বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮৫ / ২১১ · ৮,৪০১৮,৫০০ / ২১,১৩২

৮,৪০১.
কোন সময়কালে বাংলা সাহিত্যে আখ্যানকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন প্রভৃতি রচিত হয়?
  1. আদি যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. অন্ধকার যুগে
  4. আধুনিক যুগে
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগ:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।

- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

- আধুনিক যুগের সাহিত্যকীর্তির বিস্তৃতির কারণে এ যুগের সামগ্রিক সাহিত্যসৃষ্টির পরিচয় প্রদান প্রায় অসম্ভব।
- উপন্যাস, ছোটগল্প, রম্যরচনা এবং আধুনিক রীতির কবিতা ও নাটকের সম্ভারে আজ বাংলা সাহিত্য বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ভাণ্ডার।
- মহাকাব্যের ধারায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, উপন্যাসের ধারায় বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র থেকে হাল আমলের সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, কবিতায় নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ থেকে শামসুর রাহমান, জয় গোস্বামী, নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে বিজন ভট্টাচার্য, সেলিম আলদীন প্রমুখ অসংখ্য রচনাকারের নামই উল্লেখ করা যায়।
- সর্বযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দনাথও তো এই আধুনিক যুগেরই ফসল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

৮,৪০২.
"লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. গিরিশচন্দ্র সেন 
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• "লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কবি মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

কবিতা: লেখাপড়া করে যেই।
লেখক: মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

লেখাপড়া করে যেই
গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
লেখাপড়া যেই জানে
সব লোক তারে মানে।
কটু ভাষী নাহি হবে
মিছা কথা নাহি কবে।
পর ধন নাহি লবে
চিরদিন সুখে রবে।
পিতামাতা গুরুজনে
সেবা কর কায় মনে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪০৩.
কাজী নজরুল ইসলামের সাথে আর কে 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন?
  1. মুজাফ্‌ফর আহমদ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মুজাফ্‌ফর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুজাফ্‌ফর আহমদ
ব্যাখ্যা

'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪০৪.
সত্যেন সেন রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ কোনটি?
  1. আবোলতাবোল
  2. ব্যাঙের সমুদ্র দেখা
  3. বহুরূপী
  4. অভিযাত্রী
সঠিক উত্তর:
অভিযাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিযাত্রী
ব্যাখ্যা

• 'অভিযাত্রী' সত্যেন সেন রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ। 

-------------------
• সত্যেন সেন:

- সত্যেন সেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো
- আবোলতাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা,
- খাইখাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৪০৫.
‘নতুন দেশ নতুন চীন’- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮) রচিত গ্রন্থ হলোঃ ত্রিস্রোতা, খরতরঙ্গ, দৃষ্টিকোণ, নতুন দেশ নতুন চীন, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত জীবনের স্মৃতি -১৯৬৮ (আত্মজীবনী)। তিনি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা ও দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৮,৪০৬.
'হৈমন্তী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কালিদাস রায়
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) কালিদাস রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
• 'হৈমন্তী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কালিদাস রায়।  
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে। 

• রবীন্দ্রানুসারী কবিশেখর কালিদাস রায় ছিলেন একজন কবি ও সমালোচক। 
- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি, তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- পর্ণপুট (১৯১৪),
- ঋতুমঙ্গল (১৯১৬),
- রসকদম (১৯২৩),
- লাজাঞ্জলি, ব্রজবেণু (১৯৪৫),
- চিত্তচিতা, পূর্ণাহুতি (১৯৬৮) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'হৈমন্তী' কবিতাটি 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত কবির এই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে মোট ২৫টি কবিতা।
• রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম 'হৈমন্তী' 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪০৭.
‘তাহমিনা’ কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৪০৮.
'আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা?
  1. অনেক আকাশ
  2. আমার প্রতিদিনের শব্দ
  3. উচ্চারণ
  4. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
• 'আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

আমার পূর্ব বাংলা,
- সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ
অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়
একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
সন্ধ্যার উন্মেষের মতো
সরোবরের অতলের মতো
কালো-কেশ মেঘের সঞ্চয়ের মতো বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি
আমার পূর্ব বাংলা বর্ষার অন্ধকারের অনুরাগ
হৃদয় ছুঁয়ে- যাওয়া
সিক্ত নীলাম্বরী।।

সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪০৯.
'জোহরা বেগম' কোন কাব্যগ্রন্থের চরিত্র?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) মেঘনাদবধ কাব্য
  3. গ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. ঘ) অশ্রুমালা
সঠিক উত্তর:
ক) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' (১৯০৫) কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা।
এটি একটি মহাকাব্য।
- এটি ধারাবাহিকভাবে 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
- এর চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪১০.
'নরকে লাল গোলাপ' নাটকটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. ক) দেশ বিভাগ
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) জমিদারদের অত্যাচার
  4. ঘ) ভাষা অন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক 'নরকে লাল গোলাপ'।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত। উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৮,৪১১.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. শহরবাসের ইতিকথা
  2. শহরতলী
  3. স্বাধীনতার স্বাদ
  4. প্রাগৈতিহাসিক
সঠিক উত্তর:
প্রাগৈতিহাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাগৈতিহাসিক
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪১২.
'মদনিকা' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- এই নাটকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।  এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪১৩.
'মতিন ও কমল' নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান প্রকাশিত হয় হুমায়ূন আহমেদের কোন উপন্যাসে?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. কে কথা কয়
  3. শ্যামল ছায়া
  4. কোথাও কেউ নেই
সঠিক উত্তর:
কে কথা কয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কে কথা কয়
ব্যাখ্যা
• 'কে কথা কয়' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত জনপ্রিয় উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে অটিস্টিক বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।
-  'মতিন ও কমল' নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান প্রকাশিত হয় হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসে।

হুমায়ূন আহমেদ:

- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে,  
- শঙ্খনীল কারাগার , 
- আনন্দ বেদনার কাব্য,  
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ , 
- আমার আছে জল, 
- আজ রবিবার , 
- এই সব দিনরাত্রি , 
- বহুব্রীহি , 
- অয়োময় , 
- শ্রাবণ মেঘের দিন ,  
- দুই দুয়ারী,  
- কোথাও কেউ নেই,  
- মহাপুরুষ,  
- বৃষ্টিবিলাস, 
- মৃন্ময়, 
- এপিটাফ,  
- লীলাবতী, 
- তিন পুরুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৮,৪১৪.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত খণ্ড কোনটি?
  1. রায়মঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. সূর্যমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) কালিকামঙ্গল

• অন্নদামঙ্গল:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪১৫.
'মনোরমা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- আনন্দমঠ,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪১৬.
শবরপা সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট কতটি গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. ১২টি
  2. ১৪টি
  3. ১৬টি
  4. ১৮টি
সঠিক উত্তর:
১৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬টি
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য। শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪১৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' গ্রন্থটি আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪১৮.
কবিগান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত-
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়
  2. রামবসু এবং ভোলা ময়রা
  3. সাবিরিদ খান এবং দাশরথি রায়
  4. আলাওল ও ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রামবসু এবং ভোলা ময়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামবসু এবং ভোলা ময়রা
ব্যাখ্যা

কবিগান দুই পক্ষের বিতর্কের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতো ।
- কবিওয়ালারা ছিল নিম্নবর্ণের হিন্দু ।

- কবি অন্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন -গোঁজলা গুঁই, ভবানী বেনে, ভোলা ময়রা, হরু ঠাকুর, এন্টনি ফিরিঙ্গি, রামবসু প্রমুখ ।

- গোঁজলা গুঁই ছিলেন কবি গানের কবিগানের আদিগুরু ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও লাল নীল দীপাবলি

৮,৪১৯.
পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) সৈয়দ হামজা
  4. ঘ) আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক - সৈয়দ হামজা।

- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- সপ্তদশ শতাব্দীর কবি সৈয়দ হামজা পুথি সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৪২০.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  2. কলিমা জালাল
  3. মুক্তল হোসেন
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
মুক্তল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তল হোসেন
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয়- মুক্তল হোসেন।
• 'মুক্তল হোসেন' হলো 'মুহম্মদ খান' রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

---------------------------
• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:

- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ূধ মিশ্র রচিত পির মহাত্ম্যক-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৪২১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ডাকঘর
  2. মায়ার খেলা
  3. মালঞ্চ
  4. বৈকুন্ঠের খাতা
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - উপন্যাস।
- এটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত

রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।
 
প্রহসন:
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য :
- চিত্রাঙ্গদা 
- নটীর পূজা 
- চণ্ডালিকা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪২২.
'দারিদ্র্য' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিন্ধু হিন্দোল
  2. সাম্যবাদী
  3. সর্বহারা
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু হিন্দোল
ব্যাখ্যা
• 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• সিন্ধু হিন্দোল:

- কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু হিন্দোল' হলো প্রেমের কাব্য।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- গোপন প্রিয়া;
- অনামিকা;
- বিদায়-স্মরণে;
- পথের স্মৃতি;
- উন্মনা;
- দারিদ্র্য;
- বাসন্তী;
- ফাল্গুনী;
- বধূ-বরণ;
- রাখী-বন্ধন;
- চাঁদনী রাতে;
- মাধবী-প্রলাপ ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ।
৮,৪২৩.
হিন্দি ও ফারসি কাব্য থেকে কোন কাব্য ধারার প্রচলন হয়েছে?
  1. পদাবলি
  2. নাথ সাহিত্য
  3. প্রণয়োপাখ্যান
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• হিন্দি ও ফারসি কাব্য থেকে প্রণয়োপাখ্যান কাব্য ধারার প্রচলন হয়েছে। 

------------------ 
• বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়: মধ্যযুগে।

• এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে:
ক) সংস্কৃত থেকে,
খ) হিন্দি সাহিত্য থেকে,
গ) আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সমগ্র সৃষ্টিকে অনুবাদ ও মৌলিক এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা চলে।
- অনুবাদ শাখা মধ্যযুগের ব্যাপক পরিসর জুড়ে আছে।
- পনের শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়।
- অনুবাদ শাখার মধ্যে এক শ্রেণির সাহিত্য সংস্কৃত থেকে অনূদিত যেমন রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত ইত্যাদি।
- অনুবাদজাতীয় সাহিত্যসৃষ্টি হিসেবে মুসলমান কবিগণের প্রণয়োপাখ্যান কাব্যের কথাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।
- পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এ ধারার সূত্রপাত করেন।
- মুসলমান কবি রচিত প্রণয়োপাখ্যান কাব্যগুলো ফারসি হিন্দি প্রভৃতি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, 

পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৪২৪.
নীহাররঞ্জ গুপ্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. দাদাভাই 
  2. বাণভট্ট
  3. সুনন্দ
  4. ক ও খ 
সঠিক উত্তর:
ক ও খ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ 
ব্যাখ্যা

• নীহাররঞ্জ গুপ্তের ছদ্মনাম - বাণভট্ট, দাদাভাই।

অন্যদিকে,
• 'সুনন্দ' ছদ্মনামে লিখতেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম হলো- 
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- যাযাবর। 
• মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিল- দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪২৫.
জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গ্রামের মায়া
  2. পদ্মাপাড়
  3. পল্লীবধূ
  4. রূপবতী
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - রূপবতী

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪২৬.
'হলদে পরীর দেশ' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. শিশুতোষ
  4. স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
• 'হলদে পরীর দেশ' জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪২৭.
কাহ্নপা কী ধরনের সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. ক) বৈষ্ণবপদ
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) বাউল পদ
  4. ঘ) শাক্ত পদ
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি - কাহ্নপা। তার প্রকৃত নাম - কৃষ্ণাচার্য পাদ।
তার রচিত পদের সংখ্যা - ১৩টি; যা সর্বাধিক পদ।
কিন্তু তার রচিত প্রাপ্ত পদের সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮,৪২৮.
বাংলা সাহিত্যে মুরারি গুপ্ত কার জীবনী লিখে কৃতিত্ব অর্জন করেন?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণের
  2. খ) চৈতন্যদেবে
  3. গ) শ্রীরামের
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) চৈতন্যদেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চৈতন্যদেবে
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় লেখা হয়। 
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, 'শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।'
- মুরারি গুপ্ত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন। 
- মুরারি গুপ্তের গৃহে চৈতন্যের প্রথম ভাবাবেশ ঘটেছিল বলে জনশ্রুতি বিদ্যমান। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত।
- 'চৈতন্য-মঙ্গল' বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৪২৯.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আঁখিজল
  2. খ) লতিকা
  3. গ) প্রবন্ধমালা
  4. ঘ) কামারের কাণ্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামারের কাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামারের কাণ্ড
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘নবী কাহিনী’ও ‘কামারের কাণ্ড'। ‘আঁখিজল’ ও ‘লতিকা’ হলো কাব্যগ্রন্থ। ‘প্রবন্ধমালা’ মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা, ভূগোল শিক্ষা প্রনালী হলো প্রবন্ধ গ্রন্থ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৮,৪৩০.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি কে?
  1. আলাওল
  2. দৌলত কাজী
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

দৌলত কাজী:
- আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।

- আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ হলেন:
• আলাওল,
• কোরেশী মাগন ঠাকুর,
• মরদন,
• আবদুল করিম খন্দকার,
• শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪৩১.
‘শূন্যপুরাণ’ কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩২৪ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৩ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩১৪ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩১৪ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৩২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'ছবি' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) অনুবাদ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গল্প
ব্যাখ্যা
-'ছবি' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। 
- গল্পগ্রন্থটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে ছবি, বিলাসী ও মামলার ফল নামে মোট তিনটি গল্প রয়েছে। 
- উল্লেখ্য যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন লোকগাঁথা বা অনুবাদ সাহিত্য রচনা করেননি।

•শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- শরৎচন্দ্র বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩) লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৩৩.
প্রাচীন যুগের তন্ত্র সাধকদের মতে ‘পিঙ্গলা’ অন্য কী নামে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ছিল?
  1. পার্বতী
  2. গঙ্গা
  3. যমুনা
  4. সরস্বতী
সঠিক উত্তর:
যমুনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যমুনা
ব্যাখ্যা

প্রাচীনকালে মেরুদন্ডের বাঁ দিকের একটি নাড়িকে ‘ইড়া’ বলা হত।
- মেরুদন্ডের দক্ষিণ দিকের একটি নাড়িকে ‘পিঙ্গলা’ এবং ‘ইড়া’ এবং ‘পিঙ্গলা’ মধ্যস্থিত অপর একটি সূক্ষ্ম নাড়িকে ‘সুষুম্না’ বলা হত।
- এই ৩ নাড়ির মিলনকে ‘ত্রিবেণী’ বলা হত।
- তন্ত্র সাধনায় এসব নাড়ি চন্দ্র সূর্য ও অগ্নির গুন বিশিষ্ট।।
- তন্ত্র সাধকদের কাছে ‘ইড়া’ ‘পিঙ্গলা’ ও সুষুম্না যথাক্রমে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নামে পরিচিত এবং শ্রদ্ধেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

৮,৪৩৪.
'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. আহসান হাবিব
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গােলাম মােস্তফা যশাের জেলার শৈলকুপা থানার মনােহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদ ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ পদচারণা ছিল।
কাব্যচর্চার ক্ষেত্রেই ইসলামি ঐতিহ্য থেকে তিনি প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য:
- রক্তরাগ,
- খােশরােজ,
- কাব্যকাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা 
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম,
- তারানা ই পাকিস্তান 
- গীতি সঞ্চয়ন 

উপন্যাস:
- ভাঙ্গাবুক,
- রূপের নেশা,
- এক মন এক প্রাণ;

জীবনী :
-বিশ্বনবী,
- মরুদুলাল;
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 

অনুবাদ :
- কালামে ইকবাল,
- আল কুরআন,
- শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া ইত্যাদি। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলা সাহিত্য,নবম দশম শ্রেণি।]
৮,৪৩৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বিসর্জন' নাটকটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা
'বিসর্জন' নাটক: 
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

-----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৩৬.
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'- এর রচয়িতা কে?
  1. ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. চণ্ডীদাস
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ভারতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।                                                                                                                                      
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
-  উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন।
- ‘মরণ’ কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।
৮,৪৩৭.
গঠনরীতি অনুসারে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কোনধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. পদাবলি
  2. নাট্য-গীতিকাব্য
  3. অনুবাদ নাটক
  4. ধামালি
সঠিক উত্তর:
নাট্য-গীতিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্য-গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থের গঠন:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মূলত একটি যাত্রার পালা ছিল বলে মনে করা হয়। কাব্যটি সংস্কৃত গীতগোবিন্দের অনুরূপ গীতি এবং সংলাপবহুল নাট্যলক্ষণাক্রান্ত রচনা বলে তা নাট্যগীতিকাব্য হিসেবেও আখ্যাত হয়েছে। এ কাব্যে নাট্যরসাশ্রয়ী ঘটনা ও সংলাপ থাকলেও তা বর্ণনামূলক কাব্যের মর্যাদার অধিকারী। কোথাও কবি নিজে কাহিনির মধ্যে উপস্থিত থেকে সংলাপের সঙ্গে বর্ণনা যোগ করেছেন, আবার কোথাও সংস্কৃত শ্লোকের সাহায্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। গীতিসংলাপমূলক এই আখ্যানকাব্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান।

--------------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৮,৪৩৮.
'আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে
হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব পল্লবমর্মরে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন কবিতা থেকে সংগৃহিত?
  1. ক) আগমন
  2. খ) ১৪০০ সাল
  3. গ) ক্ষণিকা
  4. ঘ) প্রার্থনা
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪০০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪০০ সাল
ব্যাখ্যা
আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে
হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব পল্লবমর্মরে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
                                     - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথের '১৪০০ সাল' কবিতা থেকে সংগৃহিত। 

- '১৪০০ সাল' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

   আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
      কৌতূহলভরে--
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
      লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
   আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
      তোমাদের করে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার
      বসি বাতায়নে
সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি
      ভেবে দেখো মনে--
   একদিন শতবর্ষ আগে
চঞ্চল পুলকরাশি কোন্‌ স্বর্গ হতে ভাসি
   নিখিলের মর্মে আসি লাগে--
নবীন ফাল্গুনদিন সকল বন্ধনহীন
      উন্মত্ত অধীর--
উড়ায়ে চঞ্চল পাখা পুষ্পরেণুগন্ধমাখা
      দক্ষিণসমীর--
সহসা আসিয়া ত্বরা রাঙায়ে দিয়েছে ধরা
      যৌবনের রাগে
   তোমাদের শতবর্ষ আগে।
সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
      কবি এক জাগে--
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
      কত অনুরাগে
   একদিন শতবর্ষ আগে।
   আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্‌ নূতন কবি
      তোমাদের ঘরে?
আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন
   পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।
আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে
হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব
      পল্লবমর্মরে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
----------১৪০০ সাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
৮,৪৩৯.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন-
  1. দৃষ্টিকোণ
  2. শাশ্বত বঙ্গ
  3. নরকে অনন্ত ঋতু
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
শাশ্বত বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাশ্বত বঙ্গ
ব্যাখ্যা
• কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বত বঙ্গ’।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
- 'শাশ্বতবঙ্গ’ এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

উপন্যাস:
- নদীবক্ষে (১৯১৮)।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

অন্যদিকে, 
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন: 'দৃষ্টিকোণ'। 
• হুমায়ুন আজাদের কিছু দীর্ঘ ও হ্রস্ব সামাজিক রাজনৈতিক প্রবন্ধের সংকলন ‘নরকে অনন্ত ঋতু’।
• রবীন্দ্রনাথের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন 'কালান্তর'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৪০.
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  3. আবদুর রশীদ খান
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
ব্যাখ্যা

'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা:
- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।
- এই পত্রিকার সারথি হিসেবে, পত্রিকার সাহিত্যাদর্শ আর সাহিত্য-উদ্দেশ্যের নির্মাতা হিসেবে, সাংগঠনিক কাজকর্মের সম্পাদক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিষ্ঠার সঙ্গে যে পরিশ্রম করেছেন, তা বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে বিশ শতকের ষাটের দশকে বেশ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট-কাগজ প্রকাশিত হয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে নতুন দিগ্বলয় সৃষ্টি করে। এর মধ্যে 'কণ্ঠস্বর' অন্যতম।

অন্যদিকে,
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- 'নতুন কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক - আবদুর রশীদ খান।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা - নয়া সড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪৪১.
কোনটি সার্থক মঙ্গলকাব্যের অংশ নয়?
  1. শ্রুতিফল
  2. দেবখণ্ড
  3. মর্ত্যখণ্ড
  4. তাম্বুলখণ্ড
সঠিক উত্তর:
তাম্বুলখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্বুলখণ্ড
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল

অন্যদিকে,
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ডের একটি - তাম্বুলখণ্ড

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৪২.
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে—এই বাংলায়"- উক্তিটি কার সৃষ্টিকর্ম? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• "আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে—এই বাংলায়"- উক্তিটি জীবনানন্দ দাশের সৃষ্টিকর্ম। 
----------------------------
আবার আসিব ফিরে
    -জীবনানন্দ দাশ। 

"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় - হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো - কিশোরীর - ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;
-----------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’।
- কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।  
- ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে—
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা। 

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা।
-------------------------------------
'‘আবার আসিব ফিরে’' নিয়ে কিছু কথা: 
- জীবনানন্দ দাশ-এর ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি মূলত কবির গভীর স্বদেশপ্রেম ও বাংলার প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে লেখা। কবি মৃত্যুর পরেও বাংলার নদী, মাঠ, শঙ্খচিল, শালিক বা ফসলের ক্ষেতের সঙ্গে মিশে থাকার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। কবিতায় ধানসিঁড়ি নদীর তীর, কুয়াশাচ্ছন্ন বিকেল, কলমি ঘেরা পুকুর—এসব সাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্যকে পরম সুন্দর হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কবি মানুষ হিসেবে না হলেও, বাংলার প্রকৃতির অংশ হয়ে বারবার ফিরে আসার অমর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

উৎস:
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৮,৪৪৩.
কার আদর্শে মুক্ত চিন্তক 'ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠী' গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. খ) জোশুয়া মার্শম্যান
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। হিন্দু কলেজের ছাত্রদের মধ্যে উনার প্রাভাব অনেক গভীর ছিলো।

তার উল্লেখযোগ্য শিষ্যরা ছিলো-
- কালীপ্রসাদ ঘোস
- রামতনু লাহিরী
- প্যারিচাঁদ মিত্র
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
- হরচন্দ্র ঘোষ
- মাধব চন্দ্র মল্লিক
এই ছাত্রদের দলটিই 'ইয়ংবেঙ্গল' নামে পরিচিত ছিলো।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৪৪.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন?
  1. আনোয়ারা
  2. জোহরা
  3. আবদুল্লাহ 
  4. গরীবের মেয়ে 
সঠিক উত্তর:
জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোহরা
ব্যাখ্যা

• 'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন। জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

অন্যদিকে, 
'গরীবের মেয়ে' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। 

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস: 
মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- কাজী ইমদাদুল হক বিখ্যাত 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি রচনা করেন। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪৪৫.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন -
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী একজন প্রগতীশীল লেখক ও সাংবাদিক৷
তার রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো - 'ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান', 'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'সংকর সংকীর্তন'।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
- দেয়াল
- পরিত্যাক্ত স্বামী।
তার লেখায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের দিকটিই মুখ্য৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৪৪৬.
কাজী মোতাহার হোসেন কত সালে জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৭৫ সালে জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন।

কাজী মোতাহার হোসেন: 
- তিনি ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- তিনি ছিলেন 'বাংলা একাডেমি' প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনা:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৪৭.
নিচের কোনটি জসীমউদ্দিনের গানের সংকলন নয়?
  1. ক) রঙিলা নায়ের মাঝি
  2. খ) গাঙের পার
  3. গ) জারিগান
  4. ঘ) মধুমালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধুমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধুমালা
ব্যাখ্যা

জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান। এছাড়াও উনার অন্যান্য গানের সংকলন গুলো হলো- রঙিলা নায়ের মাঝি, গাঙের পার।

অপরপক্ষে তার নাটক গুলো হলো- পদ্মাপার (১৯৫০), বেদের মেয়ে (১৯৫১), মধুমালা (১৯৫১),পল্লীবধূ (১৯৫৬),গ্রামের মেয়ে (১৯৫৯)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কবিতা কোনটি?
  1. ক) হিন্দুমেলার উপহার
  2. খ) তোমার সৃষ্টির পথ
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) সবুজের অভিযান
সঠিক উত্তর:
খ) তোমার সৃষ্টির পথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তোমার সৃষ্টির পথ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কবিতা 'তোমার সৃষ্টির পথ' মৃত্যুর আট দিন আগে মৌখিকভাবে রচনা করেছিলেন। 'শেষ লেখা' তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। হিন্দু মেলার উপহার তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৪৪৯.
জহির রায়হানের প্রথম গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. সূর্যগ্রহণ
  2. সোনার হরিণ
  3. হারানো বলয়
  4. নয়াপত্তন
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক। তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ 'সূর্যগ্রহণ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ইংরেজি পত্রিকা দ্য উইকলি এক্সপ্রেস প্রকাশের উদ্যোক্তাদের অন্যতম। এ ছাড়া তিনি কতিপয় সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

জহির রায়হানের অন্যান্য গল্পসমগ্রগুলো হলো-
- সূর্যগ্রহণ প্রথম গল্পগ্রন্থ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ),
- সোনার হরিণ,
- সময়ের প্রয়োজনে,
- একটি জিজ্ঞাসা,
- হারানো বলয়,
- বাঁধ,
- নয়াপত্তন,
- মহামৃত্যু,
- ভাঙাচোরা,
- অপরাধ,
- স্বীকৃতি.

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। জহির রায়হান
৮,৪৫০.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত -
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
"মিছিলে তোমার মুখ, মায়ের চোখে, আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখি, কবিতার এলোমেলো ভেলা" - ইত্যাদি এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্যম কবিতা।

• দাউদ হায়দার:
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত লেখক।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৫১.
পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা রয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. সংকর সংকীর্তন
  2. প্রপঞ্চ
  3. দেয়াল
  4. জীবন
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা

• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর 'দেয়াল' (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির বিবোমিশাকর নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে।

------------------
• আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো-
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।
[আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।]

উল্লেখ্য, 
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস রয়েছে'দেয়াল' (২০১২) নামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

৮,৪৫২.
ময়মনসিংহ গীতিকার শ্রেষ্ঠ পালা কোনটি?
  1. ক) মলুয়া
  2. খ) মহুয়া
  3. গ) দেওয়ানা মদিনা
  4. ঘ) কাজলরেখা
সঠিক উত্তর:
খ) মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহুয়া
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের ব্যতিক্রমী সাহিত্য হলো ময়মনসিংহ গীতিকা। গীতিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে। ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র কিছু অংশ ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশতি ‘সৌরভ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
সম্পাদক : ড. দীনেশচন্দ্র সেন
সংগ্রাহক : চন্দ্রকুমার দে এবং জসীমউদ্দীন।
স্থান : নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ। 
শ্রেষ্ঠ পালা : মহুয়া

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৮,৪৫৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর:
খ) বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সাহিত্যকর্ম:
গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কবর - মুনির চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - সৈয়দ শামসুল হকের লেখা মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্যনাটক।
ওরা কদম আলী - মামুনুর রশীদ রচিত একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৫৪.
'নয়া সড়ক' কোন ধরনের সাহিত্যপত্র ছিল?
  1. মাসিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. বার্ষিক
  4. দৈনিক
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
ব্যাখ্যা
• "নয়া সড়ক" পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমির 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৫৫.
আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই - গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর - মাসিক “সমকাল” পত্রিকা সম্পাদনা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তার রচিত বিখ্যাত্র গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই। তার রচিত বিখ্যাত নাটক - শকুন্ত উপাখ্যান, সিরাজউদৌলা, মহাকবি আলাওল ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৫৬.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
  1. পাল
  2. মুঘল
  3. সেন
  4. গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৫৭.
‘নির্মাল্য’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

অন্যদিকে,
⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৫৮.
“বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত” গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. গোপাল হালদার
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন - ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
তার গ্রন্থের নাম - 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত'। এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থটি পাঁচটি খন্ডে রচিত। তার বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কিত আরো কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - নামে আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে।
গ্রন্থটির যৌথ রচয়িতা - মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ - বাংলা সাহিত্যের কথা।
গোপাল হালদার রচিত গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খন্ড)।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,৪৫৯.
‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে কায়কোবাদ। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে খ্যাত কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী, এবং ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচনা করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য হলো ‘মহাশ্মশান’, যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কায়কোবাদের সাহিত্যিক প্রতিভা অতি অল্প বয়স থেকেই প্রকাশ পায়।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহবিলাপ’ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহবিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৬০.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস?
  1. নয়নচারা
  2. উজানে মৃত্যু
  3. বহিপীর
  4. চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

চাঁদের অমাবস্যা:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র 'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৬১.
'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র নিচের কোনটি?
  1. ক) অনুপমা
  2. খ) মনােরমা
  3. গ) নিরুপমা
  4. ঘ) বিনোদিনী
সঠিক উত্তর:
খ) মনােরমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনােরমা
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

» তাঁর রচিত অন্যতম উপন্যাস - মৃণালিনী।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ এবং তুর্কি আক্রমণের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় ও দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনী এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র - মৃণালিনী এবং পশুপতি - মনোরমার প্রেমকাহিনী এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৬২.
মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য -
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ 
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- পত্রিকাটির লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- পত্রিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয়। এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান এমএন-এর উপর পত্রিকাটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। তিনি ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি
- মোঃ জিল্লুর রহমান এমপি ছিলেন সম্পাদক মন্ডলীর উপদেষ্টা।

জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যগণ:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

- ইবনে গোলাম সামাদ,
- মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী,
- আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী,
- মোঃ সলিমুল্লাহ,
- আসাদ চৌধুরী,
- আবুল মঞ্জুর,
- মোহাম্মদ খালেদ,
- অনু ইসলাম।

- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
- জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
 
৮,৪৬৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি নয় কোনটি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. জাপান যাত্রী
  4. পারস্য যাত্রী
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি নয়- ইউরোপের চিঠি। 

• 'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৬৪.
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক কবি ছিলেন-
  1. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  2. কাশীরাম দাস
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• কাশীরাম দাস:
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক কবি ছিলেন কাশীরাম দাস।
- কাশীরাম দাসের অনুবাদকৃত মহাভারতের নাম 'ভারত পাঁচালী'। এটির রচনাকাল সম্বন্ধে যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি মনে করেন ১৬০২-০৪ খ্রিষ্টাব্দের।
- তিনি গ্রন্থ রচনা শেষ করে যেতে পারেন নি। মহাভারতের আদি, সভা, বন ও বিরাট পর্ব রচনার পর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। কথিত আছে কবির অসমাপ্ত কাব্য সমাপ্ত করেন কবির পুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্র ও শিষ্য স্থানীয় অনেকে।

------------------
• মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম -পরাগলী মহাভারত।
অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস। মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৪৬৫.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৬৬.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. লীলাময় রায়
  2. হুতোম পেঁচা
  3. পরশুরাম
  4. অপরাজিতা দেবী
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়
- অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং  ছড়াকার।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ রাখী (১৯৩২)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস অসমাপিকা (১৯৩০)।
- ১৯২৭ সালে অন্নদাশঙ্কর রায় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকার করেন।
 - বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত 'বঙ্গবন্ধু' কবিতাটি লিখেছেন লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায়

অন্যদিকে, 
- হুতোম পেঁচা - কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- পরশুরাম - রাজশেখর বসু।
- অপরাজিতা দেবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৬৭.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আপেল মাহমুদ
  3. গাজী আনোয়ার
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আলতাফ মাহমুদ:
- আলতাফ মাহমুদ একাধারে একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার, সংস্কৃতিকর্মী, চিত্রশিল্পী, ভাষাসৈনিক ও স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ হলেও পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদের সুরটিই গৃহীত হয়।
- এই সুরটি ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’তে ব্যবহার করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাঁর বাসায় গোপন ক্যাম্প স্থাপন করেন।
- বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য ১৯৭৭ সালে আলতাফ মাহমুদকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
৮,৪৬৮.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য?
  1. শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান
  2. বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
  3. চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
ব্যাখ্যা
• পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার হওয়ায় বাংলা সাহিত্যে এই গ্রাম উল্লেখযোগ্য।

-----------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।

• মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলো হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৪৬৯.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন  
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে,
• 'চাষার দুক্ষু' নামক প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত।

----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'চাষাভুষার কাব্য'।

৮,৪৭০.
শেক্সপিয়রের ‘মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত ‘ভানুমতী-চিত্তবিলাস’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. হরচন্দ্র ঘোষ
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ 
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
হরচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

• শেক্সপিয়রের ‘মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত ‘ভানুমতী-চিত্তবিলাস’ নাটকটির রচয়িতা - হরচন্দ্র ঘোষ।

--------------
• হরচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একজন নাট্যকার, অনুবাদক।
- একবার বেকনের প্রবন্ধ ‘ট্রুথ’-এর বাংলা অনুবাদ করার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের আদিপর্বের নাট্যকার এবং শেক্সপীয়রের নাটকের প্রথম অনুবাদক।
- তাঁর পুরাণ অবলম্বনে রচিত কৌরববিয়োগ (১৮৫৮) একটি উল্লেখযোগ্য মৌলিক নাটক।
 ১৮৮৪ সালের ২৪ নভেম্বর হুগলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।

• হরচন্দ্র ঘোষ কয়েকটি অনুবাদমূলক নাটক লিখেছিলেন।
যেমন -
• ভানুমতি-চিত্তবিলাস (১৮৫৩)- শেক্সপিয়রের "মার্চেন্ট অফ ভেনিস" অবলম্বনে।
• চারুমুখ- চিত্তহারা - রোমিও-জুলিয়েট এর গল্প অবলম্বনে।
রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪)- দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; গবেষণা প্রবন্ধ- University of North Bengal।

৮,৪৭১.
গ্রিস ট্রাজেডি 'ইডিপাস' বাংলায় কে অনুবাদ করেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কবির চৌধুরী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. লিলি চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• 'ইডিপাস' বাংলা অনুবাদ:
- বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় রচনা করেন 'ইডিপাস' নাটক। গ্রিক ট্র্যাজেডি নাটক ইডিপাস বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- তিনি ই এফ ওয়াল্টিং এর ইংরেজি অনুবাদ অনুসরণ করে ইডিপাস নাটকটি বাংলায় ভাষান্তর করেন, যা বাঙালি পাঠকের কাছে গ্রিক ট্র্যাজেডির রূপ তুলে ধরে।  

--------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ, 
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৭২.
বিখ্যাত 'নবকুমার' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় একটি চরিত্র: নবকুমার।

অন্যদিকে,
- দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জগতসিংহ, ওসমান,আয়েশা তিলত্তমা।
- 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবলিনীর ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৭৩.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'অনল প্রবাহ' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা,  আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৭৪.
'তপস্বী ও তরঙ্গিনী' বুদ্ধদেব বসু রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক:
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ চার অঙ্কে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি নাটক।
• “তপস্বী ও তরঙ্গিণী” 'দেশ' পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৬৬-র পাঁচটি সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো।

• বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা-প্রগতি (১৯২৭-১৯), কবিতা (১৩৪২-৪৭)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৭৫.
'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শহীদ কাদরী।

শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪৭৬.
'ওয়ারিশ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা

ওয়ারিশ:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮,৪৭৭.
নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের গ্রন্থ নয়?
  1. পূর্বাভাস
  2. ঘুম নেই
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা

জননী সুকান্ত ভট্টাচার্যের গ্রন্থ নয়। এটি শওকত ওসমানের একটি উপন্যাস। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে বিশ্বের মানুষ এবং শোষিত মানুষের জীবনযাত্রা, যন্ত্রণা, বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে, ১৩ মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৭৮.
‘এ ভরা বাদর মাহ ভাদর/শূন্য মন্দির মোর।’ - কে লিখেছেন?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
"এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
 এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
 শূন্য মন্দির মোর" - পঙক্তিগুলো মিথিলার কবি বিদ্যাপতি রচিত "বর্ষাবিরহের" একটি পদ । 

বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০):
- বিদ্যাপতি  বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। 
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন। 
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ভাষায়ই ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৭৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  2. খ) জলাঙ্গী
  3. গ) কাঞ্চনগ্রাম
  4. ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
জাহান্নাম হইতে বিদায় ও জলাঙ্গী শওকত ওসমান রচিত এবং কাঞ্চনগ্রাম শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উৎসঃ LiveMCQ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা
৮,৪৮০.
'দিলরুবা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তাঁর নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯)। যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন। উৎসঃ বাংলাপিডায়া।
৮,৪৮১.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. শহীদুল্লা কায়সার 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার 
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-  
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়। 

----------------
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৮২.
মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্য প্রকাশিত হয়?
  1. প্রাণ
  2. কবি-কাহিনি
  3. বনফুল
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।
- রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ,৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্পও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার ''অভিলাষ'' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয়।

> প্রথম প্রকাশিত কবিতা: 'হিন্দুমেলার উপহার' (১৮৭৪)
> প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: 'কবি-কাহিনি' (১৮৭৮)
> প্রথম নাটক: 'বাল্মীকি প্রতিভা' (১৮৮১)
> প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)
> প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প: 'ভিখারিনী' (১৮৭৪)
> প্রথম প্রবন্ধ: 'বিবিধ প্রসঙ্গ' (১৮৮৩) 
>  শেষ উপন্যাস: 'চার অধ্যায়'
> সর্বশেষ প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২২ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৮৩.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) সাহিত্য
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) শিখা
সঠিক উত্তর:
খ) নবশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবশক্তি
ব্যাখ্যা
- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি। 
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৮৪.
রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কপালিকা 
  3. রামী
  4. মাধবী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

• "চন্দ্রাবতী" রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

অন্যদিকে, 
- মধ্যযুগের অপর দুইজন মহিলা কবি হলেন- চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।

----------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন উল্লেখযোগ্য মহিলা কবির অন্যতম। চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার 'জয়-চন্দ্রাবতী' উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
• রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
• রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৮৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) তরঙ্গভঙ্গ
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ: 
- উপন্যাসে কোপন নদীর তীরবর্তী চাঁদপাড়া গ্রামের জনৈক যুবক শিক্ষিত আরেফ আলী শীতের এক উজ্জ্বল জ্যোৎস্না রাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল প্রকৃতির প্রয়ােজনে। প্রয়ােজন মিটিয়ে ঘরে ফিরে না গিয়ে সে। চন্দ্রলােকিত রজনীর রূপরাশিতে মােহাবিষ্ট হয়। হঠাৎ ছায়া শরীরের আকর্ষণে সে গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়ে।
- বাঁশঝাড়ে নিহত এক রমণীর লাশ দেখে সে ঘটনাটি আরেফ আলীর মনােলােকে আলােড়ন তােলে।
- প্রকৃত ব্যাপরটি ছিল আরেফ আলী গ্রামের যে বড়বাড়িতে আশ্রিত গৃহশিক্ষক সেই বড়বাড়িরই অন্যতম কর্তাপুরুষ কাদের আলী নিম্ন শ্রেণির এক রমণীকে সম্ভোগের উদ্দেশ্যে বাঁশঝাড়ে যায়; আরেফ সেই কাদেরকেই অনুসরণ করেছিল। আরফের পদশব্দে ভয় পেয়ে কাদের রমণীটিকে গলাটিপে হত্যা করে।
- উপন্যাসের সিংহভাগ ব্যয়িত হয়েছে আরেফ আলীর মনে উক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়া বর্ণনায়। শেষ পর্যন্তই ঘটনাটি সে প্রথমে দাদাসাহেবকে এবং পরে পুলিশকে জানায়।
-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৮৬.
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই বিখ্যাত চরণ দু'টির রচনা করেন কোন কবির মা?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই বিখ্যাত চরণ দু'টির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ। 
- তিনি বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের মাতা। 

• কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম - পৌরাণিক আখ্যায়িকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৮৭.
'ঘুম কাতুরে ঈশ্বর' কার রচিত গল্প?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন: 
- তিনি একজন কথাশিল্পী। তিনি ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২১টি উপন্যাস, ৭টি গল্পগ্রন্থ ও ৪টি প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। সমকালীন রাজনৈতিক সংকট ও দ্বন্দ্বের উৎস ও প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে সেলিনা হোসেন এর বই সমূহ-তে।
- সেলিনা হোসেন এর বই সমগ্র অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশসহ একাধিক ভাষায়। প্রবীণ এ লেখিকা ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
 উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, 
- জলোচ্ছা,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসত ইত্যাদি।

• 'ঘুম কাতুরে ঈশ্বর' তার একটি গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৮৮.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন?
  1. আজিজননেহার
  2. হিতকরী
  3. সুধাকর
  4. ক এবং খ উভয়ই 
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭–১৯১১):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্রের যুগে তিনি গদ্যশিল্পে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন।

জীবনপরিচয়:
জন্ম: ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর — কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
কর্মজীবন শুরু: ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-য় মফঃস্বল সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক — ‘কাঙাল হরিনাথ’।
সম্পাদনা করেছেন: আজিজননেহার ও হিতকরী নামের পত্রিকা।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৪৮৯.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন -
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৯০.
মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র কোনটি?
  1. ক) রাধা
  2. খ) বেহুলা
  3. গ) ফুল্লরা
  4. ঘ) মালিনী
সঠিক উত্তর:
খ) বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেহুলা
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের সংগ্রামী, ব্যক্তিত্ববান চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র বেহুলা

⇒ মনসামঙ্গল:

• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৪৯১.
জহির রায়হান ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পটি কোন প্রেক্ষাপটে লিখছেন?
  1. ভাষা আন্দোলনের
  2. মুক্তিযুদ্ধের
  3. উনসত্তরের অভ্যুত্থানের
  4. দেশভাগের
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের
ব্যাখ্যা
•‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্প:
রচয়িতা: জহির রায়হান।
প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধ।

• ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পের অংশবিশেষ:
রাইফেলটা কাঁধে তুলে নিয়ে ছোট্ট টিলারটার ওপরে এসে দাঁড়াই। সামনে তাকাই। বিরাট আকাশ। একটা লাউয়ের মাচা। কচি লাউ ঝুলছে। বাতাসে মৃদু দুলছে। কয়েকটা ধানক্ষেত। দুটো তালগাছ। দূরে আর একটা গ্রাম। খবর এসেছে ওখানে ঘাঁটি পেতেছে ওরা। একদিন যারা আমাদের অংশ ছিল। একসঙ্গে থেকেছি। শুয়েছি। খেয়েছি। ঘুমিয়েছি। এক টেবিলে বসে গল্প করেছি। প্রয়োজনবোধে ঝগড়া করেছি। ভালোবেসেছি। আজ তাদের দেখলে শরীরের রক্ত গরম হয়ে যায়। চোখ জ্বালা করে ওঠে। হাত নিশপিশ করে। পাগলের মতো গুলি ছুড়ি। মারার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠি। একজনকে মারতে পারলে উল্লাসে ফেটে পড়ি। ঘৃণার থুতু ছিটোই মৃতদেহের মুখে।

উৎস: ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্প - জহির রায়হান।
৮,৪৯২.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য কোন ছন্দে রচিত?
  1. চৌপদী ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. পয়ার ছন্দে 
সঠিক উত্তর:
পয়ার ছন্দে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়ার ছন্দে 
ব্যাখ্যা

• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং কুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি। পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২: এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭।
পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যর খণ্ডগুলো হলো-
 জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৮,৪৯৩.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা চিহ্নিত করুন :
  1. ক) পালি
  2. খ) প্রাকৃত
  3. গ) বৈদিক
  4. ঘ) ভোজপুরী
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদিক
ব্যাখ্যা

ভারতীয় আর্য ভাষার বিকাশের তিনটি স্তর পাওয়া যায়।
(ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা।
(খ) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা ও
(গ) আধুনিক ভারতীয় আর্য ভাষা।

- প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সময়কাল ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ পর্যন্ত বলে পণ্ডিতেরা নির্ধারণ করেছেন।

- আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে আর্যভাষাভাষী একটি জনগােষ্ঠী ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। তাদের ভাষার সাথে স্থানীয় ভাষার শব্দও মেশে। প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষাতেই আমরা বৈদিক সাহিত্য পাচ্ছি। অন্য কথায়, বৈদিক সাহিত্যই প্রাচীন
ভারতীয় আর্যভাষার একমাত্র নিদর্শন।

- বেদে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এর প্রচলিত নাম বৈদিক ভাষা৷

উৎসঃ হিন্দু ধর্ম বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৪৯৪.
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. শহীদ কাদরী
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ, 
- রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৯৫.
রহিম বলল, "করিম, আমি তোমার কাছে আসছি।”- উক্তিটির পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. রহিম করিমকে ডেকে বলল আমি তোমার কাছে আসছি।
  2. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে আমি তোমার কাছে আসছি।
  3. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।
  4. রহিম করিমকে ডেকে বলল যে আমি তোমার কাছে কাছে যাচ্ছি।
সঠিক উত্তর:
রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশের ক্রিয়াপদও কখনো কখনো অর্থসঙ্গতির জন্য পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত হয়।
যেমন:
•  প্রত্যক্ষ: রহিম বলল, "করিম, আমি তোমার কাছে আসছি।”
•  পরোক্ষ: রহিম করিমকে ডেকে বলল যে সে তার কাছে যাচ্ছে।

এরূপ কিছু নিয়ম-
• আশ্রিত খণ্ডবাক্যের ক্রিয়ার কাল পরোক্ষ উক্তিতে সব সময় মূল বাক্যাংশের ক্রিয়ার কালের ওপর নির্ভর করে না।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ: ছেলে লিখেছিল, "শহরে খুব গরম পড়েছে।"
• পরোক্ষ: ছেলে লিখেছিল যে, শহরে খুব গরম পড়েছিল। অথবা, ছেলে লিখেছিল শহরে খুব গরম পড়েছে।

• প্রত্যক্ষ: করিম বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।”
• পরোক্ষ : করিম বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছে।

• প্রত্যক্ষ: মনসুর বলল, "আমি ঢাকা যাব।”
• পরোক্ষ: মনসুর বলল যে, সে ঢাকা যাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৪৯৬.
জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয়-
  1. নাট্যকার হিসেবে
  2. কবি হিসেবে
  3. পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে
  4. ঔপন্যাসিক হিসেবে
সঠিক উত্তর:
পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা। 

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
-বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৯৭.
'সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন সেন
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শামসুর রাহামান
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন কথাশিল্পী। ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভকরেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• শামসুর রাহমান বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখতে গিয়ে নানা ছদ্মনাম নিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে: সিন্দবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, মৈনাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৯৮.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. প্রবাসী
  2. হিতকর
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৯৯.
চর্যাপদে কয়টি পূর্ণ কবিতা আছে?
  1. ক) সাড়ে ছেচল্লিশটি
  2. খ) ছেচল্লিশটি
  3. গ) সাতচল্লিশটি
  4. ঘ) পঞ্চাশটি
সঠিক উত্তর:
খ) ছেচল্লিশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছেচল্লিশটি
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদ কতকগুলো পদ বা কবিতা বা গানের সংকলন।
- এতে ৪৬টি পূর্ণ কবিতা এবং একটি ছেঁড়া খণ্ডিত কবিতা রয়েছে।
- তাই এতে কবিতা রয়েছে সাড়ে ছেচল্লিশটি।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৮,৫০০.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. যশোর
  3. ফরিদপুর
  4. ঝালকাঠি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

• জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।