বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩৩ / ২১১ · ৩,২০১৩,৩০০ / ২১,১৩২

৩,২০১.
'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) ছয়দফা আন্দোলনের সময়কাল
  2. খ) ৭০ এর নির্বাচন পরবর্তী সময়কাল
  3. গ) স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান
  4. ঘ) পূর্ব বাংলার সামরিক অভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ:
- ২৩টি কবিতার সমাহারে শামসুর রহমানের এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কবিতা গুলোতে আছে কবির স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ের দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা এবং পাশ্চাত্য পুরাণের পাশাপাশি তাঁর স্বদেশি পুরাণের  মাধ্যমে ব্যক্তিমহিমা সন্ধানের প্রয়াস।
- ১৯৭৫-৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যুপকাষ্ঠে দেশ ও জনগনের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যে।

আধুনিক কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগন্থ: 
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নিলীমা
- নিরালোকে দিব্যরথ
- নিজ বাসভূমে
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ।
৩,২০২.
'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. নজিবর রহমান
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন। তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০৩.
“লালসালু” উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,২০৪.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টিকাকার ছিলেন-
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. মুনিদত্ত
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা
•  চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা:
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবিষ্কৃত পুঁথিটি মুনিদত্তের মূল সংকলন গ্রন্থ নয়-এটি ছিল অনুলিপি অথবা অনুলিপির অনুলিপি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩,২০৫.
আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ছিলেন একজন-
  1. ক) কথা সাহিত্যিক
  2. খ) ভাষাতত্ত্ববিদ
  3. গ) লোকগীতি সংগ্রাহক
  4. ঘ) সাংবাদিক
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষাতত্ত্ববিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষাতত্ত্ববিদ
ব্যাখ্যা
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
তাঁর অমর কীর্তি Linguistic Survey of India। এটি ভারতের ভাষা-জাত-কুল সম্পর্কে যেমন বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা করেছে, তেমনি ভারতের আধুনিক ভাষাতত্ত্বের সূতিকাগার হিসেবেও কাজ করেছে। তাঁর এ অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ Order of Merit উপাধিতে ভূষিত করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০৬.
চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য কে?
  1. গোপীনাথ পণ্ডিত
  2. বিদ্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. হরিশ্চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন "জ্ঞানদাস"।

• জ্ঞানদাস:

- সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।
- তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেমবেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- তিনি ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
- তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।
- জ্ঞানদাস পদাবলিতে সৌন্দর্যের ব্যঞ্জনা দিয়েছেন, আবেগের সূক্ষ্ম কারুকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তিনি মানবজীবনের বাতায়নে বসে ভাব বৃন্দাবনের কিশোর কিশোরীর লীলা প্রত্যক্ষ করে শিল্পী হয়ে উঠেছেন।
- তিনি তপস্বিনী রাধার মূর্তিটি নিরাভরণ ও নিরলঙ্কার ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
- নায়িকার রূপবর্ণনা, অতৃপ্ত প্রণয়াকাঙ্ক্ষার তীব্রজ্বালা, মিলনের জন্য ব্যাকুলতা, মিলনের গভীর উল্লাস ও বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি কুশলতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,২০৭.
‘কীর্তিবিলাস’ - কোন ধরনের নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা?
  1. বিয়োগান্তক
  2. হাস্যরসাত্মক
  3. ঐতিহাসিক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,২০৮.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি "এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে" কীভাবে আসতে চান?
  1. পাখির বেশে
  2. সুদর্শন হয়ে
  3. ভোরের কাক হয়ে
  4. রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে
সঠিক উত্তর:
ভোরের কাক হয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোরের কাক হয়ে
ব্যাখ্যা

• 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি ভোরের কাক হয়ে "এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে" আসতে চান।

• ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কবিতাটি নিম্নরূপ-
আবার আসিব ফিরে- (জীবনানন্দ দাশ)

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।
--------------------
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে — 

উৎস: আবার আসিব ফিরে, জীবনানন্দ দাশ।

৩,২০৯.
মুনিদত্তের টীকাকে তিব্বতিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. বিধুশেখর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের টীকা: 
-
চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন।
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

- চর্যাপদের মূল টীকাকার ছিলেন মুনিদত্ত। 
- তিনি সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টীকা লিখেছিলেন, যা চর্যার গূঢ়ার্থ ও যোগ-রহস্য ব্যাখ্যা করে।
- তবে মুনিদত্ত ১১ নম্বর পদের টীকা লিখেননি।

- মুনিদত্তের টীকাকে তিব্বতিতে অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র
- এই তিব্বতি অনুবাদ প্রথম আবিষ্কার ও সংগ্রহ করেন ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে।
- এছাড়া, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুযায়ী, চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো (২৩, ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নম্বর) তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন ড. সুকুমার সেন। 

- চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে;
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৫০টি, আর সুকুমার সেনের মতে ৫১টি।
--------------------------------------------------
সুতরাং, 
• মূল টীকাকার: মুনিদত্ত (সংস্কৃত)। 
• তিব্বতি অনুবাদক: কীর্তিচন্দ্র। 
• তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কারক: ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 

৩,২১০.
কখনো উপন্যাস লেখেননি-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কোনো উপন্যাস গ্রন্থ নেই।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্য:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

গদ্যগ্রন্থ:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাসসমূহ:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৩,২১১.
'আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।।' গানটির রচয়িতা কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. আলাউদ্দিন খাঁ
  3. লালন শাহ
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
ব্যাখ্যা
লালন শাহ:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক ছিলেন।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- এ তথ্যটি পাওয়া যায় তাঁর মৃত্যুর দুসপ্তাহ পরে হিতকরী (১৮৯০) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ-নিবন্ধে।

লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গান:
• খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।।

• আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।

• জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২১২.
বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
• প্রহসন: 
- প্রহসন  হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা।
- এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়।
- পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত।
- বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

• বিশেষ তথ্য: 
- রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত প্রহসনের আদর্শে বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ। তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রহসন হচ্ছে কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪)।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,২১৩.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যে ব্যবহৃত শঙ্খমালা হলো -
  1. ক) রূপকথার চরিত্র
  2. খ) রোমান্টিক কবিকল্পনা
  3. গ) পূর্বপরিচিতা নারী
  4. ঘ) কবির জীবনদেবতা
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান্টিক কবিকল্পনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান্টিক কবিকল্পনা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

শঙ্খমালা- কবিতা
----------- জীবনানন্দ দাশ

কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই: বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি— কুয়াশার পাখ্‌নায়—
সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে-আলোক
জোনাকির দেহ হ‌তে— খুঁজেছি তোমাকে সেইখানে—
ধূসর পেঁচার মতো ডানা মেলে অঘ্রাণের অন্ধকারে
ধানসিড়ি বেয়ে-বেয়ে
সোনার সিঁড়ির মতো ধানে আর ধানে
তোমারে খুঁজেছি আমি নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে।
দেখিলাম দেহ তার বিমর্ষ পাখির রঙে ভরা:
সন্ধ্যার আঁধারে ভিজে শিরীষের ডালে যেই পাখি দেয় ধরা—
বাঁকা চাঁদ থাকে যার মাথার উপর,
শিং-এর মতন বাঁকা নীল চাঁদ শোনে যার স্বর।

কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।

চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।
------------------------
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে'। 
- এ কবিতায় শঙখমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙখমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১৪.
আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক কোনটি?
  1. জাল
  2. জয়ধ্বনি
  3. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
জয়ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক 'জয়ধ্বনি'।
- এটি ধানশালিকের দেশ পত্রিকায় ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।
-----------------------------

আবু ইসহাক:

- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।
 
• নাটক:
- জয়ধ্বনি। 

• স্মৃতিচারণমূলক রচনা:
- স্মৃতিবিচিত্রা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২১৫.
"আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু" - এই বাণীটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. কল্লোল
  2. দৈনিক নবযুগ
  3. মাসিক সওগাত
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের একটি বিপ্লবী উদ্যম হলো ধূমকেতু পত্রিকার প্রকাশ (১২ আগস্ট)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২১৬.
' রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' গ্রন্থটির রচয়িতা আনোয়ার পাশা ।

আনোয়ার পাশা(১৯২৮-১৯৭১):
 বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক আনোয়ার পাশার জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে। 
- আনোয়ার পাশা ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। 
- তাঁর দু দশকের সাহিত্যজীবনে প্রকাশিত হয় মোট দশটি গ্রন্থ ও পনেরোটি প্রবন্ধ।
- তার মধ্যে আছে দুটি কাব্যসংকলন, একটি গল্পসংকলন, তিনটি  উপন্যাস ও দুটি সমালোচনা গ্রন্থ। 

তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
- নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩),
- রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা (২ খন্ড ১৯৬৩, ১৯৭৩), নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮),
- সাহিত্যশিল্পী আবুল ফজল (১৯৬৮),
- নিরুপায় হরিণী (১৯৭০),
- রাইফেল-রোটি-আওরাত (১৯৭৩),
- সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪) ইত্যাদি।

- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদরদের একটি দল তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২১৭.
'সেতুবন্ধ' নাটকটি কাজী নজরুলের কোন নাট্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঝিলিমিলি
  2. আলেয়া
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থ:
- তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ ঝিলিমিলি।
- এটি ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রাহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত:
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

অন্যদিকে,
- ‘শিউলিমালা’ নজরুলের গল্পগ্রন্থ।
- ‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল প্রকাশিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- 'আলেয়া' কাজী নজরুল ইসলামের নাটক যা 'ঝিলিমিলি নাট্যগ্রন্থ' এর অন্তর্ভুক্ত নাটক নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২১৮.
বাংলা ভাষায় চলিত রীতিতে লিখিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. খ) বীরবলের হালখাতা
  3. গ) তেল-নুন-লাকড়ী
  4. ঘ) চার ইয়ারী কথা
সঠিক উত্তর:
খ) বীরবলের হালখাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী। তার ১৯১৬ সালে প্রকাশিত 'বীরবলের হালখাতা' প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ। এটি ১৯০২ সালে প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে। বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও প্রমথ চৌধুরী। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৩,২১৯.
'কথোপকথন' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।
- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।
- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
- কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩,২২০.
'ঈশ্বরী পাটনী' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল 
  2. ধর্মমঙ্গল 
  3. অন্নদামঙ্গল 
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• 'ঈশ্বরী পাটনী' অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র। 

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,২২১.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহাম্মদ এনামুল হক
  2. আহমদ শরীফ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।
------------- 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২২.
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভা কবি ছিলেন- 
  1. বিদ্যাপতি
  2. ভারতচন্দ্র
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র জন্মে ছিলেন আঠারো শতকের প্রথম দিকে। 
- তিনি বর্ধমানের (বর্তমান হাওড়া জেলা) পেঁড়োবসন্তপুর বা পাণ্ডুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভা কবি ছিলেন। 
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দিয়েছেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'কে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
৩,২২৩.
একখানি ছোটো____, আমি একেলা, চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
  1. ক) নদী
  2. খ) মাঠ
  3. গ) তরী
  4. ঘ) খেত
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেত
ব্যাখ্যা
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সোনার তরী কবিতার।

• সোনার তরী:

- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। 
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

'সোনার তরী' কবিতাটি নিম্নরূপ- 
সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
  (সংক্ষিপ্ত)।  

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২৪.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. কঙ্কাবতী
  2. পরিক্রমা
  3. সানন্দা
  4. তিথিডোর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২২৫.
’ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধ-মাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’- পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. নির্মলেন্দু গুন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
•’ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধ-মাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’ পঙ্‌ক্তিটি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ’সবুজের অভিযান’ কবিতার অংশ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২২৬.
'জলসাঘর' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ 'জলসাঘর' গল্পগ্রন্থ:
- 'জলসাঘর' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ১১টি গল্পের সংকলন।
- প্রত্যেকটি গল্পের পটভূমি গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষ্যয়ের শোচনীয় রূপ।
- জমিদারতন্ত্রের সমৃদ্ধি ও অবসানের রূপ এই গল্পগুলিতে লক্ষ্য করা যায়। 

--------------------
⇒ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২২৭.
'নেমেসিস' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া ,
- আইনের অন্তরালে , 
- শতকরা আশি , 
- রূপলেখা , 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

• 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২২৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. শ্রীকান্ত
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; চোখের বালি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৩,২২৯.
'সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
"সুখ" "সুখ" করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

উৎস: সুখ কবিতা- কামিনী রায়।

৩,২৩০.
'জীবন ঘষে আগুন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩১.
ভাদেপা'র গুরু ছিলেন কে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ডোম্বীপা
  4. জালন্ধরীপা
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
ব্যাখ্যা
ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো। তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

ভাদেপা রচিত পদ:

এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,২৩২.
বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক কে? 
  1. ক) নিধুবাবু
  2. খ) গোঁজলা গুঁই
  3. গ) অতুল প্রসাদ সেন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
সঠিক উত্তর:
গ) অতুল প্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুল প্রসাদ সেন।
-  ঠুমরি একপ্রকার রাগসঙ্গিত ,যার সুর অতি মিষ্টি। সুরের মিষ্টতার কারনেই এর এই নামকরন। 
- অতুপ্রসাদ বাংলায় ঠুমরি গানের প্রবর্তক এবং সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীতভুবনে তিনি প্রসিদ্ধতা লাভ করেন। 
- মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা - তার   অতি বিখ্যাত সৃষ্টি। 
- স্বদেশি, ভক্তিগীতি এবং প্রেমে গানে বিভক্ত প্রায় ২০০টি গান তিনি রচনা করেছেন। 
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত তার গানের সংকলন।

অন্যদিকে প্রশ্নে উল্লেখিত অপশন গুলোর মধ্যে - 

- নিধুবাবু হচ্ছেন বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক।
- গোঁহলা গুঁই কবিগানের প্রাচীনতম কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - আধুনিক বাংলা গানের জনক। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩৩.
'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
 
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী ইত্যাদি। 
 
তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 
 
তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩৪.
'পরিণাম' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'পরিণাম' উপন্যাসের রচয়িতা - মোহাম্মদ নজিবর রহমান
- এটি ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক ছিলেন।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে 'আনোয়ারা'। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে,
- মেহেরউন্নিসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩৫.
কত বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম লেটোর দলে যোগদান করেন?
  1. ৮ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৯ বছর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ১২ বছর বয়সে 'লেটোর দলে' যোগদান করেন এবং দলে 'পালা গান' রচনা করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।

- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। 
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩৬.
জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে কিসের দেশ বলেছেন?
  1. ক) নবান্নের
  2. খ) শালিক ও শঙ্খছিলের
  3. গ) কাকের
  4. ঘ) কার্তিকের
সঠিক উত্তর:
ক) নবান্নের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নবান্নের
ব্যাখ্যা
আবার আসিব ফিরে
--- জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়। 

- জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে নবান্নের দেশ বলেছেন। 


• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩৭.
প্রমথ চৌধুরীর জীবনকাল -
  1. ১৮৬১ - ১৯৪১
  2. ১৮৬৩ - ১৯৪৩
  3. ১৮৬৬ - ১৯৪৪
  4. ১৮৬৮ - ১৯৪৬
সঠিক উত্তর:
১৮৬৮ - ১৯৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৮ - ১৯৪৬
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরীর জীবনকাল: ১৮৬৮ - ১৯৪৬

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা 'বীরবলের হালখাতা' (ভারতী পত্রিকায় প্রকাশ: ১৯০২)।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩৮.
বাংলা একাডেমীর 'আঞ্চলিক অভিধান' সম্পাদনা কে করেন?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী 'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

---------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩৯.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের কাহিনির নাম কী?
  1. পলাশী থেকে একাত্তর
  2. পলাশী থেকে ধানমন্ডি
  3. পলাশী থেকে বাংলাদেশ
  4. পলাশী থেকে মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে ধানমন্ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে ধানমন্ডি
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের কাহিনির নাম - পলাশী থেকে ধানমন্ডি
- এটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪০.
মঙ্গলকাব্য হলো-
  1. ক) রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা সম্পর্কিত কাব্য
  2. খ) শিব উপাসকদের রচিত সাহিত্য
  3. গ) লোকমুখে প্রচারিত কবতা ও গীত
  4. ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
ব্যাখ্যা

মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
১. মনসামঙ্গল,
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৪. অন্নদামঙ্গল।
এছাড়াও কালিকামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ইত্যাদি কিছু অপ্রধান মঙ্গলকাব্য রয়েছে।

একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।
মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৪১.
'রাজা যায় রাজা আসে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক 
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

• 'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থ:
-'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭২।

- কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক যন্ত্রণা ও আত্মবীক্ষণের দারুণ প্রকাশ

• আবুল হাসান:
- আবুল হাসান (১৯৪৭–১৯৭৫) ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- অল্প বয়সেই তিনি একজন সৃজনশীল কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো, 
- পৃথক পালঙ্ক। 

∗ মৃত্যুর পর তাঁর কাব্যনাট্য- ওরা কয়েকজন এবং গল্পসংকলন- আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ প্রকাশিত হয়।
------------------------
অন্যদিকে,
∗ আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪–২০০১) ছিলেন একজন খ্যাতনামা কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর সর্বাধিক পরিচিত কাব্যগ্রন্থ হলো “আমি কিংবদন্তির কথা বলছি”।
- এছাড়াও তিনি “সাত নরীর হার”, “কখনো রং কখনো সুর”, “কমলের চোখ” এবং “বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা”—এমন একাধিক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

∗ সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯–১৯৭৫) ছিলেন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
- কর্মজীবনে তিনি নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত–সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন।
- তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যের মধ্যে রয়েছে: “সিরাজ-উদ-দৌলা” এবং “মহাকবি আলাউল”।

∗ আবু ইসহাক ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক।
- তিনি সমাজবাস্তবধর্মী উপন্যাস ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ এবং গোয়েন্দাধর্মী উপন্যাস ‘জাল’–সহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য রচনা সৃষ্টি করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,২৪২.
'মধুমালতী' নামক প্রণয়কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ হামজা
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) সাবিরিদ খান
  4. ঘ) শাহ মুহাম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
'মধুমালতী' নামক প্রণয়কাব্যের রচয়িতা সৈয়দ হামজা। 
- পুথি সাহিত্যের ধারায় ফকির গরীবুল্লাহর অনুসারী হিসেবে সৈয়দ হামজার আবির্ভাব। 
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ভুরশুট পরগনার উদনা গ্রামে সৈয়দ হামজার পৈতৃক নিবাস ছিল।
- অল্প বয়সে সৈয়দ হামজার কবি-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে।
- তিনি  পাঁচালী ও হেঁয়ালি জাতীয় ছড়া রচনার মাধ্যমে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্য মধুমালতী (১৭৮৮) সামান্য আঞ্চলিকতা ছাড়া শুদ্ধ সাহিত্যিক বাংলায় রচিত।
- হিন্দিতে কুতবন ও মনঝন এবং বাংলায় মুহম্মদ কবির পূর্বেই রোম্যান্সধর্মী এ কাব্য রচনা করেন।
- এর কাহিনি অলৌকিকতায় পূর্ণ হলেও মানুষের ধর্ম, সমাজ, নীতি, আচার, সংস্কার ইত্যাদি উপেক্ষিত হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৩.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের দ্বিতীয় পর্বে কোন সুলতানের সামরিক অভিযানের বিবরণ রয়েছে?
  1. আলাউদ্দিন খিলজি
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন খিলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,২৪৪.
"সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ
  2. সাবিরিদ খান
  3. শাহ আব্দুল করিম
  4. সিরাজ শাহ
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
ব্যাখ্যা
• 'সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা লালন শাহ।

• লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান:

- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।
- আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।।
- জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা।

• লালন শাহ:

- লালন শাহ বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
-মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৪৫.
'আমি সৈনিক' প্রবন্ধের রচয়িতা -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'আমি সৈনিক' প্রবন্ধের রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম। 
--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বই, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪৬.
নিচের কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. কল্লোল
  2. ক্রান্তি
  3. কবিতা
  4. পরিচয়
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: 

- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- দশমী,  

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে: 
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪৭.
শ্রীচৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগের সাহিত্য রচনাকে কয় শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. তিন
  2. দুই
  3. চার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের সাহিত্যের সময়সীমা:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ১২০০ থেকে আরম্ভ হয়ে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সুদীর্ঘ ছয় শ বছর বাংলা সাহিত্যের বৈচিত্র্যমুখী বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধিত হয়। এ যুগের প্রথম দেড় শ বছরকে তথাকথিত অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ বলে।

- শ্রীচৈতন্যদেবকে (জন্ম: ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) মাঝখানে রেখে এই যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় -
১. প্রাক্-চৈতন্য যুগ (১২০৩ - ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং
২. উত্তর-চৈতন্য যুগ (১৫০০ - ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।

• প্রাক্-চৈতন্য যুগে রচিত হয়েছে কৃত্তিবাসি 'রামায়ণ', বড়ুচণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন', মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়', বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলি এবং তিনটি আদি 'মনসামঙ্গলকাব্য'।

• উত্তর-চৈতন্যযুগের বিচিত্র ও প্রচুর সাহিত্যসম্ভারের মধ্যে বৃন্দাবনদাস, লোচনদাস, জয়ানন্দ এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-জীবন-কাব্য; জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের বৈষ্ণব পদাবলি; কাশীরাম দাসের 'মহাভারত'; বহুসংখ্যক মনসা, চণ্ডী, ধর্ম ও অন্নদামঙ্গল কাব্য (কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ঘনরাম চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র ইত্যাদি); মুসলমান কবি দৌলত কাজী ও আলাওলের কাব্যসম্ভার এবং শাক্তপদাবলি উল্লেখযোগ্য।

অধিকাংশ তথ্যসূত্র অনুসারে,
চৈতন্যদেবকে (জন্ম ১৪৮৬ খ্রিঃ) মাঝখানে রেখে এই যুগকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রাক চৈতন্য যুগ (১২০৩ ১৫০০ খ্রঃ) এবং উত্তর চৈতন্য যুগ (১৫০০- ১৭৬০ খ্রিঃ) - চৈতন্যযুগ (১৫০১-১৬০০) ও এর অন্তর্ভুক্ত।। পরবর্তীতে এর বিস্তৃত যুগবিভাগে কোথাও কোথাও ৩টি দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪৮.
'পাহাড়তলী' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন-
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. সেলিম আলদীন
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে ভুল আছে। পাহাড়তলী গ্রামে উল্লিখিত চারজনের কেউই জন্মগ্রহণ করেননি।
[তবে, শামসুর রাহমানের পৈত্রিক নিবাসের সঙ্গে পাহাড়তলী নামের মিল আছে। সে অনুসারে সর্বধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ উত্তর নেয়া হলো।]

--------------------------
• শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৯.
’অমরাবতী’ কাব্যগ্রন্থ কে লিখেছেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আল মাহমুদ
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ’অমরাবতী’ কাব্যগ্রন্থ কে লিখেছেন- অমিয় চক্রবর্তী।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
- আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের:
- খসড়া,
- এক মুঠো ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার ,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই ,
- সাম্প্রতিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫০.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছরকে কী বলা হয়?
  1. বৈষ্ণব যুগ
  2. গীতিকাব্যের যুগ
  3. রোমান্টিক যুগ
  4. অন্ধকার যুগ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৫১.
হুমায়ুন আজাদ হুমায়ুন আহমেদ কে উৎসর্গ করে কোন গ্রন্থটি?
  1. ক) অলৌকিক ইস্টিমার
  2. খ) জ্বলো চিতাবাঘ
  3. গ) কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  4. ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
ব্যাখ্যা
'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' - হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত এবং হুমায়ুন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলনকে উৎসর্গ করেন।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- অলৌকিক ইস্টিমার;
- জ্বলো চিতাবাঘ;
- যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল;
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু; 
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৫২.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" গ্রন্থের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. গ্রামীণ জীবনে দুঃখ দুর্দশা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধের কাব্যনাটক। বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, 
- নুরুলদীনের সারাজীবন, 
- এখানে এখন, 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস, 
- শীত বিকেল, 
- আনন্দের মৃত্যু, 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান, 
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি। 

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৫৩.
"সিরাজদ্দৌলা" নাটক রচনা করেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

সিরাজদ্দৌলা:
- 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত।
- নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বদেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রে স্বাধীন বাংলার শেষ নবাবের চরিত্রকে ইংরেজ ঐতিহাসিকদের কুৎসা-কণ্টকিত বর্ণনার বিপরীতে নতুন দেশভক্তরূপে আবিষ্কার করেন।
- নাটকে সেই নতুন রূপ সঠিকভাবে চিত্রিত হয়েছে।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক:
- আগমনী,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।
- তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৫৪.
'আদিগন্ত' - উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. শহীদ কাদরী 
  2. সরদার জয়েন উদ্দিন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েন উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েন উদ্দিন
ব্যাখ্যা

'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত, 
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৫৫.
মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. রত্নবতী
  3. রাজাবলি
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ- রত্নবতী।

-------------------------
• রত্নবতী: 

- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিমদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচয়িতার মর্যাদা লাভ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ - রত্নবতী।
- গ্রন্থটির দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে “ধন বড় না বিদ্যা বড়” - এ বিতর্কের সমাধানই “রত্নবতী” গদ্যগ্রন্থের মূল বিষয় বস্তু।
- ২ রা সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ সালে, কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- লেখক গ্রন্থটিকে কৌতুকাবহ উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের মাঝে রয়েছে - বসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ, বিষাদ সিন্ধু, গাজী মিয়াঁর বস্তানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘রাজাবলি’ ও ‘হিতোপদেশ’ গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু,

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫৬.
সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ 'কাব্য সুধাকর' উপাধি প্রদান করা হয় কাকে?
  1. মীর মশররফ হোসেন
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কায়কোবাদ
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল। তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম।

অন্যদিকে, 
• কায়কোবাদ বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন।
• কবি ও গদ্যশিল্পী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৫৭.
'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা:
- কলকাতা থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- যে চেতনা ও সাহিত্যবোধ থেকে 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়েছিল, 'কালিকলম'ও একই বোধ সম্পন্ন পত্রিকা ছিল। তবে পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু হতে পারে নি। 'কল্লোল' ও 'কালিকলমে'র লেখককুল ছিল মূলত একই।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫৮.
চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  3. গ) জহিরুল্লাহ মোহাম্মদ
  4. ঘ) জহিরুল্লাহ মোহাম্মদ আবু সাদ
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। 
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।
- অল্প বয়সেই জহির রায়হান কম্যুনিস্ট রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন।
- তখন কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল।
- তিনি কুরিয়ারের দায়িত্ব পালন করতেন অর্থাৎ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চিঠি ও সংবাদ পৌঁছে দিতেন।
- গোপন পার্টিতে তাঁর নাম রাখা হয় ‘রায়হান’।
- তাঁর আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- পরবর্তী সময়ে তিনি জহির রায়হান নামে পরিচিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫৯.
মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি কে?
  1. রামকৃষ্ণ রায় 
  2. রামপ্রসাদ সেন 
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. গোবিন্দদাস 
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত। কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ - আগম- পারসী নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন ।
- রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পাণ্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩,২৬০.
'একদিন মরতেই হবে, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যদি মরতে পারি, সে মরাতেও শান্তি আছে।'- কোন রচনার উদ্ধৃতি?
  1. অপরিচিতা
  2. আমার পথ
  3. বায়ান্নর দিনগুলো
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
ব্যাখ্যা
• 'একদিন মরতেই হবে, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যদি মরতে পারি, সে মরাতেও শান্তি আছে।'- 
 উক্তিটির রচয়িতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- উল্লিখিত উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত "বায়ান্নর দিনগুলো" থেকে নেওয়া।
--------------------
• বায়ান্নর দিনগুলো:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে অতিবাহিত দিনগুলোর স্মৃতিবিজড়িত সংকলন। 
- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন এবং ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকার সময় তা লেখা বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য,
- বায়ান্নর দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধু ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে জেলে থাকা অবস্থায় তাঁর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং ঢাকার রাজপথে জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কথা বর্ণনা করেছেন।
- এই স্মৃতিচারণে ব্যক্ত হয়েছে তাঁর অনশনকালে জেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও আচরণ, নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর নানা কৌশল ইত্যাদি।
- এতে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ছাত্রজনতার মিছিলে পুলিশের গুলিচালনার খবর।
- 'আমরা অনশন ভাঙব না’-এটি বায়ান্নর দিনগুলো থেকে উদ্ধৃত।
- এ সময় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
-------------------- 
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে। বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৩,২৬১.
'উজানে মৃত্যু' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬২.
"ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।"
- কার রচনা?
  1. সমর সেন
  2. মুকুন্দদাস
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা

চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৯৩৪):
- জন্ম গ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বানারি গ্রামে।
- ১৯০২ - ১৯০৩ মধ্যে তাঁর রচিত শতাধিক গান “সাধন সংগীত” নামে প্রকাশিত হয়। সেই কাব্যগ্রন্থের গানে তিনি “মুকুন্দ” ভণিতা দিয়েছিলেন।
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন। সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।

৩,২৬৩.
‘রিজিয়া’ অসম্পূর্ণ নাটকটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. সেলিম আল দীন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সুলতানা রিজিয়ার বীরত্বপূর্ণ কাহিনি নিয়ে ইংরেজি অসম্পূর্ণ নাটক হচ্ছে ‘রিজিয়া’।

------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৪.
'ইতিহাসমালা' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. উইলিয়াম কেরী
  2. রামরাম বসু
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্সী
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা':
- 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।
- আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৬৫.
‘কালো বরফ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শহীদুল জহির
  2. জহির রায়হান
  3. মাহমুদুল হক
  4. জাকির তালুকদার
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান লেখক মাহমুদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান।
- কালো বরফ তার বিখ্যাত উপন্যাস।
- জীবন আমার বোন উপন্যাসটিও বেশ আলোচিত।
অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- পাতালপুরী
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ
উৎস : বাংলাপিডিয়া ও জনকন্ঠ রিপোর্ট।

৩,২৬৬.
'নানাকথা' প্রবন্ধটির রচয়িতা -
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- 'নানাকথা' প্রবন্ধটির রচয়িতা - প্রমথ চৌধুরী

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে  জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

• সনেট পঞ্চাশৎ ও পদচারণ তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৭.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) আগুনের মেয়ে
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) সৌরভের কাছে পরাজিত
  4. ঘ) লোক লোকান্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৌরভের কাছে পরাজিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৌরভের কাছে পরাজিত
ব্যাখ্যা
- আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ হচ্ছে 'সৌরভের কাছে পরাজিত'

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত।
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
- গন্ধবণিক।
- ময়ূরীর মুখ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী।
- উপমহাদেশ।
- আগুনের মেয়ে।
- কাবুলের বোন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬৮.
'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের বিষয়বস্তু -
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. বিধবার প্রেম
  3. পানিপথের যুদ্ধ
  4. দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বদেশী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৬৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয় কোনটি 
  1. অচলায়তন
  2. মালঞ্চ
  3. কালের যাত্রা
  4. চিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• 'মালঞ্চ' উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস। 
-  মৃত্যুপথযাত্রী নারী নীরজা ও তাঁর স্বামী আদিত্যকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের কাহিনি রচিত।
- ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।
- নীরজা, আদিত্য, সরলা এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। 

অন্যদিকে, 
---------------------
• অচলায়তন:

'অচলায়তন' একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন। এর অর্থ হলো প্রগতিবর্জিত এবং গোঁড়ামিপূর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠান বা সমাজ। এই নাটকে প্রচলিত সংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীন চিন্তার জয়গান গাওয়া হয়েছে।

• ‘কালের যাত্রা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক (১৯৩২)। নাটকটি তিনি শরৎচন্দ্রকে উৎসর্গ করেন।

• চিত্রাঙ্গদা:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক। এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৭০.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন কোন উপন্যাসে?
  1. দরাফ খাঁ গাজী
  2. জোহরা
  3. আনোয়ারা
  4. গরীবের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোহরা
ব্যাখ্যা

• 'জোহরা' উপন্যাস:
- 'জোহরা' উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
-কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

----------------------
কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন খ্যাতিমান কবি ও সাংবাদিক। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে। সাহিত্যচর্চায় বৈচিত্র্য ও বহুমুখিতার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। কবিতা, উপন্যাস ও জীবনী রচনায় তাঁর স্বতন্ত্র কৃতিত্ব লক্ষণীয়।

‘শান্তিপুরের কবি’ নামে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম সমাজের জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরণ ও ধর্মীয় চেতনা অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও উপন্যাস রচনায়ও তিনি বিশেষ সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর রচিত ‘জোহরা’ উপন্যাসে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন বাস্তবচিত্র গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অপরদিকে ‘দরাফ খাঁ গাজী’ একটি ধর্মপ্রেরণামূলক ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) এবং শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: কুসুমাঞ্জলি, অপূর্বদর্শন। হযরত মুহাম্মদ, জাতীয় ফোয়ারা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো: জোহরা, দরাফ খান গাজী।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস- 'আনোয়ারা', 'প্রেমের সমাধি', 'গরীবের মেয়ে’, ‘পরিণাম', ‘চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি', 'দুনিয়া আর চাই না'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩,২৭১.
'পুরুষপরীক্ষা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন। তবে -
- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

[উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ]
৩,২৭২.
কোনটি আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি
  2. লোক লোকান্তর
  3. শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি
  4. ক্ষুধা প্রেম আগুন
সঠিক উত্তর:
পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত কাব্যগ্রন্থ- পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ: 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। 
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি,
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা। 

অন্যদিকে,
- লোক লোকান্তর কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- আলমাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৭৩.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. রাজা উপাখ্যান
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. সমাগম
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭৪.
"অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।" - সাহিত্যের কোন ধারা সম্পর্কে এ উক্তিটি করা হয়েছে?
  1. গীতিকবিতা
  2. সনেট
  3. ছােটগল্প
  4. লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ছােটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছােটগল্প
ব্যাখ্যা
''অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।”- বাংলা সাহিত্যের 'ছোটগল্প' ধারার প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় এ কথাটি বলেছেন।

• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়। 
---------------------
• 'ছোটগল্প':
- ছোটগল্প  কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

• ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছেন:

ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

• ছোটগল্প সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনা পাওনা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) জেগে আছি
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  4. ঘ) স্বপ্নশিলা
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,২৭৬.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সুধাকর
  2. কোহিনুর
  3. সওগাত
  4. হিতকরী
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা - হিতকরী।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ’আজিজননেহার’ ও ’হিতকরী’ নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• 'সুধাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৭৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা আদি কবি কে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. সরহপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা

• শবরপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি - 
 "উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৭৮.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন?
  1. সঞ্চিতা
  2. সঞ্চয়িতা
  3. অগ্নি-বীণা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
- এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
- সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য,
‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।

- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৭৯.
'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

ঝিলিমিলি:
- এটি নজরুলের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।
- প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে।
- এটি একটি নাটকের সংকলন।
- এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত তিনটি নাটক- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ, ও শিল্পী। 
- ঝিলিমিলি নাটকে বাস্তব জীবনের প্রেম ও বিরহের সংবেদনশীল রূপায়ণ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামপশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে ২৪ মে ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• অন্যান্য নাটকগুলো হলো:
- আলেয়া (গীতিনাট্য, ১৯৩১)।
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক, ১৯৩৩)।
- মধুমালা (গীতিনাট্য, ১৯৫৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৮০.
‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতার রচয়িতা হচ্ছে রফিক আজাদ। 

ভাত দে হারামজাদা:
- 'ভাত দে হারামজাদা' রফিক আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা।
- এ কবিতার একটি বিখ্যাত পঙক্তি হচ্ছে- 'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো'।
- 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী নামক গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘জীবন’।
- কর্মজীবন: সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’ এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- মৃত্যু: ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- অসম্ভবের পায়ে,
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা,
- হাতুড়ির নিচে জীবন,
- অপর অরণ্যে,
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি,
- সশস্ত্র সুন্দর,
- অঙ্গীকারের কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,২৮১.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য নয় কোনটি?
  1. ক) লাইলি মজনু
  2. খ) সত্যপীরের পুঁথি
  3. গ) সােনাভান
  4. ঘ) জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
ক) লাইলি মজনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাইলি মজনু
ব্যাখ্যা
দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

- দৌলত উজির বাহরাম খাঁর রচিত 'লায়লী-মজনু' কাব্য পারসিয়ান কবি নিজামীর 'লায়লা ওয়া মজনুন’ কাব্যের ভাবানুবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,২৮২.
আলাওল রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. তোহ্‌ফা
  2. সিকান্দার নামা
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4.  ইউসুফ জোলেখা
সঠিক উত্তর:
 ইউসুফ জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ইউসুফ জোলেখা
ব্যাখ্যা

 ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
-বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।

আলাওল:
- আলাওল আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি। আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্‌ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৮৩.
'কবিতায় আর নতুন কি লিখব।
যখন বুকের রক্তে
লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. গ) মাহবুব আলম চৌধুরী
  4. ঘ) আসাদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
'কবিতায় আর নতুন কি লিখব।
যখন বুকের রক্তে
লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা 'মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান'।
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

শহীদ স্মরণে
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।

কবিতায় কি লিখব?
যখন আসাদ
মনিরামপুরেরর প্রবল শ্যামল
হৃদয়ের তপ্ত রুধিরে করেছে রঞ্জিত
সারা বাংলায় আজ উড্ডীন
সেই রক্তাক্ত পতাকা।
আসাদের মৃত্যুতে আমি
অশ্রুহীন; অশোক; কেননা
নয়ন কেবল বজ্রবর্ষী; কেননা
আমার বৃদ্ধ পিতার শরীরে
এখন পশুদের প্রহারের
চিহ্ণ; কেননা আমার বৃদ্ধা মাতার
কণ্ঠে নেই আর্ত হাহাকার, নেই
অভিসম্পাত- কেবল
দুর্মর ঘৃণার আগুন; কোন
সান্ত্বনা বাক্য নয়, নয় কোন
বিমর্ষ বিলাপ; তাঁকে বলি নি
'তোমার ছেলে আসল ফিরে
হাজার ছেলে হয়ে
আর কেঁদো না মা'; কেননা
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

আসদের রক্তধারায় মহৎ
কবিতার, সব মহাকাব্যের,
আদি অনাদি আবেগ-
বাংলাদেশ-জাগ্রত।
আমি কবিতায় নতুন আর
কি বলব? যখন মতিউর
করাচীর খাঁচা ছিঁড়ে ছুটে গেল
মহাশূন্যে টি-৩৩ বিমানের দুর্দম পাখায় তার স্বপ্নের
স্বধীন স্বদেশ মনে করে-
ফেলে তার মাহিন তুহিন মিলি
সর্বস্ব সম্পদ; পরম আশ্চর্য এক
কবিতার ইন্দ্রজাল স্রষ্টা হল-
তার অধিক কবিতা আর
কোন বঙ্গভাষী কবে লিখেছে কোথায়?

আমি কোন শহীদের স্মরণে লিখব?
বয়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর, একাত্তর;
বাংলার লক্ষ লক্ষ আসাদ মতিউর আজ
বুকের শোণিতে উর্বর করেছে এই
প্রগাঢ় শ্যামল।
শহীদের পূণ্য রক্তে সাত কোটি
বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ
পুষ্পিত সৌরভ। বাংলার নগর, বন্দর
গঞ্জ, বাষট্টি হাজার গ্রাম
ধ্বংস্তুপের থেকে সাত কোটি ফুল
হয়ে ফোটে। প্রাণময় মহৎ কবিতা
আর কোথাও দেখি না এর চেয়ে।
শব্দভূক পদ্যব্যবসায়ী ভীরু বঙ্গজ পুঙ্গব সব
এই মহাকাব্যের কাননে খোঁজে
নতুন বিস্ময়। কলমের সাথে আজ
কবির দুর্জয় হাতে নির্ভুল স্টেনগান কথা বলে।
কবিতায় আর নতুন কি লিখব।
যখন বুকের রক্তে
লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
৩,২৮৪.
"বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ" কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• "বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ" কবিতাটির রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
---------------------- 
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ- কবিতা, 
কবি- মাইকেল মধূসূদন দত্ত।

“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ, নিকষা সতী তােমার জননী,
সহােদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ- কবিতা।
৩,২৮৫.
'জাবালি' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিমল মিত্র
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. মণীশ ঘটক
  4. শম্ভু মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি।

অন্যদিকে, 
- সতীনাথ ভাদুড়ী চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন।
- শম্ভু মিত্রের ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৮৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক কে ছিলেন?
  1. মৈত্রেয়ী দেবী
  2. আশাপূর্ণা দেবী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী 
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
--------------------------------------
 স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘
- ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তিনি সাহিত্য ও নারী জাগরণে অবদান রেখেছেন।
- ১৮৮৬ সালে তিনি ‘সখী সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলার প্রথম নারী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে বিধবা ও অনাথ মহিলাদের সাহায্য এবং নারী অধিকারের জন্য কাজ করেছেন।
 -তাঁর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- মৈত্রেয়ী দেবী -‘মঙ্গলা’ উপন্যাসের রচয়িতা।
- আশাপূর্ণা দেবী - ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’-র লেখিকা।
- কুসুমকুমারী দাশ - তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,২৮৭.
কোনটি ঠিক নয়?
  1. অন্তিম শরের মতো (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  2. পল্লীবধূ  (নাটক)
  3. রোদে যাবো (গল্পগ্রন্থ)
  4. সশস্ত্র সুন্দর (কাব্যগ্রন্থ)
সঠিক উত্তর:
অন্তিম শরের মতো (প্রবন্ধগ্রন্থ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তিম শরের মতো (প্রবন্ধগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
অন্তিম শরের মতো:
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কবিতাগ্রন্থ
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
পল্লীবধূ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক
- এটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

রোদে যাবো:
- হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

সশস্ত্র সুন্দর:
- রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৮৮.
'চিত্রলেখা' নামে সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'চিত্রলেখা' নামে সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী
- অপরাজিত 
- অশনি সংকেত
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান
- ইছামতী
- দৃষ্টি প্রদীপ 
- বিপিনের সংসার 
- চাঁদের পাহাড় 
- দম্পতি ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার 
- মৌরীফুল 
- যাত্রাবদল 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,২৮৯.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে প্রকাশ করেন। অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৯০.
কবি গোবিন্দদাস কার ভাবশিষ্য ছিলেন?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডিদাস
  3. জয়দেব
  4. শ্রী চৈতন্যদেব
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।
-  বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’  উপাধিও প্রদান করেন। 

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৯১.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় কোনটি?
  1. অগ্রদানী
  2. বেদেনী
  3. রসকলি
  4. রাধা
সঠিক উত্তর:
রাধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় - রাধা
- এটি তাঁর রচিত উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯২.
"মৃন্ময়ী" কোন ছোট গল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. নষ্টনীড়
  3. একরাত্রি
  4. শেষকথা
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি
ব্যাখ্যা
•'সমাপ্তি' ছোটগল্প:
- 'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,২৯৩.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয়?
  1. ক) বড়দিদি
  2. খ) বিরাজ বৌ
  3. গ) মেজদিদি
  4. ঘ) বামুনের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
গ) মেজদিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেজদিদি
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসঃ পরিণীতা, বিরাজ বৌ, বড়দিদি, দত্তা, বামুনের মেয়ে, দেনাপাওনা, গৃহদাহ, পথের দাবি, শেষ প্রশ্ন। তার রচিত সুখপাঠ্য গল্পঃ বিন্দুর ছেলে, ছবি, মেজদিদি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩,২৯৪.
'অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন'। পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) চন্ডীদাস
  2. খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. গ) গোবিন্দ দাস
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন'- পঙক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। এটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৩,২৯৫.
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) তত্ববোধিনী
  2. খ) সাধনা
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) ভারতী
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীটি প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়- বঙ্গদর্শন। 

'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনী
 সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ্য ভ্রমণকাহিনি।
- এটি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তি: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। 

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পালামৌ' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- বঙ্গিমচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। 
-  এছাড়া তিনি 'ভ্রমর' নামের একটি মাসিক পত্রিকা (১২৮১-১২৮২) বঙ্গাব্দ সম্পাদনা করেন। 
- সঞ্জীবচন্দ্র Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities গ্রন্থে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে
বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ধারাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। 

তাঁর রচিত গল্প: 
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট,

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- যাত্রা,

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কোন কাব্যগ্রন্থে ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. মানসী
  3. সোনার তরী
  4. প্রভাতসঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের 'বর্ষাযাপন' কবিতায় ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।
- রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পের বিষয় ও রীতি সম্বন্ধে তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় বলেছেন-

"ছোটো প্রাণ, ছোট ব্যথা
ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা
ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,
সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।"

উল্লেখ্য,
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯৭.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র -
  1. রাধা, কৃষ্ণ, গোপাল
  2. রাধা, কংস, উগ্রসেন
  3. রাধা, কৃষ্ণ, যশোদা
  4. রাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি
সঠিক উত্তর:
রাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খণ্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৯৮.
বৈষ্ণব পদাবলির ‘আদিকবি’ কাকে বলা হয়?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. জয়দেব
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট এক প্রকার কৃত্রিম ভাষায়, যা ব্রুজবুলি ভাষা নামে পরিচিত।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস। সুতরাং বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা চণ্ডীদাস।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৯৯.
কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা
• মাসিক 'সওগাত':
- একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাসে (১৯২১ সালের মার্চ-এপ্রিল) অনিবার্য কারণবশত এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের (১৯২৬ সাল) আষাঢ় মাসে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় এর প্রকাশনা শুরু হয় এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ (১৯৩০ সাল) পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ১৯৫০ থেকে প্রায় তিন বছর সওগাতের কোনো সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
- ১৯৫২ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ ১৩৫৯) থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০০.
জসিমউদ্‌দীনের বিখ্যাত গাঁথাকাব্য কোনটি?
  1. ক) নকশীকাঁথার মাঠ
  2. খ) চলে মুসাফির
  3. গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
  4. ঘ) জীবন কথা
সঠিক উত্তর:
ক) নকশীকাঁথার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নকশীকাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা
কবি জসিমউদ্‌দীন বিখ্যাত গাঁথাকাব্যগুলো হলো-
নকশীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে।
তার রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো- চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশ, যে দেশে মানুষ বড়।
‘জীবন কথা’ হলো তার আত্মজীবনী।
‘যাদের দেখেছি’, ‘ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়’ হলো তার রচিত স্মৃতিকথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।