বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৬ / ৩৯ · ১,৫০১১,৬০০ / ৩,৮২৯

১,৫০১.
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি ‘Know Thyself' এর অর্থ কী?
  1. অপরকে জানো
  2. সকলকে জানো
  3. নিজেকে জানো
  4. সমাজকে জানো
সঠিক উত্তর:
নিজেকে জানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজেকে জানো
ব্যাখ্যা
• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা। 

- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০২.
'আমলাতন্ত্র' তত্ত্ব প্রথম কে উপস্থাপন করেন?
  1. উইলিয়াম লিলি
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. ডুখেইম
  4. কার্ল মার্ক্স
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হল একটি সংস্থা (সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন) যা বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে জটিলতা, শ্রম বিভাজন, স্থায়িত্ব, পেশাদার ব্যবস্থাপনা, শ্রেণিবিন্যাস সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, কঠোর চেইন অফ কমান্ড এবং আইনি কর্তৃত্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত সংগঠনের নির্দিষ্ট রূপ।
- 'আমলাতন্ত্র' তত্ত্ব প্রথম উপস্থাপন করেন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (১৮৬৪-১৯২০)।
- তিনি আমলাতন্ত্রের আদর্শ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক উত্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৫০৩.
মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়-
  1. ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটলে
  2. খ) সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির মাধ্যমে
  3. গ) সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
  4. ঘ) কোনোটিই না
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
ব্যাখ্যা
মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানেও এর উল্লেখ রয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেলেই শুধুমাত্র মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
১,৫০৪.
'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা - 
  1. পিটার সিঙ্গার
  2. হাইডেগার
  3. কিয়ের্কেগার্ড
  4. হেগেল
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটার সিঙ্গার
ব্যাখ্যা

- 'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা পিটার সিঙ্গার।

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।

⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World.

সূত্র: Britannica ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

১,৫০৫.
নৈতিকতা কোন ধরনের বিষয়?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) আত্নিক
  3. গ) পারিবারিক
  4. ঘ) ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার ধারণা
নৈতিকতা ব্যক্তিগত একটি বিষয়
▪ পৃথিবীতে ভালো-মন্দ যাচাই করার কোন শ্বাশত মানদন্ড না থাকার ফলে একজনের দৃষ্টিতে যে বিষয়টি ভালো অন্য জনের দৃষ্টিতে তা খারাপ হতে পারে। তবে ভালো-মন্দের একটি গড়পড়তা মানদন্ড সব সমাজে প্রায় একই রকম।
▪ সততা, সদাচারী, সৌজন্যমূলক আচরণকারী, প্রতিশ্রম্নতি রক্ষাকারি ব্যক্তিকে সব সমাজই নৈতিক গুনসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে। এ রকম ব্যক্তি কোন বিষয়টি সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ভালো বা মন্দ তা নির্ণয় করতে পারে। এই ভালো ও মন্দের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারাটাই হল ব্যক্তির নৈতিকতা।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৬.
জাতি রাষ্ট্রের প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা কে?
  1. ক) আর. এম. ম্যাকাইভার
  2. খ) অধ্যাপক গার্নার
  3. গ) ম্যাকিয়াভেলি
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
- জাতীয়তা একটি চেতনা, কিন্তু জাতি একটি রাজনৈতিক সংগঠন।
- জাতীয়তার ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্রই জাতি রাষ্ট্র।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতি রাষ্ট্রের' (Nation State) প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫০৭.
গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে কোনটির উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) Governance
  2. খ) Values
  3. গ) Civil
  4. ঘ) Morality
সঠিক উত্তর:
ক) Governance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Governance
ব্যাখ্যা
Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
এর অর্থ - শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।

According to Oxford Dictionary:
Middle English: from Old French, from governer, from Latin gubernare ‘to steer, rule’, from Greek kubernan ‘to steer’.

মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

- উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।
- ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে। 

Good Governance শব্দটির অর্থ - কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৫০৮.
জাতিসংঘ প্রকাশিত ই-গভর্মেন্ট সূচক-২০২০ এর শীর্ষদেশ কোনটি?
  1. ক) সুইডেন
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) ফিনল্যান্ড
  4. ঘ) নরওয়ে
সঠিক উত্তর:
খ) ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (DESA) জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলো নিয়ে প্রতি দুবছর অন্তর ই-গভর্মেন্ট সূচক প্রকাশ করে থাকে।
২০২০ সালে প্রকাশিত সূচকে:
- শীর্ষদেশ : ডেনমার্ক
- সর্বনিম্ন দেশ : দক্ষিণ সুদান
- বাংলাদেশের অবস্থান : ১১৯তম।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১,৫০৯.
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২০ সালে
  4. ২০২১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
• ই-পাসপোর্ট:
- বিশ্বে প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করে মালয়েশিয়া ১৯৯৮ সালে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয় ২৪ এপ্রিল, ২০১৬ সালে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ২২ জানুয়ারি, ২০২০ সালে।
- বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসাবে ই-পাসপোর্ট চালু করে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট নিয়ে কাজ করেছে জার্মান কোম্পানি Veridos GbmH.
- সাধারণ পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট এর মধ্যে পার্থক্য হলো, ই-পাসপোর্টে একটি পাতলা ও ছোট আকারের ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ যুক্ত থাকবে।
- এ চিপ পাসপোর্টে একটি বিশেষ পাতার ভিতর থাকবে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ব্রিটানিকা। 
১,৫১০.
জাতীয় স্বাধীনতা কোনটির মূলভিত্তি?
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতার
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতার
  3. সামাজিক স্বাধীনতার
  4. উল্লিখিত সব ধরনের স্বাধীনতার 
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব ধরনের স্বাধীনতার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব ধরনের স্বাধীনতার 
ব্যাখ্যা

জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।


উল্লেখ্য,
⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৫১১.
মূল্যবোধ (Values) কী ?
  1. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
  2. মানুষের সঙ্গে মানষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ।
  3. মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে কার্যাদি নির্ধারণের দিক নির্দেশনা।
  4. নাগরিক জিবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব।
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে তাকে আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং
- প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, এটা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫১২.
সুশাসন নিম্নের কোন ধারণা নির্মাণ করে না?
  1. ক) রাজনৈতিক সুশাসন
  2. খ) নৈতিক সুশাসন
  3. গ) সামাজিক সুশাসন
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক সুশাসন
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নৈতিক সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে : 
- রাজনৈতিক সুশাসন, 
- সামাজিক সুশাসন, 
- অর্থনৈতিক সুশাসন এবং 
- সাংস্কৃতিক সুশাসন।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫১৩.
ইমানুয়েল কান্ট-এর মতে নিম্নের কোনটি নীতিবিদ্যার মূলকথা?
  1. সৎ ইচ্ছা
  2. শর্তহীন আদেশ
  3. কর্তব্যের জন্য কর্তব্য
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১,৫১৪.
নিচের কোনটি জনগণ ও সরকারের মাঝে যোগসূত্রকারী হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) স্থানীয় সরকার
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল সরকার এবং জনগণের মাঝে যোগসূত্রকারী বা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৫১৫.
সুশাসনের জন্য সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে -
  1. EEC
  2. World Bank
  3. IMF
  4. UNDP
সঠিক উত্তর:
World Bank
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Bank
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

⇒ বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
- বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নি:স্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৬.
কোন সংস্থার মতে সুশাসনে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়?
  1. UNDP
  2. IMF
  3. United Nation
  4. World Bank
সঠিক উত্তর:
World Bank
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Bank
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫১৭.
মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের কী ধরনের সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) এককেন্দ্রিক
  2. খ) বিপরীত
  3. গ) নেতিবাচক
  4. ঘ) ঘনিষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘনিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
মূল্যবোধ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সুশাসন মূল্যবোধকে লালন করে।
সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সুশাসনের গুণাবলি প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১,৫১৮.
প্রতিটি শিশু কোন মূল্যবোধ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
         ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৯.
দুর্নীতি দমন কমিশন কী ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. বেসরকারি
  2. সাংবিধানিক
  3. আধাসামরিক
  4. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন:
- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- এর কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনার নিয়ে দুদক কমিশন গঠিত হয়।
- দুদক দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।
- তবে নানা সীমাবদ্ধতা কারণে দুদক দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না।

উল্লেখ্য,
- কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব জনাব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনারদ্বয় হলেন  সাবেক জেলা জজ জনাব মো. জহুরুল হক এবং সরকারের সাবেক সচিব জনাব মোছাঃ আছিয়া খাতুন।
- তারা দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার যথাক্রমে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

তথ্যসূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।
১,৫২০.
নিচের কোনটি গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ নয়?
  1. ক) নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা
  4. ঘ) সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
ক) নীতি ও ঔচিত্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। সহনশীলতা, আত্মসংযম, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ,আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ইত্যাদি হলো গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫২১.
কোন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ নামে পরিচিত?
  1. গণতন্ত্র
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ (Prescription) নামে পরিচিত প্রত্যয়টি হলো সুশাসন।
- ১৯৮০–এর দশক থেকে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে কেবল আর্থিক সহায়তা বা ঋণ প্রদানই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।
- এজন্য তারা উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ বা প্রেসক্রিপশন প্রদান করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, কার্যকর প্রশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
- তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সুশাসনকে বিশ্বব্যাংক একটি বাধ্যতামূলক নীতিগত নির্দেশনা বা ‘প্রেসক্রিপশন’ হিসেবে উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৫২২.
'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ' তত্ত্বের মূল প্রবক্তা কে?
  1. ক) গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল
  2. খ) ব্রিটিশ দার্শনিক ব্লাকস্টোন
  3. গ) ইতালীয় চিন্তাবিদ ম্যাকিয়াভেলী
  4. ঘ) ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কু
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে− আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল The Politics গ্রন্থের চতুর্থ পর্বের চতুর্দশ অধ্যায়ে এর সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি সরকারের অঙ্গ বা বিভাগসমূহকে গণপরিষদ শাসকবর্গ এবং বিচার বিভাগ নামে আখ্যায়িত করেন।

ব্রিটিশ আইনবিদ ব্লাকস্টোন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের অধিকার একই ব্যক্তি বা একই ব্যক্তি-সংস্থার হাতে অর্পিত হলে জনগণের কোন স্বাধীনতা থাকবে না।


তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান , এসএসএইচএল , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৩.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সফলতার জন্য কয়টি শর্ত উল্লেখ করেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ণতন্ত্র (Democracy):
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। 
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫২৪.
কত সালে বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সম্পর্কিত 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উল্লেখ্য,
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৫২৫.
হেগেলের বিখ্যাত উক্তি “Be a person” এর অর্থ কী?
  1. সামাজিক নেতৃত্ব প্রদান করা
  2. বস্তুগত সাফল্য অর্জন করা
  3. ধর্মীয় জীবনযাপন করা
  4. নৈতিক ব্যক্তিত্ব গঠন করা
সঠিক উত্তর:
নৈতিক ব্যক্তিত্ব গঠন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক ব্যক্তিত্ব গঠন করা
ব্যাখ্যা
হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
- জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল।
- তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়।
- তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯
১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আত্ম-সচেতনতার (self-consciousness) সৃষ্টি যা পরম সত্তার গুণ। জগতে এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে মানুষের মধ্যে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। এ সমন্বয় মত আবার সময়মত একটি মত হিসেবে অপর একটি প্রতি-মতের সষ্টি করে এবং এভাবে চিন্তা পর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে।
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,৫২৬.
কোন সংস্থাটির মতে ‘জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত লক্ষ্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য’ সুশাসনের অন্যতম উপাদান?
  1. UNDP
  2. IDA
  3. IMF
  4. UNO
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
UNDP:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা UNDP ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদান উল্লেখ করে।
• এগুলো হলো-
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১,৫২৭.
অধিকার প্রধানত কয়টি ভাগে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
অধিকার:
অধিকার হলো জনগণের ব্যক্তিত্ব এবং জীবন কে পূর্ণ বিকাশিত করার জন্য সমাজ তাদেরকে যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে তার সমষ্টি। অধিকার প্রধানত ২ ভাগে বিভক্ত-
১। নৈতিক অধিকার
২। আইনগত অধিকার

১) নৈতিক অধিকার:
যে অধিকার সমাজের ন্যায়বোধ হতে উদ্ভব হয়, তাকে নৈতিক অধিকার বলে। এগুলোর উৎস সমাজ। এগুলো না মানলে শাস্তি ভোগ করতে হয় না, তবে সমালোচিত হয়। যেমন-
- দরিদ্রকে সাহায্য।
- ভিক্ষুককে ভিক্ষাদান।
- বড়দের শ্রদ্ধা করা।

২)আইনগত অধিকার:
যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। এগুলোর উৎস রাষ্ট্র।এগুলো না মানলে শাস্তি ভোগ করতে হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৮.
মূল্যবোধ থেকে নিচের কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) আইন
  3. গ) সাম্য
  4. ঘ) সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
খ) আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ থেকে আসে আইন। আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যানের জন্য অপরিহার্য।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
১,৫২৯.
কোনটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে?
  1. সহমর্মিতা
  2. মানবিকতা
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. শৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
শ্রমের মর্যাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।

• শ্রমের মর্যাদা:
→ শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য।
→ এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।
→ এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩০.
“Law is the passionless reason" উক্তিটি কার?
  1. হল্যান্ড
  2. এরিস্টটল
  3. স্যামন্ড
  4. টমাস হবস
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
আইনের সংজ্ঞা:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason.)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও -
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৩১.
নিচের কোনটি দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেবের রচিত গ্রন্থ?
  1. Social Contract
  2. Republic 
  3. Idealism and Progress
  4. The Complete Art of War
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
ব্যাখ্যা

দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেবের রচিত গ্রন্থ Idealism and Progress.

গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য। তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

⇒ তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়।
- তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন। তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তিনি তাঁর প্রায় সব গ্রন্থেই এই দার্শনিক তত্ত্বই প্রকাশ করেছেন।

⇔ গোবিন্দ চন্দ্র দেবের রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Idealism and Progress (1952)
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- Buddha: the Humanist (1969), 
- Idealism: A New Defence and A New Application (1958), 
- Aspiration of the Common Man (1963),
- The Philosophy of Vivekananda and the Future of Man (1963),
- Parables of the East (1984), 
- My American Experience (1993)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩২.
ক্লাইড ব্লুখোন সামাজিক মূল্যবোধকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন?
  1. সমাজে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচরণের ধারা
  3. বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ
  4. সমাজের প্রত্যাশিত ও প্রাপ্ত গুণাবলি
সঠিক উত্তর:
প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচরণের ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচরণের ধারা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৩.
রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে -
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. ভোটদান
  3. আইনের শাসন
  4. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
ভোটদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোটদান
ব্যাখ্যা
• অংশগ্রহণ:
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ।
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব।
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৪.
সুশাসনের মূলনীতি হচ্ছে -
  1. সামাজিক সাম্য
  2. জবাবদিহিতা
  3. কর্তৃত্ববাদী শাসন
  4. স্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance.
- সুশাসন প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে - জাতিসংঘ।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- জাতিসংঘের সংস্থা UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে - সুশাসন।
- সুশাসনের মূলনীতি হচ্ছে - জবাবদিহিতা।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন - আইনের শাসন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫৩৫.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের প্রথম পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?
  1. ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  3. তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা
  4. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন এবং সরকার:

- রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
- তাই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে সরকার।
- সুশাসনের অন্যতম শর্ত হলো রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- আইন না থাকলে যেমন অনাচার সৃষ্টি হয়, তেমনি আইন না মানলে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।
- নাগরিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সামাজিক মূল্যবোধ, সাম্য ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসন অত্যাবশ্যক।
- আইনের শাসনের মাধ্যমে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- আইনের শাসনের ফলে সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমমর্যাদা পেয়ে থাকে।
- তাই সরকারকে সবক্ষেত্রে আইনকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং এ অনুযায়ী শাসন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৬.
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থার নাম?
  1. গোল্ডেন মিন
  2. সুবর্ণ মধ্যক
  3. ক+খ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক+খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+খ
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন মিন (Golden Mean) বা সুবর্ণ মধ্যক:
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- 'সুবর্ণ মধ্যক' হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৫৩৭.
নিচের কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতি?
  1. শিল্পকলা
  2. আদর্শ
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

তথ্যসূত্র - Britannica ও সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৮.
যৌতুক প্রথার কারণ-
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) অশিক্ষা
  3. গ) অর্থলিপ্সা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক কুপ্রথা। এই প্রথানুসারে বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে স্বামীপক্ষকে অর্থ বা সম্পত্তি প্রদান করতে হয়।
এই প্রথার পেছনে মূল কারণ হলো দারিদ্র্য। এছাড়া অশিক্ষা, অর্থলিপ্সা, আইনের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি যৌতুক প্রথার জন্যে দায়ী। যৌতুক প্রথা নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
১,৫৩৯.
আইন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. উভয়ই প্রাতিষ্ঠানিক
  2. উভয়ই ব্যক্তিগত
  3. আইন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত, নৈতিকতা ব্যক্তিগত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আইন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত, নৈতিকতা ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত, নৈতিকতা ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
আইন ও নৈতিকতার পার্থক্য:

ক) কার্যক্ষেত্রগত পার্থক্য:
আইন ও নৈতিকতার কার্যক্ষেত্রে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আইন কেবল মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং ঘটনা ঘটে যাবার পর ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যদিকে, নৈতিকতা মানুষের অন্তর্জীবন ও বহি:জীবন উভয়কে প্রভাবিত করে।

খ) অনুমোদনগত পার্থক্য:
আইন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে। অন্যদিকে, নৈতিকতা বিষয়টি ব্যক্তিগত। এর জন্য কারও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

গ) অবস্থান ও কালভেদে পার্থক্য:
একই বিষয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম আইন হতে পারে। যেমন, মদ্যপান বাংলাদেশে আইনত দন্ডনীয়। এখানে মদ্যপানকে নৈতিকতা পরিপন্থী হিসাবেও বিচেনা করা হয়। পক্ষান্তরে, পশ্চিমা বিশ্বে মদ্যপান সাধারণ সামাজিকতার অংশ এবং এই অভ্যাসের সাথে নৈতিকতা লঙ্ঘনের প্রশ্ন যে সমাজে অবান্তর।

ঘ) প্রকৃতিগত পার্থক্য:
নীতিশাস্ত্র সকল কাজকে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, শালীন-অশালীন ইত্যাদি মানদন্ডে বিভক্ত করে থাকে। কিন্তু আইন পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রণীত ও প্রযোজ্য হয়।

ঙ) সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টতার মানদন্ড:
আইন সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। বেশিরভাগ আইনই লিপিবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, নৈতিকতার নির্দিষ্ট কোন মানদন্ড নেই।

চ) নৈতিকতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক:
নৈতিকতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিন্তু আইন ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। সকল ব্যক্তির জন্য একই আইন সমভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ আইন সর্বজনীন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪০.
বস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পোষাক
  2. তৈজসপত্র
  3. শিল্পকলা
  4. যন্ত্রপাতি
সঠিক উত্তর:
শিল্পকলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্পকলা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতির ধরন:
সমাজে সাধারণত দুই ধরনের সংস্কৃতি বিদ্যামান।যথা-
১. বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
২. অবস্তুগত সংস্কৃতি।

১. বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম আর এগুলোই বস্তুগত সংস্কৃতি।


২. অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। 

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪১.
কোন উপাদান ছাড়া রাষ্ট্রের স্বীকৃতি সম্ভব নয়?
  1. জনসমষ্টি
  2. ভূখন্ড
  3. সরকার
  4. সার্বভৌমত্ব
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রের উপাদান :
- রাষ্ট্র গঠনের চারটি প্রধান উপাদান রয়েছে।
 
⇔ প্রথম উপাদান হলো জনসমষ্টি, যা রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। 
- জনসমষ্টি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
- তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রয়োজন নেই; এটি স্বাধীনভাবে নির্ধারিত হতে পারে।

⇔ দ্বিতীয় উপাদান হলো ভূখন্ড। 
- যা জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ প্রদান করে।
- ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়, পর্বত এবং সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়।

⇔ তৃতীয় উপাদান হলো সরকার, যা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান প্রতিষ্ঠান।
- সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং এটি তিন ধরনের কাজ সম্পন্ন করে :
- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত এবং বিচার সংক্রান্ত।

⇔ চতুর্থ এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- সার্বভৌমত্ব ছাড়া কোনো দেশকে রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা যায় না।
- উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশের সব অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত ছিল না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, দ্বাদশ শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৫৪২.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র কোনটি?
  1. সাম্য
  2. স্বাধীনতা
  3. ভ্রাতৃত্ব
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

♦ গণতন্ত্ৰ:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা ।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে ।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না, বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by
the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হল -
• সাম্য, 
• স্বাধীনতা ও 
• ভ্রাতৃত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ৷

১,৫৪৩.
রাষ্ট্র সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান
  2. পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান
  3. সামাজিক প্রতিষ্ঠান
  4. স্থায়ী প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রতিষ্ঠান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- ইংরেজ দার্শনিক টি, এইচ, গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

এছাড়াও,
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
        ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৪.
জাতীয় স্বাধীনতা ছাড়া অর্থহীন -
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা:
- বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তথন তাকে জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্ববুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতয়ি স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন। জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।             
১,৫৪৫.
মেরিডা কনভেনশনের বিষয়বস্তু কী?
  1. শিক্ষা বিস্তার
  2. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  3. শাসন কাজে দক্ষতা বৃদ্ধি
  4. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে:
i) prevention;
ii) criminalization and law enforcement;
iii) international cooperation;
iv) asset recovery;
v) technical assistance and information exchange.

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
১,৫৪৬.
মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কীসের মাধ্যমে? 
  1. ব্যাক্তির সম্পদ বণ্টন প্রক্রিয়ায়
  2. রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে
  3. ব্যক্তির আচরণে
  4. ব্যক্তির স্বতন্ত্র সত্তার স্বীকৃতিতে
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির আচরণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির আচরণে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪৭.
ক্ষমতায় না গিয়েও নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে -
  1. রাজনৈতিক দল
  2. আমলাতন্ত্র
  3. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
ক্ষমতায় না গিয়েও নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

উল্লেখ্য,
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান -
  1. পরমতসহিষ্ণুতা
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা:
- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে।
- এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪৯.
"আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।” মন্তব্যটি করেছেন কে?
  1. গেটেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. হ্যান্স কেলসেন
  4. হ্যারবার্ট স্পেনসার
সঠিক উত্তর:
গেটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গেটেল
ব্যাখ্যা

নৈতিকতার ধারণা: 
- নৈতিকতা ব্যক্তিগত একটি বিষয়।
- পৃথিবীতে ভালো-মন্দ যাচাই করার কোন শ্বাশত মানদন্ড না থাকার ফলে একজনের দৃষ্টিতে যে বিষয়টি ভালো অন্য জনের দৃষ্টিতে তা খারাপ হতে পারে।
- তবে ভালো-মন্দের একটি গড়পড়তা মানদন্ড সব সমাজে প্রায় একই রকম।
- সততা, সৌজন্যমূলক আচরণকারী, সদাচারী, প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারি ব্যক্তিকে সব সমাজই নৈতিক গুনসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে।
- এ রকম ব্যক্তি কোন বিষয়টি সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ভালো বা মন্দ তা নির্ণয় করতে পারে।
- এই ভালো ও মন্দের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারাটাই হল ব্যক্তির নৈতিকতা।

আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক: 
- উদ্দেশ্যগত: আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।

উল্লেখ্য, 
- সাধারণত সমাজে যেসব বিষয়গুলো আইন বিরোধী, সেগুলো সাধারণত নীতিবিরোধীও হয়। যেমন, প্রতারণা বিষয়টি নীতিবিরোধী আবার তা আইন বিরোধীও। বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, “আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫০.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে?
  1. ইউএনডিপি
  2. জাতিসংঘ
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইউনেস্কো
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো ও
- অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৫৫১.
‘আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. স্যার আই জেনিংস
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. লাস্কি
  4. অধ্যাপক গেটেল
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
আইনের অনুশাসন (Rule of Law):
- আধুনিক যুগের লক্ষ্য হল একটি রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল নাগরিকের ওপর একই ভাবে আইন প্রয়োগ করা।
- অধ্যাপক ডাইসির মতে- "আইনের চোখে সকল নাগরিকই সমান।"
- আইনের অনুশাসন বলতে মধ্যযুগীয় ধারণায় বলা হয়- "আইনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ।"
- এর দ্বারা সরকার, আইন প্রণেতা ও সাধারণ নাগরিক সকলেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- অধ্যাপক ডাইসি (A. V. Dicey) ছিলেন আইনের অনুশাসনের অন্যতম প্রবক্তা।
- অধ্যাপক ডাইসি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সাংবিধানিক আইনের ভূমিকা (An Introduction to the Law of the Constitution) শীর্ষক গ্রন্থে বলেছেন আইনের অনুশাসন তিনটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ।

⇒ আইনের অনুশাসন বিষয়ে ডাইসির তত্ত্ব:
১। বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারের বিলুপ্তি:
- এতে সরকার ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিশেষ অধিকারের ক্ষমতা লোপ করে প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার পাবার কথা বলা হয়েছে। এই অনুশাসন অনুসারে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি আইনের চোখে দোষী প্রমাণিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। আইনের অনুশাসনের অর্থ হল আইন দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হওয়া।
২। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকারের তত্ত্ব:
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
৩। কোন দেশের সংবিধান মূলত তার নিজস্ব আইনি কার্যাবলী নির্ধারণ করে:
- কোন দেশের সংবিধান বিদেশি কোন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং কর্তব্য নির্ণয় করাই হল সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য এবং তা করা হয়ে থাকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারালয়ের পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই। সংবিধান সম্বন্ধে মানুষের ধারণা মূলত আইনের অনুশাসন সম্বন্ধে জ্ঞান থেকেই উপলব্ধি হয়। গ্রীক দার্শনিক অ্যরিস্টটলের মতে শাসন ও শাসিত সকলেরই সমভাবে আইনের অধীন হওয়া কাম্য-সেটাই আদর্শ আইনের শাসন।

উৎস: Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫২.
নৈতিক চেতনা কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সামাজিক
  2. সাংস্কৃতিক
  3. মানসিক
  4. অর্থনৈতিক
সঠিক উত্তর:
মানসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
→ নৈতিক চেতনা একটি মানসিক ক্রিয়া।
→ মানুষ যখন তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীর ন্যায়-অন্যায় বোধ, উচিত অনুচিত বোধ সম্পর্কে সচেতন হয় তখন ধরে নিতে হবে মানুষ নৈতিক চেতনার পরিসরে তার
ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীকে বিবেচনা করছে।
→ নৈতিক চেতনা মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বুঝাতে সহায়তা করে যা মূলত চিন্তাপ্রসূত, সামাজিক, সক্রিয় এবং অনেকাংশে বাধ্যবাধকতামূলক,
ভাবাবেগমূলক ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। 

তথ্যসূত্র: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৫৩.
সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে -
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. সরকার
  4. রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫৫৪.
সাধারনের দৃষ্টিতে কোনটি মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য?
  1. আইনের নির্বাচনী প্রয়োগ
  2. নাগরিকের অংশগ্রহণ 
  3. কর্তৃত্ববাদ
  4. গোপনীয়তা
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের অংশগ্রহণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের অংশগ্রহণ 
ব্যাখ্যা

© সাধারনের দৃষ্টিতে মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য -নাগরিকের অংশগ্রহণ।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ ব্যক্তির এমন কতিপয় ব্যক্তিগত বিশ্বাস, বৈশিষ্ট্য বা মানবিক গুণাবলি যা তার আচরণের মান বা আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস।
- এটা মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ডও বটে।
- মানুষের বোধশক্তি জন্মানোর পর থেকেই তার নিজের মধ্যে বস্তু, ঘটনা ও প্রতিবেশ সম্পর্কে এক ধরনের ভালোমন্দ, ন্যায়-অন্যায় ধারণা পোষণ করে থাকে।
- এ সকল ধারণাই ব্যক্তির কর্মক্ষেত্রে তার কাজের নৈতিক আচরণে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- ব্যক্তি জীবন ও কর্মজীবন, দুই ক্ষেত্রেই ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই তার মূল্যবোধকে বিসর্জন দিতে চায়না।

• মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থা:
- মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থা হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যা সততা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

⇒ নাগরিকের অংশগ্রহণ:
- মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হিসেবে নাগরিকের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ দৃষ্টিতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
- নাগরিকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতি প্রণয়ন, মনিটরিং এবং জবাবদিহিতায় যুক্ত হয়।
- এটি স্বচ্ছতা বাড়ায় ও দুর্নীতি কমায় এবং শাসনকে জনমুখী করে।

অন্যদিকে,
- আইনের নির্বাচনী প্রয়োগ- এটি আইনের অপব্যবহার নির্দেশ করে যা মূল্যবোধের বিপরীত।
- কর্তৃত্ববাদ: এটি মূল্যবোধহীন শাসনের উদাহরণ। এতে জনগণের অংশগ্রহণ নেই।
- গোপনীয়তা: এটি দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা বাড়ায়, মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসনের সম্পূর্ণ বিপরীত।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫৫.
কত সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৬.
"স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" - কে বলেছেন?
  1. হার্বার্ট
  2. আর্নেস্ট বার্কার
  3. এ ভি ডাইসি
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতা (Law and Liberty):
- নাগরিক জীবনে আইন ও স্বাধীনতার অনেক প্রভাব রয়েছে।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং পরস্পর নির্ভরশীল।
- কোন কোন ক্ষেত্রে আইনকে স্বাধীনতার পরিপন্থীও মনে হয়।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- প্রথম দলটি মনে করেন, আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- এরিস্টটল, মন্টেস্কু, রিচি, উইলোবি, আর্নেস্ট বার্কার, জন লক প্রমুখ মনীষী এই মতের সমর্থক।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায়, "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).
- আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।
- হার্বার্ট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এই দলের অন্তর্গত।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৭.
'Critique of Pure Reason' বইয়ের রচয়িতা কে?
  1. ফ্রিডরিখ নিটশে
  2. জর্জ হেগেল
  3. জন লক
  4. ইমানুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

♦ ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

♦ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Critique of Pure Reason.
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com

১,৫৫৮.
"আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক
  2. সরদার ফজলুল করিম
  3. গোবিন্দচন্দ্র দেব
  4. আরুজ আলী মাতুব্বর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দেব
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দেব:
- গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সমন্বয়বাদী দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ,
- তিনি ১৯০৭ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ভাববাদ ও বস্তুবাদের সমন্বয়, এর মাধ্যমে তিনি একটি প্রগতিশীল ও মানবমুখী জীবনদর্শন গড়ে তোলেন।
- তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্ট ও ইসলামি ভাবধারার সমন্বয়ে একটি বিশ্বজনীন দার্শনিক চেতনার প্রসার ঘটান।
- “সমন্বয়ী ভাববাদ” নামে তাঁর দর্শন সমধিক পরিচিত। দেব তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
- তিনি “দর্শন সাগর” উপাধিতে ভূষিত হন এবং তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত হয় গবেষণা কেন্দ্র ও ফাউন্ডেশন।
- দেশের প্রতি গভীর নিষ্ঠা থেকে তিনি দেশত্যাগ করেননি এবং ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর হাতে নিহত হন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),
- দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান (১৯৬৩),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- বুদ্ধ: দি হিউম্যানিস্ট (১৯৬৯)।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫৯.
ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়
  2. সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স একটি নতুন ধারণা।
- ই-গভর্নেন্স বলতে তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ও কম্পিউটারভিত্তিক যোগাযোগ।
- এটি হলো শাসনের এমন এক পদ্ধতি যেখানে সরকারি সেবা ও তথ্যসমূহ জনগণ সহজে ঘরে বসেই পেতে পারে।
- ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৬০.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার নয়?
  1. ধর্মের অধিকার
  2. কর্মের অধিকার
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
  4. সম্পত্তির অধিকার
সঠিক উত্তর:
কর্মের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মের অধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. সভা-সমিতির অধিকার।
৫. চলাফেরার অধিকার।
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার।
৯. সম্পত্তির অধিকার।
১০. ধর্মের অধিকার।

- অপরদিকে,
- কর্মের অধিকার হচ্ছে নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫৬১.
গণতন্ত্রে ক্ষমতার উৎস -
  1. রাষ্টপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. জনগণ
  4. আইনসভা
সঠিক উত্তর:
জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণ
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র: 
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার। গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy যা গ্রিক শব্দ Demos এবং kratos বা kratia থেক উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং kratos বা kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫৬২.
কোন গুণাবলী গুলো সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে বিকশিত হয়?
  1. সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ
  2. সহযোগিতা ও মমত্ববোধ
  3. সামাজিক সংহতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সত্তার দর্পণ হিসেবে সামাজিক মূল্যবোধকে বিবেচনা করা হয় কারণ সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও মমত্ববোধের মতো গুণাবলির বিকাশ সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই ঘটে যা একটি জাতির সামগ্রিক পরিচিতি ও উন্নয়নে সহায়তা করে। 
 
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬৩.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে-
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. সামাজিক উন্নয়ন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন।

সুশাসন:
- সাধারণত শাসন হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া।
- শাসনের ধারণা কোন নতুন বিষয় নয় বরং এটা মানব সভ্যতার মতোই পুরাতন।
- শাসন ব্যবস্থার অর্থ ও মাত্রা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।
- সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।
- সুশাসন প্রত্যয়টিকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে শাসন বলতে কি বুঝায় তা জানা প্রয়োজন।
- শাসন বলতে বুঝায় ক্ষমতাকে কিভাবে প্রয়োগ করা হয়, কিভাবে জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রতি সাড়া প্রদান করা হয় কিংবা কিভাবে একটি জনসমষ্টি শাসিত ও পরিচালিত হয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫৬৪.
শিশুর সামাজিকীকরণে কোনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. টেলিভিশন
  2. পরিবার
  3. সামাজিক সংঘ
  4. বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
- জন্ম থেকে ‍মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং খাপ খাওয়ানোই হলো সামাজিকীকরণ। এটি একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পরিবার। এটি সামাজিকীরণের প্রাথমিক মাধ্যম।
- পরিবারের মধ্যেই শিশুর নীতিবোধ ও নাগরিক চেতনার সূচনা হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৬৫.
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ইমানূয়েল কান্ট
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

• জন স্টুয়ার্ট মিল :
- মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill] এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
- জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা।
- আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Utilitarianism,
- A System of Logic,
- On Liberty,
- Three Essays on Religion: Nature, the Utility of Religion, and Theism
- The Subjection of Women,

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৫৬৬.
“প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  2. অধ্যাপক গেটেল
  3. অধ্যাপক গার্নার
  4. অধ্যাপক ফাইনার
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক।
- আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবন গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একটির পরিবর্তনের সাথে অন্যটির পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার বলেন, “প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৭.
মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস কী?
  1. সমাজ
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  3. পরিবার
  4. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- প্রাচীন অনেক মূল্যবোধ এখন আর নেই।
- এজন্যই মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৫৬৮.
আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. খ) অধ্যাপক হল্যান্ড
  3. গ) জন অস্টিন
  4. ঘ) উড্রো উইলসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) উড্রো উইলসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উড্রো উইলসন
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন।
- তাঁর মতে, “আইন হলো মানুষের স্থায়ী আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন আছে।" 

এছাড়াও - 
- জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।" 
- স্যার হেনরি মেইন, স্যাভিনি (Savigny), মেইটল্যান্ড, স্যার ফ্রেডারিক পোলক প্রমুখ 'ঐতিহাসিকপন্থি লেখকেরা (Historical school) মতে, রাষ্ট্রের মধ্যে সাংবিধানিক আইন, সাধারণ আইন, প্রথা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের আইন রয়েছে। এসব আইনকে সার্বভৌম শক্তির আদেশ বলে গণ্য করা যায় না।
অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, “ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।

- সুতরাং আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি, যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যাণের জন্য অপরিহার্য । আইন হচ্ছে ব্যক্তির আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োগ করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫৬৯.
‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।' এই উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. বিশ্ব ব্যাংক
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ম্যাককরনী
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৫৭০.
বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত গ্রন্থ-
  1. The Philosophy of Logical Atomism
  2. Power: A New Social Analysis
  3. The Analysis of Mind
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।
- বার্ট্রান্ড রাসেলের অনেক দার্শনিক রচনার মধ্যে রয়েছে-
- "The Principles of Mathematics",
- "The Philosophy of Logical Atomism",
- "The Analysis of Mind",
- "The Analysis of Matter",
- "A Free Man's Worship", 
- "Why I Am Not a Christian", 
- "Power: A New Social Analysis"।

উৎস: ব্রিটানিকা ও শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭১.
UN ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

UN ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- জাতিসংঘের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (UNESCAP) সুশাসনের ৮টি প্রধান বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১. অংশগ্রহণ (Participation),
২. আইনের শাসন (Rule of Law),
৩. স্বচ্ছতা (Transparency),
৪. দায়িত্বশীলতা/প্রতিক্রিয়াশীলতা (Responsiveness),
৫. ঐক্যমত্যের অভিমুখীকরণ (Consensus Oriented),
৬. ন্যায়পরায়ণতা ও অন্তর্ভুক্তি (Equity and Inclusiveness),
৭. কার্যকর ও দক্ষ (Effectiveness and Efficiency),
৮. জবাবদিহিতা (Accountability)।

উৎস: UN ESCAP ওয়েবসাইট।

১,৫৭২.
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত" এই উক্তিটি কার?
  1. এফ ই মেরিল
  2. এইচ এম জনসন
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. ক্লাইড ক্লুখোন
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ক্লুখোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ক্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুণাবলি। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।

- ক্লাইড ক্লুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। কেননা একজনের কাছে যা আদর্শ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুণাবলি এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড"।
- অতএব,সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
-সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৫৭৩.
'Principles of Social Reconstruction' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. টমাস পেইন
  2. জন ডিউই
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• 'Principles of Social Reconstruction' গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, যুক্তিবিদ এবং লেখক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭২ সালের ১৮ মে। রাসেল তার গভীর দার্শনিক চিন্তাভাবনা এবং মানবতার প্রতি অবদানের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ১৯৫০ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই পুরস্কার তাকে দেওয়া হয় তার লেখার মাধ্যমে মানবিক আদর্শ এবং চিন্তার মুক্তিকে জোরালোভাবে প্রকাশ করার জন্য। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য জীবনের পর তিনি ১৯৭০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Principles of Mathematics,
- The Problem of Philosophy,
- Religion and Science,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Political Ideals,
- Logic and knowledge,
- Power: A New Social Analysis,
- Human Society in Ethics and Politics etc.

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১,৫৭৪.
কাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।  

উল্লেখ্য -
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে -
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক হিসেবে ইতালীয় দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৫.
কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় নয়?
  1. ক) বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
  2. খ) জনসচেতনতার অভাব
  3. গ) স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায্যতা
  4. ঘ) আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
গ) স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায্যতা
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যাগুলো হলোঃ
১. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা,
৩. সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
৪. আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
৫. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
৬. আইনের শাসনের অভাব,
৭. সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা,
৮. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
৯. রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
১০. স্বজনপ্রীতি,
১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
১২. জনঅংশগ্রহণের অভাব,
১৩. জনসচেতনতার অভাব
১৪. ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব,
১৫. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অভাব,
১৬. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি।
• সুশাসনের অন্যতম উপাদানগুলো হলো-
১. আইনের শাসন,
২. জবাবদিহিতা,
৩. ন্যায়পরায়ণতা,
৪. স্বচ্ছতা,
৫. সমতা ও ন্যায্যতা,
৬. সংবেদনশীলতা,
৭. জবাবদিহিতা ইত্যাদি সুশাসনের অন্যতম উপাদান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৫৭৬.
নৈতিকতা সম্পর্কিত কোন উক্তিটি সঠিক নয়?
  1. নৈতিকতা হলো ভুল ও সঠিক এর মধ্যে তুলনাকরণ
  2. নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান মায়া ও মমতা
  3. নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. এটি নৈতিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান মায়া ও মমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান মায়া ও মমতা
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ 'Ethics' যা গ্রিক শব্দ 'ইথস' (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো 'চরিত্র' বা রীতিনীতি (Character or Custom)।
- প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।
- ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।"
- Godiwalla & Faramarz এর মতে, " নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।"
- Kreitner Eliason foundations of Management- এর মতে ভুল বনাম সঠিক এর সংশ্লিষ্টতার সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করাই হলো নৈতিকতা।

⇒ নৈতিকতা এমন কিছু মৌলিক রীতিনীতি বা মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেয়, যেন প্রতিটি কাজ গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।
- নৈতিকতার কতিপয় বৈশিষ্ট্য:
(i) নৈতিকতা হলো ভুল ও সঠিক এর মধ্যে তুলনাকরণ;
ii) এটি নৈতিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে;
(iii) এটি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে; এবং
(iv) এটি ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৭.
’আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. ডাইসি
  2. জন অস্টিন
  3. এরিস্টটল
  4. ওপেন হাইম
সঠিক উত্তর:
ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইসি
ব্যাখ্যা
•    “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করেন → এরিস্টটল।
•    আইনের অনুশাসন কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন  → অধ্যাপক ডাইসি।
•    “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন → এরিস্টটল।
•    “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করেন → জন অস্টিন।
•    “জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি করেন → ওপেন হাইম।
•    “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন → অধ্যাপক ডাইসি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫৭৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল -
  1. ক) আইনের শাসন
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) দায়বদ্ধতা
  4. ঘ) পরমত সহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরমত সহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরমত সহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
• পরমত সহিষ্ণুতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৯.
সুশাসন কাকে শক্তিশালী করে?
  1. ক) মানবাধিকারকে
  2. খ) আইনকে
  3. গ) গণতন্ত্রকে
  4. ঘ) প্রশাসনকে
সঠিক উত্তর:
গ) গণতন্ত্রকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণতন্ত্রকে
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতা প্রবর্তন করে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৮০.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য অনুযায়ী সুশাসনের উপাদানগুলোর মধ্যে কোনটি নেই?
  1. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  2. অংশগ্রহণ
  3. আইনের শাসন
  4. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য অনুযায়ী সুশাসনের উপাদানগুলোর মধ্যে নেই - অংশগ্রহণ।

সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং, 
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,৫৮১.
মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ প্রথমে কোথায় শুরু হয়?
  1. বিদ্যালয়ে
  2. সমাজে
  3. পরিবারে
  4. খেলার মাঠে
সঠিক উত্তর:
পরিবারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবারে
ব্যাখ্যা

⇒ প্রাথমিকভাবে মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ পরিবারে ঘটে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মানুষের শৈশবকাল থেকে তার মানবীয় গুণাবলি ও মূল্যবোধ প্রথমে পরিবারে গড়ে ওঠে।
- পরিবার হলো সেই প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশু শিখতে শুরু করে শিষ্টাচার, সততা, সহানুভূতি, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি।
- বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শিশুদের মাঝে এই মূল্যবোধের উদাহরণ সৃষ্টি করেন।
- পরিবারে শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক আচরণ ও চিন্তা গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্রে আরও বিকাশ পায়।
- তবে, প্রাথমিক বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে পরিবারই মূল ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৮২.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যর সাথে সংযুক্ত?
  1. সম্পর্কের সেতু
  2. সামাজিক মানদন্ড
  3. পরিবর্তনশীলতা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
• আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়।
- একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে।
- অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

• সামাজিক মানদন্ড:
- বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়।
- যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম,
- আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
• সম্পর্কের সেতু:
- অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
- যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।
• পরিবর্তনশীলতা: সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধ পরিবর্তিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৫৮৩.
'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' উক্তির মাধ্যমে কোন ধরনের মূল্যবোধ প্রকাশিত হয়।
  1. ক) সামাজিক মূল্যবোধ
  2. খ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values): 
» অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
» গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
» গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
» সবসময় ভাবতে হবে 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
» অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
» নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
» হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
১,৫৮৪.
সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি -
  1. জাতীয় স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৮৫.
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থায়?
  1. একনায়কতন্ত্রে
  2. গণতন্ত্রে
  3. রাজতন্ত্রে
  4. প্রজাতন্ত্রে 
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত:
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে তারাই গণতন্ত্রে সরকার গঠন করে।
→  নির্বাচকমন্ডলী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৬.
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- হলো রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৫৮৭.
নিম্নের কে সামাজিক চুক্তি মতবাদের তাত্ত্বিক নয়?
  1. জন লক
  2. টমাস হবস
  3. ডেভিড হিউম
  4. জ্যাঁ জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
ডেভিড হিউম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেভিড হিউম
ব্যাখ্যা
সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তির ক্ষেত্রে একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এই মতবাদের মূল কথা হলো সৃষ্টির শুরুতে বা আদিম সমাজে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত।
- প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ প্রাকৃতিক আইন মেনে চলতো এবং তারা কিছু প্রাকৃতিক অধিকার ভোগ করত।
- কিন্তু প্রাকৃতিক আইন ও অধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যার ফলে প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের বসবাস দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
- এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য প্রকৃতির রাজ্যের অধিবাসীরা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে রাষ্ট্র গঠন করে।
- একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি অথবা একটি কর্তৃপক্ষকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করে।
- যেহেতু রাষ্ট্র চুক্তির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে সেহেতু এ মতবাদকে সামাজিক চুক্তি মতবাদ (Social contract theory) বলে।

উল্লেখ্য,
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত 'লেভিয়াথান' গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
- পরবর্তীতে আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক 'টু ট্রিটিজেস অন সিভিল গভর্নমেন্ট' গ্রন্থে এবং অস্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো 'সোসাল কন্ট্রাক্ট' গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- মূলত এ তিনজনকেই সামাজিক চুক্তি মতবাদের তাত্ত্বিক বলা হয়।

অন্যদিকে,
- বল প্রয়োগ মতবাদের তাত্ত্বিক হচ্ছেন ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
- বল প্রয়োগ মতবাদের মূল কথা হলো, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৮.
বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. ন্যায়পরায়নতা 
  2. আইনি কাঠামো
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পরায়নতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পরায়নতা 
ব্যাখ্যা

- ন্যায়পরায়নতা বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত স্তম্ভ নয়।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভ।
- চারটি স্তম্ভ এগুলো হলো: 
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো ও
- অংশগ্রহণ।

এছাড়াও, 
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৫৮৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ নয়?
  1. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  4. আচরনগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আচরনগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরনগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

⇒ আচরনগত মূল্যবোধ নামে কোন মূল্যবোধ নেই ৷

♦ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।

⇒ মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
- ধর্মীয় মূল্যবোধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আধুনিক মূল্যবোধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৫৯০.
কোন সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন?
  1. অর্থনৈতিক
  2. ব্যক্তিগত
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নাগরিকের করণীয়?
  1. ক) নিয়মিত কর প্রদান
  2. খ) আইন মান্য করা
  3. গ) ব্যবসায় উন্নতি করা
  4. ঘ) ক + খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা

সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি নাগরিককেও তার উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
এক্ষেত্রে নাগরিকের করণীয় হলো -
- আনুগত্য প্রদর্শন,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- সামাজিক দায়িত্ব পালন প্রভৃতি।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।

১,৫৯২.
কোন মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৩.
'Kubernao' থেকে নিচের কোন শব্দটি এসেছে?
  1. Governance
  2. Civics
  3. Civilization
  4. Ethics
সঠিক উত্তর:
Governance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Governance
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Government এর মতই Governance শব্দটি এসেছে 'kubernao' নামক ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৯৪.
'The Principles of Morals and Legislation' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. পিটার সিঙ্গার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।

⇒ তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

অন্যদিকে,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)-এর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Eassay on Liberty'।
- পিটার সিঙ্গারএর বিখ্যাত গ্রন্থ Animal Liberation।
- বার্ট্রান্ড রাসেলএর বিখ্যাত গ্রন্থ Power : A New Social Analysis।

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো কোনটি? 
  1. নিয়মিত কর প্রদান
  2. নিয়মিত ব্যবসা করা 
  3. নিয়মিত অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনা করা
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন।
- নিয়মিত কর প্রদান।
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৫৯৬.
কর্তব্য কি?
  1. নীতিনিষ্ঠ আচরণ
  2. অপরিহার্য আচরণ
  3. আবশ্যকীয় প্রাপ্তি
  4. দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন।
সঠিক উত্তর:
নীতিনিষ্ঠ আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতিনিষ্ঠ আচরণ
ব্যাখ্যা
কর্তব্য হচ্ছে মানুষের এমন এক নীতিনিষ্ঠ আচরণ, যা সকল সময়ই সর্বপ্রকার মানুষ পালন করতে বাধ্য থাকে।
নৈতিক কর্তব্য নিয়মিত পালন করার মানসিক প্রবণতা বা অভ্যাস থেকেই মানুষের মধ্যে সদগুণ গড়ে উঠে এবং কর্তব্য সম্পাদনের মধ্য দিয়েই সদগুণ প্রকাশিত হয়ে থাকে। কর্তব্যের স্বরূপ প্রসঙ্গে ম্যাকেনজী বলেন যে, কর্তব্য হচ্ছে এমন এক বিশেষ ধরণের কাজ- যা আমাদের করা উচিত।

কর্তব্যের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন :
১. কর্তব্য হচ্ছে ন্যায় কাজ, যা অনেক লোকই পরিহার করতে প্রবৃত্ত হয় ;
২. কাজটি যে করছে তার চেয়ে অন্যের উপরই কর্তব্যের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল বর্তে বলেই
আমাদের মধ্যে কর্তব্যকে পরিহার করার প্রবণতা দেখা দেয় ;
৩. কর্তব্য এমনভাবে অনুমোদনের ভাবাবেগ উদ্রেক করে, যা নিছক ন্যায় কাজ করে না।

উৎস: উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৭.
সামাজিক ও ধর্মীয় আদর্শ, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার পরিপন্থী কোনটি?
  1. ক) লৌকিক ধারণা
  2. খ) সামাজিক প্রথা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) অপসংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপসংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপসংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস, আবেগ, রীতিনীতি, ভাষা, প্রথা, মূল্যবোধ প্রভৃতির সমষ্টি হলো সংস্কৃতি। অপসংস্কৃতি এসবের হানি ও বিকৃতি ঘটায়। যার কারণে অপসংস্কৃতি সামাজিক ও ধর্মীয় আদর্শ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিপন্থী হিসেবে পরিগণিত।
(সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৯৮.
কোনটি ব্যতীত সাম্য, স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) গনতন্ত্র
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
গ) আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন ব্যতীত সাম্য, স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না।
⇨ আইনের শাসনের অর্থ আইনের চোখে সকলে সমান, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
⇨ সুশাসনের মূলভিত্তি হলো আইনের শাসন যা সভ্য সমাজের মানদন্ড। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৫৯৯.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. আইনি কাঠামো
  4. দুর্নীতি দমন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি দমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি দমন
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ -দুর্নীতি দমন। 

• বিশ্বব্যাংক:

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- চারটি স্তম্ভ হল:-
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- যথা-
- বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- নিয়ন্ত্রণ গুণ,
- আইনের শাসন,
- দুর্নীতি দমন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৬০০.
বিশ্বব্যাংকের মতে নিচের কোনটি সুশাসন মূল্যায়নের স্তম্ভ নয়?
  1. সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
  2. দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
  3. স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ
  4. সিভিল সোসাইটির উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
সিভিল সোসাইটির উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিভিল সোসাইটির উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। এগুলো হলোঃ
- সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো এবং
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(সূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)