বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২০ / ৩৯ · ১,৯০১২,০০০ / ৩,৮২৯

১,৯০১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন কেন?
  1. ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
  2. গণতন্ত্রের চর্চা করার জন্য
  3. দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য
  4. ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানোর জন্য
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৯০২.
নিম্নের কোন দার্শনিক রাষ্ট্র সম্পর্কিত 'সামাজিক চুক্তি মতবাদ'-এর প্রবক্তা নন?
  1. জ্যাঁ জ্যাক রুশো
  2. ডেভিড হিউম
  3. জন লক
  4. থমাস হবস
সঠিক উত্তর:
ডেভিড হিউম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেভিড হিউম
ব্যাখ্যা
ডেভিড হিউম রাষ্ট্র সম্পর্কিত 'সামাজিক চুক্তি মতবাদ'-এর প্রবক্তা নন। তিনি বল প্রয়োগ মতবাদ-এর প্রবক্তা। 

সামাজিক চুক্তি মতবাদ:

- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- রাষ্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি জনগনের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে।
- এ মতবাদে বলা হয়, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে “প্রকৃতির রাজ্যে" প্রকৃতির আইন অনুযায়ী মানুষ জীবন-যাপন করত।
- কেউ প্রকৃতির রাজ্যের নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তি দেয়ার কোন কর্তৃপক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মানুষ পরস্পর স্বেচ্ছায় চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে।
- কিন্তু কালক্রমে সমাজে সম্মত্তির ধারণা বিস্তার লাভ করায় প্রাকৃতিক আইন নিয়ে মতভেদের কারণে সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয়।
- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসক কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে।

⇒ সামাজিক চুক্তির বিষয়টি টমাস হবস, জন লক ও জাঁ জ্যাক রুশো ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
• টমাস হবস (Thomas Hobbes): হবস সপ্তদশ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক। ইংল্যান্ডের সপ্তদশ শতকের গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে 'লেভিয়াথান' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থে তিনি রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করে।

• জন লক (John Locke): লক ছিলেন একজন ইংরেজ দার্শনিক এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের সমর্থক। তিনি 'টু ট্রিটিস অন সিভিল গভর্নমেন্ট' নামক গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করেন।

• জাঁ জ্যাক রুশো (Jean Jacques Rousseau): রুশো ফরাসি দার্শনিক। তিনি 'দি সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট' নামক গ্রন্থে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনায় সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করেন। 

অন্যদিকে,
⇒ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদ ও প্রবক্তা:
১. ঐশ্বরিক মতবাদ:
- প্রবক্তা: সেন্ট অগাস্টিন।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ;
- আধুনিক, যক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৩.
'পছন্দমত পেশা নির্বাচন' কোন প্রকার সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
'পছন্দমত পেশা নির্বাচন' অর্থনৈতিক সাম্য।

সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯০৪.
নিম্নের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতি নয়?
  1. যন্ত্রপাতি
  2. সাহিত্য
  3. তৈজসপত্র
  4. পোষাক
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি: 
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম। 

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৫.
'দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. নৈতিক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।

যেমন:-
দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার।
→ প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া।
→ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১,৯০৬.
নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে যে মূল্যবোধ বিবেচনা করা হয় তাকে কী বলে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. বাহ্যিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে যে মূল্যবোধ বিবেচনা করা হয় তাকে বলে নৈতিক মূল্যবোধ।

নৈতিক মূল্যবোধ:

- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৭.
দুর্নীতি কমাতে দরকার -
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
 দুর্নীতি কমাতে দরকার - স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন। 

• সুশাসন:

 - যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- দুর্নীতি কমাতে দরকার - স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন
- দুর্নীতি কমাতে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/সংস্থা সুশাসনের উপাদান সর্ম্পকে অভিমত ব্যাক্ত করেন। যথা:

• সুশাসনের উপাদান:
- বিশ্বব্যাংক: ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো: সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।

- ইউএনডিপি সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৮.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে?
  1. ক) আইনের শাসনের অভাব
  2. খ) স্বজনপ্রীতি
  3. গ) দারিদ্র্য
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে -
• বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
• সহিংসতা,
• জবাবদিহিতার অভাব,
• আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
• আইনের শাসনের অভাব,
• সরকারের অদক্ষতা,
• দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
• রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
• পরমতসহিষ্ণুতার অভাব,
• ব্যক্তিপূজা,
• সামরিক হস্তক্ষেপ,
• স্বজনপ্রীতি,
• বিচার বিভাগের পরাধীনতা,
• জনঅংশগ্রণের অভাব,
• অকার্যকর জাতীয় সংসদ,
• দারিদ্র্য,
• স্থানীয় সরকার কাঠামোর দুর্বলতা,
• জনসচেতনতার অভাব,
• সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব,
• সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯০৯.
কার মতে সাম্যের ৩টি বিশেষ দিক রয়েছে?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. জন অস্টিন
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক লাস্কি
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ৩টি বিশেষ দিক রয়েছে।
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি, 
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি, 
৩. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৯১০.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য-এর মতানুসারে, কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়? 
  1. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
  2. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  3. আইনের শাসন 
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় -মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

• সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

⇒ প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং,
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,৯১১.
মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের ধারণা জাগ্রত করে কোনটি?
  1. ক) অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের ধারণা জাগ্রত করে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, ও সুন্দরের ধারনা জাগ্রত করে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ ন্যায়বোধ, নীতি ও ঔচিত্যবোধ হতে উৎসারিত।
- মূল্যবোধের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
- মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
- এটি মানুষের বিবেক বোধের সাথে সম্পৃক্ত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১,৯১২.
নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে 'উপযোগবাদ' কীসের উপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. ব্যক্তিগত আচরণ
  2. সর্বোচ্চ সুখের পরিমাণ
  3. কর্তব্যের নীতি
  4. ধর্মীয় বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ সুখের পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ সুখের পরিমাণ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৯১৩.
সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. স্বৈরাচার
  2. গোপনীয়তা
  3. দমন-পীড়ন
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

◉ সুশাসনের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা অন্যতম। এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি ।   

সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।

নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯১৪.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন কার্যকর হয় -
  1. ক) ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৪
  2. খ) ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৪
  3. গ) ১১ জুলাই, ২০০৪
  4. ঘ) ৯ই মে, ২০০৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯ই মে, ২০০৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯ই মে, ২০০৪
ব্যাখ্যা
২০০৪ সালের ৯ই মে থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন কার্যকর হয়। 
২০০৪ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি মহামাণ্য রাষ্ট্রপতি এ আইনে সম্মতি প্রদান করেন। 
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সালের ২৯শে মার্চ উক্ত আইনের ৩৪ - এ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদনক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা - ২০০৭ এর প্রজ্ঞাপন জারি করে।
 
উৎস: ti-bangladesh.org
১,৯১৫.
“প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি কার?
  1. ল্যান্ডেল মিল
  2. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  3. রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. মারটিন মিনোগ
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। উক্তিটি করেন - ল্যান্ডেল মিল।
→ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ - উক্তিটি করেছেন - রিচার্ড ক্রসম্যান।
→ “প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি করে - অধ্যাপক ম্যাকাইভার।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯১৬.
আধুনিকালে আইনের প্রধানতম উৎস হচ্ছে -
  1. ক) সংবিধান
  2. খ) প্রশাসনিক ঘোষণা
  3. গ) আইন পরিষদ
  4. ঘ) আদালতের সিদ্ধান্ত
সঠিক উত্তর:
গ) আইন পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইন পরিষদ
ব্যাখ্যা
⇨ আধুনিকালে আইনের প্রধানতম উৎস হচ্ছে আইন পরিষদ। 
⇨ আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে। 
⇨ আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইনের এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে আইন পরিষদ কর্তৃক প্রণীত আইন। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৯১৭.
বাংলাদেশে ন্যায়পাল আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
- ন্যায়পাল হচ্ছে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করতে পারেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান রয়েছে।
- সেই বিধান অনুসারে ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এ যাবৎ কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১,৯১৮.
কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থাকে সুশাসনের উপযোগী হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ক) গণতান্ত্রিক সরকার
  2. খ) একনায়ক্তান্ত্রিক সরকার
  3. গ) সমাজতান্ত্রিক সরকার
  4. ঘ) রাজতান্ত্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক সরকার
ব্যাখ্যা
- সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
- সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ।
- আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব।
- তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

সূত্র- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৯১৯.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পলিসি রিভিউ
  2. ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট
  3. ডেমোক্রেসি অ্যান্ড গভর্নেন্স রিপোর্ট
  4. গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
সঠিক উত্তর:
গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে। (Governance and development)
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২০.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. আইনের শাসন
  2. জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
  3. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  4. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
সঠিক উত্তর:
জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
ব্যাখ্যা
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের 'জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা' উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি।

সুশাসনের উপাদান:

- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং, 
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,৯২১.
আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Administration
  2. Bureaucracy 
  3. Governance
  4. Secretariat
সঠিক উত্তর:
Bureaucracy 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bureaucracy 
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

অন্যদিকে,
- Administration মানে প্রশাসন বা কোনো সংস্থা/সরকারের কাজ পরিচালনা।
- Governance মানে শাসন বা পরিচালনা।
- Secretariat মানে সচিবালয় বা প্রশাসনিক দপ্তর।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯২২.
'Marriage and Morals' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল: 
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে, ১৮৭২ – ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, এবং সমাজ চিন্তাবিদ।
- তাঁর সমাজসচেতন লেখনী এবং কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। 

তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy,
- The Conquest of Happiness,
- Religion and Science,
- The Principles of Mathematics,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Philosophical Essays,
- Political Ideals,
- Principles of Social Reconstruction,
- The Analysis of Matter and
- Logic and knowledge.

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১,৯২৩.
উৎপত্তিগত অর্থে "Governance" শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. হিব্রু
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা

• Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
এর অর্থ - শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।

According to Oxford Dictionary:
Middle English: from Old French, from governer, from Latin gubernare ‘to steer, rule’, from Greek kubernan ‘to steer’.
মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

উল্লেখ্য,
উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষার শব্দ kubernao থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।
------------------
Good Governance শব্দটির অর্থ - কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৯২৪.
সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে -
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• সুতরাং, মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯২৫.
কোনটি মানবীয় গুণ?
  1. ক) শৃঙ্খলাবোধ
  2. খ) আত্মসংযম
  3. গ) সহমর্মিতা
  4. ঘ) সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) সহমর্মিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
• সহমর্মিতা: সহমর্মিতা একটি মানবীয় গুণ।
- সহমর্মিতার অনুভূতি একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে আপন করে এবং মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করে।
‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'—সহমর্মিতার এই অনুভূতিই গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯২৬.
ইমানুয়েল কান্ট নৈতিক জীবন যাপনে কয় ধরনের আদেশের কথা উল্লেখ করেন?
  1. তিন
  2. দুই
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
• নৈতিক নীতি শর্তহীন আদেশ:
-  নৈতিকতার আকার সর্ম্পকে কান্টের বক্তব্য বেশ স্পষ্টভাবেই বুঝা যায়।
- এটা একটা অত্যন্ত নৈর্ব্যক্তিক নীতি যাকে তিনি শর্তহীন আদেশ নাম দিয়েছেন।
- এটা আদেশ এই জন্য যে, নৈতিক জীবন যাপন করতে হলে একে মানতেই হবে।
- কিন্তু এ শর্তহীন কেন?
• এর উত্তরে কান্ট তিন ধরনের আদেশের কথা উল্লেখ করেন যা হচ্ছে: 
-  শর্তযুক্ত আদেশ
- বিবৃতিমূলক আদেশ ও
-  শর্তহীন আদেশ।

• কান্টের মতে শর্তযুক্ত আদেশ হচ্ছে তাই যা কোন একটা বিশেষ দলের লোকের ক্ষেত্রে খাটে যাঁরা কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে কোন বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে চলেন। স্থাপত্যের নীতিসমূহ এই ধরনের। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এসএসএইচএল Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২৭.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা নয়?
  1. ক) নিরক্ষরতা
  2. খ) বাল্যবিবাহ
  3. গ) বিদ্যুৎ সংকট
  4. ঘ) যৌতুক প্রথা
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যুৎ সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যুৎ সংকট
ব্যাখ্যা
সামাজিক সমস্যা হলো এমন একটি অবস্থা যা মানুষের স্বাভাবিক ও বাঞ্চিত জীবন-যাপন ও সমাজের অগ্রগতির পথে বাঁধা সৃষ্টি করে।
দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্ততা, কিশোর অপরাধ প্রভৃতি আমাদের সমাজের কতগুলো সামাজিক সমস্যা।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,৯২৮.
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) বিপুল সম্পদের মালিকানা
  2. খ) খেয়াল খুশিমত খরচ করার সামর্থ্য
  3. গ) অধিক অর্থের মালিকানা
  4. ঘ) অভাব হতে মুক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভাব হতে মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভাব হতে মুক্তি
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিকজী বিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।
- " অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২৯.
'ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম' ও 'ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া' কোন ধরনের মূল্যবোধ
  1. সামাজিক
  2. ধর্মীয়
  3. আধ্যাত্মিক
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
• ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।
- সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১,৯৩০.
অনুন্নত বিশ্বে আমলারা নিজেদেরকে কী মনে করেন?
  1. ক) জনগণের প্রভু
  2. খ) জনগণের সেবক
  3. গ) জনগণের বন্ধু
  4. ঘ) জনগণের রক্ষক
সঠিক উত্তর:
ক) জনগণের প্রভু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জনগণের প্রভু
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ।
- আমলা বা সিভিল সাভের্ন্ট ছাড়া কোনো দেশে  পক্ষেই সরকার পরিচালনা করা সম্ভন নয়।
- আমল আরবি শাব্দ। এর অর্থ আদেশ পালন ও বাস্তাবায়ন।
- শব্দগতভাবে তাই যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারের আদেশ পালন ও বাস্তাবায়ন করে তাদেরকে আমল বলে।
- আমলাদেরে সংগঠনকে বলে আমলাতন্ত্র।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy
- অনুন্নত বিশ্বে আমলাগণ নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে জনগণের প্রভু মনে করেন।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯৩১.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা কে?
  1. এরিস্টটল
  2. চার্লস মন্টেস্কু
  3. জন লক
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩২.
সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজ কী অর্জন করতে পারে?
  1. রাজনৈতিক বৈষম্য
  2. ব্যক্তিগত উন্নতি
  3. কাঙ্খিত লক্ষ্য
  4. অকল্যাণকর পরিবেশ
সঠিক উত্তর:
কাঙ্খিত লক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঙ্খিত লক্ষ্য
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসনকে একক কোনো ধারণা দিয়ে সংজ্ঞায়িত বা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- সুশাসন হলো সরকারের এমন এক ব্যবস্থা যার লক্ষ্য রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক ও উন্মুক্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
- সেই সাথে কার্যকরি ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং প্রতিনিধিত্বকারী দায়িত্বশীল সরকারি কাঠামোকে ক্রিয়াশীল করা।
- সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
- অর্থাৎ, যেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত, বাক স্বাধীনতা থাকে, সেই শাসনকে সুশাসন বলা যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের যৌথ ফলাফল কোনটি?
  1. দুর্নীতিযুক্ত সমাজ
  2. ন্যায়বিচারহীন সমাজ
  3. নিপীড়নমূলক প্রশাসন
  4. জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, কর্তব্য, সহানুভূতি, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন হলো এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
- এই দুইটি যখন একত্রে সমাজে প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র গড়ে ওঠে।
- অর্থাৎ, আমলারা তখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পায়, এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে:
- দুর্নীতি দমন সহজ হয়;
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়;
- দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়;
- ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৪.
জাতিসংঘের উদ্যোগে 'আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ' অনুমোদিত হয় -
  1. ৩১ অক্টোবর, ২০০২ সালে
  2. ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে
  3. ৩১ অক্টোবর, ২০০৪ সালে
  4. ৩১ অক্টোবর, ২০০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ:
- দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা; পৃথিবীর কোনো দেশই পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত নয়।
- আর তাই জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর 'আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ' United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) অনুমোদিত হয়।
- একই বছর ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডায় উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সনদটি উন্মুক্ত করা হয়।
- স্বাক্ষর প্রদানের গুরুত্বকে স্মরণীয় রাখতে প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে এবং ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালন ও স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিলো।
- যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক, রাষ্ট্রীয়, সরকারি ও সংশ্লিষ্ট দেশের সকল নাগরিকসহ সকল অংশীজনের- এই মর্মে প্রচারণা ও অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম পালন করা এই দিবসটি উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য।

উৎস: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
১,৯৩৫.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কোনটি?
  1. সুশাসন
  2. গণতন্ত্র
  3. নৈতিকতা
  4. সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ (Values):
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- এটি মানুষকে সঠিক ও ভুল, ভালো ও মন্দ, সত্য ও মিথ্যা -এর পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়। (-শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে গঠন ও সুদৃঢ় করা সম্ভব।)
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।
- বয়স ও অভিজ্ঞতার সাথে সাথে মূল্যবোধের ধারণায় পরিবর্তন ঘটে। 
- মানুষ জন্মের পর থেকেই মূল্যবোধের শিক্ষা পেতে শুরু করে, যা আমৃত্যু চলতে থাকে।
- সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯৩৬.
মূল্যবোধের উপাদান হিসেবে বিবেচ্য নয় কোনটি?
  1. পরশ্রীকাতরতা
  2. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. নাগরিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
পরশ্রীকাতরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরশ্রীকাতরতা
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধের উপাদান নয় পরশ্রীকাতরতা।

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

• মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- সহনশীলতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- সহমর্মিতা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি মূল্যবোধের উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

১,৯৩৭.
সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন- 
  1. টমাস হবস
  2. জন লক
  3. জ্যা জ্যাক রুশো
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

সামাজিক চুক্তি মতবাদ: 
- সামাজিক চুক্তির মূলকথা হলো- সমাজে বসবাসকারী জনগণেরপারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।
- ব্রিটিশ রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবস্ ও জন লক এবং ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
- এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত।
- তারা প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত।
- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না।
- ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৯৩৮.
আইনের শাসন বলতে বোঝানো হয় নিচের কোনটিকে?
  1. ক) জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. খ) নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা
  3. গ) ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা
  4. ঘ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম প্রধান করণীয় হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- আইনের শাসন হলো আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।
- কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়, সকলেই আইনের অধীন।
- আইনের শাসন বলতে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করাকে বুঝায়।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩৯.
কার মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"?
  1. ম্যাকেনজি
  2. টেইলার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. উইলিয়াম ফ্রাংকেনার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার কিছু সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম লিলি এর মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা"।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪০.
মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) বিজ্ঞান
  3. গ) ধর্ম
  4. ঘ) দর্শন
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ধর্ম। 
- মানুষ পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন যাপনে, কাজ-কর্ম করার ক্ষেত্রে, খাদ্য গ্রহণে, পোশাক-পরিচ্ছেদে, কোথায় কীভাবে আচরণ করবে অর্থাৎ আমাদের কোথায় কেমন আচরণ করতে হবে ধর্ম তার দিক-নির্দেশনা ও শিক্ষা দেয়। 
- অধিকাংশ বড় ধর্ম পারলৌকিক পুরস্কার ও শাস্তির কারণ,করণীয় ও ধরন তুলে ধরে। এভাবে ধর্ম আবশ্যকীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে ইহজাগতিক ও পারলৌকিক জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করতে সাহায্য করে।
 
উৎস: nape.portal.gov.bd
১,৯৪১.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব?
  1. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক
  2. শুধুমাত্র রাজনৈতিক
  3. শুধুমাত্র সামাজিক
  4. জাতীয়
সঠিক উত্তর:
জাতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয়
ব্যাখ্যা

জাতীয় উন্নয়ন:
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৪২.
কোন ধরণের মূল্যবোধ নাগরিককে দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালনে তাগিদ দেয়?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৯৪৩.
কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থার সাথে সুশাসন প্রত্যয়টি সামাঞ্জস্যপূর্ণ?
  1. ক) সমাজতন্ত্র
  2. খ) রাজতন্ত্র
  3. গ) একনায়কতন্ত্র
  4. ঘ) গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
• সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ।
• আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব।
• তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯৪৪.
নারীর প্রতি সহিংসতার কোন প্রকৃতি বাংলাদেশে বেশি হয়?
  1. ক) যৌন হয়রানি.
  2. খ) মনগড়া ফতোয়া
  3. গ) এসিড নিক্ষেপ
  4. ঘ) নারী ও শিশু পাচার
সঠিক উত্তর:
ক) যৌন হয়রানি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যৌন হয়রানি.
ব্যাখ্যা
যৌন হয়রানি, মনগড়া ফতোয়া, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু পাচার, নির্যাতন ও ধর্ষণ, ইত্যাদি হলো নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃতি। রেফারেন্সঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়- নবম – দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,৯৪৫.
'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট 
  3. টমাস হবস 
  4. টি এইচ গ্রিন
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

Conquest of Happiness:
- 'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- এটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- বিষয়বস্তু: বার্ট্রান্ড রাসেল এই বইতে আধুনিক মানুষের অসুখের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন এবং একটি সুখী জীবনের জন্য যুক্তিভিত্তিক পথ দেখিয়েছেন, যেমন নিজের বাইরের আগ্রহ তৈরি করা এবং নিষ্ক্রিয় আনন্দের বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকা। 

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৯৪৬.
আধুনিক নাগরিকতার ধারণায় নাগরিকতার কয়টি প্রধান বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

⇒ নাগরিকতা:
- সাধারণভাবে নগরের অধিবাসীকে নাগরিক বলে ।
- নাগরিকতা বলতে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি
- আনুগত্য প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক ।

⇒ আধুনিক নাগরিকতার ধারণায় নাগরিকের সংজ্ঞা থেকে নাগরিকতার চারটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
• রাষ্ট্রের সদস্য হতে হয়,
• রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হয়,
• রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হয়,
• সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে হয়।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ নয়?
  1. আন্তর্জাতিক বানিজ্য চুক্তি
  2. পরিবেশ দূষণ
  3. দুর্নীতি
  4. অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
আন্তর্জাতিক বানিজ্য চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্তর্জাতিক বানিজ্য চুক্তি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে। যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪৮.
কোন দশক থেকে সুশাসন ধারণাটি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে?
  1. ১৯৬০
  2. ১৯৮০
  3. ১৯৯০
  4. ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- ১৯৯০-এর দশক থেকেই শাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাপী নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
- বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের পথে বাঁধা হিসেবে সুশাসনের অভাবকে চিহ্নিত করে।
- শাসনের গুনগত মান যে সব সময় একরকম হবে, তা নয়। সে কারণে প্রাচীন গ্রীসে আজ থেকে ২৬০০ বছর আগে দার্শনিক প্লেটো আদর্শ শাসকের কথা বলেছেন।
- তিনি বলেছেন, আদর্শ শাসক হবেন একজন দার্শনিক রাজা, যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- প্লেটোর পর থেকে আধুনিক যুগের দার্শনিকগণও উত্তম শাসনের বিষয়ে ভেবেছেন।

এছাড়াও, 
- জন লকের ভাষায়, উত্তম রাষ্ট্র হবে সেই রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দেয়।
- কার্ল মার্কস মনে করেন শ্রমজীবী মানুষের সরকারই উত্তম সরকার। বৃহত্তর অর্থে নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্য ভালোভাবে শাসন পরিচালনার নামই সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৯.
ম্যাককরনির মতে, সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে কার সম্পর্ককে নির্দেশ করে?
  1. শাসিত জনগণের
  2. সুশীল সমাজের
  3. বিরোধী দলের
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজের
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে,
- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

⇒ ম্যাককরনি:
- "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
- "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

⇒ ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯৫০.
জনমত বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) অধিকাংশের মতামত
  2. খ) মতমোড়লদের মতামত
  3. গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
  4. ঘ) গণমাধ্যমের বক্তব্য
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
- জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৯৫১.
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ -
  1. ক) স্পেশাল ফোর্স গঠন
  2. খ) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন
  3. গ) এন্টি করাপশন ট্রাইব্যুনাল গঠন
  4. ঘ) মানবাধিকার কমিশন গঠন
সঠিক উত্তর:
খ) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
• এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
• এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
১,৯৫২.
মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) সহমর্মিতা
  2. খ) সৌজন্যবোধ
  3. গ) শৃঙ্খলা
  4. ঘ) নীতিবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান।
- শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

• মূল্যবোধের বিভিন্ন উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে পরিলক্ষিত।

সহমর্মিতা:

- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত।
- সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। 

নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৩.
আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস কোনটি? 
  1. ধর্ম
  2. ন্যায়বিচার
  3. আইনসভা
  4. প্রথা 
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
ব্যাখ্যা

আইনসভা:
- আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই হচ্ছে আইনের প্রধানতম উৎস।
- আইনসভা সমাজের প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে নতুন নতুন আইন তৈরি করে, আইনের রদবদল ও সংশোধন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ।
- তাই আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
- সুতরাং আইনসভাই হচ্ছে আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এই ছয়টি উৎস ছাড়াও কেউ কেউ জনমতকে আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপেনহেম (Openheim) বলেন, 'জনমত আইনের অন্যতম উৎস'। জনমতের প্রভাবে সরকার অনেক আইন তৈরি করে।

• আইনের উৎসসমূহ:
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আইনের উৎসসমূহ নিম্নরূপ-
১। প্রথা বা রীতিনীতি;
২। ধর্ম;
৩। বিচারকের রায়;
৪। ন্যায়বিচার;
৫। বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬। আইনসভা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৫৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার 'তথ্য অধিকার আইন' প্রবর্তন করে -
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে।
- প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ও দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,৯৫৫.
জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কোন মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ।


উল্লেখ্য,
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- পরমত সহিষ্ণুতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, সচেতনাবোধ সৃষ্টি, দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া
  2. সন্তানদের শিক্ষাদান
  3. আইন তৈরি করা
  4. উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা
সঠিক উত্তর:
সন্তানদের শিক্ষাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্তানদের শিক্ষাদান
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকেরা বিভিন্ন অধিকার উপভোগ করে, কিন্তু একই সাথে তাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। অধিকার ভোগের সাথে সাথে নাগরিকেরা এসব কর্তব্য পালন করতে বাধ্য। একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভে নাগরিকদের কর্তব্যপরায়ণতা অপরিহার্য। কর্তব্যবিমুখ একটি জাতি কখনোই উন্নতি অর্জন করতে বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন;
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন;
→ আইন মান্য করা;
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন;
→ নিয়মিত কর প্রদান;
→ রাষ্ট্রের সেবা করা;
সন্তানদের শিক্ষাদান;
→ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯৫৭.
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস কোনটি?
  1. রাজনৈতিক আদর্শ
  2. অপসংস্কৃতি
  3. আইন
  4. সামাজিক প্রথা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রথা
ব্যাখ্যা
যেসব রীতিনীতি মানুষের সাংস্কৃতিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে।
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস হলো সামাজিক প্রথা
- সমাজে বসবাসকারী ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সংস্কৃতি ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৯৫৮.
নিচের কোনটি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে?
  1. শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ
  2. অবাধ তথ্য প্রবাহ
  3. ক্ষমতার অপব্যবহার
  4. দক্ষ আমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতার অপব্যবহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতার অপব্যবহার
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন।
- শাসন প্রক্রিয়ার জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ, অবাধ তথ্য প্রবাহ, দক্ষ আমলাতন্ত্র, দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ইত্যাদি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
পক্ষান্তরে,
- ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৯৫৯.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা কী প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য
  3. বেকারত্বের জন্য কর্মসংস্থান
  4. সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য,
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- পরমত সহিষ্ণুতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, সচেতনাবোধ সৃষ্টি, দায়বদ্ধতা।

অন্যদিকে, 
- দায়িত্বশীলতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দায়িত্বশীলতাকে উৎসাহিত করে, তবে এটি গণতান্ত্রিক চর্চার একটি অংশ।
- বেকারত্বের জন্য কর্মসংস্থান: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বেকারত্ব দূর করার পক্ষে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি সরাসরি গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য নয়।
- সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাকে প্রমোট করে, তবে এটি গণতন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি মাধ্যম।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬০.
'সুশাসনের ইস্যু' বলতে নিম্নের কোনটিকে বুঝায়?
  1. অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  2. পরিবেশ দূষণ
  3. দুর্নীতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ইস্যু:
- সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ।
- তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬১.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) গণতন্ত্র
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) সমতা ও ন্যায্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অন্যতম প্রধান উপাদানসমূহ-
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- স্বচ্ছতা,
- সমতা ও ন্যায্যতা,
- সংবেদনশীলতা,
- জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

অপরদিকে,
গণতন্ত্র সুশাসনের উপাদান নয়।     

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯৬২.
আইডিএ সুশাসনের কতটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন? 
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

 - আইডিএ (IDA) বা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সুশাসনের ৪টি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- এই উপাদানগুলো হলো: 
১. দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা (Accountability)
২. স্বচ্ছতা (Transparency)
৩. আইনি কাঠামো বা আইনের শাসন (Legal Framework/Rule of Law)
৪. অংশগ্রহণ (Participation)

সুশাসন:
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের উল্লেখ করেছে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,৯৬৩.
“সর্বজনীন কল্যাণের জন্য ব্যক্তির লব্ধ বিচারবুদ্ধির প্রয়োগই নাগরিকতা”- উক্তিটি কার?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) লাস্কি
  3. গ) লর্ড ব্রাইস
  4. ঘ) ফাইনার
সঠিক উত্তর:
খ) লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাস্কি
ব্যাখ্যা
- আধুনিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার প্রতি রাষ্ট্র অধিক প্রাধান্য দেওয়ায় নাগরিকতা বিষয়টি আজ খুব গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয় ।

- অধ্যাপক হ্যারল্ড জে লাস্কির মতে, “কোন ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলে।”

- অন্যদিকে লাস্কির বলেন, “সর্বজনীন কল্যাণের জন্য ব্যক্তির লব্ধ বিচারবুদ্ধির প্রয়োগই নাগরিকতা”।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যান্স কেলসন বলেন, “নাগরিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে কোন ব্যক্তির স্ট্যাটাস বা মর্যাদা।”

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৪.
“প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার থাকবে” জাতিসংঘ মানবাধিকারের কত নং ধারায় রয়েছে?
  1. ক) ধারা-১
  2. খ) ধারা-২
  3. গ) ধারা-৩
  4. ঘ) ধারা-৪
সঠিক উত্তর:
গ) ধারা-৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধারা-৩
ব্যাখ্যা
উক্ত ধারাটি ৩ নং ধারায় রয়েছে। ১ নং ধারায় রয়েছে – সকল মানুষই সম-মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ধারা-২- জাতি,গোত্র, বর্ণ,নারী-পুরুষ, ভাষা,ধর্ম, জন্ম,নির্বিশেষে সকলেই জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত সকল অধিকারের অংশীদার। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯৬৫.
মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কী কাজ করে?
  1. জ্ঞান ও বিজ্ঞান
  2. অর্থ ও সম্পদ
  3. সততা ও শিষ্টাচার
  4. প্রযুক্তি ও উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সততা ও শিষ্টাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা ও শিষ্টাচার
ব্যাখ্যা
মানবিক মূল্যবোধ:
- মানবিক মূল্যবোধ হচ্ছে শৃঙ্খল ও ন্যায় সমাজ গঠনের প্রথম শর্ত।
- মানবিক মূল্যবোধ বলতে কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাসকে বুঝায়।
- যে চিন্তা–ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের মানবিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই মানবিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, তাদের সেবা করা, উত্তম ব্যবহার, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা প্রভৃতি মানবিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
- মানবিক মূল্যবোধ ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,৯৬৬.
'Political Ideals' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. থমাস হবস
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• 'Political Ideals' গ্রন্থের লেখক - বার্ট্রান্ড রাসেল।

• বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা ব্রিটিশ দার্শনিক - বার্ট্রান্ড রাসেল। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ডটকম।
১,৯৬৭.
নিচের কোনটি আমলাতন্ত্রের কাজ নয়?
  1. আইন কার্যকর করা
  2. আইনসভায় আইন প্রণয়ন
  3. তথ্য পরিবেশন
  4. বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
সঠিক উত্তর:
আইনসভায় আইন প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনসভায় আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি:
আধুনিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা ও কার্যাবলি অনস্বীকার্য। যেকোন ধরণের সরকারের নীতিমালা ও উদ্যোগের সাফল্য আমলাদের কাজের উপর বহুলাংশে নির্ভর করে।
-নিম্নে আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি আলোচনা করা হল:
- আইন কার্যকর করা: আমলারা শাসন বিভাগের সদস্য হওয়ায় আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনকে কার্যকর করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
- আইন প্রণয়নে সহায়তা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইন প্রণয়নে সহায়তা করে। আমলারা দক্ষ, অভিজ্ঞ, উচ্চশিক্ষিত হওয়ায় আইন প্রণয়নের খুঁটিনাটিতে পারদর্শী। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা 'Delegated legislation' তথা অর্পিত ক্ষমতাপ্রসূত আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু সংসদে বা আইনসভায় আইন প্রণয়ন করেন না
- সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন: সরকার যে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে আমলাতন্ত্র। আমলারা সরকারের আদেশ-নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে। 
- বিচার সংক্রান্ত: বাংলাদেশসহ অনেক রাষ্ট্রেই এখন বিচার সংক্রান্ত অনেক কাজ আমলারা করে থাকে। উদাহরনস্বরূপ, জমি ক্রয়-বিক্রয়ের রেজিস্ট্রেশন, ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ইত্যাদি বিচার কাজ আমলারাই করে থাকে। এছাড়া তারা বিচার বিভাগের যেকোন আদেশ-নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পাদন: আমলারা প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ রুটিন মাফিক সম্পাদন করে। দৈনন্দিন কাজকর্ম করার মাধ্যমে আমলারা দেশ ও জনগণের সেবা প্রদান করে। তারা বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 
- তথ্য পরিবেশন: আমলারা আইনসভার সদস্য ও মন্ত্রীদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান সরবরাহ করে থাকে। রাষ্ট্র ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য সংগ্রহ, রক্ষণ এবং সমন্বয় করে আমলারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিকট প্রকাশ করে। 
- আইনসভাকে প্রভাবিত করা: আইনসভার কার্যপ্রণালীর সাথে আমলাতন্ত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থেকে আইনসভাকে প্রভাবিত করেন। আইনসভার বিভিন্ন কমিটিগুলোকে আমলারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে থাকে। আইনসভার কমিটিগুলোর বিভিন্ন বৈঠকে আমলারা উপস্থিত থাকেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে আইনসভার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকেন আমলাগণ।
- শাসক-শাসিতের মধ্যে সেতুবন্ধন: আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে শাসক-শাসিতের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। আমলাগণ সরকারের কার্যাবলির গুণাগুণ জনগণের সামনে তুলে ধরেন এবং তার মাধ্যমে সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করেন।
- পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা: আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়। এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

উল্লিখিত প্রশ্নে আইনসভায় আইন প্রণয়ন আমলাতন্ত্রের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৮.
কোনটি নাগরিকের মূল কর্তব্য -
  1. সন্তানদের শিক্ষাদান
  2. নির্বাচিত হওয়া
  3. সরকারের সমালোচনা করা
  4. শ্রমিক সংঘ গঠন
সঠিক উত্তর:
সন্তানদের শিক্ষাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্তানদের শিক্ষাদান
ব্যাখ্যা
নাগরিকের কর্তব্য:
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকার সকলের কল্যাণের জন্য।
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- নাগরিকের মূল কর্তব্য হচ্ছে - সন্তানদের শিক্ষাদান।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯৬৯.
কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী?
  1. মন্টেস্কু
  2. হাবার্ট স্পেনসার
  3. জন লক
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
হাবার্ট স্পেনসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাবার্ট স্পেনসার
ব্যাখ্যা
হাবার্ট স্পেনসার-এর মতে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।

আইন ও স্বাধীনতা:

- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে আইন ও স্বাধীনতার মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণ করা একটি জটিল সমস্যা।
- স্বাধীনতা বলতে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণের অবসান বোঝায় না: অর্থাৎ স্বাধীনতা মানে ফ্রি লাইসেন্স নয়।
- প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা।
- স্বাধীনতা কেবলমাত্র আইনানুগ রাষ্ট্রব্যবস্থাতেই অস্তিত্বশীল।
- বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ।

⇒ আইন ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দু'টো বিপরীতধর্মী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে:
i) কোন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী
- এ দুটোর মধ্যে তেমন কোন সামঞ্জস্য নেই। আইনের আধিক্যের ফলে স্বাধীনতা খর্ব হয়।
- আইনের আধিক্য যত বেশি হয স্বাধীনতাও সে পরিমাণে হ্রাস পায়। প্রতিটি আইন কোন না কোনভাবে জনগণের স্বাধীনতা খর্ব করে।
- উইলিয়াম গডউইন, ক্রপট্‌কীন, হাবার্ট স্পেনসার প্রমুখ চিন্তাবিদ এ মতবাদ সমর্থন করেন। 

ii) অপরদিকে কোন কোন দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইন ও স্বাধীনতার মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিরাজমান বলে বর্ণনা করেন।
- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এরিস্টটল (Aristotle), মন্টেস্কু (Montesquieu) এবং জন লক (John Locke)।
- তাঁরা সকলেই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এবং জনগণের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনের প্রয়োজন সর্বাগ্রে।
- আইনের মাধ্যমেই কেবল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণ সাধন করা সম্ভব।
- আইন স্বাধীনতা খর্বতো করেই না বরং তা সংরক্ষিত এবং প্রসারিত করে।

উল্লেখ্য,
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেষোক্ত মতামতটি অধিক পরিমাণে গ্রহণযোগ্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মাত্রই আইনের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতা সংরক্ষণ করতে প্রয়াসী হয়। জনগণের ক্রিয়াকলাপের উপর প্রয়োজনমত বিধিনিষেধ আরোপ করে আইন স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে কাজ করে। কাজেই বলা হয়ে থাকে যে, 'আইন স্বাধীনতার শর্ত' 'Law is the condition of liberty.' আবার আইন শুধুমাত্র স্বাধীনতার শর্তই নয়, 'আইন স্বাধীনতার রক্ষকও বটে।'

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭০.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও ____ ধারনা জাগ্রত করে
  1. ক) ন্যায়বোধের
  2. খ) সুশাসনের
  3. গ) শিক্ষার
  4. ঘ) সুন্দরের
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরের
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, ও সুন্দরের ধারনা জাগ্রত করে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ ন্যায়বোধ, নীতি ও ঔচিত্যবোধ হতে উৎসারিত।
- মূল্যবোধের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
- মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি মানুষের বিবেক বোধের সাথে সম্পৃক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
১,৯৭১.
এসডিজির কত নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে?
  1. ক) ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা
  2. খ) ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা
  3. গ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
  4. ঘ) ১৭ নং লক্ষ্যমাত্রা
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সমাপ্তিতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (১৭টি) (২০১৬-২০৩০) গ্রহণ করে।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্যমাত্রায় টেকসই উন্নয়নের জন্যে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্যে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে।

অন্যদিকে,

- ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা : বৈষম্য হ্রাস করা
- ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা : ক্লাইমেট অ্যাকশন
- ১৭ নং লক্ষ্যমাত্রা : অভীষ্ট অর্জনের জন্যে অংশীদারিত্ব।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১,৯৭২.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে
  2. বিমূর্ত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়
  3. মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে
  4. লিখিত আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
সঠিক উত্তর:
লিখিত আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিখিত আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয় -লিখিত আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
- মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
- মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
- মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
- মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৭৩.
"The Conquest of Happiness" বইটি কে লিখেছেন?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. জেরিমি বেনথাম
  4. ইমানুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

• Conquest of Happiness: 
- "The Conquest of Happiness" (১৯৩০) বইটি বার্ট্রান্ড রাসেল এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।
- এটি মানব জীবনের সুখ নিয়ে আলোচনা করে।
- রাসেল বলেছিলেন, দুঃখের কারণ হতে পারে আমাদের অভ্যন্তরীণ মানসিকতা ও বহিরাগত সমাজের চাপ।
- তিনি অযৌক্তিক প্রত্যাশা, হিংসা, বোরেডম এবং অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা এর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
- রাসেল সুখ অর্জনের জন্য আত্মসচেতনতা এবং সামাজিক সম্পর্ক এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- তিনি মনে করেন, অর্থপূর্ণ কাজ এবং সন্তুষ্টি এনে সুখ লাভ সম্ভব।
- এই বইটি দার্শনিক চিন্তাভাবনা ও ব্যবহারিক পরামর্শ এর মিশ্রণ।

→ তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Problem of Philosophy
- The Conquest of Happiness
- Religion and Science
- The Principles of Mathematics
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Philosophical Essays
- Power: A New Social Analysis
- Principles of Social Reconstruction
- The Analysis of Matter
- Logic and knowledge.

অন্যদিকে,
→ দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (Emanuel Kant):
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
- যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
→ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

১,৯৭৪.
মূল্যবোধ কাকে বলা হয়?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. কেবল রাষ্ট্রীয় আইন
  4. ব্যক্তিগত সম্পত্তি
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯৭৫.
কে সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে?
  1. পরমত সহিষ্ণু ব্যক্তি
  2. অসচেতন ব্যক্তি
  3. সচেতন ব্যক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সচেতন ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সচেতন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য।
- মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে।
- ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 
- কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে। 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সবসময় নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে।
- ফলে এ ধরনের নাগরিকদের মাঝে সহজেই দেশ প্রেমের সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭৬.
UNDP সুশাসনের নিম্নের কোন উপাদানটি উল্লেখ করে নি?
  1. ক) সমতা
  2. খ) কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন
  3. গ) কৌশলগত লক্ষ্য
  4. ঘ) ন্যায্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা UNDP ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদানের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- আইনের শাসন
- সকলের অংশগ্রহণ
- সংবেদনশীলতা
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
- সমতা
- ন্যায্যতা
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।
 
জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে যে ৮টি উপাদান উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন। 

(তথ্যসূত্রঃ UNDP ওয়েবসাইট)
১,৯৭৭.
মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে-
  1. আইনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে
  2. সামাজিকীকরণের মাধ্যমে
  3. অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে
  4. উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

◉ মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

সামাজিক মূল্যবোধ:

- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সুতরাং মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

অন্যদিকে,
- আইনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে না।
- অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে।
- উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯৭৮.
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক -
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।  

উল্লেখ্য -
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক হিসেবে ইতালীয় দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭৯.
‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৯৭
  2. খ) ১৯৯৫
  3. গ) ১৯৯২
  4. ঘ) ১৯৯৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯৪
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
• ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,৯৮০.
বিশ্বব্যাংক কোন রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসনপ্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  2. সুশাসন ও মানব উন্নয়ন
  3. সুশাসন ও উন্নয়ন
  4. শাসনপ্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
শাসনপ্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসনপ্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
শাসনপ্রক্রিয়া ও উন্নয়ন (Governance and development):
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
- বিশ্বব্যাংক এই রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- যে পদ্ধতিতে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদের উন্নয়নের ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে শাসন বলে অভিহিত করা হয়েছে।
- সুশাসন হলো সুষ্ঠু উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার সমার্থক।

উৎস: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
১,৯৮১.
বিশ্ব ব্যাংক এর ধারণা অনুযায়ী সুশাসনের ৩য় স্তম্ভ -
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) দায়িত্বশীলতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) আইনি কাঠামো
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনি কাঠামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনি কাঠামো
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো:
১। দায়িত্বশীলতা,
২। স্বচ্ছতা,
৩। আইনি কাঠামো
৪। অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯৮২.
বিখ্যাত গ্রন্থ ’The Prince’ এর লেখক কে?
  1. জন লক
  2. স্টুয়ার্ট মিল
  3. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি 
  4. জ্যাঁ জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি 
ব্যাখ্যা

- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'.

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:

- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন। -
- ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'।
- দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

• তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:

- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৯৮৩.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা কাকে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেলকে
  2. অ্যারিস্টটলকে
  3. ইমানুয়েল কান্টকে
  4.  হার্বার্ট স্পেন্সারকে
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্টকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্টকে
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি। যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮৪.
আইন মানুষের কোন ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অভ্যন্তরীণ
  2. বাহ্যিক
  3. সামাজিক
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক
ব্যাখ্যা

আইন:
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯৮৫.
সামাজিক মূল্যবোধ ব্যক্তির কোন আচরণকে প্রভাবিত করে?
  1. কেবল সামাজিক
  2. কেবল ব্যক্তিগত
  3. কেবল আইনগত
  4. ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয়
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয়
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- জাতীয় সত্তার দর্পণ হিসেবে সামাজিক মূল্যবোধকে বিবেচনা করা হয় কারণ সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও মমত্ববোধের মতো গুণাবলির বিকাশ সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই ঘটে যা একটি জাতির সামগ্রিক পরিচিতি ও উন্নয়নে সহায়তা করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮৬.
কোন ধরণের মূল্যবোধ নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা সৃষ্টি করে?
  1. ক) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. খ) আধুনিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা, দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়।
যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন।
 সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।
 
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯৮৭.
স্বাধীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. আইন
  2. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
  3. বিচারবিভাগ
  4. জনগণের সজাগ সচেতন
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে।
- রাষ্ট্র আইনের সাহায্যে মানুষের অবাধ স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক লকের (Locke) মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৯৮৮.
রাষ্ট্রে সামরিক শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কোনটি?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. জনমত
  3. সুশীল সমাজ
  4. নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা
• জনমত:
→ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য জনমত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
→ আধুনিককালে জনমতের উপর ভিত্তি করেই সরকার গঠিত হয় এবং টিকে থাকে।
→ জনমত হচ্ছে সরকার বা একটি রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
→ জনমত উপেক্ষা করে আজকের দিনে কোন সরকারের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রে সামরিক শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৯.
সুশাসন বিষয়ক White Paper কে প্রকাশ করে?
  1. European Economic Community
  2. United Nations
  3. Asian Development Bank
  4. World Bank
সঠিক উত্তর:
European Economic Community
উত্তর
সঠিক উত্তর:
European Economic Community
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও European Economic Community (EEC):
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি। 
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।

১,৯৯০.
'বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী' কারা?
  1. ক) উপজাতি
  2. খ) ভিক্ষুক
  3. গ) ভূমিহীন
  4. ঘ) প্রতিবন্ধী
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিবন্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিবন্ধী
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,৯৯১.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. বিশ্বস্ততা 
  2. নিরপেক্ষতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. সৃজনশীলতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা

সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে যে মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয় - সৃজনশীলতা। 

সুশাসন:
- সাধারণত শাসন হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া।
- শাসনের ধারণা কোন নতুন বিষয় নয় বরং এটা মানব সভ্যতার মতোই পুরাতন।
- শাসন ব্যবস্থার অর্থ ও মাত্রা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।
- সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।

⇒ সুশাসনের প্রধান উপদান:
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা,
- জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা ও বিকেন্দ্রীকরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৯৯২.
সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে?
  1. দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
  2. দারিদ্র্য দূরীকরণ করা
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়।
- একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকারকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন:

১. মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা
২. জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ প্রশাসন গঠন
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা
- দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা
৩. আইন ও বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
৪. গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ
- ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠন
৫. সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন
- দারিদ্র্য দূরীকরণ
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি
৬. সুশাসনের ভারসাম্য ও মানবাধিকার রক্ষা
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা
- কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা
৭. সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৩.
প্লেটো কয়টি প্রধান সদগুণের কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
সদগুণ: 
- অ্যারিস্টটল মধ্যপন্থাকে সদগুণ উদ্ভবের কারণ বলেছিলেন।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৪.
"মানুষ হও এবং মরে বাঁচো।" - এটি কার উক্তি?
  1. প্লেটো 
  2. সক্রেটিস
  3. জি. ই. ম্যূর
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
হেগেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেগেল
ব্যাখ্যা

 "মানুষ হও এবং মরে বাঁচ (Be a person, Die to live)" - এটি জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের উক্তি।

জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের (১৭৭০-১৮৩১):
- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- তিনি মনে করেন যে, পরমাত্মা বা পরমসত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা এবং জীবাত্মাও। জড়বস্তু পরমাত্মারই খণ্ড প্রকাশ মাত্র।

হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল। তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়। তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯
১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আত্ম-সচেতনতার (self-consciousness) সৃষ্টি যা পরম সত্তার গুণ। জগতে এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে মানুষের মধ্যে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। এ সমন্বয় মত আবার সময়মত একটি মত হিসেবে অপর একটি প্রতি-মতের সষ্টি করে এবং এভাবে চিন্তা পর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে।
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে ⎯
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিবিদ্যা বই (SSHL), নীতিবিজ্ঞান ও ভারতীয় দর্শন [সংস্করণ-৭] এবং ব্রিটানিকা।

১,৯৯৫.
“জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহী, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা বর্তমান এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।” -উক্তিটি কার?
  1. ক্লাইড কুখোন
  2. এইচ. ডি. স্টেইন
  3. এম. আর. উইলিয়াম
  4. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
সঠিক উত্তর:
এইচ. ডি. স্টেইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ. ডি. স্টেইন
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
→ এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
→ এইচ. ডি. স্টেইন (H.D. Stain)-এর মতে, “জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহী, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা বর্তমান এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।
→ এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”
→ ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon)-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯৯৬.
“গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ” - উক্তিটি কার?
  1. মিলার
  2. এরিস্টটল
  3. অধ্যাপক গার্নার
  4. অধ্যাপক ডাইসি
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থহচ্ছে জনগনের শাসন ক্ষমতা।

- আব্রাহাম লিঙ্কনের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণে দ্বারা পরিচালিত,জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।"
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন,  "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"

গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন বই (উন্মুক্ত)।
১,৯৯৭.
সক্রেটিস সততাকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
  1. ক) সাহস
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) প্রবৃত্তি
  4. ঘ) নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞান
ব্যাখ্যা
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে সততা হলো জ্ঞান। তার মতে জ্ঞান মানেই সততা আর অজ্ঞানতাই অসদাচার।
- সক্রেটিসের মতে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যায় কাজ করতে পারে না। তাই জ্ঞানই সততার মূলকথা।

(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,৯৯৮.
'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'-এই উক্তিটি করেছেন কে?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. এফ ই মেরিল
  3. এইচ এম জনসন
  4. নিকোলাস রেসার
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৯৯.
দৃঢ় ও গঠনমূলক চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. আত্মবিশ্বাস
  2. সাহসিকতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ, যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে এবং এতে মানসিক তৃপ্তি অনুভব করে।
- সত্যকে সত্য বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ দেওয়া নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সমাজে শ্রদ্ধেয় এবং বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত হন।
- চরিত্র গঠনের জন্য আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা বা সৃজনশীলতা সহায়ক হলেও নৈতিক মূল্যবোধই হল সেই মূল ভিত্তি, যার উপর একটি দৃঢ়, সৎ ও গঠনমূলক চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

২,০০০.
কোন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত?
  1. সচেতনতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা
  2. সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা
  3. আইন, শাসন ও বিচার
  4. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি
সঠিক উত্তর:
সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

​⇒ সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার গুরুত্ব:
​- 'সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা'-এ তিনটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। গণতন্ত্রে সকলেই সমান; সমঅধিকারের নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান। গণতন্ত্রে সবাই আইন দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পায় বলে প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। অন্যভাবে আমরা বলতে পারি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

​উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।