বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩৫ / ২১১ · ৩,৪০১৩,৫০০ / ২১,১৩২

৩,৪০১.
কোনটি বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নীলদর্পণ
  3. শেষ নবাব
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
⇒ নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪০২.
'শেষের কবিতা' কী?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) কাব্যোপন্যাস
  3. গ) গীতিকবিতা
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যোপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যোপন্যাস
ব্যাখ্যা

অধ্যাপক মাহবুবুল আলম রচিত “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস” বই অনুসারে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” প্রধানত গীতিধর্মী উপন্যাস। ‘মালঞ্চ’, ‘দুইবোন’ - উপন্যাস দুটিও একই ধরণের।
“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমন্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ঠ উৎকর্ষ লাভ করেছে।
কোন পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে অবিরোধে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে -- এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
এখানে লাবণ্য-অমিতরায়-কেতকী-শোভনলালের চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে। ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।
- এছাড়াও বাংলাপিডিয়াতেও শেষের কবিতাকে কাব্যধর্মী উপন্যাস হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে,
শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি তার আগে "প্রবাসী" পত্রিকায় ১৯২৮ সালে ছাপা হয়।
উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমনঃ
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা বলা যায় যে,
১. প্রশ্নের অপশনে কাব্যোপন্যাস/গীতধর্মী থাকলে উত্তর হিসাবে এটিই বেশি যুক্তিযুক্ত।
২. অপশনে কাব্যোপন্যাস/গীতধর্মী না থাকলে “উপন্যাস” উত্তর করা যাবে।

৩,৪০৩.
বাংলা ভাষার প্রথম কবিতার সংকলন কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. চর্যাপদ
  4. শূন্যপুরাণ
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৪০৪.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ইউসুফ-জুলেখা একটি
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) প্রণয়োপাখ্যান
  3. গ) জীবনীকাব্য
  4. ঘ) লোক-উপখ্যান
সঠিক উত্তর:
খ) প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন।
- এটি তিনি পারস্যের ফারসি ভাষার কবি জামী রচিত 'ইউসুফ ওয়া জুলায়খা' থেকে অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪০৫.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন -
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
-‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা,

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৩,৪০৬.
কালিকামঙ্গল কাব্যধারার কবি নন কে?
  1. ক) কবি কঙ্ক
  2. খ) সাবিরিদ খান
  3. গ) রমাপদ সেন
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। 
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক
- এছাড়া সাবিরিদ খানরমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৪০৭.
মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে আনোয়ার পাশা রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) খোয়াবনামা
  2. খ) রাইফেল রোটি আওরাত
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) রেইনকোট
সঠিক উত্তর:
খ) রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৷
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।


অন্যদিকে,
- ‘খোয়াবনাম’ মানবজীবনের সংগ্রাম নিয়ে পেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান উলিয়াস রচিত উপন্যাস।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান‘ মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
- ‘রেইনকোর্ট‘ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪০৮.
'প্রগতি' কোন ধরনের সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. সাপ্তাহিক 
  2. বার্ষিক
  3. মাসিক 
  4. দৈনিক 
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্ৰগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৪০৯.
'পল্লিজননী' কবিতার রচয়িতা কে? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন 
  4. জীবনানন্দ দাশ 
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন 
ব্যাখ্যা
• 'পল্লিজননী' কবিতাটি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত কবর কবিতাটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪১০.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) কাজেম আল কোরেশী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শাহ মুহাম্মদ সগীর
  4. ঘ) ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
 আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। 
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 
- অশ্রুমালা
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা 
- শিবমন্দির 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪১১.
'একাত্তরের দিনগুলি' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
-১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে। ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪১২.
বেগম রোকেয়ার নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ অবরোধবাসিনীতে কয়টি ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন?
  1. ক) ৪১ টি
  2. খ) ৪৩ টি
  3. গ) ৪৫ টি
  4. ঘ) ৪৭ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪৭ টি
ব্যাখ্যা
মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। অবরোধবাসিনী বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থে তিনি ৪৭টি অমানবিক ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নাম- পদ্মরাগ (উপন্যাস), মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪১৩.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. কীর্তন খোলা
  2. অমৃত উপাখ্যান
  3. যৈবতী কন্যার মন
  4. হাতহদাই
সঠিক উত্তর:
অমৃত উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃত উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস: 
- সেলিম আল দীন তাঁর ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসে ব্যক্তিগত জীবনের এক ঘটনাচিত্র উপস্থাপন করেছেন।

- তিনি বলেন, ‘কখনও আত্মজীবনীতে আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের লুপ্ত অংশগুলো যদি প্রকাশিত হয় তবে এ গল্পের উৎসাভাস পাঠকরা পাবেন নিশ্চয়ই’। আবার লেখক এই উপন্যাসকে ‘উপাখ্যানের লক্ষণযুক্ত’ বলে মনে করেছেন। এজন্যই তিনি তাঁর এই উপন্যাসের শুরুতেই বলেছেন, ‘উপাখ্যান হচ্ছে বিকেলের আলোয় মর্ত-পৃথিবীর উল্টা ছায়া। আঁধারের পাঁচ আঙ্গুল’। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘উপাখ্যান হলো-বলতে বলতে মধ্যরাতে-কালীগঙ্গার ঢালুতীর-নেশাকর ধোঁয়া বাস্তবে মিশে গুপীযন্ত্রের সাথে হাত ধরাধরি করে নাচে’।

- মনজুরুল হাসান হাসু এবং এলিজার প্রেম কাহিনি ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হাসান একজন টেলিভিশন প্রডিউসার বা প্রযোজক। নবীন প্রযোজক হিসেবে বিতর্ক অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান প্রযোজনা করাই তার কাজ। একদিন টেলিভিশন স্টুডিওতে এক বিতর্ক অনুষ্ঠান ক্যামেরায় ধারণ করার সময় এলিজা চুপচাপ বসেছিল দর্শকসারিতে। ক্যামেরাম্যান কৌতূহলবশত এলিজাকে একাধিকবার ক্লোজশটে ধারণ করে। প্যানেলে বসে এলিজার সেই দৃশ্য হাসান অবলোকন করে আনন্দ মনে। শুধু তাই নয়, ক্যামেরার ক্লোজশটে মেয়েটির ছবি দেখার পর হাসানের মনে ‘এক অনামা নীলবর্ণ নদী রেখা’ তৈরি হয়।

অতঃপর শহরের একটি গানের দোকানে ক্যাসেটে গান রেকর্ডিং করতে গিয়ে হাসান ও এলিজার মধ্যে পরিচয় হয়। এই পরিচয় থেকেই ক্রমে তাদের মধ্যে রোমান্টিক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত এলিজার আত্মহত্যার মধ্যদিয়ে এর কাহিনি সমাপ্ত হয়।

প্রেমের এই দৃশ্যপটের সঙ্গে হাসানের কল্পনা ও জীবন বাস্তবতার বিচিত্র ঘটনা এবং নানা চরিত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সুখ ও দুঃখ চিত্রিত হয়েছে অমৃত উপাখ্যান উপন্যাসটিতে। 

------------------------
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪১৪.
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা ⎯ তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য,
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, জাভা যাত্রার পত্র, পারসো।
- সুফিয়া কামাল রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ সোভিয়েতের দিনগুলি।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪১৫.
'বিরতিহীন উৎসব' সৈয়দ শামসুল হকের একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
একদা এক রাজ্যে, পরানের গহীন ভিতর, বিরতিহীন উৎসব, বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, প্রতিধ্বনিগণ, ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।
নিষিদ্ধ লোবান, এক মহিলার ছবি, অনুমপ দিন, সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, আয়না বিবির পালা, স্তব্ধতার অনুবাদ, ত্রাহী, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ, 'দেয়ালের দেশ', 'খেলারাম খেলে যা', তুমি সেই তরবারী, মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৪১৬.
‘বাঙলা সাহিত্যে মধ্যযুগ অপাঠ্য’ কথাটি বলেছেন কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
নানা রকমের মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছে বাঙলা ভাষায়, সকলের রূপ প্রায় একই রকম।
- একই বিষয়ে অসংখ্য কবি কাব্য লিখেছেন।
- মনসামঙ্গলকাব্য লিখেছেন হরি দত্ত, নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস এবং আরো অনেকে।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন মাণিক দত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ রামদেব, ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ।
- ধর্মমঙ্গলকাব্য লিখেছেন ময়ূরভট্ট, মাণিকরাম, রূপরাম, সীতারাম, ঘনরাম, এবং আরো বহু কবি
- মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের ফিরে ফিরে পুনরুক্তি দেখে মধ্যযুগের ওপর ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন আধুনিক কালের একজন বড়ো কবি, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি অনেকটা রেগেই বলেছেন, ‘বাঙলা সাহিত্যে মধ্যযুগ অপাঠ্য।’

[উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ]
৩,৪১৭.
'নদী নিঃশেষিত হলে' আনোয়ার পাশা রচিত-
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'নদী নিঃশেষিত হলে' আনোয়ার পাশা রচিত- কাব্য।

• আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
রাজশাহী কলেজে বিএ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে তিনি রচনা করেন ‘হাস্নাহেনা’ শিরোনামে একটি রম্যরচনা।
শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশা (১৫ এপ্রিল ১৯২৮-১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের একমাত্র উপন্যাস।

• উপন্যাস:
নীড় সন্ধানী
নিষুতিরাতের গাথা
রাইফেল রোটি আওরাত

• গল্পগ্রন্থ:
নিরুপায় হরিণী

• কাব্য:
নদী নিঃশেষিত হলে
সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪১৮.
‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪১৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 'পদ্মাবতী' নাটক রচিত।
  2. "হেক্টরবধ" গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করেন।
  3. 'বীরাঙ্গনা' একটি পত্রকাব্য।
  4. ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারিতে জন্মগ্রহণ করেন।
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 'পদ্মাবতী' নাটক রচিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 'পদ্মাবতী' নাটক রচিত।
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে যে তথ্যটি সঠিক নয়, তা হলো: "অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 'পদ্মাবতী' নাটক রচিত"। মাইকেল মধুসুদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- বাকি অপশনের তথ্যগুলো সঠিক।

অন্যদিকে,
- "হেক্টরবধ" গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৪২০.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস - 
  1. মহাপৃথিবী
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. মাল্যবান
  4. সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
ব্যাখ্যা

'মাল্যবান' উপন্যাস:
- 'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
- বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি।
- দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি। সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এক ইঙ্গিতময় ভাষায় অসামান্য কুশলতার সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৪২১.
দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. গ) এই শাওনে এই পরবাসে
  4. ঘ) আমি ভাল আছি তুমি
সঠিক উত্তর:
খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ, 
- এই শাওনে এই পরবাসে, 
- আমি ভাল আছি তুমি, 
- পাথরের পুঁথি। 

• ব্রি:দ্র: 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' শহীদ কাদেরীর কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪২২.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস নয়-
  1. ক) ধাত্রীদেবতা
  2. খ) রসকলি
  3. গ) গণদেবতা
  4. ঘ) পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) রসকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রসকলি
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ী উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা ও
- পঞ্চগ্রাম।
• তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি,
- ডাকহরকরা,
- বেদেনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটক:
- পথের ডাক,
- দ্বীপান্তর ও
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৪২৩.
কোনটি আবু ইসহাকের উপন্যাস নয়?
  1. ক) সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. খ) জাল
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) জোঁক
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোঁক
ব্যাখ্যা

- হারেম আবু ইসহাক রচিত একটি গল্প।
- তাঁর রচিত উপন্যাস:
• পদ্মার পলিদ্বীপ,
• সূর্য দীঘল বাড়ি,
• জাল।
- তাঁর রচিত গল্প: মহাপতঙ্গ।
- জোঁক তাঁর রচিত একটি ছোটগল্প।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৪২৪.
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. সেলিম আল দীন
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. বিষ্ণু দে
  4. সেলিনা হোসেন
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪২৫.
'বাঙলার লোকায়ত সাহিত্য' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. আহমদ ছফা
  3. আবুল হাসান
  4. আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• 'বাঙলার লোকায়ত সাহিত্য' আবদুল কাদির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

• আবদুল কাদির:

- কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দোবিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), ও

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবি নজরুল, 
- বাঙলার লোকায়ত সাহিত্য, 
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪২৬.
'তরুণের বিদ্রোহ' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'তরুণের বিদ্রোহ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ। গ্রন্থটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৪২৭.
'কলমগীর' কোন কবি ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী 
  2. আবদুল হক
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ মুজতবা আলী মূলত 'সত্যপীর' ছদ্মনামে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি 'ওমর খৈয়াম', 'প্রিয়দর্শী' এবং 'মুসাফির' ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় (দেশ, আনন্দবাজার, মোহাম্মদী) কলাম ও লেখা প্রকাশ করতেন।  
• 'কলম সৈনিক' মূলত বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সম্পাদক আবদুল হক-এর উপাধি। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম- নীল লোহিত, নীল উপাধ্যায়, সনাতন পাঠক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪২৮.
কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনি হিসাবে বিবেচিত?
  1. পালামৌ
  2. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  3. দেশে বিদেশে
  4. দেশান্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি।
- ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- যাত্রা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৪২৯.
নিচের কোনটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সপ্তমী
  2. খ) ঊর্মিমালা
  3. গ) দুরবীণ
  4. ঘ) অগ্নি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্নি
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - অগ্নি।

• কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে। বলাইচাঁদের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল হুগলি জেলার শিয়ালখালায়। পিতা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড হাসপাতালের ডাক্তার। মাতা মৃণালিনী দেবী। তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- তৃণখন্ড
- জঙ্গম
- অগ্নি
- ডানা (তিনখন্ড)
- স্থাবর
 অগ্নীশ্বর
- হাটেবাজারে
- ত্রিবর্ণ
- ভুবনসোম
- প্রচ্ছন্ন মহিমা
- উদয় অস্ত (দুই খন্ড)
তাঁর প্রত্যেকটি উপন্যাসের গঠনভঙ্গি স্বতন্ত্র এবং অভিনব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,৪৩০.
"হানিফা-কয়রাপরী" - কী জাতীয় রচনা?
  1. নীতিশাস্ত্র
  2. রূপকথা
  3. যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. গ্রাম-বাংলার জীবন কাঠামো 
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'হানিফা-কয়রাপরী' কাব্য: 
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান। 
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত। 
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

• সাবিরিদ খান: 
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘রসুল বিজয়’ ও ‘হানিফা-কয়রাপরী’ নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন। 
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৩১.
স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'আমার ছেলেবেলা' রচনা করেন কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জগদীশচন্দ্র বসু
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'আমার ছেলেবেলা' রচনা করেন - বুদ্ধদেব বসু।

উল্লেখ্য,
- আমার ছেলেবেলা- হুমায়ুন আহমেদ এর আত্মজীবনী এবং অন্যান্য অনেক লেখক ই 'আমার ছেলেবেলা' নামে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী।

বুদ্ধদেব বসু:

- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

তাঁর রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আমার ছেলেবেলা,
- আমার যৌবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৩২.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক-
  1. নবান্ন
  2. মানুষ
  3. নেমেসিস
  4. কিত্তনখোলা
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপে:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ফরিদ,
- জুলেখা,
- বাবা,
- মা,
- ডাক্তার।

অন্যদিকে,
• 'নবান্ন' বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক। নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।

• 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।

• সেলিম আল দীন রচিত নাটক - কিত্তনখোলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৩৩.
'পদ্মাবতী' একটি-
  1. ক) মৌলিক রচনা
  2. খ) অনুবাদ গ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনুবাদ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী)  কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবত অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন।

আবার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে 'পদ্মাবতী' নাটক রচনা করেন।
- এটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

তাই বলা যায়, 'পদ্মাবতী' একটি অনুবাদ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৩৪.
'শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) ইমদাদুল হক মিলন
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন' উপন্যাসটির রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ। 

আলাউদ্দিন আল আজাদ 
- আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ সালে নরসিংদী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম: 'জেগে আছি'। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
- কর্ণফুলী
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
- ক্ষুধা ও আশা 
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ 

তাঁর রচিত গল্পগন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা 
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত আমার স্বপ্ন,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর রচিত কাবগ্রন্থগুলি:
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 

• মহান একুশে নিয়ে তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতার কয়েক পংক্তি:
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৩৫.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত বই কোনটি?
  1. মাটির দেয়াল
  2. খসড়া
  3. অনিঃশেষ
  4. কবিতাবলী
সঠিক উত্তর:
কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৩৬.
‘প্রভাত-চিন্তা, নিভৃত-চিন্তা, নিশীথ-চিন্তা’ প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) কালি প্রসন্ন সিংহ
  3. গ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
গ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।
প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য: প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭), নিভৃত-চিন্তা (১৮৮৩), নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)।
Source: বাংলাপিডিয়া
৩,৪৩৭.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপাদান নিয়ে রচিত উপন্যাস?
  1. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
  2. নীল রং রক্ত
  3. অনেক সূর্যের আশা
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ - বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপাদানে রচিত তাঁর একটি বৃহৎ উপন্যাস।
- 'অনেক সূর্যের আশা' উপন্যাসের পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত।
- 'নীল রং রক্ত' নীল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস।

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্য নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া ও Live MCQ লেকচার।
৩,৪৩৮.
সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
  2. বন্দর থেকে বন্দরে
  3. সমুদ্র ও তৃষ্ণা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
ব্যাখ্যা
• সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ 'উত্তীর্ণ পঞ্চাশে'।

• সানাউল হক:

- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯২৪ সালের ২৩ মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক ।
- সানাউল হকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পারিবারিক আবহে।
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় সানাউল হকের কবিতায়, ভ্রমণবৃত্তান্তে, অনুবাদে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
-  শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস 'সমুদ্র ও তৃষ্ণা'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৩৯.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
  2. খ) গোরা (উপন্যাস)
  3. গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
  4. ঘ) বিদ্রোহী (কবিতা)
সঠিক উত্তর:
ক) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- 'গোরা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৃহত্তম এবং অনেকের মতে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস৷
- 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কবিতা যা 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া৷
৩,৪৪০.
প্রমথ চৌধুরী একজন-
  1. ক) নাট্যকার
  2. খ) ঔপন্যাসিক
  3. গ) প্রাবন্ধিক
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাবন্ধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাবন্ধিক
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে পিতার কর্মস্থল যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত প্রাবন্ধিক। বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তিনি মারা যান। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৪৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. গোরা
  3. কালান্তর
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাসের নাম - 'গোরা'। 

• ‘গোরা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু: 
- • ‘গোরা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।
– গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
– গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
– ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
– উপন্যাসটি চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী ।

অন্যদিকে,
• শেষের কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রোমান্টিক কাব্যধর্মী উপন্যাস।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ - 'কালান্তর'।
• 'চোখের বালি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর), ‘গোরা’ উপন্যাস।
৩,৪৪২.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদের কাব্য?
  1. শান্তিধারা
  2. সিরাজাম মুনিরা
  3. অনল প্রবাহ
  4. প্রেমের সমাধি
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
ব্যাখ্যা
সিরাজাম মুনিরা:
- সিরাজাম মুনিরা ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।
- এই কাব্যে মোট কবিতা হচ্ছে ১৯ টি।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে সিরাজাম মুনিরা।

অন্যদিকে:
- ইসমাঈল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'অনল প্রবাহ'।
-  নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস - প্রেমের সমাধি।
- 'শান্তিধারা' হচ্ছে মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী লিখিত গ্রন্থ।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) সিরাজাম মুনিরা কাব্যগ্রন্থ।
৩,৪৪৩.
আবদুল মান্নান সৈয়দ এর ছদ্মনাম কী?
  1. সৈয়দ অশোক
  2. মান্নান সৈয়দ
  3. অশোক সৈয়দ
  4. অশোক মান্নান
সঠিক উত্তর:
অশোক সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশোক সৈয়দ
ব্যাখ্যা

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৪৪৪.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'ফুড কনফারেন্স' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

- এ বইয়ের গল্পগুলোতে বিশ শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সংঘটিত ঘটনার চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে রঙ্গব্যঙ্গের সরসতায়। হাস্যরসের অন্তরালে নিহিত কঠোর সমাজবাস্তবতা আজও পাঠককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। লেখক প্রায় আশি বছর আগের নানা অসংগতিকে কেন্দ্র করে রসের চাবুকে যে আঘাত হেনেছিলেন, বর্তমানে পাঠক সেই আঘাতের প্রয়োজনীতা আরও বেশি করে অনুভব করবেন।

--------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ।
৩,৪৪৫.
'ঠকচাচা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

• 'ঠকচাচা' চরিত্রের স্রষ্টা প্যারীচাঁদ মিত্র।  

---------------------
• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:

- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস এবং প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি 'The Spoiled Child' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে-
- বাবুরাম,
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল,
- ধূর্ত উকিল বটলর,
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৪৬.
পাকিস্তানি শাসনপর্বে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন -
  1. ক) মহান মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ছয় দফা দাবি আন্দোলন
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট আন্দোলন
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ লাভ করে।
- ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস ও আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পায়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর পঞ্চাশের দশকব্যাপী ছিল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল।
- ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
- এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
- বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে।
- পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৮ম শ্রেণি।
৩,৪৪৭.
মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. কেউ কিছু বলতে পারে না
  2. চিঠি
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
সঠিক উত্তর:
কেউ কিছু বলতে পারে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেউ কিছু বলতে পারে না
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক - কেউ কিছু বলতে পারে না

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। 
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৪৮.
শিলাইদহ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের আর কোন অঞ্চলে অবস্থান করতেন?
  1. কুমিল্লা
  2. পতিসর
  3. খুলনা
  4. সাভার
সঠিক উত্তর:
পতিসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পতিসর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণ ও সাহিত্য:
- উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।
- জীবনের এই পর্বে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি তদারকি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান  শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে ঘুরে বেড়ান।
- এই সূত্রেই শিলাইদহে গড়ে ওঠে একটি কবিতীর্থ।
- পদ্মাবক্ষে নৌকায় চড়ে বেড়ানোর সময় পদ্মানদী, বালুচর, কাশবন, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, দরিদ্র জীবন এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের হৃদয়লীলা কবিকে গভীরভাবে আলোড়িত করে, যা এ পর্বের গল্পে ও কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ পর্বের রচনা 'সোনার তরী'।
- এছাড়া চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা, ক্ষণিকা, কথা ও কাহিনী কবির শিলাইদহ পর্বের রচনা।
- এ পর্বের কবিতায় জীবনের বাস্তব চিত্র এবং সৌন্দর্যবোধ, বর্তমান কাল ও প্রাচীন ভারত, সমকালীন সমাজ ও ইতিহাসের মহৎ আত্মত্যাগের কাহিনী একই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৪৯.
'ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1.  মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. বদরুদ্দীন উমর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• 'ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ' গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।

• বদরুদ্দীন উমর:

- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৪৫০.
'রহমত' ও 'খুকি' কোন ছোটগল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. একরাত্রি
  2. কাবুলিওয়ালা
  3. পোস্টমাস্টার
  4. জীবত ও মৃত
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা
ব্যাখ্যা
• 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক ছোটগল্প কাবুলিওয়ালা।
- এই গল্পের শেষ লাইন কিন্তু মঙ্গল আলোকে আমার শুভ উৎসব উজ্জ্বল হইয়া উঠিল।
- এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র রহমত, খুকী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- একরাত্রি - সুরবালা।
- পোস্টমাস্টার - রতন।
- জীবত ও মৃত - কাদম্বিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৫১.
নিচের কোন সাহিত্যিক রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

সোমেন চন্দঃ ২৪ মে ১৯২০ সালে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
সোমেন চন্দের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সাহিত্যিক জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে গল্পগুলিতে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন। তাঁর গল্পের মৌলিক আবেদন ছিল গণসচেতনতা।

• তাঁর রচিত গল্পঃ
- ইঁদুর,
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৫২.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন একজন-
  1. নাট্যকার
  2. ভাষাবিদ
  3. ঔপন্যাসিক 
  4. ছড়াকার
সঠিক উত্তর:
ভাষাবিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষাবিদ
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৫৩.
"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায় দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কালিদাস
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক দেশাত্মবোধক কাব্যের অন্তর্ভূক্ত।

• রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৭): 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরগুপ্তের  সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।

- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।

- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৫৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়কাল কত?
  1. ৮৫০-১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৬৫০-৯০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১০০০-১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের সময়কাল- ৬৫০-১২০০ খ্রি:। 
-------------------
• প্রাচীন যুগের সময়কাল,
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
----------------- 
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং 
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৩,৪৫৫.
কোনটি নজরুলের রচনা নয়?
  1. ক) দোলন চাঁপা
  2. খ) শেষ প্রশ্ন
  3. গ) কুহেলিকা
  4. ঘ) অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
খ) শেষ প্রশ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
'দোলন চাঁপা' ও 'অগ্নিবীণা' হলো কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
'কুহেলিকা' তার উপন্যস৷
'শেষ প্রশ্ন' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৫৬.
‘ডাকার্ণব’ এর পুঁথিটি কোন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. চর্যাগীতিকা
  2. Buddhist Mystic Songs
  3. চর্যাগীতি পদাবলী
  4. হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
সঠিক উত্তর:
হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব।

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত।
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টীকা সংযোজিত রয়েছে।
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

• 'ডাকার্ণব' পুথিটির ভাষার কিছু নমুনা:
জগই নিমন্তনু দিহি পহু, কে তুমি সুণ পবেস গও।
উঠহু করুণ সতাথু মহু, কামসি মহসুহ বাজ্জাধরু।।

অন্যদিকে,
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম ‘Buddhist Mystic Songs’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৪৫৭.
কোন গ্রন্থটি আলাওল রচিত?
  1. ক) তোহফা
  2. খ) নূরনামা
  3. গ) ইউসূফ-জোলেখা
  4. ঘ) মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
ক) তোহফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তোহফা
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি আলাওল। আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল। কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম হলো- পদ্মাবতী, সপ্ত পয়কর, সিকান্দারনামা, তোহফা, রাগতালনামা, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান এবং দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ সতীময়না লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৪৫৮.
মীর মশাররফ হোসেন 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা কোথা থেকে গ্রহণ করেছেন?
  1. কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য থেকে
  2. ফেরদৌসীর 'শাহনামা' মহাকাব্য থেকে
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকে
  4. মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক থেকে
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকে
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকে গ্রহণ করেছেন।

বিষাদ-সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৫৯.
‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. রোমান্স
  2. যুদ্ধ-বিগ্রহ
  3. প্রকৃতি
  4. মনোসমীক্ষণ
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
ব্যাখ্যা

• ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয়বস্তু- যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য। ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে। তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগের মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো: 
- শেখ ফয়জুল্লাহ, (জয়নবের চৌতিশা)
- দৌলত উজির বাহরাম খান (জঙ্গনামা),
- মুহম্মদ খান (মকতুল হোসেন)
- শেরবাজ (কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা)
- হেয়াত মামুদ (জারি-জঙ্গনামা),
- জাফর (শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
- হামিদ (সংগ্রাম হুসেন)
- ফকির গরিবুল্লাহ (জঙ্গনামা ও সোনাভান)
- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (গুলজার-ই-সাহাদৎ) এবং
- ওয়াহিদ আলী (বড় জঙ্গনামা)

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ।

৩,৪৬০.
'খোঁয়ারি' ছোট গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প- খোঁয়ারি, অন্য ঘরে অন্য স্বর, দুধেভাতে উৎপাত, দোজখের ওম এবং তাঁর রচিত উপন্যাস- চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াবনামা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৬১.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খণ্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৫ খণ্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রকাশনা।
- হাসান হাফিজুর রহমান এর সম্পাদনায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত হয়।
- “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” মোট ১৫টি খণ্ডে ১৯৮২-৮৩ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- এ খণ্ডগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও তথ্য-উপাত্ত, স্মৃতিচারণা যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি রয়েছে ১৯০৫-৭১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিশাল পটভূমিও।

----------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৬২.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. দুই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।

• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৬৩.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আশাকানন' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. আখ্যান কাব্য
  2. খণ্ড কবিতার সংকলন
  3. মহাকাব্য
  4. রূপক কাব্য
সঠিক উত্তর:
রূপক কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কাব্য
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে  খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৬৪.
‘পাগলা দাশু’ গল্পসংকলনের রচয়িতা কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. সুকুমার সেন
  3. সুকুমার রায়
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
‘পাগলা দাশু’ গল্পসংকলন:
- ‘পাগলা দাশু’ সুকুমার রায় রচিত একটি গল্পসংকলন।
- 'পাগলা দাশু'র গল্পগুলো হাস্যরসে ভরা হলেও তা নিছক হাস্যরসের খোরাক নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে তীক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাবলীল ভাষায় রচিত মজার মজার কাহিনি। এ কাহিনিগুলোতে অনেক কঠিন প্রসঙ্গ খুব সহজ ভাবেই উঠে এসেছে যা একেবারেই উপেক্ষনীয় নয়। সেগুলো যেমনি রসের তেমনি অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার।
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুকুমার রায়ের 'পাগলা দাশু'র প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছিলেন।

সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘পাগলা দাশু’ গল্পগ্রন্থের ভূমিকা।
৩,৪৬৫.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বীরভূম জেলায়
  2. হুগলী জেলায়
  3. বর্ধমান জেলায়
  4. মুর্শিদাবাদ জেলায়
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান জেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান জেলায়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'। 
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৬৬.
রোহিণী-বিনোদিনী-কিরণময়ী কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ-চতুরঙ্গ-চরিত্রহীন
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল-যোগাযোগ-পথের দাবি
  3. দুর্গেশনন্দিনী-চোখের বালি-গৃহদাহ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনটি চরিত্রে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রোহিনী,
- ভ্রমর এবং
- গোবিন্দলাল।

---------------------------------
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

--------------------------
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

 তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র:
- সাবিত্রী ও
- কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাস এবং 'চরিত্রহীন' উপন্যাস।
৩,৪৬৭.
বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. হাওয়া বদল
  2. অভিনয়, অভিনয় নয়
  3. রেখাচিত্র
  4. একদা তুমি প্রিয়ে
সঠিক উত্তর:
একদা তুমি প্রিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদা তুমি প্রিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাস:
- ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
- পলাশ ও রেবার মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারই স্মৃতি ধরে উভয়ের মনে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়। এরকম একটি কাহিনি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু রচিত এই উপন্যাসটি।

⇒ বুদ্ধদেব বসু:

- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৬৮.
'আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়: 
- সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা:
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- আবোল-তাবোল।
- খাইখাই ।
- অবাক জলপান ।
- শব্দকল্পদ্রুম । 
- ঝালাপালা । 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৩,৪৬৯.
রূপকথার লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭) ছিলেন রূপকথার লেখক ও শিশুসাহিত্যিক।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭০.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম -
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. বিজয়পুরাণ
  3. মনসাবিজয়
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম - মনসাবিজয়।

• বিপ্রদাস পিপিলাই:  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিপ্রদাস পিপিলাই এর কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানা হরি দত্ত।
- 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের আদি কবি - মানিক দত্ত।
- 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। 
- ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭১.
রফিক আজাদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাহিত্য পত্রিকা
  2. উত্তরাধিকার
  3. দৈনিক সমকাল
  4. মুক্তধারা
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৭২.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদবি কী ছিল?
  1. বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দাস
  3. চট্টোপাধ্যায়
  4. শর্মা
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। এবং বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'। বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭৩.
বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন -
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শৈশবে মা জাহ্নবী দেবীর কাছে শিক্ষার শুরু; রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন মায়ের মাধ্যমেই।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম:
- মাইকেল রচিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক মৌলিক নাটক।
- হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
- তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন নাটক।

♦ মাইকেল ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্য - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

♦ মেঘনাদবধ কাব্য: 
- ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনী নিয়ে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এই কাব্যের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা ঘটে।
- আর কোন রচনা না থাকলেও মধুসূদন এই একটি কাব্য লিখেই অমর হয়ে থাকতে পারতেন।

♦ প্রহসন:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল রচনা করেন একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামে দুটি প্রহসন।
- একেই কি বলে সভ্যতা এর বিষয় ছিল ইংরেজি শিক্ষিত নব্য বাবু সম্প্রদায়ের উচ্ছৃঙ্খলতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এর বিষয় ছিল সনাতনপন্থী সমাজপতিদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন।

তথ্যসূত্র -
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ,
৪. বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭৪.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ‘পথে প্রবাসে’ একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) ভ্রমণ কাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণ কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
• লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী

• এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭৫.
বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গদ্য সাহিত্যের কোন লেখক?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্রমথ চৌধুরী 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রমথনাথ বিশি বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন।

- তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন। তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
• প্রমথ চৌধুরী ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৪৭৬.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।

এই কাব্যগ্রন্থে আছে:
"আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি 
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি 
তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল"

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. চৌবেরিয়া গ্রাম, নদীয়া
  2. কাঁঠালপাড়া গ্রাম, চব্বিশ পরগনা
  3. বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
  4. দেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি
সঠিক উত্তর:
বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭৮.
'মৃত্যু-ক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক উপন্যাস
  3. পত্রোপন্যাস
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
সামাজিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ৩টি।
যথা:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০- এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪-১৩৩৬ ফাল্গুন)। 

- ‘মৃত্যু-ক্ষুধা’ উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।

- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত। ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত নজরুল কৃষ্ণনগরে বাস করতেন। এ নগরের চাঁদসড়কের ধারে বিরাট কম্পাউন্ডওয়ালা একতলা বাংলো প্যাটার্নের একটি বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল। মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের পটভূমি উক্ত বাড়ি, ওমান কাথলি পাড়া এবং কলতলার পারিপার্শ্বিককে কেন্দ্র করে রচিত।

- উপন্যাসের প্রথমাংশ কৃষ্ণনগরে এবং শেষাংশ কলকাতায় রচিত। কৃষ্ণনগরে অবস্থানকালে নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট এবং দুঃসাধ্য কৃচ্ছ্রসাধন ছিল নজরুলের নিত্য জীবনযাত্রার অঙ্গ। তাই দারিদ্রের চিত্র, সাম্য ও বিপ্লবীচেতনা এ উপন্যাসের রূপকল্পের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর বহুল পঠিত ‘দ্রারিদ্র’ কবিতাটিও এ সময়ের রচনা।

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

--------------------
• 'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা।
- এ রচনাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩২৭ সালের মোসলেম ভারত-এ প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- নূরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকাদি।

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কুহেলিকা উপন্যাসটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৭৯.
"তাহমিনা এবং ফিরদৌস বেগম" কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যু-ক্ষুধা
  3. বাঁধন-হারা
  4. পদ্মগোখরা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'
এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: কুহেলিকা, তাহমিনা, ফিরদৌস বেগম

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- 'বাঁধন-হারা' 
- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' 
- 'কুহেলিকা।

তাছাড়া,
'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৮০.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আনোয়ার পাশা
  3. শওকত আলী
  4. মাহমুদুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৮১.
বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  2. খ) সংস্কৃতির কথা
  3. গ) সভ্যতার সংকট
  4. ঘ) সংস্কৃতির সংকট
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃতির সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 

অধ্যাপক ও রাজনীতিবীদ বদরুদ্দীন উমর এর জন্ম ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে। 
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।

- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- পূর্ববাঙালার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (১৯৭০)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ (১৯৭৪)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৬)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮০)
- বাঙলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি (১৯৮৯)
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৬) ইত্যাদি। 

উল্লেখ,
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা। 
- 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই' (১৯৮৫) শওকত ওসমান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৮২.
'কালের যাত্রা' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সেলিম আল দীন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'কালের যাত্রা' নাটকটির লেখক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• 'কালের যাত্রা' নাটক: 
- নাটকটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কালের যাত্রা’ নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন। 
- রথযাত্রা, রথের রশি, কবির দীক্ষা নামে কয়েকটি দৃশ্যে নাটকটি রচিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।
 
প্রহসন:
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য :
- চিত্রাঙ্গদা 
- নটীর পূজা 
- চণ্ডালিকা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৪৮৩.
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. জ্ঞানান্বেষণ
  2. মিহির
  3. সওগাত
  4. জ্ঞানের আলো
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানের আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানের আলো
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
• ‘মিহির’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম।
• ‘সওগাত’ একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৮৪.
শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' কী ধরণের রচনা?
  1. ক) ভ্রমণ কাহিনী
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধের পরপরই রচিত হলেও প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
১৯৭১ সালের শুরুর দিককার ঘটনাকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসে তিনি ২৫শে মার্চের বর্বরোচিত হামলার ফলে ঢাকায়-সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়কে চমৎকারভাবে চিত্রিত করেছেন। পাকিস্তানি নৃশংসতা ও নির্মমতার ভাষ্যচিত্র বলা যায় শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসকে।

সূত্র: বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট
৩,৪৮৫.
‘মানবজীবন', 'মহৎজীবন', 'উন্নতজীবন' -প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  3. মোঃ লুৎফর রহমান
  4. মোঃ ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
মোঃ লুৎফর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোঃ লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
•  ‘মানবজীবন', 'মহৎজীবন', 'উন্নতজীবন' -মোহাম্মদ লুৎফর রহমান রচিত গ্রন্থ।

----------------------
• মোহাম্মদ লুৎফর রহমান:
- ১৮৮৯ সালে মাগুরা জেলার অন্তর্গত পারনান্দুয়ালি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘ডাক্তার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান’ হিসেবে পরিচিত।
- কলকাতায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ (১৯২২) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩৬)। লুৎফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।
- ‘নারীতীর্থ’-এর মুখপত্র নারীশক্তি তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২৯ সনে। এ মাসিক পত্রিকাটির মোট ছয়টি সংখ্যা বেরিয়েছিল।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- মহৎ জীবন,
- মানবজীবন,
- সত্য জীবন,
- উচ্চ জীবন,
- ধর্ম জীবন,
- মহাজীবন,
- যুবকজীবন,
- সরলা,
- পথহারা,
- রায়হান,
- প্রীতি-উপহার,
- বাসর-উপহার ।

শিশুকিশোর গ্রন্থ:
- ছেলেদের মহত্ত্বকথা,
- ছেলেদের কারবালা,
- রানী হেলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৮৬.
উইলিয়ম কেরী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. Bengali Grammar in the English Language
  2. A Grammar of the Bengali Language
  3. A Grammar of the Bengali Language, Adapted to the Young in Easy Questions and Answers
  4. A Grammar of the Bengal Language
সঠিক উত্তর:
A Grammar of the Bengali Language
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A Grammar of the Bengali Language
ব্যাখ্যা
• উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ "A Grammar of the Bengali Language" (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত, তবে হ্যালহেড যেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি, যেমন বিশেষ্য, ক্রিয়াপদ বা পার্টিকেল ব্যবহারের ক্ষেত্র, কেরী তাঁর রচনায় ওই সব ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিক, 
• রেভারেন্ড জেমস কীথ (১৭৮৪-১৮২৩) বাংলা ভাষায় প্রণীত ও মুদ্রিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা। জেমস কীথের বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৮২০ সালে।
গ্রন্থটির পুরো নাম "A Grammar of the Bengali Language, Adapted to the Young in Easy Questions and Answers" 

• বাংলা ভাষার দ্বিতীয় ব্যাকরণ রচয়িতা (Nathaniel Brassey Halhed:১৭৫১-১৮৩০)। তাঁর A Grammar of the Bengal Language প্রকাশিত হয় ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে। হ্যালহেড ভাল সংস্কৃত জানতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলা ভাষার উদ্ভব সংস্কৃত থেকে। তাই তাঁর ব্যাকরণে সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাব লক্ষণীয়।

• গৌড়ীয় ব্যাকরণ  বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ। রচয়িতা রাজা  রামমোহন রায়, প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ। এর আগে তিনি ইংরেজিতে 'Bengali Grammar in the English Language' নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৮৭.
‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা 
  2. ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. রৌদ্রকরোটিতে 
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

“তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা” কবিতা:

- শামসুর রাহমানের একটি জনপ্রিয় কবিতা হচ্ছে- “তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা”।
- কবিতাটি তাঁর ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার লেখা একটি কবিতা।
- এখানে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও যুদ্ধকালীন আবেগ গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- পরে এই কবিতাটি কবির ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সংকলনেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

• কবিতা: তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা।
• কবি: শামসুর রহমান।

"তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?"
-----------------------------------------

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৮৮.
সিরাজগঞ্জে কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. নীলদর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. চিত্রাঙ্গদা
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
জমিদার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
'জমিদার দর্পণ' নাটক: 
- 'জমিদার দর্পণ' নাটকের লেখক-মীর মশাররফ হোসেন।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দীর একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমিদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৮৯.
‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. অরুন্ধতী রায়
  2. কামিনী রায়
  3. প্রথম চৌধুরী
  4. অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত:
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৯০৩-১৯৭৬)  কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক। ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল  নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম। আদি নিবাস বর্তমান  মাদারীপুর জেলায়। 

• ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।  রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

• তিনি  উপন্যাস ও  ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান। উপন্যাসের আঙ্গিকে আবেগমথিত ভাষায় ধর্মগুরুদের জীবনী লিখেও তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে (১৯২৮)। এটি আঙ্গিক, রচনাভঙ্গি ও বিষয়বিন্যাসে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট উপন্যাস হিসেবে পরিগণিত।

অচিন্ত্যকুমারের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় সত্তর। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-
• উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না,
- বিবাহের চেয়ে বড়,
- প্রাচীর ও প্রান্তর,
- প্রথম কদমফুল;

 • কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা,
- আমরা,
- প্রিয়া ও পৃথিবী,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম,
- উত্তরায়ণ ।

অন্যান্য অপশন:
- কামিনী রায় এর ছদ্মনাম হচ্ছে জনৈক বঙ্গমহিলা।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৯০.
কোন প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত?
  1. বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. সধবার একাদশী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা
• বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:

- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী , 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মায়াকানন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৯১.
নিচের কোনটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা গান? 
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ 
  2. সব ক’টা জানালা খুলে দাও না
  3. ভালো আছি, ভালো থেকো
  4. মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
সঠিক উত্তর:
ভালো আছি, ভালো থেকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো আছি, ভালো থেকো
ব্যাখ্যা

“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
-------------------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাবেড়হাট গ্রামে।
- তিনি তার প্রতিবাদী চেতনা ও প্রেমিকাভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ রূপে গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কাব্য হলো:
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।
-------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• “সব ক’টা জানালা খুলে দাও না” হলো বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান।
- গানটি সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছেন। 
- গানটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং শহীদদের স্মরণ করার জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

• “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি” গানটির রচয়িতা গোবিন্দ হালদার।
- গানটি বাঙালির দৃঢ় সংকল্প ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৯২.
'‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!'- পঙ্ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচনাবলির অন্তর্গত ‘অমিয়ধারা' কাব্যগ্রন্থ থেকে “সুখ” কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।
১৯২৩ সালে ‘অমিয়ধারা প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

সুখ
– কায়কোবাদ

“সুখ সুখ” বলে তুমি, কেন কর হা-হুতাশ,
সুখ ত পাবে না কোথা, বৃথা সে সুখের আশ!
পথিক মরুভূ মাঝে খুঁজিয়া বেড়ায় জল,
জল ত মিলে না সেথা, মরীচিকা করে ছল!
তেমতি এ বিশ্ব মাঝে, সুখ ত পাবে না তুমি,
মরীচিকা প্রায় সুখ, – এ বিশ্ব যে মরুভূমি!
ধন রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই,
সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই!
‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
মুছালে পরের অশ্রু – ঘুচালে পরের ব্যথা!
আপনাকে বিলাইয়া দীনদুঃখীদের মাঝে,
বিদূরিলে পর দূঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে!
তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি,
যা রুপিবে – তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!
 
৩,৪৯৩.
'শিখা' পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে 
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৯৪.
রামরাম বসুর 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটি কেন ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে?
  1. বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস লেখার প্রচেষ্টা
  2. বাংলা গদ্যের প্রথম দিকের পাঠ্যপুস্তক
  3. প্রথম জীবনী গ্রন্থ
  4. প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
বাংলা গদ্যের প্রথম দিকের পাঠ্যপুস্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা গদ্যের প্রথম দিকের পাঠ্যপুস্তক
ব্যাখ্যা

• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।

• "রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র" রচনার প্রেক্ষাপট:

- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম বসু সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন। ৭ আগস্ট ১৮১৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রামরাম এ কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

- কলেজে নিযুক্ত হওয়ার মাত্র দুমাস পরেই ছাত্রদের পাঠ্যপু্স্তক হিসেবে তিনি বারো ভুঁইয়াদের একজন - প্রতাপাদিত্যের জীবন নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এর নাম রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র। ১৮০১ সালের জুলাই মাসে গ্রন্থটি শ্রীরামপুর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের জন্যে তিনি কলেজের কাউন্সিল থেকে পুরস্কৃত হয়েছিলেন।

পরের বছর তিনি বিভিন্ন কাজের উপযোগী চিঠিপত্রের একটি আদর্শ সংকলন প্রকাশ করেন। এর নাম লিপিমালা। এ দুটি গ্রন্থ ছাড়া, তিনি গদ্যে-পদ্যে আরও কয়েকটি পুস্তিকা লিখেছিলেন, যেগুলিকে এক কথায় বলা যায়, খ্রিস্টীয় সাহিত্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৯৫.
নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস কোনটি ?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. শেষ বিকেলের মেয়ে
  4. রোদজ্বল বিকেল
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা
- ’বিশ শতকের মেয়ে’ নীলিমা ইব্রাহীমের একটি উপন্যাস।

• নীলিমা ইব্রাহিম :
- তিনি খুলনায় ১১ ই জানুয়ারি ১৯২১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথে দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,

• নাটক :
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর,

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস- একটি কালো মেয়ের কথা ।
• জহির রায়হানের উপন্যাস - শেষ বিকেলের মেয়ে' । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৯৬.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. সাজাহান
  2. রানা প্রতাপসিংহ
  3. তারাবাঈ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি কবি, নাট্যকার, গীতিকার ছিলেন। 
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর দুই অগ্রজ রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলাল এবং এক ভ্রাতৃজায়াও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাঈ,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৯৭.
'কথাসাহিত্য' বলতে কোনটিকে বোঝায়?
  1. কথোপকথন নির্ভর সাহিত্য
  2. নাটক
  3. আবৃতি
  4. ছোটগল্প ও উপন্যাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প ও উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প ও উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্য বলতে বুঝায়- ছোট গল্প ও উপন্যাস।
 
• কথাসাহিত্য:
- যেকোন সামাজিক ভাষ্য, রাজনৈতিক সমালোচনা বা মানুষের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে রচিত সাহিত্যকে কথাসাহিত্য বলে।
- বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন প্রথিতযশা কথা সাহিত্যিক হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মানিক বন্দোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত ওসমান, হুমায়ুন আহমেদ প্রমুখ।
---------------------
• 'ছোটগল্প':
- ছোটগল্প বিশেষ গদ্যরচনা, যা কথা সাহিত্যের অন্তর্গত। 
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

উপন্যাস:
- উপন্যাস হলো সাহিত্যের একটি আধুনিকতম শিল্প শাখা।
- ইউরোপে শিল্প বিকাশের পর যখন ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের বিকাশ ঘটে তখন আধুনিক একটি মাধ্যম হিসেবে উপন্যাসের সৃষ্টি।
- উপন্যাসের পূর্ব-পুরুষ ছিল মহাকাব্য।
- উপন্যাস মূলত গদ্যে রচিত হয়।
- এটি একটি বর্ণনাত্মক শিল্পকর্ম।

উৎস: বি.এড প্রোগ্রাম- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৯৮.
"কপাল কুন্ডলা" উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. তারাশংকর বঙ্গোপধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৯৯.
বাংলা উপন্যাস সাহিত্য ধারার প্রথম পুরুষ কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস ধারার সূচনা হয়।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
• আলালের ঘরে দুলাল,
• আধ্যাত্নিকা,
• অভেদী।
• তাঁর একমাত্র প্রহসন:
• মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫০০.
'আনন্দমঠ' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. সিপাহি বিদ্রোহ
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  4. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ভূমিকা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে। উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।