারী নির্যাতন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

• অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৭৯১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
  2. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. দক্ষ ও কার্যকর সরকার প্রতিষ্ঠা
  4. একক রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রবর্তন
সঠিক উত্তর:
একক রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
- একটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয়। একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। 

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে নিম্নলখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে: 
১. সংবিধানে মৈলিক অধিকারের সন্নিবেশ,  
২. মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
৩. শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান, 
৪. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, 
৫. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন, 
৬. দক্ষ ও কার্যকর সরকার, 
৭. জনসম্মতি, 
৮. একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি প্রভৃতি। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৯২.
বিশ্বব্যাংক কত সালে প্রকাশনার মধ্য দিয়ে গভর্নেন্সকে সংজ্ঞায়িত করেছে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৪ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে 'Governance and Development' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

⇒ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৭৯৩.
নৈতিকতা কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. সামাজিক নিয়মের সমষ্টি
  2. মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
  3. মানুষের বাহ্যিক আচরণের সমষ্টি
  4. অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নীতি
সঠিক উত্তর:
মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৯৪.
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য মতবাদ -
  1. বিবর্তনমূলক মতবাদ
  2. সামাজিক চুক্তি মতবাদ
  3. ঐশ্বরিক মতবাদ
  4. বল প্রয়োগ মতবাদ
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনমূলক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনমূলক মতবাদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উৎপত্তি:
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- সমাজ জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র গঠন করে।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান।

⇒ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদ ও প্রবক্তা:
১. ঐশ্বরিক মতবাদ:
- প্রবক্তা: সেন্ট অগাস্টিন।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বা পুরনো মতবাদ হলো ঐশ্বরিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূল কথা হলো- বিধাতাই রাষ্ট্রের সৃষ্টিকর্তা।
- রাজা বা শাসক, সৃষ্টি কর্তার প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
- শাসক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়।
- শাসকের মনোনয়ন কিংবা বিনাশ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়।
- তবে শাসক ঈশ্বরের কাছে দায়বদ্ধ।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
- বল প্রয়োগ মতবাদের মূল কথা হলো, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।
- অধিক শক্তিশালী গোত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল গোত্রকে পরাজিত করে।
- পরবর্তীতে পরাজিত গোত্রের ওপর আইন কানুন চাপিয়ে আনুগত্য আদায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করা হয়।
- এই মতবাদ অনুযায়ী শক্তিই হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ পরম শান্তিতে বসবাস করত।
- তারা প্রাকৃতিক আইন মেনে চলত।
- কিন্তু কালক্রমে সমাজে সম্মত্তির ধারণা বিস্তার লাভ করায় প্রাকৃতিক আইন নিয়ে মতভেদের কারণে সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয়।
- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসক কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে।

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ;
- আধুনিক, যক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি কোন আকস্মিক ঘটনা নয়।
- ঐতিহাসিক বিবর্তনের পথে নানা উপাদানের প্রভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
- বিবর্তনবাদকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, যুক্তিযুক্ত ও সর্বজন গ্রাহ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
- সুতরাং রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদই বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক মতবাদ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৯৫.
নিম্নলিখিত কোন মূল্যবোধ অতীতে ছিল কিন্তু এখন নেই?
  1. স্কুল শিক্ষার গুরুত্ব
  2. মানবাধিকারের স্বীকৃতি
  3. সতীদাহ প্রথা
  4. স্বাস্থ্য সচেতনতা
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথা
ব্যাখ্যা

আধুনিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে বোঝায় এমনসব নীতি ও মানদণ্ড যা ব্যক্তির স্বাধীনতা, যুক্তি, বিজ্ঞান, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, সহনশীলতা, ও প্রগতিকে গুরুত্ব দেয়; যা প্রথাগত ধারণার বদলে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়, যেখানে আইন ও নাগরিক সচেতনতা, শ্রমের মর্যাদা, এবং নৈতিকতা আধুনিক জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই। মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৭৯৬.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল” উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকিয়াভ্যালি
  2. জন লক
  3. লাস্কি
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- জাঁ জ্যাক রুশো (Rousseau) বলেছেন যে, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, “যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে”।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৯৭.
মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার হয় কীসের দ্বারা?
  1. পেশিশক্তির দ্বারা
  2. টাকা পয়সার দ্বারা
  3. বংশ মর্যাদার দ্বারা
  4. ইচ্ছা ও ঔচিত্যবোধের মাপকাঠি দ্বারা
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা ও ঔচিত্যবোধের মাপকাঠি দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা ও ঔচিত্যবোধের মাপকাঠি দ্বারা
ব্যাখ্যা
মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার হয় ইচ্ছা ও ঔচিত্যবোধের মাপকাঠি দ্বারা।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

⇒ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৭৯৮.
‘Golden Mean’ ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবর্তক। 
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
২,৭৯৯.
'Virtue is knowledge' কে বলেছেন?
  1. ম্যুর
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- এটি ল্যাটিন শব্দ 'Moralitas' থেকে এসেছে যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance) ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৮০০.
কোনটি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সাদৃশ্য নির্দেশ করে?
  1. উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
  2. উভয়ই কেবল ব্যক্তিগত
  3. উভয়ই অপরিবর্তনীয়
  4. উভয়ই ধর্মনির্ভর
সঠিক উত্তর:
উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
- নৈতিকতা ব্যক্তির সদ গুণ বিশেষ।
- নৈতিকতা সার্বজনীন। 
- নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- নৈতিকতা ধর্ম নিরপেক্ষ। 
- নৈতিকতা এক ধরনের শক্তি ও আদর্শ। 
- নৈতিকতা ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ সামষ্টিক বিষয়। 
- মূল্যবোধ মানুষের অবশ্য পালনীয় আচরণ। 
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক। 
- মূল্যবোধ ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। 
- মূল্যবোধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার। 
- মূল্যবোধ শুধু বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।