বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮৭ / ২১১ · ৮,৬০১৮,৭০০ / ২১,১৩২

৮,৬০১.
চর্যাপদের কোন কবির লেখনীতে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর কথা উল্লেখ আছে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কঙ্কণপা
  4. চাটিলপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি - ভুসুকপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৬০২.
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা কোনটি?
  1. বালক
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. পরিচয় 
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

অন্যদিকে, 
• কিশোর পত্রিকা "বালক" [১৮৮৫] স্বর্ণকুমারী দেবীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
• 'ভারতী' পত্রিকা: 'ভারতী' পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়। পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
• 'পরিচয়' পত্রিকা:  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিদিয়া। 

৮,৬০৩.
বাংলা গদ্যের পরিণত রূপ কোনটি?
  1. বিদ্যাসাগরীয় রীতি
  2. আলালী রীতি
  3. বঙ্কিমী রীতি
  4. বীরবলী রীতি
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমী রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমী রীতি
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি বাংলা গদ্যকে একটি কাঠামো দিয়েছেন।
- তাঁর এই রীতিকে বিদ্যাসাগরীয় রীতি বলা হয়, এবং এটি স্থায়ী হয়নি।
- পরবর্তীতে তাঁর এই রীতির বিরুদ্ধে প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালী রীতি, কালী প্রসন্ন সিংহের হুতোমী রীতি সৃষ্টি হয়।
- তবে এসব রীতিকে ছাড়িয়ে যায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বঙ্কিমী রীতি এবং এটি পরিণত রূপ পায়।
- বঙ্কিমী রীতিই বাংলা গদ্যের পরিণত রূপ।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম
৮,৬০৪.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' গ্রন্থটি মীর মশাররফ হোসেনের কোন ধরনের রচনা?
  1. আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত
মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬০৫.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প-
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. দুই সৈনিক
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প- জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে,
- ‘নেকড়ে অরণ্য’- শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।

• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,
• শওকত ওসমান রচিত নাটক: তস্কর নস্কর, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, আমলার মামলা।
• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ: ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৬০৬.
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিষের বাঁশি
  2.  ভাঙার গান
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয় - সর্বহারা।

• নিষিদ্ধ গ্রন্থ:
- নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো নিম্নরুপ:
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- প্রলয় শিখা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- যুগবাণী।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।

৮,৬০৭.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস?
  1. ক) স্মৃতির শহর
  2. খ) এলাটিং বেলাটিং
  3. গ) অক্টোপাস
  4. ঘ) নিজ বাসভূমে
সঠিক উত্তর:
গ) অক্টোপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্টোপাস
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি ছিলেন শামসুর রহমান (১৯২৯-২০০৬)।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' ও 'স্মৃতির শহর' তাঁর রচিত আত্মকাহিনী।
- 'নিজ বাসভূমে' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৬০৮.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম বাংলা নাটক হিসেবে নিচের কোনটি স্বীকৃত?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নূরজাহান
  3. বসন্তকুমারী নাটক
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী নাটক
ব্যাখ্যা

'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।
- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮,৬০৯.
'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. The Captive Ladie
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
The Captive Ladie
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Captive Ladie
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।

- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 

- মাদ্রাজে অবস্থানকালেই 'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie' (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

- পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। প্রথমটিতে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন এবং দ্বিতীয়টিতে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন।

- মধুসূদনের এ সময়কার অপর দুটি রচনা হলো 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) ও 'ব্রজাঙ্গনা' (১৮৬১)। প্রথমটি রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক এবং দ্বিতীয়টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।

- মধুসূদনের কাব্যে এক ধরনের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়। তারা পুরুষের নিকট নিজেদের ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ এবং কামনা-বাসনা প্রকাশে হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাঁর 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৬১০.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ব্যথার দান
  2. চিত্তনামা
  3. যুগবাণী
  4. রুদ্রমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চিত্তনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তনামা
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৬১১.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. গুলে বকাওলী
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

অন্যদিকে, 
--------------------
• 'চন্দ্রাবতী' কোরেশী মাগন ঠাকুরের অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ।
• 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি ইজ্জততুললাহ রচিত "তাজুউলমুলক গুল-ই- বকা-গুলি" এর অনুবাদ গ্রন্থ। ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত এই গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করেন 'কবি নওয়াজিশ খান'।
• হিন্দি কবি মনঝনের 'মধুমালত' বা সাধনের 'মৈনাসত' কাব্যের অনুসরণে মুহম্মদ কবীর বাংলায় রচনা করেন 'মধুমালতী'।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৮,৬১২.
কোন কবি প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) কবি আলাওল
  3. গ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. ঘ) দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
- শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।
- শাহ মুহম্মদ সগীর (আনু. ১৪শ-১৫শ শতক)  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৮,৬১৩.
"মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।"— এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

"অন্নদামঙ্গল" কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
-সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬১৪.
বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ‘পালামৌ’ কার রচনা?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- ‘পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা। 

‘পালামৌ’:
- 'পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনী।
- ‘পালামৌ’ ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পালামৌ বিহারের একটি স্থান।
- বিহারে অবস্থানকালে নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা অবলম্বনে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন।
- এই রচনাতেই তিনি অমর বাক্য সৃষ্টি করেন - “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
-------------------------------
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
-  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৪–১৮৮৯) ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও পণ্ডিত।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি একজন স্বশিক্ষিত মানুষ ছিলেন।
- নিজের উদ্যোগে অধ্যয়নের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইন বিষয়ে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
• যাত্রা সমালোচনা,
• কণ্ঠমালা,
• রামেশ্বরের অদৃষ্ট,
• মাধবীলতা,
• দামিনী, প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৬১৫.
“যে সব বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি” - বাঙলা ভাষা বিদ্বেষীদের উদ্দ্যশে করে কবি আবদুল হাকিম পঙক্তি কোন কাব্যে লিখেছেন?
  1. দূররে মজলিশ
  2. হানিফার লড়াই
  3. লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  4. নূরনামা
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
ব্যাখ্যা

বাঙলা ভাষাকে যারা অবজ্ঞা করতো আবদুল হাকিম তাদের উপর ক্ষেপেছিলেন।
এসব পরগাছাদের নিন্দা করে তিনি লিখেছেন অমর পঙক্তি।
সে পঙক্তিগুলো আছে তার নূরনামা কাব্যগ্রন্থে।

''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।
ন দেশি ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়,
নিজ দেশ ত্যাগী কেন বিদেশে ন যায়?
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি,
দেশি ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৮,৬১৬.
'নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা?'চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ''নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা?''- রামনিধি গুপ্তের বিখ্যাত টপ্পাগানের চরণ।

• রামনিধি গুপ্ত:
- রামনিধি গুপ্ত সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’ কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬১৭.
‘আন চাহন্তে আন বিনধা।’- চর্যাপদের প্রবাদ বাক্যটি কার রচনা?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাঙ্কণপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
কাঙ্কণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:

- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী(ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬১৮.
নিচের কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. ক) আমলার মামলা
  2. খ) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  3. গ) তস্কর লস্কর
  4. ঘ) পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
খ) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা
- 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক।
- অপশনের বাকি নাটকগুলোর রচয়িতা - শওকত ওসমান। 

• সেলিম আল দীন:
- বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।

• সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য।
- কেরামতমঙ্গল।
- কীর্তন খোলা। 
- হাতহদাই।
- শকুন্তলা।
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন।
- চাকা।
- যৈবতী কন্যার মন।
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

• শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক:
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬১৯.
'গ্রানাডার শেষ বীর' - কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৬২০.
গোপীচন্দ্রের কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় -
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. মহাভারত
  3. জায়সীর পদুমাবতে
  4. কৃষ্ণকুমারীতে
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
ব্যাখ্যা
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস:
- এই কাব্যের রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- গোপীচন্দ্রের কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় - জায়সীর পদুমাবতে। এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

শুকুর মাহমুদ:
- (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬২১.
বাংলায় কৃত্তিবাসকে রামায়ণ অনুবাদের অনুরোধ জানান-
  1. নাসিরুদ্দিন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন খলজী
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা অনুবাদ কাব্য সূচনা ঘটে ।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা ।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন ।

- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি ।
- তিনি তমসা নদীর তীরে বসে রামায়ণ রচনা করেন ।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৮,৬২২.
'আমার মাথার দিব্যি রইল,
এসব তুমি আর কখনো করো না'। - এটি কোন লেখকের গল্পের উক্তিটি?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না'। - উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিলাসী গল্পের।
- 'বিলাসী' গল্পটি মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। এটি 'ছবি' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৬২৩.
মীর মশাররফ হোসেনের ‘জমিদার দর্পণ’ নাটকের প্রকাশকাল কবে?
  1. ১৮৬৫
  2. ১৮৬৯
  3. ১৮৭৩
  4. ১৮৮৫
সঠিক উত্তর:
১৮৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৭৩
ব্যাখ্যা
• জমিদার দর্পণ:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ সালে।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের। 
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।  
 ----------------------------- 
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর, মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬২৪.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের প্রকাশিত গল্পের নাম কি?
  1. ক) হারেম
  2. খ) মহাপতঙ্গ
  3. গ) অভিশাপ
  4. ঘ) পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
গ) অভিশাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অভিশাপ
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
তিনি শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ, মাতা আতহারুন্নিসা।

- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
 - কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

 তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি
 - হারেম (১৯৬২) ও
 - মহাপতঙ্গ  (১৯৬৩)।

তিনি ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।  

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
৮,৬২৫.
ফররুখ আহমদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. কুষ্টিয়া
  3. মাগুরা 
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
মাগুরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগুরা 
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৬২৬.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. দারিকপা
  2. আর্যদেবপা
  3. শাস্তিপা
  4. কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
শাস্তিপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাস্তিপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- শাস্তিপা।

উল্লেখ্য,
- শান্তিপা ছিলেন চর্যাপদের কবি। 

-------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৬২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমনকাহিনী এবং উৎসর্গ সংকলন নিচের কোনটি?
  1. ক) ছিন্নপত্র
  2. খ) সঞ্চিতা
  3. গ) স্ফুলিঙ্গ
  4. ঘ) পারস্যে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পারস্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পারস্যে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৫২ টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩ টি উপন্যাস ও ৩৬ টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়।
পারস্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমনকাহিনী এবং উৎসর্গ সংকলন।
• স্ফুলিঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট কবিতার সংকলন ।
• ছিন্নপত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্র সংকলন।
• সঞ্চিতা  কাজী নজরুল ইসলামের লেখা লেখা কাব্যগ্রন্থ যা তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬২৮.
''পঞ্চতন্ত্র'' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সমরেশ বসু
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

'পঞ্চতন্ত্র' সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- এটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত এবং দুই পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে ৩৪টি ও দ্বিতীয় পর্বে ৩১টি; সর্বমোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- রচনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে ইত্যাদি।
- গ্রন্থটি রম্য ধরণের প্রবন্ধের সংকলন।

- সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য ধরণের আরেকটি গ্রন্থ - ময়ূরকণ্ঠী।

তার দুটি উপন্যাসঃ
- অবিশ্বাস্য
- শবনম

তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী - দেশে বিদেশ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৬২৯.
“কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন
তারির পদ-রজের রাগি লুটায় বৃন্দাবন।”- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
  5. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন,
তারির পদ-রজের রাগি লুটায় বৃন্দাবন।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘রুপাই’ শিরোনামে প্রকাশিত কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য,
- ‘রুপাই’ নামে কবি জসীমউদ্‌দীনের পৃথক কোনো কবিতা নেই। ‘নক্সী কাঁথার মাঠ‘ নামে কবির যে কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ‘রুপাই’ শিরোনামে খানিকটা কবিতা সংকলিত হয়েছে।

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

---------------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৩০.
'হৈমন্তী' কবিতার রচয়িতা -
  1. কালিদাস রায়
  2. বিষ্ণু দে
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'হৈমন্তী' কবিতার রচয়িতা - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
- এটি তাঁর 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা।

হৈমন্তী,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

বৈদেহী বিচিত্রা আজি সংকুচিত শিশিরসন্ধ্যায়
প্রচারিল আচম্বিতে অধরার অহেতু আকূতি:
অস্তগামী সবিতার মোঘমুক্ত মাঙ্গলিক দ্যুতি
অনিত্যের দায়ভাগ রেখে গেল রজনীগন্ধায় ||

ধূমায়িত রিক্ত মাঠ, গিরিতট হেমন্তলোহিত,
তরুণতরুণীশূন্য বনবীথি চ্যুত পত্রে ঢাকা,
শৈবালিত স্তব্ধ হ্রদ, নিশাক্রান্ত বিষণ্ণ বলাকা
ম্লান চেতনারে মোর অকস্মাৎ করেছে মোহিত ||

নীরব, নশ্বর যারা, অবজ্ঞেয়, অকিঞ্চন যত,
রুচির মায়ায় যেন বিকশিত তাদের মহিমা;
আমার সংকীর্ণ আত্মা, লঙ্ঘি আজ দর্শনের সীমা,
ছুটছে দক্ষিণাপথে যাযাবর বিহঙ্গের মতো ||

সহসা বিস্ময়মৌন উচ্চকন্ঠে বিতর্ক, বিচার,
প্রাণের প্রত্যেক ছিদ্রে পরিপূর্ণ বাঁশরীর সুর;
জানি মুগ্ধ মুহূর্তের অবশেষ নৈরাশে নিষ্ঠুর;
তবু জীবনের জয় ভাষা মাগে অধরে আমার ||

যারা ছিল এক দিন ; কথা দিয়ে, চ’লে গেছে যারা;
যাদের আগমবার্তা মিছে ব’লে বুঝেছি নিশ্চয়;
স্বয়ম্ভু সংগীতে আজ তাদের চপল পরিচয়
আকস্মিক দুরাশায় থেকে থেকে করিবে ইশারা ||

ফুটিবে গীতায় মোর দুঃস্থ হাসি, সুখের ক্রন্দন,
দৈনিক দীনতা-দুষ্ট বাঁচিবার উল্লাস কেবল,
নিমেষের আত্মবোধ, নিমেষের অধৈর্য অবল,
অখণ্ড নির্বাণ-ভরা রমণীর তড়িৎ চুম্বন ||

মোদের ক্ষণিক প্রেম স্থান পাবে ক্ষণিকের গানে,
স্থান পাবে, হে ক্ষণিকা, শ্লথনীবি যৌবন তোমার
বক্ষের যুগল স্বর্গে ক্ষণতরে দিলে অধিকার,
আজি আর ফিরিব না শাশ্বতের নিষ্ফল সন্ধানে ||

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উল্লেখ্য, 'হৈমন্তী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - কালিদাস রায় এবং 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৩১.
"মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়"- এই কাব্যাংশের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• "মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়"- এই কাব্যাংশটুকু জীবনানন্দ দাশের কবিতা 'মানুষের মৃত্যু হলে' থেকে নেয়া হয়েছে।

• মানুষের মৃত্যু হলে
- জীবনানন্দ দাশ। 

"মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব
থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে
প্রথমত চেতনার পরিমাপ নিতে আসে।
আজকের আগে যেই জীবনের ভিড় জমেছিল
তারা মরে গেছে;
অন্ধকারে হারায়েছে; (সংক্ষেপিত) 

- কবিতাটি  'জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা '(১৯৫৪) গ্রন্থ হতে গৃহীত।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তার মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থ।
৮,৬৩২.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কবিতার কথা
  2. খ) সাতনরী হার
  3. গ) অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. ঘ) মাটির দেয়াল
সঠিক উত্তর:
খ) সাতনরী হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাতনরী হার
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'সাতনরী হার'।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০), কমলের চোখ (১৯৭৪), আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১), সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩), আমার সময় (১৯৮৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১), আমার সকল কথা (১৯৯৩)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৬৩৩.
‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।’- পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্য্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানদাস': 
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

• বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

• তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৬৩৪.
‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত হন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ‘অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)’।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৩৫.
'ঠকচাচা' চরিত্রটি কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. লালসালু
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. সধবার একাদশী
  4. আলালের ঘরের দুলাল
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• 'ঠকচাচা' চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র।

• আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস : 
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
--------------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- আধ্যাত্মিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৩৬.
’পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কোন উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ?
  1. রজনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. মৃণালিনী
  4. কপালকুণ্ডলা 
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

• কপালকুণ্ডলা :
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস ।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য "রোমান্স বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন মৃন্ময়ী (১৮৭৪) ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত অন্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

৮,৬৩৭.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. গোরা
  2. আনন্দমঠ
  3. পথের দাবী
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।

- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত। মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কানো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৩৮.
শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে?
  1. ক) গৃহদাহ
  2. খ) বৈকুণ্ঠের উইল
  3. গ) নিষ্কৃতি
  4. ঘ) দত্তা
  5. ঙ) পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
ঙ) পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) পথের দাবী
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর তিনি একে একে বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য (১৯১৪), পরিণীতা (১৯১৪), বৈকুণ্ঠের উইল (১৯১৬), পল্লীসমাজ (১৯১৬), দেবদাস (১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), নিষ্কৃতি (১৯১৭), শ্রীকান্ত (৪ খন্ড, ১৯১৭-৩৩), দত্তা (১৯১৮), গৃহদাহ (১৯২০), দেনা-পাওনা (১৯২৩), পথের দাবী (১৯২৬), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) ইত্যাদি গল্প-উপন্যাস এবং নারীর মূল্য (১৯২৩), স্বদেশ ও সাহিত্য (১৯৩২) প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।

এগুলির মধ্যে শ্রীকান্ত, চরিত্রহীন, গৃহদাহ, দেনা-পাওনা এবং পথের দাবী খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর পথের দাবী উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।

শরৎচন্দ্রের মৃত্যুর পর শরৎচন্দ্র ও ছাত্রসমাজ, ছেলেবেলার গল্প, শুভদা (১৯৩৮), শেষের পরিচয় (১৯৩৯), শরৎচন্দ্রের গ্রন্থাবলী (১৯৪৮) এবং শরৎচন্দ্রের অপ্রকাশিত রচনাবলী (১৯৫১) প্রকাশিত হয়।

সোর্স: বাংলাপিডিয়া

৮,৬৩৯.
'শাক্তপদাবলি' রচয়িতা হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন -
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
শাক্তপদাবলি বা শাক্ত গান হলো বাঙ্গালির প্রাণের গান।
- শাক্তগানের বিষয় - শ্যমা, কালী বা উমাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- বাংলা শাক্তপদাবলির শ্রেষ্ঠ রচয়িতা - রামপ্রসাদ সেন। তিনি তাঁর নিজস্ব ঢঙে শাক্তপদ গাইতেন। এটি পরে 'রামপ্রসাদী সুর' বলে বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- এছাড়া অপর বিখ্যাত শাক্তপদকর্তা ছিলেন - কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
----------
- রামনিধি গুপ্ত ছিলেন - টপ্পা গানের পথিকৃৎ।
- দাশরথি রায় ছিলেন - বাংলার শ্রেষ্ঠ পাঁচালিকার।
- রজনীকান্ত সেন মূলত ভক্তিগীতি ও দেশপ্রেম মূলক গান রচনা করতেন। বঙ্গভঙ্গের সময় তিনি প্রচুর দেশপ্রেমমূলক গান রচনা করেন।
এছাড়া, চারণকবি ছিলেন - মুকুন্দ দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৪০.
‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের অচলার স্বামীর নাম কী?
  1. মহিম
  2. সুরেশ
  3. রমেশ
  4. সব্যসাচী
সঠিক উত্তর:
মহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিম
ব্যাখ্যা
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়। ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের অচলার স্বামীর নাম মহিম।

উল্লেখ্য,
ভালোবেসে মহিমকে বিয়ে করে অচলা সুখী হতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। শহুরে আধুনিকা অচলা গ্রামীণ পরিবেশে তার ভালোবাসার মহিমকে খুঁজে পায়নি। এ সুযোগে তার সাক্ষাৎ হয়েছে মহিমেরই ধনাঢ্য বন্ধু সুরেশের সঙ্গে। সেখান থেকেই মহিম-অচলার প্রেমত্রিভুজের আরেক কোণে যুক্ত হয় সুরেশ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কিছু উপন্যাসের চরিত্র: 
- চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ, সাবিত্রী, কিরণময়ী।
- 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র - রমা, রমেশ, বললাম, বেণী।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র - ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, গহর প্রমুখ।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
- 'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র - ভারতী, সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৪১.
কীর্তিচন্দ্র কর্তৃক চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদের নাম কী?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্যাচর্যগীতিকোষ
  4. চর্যাগীতি
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।

-------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি। উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি।

- প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- চর্যাপদের তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৬৪২.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি কত বঙ্গাব্দে সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৪৩.
চর্যাপদের কবি নন-
  1. ক) রমনীপাদ
  2. খ) কাহ্নপাদ
  3. গ) লুইপাদ
  4. ঘ) শান্তিপাদ
সঠিক উত্তর:
ক) রমনীপাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রমনীপাদ
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম পদ সংকলন তথা সাহিত্য নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন।  -চর্যাপদের প্রধান কবিগণ হলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ, শান্তিপাদ প্রমুখ।
- লুইপা বৌদ্ধধর্মের একজন মহাসিদ্ধ, কবি ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের রচয়িতা। চর্যাপদের প্রথম এবং ঊনত্রিশতম পদ লুইপার রচনা।
৮,৬৪৪.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন-
  1. ক) সুভাষ মজুমদার
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু। 
- তার কাব্যবৈশিষ্টকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  তাছাড়া তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি নামেও বিশেষায়িত করা হয়।
 
জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৪৫.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বেদের মেয়ে
  2. বোবা কাহিনী
  3. পল্লীবধূ
  4. গ্রামের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
বোবা কাহিনী:
- এটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৪৬.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের কার রচনা?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 
  3. গাজীউল হক
  4. আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে'- বিখ্যাত লাইনগুলোর রচয়িতা আব্দুল লতিফ।

• "ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়" গানটির/কবিতাটির রচয়িতা হলেন কিংবদন্তি গণসংগীত শিল্পী আবদুল লতিফ; এটি তাঁর লেখা এবং সুর করা একটি কালজয়ী গান, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আগে রচিত হয়েছিল এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
কথা: আব্দুল লতিফ
সুর: আব্দুল লতিফ

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়

-––––––––––––––––––
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য:
• চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
• ঢাকায় কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতির মিনার'।

ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অসংখ্য গান রচিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এবং গাজীউল হক রচিত 'ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না' – এই গান দুটি ভাষার চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে অমর করে রেখেছে। এছাড়া, ভাষা আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কবি-গীতিকার যেমন: শামসুল হক, শামসুর রাহমান প্রমুখের গান ও কবিতা রয়েছে যা এই আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রেখেছে। 

এছাড়া ভাষা আন্দোলনের সময় আরও অনেক গান রচিত হয়েছিল যা 'একুশে সংকলন' (১৯৫৩) এর মতো সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে অনেক কবি-গীতিকার অংশ নিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়' গান। 

৮,৬৪৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. এর উপায় কি?
  2. সধবার একাদশী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 'একেই কি বলে সভ্যতা'।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'এর উপায় কি?' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৪৮.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. খ) সাহিত্য ও ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. গ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
সঠিক উত্তর:
গ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 

ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত 
তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে  আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই
মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

 • মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা
- ভাষা ও সাহিত্য 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৪৯.
'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ড. আনিসুজ্জামান
  3. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
ড. আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন: 'ড. আনিসুজ্জামান'। 
- আনিসুজ্জামান স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনটি: ১. আমার একাত্তর (১৯৯৭) ; ২. কাল নিরবধি (২০০৩) ; ৩. বিপুলা পৃথিবী (২০১৫)।
'কাল নিরবধি'- তাঁর এক ধরনের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। 

------------------------ 
• আনিসুজ্জামান: 
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৫০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. মেঘনাদবধ
  3. মহাশ্মশান
  4. রৈবতক
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত “মেঘনাদবধ” একটি মহাকাব্য।

• মেঘনাদবধ:

- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের কাহিনি সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে।
- এটি মধুসূদনের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি, এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন

- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
‘বৃত্রসংহার’ হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
‘রৈবতক’  নবীনচন্দ্র সেন রচিত মহাকাব্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৫১.
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে সংকলিত বাংলা পুথি কোনটি?
  1. সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ
  4. ডাকার্ণব
সঠিক উত্তর:
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব।

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত।
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে।
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৬৫২.
‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
ব্যাখ্যা

‘ভদ্রার্জুন’ নাটক:
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।
- তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বছরে প্রকাশিত নাটক।
- এটি ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- এই নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,৬৫৩.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৩৮২ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ সালে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৫৪.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  3. কবর
  4. কী চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
কী চাহ শঙ্খচিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কী চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি (মাহবুব উল আলম চৌধুরী)।
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক হলো - মুনীর চৌধুরী রচিত - 'কবর'।
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ - সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
'কী চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।
- যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়।
- আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি। 

তথ্যসূত্র: The Daily Star বাংলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৬৫৫.
আবু জাফর শামসুদ্দীন এর সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. ক) হাসুলী বাঁকের উপকথা
  2. খ) দেয়াল
  3. গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনা
  4. ঘ) কমলের চোখ
সঠিক উত্তর:
খ) দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেয়াল
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ছিলেন।
‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৫৬.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন 
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• গদ্য রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পাঠ্যপুস্তক ও তর্ক-বিতর্কের বাহন হিসেবে প্রচলিত যে গদ্য বিদ্যাসাগরের চর্চায় শিল্প মাধ্যমের স্তরে উন্নীত হয়েছিল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর (১৮৩৮-৯৪) সাধনায় সে গদ্য শিল্পিত উপন্যাসের ধারক হয়ে উঠল। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্কিমচন্দ্র রচিত গদ্যে, যুগপৎভাবে উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্যরচনায় বাংলা গদ্যের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও ঐশ্বর্য সুপ্রমাণিত হল।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিম গদ্যচর্চার নতুন যে পথসন্ধান দিলেন, তাকে অনুসরণ করেই সৃষ্টিশীল গদ্যসাহিত্য উত্তরকালে বিকশিত হয়েছে। 

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে (উপন্যাস):
- দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫),
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬),
- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩),
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮),
- রাজসিংহ (১৮৮২),
- আনন্দমঠ ((১৮৮৪)। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৫৭.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি?
  1. ত্রয়োদশ শতক
  2. চতুর্দশ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. ষোড়শ শতক
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ শতক
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৬৫৮.
'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
গ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- অমিয় চক্রবর্তী। 
- এটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে। 

অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গে। 
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।
-  তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম
- উপহার
- খসড়া
- এক মুঠো
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত
- পারাপার
- পালাবদল
- ঘরে ফেরার দিন
- হারানো অর্কিড
- পুষ্পিত ইমেজ
- অমরাবতী 
- অনিঃশেষ 
- নতুন কবিতা 
- চলো যাই 
- সাম্প্রতিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৮,৬৫৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত "হেক্টরবধ" কাব্যটি কোন উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত?
  1. ভার্জিনের 'ইনীদ
  2. বাল্মীকীর 'রামায়ণ'
  3. হোমারের 'ইলিয়াড'
  4. গ্রীক পুরাণের হেক্টরবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
হোমারের 'ইলিয়াড'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমারের 'ইলিয়াড'
ব্যাখ্যা

• হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৬০.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  2. অদ্ভুত আঁধার এক
  3. রৌদ্র করোটিতে
  4. বিধ্বস্ত নীলিমা
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত আঁধার এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- কালের ধুলোয় লেখা,
- স্মৃতির শহর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৬১.
'জীবনজমিন' গল্পগ্রন্থটির গল্পকার কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. দিলারা হাশেম
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'জীবনজমিন' গল্পগ্রন্থটির গল্পকার - আলাউদ্দিন আল আজাদ
- এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। 
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। এটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৬২.
'মহাশ্মশান' কার লেখা?
  1. কায়কোবাদ
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
• কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
• প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

================
⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৬৩.
মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে জহির রায়হান রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. কয়েকটি মৃত্যু
  2. আর কতদিন
  3. শেষ বিকেলের মেয়ে
  4. বরফ গলা নদী
সঠিক উত্তর:
আর কতদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর কতদিন
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
• মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
• যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
• গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল।
• শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

• উপন্যাসটির চরিত্র: ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

---------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• ‘কাঁচের দেয়াল’ জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৬৪.
রামপ্রসাদ সেন কোন ধরনের গানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. রাজসঙ্গীত
  2. লোকগীতি
  3. শ্যামাসঙ্গীত
  4. ভজনগীতি
সঠিক উত্তর:
শ্যামাসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যামাসঙ্গীত
ব্যাখ্যা

রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৬৫.
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' কোন যুগের সাহিত্য?
  1. আধুনিক
  2. অন্ধকার
  3. প্রাচীন
  4. যুগসন্ধিক্ষণ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৬৬.
মধ্যযুগের কবি কে?
  1. শবরপা
  2. বাহরাম খান
  3. ভানুসিংহ ঠাকুর
  4. ঈশ্বর গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
⇒ দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন ।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
• লায়লী-মজনু ও
• ইমাম-বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। 

অন্যদিকে,
- শবরপা ছিলেন প্রাচীন যুগের চর্যাপদের একজন কবি।
- উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত। এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বা ঈশ্বর গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ আধিুনিক যুগের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৬৭.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত 
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন-
ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপটচন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, দিকশূণ্য ভট্টাচার্য, নবীনকিশোর শর্মণঃ, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা, শ্রীমতি মধ্যমা।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। সেগুলো হলো- অনিলা  দেবী, অপরাজিতা দেবী,শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, শ্রীকান্ত শর্মা ও পরশুরাম।

• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৬৮.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অমিয়ধারা
  2. বিরহবিলাপ
  3. মহাশ্মশান
  4. কুসুমকানন
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
ব্যাখ্যা

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৬৬৯.
মোসলেম ভারত প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯১৮
  2. খ) ১৯২০
  3. গ) ১৯২২
  4. ঘ) ১৯২৭
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২০
ব্যাখ্যা
- ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিখ্যাতি লাভের পশ্চাতে এই পত্রিকার বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল।
- ‘মোসলেম’ শব্দটি থাকলেও এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পত্রিকা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
অন্যদিকে,
- ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘সওগাত’ পত্রিকা।
- এর সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- ১৯২২ সালে কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ধূমকেতু’।
- ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয় ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র ‘শিখা’।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৭০.
‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাসের রচয়িতা - সেলিনা হোসেন।

• পোকামাকড়ের ঘরবসতি:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ। 

• সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৭১.
'বিদ্রোহী' কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র কোনটি?
  1. ধূর্জটি
  2. ইসরাফিল
  3. অর্ফিয়াস
  4. নটরাজ
সঠিক উত্তর:
অর্ফিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ফিয়াস
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) অর্ফিয়াস।

ব্যাখ্যা:
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতায় (১৯২১) বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পৌরাণিক চরিত্রের উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্নে প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র বলতে পশ্চিমা (ইউরোপীয়, বিশেষ করে গ্রিক বা রোমান) পৌরাণিক চরিত্র বোঝানো হয়েছে।

অপশনগুলো:
ক) ধূর্জটি: ধূর্জটি হলো হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র, শিবের একটি নাম, যার অর্থ ‘জটাধারী’। এটি প্রতীচ্য (পশ্চিমা) চরিত্র নয়, বরং ভারতীয় পৌরাণিক চরিত্র। 

খ) ইসরাফিল: ইসরাফিল ইসলামী ধর্মীয় বিশ্বাসে একজন ফেরেশতা, যিনি কিয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁ দিয়ে বিশ্বের শেষ ঘোষণা করবেন। এটি ইসলামী ঐতিহ্যের অংশ, যা প্রতীচ্য (গ্রিক বা রোমান) পৌরাণিক চরিত্র নয়। বিদ্রোহী কবিতায় ইসরাফিলের উল্লেখ আছে (“আমি ইস্রাফিলের শিঙার মহা হুঙ্কার”), কিন্তু এটি প্রতীচ্য চরিত্র নয়।

গ) অর্ফিয়াস: অর্ফিয়াস (Orpheus) হলো গ্রিক পৌরাণিক চরিত্র, যিনি একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ এবং বীণাবাদক। তিনি তার সঙ্গীত দিয়ে প্রকৃতি ও প্রাণীদের মুগ্ধ করতে পারতেন। বিদ্রোহী কবিতায় নজরুল লিখেছেন, “আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী” এই উল্লেখ স্পষ্টভাবে প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র অর্ফিয়াসকে নির্দেশ করে। 

ঘ) নটরাজ: নটরাজ হলো শিবের একটি রূপ, যিনি নৃত্যের দেবতা হিসেবে পরিচিত। এটি হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র, প্রতীচ্য নয়।

সুতরাং, বিদ্রোহী কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র হলো অর্ফিয়াস, যিনি গ্রিক পুরাণের একজন বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। কবিতায় নজরুল তাকে বিদ্রোহী চেতনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

তাই সঠিক উত্তর হলো গ) অর্ফিয়াস।

উৎস:
- কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা, সম্পূর্ণ পাঠ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সুকুমার সেন।
- নজরুলের কবিতায় পৌরাণিক প্রভাব, বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৭২.
"শিকল-পরার গান" - কে লিখেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শাহ আব্দুল করিম
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. শেখ ফজলল করিম 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• "শিকল-পরার গান" - লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।

শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম,

   এই  শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
   এই  শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল॥
  
তোদের  বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দি হতে নয়,
  ওরে  ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়।
   এই  বাঁধন পরেই বাঁধন-ভয়কে করব মোরা জয়,
   এই  শিকলবাঁধা পা নয় এ শিকলভাঙা কল॥
তোমার  বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্ব গ্রাস,
  আর  ত্রাস দেখিয়েই করবে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস।
  সেই  ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ,
 এবার  আনব মাভৈঃ-বিজয়মন্ত্র বলহীনের বল॥
---------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম।

৮,৬৭৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রলয়শিখা
  2. রিক্তের বেদন
  3. বাধন-হারা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
• 'রিক্তের বেদন'
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- মোট ৮টি গল্প নিয়ে ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় এই গ্রন্থ।
- বাউন্ডেলের আত্ম-কাহিনী, মেহের নেগার, দূরন্ত পথিক, সাঝের তাঁরা, রাক্ষুসি, সালেক, স্বামী হারা প্রভৃতি এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।
----------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৭৪.
'অশোক সঙ্গীত' কামিনী রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. সঙ্গীত গ্রন্থ 
  2. সনেট সংগ্রহ
  3. আত্মজীবনী
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
ব্যাখ্যা

'অশোক সঙ্গীত' কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৭৫.
'মৈনাসৎ' ও 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণে রচিত রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য। 
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।

- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের 'মৈনাসৎ' ও মোল্লা দাউদের 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।

- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৭৬.
'বিষ্ণু দে' নিচের কোন সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক ছিলেন?
  1. 'প্রগতি' সাহিত্যগোষ্ঠীর
  2. 'ধুমকেতু' সাহিত্যগোষ্ঠীর
  3. 'কল্লোল' সাহিত্যগোষ্ঠীর
  4. 'কবিতা' সাহিত্যগোষ্ঠীর
সঠিক উত্তর:
'কল্লোল' সাহিত্যগোষ্ঠীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'কল্লোল' সাহিত্যগোষ্ঠীর
ব্যাখ্যা
কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী:   
• ১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
• এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
• রবীন্দ্র-রোম্যান্টিক সাহিত্যের বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়। 
• বিষ্ণু দে 'কল্লোল' সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক ছিলেন।   

বিষ্ণু দে:   

• 'পরিচিয়' পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। 
• তাঁর প্রকাশিত পত্রিকা 'সাহিত্যপত্র'। 
 • বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। 
• তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। 

⇒ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: 
• উর্বশী ও আর্টেমিস, 
• চোরাবালি, 
• সাত ভাই চম্পা,
• তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
• সেই অন্ধকার চাই,  
• রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ,
• স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি। 

⇒ প্রবন্ধগ্রন্থ: 
• রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা,   
• সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
• মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা,  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৭৭.
বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয়যুগের সময় কাল-
  1. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতির প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৬৭৮.
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৬৭৯.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
  1. তুর্কি
  2. মোগল
  3. সেন
  4. পাল
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৮০.
'অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ইংরেজি অনুবাদক কে?
  1. ফকরুল আলম
  2. শমসের মবিন চৌধুরী
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. শেখ হাসিনা
সঠিক উত্তর:
ফকরুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকরুল আলম
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।
 
উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৮,৬৮১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক -
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. গ) চণ্ডীচরণ মুনশি
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক যারা ছিলেনঃ উইলিয়াম কেরি, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, তারিণীচরণ মিত্র, চণ্ডীচরণ মুনশি, রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়, রামকিশোর তর্কালঙ্কার।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৮,৬৮২.
'নবীবংশ' গ্রন্থটি কোন কবির রচনা?
  1. মুহম্মদ খান
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. আবদুল হাকিম 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

• 'নবীবংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা সৈয়দ সুলতান।

• 'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খণ্ড রসুল চরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

----------------
• সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনিকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো-
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৬৮৩.
'যত যত মহাপণ্ডিত আছ এ সংসারে/আমার কবিত্ব কেহ নিন্দিতে না পারে।'-এটি কার রচনা?
  1. কাশীরাম দাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
• 'যত যত মহাপণ্ডিত আছ এ সংসারে/আমার কবিত্ব কেহ নিন্দিতে না পারে।'- পঙ্‌ক্তিটি কৃত্তিবাস ওঝা করেছেন।

• কৃত্তিবাস পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তাঁর একটি দীর্ঘ আত্মপরিচিতি পাওয়া গেছে।
- এ আত্মপরিচিতিতে তিনি অনেক কথা বলেছেন। 
---------------------- 
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- বাল্মীকির রামায়ণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- তার এ রামায়ণকে শ্রীরাম পাঁচালিও বলা হয়।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়।
- ওঝা শব্দটি এসেছে ‘উপাধ্যায়' থেকে।
- কৃত্তিবাসের পদবি ছিল মুখোপাধ্যায়।
-  বাংলা রামায়ণের আদি কবির নাম কৃত্তিবাস ওঝা।
- কবির কাব্যের ‘আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।

- তাঁর রামায়ণ এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন। এ কারণে গোপাল হালদার মন্তব্য করেছেন, 'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।'
- কৃত্তিবাসের রামায়ণে চরিত্রসমূহ বাঙালি ঘরোয়া আমেজে সকলের পরিচিত হয়ে উঠেছে।
- মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।
৮,৬৮৪.
‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) সমরেশ বসু
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- কবিতাবিষয়ক ‘কবিতা’ পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

- পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• কবিতা বন্দীর বন্দনা,
• কঙ্কাবতী,
• দ্রৌপদীর শাড়ী,

উপন্যাস
• লাল মেঘ,
• রাতভর বৃষ্টি,
• পাতাল থেকে আলাপ ,
• গোলাপ কেন কালো;

গল্পগ্রন্থ
• অভিনয়, অভিনয় নয়,
• রেখাচিত্র,
• ভাসো আমার ভেলা।

নাটক
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,
- কলকাতার ইলেকট্রা, সত্যসন্ধ ;
• প্রবন্ধ: কালের পুতুল , সাহিত্যচর্চা  ইত্যাদি।

• তপস্বী ও তরঙ্গিণী নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া স্বাগত বিদায় কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৮৫.
জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. বনলতা সেন
  3. ঝরাপালক
  4. সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
ঝরাপালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরাপালক
ব্যাখ্যা

ঝরা পালক:
- 'ঝরাপালক' জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৭ সালে এটি প্রকাশিত হয়েছিল।
- কলকাতার সিটি কলেজে টিউটরের চাকুরী করার সময় জীবনানন্দ দাশ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য,
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

৮,৬৮৬.
'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ধর্মপূজাপদ্ধতি গ্রন্থ
  2. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য
  3. চৈতন্যজীবনীমূলক গ্রন্থ
  4. হিন্দু ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ধর্মপূজাপদ্ধতি গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপূজাপদ্ধতি গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ শূন্যপুরাণ:
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গ্রন্থটির প্রথম পাঁচটি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয় এটি সকল সৃষ্টিতত্ত্ব বর্ণনায় মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব লক্ষকরা যায়। বাকি সব কয়টি অধ্যায়েই বিভিন্ন ও বিচিত্র রকমের ধর্মপূজার পদ্ধতি বিশ্লেষণে পূর্ণ।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৮৭.
মধ্যযুগের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. গুলে বকাওলী
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
‘সারদামঙ্গল’ কাব্য:
• ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ রচনা।
• এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন।
• রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

অন্যদিকে,
'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় রচিত হয়।

'পদ্মাবতী' কাব্য:
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৮৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গৃহদাহ
  2. খ) দেনা পাওনা
  3. গ) চরিত্রহীন
  4. ঘ) পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথের দাবী
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো পথের দাবী যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
বড়দিদি (১৯১৩) তার প্রথম উপন্যাস।
চার খণ্ডের শ্রীকান্ত তার আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
প্রথাবর্হিভূত সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস হলো চরিত্রহীন।
গৃহদাহ ত্রিভূজ প্রেমের উপন্যাস।
দেনা পাওনা বাংলার নারীদের প্রতি অবিচার ও পণপ্রথা নিয়ে রচিত।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

৮,৬৮৯.
'নদের চাঁদ', 'হুমরা বেদে' চরিত্র দুটি কোন পালায় পাওয়া যায়?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. ভেলুয়া
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
-  ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
- এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৬৯০.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাত।' - কোন কবির সাহিত্যে এ প্রার্থনাটি ধ্বনিত হয়েছে?
  1. ঈশ্বরী পাটনী
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র- মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি। 
-----------------
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।
------------------- 
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো: 
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৯১.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
•  'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

• 'সংস্কৃতি' নামে আরও কিছু গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা - ড. আহমদ শরীফ। 
- সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই - শওকত ওসমান। 
- সংস্কৃতির রুপান্তর - গোপাল হালদার। 
- 'সংস্কৃতির সংকট' - 'বদরুদ্দীন উমর'।
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৯২.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) স্মৃতিকথা
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)।
প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),
- Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩),
- সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭),
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৮,৬৯৩.
‘বইপড়া’ কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- প্রমথ চৌধুরী রচিত বইপড়া 'প্রবন্ধ' জাতীয় রচনা। 

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৯৪.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. শেষ লেখা
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষ লেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ লেখা
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এটির নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেন নি।
- অধিকাংশ রচনা তাঁর জীবনের শেষ কয়েকদিনে রচনা।
- কয়েকটি কবিতা মুখে মুখে রচিত। 

'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প - শেষ কথা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস - শেষের কবিতা।
- শরৎচন্দ্রের উপন্যাস - শেষ প্রশ্ন ও শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৯৫.
বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের বাংলা গদ্য:
বাংলা গদ্যে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।

বংলা গদ্যের সূচনা ও বিকাশ:
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পরবর্তীতে পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

উল্লেখ্য, 
বাংলা গদ্যের মূল বিকাশ ঘটে উনিশ শতকে।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে "ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ" ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে তাঁর সহকর্মীরা সংস্কৃত-প্রভাবিত ভাষায় তাঁদের গ্রন্থগুলি রচনা করেছিলেন। এসব গ্রন্থ ছিল ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের ছাত্রদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক। 

অন্যদিকে,
দুর্গেশনন্দিনী - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস (১৮৬৫)।
চণ্ডীমঙ্গল - মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন - মধ্যযুগের কাব্য সাহিত্যের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৬৯৬.
'ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) হাছন রাজা
  4. ঘ) লালন শাহ
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু' গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- এটি রবীন্দ্রনাথের 'গীতালি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
গানটি নিম্নরূপ- 

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু
রবীন্দ্র সংগীত

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥
এই-যে হিয়া থরোথরো কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥
এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায় শুকায় মালা পূজার থালায়,
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

উৎস: 'গীতালি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৮,৬৯৭.
"মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি ________ , আমি ধ্বংস।"
  1. ঝড়
  2. সাইক্লোন
  3. তুফান
  4. বজ্র
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

তিনি লিখেছেন- 

বল বীর -
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুৰ্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!

------------------------
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৮,৬৯৮.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' গ্রন্থটি  রচনা করেছেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:

- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৯৯.
কাজী নজরুল ইসলামের কবর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আজিমপুর কবরস্থানে
  2. খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
  3. গ) জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে
  4. ঘ) মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
ব্যাখ্যা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ২৯ শে আগস্ট, ১৯৭৬: সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৭০০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সওগাত
  2. খ) নবযুগ
  3. গ) বঙ্গবাণী
  4. ঘ) কল্লোল
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবাণী
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। এর কাহিনীর পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- নিঃসন্দেহে এই কাহিনীতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবের আন্তরিক সমর্থন আছে। গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।
- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতা আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা’ এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে।
- উপন্যাসটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।