বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা ২২ / ২৪ · ২,১০১২,২০০ / ২,৩৩১

২,১০১.
সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী অনুসারে, কত বছর পর্যন্ত ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত থাকবে?
  1. ১৫ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ২০ বছর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংশোধনী:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ, সংবিধান রচনার লক্ষ্যে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর, খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর, সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। 
- সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সপ্তদশ (১৭তম) সংশোধনী বিল পাস হয়।
- এতে একাদশ সংসদের ৫০টি নারী আসন আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত বহাল রাখার বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

২,১০২.
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৭ম - ২৫ তম
  2. ৮ম - ২৫ তম
  3. ৮ম - ২৪ তম
  4. ৭ম - ২৩ তম
সঠিক উত্তর:
৮ম - ২৫ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ম - ২৫ তম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫ তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই ৪টি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- এতে আরো বলা হয়েছে, উপরোক্ত চারটি নীতিসহ ২য় ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে গণ্য হবে।

• জাতীয়তাবাদ:
- ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি (অনুচ্ছেদ ৯)।

• সমাজতন্ত্র:
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য (অনুচ্ছেদ ১০)।

• গণতন্ত্র:
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে (অনুচ্ছেদ ১১)।

• ধর্মনিরপেক্ষতা:
- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান (অনুচ্ছেদ ১২)।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০৩.
'Noting in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code or to prevent abuse of the process of any Court otherwise to secure the ends of Justice' বিধানটি The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪৩৯
  2. ৪৩৫
  3. ৪৩৯এ
  4. ৫৬১এ
সঠিক উত্তর:
৫৬১এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬১এ
ব্যাখ্যা
Section 561A- Saving of inherent power of High Court Division
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.

• ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে। একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানী ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সে বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে। 

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
২,১০৪.
সংবিধানের নবম সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান চালু করা
  2. খ) যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান
  3. গ) রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ
  4. ঘ) সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ
ব্যাখ্যা
নবম সংশোধনী:
সংসদে উত্থাপন: ৬ জুলাই, ১৯৮৯
উত্থাপনকারী: আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ
সংসদে গৃহীত: ১০ জুলাই, ১৯৮৯
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ১১ জুলাই, ১৯৮৯

সংবিধানের নবম সংশোধনী আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কিছু বিধান সংযোজন করা হয়। এ সংশোধনীর আগে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি যতবার ইচ্ছা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচন করতে পারতেন। এ সংশোধনীর পর অবস্থার পরিবর্তন হয়।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতি পদে কোনও ব্যক্তির পর পর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
২,১০৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের জন্য কোন সংশোধনী প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. ষষ্ঠ সংশোধনী
  3. তৃতীয় সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় সংশোধনী
ব্যাখ্যা
তৃতীয় সংশোধনী:
- তৃতীয় সংশোধনী আইন সংবিধান (তৃতীয় সংশোধনী) আইন, ১৯৭৪ বলবৎ হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর।
- এর দ্বারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কতিপয় ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত রেখা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়।

অন্যদিকে:
চতুর্থ সংশোধনী:
- ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে সংবিধানের মৌলিক সংশোধন সাধিত হয়।
- সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫ দ্বারা সংসদীয় পদ্ধতি পরিত্যক্ত হয় এবং এক-দলীয় রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়।

ষষ্ঠ সংশোধনী:
- ষষ্ঠ সংশোধনী আইন ১৯৮১ সালের সংবিধানের ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক এই আইন কার্যকর হয়।

পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় - পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসে।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করায় এই সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' বলা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
২,১০৬.
The Election Commission has been formed according to the Article No. of the Constitution -
  1. ক) According to Article 116
  2. খ) According to Article 117
  3. গ) According to Article 118
  4. ঘ) According to Article 119
সঠিক উত্তর:
গ) According to Article 118
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) According to Article 118
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশন সমন্বয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- ৫জন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন ৫ বছরের জন্য গঠিত হয়।
- দেশের সকল নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
- নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় কার্যাবলি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনানুযায়ী সম্পন্ন হয়।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদেরকে রাষ্ট্র প্রধান নিয়োগ দান করবেন।
- সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কাজের শর্তাবলী রাষ্ট্র প্রধানের আদেশের দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে দায়িত্ব পালন করবেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এস এস সি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,১০৭.
আইনের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য?
  1. ২৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৯ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৯ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
২৭ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• ২৭ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে বলা হয়েছে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।” অর্থাৎ, আইনের সামনে সকলের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, 
-১৯ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকদের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান অনুযায়ী, ধর্ম বা অন্য কোনো কারণে বৈষম্য করা যাবে না।
- ২৯ নং অনুচ্ছেদ: সরকারি নিয়োগ ও সুবিধা প্রাপ্তিতে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১০৮.
নির্ণায়ক ভোট (Casting Vote) সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অনুচ্ছেদ  ৭৬
  2. খ) অনুচ্ছেদ ৭৫
  3. গ) অনুচ্ছেদ ৭৭
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ  ৭৮
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ ৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুচ্ছেদ ৭৫
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৭৫:- কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি 
(১) এই সংবিধান-সাপেক্ষে
(খ) উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি ভোটদান করবেন না কিন্তু সমসংখ্যক ভোট হলে তিনি নির্ণায়ক ভোট (Casting Vote) প্রদান করবেন ।  

অন্যদিকে, 
• অনুচ্ছেদ  ৭৬:- সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
• অনুচ্ছেদ ৭৭ : ন্যায়পাল।
• অনুচ্ছেদ  ৭৮ : সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।   

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান। 
২,১০৯.
’আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে?
  1. ২৬ নং
  2. ২৪ নং
  3. ২৭ নং
  4. ২৯ নং
সঠিক উত্তর:
২৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ নং
ব্যাখ্যা
'আইনের দৃষ্টিতে সমতা' সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে।

• ২৭নং অনুছেদ:
- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

অপরদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- অনুচ্ছেদ ২৪ - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৮ - ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান,  আরিফ খান।
২,১১০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আইনের ব্যাখ্যা দেয়া আছে?
  1. ১৪৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫১ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৫২ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৫৩ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১৫২ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১৫২ নং অনুচ্ছেদ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে আইনের ব্যাখ্যা দেয়া আছে ১৫২ নং অনুচ্ছেদে।
- আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপআইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি।

এছাড়াও,
- অধিবেশন" (সংসদ-প্রসঙ্গে) অর্থ এই সংবিধান-প্রবর্তনের পর কিংবা একবার স্থগিত হবার বা ভেঙে যাবার পর সংসদ যখন প্রথম মিলিত হয়, তখন হতে সংসদ স্থগিত হওয়া বা ভেঙে যাওয়া পর্যন্ত বৈঠকসমূহ। 
- "অবসর-ভাতা" অর্থ আংশিকভাবে প্রদেয় হোক বা না হোক, যে কোন অবসর-ভাতা, যাহা কোন ব্যক্তিকে বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেয়; এবং কোন ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা বা এর সাথে সংযোজিত অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যর্পণ-ব্যপদেশে দেয় অবসরকালীন বেতন বা আনুতোষিক এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

​অন্যদিকে,
​- ১৪৯ নং অনুচ্ছেদ: প্রচলিত আইনের হেফাজত। 
​- ১৫১ নং অনুচ্ছেদ: রহিতকরণ। 
​- ১৫৩ নং অনুচ্ছেদ: প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১১১.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত কত চরণ?
  1. প্রথম চার চরণ
  2. প্রথম দশ চরণ
  3. প্রথম ছয় চরণ
  4. প্রথম আট চরণ
সঠিক উত্তর:
প্রথম দশ চরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম দশ চরণ
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়। সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।  

অনুচ্ছেদ - ০৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক: 

১. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা'র প্রথম দশ চরণ।
২. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
৩. প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তার উভয় পার্শ্বে দুইটি করে তারকা।
৪. উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১১২.
’’কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে পুরস্কার গ্রহন করতে পারবেনা’’ কার পূর্ব অনুমোদন ব্যাতিত?
  1. প্রধানমন্ত্রীর
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. আদালতের
  4. স্থানীয় সরকার
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতির
ব্যাখ্যা
বাংলাাদেশ সংবিধান: 
- ৩০ নং অনুচ্ছেদে: বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
- রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হইতে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করিবেন না।

• সংবিধানরে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:
অনুচ্ছেদ-২৬:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
অনুচ্ছেদ-২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
অনুচ্ছেদ-২৮: ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ প্রভৃতি কারণে বৈষম্যের নিষেধাজ্ঞা;
অনুচ্ছেদ-২৯: সরকারি নিয়োগে সুযোগের সমতা।
অনুচ্ছেদ-৩০: বিদেশি খেতাব ও উপাধি গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা;
অনুচ্ছেদ-৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার;
অনুচ্ছেদ-৩২: জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা;
অনুচ্ছেদ-৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,১১৩.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদের মোট কতটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮ টি
  2. ১৯ টি
  3. ২০ টি
  4. ২১ টি
সঠিক উত্তর:
২১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' কখন গঠন করা হয়েছিলো - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন। এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। 
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে সময় লেগেছিলো ৯ মাস।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদের মোট ২১ টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,১১৪.
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদিগকে নিয়োগ প্রদান করে কে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রিসভা
  4. প্রধানমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৫৬ নং অনুচ্ছেদের ২ নং দফা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- তবে প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন।
- মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সদস্য জাতীয় সংসদের সদস্য নয় এমন ব্যক্তিদের থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
২,১১৫.
ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ২১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১২ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৫ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১২ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা কথা বলা আছে সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে।
এত বলা হয়েছে, 
- ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য
 (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
 (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
 (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
 (ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তার উপর নিপীড়ন, বিলোপ করা হবে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১১৬.
'কোনো ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুবার বিচার ও দণ্ড প্রদান করা যাবে না'—এটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিধান?
  1. ৩২ অনুচ্ছেদ
  2. ৩৩ অনুচ্ছেদ
  3. ৩৪ অনুচ্ছেদ
  4. ৩৫ অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৩৫ অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ:
৩৫। (১) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।
(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাইবে না।
(৩) ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন।
(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না।
(৫) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।
(৬) প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত কোন বিধানের প্রয়োগকে এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোন কিছুই প্রভাবিত করিবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১১৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি?
  1. ৪৮(১) নং
  2. ৬৫(১) নং
  3. ৭০(১) নং
  4. ৭২(১) নং
সঠিক উত্তর:
৭২(১) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭২(১) নং
ব্যাখ্যা

 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানে বর্ণিত কয়েকটি পরিস্থিতিতে যেমন রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এর ক্ষেত্রে স্পিকার সংসদ আহ্বান করতে পারেন।
- প্রতিবছর সংসদের অন্যূন দুটি অধিবেশন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে।

• রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানসমূহ বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
- নিয়মমাফিক রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত এবং তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত আছে।

⇒ রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান করে।  কোন বিল সংসদে পাশ হলে তা সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। সংসদ ভেঙে দেয়া হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে আইন তৈরি করতে পারেন যা সংসদে আইন হিসেবে গণ্য হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১৮.
সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪৮ (৩)
  2. অনুচ্ছেদ ৫৪
  3. অনুচ্ছেদ ৫৭(ক)
  4. অনুচ্ছেদ ১০৬
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১০৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১০৬
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার সম্পর্কে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
 
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ নং অনুচ্ছেদ:
• সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার:

- যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এমন কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয় বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য,
সম্প্রতি ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ (৩) অনুসারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করা সম্ভবপর নয়।

⇒ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ হতে ৮ আগস্ট, ২০২৪ ১০.০০.০০০০.১২৭,৯৯.০০৭.২০.৪৭৫ নং স্মারকে প্রেরিত পত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত যাচাই করা হয়েছে।

⇒ এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কোনো বিধান না থাকায় উল্লিখিত প্রশ্নের বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টা মূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই মতামত প্রদান করছে যে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি উক্তরূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টাগণ কে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ বলছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। 
- সংবিধানের ৫৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হবে যদি তিনি কোনো সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করেন। পদত্যাগের সঙ্গে ‘পত্র’ শব্দটি আছে মানে সেটি অবশ্যই লিখিত হতে হবে। 

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) The Daily Star Bangla.
২,১১৯.
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের বর্ণনা সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১১৯নং
  2. ১২৩নং
  3. ১১১নং
  4. ১২২নং
সঠিক উত্তর:
১১৯নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৯নং
ব্যাখ্যা
• নির্বাচন কমিশনের গঠন:
- বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কমিশন স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করে।
- এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে এ কমিশন গঠিত হয়।
- সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
- কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন।
- অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের কারণে কমিশনাররা দায়িত্ব থেকে অপসারিত হতে পারেন।

• ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯-এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, ভোটারদের পরিচয়পত্র প্রদান, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ) পরিচালনা এবং আনুষঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন। 

উৎস:বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
২,১২০.
'ধর্মীয় স্বাধীনতা' -বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ৩৮
  2. খ) ৩৯
  3. গ) ৪৩
  4. ঘ) কোনোটিই না
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
৩৮ নং এ সংগঠনের স্বাধীনতা আলোচনা করা হয়েছে।
৩৯ নং এ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা আলোচনা করা হয়েছে।
৪৩ নং এ গৃহ ও যোগাযোগ রক্ষণ আলোচনা করা হয়েছে।
১২ নং এ ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ৪১ নং এ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
২,১২১.
'অ্যাটর্নি জেনারেল' সম্পর্কে বলা হয়েছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ৬২ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৬৩ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৬৪ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৬১ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৬৪ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।
- ৬৪(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
- ৬৪(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
- ৬৪(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
- ৬৪(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১২২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নাগরিকত্বের উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৬
  2. অনুচ্ছেদ-৭
  3. অনুচ্ছেদ-৫
  4. অনুচ্ছেদ-৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
- অনুচ্ছেদ-৬ নাগরিকত্ব কথা বলা হয়েছে।
- ৬(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- ৬(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবে।

এছাড়াও, 
- সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ সমূহ:
১৷ প্রজাতন্ত্র;
২৷ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;
২ক৷ রাষ্ট্রধর্ম;
৩৷ রাষ্ট্রভাষা;
৪৷ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক;
৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি;
৫৷ রাজধানী;
৬৷ নাগরিকত্ব;
৭৷ সংবিধানের প্রাধান্য;
৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ;
৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
২,১২৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. বিচার বিভাগ
  4. নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১২৪.
বাংলাদেশের প্রধান আইনজীবী নিয়োগ দেন-
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. সংসদ
  4. রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
• বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।
- ৬৪(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
- ৬৪(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
- ৬৪(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
- ৬৪(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১২৫.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি দণ্ডপ্রাপ্তদের দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৫০
  2. খ) অনুচ্ছেদ ৫২
  3. গ) অনুচ্ছেদ ৫১
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৯
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৯
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৪৯ : ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার
কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে। 

অন্যদিকে, 
• অনুচ্ছেদ ৫০ : রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ। 
• অনুচ্ছেদ ৫১ : রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।  
• অনুচ্ছেদ ৫২ : রাষ্ট্রপতির অভিশংসন। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান। 

২,১২৬.
কোন বিরোধী দলীয় সদস্য হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি?
  1. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  2. রাজিয়া সুলতানা
  3. আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন: ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,১২৭.
বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি উল্লেখ রয়েছে-
  1. প্রথম ভাগে
  2. তৃতীয় ভাগে
  3. দ্বিতীয় ভাগে
  4. চতুর্থ ভাগে
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় ভাগে
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের মূলনীতি:
- ভারত এবং আয়ারল্যান্ডের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- সরকারের কর্তব্য হলো রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এগুলো প্রয়োগ করা।
- সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি আলোকপাত করা হয়েছে।
- ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- এগুলো হল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,১২৮.
নিচের কোনটি ন্যায়পাল এর কাজ?
  1. নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম তদারকি করা
  2. নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা
  3. বেসরকারি সংস্থাগুলোর আর্থিক অনিয়ম তদন্ত করা
  4. আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা
সঠিক উত্তর:
নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা
ব্যাখ্যা
- ন্যায়পাল একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ এবং শাসন ব্যবস্থার মান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে।
- এটি সরকারি দপ্তর ও কর্মচারীদের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ এবং পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ন্যায়পাল:
- দেওয়ানী ও ফৌজদারী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে শান্তি স্থাপন ও জীবনমানের উন্নতিসাধনের কাজে রাষ্ট্র সর্বাধিক কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- রাষ্ট্রের এই মহান দায়িত্ব প্রধানতঃ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের দ্বারা নির্বাহ করা হয়।
- এ সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কর্মকর্তাগণের সঠিক মনোভাব ও কর্মকুশলতা এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ ও শাসন ব্যবস্থার ঈপ্সিত মান যাতে যথাযথভাবে নিশ্চিত হয় তা পরিবিক্ষণের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আছে।
- সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গ সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করছেন কি না তা পর্যালোচনাপূর্বক যথাবিহীত নির্দেশদানের ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানই ন্যায়পাল।
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৯.
"আইনের চোখে সব নাগরিক সমান।"- বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর ধারায় এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ধারা ০৭
  2. ধারা ২৭
  3. ধারা ৩৭
  4. ধারা ৪৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
→ বাংলাদেশের সংবিধানের 'তৃতীয় অধ্যায়' - এর "মৌলিক অধিকার" অংশের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
→ অনুচ্ছেদ - ২৭ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
→ সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
→ 27th article-All citizens are equal before the law and are entitled to equal protection of law.

• বাংলাদেশের সংবিধানের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:
অনুচ্ছেদ ⎯ ১৩: মালিকানার নীতি,
অনুচ্ছেদ ⎯ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
অনুচ্ছেদ - ১৯: সুযোগের সমতা
অনুচ্ছেদ - ২৮: ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য,
অনুচ্ছেদ ⎯ ২৯: সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা। 
অনুচ্ছেদ - ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
অনুচ্চেদ - ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৩০.
বাংলাদেশ সংবিধানে 'অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষমতা' দেওয়া হয়েছে-
  1. ৭৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৫১ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৯৩ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৭০ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
৯৩ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৩ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের,
- ৯৩ নং অনুচ্ছেদে 'অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষমতা' দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ৭৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ন্যায়পালের কথা,
- ৭০ নং অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া বা ফ্লোর ক্রসিংয়ের কথা,
- ৫১ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৩১.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' শব্দটি সংযোজন হয়?
  1. তৃতীয় সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. পঞ্চম সংশোধনী
  4. চতুর্থ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম সংশোধনী:
- পঞ্চম সংশোধনী আইন এই সংবিধান আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল।
 • পঞ্চম সংশোধনী আইনের  বিষয়াবলী: 
- (১) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন।
- (২) 'বাঙালি' শব্দটির পরিবর্তে 'বাংলাদেশী'
- (৩) ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিবর্তে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস
- (৪) 'সমাজতন্ত্র' মানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায় বিচার
- (৫) মন্ত্রিসভার সদস্যগণের চার-পঞ্চমাংশের সংসদ সদস্য হবার বিধান
- (৬) মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা রুজু করা
- (৭) সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন
- (৮) গণভোট ইত্যাদি সংযোজন, পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়।
- এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে সামরিক সরকার কর্তৃক যেসব বিধিবিধান প্রণয়ন ও
সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলো পঞ্চম সংশোধনী আইনে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ রাজনীতি, এসএসএল , উন্মুক্ত বিশ্বিবিদ্যালয়।

২,১৩২.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনার ৩য় ভাগে কোনটির উল্লেখ রয়েছে?
  1. মূলনীতি গ্রহণ
  2. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  3. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
সঠিক উত্তর:
শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৩৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'সংযুক্ত তহবিলের' কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৮১ নং
  2. ৯১ নং
  3. ৮৪ নং
  4. ৮৭ নং
সঠিক উত্তর:
৮৪ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৪ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৮৪ নং অনুচ্ছেদে সংযুক্ত তহবিলের কথা বলা আছে।

আইনবিভাবে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আর্থিক অনুচ্ছেদ:
৮১ নং অনুচ্ছেদে অর্থবিলের কথা উল্লেখ আছে।
৮৭ নং অনুচ্ছেদে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি বা বাজেটের কথা উল্লেখ আছে।
৯১ নং অনুচ্ছেদে সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরির কথা বলা আছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
২,১৩৪.
সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু কী ছিলো?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
  2. খ) রাষ্টপতি নির্বাচন
  3. গ) শপথ ও ঘোষণা
  4. ঘ) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্টপতি নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাষ্টপতি নির্বাচন
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে মোট ৪টি তফসিল ছিলো। পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আরো ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়। বর্তমানে সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল রয়েছে।

তফসিল সমূহ              বিবরণ
প্রথম তফসিল           - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
দ্বিতীয় তফসিল         -  রাষ্টপতি নির্বাচন
তৃতীয় তফসিল          -  শপথ ও ঘোষণা
চতুর্থ তফসিল           -  ক্রান্তিকাল ও অস্থায়ী বিধানমালা
পঞ্চম তফসিল         -   ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে
                                  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া
                                   ঐতিহাসিক ভাষণ।
ষষ্ঠ  তফসিল            - ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম
                                  প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক
                                  স্বাধীনতার ঘোষণা। 
সপ্তম তফসিল          -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
২,১৩৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কার বা কিসের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা কিংবা কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিতে পারিবে না?  
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. প্রধানমন্ত্রীর
  3. ন্যায়পালের
  4. সংসদের
সঠিক উত্তর:
সংসদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদের
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।  
- এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে। 
- ৭টি তফসিল রয়েছে।

৬৩ নং অনুচ্ছেদ: যুদ্ধ; 
- (১) সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাইবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবেন না।  

♠ বাংলাদেশের সংবিধানে ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৬.
'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের কোন সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
২য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২য়
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় সংশোধনী:
- দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টম্বর।
- সংশোধনীটি গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
- সংশোধনীটি অনুমোদিত হয় ২২ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে।
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণার বিধান চালু করা হয়।
- এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ সমূহে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলী বিধৃত হয়েছে?
  1. ৫৬-৬৪ অনুচ্ছেদে 
  2. ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে 
  3. ৪৪-৪৭ অনুচ্ছেদে 
  4. ৬৪-৭০ অনুচ্ছেদে 
সঠিক উত্তর:
৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে 
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

উৎস:বাংলাদেশ সংবিধান।

২,১৩৮.
সংবিধানের কোন সংশোধনীতে 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল' গঠন করা হয়?
  1. ৩য় সংশোধনী
  2. ৪র্থ সংশোধনী
  3. ৫ম সংশোধনী
  4. ৬ষ্ঠ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
৫ম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৫ম সংশোধনীতে 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল' গঠন করা হয়।

পঞ্চম সংশোধনী:

- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সরাসরি সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন, সংশোধন বা বাতিল করা হয়নি।
- সামরিক শাসনামলে বিভিন্ন ফরমান ও আদেশবলে সংবিধানের যেসব পরিবর্তন করা হয়েছে, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সেগুলোর বৈধতা দেওয়া হয়।
- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান পঞ্চম সংশোধনী বিলটি উত্থাপন করেছিলেন।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি সামরিক ফরমান (ফার্স্ট মার্শাল ল প্রক্লেমেশন) জারি করা হয়েছিল। 
- বিচারক অপসারণের বিষয় নিষ্পত্তির ভার দিতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী:
- উত্থাপনকারী: এটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
- ৭২-এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে।
- তবে আপীল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করে অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরিয়ে নিয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে রাখা হয়েছিল।
- এরপর ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পর বিচারক অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়।
- ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে বিচারক অপসারণের বিষয় নিষ্পত্তির ভার দিতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী আদালত অবৈধ ঘোষণার পর সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনলেও তাতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
- এরপর ২০১৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়, যাতে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা ফিরে পায় সংসদ।

⇒ পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ালে প্রথমে হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।
- রায়ে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ উপ-অনুচ্ছেদ পুনবর্হাল করা হয়।
- ফলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরে এসেছে।
- এই কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।

⇒ ২০ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ করা যাবে।
- সংবিধানের এ-সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদ পুরোটাই পুনর্বহাল করেছেন আপিল বিভাগ।
- সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ থেকে ৮ পর্যন্ত বিধান ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যম বাতিল করা হয়েছিল, এগুলো পুনর্বহাল করেছেন আপিল বিভাগ।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
২,১৩৯.
কোনটি সাংবিধানিক দায়িত্ব?
  1. ক) আইন মান্য করা
  2. খ) নাগরিক দায়িত্ব পালন করা
  3. গ) শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক এবং সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
২,১৪০.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয় -
  1. বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন
  2. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
  4. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
সঠিক উত্তর:
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।  

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান:
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন,
- আইন বিভাগ,
- বিচার বিভাগ,
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন,
- নির্বাহী বিভাগ ইত্যাদি

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়:
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন,
- বাংলাদেশ ব্যাংক,  
- দুর্নীতি দমন কমিশন,
- শিক্ষা বোর্ড ইত্যাদি বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৪১.
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি মনোনীত হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা কত?
  1. ২৫ বছর
  2. ৩৫ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৪০ বছর
সঠিক উত্তর:
৩৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫ বছর
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৪৮: রাষ্ট্রপতি 
 (১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন। 

(২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন। 

(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।

(৪) কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
(ক) পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হইতে অপসারিত হইয়া থাকেন।

(৫) প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখিবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করিলে যে− কোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করিবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৪২.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনা কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৪৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী আনা হয় কত সালে?
  1. ১৯৮৭ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

অষ্টম সংশোধনী: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী আনা হয় ৭ জুন, ১৯৮৮ সাল।
- এ সংশোধনীর মৌলিক বিষয়গুলো হল:
- ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দান
- হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি বেঞ্চ যথাক্রমে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে স্থাপন করা
- বাংলাদেশের কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকে কোন উপাধি গ্রহণ করতে পারবে।
- রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka এবং বাংলা ভাষা ইংরেজি Bengali এর পরিবের্ত Bangla গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, 
- এ সংশোধনী হাইকোর্ট বিভাগীয় বেঞ্চ সম্পর্কে দু'জন নাগরিক রীট পিটিশন করেন।
- তারা দুজন হলেন আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও জালাল উদ্দিন। তাদের এ রীট পিটিশনের ফলে ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ রহিত করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাতিল হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশ রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএল , ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মূল বিষয় কী ছিল?
  1. বহুদলীয় ব্যবস্থা
  2. তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  3. বাকশাল প্রতিষ্ঠা
  4. সংসদে মহিলা আসন
সঠিক উত্তর:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে সন্নিবেশ করা হয়।
- ৫৮খ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধানটি সংযুক্ত করা হয়েছিল।
- তবে পরবর্তীতে হাইকোর্ট ২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সূত্র: আইন মন্ত্রণালয় এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
২,১৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় -
  1. এক-চতুর্থাংশ
  2. দুই-তৃতীয়াংশ
  3. এক-তৃতীয়াংশ
  4. এক-দশমাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-দশমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-দশমাংশ
ব্যাখ্যা
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী:
- প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।
- সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে ৯০ শতাংশ মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
- নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৪৬.
মৌলিক অধিকার ___________মাধ্যমে রক্ষিত হয়।
  1. সংবিধানের
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. প্রধানমন্ত্রীর
  4. বিচার বিভাগের
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানের মাধ্যমে রক্ষিত হয়।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।
- তাই সংবিধান মৌলিক অধিকারের রক্ষক।

এছাড়াও,
- মানবাধিকারের উৎস ও রক্ষক জাতিসংঘ।
- মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান এবং রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- মানবাধিকার একটি আন্তর্জাতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
২,১৪৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম ভাগের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. শাসন বিভাগ
  3. আইন সভা
  4. নির্বাহী বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আইন সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন সভা
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম ভাগে: আইনসভা।
- এর তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
- যথা: ১ম পরিচ্ছেদ: জাতীয় সংসদ।
- ২য় পরিচ্ছেদ: আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান। 

২,১৪৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কততম সংশোধনীতে 'বাংলার ইংরেজি বানান Bengali থেকে Bangla' করা হয়?  
  1. ষষ্ঠ
  2. সপ্তম
  3. অষ্টম
  4. নবম 
সঠিক উত্তর:
অষ্টম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে। 
- এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে। ৭টি তফসিল রয়েছে।
- সংবিধান সংশোধন হয়েছে মোট ১৭ বার।

♣ ষষ্ঠ সংশোধনী :
- ষষ্ঠ সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান [ষষ্ঠ সংশোধন] আইন, ১৯৮১।
- বিলটি সংসদে পাশ হয় ৮ জুলাই, ১৯৮১।
- বিষয়বস্তু ছিল উপ-রাষ্ট্রপতির পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিত করা।

♣ সপ্তম সংশোধনী : 
- সপ্তম সংশোধনীর শিরোনাম হচ্ছে সংবিধান [সপ্তম সংশোধন] আইন, ১৯৮৬।
- বিলটি সংসদে পাশ হয় ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬।
- বিষয়বস্তু ২৪ মার্চ, ১৯৮২ থেকে ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬ পর্যন্ত সামরিক শাসকের অধীনে যে সকল আদেশ জারি হয় তা বৈধতা দান।

♣ অষ্টম সংশোধনী : 
- অষ্টম সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান [ আষ্টম সংশোধন] আইন, ১৯৮৮।
- বিলটি সংসদে পাশ হয় ৭ জুন, ১৯৮৮।
- অষ্টম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা। 
- এ ছাড়া ঢাকার ইংরেজি বানান Dacca থেকে Dhaka এবং Bengali এর নাম Bangla করা হয়। 


♣ নবম সংশোধনী : 
- নবম সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান [ নবম সংশোধন] আইন, ১৯৮৯। 
- এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ এক ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ পরপর দুই মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়।
- এছাড়াও প্রয়োজন হলে জাতীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিধান করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, দ্বিতীয় পত্ৰ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৯.
শেখ মুজিবুর রহমান কখন ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ‘ জারি করেন?
  1. ক) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. খ) ১৪ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. গ) ২২ মার্চ, ১৯৭২
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন।
- ২৩শে মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
- ১১ই এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান রচনা কমিটি গঠন করা হয়।

- এই কমিটি ১৭ই এপ্রিল তাদের প্রথম বৈঠকে বসে এবং ১২ই অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।



তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান , আরিফ খান।
২,১৫০.
সংবিধানকে ত্রুটিমুক্ত করার উদ্দশ্যেে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কোন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞের পরার্মশ গ্রহণ করেন?
  1. ক) জন ফেডরিক
  2. খ) টমাস হেনরি
  3. গ) এন্ডো ফিলিপ
  4. ঘ) জন গাথরিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) জন গাথরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জন গাথরিক
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ভাষাগত ভুল দূর করের জন্য চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান আনিসুজ্জামান (কমিটির প্রধান), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আলী আহসান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড মাযহারুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

- তাছাড়া সংবিধানকে ত্রুটিমুক্ত করার উদ্দশ্যেে কমিটি একজন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ (জন গাথরিক) পরার্মশ গ্রহণ করেন।
- সংবধিানটি র্পূণাঙ্গ ও উত্তম করার উদ্দশ্যেে কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন ভারত ও ইংল্যান্ড সফর করে সেখানকার পার্লামেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান।
২,১৫১.
বাংলাদেশের সংবিধানের হস্তলিপির কাজ করেছেন কে?
  1. হাশেম খান
  2. আবদুর রউফ
  3. শাহ আবু শফি
  4. হামিদা বানু
সঠিক উত্তর:
আবদুর রউফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রউফ
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- বাংলাদেশের সংবিধানের হস্তলিপির কাজ করেছেন আবদুর রউফ।
- হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া - ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ - ১০৯ পৃষ্ঠা।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,১৫২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংগঠনের স্বাধীনতার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৮
  2. অনুচ্ছেদ ৩৯
  3. অনুচ্ছেদ ৪০
  4. অনুচ্ছেদ ৪১
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৩৮
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৩১ - আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৩২ - জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৩ - গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ - জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৬ - চলাফেরার স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৫৩.
নিচের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৩তম সংশোধনী
  2. ১৫তম সংশোধনী
  3. ১৬তম সংশোধনী
  4. ১৭তম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
১৫তম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

পঞ্চদশ (১৫তম) সংশোধনী এর বিষয়বস্তু:
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল;
• দলীয় সরকারের অধীন মেয়াদ শেষ হবার আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান;
• সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা;
• ৪৭ এর ৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য "অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তিসমষ্টি বা সংগঠন" এর বিচার করার বিধান সংযুক্ত করা;
• জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনধিক ১২০ দিন করা হয়;
• সংবিধানে নতুন তিনটি তফসিল যুক্ত করা হয়- যথা পঞ্চম, ষষ্ঠ, ও সপ্তম।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
- বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিলো সেটিকে আংশিক বাতিল করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
- এই সংশোধনীতে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।
- আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।

উল্লেখ্য,
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- ১৭তম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল নারীদের জন্যে সংরক্ষিত ৫০টি আসন আরও ২৫ বছরের জন্যে সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র - ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
২,১৫৪.
ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ১২ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ২২ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
১২ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা কথা বলা আছে সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে।
এত বলা হয়েছে, 
- ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য
 (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
 (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
 (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
 (ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তার উপর নিপীড়ন, বিলোপ করা হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৫৫.
রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ বাক্য পাঠ করান?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
স্পিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পিকার
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতিকে স্পিকার শপথ বাক্য পাঠ করান।

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:

• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান: প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।

• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য করান: আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান: রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২,১৫৬.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে 'জাতির পিতার' স্বীকৃতি প্রদান করা হয়?
  1. ক) সপ্তদশ সংশোধনী
  2. খ) ষোড়শ সংশোধনী
  3. গ) সপ্তম সংশোধনী
  4. ঘ) পঞ্চদশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) পঞ্চদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
- পঞ্চদশ সংশোধনী আইন:- সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন। 
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 
- এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ৮,৯,১০,১২ অনুচ্ছেদ পুণর্বহাল করায় বাহাত্তরের মূল সংবিধানের চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। 
- অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। 
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। 
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। 
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্টীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৫৭.
মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ এর কথা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৯
  2. অনুচ্ছেদ ৪৩
  3. অনুচ্ছেদ ৪৪
  4. অনুচ্ছেদ ৪৫
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৪৪
ব্যাখ্যা
•অনুচ্ছেদ
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্- - স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান। 
২,১৫৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সুপ্রীম কোর্ট' প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৯৪
  2. ৯৫
  3. ৯৬
  4. ৯৭
সঠিক উত্তর:
৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৪
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৯৪: সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
-  (১) "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকিবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হইবে।
- (২) প্রধান বিচারপতি (যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হইবেন) এবং প্রত্যেক বিভাগে আসনগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হইবে।
- (৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করিবেন।
- (৪) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ৯৫: বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬: বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭: অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

২,১৫৯.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে কত তারিখে?
  1. ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল
  2. ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল
  3. ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
  4. ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কিত ইতিহাস:
- ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য বেগম রাজিয়া বানু।
- ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া পাঠ করা হয়।
- সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্যকর হয়। 
- এতে ১১টি ভাগ রয়েছে।
- ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৬০.
অনুপার্জিত আয় সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা আছে?
  1. ১৭ নং
  2. ১৯ নং
  3. ২০ নং
  4. ২৩ নং
সঠিক উত্তর:
২০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ২০ নং অনুচ্ছেদ ’অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম’ সংবলিত।

২০(১)- অনুসারে, কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং "প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

২০(২) অনুসারে, রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷।

অন্যদিকে,
১৯৷ সুযোগের সমতা।
১৭৷ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
২৩৷ জাতীয় সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৬১.
পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে-
  1. ক) মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা। 
  3. গ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
  4. ঘ) ক্রান্তিকাল ও অস্থায়ী বিধানমালা।
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে মোট ৪টি তফসিল ছিলো। পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আরো ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়। বর্তমানে সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল রয়েছে।

তফসিল সমূহ              বিবরণ
প্রথম তফসিল           - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
দ্বিতীয় তফসিল         -  রাষ্টপতি নির্বাচন
তৃতীয় তফসিল          -  শপথ ও ঘোষণা
চতুর্থ তফসিল           -  ক্রান্তিকাল ও অস্থায়ী বিধানমালা
পঞ্চম তফসিল         -   ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে
                                  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া
                                   ঐতিহাসিক ভাষণ।
ষষ্ঠ  তফসিল            - ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম
                                  প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক
                                  স্বাধীনতার ঘোষণা। 
সপ্তম তফসিল          -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
২,১৬২.
বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের মূলনীতি:
- আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হবে।
- সংবিধানের মূলনীতি ৪ টি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

উল্লেখ্য,
- ভারত এবং  আয়ারল্যান্ডের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

  উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৩.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৪(৩)
  2. ৪(২)
  3. ৪(১)
  4. ৪(ক)
সঠিক উত্তর:
৪(ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪(ক)
ব্যাখ্যা
•সংবিধান:
-  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। 

অন্যদিকে,
৪৷ (১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷
৪। (২) (২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত৷
৪। (৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা৷

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৬৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত ধারায় শিক্ষার জন্য সাংবিধানিক অঙ্গীকার ব্যক্ত আছে?
  1. ১১ নং ধারায়
  2. ১৬ নং ধারায়
  3. ১৭ নং ধারায়
  4. ২২ নং ধারায়
সঠিক উত্তর:
১৭ নং ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ নং ধারায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: ১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
⇒ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে।
- ১৭ (ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;
- ১৭ (খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
- ১৭(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- ১১ নং অনুচ্ছেদ: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার,
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- ২২ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
২,১৬৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৪৮ (২) নং
  2. ৪৭ (৩) নং
  3. ৪৮ (১) নং
  4. ৭২(১) নং
সঠিক উত্তর:
৪৭ (৩) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৭ (৩) নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ৪৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সাথে অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী হিসেবে গণ্য হবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হয়েছে বলে গণ্য হবে না ।

অন্যদিকে -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৬৬.
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারী করেন-
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারী করেন। এটি ছিলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সংবিধান রচনার জন্যে ড. কালাম হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়।
১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করা হয় এবং এর উপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সংবিধান গৃহিত এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ তা কার্যকর হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

২,১৬৭.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমার কথা বলা আছে?
  1. ১২০ নং
  2. ১২১ নং
  3. ১২২ নং
  4. ১২৩ নং
সঠিক উত্তর:
১২৩ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৩ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
⇒ সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১২৩ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ১২৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়:

- ১২৩ (১) রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যে সংসদের দ্বারা তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সেই সংসদের মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির কার্যকাল শেষ হইলে সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, এবং অনুরূপ সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- ১২৩ (২) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার পর নব্বই দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- ১২৩ (৩) সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
(ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং
(খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করবে না।

- ১২৩ (৪) সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দূর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তা হলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৬৮.
বাংলাদেশের কোন গণভোটটি সাংবিধানিক গণভোট হিসাবে পরিগণিত?
  1. প্রথম গণভোট
  2. দ্বিতীয় গণভোট
  3. তৃতীয় গণভোট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় গণভোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় গণভোট
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• বাংলাদেশে গণভোট:
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। 
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

তথ্যসূত্র: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো পত্রিকা 

২,১৬৯.
একটানা কত বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকলে সদস্যদের আসন শূন্য হবে (অনুমতি ছাড়া)?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৮০ দিন
  4. ৯০ দিন
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
ব্যাখ্যা

• সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবধানের অনুচ্ছেদ:
৬৭(১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি-

(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:

 তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;

(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

 (২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৭০.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৪৫-এ উন্নীত করা হয়?
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
চতুর্দশ সংশোধনী:
- ২০০৪ সালের ১৬ মে এ সংশোধনী আনা হয়।
- এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫ করা হয়।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়।
- এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং সরকারি ও আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বা ছবি প্রদর্শনের বিধান করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
২,১৭১.
'শপথ ও ঘোষণা' সংবিধানের কততম তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
ব্যাখ্যা

• 'শপথ ও ঘোষণা' সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- বাংলাদেশ সংবিধানে সাতটি তফসিল রয়েছে।
- প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল - শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল - ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল - স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

২,১৭২.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়ক কে?
  1. ক) স্পীকার
  2. খ) প্রধান বিচারপ্রতি
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের এগারোটি ভাগ, সাতটি তফসিল, চারটি সিডিউলে বিন্যস্ত মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- ভাগগুলো হচ্ছে: প্রজাতন্ত্র, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার, নির্বাহী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা, আইনসভা, আইন প্রণয়ন ও আর্থিক পদ্ধতি, অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশের কর্মবিভাগ, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, জরুরি বিধানাবলি, সংবিধান সংশোধন
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ হলো নির্বাহী বিভাগ।
- এই সংবিধানের অনুচ্ছেদ (৬১) অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হবে এবং আইনের দ্বারা তাঁর প্রয়োগ নিয়ন্ত্রিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
২,১৭৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোন সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তন করা হয়?
  1. ষোড়শ সংশোধনী
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ সংশোধনী: 
- শিরোনাম: সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬
- পাস হয়: ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ।
- বিষয়বস্তু: একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- সংবিধানে ৫৮(ক), ৫৮(খ), ৫৮(কগ), ৫৮(ঘ), ৫৮(ঙ), এই ৫টি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়।
-  জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা হয়। 
- গত ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও পত্রিকা।

২,১৭৪.
সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদে নিচের কোনটি বলা হয়েছে?
  1. রাষ্ট্রধর্ম
  2. রাষ্ট্রভাষা
  3. রাজধানী
  4. নাগরিকত্ব
সঠিক উত্তর:
রাজধানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজধানী
ব্যাখ্যা
- ৫(১): প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 
- (২) রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে৷

• সংবিধানে প্রথম ভাগ:

১। প্রজাতন্ত্র;
২। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;
২ক। রাষ্ট্রধর্ম;
৩। রাষ্ট্রভাষা;
৪। জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক;
৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি;
৫। রাজধানী;
৬। নাগরিকত্ব;
৭। সংবিধানের প্রাধান্য;
৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ;
৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
২,১৭৫.
’বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হবে’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদে-৬(১)
  2. অনুচ্ছেদে-৭(১)
  3. অনুচ্ছেদে-৬(২)
  4. অনুচ্ছেদে-৭(২)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে-৬(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদে-৬(২)
ব্যাখ্যা

নাগরিকত্ব:
- ৬(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
 - ৬(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হবেন।

অন্যদিকে,
- ৭(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে৷ 
 - ৭(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে৷

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,১৭৬.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম কী?
  1. Republic of Bangladesh
  2. Democratic Bangladesh
  3. The People‌‌‍’s Republic of Bangladesh
  4. The people’s of Bangladesh
সঠিক উত্তর:
The People‌‌‍’s Republic of Bangladesh
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The People‌‌‍’s Republic of Bangladesh
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের নাম- The Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh.

⇒ সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান রচনার লক্ষ্যে ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে ৪০৩ জন সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এদের মধ্য থেকে ৩৪ জন সদস্য নিয়ে একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৭২ সালে ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পাঠের পর ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান বলবৎ করা হয়।
- উল্লেখ্য, সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

⇒ সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি। সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,১৭৭.
'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সংক্রান্ত বিধান কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪৬ক
  2. অনুচ্ছেদ ১৪৫ক
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৩ক
  4. অনুচ্ছেদ ১৪২ক
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪৫ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৪৫ক
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪৫ক : আন্তর্জাতিক চুক্তি
বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।

অন্যদিকে: 
অনুচ্ছেদ ১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা।
অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।

সূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৭৮.
হস্তলিখিত সংবিধানে কতজন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে?
  1. ৩৭৮ জন
  2. ৩৮৪ জন
  3. ৩৯৯ জন
  4. ৪০৭ জন
সঠিক উত্তর:
৩৯৯ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৯৯ জন
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। 
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

২,১৭৯.
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিষয়?
  1. ২৭নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৫নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৯নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৬নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
২৫নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ – আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন: 
- বাংলাদেশের রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনায় জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে।
- রাষ্ট্র এই নীতিগুলোর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ পরিহার ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য প্রচেষ্টা চালাবে; প্রত্যেক জাতির নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণের স্বাধীন অধিকারকে সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ ও বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানাবে।

অন্যদেকে: 
- ২৭নং অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা,
- ২৯নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ২৬নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল। 

সূত্রে: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৮০.
সংবিধানের ৯৪নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
  2. সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
  3. বিচারক-নিয়োগ
  4. বিচারকদের পদের মেয়াদ
সঠিক উত্তর:
সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৮১.
মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের সর্বাধিক কত সংখ্যক সদস্য সাংসদ নয় ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত করতে পারে?
  1. এক-দশমাংশ
  2. দুই-তৃতীয়াংশ
  3. নয়-দশমাংশ
  4. এক-তৃতীয়াংশ
সঠিক উত্তর:
এক-দশমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-দশমাংশ
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৫৬ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে থাকেন।
- মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে নয়-দশমাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে এবং অনধিক এক-দশমাংশ সদস্য নির্বাচিত সাংসদ নয় কিন্তু সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য এরূপ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবে।
- মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান)
২,১৮২.
বাংলাদেশে “বিশেষ ক্ষমতা আইন” কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে 
  3. ১৯৭৩ সালে 
  4. ১৯৭৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে 
ব্যাখ্যা

• বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪।
- ১৯৭৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু কার্যকলাপ প্রতিহত করা এবং কিছু গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। 
- আইনটি নিরাপত্তা আইন ১৯৫২, জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ এবং বাংলাদেশ তফসিলী অপরাধ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫০) এর ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয়।
- ১৯৯১ সালের সংশোধনীতে আইনটির ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা রদ করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২,১৮৩.
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা’ কোন অনুচ্ছেদে আলোচিত হয়েছে?
  1. ক) ৯০
  2. খ) ৯১
  3. গ) ৯২
  4. ঘ) ৯৩
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৩
ব্যাখ্যা

পঞ্চম ভাগ - আইনসভা
৩য় পরিচ্ছেদ - অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা

৯৩। (১)
[সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত] কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,
(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(খ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।
(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।
(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থা কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।
(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।

২,১৮৪.
এ পর্যন্ত মোট কয়টি সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়েছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ২টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী আনা হয়
• এর মধ্যে চারটি সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়েছে। এগুলো হলো:-
১। পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) : বাতিল (আগস্ট ২০০৫)
২। সপ্তম সংশোধনী (১৯৮৬) : বাতিল (আগস্ট ২০১০)
৩। ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬) : বাতিল (২০১১)
৪। ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) : বাতিল (২০১৭)।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৮৫.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান?
  1. বাংলাদেশ বেতার
  2. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
  3. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
  4. জাতীয় সংসদ
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত তাদেরকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- জাতীয় সংসদ
- সুপ্রিমকোর্ট
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হলো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
(তথ্যসূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী এবং বাংলাদেশ সংবিধান)
২,১৮৬.
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় স্পিকার কে ছিলেন?
  1. ক) মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
  2. খ) শাহ আবদুল হামিদ
  3. গ) মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. ঘ) মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ উল্লাহ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর দুপুর বেলায় বাংলাদেশ সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়
- তখন গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ এবং
- ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
- ১৪ ডিসেম্বর স্পিকার হিসেবে মোহাম্মদ উল্লাহ গৃহীত সংবিধান প্রমাণীকৃত করেন।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যগণ এতে স্বাক্ষর করেন।
- প্রথমে বঙ্গবন্ধু এবং এরপর সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন।
- উল্লেখ্য, গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের স্পীকার ছিলেন - শাহ আবদুল হামিদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)

২,১৮৭.
সংবিধান অনুসারে জরুরি অবস্থার মেয়াদ অনধিক কতদিন পর্যন্ত হতে পারে?
  1. ক) ৯০ দিন
  2. খ) ১২০ দিন
  3. গ) ১৮০ দিন
  4. ঘ) ৩৬৫ দিন
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ১৪১ক(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
২,১৮৮.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে কত দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১২৩ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়-
১) রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- তবে শর্ত থাকে যে, যে সংসদের দ্বারা তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সেই সংসদের মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির কার্যকাল শেষ হইলে সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, এবং অনুরূপ সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

(২) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার পর নব্বই দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৩) সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
(ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং
(খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাণবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।
- তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করবে না।

(৪) সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দূর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তা হলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,১৮৯.
কোনো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি কোন অনুচ্ছেদ বলে আদালতে রিট আবেদন করতে পারে?
  1. ক) ৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৭ক নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৭খ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ১০২ নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০২ নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০২ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

- মৌলিক অধিকার সমূহ বলবৎ করার জন্য কোনো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ১০২ নং অনুচ্ছেদ বলে আদালতে রিট আবেদন করতে পারেন। 
- ৭ নং অনুচ্ছেদ : সংবিধানের প্রাধান্য
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ : সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ। 
- ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান - আরিফ খান

২,১৯০.
আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে কবে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান [ত্রয়োদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯৬।
- সংসদে বিলটি পাশ হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১১।
২,১৯১.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন তিনটি তফসিল সন্নিবেশিত হয়?
  1. ১৪তম সংশোধনী
  2. ১৫তম সংশোধনী
  3. ১৬তম সংশোধনী
  4. ১৭তম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
১৫তম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ দ্বারা সংবিধানের শেষে তিনটি নতুন তফসিল সন্নিবেশিত করা হয় যা হলো-

→ ৫ম তফসিল- শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ,
→ ৬ষ্ঠ তফসিল- ২৫ মার্চ ১৯৭১ মধ্যরাতে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, এবং
→ ৭ম তফসিল- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা।
-------------------

• পঞ্চদশ সংশোধনী:
- বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত সংশোধনী এটি।
- ৩ জুলাই ২০১১ সালে এই সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়।
- এর মাধ্যমে বাহাত্তরের মূল সংবিধানের অনেক বিধান, যেগুলো সামরিক সরকার দ্বারা বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বহাল করা হয়।
- যেমন প্রথম সামরিক সরকারের আমলে বিলুপ্ত ঘোষিত ৯ নম্বর ও ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ এই সংশোধনীর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়।
- তবে সমালোচনা রয়েছে যে, সামরিক সরকারগুলো কর্তৃক আনীত কিছু বিধান রেখে দিয়ে বাহাত্তরের সংবিধানের মূল চেতনাকে বিকৃত করা হয়েছে।

- সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করায় বাহাত্তরের মূল সংবিধানের চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।
- সংবিধানে ৭ক নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, রহিতকরণ ইত্যাদিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে।
- ৭খ নামে আরেকটি নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করে ঘোষণা করা হয়েছে যে সংবিধানের মৌলিক কিছু বিধান কোনোদিনও সংশোধন করা যাবে না।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের পূর্বের ৪টি তফসিলের সঙ্গে আরো ৩টি নতুন তফসিল যুক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।
- এর মধ্যে দ্বিতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যা ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ৩০ নং ধারা বলে বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে চারটি তফসিল ছিলো।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
২,১৯২.
দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিধান প্রথম সন্নিবেশিত হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসন
  2. জরুরি অবস্থা ঘোষণা
  3. নির্বাচন কমিশন গঠন
  4. মৌলিক অধিকার স্থগিত
সঠিক উত্তর:
জরুরি অবস্থা ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় সংশোধনী:
- দ্বিতীয় সংশোধনীটি উত্থাপিত হয় ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টম্বর।
- সংশোধনীটি গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
- সংশোধনীটি অনুমোদিত হয় ২২ সেপ্টম্বর ১৯৭৩ সালে।
- 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণার বিধান চালু করা হয়।
- এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো কোন ভাগে রয়েছে?
  1. প্রথম ভাগ
  2. দ্বিতীয় ভাগ
  3. চতুর্থ ভাগ
  4. তৃতীয় ভাগ
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় ভাগ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানে:
- মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিধানসমূহ তৃতীয় ভাগে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- এই ভাগের অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭(ক) পর্যন্ত মোট ২২টি অনুচ্ছেদ।
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
২,১৯৪.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৯৩ নং
  2. ১১৩ নং
  3. ১১৭নং
  4. ১১৮নং
সঠিক উত্তর:
১১৭নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কথা উল্লেখ আছে।

বিচারবিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে।
- যথা:
১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৯৫.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুসারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়?
  1. ক) ১৪১ ক
  2. খ) ১৪৪
  3. গ) ১৩২
  4. ঘ) ১৫৬
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪১ ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪১ ক
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৪১ক (১) অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
২,১৯৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জীববৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১৮ (ক)
  3. অনুচ্ছেদ ১৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৩
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮ (ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ১৮ (ক)
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ১৮ (ক): 
-  ″রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।″

- এই অনুচ্ছেদটি দ্বারা পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্দেশ করে।
- অর্থাৎ, বর্তমান প্রজন্মের মানুষরা যেমন পরিবেশ ব্যবহার করছে, সেইসাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুস্থ পরিবেশে বাঁচার সুযোগ রাষ্ট্রকে  নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৩: মালিকানার নীতি
- অনুচ্ছেদ ১৫: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,১৯৭.
বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. চতুর্থ সংশোধনী
  2. পঞ্চম সংশোধনী
  3. সপ্তম সংশোধনী
  4. ষষ্ঠ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী:
- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে পঞ্চম সংশোধনী আইন অনুমোদিত হয়।
- এই আইনের মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে পরিবর্তন আনা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সকল সামরিক বিধান, সংবিধান সংশোধন ও বিভিন্ন অধ্যাদেশকে বৈধতা প্রদান করা হয়।
- এই সংশোধনীর ফলে 'বাঙালি' জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে 'বাংলাদেশী' জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান

২,১৯৮.
নিচের কোন দুটি দেশের সংবিধান অলিখিত?
  1. England ও Spain
  2. England ও New Zealand
  3. Spain ও USA
  4. Saudi Arabia ও Spain
সঠিক উত্তর:
England ও New Zealand
উত্তর
সঠিক উত্তর:
England ও New Zealand
ব্যাখ্যা

অলিখিত সংবিধান :
- অলিখিত সংবিধান বলতে এমন সংবিধানকে বোঝায়, যার মৌলিক বিধানগুলো লিখিত কোনো একক দলিলে লিপিবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন প্রথা, রীতিনীতি, নজির এবং আইনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
- এর মানে এই নয় যে এতে কোনো লিখিত অংশ নেই; বরং এর মূল নীতিগুলি কোনো একটি নির্দিষ্ট দলিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। 
- যেমন, ইংল্যান্ডের ও নিউজিল্যান্ডের সংবিধান অলিখিত।

ইংল্যান্ডের সংবিধান :
- ইংল্যান্ডের সংবিধান একক লিখিত দলিলের আকারে নেই, বরং সাধারণ আইন, বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত, সংসদীয় আইন, প্রথা ও রীতিনীতির মিশ্রণের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
নিউজিল্যান্ডের সংবিধান :
-  নিউজিল্যান্ডের সংবিধানকেও অলিখিত বলা হয়, কারণ এটি কোনো একক লিখিত দলিলে সংকলিত নয়;
- বরং এটি বিভিন্ন লিখিত আইন, আদালতের নির্দেশ, সাধারণ আইন এবং রীতিনীতির সংমিশ্রণ।

অন্যদিকে, 
• স্পেনের সংবিধান ১৯৭৮ সালে লিখিতভাবে গৃহীত হয়েছিল এবং 
- গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়ে ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
- এটি ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
• সৌদি আরবে কোনো প্রচলিত লিখিত সংবিধান নেই;
- কিন্তু, ১৯৯২ সালে রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে "মৌলিক আইন" গৃহীত হয়, যা দেশের সংবিধান হিসেবে কাজ করে এবং যা কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তৈরি।

উৎস: 
পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৯৯.
কোরাম সংক্রান্ত বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৭১ নং
  2. ৭৩ নং
  3. ৭৫ নং
  4. ৭৬ নং
সঠিক উত্তর:
৭৫ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৫ নং
ব্যাখ্যা

• কোরাম:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- জাতীয় সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সময়ে উপস্থিত সংসদ সংখ্যা ৬০ জনের কম বলে যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় তাহলে তিনি অনূন্য ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখবেন কিংবা মুলতবি করবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

২,২০০.
সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন কে?
  1. ক) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. খ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  3. গ) লতিফুর রহমান
  4. ঘ) ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হয়। এতে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ প্রথম সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তবে ১৯৯০ সালে গঠিত দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি একই সাথে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এটি সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত ছিলো না। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। (সূত্রঃ আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)