বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮৬ / ২১১ · ৮,৫০১৮,৬০০ / ২১,১৩২

৮,৫০১.
“একটি কালো মেয়ের কথা” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. মাহমুদুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' :
-'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে : '... এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ’একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাস ।
৮,৫০২.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মাটির দেয়াল
  2. খ) কবিতাবলী
  3. গ) খসড়া
  4. ঘ) উপহার
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ
- অমরাবতী 
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বংলাপিডিয়া।
৮,৫০৩.
লোকসাহিত্যকে প্রধানত কতটি শাখায় ভাগ করা যায়?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. আটটি
সঠিক উত্তর:
আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটটি
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- এটি মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা।
- এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

• লোকসাহিত্যকে প্রধানত আটটি শাখায় ভাগ করা যায়। যথা- 
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- ছড়া,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা ও
- প্রবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৫০৪.
নিম্নের কোনটি নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ীকাব্যের অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. ক) রৈবতক
  2. খ) অবকাশরঞ্জনী
  3. গ) প্রভাস
  4. ঘ) কুরুক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
খ) অবকাশরঞ্জনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অবকাশরঞ্জনী
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেনের(১৮৪৭-১৯০৯) ত্রয়ীকাব্য - 
- রৈবতক (১৮৮৭)
- কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩)
- প্রভাস (১৮৯৬)

- এই তিনটি কাব্যের কাহিনি একই সুতোয় বাঁধা। 
- এই তিন কাব্যের নায়ক ই শ্রীকৃষ্ণ।
- রৈবতক- এ কৃষ্ণের আদি, কুরুক্ষেত্র-এ তাঁর মধ্য, প্রভাস-এ কৃষ্ণের আন্তর্লীলা বর্ণিত হয়েছে। 
- এই কাব্য ত্রয় মহাকাব্যের বৈশিষ্ট্যযুক্ত। 

উল্লেখ, অবকাশরঞ্জনী নবীনচন্দ্র সেনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫০৫.
দীনেশচন্দ্র সেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. হবিগঞ্জ  
  2. কিশোরগঞ্জ  
  3. রংপুর 
  4. মানিকগঞ্জ 
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ 
ব্যাখ্যা

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৮,৫০৬.
'সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয় কোনটি?
  1. সিন্দবাদ
  2. হাবেদা মরুরকাহিনী
  3. পাঞ্জেরি
  4. দরিয়ার শেষ রাত্রি
সঠিক উত্তর:
হাবেদা মরুরকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাবেদা মরুরকাহিনী
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

এই কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- সিন্দবাদ, পাঞ্জেরি, তুফান, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
হাবেদা মরুরকাহিনী- ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয়।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫০৭.
'উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থটি কোন কবি রচনা করেছেন?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আল মাহমুদ
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।

- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ২৩টি কবিতা রয়েছে।
- কবিতাগুলোতে আছে স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ে দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তাঁর ডাক নাম বাচ্চু।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
-  প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থটি একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাট্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

• 'যুগবাণী':

- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫০৯.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন-
  1. জয়দেব 
  2. বিদ্যপতি 
  3. চণ্ডীদাস 
  4. কানাহরি দত্ত 
সঠিক উত্তর:
বিদ্যপতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যপতি 
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫১০.
"প্রভাতচিন্তা" কার রচিত গ্রন্থ?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. শিবনাথ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা

'প্রভাত চিন্তা' নামক গ্রন্থটি লিখেছেন কালীপ্রসন্ন ঘোষ। এটি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ গদ্য রচনা, যা ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।  

---------------------
• কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।
- এ ছাড়া সঙ্গীতমঞ্জরী (১৮৭২) নামে একখানা আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং কোমল কবিতা (১৮৮৮) নামে একখানা শিশুপাঠ্য গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭),
- নিভূত-চিন্তা (১৮৮৩),
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও
- নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ভ্রাস্তিবিনোদ (১৮৮১),
- প্রমোদলহরী (১৮৯৫),
- ভক্তির জয় (১৮৯৫),
- মা না মহাশক্তি (১৯০৫),
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা (১৯০৫),
- ছায়াদর্শন (১৯০৫) প্রভৃতি

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৮,৫১১.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২৩ সালে 
  2. ১৮৩৩ সালে
  3. ১৮৪২ সালে
  4. ১৮৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা

গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৫১২.
মাইকেল মদুসূদন দত্তের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৫৯ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৫১৩.
বেগম রোকেয়া রচিত রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) সওগাত
  2. খ) রূপজালাল
  3. গ) পিপাসা
  4. ঘ) Sultana’s Dream
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
ব্যাখ্যা
গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস 'রূপজালাল' গ্রন্থটি নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকীর্তি। 

নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়। 

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর 
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫১৪.
'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. দীনেশরঞ্জন দাশ
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫১৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্য সাহিত্যে কী প্রবর্তন করেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. পায়রাবৃত্ত ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ”তিলোত্তমাসম্ভব” কাব্য।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৫১৬.
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) মৌলিক মুখোশ
  2. খ) মানুষের মানচিত্র
  3. গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. ঘ) দূরে আছো দূরে
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫১৭.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য।

-----------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫১৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. জাভা যাত্রীর পত্র
  2. জাপান যাত্রী
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. রাশিয়ার চিঠি
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি:
• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১): 
- প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫১৯.
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য জহির রায়হান কোন পুরস্কার লাভ করেন?
  1. জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
  2. আদমজী পুরস্কার
  3. একুশে পদক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আদমজী পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদমজী পুরস্কার
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক। তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ 'সূর্যগ্রহণ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ইংরেজি পত্রিকা দ্য উইকলি এক্সপ্রেস প্রকাশের উদ্যোক্তাদের অন্যতম। এ ছাড়া তিনি কতিপয় সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫২০.
'কবর' নাটকটি প্রথম মঞ্চায়ন হয় কোথায়?
  1. ঢাকা থিয়েটারে
  2. বাংলা একাডেমীতে
  3. শহীদ মিনারে
  4. ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
ব্যাখ্যা

• কবর নাটক:
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি স্মরণীয় নাম।
- কারাগারের ভেতরে বসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই নাটকটি যেভাবে লেখা এবং মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
- 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
- রাতে কারাগারের বাতি নিভিয়ে দেয়া হলে লণ্ঠনের আলোয় সেই নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ঢাকা কারাগারে।
- তখন কারাগারে থাকা কমিউনিস্ট নেতা রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে ভাষা আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি ‘কবর’ নাটক লেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কারাবন্দী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মুনীর চৌধুরী লেখা শেষ করেছিলেন ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আর জেলখানায় অভিনীত হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি।
- পরবর্তীতে এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশে মঞ্চায়িত হওয়া অন্যতম জনপ্রিয় নাটকে পরিণত হয়েছে।

তাঁর রচিত আরও কয়েকটি নাটক- 
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দণ্ডকারণ্য
- রূপার কৌটা
- মুখরা রমণী বশীকরণ
- কেউ কিছু বলতে পারে না।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫২১.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) দেশে বিদেশে
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
খ) পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পালামৌ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'। 

- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম 
- লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন। 
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণ কাহিনি প্রকাশ হয়। 

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য- 
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫২২.
জসীমউদ্‌দীনের 'কবর' কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
  2. ধুমকেতু
  3. কল্লোল
  4. কালি ও কলম
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা
'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

----------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২৩.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'- পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অংশ?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গল কাব্য।
- এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি ছিলেন মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫২৪.
অনূদিত কাব্য ‘পদ্মাবতী’ - কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আলাওল
  3. আব্দুল হাকিম
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা- 'আলাওল'। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা, 
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি। 

⇒ ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২৫.
বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌
• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ সলীল,
- তীর্থ রেণু,
- ফুলের ফসল,
- মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৫২৬.
‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  5. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৮৮৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সাহিত্য (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর (১৯৩৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২৭.
সার্থক মঙ্গলকাব্যে অংশ নয় কোনটি?
  1. শ্রুতিফল
  2. মর্ত্যখণ্ড
  3. দেবখণ্ড
  4. ভারখণ্ড
সঠিক উত্তর:
ভারখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারখণ্ড
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে:
বন্দনা,
আত্নপরিচয়,
দেবখণ্ড,
মর্ত্যখণ্ড এবং
শ্রুতিফল

অন্যদিকে,
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ডের মধ্যে - ভারখণ্ড একটি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২৮.
‘ভ্রমণকারী বন্ধু’ কোন লেখকের ছদ্ম নাম?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অমীয় চক্রবর্তী
  3. গ) বন্ধুদেব বসু
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়  ‘লীলাময় রায় ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৫২৯.
‘আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
হুমায়ুন আজাদ রচিত আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে কবি মানুষের অমরত্বের সন্ধান করেছেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৫৩০.
’বিশ শতকের মেয়ে’ উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
ব্যাখ্যা

• ‘বিশ শতকের মেয়ে’ নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৩১.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম গ্রন্থ?
  1. চার অধ্যায়
  2. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  3. বিবিধ প্রসঙ্গ
  4. জাভা যাত্রার পথ
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয় ৷
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান।
- সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।
- তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
- এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।
- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৩।
৮,৫৩২.
‘অশনি সংকেত’ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘অশনি সংকেত’: 
- উপন্যাসের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষম ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৩৩.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) লালসালু
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) নয়নচারা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নয়নচারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নয়নচারা
ব্যাখ্যা
লালসালু, কাঁদো নদী কাঁদো ও চাঁদের অমাবস্যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস এবং নয়নচারা, দুই তীর, গল্পসমগ্র তাঁর রচিত ছোটগল্প।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৫৩৪.
জীবনভিত্তিক কাব্য 'চিত্তনামা' কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্মরণে রচিত?
  1. ক) ক্ষুদিরাম বসু
  2. খ) সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. ঘ) মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য, 
চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ) 

চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে (১৩৩২ বঙ্গাব্দে)
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালিন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থ বের করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৩৫.
'স্বদেশ ও সাহিত্য' - প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- স্বদেশ ও সাহিত্য

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা, 
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৩৬.
'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি-
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- তুলনাহীনা,
- শহর-ইয়ার।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৩৭.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস?
  1. কালান্তর
  2. শেষ লেখা
  3. মালঞ্চ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

 • 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - উপন্যাস।
- এটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
 কালান্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন
- 'শেষ লেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস:
- করুণা (অসমাপ্ত, ১৮৭৭), 
- বৌঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- গোরা, 
- ঘরে বাইরে, 
- চতুরঙ্গ, 
- যোগাযোগ, 
- শেষের কবিতা, 
- দুই বোন, 
- মালঞ্চ, 
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৩৮.
'আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি আজ অর্থের ওপরই পড়ে রয়েছে।' - উক্তিটি কার?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি আজ অর্থের ওপরই পড়ে রয়েছে।' - উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর
- উক্তিটি 'বই পড়া' প্রবন্ধের অন্তর্গত।
- 'বই পড়া' প্রবন্ধটি 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; প্রবন্ধ সংগ্রহ, প্রমথ চৌধুরী।
৮,৫৩৯.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা - আহমদ ছফা
 
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪০.
আবুল হাসান রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. এখানে এখন
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওরা কয়েকজন
  4. গণনায়ক
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের  মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য-  ওরা কয়েকজন। 

অন্যদিকে, 
সৈয়দ শামসুল হকের  কাব্যনাট্যসমূহ হচ্ছে-  পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬), গণনায়ক (১৯৭৬), এখানে এখন (১৯৮৮)। 

-------------------
• আবুল হাসান:

- আবুল হাসান ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া, আর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।

- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণীতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা শেষ না করেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তাবিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি গণবাংলা (১৯৭২-৭৩) এবং দৈনিক জনপদ-এ (১৯৭৩-৭৪) সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম হন।

---------------------
তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- যে তুমি হরণ করো (১৯৭৪) ও
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।

মৃত্যুর পর কাব্যনাট্য-
- ওরা কয়েকজন ও
- আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮,৫৪১.
বুদ্ধদেব বসু রচিত ‘কঙ্কাবতি’ কাব্যগ্রন্থের পটভুমি ছিলো-
  1. ক) প্রেম
  2. খ) যুদ্ধ
  3. গ) সামাজিক কুসংস্কার
  4. ঘ) দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেম
ব্যাখ্যা
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম। সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪২.
'কপোতক্ষ নদ' কোন জাতীয় কবিতা? 
  1. সনেট 
  2. গদ্য কবিতা 
  3. গীতি কবিতা 
  4. কাব্য নাট্য 
সঠিক উত্তর:
সনেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট 
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' সনেট জাতীয় রচনা। 

• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা,
- এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশ প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

কপোতাক্ষ নদ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৪৩.
সারদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজয় গুপ্ত
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ঘ) মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’।
- এটি ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪৪.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘dog Sanskrit’ বলেছেন কোনটিকে?
  1. ক) নিরঞ্জনের উষ্মা
  2. খ) সেক শুভোদয়া
  3. গ) শূন্যপুরান
  4. ঘ) প্রাকৃতপৈঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) সেক শুভোদয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
• 'সেক শুভোদয়া' অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রিত একটি গ্রন্থ।
- অনেকে একে হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- এর রচনা কাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫ টি অধ্যায় আছে।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এই সাহিত্য কর্মকে ‘dog sanskrit’ বলেছেন।
- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ‘কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছদ অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪৫.
’এই গাঁয়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালো কালো,
মাঝে সোনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাঁদের আলো।’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শামসুর রহমান
  3. মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

’এই গাঁয়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালো কালো, 
মাঝে সোনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাঁদের আলো।’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক জসীম উদ্‌দীন।
- পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীন রচিত রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রাখালী:

- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে:
- নক্সীকাঁথার মাঠ, 
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৪৬.
চন্দ্রাবতীর পিতা নাম কী?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪৭.
'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থটি কোন ছদ্মনামে পত্রিকায় ছাপা হতো?
  1. অকপটচন্দ্র ভাস্কর
  2. নবীনকিশোর শর্মণঃ
  3. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  4. লেখক ভূতনাথ বাবু
সঠিক উত্তর:
লেখক ভূতনাথ বাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখক ভূতনাথ বাবু
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
- আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর, 
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, 
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতী মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪৮.
“না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তোমার ইচ্ছা আমার মরণ।।”
- পঙক্তিটি কোন কাব্য থেকে সংগৃহীত?
  1. ক) ইউসুফ-জুলেখা
  2. খ) লায়লী মজনু
  3. গ) মধুমালতী
  4. ঘ) গুলে বকাওলী
সঠিক উত্তর:
ক) ইউসুফ-জুলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইউসুফ-জুলেখা
ব্যাখ্যা

ব্যাধি এ পীড়িত মাের বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।
এহেন নির্জন পুরী বিরল সম্ভোগ।
পরিহরি লজ্জা ভীতি কর উপভােগ।।
না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তােমার ইচ্ছা আমার মরণ।।

- ইউসুফ জুলেখা, শাহ মুহম্মদ সগীর।
(জোলেখার প্রেম নিবেদন অংশ থেকে)

৮,৫৪৯.
নিচের কোনটি মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য?
  1. উদ্বোধন
  2. স্পেন বিজয় কাব্য
  3. অনল প্রবাহ
  4. উচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস: রায়নন্দিনী, তারাবাঈ, ফিরোজা বেগম।
• প্রবন্ধ: স্বজাতি প্রেম, তুর্কি নারী জীবন, স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।
• কাব্যগ্রন্থ: অনল প্রবাহ, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।
• ভ্রমণকাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৫০.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।  

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' - গানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৫১.
'আমার স্বপ্ন হোক ফসলের সুষম বণ্টন' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. সমর সেন
  3. সুকুমার রায়
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
•'আমার স্বপ্ন হোক ফসলের সুষম বণ্টন' উক্তিটির রচয়িতা সমর সেন ।
• সমর সেন:

- সমর সেন নাগরিক কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- 'বাবু বৃত্তান্ত' সমর সেন রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ ।

অন্যদিকে,
- "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন" আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' কাব্যের চরণ।
- "ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো" রফিক আজাদ এর 'ভাত দে' কবিতার বিখ্যাত চরণ।
- "বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে" সুকুমার রায় এর 'জীবনের হিসাব' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৮,৫৫২.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি? 
  1. সাম্য
  2. দৃষ্টিকোণ
  3. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিকোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিকোণ
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন: 'দৃষ্টিকোণ'। 

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯১৯ সালে  ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও  অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।
 
আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি। 

অন্য অপশনে,
• 'সাম্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ কালান্তর।
• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৫৩.
'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের নায়িকার নাম কি?
  1. ক) মালা
  2. খ) যুগী
  3. গ) কপিলা
  4. ঘ) ময়না
সঠিক উত্তর:
গ) কপিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কপিলা
ব্যাখ্যা
যৌনাকাঙ্খার সঙ্গে উদরপূর্তি সমস্যা ভিত্তিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৩৬ সালে। উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ কুবের, কপিলা, মালা, হোসেন মিয়া, ধনঞ্জয়, শীতলবাবু। উপন্যাসে শীতল বাবুর স্ত্রীর নাম যুগী। মালা এ উপন্যাসের নায়ক চরত্র কুবেরের স্ত্রী। কপিলা এ উপন্যাসের নায়িকা, মালার বোন এবং শ্যামাদাসের স্ত্রী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৮,৫৫৪.
'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - এটি কার উক্তি?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেনের 'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধ থেকে 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৫৫.
কোন রচনাটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের অন্তর্গত?
  1. ক) রসুলনামা
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) কীচকবধ
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
ইউসুফ জোলেখা শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাব্য যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। এছাড়াও ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ পদ্মাবতী। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৫৫৬.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় -
  1. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে।

• আধুনিক যুগের সাহিত্য:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
- এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যানকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র-সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।
- আধুনিক যুগের সাহিত্যকীর্তির বিস্তৃতির কারণে এ যুগের সামগ্রিক সাহিত্যসৃষ্টির পরিচয় প্রদান প্রায় অসম্ভব।
- উপন্যাস, ছোটগল্প, রম্যরচনা এবং আধুনিক রীতির কবিতা ও নাটকের সম্ভারে আজ বাংলা সাহিত্য বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ভাণ্ডার।
- মহাকাব্যের ধারায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, উপন্যাসের ধারায় বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র থেকে হাল আমলের সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, কবিতায় নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ থেকে শামসুর রাহমান, জয় গোস্বামী, নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে বিজন ভট্টাচার্য, সেলিম আলদীন প্রমুখ অসংখ্য রচনাকারের নামই উল্লেখ করা যায়।
- সর্বযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দনাথও তো এই আধুনিক যুগেরই ফসল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৫৫৭.
পদসংখ্যার বিচারে চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. ডোম্বীপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কাহ্নপা।

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৫৫৮.
’আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে, অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
  1. উপহার
  2. অনন্ত প্রেম
  3. ব্যক্ত প্রেম
  4. শেষ উপহার
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
ব্যাখ্যা

•’আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে, অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ’অনন্ত প্রেম’ কবিতার অংশ।
- অনন্ত প্রেম কবিতাটি মানসী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-----------------------------------------
"মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে "রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন"।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, "নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।"

উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৫৯.
'ভারতী' পত্রিকা কে সম্পাদনা করতেন?
  1. নিরুপমা দেবী
  2. কামিনী রায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. মানকুমারী বসু
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন।

উল্লেখ্য,
- কিশোর পত্রিকা "বালক" [১৮৮৫] স্বর্ণকুমারী দেবীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৫৬০.
'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. লালসালু 
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। 
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?' উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।
এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষি পাঠ,
- গীতাঙ্কু,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
-ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত,
- এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা,
- বামাতোষিণী।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৬১.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. রশীদ করিম
  2. জহির রায়হান
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হাসান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হানের রচিত একটি উপন্যাস।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. কৃষ্ণচরিত্র
  2. কৃষ্ণপক্ষ
  3. বিবিধ সমালোচনা
  4. লোকরহস্য
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণপক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণপক্ষ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ নয় - কৃষ্ণপক্ষ
- এটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬৩.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম-
  1. রাকিবুল হাসান
  2. ইকবাল মজুমদার
  3. রায়হান ইকবাল
  4. জাহেদুল করিম
সঠিক উত্তর:
জাহেদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহেদুল করিম
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন :
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিম।

• মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস :
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর 
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী,

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৬৪.
'মায়া মালঞ্চ' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'মায়া-মালঞ্চ' নাটক:
- 'মায়া-মালঞ্চ' বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক।
- এটি লেখকের 'কালো হাওয়া' উপন্যাস অবলম্বনে তিন অঙ্কে সমাপ্ত নাটক।
- কবিতাভবন ২০২. রাসবিহারী এভিনিউ থেকে বুদ্ধদেব বসু কর্তৃক প্রকাশিত হয় মায়া-মালঞ্চ। 
- নাটকটি প্রথম প্রকশিন হয় (১৯ ফাল্গুন ১৩৫০) ৩ মার্চ ১৯৪৪ সালে। 

-------------
• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৬৫.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীমঙ্গল:
- ​'চণ্ডীমঙ্গল' চন্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের লিখিত কাব্য। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
-  চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো :
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৬৬.
কোনটি নাথ সাহিত্য?
  1. দস্যু কেনারামের পালা
  2. গোরক্ষ বিজয়
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. মলুয়া
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষ বিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষ বিজয়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬৭.
'শশী' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শহরতলী
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. পুতুল নাচের ইতিকথা
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

•'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।
- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৬৮.
'সুড়ঙ্গ' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
- 'সুড়ঙ্গ' হচ্ছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক।

• সুড়ঙ্গ (নাটক):
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এই নাটকে মানুষের চেতনার লোভ, লালসা, ঘৃণা ও ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন।
- নাটকে ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে।
- রাবেয়ার এমন মনোবৃত্তি বিয়ের জন্যে নয়। 
- রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তাঁর চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। এভাবে কাহিনি বিস্তার করে নাটকটিতে।
- মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ - রূপকটি এখানেই।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬৯.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. রফিক আজাদের 
  2. হাসান হাফিজুর রহমানের
  3. হুমায়ুন কবিরের 
  4. হাসান আজিজুল হকের 
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমানের
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র:
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়সীমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সারা বিশ্বে যা কিছু ঘটেছে তার তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহ এবং সেসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস রচনা ও মুদ্রণের দায়িত্ব অর্পিত হয় মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের ওপর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারী থেকে (পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য)।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশঙ্কা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে। আর সে প্রকল্পের ফসলই "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র"।

- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খণ্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গবেষক ও সম্পাদকবৃন্দের আক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই দলিলপত্র গ্রন্থমালা।

----------------
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধগুলো হলো:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু

উৎস: 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' গ্রন্থ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৭০.
নিচের কোনটি জসীম উদ্দীন রচিত গীতিনাট্য নয়?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পদ্মাপার
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) বালুচর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) এর প্রধান গীতিনাট্য
- মধুমালা
- পদ্মাপার 
- বেদের মেয়ে 
- পল্লীবধূ প্রভৃতি

- বালুচর (১৯৩০) কবি জসীমউদ্দীনের  একটি কাব্যগ্রন্থ।
– তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।
– কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 
– বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। 
– তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
– ’বোবা কাহিনী’ (১৯৬৪) উপন্যাসটি সুখপাঠ্য।
– ‘জারীগান’ (১৯৬৮) ও ‘মুর্শীদা গান’ (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ্য, ‘মধুমালা’ নামে একটি নাটক রচনা করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৫৭১.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল কোনটি?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
৮,৫৭২.
'প্রবোধ কুমার' কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম 'প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৭৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়-
  1. ক) ১৭৯৮ সালে
  2. খ) ১৮০০ সালে
  3. গ) ১৮০১ সালে
  4. ঘ) ১৮৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসের ৪ তারিখ।
১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এখানে যোগ দেন বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার অধ্যাপকরূপে।
উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পরিচালক ছিলেন।
তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বই ‘কথোপকথন’। এটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ২য় বই।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৮,৫৭৪.
'পাগলা দাশু' সুকুমার রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক
  2. গল্প সংকলন
  3. ছড়া
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্প সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প সংকলন
ব্যাখ্যা

• 'পাগলা দাশু' গল্প সংকলন:
- 'পাগলা দাশু' সুকুমার রায় রচিত একটি গল্পের সংকলন। 
- পাগলা দাশু হল সুকুমার রায় সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র। পাগলা দাশু (১৯৪০) বইতেই প্রধানত পাগলা দাশুর ছোটো ছোটো গল্পগুলি পাওয়া যায়।
- ২০১২ সালে পাগলা দাশু গল্পের একটি সংকলন পাগলা দাশু অ্যান্ড কো-এর ক্রেজি টেলস নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
-  সে স্কুলপড়ুয়া এবং তার পাগলামি ও খুব সূক্ষ্ম হাস্যকর ব্যঙ্গাত্মক কীর্তিগুলির জন্য বিখ্যাত। গল্পগুলি মূলত শিশুপাঠ্য গল্প। বাংলা সাহিত্যে এই চরিত্রটি বিশেষ জনপ্রিয়।

 'পাগলা দাশু' গল্প সংকলনের গল্পগুলো হলো- 
- পাগলা দাশু,
- দাশুর খ্যাপামি,
- চীনে পল্কা,
- দাশুর কীর্তি,
- চালিয়াত,
- সবজান্তা,
- ভোলানাথের সর্দারি,
- আশ্চর্য কবিতা,
- নন্দলালের মন্দকপাল,
- নতুন প-িত,
- সবজাত্মা দাদা,
- যতীনের জুতো,
- ডিটেক্টিভ্,
- ব্যোমকেশের মান্জা,
- জগ্যিদাসের মামা,
- আজব সাজা,
- কালাচাঁদের ছবি,
- গোপালের পড়া,
- পেটুক,
- ভুল গল্প। 

------------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পাগলা দাশু' গল্প সংকলন।

৮,৫৭৫.
'সৌরভের কাছে পরাজিত' কবি আল মাহমুদের কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ সংকলন 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস 
  4. গল্পগ্রন্থ 
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

• 'সৌরভের কাছে পরাজিত' কবি আল মাহমুদের একটি গল্পগ্রন্থ। 'সৌরভের কাছে পরাজিত' বইতে জীবনযুদ্ধ এবং আত্মপরিচয়ের গল্প রয়েছে।

-------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সৌরভের কাছে পরাজিত' গল্পগ্রন্থ।

৮,৫৭৬.
রবীন্দ্রনাথের 'মেঘদূত' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত?
  1. ক) কালান্তর
  2. খ) কড়িও কোমল
  3. গ) ক্ষণিক
  4. ঘ) মানসী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানসী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথের 'মেঘদূত' কবিতাটি 'মানসী' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত। 

 ‘মেঘদূত’ কবিতাটি শুরু হয়েছে এইভাবে- 
‘কবিবর, কবে কোন বিস্মৃত প্রদোষে, বরষে
কোন পুণ্য আষাঢ়ের প্রথম দিবসে
লিখেছিলে মেঘদূত।’

তাঁর রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু "মানসী" কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৭৭.
অন্ধকার যুগে বাংলা ভাষায় সাহিত্যসৃষ্টি হয়নি বলে ধরা হয় কেন?
  1. বিদেশি ভাষা প্রভাবিত হওয়ায়
  2. রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য
  3. লেখক ছিল না
  4. ছাপাখানা ছিল না
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।

- ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া।
- অবশ্য এগুলোর রচনাকাল নিয়ে মত-পার্থক্য আছে।) সেগুলো মূলত সংস্কৃত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগ বিভাগ হয়েছে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে।
- চর্যার কবিদের অস্তিত্ব দ্বাদশ শতাব্দীর (১২০০) পূর্ব পর্যন্ত ছিল বলে মনে করা হয়।
- তাই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন যুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৭৮.
'এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়গত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধরার চেষ্টা করেছেন।

অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৭৯.
কোনটি মঙ্গলকাব্য সাহিত্যের অংশ নয়?
  1. ক) সারদামঙ্গল
  2. খ) কালিকামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ক) সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত ‘সারদামঙ্গল’ মঙ্গলকাব্য নয়। এটি আধুনিক যুগের কাব্য। এছাড়া চৈতন্য-মঙ্গল ও গোবিন্দমঙ্গল বৈষ্ণব সাহিত্যের অংশ। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
৮,৫৮০.
একুশের প্রথম গানের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আ ন ম গাজীউল হক
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আলতাফ মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) আ ন ম গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আ ন ম গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'।
- এক জনপ্রিয় হিন্দি গান থেকে নেয়া হয়েছে এর সুর।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটি ছিল তখনকার দিনের রাজপথের গান।

একুশের প্রথম
- নাটক: কবর
- উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন
- কবিতা: কাঁদতে আসিনি ফাসির দাবি নিয়ে এসেছি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৫৮১.
'নামহীন গোত্রহীন' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. রশীদ হায়দার
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

হাসান আজিজুল হক:

- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক।
৮,৫৮২.
নিচের কোনটি জহির রায়হান রচিত উপন্যাস নয়?
  1. তৃষ্ণা
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. কয়েকটি মৃত্যু
  4. মাটি আর অশ্রু
সঠিক উত্তর:
মাটি আর অশ্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি আর অশ্রু
ব্যাখ্যা
• মাটি আর অশ্রু জহির রায়হান রচিত উপন্যাস নয়। 
- 'মাটি আর অশ্রু' উপন্যাসের রচয়িতা সিকান্দার আবু জাফর।

• জহির রায়হান: 

- তিনি ১৯শে আগস্ট ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
- জহির রায়হান ১৯৬১ সালে প্রথম ছবি হিসেবে ‘কখনো আসে নি’ পরিচালনা করেন।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। 
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ করেন।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
» তৃষ্ণা
» শেষ বিকেলের মেয়ে, 
» হাজার বছর ধরে, 
» আরেক ফাল্গুন
» বরফ গলা নদী, 
» আর কতদিন, 
» কয়েকটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৮৩.
‘ভাষাচার্য’ কার উপাধি?
  1. সরদার জয়েন উদ্দিন
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

 তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৮৪.
কার ছদ্মনাম 'পরশুরাম'?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রাজশেখর বসু
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা
• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম। 

রাজশেখর বসু: 
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা দার্শনিক পন্ডিত চন্দ্রশেখর বসু ছিলেন দ্বারভাঙ্গা রাজ এস্টেটের ম্যানেজার।
 - ১৯০৬ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা পরিষদে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
- তিনি ১৯৩৫ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত বাংলা বানান সংস্কার সমিতির সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৪৮ সালে সরকার গঠিত পরিভাষা সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- লেখক হিসেবে তিনি ‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- ১৯২২ সালে এ ছদ্মনামে তাঁর ‘শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’ ব্যঙ্গ রচনাটি প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর চলন্তিকা (১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একখানি জনপ্রিয় অভিধান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রম্য-রচনা গড্ডলিকা,
- কজ্জলী,
- হনুমানের স্বপ্ন,
- গল্পকল্প;
- গল্প কৃষ্ণকলি,
- আনন্দীবাঈ;
- প্রবন্ধ লঘুগুরু,
- ভারতের খনিজ,
- কুটিরশিল্প,
- বিচিন্তা;

অনুবাদ:
- মেঘদূত,
- বাল্মীকি রামায়ণ,
- মহাভারত,
- হিতোপদেশের গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৮৫.
'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
• আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডধর্মী ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• সাহিত্য রচনার প্রথম দিকে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। 

----------------
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ; নির্বাচিত কবিতা; কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড; পরাবাস্তব কবিতা; পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি; মাছ সিরিজ। 

• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ; চলো যাই পরোক্ষে; মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা। 

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী; অ-তে অজগর; গভীর গভীরতর অসুখ; ক্ষুধা প্রেম আগুন; শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি।

• নাটক/কাব্যনাটক:
চাকা (১৯৮৫), নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১), কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৮৬.
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ' - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. বনলতা সেন
  2. সাতটি তারার তিমির
  3. ঝরা পালক
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

• 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ' - পঙ্‌ক্তি জীবনানন্দ দাশের রচনা।  কবিতাটি "রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে,
সব চেয়ে সুন্দর করুণ- জীবনানন্দ দাশ

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ:
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল।

"রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'। 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। 
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু। 
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডু লিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৮৭.
'বিন্দুর ছেলে' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিন্দুর ছেলে':
- 'বিন্দুর ছেলে' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি গল্প। 
- একান্নবর্তী পরিবারের পারিবারিক সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, টানাপোড়নসহ নানা ঘটনা গল্পটিতে উঠে এসেছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
দুই বৈমাত্রেয় জ্ঞাতি ভাই যাদব ও মাধব। কিন্তু আপন ভাই ব্যতীত নিজেদেরকে তারা কখনো অন্যকিছু ভাবেনি। অভাব-অনটনের মাঝেও মাধবকে আইন পাশ করায় যাদব ও তার স্ত্রী অন্নপূর্ণা। জমিদারকন্যা বিন্দু বউ হয়ে আসে মাধবের ঘরে।
অল্পতেই প্রচণ্ড অভিমানী বিন্দুর অভ্যাস ছিল মূর্ছা যাওয়া। একদিন বিন্দুর মূর্ছা যাওয়ার পূর্বে অন্নপূর্ণা তার দেড় বছরের ছেলে অমূল্যচরণকে বিন্দুর কোলে তুলে দেওয়ার পর দেখা গেল বিন্দু আর মূর্ছা যায় না।
এরপর থেকে অমূল্য বিন্দুর কাছে মানুষ হতে থাকে এবং তাকেই মা বলে ডাকে। পরবর্তীতে যাদব-মাধবের বোন এলোকেশী ঠাঁই নেয় তাদের সংসারে। এলোকেশীর ছেলে নরেনের সাথে সখ্যতার দরুন অমূল্য বখে যেতে শুরু করে। আর তার ফলে দূরত্ব সৃষ্টি হয় অন্নপূর্ণা ও বিন্দুর মাঝে। এভাবেই নতুন মোড় নেয় গল্পটি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যাদব,
- মাধব,
- বিন্দু,
- অন্নপূর্ণা,
- অমূল্যচরণ,
- এলোকেশী,
- নরেন প্রমুখ। 

উৎস: 'বিন্দুর ছেলে' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
৮,৫৮৮.
আবুল ফজল কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  3. বাংলা একাডেমি
  4. এশিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল:
- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

আবুল ফজল রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

আবুল ফজল রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৮৯.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. ঝরা পালক
  3. মহাপৃথিবী
  4. বেলা শেষের গান
সঠিক উত্তর:
বেলা শেষের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলা শেষের গান
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়- বেলা শেষের গান।
- 'বেলা শেষের গান' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 

-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- রূপসী বাংলা,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯০.
'ক্ষুদিরামের মা' বিখ্যাত প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জগদীশচন্দ্র বসু
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধে দেশপ্রেমিক মায়েদেরকে উজ্জীবিত করার প্রকৃত আবেদনই উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।
- ক্ষুদিরামের অনন্য দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সূত্র ধরে ভারতীয় যুব সম্প্রদায়কে আত্মোৎসর্গে উজ্জীবিত হতে বলেছেন। পরাধীন ভারতমাতা বা ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার আহ্বানই জানানো হয়েছে আলোচ্য প্রবন্ধের মাধ্যমে।

- প্রবন্ধ পাঠে জানা যায় ক্ষুদিরাম পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে স্বাধীনতাকামী এক বিপ্লবীর সাথে যোগ দেন। ব্রিটিশ শষণের পক্ষের লোক ম্যাজিস্ট্রেট কিংস ফোর্ড সাহেবকে হত্যার জন্য ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি মুজফ্ফরপুর গ্রামে যান। সেখানে ভুলবশত কিংস ফোর্ডের গাড়ির পরিবর্তে অন্য এক সরকারি কর্মচারির গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের পরে গাড়িতে অবস্থানকারী রাজকর্মচারী ও তার মেয়ের মৃত্যু হয়। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের অপরাধে শাস্তি স্বরূপ ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেয়া হয়। আঠারো বছরের ক্ষুদিরাম দেশের শৃঙ্খল-মুক্তি ও বন্ধন মুক্তির জন্যই গাড়িতে বোমা মেরেছিলো। দেশের শৃঙ্খল মুক্তির জন্য যারা নির্ভয়ে জীবন দিতে চান, যারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে মৃত্যুকে সাদরে বরণ করে নিতে চান, ক্ষুদিরাম ছিলেন তাদেরই একজন পথ প্রদর্শক প্রতিনিধি। স্বাধীনতাকামী ও মুক্তকামী দেশমাতৃকার কবি নজরুল ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রবন্ধটি রচনা করেছেন।

------------------------
• 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'রুদ্র-মঙ্গল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে।
- এগুলো হলো: রুদ্রমঙ্গল, আমার পথ, মোহররম, বিষবাণী, ক্ষুদিরামের মা, ধূমকেতুর পথ, মন্দির-মসজিদ, হিন্দু-মুসলমান।

উৎস: 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ এবং 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ।

৮,৫৯১.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা হয়েছে? 
  1. ১৩টি 
  2. ১৬টি 
  3. ১৯টি 
  4. ২১টি 
সঠিক উত্তর:
১৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি 
ব্যাখ্যা

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮,৫৯২.
“মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ। জানোয়ার চাটে জানোয়ারের রক্ত।” - উক্তিটি কোন রচনার?
  1. আমার পথ
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'। জানোয়ার চাটে জানোয়ারের রক্ত। - মুনীর চৌধুরীর "রক্তাক্ত প্রান্তর" নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।

⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯৩.
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাটি কোন ছন্দে লিখিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. গদ্য ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. সরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা

'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল; প্রকাশিত হয়- ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায়। সে হিসেবে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর '১৯২১' নেওয়া হয়েছে।
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় “মাত্রাবৃত্ত ছন্দ” ব্যবহৃত হয়েছে। কবিতাটি ২+৬+৪ পূর্ণমাত্রাকারে সুবিন্যস্ত।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।এর মূলে রয়েছে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো পত্রিকা।

৮,৫৯৪.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বৃহৎ উপন্যাস ‘ সত্যাসত্য’ -কয়টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ৪ টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বৃহৎ উপন্যাস ‘সত্যাসত্য’ ৬টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। ১ম খণ্ড-যার যেথা দেশ। ২য় খন্ড- অজ্ঞাত বাস। ৩য় খণ্ড- কলঙ্কবতী। ৪ র্থ খণ্ড- দঃখমোচন। ৫ম খন্ড- মর্ত্যের স্বর্গ। ৬ষ্ঠ খণ্ড- অপসারণ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৮,৫৯৫.
নিচের কোনটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। অপরদিকে ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা ও সংকর সংকীর্তন আবু জাফর শামসুদ্দীন ত্রয়ী উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৯৬.
নিচের কোন লেখক উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন?
  1. গোলোকনাথ শর্মা
  2. রামরাম বসু​
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার​
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার​
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার​
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯৭.
'অন্য ঘরে অন্য স্বর' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ গল্পগ্রন্থ:
- এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ সালে রচিত নিরুদ্দেশ যাত্রা, উৎসব, প্রতিশোধ, যোগাযোগ, ফেরারী, অন্য ঘরে অন্য স্বর ইত্যাদি গল্প নিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ শিরোনামে গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। ব্যক্তিমানুষই এই গ্রন্থের উপজীব্য বিষয়।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯৮.
'সব্যসাচী' শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. ক) পণ্ডিতমশাই
  2. খ) বড়দিদি
  3. গ) পথের দাবী
  4. ঘ) চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
গ) পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পথের দাবী
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। এর কাহিনীর পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনীতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবের আন্তরিক সমর্থন আছে।
- গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৫৯৯.
সুফিয়া কামাল রচিত 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন-
  1. বেগম রোকেয়া 
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তদানিন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়। সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

৮,৬০০.
কাদের বর্গী নামে ডাকা হতো?
  1. নেপালি সৈন্য
  2. আরাকানী জলদস্যু
  3. মারাঠা
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
মারাঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারাঠা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় বর্গী নামে পরিচিত ছিলো। মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা বরগি নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালাতো। আলীবর্দি খান বাংলায় বর্গীদের দমন করেন।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজদের ফিরিঙ্গি নামে ডাকা হতো। আরাকানী জলদস্যুদের মগ নামে অবিহিত করা হতো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)