বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩২ / ২১১ · ৩,১০১৩,২০০ / ২১,১৩২

৩,১০১.
বাংলা সাহিত্যে ‘আধুনিক গীতিকবিতার জনক’ হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,১০২.
‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’— ভাষা আন্দোলনভিত্তিক এই কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. শামসুর রাহমান 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. হাসান হাফিজুর রহমান 
  4. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাহবুব উল আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী  ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে। 
--------------- 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

---------------
কবিতাটির কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না। (সংক্ষেপিত)

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতা।

৩,১০৩.
হেনরি ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় -
  1. ইয়ংবেঙ্গল
  2. ইয়ংফ্রেন্ড
  3. বেঙ্গলফ্রেন্ড
  4. মুক্তবেঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ইয়ংবেঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়ংবেঙ্গল
ব্যাখ্যা
হেনরি ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১০৪.
‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে কুমোদিনীর স্বামীর নাম কী?
  1. নিখিলেস
  2. অমিত
  3. মধুসূদন
  4. নবকুমার 
সঠিক উত্তর:
মধুসূদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুসূদন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) মধুসূদন।

অন্যান্য অপশনের ক্ষেত্রে:
(ক) নিখিলেশ: তিনি রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের চরিত্র।
(খ) অমিত: তিনি ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের নায়ক।
(ঘ) নবকুমার: এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র।
-----------------------
‘যোগাযোগ’ উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে কুমোদিনীর স্বামীর নাম হলো মধুসূদন। এই উপন্যাসে কুমোদিনী ও মধুসূদনের সম্পর্কের মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব, শ্রেণিগত পার্থক্য এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, যোগাযোগ উপন্যাস।

৩,১০৫.
নিম্নে কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত নয়?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডিকামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত নয় = চণ্ডিকামঙ্গল।
----------------------------------------
• মঙ্গকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।

• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,১০৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. নিসর্গ সন্দর্শন
  3. অনুরাগ
  4. বন্ধু বিয়োগ
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল'।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘অনুরাগ’।

• 'সারদামঙ্গল':

- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,১০৭.
গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে বলা হয় -
  1. স্বভাব কবি
  2. চারণ কবি
  3. গীতি কবি
  4. প্রেমের কবি
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১০৮.
জীবনানন্দ দাশকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. সৌন্দর্যের কবি
  2. প্রগতির কবি
  3. ধূসরতার কবি
  4. নিসর্গের কবি
সঠিক উত্তর:
ধূসরতার কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূসরতার কবি
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,১০৯.
কোন কবির মা-ও একজন কবি ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
  2. জীবনানন্দ দাশের
  3. সুফিয়া কামালের
  4. আল মাহমুদের
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশের
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের মা-ও একজন কবি ছিলেন।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১১০.
আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই কোনটি?
  1. সারাদুপুর
  2. ছায়াহরিণ
  3. আশায় বসতি
  4. রাত্রিশেষ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।

- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।

- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 

- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'। ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪),
- আশায় বসতি (১৯৭৪),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬),
- দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১),
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইতাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১১১.
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. ছাড়পত্র
  2. পূর্বাভাস
  3. অভিযান
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
আঠারো বছর বয়স:
- কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট।
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ধারণায় সব অন্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ করে ১৮ বছর বয়স।
- কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য:
• যৌবনের উদ্দীপনা,
• সাহসিকতা,
• দুর্বার গতি।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১১২.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে-
  1. মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
  2. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
  3. মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। 

'রেইনকোট' ছোটগল্প:

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস-
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৩,১১৩.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) মুহাম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
খ) মুহাম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহাম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির রচয়িতা- মুহাম্মদ আবদুল হাই।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা 
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali
- ভাষা ও সাহিত্য 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত 

ভ্রমণকাহিনী:
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,১১৪.
'চোরাবালি' - কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। 
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। 
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ: 
- উর্বশী ও আর্টেমিস, 
- চোরাবালি
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ, 
- সাত ভাই চম্পা, 
-সেই অন্ধকার চাই, 
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, 
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১১৫.
বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে গবেষণা করেন-
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রাহুল সাংকৃত্যায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,১১৬.
'পালক ভাঙার প্রতিবাদে' রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আল মাহমুদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ বাংলাদেশের প্রধান কবিদের একজন। তাঁর বিখ্যাত কাব্য সোনালী কাবিন।
এই কাব্যে সোনালী কাবিন নামে ১৪ টি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতা রয়েছে।
অন্য কবিতগুলো হলো :
- জাতিস্মর
- পালক ভাঙার প্রতিবাদে
- ক্লামোফ্লাজ
- শোণিতে সৌরভ
- তোমার আড়ালে

আল মাহমুদের অন্যান্য কাব্য :
- কালের কলস
- লোক লোকান্তর
- অদৃষ্টবাদীর রান্নাবান্না
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- দোয়েল ও দয়িতা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,১১৭.
’কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ গ্রন্থের লেখক কে ?
  1. মহাদেব সাহ
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
’কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ গ্রন্থের লেখক - মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।

• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ :
- তিনি একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তিনি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি :
-কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলির এম ইদিওমা বেনহল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,১১৮.
'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে সাহিত্য রচনা করেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।
 
কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
-হুতোম প্যাঁচার নকশা (মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা)।
-সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১৯.
সারদামঙ্গল কাব্য প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পরিদর্শক
  2. খ) আর্যদর্শন
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) চিত্রদর্শন
সঠিক উত্তর:
খ) আর্যদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আর্যদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, “সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”  
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস : সারদামঙ্গলকাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২০.
'ঈশপস ফেবলস্‌' গ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
- 'ঈশপস ফেবলস্‌' গ্রন্থটি রচনা করেন- জন ক্লার্ক মার্শম্যান।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।
- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র।
- ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন।
- ১৮১৮ সালে তিনি  শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর সমাচার দর্পণ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।
- 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকাটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি শ্রীরামপুর থেকে ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যের প্রথম যুগের ইতিহাসে এবং বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার গুরুত্ব অনেক।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- ঈশপস ফেবলস্‌,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২১.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুজ্জামান খান
  2. সমর সেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সরদার জয়েনউদ্দিন
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী উপন্যাস:
- বেণের মেয়ে,
- কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২২.
কোন কবির কাব্যরীতিতে সর্বপ্রথম কথ্যরীতির সংমিশ্রণ দেখা যায়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি বুদ্ধদেব বসু। তিনি কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক।
- বুদ্ধদেব বসুর কবিতাগুলির বাচনভঙ্গির বক্রতা এবং ভাষাগত দুর্বোধ্যতা নেই।
- রোমান্টিকতার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বেশি বয়সের রচনাগুলিতে।
- বুদ্ধদেবের রচনাতেই সর্বপ্রথম কাব্যরীতিতে কথ্যরীতির সংমিশ্রণ দেখা যায়।

- পৌরাণিক কাহিনী প্রসঙ্গ বা চিত্রকলা নির্মাণেও কবি যথেষ্ঠ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।
- দ্রৌপদীর শাড়ি, দয়মন্তী, কঙ্কাবতী, শীতের প্রার্থনা প্রভৃতি কাব্যে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
- এসকল কারণে সমকালীন কবিদের মধ্যে বুদ্ধদেবের জনপ্রিয়তা বেশি।

- বুদ্ধদেব বসুর কাব্যে সমাজচেতনা বিশেষভাবে প্রকাশ না পেলেও বাস্তববাদিতা ও নাগরিক চেতনা প্রকাশে সর্বগ্রহণ্য।
- এ জন্য তাকে অনেকে নাগরিক কবি বলে অভিহিত করে থাকেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১২৩.
'কোন এক মাকে' কবিতা কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আহসান হাবীব
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

কোন এক মাকে
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি?
(সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে :
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাতনরী হার (১৯৫৫)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চো্খ
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,১২৪.
নওয়াব ফয়জন্নেসা রচিত গ্রন্থ কোনটি ?
  1. ক) চাষাভূষার কাব্য
  2. খ) রূপজালাল
  3. গ) আমাদের শিক্ষা
  4. ঘ) আঁখিজল
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
ব্যাখ্যা

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
- মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- রূপজালাল তাঁর একমাত্র সাহিত্য কর্ম।
অন্যদিকে,
- ‘চাষাভূষার’ কাব্য নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি গ্রন্থ।
- ‘আমাদের শিক্ষা’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘আঁখিজল’ কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি কাব্য।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]

৩,১২৫.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. দোম আন্তোনিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা

‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
- রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত।
- এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,১২৬.
গোবিন্দদাসের আসল পদবি কী ছিল?
  1. গুপ্ত
  2. কাবিরাজ
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,১২৭.
বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি করেছেন কোন কবি?
  1. সুকুমার রায়
  2. সমর সেন
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

•  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারীতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ  অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- প্রথম জীবনে তিনি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন। পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।
- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায়-আরতি,
- কাব্য সঞ্চয়ন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১২৮.
"নেজাম ডাকাতের পালা" - কোন ধরনের লোকসাহিত্য?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা 
  2. নাথগীতিকা
  3. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  4. কবিগান 
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- নেজাম ডাকাতের পালা,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে,
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই), মলুয়া (চন্দ্রাবতী), চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র (নয়ানচাঁদঘোষ), কমলা (দ্বিজ ঈশান) কঙ্ক ও লীলা, রূপবতী, । নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, চৌধুরীর লড়াই, আয়না বিবি, ভেলুয়া ইত্যাদি পূর্ববঙ্গ গীতিকা উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৩,১২৯.
হিন্দু থিয়েটার নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয় উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ক) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) তারাচরণ শিকদার
  3. গ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  4. ঘ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
• বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
• হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
• তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
• ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

• ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় হিন্দু থিয়েটার নামক বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়। এখান থেকেই মোটামুটি বাংলা নাটকের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,১৩০.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর চর্যাগীতির পুথি আবিষ্কারের কত বছর পর নবচর্যাপদের অনুসন্ধান শুরু হয়?
  1. প্রায় ২৫ বছর
  2. প্রায় ৩০ বছর
  3. প্রায় অর্ধশতক বছর
  4. প্রায় এক শতক
সঠিক উত্তর:
প্রায় অর্ধশতক বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় অর্ধশতক বছর
ব্যাখ্যা

• নবচর্যাপদ:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক চর্যাগীতির পুথি আবিষ্কারের প্রায় অর্ধশতক বছর পর ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত নেপাল থেকে ২০টি পুথি অবলম্বনে ২৫০টি চর্যাগীতি খুঁজে বের করেন।
- এগুলোর মধ্য থেকে ৯৮টি চর্যাগীতি নবচর্যাপদ নামে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি।
- কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সেগুলো প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থে সংকলিত চর্যাগীতিপুথির প্রথম ১৯টির রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতক। পরবর্তী ৪৪টি চর্যাগীতি ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের রচনা। বাকি ৩৫টি চর্যাগীতির রচনাকাল পঞ্চদশ শতক।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নবচর্যাপদগুলির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতক সম্পর্কে সাধারণ ধারণা, বাংলা সাহেিত্যর তথাকথিত এই অন্ধকার কালপঠে এদেশে সাহিত্য রচিত হয় নি। কিন্তু নবচর্যাগীতিগুলি আবিষ্কারের পর এ প্রমাণ পাওয়া গেছে সেসময়ও সাহিত্য রচনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক।

৩,১৩১.
‘অশনিসংকেত’ উপন্যাসটির উপজীব্য বিষয় কোনটি?
  1. দুর্ভিক্ষ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
অশনি সংকেত: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩২.
"নুরু" কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ব্যাথার দান
  4. মধুমালা
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হচ্ছে: 
- নুরু,
- মাহবুবা,
- রাবেয়া,
- সাহসিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,১৩৩.
'নীড়ভ্রষ্ট' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• 'নীড়ভ্রষ্ট' উপন্যাস:
- 'নীড়ভ্রষ্ট' হলো বিখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক বন্দে আলী মিয়ার লেখা একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজেগুলোর মধ্যে একটি। 
- উপন্যাসে তিনি গ্রামীণ জীবন, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্বের জটিলতা তুলে ধরেছেন। 

----------------------
• বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী।

বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

বন্দে আলী মিয়া রচিত নাটক: 
- মসনদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৩৪.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর রচনা?
  1. ক) Linguistic Survey of India
  2. খ) Bihar Peasant Life
  3. গ) A Dictionary of the Kashmiri Language
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা

- জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- সংস্কৃত ভাষাসহ অন্যান্য প্রাচ্যভাষা ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর আগ্রহ ছিল।

প্রধান সাহিত্যকর্মঃ
• বিদ্যাপতির পদাবলি সংবলিত An Introduction to the Maithili Language of North India
• বিহারের সাতটি উপভাষার ব্যাকরণ Seven Grammars of the Dialects and Subdialects of Bihari Language
• Bihar Peasant Life
• Linguistic Survey of India
• A Dictionary of the Kashmiri Language

সোর্সঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,১৩৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন কী?
  1. ক) ধাঁধাঁ
  2. খ) শায়ের
  3. গ) পুঁথি
  4. ঘ) গান
সঠিক উত্তর:
ঘ) গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। 
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সঙ্গীত।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৩৬.
'কবিতার কথা' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'কবিতার কথা' প্রবন্ধের রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি "সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি" 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে। 
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির 
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩৭.
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত 'সমুদ্র বাসর' একটি -
  1. ক) রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. খ) রোম্যান্টিক উপন্যাস
  3. গ) আঞ্চলিক উপন্যাস
  4. ঘ) যুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) আঞ্চলিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আঞ্চলিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত 'সমুদ্র বাসর' একটি - আঞ্চলিক উপন্যাস।

• বৃহত্তর বরিশাল জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী জনজীবনকেন্দ্রিক উপন্যাস 'সমুদ্র বাসর'। একে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা যায়। কামদেবপুরের জেলে সখানাথ, রতিকান্ত, দেবনাথ, শ্রীহরি সাগর ও নদীর মোহনায় জীবন বাজি রেখে মাছ ধরে। এক দিন তারা সন্ধান পায় নতুন জেগে ওঠা চরের। সখানাথ এ সংবাদ জানায় একটি গোষ্ঠীর দলপতি মুজফফর মিঞাকে। সখানাথ মনে করেছিল মুজফফর মিঞা এই সংবাদের বদলে তাকে পুনর্বাসিত করবে। চরের দখল মুজফফর নিলেও সখার কোনো ভাগ্যবদল ঘটে নি। এই অঞ্চলকেন্দ্রিক মানুষের জীবন পরিচর্যা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা
- কাশবনের কন্যা
- কাঞ্চনমালা
- জায়জঙ্গল
- কাঞ্চনগ্রাম

গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা
- ঢেউ
- পথ জানা নাই
- দুই হৃদয়ের তীর
- শাহের বানু
- পুঁই ডালিমের কাব্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩,১৩৮.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. অসম্ভবের পায়ে (উপন্যাস)
  2. আরো দুটি মৃত্যু (গল্পগ্রন্থ)
  3. মাল্যবান (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  4. শিউলি (গল্পগ্রন্থ)
সঠিক উত্তর:
আরো দুটি মৃত্যু (গল্পগ্রন্থ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরো দুটি মৃত্যু (গল্পগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
আরো দুটি মৃত্যু:
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
অসম্ভবের পায়ে:
- রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

মাল্যবান:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

শিউলি:
- হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস
- এটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৩৯.
‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্প-সংকলনটির রচনাকারী কে? 
  1. আবদুল গফ্‌ফার চৌধুরী 
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রফিক আজাদ 
  4.  শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
 শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্প-সংকলনটির রচনাকারী- শওকত ওসমান।

• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে’ উপন্যাস বিষয়ক কিছু তথ্য:
- শওকত ওসমানের ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ একটি গল্পসংকলন। 

- এটি মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে। এতে ১৯৭১ সালের গণহত্যা, মানুষের ভোগান্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ এবং যুদ্ধোত্তর সমাজের কঠিন পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে। লেখক গল্পগুলোতে যুদ্ধের পেছনের অজানা কষ্ট, ব্যক্তিগত দুঃখ ও মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেছেন। সংকলনের একটি গল্পে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের হত্যাযজ্ঞের ঘটনা বর্ণিত, যা এই সাহিত্যকর্মকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল ও প্রামাণ্য চিত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। তাছাড়া এই সংকলনে ওয়াগন ব্রেকার লুৎফর, যাকে লাতু নামেও ডাকা হয়, তার মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সাহসী লড়াই এবং যুদ্ধের পেছনের অসাধারণ সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।

 
----------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে। 
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।

উৎস:
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্প সংকলন; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,১৪০.
কালীপ্রসন্ন সিংহ কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
  1. ক) বিদ্যোৎসাহিনী সভা
  2. খ) বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা
  3. গ) বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান- 
- বিদ্যোৎসাহিনী সভা (১৮৫৩)
- বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫) 
- বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ  (১৮৫৩)
- মাত্র তেরো বছর বয়সে কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। 
- তৎকালীন প্রখ্যাত  বুদ্ধিজীবী রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন: বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬) এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ। 
- নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে সামাজিক জ্ঞান বৃদ্ধির মানসে তিনি  বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ (১৮৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪১.
মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শামসুন্নাহার মাহমুদ
  2. সুফিয়া কামাল
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- চাষার দুক্ষু (প্রবন্ধ),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪২.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  4. দক্ষিণায়নের দিন 
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মুল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৪৩.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’ - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি কে করছেন?
  1. ক) বশির
  2. খ) জরিনা বেগম
  3. গ) নবাব সুজাউদ্দৌলা
  4. ঘ) নজীবদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব সুজাউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা তাঁর মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর (১৯৫৯) মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’ - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করছেন - নবাব সুজাউদ্দৌলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৩,১৪৪.
'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'- এই উক্তিটি কার?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরী করেছেন।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'।
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'।
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।
• গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীরবলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)।
- নানাকথা।
- আমাদের শিক্ষা।
- রায়তের কথা।
- নানাচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৪৫.
'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) চন্দ্রকুমার দে
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
চন্দ্রকুমার দে আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
চন্দ্রকুমারের সংগৃহীত পালাগুলি হচ্ছে -
মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

এগুলি ছাড়া তাঁর সংগৃহীত আরও কতগুলি পালা হচ্ছে: অধুয়া সুন্দরী, সুরতজামাল, কাজলরেখা, আসমা, সত্যপীরের পাঁচালি, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ, লীলার বারমাসী ও গোপিনী কীর্তন।
পালাগুলির বেশির ভাগ ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে সংগৃহীত হয়েছে। মৌখিক ধারার এসব গান ও সাহিত্য মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করে জনসম্মুখে তুলে ধরার মৌলিক কৃতিত্ব চন্দ্রকুমারের। পালা সংগ্রহ ছাড়া চন্দ্রকুমার নিজে বেশ কিছু কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। ১৯৪৬ সালে ময়মনসিংহে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,১৪৬.
‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ কাজী নজরুল ইসলামের এই প্রবন্ধটি দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হয়। 
- এই প্রবন্ধের জন্য ওই বছরেরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং নজরুলের ওপর পুলিশের দৃষ্টি পড়ে।
- পরবর্তীতে প্রবন্ধটি কবি নজরুলের 'যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

--------------
এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। নজরুলের লেখা ‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ প্রবন্ধের জন্য ওই বছরেরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং নজরুলের ওপর পুলিশের দৃষ্টি পড়ে। নবযুগ পত্রিকার সাংবাদিকরূপে নজরুল যেমন একদিকে স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক জগতের রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থা নিয়ে লিখছিলেন, তেমনি মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে উপস্থিত থেকে সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হচ্ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরোয়া আসর ও অনুষ্ঠানে যোগদান এবং সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তরুণ কবির সংস্কৃতিচর্চাও অগ্রসর হচ্ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪৭.
'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,
তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর।' - কবিতাংশটুকু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বনলতা সেন
  2. ঝরা পালক
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,
তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর।' - কবিতাংশটুকু 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের 'বাংলার মুখ' কবিতার অন্তর্গত।

বাংলার মুখ
 জীবনানন্দ দাশ।

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৪৮.
'হেক্টরবধ' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. দান্তের ডিভাইন কমেডি
  2. ভার্জিনের ইনিদ
  3. হোমারের ওডিসি
  4. হোমারের ইলিয়াড
সঠিক উত্তর:
হোমারের ইলিয়াড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমারের ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
হেক্টরবধ:
- এটি হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭ তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক। এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪৯.
'নিশুতি রাতের গাথা' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
'নিশুতি রাতের গাথা' আনোয়ার পাশা রচিত একটি উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস- নীড় সন্ধানী ও রাইফেল রোটি আওরাত। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,১৫০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. সতী
  3. চন্দ্রনাথ
  4. পরিণীতা
সঠিক উত্তর:
সতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতী
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৫১.
'শতকরা আশি' নাটকটির রচয়িতা?  
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
'শতকরা আশি' নাটকটির রচয়িতা- নুরুল মোমেন।

নুরুলমোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো 
- নয়া খান্দান 
- আলোছায়া 
- আইনের অন্তরালে 
- শতকরা আশি 
- রূপলেখা 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৫২.
শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. বনী আদম
  2. জননী
  3. চৌরসন্ধি
  4. ক্রীতদাসের হাসি
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৫৩.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা 
  2. জীবন আমার বোন 
  3. কালো ঘোড়া
  4. কাবিলের বোন
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস "কাবিলের বোন"। পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচেয়ে দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস।

- এই উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।

- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন, নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।

- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

অন্যদিকে, 
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।

• 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৪.
আবদুল গাফ্ফা‌র চৌধুরী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চাচা-কাহিনী
  2. খ) টুনি মেম
  3. গ) ওটেন সাহেবের বাংলো
  4. ঘ) ডানপিটে শওকত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডানপিটে শওকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডানপিটে শওকত
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।  

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' - গানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ দুটি:
- চাচা-কাহিনী (১৯৫২)
- টুনি মেম (১৯৬৪)
• শওকত ওসমানের শিশুতোষ গ্রন্থ - ওটেন সাহেবের বাংলো, তারা দুইজন, ক্ষুদে সোশালিস্ট ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৫.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. হেলাল হাফিজ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• 'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন - বদরুদ্দীন উমর

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৫৬.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. আহমদ ছফা
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
------------- 
• 'বেনের মেয়ে' উপন্যাস: 
- 'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 
-------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৭.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন 
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. একুশের গল্প
  4. আর্তনাদ
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা

• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- 'একুশে ফেব্রুয়ারী' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন। 
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

অন্যদিকে, 
• বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
• জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৫৮.
'তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?' -এ বিখ্যাত কথাটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরীর
  2. কাজী নজরুল ইসলামের
  3. বুদ্ধদেব বসুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- উপন্যাসের চরিত্র: 
গুরুত্বপূর্ণ উক্তি: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি। 
• পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ? (বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ)
• তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের,
-  উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৯.
'রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?' বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) নতুন লেখা
  2. খ) মুহূর্তের কবিতা
  3. গ) সাত সাগরের মাঝি
  4. ঘ) নৌফেল ও হাতেম
সঠিক উত্তর:
গ) সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
• মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬০.
কোন সাহিত্যিক দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ(১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। 
১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- পরে দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন
- তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭)।
- পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে রচিত তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০।
- সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো:
- অভিমন্যুবধ (১৮৮১),
- সীতার বনবাস (১৮৮১),
- সীতাহরণ (১৮৮২),
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮২),
- প্রফুল্ল (১৮৮৯), জনা (১৮৯৪),
- আবু হোসেন (১৮৯৬), বলিদান (১৯০৪),
- সিরাজদ্দৌলা (১৯০৫),
- মীরকাশিম (১৯০৬),
- ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭),
- শঙ্করাচার্য (১৯১০),
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি।

প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬১.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকাটি কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৬২.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কঙ্কাবতী
  2. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  3. মর্মবাণী
  4. পরিক্রমা
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস - পরিক্রমা

বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
-  রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী
- বন্দীর বন্দনা, 
- কঙ্কাবতী, 
- যে আধাঁর আলোর অধিক, 
- মরচেপড়া পেরেকের গান, 
- একদিন চিরদিন, 
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ, 
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৬৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. রামমোহন রায়
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।

রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে
বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬৪.
মধ্যযুগের কোন কবির রচনা 'হানিফার লড়াই'?
  1. আবদুল হাকিম
  2. দৌলত কাজী
  3. শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম:
- সতের শতকের মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
→ ইউসুফ জোলেখা,
→ নূরনামা,
→ দুররে মজলিশ,
→ লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
হানিফার লড়াই
- মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে রচিত প্রবাদতুল্য তাঁর পঙ্‌ক্তি দুটি -

যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাপ্রীতিকে আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম এ ধরনের পঙ্‌ক্তি লেখেন।
- 'নূরনামা' কাব্যে তিনি এই প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।
- তিনি ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৬৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সনেট সংকলন কোনটি?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬৬.
'পথ জানা নাই' গল্পের রচয়িতা কে? 
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আবু ইসহাক
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. শামসুর রাহমান 
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

'পথ জানা নাই' গল্পের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। 
----------------------------------------------
• শামসুদ্দিন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দিন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭) বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
শামসুদ্দীন আবুল কালাম একজন ব্যতিক্রমী ধারার লেখক।
- সাধারণ মানুষের সরল জীবনের প্রতিচ্ছবি অঙ্কনে তিনি দক্ষ রূপকার। 
- ১৯২৩ সালে তিনি দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান এবং মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো: 

• 'পথ জানা নাই' গল্পগ্রন্থের গল্পসমূহ:
- পথ জানা নাই,
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।
------------------------------------------------- 
 ‘পথ জানা নেই’ গল্পের মূলভাব:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পথ জানা নেই’ গল্পে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন ফুটে উঠেছে।
- গল্পে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে বা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়;
- ফলে পরিবার ও সমাজে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়।
- প্রিয়জনের বিচ্ছিন্নতা ও হতাশার মাধ্যমে গল্পে যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পথ জানা নাই’ গল্পে মূল চরিত্ররা হলেন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষ—কৃষক ও দরিদ্র পরিবার। 
- এই সাধারণ মানুষের সমষ্টিগত জীবনের দুঃখ, বিচ্ছিন্নতা ও দিশাহীনতার প্রতিচ্ছবিই গল্পে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,১৬৭.
'তন্বী' কাব্যটি কার রচনা?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থগুলি: 
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০),
- দশমী (১৯৫৬)

উৎস - বাংলাপিডিয়া।

৩,১৬৮.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় 'সুদর্শন' কোথায় উড়ে?
  1. নদীর তীরে
  2. সন্ধ্যার বাতাসে
  3. শিমুলের ডালে
  4. সবুজ মাঠে
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যার বাতাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যার বাতাসে
ব্যাখ্যা
• 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি- 'হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে। 

• ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কবিতাটি নিম্নরূপ-
আবার আসিব ফিরে- (জীবনানন্দ দাশ)

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
--------------------
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা রায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে — 

উৎস: আবার আসিব ফিরে, জীবনানন্দ দাশ।
৩,১৬৯.
সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজর্ষি
  2. চার অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।

- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত। 
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে, 
• 'রাজর্ষি' উপনাসের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস এটি। 

• 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এটি সাধুভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস। উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

• 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৭০.
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র':
- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।

- ইব্রাহীম খাঁ ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন। সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি। তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন। মূলত এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকেই অবলম্বন করে 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি রচিত। 

- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গিয়েছিলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন। এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।

- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ- ইবরাহীম খাঁ'কে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক বলেন-
ইস্তাম্বুল যাত্রীর অনেকগুলি পত্র আজাদে প্রকাশিত হয়। তখন পাঠক সমাজের অনেকে একে বইয়ের আকারে ছাপাতে পরামর্শ দেন। তাঁদের এই পরামর্শকে কাজে পরিণত করার ব্যাপারে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস যে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য তাঁদেরে ধন্যবাদ। আর যে সহৃদয় পাঠক বন্ধুদের আগ্রহে আমি এই ছাপান কাজে প্রবৃত্ত হই, আজ তাঁদেরেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি।
৩,১৭১.
”সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/যদি নাও, দিতে পারি কাবিন বিহীন হাত দুটি’”-অমর পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. শাসসুর রহমান
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• ”সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/যদি নাও, দিতে পারি কাবিন বিহীন হাত দুটি’”-অমর পঙ্‌ক্তিটির লেখক আল মাহমুদ।
- পঙ্‌ক্তিটি সোনালি কাবিন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩,১৭২.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মা
  2. খ) পড়শ্রী খণ্ড
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) অলীক মানুষ
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৭৩.
সাহিত্য সম্রাট হিসাবে কাকে অভিহিত করা হয়-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,১৭৪.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. জামিলা
  2. তাহেরা
  3. জয়গুন
  4. জোহরা
সঠিক উত্তর:
জয়গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়গুন
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' 
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
→ হাসু,
→ মায়মুন,
→ শাফি,
→  ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
→ মোরল গদু ইত্যাদি। 
-------------------------- 
• আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাকের  প্রাপ্ত পদক:
→ ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩),
→ ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১),
→ ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০),
→ ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭),
→ ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং
→  ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।  

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম, 
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭৫.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২৩ জন
  2. ২৪ জন
  3. ২২ জন
  4. ২৬ জন
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি। তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,১৭৬.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. চৈতন্যদেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি ও কবিগণ:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় তবে তাঁর রচিত পদের ভাষা ছিল সংস্কৃত। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।

যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
৩,১৭৭.
‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. আনোয়ার পাশা
  3. রশীদ করীম
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাস:
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।
- উপন্যাসে এরফান চরিত্রের প্রেক্ষণবিন্দু দিয়ে পাকিস্তান কায়েম থেকে শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়ন এবং সত্তরের নির্বাচন-উত্তরকালে ভূমিধস বিজয়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর অনীহা, আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ এবং ঘুমন্ত বাঙালির ওপর বর্বর আক্রমণের চিত্র শহর ও গ্রাম জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

রশীদ করীম:
- রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’।
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।

রশীদ করীম রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রষন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ ইত্যাদি।

প্ৰবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭৮.
'তুরস্ক-ভ্রমণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• ‘তুরস্ক ভ্রমণ’ গ্রন্থ পরিচিতি
‘তুরস্ক ভ্রমণ’ গ্রন্থটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। তিনি ১৯১০ সালে বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। এটি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে একটি, যা তৎকালীন তুরস্কের সংস্কৃতি, সমাজ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী :
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "তুরস্ক ভ্রমণ" ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৭৯.
'মুহূর্তের কবিতা' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিষ্ণু দে
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
-১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮০.
‘বাঙালী ও মুসলমান ছাত্রদের ফুটবল ম্যাচ’ - এর বর্ণনা দিয়ে সূচিত হয় কোন গ্রন্থ?
  1. ক) ‘শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ড
  2. খ) ‘শ্রীকান্ত’ দ্বিতীয় খণ্ড
  3. গ) ‘শ্রীকান্ত’ তৃতীয় খণ্ড
  4. ঘ) ‘শ্রীকান্ত’ চতুর্থ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
ক) ‘শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ‘শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ড
ব্যাখ্যা
‘বাঙালী ও মুসলমান ছাত্রদের ফুটবল ম্যাচ’ - এর বর্ণনা দিয়ে সূচিত হয় - ‘’শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ডে।

‘শ্রীকান্ত’ শরৎচন্দ্রের আত্নজৈবনিক উপন্যাস।

• শরৎচন্দ্র বাস্তবঘনিষ্ঠ লেখক। বাস্তবতার হুবহু অনুকৃতি তাঁর লেখার প্রাণ। বাস্তবতা উল্লেখের কষাঘাত থেকে হিন্দু কুলীনদেরও তিনি মুক্তি দেন নি।

• ‘শ্রীকান্ত' প্রথম পর্বের প্রথম দিককার এই গল্প ভাগলপুরের পটভূমিকায়। তৎকালীন ভাগলপুরের মুসলিমরা প্রকৃতই বাঙালি ছিল না, অধিকাংশই উর্দুভাষী, কিছু কিছু ছিল ভোজপুরী। আর অধিকাংশ হিন্দু ছিল বাঙালি হিন্দু।

ফলে শরৎচন্দ্রের বর্ণনায় এই সামাজিক সত্যটির ছায়াপাত অসম্ভব নয়, অস্বাভাবিক নয়।
(সূত্র: কথাসাহিত্যে বাস্তবতা : শরৎচন্দ্র ও প্রেমচন্দ, ১৯৯৭,বাংলা একাডেমি, ঢাকা, পৃ. ১২৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩,১৮১.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. লহরী
  2. মিহির
  3. হিতকরী
  4. বাসনা
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'মিহির ও সুধাকর' পত্রিকা:
১৮৯২ সালের ২৭ জানুয়ারি শেখ আবদুর রহিম মিহির নামে একটি মাসিক পত্রিকা চালু করেন, যা অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতো। ১৮৯৫ সালে মিহির এবং সুধাকর একীভূত হয়ে মিহির ও সুধাকর নাম ধারণ করে। প্রথমে কলকাতার ২৫, রায়বাগান স্ট্রিট থেকে এটি প্রাশিত হতো। পরবর্তীতে তা ৪২, মেটকাফ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয়।

• 'লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।' - পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

• 'বাসনা' পত্রিকা:
- বাসনা' নামে সাহিত্য মাসিকটি প্রকাশিত হয়েছিল রংপুরের কাকিনা থেকে ১৯০৮ সালে। শেখ ফজলল করিম ছিলেন এর সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রায় দুই বৎসর স্থায়ী হয়েছিল। নিয়মিত লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াজউদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিমুদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নুরুল হোসেন, মুনসী হামেদ আলী, খগেন্দ্রনারায়ণ দাস, ললিতমোহন সেন প্রমুখ।
- ধর্ম ইতিহাস দর্শন বিজ্ঞান জীবনী সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে রচিত প্রবন্ধ এবং গল্প কবিতা এতে প্রকাশিত হতো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসলেখকগণ নিজ নিজ সমাজ ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন।
- 'হিন্দু মুসলমান উভয় শ্রেণির লেখকই তাঁদের স্বীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি চর্চা করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঐক্য কামনা করেছেন।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮২.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র কী ছিল?
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. গল্প
  4. ছড়া
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮৩.
মধ্যযুগের আদি কবি কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি
- ভাগবত প্রভৃতি পুরাণের কৃষ্ণলীলা-সম্পর্কিত কাহিনি অনুসরণে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কবি বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটান।
- বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• সুস্পষ্ট সনতারিখ যুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা - বিজয় গুপ্ত।
• বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার - বিদ্যাপতি।
• মধ্যযুগের শেষ কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,১৮৪.
চর্যাপদ কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়
  2. শ্রীরামপুর মিশন
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  4. বাংলা একডেমি
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. সঙ্গীতশতক
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. স্বপ্নদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৩,১৮৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি ?
  1. পণ্ডিত মশাই
  2. দেনা পাওনা
  3. শেষের কবিতা 
  4. শেষ প্রশ্ন
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা 
ব্যাখ্যা

শেষের কবিতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- জন্ম: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় হচ্ছে পল্লীর জীবন ও সমাজ।
- ব্যক্তি জীবনের মন ও চেতনার ওপর সমাজ ও সংস্কারের প্রভাব তিনি গভীরভাবে তুলে ধরেছেন।
- ব্যক্তির ইচ্ছা ও মুক্তি প্রায়শই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তাঁকে রক্ষণশীল বলা হয়।
- নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তাদের বঞ্চিত জীবনের চিত্রায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীর প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা অতুলনীয়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে আঁকা তাঁর ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- মৃত্যু: ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি, কলকাতা।

রচিত উপন্যাসসমূহ:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- পল্লী সমাজ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বিপ্রদাস, ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,১৮৭.
‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনী অবলম্বনে লেখা?
  1. ক) শৈবধর্ম
  2. খ) বৌদ্ধ সহজযান
  3. গ) নাথধর্ম
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নাথধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাথধর্ম
ব্যাখ্যা
ষোল শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহ ‘গোরক্ষ-বিজয়’ নামে প্রথম একখানি কাব্য রচনা করেন। এতে নাথগুরুর মাহাত্ম্য ও নাথ ধর্মমতের মহত্ত্ব প্রকাশ বিধৃত হয়েছে। আদি গুরু মৎস্যেন্দ্রনাথ শিব কর্তৃক অভিশপ্ত হয়ে কদলীর ‘স্ত্রী-রাজ্যে’ নারী সংসর্গে এসে ধর্মকর্ম বিসর্জন দেন। শিষ্য গোরক্ষনাথ যোগ-সাধনাবলে বহু কষ্টে গুরুকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮৮.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ‘ইউরোপের চিঠি’ একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) পত্রসংকলন
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২): ভারতের উড়িষ্যা জেলায় তাঁর জন্ম। তিনি একজন স্বনামধন্য বাঙ্গালি কবি, লেখক এবং বিশিষ্ট ছড়াকারও। তিনি ‘লীলাময় রায়’ ছদ্মনামে লিখতেন।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য-
উপন্যাসঃ অসমাপিকা(১৯৩০, প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য, অজ্ঞাতবাস, কঙ্কাবতী প্রভৃতি।
ভ্রমণকাহিনীঃ পথে প্রবাসে (১৯৩১), ইউরোপের চিঠি (১৯৪২) ইত্যাদি।
প্রবন্ধগ্রন্থঃ তারুণ্য, জীবনশিল্পী, ইশারা, বিনুর বই, জীয়ন কাটি, প্রত্যয় ইত্যাদি।
কবিতাঃ রাখী, কালের শাসন, কামনা পঞ্চবিংশতি ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ প্রকৃতির পরিহাস, মন পবন, যৌবন জ্বালা, কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৩,১৮৯.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  3. বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
  4. সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

-----------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ ‘বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ ও ‘সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৯০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি কোন স্থান থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. মন্দির
  2. পাঠশালা
  3. গোয়ালঘর
  4. গ্রন্থাগার
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:  
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্যিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম একক গ্রন্থ, অর্থাৎ একজন কবির একক রচনায় সম্পূর্ণ একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- তিনি মধ্যযুগের আদি কবি হিসেবে পরিচিত।

- কাব্যটির কাহিনি লোকসমাজে প্রচলিত রাধা–কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- এতে ধর্মীয় ভক্তিভাবের সঙ্গে মানবীয় প্রেম ও আবেগ প্রকাশ পেয়েছে, যা মধ্যযুগীয় সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
- এই কাব্যটি দীর্ঘদিন অজ্ঞাত ছিল।
- অবশেষে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পুঁথিটি আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- পুঁথিটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা করেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
- তাঁর সম্পাদনায় এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- আবিষ্কারের সময় পুঁথিটির অবস্থা ছিল অসম্পূর্ণ—প্রথম দুই পাতা ও শেষের একটি পাতা অনুপস্থিত ছিল, মাঝের কিছু পাতাও পাওয়া যায়নি।
- পুঁথিটি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে একটি গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কৃত হয়—যা বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৯১.
বাংলা সাহিত্যে পত্রাকারে প্রকাশিত প্রথম কাব্য কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৯২.
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' নামক রম্য রচনাটির রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্দীন
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সমর সেন 
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

শামসুজ্জামান খান- 'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' নামক রম্য রচনাটির রচয়িতা। 
--------------------------------------------------- 
• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও ফোকলোরবিদ।
- তিনি মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
- এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
- ২০১৮ সালে শামসুজ্জামান খান 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার' অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
-
শামসুজ্জামান খান ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান:
- তিনি ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহশালা সম্পাদনা করেছেন।
-  এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা সম্পাদনা করেছেন।
- এর মাধ্যমে তিনি দেশের লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গীত,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- মুক্তিবুদ্ধি,
- ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল,
- আধুনিক ফোকলোর চিন্তা,
- ফোকলোর চর্চা। 

• রম্য রচনাসমূহ: 
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা

• শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ,
- লোভী ব্রাহ্মণ ও তেনালী রাম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালের কন্ঠ পত্রিকা।

৩,১৯৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ-
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. সূর্য তুমি সাথী
  3. জাগ্রত বাংলাদেশ
  4. ফেরারী ডায়েরী
সঠিক উত্তর:
জাগ্রত বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগ্রত বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

• 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা।
• এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
• সূর্য তুমি সাথী তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- ওঙ্কার,
- গাভী বিত্তান্ত,
- মরণবিলাস,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৩,১৯৪.
'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আহসান হাবীব
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা : 'শামসুর রাহমান'। 
 
শামসুর রাহমান:
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
---------------------
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ: 
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি। 
------------------ 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- হরিণের হাড়
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- অবিরল জলাভূমি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়
- অদ্ভুত আঁধার এক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৯৫.
পদাবলীর প্রথম কবি কে?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. চন্ডিদাস
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

 বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।

পরবর্তীতে,
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীর রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।

উল্লেখ্য,
- যদি প্রশ্ন হয় “বৈষ্ণব পদাবলির আদি পদকর্তা/প্রথম পদকর্তা/আদিকবি কে?” এবং অপশনে "জয়দেব" থাকে; তাহলে উত্তর নিঃসন্দেহে - জয়দেব। কেননা তিনি সবচেয়ে প্রাচীন কবি যিনি বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন।

- যদি একই প্রশ্নের অপশনে জয়দেব না থাকে এবং "বিদ্যাপতি" থাকে তাহলে বিদ্যাপতি উত্তর হবে। কেননা, জয়দেবের পর তিনিই বৈষ্ণব পদ রচনা করেন এবং বৈষ্ণব পদের উৎকর্ষ তার মাধ্যমে শুরু হয়। উল্লেখ্য, রেফারেন্স বইগুলােতে দুইজনকেই বৈষ্ণব পদের প্রথম রচয়িতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

- যদি প্রশ্ন হয় "বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কে?" তাহলে অপশনে যাই থাকুক না কেন, উত্তর হবে - চন্ডীদাস।

তথ্যসূত্র:- (তথ্যকল্পদ্রুম) , লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ , বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, অধ্যাপক মাহবুবুল আলম , বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৯৬.
চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’।
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
• এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো:
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৯৭.
নিচের কোন মঙ্গলকাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা ফুটে উঠেছে?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে মঙ্গলকাব্যে দেখা যায়:
• সমাজের নানা স্তরের মানুষের আচরণ, বিশ্বাস ও আচার।
• লোকায়ত ধর্মচর্চা, পরিবার, গ্রামীন পরিপ্রেক্ষিত।
• দেবতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বা সম্পর্ক।
• ধর্ম ছাড়াও মানবিকতা, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির চিত্র।

• মনসামঙ্গল:
চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান, সমুদ্রযাত্রা, এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের (বণিক, শ্রমিক, ভক্ত) ভূমিকা এই কাব্যে বিশদভাবে ফুটে উঠেছে।
চাঁদ সওদাগরের মনসা দেবীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং তার বাণিজ্যিক জীবনের বিবরণ এই কাব্যের মূল বিষয়।
অর্থ্যাৎ,
- এ চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা।

অন্যদিকে,
• চণ্ডীমঙ্গল- এ ধনপতি সওদাগরের গল্পে বণিক সম্প্রদায়ের প্রাধান্য এবং সামাজিক শ্রেণির গতিশীলতা।
• ধর্মমঙ্গল- এ নিম্নবর্গের মানুষের সংগ্রাম ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন।
• অন্নদামঙ্গল: দেবী অন্নপূর্ণার পূজা এবং ভবানন্দ মজুমদারের কাহিনি বর্ণিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩,১৯৮.
কলকাতার হিন্দু কলেজের শিক্ষক ছিলেন-
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
  2. খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. গ) কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও মাত্র সতের বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন এবং তার পাঠদানের পদ্ধতি ছিল তার ধ্যান-ধারণার মতোই গতানুগতিকতা মুক্ত। তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'। ডিরোজিও'র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য। এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,১৯৯.
'গুলে বকাওলী' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
  4. মঙ্গল সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'গুলে বকাওলী' রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য।

• নওয়াজিস খান: গুলে বকাওলী
- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের ধারায় 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- গদ্যে ও পদ্যে গুলে বকাওলী প্রেমকাহিনি বাংলায় পরিবেশিত হয়েছে এবং বিশ শতকেও সাহিত্যরূপ লাভ করায় এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণিত।
- বাংলা ভাষা ছাড়া হিন্দি, ফারসি, উর্দু ইত্যাদি ভাষায়ও এ কাব্য রচিত হয়েছিল।
- বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান।
- কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতেরো শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০০.
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান: সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধকালে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গাজী রহমান,
- এডভোকেট রেজা আলী,
- বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

-----------------------
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাংগী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- তারা দুই জন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।