বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ২৩ / ২৪ · ২,২০১২,৩০০ / ২,৩৩১

২,২০১.
বাংলাদেশ সংবিধানে ’বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ সম্পর্কে বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে? 
  1. ৮২নং অনুচ্ছেদে
  2. ৮৫নং অনুচ্ছেদে
  3. ৮৭নং অনুচ্ছেদে
  4. ৮৮নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৮৭নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৭নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।
- ২য় পরিচ্ছেদ: আইন প্রনয়ন ও অর্থসংক্রান্ত পদ্ধতি।
- বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি:  ৮৭। (১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে "বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি" নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হবে।
- (২) বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে: 
- (ক) এই সংবিধানের দ্বারা বা অধীন সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়রূপে বর্ণিত ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, এবং
- (খ) সংযুক্ত তহবিল হইতে ব্যয় করা হইবে, এইরূপ প্রস্তাবিত অন্যান্য ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ
প্রদর্শিত হইবে এবং অন্যান্য ব্যয় হইতে রাজস্বখাতের ব্যয় পৃথক করিয়া প্রদর্শিত হবে।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ-৮৫। সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ।
- অনুচ্ছেদ-৮৬। প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।
- অনুচ্ছেদ- ৮৮। সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়,
- অনুচ্ছেদ-৮৯। বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি,

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,২০২.
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯২ সালে
  3. গ) ১৯৯৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৬ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে সন্নিবেশ করা হয়।
- পরবর্তীতে হাইকোর্ট ২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্র: আইন মন্ত্রণালয় এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,২০৩.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দেশের সাংবিধানিক নাম কী হবে?
  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
  2. জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ
  3. গণজনতন্ত্রী বাংলাদেশ
  4. জনতন্ত্রী বাংলাদেশ 
সঠিক উত্তর:
জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করার জন্য বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- কমিশন গঠনের পেছনের প্রেক্ষাপট ছিল ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
-  অতীতের সাংবিধানিক ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করে একটি নতুন, শক্তিশালী এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত সংবিধান প্রণয়নের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এর পরিপ্রেক্ষিতেই ৬ অক্টোবর, ২০২৪ সালে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠিত হয়।

- কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে:
দেশের সাংবিধানিক নাম হবে জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ (People's Republic of Bangladesh).
• নাগরিকত্ব বাংলাদেশি হিসেবে ধার্য করা হবে।
• সংবিধানের মূলনীতি হবে চারটি – সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র।
• এছাড়া, সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট;
• যেখানে নিম্নকক্ষে ৪০০টি আসন এবং উচ্চকক্ষে ১০৫টি আসন থাকবে।
• এবং সরকারের, সংসদের এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ধার্য করা হবে ৪ বছর।
• সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স হবে ২১ বছর। 

উল্লেখ্য, 
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ।
- কমিশনে মোট ৯ জন সদস্য ছিলেন।
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- জনপ্রতিনিধিত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২,২০৪.
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাশ হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী :
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন; 
- প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী; 
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়; 
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

- তাছাড়া, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এই আইনে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়, যা দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।

উৎস: সংবিধান।

২,২০৫.
গণভোটের বিধান বাতিল করা হয় কত সালে?
  1. ক) ২০১০
  2. খ) ২০০৯
  3. গ) ২০১১
  4. ঘ) ২০১৪
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১১
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে জনমত যাচাই করার জন্য যে প্রত্যক্ষ ভোট গ্রহন করা হয় তাকে গণভোট বা Referendum বলা হয়।
• যখনই কোন ক্রান্তিকাল উপস্থিত হয়, তখন সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য জনমত যাচাই করা হয় গণভোটের মাধ্যমে।
• সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে গণভোটের বিধান আওতাভুক্ত করা হয়েছিল।
• কিন্তু ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়।
• গণভোট সংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদ : ৪৮ এবং ৫৬. তবে বর্তমানে এই অনুচ্ছেদ দুটিতে গণভোটের বিধান আর নেই।
• বাংলাদেশে এ পর্যন্ত গণভোট হয়েছে ৩ বার –
• ৩০ মে , ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ করতে।
• ১ মার্চ , ১৯৮৫ সালে এরশাদের সমর্থন যাচাই।
• ১৫ সেপ্টেম্বর , ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,২০৬.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী কে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) প্রধান বিচারপতি
  4. ঘ) স্পিকার
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে চালু সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান৷
তবে সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারি প্রধানমন্ত্রী।
তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ মর্যাদার অধিকারি জাতীয় সংসদের স্পিকার।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট)
২,২০৭.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. ক) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন
  2. খ) সি.এ.জি (মহাহিসাব নিরীক্ষক জেনারেল)
  3. গ) চীফ ইলেকশন কমিশনার
  4. ঘ) চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্য, নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি সাংবিধানিক পদ।
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,২০৮.
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ার ন্যূনতম বয়স -
  1. ১৮ বছর
  2. ২৫ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
ব্যাখ্যা

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯:

ধারা - ২৬: পরিষদের সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
(১) কোন ব্যক্তি এই ধারার উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন, যদি-
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হয়;
(গ) চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের যে কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় তাঁহার নাম লিপিবদ্ধ থাকে;
(ঘ) সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যসহ অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় তাঁহার নাম লিপিবদ্ধ থাকে।

(২) কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান;
(খ) তাঁহাকে কোন আদালত অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(গ) তিনি কোন আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন এবং দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর ৫ (পাঁচ) বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন;
(চ) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন। ইত্যাদি।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

২,২০৯.
খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয় কবে?
  1. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১২ অক্টোবর, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ অক্টোবর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

২,২১০.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি সম্পর্কে কোন অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ক) ১৪১ (ক)
  2. খ) ২৯
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন (অনুচ্ছেদ-২৫) 

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;

(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং

(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
২,২১১.
বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ২১ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২২ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৩ নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৫ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
২৫ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: 
- পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ।
- পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে।
- অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।
- ১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়।
- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
- পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে।
- এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

• এগুলি হলো:
i) জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা,
ii) অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা,
iii) আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং
iv) আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা। 
- এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,২১২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বিদেশী রাষ্ট্রের খেতাব গ্রহণে রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে?
  1. ৪র্থ সংশোধনী
  2. ৮ম সংশোধনী
  3. ১২তম সংশোধনী
  4. ১৩ম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
৮ম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

৮ম সংশোধনী:
- ১৯৮৮ সালে এই সংশোধনী পাশ হয়।
- ১৯৮৯ আপীল বিভাগ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন সংক্রান্ত ধারাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা অবৈধ বলে রায় প্রদান করে।
- অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়। 
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়। 
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য:
- ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
- ১২তম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয়।
- ১৩ম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

২,২১৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না?
  1. ৬৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৬৭ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৭০ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৭১ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৭০ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
ফ্লোর ক্রসিং:
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ফ্লোর ক্রসিং৷
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।

⇒ ৭০ নং অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া -
- সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
- তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না।

অন্যদিকে,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদ: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা,
- ৬৭ নং অনুচ্ছেদ: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া,
- ৭১ নং অনুচ্ছেদ: দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২১৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কত তারিখে?
  1. ক) ৪ নভেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ এবং ২৩শে মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১১ই এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান রচনা কমিটি গঠন করা হয়।
এই কমিটি ১৭ই এপ্রিল তাদের প্রথম বৈঠকে বসে এবং ১২ই অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
১৫ ডিসেম্বর খসড়া সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমে স্বাক্ষর করেন এবং তারপর অন্যান্য গণপরিষদ সদস্যরা এতে স্বাক্ষর করেন।
তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
২,২১৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারকে আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯
  2. অনুচ্ছেদ ১১
  3. অনুচ্ছেদ ৫৯
  4. অনুচ্ছেদ ৬০
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৬০
ব্যাখ্যা
সংবিধানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তৃনমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য স্থানীয় সরকারকে প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান এবং একই সাথে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে স্থানীয় সরকার সম্পর্কে ৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৯, ১১, ৫৯ এবং ৬০)।
- এসব অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা ও কার্যকারিতা বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ৯: এই অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা এবং কৃষক, শ্রমিক ও মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে। 
⇒ অনুচ্ছেদ ১১: প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। 
⇒ অনুচ্ছেদ ৫৯: প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটের স্থানীয় শাসন নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থাগুলির উপর ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে।
⇒ অনুচ্ছেদ ৬০: স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং নিজস্ব তহবিল রক্ষনাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২১৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'জাতীয় পতাকা' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৪(২)
  2. খ) ৪(১)
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪(৩)
সঠিক উত্তর:
ক) ৪(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৪(২)
ব্যাখ্যা
৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
• ৪(১): প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা"র প্রথম দশ চরণ। 
• ৪(২) ‘প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।’
• ৪(৩) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীকের কথা বলা হয়েছে। 
• ৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান। 
২,২১৭.
কোন জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) পঞ্চগড়
  4. ঘ) মাগুরা
সঠিক উত্তর:
খ) রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
২,২১৮.
বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ কত পৃষ্ঠা?
  1. ৮৯ পৃষ্ঠা
  2. ৯৩ পৃষ্ঠা
  3. ৯৯ পৃষ্ঠা
  4. ১০৯ পৃষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
১০৯ পৃষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৯ পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' কখন গঠন করা হয়েছিলো - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- ১৯৭২ সালরে ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,২১৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কী?
  1. আইনসভা
  2. নির্বাচন
  3. সংবিধানের সংশোধন
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনসভা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায়  - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
- দশম অধ্যায়  - সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়  - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২২০.
বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি উল্লেখ রয়েছে-
  1. সংবিধানের পঞ্চম ভাগে
  2. সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে
  3. সংবিধানের প্রথম ভাগে
  4. সংবিধানের চতুর্থ ভাগে
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের মূলনীতি:
- ভারত এবং আয়ারল্যান্ডের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- সরকারের কর্তব্য হলো রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এগুলো প্রয়োগ করা।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি আলোকপাত করা হয়েছে।
- ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- এগুলো হল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

 উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,২২১.
গণপরিষদ গঠিত হয় কত তারিখ?
  1. ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
  3. ১৯৭২ সালের ৫ জুন
  4. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ গঠন:

- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চে সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গণপরিষদ গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এমন একটি গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- এই পরিষদের সার্থক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে সংবিধান রচনা করা সম্ভব হয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গণরিষদ গঠনের আদেশ জারি করেন।
- এ আদেশ সমগ্র বাংলাদেশের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য ছিল।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ভাগ কয়টি?
  1. ক) ১৫৩টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ১১টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১টি
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং একই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বলবৎ হয়।
- সংবিধানে এগারোটি ভাগ ও চারটি সিডিউলে বিন্যস্ত মোট ১৫৩টি এবং সাতটি তফসিল রয়েছে।
-  চারটি মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- ভাগগুলো হচ্ছে: প্রজাতন্ত্র, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার, নির্বাহী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা, আইনসভা, আইন প্রণয়ন ও আর্থিক পদ্ধতি, অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশের কর্মবিভাগ, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, জরুরি বিধানাবলি, সংবিধান সংশোধন এবং বিবিধ।

উৎস:- বাংলাদেশ সংবিধান।
২,২২৩.
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ করতে পারে?
  1. ৯৫(১) অনুচ্ছেদ
  2. ৯৫(২) অনুচ্ছেদ
  3. ৯৬ (১) অনুচ্ছেদ
  4. ৯৬ (২) অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৯৫(১) অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫(১) অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে  আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমানে (২০২৪ আগস্টে) আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছয়জন।

সুপ্রিম কোর্ট:

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন। 
- সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।'

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২২৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৪ক নং
  2. খ) ৪ (১) নং
  3. গ) ৪ (২) নং
  4. ঘ) ৪ (৩) নং
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ (৩) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ (৩) নং
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ০৪ : জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা  সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত৷
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তার উভয় পার্শ্বে দুইটি করে  তারকা ৷
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে ।
 
অনুচ্ছেদ ০৪ক : জাতির পিতার প্রতিকৃতি

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
২,২২৫.
বাংলাদেশের গণপরিষদ কত তারিখে বিলুপ্ত হয়?
  1. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য গণপরিষদ গঠিত হয় ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের গণপরিষদ বিলুপ্ত হয়।
গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয় ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,২২৬.
সংবিধান সংশোধনী বিল রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠানোর কত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি উক্ত বিলে সম্মতি দিবেন?
  1. ৩ দিন
  2. ৫ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১০ দিন
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা:
এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও-
(ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে,

(অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরোনামে এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;

(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২২৭.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনারগণ কার নিকট শপথ গ্রহণ করেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান বিচারপতি 
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পীকার
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনারগণ প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন। 

- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী, 
• রাষ্ট্রপতির নিকট যারা শপথ গ্রহণ করেন: 
১। প্রধানমন্ত্রী
২। মন্ত্রী গনকে
৩। উপমন্ত্রী দেরকে
৪। প্রতিমন্ত্রী দের।
৫। স্পীকার।
৬। ডেপুটি স্পিকার
৭। প্রধান বিচারপতি কে

• প্রধানমন্ত্রীর নিকট যারা শপথ গ্রহণ করেন: 
১। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
২। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

• স্পীকারের নিকট যারা শপথ গ্রহণ করেন: 
১। রাষ্ট্রপতি
২। সকল সংসদ সদস্যদের কে।

• প্রধান বিচারপতির নিকট যারা শপথ গ্রহণ করেন: 
১। সুপ্রীম কোর্টের কোন বিভাগের কোন বিচারককে।
২। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার
৩। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রন
৪। সরকারী কর্মকমিশনের সদস্যদেরকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২২৮.
হাইকোর্ট কত তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪
  2. ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
  3. ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
  4. ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীতে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।

গুরত্বপূর্ণ কিছু সংশোধনী:
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল;
• সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা;
• জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনধিক ১২০ দিন করা হয়;
• সংবিধানে নতুন তিনটি তফসিল যুক্ত করা হয়- যথা পঞ্চম, ষষ্ঠ, ও সপ্তম।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
- বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
- রায়ে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও গণভোট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয় এই রায়ের মাধ্যমে।

তথ্যসূত্র - ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
২,২২৯.
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ দ্বারা সৃষ্ট?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১২৭
  4. অনুচ্ছেদ ১২৮
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২৭
ব্যাখ্যা
মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক:
- মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (OCAG) দেশের স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠান।
- এটি বাংলাদেশে সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান (Supreme Audit Institution - SAI) হিসেবেও পরিচিত।
- মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদটি সংবিধানের ১২৭ নং অনুচ্ছেদ দ্বারা সৃষ্ট।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক ও মহা-হিসাব নিরীক্ষক (CAG) সরকারের আয় ও ব্যয়ের নিরীক্ষা এবং এগুলো সঠিকভাবে হিসাববদ্ধ ও আর্থিক নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করার দায়িত্বে নিয়োজিত। 
- ১৯৭৪ সালের CAG (অতিরিক্ত কার্যাবলি) আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী, তিনি সরকারি কর্তৃপক্ষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর নিরীক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন।
- সংবিধান CAG-কে নিরীক্ষার পরিধি ও মাত্রা নির্ধারণে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে।
- তিনি তার প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেন, যা পরে রাষ্ট্রপতি সংসদের সামনে উপস্থাপন করেন।

উৎস: মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ওয়েবসাইট।
২,২৩০.
সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদে নিম্নের কোনটির উল্লেখ রয়েছে?
  1. আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
  2. চলাফেরার স্বাধীনতা
  3. সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা
  4. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
চলাফেরার স্বাধীনতা:
- সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

- জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থান এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

এছাড়া,
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং,
- ৪০ নং অনুচ্ছেদে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩১.
'Impeachment of the President' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত আছে?
  1. ৫২ নং
  2. ৫৭ নং
  3. ৬৩ নং
  4. ৬৭ নং
সঠিক উত্তর:
৫২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫২ নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President):
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President) সম্পর্কে বলা আছে।

⇒ ৫২ (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারবে; এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করবেন।
- ৫২ (২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করতে পারবেন।
- ৫২ (৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকবে।
- ৫২ (৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে ঘোষণা করে সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
- ৫২ (৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলে গণ্য হবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হবার উল্লেখ বলে গণ্য হবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হবেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদটি মূলত প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং তা শূন্য হওয়ার শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করে।
- সংবিধানের ৬৩ নং অনুচ্ছেদে সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না এবং প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না, এই মর্মে উল্লেখ আছে।
- সংবিধানের ৬৭ নং অনুচ্ছেদ "সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া" বিষয়ক।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৩২.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনা আছে কতটি?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
সঠিক উত্তর:
১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় বাংলাদেশের সংবিধান ৷
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয় ।
- সংবিধানে মোট অনুচ্ছেদ আছে ১৫৩ টি।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৩৩.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কয়টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে?
  1. ক) ৯ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১২ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১১টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। [সূত্র: প্রথম আলো]
২,২৩৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের ১ম অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়বস্তু কী?
  1. প্রজাতন্ত্র
  2. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
  3. মৌলিক অধিকার
  4. নির্বাহী বিভাগ
সঠিক উত্তর:
প্রজাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:

• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৩৫.
সংবিধানের কোন ভাগে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত আছে?
  1. ২য়
  2. ৪র্থ
  3. ৩য়
  4. ১ম
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত আছে।
- রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান নির্বাহী; কিন্তু অলঙ্কারিক প্রধান।
- রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতে হয়।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রবিরুদ্ধ কর্মকান্ডের জন্য সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মুখোমুখি করতে পারে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ (৪) অনুসারে পঁয়ত্রিশ বছর বয়স্ক বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক নির্দিষ্ট আইনের আওতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।
- তাঁকে অবশ্যই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
- উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি কখনই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

রাষ্ট্রপতির নানাবিধ ক্ষমতা:
- শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- সংসদ ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ সংবিধান।
২,২৩৬.
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন—
  1. আব্দুল মালেক  উকিল
  2. রাশেদ খান মেমন
  3. সিরাজুল ইসলাম খান
  4. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন।
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৩৭.
বাংলাদেশ গণপরিষদের কততম অধিবেশনে খসড়া সংবিধানটি বিল আকারে পেশ হয়?
  1. প্রথম অধিবেশন
  2. দ্বিতীয় অধিবেশন
  3. তৃতীয় অধিবেশন
  4. চতুর্থ অধিবেশন
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় অধিবেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় অধিবেশন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধানটি বিল আকারে পেশ হয়।

গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন:

- বাংলাদেশ গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর।
- এই অধিবেশনে খসড়া সংবিধানটি বিল আকারে পেশ হয়।
- গণপরিষদে সাংবিধানিক বিলটির ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, 'এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত।'
- আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেন, এই সংবিধান গণতান্ত্রিক উপায়ে এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছে।
- এ সমাজব্যবস্থায় আইনের শাসন, জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সমাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) ৬৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৬৬ (২) নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৬৭ (১) নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৭১ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

- ৬৫ (৩) নং অনুচ্ছেদে ৩০০ টি আসনের মধ্যে ৫০ টি নারী আসন আগামী ২৫ বছর অর্থাৎ ২০৪৪ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। 
- ১৯৭২ সালের সংবিধানে এ সংখ্যা ছিলো ১৫টি।
অন্যদিকে,
- ৬৬(২) নং অনুচ্ছেদ : সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা
- ৬৭(১) নং অনুচ্ছেদ : সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়া
- অনুচ্ছেদ ৭১ : দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান)

২,২৩৯.
বিচারকদের চাকুরীর বয়স ৬৭ বছরের বিষয়টি সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৯৬(১)
  2. ৯৬(২)
  3. ৯৬(৩)
  4. ৯৬(৪)
সঠিক উত্তর:
৯৬(১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৬(১)
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ:

- অনুচ্ছেদ ৯৬ অনুযায়ী  বিচারকদের পদের মেয়াদের কথা বলা হয়েছে।
- ৯৬ (১) এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
- ৯৬ (২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোন বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না।
- ৯৬ (৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোন বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন।
- ৯৬ (৪) কোন বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৪০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়?
  1. ১২৭নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৩৭নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৩৮নং অনুচ্ছেদ
  4. ১১৮নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
১৩৮নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৮নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(২)নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। 

অন্যদিকে: 
- ১৩৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১২৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' পদের নিয়োগ দেয়া হয়‌।
- ১১৮নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়।  

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৪১.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বাক্যাংশটি সংযোজিত হয়?
  1. তৃতীয় সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. পঞ্চম সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম সংশোধনী:
- পঞ্চম সংশোধনী আইন এই সংবিধান আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল।

 • পঞ্চম সংশোধনী আইনের  বিষয়াবলী: 
- (১) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন।
- (২) 'বাঙালি' শব্দটির পরিবর্তে 'বাংলাদেশী' 
- (৩) ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিবর্তে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস 
- (৪) 'সমাজতন্ত্র' মানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায় বিচার 
- (৫) মন্ত্রিসভার সদস্যগণের চার-পঞ্চমাংশের সংসদ সদস্য হবার বিধান
- (৬) মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা রুজু করা
- (৭) সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন 
- (৮) গণভোট ইত্যাদি সংযোজন, পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়।
- এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে সামরিক সরকার কর্তৃক যেসব বিধিবিধান প্রণয়ন ও
সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলো পঞ্চম সংশোধনী আইনে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ রাজনীতি, এসএসএল , উন্মুক্ত বিশ্বিবিদ্যালয়।

২,২৪২.
সংবিধান অনুযায়ী 'আমার সোনার বাংলা'র কত চরণ জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত?
  1. প্রথম ৪ চরণ
  2. প্রথম ৮ চরণ
  3. প্রথম ১০ চরণ
  4. সম্পূর্ণটি
সঠিক উত্তর:
প্রথম ১০ চরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম ১০ চরণ
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

অনুচ্ছেদ - ০৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক 
১. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা"র প্রথম দশ চরণ।
২. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
৩. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তার উভয় পার্শ্বে দুইটি করে তারকা।
৪. উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৪৩.
বর্তমান সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান- [নভেম্বর,২০২৫]
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. ড. আনু মুহাম্মদ
  3. শাহদীন মালিক
  4. অধ্যাপক আলী রীয়াজ
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আলী রীয়াজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আলী রীয়াজ
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন।

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: ৫টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।

২,২৪৪.
হস্তলিখিত মূল সংবিধানে কত জন স্বাক্ষর করেন?
  1. ৩০৯ জন
  2. ৩১৯ জন
  3. ৩৯৯ জন
  4. ৪০৩ জন
সঠিক উত্তর:
৩৯৯ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৯৯ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানের মূল পাতা ছিল ৯৩ পৃষ্ঠার।
- স্বাক্ষরসহ সংবিধান ছিল ১০৯ পাতার।
- হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। 
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।
- গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করে ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
         iii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,২৪৫.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য?
  1. অলিখিত দলিল
  2. দ্বিকেন্দ্রিক রাষ্ট্র
  3. দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা
  4. দুষ্পরিবর্তনীয়
সঠিক উত্তর:
দুষ্পরিবর্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুষ্পরিবর্তনীয়
ব্যাখ্যা
মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. লিখিত দলিল।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
৪. মৌলিক অধিকার।
৫. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
৬. প্রজাতন্ত্র।
৭. এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
৮. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার।
৯. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
১০. ন্যায়পাল।
১১. সাংবিধানিক প্রাধান্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৪৬.
সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের কত সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. অর্ধেক
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. তিন-চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
দুই-তৃতীয়াংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
শাসনতন্ত্র সংশোধনীর বিধান:
- শাসনতন্ত্রের যে কোনো ধারা সংশোধন বা রদ করার জন্য পার্লামেন্টর দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতিসূচক প্রস্তাব বা ভোট গ্রহণের বিধান সংবিধানে রয়েছে।
- তাছাড়া যুদ্ধ ঘোষণা বা অংশগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের সম্মতি প্রয়োজন।
- সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। 
- সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন, সংযোজন, প্রতিস্থাপন বা রহিত করার জন্য সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে।

সংবিধান সংশোধনের শর্ত:
- সংশোধনী বিলের শিরোনামে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে যে এটি সংবিধানের কোনো বিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে।
- সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে বিলটি পাস না হলে, তা রাষ্ট্রপতির অনুমতির জন্য পাঠানো যাবে না।
- রাষ্ট্রপতির কাছে বিল পাঠানোর পর তিনি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে; যদি তা না করেন, ৭ দিন পর বিলটি অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৪৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী গৃহীত হয় কবে?
  1. ২০১৭ সালের ৮ জুলাই
  2. ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই
  3. ২০১৮ সালের ৮ জুলাই
  4. ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই
সঠিক উত্তর:
২০১৮ সালের ৮ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৮ সালের ৮ জুলাই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
- সংবিধানের ১৭টি সংশোধনীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে ৪ বার, জিয়াউর রহমানের সময় ২ বার, এরশাদের সময় ৪ বার, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ৩ বার ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ৪ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংসদে সংবিধানের ১ম সংশোধনী পাশ হয়।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) ৭ এপ্রিল, ২০২৩, দৈনিক ইত্তেফাক।
২,২৪৮.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন ৩টি তফসিল যুক্ত করে মোট ৭টি তফসিল করা হয়?
  1. ষোড়শ সংশোধনী
  2. চতুর্দশ সংশোধনী
  3. পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. দ্বাদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চদশ সংশোধনী:
- বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত সংশোধনী এটি।
- ৩ জুলাই ২০১১ সালে এই সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়।
- এর মাধ্যমে বাহাত্তরের মূল সংবিধানের অনেক বিধান, যেগুলো সামরিক সরকার দ্বারা বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বহাল করা হয়।
- যেমন প্রথম সামরিক সরকারের আমলে বিলুপ্ত ঘোষিত ৯ নম্বর ও ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ এই সংশোধনীর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়।
- তবে সমালোচনা রয়েছে যে, সামরিক সরকারগুলো কর্তৃক আনীত কিছু বিধান রেখে দিয়ে বাহাত্তরের সংবিধানের মূল চেতনাকে বিকৃত করা হয়েছে।
- সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করায় বাহাত্তরের মূল সংবিধানের চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।
- সংবিধানে ৭ক নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, রহিতকরণ ইত্যাদিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে।
- ৭খ নামে আরেকটি নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করে ঘোষণা করা হয়েছে যে সংবিধানের মৌলিক কিছু বিধান কোনোদিনও সংশোধন করা যাবে না।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের পূর্বের ৪টি তফসিলের সঙ্গে আরো ৩টি নতুন তফসিল যুক্ত করা হয়েছে।
- ফলে, এখন সংবিধানের মোট তফসিল হলো ৭টি।

অন্যদিকে: 
- দ্বাদশ সংশোধনী: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্তি।
- চতুর্দশ সংশোধনী: সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি ও বিচারপতির অবসর বয়স বৃদ্ধি।
- ষোড়শ সংশোধনী: বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে অর্পণ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
২,২৪৯.
মৌলিক অধিকারসমূহ সংবিধানের কোন ভাগে বর্ণিত আছে?
  1. প্রথম ভাগ
  2. দ্বিতীয় ভাগ
  3. তৃতীয় ভাগ
  4. চতুর্থ ভাগ
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় ভাগ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: সরকারী কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

২,২৫০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে ‘নির্ভরযোগ্য বাংলা পাঠ এবং অনুমোদিত ইংরেজি পাঠের মধ্যে বাংলা পাঠই প্রাধান্য পাবে’?
  1. ১৫৩ নং
  2. ১৫২ নং 
  3. ১৫১ নং 
  4. ১৫০ নং
সঠিক উত্তর:
১৫৩ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৩ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।

⇒ সংবিধানের ১৫৩ নং অনুচ্ছেদ: প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ
- ১৫৩ (১) এই সংবিধানকে "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান" বলে উল্লেখ করা হবে এবং ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে এটি বলবৎ হবে, যাকে এই সংবিধানে "সংবিধান-প্রবর্তন" বলে অভিহিত করা হয়েছে।

 - ১৫৩ (২) বাংলায় এই সংবিধানের একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ ও ইংরাজীতে অনুদিত একটি নির্ভরযোগ্য অনুমোদিত পাঠ থাকবে এবং উভয় পাঠ নির্ভরযোগ্য বলে গণপরিষদের স্পীকার সার্টিফিকেট প্রদান করবেন।

 - ১৫৩ (৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা-অনুযায়ী সার্টিফিকেটযুক্ত কোন পাঠ এই সংবিধানের বিধানাবলীর চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে;  তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরাজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৫১.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের নাগরিকের যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪২
  2. ৪৭ (ক)
  3. ৩৯ (ক)
  4. ৪৩ (খ )
সঠিক উত্তর:
৪৩ (খ )
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৩ (খ )
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৪৩: গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ
৪৩। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের
 (ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হইতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকিবে; এবং
 (খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকিবে।
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
২,২৫২.
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক-
  1. সেনাবাহিনী প্রধান
  2. প্রতিরক্ষামন্ত্রী
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬১নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে এমন মর্যাদা ও ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৫৩.
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ২ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ অক্টোবর, ১৯৭২
  4. ১৪ অক্টোবর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। 
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান, বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৫৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে কততম অনুচ্ছেদে ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি’ সম্পর্কে উল্লেখ আছে? 
  1. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৫ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪৭ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১৪৫ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৫ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
১৪৫ নং অনুচ্ছেদ: চুক্তি ও দলিল;  
- (১) প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তত্বে প্রণীত সকল চুক্তি ও দলিল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি যেরূপ নির্দেশ বা ক্ষমতা প্রদান করিবেন, তাঁহার পক্ষে সেইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক ও সেইরূপ প্রণালীতে তাহা সম্পাদিত হইবে।
- (২) প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্বে কোন চুক্তি বা দলিল প্রণয়ন বা সম্পাদন করা হইলে উক্ত কর্তৃত্বে অনুরূপ চুক্তি বা দলিল প্রণয়ন বা সম্পাদন করিবার জন্য রাষ্ট্রপতি কিংবা অন্য কোন ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হইবেন না, তবে এই অনুচ্ছেদ সরকারের বিরুদ্ধে যথাযথ কার্যধারা আনয়নে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ করিবে না।

♠ ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদ: আন্তর্জাতিক চুক্তি; 
- বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন: 
- তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে। 

♣♣ 
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব। 
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের নামে মামলা। 
- ১৪৭ নং অনুচ্ছেদ: কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।  

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৫৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অধ্যায় ‘বাংলাদেশের কর্মবিভাগ’ সম্পর্কিত?
  1. দশম
  2. নবম 
  3. অষ্টম 
  4. সপ্তম
সঠিক উত্তর:
নবম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবম 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায়  - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
- দশম অধ্যায়  - সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়  - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৫৬.
'বাংলাদেশের নামে মামলা' করা যাবে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে?
  1. অনুচ্ছেদ-১৪৬
  2. অনুচ্ছেদ-১৪৮
  3. অনুচ্ছেদ-১৫০
  4. অনুচ্ছেদ-১৫২
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-১৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-১৪৬
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা
- 'বাংলাদেশ'-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে। 

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ-১৫২: ব্যাখ্যা,
- অনুচ্ছেদ-১৪৮: পদের শপথ,
- অনুচ্ছেদ-১৫০: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী,

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৫৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪৮
  2. অনুচ্ছেদ ৪৯
  3. অনুচ্ছেদ ৫০
  4. অনুচ্ছেদ ৫১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪৮
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা বা শর্তাবলি সরাসরি উল্লেখ আছে সংবিধানের ৪৮ নং অনুচ্ছেদে‌।
- ৪৮(৪) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়বার যোগ্য হইবেন না,

যদি তিনি- 
ক) ৩৫ বৎসরের কম বয়স্ক হন;
খ) সংসদ - সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন;
গ) কখনও এই সংবিধানের অধীনে অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হইতে অপসারিত হইয়া থাকেন। 

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ৪৯ : ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার। 
- অনুচ্ছেদ ৫০: রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ : রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৫৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ দ্বারা 'বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ১৩৯ নং
  2. ১৩৭ নং
  3. ১৩৮ নং
  4. ১৪০ নং
সঠিক উত্তর:
১৩৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৭ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি):
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ দ্বারা 'বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন।
- সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।

উল্লেখ্য,
⇒ সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত ৫ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪০ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪১ নং অনুচ্ছেদদে সরকারি কর্ম কমিশন বার্ষিক রিপোর্ট কিভাবে জমা দিবে তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।
২,২৫৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বশেষ কততম সংশোধনী আনা হয়েছে?
  1. ১৫তম
  2. ১৬তম
  3. ১৭তম
  4. ১৮তম
সঠিক উত্তর:
১৭তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭তম
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধান সর্বমোট ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

⇒ সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।
- এর মধ্যে চারটি সংশোধনী ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
- সংবিধানের ১৭টি সংশোধনীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে ৪ বার, জিয়াউর রহমানের সময় ২ বার, এরশাদের সময় ৪ বার, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ৩ বার ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ৪ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়।

⇒ ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংসদে সংবিধানের ১ম সংশোধনী পাশ হয়।
- সংবিধানের সর্বশেষ, অর্থাৎ সপ্তদশ সংশোধনী হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই।

উৎস:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

২,২৬০.
সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন? 
  1. ড. কামাল হোসেন 
  2. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  3. রাজিয়া বানু
  4. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- বিরোধী দলীয় একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

২,২৬১.
বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত কতবার সংশোধন হয়েছে? [মে, ২০২৫]
  1. ২০ বার
  2. ১৮ বার
  3. ১৭ বার
  4. ১৬ বার
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
ব্যাখ্যা
- সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংবিধানের ১৭ তম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।

• সংবিধান সংশোধনী:

- বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তনশীল, তবে তা দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সংবিধানে এ পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে।
- জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংবিধান সংশোধন করা যায়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- নিম্নে বাংলাদেশে এ যাবৎকাল গৃহীত সংশোধনীসমূহ:
- ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- দ্বাদশ সংশোধনী দীর্ঘ ১৫ বছরের সামরিক, ছদ্ম সামরিক শাসন হতে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা শুরু করে।
- জাতীয় সংসদে ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট এ সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬২.
সংবিধান সংস্কার কমিটি নিম্নকক্ষের জন্য কয়টি আসনের সুপরিশ করেছেন?
  1. ৩০০টি
  2. ১০৫টি
  3. ৪০০টি
  4. ২০০টি
সঠিক উত্তর:
৪০০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০০টি
ব্যাখ্যা

 • নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন। 

• সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- মোট সদস্য- ৯ জন

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: ৫টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।

২,২৬৩.
সংবিধান প্রস্তাবনায় কোন শাসনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. সামরিক শাসন
  2. আইনের শাসন
  3. একনায়কতন্ত্র
  4. ধর্মীয় শাসন
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
- ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করে [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি। 
- সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে।
- আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য।
- এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৬৪.
‘সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব’ সম্পর্কে নিচের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪০ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১৪০ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪০ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
♣ ১৪০ নং অনুচ্ছেদ: কমিশনের দায়িত্ব; 

• (১) কোন সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব হইবে; 
- (ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদিগকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা-পরিচালনা;
- (খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোন বিষয় সম্পর্কে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হইলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব-সংক্রান্ত কোন বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হইলে সেই সম্বন্ধে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশদান; এবং
- (গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্বপালন।

• (২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন এবং কোন কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কোন প্রবিধানের (যাহা অনুরূপ আইনের সহিত অসমঞ্জস নহে) বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোন কমিশনের সহিত পরামর্শ করিবেন:
- (ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মের জন্য যোগ্যতা ও তাহাতে নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি;
- (খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা হইতে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতিদান বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ; 
- (গ) অবসর-ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি; এবং
- (ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি। 

♠♠ 
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ: কমিশন-প্রতিষ্ঠা। 
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ: সদস্য-নিয়োগ।
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদ: পদের মেয়াদ। 

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৬৫.
হস্তলিখিত সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা কে করেন?
  1. আব্দুর রউফ
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. কামরুল হাসান
  4. জয়নুল আবেদীন
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদীন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানের মূল পাতা ছিল ৯৩ পৃষ্ঠার।
- স্বাক্ষরসহ সংবিধান ছিল ১০৯ পাতার।

⇒ হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করে ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।

উৎস: ⅰ) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
iii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,২৬৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের 'চলাফেরার স্বাধীনতার' অধিকার কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা
জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।

অন্যদিকে,
- ৩৪ অনুচ্ছেদ: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
-  ৩৭ অনুচ্ছেদ: সমাবেশের স্বাধীনতা।
- ৩৮ অনুচ্ছেদ: সংগঠনের স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৬৭.
সংবিধান অনুযায়ী কে জরুরি অবস্থা জারি করে থাকেন?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) জাতীয় সংসদ
  3. গ) মন্ত্রিসভা
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৪১ক (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
২,২৬৮.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার সর্বশেষ ভাগ কোনটি?
  1. মূলনীতি গ্রহণ
  2. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  3. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  4. সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
সঠিক উত্তর:
সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৬৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনায় কয়টি ভাগ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

• প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৭০.
সংবিধানের কোন ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন?
  1. ১৫০ ধারা
  2. ১৩৫ ধারা
  3. ১৪০ ধারা
  4. ১৪১(ক)(১) ধারা
সঠিক উত্তর:
১৪১(ক)(১) ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪১(ক)(১) ধারা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা:
- সাধারণত জরুরি অবস্থা রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সরকারের অস্থিরতার কারণে জারি হয়।
- সংবিধানের ১৪১(ক)(১) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হন যে দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তবে তিনি অধিক ১২০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- বাংলাদেশে মোট পাঁচবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
- সময়কাল ও শাসক:
• ১৯৭৪: খাদ্য সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।
• ১৯৮১: রাজনৈতিক উত্তেজনা।
• ১৯৮৭:  সরকারবিরোধী আন্দোলন।
• ১৯৯০: রাজনৈতিক অস্থিরতা।
• ২০০৭: সামরিক হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রপতি হলো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ পদ অধিকারী।
- বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতির প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং সংবিধান অনুযায়ী কাজ করা।
- তিনি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক, রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের নিয়োগ দেন।
- সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হন। 
 
উৎস: 
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি;
Laws of Bangladesh.

২,২৭১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১১৯
  3. অনুচ্ছেদ ১২০
  4. অনুচ্ছেদ ১২১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১১৮
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১৮ - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১১৯ - নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- অনুচ্ছেদ ১২১ - প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ ১২২ - ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৩ - নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ ১২৪ - নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৫ - নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৬ - নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৭২.
'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানে যুক্ত হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. প্রথম সংশোধনী
  2. চতুর্থ সংশোধনী
  3. ২য় সংশোধনী
  4. ষষ্ঠ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
২য় সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২য় সংশোধনী
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় সংশোধনী:
- ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টম্বর দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সংশোধনীটি গৃহীত হয়।
- সংশোধনীটি অনুমোদিত হয় ২২ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে।
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণার বিধান চালু করা হয়।
- এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৭৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ
  2. ২১নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৫নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধান:

অনুচ্ছেদ ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:

রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ  ১৮ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৭৪.
"প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ" বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
  1. ৫নং
  2. ৬নং
  3. ৭নং 
  4. ৮নং
সঠিক উত্তর:
৭নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ৭ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ বিষয়ে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য বিষয়ে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৬ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৮ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৭৫.
”রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি” সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৪৯নং
  2. ৫২নং
  3. ৫১নং
  4. ৫৪নং
সঠিক উত্তর:
৫১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৫১নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের ৪৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
• সংবিধানের ৫০নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
• সংবিধানের ৫২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- রাষ্ট্রপতির অভিশংসন।
• সংবিধানের ৫৩নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
• সংবিধানের ৫৪নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৭৬.
'বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত হইবে'- এটি উল্লেখ রয়েছে -
  1. ১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১ক নং অনুচ্ছেদে
  3. ১খ নং অনুচ্ছেদে
  4. ২ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রজাতন্ত্রের প্রস্তাবনা:
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগে ১নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে।
- এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যা "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ" নামে পরিচিতি।
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনা ১টি।
- প্রস্তাবনার ভাগ ৫টি।

⇒ প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ:
১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা,
২. মূলনীতি গ্রহণ [জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের মূলনীতি হবে],
৩. শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা,
৪. বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা [ঘোষণা],
৫ গণপরিষদে সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করার নিশ্চয়তা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৭৭.
সর্বনিম্ন কত বছরের সাজা হলে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না?
  1. ক) ৫ বছর
  2. খ) ৪ বছর
  3. গ) ৭ বছর
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- সর্বনিম্ন ২ বছর পর্যন্ত সাজা পেলে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না।
- তবে সাজা শেষ হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে আবার সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য বিবেচিত হওয়ার যোগ্য হইবেন।

তথ্যসূত্র:- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৭৮.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় কখন?
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ২২ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধানে তফসিল রয়েছে - ৭টি।
- সংবিধানে অনুচ্ছেদ রয়েছে - ১৫৩টি।
- মূলনীতি রয়েছে - ৪টি।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় - ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে।

- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন - শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয় - ২৩ মার্চ, ১৯৭২ সালে (আদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২৩ মার্চ, ১৯৭২)।
- সংবিধানে স্বাক্ষরের সময় গণপরিষদের মোট সদস্য - ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে -১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, মো: আরিফ খান।
২,২৭৯.
’ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ৬টি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়’ কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. নবম সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. একাদশ সংশোধনী
  4. দ্বাদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
অষ্টম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• অষ্টম সংশোধনী:
- অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ৬টি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
- একই সঙ্গে হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।
- চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুরে হাইকোর্ট বিভাগের একটি করে স্থায়ী বেঞ্চ রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
- হাইকোর্ট বিকেন্দ্রীকরণের বিধানটি পরবর্তীতে সুপ্রীম কোর্ট এক রায়ে বাতিল করে দেয়।
- ১৯৮৮ সালের ৭ জুন অষ্টম সংশোধনী গৃহীত হয়।

অপরদিকে,
- নবম সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।
- দশম সংশোধনী মাধ্যমে নারী সংসদ সদস্যদের ৩০টি মহিলা আসন পুনরায় সংরক্ষণের বিধান করা হয়। 
- একাদশ সংশোধনী মাধ্যমে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন স্বপদে ফিরে আসে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

২,২৮০.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়?
  1. চতুর্দশ সংশোধনী
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. ষোড়শ সংশোধনী
  4. সপ্তদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ বিধান বাদ দিয়েছিল।
- এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
২,২৮১.
বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার ছিলেন কে? 
  1. মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগিশ
  2. মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
  3. শাহ আব্দুল হামিদ
  4. আব্দুল মালেক উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
ব্যাখ্যা

গণপরিষদ: 
- মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের সভাপতিত্বে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন হয়।
- স্পিকার: শাহ আবদুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ নির্বাচিত হন।
- ২ মে, ১৯৭২ শাহ আবদুল হামিদ মারা গেলে মোহাম্মদ উল্লাহ স্পিকার নির্বাচিত হন।

• গণপরিষদের অধিবেশন:
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- সরকারের আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩৪ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) সংবিধান থেকে কার্যকর হয়।

 উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৮২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯১
  2. অনুচ্ছেদ ৯২
  3. অনুচ্ছেদ ৯৩
  4. অনুচ্ছেদ ৯৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৮৩.
বিচারপতিদের বয়স সীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়েছিল কোন সংশোধনীর মাধ্যমে? 
  1. দ্বাদশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. ষোড়শ
  4. চতুর্দশ
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

চতুর্দশ সংশোধনী:
- সময়:  মে, ২০০৪ সালে।
- মহিলাদের জন্য জাতীয় সংসদে ৪৫টি আসন সংরক্ষণ করা হয়।
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি সরকারি অফিসসহ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিধান করা হয়।
- সুপ্রীমকোর্টের বিচারকদের বয়স সীমা ৬৫-৬৭ বছর করা হয়েছিল।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সুপ্রীমকোর্টের বিচারকদের বয়স সীমা ৬৭ বছর পূর্ণবহাল রাখা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান আরিফ খান।

২,২৮৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা উল্লেখ আছে?
  1. ৫১ নং
  2. ৬২ নং
  3. ৪৮ নং
  4. ৪২ নং
সঠিক উত্তর:
৪৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৮ নং
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ৪৮নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির কথা উল্লেখ রয়েছে।

• রাষ্ট্রপতি: 
- ৪৮(১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবে।,
- যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- (২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন।
- (৪) কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি- 
- (ক) পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা 
- (খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন; অথবা 
- (গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত থাকেন। 

এছাড়াও,
- ৪৮ নং:  রাষ্ট্রপতি;
- ৫১ নং রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- ৬২ নং: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি।
- ৪২ নং: সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,২৮৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১২২
  2. অনুচ্ছেদ ১২৩
  3. অনুচ্ছেদ ১২৪
  4. অনুচ্ছেদ ১২৫
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১২২
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:
- অনুচ্ছেদ ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- অনুচ্ছেদ ১২১ - প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ ১২২ - ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৩ - নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ ১২৪ - নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৫ - নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৬ - নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।
- অনুচ্ছেদ ১২৭ - মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১২৮ - মহা-হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২৯ - মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩০ - অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৮৬.
সংবিধানে প্রস্তাবনার কোন ভাগে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৮৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের কয় ধরনের মালিকানার নীতির বিধান আছে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
ব্যাখ্যা
মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মালিকানাগুলো হলো:
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
২. সমবায় মালিকানা
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা

সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩:
মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৮৮.
সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন কত থেকে কত এ উন্নীত করা হয়?
  1. ৪৫
  2. ৩৫
  3. ৫০
  4. ৪৭
সঠিক উত্তর:
৪৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী:
- চতুর্দশ সংশোধনী আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী আইন ২০০৪ সালের ১৬ মে সংসদে পাস হয়।

• এ সংশেোধনীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়। 
যেমন-
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৩০ থেকে ৪৫ এ উন্নীত করা হয়, যা পরবর্তী দশ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭-তে বর্ধিত করা হয়।
- এর পাশাপাশি এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি তাদের স্ব স্ব কার্যলয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে টানানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়।

উৎস: সংবিধান।

২,২৮৯.
খসড়া সংবিধান কতটি সংশোধনীর পর অনুমোদন করা হয়?
  1. ক) 62
  2. খ) 55
  3. গ) 75
  4. ঘ) 65
সঠিক উত্তর:
ঘ) 65
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 65
ব্যাখ্যা

৬৫টি সংশোধনীসহ খসড়া সংবিধান অনুমোদন করা হয়।
- ড.কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- গণপরিষদে বিবেচনার জন্য ১২ অক্টোবর সংবিধান বিল উত্থাপন করা হয়।
- খসড়া সংবিধানের প্রথম পাঠ শুরু হয় ১৯ অক্টোবর এবং ১৯৭২ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
- দ্বিতীয় পাঠ চলে ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
- তৃতীয় পাঠ শুরু হয় ৪ নভেম্বর এবং ৬৫টি সংশোধনীসহ তা অনুমোদন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

২,২৯০.
'সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা'-বিষয়টি সংবিধান মতে-
  1. নৈতিক বিষয়
  2. মানবাধিকার
  3. মৌলিক অধিকার
  4. নিয়োগ ও কর্মের শর্ত
সঠিক উত্তর:
মৌলিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক অধিকার
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগ (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭) মৌলিক অধিকারসমূহের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। 

- এর মধ্যে অনুচ্ছেদ ২৯ নং অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে ‘সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে।

- অনুচ্ছেদ ২৯(১): সকল নাগরিকের জন্য সরকারি নিয়োগ-লাভে সমান সুযোগ থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ২৯(২): কোনো নাগরিককে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না বা তার প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।
- অনুচ্ছেদ ২৯(৩): এই অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বিধান (যেমন: কোটা ব্যবস্থা) রাখার বিষয়ে উল্লেখ আছে, তবে এটি সাধারণ সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• নৈতিক বিষয়:
-  সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা কোনো নৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি সংবিধানে আইনগতভাবে সুরক্ষিত একটি অধিকার। 

• মানবাধিকার: 

- যদিও সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা মানবাধিকারের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে (যেমন: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে), বাংলাদেশের সংবিধানের প্রেক্ষাপটে এটি সুনির্দিষ্টভাবে মৌলিক অধিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত। 
- তাই ‘মানবাধিকার’ শব্দটি এখানে সঠিক নয়।

• নিয়োগ ও কর্মের শর্ত: 
- সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি দিক হলেও, এটি কেবল নিয়োগ বা কর্মের শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
- এটি একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃত, যা নিয়োগের আগে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল পর্যায়ে প্রযোজ্য।

সুতরাং 'সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা'-বিষয়টি সংবিধান মতে মৌলিক অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,২৯১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকবে না।’
  1. অনুচ্ছেদ ৫০ (৪)
  2. অনুচ্ছেদ ৫০ (৩)
  3. অনুচ্ছেদ ৫০ (২)
  4. অনুচ্ছেদ ৫০ (১)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৫০ (২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৫০ (২)
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ:
- সংবিধানের ৫০ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকবে না।

এছাড়াও
- ৫০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বৎসরের মেয়াদে তার পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তার উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।
- ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- ৫০ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার কার্যভারকালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, এবং কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতিরূপে তার কার্যভার গ্রহণের দিনে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৯২.
What is the minimum age for becoming a voter in Bangladesh? 
  1. 16 years
  2. 17 years
  3. 18 years
  4. 19 years
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
18 years
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18 years
ব্যাখ্যা
ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স:
- বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগ 'নির্বাচন' অংশে প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের কথা বলা আছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্রনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২২(১) ও (২) অনুযায়ী ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
- প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হওয়ার অধিকারী হবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

উৎস:- বাংলাদেশ সংবিধান।
২,২৯৩.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন?
  1. একাদশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. দ্বাদশ
  4. পঞ্চদশ
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী :
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে;
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন
- প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী; 
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়; 
- উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।

- তাছাড়া, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এই আইনে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়, যা দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।

উৎস: সংবিধান।

২,২৯৪.
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আহসান উদ্দীন চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

⇒ সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৫.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে, জাতীয় সংসদ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪ (১) নং
  2. ৬৫ (১) নং
  3. ৩৮ নং
  4. ৪৮ (১) নং
সঠিক উত্তর:
৬৫ (১) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫ (১) নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের ৬৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- 'জাতীয় সংসদ' নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে,
- এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হবে,
- তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করবে না।

অন্যদিকে -
- অনুচ্ছেদ ৩৮: জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাঢ়বে।
- অনুচ্ছেদ ৪ (১): প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'র প্রথম দশ চরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৮(১): বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৯৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকার বর্ণিত আছে?
  1. ৩য়
  2. ৪র্থ
  3. ৫ম
  4. ৬ষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং - ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।

⇒ সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,২৯৭.
’আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২৯
  2. অনুচ্ছেদ-২৬
  3. অনুচ্ছেদ-২৭
  4. অনুচ্ছেদ-২৮
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৭
ব্যাখ্যা

- আইনের দৃষ্টিতে সমতা সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে।
 - সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

 এছাড়াও
 - গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
 - ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
 - ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
 - ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
 - ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
 
 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,২৯৮.
‘জরুরী অবস্থা ঘোষণা’ করার এখতিয়ার রয়েছে-
  1. ক) প্রধানমন্ত্রীর
  2. খ) রাষ্ট্রপতির
  3. গ) আইনমন্ত্রীর
  4. ঘ) জাতীয় সংসদের
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্ট্রপতির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্ট্রপতির
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ১৪১ক(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
- ১৪১ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে এই ৬টি মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।
- জরুরি অবস্থার সময় স্থগিত হয় ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪২ অনুচ্ছেদ গুলো।

তথ্যসূত্র:- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২৯৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের 'সপ্তদশ সংশোধনী' কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ২০১৪ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে। 

প্রথম সংশোধনী: ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে।
দ্বিতীয় সংশোধনী: ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর।
তৃতীয় সংশোধনী: ১৯৭৪ সালের ২৩ নভেম্বর।
চতুর্থ সংশোধনী: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি।
পঞ্চম সংশোধনী: ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল।
ষষ্ঠ সংশোধনী: ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই। 
সপ্তম সংশোধনী: ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর।
অষ্টম সংশোধনী: ১৯৮৮ সালের ৯ জুন। 
নবম সংশোধনী: ১৯৮৯ সালের ১১ জুলাই। 
দশম সংশোধনী: ১৯৯০ সালের ১২ জুন। 
একাদশ সংশোধনী: ১৯৯১ সালে ৬ আগস্ট। 
দ্বাদশ সংশোধনী: ১৯৯১ সালে ৬ আগস্ট।
ত্রয়োদশ সংশোধনী: ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ।
চতুর্দশ সংশোধনী: ২০০৪ সালের ১৬ মে। 
পঞ্চদশ সংশোধনী: ২০১১ সালের ৩০ জুন। 
ষোড়শ সংশোধনী: ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।

সপ্তদশ সংশোধনী:
- ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি আনা হয় সপ্তদশ সংশোধনী।
- এই সংশোধনীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধি আরও ২৫ বছর বহাল রাখা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,৩০০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অংশে মৌলিক অধিকার দেয়া আছে?
  1. ১ম ভাগে
  2. ২য় ভাগে
  3. ৩য় ভাগে
  4. ৪র্থ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩য় ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য় ভাগে
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।

⇒ সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।