বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩৪ / ২১১ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ২১,১৩২

৩,৩০১.
'আমার প্রতিদিনের শব্দ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. আবু ইসহাক 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• 'আমার প্রতিদিনের শব্দ' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩০২.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. সিন্ধু হিন্দোল
  3. যুগবাণী
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

‘যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘যুগবাণী' ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রবন্ধের বই।
• প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে (২৩শে নভেম্বর, ১৯২২) সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা ওঠে যায়।
• এই প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলো হলো: নবযুগ, ধর্মঘট, সত্য-শিক্ষা, ভাব ও কাজ, জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাগরণী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ।
• প্রবন্ধগুলোতে স্বদেশি চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে, 
-----------------
• ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস: 
- ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা। 
- কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন।
- ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন।
- এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে।

• 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ:
- কজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু হিন্দোল' হলো প্রেমের কাব্য।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো- গোপন প্রিয়া; অনামিকা; বিদায়-স্মরণে; পথের স্মৃতি; উন্মনা; দারিদ্র্য; বাসন্তী; ফাল্গুনী; বধূ-বরণ; রাখী-বন্ধন; চাঁদনী রাতে; মাধবী-প্ৰলাপ ইত্যাদি।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস। 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধগ্রন্থ।

৩,৩০৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. পঞ্চভূত
  2. কালান্তর
  3. শিক্ষা
  4. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
• 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ নয়।
• 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ রচনা করেছেন - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ:
- সভ্যতার সংকট
- কালান্তর
- পঞ্চভূত, 
- বিবিধ প্রবন্ধ, 
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- শিক্ষা
- মানুষের ধর্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৪.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কোন ধরনের কবি হিসেবে খ্যাত?
  1. প্রতিবাদী কবি
  2. রোমান্টিক কবি
  3. প্রাকৃতিক কবি
  4. ধর্মীয় কবি
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাদী কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাদী কবি
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ 
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে।
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত।
- প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- মানুষের মানচিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,৩০৫.
বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র ও সমর সেন কোন পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কালিকলম
  2. প্রগতি
  3. কবিতা
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• কবিতা (সাহিত্য পত্রিকা):
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

অন্যদিকে,
• 'প্রগতি' একটি সাহিত্য পত্রিকা। ১৯২৭ সালে বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• ‘কালিকলম’ সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত হয়।

• ১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৬.
রাজা রামমোহন রায় কোন পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) সমাচার চন্দ্রিকা
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত-উল- আখবার
  4. ঘ) ব্রাহ্মণসেবধি
সঠিক উত্তর:
ক) সমাচার চন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমাচার চন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় সম্বাদ কৌমুদী।
- এর সম্পাদক ছিলেন - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশক - তারাচাঁদ দত্ত।
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত অন্য দুটি পত্রিকা- 
- ব্রাহ্মণসেবধি (১৮২১), 
- পারসি ভাষায় মিরাত-উল- আখবার। 

অন্যদিকে,
রাজা রামমোহন রায়ের মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে ১৮২২ সালের ৫ ই মার্চ ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত হয় পত্রিকা সমাচার চন্দ্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০৭.
আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. চর্যাগীতিকা
  2. নতুন চর্যাপদ
  3. বাঙালীর ইতিহাস 
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ: 
- আনোয়ার পাশা (১৯২৮-১৯৭১) ও মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯) ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক। 
- তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। 
- তারা যৌথভাবে প্রাচীনযুগের চর্যাপদ বিষয়ক চর্যাগীতিকা নামক সাহিত্যকর্ম সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।
- তাদের যৌথ কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চর্যাগীতিকার একটি বিশেষ সংস্করণ;
-  যা মূলত চর্যাপদের আধুনিক ও সহজবোধ্য রূপে পুনঃসংকলন।
- এছাড়া তারা মধ্যযুগের চারটি বাংলা মহাকাব্যও সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
------------------------------------ 

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন। 
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- চর্যাপদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষক ও প্রকাশনা:

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ – “Buddhist Mystic Songs” গ্রন্থের রচয়িতা।\
• মনীন্দ্রমোহন বসু – চর্যাপদের প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করে।
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই – “চর্যাগীতিকা” যৌথভাবে সম্পাদনা।
• সৈয়দ মুহম্মদ শাহেদ – “নতুন চর্যাপদ” প্রকাশ।
•“বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)” – ড. নীহাররঞ্জন রায়। 
• “History of Ancient Bengal” – রমেশচন্দ্র মজুমদার।


উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর। 

৩,৩০৮.
”সোনালী কাবিন”- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. আল মাহমুদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'।
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৯.
অন্ধকার যুগের অন্যতম সাহিত্য নিদর্শন 'সেক শুভোদয়া' কে রচনা করেছেন?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. হলায়ুধ মিশ্র
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগের অন্যতম সাহিত্য নিদর্শন 'সেক শুভোদয়া' রচনা করেছেন - হলায়ুধ মিশ্র।

'সেক শুভোদয়া':
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।
- অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩১০.
বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে কোন মঙ্গলকাব্যে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়-বণিক খণ্ড। অন্যান্য মঙ্গলকাব্যে একটি মাত্র কাহিনি রয়েছে। 

• প্রথম খণ্ড: আক্ষেটিক খণ্ড বা ব্যাধ কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান'।প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
• দ্বিতীয় খণ্ড: বণিক খণ্ড বা ধনপতি সওদাগরের কাহিনি।দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৩১১.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - উক্তিটি কোন নাটকের?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. চিঠি
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১২.
‘মহররম শরীফ' মহাকাব্যোচিত কাহিনি কাব্যটি কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• ‘মহররম শরীফ' কবি কায়কোবাদের মহাকাব্যোচিত বিপুল আয়তনের একটি কাহিনি কাব্য।
- ‘মহররম শরীফ’ কাব্যটি (১৯৩৩) সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৩.
চলচ্চিত্র বিষয়ক সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল
  2. নবযুগ
  3. বিজলী
  4. বিচিত্রা
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা

• 'বিজলী' পত্রিকা:
- বিজলী ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশিত চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা, যার উদ্যোক্তা নলিনীকান্ত সরকার, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, শচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত, অরুণ সিংহ এবং দীনেশ রঞ্জন দাস।
- এর সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন নলিনীকান্ত সরকার ও প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।
- এই পত্রিকায় ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি, ২২ পৌষ ১৩২৮ বঙ্গাব্দ শুক্রবারে প্রথম কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী" কবিতা প্রকাশিত হয়। সে সময় পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলো নলিনীকান্ত সরকার।
- ঐদিন বিজলী পত্রিকা দুই বার ছাপতে হয়েছিল, যার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজার মুজাফফর আহমদের কাছ থেকে জানা যায়, সেদিন কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ বিদ্রোহী পড়েছিল।

অন্যদিকে, 
• 'লাঙল' পত্রিকা:
লাঙল (১৯২৫) বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত একটি বিখ্যাত বামপন্থী-সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ পার্টির মুখপত্র হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫-এ আত্মপ্রকাশ করে।  

• 'নবযুগ' পত্রিকা:
নবযুগ ছিল কলকাতা থেকে ১৯২০ সালে প্রকাশিত একটি সান্ধ্য দৈনিক রাজনৈতিক পত্রিকা, যা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ যুগ্ম সম্পাদনা করেন, যা ব্রিটিশ বিরোধী লেখা ও গণজাগরণের জন্য বিখ্যাত ছিল, পরে ব্রিটিশ সরকার এটি বন্ধ করে দেয়। 

• 'বিচিত্রা' পত্রিকা:
সাপ্তাহিক বিচিত্রা বাংলাদেশের একটি অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক বাংলা পত্রিকার সহযোগী প্রকাশনা হিসাবে এটি আত্মপ্রকাশ করে। তখন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের প্রধান জনপ্রিয় পত্রিকা হিসাবে চালু ছিল। আলমগীর রহমান, শাহরিয়ার কবির, শাহাদাত চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আতিকুর রহমান প্রমুখ সাংবাদিক এই পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন।

বিচিত্রা ও সচিত্র সন্ধানী বাংলাদেশে সর্বপ্রথম প্রতি বছর ঈদ সংখ্যায় উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ করে। ঈদ সংখ্যায় ছয়-সাতটি উপন্যাস প্রকাশিত হতো। স্বল্পমূল্যে প্রকাশিত উপন্যাস পড়ার এই সুযোগ জনপ্রিয়তা পায়। তরুণ হুমায়ূন আহমেদের ‘নন্দিত নরেক’ উপন্যাস সাপ্তাহিক বিচিত্রার ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বিজলী' পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৩১৪.
'শ্যামলী' - কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন।
- এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৩১৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ- 
  1. কালান্তর
  2. পঞ্চভূত
  3. মানুষের ধর্ম
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর (১৯৩৭),
- পঞ্চভূত (১৮৯৭),
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম (১৯৩৩)।
--------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'হিন্দুমেলার উপহার'।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরাণীর হাট’৷
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'৷
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধপ্রসঙ্গ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,৩১৬.
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত গল্প কোনটি?
  1. পদ্মগোখরা
  2. পদ্মপুরাগ
  3. পদ্মাবতী
  4. পদ্মরাগ
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।

• গল্পগ্রন্থ 'শিউলিমালা':
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান,
- শিউলিমালা, 
- রিক্তের বেদন।

অন্যদিকে,
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩১৭.
'এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা -
  1. কায়কোবাদ
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন

'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীম উদ্‌দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- জসীমউদ্‌দীন এর ছাত্রাবস্থায় কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।

কবর,
- জসীম উদ্‌দীন

এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।
------------------------------------------
ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে,
এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে
মজীদ হইছে আজান হাঁকিছে বড় সকরুণ সুর,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দুর!
জোড়হাতে দাদু মোনাজাত কর্, ‘আয় খোদা, রহমান,
ভেস্ত নাজেল করিও সকল মৃত্যু-ব্যথিত প্রাণ!’

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৮.
সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কালিকলম’ এর সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. মুরলীধর বসু
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৯.
“এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।”
পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

“সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।”

পঙ্‌ক্তিগুলো কবি জসীমউদ্দিনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। জসীমউদ্দিন কলেজজীবনেই ‘কবর’ কবিতাটি রচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৩২০.
‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি আশরাফ সিদ্দিকীর কোন সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে নির্মিত?
  1. ক) গুনীন
  2. খ) বিষকন্যা
  3. গ) আরশিনগর
  4. ঘ) গলির ধারের ছেলেটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গলির ধারের ছেলেটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গলির ধারের ছেলেটি
ব্যাখ্যা
আশরাফ সিদ্দিকী (১৯২৭-২০২০): বাঙালি সাহিত্যিক যিনি একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্যিক, এবং শিশু সাহিত্যিক।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম- কাব্যগ্রন্থ: তালেব মাষ্টার ও অন্যান্য কবিতা (১৯৫০), সাত ভাই চম্পা (১৯৫৩), বিষকন্যা (১৯৫৫), উত্তরের তারা, বৃক্ষ দাও, ছায়া দাও (১৯৮৪), দাঁড়াও পথিক বর (১৯৯০), সহস্র মুখের ভিড়ে (১৯৯৭) প্রভৃতি।
গল্পগ্রন্থ: রাবেয়া আপা (১৯৬৫), গলির ধারের ছেলেটি (১৯৮১), শেষ নালিশ (১৯৯২) প্রভৃতি।
লোকসাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ: লোকসাহিত্য (১৯৬৪), কিংবদন্তীর বাংলা (১৯৭৫), শুভ নববর্ষ (১৯৭৭), লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮), আবহমান বাংলা (১৯৮৭) প্রভৃতি।
উপন্যাস: শেষ কথা কে বলবে (১৯৮০), আরশিনগর (১৯৮৮), গুনীন (১৯৮৯)।
‘গলির ধারের ছেলেটি’ গল্পের অবলম্বনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা]
৩,৩২১.
নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম কী?
  1. সঙ্গীতসার
  2. রূপজালাল
  3. সঙ্গীতলহরী
  4. মুসলিম বন্ধু
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
ব্যাখ্যা

নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত আত্মজীবনীমূলক রূপক গ্রন্থের নাম হচ্ছে রূপজালাল। 

• রূপজালাল:
- রূপজালাল নওয়াব ফয়জুননেসা-র গদ্য ও পদ্য ছন্দে রচিত আত্মজীবনী ও কল্পকাহিনীমূলক একটি গ্রন্থ।
- এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।

নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩)
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারী পাওয়ার আগে থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ ও দীন-দরিদ্রের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন।
- নারী শিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি হিসেবেও পরিচিত।
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন, যা বাংলার প্রথম নারী হিসেবে এই উপাধি লাভের সম্মান।
- বাংলা পত্রপত্রিকা যেমন বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতির আর্থিক সহায়তা লাভ করেছেন।
- সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত; তাঁর রচিত রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের মাধ্যমে আত্মজীবনীমূলক রচনা, যাতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী প্রকাশ পেয়েছে।
- এছাড়া তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩২২.
'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক কে?
  1. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
  2. আলি আহমদ
  3. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
  4. পঞ্চানন মণ্ডল
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
ব্যাখ্যা
• 'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক - নলিনীকান্ত ভট্টশালী

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য। 
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। 
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং 
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। 
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন। 
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৩.
'নয়ন ঢুলি' ছোটগল্পের রচয়িতা হলেন-
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েনউদ্দীন কথাসাহিত্যিক।
পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ন ঢুলি 
- খরস্রোত 
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্ঠপ্রহর 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩২৪.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - এর রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আবদুল লতিফ
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার ।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৫.
"চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ"- ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে এটি কে প্রথম প্রমাণ করেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. ড. মুহম্মদ আব্দুল হাই 
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলাে-আঁধারী' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

"চর্যাপদের ভাষার বিশ্লেষণ সম্পর্কিত তথ্য:
⇒ বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 

⇒ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
- ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

⇒ ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 

⇒ ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
⇒ ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
⇒ বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি; বাংলাপিডিয়া।

৩,৩২৬.
'ধান্য তার বসুন্ধরা যার' এ উক্তিটি কার?
  1. ক) বেগম রোকেয়ার
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলামের
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া রচিত 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ থেকেঃ

আমাদের বঙ্গভূমি সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, -তবু চাষাদের উদরে অন্ন নাই কেন? 
ইহার উত্তর শ্রদ্ধাস্পদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়াছেন, ''ধান্য তার বসুন্ধরা যার''। 
তাই তো, অভাগা চাষা কে? সে কেবল 'ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরিবে''।

৩,৩২৭.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৬৮ সালে
  2. ১৮৭৮ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

আলালের ঘরের দুলাল:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩২৮.
'সারা দুপুর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
অরণ্য নীলিমা, জাফরানী রং পায়রা ও রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩২৯.
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী মানুষের অসহায় জীবনের চিত্র পাওয়া যায় কোন নাটকে?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) মেরাজ ফকিরের মা
  3. গ) এখনো ক্রীতদাস
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
সঠিক উত্তর:
গ) এখনো ক্রীতদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এখনো ক্রীতদাস
ব্যাখ্যা
• আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩০.
'দস্যু কেনারামের পালা' কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নাথ সাহিত্য 
  2. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য 
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি)
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- দেওয়ান ভাবনা, 
- কঙ্ক ও লীলা ও
- কাজলরেখা (রূপকথা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৩,৩৩১.
'সনকা' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এবং এই কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩২.
জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রূপবতী
  2. নিমন্ত্রণ
  3. বালুচর
  4. মাটির কান্না
সঠিক উত্তর:
নিমন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় বুদ্ধদেব বসু কোন পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. প্রগতি
  2. কবিতা
  3. বাসন্তিকা
  4. সাহিত্যপত্র
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৩৪.
কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশু সাহিত্যের নাম কী?
  1. ক) ফণি-মনসা
  2. খ) কবিতা-মুকুল
  3. গ) পাখির বাসা
  4. ঘ) ইতল বিতল
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতা-মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতা-মুকুল
ব্যাখ্যা

'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' - এই বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল।'

- 'ফণি-মনসা' কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
- 'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'ইতল বিতল' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

৩,৩৩৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাসিকা কোনটি?
  1. 'নয়নচারা'
  2. 'তরঙ্গভঙ্গ'
  3. 'সুড়ঙ্গ’
  4. 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়'
সঠিক উত্তর:
'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়'
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - 'সুড়ঙ্গ’; তরঙ্গভঙ্গ।
- 'নয়নচারা' - তাঁর গল্পগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়':
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন।

- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩৬.
'লালসালু' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯৪১ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কা, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩৭.
বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নূরজাহান বেগম
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল।
------------------------------------
বেগম’:
- বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল ‘বেগম’।
-পত্রিকাটি ২০ জুলাই ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল;
- আর পরে এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন নূরজাহান বেগম।
- নারীদের সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য পত্রিকাটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল: 
- সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশালে একটি অভিজাত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, লেখিকা ও নারীবাদী আন্দোলনের নেত্রী।
- একই সঙ্গে তিনি ভাষা আন্দোলনের অগ্রগামী কর্মী হিসেবেও সুপরিচিত।
- ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যেকোনো সংকটে তিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—একজন জননীর মতো।
- তিনি শুধু কবিতার স্রষ্টা নন, বরং বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও নারী মুক্তির সংগ্রামের এক আলোকবর্তিকা।
- তিনি তাঁর সাহিত্য ও কর্মের শক্তিতে সমাজকে নতুন পথে পরিচালিত করেছেন।

• সাহিত্যজীবনে সুফিয়া কামাল বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন:
- কেয়ার কাঁটা,
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- দিওয়ান,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৩৮.
'অরণ্য নীলিমা' আহসান হাবীব রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
অরণ্য নীলিমা ও রানী খালের সাঁকো আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৩৩৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনী সাহিত্য কোনটি?
  1. চৈতন্য-ভাগবত
  2. চৈতন্য-চরিতামৃত
  3. চৈতন্য-মঙ্গল
  4. চৈতন্য-সম্ভার
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করটিন
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান। 
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪০.
'প্রাচ্য ও প্রতীচ্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আশরাফ সিদ্দিকী
  2. আহমদ শরীফ
  3. আহমদ ছফা
  4. এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• 'প্রাচ্য ও প্রতীচ্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা - এস ওয়াজেদ আলি।

এস ওয়াজেদ আলি:  
- প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনি রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯১৯ সালে 'Bulletin of the Indian Rationalistic Society' নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'গুলদাস্তা' (১৯২৭)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনি রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালি (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪১.
মধ্যযুগের কোন কাব্যে 'ভাঁড়ুদত্ত' চরিত্রটি পাওয়া যায়?
  1. ক) অভয়ামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
- 'ভাঁড়ুদত্ত' চরিত্রটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে পাওয়া যায়।

• চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪২.
'অপু', 'অপর্ণা' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) অশনি সংকেত
  2. খ) পথের পাঁচালী
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) অপরাজিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপরাজিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপরাজিত
ব্যাখ্যা
 'অপরাজিত' (১৯৩১) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' এর পরিপূরক কথাশিল্প।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মাসিক 'প্রবাসি' তে।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোর সারথি'।
চরিত্র: অপু, অপর্ণা, লীলা, কাজল প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)
- অশনি সংকেত (১৯৫৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৩.
‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা’-
চরণযুগল কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ থেকে চরণযুগল নেওয়া হয়েছে।
তাঁর বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো :
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৩৪৪.
নিচের কোনটি মেঘনাদবধ কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) মেঘনাদ
  2. খ) বিভীষণ
  3. গ) রাবণ
  4. ঘ) কাপালিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাপালিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাপালিক
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নে 'কাপালিক' চরিত্রটি মেঘনাদবধ কাব্যের নয়।
- মেঘনাদবধ কাব্যটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪৫.
কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু তারিখ-
  1. ক) ১২ বৈশাখ
  2. খ) ১১ জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) ১১ আশ্বিন
  4. ঘ) ১২ ভাদ্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২ ভাদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২ ভাদ্র
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম ২৪ মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৪৬.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত নয় কোনটি?
  1. ক) তৎসম শব্দ
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। 

তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩৪৭.
'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা কে?  
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. শওকত ওসমান
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• ‘আমলার মামলা’ — শওকত ওসমান রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক এবং নাট্যকার।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজের নানা অসঙ্গতি এবং জীবনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৪৮.
পূজারিণী কবিতার আখ্যান অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক-
  1. শ্যামা
  2. চিরকুমার সভা
  3. রাজা ও রাণী
  4. নটীর পূজা
সঠিক উত্তর:
নটীর পূজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নটীর পূজা
ব্যাখ্যা
• 'নটীর পূজা' নাটক:
- 'নটীর পূজা' কথা ও কাহিনী'র অন্তর্গত পূজারিণী কবিতার আখ্যান অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 
- নাটকটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মূল কাহিনিটি বৌদ্ধগ্রন্থ থেকে গৃহীত। গান ও নৃত্য সমন্বিত নাটক 'নটীর পূজা'।এই ধারাটিই তাঁর জীবনের শেষ পর্বে "নৃত্যনাট্য” নামে পূর্ণ বিকাশ লাভকরে।

অন্যদিকে, 
• 'শ্যামা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নৃত্যনাট্য। এটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।
• শেকসপিয়রীয় পঞ্চাঙ্ক রীতিতে রচিত কাব্যনাট্য 'রাজা ও রাণী' (১৮৮৯)। 
• ১৯২৬ সালে তিনি প্রজাপতির নির্বন্ধ উপন্যাসটিকেও 'চিরকুমার সভা' নামে একটি প্রহসনমূলক নাটকের রূপ দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪৯.
ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা।

হেনরি লুই ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৫০.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা
  2. তিমিরান্তিক
  3. নবী কাহিনী
  4. প্রসন্ন শহর
সঠিক উত্তর:
নবী কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবী কাহিনী
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস হচ্ছে নবী কাহিনী। 

সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফরের পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখত সিকান্দার। 
- জন্ম: ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ, সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে। 
- মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০)
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। 
- ৫ই আগস্ট, ১৯৭৫ সালে তিত্নি মৃত্যু বরণ করেন। 

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন। 

নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাউল,
- শকুন্ত উপাখ্যান। 

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী, 
- পূরবী। 

অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

৩,৩৫১.
কোন বংশের রাজাদের আগমনে চর্যাপদের টিকাকাররা বিতাড়িত হয়েছিল?
  1. পাল বংশের
  2. সেন বংশের
  3. গুপ্ত বংশের
  4. মোর্য বংশের
সঠিক উত্তর:
সেন বংশের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন বংশের
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। 
- পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন, তাদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। 
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পৌরাণিক হিন্দুধুর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে। পাল রাজাদের উদারপন্থী বৌদ্ধ মতবাদের পরিবর্তে সেন রাজাদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মমতের প্রাধান্যের ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়।
- সেন রাজাদের প্রতাপের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিল।  
- তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলার বাইরে নেপালে পাওয়া গিয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,৩৫২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বনি আদম(নাটক)
  2. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক)
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে(কবিতা)
  4. আমলার মামলা(উপন্যাস)
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক)
ব্যাখ্যা

• পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক) এই অপশনটি সঠিক।

• শওকত ওসমান:
 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৫৩.
নিচের কোন সাহিত্যিক আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) কল্যাণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - সোমেন চন্দকে।
- ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ।
- তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোট গল্পটি পড়েই তার কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরনা পেয়েছিলেন।
- তার রচিত অন্যান্য ছোটগল্প - দাঙ্গা, সংকেত, বনস্পতি, স্বপ্ন ইত্যাদি।
- ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।

উৎস: সাহিত্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৫৪.
কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দেবখণ্ড
  2. বন্দনা
  3. মর্ত্যখণ্ড
  4. দানখণ্ড
সঠিক উত্তর:
দানখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানখণ্ড
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৫৫.
'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকুমার সেন
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল (১৯২৩),
- হ-য-ব-র-ল (১৯২৪),
- পাগলা দাশু (১৯৪০),
- বহুরূপী (১৯৪৪),
- খাইখাই (১৯৫০),
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৫৬.
‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন কে?
  1. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. ড. আনোয়ারুল কাদির
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৭.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো।' -বিখ্যাত সংলাপের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: 
- মুমিন,  
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৫৮.
কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ? 
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. পাখির বাসা
  3. শিশুশিক্ষা
  4. কবিতা মুকুল
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা

• "পাখির বাসা" ফররুখ আহমদের একটি জনপ্রিয় শিশুতোষ গ্রন্থ।
-----------------
ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।  - তিনি তাঁর কবিতায় বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন বিধায় তাকে ইসলামী রেনেসার কবি বলা হয়ে থাকে।

- তিনি শিশুদের সুস্থ বিনোদনের জন্য 'পাখির বাসা' লিখেছিলেন।
- বইটিতে তিনি বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়কে ছড়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন যা্তে শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উপভোগের সঞ্চার ঘটাতে পারেন।
- তিনি অত্যন্ত  সাবলীল ও সহজ ভাষায় জাদুকারি ছন্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যা শিশুদের সহজেই পাঠপ্রক্রিয়ায় আকৃষ্ট করেছিল।
- 'পাখির বাসা' গ্রন্থের জন্য ফররুখ আহমদ ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
• 'শিশুশিক্ষা':
- এ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 
- এটি বাংলা ভাষায় শিক্ষার প্রসারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যার প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ সালে এবং দ্বিতীয় ভাগ ১৮৫০ সালে।
-  মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলকাতার বেথুন সাহেব প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয়ের কথা ভেবে এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন এবং তিনি স্ত্রীশিক্ষার প্রসারেও আগ্রহী ছিলেন।
-‘শিশুশিক্ষা’ গ্রন্থটিকে বাংলা প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে একটি পথপ্রদর্শক এবং সমাজ ও শিক্ষা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- এবং বাংলা ভাষার বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মদনমোহন তর্কালঙ্কার কে বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

• 'কবিতা মুকুল':
- কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশুতোষ সাহিত্য হচ্ছে কবিতা মুকুল। 
- কুসুমকুমারী দাশ (১৮৭৫-১৯৪৮) একজন বাঙালি কবি ছিলেন।
- তিনি তাঁর 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে' কবিতার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৫৯.
'লেটো' কী?
  1. নজরুল সঙ্গীত
  2. রবীন্দ্র সঙ্গীত
  3. সারিগান
  4. লোকগান
সঠিক উত্তর:
লোকগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকগান
ব্যাখ্যা
• 'লেটো' এক ধরনের লোকগান।
--------------------
• লেটো গান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:
- লেটো গান  পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রচলিত এক প্রকার  লোকসঙ্গীত।
- এটি যাত্রাগানের প্রকারভেদ।
- যাত্রাগানের মতোই পালার আকারে রচিত এ গান নৃত্য ও অভিনয়সহ পরিবেশন করা হয়; সঙ্গে থাকে বাদকদল।
- লেটো গান শুরু হয় বন্দনা দিয়ে। সখি, সঙদার, পাঠক বিভিন্ন নামে নট-নটীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে। 
- এর বিষয়বস্ত্ত সামাজিক রঙ্গরস ও আটপৌরে গ্রামীণ জীবন; পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও পালা রচিত হয়।  
- কাজী নজরুল ইসলাম শৈশবকালে লেটোদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত রাজপুত্রের সঙ, চাষার সঙ, আকবর বাদশা প্রভৃতি লেটো গানের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- লেটো গানে অনেক সময় দুটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়; দলের প্রধানকে বলা হয় ‘গোদা কবি’।
-------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- 'ভাওয়াইয়া' মূলত রংপুর অঞ্চলের গান।
- মূলত গরুর গাড়ি চালকদের মুখে এ গান শোনা যায়।
- 'গম্ভীরা' বৃহত্তর রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চলের গান।
- 'জারি গান' মূলত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের গান। এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে গানের প্রতিযোগিতা।
- 'ভাটিয়ারী' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'চটকা' রংপুর অঞ্চলের গান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।
৩,৩৬০.
বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন - গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৬১.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস?
  1. শেষের কবিতা
  2. পথের পাঁচালী
  3. কুহেলিকা
  4. বিষাদ-সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস - শেষের কবিতা।
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - পথের পাঁচালী।
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস - বিষাদ-সিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬২.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. মোহাম্মদ নজীবর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

কাজী ইমদাদুল হক:
 - ১৮৮২ সালে  খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল,
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী,
- নবীকাহিনী, 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬৩.
কোন নাট্যকার বাংলা নাটকে ‘অ্যাবসার্ডধারা’র প্রবর্তন করেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. নূরুল মোমেন
  3. সাঈদ আহমদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
​- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন। 
​• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।

​তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬৪.
‘বাদশা হারুন’ শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাজা উপাখ্যান
  2. বনি আদম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. রাজসাক্ষী
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------------
• শওকত ওসমান:  
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬৫.
"সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতা হতে নেওয়া হয়েছে?
  1. মানব কল্যাণ
  2. সুখ
  3. শহীদ স্মরণে
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখ
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
"সুখ" "সুখ" করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং সুখ, কামিনী রায়।

৩,৩৬৬.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. ড. এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৬৭.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শামসুর রাহমান
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'বেণের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬৮.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদের বিকাশ ঘটে?
  1. ক) আর্য
  2. খ) পাল
  3. গ) সেন
  4. ঘ) মৌর্য
সঠিক উত্তর:
খ) পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন, তাদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। 
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পৌরাণিক হিন্দুধুর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে। পাল রাজাদের উদারপন্থী বৌদ্ধ মতবাদের পরিবর্তে সেন রাজাদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মমতের প্রাধান্যের ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়।
- সেন রাজাদের প্রতাপের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিল।  
- তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলার বাইরে নেপালে পাওয়া গিয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,৩৬৯.
আবুল মনসুর আহমেদ-এর 'আয়না' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

আবুল মনসুর আহমেদ: সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।
উপন্যাসঃ
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবনক্ষুধা (১৯৫৫),
- আবে হায়াত (১৯৬৮)।
গল্পগ্রন্থ :
- আয়না (১৯৩৫),
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪),
- আসমানী পর্দা (১৯৬৪)।
রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ :
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮)।
শিশুসাহিত্য:
- ছােটদের কসাসুল আম্বিয়া (১৯৪৯),
- গালিভারের সফরনামা (১৯৫৯)।

কাজী নজরুল ইসলাম তার 'আয়না' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৩৭০.
"রূপজালাল" কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
রূপজালাল:
- এটি ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকর্ম।
- এই গ্রন্থটির ধরণ হচ্ছে গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি ছিলেন।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- ফয়জুন্নেসার এরূপ জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৭১.
এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা কোন প্রহসনের মূলকাহিনী?
  1. একেই কী বলে সভ্যতা 
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. গোড়ায় গলদ
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
সঠিক উত্তর:
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
 - প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল ‘ভগ্ন-শিবমন্দির’। 
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি,গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গোড়ায় গলদ' (১৮৯২) প্রহসনের মূল উপজীব্য হলো ভুল বোঝাবুঝি, ভুল পাত্রে কন্যাদান, এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দাম্পত্য সম্পর্কের হাস্যরসাত্মক জটিলতা

• 'বৈকুণ্ঠের খাতা':
- বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৭২.
The Blood Telegram গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. মার্কাস গ্রান্ডা
  2. গ্যারি জে ব্যাস
  3. পল ওয়ালেচ
  4. রিচার্ড সেশন
সঠিক উত্তর:
গ্যারি জে ব্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যারি জে ব্যাস
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও অধ্যাপক গ্যারি জে ব্যাস রচিত বিখ্যাত বই হলো 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন-কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগেটেবল জেনোসাইট'।
- এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যা বিষয়ে ঢাকায় কর্মরত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিকট যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেন তা ব্লাড টেলিগ্রাম নামে পরিচিত।
- এই বিষয়ের আর্চার কে ব্লাড 'দ্য ক্রোয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ' নামে একটি বই লিখেন।

সূত্র: আমাজন এবং বিডিনিউজ২৪।
৩,৩৭৩.
“টপ্পা” কী?
  1. ক) এক ধরণের গান
  2. খ) বাদ্যযন্ত্র
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাচের মুদ্রা
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরণের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরণের গান
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ:
নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা।

-তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।


উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৭৪.
বৈষ্ণব পদাবলির সর্বপ্রথম সংকলক কে?
  1. বলরাম দাস
  2. মণীন্দ্রমোহন ঘোষ
  3. বাবা আউল মনোহর দাস
  4. গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা হলো বৈষ্ণব সাহিত্য।
- মধ্যযুগে ১৬৫ জনের মতো কবি বৈষ্ণব সাহিত্য রচনা করেন।
- এদের রচিত বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন করেন বাবা আউল মনোহর দাস।
- তার বৈষ্ণব কবিতা সংকলের নাম পদসমুদ্র।
- এতে প্রায় পনের হাজার বৈষ্ণব কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- ষোড়শ শতকের শেষের দিকে তিনি এগুলো সংগ্রহ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সেমিত্র শেখর।
৩,৩৭৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে
  2. অতুলপ্রসাদ সেনকে
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
  4. সুভাষচন্দ্র বসুকে
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেনকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেনকে
ব্যাখ্যা

• 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'পরিশেষ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কাব্যের সর্বত্র যে বিষাদ গভীর অতীতচারিতা, পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটির প্রতি অনুরাগ, কাব্যদেহে প্রসাধনের প্রতি নির্মোহ ও জীবনের প্রতি আসক্তি নিরাসক্তির দ্বন্দ্ব, 'পরিশেষ' কাব্যেও তা ফুটে উঠেছে।
​- 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অতুলপ্রসাদ সেনকে উৎসর্গ করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত সাহিত্যকর্ম-
- কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তাঁর রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৭৬.
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত কে?
  1. ক) শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

• তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। সমকালের সমাজ ও রাজনীতির অস্থিরতায় সৃষ্ট হতাশা, সঙ্কীর্ণতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয়। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- ছোবল
- গল্প
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
- মৌলিক মুখোশ
- একগ্লাস অন্ধকার

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,৩৭৭.
জসীম উদ্‌দীনের কোন কবিতাটি ‘রাখালী’ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
  1. পল্লী-বর্ষা
  2. নিমন্ত্রণ
  3. কবর
  4. বালুচর
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা

• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ এটি।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থ:
- রচয়িতা: জসীম উদ্‌দীন।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- পল্লী-বর্ষা; 'নিমন্ত্রণ; বালুচর কবিতাগুলো — 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

-------------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-

- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৭৮.
'উত্তর বসন্ত' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত। তার কাব্যপ্রয়াসে মোহিতলাল মজুমদারের ধ্রুপদী সংগঠন এবং নজরুলের উদাত্ত আবেগের চমৎকার সমন্বয় প্রত্যক্ষ হয়। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬)-এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তার নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯)। যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন।
৩,৩৭৯.
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা:
- খ্রিষ্টান মিশনারিরা সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মমতের প্রতি কটাক্ষপাত করত বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মিলিত ভাবে ১৮২১ সালে 'সম্বাদ কৌমুদী' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এর প্রথম সংখ্যায় পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত ছিল 'লোকহিতসাধনই এই সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য। দেশবাসীর অভাব অনুযোগের কথাও ইহাতে ভদ্রভাবে আলোচিত হইবে'।
- রাজা রামমোহন রায় নিয়মিত এই পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লিখতেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৩৮০.
বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন-
  1. ফররুখ আহমদ 
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. আহসান হাবীব
  4. কায়কোবাদ 
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা। 

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৮১.
চর্যাপদের প্রথম পদের লেখক কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. লুইপা
  3. ধর্মপা
  4. ঢেণ্ডণপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
• 'লুইপা' — হচ্ছে চর্যাপদের প্রথম পদের রচিয়তা।

• লুইপা:
- চর্যাপদে লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বলে বিবেচনা করা হয়।
- তিনি চর্যাপদের প্রথম ও ঊনত্রিশতম পদের রচয়িতা।
- এছাড়াও সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর একটি গ্রন্থের নাম অভিসময়বিভঙ্গ’।

 কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৮২.
'কুমুদিনী' কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) গোরা
  4. ঘ) যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
যোগাযোগ (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক উপন্যাস৷ প্রকাশকালে এর নাম ছিলো 'তিন পুরুষ'৷ এই উপন্যাসের নায়ক মধুসূদন এবং নায়িকা কুমুদিনী৷
Source: LiveMCQ Lecture
৩,৩৮৩.
'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।’- উক্তিটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

----------------------------
• “শেষের কবিতা” উপন্যাস:

• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।  
 
•“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।
 
• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
 
• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।
 
• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৮৪.
ভাষা আন্দোলকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস-
  1. একুশের গল্প
  2. আর্তনাদ
  3. স্মৃতির মিনার
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা
•  ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস ’আর্তনাদ’ ।
• এটি ঔপন্যাসিক শওকত ওসমান রচিত।
• আর্তনাদ উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প ’একুশের গল্প’।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা, ’স্মৃতির মিনার’।
- মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক- ’কবর’।
-----------------------------------------------------------
উল্লেখ্য,

• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী;
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৮৫.
‘এ কোন্‌ পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায়’- গানটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. লালন শাহ 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• কুমিল্লা থেকে কবি নজরুল দৌলতপুর গ্রামে আলী আকবর খানের বাড়িতে গিয়ে কিছুকাল অবস্থান করেন। সেখান থেকে ১৯ জুন পুনরায় কুমিল্লায় ফিরে তিনি ১৭ দিন অবস্থান করেন। তখন অসহযোগ আন্দোলনে কুমিল্লা উদ্বেলিত।

কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লায় বিভিন্ন শোভাযাত্রা ও সভায় যোগ দিয়ে গাইলেন সদ্যোরচিত ও সুরারোপিত স্বদেশী গান: ‘এ কোন্‌ পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায়’, ‘আজি রক্ত-নিশি ভোরে/ একি এ শুনি ওরে/ মুক্তি-কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে’ প্রভৃতি। এভাবেই কলকাতার সৌখিন গীতিকার ও গায়ক নজরুল কুমিল্লায় অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান এবং পরাধীনতার বিরুদ্ধে জাগরণী গান রচনা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্বদেশী গান রচয়িতা ও রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হন।

-------------------
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত আরো কিছু বিখ্যাত গান হলো-
• ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী।
• বাজাও প্রভু বাজাও ঘন।
• বন্দীর মন্দিরে জাগো দেবতা। 
• জাগো জাগো বধূ জাগো নব-বাসরে। 
• কে যাবি পারে আয় ত্বরা করি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ।

৩,৩৮৬.
পাকিস্তানী শাসকদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. জলাঙ্গী
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. ক্রীতদাসের হাসি
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- তাঁর ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। 
-  এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের জন্য তাকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয়।
------------
 শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮):
কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়। তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। বিদেশি ভাষার অনেক উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটক তিনি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- জননী (১৯৫৮) (প্রথম উপন্যাস)
- ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২)
- সমাগম (১৯৬৭)
- চৌরসন্ধি (১৯৬৮)
- রাজা উপাখ্যান (১৯৭১)
- জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭১)
- দুই সৈনিক (১৯৭৩)
- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩)
- পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩)
- আর্তনাদ (১৯৮৫)
- রাজপুরুষ (১৯৯২)
- জলাঙ্গী (১৯৭৬)
- তোলপাড়

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- জাহান্নম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী

তাঁর রচিত নাটক
- আমলার মামলা (১৯৪৯)
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা (১৯৯০)
- তস্কর ও লস্কর
- কাঁকর মনি
- বাগদাদের কবি(১৩৫৯)

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ
- ওটেন সাহেবের বাংলো (১৯৪৪)
- মস্কুইটো ফোন (১৯৫৭)
- ক্ষুদে সোশালিস্ট (১৯৭৩)
- পঞ্চসঙ্গী (১৯৮৭)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।

অন্যদিকে,
চিলেকোঠার সেপাই - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি উপন্যাস। এটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত।
জলাঙ্গী জাহান্নম হইতে বিদায় - শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
৩,৩৮৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সুকুমার সেন
  4. ঘ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শুরুতেই রচিত হয় একটি সুদীর্ঘ অসাধারণ কাব্য যার নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। এ কাব্যটি রচনা করেন বড়ু চণ্ডীদাস।
গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি আবিষ্কার করেন।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর কবি বড়ু চণ্ডীদাস বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
৩,৩৮৮.
বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কার গান শুনে অভিভূত হয়েছিলেন?
  1. ক) নিধু বাবু
  2. খ) রামপ্রসাদ সেন
  3. গ) অতুলপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
খ) রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজঊদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।


- বিখ্যাত গান
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩,৩৮৯.
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গাথাকাব্যের চরিত্র দুটির নাম কী?
  1. রহমত, খুকী
  2. রাধা, ছিদাম
  3. রামসুন্দর ও নিরূপমা
  4. রূপাই ও সাজু
সঠিক উত্তর:
রূপাই ও সাজু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপাই ও সাজু
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গাথাকাব্যের চরিত্র দুটির নাম - রূপাই  ও সাজু

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের চরিত্র দুটির নাম - রহমত, খুকী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'দেনা পাওনা' গল্পের চরিত্র দুটির নাম - রামসুন্দর ও নিরূপমা।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শাস্তি' গল্পের চরিত্র দুটির নাম - রাধা, ছিদাম।

নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯০.
আবুল ফজল রচিত 'রেখাচিত্র' গ্রন্থটি কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. দিনিলিপি
  4. রম্যরচনা
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
ব্যাখ্যা
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি - দিনলিপি।  
- ‘রেখাচিত্র’ দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

আবুল ফজল:

- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯১.
“বিদ্রোহ” উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

“বিদ্রোহ” উপন্যাসটি স্বর্ণকুমারী দেবী লেখা। 

স্বর্ণকুমারী দেবী
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- দীর্ঘ ৩০ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন।
- প্রথম উপন্যাস: দীপনির্বাণ

উল্লেখযোগ্য রচনা:
- উপন্যাস: দীপনির্বাণ, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি। 
- কাব্যগ্রন্থ: গাঁথা, কবিতা ও গান। 
- নাটক: বসন্ত উৎসব, দেব কৌতুক। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

৩,৩৯২.
'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. মধুসূদন দত্ত
  4.  আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো: Timothy Penpoem, দত্তকুলোদ্ভব কবি, এ নেটিভ।

-------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৯৩.
'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন সেন
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯৪.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) জলাঙ্গী
  2. খ) চৌরসন্ধি
  3. গ) জননী
  4. ঘ) তস্কর নস্কর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তস্কর নস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তস্কর নস্কর
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
 -ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাঙ্গী, 
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম, 
- জননী, 
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, 
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
 -ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, 
- পিঁজরাপোল, 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৫.
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অতুল্প্রাসাদ সেন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'। 

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।
মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি,
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশ ঝাড় যেন,
মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।
সকালে সোনার রবি পুব দিকে উঠে,
পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফুটে।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া।
৩,৩৯৬.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ' - উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. মানুষের ধর্ম
  2. পঞ্চভূত
  3. কালান্তর
  4. সভ্যতার সংকট
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
ব্যাখ্যা

সভ্যতার সংকট: 
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ:
- সভ্যতার সংকট,
- কালান্তর, 
- পঞ্চভূত, 
- বিবিধ প্রবন্ধ, 
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- শিক্ষা, 
- মানুষের ধর্ম। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৯৭.
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যের কোন শাখায় চলিতরীতির প্রবর্তন করেন?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. গদ্য
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
গদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গদ্য
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম গদ্য রচনা 'বীরবলের হালখাতা'। এটি তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ। এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জীবনচিত্র "বোবা কাহিনী" উপন্যাসের উপজীব্য?
  1. বরিশাল 
  2. ফরিদপুর
  3. রংপুর 
  4. সিলেট 
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- 'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৪ খৃষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।

- এ উপন্যাসের নায়ক আজহার এক ছিন্নমূল কৃষকসন্তান। মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- বাল্যকাল থেকেইে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়।

- বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আরজান,
- আজাহের,
- রহিমুদ্দিন।

----------------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর, 
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে),
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: "বোবা কাহিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৯৯.
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস-
  1. ক) সৌরভের কাছে পরাজিত
  2. খ) ময়ূরীর মুখ
  3. গ) কাবিলের বোন
  4. ঘ) সোনালী কাবিন
সঠিক উত্তর:
গ) কাবিলের বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
 
৩,৪০০.
'বীরবল' ছদ্মনামটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. প্যারীচাদ মিত্র
  4. মোহিতলাল মজুমদার
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।

- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।
- রাজ শেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী 
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।
- 'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হুতোম পেঁচা।
- 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।