• ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স বলতে বোঝায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)—যেমন ইন্টারনেট, কম্পিউটার ও মোবাইল নেটওয়ার্ক—ব্যবহার করে সরকারি সেবা ও তথ্যকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজভাবে জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার একটি আধুনিক শাসনব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে—
- সরকারের কার্যক্রমকে দক্ষ ও জনগণমুখী করা হয়,
- প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমানো হয় এবং
- নাগরিকরা সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়।
- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য হলো- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এর সঙ্গে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
- এটি সাধারণত চারটি ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।
- এটি সর্বত্র বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ে।
- ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্স বা অনলাইন গভর্নেন্স নামেও অভিহিত করা হয়।
- জাতিসংঘের মতে,
- ই-গভর্নেন্স হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করে সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া হয়।
- বিশ্বব্যাংক ই-গভর্নেন্সকে ব্যাখ্যা করেছে-
- সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি—যেমন নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ও সেবা বিনিময়ের সক্ষমতা হিসেবে।
- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. পি. জে. আবদুল কালাম ই-গভর্নেন্সকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের উন্নত ও পরিষ্কার সেবা প্রদানের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।
- ই-গভর্নেন্স একদিকে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদার করে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলে।
- ই-গভর্নেন্সের আক্ষরিক অর্থ হলো প্রযুক্তিনির্ভর বা ডিজিটাল সরকার, যার প্রধান কাজ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদান করা।
- জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট উন্নয়ন সূচক (EGDI) ২০২৪ অনুযায়ী ডেনমার্ক শীর্ষে এবং সুদান সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল, আর বাংলাদেশ ছিল ১০০তম স্থানে।
- সর্বোপরি, ই-গভর্নেন্সের একমাত্র ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।