বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৯ / ৩৯ · ১,৮০১১,৯০০ / ৩,৮২৯

১,৮০১.
'মানুষ হও এবং মরে বাঁচ' - এটি কার উক্তি?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জি. ই. ম্যূর
  3. প্লেটো
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
হেগেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেগেল
ব্যাখ্যা
জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল:
- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- তিনি মনে করেন যে, পরমাত্মা বা পরমসত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা এবং জীবাত্মাও, জড়বস্তু পরমাত্মারই খণ্ড প্রকাশ মাত্র।
- হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল। তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়। তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়। মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে। কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে। হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক। কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না। অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,৮০২.
কিসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. নীতিবোধের মাধ্যমে 
  2. সাম্যর মাধ্যমে
  3. আচার-আচরণ 
  4. সহমর্মিতার মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮০৩.
একজন যােগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশকীয় মৌলিক গুণাবলীর শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. দক্ষতা
  2. সরলতা
  3. নৈতিকতা
  4. মানবতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন এবং নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণটি হলো নৈতিকতা।
- নৈতিকতা হলো সততা, ন্যায়বিচার, এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা।
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপককে তার কর্মক্ষেত্রে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। 

কারণ:
- নৈতিকতা একজন প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের প্রতি জনগণের এবং সহকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- উচ্চ নৈতিকতা দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা প্রদান করে।
- নৈতিকতা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং সুনাম নিশ্চিত করে।
- নৈতিক প্রশাসক ও ব্যবস্থাপক তার দলের মধ্যে সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়।

যদিও মানবতা, দক্ষতা, এবং সরলতা সবই গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী, নৈতিকতা একটি ভিত্তি প্রদান করে যার উপর এই গুণাবলী গড়ে উঠতে পারে। তাই, নৈতিকতা একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ বলে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,৮০৪.
নিচের কোনটি UNHCR নির্ধারিত সুশাসনের উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. সংবেদনশীলতা
  4. কেন্দ্রীয়করণ
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয়করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয়করণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) কেন্দ্রীয়করণ।

সুশাসনের উপাদান:
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়, সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।

- UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি। এগুলো হলো:
১. স্বচ্ছতা (Transparency).
২. দায়বদ্ধতা (Responsibility).
৩. জবাবদিহিতা (Accountability).
৪. অংশগ্রহণ এবং (Participation).
৫. সংবেদনশীলতা (Responsiveness).

⇒ কেন্দ্রীয়করণ সুশাসনের উপাদান নয়; বরং সুশাসনে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,৮০৫.
'নির্বাচনে অংশগ্রহণ' কোন ধরণের সাম্য?
  1. আইনগত
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। 
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৬.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবে কী দেখা যায়?
  1. সহনশীলতা
  2. সুশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবে দেখা যায় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:

- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮০৭.
কোন মতবাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ সুখ ও আনন্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা?
  1. আত্মস্বার্থবাদ
  2. উপযোগবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ :
- উপযোগবাদ নীতিশাস্ত্রে একটি প্রভাবশালী মতবাদ।
- উপযোগবাদ মতে, কোনো কাজ সঠিক যদি তা সুখ বা আনন্দ বৃদ্ধি করে, এবং ভুল যদি তা দুঃখ বা যন্ত্রণা সৃষ্টি করে।
- এই মূল্যায়ন শুধু কাজ সম্পাদনকারীর জন্য নয়, বরং সেই কাজ দ্বারা প্রভাবিত সকলের জন্য প্রযোজ্য।
- এই মতবাদের উৎস ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ জেরেমি বেনথাম এবং জন স্টুয়ার্ট মিল।
- উপযোগবাদ এর লক্ষ্য সর্বোচ্চ সুখ ও আনন্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং দুঃখ ও যন্ত্রণা হ্রাস করা।
- উপযোগবাদ নীতিশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা মানুষের কাজের নৈতিকতা পরিণামের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করে।

উৎস: Britannica.
১,৮০৮.
ধর্মচর্চা কোন ধরনের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. আইনগত স্বাধীনতা
  3. সামাজিক স্বাধীনতা
  4. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- যে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলে।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- এ স্বাধীনতা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যক্তির বাহ্যিক কিছু আচরণের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণবিহীনতা।
- যেমন ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।

• আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
- সামাজিক স্বাধীনতা মানুষকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়।
- তার মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৮০৯.
জাতিসংঘ মতে সুশাসনের উপাদান নয়- 
  1. অংশগ্রহণ
  2. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
সঠিক উত্তর:
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ -প্রকাশ করে। ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
-  জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।

• জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
• উপাদানগুলো হলো:  অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১,৮১০.
‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা‘ এটি কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. গণতান্ত্রিক
  4. নৈতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
- রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

এগুলো হলো—
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
→ রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
→ সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
→ প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৮১১.
নিচের কোনটি গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  2. নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  3. একক দলীয় ব্যবস্থা
  4. জনগণের সম্মতি
সঠিক উত্তর:
একক দলীয় ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক দলীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন বা কর্তৃত্ব। 
- গণতন্ত্রকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
i) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
ii) পরোক্ষ গণতন্ত্র।
- গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
• জনগণের সম্মতি,
• বহু দল ব্যবস্থা,
• স্বাধীন বিচারব্যবস্থা,
• নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা,
• আইনের শাসন,
• সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
• প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার,
• দায়িত্বশীল সরকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৮১২.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
​- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
​- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

​• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
​- স্বচ্ছতা,
​- আইনের শাসন,
​- সকলের অংশগ্রহণ,
​- সংবেদনশীলতা,
​- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
​- সমতা,
​- ন্যায্যতা,
​- জবাবদিহিতা
​- কৌশলগত লক্ষ্য।

​উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১,৮১৩.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. আপেক্ষিকতা
  2. বিভিন্নতা
  3. স্থিতিশীলতা
  4. পরিবর্তনশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা

•  স্থিতিশীলতা নৈতিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: 
• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল।
- নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

• বিভিন্নতা:
- সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

• আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়।
- একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে।
- অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

• পরিবর্তনশীলতা:
- ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
- যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি ,  উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৪.
'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'- উক্তিটি করেছেন -
  1. ম্যাককরনি
  2. মারটিন মিনোগ
  3. মিশেল ক্যামডেসাস
  4. ল্যান্ডেল মিল
সঠিক উত্তর:
মিশেল ক্যামডেসাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
-  উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

• মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে,
- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'। 

⇒ ম্যাককরনি:
- "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
- “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

⇒ ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৮১৫.
রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ কোনটি?
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) কর আদায়
  3. গ) দেশ রক্ষা
  4. ঘ) নিরক্ষরতা দূরীকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরক্ষরতা দূরীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরক্ষরতা দূরীকরণ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে সেগুলো হলো তার অপরিহার্য বা আবশ্যিক কার্যাবলি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে আইন প্রণয়ন করা, দেশ রক্ষা করা বা নিরাপত্তা বিধান করা, রাজস্ব আদায় করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রের যাবতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ হলো ঐচ্ছিক কাজ। যেমনঃ নিরক্ষরতা দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৮১৬.
কত সালে প্রথম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI ( Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
- ১৯৯০ সালে প্রথম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে মানব কল্যাণকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি নতুন পদ্ধতির সূচনা করা হয়।
- মানব উন্নয়ন সূচক ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১,৮১৭.
নিচের কোনটি জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. রাজনীতি
  3. সুশাসন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হল এমন একটি শাসন ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করা হয়।
- এতে জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়, যাতে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন টেকসইভাবে অর্জিত হয়।
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন৷ 
- সুশাসন হল যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।
- সুশাসন ছাড়া দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অসমতা বাড়ে, যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৮.
নিচের কোন রিপাের্টটি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত?
  1. ক) Governance for Sustainable Human Development
  2. খ) Governance and Development
  3. গ) Governance : Sound Development Management
  4. ঘ) Government and Development
সঠিক উত্তর:
খ) Governance and Development
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Governance and Development
ব্যাখ্যা
▪ বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। 
▪ ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে। 
▪ ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে। 
▪ ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।   

তথ্যসূত্র:- সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,৮১৯.
মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে-
  1. ক) আইএমএফ
  2. খ) এডিবি
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) আইডিবি
সঠিক উত্তর:
গ) ইউএনডিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
ইউএনডিপি মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে। মানব উন্নয়ন সূচকের প্রথম ধারণা দেন ড. অমর্ত্য সেন।
মানব উন্নয়ন সূচক-২০২০ এ শীর্ষ দেশ নরওয়ে। বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম।
উৎসঃ ইউএনডিপির ওয়েবসাইট।
১,৮২০.
UNCAC জাতিসংঘের কী বিষয়ক কনভেনশন?
  1. শিশুশ্রম রোধ
  2. দুর্নীতি রোধ
  3. কূটনৈতিক শিষ্টাচার
  4. অবৈধ অভিবাসন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি রোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি রোধ
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েরবসাইট।

১,৮২১.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার -
  1. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  2. দায়মুক্তি
  3. সরকারি চাকুরি
  4. আইনের চোখে সমতা লাভ
সঠিক উত্তর:
আইনের চোখে সমতা লাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের চোখে সমতা লাভ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
→ সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে। যেমন:  জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার। সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২২.
জোহানেসবার্গ প্ল্যান অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (JPOI)-তে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কোনটি স্বীকৃত?
  1. অর্থনৈতিক বৃদ্ধি
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ 
  4. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

• জোহানেসবার্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (JPOI) ও সুশাসন:
- জোহানেসবার্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (Johannesburg Plan of Implementation – JPOI) ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন’ থেকে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- এই পরিকল্পনায় সুশাসন (Good Governance) টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত।
- এটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
- JPOI-এর মূল লক্ষ্য হলো- পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- মূলত, JPOI উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একযোগে পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের পথে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করে।
- পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করা না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন অসম্ভব।

- পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- 
- দারিদ্র্য বিমোচন,
- ক্ষুধা হ্রাস,
- নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন,
- উপযুক্ত আবাসন,
- নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার,
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা (যেমন HIV/AIDS, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা প্রতিরোধ)। 

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]। 

১,৮২৩.
প্লেটোর মতে সদ্গুণ বা মৌলিক সততা কয়টি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১ : স্নাতক শ্রেণি: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২৪.
নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায় -
  1. মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে
  2. বাস্তবতার নিরিখে নির্দিষ্ট আচরণের মানদণ্ড নির্ধারণ সংক্রান্ত আচরণবিধি
  3. দৈনন্দিন কার্যকলাপ ত্বরান্বিত করণে প্রণীত নৈতিক নিয়ম, মানদণ্ড বা আচরণবিধি
  4. উপরের তিনটিই সঠিক
সঠিক উত্তর:
উপরের তিনটিই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের তিনটিই সঠিক
ব্যাখ্যা
According to Oxford Reference, Code of ethics means-
The ethical standards that are adopted by an organization and expected to be followed by its employees. Well known voluntary codes of ethics exist in many multinational companies and are used frequently in the public and not-for-profit sectors.

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায় কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নৈতিকতার মানদণ্ডে নির্ধারিত পেশাগত দৈনন্দিন দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিচিতি ও প্রযোজ্য নিয়মনীতি।
------------

নীতিবিদ্যা:
নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ethics এসেছে গ্রিক শব্দ ethica ও ল্যাটিন শব্দ ethice থেকে। এ শব্দ দু’টি এসেছে গ্রিক শব্দ ethikos থেকে। অর্থাৎ ethics এর আদি উৎস হলো ethos যার অর্থ হলো ‘চরিত্র’, ‘আচার-ব্যবহার’, ‘রীতি-নীতি’ বা ‘অভ্যাস’। কাজেই শাব্দিক অর্থে নীতিবিদ্যা বলতে বুঝায় ‘মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞান’।নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণের ভালত্ব-মন্দত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। অতএব, যে বিদ্যা মানুষের আচার-ব্যবহার রীতি-নীতি, অভ্যাস ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে নীতিবিদ্যা বলে।

নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় বা ভালো-মন্দ সম্পর্কিত আলোচনা। সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ বা ইচ্ছাকৃত ক্রিয়ার মূল্যবিচার করাই হলো এর মূল আলোচ্য বিষয়। নীতিবিজ্ঞান হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা মানুষের আচরণ যথোচিত কি অনুচিত, ভাল কি মন্দ তা বিচার করে। অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি নীতিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন আচরণের সঠিকতা বা ভালত্ব সম্পর্কিত অধ্যয়ন শাখা বলে।

উইলিয়াম লিলি তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’ মূলত: নীতিবিদ্যা হলো এমন একটি জ্ঞানশাখা যেখানে সমাজে বসবাসকারী মানুষের ঐচ্ছিক আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, যথার্থতা-অযথার্থতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়, আচরণের মানদন্ড ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয় এবং তার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তাহলে নীতিবিদ্যা সম্পর্কে বলা যায়:
- নীতিবিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিদ্যা।
- নীতিবিদ্যা ঐচ্ছিক আচরণের ভালো-মন্দ সম্পর্কিত বিদ্যা।
- নীতিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা যেমন তাত্ত্বিক, তেমনি ব্যবহারিক।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১,৮২৫.
'মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ' উক্তিটি করেছেন -
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. এইচ এম জনসন
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. এফ ই মেরিল
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৬.
কিসের মাধ্যমে মানুষ 'নৈতিকতা ও অনৈতিকতা'-এর পার্থক্য নির্ধারণ করে -
  1. সুশাসন
  2. সততা
  3. মূল্যবোধ
  4. কর্তব্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে ।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়। সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৮২৭.
কর্তব্যের জন্য কর্তব্য ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. হার্বার্ট স্পেনসার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট
– ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
– ইমানুয়েল কান্টকে কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৮.
কীসের অভাবে ব্যাক্তি সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না? 
  1. সৌজন্যবোধ
  2. সহমর্মিতা 
  3. শৃঙ্খলা
  4. শালীনতা 
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-
ক. নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল।
- কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

খ. শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

গ. সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

ঘ. সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রভাব নয় কোনটি?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  3. বেকারত্বের হার হ্রাস
  4. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া
সঠিক উত্তর:
বেকারত্বের হার হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকারত্বের হার হ্রাস
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩০.
'ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি'- এই সংজ্ঞা প্রদান করেন -
  1. জাতিসংঘ
  2. ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি। 
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
 - দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। 
- স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।

⇒ 'ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল' মনে করে "সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি।
⇒ জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
⇒ বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩১.
রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণতার জন্যে প্রয়োজন?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. আইনগত স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনগত, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আবশ্যক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১,৮৩২.
মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে কোনটির বিকাশ ঘটে?
  1. সহনশীলতার
  2. স্বাধীতার
  3. নীতিবোধের
  4. আইনের শাসনের
সঠিক উত্তর:
নীতিবোধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতিবোধের
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।

এছাড়াও, 
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৮৩৩.
সামাজিক অবক্ষয় বলতে মূলত কী বোঝায়?
  1. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  2. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  3. মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
  4. প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
- মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান: নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৩৪.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলে-
  1. ক) সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় না
  2. খ) নাগরিক জীবন বিকশিত হয় না
  3. গ) পুঁজি বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে
  4. ঘ) বেকারত্ব হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
গ) পুঁজি বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পুঁজি বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
এর মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় না। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১,৮৩৫.
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে-
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে
  2. সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
  3. রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নতি হয়
  4. সার্বিক জীবনাচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন একটি সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো "সামাজিক বৈষম্য দূর করা", কারণ এটি সুশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে নৈতিকতা, সততা ও মানবিকতা শেখায়, যা সমাজে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন নিশ্চিত করলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা হয়।
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যার ফলে সামাজিক বৈষম্য কমে যায়।

অন্যদিকে,
→ সুশাসনের মূল নীতি হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, যাতে একক কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি পুরো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
→ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নতি সুশাসনের একটি লক্ষ্য হতে পারে, তবে মূল্যবোধ শিক্ষার সরাসরি প্রভাব এটি নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা জীবন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়, কিন্তু এটি সুশাসনের সরাসরি প্রভাব নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৬.
কোন দেশের প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণী কমিটিতে চাপ প্রয়োগকারী সদস্যদের স্থান দেওয়া হয়?
  1. বাংলাদেশ
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন। অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন। অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

- উচ্চপর্যায়ের আমলারা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তাদের প্রভাবিত করে থাকে।
- উল্লেখ্য যে যুক্তরাজ্যের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নীতি নির্ধারণী কমিটিতে প্রায়ই চাপ প্রয়োগকারী সদস্যদের স্থান দেওয়া হয়।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৭.
শূন্যবাদ যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভূত তার অর্থ -
  1. সব
  2. কিছুই না
  3. সর্বজনীন
  4. কিছু
সঠিক উত্তর:
কিছুই না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিছুই না
ব্যাখ্যা
শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।
- শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।

উৎস: Britannica.
১,৮৩৮.
'আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান' উক্তিটি কার?
  1. গেটেল
  2. ফুঁকো
  3. এরিস্টটল
  4. রাসেল
সঠিক উত্তর:
গেটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গেটেল
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক:
- আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।
- অন্যদিকে, নৈতিকতারও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
- নীতিবান ব্যক্তি তার কর্মে ও কথায় সবসময় সৎ, সদাচারী, সৌজন্যমূলক ও সৎচিন্তাশীল হয়ে থাকে।
- এসব গুণ সমাজজীবনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য।
- বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, 'আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৩৯.
বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এর ফলে কোনটি বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. রাষ্ট্রের বিকাশ
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: 
- অধিকাংশ রাষ্ট্রেই, বিশেষ করে অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোতে তত্ত্বগতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও দেখা যায় যে, জনগণের বাক স্বাধীনতায় ক্ষমতাসীন সরকার হস্তক্ষেপ করে থাকে।
- জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে না।
- সংবাদপত্র তথা মিডিয়ার ওপর সরকার সেন্সরশীপ আরোপ করে।
- এর ফলে জনগণ রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা বুঝতে পারে না।
- সরকার সব সময় মুক্ত আলোচনাকে ভয় পায় এবং বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।
- এর ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
১,৮৪০.
আইনের শাসন এর অর্থ কি?
  1. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  2. আবেদন করার অধিকার
  3. আইনের প্রাধান্য স্বীকার
  4. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
আইনের প্রাধান্য স্বীকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের প্রাধান্য স্বীকার
ব্যাখ্যা
- আইনের শাসনের মূল বক্তব্য হলো আইনের চোখে সবাই সমান। কেউই আইনের উর্ধ্বে নয় এবং সবাই আইনের অধীন।
অর্থ্যাৎ, আইনের শাসন মূলত আইনের প্রাধান্য স্বীকার করা।
- আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পূর্বশর্ত হচ্ছে - আইনের শাসন।
সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১,৮৪১.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. ন্যাযতা
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
ন্যাযতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যাযতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাক করণী বলেছেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

সুশাসনের স্তম্ভ:
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা, 
ii) স্বচ্ছতা, 
iii) আইনী কাঠামো, 
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪২.
অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র কীসের জন্য হুমকিস্বরূপ?
  1. সমাজতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র
  3. সামন্তবাদ
  4. পুঁজিবাদ
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৮৪৩.
সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ (social values):
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবস্থা ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টুয়ার্ট সি. ডডএর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড কুখোন-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- নিকোলাস রেসার-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব গুণাবলি যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৪৪.
বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি-
  1. মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  2. মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা
  3. প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা ও প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অর্থাৎ উপরের সবকটি।

→ বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে৷

⇒ মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা: 
- এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানুষের সম্মান ও অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
-  এটি বাংলাদেশের প্রজাতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
-  এর মধ্যে রয়েছে বাকস্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা, এবং আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষা।
-  সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণের জন্য মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।

⇒ প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ এবং ১১-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। 
- এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূলনীতি, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
-  স্থানীয় সরকার, সংসদীয় নির্বাচন, এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অংশগ্রহণ বাস্তবায়িত হয়।

∴ সুতরাং সঠিক ‍উত্তর উপরের সবগুলো।


উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৮৪৫.
‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক কে?
  1. অ্যালান বল
  2. ম্যাকাইভার
  3. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  4. আর্নেস্ট বার্কার
সঠিক উত্তর:
অ্যালান বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালান বল
ব্যাখ্যা
• অ্যালান বল:
→ রাজনৈতিক পদ্ধতির ঐক্যবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
→ অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) তাঁর Comparative Politics and Government নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilising the political process” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৬.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বিমূর্ত ও অলিখিত
  2. বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি
  3. ভাল-মন্দ বিচার করে
  4. সর্বজনীন ও অপরিবর্তনীয়
সঠিক উত্তর:
সর্বজনীন ও অপরিবর্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বজনীন ও অপরিবর্তনীয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৭.
সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার মূল উপাদান কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. আর্থিক সক্ষমতা
  3. ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
  4. সাংস্কৃতিক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:

- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, ‘‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজে মানুষের আচরণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- ন্যায়বিচার,
- ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- নৈতিকতা,
- সাম্য,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৮৪৮.
'জিরোসাম গেম' (Zero-Sum Game) কোন তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত?
  1. বাস্তববাদ (Realism)
  2. মার্ক্সবাদ (Marxism)
  3. গঠনবাদ (Constructivism)
  4. উদারতাবাদ (Liberalism)
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ (Realism)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ (Realism)
ব্যাখ্যা

জিরোসাম গেম:
- জিরো সাম গেম (Zero Sum Game) হচ্ছে বিখ্যাত ‘গেম থিওরি’র একটা অংশ।
- এটা দিয়ে বোঝায় যেকোনো ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক পক্ষ কোনো নির্দিষ্ট জিনিস পেতে চাইলে, এক পক্ষ যে পরিমাণ সম্পদ অর্জন করবে, অন্য পক্ষ ঠিক সে পরিমাণ সম্পদ হারাবে।
- এতে নিট ফলাফল শূন্য হবে।

⇒ জিরো সাম গেমের বৈশিষ্ট্য:
১। এ ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় যোগান সব সময়ই কম থাকবে।
২। সম্পদের পরিমাণ একই থাকবে। কোনো কিছুর সংযোজন বা বিয়োজন ঘটবে না।
৩। সব পক্ষের জন্যই সম্পদের নেট পরিবর্তন হবে শূন্য।

উল্লেখ্য, 
⇒ বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।
- মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৮৪৯.
আইন ও নৈতিকতার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
  1. আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি হয়
  2. আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই
  3.  উভয়ই শাস্তি দেয়
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা

- আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দিতে হয়, নৈতিকতা ভঙ্গ করলে শাস্তি নেই। 

- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

উল্লেখ্য,
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫০.
সুশাসন শাসন ব্যবস্থার কোন দিকটিকে নির্দেশ করে?
  1. পরিমাণগত
  2. সামষ্টিক
  3. গুণগত
  4. বাহ্যিক
সঠিক উত্তর:
গুণগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণগত
ব্যাখ্যা
শাসন শব্দের সাথে সু প্রত্যয় যুক্ত করে সুশাসন শব্দটি তৈরি হয়েছে। সুশাসন শাসনের গুণগত দিককে নির্দেশ করে।
নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ভালোভাবে শাসন পরিচালনা করাই হলো সুশাসন।

বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার জন্যে সুশাসনের অনুপস্থিতিকে দায়ী মনে করে।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,৮৫১.
"The Spirit of Laws" গ্রন্থটি কার? 
  1. দার্শনিক মন্টেস্কু
  2. টি এইচ গ্রীন
  3. এরিস্টটল
  4. মেকিয়াভেলী
সঠিক উত্তর:
দার্শনিক মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দার্শনিক মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: 
- ১৭৪৮ সালে ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কু তার "The Spirit of Laws" গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপুর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রতিকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।

এছাড়াও,
- টি এইচ গ্রীন এর মতে, শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি। 
- রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক, এরিস্টটল।
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক, নিকোলা মেকিয়াভেলী।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫২.
মূল্যবোধ সামাজিক _____ এর উন্মেষ ঘটায়
  1. ক) ন্যায় ও অন্যায়
  2. খ) ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ
  3. গ) পারিবারিক ও রাজনৈতিক শিক্ষার
  4. ঘ) সততা ও নিষ্ঠার
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
- মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত করে মূল্যবোধ।
- এছাড়াও মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ এর উন্মেষ ঘটায়।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।   

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৫৩.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে -
  1. ন্যায়পরায়ণতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. দায়বদ্ধতা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা, 
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- দায়বদ্ধতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৪.
বিশ্বব্যাংকের Worldwide Governance Indicators (WGI) রিপোর্ট অনুসারে, সুশাসনের কয়টি সূচক রয়েছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৮টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
ব্যাখ্যা
 বিশ্বব্যাংকের The Worldwide Governance Indicators (WGI) রিপোর্ট অনুসারে, সুশাসনের ছয়টি সূচক রয়েছে:
- Voice and Accountability
- Political Stability and Absence of Violence
- Government Effectiveness
- Regulatory Quality
- Rule of Law
- Control of Corruption

Source: http://info.worldbank.org/governance/wgi/
১,৮৫৫.
গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয় কোনটিকে?
  1. আইনসভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. নির্বাচকমন্ডলী
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্রে আইনসভার ভূমিকা:
→ আইনসভা সরকারের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ।
→ বস্তুত: সংবিধান প্রণয়ন কিংবা আইন প্রণয়নের মত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বলতে গেলে আইন সভা থেকেই একটি রাষ্ট্রের কার্যক্রম সূচনা হয়।
→ জনগনের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইনসভার সদস্য হন। যার জন্য আইনসভাকে গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয়।
→ গণতন্ত্রের সাফল্য এবং বিকাশে আইনসভার ভূমিকা অসামান্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫৬.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়-
  1. ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
  2. খ) শক্তিশালি আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র
  4. ঘ) গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় - আইনের যথার্থ প্রয়োগ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
১,৮৫৭.
নীতিবিদ্যার আলোচনায় মানুষের কোন ধরনের আচরণ বিবেচনায় নেওয়া হয়?
  1. অনিচ্ছাকৃত ক্রিয়া
  2. দৈহিক ক্রিয়া 
  3. অনৈতিক ক্রিয়া
  4. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- "ঐচ্ছিক ক্রিয়া" নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মূলত মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বা ইচ্ছাপ্রসূত কর্মকে বোঝানো হয়।
- এটি এমন এক ধরনের কর্ম যা মানুষ নিজ সিদ্ধান্ত ও চিন্তার ভিত্তিতে করে থাকে। নীতিবিদ্যার প্রধান কাজ হলো মানুষের এই ঐচ্ছিক আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা। 

- নীতিবিদ্যা শুধু ঐচ্ছিক ক্রিয়াকেই মূল্যায়নের যোগ্য বলে মনে করে। কারণ, ইচ্ছার অনুপস্থিতিতে কোনো কার্য নৈতিক বিচারে স্থান পায় না। তাই ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, এর ধাপসমূহ, ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায়—এসবই নীতিবিদ্যার আওতাভুক্ত বিষয়।  

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৮.
রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো-
  1. ক) রাজনৈতিক আদর্শ
  2. খ) রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা
  3. গ) রাজনৈতিক আবেগ
  4. ঘ) রাজনৈতিক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজনৈতিক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজনৈতিক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে সেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে বুঝায় যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
কোন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ও উন্নয়ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনমিতি হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
১,৮৫৯.
সুশাসনের ক্ষেত্রে ওয়াচডগ বা অতন্দ্র প্রহরীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে -
  1. সরকার
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. স্বাধীন গণমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ক্ষেত্রে 'ওয়াচডগ বা অতন্দ্র প্রহরী':
- সুশাসনের ক্ষেত্রে ওয়াচডগ বা অতন্দ্র প্রহরীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্বাধীন গণমাধ্যম।

⇒ সংবাদক্ষেত্রকে বলা হয় দ্য ফোর্থ এস্টেট।
- ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আর আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে তাদের সমুচিত জবাব দেয়ার অধিকার রাখে।
- কোনো কোনো গণমাধ্যমকর্মী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অপব্যবহার করে ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহণযোগ্যতা ও অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
- কিছু কিছু সংবাদপত্র ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, একপেশে খবর, অদূরদর্শী এবং পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য নৈতিকতাবিবর্জিত সংবাদ প্রচার করে বিচার বিভাগ তথা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
- অনেক সময় মিডিয়া ট্রায়ালের ফলে বিচারক এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ বিব্রত হয়, যা অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।
- তবুও বলতে হয়, এদেশে সুশাসন যতটুকু প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে এজন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অন্যতম।
- মানুষের তথ্য জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের তথ্য জানানোর গভীর দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সামাজিক অঙ্গীকার নিয়ে সংবাদপত্র প্রতিনিয়ত অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১,৮৬০.
‘সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন’- কে বলেছেন?
  1. আব্রাহাম লিংকন
  2. রুশো
  3. জন লক
  4. ম্যাকাইভার 
সঠিক উত্তর:
রুশো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুশো
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক:
- স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
- কেউ কেউ স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে বিরোধ খুঁজে পান।
- লর্ড এ্যাক্টন, টকভিল স্বাধীনতা ও সাম্যকে পরস্পর বিরোধী আদর্শ বলে মনে করেন। 
- লর্ড এ্যাকটন বলেন, “সাম্যের নেশা স্বাধীনতার আশাকে ব্যর্থ করেছে।”
- কিন্তু তাঁদের ধারণা সঠিক নয়, কেননা স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তা করা বুঝায় না।
- স্বাধীনতা বলতে নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা বোঝায়।

• সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক নিম্নরূপ-
১। সাম্যের মাঝে স্বাধীনতার মূল্য নিহিত। সাম্য নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা বিধান করে। সাম্য সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টনের ব্যবস্থা করে।
২। সাম্য ও স্বাধীনতার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। পরস্পর পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক। স্বাধীনতা উপভোগের জন্য সাম্যের প্রয়োজন। অধ্যাপক টনি বলেন, “সাম্য স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য। সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতাকে কল্পনা করা যায় না।”
৩। দার্শনিক রুশো বলেন, “সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন।” সাম্য না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা। অধ্যাপক লাস্কি বলেন, “রাষ্ট্র যত বেশি সমতা বিধান করবে, স্বাধীনতার উপভোগ তত বেশি নিশ্চিত হবে।” সাম্য সকলকে পর্যাপ্ত সুবিধা দান করে সম্পদের সমবণ্টনকে নিশ্চিত করে। 

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬১.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) লালফিতার দৌরাত্ম্য
  2. খ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  3. গ) সাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) অবনমিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ক্ষমতা কাঠামোর স্বতন্ত্রীকরণ, বিকেন্দ্রীকরণ, ই-গভর্ন্যান্স প্রভৃতি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসনে গতি সঞ্চার হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৮৬২.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া
  3. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

→ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়৷
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

→ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

→ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৩.
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে কত সালে?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন ৷
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন ।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৪.
নিচের কোনটি মানবাধিকারের উৎস?
  1. রাষ্ট্রীয় সংবিধান
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. জাতিসংঘ
  4. সামাজিক প্রথা
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
• মানবাধিকার:
- ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সর্বজনীন ঘোষণা গৃহীত হয়। যা বিশ্ব মানবাধিকারের সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
- বিশ্ব মানবাধিকারের এ বৈশ্বিক ঘোষণাটি ৩০ টি ধারা বিশিষ্ট।
- বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ১০ ডিসেম্বর।
- মানবাধিকারের উৎস ও সংরক্ষক হলো জাতিসংঘ।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই মানবাধিকার প্রযোজ্য।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৬৫.
বিশ্বব্যাংক কোন রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. World Development Report
  2. Governance and Development
  3. Policy Paper on Governance
  4. Sound Development Management
সঠিক উত্তর:
Governance and Development
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Governance and Development
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৮৬৬.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
  1. আইনের শাসন
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. স্বাধীন প্রচারমাধ্যম
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হলো:
• আইনের শাসন,
• স্বচ্ছতা,
• জবাবদিহিতা,
• গ্রহণযোগ্যতা,
• দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্ৰশাসন,
• অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা,
• স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
• দায়বদ্ধতা,
• ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
• রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা,
• অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,
• বাকস্বাধীনতা,
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
• বৈধতা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

১,৮৬৭.
ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
  3. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  4. জবাবদিহিতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

⇒ ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয় দুর্নীতি বৃদ্ধি।

ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।

⇒ ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
• সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
• জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায় ৷
• স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় ৷
• দক্ষতা বৃদ্ধি পায় ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৮৬৮.
সুশাসনের প্রথম আভাস পাওয়া যায় -
  1. ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে
  2. ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
  3. বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে
  4. বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
সঠিক উত্তর:
বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

⇒ সুশাসনের প্রথম আভাস পাওয়া যায় বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
 - ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

১,৮৬৯.
একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে উঠে কিসের ওপর ভিত্তি করে?
  1. ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. খ) ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. গ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব (Importance of Democratic Values):
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।  গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে উঠে। 
২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি কর্মঠ  ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।
 ৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে। 
৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয় ।
 ৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যাক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে। 
৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয় : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয় পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রার জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। 
৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা, দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।
 
তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৭০.
নিম্নলিখিত কোনটি মূল্যবোধের উপাদান?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সহনশীলতা
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. বর্ণিত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
• মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- সহনশীলতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- সহমর্মিতা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি মূল্যবোধের উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

১,৮৭১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা
  2. সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
  3. নিজের অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের কর্তব্য হলো:
- নিয়মিত কর প্রদান করা,
- আইন মান্য করা,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা,
- সংবিধান মেনে চলা,
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা,
- সন্তানদের শিক্ষা দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৭২.
‘ Protestant Ethics and the Spirit of Capitalism' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ম্যাক্স ওয়েবার
  2. খ) এমিল ডুর্খেইম
  3. গ) টমাস হবস
  4. ঘ) জন লক
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা
জার্মান সমাজবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা ম্যাক্স ওয়েবার রচিত বই : Protestant Ethics and the spirit of Capitalism, Economy and Society, The religion of India etc. রেফারেন্সঃ সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি- হাবিবুর রহমান।
১,৮৭৩.
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) কত সালে থেকে মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে?
  1. ১৯৮৫
  2. ১৯৯০
  3. ১৯৯৫
  4. ২০০০
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index, HDI) রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)।
- ১৯৯০ সাল থেকে UNDP মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে।
- HDI হল একটি পরিমাপের সূচক, যা একটি দেশের মানব উন্নয়নের বিভিন্ন মাত্রার মূল্যায়ন করে।
-এটি মূলত তিনটি প্রধান দিক নিয়ে গঠিত:
১)-জীবনকাল: এটি একটি দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু মূল্যায়ন করে।
২)- শিক্ষা: এটি সাক্ষরতার হার এবং শিক্ষার স্তর বিবেচনা করে।
৩)-জীবনযাত্রার মান: এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
-UNDP প্রতি বছর এই রিপোর্ট প্রকাশ করে, যা বিভিন্ন দেশের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ও তুলনামূলক অবস্থান নির্দেশ করে।
-HDI-র মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মিলিত চিত্র পাওয়া যায়, যা উন্নয়ন নীতি ও প্রোগ্রাম প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]
১,৮৭৪.
বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে কী সমস্যা তৈরি হচ্ছে?
  1. শিক্ষার উন্নতি
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  4. নতুন প্রজন্মের নৈতিক সংকট
সঠিক উত্তর:
নতুন প্রজন্মের নৈতিক সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন প্রজন্মের নৈতিক সংকট
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়:
- বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের অভাব একটি গভীর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- পিতা-মাতা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষের মধ্যে এই সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের সামনে নৈতিক সংকট তৈরি করছে।
- পরিবারে শিশুরা তাদের পিতামাতার আচরণ থেকে শিক্ষা নেয়, তাই পিতা-মাতাদের উচিত নৈতিক আদর্শ অনুসরণ করা।
- শিক্ষকদেরও নিজেদের নৈতিক মান উন্নত করতে হবে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখাতে পারেন।
- রাজনীতিবিদদের মধ্যে সৎ নেতৃত্বের অভাব সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- এই অবক্ষয় থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে নৈতিকতার মূল্য দেওয়া এবং সমাজে সৎ জীবনযাত্রার মান প্রতিষ্ঠা করা।
- মূল্যবোধের অভাব সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়, তবে আমরা যদি নৈতিকতার পথে চলি, তবে একটি উন্নত, ন্যায্য সমাজ গঠন সম্ভব।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
১,৮৭৫.
দার্শনিক 'মন্টেস্কু' কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) অষ্ট্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
- দার্শনিক 'মন্টেস্কু' ফ্রান্সের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি 'The Spirit of Laws' গ্রন্থের রচয়িতা।
- তিনি ১৭৪৮ সালে এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- তাঁর মতে, কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে একচেটিয়া সরকারি ক্ষমতা প্রদান করা ঠিক নয়।
১,৮৭৬.
নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি হিসেবে কোনটিকে বিবেচনা করা হয়?
  1. রাষ্ট্র
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  3. পরিবার
  4. সমাজ
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ মূল্যবোধের একটি উপাদান। 
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে।
- নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়।
- সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উল্লেখ্য মূল্যবোধের অন্যান্য উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, 
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
-  সহনশীলতা, 
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৮৭৭.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক কত সালে সুশাসন সম্পর্কিত নীতিমালা গ্রহণ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ২০০১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে বিশ্বের প্রথম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক হিসেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) সুশাসন সম্পর্কিত নীতিমালা বা পলিসি গ্রহণ করে।
- সংস্থাটির মতে একটি দেশের উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়াই হলো গভর্ন্যান্স।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ক ADB এর তিনটি কৌশলের একটি হলো সুশাসন।
- ADB এর মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ওয়েবসাইট)
১,৮৭৮.
‘সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা‘ কোন ধরণের মূল্যবোধ?
  1. ক) ধর্মীয়
  2. খ) সাংস্কৃতিক
  3. গ) সামাজিক
  4. ঘ) আধ্যাত্মিক
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
 ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।

→ সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
,
→ অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা,
→ অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া,
→ রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১,৮৭৯.
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক সরকারি হটলাইন কোনটি?
  1. ক) ৩৩৩
  2. খ) ১০৯
  3. গ) ৯৯৯
  4. ঘ) ১০৬
সঠিক উত্তর:
খ) ১০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০৯
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হটলাইন – ১০৯
দুদক হটলাইন – ১০৬
সরকারি তথ্য ও সেবা - ৩৩৩
জরুরি সেবা - ৯৯৯।
(সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১,৮৮০.
ই-গভর্নেন্স এর মূল কাজ কী?
  1. শিক্ষার উন্নয়ন
  2. স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  4. নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Governance.
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ - Good Governance.
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ - ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে - সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল উপাদান - কম্পিউটার।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম - তথ্য প্রযুক্তি।
- ই-গভর্নেন্স  এর স্তম্ভ - ৪ টি।
- ই-গভর্নেন্স মূল কাজ - নাগরিক সেবা বৃদ্ধি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৮৮১.
মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সুতরাং মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
- উপর্যুক্ত মূল্যবোধগুলো ভালো নাগরিক হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,৮৮২.
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রথম তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে-
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
  4. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

  ◉ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে বিস্তাড়িত ভাবে  বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।

অন্যদিকে,
→ ইউএনডিপি সুশাসনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে, বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক থেকে, যখন তারা তাদের  প্রতিবেদনে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের একটি মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে।

→  ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) মূলত ইসলামি অর্থনীতির নীতির ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে।
- যদিও এই সংস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে, তবে সুশাসনের ধারণাটি প্রথম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। 

→ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিশ্বব্যাংকের ১৯৮৯ সালের প্রতিবেদনের পরবর্তী।
 - তাছাড়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সুশাসনের ধারণাটি প্রথম তুলে ধরার পরিবর্তে দুর্নীতি প্রতিরোধে বেশি মনোযোগী।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

১,৮৮৩.
নিচের কোনটি সরকারকে অনানুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে?
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. গ) বিরোধী দল
  4. ঘ) মিডিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনেভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ, স্বার্থের ভিত্তিতে তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হন। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৮৪.
জাতীয় স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
  1. সকল নাগরিকের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
  2. নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার
  3. সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি
  4. বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে একটি জাতির পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন
সঠিক উত্তর:
বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে একটি জাতির পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে একটি জাতির পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৮৫.
’শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস’ কোন ধরনের অবক্ষয়?
  1. সামাজিক 
  2. নৈতিক 
  3. অর্থনৈতিক
  4. পারিবারিক 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ ও সুশাসনের অভাবজনিত সামাজিক অবক্ষয়:
- সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও সুশাসনের অভাব সমাজকে নষ্ট করে দেয়।
- সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে না।
- এতে মানুষের মধ্যে অসততা, অনাচার ও অন্যায়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

​সামাজিক অবক্ষয়সমূহ হলো:
- অপসংস্কৃতি, যুব সমাজের অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, আর্থ-সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দরিদ্রতা, খাদ্যে ভেজাল, সহিংসতা ও যুদ্ধমূলক সমস্যা, যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, মৌলবাদ, বর্ণবাদ, রাষ্ট্র কর্তৃক রাষ্ট্র আক্রমণ ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৮৮৬.
আধুনিক মূল্যবোধের ধরন কীরুপ?
  1. ক) পরিবর্তনশীল
  2. খ) অপরিবর্তনীয়
  3. গ) একমুখী
  4. ঘ) দ্বিমুখী
সঠিক উত্তর:
ক) পরিবর্তনশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ
• আধুনিক মূল্যবোধ বলতে সমাজের পরিবর্তনশীলতা কে বুঝায়।
• সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
• অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
• প্রাচীন অনেক মূল্যবোধ এখন আর নেই। এজন্যই মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৮৮৭.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, আইন মান্য করার কারণ- 
  1. শ্রদ্ধা
  2. শাস্তির ভয়
  3. নির্লিপ্ততা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ: 
• লর্ড ব্রাইস এর মতে,
১. নির্লিপ্ততা;
২. শ্রদ্ধা;
৩. সহানুভূতি;
৪. শাস্তির ভয়;
৫. যৌক্তিকতার উপলব্ধি।

উল্লেখ্য, 
- হবস, বেনহাম ও অস্টিন মতে, মানুষ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮৮.
কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে কী বলা হয়ে?
  1. সংবাদপত্র
  2. আইনপত্র
  3. শ্বেতপত্র
  4. সরকারি চিঠি
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
ব্যাখ্যা
শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৯.
'জীবনের নিরাপত্তা লাভ' ব্যক্তির কোন অধিকার?
  1. ব্যক্তিক অধিকার
  2. সামাজিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. ধর্মীয় অধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।
 
⇒ ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

⇒ ধর্মীয় অধিকার:
- স্বাধীনভাবে ধর্মগ্রহণ, পালন, ধর্ম পরিবর্তন ও নিজ ধর্মের বিকাশে কর্তব্য পালন, অন্য ধর্মের জন্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা দিতে বাধ থাকার স্বাধীনতাকে ধর্মীয় অধিকার বলে। ধর্মকে কেন্দ্র করে এক জাতির চাল-চলন ও আচরণ, বিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থা পৃথক হতে পারে। ধর্মীয় অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯০.
কোনটির মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়?
  1. জ্ঞানার্জন
  2. আইন কানুন
  3. স্বাধীনতা
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৮৯১.
সুবর্ণ মধ্যক হলো-
  1. একটি গাণিতিক ধারণা
  2. দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  3. কোন কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
  4. কোন কিছুর সর্বোচ্চ উপযোগিতা
সঠিক উত্তর:
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
ব্যাখ্যা
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থা। এটি একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
১,৮৯২.
সুশাসন নিশ্চিত করতে ই-গভর্নেন্স কোন উপাদান বাস্তবায়ন করে?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন 
  4. সমতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়। 
- ই-গভর্নেন্সের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শাসনব্যবস্থাকে সহজ ও উন্নত করা।

⇒ ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
- প্রশাসনকে গতিশীল করা।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
- নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
- জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
- ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা। 
- ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৮৯৩.
প্রাচীনকালে এথেন্স ও স্পার্টায় কোন ধরনের রাষ্ট্র প্রচলিত ছিল?
  1. বিশ্ব রাষ্ট্র
  2. জাতীয় রাষ্ট্র
  3. নগর রাষ্ট্র
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
নগর রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নগর রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• নগর রাষ্ট্র:
- প্রাচীন গ্রিসে এক একটি নগর ছিল এক একটি রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এথেন্স এবং স্পার্টা।
- এ নগর রাষ্ট্রগুলোর আয়তন ও জনসংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম।
- নগর রাষ্ট্রের সকল জনগণকে নাগরিক বলা হতো না।
- কেবল নগর রাষ্ট্রের যারা রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতো।
- অর্থাৎ রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনায় যারা অংশগ্রহণ করতো তাদেরকেই 'নাগরিক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো।
- উল্লেখ্য নারী, দাস ও বিদেশীরা এসব নগর রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচ্য হতো না।

উল্লেখ্য,
- বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রগুলো গ্রিসের নগররাষ্ট্র (City State) এর মতো নয়।
- বরং এগুলো এখন জাতি রাষ্ট্র (Nation State) হিসেবেই পরিগণিত।
- প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলোর অপেক্ষা বর্তমান আধুনিক জাতি রাষ্ট্রগুলো আয়তনে বড় এবং জনসংখ্যাও বেশি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৪.
সততা হলো মানুষের -
  1. ক) স্বভাবজাত প্রবণতা
  2. খ) স্বভাবজাত প্রবৃত্তি
  3. গ) অর্জিত প্রবণতা
  4. ঘ) সার্বিক বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
গ) অর্জিত প্রবণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্জিত প্রবণতা
ব্যাখ্যা
- সততা হলো জ্ঞান। 
- যে ব্যক্তি কল্যাণের স্বরূপ অনুধাবন করতে পারে সে সৎ কাজ না করে পারে না। 
- তাই সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা। 
- মানুষের শক্তি ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করার মধ্যে নিহিত রয়েছে সততার ভিত্তি। 
- তাই সততা এক ধরনের পরিমিতি, দু'টি অসদাচারের মধ্যবর্তিকা। 
- একদিকে আতিশয্য এবং অন্যদিকে অভাব। 
- নৈতিক নিয়ম অনুসারে প্রবৃত্তিকে বিচারবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি স্থাপনই সততা, অর্থাৎ মানব জীবনে প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি উভয়ের
পরিমিত অবদান অপরিহার্য।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৯৫.
জাতীয় উন্নয়ন বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) ব্যাক্তিগত
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
জাতীয় উন্নয়ন বলতে সামাজিক, রাজনৈতি, অর্থনৈতিক, ও সাংস্কৃতিক অবস্থার সার্বিক উন্নতিকে বুঝায়। মূল্যবোধের শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নকে তরান্বিত করে৷
১,৮৯৬.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে নিম্নের কোনটি হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. গণতন্ত্রের জনক
  2. জাতীয় রাষ্ট্রের প্রবক্তা
  3. সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা
  4. ধর্মীয় রাষ্ট্রের প্রবক্তা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় রাষ্ট্রের প্রবক্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় রাষ্ট্রের প্রবক্তা
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- তিনি আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু। তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৮৯৭.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কী?
  1. সুশাসন
  2. গনতন্ত্র
  3. সংস্কৃতি 
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৮৯৮.
“Ought implies can” - উক্তিটি কার প্রদত্ত?
  1. ক) হার্বার্ট স্পেন্সার
  2. খ) ইমানুয়েল কান্ট
  3. গ) ডেভিড হিউম
  4. ঘ) নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালি
সঠিক উত্তর:
খ) ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
- অনুমোদনযোগ্য অধিকার ভোগ করার সময় কিছু যৌক্তিক কাজ করার প্রয়োজন হয়। 
- ঐ যৌক্তিক কাজকেই কর্তব্য বলা হয়। মনে রাখতে হবে যে, সুবিধা ভোগ থেকে দায়িত্বের (burden) সৃষ্টি হয়, আর দায়িত্ব থেকে কর্তব্যের সৃষ্টি হয়। 
- কিন্তু দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্য একে অপরের বিপরীতমুখী কাজ নয়। কর্তব্য নৈতিক আইন মেনে চলে। 
- নৈতিক আইনানুযায়ী আমাদের কর্তব্য ও ব্যয় হলো নৈতিক আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা। 
- ইমানুয়েল কান্ট মনে করেন, “Ought implies can” অর্থাৎ “বিবেক সায় দিলে যে কোনো কাজ পারা যায়।” 
- অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কিত। যখন কারো কিছু করার অধিকার থাকবে, তখন ঐ কাজটি সঠিকভাবে করা তার কর্তব্য। 
 
Ought implies can, in ethics, the principle according to which an agent has a moral obligation to perform a certain action only if it is possible for him or her to perform it.
 
উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা। 
১,৮৯৯.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. পরিবার
  3. সামাজিক নৈতিকতা
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায়বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সামাজি ন্যায়বিচারের অর্থ ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধনের সকলের প্রতি বিচারের মানদন্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে।
- গনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি সামাজিক ন্যায়বিচার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৯০০.
'Nazism and War' বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) Richard Bessel
  2. খ) Anthony Storr
  3. গ) Michael Foley
  4. ঘ) Adam Alter
সঠিক উত্তর:
ক) Richard Bessel
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Richard Bessel
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ নিয়ে বিখ্যাত কিছু বইয়ের নাম-
'Nazism and War' গ্রন্থের রচয়িতা Richard Bessel,
'Irresistible' গ্রন্থের রচয়িতা Adam Alter,
Solitude গ্রন্থের রচয়িতা Anthony Storr,
The Age of Absurdity গ্রন্থের রচয়িতা Michael Foley।