• চণ্ডীমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
-------------------
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত।
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।
- এ কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো -
- ফুল্লরা, কালকেতু, ধনপতি, ভাড়ুদত্ত, মুরারী শীল৷ বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঠগ চরিত্র ভাড়ুদত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।
- অধিকাংশ চণ্ডীমঙ্গলে কাব্যের কাঠামো দেবখণ্ড ও নরখণ্ডে বিভক্ত।
- দেবখণ্ডে দেবী চণ্ডীর সতী ও পার্বতী রূপের পৌরাণিক আখ্যান বর্ণিত হয়।
- আর নরখণ্ডে ব্যাধ ও বণিক শ্রেণির মানবজীবনের কাহিনি স্থান পায়।
- আখেটিক খণ্ডে দেখা যায়—
- দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় স্বর্গচ্যুত নীলাম্বর মর্ত্যে কালকেতু নামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ছায়া দেবী ফুল্লরা রূপে আবির্ভূত হন।
- দরিদ্র ব্যাধ দম্পতির দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে চণ্ডীর কৃপায় গুজরাট নগরী প্রতিষ্ঠার কাহিনি এখানে বর্ণিত হয়েছে।
- অন্যদিকে বণিক খণ্ডে ধনপতি সদাগর ও তাঁর দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনার জীবনকাহিনি উঠে আসে।
- দেবী চণ্ডীর পূজা প্রচারের উদ্দেশ্যে ধনপতির সিংহল যাত্রা, সেখানে তাঁর বন্দিত্ব এবং শেষ পর্যন্ত চণ্ডীর অনুগ্রহে মুক্তিলাভ এই অংশের মূল ঘটনা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।