বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮৪ / ২১১ · ৮,৩০১৮,৪০০ / ২১,১৩২

৮,৩০১.
শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম। 

• মোজাম্মেল হক কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সময় পত্রিকায় প্রথম সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন; পরে শান্তিপুর রামনগর ভার্নাকুলার স্কুলে দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর এক বছর পর ১৮৮৭ সালে তিনি শান্তিপুর জুনিয়র জুবলি মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত হন। তামাচিকা বঙ্গ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবেও তিনি চাকরি করেন।

• মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। চল্লিশ বছর যাবৎ তিনি শান্তিপুর মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার ও কিছুকাল ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ত্রিশ বছর নদীয়া জেলা বোর্ডের শিক্ষা কমিটির সদস্য, বিশ বছর অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও কিছুকাল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৩০২.
'কুমুদিনী' - কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. শেষের কবিতা
  2. নৌকাডুবি
  3. গোরা
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'যোগাযোগ' উপন্যাস।

৮,৩০৩.
শহীদ কাদরীর সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও
  2. কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই
  3. গোধূলির গান
  4. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
সঠিক উত্তর:
গোধূলির গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোধূলির গান
ব্যাখ্যা

শহীদ কাদরীর সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- 'গোধূলির গান'। 
------------------------------------- 
• শহীদ কাদরী:
- শহীদ কাদরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি ও লেখক।
- কবি শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৪৭-পরবর্তী বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন ও আধুনিকতার নতুন রূপ প্রবর্তন করেন
- শহীদ কাদরী তার সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক লাভ করেছেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উত্তরাধিকার;
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা;
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও। 

তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘গোধূলির গান’ তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থটি তাঁর প্রয়াণের পর পাণ্ডুলিপি থেকে প্রকাশ করা হয়।  

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

৮,৩০৪.
’নবান্ন’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ 
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৎ।
 - তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে  পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন।
- তাঁর প্রথম নাটক আগুন (১৯৪৩) নাট্যভারতীতে অভিনীত হয়।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য: সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।
- তিনি নাট্য রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।

• তাঁর রচিত অন্য নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩০৫.
মঙ্গলকাব্য রচনার সময়কাল কত শতকের মধ্যে ছিলো বলে ধারণা করা হয়?
  1. ত্রয়োদশ থেকে ষোলো শতক
  2. পনেরো থেকে আঠারো শতক
  3. চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পনেরো থেকে আঠারো শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনেরো থেকে আঠারো শতক
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত,মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৩০৬.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে কোনটি তুলনীয়?
  1. ক) প্রকৃতির সৌন্দর্য
  2. খ) প্রকৃতির বিরুপতা
  3. গ) বসন্তের আমেজ
  4. ঘ) শীতের রিক্ততা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীতের রিক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীতের রিক্ততা
ব্যাখ্যা
কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে শীতের রিক্ততা তুলনীয়। তবে কবিতায় উল্লেখ আছে বসন্ত ঋতুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩০৭.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- এটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ২৩নং
  2. ৩৩নং
  3. ৬নং
  4. ৪৩নং
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যাপদের ৩৩নং পদটি হলো-
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'

অর্থ- লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩০৮.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।' এ গানের প্রথম সুরকার কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আসাদ চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের  গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
• ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩০৯.
‘যে তুমি হরণ করো’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া
- আবুল হাসান তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- যে তুমি হরণ করাে (১৯৭৪),
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।
- তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮);
- গল্প সংকলন: আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ (১৯৯০)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩১০.
বিদ্যাপতি কোন ভাষার পদাবলি রচনার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত?
  1. সংস্কৃত
  2. মৈথিলি
  3. ফারসি
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
মৈথিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈথিলি
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।

৮,৩১১.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting,
- The Sikh Gurus and the Sikh Society,
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art,

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৮,৩১২.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4.  ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
 ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
 
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৩১৩.
১৯২৭ সালে 'শিখা' পত্রিকাটি কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. বার্ষিক
  4. ত্রৈমাসিক
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক
ব্যাখ্যা

• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।

• 'শিখা' পত্রিকা সম্পর্কিত কিছু অতিরিক্ত তথ্য:
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩১৪.
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ) গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ) যৌথভাবে লিখেছেন মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

উল্লেখ্য, 
- অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থ লিখেছেন।

------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
-তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩১৫.
শহীদুল্লা কায়সার এর প্রকৃত নাম -
  1. আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মোহাম্মদ শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান  তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩১৬.
বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায় নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. অভিযান
  2. কবি
  3. হাসুলীবাঁকের উপকথা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
হাসুলীবাঁকের উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসুলীবাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- সপ্তপদী,
- আরোগ্য নিকেতন,
- চাপাডাঙ্গার বউ,
- একটি কালো মেয়ের কথা (সর্বশেষ উপন্যাস)।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'হাসুলীবাঁকের উপকথা' উপন্যাসে বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ তুলে ধরা হয়েছে।
- 'কবি' উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের এক ছেলের কবি হয়ে যাওয়া চিত্রিত করা হয়েছে।
- 'অভিযান' উপন্যাসে ট্যাকসি ড্রাইভারদের জীবন আর কালিন্দী উপন্যাসে জমিদার বাড়ির কাহিনি বিধৃত হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং সাহিত্য সাময়িকী।
৮,৩১৭.
’বাংলা সনেট’ রচনাবলি সম্পাদনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল কাদির
  4. আবুল মনসুর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
’বাংলা সনেট’ রচনাবলি সম্পাদনা করেন- আবদুল কাদির।

• আবদুল কাদির:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন  কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭),

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- ছন্দসমীক্ষণ (১৯৭৯),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত (১৯৮৫),
- যুগকবি নজরুল (১৯৮৬) ইত্যাদি।

• আবদুল কাদির বেশসংখ্যক রচনাবলি সম্পাদনার কৃতিত্ব অর্জন করেন,
যেমন:
- কাব্যমালঞ্চ (যুগ্মভাবে, ১৯৪৫),
- এয়াকুব আলী চৌধুরী রচনাবলী ,
- নজরুল রচনাবলী (৫ খণ্ড, ১৯৬৬-১৯৮৪),
- শিরাজী রচনাবলী ,
- কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলী ,
- আবুল হুসেন রচনাবলী,
- লুৎফর রহমান রচনাবলী,
- রোকেয়া রচনাবলী,
- বাংলা সনেট (১৯৭৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩১৮.
'রাজাবলি' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
- তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৩১৯.
বৈষ্ণব পদাবলি কোন চরিত্রের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত?
  1. লক্ষ্মী-নারায়ণ
  2. উমা-মহেশ্বর
  3. রাধা-কৃষ্ণ
  4. সীতা-রাম
সঠিক উত্তর:
রাধা-কৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধা-কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৩২০.
কোন সাহিত্যকর্মে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ আছে?
  1. পদাবলী
  2. গীতগােবিন্দ
  3. চর্যাপদ
  4. চৈতন্যজীবনী
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'

- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

----------------------
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৩২১.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত 'সারেং বৌ' গ্রন্থটির মূল উপজীব্য বিষয় কী?
  1. দরিদ্র গ্রামীণ জীবন
  2. নৌকা ভ্রমণ
  3. সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনী
  4. অফিস জীবন
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনী
ব্যাখ্যা
'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'সারেং বৌ' (১৯৬২)।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে
- উপন্যাসের প্রধার চরিত্র: কদম সারেং এবং তাঁর স্ত্রী নবিতুন।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ। শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩২২.
'নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল,
গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,
কাষ্ঠ, দগ্ধ হয়ে, করে পরে অন্নদান।'- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. কামিনী রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রজনীকান্ত সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
• 'নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল,
গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,
কাষ্ঠ, দগ্ধ হয়ে, করে পরে অন্নদান।' - পঙ্‌ক্তিগুলো রজনীকান্ত সেন রচিত 'পরোপকার' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• রজনীকান্ত সেন: 
- রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ভক্তি ও দেশপ্রেম।

• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি: 
- বাণী,
- কল্যাণী, 
- অমৃত, 
- অভয়া, 
- আনন্দময়ী, 
- বিশ্রাম, 
- সদ্ভাবকুসুম, 
- শেষদান, 
- পথচিন্তামণি এবং
- অভয় বিহার। 
এগুলির মধ্যে
- 'বাণী ও কল্যাণী' গানের সঞ্চয়ন,
- 'পথচিন্তামণি' একটি কীর্তনগ্রন্থ,
- আর 'অভয় বিহার' একটি গীতিকাব্য।

'পরোপকার'- কবিতা, 
---------------রজনীকান্ত সেন। 

নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল,
গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,
কাষ্ঠ, দগ্ধ হয়ে, করে পরে অন্নদান,
স্বর্ণ করে নিজরূপে অপরে শোভিত,
বংশী করে নিজস্বরে অপরে মোহিত,
শস্য জন্মাইয়া, নাহি খায় জলধরে,
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত-তরে।

উৎস: 'পরোপকার'- কবিতা, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩২৩.
নিচের কোনটি আবু ইসহাক রচিত নাটক-
  1. ক) স্মৃতিবিচিত্রা
  2. খ) মহাপাত্র
  3. গ) জাল
  4. ঘ) জয়ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) জয়ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
- আবু ইসহাক রচিত নাটক হচ্ছে- জয়ধ্বনি।  

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী
- পদ্মার পলিদ্বীপ
- জাল 
 গল্পগ্রন্থ:
- দুটিতহারেম ও
- মহাপাত্র। 
নাটক:
- জয়ধ্বনি। 
স্মৃতিচারণমূলক রচনা:
- স্মৃতিবিচিত্রা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮,৩২৪.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম কী ছিল?
  1. কালকূট
  2. মৌমাছি
  3. বনফুল
  4. যাযাবর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- বনফুল।

অন্যদিকে,
• বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম ছিল- মৌমাছি।
• সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম ছিল- কালকূট।
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- যাযাবর।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম: 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- নীল ‍উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় - হাবু শর্মা।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত - নীহারিকা দেবী। 
• বিমল মিত্র - জাবালি।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩২৫.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৩ সালে
  2. ১৮২৬ সালে
  3. ১৮১৮ সালে
  4. ১৮১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৩২৬.
‘রসকলি' - গল্প রচনা করেন কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- জলসাঘর, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩২৭.
'কেরি সাহেবের মুন্সী' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. রামরাম বসু
  2. প্রমথনাথ বিশী
  3. রাজশেখর বসু
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
প্রমথনাথ বিশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথনাথ বিশী
ব্যাখ্যা
• 'কেরী সাহেবের মুন্সী'- উপন্যাসটির রচয়িতা 'প্রমথনাথ বিশী'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- ১৭৯৩ থেকে ১৮১৩ সালের ইতিহাস এর কাঠামো।
- গ্রন্থটির মূল প্রেক্ষাপট হলো উইলিয়ম কেরি ও রামরাম বসুর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগের কলকাতা শহরের ইতিহাস ও ইংরেজ-বাঙালি সম্পর্কের জটিল সাংস্কৃতিক সম্পর্ক।
--------------------- 
প্রমথনাথ বিশী: 
- ১৯০১ সালের ১১ জুন নাটোরের জোয়াড়ি গ্রামে জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রমথনাথ ১৯১০ সালে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মবিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
- ১৯৫০ সালে প্রমথনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে যোগদান করেন।
- কেরী সাহেবের মুন্সী ও লালকেল্লা তাঁর দুটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালের ১০ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস ও গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- জোড়াদিঘির চৌধুরী পরিবার, 
- কেশবতী,
- গল্পের মতো গল্প,
- ডাকিনী,
- ব্রহ্মার হাসি,
- সিন্ধুদেশের প্রহরী,
- চলন বিল,
- অলৌকিক,
- কেরী সাহেবের মুন্সী।

উল্লেখ্য,
রামরাম বসু ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কারণ রামরাম বসু উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩২৮.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত' - উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেয়া?
  1. ক) কুহেলিকা
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) বাঁধন-হারা
  4. ঘ) শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
ক) কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ' নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়৷ এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে৷
নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে: 'ইহারা মায়াবিনীর জাত৷ ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে৷ ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩২৯.
'সমুদ্র বাসর' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
তার রচিত কয়েকটি উপন্যাসঃ
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩৩০.
'পথের দাবী' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী'।  

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
-  এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো হল: 
- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুন্ঠের উইল,
- দেবদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৩১.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতার নাম -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহসান হাবীব
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৩২.
'তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল' কাব্যের কবি -
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মহাদেব সাহা
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
মহাদেব সাহার রচিত কাব্য, 'তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল'। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
-এই গৃহ এই সন্ন্যাস
- মানব এসেছি কাছে
- কী সুন্দর অন্ধ
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস
- আমি ছিন্নভিন্ন
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৩৩.
'জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।' উক্তিটি কার?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তিঃ
- যে জাতি মানে বড় নয় সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৩৪.
কাজী নজরুল ইসলাম কত নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন?
  1. ১৯ নং 
  2. ২৮ নং 
  3. ৪৯ নং 
  4. ১১ নং 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৪৯ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৯ নং 
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮,৩৩৫.
'হাবেদা মরুর কাহিনী' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. কায়কোবাদ 
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

"হাবেদা মরুর কাহিনী" বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি ফররুখ আহমদ-এর একটি কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ফররুখ আহমদের কবিতায় মুসলিম রেনেসাঁর অনুপ্রেরণা, আরব-ইরানের ঐতিহ্য এবং ইসলামের আদর্শের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। "হাবেদা মরুর কাহিনী" কাব্যগ্রন্থেও এই ধারা পরিলক্ষিত হয়। 

-------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "হাবেদা মরুর কাহিনী" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

৮,৩৩৬.
'নামহীন গোত্রহীন' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন? 
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

" নামহীন গোত্রহীন" হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ।

• হাসান আজিজুল হক:

- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৩৭.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আমাদের শিক্ষা
  2. নানা কথা
  3. আহুতি
  4. রায়তের কথা
সঠিক উত্তর:
আহুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহুতি
ব্যাখ্যা

'আহুতি' প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:

- বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট, তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল' ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- চলিত রীতিতে তাঁর প্রথম গদ্যরচনা 'বীরবলের হালখাতা' (ভারতী পত্রিকায় প্রকাশ: ১৯০২)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৩৮.
কামিনী রায় রচিত নাট্যকাব্য কোনটি?
  1. অম্বা
  2. অশোক সংগীত
  3. আলো ও ছায়া
  4. দীপ ও ধূপ
সঠিক উত্তর:
অম্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্বা
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩৩৯.
'এ জগতে হায় সেই বেশি চায়, যার আছে ভুরি ভুরি।' কোন কবিতার অংশ?
  1. দেবতার গ্রাস
  2. বিদ্রোহী
  3. বৃক্ষ
  4. দুই বিঘা জমি
সঠিক উত্তর:
দুই বিঘা জমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বিঘা জমি
ব্যাখ্যা
• 'এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি'- চরণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।

• দুই বিঘা জমি:
- 'দুই বিঘা জমি' রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তগত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

কাহিনি সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে—‘দুই বিঘা জমি’। এক জমিদার মিথ্যা মামলা দিয়ে চুরি করে নিয়েছিল দরিদ্র উপেনের দুই বিঘা জমি। সর্বহারা হয়ে উপেন বহুদিন নানা জায়গা ঘুরেফিরে এসেছিল তার নিজ গ্রামে। সেই জমিতে, যা জমিদারবাবু মিথ্যা ডিক্রি জারি করে দখল করেছে, বলা যায় চুরি করেছে। উপেন তারই জমিতে আমগাছতলায় বসে ছিল। দুটো পাকা আম তার কোলের ওপর পড়লে জমিদারবাবু ও তার লোকজন হইহই শুরু করে। উপেনকেই চোর সাব্যস্ত করেছিল। দুঃখভারাক্রান্ত মনে উপেন বলেছিল, ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কিছু পঙ্‌ক্তি হলো:
- ‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে।'
- 'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বটে।’
- "এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি/ রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'দুই বিঘা জমি' কাব্য ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৪০.
'পদ্মাবতী' কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ধর্মীয়
  2. প্রেমাখ্যান
  3. রূপকথা
  4. পালা
সঠিক উত্তর:
প্রেমাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ। অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে-
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

---------------
• আলাওল রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৪১.
কোনটি শামসুদ্দীন আবুল কালাম উপন্যাস?
  1. অনেক দিনের আশা
  2. জলাঙ্গী
  3. সংশপ্তক
  4. কাশবনের কন্যা
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- 'কাশবনের কন্যা' শামসুদ্দীন আবুল কালাম সবচেয়ে বিখ্যাত ও মিথিক্যাল উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, হাসিকান্না, স্বপ্নকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি রচিত।
- প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। 'কাশবনের কন্যা' দ্বিতীয় মুদ্রণ করতে হয় প্রথম প্রকাশের মাত্র দুই বছর পরে এবং তৃতীয় মুদ্রণ হয় ১৯৬৮ সালে। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• গল্পগ্রন্থ:  অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নাই, দুই হৃদয়ের তীর, শাহের বানু।

অন্যদিকে, 
• 'সংশপ্তক' শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস। 
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস।
৮,৩৪২.
দোভাষী পুঁথি বলতে কি বোঝায়?
  1. ক) দুই ভাষার রচিত পুঁথি
  2. খ) কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষার রচিত পুঁথি
  3. গ) তৈরি করা কৃতিম ভাষার রচিত পুঁথি
  4. ঘ) আঞ্চলিক বাংলায় রচিত পুঁথি
সঠিক উত্তর:
খ) কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষার রচিত পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষার রচিত পুঁথি
ব্যাখ্যা
পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৮,৩৪৩.
'অবাক জলপান' শিশুসাহিত্যটি কার রচিত?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সুকুমার রায়
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়:
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়  তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৪৪.
চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) মুকুন্দদাস
  4. ঘ) মুক্তারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা

চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৯৩৪):
- জন্ম গ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বানারি গ্রামে।
- ১৯০২ - ১৯০৩ মধ্যে তাঁর রচিত শতাধিক গান “সাধন সংগীত” নামে প্রকাশিত হয়। সেই কাব্যগ্রন্থের গানে তিনি “মুকুন্দ” ভণিতা দিয়েছিলেন।
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন। সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।

৮,৩৪৫.
'ছড়ার আসর' শিশুতোষ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহসান হাবীব
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৪৬.
‘রঙ্গিলা নায়ের মাঝি’ এর লেখক হলেন -
  1. অতুলপ্রসাদ
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন
- এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন। সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীত:

- আজ আমার মনে ত না মানেরে, 
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে, 
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- উজান গাঙের নাইয়া, 
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া, 
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন হলো:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলন এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৪৭.
'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনা করেন-
  1. আব্দুল্লাহ আল-মুতী
  2. আব্দুল হাই
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা

'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনা করেন আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন।
- এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।

-----------------------
• আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন:
- জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৪৮.
'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটির রচয়িতা -
  1. আবুল হাসান
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ'  রচনা করেন 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ'।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- ১৯৫৬ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন। 
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• কবিতাটির কয়েকটি লাইন হলো:

আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে- এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে, মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার। আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম? একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতা।
৮,৩৪৯.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'' কাব্য কে রচনা করেন?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. শ্রীচৈতন্য দেব 
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

 শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য।
​- রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- খন্ডগুলি: জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড (রাধাবিরহ)।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতন্ডা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৫০.
'অক্টোপাস' শামসুর রাহমান রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'অক্টোপাস' উপন্যাস:
- 'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা - শামসুর রাহমান। ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফূরণ।

শামসুর রাহমান:

- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়ৎ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৫১.
জীবনানন্দ দাশের রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ধূসর পাণ্ডু লিপি
  2. মহাপৃথিবী
  3. ঝরা পালক
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
ঝরা পালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

• তাঁর রচিত  প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

৮,৩৫২.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অন্যজীবন
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. নাটকের অবসান
  4. প্রবাসের দিনগুলি
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় - একাত্তরের ঢাকা
- এটি সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনলিপি 'ফেরারী ডায়েরী' রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ
- গ্রন্থটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দিনলিপি নিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের আলোকে রচনা করেন 'ফেরারী ডায়েরী।''

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৫৪.
'প্রার্থনা' কবিতাটি কবি কায়কোবাদের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. অমিয়ধারা
  2. অশ্রুমালা
  3. মহররম শরীফ
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
অশ্রুমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা
• 'প্রার্থনা' কবিতাটি কবির 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

• কবিতার মূলভাব:
কবি এ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে, আপদে, সুখে, শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল সবই বিধাতাকে স্মরণ করে। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় জগতের সব কিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। তাঁর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। আমরা রিক্ত হস্তে পরম ভক্তি ভরে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানাই: হে প্রভু, আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও। আমরা যেন তোমার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

• কবি-পরিচিতি -কায়কোবাদ:
কায়কোবাদ ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী। প্রবেশিকা পর্যন্ত লেখাপড়া করে তিনি ডাকবিভাগে চাকরি নেন। অনেক দিন ধরে তিনি নিজগ্রাম আগলাতে পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। ছেলেবেলা থেকেই কবিতা লেখায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। তারপর আপন স্বভাবে তিনি ক্রমাগত লিখে গেছেন। তাঁর রচিত 'মহাশ্মশান' বিখ্যাত মহাকাব্য।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো- 
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- মহররম শরীফ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৩৫৫.
"চার-ইয়ারী কথা" গ্রন্থের গল্পগুলো প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী 
  2. পরিচয় 
  3. সাধনা 
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• "চার-ইয়ারী কথা" গল্পগ্রন্থ:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত "চার-ইয়ারী কথা" প্রথম প্রকাশিত হয় 'সবুজপত্র' পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিeরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা 'Tale of Four Friends' প্রকাশ করে বিশ্বভারতী।

- গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনি। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়। গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।

- সেসময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।

- প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: “প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।"

- সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্মকথায় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: চার-ইয়ারী কথা' গল্পগ্রন্থ।
৮,৩৫৬.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. সমাচার চন্দ্রিকা
  2. সমাচার দর্পণ
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র - 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫৭.
'গেরিলা' কবিতাটি শামসুর রাহমান রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ
  2. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  3. রৌদ্র করোটিতে
  4. বন্দী শিবির থেকে
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা
• 'গেরিলা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি' এবং 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' বিখ্যাত কবিতাগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫৮.
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো 'ওড্' জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৫৯.
গীতাঞ্জলি কাব্যটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি গীতাঞ্জলি কাব্যটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে song offerings নামে প্রকাশ করেন। কাব্যটির ভূমিকা লিখেন WB yets।

- আট বছর বয়সে ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''অভিলাষ'' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা।
- জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর বনফুল এবং ভারতী পত্রিকায় কবি-কাহিনী (১৮৭৮) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। 
- ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী।
-
 রবীন্দ্রনাথের ''ভিখারিণী'' গল্পটি (১৮৭৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- তাঁর প্রথম চলিত ভাষায় লেখা গ্রন্থ ইউরোপ-প্রবাসীর পত্র ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম জীবনে ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী কবি।
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এদুটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস রচনার প্রচেষ্টা।
- তার প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকিপ্রতিভা ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া। 

৮,৩৬০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জন্ম কত সালে?
  1. ১৮৬৩
  2. ১৯১৩
  3. ১৮৭৬
  4. ১৮৮০
সঠিক উত্তর:
১৮৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৭৬
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৬১.
প্রতিষ্ঠার পর থেকে 'শিখা' পত্রিকার মোট কয়টি সংখ্যা প্রকাশ পেয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৬২.
শওকত ওসমানের 'বনি আদম' উপন্যাসটি কোন সাহিত্য সাময়িকীতে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. দৈনিক আজাদ
  2. দৈনিক নবযুগ
  3. ক্রান্তি
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- শওকত ওসমানের উপন্যাস 'বনি আদম' ১৯৪৬ সালে দৈনিক আজাদের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- বনি আদম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৬৩.
বৃহৎবঙ্গ কে রচনা করেন?
  1. ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) চন্দ্রকুমার দে
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন গ্রাম বাংলার বিভিন্ন পুঁথি সংগ্রহ করে ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ - রচনা করেন। এটি ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। ‘বৃহৎবঙ্গ’ হচ্ছে সুপ্রাচীনকাল হতে পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে তার রচিত আরেকটি গ্রন্থ। তার সম্পাদিত গীতিকা ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ ও ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩৬৪.
কোনটি সৈয়দ আলী আহসান রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ?
  1. উচ্চারণ
  2. আমার প্রতিদিনের শব্দ
  3. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ - পদ্মাবতী

সৈয়দ আলী আহসান:

- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৬৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন সাহিত্যকর্মটি উপন্যাস নয়?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. খাঁচায়
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ শামসুল হকের লেখা কালজয়ী  মুক্তিযুদ্ধের কাব্যনাট্য ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
- ১৯৭৬ সালের ২৫ নভেম্বর, ঢাকার মহিলা সমিতি মঞ্চে প্রথম অভিনীত হয়েছিল কালজয়ী এ কাব্যনাট্য।
- যুদ্ধ চলাকালে একটি খণ্ড ঘটনা নিয়ে এই কাব্যনাট্যের কাহিনী।
- এই ঘটনায় স্বাধীনতা প্রাপ্তির কথা বলা হয়নি তবে জাতীয় পতাকা দিয়ে স্বাধীনতা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিসমাপ্তি টানা হয়েছে।
- মুক্তিযুদ্ধে জীবনদান করা বা জীবন বাঁচানোর কৌশল এই নাটকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- বাস্তবতা কত নির্মম ছিল ভয়াবহ সেই দিনগুলোয়, তার একটি চিত্র এখানে পাওয়া যায়।
এছাড়া, 
- রাইফেল রোটি আওরাত, হাঙর নদী গ্রেনেড ও খাঁচায় এই তিনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এগুলোর রচয়িতা যথাক্রমে আনোয়ার পাশা, সেলিনা হোসেন ও রশীদ হায়দার।

উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ। [লিঙ্ক]
৮,৩৬৬.
"ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে" গানটি কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. লালন শাহা
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে"- গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এটি তাঁর পূজা পর্বের অন্তর্গত একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত।  

• রবীন্দ্রনাথের অতি পরিচিত বিখ্যাত কয়েকটি গান ও পঙ্‌ক্তি হলো:
• বিপদে মোরে রক্ষা করো। 
• তোমার দুয়ার খোলার ধ্বনি।
• শান্ত হ রে মম চিত্ত । 
• গ্রহণ করেছ যত, ঋণী তত করেছ আমায়;
• তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি;
• আমি যে দেখেছি, গোপন হিংসা কপট রাত্রিছায়ে;
• বিপদে মোরে রক্ষা করো/এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৬৭.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত বলা হয় মধ্যযুগের কোন কবি কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. আলাওল
  4. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২-১৭৬০) বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার ও মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।

- ফরাসি কোম্পানির দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ভারতচন্দ্রের পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন। মহারাজা তাঁকে 'গুণাকর' অর্থাৎ 'সকল গুণের আধার' উপাধিতে সম্মানিত করেন।

- কবি প্রায়ই তাঁকে কবিতা শুনিয়ে আনন্দ দিতেন। মহারাজা তাঁর কবি প্রতিভায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে সতের শতকের কবি মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলের অনুকরণে অন্নদামঙ্গল রচনার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল রচনা করেন, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কাব্য। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এ কাব্য রচনা পড়ে খুশি হন এবং এতে বিদ্যা ও সুন্দরের কাহিনি সংযোজনের নির্দেশ দেন। কবি তাঁর এ নির্দেশ মেনে নেন এবং কৃষ্ণনগর পরিবারের একটি কাহিনিও এতে সংযোজন করেন।

- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে সভাকবি নিযুক্ত করেন এবং জমি দান করে মুলাজোরে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ভারতচন্দ্র সেখানে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত বসবাস করে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরীক্ষিত, রামতনু এবং ভগবান নামে তিন পুত্র রেখে যান।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগ সন্ধিক্ষণের কবি।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের কবি।
• আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৬৮.
'সবুজপত্র' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৬৯.
কার পদাঙ্ক অনুসরণ করে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের পুথি সংগ্রহে নেপালে যাত্রা করেন?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  3. রাহুল সংকৃত্যায়ন
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজেন্দ্রলাল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ আবিষ্কারের তথ্য: 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত সন্ধানেই নেপাল যাত্রা করে এ-পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 

- শাস্ত্রী মশায়ের পূর্বে, এ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে প্রথম প্রবৃত্ত হন- রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। সম্ভবত তিনিই প্রথম নেপাল যাত্রা করে সংস্কৃতে রচিত অনেকগুলি বৌদ্ধ ধর্ম' ও সাহিত্যের পুথি প্রাপ্ত হন এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে Sanskrit Buddhist Literature In Nepal নাম দিয়ে সে সবের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। 

• রাজেন্দ্রলাল মিত্রের পর তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেপালে পুথি সংগ্রহের চেষ্টায় যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ধর্ম ঠাকুরকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলে মনে করেছিলেন - 'নানা কারণে আমার সংস্কার হইয়াছিল যে, ধর্মমঙ্গলের ধর্মঠাকুর বৌদ্ধ ধর্মের শেষ'। শাস্ত্রী মশায়ের এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে অসার প্রমাণিত হয়েছে। তিনবার তিনি নেপালে যান, ১৮৯৭-৯৮ খ্রীষ্টাব্দে দুবার এবং শেষবার ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে।

- এই শেষবার তিনি ১৯০৭ সালে সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ আবিষ্কার করেন। তিনি  বলেন- নেপালে গিয়া আমি কয়েকখানি পুথি দেখিতে পাইলাম। একখানির নাম চর্য্যাচয্যবিনিশ্চয়, উহাতে কতকগুলি কীর্ত্তনের গান আছে ও তাহার সংস্কৃত টীকা আছে। গানগুলি বৈষ্ণবদের কীর্ত্তনের মত, গানের নাম চর্যাপদ।

অন্যদিকে,
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৩৭০.
'অমৃত উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'অমৃত উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা- সেলিম আল দীন। নিগ্রো সাহিত্য তাঁর রচিত প্রবন্ধ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৩৭১.
'কল্লোল' পত্রিকাটি প্রথম সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. দীনেশরঞ্জন দাশ
  3. মোজাম্মেল হক 
  4. সজনীকান্ত দাস 
সঠিক উত্তর:
দীনেশরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

• 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন: 
- অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত,
- শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়,
- বুদ্ধদেব বসু,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৭২.
'বিজয়া' শরৎচন্দ্রের কোন জাতীয় রচনা?
  1. ছোটগল্প 
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'বিজয়া' — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নাটক। 
- বিজয়া ‘দত্তা’ উপন্যাসের নাট্যরূপ।
-------------- 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত নাটক: 
- ষোড়শী,
- রমা,
- বিজয়া ইত্যাদি। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৭৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. কুসুম কুমারী দেবী
  4. সুলতানা কামাল
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

⇒ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  

- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৭৪.
‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) দিনলিপি
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
মেজর রফিকুল ইসলাম রচিত ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ (১৯৮১) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি লেখকের মূল গ্রন্থ 'A Tale of Millions' (১৯৭৪) এর অনুবাদ ।

তাঁর অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধগ্রন্থ:
১.  শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
2. একটি ফুলকে বাঁচাব বলে

উৎস: লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, মেজর রফিকুল ইসলাম
৮,৩৭৫.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' গ্রন্থটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পরিচয় পত্রিকায়
  2. সবুজপত্র পত্রিকায়
  3. ভারতী পত্রিকায়
  4. সাধনা পত্রিকায়
সঠিক উত্তর:
ভারতী পত্রিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী পত্রিকায়
ব্যাখ্যা
• 'বীরবলের হালখাতা':
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য/প্রবন্ধ রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

----------
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলো হলো:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
 -তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৭৬.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কাঁদো নদী কাঁদো (উপন্যাস)
  2. চার ইয়ারী কথা (প্রবন্ধ)
  3. বিসর্জন (নাটক)
  4. পথের দাবী (উপন্যাস)
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা (প্রবন্ধ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা (প্রবন্ধ)
ব্যাখ্যা
• চার ইয়ারী কথা:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো।
• পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। 
• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৭৭.
‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. দৌলত কাজী
  3. বিদ্যাপতি
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী:
- সতের শতকের কবি দৌলত কাজী 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার (রাজত্বকাল ১৬২২-৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৭৮.
'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- বিখ্যাত সংলাপটি কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।
 
• 'কবি' উপন্যাস:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪১)। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

----------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৭৯.
'জয়দেব' কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. আরাকান রাজসভা
  2. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. রাজা শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
রাজা লক্ষ্মণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) সংস্কৃত ভাষার কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।  ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্‌' রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৮০.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ বইটি নিচের কোন বইয়ের আলোকে রচিত হয়েছিল?
  1. চর্যাপদ
  2. ডাকার্ণব ও দোহাকোষ
  3. চর্যাপদ, ডাকার্ণব ও শূন্যপূরাণ
  4. ডাকার্ণব, দোহাকোষ ও চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
ডাকার্ণব, দোহাকোষ ও চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকার্ণব, দোহাকোষ ও চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

১৯০৭ সালে পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করে নিয়ে আসেন কয়েকটি অপরিচিত বই।
বইগুলোর একটি - চর্যাপদ। এর সাথে আরো দুটি বই হচ্ছে - ডাকার্ণব ও দোহাকোষ।
এই তিনটি গ্রন্থকে মিলিয়ে একসাথে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। এর অন্য নাম - চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চিয় বা চর্য্যাশ্চর্য্যবিনিশ্চয়

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৮,৩৮১.
পুঁথি সাহিত্যের প্রথম ও সার্থক জনপ্রিয় কবি ছিলেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. আলাওল 
  3. সাবিরিদ খান 
  4. ফকির গরিবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ফকির গরিবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরিবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি- ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০)  আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৮২.
আধুনিক যুগের কোন সাহিত্যিককে 'অবক্ষয়' যুগের কবিও বলা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  2. সজনীকান্ত দাস
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।

- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তে মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বা 'অবক্ষয় যুগ' এর কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৮৩.
'দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায়' পদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সরহপা
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) ঢেণ্ডণপা
  4. ঘ) কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
গ) ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬ টি। এগুলো হল- ১. আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)। ২. দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)। ৩. হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)। ৪. হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)। ৫. বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)। ৬. আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।
৮,৩৮৪.
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন না-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন আব্দুল কাদির, আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখ। আব্দুল হাকিম এর সাথে যুক্ত ছিলেন না। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং রোর বাংলা মিডিয়া)
৮,৩৮৫.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মানিকরাম
  2. ময়ূর ভট্ট
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. খেলারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ময়ূর ভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়ূর ভট্ট
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদিকবি ময়ূর ভট্ট।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
- লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৮৬.
‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
⇒ নির্মলেন্দু গুণের ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭০সালে প্রকাশিত হয়।
• এই কাব্যগ্রন্থের মধ্যে মানুষের সমষ্টিগত বোধ, জাতিগত নির্যাতন ও নিষ্পেষণ এবং তার প্রতিবাদের চেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।

 ⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৮৭.
'শকুন্ত উপাখ্যান' সিকান্দার আবু জাফর রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) কবিতা
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- নতুন সকাল ইত্যাদি‌।

তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজউদ্দৌলা,
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- মহাকবি আলাউল,
- মাকড়সা।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৮৮.
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে"- চরণটি কার লেখা?
  1. কালী প্রসন্ন ঘোষ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাস
  4. জসীম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা

বনলতা সেন - 
জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস: 
- মাল্যবান,
- সতীর্থ। 

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৮৯.
বাংলা গদ্য বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অবদান রয়েছে?
  1. ক) শ্রীরামপুর মিশন
  2. খ) সংস্কৃত কলেজ
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) হিন্দু কলেজ
সঠিক উত্তর:
গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
- ইংরেজ সিভিলিয়ানদের ভারতীয় ভাষা ও বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কলকাতার লালবাজারে ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ইংরেজদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলা গদ্য বিকাশে এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অবদান রয়েছে।

- ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

- ফোর্ট উইলিয়মে দূর্গটি ওয়ারেন হেস্টিংস এর শাসনামলে নির্মানকাজ শেষ হয়।
- ইংল্যন্ডের তৎকালীন রাজা ৪র্থ উইলিয়াম এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। 
- উইলিয়াম কেরী ছিলেন ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ এর অধ্যক্ষ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯০.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'র মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কে লিখেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
-  তীর্থরেণু, 
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৮,৩৯১.
নিম্নের চারটি মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. নীড় সন্ধানী
  3. নিশুতি রাতের গাথা
  4. নদী নিঃশেষিত হলে
সঠিক উত্তর:
নদী নিঃশেষিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী নিঃশেষিত হলে
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থ - নদী নিঃশেষিত হলে

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

আনোয়ার পাশা রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৭।
৮,৩৯২.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'- উক্তিটি প্রমথ চৌধুরী রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) নানা-কথা
  2. খ) আমাদের শিক্ষা
  3. গ) বই পড়া
  4. ঘ) রায়তের কথা
সঠিক উত্তর:
গ) বই পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বই পড়া
ব্যাখ্যা
• 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ। এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও
- গল্প সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা-কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৩.
দেশবিভাগের নির্মম পরিণতি বর্ণিত হয়েছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন গ্রন্থে?
  1. কাঁদো নদী কাঁদো
  2. একটি তুলসী গাছের কাহিনী
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. তরঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
একটি তুলসী গাছের কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি তুলসী গাছের কাহিনী
ব্যাখ্যা
⇒ 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্প:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
- 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটি “দুই তীর ও অন্যান্য গল্প “ গ্রন্থ থেকে নেয়া । 
- এই গ্রন্থের জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৬৫ সালে আদমজী পুরস্কার পান ।
- দেশভাগের সময় কলকাতা থেকে কিছু মুসলমান এদেশে এসে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এবং কিছু দিনের মধ্যে জানতে পারে বাড়িটি সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিত্যক্ত। এ বাড়ির লোকেরাও প্রাণভয়ে ভারকে পালিয়ে গেছে।
- বাড়িতে একটি তুলসী গাছ আবিষ্কার হয়। এরকম কাহিনি নিয়েই গল্পটি সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।
- এই গল্পে দেখা যায় দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও পরিস্থিতির কাছে জিন্মি হবার চিত্র। 

=============
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার। 
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৪.
'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনি কে রচনা করেছেন?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:

- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়, 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে।

জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- 'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ১৪ই মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত  কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।

• তাঁর উপন্যাস।
- 'বোবা কাহিনী'

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩৯৫.
ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) হেনরি লুই ডিরোজিও
  3. গ) জোশুয়া মার্শম্যান
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরী
সঠিক উত্তর:
খ) হেনরি লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা।

হেনরি লুই ডিরোজিও
- হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।


ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৬.
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা সর্বশেষ কবে পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ১৮৯০ সাল
  2. ১৯৩২ সাল
  3. ১৯০০ সাল
  4. ১৯৪০ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ সাল
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৭.
ফয়জুন্নেসাকে "নওয়াব" উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  2. লর্ড মিন্টো
  3. পঞ্চম জর্জ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা

নওয়াব ফয়জুন্নেসা:  
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া 'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।
- ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।
- ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৯৮.
'সংশপ্তক' উপন্যাস কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সংশপ্তক’ উপন্যাস:
- সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- তাই এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, মহুরতি, রমজান ইত্যাদি।

⇒ শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস 'সারেং বউ'। এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ, 
- সংশপ্তক, 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

- শহীদুল্লা কায়সার  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৯.
কোন পঞ্চপাণ্ডব কবির কাব্যভাষা ও ভাবধারায় টি. এস. এলিয়টের প্রভাব স্পষ্ট?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব কবি: 
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকের ৫ জন বিখ্যাত কবিকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়।
- তাঁরা হলেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু ও
- বিষ্ণু দে।

- তাদের মধ্যে বিষ্ণু দে'র কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে

• বিষ্ণু দে:

- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
  
» তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৪০০.
আহমদ শরীফের সম্পাদনা কোনটি?
  1. ক) মুসলিম কবির পদসাহিত্য
  2. খ) রানী খালের সাঁকো
  3. গ) অন্ধকার সিড়ি
  4. ঘ) সৃষ্টিরহস্য
সঠিক উত্তর:
ক) মুসলিম কবির পদসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুসলিম কবির পদসাহিত্য
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯) একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
তাঁর রচিত প্রবন্ধ- বিচিত্র চিন্তা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, বিশ শতকের বাঙালি, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, একালে নজরুল ইত্যাদি।
অধ্যাপক শরীফ মধ্যযুগের চল্লিশোর্ধ্ব কাব্যের পুথি সম্পাদনা করেছেন। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: আলাওলের তোহফা (১৯৫৮) ও সিকান্দরনামা (১৯৭৭), মুহম্মদ খানের সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ (১৯৫৯), মুসলিম কবির পদসাহিত্য (১৯৬১), আফজল আলীর নসিহতনামা (১৯৬৯), বাউলতত্ত্ব (১৯৭৩), সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ, রসুলচরিত (১৯৭৮) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া