বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২১ / ৩৯ · ২,০০১২,১০০ / ৩,৮২৯

২,০০১.
কার মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”?
  1. ক) এইচ এম জনসন
  2. খ) জন লক
  3. গ) এফ ই মেরিল
  4. ঘ) ক্লাইড কুখোন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্লাইড কুখোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্লাইড কুখোন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীদের মূল্যবোধ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা:

⇒ ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন  (H.M. Johnson) এর মতে “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মরিল  (F. E. Meril) বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০২.
জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয় কিসের মাধ্যমে?
  1. পার্লামেন্ট
  2. বিচারকের রায়
  3. জনমত
  4. সংবাদপত্র
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে বুঝায়। তবে প্রকৃত অর্থে জনমত হচ্ছে কল্যাণধর্মী বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক ও সুষ্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- জনমতের মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়।
- সভা-সমিতি, সংবাদপত্র, আইন পরিষদ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি জনমত গঠনের বাহন হিসেবে কাজ করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,০০৩.
সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে কী বলে?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ: 
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।
- মূল্যবোধ থেকে আসে আইন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
২,০০৪.
"Law is the passionless reason" এই বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেনা 
  2. এরিস্টটল 
  3. সক্রেটিস 
  4. ম্যূর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল 
ব্যাখ্যা

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন জ উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।
 - "Law is the passionless reason" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,০০৫.
রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. দুর্নীতি
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. সুশাসন
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক ঐক্যমত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

• সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

• পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন:
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০০৬.
ইউরোপিয়ান কমিশন সুশাসন নিশ্চিত করতে কোনটি প্রকাশ করে?
  1. শ্বেতপত্র
  2. সবুজপত্র
  3. কমনপত্র
  4. নীলপত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।
২,০০৭.
ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত হয়-
  1. ক) মৌলিক অধিকার
  2. খ) রাজনৈতিক অধিকার
  3. গ) সামাজিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এরূপ অধিকারের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, নৈতিক অধিকার ইত্যাদি। এদের মধ্যে নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। এটি ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। সূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
২,০০৮.
সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ। মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ মূল্যবোধ। মূল্যবোধ মানব আচরণের অলিখিত দলিল। মূল্যবোধের ধারনা সহজাত নয় বরং অর্জিত। মূল্যবোধ মানবসত্তার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ ঘটায়।
২,০০৯.
সুশাসন - ধারনাটি জনপ্রিয় করে কোন সংস্থা?
  1. ক) IMF
  2. খ) জাতিসংঘ
  3. গ) UNDB
  4. ঘ) WB
সঠিক উত্তর:
ঘ) WB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) WB
ব্যাখ্যা

১৯৮০ এর দশক থেকেই বিশ্বব্যাংক, UNDP - সুশাসন এর বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনা শুরু করে। ১৯৮৯ সালে প্রথম বিশ্বব্যাংক প্রথম সুশাসন বিষয়ের ধারনাটি সামনে নিয়ে আসে এবং এই সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ সৃষ্টি হতে থাকে। বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে “Governance and Development” শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল−
১.দায়িত্বশীলতা,
২.স্বচ্ছতা
৩.আইনী কাঠামো ও
৪.অংশগ্রহণ।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।

২,০১০.
সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে নিচের কোন উপাদান প্রভাব বিস্তার করে?
  1. জলবায়ু
  2. ধর্মীয় বিশ্বাস
  3. ভৌগোলিক পরিবেশ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের সমাজে কারো সাথে কুশল বিনিময়ে সালাম, নমস্কার অথবা আদাব দেয়া হয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে good morning, good afternoon অথবা good evening বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ একটি সমাজের মূল্যবোধগত রীতি আরেকটি সমাজ হতে আলাদা করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১১.
UNDP-এর দৃষ্টিতে সুশাসন মূলত কী?
  1. রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
  2. রাজনৈতিক আধিপত্য
  3. জনগণের চাহিদা
  4. জনগণের বৈধ অধিকার
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
ব্যাখ্যা

• UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।

২,০১২.
’Critique of Practical Reason’ গ্রন্থটি লিখছেন- 
  1. টমাস হবস
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. ব্রনিস্ল ম্যালিনস্কি
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই: 
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ¡) পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) ব্রিটানিকা।

২,০১৩.
Morality শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ কী?
  1. অনুকরণ করা
  2. ঐচ্ছিক কর্মকাণ্ড
  3. সঠিক আচরণ
  4. মধ্যাবস্থা
সঠিক উত্তর:
সঠিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঠিক আচরণ
ব্যাখ্যা
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের হৃদয় বা মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,০১৪.
'ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট' নিম্নের কোন সূচক প্রকাশ করে?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) দুর্নীতি
  4. ঘ) বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড
সঠিক উত্তর:
খ) আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করে থাকে। 
সংস্থাটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনের শাসনের এই সূচক প্রকাশ করে আসছে।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২১ সালে, বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করেছে। 
২০২১ সালে আইনের শাসনের সূচকে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪তম। দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
আইনের শাসন সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। অপর দিকে আইনের শাসনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কঙ্গো, কম্বোডিয়া ও ভেনেজুয়েলায়।
উৎসঃ প্রথম আলো।
২,০১৫.
জোনাথন হেইট এর মতে নিচের কোনটি হতে নৈতিকতা উদ্ভব হয়নি?
  1. ক) ধর্ম
  2. খ) মানব আচরণ
  3. গ) মনুষ্যত্ব
  4. ঘ) ঐতিহ্য
সঠিক উত্তর:
গ) মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
জোনাথন হেইট এর মতে ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ – তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০১৬.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance' ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ ৪টি।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
- ম্যাক করণী বলেছেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,০১৭.
ফিফথ কলাম বলতে বোঝানো হয় - 
  1. দালানের পঞ্চম স্তম্ভ 
  2. যারা সংবাদপত্রে কাজ করে
  3. বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি
  4. যারা দেশের শত্রুর সাথে কাজ করে
সঠিক উত্তর:
যারা দেশের শত্রুর সাথে কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা দেশের শত্রুর সাথে কাজ করে
ব্যাখ্যা
ফিফথ কলাম:
- একদল লোক যারা তাদের দেশের শত্রুর সাথে গোপন সহানুভূতি থেকে বিশ্বাসঘাতকতামূলক এবং ধ্বংসাত্মকভাবে কাজ করে।
- স্পেনের একজন জাতীয়তাবাদী জেনারেল, এমিলিও মোলা, ১৯৩৬ সালে এক রেডিও ভাষনে এই ‘Fifth Column’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

প্রেক্ষাপট:
- স্পেনে তখন রিপাবলিক ও জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ(১৯৩৬-৩৯) চলছিল।১৯৩৬ সালে যখন এমিলিও মোলার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী সৈনিকরা মাদ্রিদ অভিমুখে অগ্রসর হয় তখন তিনি এক রেডিও ভাষণে ঘোষণা করেন, তাঁদের চারটি সৈন্য বাহিনী মাদ্রিদের দিকে এগুচ্ছে এবং 'পঞ্চম বাহিনী' মাদ্রিদের অভ্যন্তরে থেকেই রিপাবলিকান সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

উৎস: Britannica
২,০১৮.
নীতিবিদ্যা বলতে মানুষের কোন ক্রিয়াকে বুঝানো হয়?
  1. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  2. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৯.
আইন ও নৈতিক বিধির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য -
  1. শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. মানুষের কল্যাণসাধন
  3. ক্ষমতার প্রয়োগ
  4. সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
মানুষের কল্যাণসাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের কল্যাণসাধন
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন।

⇒ 
জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। 
- আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

⇒ সব মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং রাষ্ট্রের সবার ওপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য, অন্যদিকে নৈতিক বিধি অঞ্চল ও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
- আইন বিরুদ্ধ হলেও কোনো বিষয় নৈতিকতা বিরুদ্ধ না-ও হতে পারে, তেমনি নৈতিকতা বিরুদ্ধ হলেও অনেক বিষয় আবার বেআইনি নয়।
- আইনের অন্যতম একটি সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যক্তিগত ইচ্ছাপ্রসূত স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাত প্রতিরোধ করে।
- অন্যদিকে আইনের অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এটির অনমনীয়তা, আনুষ্ঠানিকতা, জটিলতা ও রক্ষণশীলতা।

উৎস: প্রথম আলো।

২,০২০.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ?
  1. ধর্ম
  2. গনতন্ত্র 
  3. মূল্যবোধ
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
গনতন্ত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গনতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• সুশাসনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো-
- গনতন্ত্র,
- অংশগ্রহন প্রক্রিয়া,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আইনের শাসন,
- বৈধতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়িত্বশীলতা, 
- নৈতিক মূল্যবোধ। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,০২১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতির কোন ধরনের সম্পদ?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক 
  3. অর্থনৈতিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক 
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,০২২.
নিচের কোনটি মানবীয় গুণাবলির স্পষ্টতা লাভে সহায়ক?
  1. ক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
▪ মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
▪ মুল্যবোধ মানুষের মধ্যে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতির পার্থক্য নিরূপণ করে। এসবের মাধ্যমে মানবীয় উত্তম গুণাবলি স্পষ্টতা লাভ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,০২৩.
সত্যকে সত্য বলা এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলা কোন ধরনের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে। নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে। অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,০২৪.
'Political Ideals' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জ্যাক রুশো
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. টমাস হবস
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- নোবেল পুরস্কার পায় - ১৯৫০ সালে।

তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Power: A New Social Analysis
- The Problem of Philosophy
- Religion and Science
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Political Ideals
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,০২৫.
লালফিতার দৌরাত্ম্য কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) রাজতন্ত্র
  2. খ) গণতন্ত্র
  3. গ) আমলাতন্ত্র
  4. ঘ) একনায়কতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা।
আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে। যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,০২৬.
বিশ্বব্যাংক সুশাসন মূল্যায়নে কোন খাতের ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. ক) আর্থিক
  2. খ) সরকারি
  3. গ) সেবা
  4. ঘ) ব্যক্তি মালিকানা
সঠিক উত্তর:
খ) সরকারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরকারি
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯৪ সালে ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক একটি প্রকাশ করে।
- এই রিপোর্টে সুশাসনকে নিম্নোক্ত চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।যথাঃ
- সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা,
- জবাবদিহিতা,
- উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো,
- স্বচ্ছতা ও তথ্য 

সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম পত্র) বোর্ড বই।
২,০২৭.
ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ কোনটি?
  1. তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা
  2. তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
  3. তথ্য প্রবাহকে বাঁধা দেয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

→ ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ হচ্ছে - তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।

ই-গভর্নেন্স:
- বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রত্যয় হচ্ছে ই-গর্ভনেন্স। বর্তমান পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নতসহ বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই ই- গর্ভনেন্স এর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
- এখন ইচ্ছে করলে এক মুহূর্তে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যোগাযোগ ও তথ্য প্রেরণ করা যায়।
- ই-গর্ভনেন্স এর শাব্দিক অর্থ হল ইলেকট্রনিক গর্ভনেন্স বা ইন্টারনেট ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা; অর্থাৎ সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া। এর ফলে জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০২৮.
"সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স" - কে সংজ্ঞাটি প্রদান করে?
  1. অক্সফোর্ড ডিকশনারি
  2. ল্যান্ডেল মিলস
  3. ইউএনডিপি
  4. বিশ্বব্যাংক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শাসনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।
- ল্যান্ডেল মিলস এবং সেরাজেন্ডিন (Landell Mills and seragedino মতে, জনগণ কীভাবে শাসিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালিত হয়, কীভাবে দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয় এবং একই সাথে এ সকল প্রক্রিয়া কীভাবে লোকপ্রশাসন ও আইনের সাথে সম্পর্কিত সে বিষয়কেই গভর্নেন্স বলে।
- The Oxford English Dictionary-Go to of FI, শাসনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হিসেবে গভর্নেসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০২৯.
বাংলাদেশ সরকারিভাবে দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করে কত সাল থেকে? 
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০০৫ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন: 
- জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
​-  দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে।
​- দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতি বছর দিবসটি পালন করলেও দেশে সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হতো না।
​- এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন ০৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের অনুরোধ জানিয়ে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে পত্র প্রেরণ করে। 
​- তৎপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮ জুলাই, ২০১৭ তারিখে ০৯ ডিসেম্বর তারিখকে “আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস” ঘোষণা করে।
​- পাশাপাশি ০৯ ডিসেম্বরকে “আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস”হিসেবে উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত পরিপত্রের ‘খ’ শ্রেণীভূক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভূক্তকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 
​- ২০১৭ সালেই প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হয়েছে।

​উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।[লিঙ্ক​​​]

২,০৩০.
নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের -
  1.  নৈতিক বিধি
  2. নৈতিক আদর্শ
  3. নৈতিক শক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আদর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক আদর্শ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।9

২,০৩১.
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি কার?
  1. লর্ড অ্যাকটন
  2. আর্নেস্ট বার্কার
  3. উইড্রো উইলসন
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার।

• সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে। স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩২.
কোন অধিকার নীতি এবং বিবেক দ্বারা জাগ্রত?
  1. অর্থনৈতিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার:
- সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব হিসেবে পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য মানুষের কিছু সুযোগ-সুবিধা আবশ্যক।
- নাগরিকদের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এ রকম সুযোগ-সুবিধাই হল অধিকার।
- এ বিষয়ে টি, এইচ, গ্রীন বলেন ”অধিকার হচ্ছে সেসব বাহ্যিক অবস্থা যা মানসিক পরিপুষ্টি সাধন করে।” 

• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেক দ্বারা জাগ্রত। ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার। ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- তবে নৈতিক অধিকার সমাজ স্বীকৃত। নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩৩.
কোনটি সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে?
  1. আইনের শাসন 
  2. সহনশীলতা
  3. সাম্য
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, ‘‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

• সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- ন্যায়বিচার,
- ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- নৈতিকতা,
- সাম্য,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,০৩৪.
নাগরিকতার ধারণার উদ্ভব হয় কোন দেশে?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) ইতালি
  3. গ) গ্রীস
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীস
ব্যাখ্যা
আড়াইহাজার বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নাগরিকতা ধারণার উদ্ভব হয়।
- গ্রিস তখন ছোট ছোট নগরে বিভক্ত ছিলো যা নগর-রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এসব নগর-রাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতো তাদের নাগরিক বলা হয়। তাদের ভোটাধিকার ছিলো। তবে নারী, বিদেশি ও দাসদাসীরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না।
- পরবর্তীতে, সময়ের পরিক্রমায় নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৩৫.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্ত উল্লেখ করেছেন? 
  1. ৫টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,০৩৬.
নিচের কোনটি জাতি গঠনের জন্যে অপরিহার্য?
  1. ধর্মীয় সংগঠন
  2. সামাজিক সংগঠন
  3. অর্থনৈতিক সংগঠন
  4. রাজনৈতিক সংগঠন
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সংগঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সংগঠন
ব্যাখ্যা
জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত সমাজ। একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনসমষ্টি ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং তাদের মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে ঐক্য বিদ্যমান থাকলে তাকে জাতি বলে।

একটি জনসমাজ জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হলে এবং রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত্তিতে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করলে বা স্বাধীন হলে তা জাতিতে পরিণত হয়।

জাতীয়তার ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্র হলো জাতি রাষ্ট্র। সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্বশাসনের লক্ষ্যে জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। জাতি রাষ্ট্র হচ্ছে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফসল।

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে ইউরোপীয় জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা উন্মেষ ঘটে যার ফলশ্রুতিতে ইউরোপে জাতি রাষ্ট্র গঠিত হয়।

নিকোলা ম্যাকিয়াভেলিকে জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়। জাতি রাষ্ট্র গঠনের জন্যে রাজনৈতিক সংগঠন অপরিহার্য।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,০৩৭.
কোন সংস্থার অর্থায়নে access to information (A-2I) প্রোগ্রাম চালু হয়?
  1. ক) UNDP
  2. খ) ADB
  3. গ) UNESCO
  4. ঘ) World Bank
সঠিক উত্তর:
গ) UNESCO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) UNESCO
ব্যাখ্যা
UNESCO এর অর্থায়নে access to information (A-21) প্রোগ্রাম চালু হয়। 
Access to information is an indispensable pillar that enables the free flow of information and advances the promotion and protection of human rights. In the 2030 Agenda for Sustainable Development, access to information held by public bodies has been recognised as a necessary facilitating mechanism for public engagement across the Sustainable Goals, wherein UNESCO is tasked with monitoring and reporting the implementations of access to information policies worldwide under Goal 16. 

Source: en.unesco.org/themes/access-information
২,০৩৮.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের মুখপাত্র?
  1. স্পিকার
  2. সরকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. সংবাদপত্র
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা
সরকার: 
- রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সরকার।
- রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, বিধি-নিষেধসমূহ সরকারের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এজন্যই বলেছেন যে, সরকার হলো রাষ্ট্রের মুখপাত্র'। 
- সংকীর্ণ অর্থে সরকার বলতে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বোঝায়।
- কিন্তু ব্যাপক অর্থে সরকার গঠিত হয় সকল নাগরিকের সম্মতিক্রমে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন ও পরিবর্তন করে থাকে।
- রাষ্ট্রভেদে সরকারের রূপ, কাঠামো ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সরকার ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৩৯.
সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) সহনশীলতা
  2. খ) দুস্থ মানুষের পাশে দাড়ানো
  3. গ) সততার সাথে কাজ করা
  4. ঘ) অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন
সঠিক উত্তর:
ক) সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার,সততা, ন্যায়পরায়নতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বই
২,০৪০.
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন হলো-
  1. ক) সামাজিক উন্নয়ন
  2. খ) গোষ্ঠীগত উন্নয়ন
  3. গ) আঞ্চলিক উন্নয়ন
  4. ঘ) জাতীয় উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতীয় উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতীয় উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন বলা হয়।
সমাজ চায় ব্যক্তি সামাজিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হোক।
ব্যক্তির কথায় কর্মে সামাজিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটুক, এটাই সমাজের প্রত্যাশা।
আর সমাজের প্রত্যাশার সাথে কোন দেশের জাতীয় উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত কারণ বিভিন্ন সামাজিক মূল্যবোধ নিয়েই একটি জাতি গঠিত হয় যা জাতীয় মূল্যবোধ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
২,০৪১.
অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে -
  1. সংবাদপত্র
  2. প্রথা
  3. আইন
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,০৪২.
কোন অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকারের
  2. খ) ব্যক্তিগত অধিকারের
  3. গ) সামাজিক অধিকারের
  4. ঘ) নৈতিক অধিকারের
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অধিকারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিক অধিকারের
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না। যার ফলে এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৪৩.
মূল্যবোধের চালিকা শক্তি কোনটি?
  1. গণতন্ত্র
  2. সুশাসন
  3. সংস্কৃতি
  4. উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা। আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,০৪৪.
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের উৎস কী?
  1. সহজাত আত্মিক শক্তি
  2. সরকারি আইন
  3. সামাজিক মাধ্যম
  4. বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
সহজাত আত্মিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজাত আত্মিক শক্তি
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৪৫.
সুশাসনের জন্য ' স্বচ্ছতা ও তথ্য ' সম্পর্কে মন্তব্য করেছে -
  1. এডিবি ব্যাংক
  2. এশীয় উন্নয়ন সংস্থা
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞা (Definition):
 • সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

বিশ্বব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি (World Bank's Perspective):
 •  বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ রিপোর্টে সুশাসনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করেছে:
- সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা,
- জবাবদিহিতা,
- উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো,
- স্বচ্ছতা ও তথ্য

 সুশাসনের গুরুত্ব (Importance of Good Governance):
 • সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৬.
সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তা বাস্তবায়নে আইনসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করাকে বোঝায় -
  1. ঐকমত্য
  2. সংবেদনশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
• স্বচ্ছতা:
- সাধারণভাবে স্বচ্ছতা বলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তা বাস্তবায়নে আইনসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করাকে বোঝায়।
কেবল তাই নয়, স্বচ্ছতা দ্বারা এটিও বুঝানো হয় যে, আইনসম্মতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যারা প্রভাবিত হবে তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তথ্য প্রবাহ অবাধ করা এবং তথ্য জানার অধিকার উন্মুক্ত করা। একথার অর্থ হচ্ছে তথ্য প্রবাহ যেন সকল স্তরের জনগণের কাছে সহজবোধ্য হয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছায়।

• আইনের শাসন:
- সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আইনের শাসন। সুশাসনের জন্য এমন আইনগত কাঠামোর উপস্থিতি প্রয়োজন যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সক্ষম। নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের বিশেষভাবে প্রয়োজন মানবাধিকার সংরক্ষণ, বিশেষ করে চরম দরিদ্র ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য। আবার এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

• সংবেদনশীলতা:
- সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই সংবেদনশীলতা।

• ঐকমত্য:
- যেকোন রাষ্ট্রেই নানা মত ও স্বার্থের উপস্থিতি বিদ্যমান। এই সব মত ও স্বার্থের মাঝে সমন্বয় সাধন করে সামাজিক ঐক্য ধরে রাখা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। সুশাসনের ক্ষেত্রে এরূপ সমন্বয় সাধন কাজ এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল অংশ লাভবান হয়। এভাবে মত ও স্বার্থের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক একরূপতা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৭.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' এর মূল প্রবক্তা কে? 
  1. জন লক 
  2. এরিস্টটল 
  3. মন্টেস্কু 
  4. কার্ল মার্কস
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু 
ব্যাখ্যা

• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৪৮.
'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন-
  1. ক) চার্লস ডিকেন্স
  2. খ) রবার্টসন
  3. গ) রিচার্ড ভেসেল
  4. ঘ) অগবার্ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগবার্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগবার্ন
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ নিয়ে বিখ্যাত কিছু বইয়ের নাম হলো:
- 'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম এফ অগবার্ন। তাঁর মতে, সংস্কৃতির ধরন দুটি। যথা- বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি।
- 'A Christmas Carol' গ্রন্থের রচয়িতা চার্লস ডিকেন্স,
- 'Stoicism and the Art of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা ডোনাল্ড জে রবার্টসন,
- 'Nazism and War' গ্রন্থের রচয়িতা রিচার্ড ভেসেল।

২,০৪৯.
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ কীভাবে প্রভাবিত হয়?
  1. অন্যায়কে সমর্থন করে
  2. মিথ্যাবাদীকে পছন্দ করে
  3. অসৎ কাজে উৎসাহিত হয়
  4. সৎভাবে বাঁচতে চায়
সঠিক উত্তর:
সৎভাবে বাঁচতে চায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎভাবে বাঁচতে চায়
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৫০.
কোনটি সুশাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়?
  1. ক) দুর্নীতিমুক্ত সরকার
  2. খ) রাজনৈতিক কোন্দল
  3. গ) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  4. ঘ) চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক কোন্দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক কোন্দল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান থাকে। যার ফলে হরতাল, পিকেটিং, জ্বালাও-পোড়াও করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৫১.
আইনের শাসন, বিকেন্দ্রীকরণ, জনকল্যাণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কে সুশাসনের মূল নিয়ামক হিসেবে অভিহিত করে-
  1. ক) IDA
  2. খ) ADB
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) UNO
সঠিক উত্তর:
খ) ADB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ADB
ব্যাখ্যা
Asian Development Bank বা ADB সুশাসন সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে এর চারটি উপাদান চিহ্নিত করে। এগুলো হলোঃ আইনের শাসন, বিকেন্দ্রীকরণ, জনকল্যাণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। (সূত্রঃ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক)
২,০৫২.
প্লেটোর মতে কোন সদ্গুণ রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয়?
  1. প্রজ্ঞা
  2. সাহস
  3. মিতাচার
  4. ন্যায়
সঠিক উত্তর:
ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- প্লেটোর মতে, ন্যায় হলো রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণ যা প্রতিটি অংশকে তার সঠিক ভূমিকা পালন করতে এবং সামগ্রিক সামঞ্জস্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি ব্যক্তি-আত্মায় যুক্তি (Reason) ও সাহস (Spirit) এবং ভোগপ্রবৃত্তি (Appetite)-এর সঠিক বিন্যাস এবং রাষ্ট্রে শাসক, সৈনিক ও উৎপাদক শ্রেণির নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অর্জিত হয়। 
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) নৈতিক আলোচনায় এরিস্টটলের সদগুণ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা, মানববিদ্যা গবেষণাপত্র।

২,০৫৩.
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইনের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সুস্পষ্ট
  2. গতিশীল
  3. সর্বজনীন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন:
⇒ অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, 'সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন'।
⇒ জন অস্টিন বলেন, 'আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ'।
আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি।
⇒ আইন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণের মতামত থেকে আইনের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন:
• ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক।
• সুস্পষ্ট।
• গতিশীল।
• দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।
• সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত।
• সর্বজনীন।
• বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি।
• বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫৪.
মানবিক সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটে কীসের প্রভাবে?
  1. মূল্যবোধ
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৫৫.
’গণতন্ত্রে হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ আছে’ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. স্যার জন সীলি
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. সি এফ স্ট্রং
  4. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
সঠিক উত্তর:
স্যার জন সীলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার জন সীলি
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে। 
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- স্যার জন সীলির মতে, ’গণতন্ত্রে হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ আছে’।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৫৬.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. রাষ্ট্র
  2. বিদ্যালয়
  3. সমাজ
  4. পরিবার
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,০৫৭.
নেতৃত্বের কোন গুণটি সুশাসনের জন্য অপরিহার্য নয়?
  1. দায়িত্ববোধ
  2. ন্যায়নীতি
  3. দূরদৃষ্টি
  4. স্বার্থপরতা
সঠিক উত্তর:
স্বার্থপরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্থপরতা
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- নেতৃত্বের বৈধতা বলতে বোঝায় নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আস্থা।
- সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বৈধতা অর্জন করে।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,০৫৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা কোন বিষয়ের বিকাশ সাধন করে?
  1. ব্যক্তি সত্তার
  2. ভোগবাদী চিন্তার
  3. সাম্প্রদায়িক চেতনার
  4. প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সত্তার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা একটি গভীর ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া যা ব্যক্তি সত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নৈতিক মান এবং আদর্শের বিকাশ ঘটায়।
- এটি ব্যক্তির মধ্যে আত্ম-সচেতনতা, আত্ম-মূল্যায়ন ও আত্ম-উন্নয়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- ব্যক্তির মধ্যে সৃজনশীলতা, বিচার-বিবেচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এবং নৈতিক যুক্তি শক্তির বিকাশ ঘটায়।
- ব্যক্তিকে সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।
- এভাবে মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে এবং ব্যক্তি সত্তার সামগ্রিক বিকাশ সাধন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা , নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৫৯.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের মাধ্যম?
  1. পরিবার
  2. রাজনৈতিক দল
  3. ধর্মীয় সংগঠন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ হলো বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনুকূল মনোভাব, মূল্যবোধ ও মতাদর্শে একজনকে শিক্ষিত ও দীক্ষিত করার প্রক্রিয়া।
রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের মাধ্যমসমূহ হলো:
- পরিবার
- রাজনৈতিক দল
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ধর্মীয় সংগঠন
- পেশাগত সংগঠন
- গণমাধ্যম
- অন্তরঙ্গ গোষ্ঠী প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস প্রোগ্রাম : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,০৬০.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?
  1. ক) শিষ্টাচার
  2. খ) সংস্কৃতি
  3. গ) সততা
  4. ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
খ) সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অংশ। উল্লেখযোগ্য সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে - শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়নতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
২,০৬১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১১
  3. অনুচ্ছেদ ১৭
  4. অনুচ্ছেদ ২১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১১
ব্যাখ্যা

সুশাসন সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার,
- অনুচ্ছেদ ১৭: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ,
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা,
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,
- অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা,
- অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতা,
- অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,০৬২.
মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ কী?
  1. সাংস্কৃতিক মিশ্রণ
  2. অর্থনৈতিক উন্নতি
  3. নৈতিকতার অভাব
  4. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণ: 
- দারিদ্রতা;
- নৈতিকতার অভাব;
- রাজনৈতিক কারণ;
- অসম বণ্টন ব্যবস্থা;
- পারিবারিক কারণ;
- সঙ্গ দোষ;
- অনুকরণ;
- স্যাটেলাইট চ্যানেল।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৩.
রাজনৈতিক ঐক্যমত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. দুর্নীতি
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. সুশাসন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ঐক্যমত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন:
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবােধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান -
  1. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
  2. নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
  3. পরমত সহিষ্ণুতা
  4. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
সঠিক উত্তর:
পরমত সহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমত সহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
• পরমত সহিষ্ণুতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• স্বচ্ছতা:
- রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

• আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

• ন্যায়পরায়ণতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

• সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

• দায়বদ্ধতা:
- নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৬৫.
‘'ধাক্কা না খেয়ে পথ চলার অধিকার যদি আমার থাকে তবে অপরের কর্তব্য হলো আমার পথ ছেড়ে দেওয়া।’' উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) অধ্যাপক হবহাউস
  2. খ) ম্যাকেঞ্জি
  3. গ) অধ্যাপক স্পেনসার
  4. ঘ) অধ্যাপক ডাইসি
সঠিক উত্তর:
ক) অধ্যাপক হবহাউস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধ্যাপক হবহাউস
ব্যাখ্যা
• অধ্যাপক হবহাউস বলেছেন, ‘'ধাক্কা না খেয়ে পথ চলার অধিকার যদি আমার থাকে তবে অপরের কর্তব্য হলো আমার পথ ছেড়ে দেওয়া।’'
• ম্যাকেঞ্জি বলেছেন যে, 'কর্তব্য হচ্ছে মানুষের এমন এক ধরনের বিশেষ কাজ, যা আমাদেরকে করা উচিত।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,০৬৬.
নিম্নের কোন গ্রন্থটি গোবিন্দ চন্দ্র দেব রচিত?
  1. Mortal and others
  2. Law of the Constitution
  3. Idealism and Progress
  4. Utilitarianism
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
ব্যাখ্যা
গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য।
- তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

⇔ গোবিন্দ চন্দ্র দেবের প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Idealism and Progress (1952)
- Idealism: A New Defence and A New Application (1958), 
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- Aspiration of the Common Man (1963),
- The Philosophy of Vivekananda and the Future of Man (1963),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- Buddha: the Humanist (1969), 
- Parables of the East (1984), 
- My American Experience (1993)।

অন্যদিকে,
- Mortal and others বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত,
- Utilitarianism জন স্টুয়ার্ট মিল রচিত,
-"Law of the Constitution" অধ্যাপক ডাইসি রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়?
  1. সহমর্মিতা
  2. জবাবদিহিতার মানসিকতা
  3. সহিষ্ণু আচরণ
  4. শিষ্ঠাচার ও সৌজন্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
সহমর্মিতা রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়। এটি সামাজিক মূল্যবোধ।

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৬৮.
সুশাসন নিয়ে 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. African Development Bank
  2. United Nations Development Programme
  3. International Monetary Fund
  4. European Economic Community
সঠিক উত্তর:
European Economic Community
উত্তর
সঠিক উত্তর:
European Economic Community
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community (EEC)।
- EEC, যা পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) হিসেবে পরিচিত, সুশাসনের গুরুত্ব এবং এর প্রচারের জন্য বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে।
- EEC সুশাসনকে একটি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে যার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
- এটি তার বিভিন্ন নীতিমালা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, এবং সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে সুশাসনের প্রচার এবং বাস্তবায়ন করে।

তথ্যসূত্র - European Economic Community ওয়েবসাইট।

২,০৬৯.
‘সুবর্ণ মধ্যক‘ হলো-
  1. ক) একটি জ্যামিতিক ধারণা
  2. খ) একটি সংশয়বাদী ধারণা
  3. গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  4. ঘ) কোন কিছুর প্রাচুর্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক বা গোল্ডেন মিন হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থা। এটি একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
২,০৭০.
সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্র নয় -
  1. পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার রোধ
  2. সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
  3. মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ
  4. বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার রোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার রোধ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।য়
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং,
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,০৭১.
ঐশ্বরিক মতবাদের প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) সেন্ট টমাস একুইনাস
  2. খ) ডেভিড হিউম
  3. গ) সেন্ট অগাস্টিন
  4. ঘ) সেন্ট গ্রেগরী
সঠিক উত্তর:
গ) সেন্ট অগাস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেন্ট অগাস্টিন
ব্যাখ্যা
ঐশ্বরিক মতবা
• ঐশ্বরিক বা বিধাতার সৃষ্টি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন।
• এ মতবাদের মূল কথা হলো, রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে ঈশ্বর বা বিধাতার ইচ্ছানুযায়ী।
• শাসক বা রাজা হলো ঈশ্বরের প্রতিনিধি।
• মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সেন্ট অগাস্টিন মূলত এই চিন্তার প্রবক্তা।
• জন অব সেলিস বেরী, সেন্ট টমাস একুইনাস, সেন্ট গ্রেগরী, ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই এই মতবাদ বিশ্বাস করতেন।
• সৃষ্টিকর্তাকে যেমন অমান্য করা যায় না, তদ্রুপ তাঁর প্রতিনিধি রাজাকেও অমান্য করা যায় না।
• শাসন করার ক্ষেত্রে রাজা ঈশ্বর ছাড়া আর কারো কাছে দায়বদ্ধ নয়।
• এ কারণে রাজার স্থায়ীত্ব জনগণের ওপর নির্ভরশীল নয়।
• শাসকগণ একইসঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান এবং ধর্মীয় প্রধান। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি , এস এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭২.
মূল্যবোধের উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয় কোনটিকে?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. কর্তব্যবোধ
  3. সহনশীলতা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।

মূল্যবোধের উপাদান:
→ শ্রমের মর্যাদা,
→ সামাজিক ন্যায়বিচার,
→ নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
→ শৃঙ্খলাবোধ,
→ সহনশীলতা,
→ সহমর্মিতা,
→ আইনের শাসন,
→ নাগরিক চেতনা ও
→ কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৭৩.
কোনটি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. সংসদীয় ব্যবস্থা
  2. দক্ষ আমলাতন্ত্র
  3. আইনের শাসন
  4. শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
- সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা। এর অর্থ হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন না থাকলে কখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,০৭৪.
নৈতিক অধিকার কোথায় থেকে আসে? 
  1. মানুষের বিবেক
  2. সামাজিক নৈতিকতা
  3. ন্যায়বোধ 
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না।
- নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।


• আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
 যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৭৫.
যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পদ ও সুযোগের সঠিক বণ্টন কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. অর্থনৈতিক সাম্য
  3. নাগরিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

♦ সাম্যের বিভিন্ন দিক:
⇒ স্বাভাবিক সাম্য:
- জন্মগতভাবে সব মানুষ সমান। অর্থাৎ, সকল মানুষের মূল্য ও অধিকার জন্মগতভাবে সমান।

⇒ সামাজিক সাম্য:
- সমাজে ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় ।

⇒ অর্থনৈতিক সাম্য:
- যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পদ ও সুযোগের সঠিক বণ্টন। অর্থাৎ, সমাজের সব সদস্য যাতে সমানভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।

⇒ নাগরিক সাম্য:
- ব্যক্তিগত নাগরিক অধিকার ও সুযোগে সমান অধিকার প্রদান। এর মাধ্যমে সব নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সুযোগ দেওয়া
হয় ৷

⇒ রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সমান অধিকার। এখানে ব্যক্তির রাজনৈতিক অধিকার যেমন ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইত্যাদি সমান থাকে।

⇒ আইনগত সাম্য: আইনের কাছে সকল মানুষ সমান। আইন সকলের জন্য একেবারে সমান এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না৷

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৭৬.
'সাহসিকতা' কোন ধরণের সততা?
  1. ক) পরকেন্দ্রিক সততা
  2. খ) আত্মকেন্দ্রিক সততা
  3. গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততা
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) আত্মকেন্দ্রিক সততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আত্মকেন্দ্রিক সততা
ব্যাখ্যা
সততার শ্রেণীবিন্যাস
সততা ও সদগুণাবলী অসংখ্য। অনেকেই সততাকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা:
- (ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা 
- (খ) পরকেন্দ্রিক সততা এবং 
- (গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততা।

(ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা : এ ধরনের সততা মূখ্যত ব্যক্তির নিজের কল্যাণ সাধনের উপযোগী। তাই বলে সততা যে শুধু ব্যক্তির কল্যাণে সীমিত থাকবে এমন নয়। কেননা যেহেতু ব্যক্তি সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেহেতু ব্যক্তির কল্যাণ সমাজ কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত। আত্মকেন্দ্রিক সততার কতকগুলো উপভাগ দেয়া হবে :
(১) সাহসিকতা : মানুষের দুঃখভীতিকে জয় করার শক্তিকে সাহসিকতা বলা হয়। ভবিষ্যতের বৃহত্তর এবং মহৎ উদ্দেশ্য লাভের জন্যে বর্তমানের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার শক্তি হল সাহসিকতা। মনোবল, ধৈর্য, অধ্যবসায়, দৈহিক সাহস ইত্যাদি এ শ্রেণীর সততার অন্তর্গত।
(২) মিতাচার : ব্যক্তিগত কল্যাণ ও সামাজিক কল্যাণ লাভের ইচ্ছা ও বিচারবুদ্ধির মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে মিতাচার বলা হয়। মানুষ কল্যাণ লাভের জন্যে সংযত ও বিচারবুদ্ধিসন্মত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
(৩) পরিশ্রম ও অধ্যবসায় : সাময়িক আরাম-আয়েশ তুচ্ছ করে উচ্চতর কল্যাণ লাভের জন্যে দেহ ও মনের উৎকর্ষ সাধন করা ব্যক্তির অবশ্য করণীয় ; পরিশ্রম ও অধ্যবসায় ছাড়া জীবনের সীমাহীন সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। সুতরাং মানুষকে মানুষ হিসাবে বাঁচতে হলে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের অনুশীলন আবশ্যক।
(৪) মিতব্যয়িতা : মিতব্যয়িতা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের উৎকর্ষ বিধানের জন্যে অপরিহার্য। বাক্য, কার্য ও চিন্তায় মিতব্যয়ী হওয়া মানুষের উচিত। আর্থিক মিতব্যয়িতাই শুধু পালনীয় নয়। মানুষের ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন দিকে মিতব্যয়িতার অভ্যাস বাঞ্ছনীয়। মিতব্যয়িতা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই আনয়ন করে না, সমাজের কল্যাণও সাধন করে।

উৎস: সিভিক এডুকেশন- ১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
২,০৭৭.
কত সালে বিশ্ব ব্যাংক 'সুশাসন' প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে ১৯৯২ সালে।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

২,০৭৮.
‘Power Corrupts, absolute Power tends to corrupt absolutely’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) উড্রো উইলসন
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) আব্রাহাম লিংকন
  4. ঘ) লর্ড অ্যাক্টন
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড অ্যাক্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড অ্যাক্টন
ব্যাখ্যা
- ‘Power Corrupts, absolute Power tends to corrupt absolutely’ অর্থাৎ ‘ক্ষমতা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় এবং নিরংকুশ ক্ষমতা দুর্নীতিকেও নিরংকুশ করে তুলে’ উক্তিটি করেছেন - লর্ড অ্যাক্টন।
- Lord Acton was an English Catholic historian, politician and writer.

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,০৭৯.
কোনটিকে সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড বলা হয়?
  1. সাম্য
  2. স্বাধীনতা
  3. আইন
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধকে সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড বলা হয়।

​মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

• ​সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. উইলিয়াম (R. M. William) এর মতে "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড যার আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি পরিচালিত এবং যার মানদণ্ডে সমাজস্থ মানুষের কার্যাবলীর ভালমন্দ বিচার করা হয়।"

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮০.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. সরকারি চাকুরি
  2. সম্পত্তি ভোগ
  3. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  4. দায়মুক্তি
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি ভোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি ভোগ
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন - জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮১.
'The Idea of Justice' বইটি কে লিখেছেন?
  1. অমর্ত্য সেন
  2. জন রলস
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
অমর্ত্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা

The Idea Of Justice:
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন।
- এটি ন্যায়বিচার বা বিচার সম্পর্কিত একটি যুগান্তকারী বই যা জন রলসের আদর্শিক ন্যায়বিচার তত্ত্বের সমালোচনা করে বাস্তবভিত্তিক ও তুলনামূলক আলোচনার ওপর জোর দেয়।
- বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।
 
উল্লেখ্য,
• অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৫১ সালে আইএসসি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং তারপর অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন ইংল্যাণ্ডে কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন। এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
- ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন।

উৎস: Britannica.

২,০৮২.
উদ্দেশ্য নৈতিকতার আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. উদ্দেশ্য
  2. ফলাফল
  3. প্রক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ফলাফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলাফল
ব্যাখ্যা

◉ প্রশ্নের অপশন অনুসারে - সঠিক উত্তর: খ) ফলাফল।

উদ্দেশ্য/পরিণামবাদী (Teleological/Consequentialist) নৈতিকতা
উদ্দেশ্যমুখী নৈতিক মতবাদ হল একটি নৈতিক দর্শন যা বলে যে একটি কাজের নৈতিকতা তার ফলাফলের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, যদি একটি কাজের ফলাফল ইতিবাচক হয়, তবে সেটি নৈতিকভাবে সঠিক এবং যদি ফলাফল নেতিবাচক হয়, তবে সেটি নৈতিকভাবে ভুল।

- উদ্দেশ্যবাদের অপর নাম পরিণামবাদ [Consequentialism]। এই মতবাদ অনুযায়ী, একটি কাজের উদ্দেশ্য নয়, বরং তার ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ।
- Teleological শব্দটি Greek টার্ম "telos," শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো "End" বা পরিণাম; এবং logos যার অর্থ Science বা বিজ্ঞান।
- সুতরাং, এটি এমন একটি নৈতিক তত্ত্ব, যেখানে কর্তব্য বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয় সেই লক্ষ্য বা পরিণতির ফলাফল ভালো বা মন্দ হওয়ার উপর।

সূত্র:
- ব্রিটানিকা: [Link]

২,০৮৩.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে 'শুদ্ধাচার' হচ্ছে-
  1. নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  2. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  3. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদন্ড
  4. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,০৮৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় কোন দুটি বিষয়ের ওপর?
  1. ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব
  2. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা
  3. আইন ও শাস্তি
  4. পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতা
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন যেমন গণতন্ত্রের প্রাণ, তেমনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও সুশাসনের প্রাণ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- যে সরকার ব্যবস্থায় বা প্রশাসনে জবাবদিহিতার নীতি কার্যকর হয় এবং যে সরকার ও প্রশাসন যত বেশি স্বচ্ছ সেখানে তত বেশি সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দায়িত্বশীলতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ। 
- গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল বলেই সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করে।
- সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথম পত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

২,০৮৫.
UNDP সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. সকলের অংশগ্রহণ
  2. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  3. সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
  4. সংবেদনশীলতা
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীল প্রশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীল প্রশাসন
ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীল প্রশাসন সুশাসনের উপাদান নয়।

UNDP ও সুশাসন:

- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
২,০৮৬.
প্লেটোর মতে, শাসক ন্যায়বান হলে কোনটি নিস্প্রয়োজন?
  1. সংবিধান
  2. প্রশাসন
  3. আইন
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা

আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮৭.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয় কত তারিখে?
  1. ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫
  2. ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ 
  3. ১ জানুয়ারি, ২০০৪
  4. ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৩
সঠিক উত্তর:
৩১ অক্টোবর, ২০০৩ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ অক্টোবর, ২০০৩ 
ব্যাখ্যা

⇒ জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৪০ | পক্ষ: ১৯২ (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের হিসাব অনুযায়ী)
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েরবসাইট।

২,০৮৮.
E-Governance এর সুবিধা হলো-
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) দ্রুততা
  3. গ) সহজলভ্যতা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সরকারি সেবা বা শাসন কার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারই হলো E-Governance বা Electronic Governance. এর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সেবা কার্যক্রম সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা।
এই পদ্ধতির ফলে জনগণ ঘরে বসেই দ্রুততার সহিত সরকারি সেবা কার্যক্রম পেতে সক্ষম হয়। ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, সহজলভ্যতা প্রভৃতি আনয়নের মাধ্যমে E-Governance সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
২,০৮৯.
নিচের কোনটি আধুনিক মূল্যবোধ নয়?
  1. সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা
  2. বাল্যবিবাহ বন্ধ করা
  3. বিধবা বিবাহ প্রথা চালু
  4. সৎ মানুষকে পছন্দ করা
সঠিক উত্তর:
সৎ মানুষকে পছন্দ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ মানুষকে পছন্দ করা
ব্যাখ্যা
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ। 
- "বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা" আধুনিক মূল্যবোধ। 

আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,০৯০.
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রথম তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে -
  1. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

⇒ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে বিস্তাড়িত ভাবে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।

অন্যদিকে,
- ইউএনডিপি সুশাসনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে, বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক থেকে, যখন তারা তাদের প্রতিবেদনে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের একটি মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে।

⇒ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) মূলত ইসলামি অর্থনীতির নীতির ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে।
- যদিও এই সংস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে, তবে সুশাসনের ধারণাটি প্রথম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।

⇒ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিশ্বব্যাংকের ১৯৮৯ সালের প্রতিবেদনের পরবর্তী।
তাছাড়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সুশাসনের ধারণাটি প্রথম তুলে ধরার পরিবর্তে দুর্নীতি প্রতিরোধে বেশি মনোযোগী।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

২,০৯১.
__________ সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
  1. দুর্নীতির বিস্তার
  2. ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
সুশাসন বলতে বোঝায় এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন বজায় থাকে। সুশাসনের লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রমকে জনবান্ধব ও কার্যকর করা।

সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য:
স্বচ্ছতা (Transparency): সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতি ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণ সচেতন থাকে এবং তথ্য পাওয়া সহজ হয়।
জবাবদিহিতা (Accountability): সরকারি কর্মকর্তা ও নেতারা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
আইনের শাসন (Rule of Law): সকল নাগরিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনের অধীন থাকেন এবং সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
নাগরিক অংশগ্রহণ (Participation): জনগণ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯২.
'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী' বলা আছে সংবিধানের -
  1. ক) ২১ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১৯ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ২৯ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।'

অন্যদিকে,
- ১৯ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সুযোগের সমতার কথা।
- ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা'র কথা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,০৯৩.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
  1. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  2. নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

২,০৯৪.
ধর্মীয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সহিংস পন্থায় সাধারণ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধন করে থাকে- তা কেন ধরনের সন্ত্রাস?
  1. ক) ধর্মীয় সন্ত্রাস
  2. খ) রাজনৈতিক সন্ত্রাস
  3. গ) আদর্শভিত্তিক সন্ত্রাস
  4. ঘ) রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
সঠিক উত্তর:
গ) আদর্শভিত্তিক সন্ত্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আদর্শভিত্তিক সন্ত্রাস
ব্যাখ্যা
কোন গোষ্ঠী তাদের সুনির্দিষ্ট আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিতে পারে। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ মসুলমান, হিন্দু, খিস্টান এবং ইহুদি সহ সকল সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে আদর্শভিত্তিক সন্ত্রাস বিরাজমান। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম- দশম শ্রেণির র্বোড বই।
২,০৯৫.
কার্ল মার্ক্স কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রাশিয়া
  2. চীন
  3. জার্মানি
  4. ইংল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা
কার্ল মার্ক্স: 
- কার্ল মার্ক্স ছিলেন একজন জার্মান বিপ্লবী চিন্তাবিদ, ইতিহাসবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি মার্কসবাদ (Marxism) নামক রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তার প্রবক্তা।
- জন্ম: ৫ মে, ১৮১৮ – ট্রিয়ার, প্রুশিয়া (বর্তমান জার্মানি)।
- মৃত্যু: ১৪ মার্চ, ১৮৮৩ – লন্ডন, ইংল্যান্ড।
- কার্ল মার্ক্সের চিন্তাভাবনা বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
- রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশে মার্ক্সবাদের ভিত্তিতে বিপ্লব হয়েছে।

মার্ক্সের বিখ্যাত রচনাগুলো:
- কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো (Manifesto of the Communist Party) – ১৮৪৮ সালে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের (Friedrich Engels) সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশ করেন।
- দাস কাপিটাল (Das Kapital) – শ্রম, মূলধন ও পুঁজিবাদ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী বই।

মার্কসবাদ (Marxism):
- সমাজে দুটি প্রধান শ্রেণি আছে: ধনী ও মালিক শ্রেণি (বুর্জোয়া) এবং শ্রমিক শ্রেণি (প্রলেতারিয়েত)। 
- ধনীরা শ্রমিকদের শ্রম শোষণ করে মুনাফা অর্জন করে।
- সমাজে শ্রেণিসংগ্রাম (class struggle) চলতেই থাকে।
- মার্ক্সের মতে, এক সময় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা করবে এবং ধনসম্পদ সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে – এটিই কমিউনিজম।

উৎস: Britannica.
২,০৯৬.
ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে  কিসের অভাবে?
  1. মূল্যবোধ অভাবে
  2. সুশাসনের অভাবে
  3. আইনের শাসনের অভাবে
  4. নৈতকতার অভাবে
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসনের অভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসনের অভাবে
ব্যাখ্যা
• আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- সবাই আইনের অধীন।
- আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে। 
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
২,০৯৭.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) ভবিষ্যৎবাণী
  4. ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।

(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
২,০৯৮.
“Considerations on Representative Government” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. এরিস্টটল
  2. ম্যাকাইভার
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”
- “Utilitarianism”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,০৯৯.
'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয় - 
  1. নারীদের ক্ষেত্রে
  2. সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
  3. প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে
  4. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
বিপরীত বৈষম্য:
- সমতার প্রশ্নে "বিপরীত-বৈষম্যের" (reverse discrimination) ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।
- অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।
- অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়।
- বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন।
- আর একেই বলে 'বিপরীত-বৈষম্যের' নীতি।

⇒ তাই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে 'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০০.
কোন মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে?
  1. সামাজিক
  2. গণতান্ত্রিক
  3. রাজনৈতিক 
  4. নৈতিক 
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। 
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
-  গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। 
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। 
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
- সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
- শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
- অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে।
- সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। 
- নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। 
- আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
- হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।