বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৭ / ৩৯ · ১,৬০১১,৭০০ / ৩,৮২৯

১,৬০১.
জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এ বিষয়ে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ২১
  3. অনুচ্ছেদ ২৫
  4. অনুচ্ছেদ ২৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮
ব্যাখ্যা

⇒ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ উল্লেখ রয়েছে।

- সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে রয়েছে নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদে রয়েছে মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে রয়েছে ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।

⇒ অনুচ্ছেদ- ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা:
- (১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৮ ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে।

- সুতরাং সঠিক উত্তর অনুচ্ছেদ-১৮।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬০২.
নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়। এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৬০৩.
আইন ও নৈতিক বিধির প্রধান বিষয়বস্তু কী?
  1. রাষ্ট্র
  2. প্রশাসন
  3. মানুষ
  4. সমাজব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন।
- জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
- আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

⇒ আইনের বিধানগুলো সাধারণত লিখিত ও সুনির্দিষ্ট হয়ে থাকে, অন্যদিকে নৈতিক বিধি আইনের মতো লিখিত ও বিধিবদ্ধরূপে থাকে না। ফলে নৈতিক বিধির প্রয়োগ আইনের মতো স্পষ্ট ও কাঠামোবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে। আইন ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র বা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ ও শাস্তি বিধানের মাধ্যমে আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে, কিন্তু নৈতিক বিধি কার্যকর করার বিষয়টি মানুষের নিজস্ব বিবেচনা ও বিবেকবোধের ওপর নির্ভরশীল। সর্বজনীনতা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ সব মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং রাষ্ট্রের সবার ওপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য, অন্যদিকে নৈতিক বিধি অঞ্চল ও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। আইন বিরুদ্ধ হলেও কোনো বিষয় নৈতিকতা বিরুদ্ধ না-ও হতে পারে, তেমনি নৈতিকতা বিরুদ্ধ হলেও অনেক বিষয় আবার বেআইনি নয়। আইনের অন্যতম একটি সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যক্তিগত ইচ্ছাপ্রসূত স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাত প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে আইনের অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এটির অনমনীয়তা, আনুষ্ঠানিকতা, জটিলতা ও রক্ষণশীলতা।

উৎস: প্রথম আলো।

১,৬০৪.
নীতিবিদ্যার আলোচনার বিষয় মানুষের -
  1. আচরণ
  2. সংস্কৃতি
  3. ধর্ম
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার আলোচনার বিষয়বস্তু:
- সামাজের মানুষের আচরণই মূলত নীতিবিদ্যার আলোচনার বিষয়বস্তু।
- তবে সব আচরণ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
- বাস্তবে আইনী বাধ্যবাধকতার সাথে অন্য ধরনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে যেখানে আমাদের আচরণের অনৈচ্ছিকতা প্রকাশ পায়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল তার মাঝে, অন্যকে 'অনৈচ্ছিক' আচরণে বাধ্য করার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
- যেমন বলা হয়, নাৎসীরা ইহুদীদেরকে নিধনের জন্য অপরাপর জাতির বন্দীদেরকে হুকুম করতো।
- যদি তারা তা না করে তবে তাদেরকেই নিধন করা হবে।
- বাধ্য হয়ে ঐ সব বন্দীরা নাৎসীদের হুকুম অনুযায়ীই কাজ করতো।
- তাদের এই কাজ নৈতিকতা তথা নীতিবিদ্যার আওতায় পড়ে না।

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬০৫.
কোন কারণে বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন?
  1. সুশাসনের নিশ্চিত করতে
  2. আইন প্রয়োগ কঠিন করতে
  3. নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়াতে
  4. প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের নিশ্চিত করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের নিশ্চিত করতে
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক রাখা প্রয়োজন।
- বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
- এটি নির্বাহী বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ আইনি কাঠামোতে বিদ্যমান।
- তবে এটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার কার্যক্রম পৃথক ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানসমূহের হাতে ন্যস্ত করাকে বোঝায়।
- এর উদ্দেশ্য হলো এক বিভাগের ক্ষমতায় অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা।
- এই ধারণাটি প্রাচীনকাল থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকট পরিচিত ছিল।
- এরিস্টটল, পলিবিয়াস এবং সিসেরো এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
- মধ্যযুগে মার্সিলিও অব পাদুয়া ও জিন বডিন এই মতবাদকে সমর্থন করেন।
- আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিক স্বতন্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের নীতি উপস্থাপন করেন।
- তবে বাস্তবে পরিপূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভব নয় এবং এটি কাম্যও নয়।
- তাই, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের নীতিও মেনে চলা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৬.
সরকারি নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. ক) উপযোগিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) নিরপেক্ষতা
  4. ঘ) সৃজনশীলতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
সরকারি নীতি নির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উপযোগিতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক বা গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা আবশ্যিক বিষয় নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৬০৭.
"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।" - উক্তিটি কার? 
  1. উইলিয়াম 
  2. মেরিল 
  3. ফ্রাঙ্কেল 
  4. শেফার
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
"মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

- মেরিল এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৬০৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের-
  1. ইতিবাচক
  2. নেতিবাচক
  3. সম্পূরক
  4. সাংঘর্ষিক
সঠিক উত্তর:
সম্পূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূরক
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- আইন, রাষ্ট্র, সুশাসন প্রভৃতির মূলভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।
- সরকার ও রাষ্ট্রীয় জনকল্যাণমুখিতা উভয়ই মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপাদান।

১,৬০৯.
মূল্যবোধের __________ হলো সংস্কৃতি।
  1. সোপান
  2. প্রাণ
  3. চালিকাশক্তি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং মূল্যবোধের চালিকাশক্তি হলো সংস্কৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৬১০.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) শিশু অধিকার
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  3. গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
  4. ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
ব্যাখ্যা
CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
১,৬১১.
নিচের কোনটি ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য?
  1. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  2. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  3. আইনের শাসন
  4. দলীয় শাসন
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো -
১. অংশগ্রহণ, 
২. স্বচ্ছতা, 
৩. আইনের শাসন, 
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা, 
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক, 
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা, 
৮. জবাবদিহিতা।

উৎস: UNESCAP ওয়েবসাইট।

১,৬১২.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি কোনটি? 
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সমাজ
  4. রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সাধারণ অর্থে সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা।
- এ প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার এবং পেজ এর মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তারা বলেন, আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”
- স্কট বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।”
- বটোমোর বলেন, “সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়”।
- সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন। সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

সূত্র: সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৩.
মূল্যবোধ কী?
  1. পারস্পরিক সম্পর্কের মূলনীতি।
  2. প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের নির্দেশিকা।
  3. আচরণ পরিচালনার নীতি ও মানদণ্ড।
  4. সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব।
সঠিক উত্তর:
আচরণ পরিচালনার নীতি ও মানদণ্ড।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ পরিচালনার নীতি ও মানদণ্ড।
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং
- প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, এটা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬১৪.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. ক) তিন ধরণ
  2. খ) চার ধরণ
  3. গ) পাঁচ ধরণ
  4. ঘ) আট ধরণ
সঠিক উত্তর:
খ) চার ধরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার ধরণ
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,৬১৫.
‘সবুজ বিপ্লব’ ও ‘কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি’র ব্যর্থতার পর কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সুশাসনকে উন্নয়নের শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করে?
  1. জাতিসংঘ ও ইউনিসেফ
  2. বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ
  3. বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
  4. জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।

⇒ 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে।
- মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল -
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সাংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬১৬.
'লালফিতা' প্রত্যয়টি প্রথম কোন দেশে প্রচলন হয়?
  1. জার্মানি
  2. ব্রিটেন
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
ব্রিটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটেন
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।
- 'লালফিতা' প্রত্যয়টি সপ্তদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে প্রচলিত হয়।
- সে সময় দেশটিতে সরকারি অফিস- আদালতের সকল ফাইলপত্র লাল রঙের ফিতা দ্বারা বেঁধে রাখা হত।
- পরবর্তীকালে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা বোঝানোর জন্য লাল ফিতা রূপকটির ব্যবহার শুরু হয়।
- এক পর্যায়ে এসে আমলাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা, দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ম-কানুনের বাড়াবাড়ি, বিলম্ব, হয়রানি ও বাড়াবাড়ি বুঝাতেও 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' কথাটির প্রচলন শুরু হয়।
- উত্তর উপনিবেশিক দেশগুলোর আমলাতন্ত্রে 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' খুব বেশি দেখা যায়।
- রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে।
- প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।
- অনেক সময় মানবিক দিকটি উপেক্ষিত রেখে নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে প্রশাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬১৭.
বিশ্বব্যাংকের মতে নিচের কোনটি সুশাসনের প্রধান স্তম্ভ নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  3. আইনি কাঠামো
  4. দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও,
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৬১৮.
‘Sophia' শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
  1. ক) চিন্তা
  2. খ) যুক্তি
  3. গ) জ্ঞান
  4. ঘ) ন্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞান
ব্যাখ্যা
- দর্শনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Philosophy' শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Philos' ও ‘Sophia' শব্দ দুটির সমন্বয়ে গঠিত। 
- ‘Philos' শব্দের অর্থ হলো ‘to love এবং ‘Sophia' শব্দের অর্থ হলো ‘wisdom'। 
- তাহলে উৎপত্তিগত ভাবে Philosophy বা দর্শন শব্দের অর্থ হলো ‘জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ' বা ‘জ্ঞানপ্রীতি’।
-  মূলত সমগ্র বিশ্ব এবং জীবন সম্পর্কে একটা সুসংবদ্ধ ও যৌক্তিক জ্ঞান প্রদান করাই দর্শনের উদ্দেশ্য। 
- তাই দর্শন সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিশ্বজগৎ ও জীবন সম্পর্কে একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করে। 
- অতএব বিচার এবং সমালোচনাই হলো দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- বস্তুত দর্শন আমাদের জীবনের অর্থ, স্বরূপ, পরিণতি ও মূল্য নির্ধারণ করে। 

উৎস: এইচএসসি গ্রোগ্রাম, যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬১৯.
কোন মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. ইতিবাচক মূল্যবোধ
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। 
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সখে-দঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হয়।
১,৬২০.
কোন সংস্থার মতে ‘আইনি কাঠামো’ সুশাসনের একটি স্তম্ভ?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক 
  4. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

⇒ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
​- বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৬২১.
ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্যের সংখ্যা কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো -
১. অংশগ্রহণ, 
২. স্বচ্ছতা, 
৩. আইনের শাসন, 
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা, 
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক, 
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা, 
৮. জবাবদিহিতা।

উৎস: UNESCAP ওয়েবসাইট।

১,৬২২.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. আইনের শাসন
  3. সংবেদনহীনতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
সংবেদনহীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবেদনহীনতা
ব্যাখ্যা
– সংবেদনহীনতা সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
১. অংশগ্রহণ
২. আইনের শাসন
৩. স্বচ্ছতা
৪. সংবেদনশীলতা
৫. ঐকমত্য
৬. জবাবদিহিতা

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬২৩.
কোনটি মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে?
  1. ক) ন্যায়বোধ
  2. খ) শিক্ষা
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
খ) শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিক্ষা
ব্যাখ্যা
▪ মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।    
▪ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
▪ মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
▪ অর্থ্যাৎ শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১,৬২৪.
নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে -
  1. আইন বিভাগ
  2. শাসন বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক অধিকার রক্ষা:
→ মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
→ কোন ব্যক্তির যদি মৌলিক অধিকার খর্ব হয় এবং তিনি যদি আইনের আশ্রয় নেন তাহলে বিচার বিভাগ তাঁর মৌলিক অধিকার রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।
→ এভাবে বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৫.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে -
  1. ক) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা হ্রাস পায়
  3. গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
  4. ঘ) প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
প্রশাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কেন্দ্রে বা এক জায়গায় কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক।
১,৬২৬.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. আপেক্ষিকতা 
  2. বিভিন্নতা 
  3. স্থিতিশীলতা 
  4. পরিবর্তনশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা 
ব্যাখ্যা

- স্থিতিশীলতা নৈতিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

» মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: 
• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল।
- নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

• বিভিন্নতা:
- সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

• আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়।
- একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে।
- অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

• পরিবর্তনশীলতা:
- ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
- যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি ,  উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬২৭.
দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো-
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
​- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
​- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
​- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
​- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৬২৮.
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. কর্তব্যবোধ
  2. পরিবর্তনশীলতা
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীলতা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়মিত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ আমাদের কাছে অর্থহীন। যেমন বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা। আবার বর্তমানে অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।

১,৬২৯.
নিচের কোনটি সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করেছে?
  1. ক) E-TP
  2. খ) E-GP
  3. গ) E-Banking
  4. ঘ) E-GG
সঠিক উত্তর:
খ) E-GP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) E-GP
ব্যাখ্যা
E-GP হলো Electronic Government Procurement.
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউমেন্ট ইউনিট E-GP চালু করে। এর মাধ্যমে সরকারের যাবতীয় ক্রয় কর্মকাণ্ড অনলাইনে পরিচালিত হয়।
(সূত্রঃ eprocure.gov.bd)
১,৬৩০.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ?
  1. ক) সার্বজনীন ভোটাধিকার
  2. খ) উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস
  3. গ) আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  4. ঘ) ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা
সঠিক উত্তর:
ক) সার্বজনীন ভোটাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সার্বজনীন ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ হচ্ছে - সার্বজনীন ভোটাধিকার।

• রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):

- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩১.
নিচের কোনটি বাহ্যিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) সত্যকে সত্য বলা
  3. গ) রাজনৈতিক সহনশীলতা
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
ক) সাহসিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাহসিকতা
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,৬৩২.
'সত্যের সন্ধান' ও 'সৃষ্টি রহস্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম আজাদ
  2. আরজ আলী মাতুব্বর
  3. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- আরজ আলী মাতুব্বর বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ  বরিশাল জেলার লামচরি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রামের মক্তবে মাত্র কয়েক মাস লেখাপড়া করার পর তিনি নিজের চেষ্টায় নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। 

উল্লেখ্য, 
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
- আরজ আলীর রচনায় মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক প্রজ্ঞার ছাপ রয়েছে। 
- ১৩৯২ বঙ্গাব্দের ১ চৈত্র বরিশালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১,৬৩৩.
মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) সহমর্মিতা
  2. খ) শৃঙ্খলা
  3. গ) নীতিবোধ
  4. ঘ) সৌজন্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উপাদান
▪ মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
▪ এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল:- 

শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে
পারে না।

সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি
অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। 

নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের
বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৪.
কোনটি মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
খ) আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
-  এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন
- প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৫.
জাতিসংঘ 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১,৬৩৬.
নিচের কোনটি সুনাগরিকের গুণাবলি নয়?
  1. ক) বুদ্ধি
  2. খ) বিবেক
  3. গ) সততা
  4. ঘ) আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
গ) সততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সততা
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের তিনটি গুণাবলির উল্লেখ করেন।
এগুলো হলো:
- বুদ্ধি
- বিবেক এবং
- আত্মসংযম।

(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক পৌরনীতি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১,৬৩৭.
'অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা' এটি নাগরিকের কী ধরনের কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত?
  1. সামাজিক
  2. আইনগত
  3. নৈতিক
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।

• নৈতিক কর্তব্যের উদাহরণ - 
- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
- ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া,
- দরিদ্রকে সাহায্য করা,
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৬৩৮.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ঘোষিত স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. সমান অধিকার
  3. স্বচ্ছতা
  4. দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
সমান অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান অধিকার
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'

- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।'

- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি মুখ্যত দায়ী অভাব।

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
চারটি স্তম্ভ হল-
→ দায়িত্বশীলতা
→ স্বচ্ছতা
→ আইনী কাঠামো ও
→ অংশগ্রহণ। 

- এক কথায়, জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো- সুশাসন।
- UNDP সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
১,৬৩৯.
'পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা' কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা ব্যক্তিগত অধিকার।

অধিকার:

- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।

⇒ ব্যক্তিগত অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৪০.
নিচের কোনটি স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ?
  1. ক) আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  2. খ) মূল্যবোধের বিকাশ
  3. গ) সরকারের দায়িত্বশীলতা
  4. ঘ) সদাজাগ্রত জনমত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সদাজাগ্রত জনমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সদাজাগ্রত জনমত
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার হলেও এটি অর্জন ও সংরক্ষণ অত্যন্ত দুরূহ কাজ।
• স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ হলো জনগণের সর্তক দৃষ্টি বা সদা জাগ্রত জনমত। 
• স্বাধীনতা প্রিয় জনগণকে সর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে, যেন স্বাধীনতার ওপর হুমকি না আসে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৪১.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা
  2. দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা
  3. ভিন্ন মতের প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব বজায় রাখা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো এমন একগুচ্ছ চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে।

♦ রাজনৈতিক মূল্যবোধের উপাদানসমূহ:
• রাজনৈতিক সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা ৷
• শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা।
• রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
• দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা।
• ভিন্ন মতের প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব বজায় রাখা।
• বিরোধী মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা প্রদান করা ৷
• বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা না দেয়া
• নির্বাচনের ফলাফল (জয়-পরাজয়) মেনে নেয়া ৷
• রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে তোলা ।
• আইনসভার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা।
• সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ নিশ্চিত করা।
• সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৪২.
নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. বিবেক
  3. সততা
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।

নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):

- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।

ব্যক্তির নৈতিক কর্তব্য:
- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
- ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া,
- দরিদ্রকে সাহায্য করা,
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৪৩.
নিচের কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের উৎস?
  1. আইন
  2. বিবেক
  3. ধর্মগ্রন্থ
  4. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
বিবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক
ব্যাখ্যা
- নীতি এবং ঔচিত্যবোধ থেকে নৈতিকতা বা নৈতিক মূল্যবোধ উৎসারিত।
- নৈতিক আচরণ বা মূল্যবোধ হলো সেসব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
নৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা
- সত্যকে সত্য বলা
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
- দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৬৪৪.
কোনটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান
  2. রোগীর সেবা
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. শোকার্তকে সান্ত্বনা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৬৪৫.
’Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. টমাস হবস
  2. জন স্টুয়াটৃ মিল
  3. বার্টান্ড রাসেল
  4. প্লোটো
সঠিক উত্তর:
বার্টান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্টান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

- 'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা ব্রিটিশ দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেল।

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৬৪৬.
‘যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’-উক্তিটিতে কী প্রকাশ পাচ্ছে?
  1. আইন স্বাধীনতার রক্ষক
  2. আইন স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক
  3. আইন স্বাধীনতার ভক্ষক
  4. আইন স্বাধীনতার প্রচারক
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন স্বাধীনতার রক্ষক
ব্যাখ্যা
‘যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’-উক্তিটিতে প্রকাশ পাচ্ছে আইন স্বাধীনতার রক্ষক।

আইন:
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে।
- রাষ্ট্র আইনের সাহায্যে মানুষের অবাধ স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক লকের (Locke) মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৪৭.
মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ কী বিচার করতে পারে?
  1. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  2. ভালো ও মন্দ
  3. ন্যায় ও অন্যায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো একটি মানবিক গুণ, যা একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। এটি সমাজে বসবাস, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও নৈতিকতা-অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক, অর্থাৎ সময়, সমাজ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
- এটি শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দ, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা বিচার করতে পারে।

⇒ মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- সুতরাং, একটি নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে মূল্যবোধ অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৪৮.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) সংবেদনশীলতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) ভবিষ্যৎবাণী
সঠিক উত্তর:
খ) সংবেদনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংবেদনশীলতা
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
এডিবি’র মতে সুশাসনের উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
১,৬৪৯.
অ্যারিস্টটলের 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' অনুযায়ী, সদ্গুণ অর্জনের জন্য কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ন্যায়বান হওয়া
  2. সাহসী হওয়া
  3. মধ্যপন্থা অবলম্বন করা
  4. মিতাচারী হওয়া
সঠিক উত্তর:
মধ্যপন্থা অবলম্বন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপন্থা অবলম্বন করা
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। 
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৫০.
১৯৯২ সালে 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' নামক রিপোর্টটি প্রকাশ করে -
  1. ক) আইএমএফ
  2. খ) জাইকা
  3. গ) জাতিসংঘ
  4. ঘ) বিশ্বব্যাংক
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
• বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
• সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
• পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন (Governance and Development)' নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
• বিশ্বব্যাংকের মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি প্রধানত দায়ী।

তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫১.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. স্বাস্থ্যসেবা প্রসার
  4. শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৬৫২.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মূল্যবোধ হলো একপ্রকার নীতি ও মানদণ্ড।
  2. খ) মূল্যবোধ শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
  3. গ) নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে মূল্যবোধ উৎসারিত।
  4. ঘ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত।
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ ন্যায়বোধ, নীতি ও ঔচিত্যবোধ হতে উৎসারিত।
- মূল্যবোধের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
- মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি মানুষের বিবেক বোধের সাথে সম্পৃক্ত।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৬৫৩.
সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল - এই অভিমত কোন সংস্থা ঘোষণা করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি 
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এডিবি 
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের স্তম্ভ:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা,
ii) স্বচ্ছতা,
iii) আইনী কাঠামো,
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৪.
সুশাসন কার্যকরে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সরকারের
  2. শিক্ষার্থীদের
  3. আমলাদের
  4. গণমাধ্যমের
সঠিক উত্তর:
সরকারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও সরকার:
- সুশাসন কার্যকরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সরকার পালন করে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর আইন ও নীতি সরকারকেই তৈরি করতে হয়।
- সরকার যদি আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করে, তবে সুশাসন নিশ্চিত হয়।
- সরকারী সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
- নাগরিক স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

অন্য বিকল্পগুলো:
শিক্ষার্থীরা (খ) – তারা ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখে, তবে সরাসরি সুশাসন বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের নেই।
আমলারা (গ) – তারা নীতি বাস্তবায়ন করে, কিন্তু নীতি নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনা সরকারের হাতে থাকে।
গণমাধ্যম (ঘ) – এটি তথ্য প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তবে সরাসরি শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না।

সুশাসন কার্যকরের জন্য সকলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সরকারই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ এটি নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৬৫৫.
Asian Development Bank (ADB) নিম্নের কোন রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. Governance: Sound Development Management
  2. Governance and Development
  3. Policy Paper
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Governance: Sound Development Management
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Governance: Sound Development Management
ব্যাখ্যা

ADB ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎবাণী।
- ১৯৯৯ সালে "আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৬৫৬.
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কোন মূল্যবোধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত?
  1. একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
  2. কেবল নিজ দলের মত প্রচার
  3. বিরোধী মতের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ
  4. রাজনৈতিক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো সেই গভীর চিন্তাধারা, বিশ্বাস, আদর্শ ও সংকল্পের সমষ্টি যা একজন মানুষের রাজনৈতিক আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং দিকনির্দেশনা দেয়।
- এটি কোনো বাহ্যিক নিয়ম বা আইন নয়।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্ৰদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৫৭.
'সৃষ্টিরহস্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আরজ আলী মাতুব্বর
  2. আহমদ শরীফ
  3. হুমায়ূন আজাদ
  4. ড. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুব্বর:
- আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও স্বশিক্ষিত দার্শনিক।
- তিনি ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ বরিশাল জেলার লামচরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রামের মক্তবে মাত্র কয়েক মাস লেখাপড়া করার পর, তিনি নিজ প্রচেষ্টায় নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি একটি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন। তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
- তাঁর রচনায় মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক প্রজ্ঞার ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। ১৩৯২ বঙ্গাব্দের ১ চৈত্র বরিশালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১,৬৫৮.
নৈতিক অধিকার কোথায় থেকে জাগ্রত হয়?
  1. রাষ্ট্রের আইন থেকে  
  2. বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
  3. ধর্ম থেকে
  4. সংস্কৃতি থেকে
সঠিক উত্তর:
বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
ব্যাখ্যা

• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার  জাগ্রত হয় বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে।

- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না।
- নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 

- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
- নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

• আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
 যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৫৯.
Code of ethics বলতে কী বুঝায়?
  1. মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন
  2. দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  3. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন
ব্যাখ্যা
নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics):
- নৈতিক আচরণবিধি বলতে বুঝায় মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে।

• নৈতিকতার নিয়ম প্রতিষ্ঠা (Establishment of Codes of Ethics):
- প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মীদের জন্য নৈতিকতার কিছু নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেও নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
- এটি হলো এমন কতগুলো আচরণের সমষ্টি যা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে।
- এ প্রসঙ্গে Bartol and Martin বলেন, “নৈতিকতার নিয়ম হলো এক ধরনের দলিল যা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদেরকে দিক-নির্দেশনার জন্য তৈরি করা হয় যখন তারা নৈতিকতা সম্পর্কে কোনো বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে (A code of ethics is document prepared for the purpose of guiding organizaion members when they encounter an ethical dilemma.")।
- প্রতিষ্ঠানে এধরনের নীতিমালা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি তা মেনে চলতে বাধ্য হবে।
- ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কার্যপরিবেশ বিরাজ করবে।
- এ সকল নিয়মনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

⇒ নৈতিকতা নিরীক্ষা (Ethical Audit):
- প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত নৈতিক নিয়মনীতি (ethical code) বিভিন্ন কার্যক্ষেত্রে যথারীতি মানা হচ্ছে কি না তা পরীক্ষানিরীক্ষা করাই হলো নৈতিকতা নিরীক্ষা।
- Bartol and Martin এর মতে, “নৈতিকতা নিরীক্ষা হলো একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা যা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যে নৈতিকতা নীতি পরিমাপ করে, সেই সকল নীতি বুঝতে সাহায্য করে এবং এ সকল নীতি পালনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিতকরণপূর্বক সংশোধনের ব্যবস্থা করে (Ethical audits is a systematic efforts to asses conformance to organizational ethical policies and understanding of those policies, and identify serious breaches requring remedial action)।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬০.
মধ্যযুগে কোন ধরণের সদ্‌গুণের ওপর জোর দেয়া হত?
  1. ক) ধর্মভিত্তিক
  2. খ) রাজনৈতিক
  3. গ) ধর্মনিরপেক্ষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মভিত্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মভিত্তিক
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগে ধর্মভিত্তিক সদ্‌গুণের ওপর জোর দেয়া হত। 
মধ্যযুগে খ্রিস্টীয় প্রভাবে এমন কিছু সদগুণের ওপর জোর দেয়া হতো যা গ্রিক দর্শনে প্রায় অনুপস্থিত। যেমন, প্রেম, বিনয়, নম্রতা, দয়ার্দ্রতা ইত্যাদি। 
সুফী ধারার ইসলাম এর সঙ্গে আরো যেসব সদ্গুণ যোগ করে তা হচ্ছে ধৈয্য, একাগ্রতা, খোদা-ভীক্ততা এবং আরো কিছু পরকালমুখী গুণাবলী। তবে নৈতিক দিক থেকে দেখলে বলা চলে, সদ্গুণের ব্যাপারে ইসলাম একটা সমন্বয়ধর্মী মনোভাব পোষণ করে এবং অ্যারিস্টটলের মধ্যপন্থারই সমর্থক।

আধুনিককালে পরমত সহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক মানসিকতা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সহযোগিতা ইত্যাদিকে সদগুণ হিসেবে সর্বাধিক মূল্য দেয়া হয়। এই সব সদ্গুণকে উৎসাহিত করার কারণে আজকাল বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানের বহু বিবৃতিই নৈতিক অবধারণের রূপ নিয়েছে। ফলে নীতিবিদ্যার সঙ্গে এদের ঘনিষ্ঠতা বেশ বেড়েছে।
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৬১.
জাতিসংঘের কোন মহাসচিবের মতে 'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে'?
  1. বান কি-মুন
  2. বুত্রোস বুত্রোস-ঘালি
  3. কফি আনান
  4. জাভিয়ের পেরেজ ডি কুয়েলার
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, 'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।'

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ঘানার কফি আনান।
- তিনি ঘানার নাগরিক।
- তিনি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে নিয়োগকৃত দ্বিতীয় জাতিসংঘের মহাসচিব।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৬২.
'Greatest Happiness Principle' নীতির প্রবক্তা কে?
  1. জন মিল
  2. রুশো
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. কার্ল মার্কস
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।

⇒ তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

অন্যদিকে,
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৩.
কোনটি শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিখায়?
  1. নৈতিকতা
  2. গণতন্ত্র
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

⇒ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

উল্লেখ্য,
• মূল্যবোধ শিক্ষা শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিখায়।
• শ্রমের মর্যাদা মূল্যবোধের একটি ভিত্তি বা উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৬৪.
মূল্যবোধের কোন উপাদান মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সহনশীলতা
  3. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উপাদান:
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত, সেগুলো হলো:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সামাজিক জীবনে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধ। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কটুক্তি না করা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এই নীতি ও ঔচিত্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। এটি মানুষের মধ্যে নৈতিকতার বিকাশ ঘটায় এবং তাকে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
২. সামাজিক ন্যায়বিচার:
- ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সমান বিচার। সামাজিক ন্যায়বিচার মানে হলো সমাজে সকলের প্রতি আইনের চোখে সমান আচরণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
৩. শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ। এটি সমাজের অগ্রগতির প্রধান সোপান এবং সমাজের কাঠামো ঠিক রাখে।
৪. সহনশীলতা:
- সহনশীলতা হচ্ছে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ এবং গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ। এটি মানুষকে একে অপরের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করে।
৫. সহমর্মিতা:
- অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং সাহায্য করার ইচ্ছা। এটি সমাজে সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৬. সৌজন্যবোধ:
- পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতার প্রদর্শন। এটি সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় এবং একে অপরের প্রতি সদাচরণের মানদণ্ড তৈরি করে।
৭. মানবিকতা:
- মানবিকতা হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ। এটি মানুষের প্রতি সহানুভূতির অনুভূতি তৈরি করে।
৮. শ্রমের মর্যাদা:
- কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন। এটি সমাজে শ্রমিক শ্রেণির মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সমাজের উন্নয়ন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৬৫.
‘The Modern State’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি
  2. খ) আর. এম ম্যাকাইভার
  3. গ) অধ্যাপক লাস্কি
  4. ঘ) অধ্যাপক গার্নার
সঠিক উত্তর:
খ) আর. এম ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আর. এম ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
‘The Modern State’ গ্রন্থটির রচয়িতা আর. এম ম্যাকাইভার। 
আর. এম. ম্যাকাইভার-এর একটি বিখ্যাত উক্তি :
Law does not and can not cover all ground of morality.
 
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই; ব্রিটানিকা।
১,৬৬৬.
UNCAC-এর লক্ষ্য কী? 
  1. শিক্ষা প্রসার 
  2. রাষ্ট্রের উন্নয়ন
  3. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  4. কৃষি উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
​- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা। 
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯১টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

​উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

১,৬৬৭.
আমলাতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো-
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) ক্ষমতা
  3. গ) জনকল্যাণ
  4. ঘ) কর্মদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
গ) জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তা ই মূল্যবোধ। একজন আমলা বা প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা। এই মূল্যবোধের আলোকেই একজন প্রশাসক বা আমলা তার কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১,৬৬৮.
বিশ্বব্যাংক 'Governance : The World Bank Experience' শীর্ষক রিপোর্টটি প্রকাশ করে কবে?
  1. ক) ১৯৯৪ সালে
  2. খ) ১৯৯২ সালে
  3. গ) ১৯৯৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।  
• ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,৬৬৯.
মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, '__________ সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'
  1. পরিবারের
  2. সমাজের
  3. রাষ্ট্রের
  4. বিশ্বের
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে,
- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৭০.
শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম না থাকলে কোন বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়
  2. মূল্যবোধ অবক্ষয়
  3. সুশাসন
  4. শিক্ষার গুণগতমান
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

⇒ সুশাসন:
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৬৭১.
“Sociology is the science of society or of social phenomena.” – এই সংজ্ঞাটি sociology-র কে প্রদান করেছে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. এল এফ ওয়ার্ড
  3. লর্ড ব্রাইস
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
এল এফ ওয়ার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এল এফ ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে নাগরিকের আচার-আচরণ, রীতি- নীতি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্রের শাসন প্রণালীসহ নাগরিকের সামগ্রিক বিষয়াবলি সম্বন্ধে আলোচনা করে।
- সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে এল এফ ওয়ার্ড (L.F. Ward) বলেন, "Sociology is the science of society or of social phenomena.”

অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা  এসএসসি প্রোগ্রাম, ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭২.
প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে রোধ করা যায়?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  2. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  3. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  4. উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয়।

• বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়:
- বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায় রয়েছে।
- দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা সম্পদের অপব্যবহার, শাসনরীতির অনিয়ম, প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
- এ ক্ষেত্রে যদি সরকার সংসদকে কার্যকরি করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ তার কার্যকর ভূমিকা পালন করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

⇒ সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা- নারীর ক্ষমতায়ন,
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ,
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৭৩.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. নির্দিষ্টতা
  2. বিভিন্নতা
  3. আপেক্ষিকতা
  4. সৌজন্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা

-  সৌজন্যবোধ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য

 - নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

অন্যদিকে,
- মূল্যবোধের উপাদান:  নীতিবোধ: শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ,মানবিকতা, শ্রমের মর্যাদা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭৪.
‘‘ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এটি স্পষ্ট যে, আধুনিক রাষ্ট্রগুলো মূলত সফল যুদ্ধ বিগ্রহেরই ফলশ্রুতি’’। - কার উক্তি?
  1. ক) ওপেনহেইমার
  2. খ) কোকার
  3. গ) জেংকস
  4. ঘ) জেলেনিক
সঠিক উত্তর:
গ) জেংকস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেংকস
ব্যাখ্যা
- বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে এ ধারণায় আস্থা স্থাপন করেন বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওপেনহ্যাইমার , জেংকস্ , জেলেনিক, কোকার , লীকক্ প্রমুখ।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেংকস্-এর মতে , ‘‘ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এটি স্পষ্ট যে, আধুনিক রাষ্ট্রগুলো মূলত সফল যুদ্ধ বিগ্রহেরই ফলশ্রুতি’’।

- ওপেনহ্যাইমার বলেন, ‘‘উৎপত্তিতে সম্পূর্ণরূপে এবং অস্তিত্বের প্রথম পর্যায়ে অপরিহার্যভাবে ও সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র বিজয়ীর
বলপ্রয়োগ দ্বারা বিজিত মানব সম্প্রদায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত এক সামাজিক প্রতিষ্ঠান’’।
- জেলেনিক লিখেছেন, ‘‘যখন কোন বলবান নেতা তার অনুসারী ও সহযোগীদের সহায়তায় কোন এলাকা বা অঞ্চলের
উপর স্থায়ীভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে তখনই রাষ্ট্র সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।”
- কোকার-এর মতে, "বল প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও যুদ্ধবাদিতার মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।"

তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান , এস এস এইচ এল , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৫.
Fifth Republic (পঞ্চম প্রজাতন্ত্র) কোন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা?
  1. ক) যুক্তরাজ্য
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) বেলজিয়াম
  4. ঘ) চীন
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
Fifth Republic (পঞ্চম প্রজাতন্ত্র) ফ্রান্স দেশের রাজনৈতিক অবস্থা। এই ব্যবস্থার অন্য নাম গলবাদ। ১৯৫৮- ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিল পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের একাধিপত্যের যুগ। রেফারেন্সঃ এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৬৭৬.
কোনটি প্রতিষ্ঠার ফলে একটি দেশের উন্নয়ন সূচকে উর্ধ্বগামী প্রবণতা দেখা যায়?
  1. সুশাসন
  2. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
•  রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সুশাসনের মূল দিকগুলি, এটি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
•  সুশাসন এবং উন্নয়ন একে অপরকে সম্পূরক করে এবং একে অপরকে সুন্দরভাবে পূরণ করতে সাহায্য করে।
সুশাসনের ফলে একটি দেশের উন্নয়ন সূচকে উর্ধ্বগামী প্রবণতা দেখা যায়

রাজনৈতিক উন্নয়ন:
- রাজনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি দেশ রাজনৈতিক দক্ষতা, ন্যায়বিচার পদ্ধতি, এবং শাসনাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে উন্নত হতে পারে।
- সুশাসন মাধ্যমে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক উন্নতি হতে সাহায্য করে। 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
- অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসন দেশে উদ্যোগ, ব্যবসায় এবং বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করতে সাহায্য করে।
- প্রতিষ্ঠানের নীতি ও নীতির স্থায়িতা এবং ভোটাধিকারের মাধ্যমে নাগরিকদের অংশগ্রহণ দেওয়া হয়, যা একটি দেশে বাড়তি অর্থনৈতিক উন্নতির উপযোগী করতে সাহায্য করে।

সামাজিক উন্নয়ন:
- সামাজিক উন্নয়ন মাধ্যমে সুশাসন দেশে জনগণের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজের সমর্থন তৈরি করে।
- সুশাসন মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়, সমাজের বৈশিষ্ট্য, এবং ভোটাধিকারের মাধ্যমে নাগরিকদের সামাজিক অধিকার এবং সম্প্রদায়ের বিকাশ সহায়ক হতে পারে।


উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং ব্রিটানিকা।
১,৬৭৭.
E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন কে?
  1. কাসু ব্রহ্মানন্দ রেড্ডি
  2. ই.এম হোয়াইট
  3. এফ. আই গ্লাউড
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

উল্লেখ্য,
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৭৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবে সমাজে কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়?
  1. সামাজিক নিরাপত্তা
  2. বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা
  3. সামাজিক দায়বদ্ধতা
  4. জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবজনিত ফলাফল:

- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার, এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সহায়ক। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হয়। 
- সমাজে আইন অমান্য করার প্রবণতা বেড়ে যায়, যা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে।
- প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অপব্যবহার বৃদ্ধি পায়, ফলে কার্যকরী ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয় এবং সমাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
- এই পরিস্থিতি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা, বা জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে।
- তাই, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের অভাব সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৯.
'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'-উক্তিটি কার?
  1. এইচ এম জনসন
  2. জন লক
  3. ক্লাইড ব্লুখোন
  4. এফ ই মেরিল
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
- ক্লাইড ব্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮০.
২০১২ সালে প্রণীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অভিলক্ষ্য কী?
  1. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,৬৮১.
‘Principia Ethica’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) শলায়ারমাখার
  4. ঘ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
ব্যাখ্যা
‘Principia Ethica’ গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক জর্জ এডওয়ার্ড মুর।
গ্রন্থটি ১৯০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে জর্জ এডওয়ার্ড মুর পরানীতিবিদ্যা (Metaethics) ধারণার সূত্রপাত করেন।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১,৬৮২.
পৌরনীতি ও সুশাসন নিচের কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে?
  1. ক) অর্থব্যবস্থা
  2. খ) ব্যাংকিং ব্যবস্থা
  3. গ) ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
  4. ঘ) ধর্মীয় অনুশাসন
সঠিক উত্তর:
গ) ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও ই-গভর্নেন্সঃ
পৌরনীতি ও সুশাসন বর্তমান সময়ে সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স নিয়ে আলোচনা করে। সরকার কিভাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে পারে সে বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে।

সূত্র- এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন (উন্মুক্ত)।
১,৬৮৩.
'Philosophy for Life and Other Dangerous Situations' বইয়ের লেখক কে?
  1. কার্ল মার্ক্স
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. জুলস ইভানস
  4. ফ্রাঞ্জ কাফকা
সঠিক উত্তর:
জুলস ইভানস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলস ইভানস
ব্যাখ্যা
• Philosophy for Life and Other Dangerous Situations বইটির লেখক হলেন জুলস ইভানস (Jules Evans)। বইটিতে প্রাচীন দর্শনের বিভিন্ন ধারার ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং কীভাবে দর্শন আমাদের জীবনকে উন্নত করতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- কার্ল মার্ক্স - বিখ্যাত সমাজতাত্ত্বিক ও দার্শনিক, The Communist Manifesto এর সহ-লেখক।
- জন স্টুয়ার্ট মিল - উদারনৈতিক দর্শনের প্রবক্তা, On Liberty সহ বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
- ফ্রাঞ্জ কাফকা - বিখ্যাত সাহিত্যিক, The Metamorphosis ও অন্যান্য গল্পের জন্য পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৮৪.
কোনটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত? 
  1. উপযোগবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. নৈতিকতা
  4. সামন্তবাদ
সঠিক উত্তর:
উদারতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদারতাবাদ
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে: 
- মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে এর উৎপত্তি।

উল্লেখ্য, 
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন-
- "ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৬৮৫.
টমাস হবস কোন গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন?
  1. Leviathan
  2. The Prince
  3. The Social Contract
  4. Element of Ethics
সঠিক উত্তর:
Leviathan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Leviathan
ব্যাখ্যা

টমাস হবস Leviathan গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন।

টমাস হবস:

- টমাস হবস একজন ইংরেজ দার্শনিক।
- তিনি তার রাজনৈতিক দর্শনের কারণে বিশ্বব্যাপী খ্যাত।
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত Leviathan গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শনের গোড়াপত্তন করে।

⇒ হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- Leviathan গ্রন্থে ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী টমাস হবস সামাজিক চুক্তি মতবাদের ব্যাখ্যা দেন।
- হবস তাঁর ব্যাখ্যায় মানব চরিত্রের হতাশাবাদী ও স্বার্থপর চিত্র অঙ্কন করেন।

• হবসের মতে, মানুষ জড় পদার্থের বেশি কিছু নয়। স্বার্থপরতা দ্বারা সে পরিচালিত হয়। আকাঙ্ক্ষা ও বিতৃষ্ণা মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল। মানুষ মাত্রই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক।
• প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার অভিমত, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বক্ষণ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করত। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল- নিঃসঙ্গ, হতভাগ্য, জঘন্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত। আদিম নৃশংসতা ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন ও ন্যায়বিচার ছিল না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতি রাজ্যের মানুষেরা নিজেদের অধিকার পরিত্যাগ করে শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজার কাছে) তা হস্তান্তর করে। চুক্তি হয় জনগণের মধ্যে। রাজা বা শাসক চুক্তির অংশ নয়। যে কারণে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাজার বিরুদ্ধে করা যাবে না।

⇒ এভাবে হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। যেখানে রাজা বা শাসকের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা চুক্তির ফলে জনগণের কোন অধিকার থাকে না রাজাকে নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি করার। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনৈতিহাসিক, অযৌক্তিক এবং সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের নীল নকশা।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,৬৮৬.
নীতিবিদ ম্যুর-এর মতে, শুভর ______ ও অশুভর প্রতি _______ হচ্ছে নৈতিকতা।
  1. রাগ, অনুরাগ
  2. অনুরাগ, বিরাগ
  3. বিরাগ, অনুরাগ
  4. অনুরাগ, রাগ
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ, বিরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ, বিরাগ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

⇒ সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৮৭.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য কোনটি?
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. অর্থনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে পরিগণিত।
- তাই মূল্যবোধ ‍শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

⇒ সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৮.
নীতিবাক্যের ভিত্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্র
  2. খ) গোত্র
  3. গ) পারিবার
  4. ঘ) সমাজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
• সমাজ মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কে তার অনুমোদন কিংবা অননুমোদনকে সাধারণত ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিত, সঠিক-বেঠিক, সৎ-অসৎ, মূল্যবান-মূল্যহীন প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করে প্রকাশ করে থাকে।
- এসব শব্দাবলী এবং তাদের সংযোগে গঠিত বাক্য বা অবধারণের মাধ্যমে মানুষের যে চিন্তা- চেতনার প্রকাশ ঘটে তাকে এককথায় বলা হয় তার মূল্যবোধ; আর মানুষের এ মূল্যবোধেরই আরেক নাম হচ্ছে নৈতিকতা ।

• নৈতিকতা বিষয়ক সামাজিক চিন্তা-চেতনা যেসব অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদেরকে আমরা এককথায় নৈতিক অবধারণ বা নীতিবাক্য বলতে পারি ।
- এই সব নীতি-বাক্যগুলো ‘চুরি করা অন্যায়', “মিথ্যা বলা ভাল নয়' ইত্যাদি আকারে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করি।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৯.
'লেভিয়াথান' (Leviathan) গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. থমাস হবস
  2. সেমুর মার্টিন লিপসেট
  3. রিচার্ড এইচ. থেলার
  4. টিমোথি স্নাইডার
সঠিক উত্তর:
থমাস হবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থমাস হবস
ব্যাখ্যা

- 'লেভিয়াথান' (Leviathan) গ্রন্থের রচয়িতা থমাস হবস (Thomas Hobbes).

অন্যদিকে,
-  Political Man : সেমুর মার্টিন লিপসেট (Seymour Martin Lipset).
-  Misbehaving: রিচার্ড এইচ. থেলার (Richard H. Thaler).
- Political Order and Political Decay: লেখক: ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা (Francis Fukuyama).
- On Tyranny লেখক: টিমোথি স্নাইডার (Timothy Snyder).

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৯০.
'লালফিতার দৌরাত্ম্য' খুব বেশি কোথায় দেখা যায়?
  1. আমলাতন্ত্রে
  2. রাজতন্ত্রে
  3. একনায়কতন্ত্রে
  4. গণতন্ত্রে
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tape) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৬৯১.
কে সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন?
  1. মিল
  2. ফিফনার
  3. ম্যাক্সওয়েবার
  4. ফাইনার
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্সওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্সওয়েবার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে 'Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৬৯২.
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রধানত কীসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে 
  2. ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যমে 
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে
  4. দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রধানত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

কর্তব্যের শ্রেণিবিভাগ: 

- অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে।
- নাগরিকের কর্তব্যকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা-ক। নৈতিক কর্তব্য ও খ। আইনগত কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, সংবিধান, রাষ্ট্রীয় মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন ইত্যাদির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায়।

 অন্যভাবে বলা যায়,
- রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, সংহতি ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য প্রয়োজনবোধে নিজের জীবন উৎসর্গ করার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৯৩.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে কী বোঝায়?
  1. প্রশাসনের সকল সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীভূত করা
  2. শুধুমাত্র বিচার বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. শুধুমাত্র আইন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  4. আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক পৃথক বিভাগে অর্পণ
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক পৃথক বিভাগে অর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক পৃথক বিভাগে অর্পণ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৪.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কার? 
  1. এফ ই মেরিল 
  2. এইচ এম জনসন 
  3. ক্লাইড ক্লুখোন
  4. উইলোবী
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।

• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল: - "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৯৫.
মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. সহমর্মিতা
  2. শৃঙ্খলা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. নীতিবোধ
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান।

• মূল্যবোধের উপাদান:

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়।
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-

→ নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল।
- কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না।
- তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান।
- শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

• সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত।
- সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে
পারে না।

• সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৬.
‘Know Thyself’ উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো 
  2. অ্যারিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. পিথাগোরাস
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

‘Know Thyself’ উক্তি:
- পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন বিশ্বব্যাপী দর্শন ও সভ্যতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও চিন্তাধারা জ্ঞান ও নীতিবিদ্যা জগতকে সমৃদ্ধ করেছে।
- তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাগুরু হলেন সক্রেটিস (Socrates)।
- তিনি প্রাচ্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা হিসেবে খ্যাত।

- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি ‘Know Thyself’ বা ‘নিজেকে জানো’।
- তিনি প্রায়ই এই উক্তি নিজের নীতিবিদ্যা ও জীবন দর্শনের প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতেন।
- সক্রেটিসের দর্শনে “Know Thyself” হলো আত্মপরিচয় এবং নিজের সীমাবদ্ধতা, জ্ঞান ও নৈতিক দায়িত্ব বোঝার মাধ্যমে নৈতিক ও যুক্তিসম্মত জীবনযাপন করার নির্দেশ।
- এর মূল লক্ষ্য হলো আত্ম-জ্ঞান ও নৈতিক সচেতনতা অর্জন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৯৭.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড' -উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. উইলিয়াম
  4. মেরিল
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
- "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

⇒ মেরিল এর মতে,
- ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬৯৮.
'দি প্যারাবুলস অব দি ইস্ট & মাই আমেরিকান এক্সপিরিয়েন্স' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. এরিস্টটল
  2. গোবিন্দ চন্দ্র দেব 
  3. প্লেটো
  4. নোয়াম চমস্কি
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ চন্দ্র দেব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ চন্দ্র দেব 
ব্যাখ্যা

গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য।
- তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

⇒ তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়।
- তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন।
- তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তিনি তাঁর প্রায় সব গ্রন্থেই এই দার্শনিক তত্ত্বই প্রকাশ করেছেন।

⇔ দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট নয়টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),
- দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান (১৯৬৩),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- বুদ্ধ: দি হিউম্যানিস্ট (১৯৬৯)।
- দি প্যারাবুলস অব দি ইস্ট (১৯৮৪)।
- মাই আমেরিকান এক্সপিরিয়েন্স (১৯৯৩)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৬৯৯.
নিম্নের কে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. এরিস্টটল
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন।

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:

- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ১৪৫৯ সালের ৩ মে ইতালির ফ্লোরেন্সে এক অ্যাটর্নির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৭০০.
'Governance: The World Bank Experience'- প্রতিবেদন প্রকাশ করে-
  1. ক) আইএমএফ
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) জাতিসংঘ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক 'Governance: The World Bank Experience' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। যথা-
১. সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা,
২. দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা,
৩. উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো এবং
৪. স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
উৎসঃ বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট।