বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৮ / ৩৯ · ১,৭০১১,৮০০ / ৩,৮২৯

১,৭০১.
দুর্নীতিকে দণ্ডের আওতায় এনে সরকারী কর্মচারী বিধিমালা প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ক) ২০১৬
  2. খ) ২০১৯
  3. গ) ২০১৭
  4. ঘ) ২০১৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০১৮
ব্যাখ্যা
২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ‘গুরুদণ্ড’ ও ‘লঘুদণ্ড’ নামক দুই ধরনের দণ্ড আরােপের বিধান রয়েছে।
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ।
(১) এই বিধিমালা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই বিধিমালা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা কর্মচারী ব্যতীত অন্যান্য সকল সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা :
(ক) রেলওয়ে সংস্থাপন কোড প্রযোজ্য হয় এমন ব্যক্তি;
(খ) মেট্রোপলিটান পুলিশের অধস্তন কর্মচারী;
(গ) পুলিশ পরিদর্শকের নিম্ন পদমর্যাদার পুলিশ বাহিনীর অন্য কোনো সদস্য;
(ঘ) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর অধস্তন কর্মকর্তা, রাইফেলম্যান ও সিগন্যালম্যান ;
জেলার এর নিম্ন পদমর্যাদার বাংলাদেশ জেলের অধস্তন কর্মচারী;
(চ) সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দিষ্টকৃত কোনো চাকুরী বা পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিগণ; 
(ছ) এমন কোন ব্যক্তি যাহার চাকুরীর শর্তাবলি, বেতন, ভাতাদি, পেনশন, শৃঙ্খলা ও আচরণ বা এতদসংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে চুক্তির মাধ্যমে বিশেষ বিধান করা হইয়াছে।
 
উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট। 
১,৭০২.
'সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত'-উক্তিটি কার?
  1. ক্লাইড ব্লুখোন
  2. এফ ই মেরিল
  3. এইচ এম জনসন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ব্লুখোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ব্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে, 'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'।
- ক্লাইড ব্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০৩.
বাংলাদেশে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
  1. ক) ২০১২
  2. খ) ২০১১
  3. গ) ২০১০
  4. ঘ) ২০০৮
সঠিক উত্তর:
ক) ২০১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২০১২
ব্যাখ্যা
• জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

এছাড়াও,
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো - দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
১,৭০৪.
এরিষ্টটলের মতে সততা কী?
  1. ধর্মীয় বিশ্বাসের ফল
  2. সামাজিক নিয়মের অনুসরণ
  3. মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
  4. জন্মগত প্রবৃত্তি
সঠিক উত্তর:
মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
ব্যাখ্যা

সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০৫.
Sociology is the science of society or of social phenomena.” উক্তিটি করেছেন কে?
  1. আলেকজান্ডার
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. জুলিয়াস সিজার
  4. এল এফ ওয়ার্ড
সঠিক উত্তর:
এল এফ ওয়ার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এল এফ ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে নাগরিকের আচার-আচরণ, রীতি- নীতি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্রের শাসন প্রণালীসহ নাগরিকের সামগ্রিক বিষয়াবলি সম্বন্ধে আলোচনা করে।
- সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে এল এফ ওয়ার্ড (L.F. Ward) বলেন, "Sociology is the science of society or of social phenomena.”

অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা  এসএসসি প্রোগ্রাম, ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৬.
নিচের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. আইন
  2. ভাষা
  3. প্রতীক
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি হলো একটি সম্প্রদায় বা গোত্রের সাধারণ বিশ্বাস, আচরণ, প্রথা তথা পুরো জীবন প্রণালি।
সংস্কৃতির সাধারণ উপাদানসমূহ হলো:
- প্রতীক
- ভাষা
- মূল্যবোধ
- প্রথা বা সাধারণ আদর্শ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
১,৭০৭.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো -
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) রাষ্ট্র
  4. ঘ) সমাজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
সভ্যতা:
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের প্রতিচ্ছবি বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৮.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎসের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. প্রথা
  2. ধর্ম
  3. জনমত
  4. বিচারকের রায়
সঠিক উত্তর:
জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনমত
ব্যাখ্যা
• আইনের উৎস (Sources of Law):
→ জন অস্টিনের মতে, আইনের উৎস একটি এবং তা হচ্ছে 'সার্বভৌমের আদেশ'।
→ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস হলো ৬টি; যথা : (১) প্রথা, (২) ধর্ম, (৩) বিচারকের রায়, (৪) ন্যায়বিচার, (৫) বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, (৬) আইনসভা।
→ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, 'জনমত'- আইনের উৎসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
→ তবে, ওপেনহাইম জনমতকেও আইনের উৎস বলে মনে করেছেন। কেননা জনমতের প্রভাবে অনেক সময় সরকার আইন প্রণয়ন বা প্রচলিত আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭০৯.
পরানীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. ক) মানুষের সামাজিক আচরণ
  2. খ) আচরণের ভালমন্দ নির্ণয় করা
  3. গ) নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি
  4. ঘ) অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার রক্ষক-সাধুপুরুষ ( Patron saint) রূপে খ্যাত সক্রেটিস থেকে শুরু করে হাল-আমলের দার্শনিকদের নৈতিক ভাবনাগুলোপর্যালোচনা করলে এর মধ্যে মোটামুটি চারটি ধারার সন্ধান পাওয়া যায়।
এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা। 
 
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্তআলোচনা।
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা।
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৭১০.
সুনাগরিকের গুণাবলী সম্পর্কে লর্ড ব্রাইস এর মতে কী কী গুণ থাকা উচিত?
  1. প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা, সহনশীলতা
  2. বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক
  3. বুদ্ধি, আত্মবিশ্বাস, কর্মদক্ষতা
  4. প্রজ্ঞা, আত্মবিশ্বাস, ভালোবাসা
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক
ব্যাখ্যা
• সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- লর্ড ব্রাইস এর মতে, সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হতে হলে তিনটি গুণ থাকা জরুরি:
১. বুদ্ধি - সুনাগরিকদের মধ্যে ভালো চিন্তা-ভাবনা এবং যুক্তির দক্ষতা থাকতে হবে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করেন।
২. আত্মসংযম - সুনাগরিকদের আত্মসংযম থাকতে হবে, অর্থাৎ তাদের ব্যক্তিগত আবেগ বা তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এতে তারা সমাজে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. বিবেক - সুনাগরিকের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ এবং সঠিক-ভুলের বুঝ থাকার প্রয়োজন, যাতে তারা সমাজের কল্যাণের জন্য কাজ করে এবং অন্যদের ক্ষতি না করে।

- এই তিনটি গুণ—বুদ্ধি, আত্মসংযম, এবং বিবেক—একজন নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে এবং তাকে তার দায়িত্ব পালন করতে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১১.
জনমত গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক?
  1. ক) তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) রাজনৈতিক শিক্ষা 
  4. ঘ) অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা 
সঠিক উত্তর:
খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
- জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক।
১,৭১২.
মূল্যবোধের উপাদান নয় কোনটি?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. অসহনশীলতা
  4. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
সঠিক উত্তর:
অসহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসহনশীলতা
ব্যাখ্যা
- অসহনশীলতা মূল্যবোধের উপাদান নয়।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজে কারও ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- এর ফলে সে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করে তার নিজের ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

২. সামাজিক ন্যায়বিচার:
- সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থ, ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন সকলের প্রতি বিচারের মানদণ্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে বসবাসকারী সকলের সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।

৩. শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

৪. সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও কিাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মত সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

এছাড়া, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা, সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৭১৩.
নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়?
  1. সুশাসন
  2. ন্যায়বিচার
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- সুশাসনের অর্থ হলো প্রশাসন, ন্যায়বিচার, নীতি এবং আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
- এর মাধ্যমে সমাজে সমতা, ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

উল্লেখ্য,
২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়। খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৪.
রাষ্ট্র আইন প্রণয়ন করে কেন?
  1. মানুষের মঙ্গলের জন্য
  2. বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য
  3. শত্রুর মোকাবিলা করতে 
  4. প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে
সঠিক উত্তর:
মানুষের মঙ্গলের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের মঙ্গলের জন্য
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৭১৫.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সামাজিক মাপকাঠি
  3. গ) বিভিন্নতা
  4. ঘ) আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয় এটি সুশাসনের একটি উপাদান।
যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তা ই মূল্যবোধ।
সামাজিক ন্যায়বিচার, নীতি ও ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি - মূল্যবোধের উপাদান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৭১৬.
কোন ধরনের সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রের নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে?
  1. রাজনৈতিক সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. আইনগত সাম্য
  4. অর্থনৈতিক সাম্য
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথাঃ
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

• সামাজিক সাম্য: 
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

• রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৭.
কোন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ নামে পরিচিত?
  1. গণতন্ত্র
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের 'প্রেসক্রিপশন' নামে পরিচিত প্রত্যয়টি হলো সুশাসন (Good Governance)।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে "সুশাসন" ধারণাটি চালু করে এবং এটিকে তাদের প্রেসক্রিপশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।

⇒ ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
১,৭১৮.
অ্যারিস্টটল তাঁর নিকোমেকীয়ান এথিক্স-এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে কোন নীতির উপর জোর দেন?
  1. চরমপন্থা অবলম্বন
  2. জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
  3. আত্মার বিভাজন অবলম্বন
  4. জ্ঞান অর্জন অবলম্বন
সঠিক উত্তর:
জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা: 
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্‌গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
• অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স্' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: এসএসএইচএল, নীতিবিদ্যা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের প্রধান সুফল কোনটি?
  1. নৈতিক গুণাবলির বিকাশ
  2. প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি
  3. দুর্নীতির প্রসার
  4. অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
নৈতিক গুণাবলির বিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক গুণাবলির বিকাশ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সুফল:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের প্রধান সুফল হলো নৈতিক গুণাবলির বিকাশ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত আচরণের প্রেরণা জাগিয়ে তোলে,
- এটা সমাজে শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
- সুশাসন নিশ্চিত হলে মানুষ সৎ, দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে সঠিক কাজ করতে উৎসাহী হয়, ফলে সমাজে নৈতিকতার মান উন্নত হয় এবং অপরাধ ও দুর্নীতির হার কমে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি ন্যায়সংগত, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২০.
'বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার'- কোন ধরনের স্বাধীনতা?
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. সামাজিক স্বাধীনতা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন: চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৭২১.
সুশাসনের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন
  4. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের প্রধান উপাদান।
- এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের উপর নির্ভর করে।
- জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের জবাবদিহিতাও আবশ্যক।
- দুর্নীতি কমাতে ও রাজনৈতিক উন্নয়নে জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অন্যদিকে, আইন ও নীতি মান্য করে যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সহজেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
- স্বচছতা প্রতিষ্ঠা পেলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যায়।

অন্যদিকে,
• অংশগ্রহণ: পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান। সুশাসনের মূল ভিত্তি
নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ। বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব। অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

• আইনের শাসন: সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন। এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ। মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন। প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের
শাসন থাকা দরকার। আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ। রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

• নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা: পক্ষপাতহীন অবস্থা বা নিরপেক্ষতাই পারে সুশাসন নিশ্চিত করতে। সুশাসন ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা পাবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। নিরপেক্ষতা আসতে হলে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরি দিহে হবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২২.
জন লকের মতে, মানুষের প্রাকৃতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. শিক্ষা ও নিরাপত্তা
  2. বিচার ও সুরক্ষা
  3. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  4. জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি
সঠিক উত্তর:
জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

জন লক (John Locke):
- জন লক একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক চিন্তাধারার ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে জন লককেই 'আধুনিক গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়। 
- তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আধুনিক গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তোলে। 

⇒ প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্ব:
- জন লক মানুষের জন্মগত অধিকারকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
- জন লকের মতে, প্রতিটি মানুষের তিনটি মৌলিক প্রাকৃতিক অধিকার রয়েছে। এগুলো হলো: জীবন, স্বাধীনতা, সম্পত্তি।
- এই অধিকার রাষ্ট্র দেয় না; বরং রাষ্ট্রের কাজ হলো এসব অধিকার রক্ষা করা।
- আধুনিক গণতন্ত্রে মানবাধিকার ধারণার মূল উৎস এই তত্ত্ব।

উল্লেখ্য,
- তিনি প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার ধারণা তুলে ধরেছেন।
- লকের মতে, প্রকৃতির রাজ্য হল এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ রাষ্ট্রের বাইরে বাস করে। এই রাজ্যে মানুষ স্বাধীন ও সমান, এবং তারা প্রাকৃতিক আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। প্রাকৃতিক আইন হল এমন কিছু নীতি যা সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, এবং এগুলি ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত বলে ধরে নেওয়া হয়।
- লকের প্রকৃতির রাজ্য ধারণাটি তার সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ভিত্তি। এই তত্ত্বে তিনি যুক্তি দেন যে, মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে স্বাধীন ও সমান, কিন্তু তাদের স্বাধীনতা ও সমতার অধিকার রক্ষার জন্য তারা সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে। লকের প্রকৃতির রাজ্য ধারণাটি আধুনিক রাজনৈতিক চিন্তার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এটি আমেরিকান বিপ্লবের সময় বিশেষভাবে প্রভাবশালী ছিল।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৭২৩.
রাজনৈতিক অধিকার কোনটি?
  1. নির্বাচনের অধিকার
  2. শিক্ষা লাভের অধিকার
  3. চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. মত প্রকাশের অধিকার
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনের অধিকার
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক অধিকার (Political Rights):
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে থাকে তাকেই রাজনৈতিক অধিকার বলে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃত।

রাজনৈতিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
→ স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার,
নির্বাচনের অধিকার,
→ আবেদন করার অধিকার,
→ সরকারি চাকরি লাভের অধিকার,
→ বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার,
→ সরকারের সমালোচনা করার অধিকার,
→ ভোট প্রধানের অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭২৪.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন বা সনদের নাম কী?
  1. UNCAC 
  2. CEDAW
  3. UNCTAD
  4. UNCLOS
সঠিক উত্তর:
UNCAC 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCAC 
ব্যাখ্যা

• মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯২টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

অন্যদিকে, 
- CEDAW : নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত কনভেনশন।
- UNCTAD : জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। যা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিশ্ব অর্থনীতিতে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে এবং টেকসই উন্নয়নের সুবিধা পেতে সাহায্য করে; এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থ এবং প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলোতে নীতি বিশ্লেষণ, ঐকমত্য গঠন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
- UNCLOS: জাতিসংঘের একটি সনদ, যা সমুদ্রের আইন (Law of the Sea) বিষয়ক আন্তর্জাতিক কাঠামো।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

১,৭২৫.
কোন গ্রন্থে এরিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নিকোম্যাসিয়ান নীতিশাস্ত্র
  2. দি পলিটিক্স
  3. রিপাবলিক
  4. দি প্রিন্স
সঠিক উত্তর:
দি পলিটিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দি পলিটিক্স
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য:
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২৬.
কোন মতবাদ অনুযায়ী, 'মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল'?
  1. ভাববাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. পুঁজিবাদ
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।

⇒ মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,৭২৭.
'খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার' নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. সাংস্কৃতিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে।  
- কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে। 
- সামাজিক অধিকার সমূহ নিম্নরূপ:
১। জীবনের অধিকার,
২। ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
৩। চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
৪। সভা-সমিতির অধিকার, 
৫। খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি । 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭২৮.
’’শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন নিরর্থক’’  উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. জ্যা জ্যাক রুশো
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা

• আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।
- তাই প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে বলেছেন, "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"

অন্যদিকে,
- অ্যারিস্টটলের উক্তি, ’যে ব্যক্তি সমাজে বসবাস করেনা সে হয় দেবতা,নয় পশু’।
- সক্রেটিস উক্তি ’নিজেকে জান’।
- জ্যা জ্যাক রুশো উক্তি  ’মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সর্বত্রই তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়’। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২৯.
রাজনৈতিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্যবাদিতা
  2. দেশপ্রেম
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. দানশীলতা
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩০.
ই-গভর্নেন্স এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা
  2. জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ
  3. সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা
  4. ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার সাধন করা
সঠিক উত্তর:
সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা
ব্যাখ্যা
 • ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:
→ ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
→ প্রশাসনকে গতিশীল করা।
→ তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা 
→ দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌঁছে দেওয়া।
→ দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌঁছানো ।
→ সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।

→ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
→ দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
→ নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
→ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭৩১.
জাতীয়তাবাদ কী সৃষ্টি করে?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সামাজিকতা
  3. গ) দেশপ্রেম
  4. ঘ) কর্মদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
গ) দেশপ্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেশপ্রেম
ব্যাখ্যা
জাতীয়তাবাদ দেশপ্রেম সৃষ্টি করে।
নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসার আবেগ অনুভূতিকে দেশাত্মবোধ, দেশপ্রেম বা স্বদেশপ্রেম বলা হয়।
১,৭৩২.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ?
  1. উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস
  2. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  3. ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা
  4. সার্বজনীন ভোটাধিকার
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন ভোটাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ হচ্ছে - সার্বজনীন ভোটাধিকার।

• রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

১,৭৩৩.
UNDP-এর মতে, সুশাসন কী?
  1. সামরিক শাসনের পদ্ধতি
  2. ধর্মীয় নেতৃত্বের চর্চা
  3. রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ
  4. অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১,৭৩৪.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের অপরিহার্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) সুশীল সমাজের উপস্থিতি
  2. খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  3. গ) আইন ও মানবাধিকার সংরক্ষণ
  4. ঘ) স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ক) সুশীল সমাজের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুশীল সমাজের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ সুশাসনের অপরিহার্য উপাদান - 
 ক. সরকারি ও অর্থনৈতিক কাজে দক্ষতা;
 খ. স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা;
 গ. প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা;
 ঘ. জবাবদিহিমূলক প্রশাসন;
 ঙ. স্বাধীন সরকারি নিরীক্ষক;
 চ. প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভার কাছে দায়বদ্ধতা;
 ছ. আইন ও মানবাধিকার সংরক্ষণ;
 জ. বহুমুখী সাংগঠনিক কাঠামো;
 ঝ. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা;

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৫.
রাষ্ট্রের কোন উপাদানটির অভাবে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ এর আগে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি?
  1. সরকার
  2. জনসমষ্টি
  3. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  4. সার্বভৌমত্ব
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। সার্বভৌমত্ব বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়।
- শুধু স্থায়ী জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং সরকার থাকলে রাষ্ট্র হয় না।
- এ তিনটি নির্দিষ্ট উপাদানের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ এর আগে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি।
- যখন পূর্ববাংলার জনণের পক্ষে ঐতিহাসিকভাবে গণসমর্থনে প্রাপ্ত পরম রাজনৈতিক কর্তৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা তথা সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন তখন এই চতুর্থ উপাদানের সংযোগে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকার জন্য কোন রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রদেশ রাষ্ট্র নয়।
- আন্তর্জাতিক সংঘ বা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র নয়। এমনকি জাতিসংঘও রাষ্ট্র নয়।
সার্বভৌম ক্ষমতার দুটি দিক রয়েছে-
১) সার্বভৌম ক্ষমতা রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
২) সার্বভৌম ক্ষমতা দেশকে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত রাখতে পারে।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা:
(ক) জনসমষ্টি
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
(গ) সরকার
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
- এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৬.
সুশাসন কখন বাধাগ্রস্থ হয়?
  1. জনসংখ্যা কম থাকলে
  2. অর্থ সম্পদ না থাকলে
  3. আইনের শাসন না থাকলে
  4. শক্তিশালী সামরিক বাহিনী না থাকলে
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন না থাকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন না থাকলে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও আইনের শাসন:
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের শাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- যদি আইনের শাসন না থাকে, তবে প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি সবক্ষেত্রেই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয়ে যায়।
- আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে:
ক) জনসংখ্যা কম থাকলে: জনসংখ্যা সুশাসনের সরাসরি বাধা নয়; বরং দক্ষ প্রশাসন ও সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
খ) অর্থ সম্পদ না থাকলে: অর্থনৈতিক সংকট চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অর্থের চেয়েও বেশি দরকার স্বচ্ছ প্রশাসন ও আইনের শাসন।
ঘ) শক্তিশালী সামরিক বাহিনী না থাকলে: সামরিক শক্তি সুশাসনের মূল উপাদান নয়, বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা সুশাসনের ভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৭৩৭.
'শাসক বা রাজা হলো ঈশ্বরের প্রতিনিধি' রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কোন মতবাদে এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে?
  1. সামাজিক চুক্তি মতবাদ
  2. ঐশ্বরিক মতবাদ
  3. বিবর্তনমূলক মতবাদ
  4. বল প্রয়োগ মতবাদ
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐশ্বরিক মতবাদ
ব্যাখ্যা
- ঐশ্বরিক বা বিধাতার সৃষ্টি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন।
- এ মতবাদের মূল কথা হলো, রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে ঈশ্বর বা বিধাতার ইচ্ছানুযায়ী।
- শাসক বা রাজা হলো ঈশ্বরের প্রতিনিধি।
- মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সেন্ট অগাস্টিন মূলত এই চিন্তার প্রবক্তা।
- জন অব সেলিস বেরী, সেন্ট টমাস একুইনাস, সেন্ট গ্রেগরী, ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই এই মতবাদ বিশ্বাস করতেন।
- সৃষ্টিকর্তাকে যেমন অমান্য করা যায় না, তদ্রুপ তাঁর প্রতিনিধি রাজাকেও অমান্য করা যায় না।
- শাসন করার ক্ষেত্রে রাজা ঈশ্বর ছাড়া আর কারো কাছে দায়বদ্ধ নয়।
- এ কারণে রাজার স্থায়ীত্ব জনগণের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- শাসকগণ একইসঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান এবং ধর্মীয় প্রধান। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি , এস এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৮.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো- 
  1.  স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা 
  2. আইনের শাসন
  3. স্বজনপ্রীতি
  4. ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
 স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।

১,৭৩৯.
ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রগতিশীল, দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হতে সাহায্য করে -
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. খ) রাজনৈতিক শিক্ষা
  3. গ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) সামাজিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রগতিশীল, দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হতে সাহায্য করে মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
• মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধানতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
• মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি হলো মূল্যবোধ।
• ব্যক্তির মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির মনোভাব জাগ্রত হয় মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭৪০.
সুশাসনের পথে অন্তরায় কোনটি?
  1. ন্যায়পরায়ণতা
  2. অদক্ষতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
অদক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদক্ষতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি হলো সুশাসনের উপাদান। এসবের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের পথে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক।
১,৭৪১.
ই-গর্ভনেন্স বাস্তবায়নের ফলে শাসন ব্যবস্থায় কী ঘটবে?
  1. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  2. দুর্নীতি হ্রাস পায়
  3. জবাবদিহিতা আসে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৭৪২.
জবাবদিহিতা মূলত কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল?
  1. গণমাধ্যম
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন
  4. প্রশাসনিক ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: 
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের প্রধান উপাদান।
- এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের উপর নির্ভর করে।
- জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের জবাবদিহিতাও আবশ্যক।
- দুর্নীতি কমাতে ও রাজনৈতিক উন্নয়নে জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- আইন ও নীতি মান্য করে যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সহজেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
- স্বচছতা প্রতিষ্ঠা পেলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৩.
সুশাসনের স্তম্ভ হিসেবে ‘দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ’—এই নীতি কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তন করেছিল? 
  1. জাতিসংঘ
  2. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  4. বিশ্বব্যাংক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

 বিশ্বব্যাংক:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
- সুশাসন এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
-  বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।

এছাড়াও,
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- চারটি স্তম্ভ হল:-দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।

উৎস: বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

১,৭৪৪.
নিচের কোনটি নৈতিকতার উৎস?
  1. বিবেক
  2. চিন্তা
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৫.
কোনটি সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) নৈতিকত
  3. গ) সৌজন্যবোধ
  4. ঘ) শৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের  বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে। তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেকবুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৬.
কোনটি সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সমাজ স্বীকৃত
  2. পরিবর্তনশীলতা 
  3. আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী
  4. আইনগত শাস্তিযোগ্য
সঠিক উত্তর:
আইনগত শাস্তিযোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত শাস্তিযোগ্য
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়- আইনগত শাস্তিযোগ্য। 

সামাজিক মূল্যবোধ:

- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৭.
বিকেন্দ্রীকরণ হলো -
  1. ক্ষমতার আন্তর্জাতিকীকরণ
  2. ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা
  3. ক্ষমতা একজনের হাতে দেওয়া
  4. ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া
ব্যাখ্যা

বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৭৪৮.
'আইনের চোখে সব নাগরিক সমান'- সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ-০৭
  2. খ) অনুচ্ছেদ-২৭
  3. গ) অনুচ্ছেদ-২৯
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ-১৯
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ-২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ-২৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-২৭ এ আইনের চোখে সব নাগরিক সমান'- এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ-০৭ঃ সংবিধানের প্রাধান্য,।
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ সুযোগের সমতা এবং।
অনুচ্ছেদ-২৯ঃ সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতা।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৭৪৯.
সক্রেটিস কী ধরনের গুণকে জ্ঞান বলেছেন?
  1. মানবিক
  2. সৎ
  3. ধর্মীয়
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
সৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ
ব্যাখ্যা
•  নৈতিকতা:

-  নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Morality. 
- ইংরেজি Morality. শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
-‍ গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন- সৎ গুণই জ্ঞান এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে অজ্ঞতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭৫০.
আইনের শাসন সূচক কে প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ওয়ার্ল্ড ব্যাংক
  3. ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
সঠিক উত্তর:
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন সূচক:
- আইনের শাসন সূচক (Rule of Law Index) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজ সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (World Justice Project - WJP)।
- এই সূচকটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনের শাসনের বাস্তব প্রতিফলন, দুর্নীতি, স্বচ্ছতা এবং মৌলিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়

এছাড়াও বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।

১,৭৫১.
জার্মান নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয় কোনটি?
  1. Being and Time
  2. Critique of Practical Reason
  3. Groundwork of the Metaphysics of Morals
  4. Critique of Pure Reason
সঠিক উত্তর:
Being and Time
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Being and Time
ব্যাখ্যা

Being and Time জার্মান নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয়।  Being and Time-এর লেখক মার্টিন হাইডেগার।

​ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব সম্পর্কে রচিত ‘Perpetual Peace’ গ্রন্থটি ইমানুয়েল কান্ট-এর লেখা।
- ‘আ পাপেচুয়াল পিস (১৭৯৫)’ রাজনৈতিক দর্শনের ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
- এই বইয়ে কান্ট যুদ্ধ এড়ানোর ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও নৈতিক নির্দেশনা উপস্থাপন করেছেন।

​⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৭৫২.
নিম্নের কোন সূচক 'ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট' প্রকাশ করে?
  1. আইনের শাসন সূচক
  2. আইনের সমতা সূচক
  3. দুর্নীতি সূচক
  4. সুশাসন সূচক
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন সূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন সূচক
ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করে থাকে। 
- সংস্থাটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনের শাসনের এই সূচক প্রকাশ করে আসছে।

- আইনের শাসন সূচক-২০২২
• ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) ‘Rule of Law Index 2022’ বা আইনের শাসন সূচক-২০২২ প্রকাশ করেছে।
• সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনের শাসন কীভাবে কাজ করে এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা কী, তা বুঝতে ১৪০টি দেশের এক লাখ ৫০ হাজার খানা (household) এবং তিন হাজার ৬০০ আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আইনের সূচক ২০২২ তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
• প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান:- United Nations Economic and Social affairs (UNDESA)। উল্লেখ্য, সংস্থাটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনের শাসনের এ সূচক প্রকাশ করে আসছে।  

প্রতিবেদনে বিশ্ব 
• আইনের শাসন সূচক – ২০২২ অনুসারে,
• শীর্ষ দেশ – ডেনমার্ক।
• সর্বনিম্ন দেশ – ভেনিজুয়েলা।  

প্রতিবেদনে সার্কভূক্ত দেশ   
• সার্কভূক্ত দেশসমূহে শীর্ষে – নেপাল (৬৯তম)
• বাংলাদেশ – ১২৭তম। 
• শ্রীলংকা – ৭৪তম।
• ভারত – ৭৭তম।

উৎস: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট ওয়েবসাইট।
১,৭৫৩.
কোনো বিষয়কে বাস্তবিকভাবে বোঝার সামর্থকে বলা হয় -
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. বাহ্যিক মূল্যবোধ
  3. বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ:
- বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ বলতে বাস্তবিকভাবে কোনো বিষয়কে বোঝার সামর্থ্যকে বোঝায়।
- সমাজ বা পরিবেশ থেকে উদ্ভুত কোনো বিষয়কে যৌক্তিকভাবে গ্রহণ করার বিষয়টি বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধের অংশ।
- এ মূল্যবোধ উত্তরাধিকার সূত্রে মানুষ পায় এবং নিজেও অর্জন করে।
- সমাজের কোনো বিষয়কে যদি কেউ যৌক্তিক দৃষ্টিতে গ্রহণ না করে তখন আমরা বলি 'পাগলামি' করছে।
- অর্থাৎ তার বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে।

উৎস: Bangla News Express.
১,৭৫৪.
অধ্যাপক ই. এম. হোয়াইটের মতে কোন গুণগুলো থাকলে একজন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
  2. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সম্পদ
  3. দেশপ্রেম, সততা ও দক্ষতা
  4. বুদ্ধি, বিবেক, আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হলো ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হলো আদর্শ নাগরিক।
- অধ্যাপক ই. এম. হোয়াইটের মতে 'সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা- এ তিনটি গুণ যদি কোনো নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক'।


⇒ সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
- একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন সে দেশের জনগোষ্ঠীকে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। 

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ; যথা- ১) বুদ্ধি, ২) আত্মসংযম ও ৩) বিবেক থাকে।

উল্লেখ্য,
- দার্শনিক ম্যাক্স শেলার বলেন, মূল্যবোধ হলো 'বস্তুর অভ্যন্তরে থাকা গুণাবলি, যা আমাদের অনুভূতির মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায় এবং এটি মানুষকে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে প্রভাবিত করে।'

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৫৫.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কোনটিকে?
  1. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  2. স্বচ্ছতার অভাব
  3. অসৎ নেতৃত্ব
  4. নৈতিকতার অভাব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

দুর্নীতি এবং নৈতিকতা:

- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, ক্ষমতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত.
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়,
- তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৬.
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ কী?
  1. সামাজিক আচরণের নিয়ন্ত্রণ
  2. সৌন্দর্যবোধ ও শিল্পকলার প্রতি আগ্রহ
  3. আত্মার বিকাশের উপর গুরুত্ব
  4. মানবিক সম্পর্কের প্রতি সহানুভূতি
সঠিক উত্তর:
আত্মার বিকাশের উপর গুরুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মার বিকাশের উপর গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৭৫৭.
অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে কোন মূল্যবোধ বলা যেতে পারে?
  1. আধুনিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. পারিবারিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৭৫৮.
যৌতুক প্রথার ‍জন্যে মুখ্যত দায়ী কোনটি?
  1. অশিক্ষা
  2. দারিদ্র্য
  3. আইনের অপপ্রয়োগ
  4. কুসংস্কার
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
- যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক কুপ্রথা। এই প্রথানুসারে বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে স্বামীপক্ষকে অর্থ বা সম্পত্তি প্রদান করতে হয়।
- এই প্রথার পেছনে মূল কারণ হলো দারিদ্র্য।
- এছাড়া অশিক্ষা, অর্থলিপ্সা, আইনের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি যৌতুক প্রথার জন্যে দায়ী।
- যৌতুক প্রথা নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
১,৭৫৯.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- 
  1. UNCTAD
  2. UNCLOS
  3. CEDAW
  4. UNCAC
সঠিক উত্তর:
UNCAC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCAC
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- (UNCAC)।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে : ২০০৭ সালে। 

মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯৫টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

১,৭৬০.
জাতিসংঘের কোন সংস্থা সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. UNEP
  2. UNESCO
  3. UNDP
  4. UNICEF
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
- সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭৬১.
মাদক সেবন করা অনুচিত কারণ -
  1. ক) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
  2. খ) অভিজাত সামগ্রি
  3. গ) মাদক সেবন অপচয়
  4. ঘ) আইনে নিষিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
ব্যাখ্যা
মূলত মাদক সেবন করলে তা দেহ ও মনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই মাদক সেবন করা অনুচিত।
১,৭৬২.
সুনাগরিকতা সংক্রান্ত বিশেষ তিনটি গুণের কথা বলেছেন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী?
  1. লাস্কি
  2. এরিস্টটল
  3. লর্ড একটন
  4. লর্ড ব্রাইস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ব্রাইস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা
সুনাগরিকতা বিষয়ে তিনটি গুণের কথা বলেছেন -  লর্ড ব্রাইস।

• সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৩.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রদত্ত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) ভবিষ্যৎবাণী
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) সিভিল সোসাইটি
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
গ) সিভিল সোসাইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিভিল সোসাইটি
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
এডিবি’র মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি। এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
১,৭৬৪.
নিচের কোন গুণাবলির কারণে কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে?
  1. বুদ্ধি
  2. আত্মসংযম ও বুদ্ধি
  3. বিবেক
  4. ক, খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক-এই গুণাবলির কারণে কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে।

সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

সুনাগরিকের গুণাবলি:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- তবে, লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৫.
নিম্নের কোনটি আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য?
  1. স্থায়িত্ব
  2. নিরপেক্ষতা
  3. লালফিতার দৌরাত্ম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
⇒ আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি অপরিহার্য সংগঠন। নিম্নে আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হল।
- পদ সোপাননীতি: আমলাতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পদসোপাননীতি। পদ সোপাননীতি অনুসারে বিভিন্ন পদের শ্রেণিবিন্যাস ও সংগঠন করা হয়। এ নীতি অনুসারে প্রত্যেক কর্মকর্তার উপর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অধস্তন কর্মকর্তা পালন করে থাকেন।
- স্থায়িত্ব: আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের কর্মচারীগণ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে কর্মে বহাল থাকেন। সরকার পরিবর্তন বা পতন হলেও আমলাদের পতন হয় না। এ জন্য আমলারা প্রশাসনের স্থায়ী অংশ।
- সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র: আমলাদের কর্মক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। তারা তাদের কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
নিকট জবাবদিহি করে থাকেন।
- পেশাদারি ও বেতনভুক্ত: আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের কর্মকর্তারা পেশাদারি হয়ে থাকেন এবং যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুসারে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।
- নিয়োগ ও পদোন্নতি: মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মে যোগদানের ভিত্তিতে, বয়স কিংবা একাডেমিক সাফল্যের ভিত্তিতে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়।
- নিরপেক্ষতা: আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি নিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা। দলীয় মনোভাব পরিত্যাগ করে জনগনের সেবা করাই তাদের দায়িত্ব। আমলারা দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আনুষ্ঠানিকতা: আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে আমলারা আনুষ্ঠানিকতা এবং দৈনন্দিন কাজের উপর গুরুত্বারোপ করে। তারা বিধি মোতাবেক যথাযথ নিয়মে সবকিছু করে থাকে। আমলাতন্ত্রে সকল কাজই হয় রুটিন মাফিক।
- দক্ষতা: আমলারা সাধারণত দক্ষ। একই ধরনের কাজ বার বার করার কারণে তাঁরা দক্ষতা অর্জন করে। এছাড়া
তাঁদের জন্য সময়োপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়।
- নিরবিচ্ছিন্নতা: আমলাগণ প্রশাসনিক কাজে নিরবিচ্ছিন্নতা বজায় রাখেন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কোন আমলার পদ শূন্য হলে সেই পদে নতুন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে কাজে গতিশীলতা রক্ষা করা হয়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য: লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়। এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেস উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬৬.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য-
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. দারিদ্র বিমোচন
  3. উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স বলতে বোঝায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)—যেমন ইন্টারনেট, কম্পিউটার ও মোবাইল নেটওয়ার্ক—ব্যবহার করে সরকারি সেবা ও তথ্যকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজভাবে জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার একটি আধুনিক শাসনব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে—
- সরকারের কার্যক্রমকে দক্ষ ও জনগণমুখী করা হয়,
- প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমানো হয় এবং
- নাগরিকরা সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়।

- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য হলো- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এর সঙ্গে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
- এটি সাধারণত চারটি ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। 
- এটি সর্বত্র বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ে।
- ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্স বা অনলাইন গভর্নেন্স নামেও অভিহিত করা হয়।

- জাতিসংঘের মতে,
- ই-গভর্নেন্স হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করে সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া হয়।

- বিশ্বব্যাংক ই-গভর্নেন্সকে ব্যাখ্যা করেছে- 
- সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি—যেমন নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ও সেবা বিনিময়ের সক্ষমতা হিসেবে।

- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. পি. জে. আবদুল কালাম ই-গভর্নেন্সকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের উন্নত ও পরিষ্কার সেবা প্রদানের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।

- ই-গভর্নেন্স একদিকে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদার করে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলে।
- ই-গভর্নেন্সের আক্ষরিক অর্থ হলো প্রযুক্তিনির্ভর বা ডিজিটাল সরকার, যার প্রধান কাজ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদান করা।
- জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট উন্নয়ন সূচক (EGDI) ২০২৪ অনুযায়ী ডেনমার্ক শীর্ষে এবং সুদান সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল, আর বাংলাদেশ ছিল ১০০তম স্থানে।
- সর্বোপরি, ই-গভর্নেন্সের একমাত্র ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৭৬৭.
'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ -
  1. উপযোগবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. অস্তিত্ববাদ
  4. শূন্যবাদ
সঠিক উত্তর:
শূন্যবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যবাদ
ব্যাখ্যা

শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

⇒ শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
- পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: Britannica.

১,৭৬৮.
সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে-
  1. জাতিসংঘ
  2. আইএমএফ
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. বারট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উল্লেখ্য,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৯.
নৈতিকতা হল সমাজের –
  1. ক) মানদণ্ড
  2. খ) দায়িত্ব ও কর্তব্য
  3. গ) ভিত
  4. ঘ) ক+খ
সঠিক উত্তর:
গ) ভিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভিত
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা হচ্ছে সমাজের ভিত। যার উপর সমাজ মজবুতভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষের ভালো মন্দ, উচিত অনুচিত, ন্যায় অন্যায়বোধ হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধের মাপকাঠি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
১,৭৭০.
বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে-
  1. ক) জনসচেতনতার অভাব
  2. খ) অর্থনৈতিক বৈষম্য
  3. গ) উপরের কোনটিই না
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ই-গর্ভনেন্স যথাযথভাবে প্রচলনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নীতি-নির্ধারণ এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। বাংলাদেশের মতো দেশে দক্ষ জনবলের অভাব, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকা, সর্বোপরি ডিজিটাল উপকরণের সহজলভ্যতা না থাকা এবং বিনিয়োগের অভাব ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন ঘটায়।
সূত্র- এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন (উন্মুক্ত)।
১,৭৭১.
'The Elements of Ethics' বইটির লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. সি. ডি. ব্রড
  3. প্লেটো
  4. আর. বি. পেরি
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

উল্লেখ্য,
- বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে সচেতনভাবে বা অচেতনভাবেই হোক মানুষের মনে এমন কিছু প্রশ্ন জাগে যাদের কোন যুক্তি সঙ্গত উত্তর ধর্মতত্ত্বে যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি আবার বিজ্ঞান এদের নিয়ে আদৌ মাথা ঘামায় না।
- ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এই যে অনধিকৃত একটি রাজ্য তাতেই দর্শন বিচরণ করে চলেছে।
- আর এ কারণেই রাসেল দর্শনকে বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বের মধ্যবর্তী অনধিকৃত রাজ্য (No Man's Land) বলে অভিহিত করেছেন।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র - শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭২.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পর –
  1. নির্ভরশীল
  2. বিপরীত
  3. অপরিহার্য
  4. পরিপূরক
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধের যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৭৭৩.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের ভিত্তি নয়?
  1. ঔচিত্যবোধ
  2. নৈতিক প্রাধান্য
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. শৃঙ্খলাবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক প্রাধান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক প্রাধান্য
ব্যাখ্যা
- যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই মূল্যবোধ।
- সামাজিক ন্যায়বিচার, নীতি ও ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি হলো মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
অন্যদিকে,
- সামাজিক মাপকাঠি, বিভিন্নতা, নৈতিক প্রাধান্য, আপেক্ষিকতা, পরিবর্তনশীলতা ইত্যাদি হলো মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৭৭৪.
সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই হচ্ছে -
  1. আইনের শাসন
  2. সংবেদনশীলতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
সংবেদনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবেদনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সংবেদনশীলতা:
→ সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই সংবেদনশীলতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৫.
অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. ক) আইনের অনুশাসন
  2. খ) স্বাধীন বিচারবিভাগ
  3. গ) আমলাতন্ত্র
  4. ঘ) জনগণের সজাগ ‍দৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনগণের সজাগ ‍দৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনগণের সজাগ ‍দৃষ্টি
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যাক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
মানুষের সকল অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্র।
মৌলিক অধিকারের রক্ষক হলো সংবিধান।
অধিকারের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলো জনগণের সজাগ দৃষ্টি।
অধিকারের অন্যান্য রক্ষাকবচসমূহ হলো:
- আইন
- গণতন্ত্র
- সংবিধান
- আইনের অনুশাসন
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৭৭৬.
Morality শব্দটির উৎস কোন ভাষা থেকে?
  1. গ্রিক
  2. ল্যাটিন
  3. ফরাসি
  4. স্প্যানিশ
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা (Morality):
- 'Morality' শব্দটির মূল উৎস ল্যাটিন শব্দ 'moralitas' থেকে এসেছে যা মূলত 'mos' বা 'moralis' (আচরণ, প্রথা বা রীতি) থেকে উদ্ভূত। 
- ল্যাটিন 'Moralitas' শব্দটির অর্থ হলো- আচরণ, চরিত্র বা সঠিক কর্মপদ্ধতি।

⇒ নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৭৭.
প্লেটোর মতে ‘সদ্গুণ’ হলো -
  1. প্রজ্ঞা
  2. মিতাচার
  3. ন্যায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৮.
মূল্যবোধ কীসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. অভ্যাস
  3. ধর্ম
  4. আচরণ
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৭৭৯.
'অন্যায়কে অন্যায় বলা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক
  2. নৈতিক
  3. ধর্মীয়
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

→ সত্যকে সত্য বলা,
→ মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
→ অন্যায়কে অন্যায় বলা,
→ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
→ দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
→ বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
→ অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭৮০.
'পরানীতিবিদ্যা'______এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Etymology
  2. Ethics
  3. Meta-ethics
  4. Meta-physics
সঠিক উত্তর:
Meta-ethics
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Meta-ethics
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নীতিবিদ্যার রক্ষক-সাধুপুরুষ ( Patron saint) রূপে খ্যাত সক্রেটিস থেকে শুরু করে হাল-আমলের দার্শনিকদের নৈতিক ভাবনাগুলো পর্যালোচনা করলে এর মধ্যে মোটামুটি চারটি ধারার সন্ধান পাওয়া যায়।
এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা।

- 'পরানীতিবিদ্যা' এর ইংরেজি প্রতিশব্দ - Meta-ethics.
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮১.
E-Governance-কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন কে?
  1. ই.এম হোয়াইট
  2. এফ. আই গ্লাউড
  3. এ পি জে কালাম
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৭৮২.
"যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না" - কে বলেছেন?
  1. জন লক
  2. ডাইসি
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন অস্টিন
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা
আইন: 
- মূল্যবোধ থেকে আসে আইন।
- আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতার রক্ষক।
- জন লক বলেছেন, "যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না"। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৭৮৩.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারিতা
ব্যাখ্যা

- 'স্বেচ্ছাচারিতা' সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

সুশাসন:
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম Good Governance শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক ও বহুমাত্রিক। 

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
→ অংশগ্রহণ,
→ স্বচ্ছতা,
→ জবাবদিহিতা,
→ সংবেদনশীলতা,
→ আইনের শাসন,
→ ঐকমত্য।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৪.
'দুর্নীতি' শব্দটি কোথা থেকে এসেছে ?
  1. ক) ল্যাটিন
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) হিব্রু
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল "Corruption". এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Corruptus" থেকে। এর অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন।
দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।
১,৭৮৫.
 নৈতিকতা কোন ধরনের বিষয়? 
  1. মানসিক 
  2. অর্থনৈতিক
  3. শারীরিক 
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
মানসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিক 
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতার উদ্ভব মানুষের বিবেকবোধ থেকে।
- নৈতিকতা একটি মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতার উপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব আরোপিত নয়। অর্থাৎ নৈতিকতা লঙ্ঘনকারীকে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় আইন শাস্তি প্রদান করতে পারে না।
বিবেকের দংশনই নৈতিকতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
- মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৭৮৬.
'The Elements of Ethics' বইটি কার?
  1. ক) জি ই মুর
  2. খ) জেএস মিল
  3. গ) থমাস হবস
  4. ঘ) বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
'The Elements of Ethics' বইটি বার্ট্রান্ড রাসেল লেখেন। এটি নীতি বিষয়ক তার কতগুলো রচনার বা প্রবন্ধের সমাহার। এটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়। (সূত্রঃ ইন্টারনেট এনসাইক্লোপিডিয়া অব ফিলোসফি)
১,৭৮৭.
বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইনের তফসিল কয়টি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৭টি
সঠিক উত্তর:
ক) ১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১টি
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- বাংলাদেশে ২০০৯ সালে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 
- ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে তথ্য অধিকার আইন পাশ করে।
- এ আইনে অধ্যায় আছে - আটটি।
- তফসিল আছে - ১ টি
- ধারা আছে - ৩৭টি।
- এর মূল কথা হল কয়েকটি দপ্তর ব্যতীত যেকোন কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেকন নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। 

• তথ্য কমিশন:
- এ আইন প্রণয়নের ৯০ দিনের মধ্যে একটি তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়।
- এটি একটি সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা।
- এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
- কমিশন গঠন বিষয়ে আইনটির ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে যে একজন প্রধান তথ্য কমিশনার এবং ২ জন তথ্য কমিশনার নিয়ে এটি গঠিত হবে। কমিশনারদের মধ্যে অন্তত: একজন হবেন নারী। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৮.
নিম্নের কোনটি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি আসে?
  1. ধর্ম থেকে
  2. নীতি ও মতাদর্শ থেকে
  3. মূল্যবোধ চর্চা থেকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ চর্চা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ চর্চা থেকে
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধ চর্চা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি আসে।

⇒ মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে। এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যমতে পৌছানো জরুরি, যা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব।
- সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যসম্পাদনকারী ব্যক্তিবর্গের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিরত থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৯.
প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থ কী সম্পর্কিত?
  1. সুশাসন
  2. ন্যায়বিচার
  3. মূল্যবোধ
  4. বিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
The Republic:
- The Republic হল প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর একটি ডায়ালগ।
- এতে সক্রেটিসের চরিত্র দেখানো হয়েছে।
- The Republic গ্রন্থ হচ্ছে ন্যায়বিচার সম্পর্কে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৭৯০.
'স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা' কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. রাজনৈতিক
  2. নৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

⇒ এগুলো হলো-
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
- রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
- সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
- স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
- প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৭৯১.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে-
  1. সরকার
  2. গণমাধ্যম
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা
সরকার ও সুশাসন:
-সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।

উল্লেখ্য,
- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৭৯২.
‘সুশাসন’ শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. UN
  2. World bank
  3. IMF
  4. UNDP
সঠিক উত্তর:
World bank
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World bank
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭৯৩.
নিচের কোনটি আইনগত অধিকারের উৎস হিসেবে বিবেচিত?
  1. ক) সরকার
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) সংসদ সদস্য
  4. ঘ) রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• আইনগত অধিকার বলতে ব্যক্তির সে অধিকারকে বোঝায় যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং অনুমোদিত।
• আইনগত অধিকারের পিছনে রয়েছে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব।
• আইনগত অধিকারের উৎস হচ্ছে রাষ্ট্র।    

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৪.
সততা,সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয়-
  1. মূল্যবোধ
  2. সহনশীলতা
  3. সামাজিকতা
  4. সদাচরণ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
♦ সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টূয়ার্ট সি.ডড-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো  সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা  ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন-এর মতে,সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৭৯৫.
মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- 
  1. গণমাধ্যম
  2. প্রশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন: 
- সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

অপরদিকে,
• অংশগ্রহণ: 
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
-সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ। 
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব। 
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯৬.
আইনগত কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
  2. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. সন্তানকে শিক্ষা দেয়া
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
নিয়মিত কর দেওয়া,
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
→ সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
১,৭৯৭.
”যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন“- কার উক্তি?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. জন লক
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

 আইন: 
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। 
- যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা" জন লক।
- যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন " এরিস্টটল।
- আইন সার্বভৌম শক্তির আদেশ-  জন অস্টিন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯৮.
নীতিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের কোন ধরনের আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ঐচ্ছিক আচরণ
  2. অনৈচ্ছিক আচরণ
  3. শারীরবৃত্তীয় আচরণ
  4. প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক আচরণ
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে মূলত মানুষের ঐচ্ছিক, সচেতন এবং উদ্দেশ্যমূলক আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি মানুষের এমন আচরণ নিয়ে কাজ করে, যার দায়ভার ব্যক্তি নিজে গ্রহণ করে।

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

• নীতিবিদ্যার কাজ নৈতিকতা নিয়ে, আর নৈতিকতা মূলত একটি সামাজিক ব্যাপার। 
- নৈতিকতা বিষয়ক সামাজিক চিন্তা-চেতনা যেসব অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদেরকে আমরা এককথায় নৈতিক অবধারণ বা নীতিবাক্য বলতে পারি।
- এই সব নীতি-বাক্যগুলো 'চুরি করা অন্যায়', 'মিথ্যা বলা ভাল নয়' ইত্যাদি আকারে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করি।

উল্লেখ্য,
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে। তাঁর ভাষায় “এ হচ্ছে আচরণের সাধারণ মতবাদ এবং মানুষকে তাদের যথোচিত্য ও অ-যথোচিত্য এবং তাদের শুভ বা অশুভের প্রবণতার নিরিখে বিবেচনা করে"।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯৯.
এইচ. জে. লাস্কি স্বাধীনতাকে কী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. মানবিক শক্তি
  2. নৈতিক কর্তব্য
  3. সামাজিক মর্যাদা
  4. অধিকারের ফল
সঠিক উত্তর:
অধিকারের ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকারের ফল
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
- বাস্তবে স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।
যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার বিভিন্ন সংজ্ঞা:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল"।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০০.
‘সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড’ উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. এইচ এম জনসন
  3. পল সাত্রে
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেমন -

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।