বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৭০১৮০০ / ১,২৯৫

৭০১.
সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কোন ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা
  2. সংসদে উপস্থিতি না থাকা
  3. সরকারের নীতির প্রশংসা করা
  4. ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা
সঠিক উত্তর:
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
• বিকল্প সরকার ও ছায়া মন্ত্রিসভা:
- সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিরোধী দল বিকল্প সরকার গঠন করে এবং ছায়া মন্ত্রিসভা হিসেবে কাজ করে।
- কার্যকর বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাহিরে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
- যেমন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিরোধী দল হল রাজা বা রাণীর 'বিকল্প সরকার'।

• গঠনমূলক সমালোচনা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন: জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই”।

• বিকল্প নীতি উত্থাপন: বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা। এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দিল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা: রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০২.
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা কতজন?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন।
- দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
- নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন।

⇒ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। 
- বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দীন।
- অন্য চার নির্বাচন কমিশনার হলেন অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, জেলা ও দায়রা জজ (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রহমানেল মাসুদ, যুগ্ম সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) বেগম তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
৭০৩.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ [Representation of the People's Order (RPO)] প্রথম কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

RPO:
- RPO-এর পূর্ণরূপ: Representation of People Order.
- বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
-  বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো। 

⇒ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে যে কোন নিবন্ধিত দলের ন্যুনতম এক-তৃতীয়াংশ জেলা (২১ জেলা) ও ১০০ উপজেলায় অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।
- কোনো দল পরপর তিন বছর তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বিবিসি।

৭০৪.
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ হল-
  1. ক) সমন্বিত গোষ্ঠী
  2. খ) রাজনৈতিক গোষ্ঠী
  3. গ) ধর্মীয় গোষ্ঠী
  4. ঘ) আন্তর্জাতিক চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আন্তর্জাতিক চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আন্তর্জাতিক চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কোনো বিশিষ্ট লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য কাজ করে এমন গোষ্ঠীকে বলা হয় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অ-রাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলো চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে ভূমিকা পালন করে। যেমন- আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক ইত্যাদি। আবার সুশীল সমাজও কাজ করে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে। চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধার। সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
৭০৫.
'ওয়ান - ইলেভেন' কোন দেশের রাজনৈতিক ঘটনার সাথে জড়িত?
  1. বাংলাদেশ
  2. পাকিস্তান
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. গ্রেট ব্রিটেন
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
'ওয়ান - ইলেভেন'
- ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশে দিনটি ওয়ান-ইলেভেন নামে পরিচিত।
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের এ দিনে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
- রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।  
- ২০০৭ সালের এদিন বিকেলে জরুরি অবস্থা জারির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়।
- এর আগে ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
- নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শুরু থেকেই সমালোচিত হতে থাকে।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
- ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভুয়া ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন রূপ নেয় গণআন্দোলনে।
- ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কিছু দিন পর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে উপদেষ্টারা একে একে পদত্যাগ করতে থাকেন।
- এ অবস্থায় ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
- এক পর্যায়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অন্তরায় হতে পারে এমন নানা অনিয়মের আশঙ্কা ব্যক্ত করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট।
- এ পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয়। রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
- সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমদ সব আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন।
- তিনিই এক অনুষ্ঠানে ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা জারির দিনটিকে ওয়ান-ইলেভেন বা এক এগারো(১/১১) নামে আখ্যায়িত করেন।
- জরুরি অবস্থা জারির পর রাজনৈতিক দলগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
- আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই এ সরকারের সময় গ্রেফতার হন।
- ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। এ বছরই ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতার করে বিশেষ কারাগারে নেওয়া হয়।
- এই সময় দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জন ওঠে। মাইনাস-টু ফর্মুলা তখন ছিলো একটি বহুল আলোচিত বিষয়।
- প্রায় দুই বছর অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।

উৎস: প্রথম আলো।
৭০৬.
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান কে?
  1. আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী
  2. সফর রাজ হোসেন
  3. ড. ইফতেখারুজ্জামান
  4. অধ্যাপক আলী রিয়াজ
সঠিক উত্তর:
আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
 জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন:
- ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর আট সদস্যের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
- পরে কমিশনের সদস্যসংখ্যা আরও তিনজন বাড়ানো হয়।
- এ কমিশনের প্রধান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী।
- জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন ব্যবস্থা করে তুলতে এ কমিশন গঠন করা হয়।
- ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

• অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের নাম ও প্রধান কমিশনার: 
• নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন- ড. বদিউল আলম মজুমদার;
• পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন- সফর রাজ হোসেন;
• বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন- বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান;
• দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন- ড. ইফতেখারুজ্জামান;
• সংবিধান সংস্কার কমিশন- অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

উৎস: সংস্কার কমিশনের ওয়েবসাইট বিবিসি প্রতিবেদন।
৭০৭.
বিরোধী দলের কাজ নয়-
  1. সরকার গঠন করা
  2. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  3. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  4. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন করা
ব্যাখ্যা
⇒ সরকার গঠন করা বিরোধী দলের কাজ নয়।

বিরোধী দলের কাজ:

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৮.
সরকারের কোনো ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ কী?
  1. হরতাল ডাকা
  2. বিশৃঙ্খলা করা
  3. গঠনমূলক সমালোচনা করা
  4. সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক সমালোচনা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক সমালোচনা করা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে সরকারে গঠনমূলক বিরোধিতা করা।

• গঠনমূলক বিরোধিতা:

- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।

রাজনৈতিক দলের অন্যান্য ভূমিকা:

- নেতৃত্ব তৈরি করা। 
- সরকার গঠন করা। 
- জনমত গঠন করা। 
- জনগণকে রাজনৈতিক শিক্ষাদান।
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস:পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
৭০৯.
বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক লীগ 
- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিশিষ্ট আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম খানকে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি নিযুক্ত করা হয় ।
- কৃষক লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং এর অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।
- সমীর চন্দ বর্তমানে কৃষক লীগের সভাপতি ও উম্মে কুলসুম সাধারণ সম্পাদক। 
- বাংলাদেশ কৃষক লীগ ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয় ।
- ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১৪১৬ শুরু করেন এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব কৃষক লীগকে দেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৭১০.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবক কে ছিলেন?
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ:
- ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে খাজা সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম নবাব খাজা আহসানউল্লাহ।
- খাজা সলিমুল্লাহ নবাবী পরিবারের বিত্ত-বৈভবের মধ্যে বেড়ে উঠলেও চিন্তা-চেতনায় ছিলেন আলাদা।
- নবাব পরিবারের মধ্যে সলিমুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
- যৌবনকালে তিনি কিছুকাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরি করলেও পরে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আত্মনেয়োগ করেন।
- মুসলিম স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জন্য নবাব সলিমুল্লাহ সকল প্রদেশের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে, সংস্থায়, আইনসভায় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন দাবি করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ নানামুখী অবদান রাখেন।

অন্যদিকে,
⇒ নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না।

উল্লেখ্য,
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭১১.
মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনায় কোন অঞ্চলকে 'গ' গ্রুপে রাখা হয়?
  1. ক) পাঞ্জাব
  2. খ) সিন্ধু
  3. গ) বাংলা
  4. ঘ) উরিষ্যা
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা
ব্যাখ্যা
মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাবসমূহ:
- মূলত ভারত উপমাহদেশকে একটি যুক্তরাষ্ট্রে পরিণত করার প্রস্তাব ছিল মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনায়।
- তিন স্তর বিশিষ্ট ছিল এই যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা। এগুলো হচ্ছে-
ক. প্রস্তাব অনুযায়ী কেন্দ্রে একটি অন্তবর্তী কালীন সরকার গঠন করা হবে
খ. একটি স্বায়ত্তশাসিত ভারত ইউনিয়ন গঠন করা হবে সেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজ্যগুলো এবং
গ. ভারতীয় প্রদেশগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হবে- 
১। ‘ক’ গ্রুপে থাকবে, মাদ্রাজ, বোম্বে, যুক্তপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও উড়িষ্যা,
২। ‘খ’ গ্রুপে, উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পাঞ্জাব ও সিন্ধু এবং
৩। ‘গ’ গ্রুপে থাকবে বাংলা ও আসাম
- সিদ্ধান্ত হয় প্রত্যেক গ্রুপের জন্য একটি গণপরিষদ গঠন করা হবে।
- মন্ত্রী মিশন প্রস্তাব পেশের পাশাপাশি শর্ত জুড়ে দিয়েছিল যে পরিকল্পনার পুরোটিই গ্রহণ করতে হবে- অংশবিশেষ নয়। 
- ভারতীয় ইউনিয়নের হাতে থাকবে দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র, যোগাযোগ এবং মুদ্রা বিভাগের দায়িত্ব।
- অন্যান্য বিষয়ের দায়িত্ব ন্যাস্ত থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
- এছাড়াও বলা হয় কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ৩৮৫টি আসনের মধ্যে ৭৮টি মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত করা হয়।
- পরিকল্পনায় এই সুযোগ রাখা হয় যে, কোনো গ্রুপ ইচ্ছা করলে দশ বছর পর কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারবে। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১২.
‘পাইন্যার মা’ চিত্র কর্মের চিত্রশিল্পী কে?
  1. কাইয়ুম চৌধুরী
  2. জয়নুল আবেদিন
  3. হাসেম খান
  4. এস এম সুলতান
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
ব্যাখ্যা
জয়নুল আবেদিন:

- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বেড়ে উঠেছেন ব্রহ্মপুত্রের লালিত্যে গড়ে ওঠা সবুজ শ্যামলিমায়।
- জয়নুল তাঁর প্রথম জীবনেই নদী ও অবারিত প্রকৃতির মাঝে রোমান্টিকতার অনুপ্রেরণা পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর সেখানে ব্রিটিশ / ইউরোপীয় স্টাইলের ওপর পড়াশুনা করেন। 
- জয়নুল আবেদিন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী, যারা দেশ ভাগের পর ঢাকায় অভিবাসী হয়েছিলেন, আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩), 'ফসল মাড়াই', জলরং (১৯৬৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।
- ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭১৩.
'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক—
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. শামছুল হক
  3. আতাউর রহমান খান
  4. আবুল হাশিম
সঠিক উত্তর:
শামছুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামছুল হক
ব্যাখ্যা
• আওয়ামী মুসলীম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি - মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক - সামছুল হক
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি - আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - শেখ মুজিবুর রহমান।

- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৭১৪.
শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে কী হতে পারে?
  1. রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে
  2. রাষ্ট্রের অর্থনীতি উন্নত হয়
  3. রাষ্ট্রের প্রশাসন শক্তিশালী হয়
  4. রাষ্ট্রের আইন ব্যবস্থা উন্নত হয়
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে
ব্যাখ্যা

বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিকল্প নীতি উত্থাপন করে বিরোধী দল।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে, তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৫.
'The Spirit of Islam' বইটি কে লিখেছেন?
  1. সৈয়দ আমির আলি
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমির আলি
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি ১৮৭৭সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেন।
- ফলে ১৮৮৫ সালে সরকার মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
- এ কারণে তিনি ১৮৮৪ সালে কোলকাতায় মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা এবং করাচিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ 'The Spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'-এ ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭১৬.
সংকীর্ণ ও সমজাতীয় বিশেষ গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে গঠিত - 
  1. ক) ব্যবসায়িক গোষ্ঠী
  2. খ) বিদেশী স্বার্থ রক্ষাকারী গোষ্ঠী
  3. গ) জনসংযোগ গোষ্ঠী
  4. ঘ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উৎপত্তি:
• সংকীর্ণ ও সমজাতীয় বিশেষ গোষ্ঠীগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উৎপত্তি হয়েছে।
এছাড়াও

• আলফ্রেড গ্রজিয়ার মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে, এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী; যা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
•  উৎপত্তি, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি প্রভৃতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
•  বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
 
উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র  (এইচএসসি প্রোগ্রাম),উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৭.
নিচের কোনটি গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতির অন্যতম শর্ত?
  1. ক্ষমতা দখল
  2. সুষ্ঠু নির্বাচন
  3. গণঅভ্যুত্থান
  4. দলীয় নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
সুষ্ঠু নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুষ্ঠু নির্বাচন
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন:
- নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের পদ্ধতি। 
- স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সকল নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে।
- প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে।
- যারা ভোট দেয়, তাদের নির্বাচক বা ভোটার বলে।
- নির্বাচকের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
- সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতির অন্যতম শর্ত। 
- এ ছাড়া সামরিক শাসন ও এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায়ও কখনো কখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কয়টি আসনে জয় লাভ করে?
  1. ক) ২৯৩টি
  2. খ) ২৮৫টি
  3. গ) ২৯০টি
  4. ঘ) ২৯৮টি
সঠিক উত্তর:
ক) ২৯৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৯৩টি
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন
⇨ ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
⇨ বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
⇨ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ তারিখেই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
⇨ এই নির্বাচনে ৩০০টি আসনে মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
⇨ স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ নির্বাচনে ১০৮৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছিল অজেয়।
⇨ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩ টিতেই আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। বিরোধী দলীয় প্রায় সকল প্রার্থীই পরাজিত হয়।  
⇨ সংরক্ষিত ১৫টি নারী আসনেরও সবকটিতে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। 
⇨ কেবল প্রবীণ নেতা আতাউর রহমান খান বাংলাদেশ জাতীয় লীগের প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৯.
অ্যালান বলের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা কী দ্বারা আবদ্ধ?
  1. অর্থ
  2. সরকারি ক্ষমতা
  3. অংশীদারী মনোভাব
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
অংশীদারী মনোভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশীদারী মনোভাব
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা:
⇒ অ্যালান বলের মতে, 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ'।

⇒ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

⇒ অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, 'স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন'।

⇒ অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২০.
মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ?
  1. ক) শিক্ষা
  2. খ) তথ্য
  3. গ) সংস্কৃতি
  4. ঘ) জনপ্রশাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনপ্রশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনপ্রশাসন
ব্যাখ্যা

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত সংস্থা।
- এর সদর দপ্তর ঢাকার তেজগাঁও শিল্ল এলাকায় অবস্থিত।
- সরকার ২৬-০৪-২০০৫ তারিখে পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করে এবং ১৫-০৬-২০১০ তারিখে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর হিসেবে ঘোষণা করে।

 উৎস: dpp.gov.bd

৭২১.
স্বাধীনতার পর কত সালে প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে 
  2. ১৯৭৩ সালে 
  3. ১৯৭৪ সালে 
  4. ১৯৭৫ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে 
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এ. এফ. রহমানের উদ্যোগে তিন আবাসিক হলে (মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল) ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় পরে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের 'দ্বিতীয় সংসদ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান কিংবা নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে।

⇒ হল ছাত্র সংসদের সাফল্যের পর ১৯২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (Dacca University Student's Union) গঠিত হয়। প্রত্যেক হল থেকে তিনজন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক আর উপাচার্যের মনোনীত একজন শিক্ষক এই নিয়ে সংসদ। শিক্ষকদের মধ্যে একজন সভাপতি হতেন।
- ১৯৪৪-৪৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করে। এই গঠনতন্ত্রের অধীনে ১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ পদাধিকারবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হন।

⇒ স্বাধীনতার পর ডাকসুর প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালে ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট। 
ii) The Daily Star Bangla.

৭২২.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রকাশের জন্য বিরোধী দল কী ধরনের সমালোচনা করে?
  1. স্বাভাবিক
  2. ধ্বংসাত্মক 
  3. আক্রমণাত্মক
  4. গঠনমূলক
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক
ব্যাখ্যা

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা :
- গঠনমূলক সমালোচনা: 
- অধিকার বাস্তবায়ন: 
- গণতন্ত্র রক্ষা: 
- বিকল্প নীতি উত্থাপন,
- সমস্যা চিহ্নিত করা: 
- জনমত গঠন
- প্রার্থী মনোনয়ন,
- পারস্পরিক সম্পর্ক
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন;
 - রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ;
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৩.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম আজাদ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ:
- আহমদ, আবুল মনসুর একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে জন্ম নেন এবং ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ ঢাকায় মারা যান।
- তিনি যে সকল সাময়িক পত্রিকায় কাজ করেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ।
- তিনি ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক 'কৃষক', 'নবযুগ' ও 'ইত্তেহাদ'র সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট সরকারে প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন।
- ১৯৫৭ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ সরকারে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,
- তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে: আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।
- তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।
- আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৭৯) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২৪.
Who raised the demand to use Bengali as one of the state languages ​​of the Constituent Assembly along with Urdu and English?
  1. ক) Maulana Bhasani
  2. খ) Nurul Alam
  3. গ) Kamal Farooq
  4. ঘ) Dhirendranath Dutta
সঠিক উত্তর:
ঘ) Dhirendranath Dutta
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Dhirendranath Dutta
ব্যাখ্যা

– ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
– আওয়ামীলিগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করেন। 
– ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
– ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
– সরকারী কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান – ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র (এস এস সি) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৭২৫.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. খুলনা
  2. যশোর
  3. ফরিদপুর
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
• এ.কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২):
- এ.কে ফজলুল হক রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লোকপ্রিয়ভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে অভিহিত  'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপনের জন্য জিন্নাহ্ তাঁকে নির্বাচিত করেন। 
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কৃষক প্রজা পার্টি (কে.পি.পি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২৬.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তির রূপকার কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. নবাব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সি. আর দাশ নামেও পরিচিত।
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে তিনি রাজনীতিতে জড়িত হন।
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্না গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির
পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশী সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও গভীর দেশপ্রেমের জন্য এই উপমহাদেশের জনগণ চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯২৫ সালের ১৬ জুন অসুস্থ অবস্থায় দার্জিলিংয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৭.
CPD-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রেহমান সোবহান
  2. ড. আতিউর রহমান
  3. ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
  4. মুহিত কামাল
সঠিক উত্তর:
রেহমান সোবহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেহমান সোবহান
ব্যাখ্যা

- প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান CPD প্রতিষ্ঠা করেন।

• CPD:
- CPD-এর পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর সদর দপ্তর ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

তথ্যসূত্র: CPD ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।

৭২৮.
নিচের কোনটি নাগরিকের সামাজিক অধিকার?
  1. সংগঠন করার অধিকার
  2. শিক্ষা লাভের অধিকার
  3. পরিবার গঠনের অধিকার
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নাগরিকের অধিকার:
- নাগরিকের অধিকার প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
• নৈতিক।
• আইনগত অধিকার।

- নৈতিক অধিকারের কোন আইনগত ভিত্তি নেই।
- আইনগত অধিকার এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার।
- সংগঠন করার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, শিক্ষা লাভের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার ইত্যাদি সামাজিক অধিকার।
- নাগরিকের প্রধান অধিকার রাজনৈতিক অধিকার ।
- ভোটাধিকার, নির্বাচন করার অধিকার ও রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকার ।
- জীবিকার অধিকার, চাকরি লাভের অধিকার, ব্যাবসা করার অধিকার ইত্যাদি অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।

৭২৯.
ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন -
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  3. রমেশ চন্দ্র দত্ত
  4. দাদাভাই নওরোজী
সঠিক উত্তর:
দাদাভাই নওরোজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাদাভাই নওরোজী
ব্যাখ্যা
দাদাভাই নওরোজী:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচক।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
- ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নরোজি।
- ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় সংসদের বার্ষিক অধিবেশনেও সভাপতিত্ব করেন। 

উল্লেখ্য,
- ১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য তার মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার মূলে ছিল ভারতের দারিদ্র।

উৎস: Britannica.
৭৩০.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সাময়িক সময়ের জন্য বিরোধী দলের সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করাকে কী বলে?
  1. ব্ল্যাক আউট
  2. স্ট্রাইক আউট
  3. বেইলআউট
  4. ওয়াকআউট
সঠিক উত্তর:
ওয়াকআউট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াকআউট
ব্যাখ্যা
ওয়াকআউট:
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সাময়িক সময়ের জন্য বিরোধী দলের সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করাকে 'ওয়াকআউট' বলে।
- এটি সাধারণত বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা স্পীকারের রুলিং-এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে বের হয়ে আসা।
- এ কারণে ওয়াকআউট হলো একটি বৈপরীত্যকারী সংসদ অধিবেশন।

ওয়াকআউটের কারণ:
- সাধারণত বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করতে, কোনো সদস্যের অধিকার বিচারে পূর্বসুরে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, বা স্পীকারের রুলিং বা আদেশে অসন্তোষ প্রকাশ করতে ওয়াকআউট করতে পারেন।

উল্লেখ্য,
সরকারি দলের ওয়াকআউট:
- তবে, সংসদের বৈঠকে সরকারি দলের সদস্যরাও ওয়াকআউট করতে পারেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট সদস্যদের অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তাদের বিচারের একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৩১.
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী কবে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন?
  1. ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত
  2. ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত
  3. ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত
  4. ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী: 
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের পক্ষে বিশাল বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ঐ নির্বাচনে মুসলিম লীগ ১২১টি সংরক্ষিত মুসলিম আসনের মধ্যে ১১৪টি আসনে জয়লাভ করে।
- এই বিজয়ের ফলে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর নেতৃত্বেই ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" পালন করা হয়, এর ফলে কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা ঘটে।
- মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি মুসলিম লীগের লক্ষ্য পূরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- তিনি হিন্দু নেতাদের সঙ্গে মিলে "স্বাধীন ও অখণ্ড বাংলা" গঠনের প্রস্তাব দেন, যা ব্যর্থ হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত বিভাজনের মধ্য দিয়ে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
- দেশবিভাগের পর তিনি প্রথমে ভারতে থাকেন এবং গান্ধীর সঙ্গে শান্তি মিশনে কাজ করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৭৩২.
রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন করে কিসের ভিত্তিতে?
  1. সরকারি সিদ্ধান্ত
  2. ব্যাক্তিগত স্বার্থ
  3. দলীয় মতাদর্শ
  4. সংসদের সিদ্ধান্ত
সঠিক উত্তর:
দলীয় মতাদর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দলীয় মতাদর্শ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের কার্যাবলী:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন করে দলীয় মতাদর্শ ভিত্তিতে।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- বিরোধী দলসমূহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশান, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৩.
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)  বাংলাদেশের একটি-
  1. বামপন্থী রাজনৈতিক দল
  2. ডানপন্থী রাজনৈতিক দল
  3. সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল
  4. ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
বামপন্থী রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বামপন্থী রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)  বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে  আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়। ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৩৪.
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে?
  1. এ এম এম নাসির উদ্দিন
  2. কাজী হাবিবুল আউয়াল
  3. কে এম নূরুল হুদা
  4. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
এ এম এম নাসির উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এম এম নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন:
- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 
- উক্ত নির্বাচনকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

• বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন।
- দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
- নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।

উল্লেখ্য,
- বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দীন।
- জনাব এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৩৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কী?
  1. দলীয় সংস্থা
  2. একটি রাজনৈতিক দল
  3. বেসরকারি সংস্থা
  4. সামাজিক সংগঠন
সঠিক উত্তর:
বেসরকারি সংস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেসরকারি সংস্থা
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য :

•  দলীয় সংগঠনবিহীন:
-চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়।
- সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য।

• দলীয় কর্মসূচিবিহীন:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
- এটি নির্দলীয় সংগঠন।
- এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

•  নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
-তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। 

• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না।
- বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
- তবে পরোক্ষভাবে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। 

• বেসরকারি সংগঠন:
- চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক সরকারি স্বীকৃতিও সাধারণত থাকে না।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭৩৬.
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি
  2. নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ
  3. ক্ষমতা লাভ
  4. হরতাল ও অবরোধ
সঠিক উত্তর:
হরতাল ও অবরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরতাল ও অবরোধ
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
• সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি।

• ক্ষমতা লাভ:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

• সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- আদর্শের দিক থেকে কোনো দল ধর্মভিত্তিক আবার কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষ হয়।
- অন্যদিকে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায়ও দল ভিন্ন হতে পারে।।

• প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নেতৃত্ব:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে।
- কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের শাখা বিস্তৃত থাকে।
- এছাড়া প্রত্যেক দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি থাকে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা দল পরিচালিত হয়।

• নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৭৩৭.
তিতুমীর বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন-
  1. নারিকেলবাড়িয়ায়
  2. হুগলিতে
  3. মুর্শিদাবাদে
  4. আলীগড়ে
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়ায়
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর:
- তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
- তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৮.
"স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।" সংঙ্গাটি কার?
  1. এইচ জিগলার
  2. অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
  3. অ্যালেন পটার
  4. অ্যালান বল
সঠিক উত্তর:
অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল
এর মতে, "স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।"

অন্যদিকে,
- অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।

- অ্যালান বলের মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।"

- এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৯.
'মনপুরা ৭০' শিল্পকর্মটির চিত্রশিল্পী কে?
  1. হাশেম খান
  2. জয়নুল আবেদিন
  3. এস এম সুলতান
  4. কাইয়ুম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
ব্যাখ্যা
মনপুরা ৭০:
- সত্তরের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষের অসহায়তাকে অবলম্বন করে একটি চিত্রশিল্প ‘মনপুরা ৭০’।
- ‘মনপুরা ৭০’ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম।
- আধুনিকযুগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন শিল্পচর্চার পথিকৃৎ।
- ১৯৪৩-এর বাংলার মন্বন্তর-ভিত্তিক চিত্রমালা তাঁকে ভারতব্যাপী খ্যাতি এনে দেয় এবং এক সকরুণ মানব-ট্র্যাজেডির তাৎক্ষণিক, সহানুভূতিপূর্ণ ও সবল রূপায়ন হিসেবে এগুলি বহির্বিশ্বেও শিল্পরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- দুর্ভিক্ষের স্কেচে, কেবল তুলির কালো রেখায় যার সূচনা, সেটাকে বর্ণপ্রয়োগের ন্যূনতায় ও স্পেস ব্যবহারের পরিমিতিবোধে তিনি ক্রমশ এক নিজস্ব শৈলীতে রূপান্তরিত করেন।
- তাঁর এপর্যায়ের ছবিগুলো- ‘বিদ্রোহী’, ‘মই দেওয়া’, ‘সাঁওতাল যুগল’ ‘সংগ্রাম’ এবং লোকশৈলীর মটিফে জ্যামিতিক বিন্যাসে সন্নিবেশিত চিত্র- ‘পাইন্যার মা’, ‘প্রসাধন’, ‘গুণটানা' প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭৪০.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. মীর নিসার আলী
  2. ফকির মজনু শাহ
  3. মুহসিন উদ্দিন দুদু
  4. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
হাজী শরিয়ত উল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.):
- বর্তমান শরিয়তপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে শরিয়ত উল্লাহর জন্ম হয়।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ হজ্জ করতে মক্কা গমন করেন- ১৭৯৯ সালে
- ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি ফরায়েজি আন্দোলন নামে ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল- ফরিদপুর।
- হাজী শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন- তার একমাত্র পুত্র দুদু মিয়া।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ পরিচালিত ফরায়েজি আন্দোলন ছিল - ধর্ম সংস্কার আন্দোলন।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪১.
আওয়ামী লীগের কততম কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ক) পঞ্চম কাউন্সিল
  2. খ) ষষ্ঠ কাউন্সিল
  3. গ) সপ্তম কাউন্সিল
  4. ঘ) নবম কাউন্সিল
সঠিক উত্তর:
খ) ষষ্ঠ কাউন্সিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ষষ্ঠ কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- এর আগে ১৯৫৩ সালের ৫ জুলাই দ্বিতীয় কাউন্সিলে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত টানা চার মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে বন্দি অবস্থায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৭৪২.
নারীশিক্ষার প্রসার ও জনহিতৈষী কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে মহারাণী ভিক্টোরিয়া কর্তৃক কে নবাব উপাধী ভূষিত হয়?
  1. ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
  2. বদরুন্নেছো চৌধুরানী
  3. রাজিয়া খানম আরা
  4. চৌধুরানী মমতাজ বেগম
সঠিক উত্তর:
ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা

• নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার একজন প্রবর্তক, সমাজসেবক ও লেখক। 
- তিনি কুমিল্লার হোমনাবাদ পরগনার (বর্তমান লাকসাম) পশ্চিমগাঁও-এ ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তিনি শিক্ষা লাভ করেন।
- ফয়জুন্নেছা বাংলা ভাষা ছাড়াও আরবি, ফারসি ও উর্দুভাষায় বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন।
-  পিতার মৃত্যুর পর তিনি পশ্চিমগাঁও-এর জমিদারি লাভ করেন।
- মা আরাফান্নেছার মৃত্যুর পর মাতুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েতিনি বিশাল জমিদারির অধিকারী হন।
- তিনি সফলভাবে এই জমিদারি পরিচালনা করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করে। 
- তিনি নিজ জমিদারি এলাকার বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন।
- যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, দিঘি-পুষ্করিণী খনন প্রভৃতি জনহিতকর কাজে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
- নারীশিক্ষার প্রসার ও জনহিতৈষী কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবেমহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে ফয়জুন্নেছাকে 'নবাব' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি এই সম্মানজনক উপাধি লাভ করেন।
- ১৯০৩ সালে নিজ গ্রামে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে 'একুশে পদক' (মরণোত্তর) প্রদান করে সম্মান জানায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৪৩.
আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় কোন প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. আদালত
  2. রাজনৈতিক দল
  3. প্রশাসন
  4. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
- রাজনৈতিক দল ব্যতীত গণতান্ত্রিত্রক রাষ্ট্রের কথা কল্পনা করা যায় না।
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 
- আর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন, দলীয় আদর্শের প্রচার, সমর্থকগোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪৪.
১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. ক) বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম
  2. খ) বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মাসুদ
  3. গ) বিচারপতি এম ইদ্রিস
  4. ঘ) বিচারপতি এ কে এম বদরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারপতি এম ইদ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারপতি এম ইদ্রিস
ব্যাখ্যা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন - বিচারপতি এম ইদ্রিস।

• ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচন:

- ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।

- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- এ জন্য প্রথমেই একটি সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
- মাত্র নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
- তারপর নতুন সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ।

• নির্বাচন অনুষ্ঠান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ তারিখেই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৩০০টি আসনের মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ নির্বাচনে ১০৮৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেয় কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. কলকতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. সংস্কৃত কলেজ
  4. ব্রাক্ষ্ম সমাজ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১ খ্রি.):
- উনিশ শতকের বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী ।
- ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীর সিংহ গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে।
- কাব্য, অলঙ্কার শাস্ত্র, বেদান্ত, স্মৃতি, জ্যোতিষ ও যুক্তিবিদ্যায় তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেন।
- তিনি সংস্কৃত কলেজে ইংরেজি শিক্ষা চালু করেন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে তাঁর মহৎ কীর্তি কলকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
- উদার ও সংস্কারমনা বিদ্যাসাগর হিন্দু সমাজে প্রচলিত, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ, সতীদাহ প্রথা সহ সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহতকারী অন্যান্য অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইনসম্মত করণে ১৮৫৬ সালে একটি আইন পাস করা হয়।
- ১৮৭২ সালে বহু বিবাহ ও বাল্য বিবাহ রহিতকরণে 'সিভিল ম্যারেজ এ্যাক্ট' প্রণয়নেও তাঁর প্রভূত অবদান রয়েছে।
- ১৮৯১ সালের ২৫ জুলাই তিনি পরলোকগমণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৬.
'ভারতে রাজভক্ত মুসলমান' নামক বইটির লেখক কে?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. স্যার সৈয়দ আহমদ
সঠিক উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আহমদ খান:
- সিপাহী বিদ্রোহের জন্য ইংরেজ সরকার মুসলমানদের এককভাবে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
- ভারতীয় মুসলমানদের দুর্দশা সৈয়দ আহমদ খানকে ব্যথিত করে।
- এমতাবস্থায় সৈয়দ আহমদ খান ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকারের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

- তিনি ‘ভারতে সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ এবং ‘ভারতের রাজভক্ত মুসলমান' নামক দুটি বই রচনা করেন।
- তিনি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, সিপাহী বিদ্রোহের জন্য মুসলমানরা দায়ী ছিল না।
- বরং বিদ্রোহকালে অধিকাংশ মুসলমান ইংরেজদের পক্ষে ছিল।
- তাঁর যৌক্তিক আলোচনায় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটে।
- উল্লেখ্য যে, সৈয়দ আহমদ খান নিজে ইংরেজ অনুগত ছিলেন।
- তিনি ভারতের মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তাদেরকেও ইংরেজ অনুগত হওয়ার এবং তাদের সহযোগিতা করার উপদেশ দেন।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের "নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন" এর প্রধান কে?
  1. ড. শরীফ ভুঁইয়া
  2. এম মঈন আলম ফিরোজী
  3. ড. বদিউল আলম মজুমদার
  4. সফর রাজ হোসেন
সঠিক উত্তর:
ড. বদিউল আলম মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. বদিউল আলম মজুমদার
ব্যাখ্যা
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন: 
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের "নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন" এর প্রধান হলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।
- তিনি ০৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আট সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কমিশনের কাজ হলো নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা।

উল্লেখ্য, 
- নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা। কমিশন স্থানীয় নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুপারিশ করেছে, এতে রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে স্বচ্ছতা আনা যায়।  

এছাড়াও, 
- পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন - সফর রাজ হোসেন;
- বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন - বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান;
- দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন - ড. ইফতেখারুজ্জামান;
- জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন - আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী;
- সংবিধান সংস্কার কমিশন - অধ্যাপক আলী রীয়াজ। 

সূত্র: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট ও বিবিসি নিউজ।
৭৪৮.
কোন সংগঠনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
  2. সেনাবাহিনী
  3. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  4. কৃষক সংগঠন
সঠিক উত্তর:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
⇒ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকার কাঠামোর অংশ। এরা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়।
 
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৯.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বা সংবিধান চালু ছিল-
  1. ক) ১ বছর
  2. খ) ২ বছর
  3. গ) ৪ বছর
  4. ঘ) ৫ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বছর
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশের পর বিভিন্ন পর্যায় হতে দ্রুত সংবিধান রচনার দাবি উত্থাপিত হয়।
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অনিহার কারণে এই কাজে বিলম্ব হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালে গভর্ণর জেনারেল পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়। 
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ যে সংবিধান প্রণীত ও কার্যকর করা হয়েছিল তা মাত্র ২ বছর ৮ মাসকাল চালু ছিল ।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব.) ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল ঘােষণা করেন।

উৎস:- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫০.
কোন ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না?
  1. বহুদলীয়
  2. একদলীয়
  3. দ্বি-দলীয়
  4. রাষ্ট্রপতিশাসিত
সঠিক উত্তর:
একদলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদলীয়
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের বিভিন্নরূপ:
সাধারণত রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রকার।
যথা :
• একদলীয় ব্যবস্থা :
- যখন রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।
- একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকে।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
- অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।
- কোন দলের উদ্ভব হলে তা উৎপাটন করা হয়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ইতালীর ফ্যাসিষ্ট এবং জার্মানীর নাৎসী দল এই ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় প্রধান সাধারণত সরকার প্রধান হন।

• দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা :
- দেশে মাত্র দু'টি দল থাকলে তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে।
- একটি দল সরকার গঠন করে এবং অন্যদল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।
- কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা দেখা যায় না।
- এমনকি বৃটেনে শ্রমিক দল ও রক্ষণশীল দল প্রধান দল হলেও সেখানে উদারনৈতিক দল ও সমাজতান্ত্রিক দলের উদ্ভব ঘটেছে।
- তবে প্রকৃতিগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও বৃটেনে দ্বি-দল ব্যবস্থাই প্রচলিত আছে।

• বহু-দলীয় ব্যবস্থা :
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুটির বেশি দল, রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লাড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তখন তাকে 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫১.
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. শেরেবাংলা ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- তিনি মওলানা ভাসানী হিসেবে পরিচিত।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
- ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন।

⇒ বাইশ বছর বয়সে কংগ্রেস নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আদর্শে তিনি অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জে তিনি এক সভায় ভাষণ দেন।
- এই ভাষণে তিনি কৃষক সাধারণের ওপর জমিদারদের শোষণ, নিপীড়ন ও অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরেন। 
- আসামের ধুবড়ি জেলার ভাসানচরে তিনি এক বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সভায় তিনি বাঙালি কৃষকদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এই সমাবেশেই সাধারণ কৃষকরা তাঁকে ভাসানচরের মওলানা নাম দেয়। পরে তাঁকে ভাসানী নাম দেয়।
- তখন থেকেই তাঁর পরিচয় হয় মওলানা ভাসানী। 
- মওলানা ভাসানী তাঁর এক ভাষণে বলেছেন, 'আমি খেটে-খাওয়া মানুষের কথা বলি। এই মানুষেরা কাজ করে খেতে-খামারে, কাজ করে কলে-কারখানায়। এরা কৃষক, এরা শ্রমিক। আর এরাই জমিদার, মহাজন, মালিকের জুলুমের শিকার হয়।'
- সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। যুক্তফ্রন্ট এ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়।
- ১৯৫৭ সালে ভাসানী টাঙ্গাইলের কাগমারিতে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্মেলন আহ্বান করেন। এ সম্মেলন 'কাগমারি সম্মেলন' নামে খ্যাত। 

উৎস: i) আমার বাংলা বই, পঞ্চম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৫২.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন কে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. নবাব সলিমুল্লাহ
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ গঠন: 
- মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। 
- এ দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে এবং অবশেষে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।  - বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) পরবর্তী রাজনীতির আলোকে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।
- ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন।

- নওয়াব আব্দুল লতিফ মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি গঠন করেন। 
- সৈয়দ আমীর আলী সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৫৩.
বিধবা বিবাহের পক্ষে কে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

বিধবা বিবাহ আইন:
- বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসী।
- এই আইন প্রণয়ন করেন -১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিধবা বিবাহ জন্য সংগ্রাম করেন
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের সাথে বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫৪.
বাংলাদেশে কোন ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান?
  1. সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র
  2. বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
  3. নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র
  4. তত্ত্বাবধায়ক গণতন্ত্র ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নেই এ দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় প্রয়োজনে বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় যা ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে সংবিধান থেকে বাকশাল ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়।
- ১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সময়ে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো।
- বাংলাদেশের আইনসভা জাতীয় সংসদ নামে পরিচিত যা এককক্ষ বিশিষ্ট।- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৭৫৫.
মুসলিম লীগের প্রকৃত নাম ছিল-
  1. ক) ভারতীয় মুসলিম লীগ
  2. খ) উপমহাদেশীয় মুসলিম লীগ
  3. গ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  4. ঘ) আওয়ামী মুসলিম লীগ
সঠিক উত্তর:
গ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলিম লীগের প্রকৃত নাম ছিল 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'। মুসলিম লীগ গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ, আগা খান এবং নওয়াব ভিকার-উল-মূলুক। সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
৭৫৬.
প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত-
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দল একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না।
- তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
- রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর সাহায্যে এক ধরনের প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টি করে।
- বতর্মান প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দল। 
- গণতন্ত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা দিয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৭.
'সংগঠন করার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. রাজনৈতিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
- সমাজে মানুষের মত মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য এসব অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। 

যেমন- 
- সংগঠন করার অধিকার, 
- ধর্ম সংক্রান্ত অধিকার, 
- মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি।

• নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য:
- নাগরিক প্রত্যয়টির সাথে রাষ্ট্র বিষয়টি নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবার সাথে তিনি রাষ্ট্র প্রদত্ত বিভিন্ন অধিকার লাভ করেন। যেমন;

• রাজনৈতিক অধিকার: নাগরিক হিসেবে প্রধান অধিকার হল রাজনৈতিক অধিকার। এ অধিকারের ফলে রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। যেমন- ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচন করার অধিকার, রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার ইত্যাদি।

• অর্থনৈতিক অধিকার: স্বাধীনভাবে সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহের অধিকার হল অর্থনৈতিক অধিকার। যেমন- চাকরি লাভের অধিকার, ব্যবসা করার অধিকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৮.
সাময়িক সময়ের জন্য বিরোধী দলের সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করাকে কি বলে?
  1. ক) Blackout
  2. খ) Strike
  3. গ) Walkout
  4. ঘ) Bailout
সঠিক উত্তর:
গ) Walkout
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Walkout
ব্যাখ্যা

- জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সাময়িক সময়ের জন্য বিরোধী দলের সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করাকে “ওয়াকআউট” (Walkout) বলে।
- সাধারণত বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা স্পীকারের রুলিং-এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে বের হয়ে আসেন।
- সরকারি দলের সদস্যরাও ওয়াকআউট করতে পারেন।
- সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট সদস্যদের অধিকার বলে স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সংসদে বিরোধী দলের ঘন ঘন ওয়াকআউটের নজির রয়েছে।

তথ্যসূত্র- জাতীয় সংসদ ওয়েবসাইট।

৭৫৯.
'স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয় কাকে?
  1. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. সরকার
  3. জনগণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• 'স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে।

চাপসৃষ্টিকারী দল:
- চাপসৃষ্টিকারী দল কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য।
- প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
- গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬০.
নিচের কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) ফজলুর রহমান খান
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪- ১৮৩৩ খ্রি.)
- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রামমোহন রায় উনিশ শতকের একজন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- রামমোহন রায় সংবাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- ১৮২১ সালে
- পরের বছর ফারসি ভাষায় আরেকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- এর নাম ছিল মিরাত উল আখবার।
- তিনি ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্মসমাজ’  প্রতিষ্ঠা করেন।‘
 - তিনি বিধবা ব কোম্পানির শাসকদের 
- তিনি সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কোম্পানির শাসকদের প্রাভাবিত করতে থাকেন।
- তার প্রচেষ্টায়  ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ( উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৬১.
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধনের যোগ্য হতে হলে অন্তত কতটি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় সংগঠন থাকতে হবে?
  1. ৭৫টি
  2. ১০০টি
  3. ৯৫টি
  4. ১২০টি
সঠিক উত্তর:
১০০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০টি
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

এছাড়াও,
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।

- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং BBC পত্রিকা রিপোর্ট। 

৭৬২.
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে -
  1. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
  2. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  3. জাতীয় পার্টি
  4. বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
ব্যাখ্যা
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-১৯৯১:
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষে সুপ্রীমকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন এবং তিন জোটের মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য হতে ১৭ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৯১ সালের ২৭ এপ্রিল শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- নির্বাচনে তালিকাভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২৩ লক্ষ।
- কিন্তু নির্বাচনে ভোটদান করে ৩ কোটি ৪৫লক্ষ এবং প্রদত্ত ভোটের হার ৫৫.৩৫%।

উল্লেখ্য,
- নির্বাচনে কোন দলই নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, ফলে সরকার গঠন নিয়ে প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
- বি এন পি শতকরা ৩০.৮০টি ভোট পেয়ে ১৪০ টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আর্বিভূত হয়।
- অবশেষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯ মার্চ (১৯৯১) সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার গঠনের আহবান জানান।
- ২০ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া।

এছাড়াও,
- স্বাধীনতা-উত্তর একমাত্র পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি পরিচালিত হয় একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বতীকালীন সরকারের অধীনে। ফলে নির্বাচনী ফলাফলে দলীয় কোন প্রভাব পড়েনি।
- এই নির্বাচন ছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র রক্ষার ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের ফসল।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমদ কোন পদে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. মুক্তিবাহিনীর প্রধান
  2. অস্থায়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী
  3. অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
  4. মিত্র বাহিনীর সেনাপ্রধান
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দীন আহমদ:
- তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধান নেতা।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অবদান:
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলে তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
- ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন, মুক্তিবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন।
- স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তাজউদ্দীন আহমদসহ অন্যান্য জাতীয় নেতাদের বন্দি করা হয়।
- ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে তাকে হত্যা করা হয়, যা জেল হত্যা দিবস হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৬৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
  2. দলীয় সংগঠনবিহীন
  3. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- নিম্নে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলঃ

১। দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই। এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়। সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষণ।

২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই। এটি নির্দলীয় সংগঠন। এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না। তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও কোন কোন দেশে চাপসৃষ্টিকারী কোন কোন গোষ্ঠীকে পছন্দের দলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে দেখা যায়।

৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৫.
“সেই জনগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার গঠনে প্রয়াসী।” - রাজনৈতিক দল সম্পর্কে সংজ্ঞাটি প্রদান করেন -
  1. ক) ম্যাকাইভার
  2. খ) এডমন্ড  বার্ক
  3. গ) অধ্যাপক ফাইনার
  4. ঘ) অধ্যাপক গেটেল
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
ম্যাকাইভার বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে সেই জনগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার গঠনে প্রয়াসী।”

 গুরুত্বপূর্ণ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দ্লের সংজ্ঞা: 
▪ এডমন্ড  বার্ক বলেন, “রাজনৈতিক দল এরূপ একটি জনসমষ্টি যারা কিছু ঐক্যবদ্ধ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ অর্জনের জন্যে সংঘবদ্ধ হয়েছে।”
▪ অধ্যাপক গেটেল বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিকভাবে এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।
▪ অধ্যাপক ফাইনার বলেন, “আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।”
▪ অধ্যাপক সুম্পিটার রাজনৈতিক দলের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৬.
বাঁশেরকেল্লা কে নির্মাণ করেন?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ অপশন
  2. মওলানা ভাসানী
  3. তিতুমীর
  4. নবাব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
তিতুমীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতুমীর
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
- তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৬৭.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ‘বিকল্প সরকার’কে?
  1. বিরােধী দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. মন্ত্রী পরিষদ
  4. সচেতন নাগরিক
সঠিক উত্তর:
বিরােধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরােধী দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

অপরদিকে,
- সুশীল সমাজ, সচেতন নাগরিক চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৬৮.
নিচের কোন নামটি ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা হিসেবে অধিক যুক্তিযুক্ত?
  1. হেনরী কুই ডিরোজিও
  2. কৃষ্ণমোহন ডিরোজিও
  3. হেনরী লুই ডিরোজিও
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
হেনরী লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরী লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
ইয়াং বেঙ্গল:
- 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও।
- ‘রেনেসাঁস’ যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিওর অনুসারী ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের সদস্যরা দেশবাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন যে তারা ব্রিটিশ কর্তৃক শাসিত ও শোষিত হচ্ছে।
- ডিরোজিও কর্তৃক ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ‘একাডেমি এ্যাসোসিয়েশন’ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৯.
বাংলাদেশে মোট কতটি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মোট ৮টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো:
- ঢাকা
- চট্টগ্রাম
- খুলনা
- রাজশাহী
- সিলেট
- বরিশাল
- রংপুর
- এবং ময়মনসিংহ।
এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট বিভাগ ময়মনসিংহ এবং সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রাম।
জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় ঢাকা বিভাগ এবং সবচেয়ে ছোট বরিশাল বিভাগ।
সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে (১৩ টি) এবং সবচেয়ে কম চারটি করে জেলা রয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।
(সূত্রঃ স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট)
৭৭০.
স্যার সৈয়দ আহমদ খান ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৮১৭
  2. ১৮৩৭
  3. ১৮৮৮
  4. ১৮৯৮
সঠিক উত্তর:
১৮৮৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৮
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আহমদ খান:
- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সৈয়দ আহমদ খানের জন্ম হয়।
- কোম্পানির অধীনে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেরেস্তাদারের চাকুরী গ্রহণ করেন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন।
- তিনি ইম্পিরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল, হান্টার শিক্ষা কমিশন ও ভারতীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৭১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা
  4. সমজাতীয় মনোভাব
সঠিক উত্তর:
সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
▪ দলীয় সংগঠনবিহীন। 
▪ দলীয় কর্মসূচিবিহীন। 
▪ নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া। 
▪ সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা। 
▪ সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়। 
• সমজাতীয় মনোভাব পোষণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭২.
অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায় নিচের কোন রাজনৈতিক দলটির আদর্শ ভিন্ন?
  1. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  2. জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
  3. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
  4. জাতীয় পার্টি 
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- উল্লেখিত প্রশ্নে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর আদর্শ ভিন্ন। জাসদ সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী নয়।

উল্লেখ্য, 
⇒ সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি: রাজনৈতিক দল হচ্ছে কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। আদর্শের দিক থেকে কোনো দল ধর্মভিত্তিক আবার কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষ হয়। অন্যদিকে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায়ও দল ভিন্ন হতে পারে। যেমন- সমাজতান্ত্রিক দল।

⇒ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)
মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৩১শে অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রতিষ্ঠিত হয়। জাসদ সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী।
অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী নয়।

⇒ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস।
 • আওয়ামী লীগ এ দেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
 • পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
 • বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। 

⇒ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয়।
 • বিভিন্ন দল ও আদর্শের নেতা-কর্মীদের একত্রিত করে গঠিত এ দলটি ইসলামী মূল্যবোধ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী।

⇒ জাতীয় পার্টি 
জাতীয় পার্টি দেশের তৃতীয় বৃহৎ দল। ১৯৮৬ সালের ১লা জানুয়ারি লেঃ জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
 • জাতীয় পার্টির ঘোষণাপত্রে (১) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, (২) ইসলামি আদর্শ ও সকল ধর্মের স্বাধীনতা, (৩) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, (৪) গণতন্ত্র এবং (৫) সামাজিক প্রগতি তথা অর্থনৈতিক মুক্তি- এই পাঁচটিকে দলের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৭৭৩.
নেপালের ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৪০ সালে
  2. খ) ১৯৫১ সালে
  3. গ) ১৯৬২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
নেপালের ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ গঠিত হয় ১৯৫১ সালের ১৫ জুন।
২০০৭ সালের নেপালি সংবিধান অনুযায়ী ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
একজন চেয়ারম্যান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে এটি গঠিত।
এর সদস্যদের পদের মেয়াদ ৬ বছর।
(সূত্র: নেপাল পাবলিক সার্ভিস কমিশন ওয়েবসাইট)
৭৭৪.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত?
  1. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  2. সুশাসনের জন্যে নাগরিক
  3. এফবিসিসিআই
  4. উপরোক্ত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৭৭৫.
কে ‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করেন?
  1. উইলিয়াম হান্টার
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করেন - এ কে ফজলুল হক।

• রাজনীতিতে শেরে বাংলার অবদান:
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণার পর পূর্ব বাংলার মানুষ যখন চরম হতাশাগ্রস্থ তখন তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- উল্লেখ্য যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ফজলুল হককে বিশ্বস্তু যোগ্য ও শক্তিশালী সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে তিনি বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯১৫ সালে তিনি কৃষক-প্রজা আন্দোলনে যোগদান করেন।

- ১৯১৬ সালে স্বাক্ষরিত লৌক্ষ্ম প্যাক্ট ফজলুল হকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।
- ১৯১৮ সালে তিনি একদিকে মুসলিম লীগের সভাপতি অন্যদিকে নিখিল ভারত কংগ্রেসের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ অলংকৃত করেন।
- এ সময় তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে ঐক্য স্থাপনে প্রচেষ্টা চালান।
- ১৯২৯ সালে তিনি ‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করেন।
- একে ফজলুল হক একজন অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংকট মিমাংসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

- তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে শেরে বাংলা ভারতের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে প্রজ্ঞা প্রদীপ্ত সুপারিশ করেছিলেন তার মধ্যে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে ফজলুল হকের অসাধারণ নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীকারের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
- এরই সূত্র ধরে পূর্ব বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে।

সূত্র: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৬.
জাতীয় সংহতির জন্যে কী প্রয়োজন?
  1. পেশাদার আমলাতন্ত্র
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ
  4. বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংহতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী পৃথক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জাতীয় একাগ্রতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার জন্যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৭৭.
রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্ক কেমন?
  1. সম্পূরক
  2. বিপরীত
  3. পরিপূরক
  4. কোন সম্পর্ক নেই
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিকদলের সম্পর্ক:
-  গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
-  গণতন্ত্র মানে হল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সকলের অংশগ্রহণ। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
-  ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়। 
-  মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির একটি হল গণতন্ত্র, যা সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ।
 
উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৮.
চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন কে?
  1. আম্বিকা চক্রবর্তী
  2. কল্যাণী দাস
  3. শহীদ তিতুমীর
  4. মাস্টারদা সূর্যসেন
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্যসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্যসেন
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্যসেনঃ 
- ১৮৯৪ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন জন্মগ্রহণ করেন।
- সূর্যসেন ছিলেন পেশায় শিক্ষক তাই তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হত মাস্টারদা সূর্যসেন।  
- বি.এ পড়ার সময় তিনি তাঁর শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন। 
- ১৯৩০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মাস্টারদা ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের ফসল।
-  এ যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন ১৯৩২ সালের জুন মাসে।
- মাস্টারদা পটিয়া এলাকার গৈরালা গ্রামে আত্নগোপন করেন।
- একজন গ্রামবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা গ্রেফতার হন।
- ১৯৩৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৭৭৯.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্য নাম কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সেবামূলক সংস্থা
  3. স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী
  4. প্রশাসনিক গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আরেকটি নাম হলো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। 
- এ গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক দলের মতো সরাসরি সরকারি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে না, তবে সরকারি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় প্রভাব ফেলতে চায়। এদের লক্ষ্য হলো নিজেদের নির্দিষ্ট স্বার্থ বা লক্ষ্যকে সামনে রেখে নীতিনির্ধারকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা।  

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- বর্তমানে যে কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অত্যন্ত প্রভাবশালী অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- রাজনৈতিক দলের মত সরকারি ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য নয়। কিন্তু সরকারি নীতি নির্ধারণের ব্যাপারে এই গোষ্ঠীগুলো কার্যকরী প্রভাব বিস্তার করে। 
- প্রভাব বিস্তার বা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে আনার বিষয়ে সচেষ্ট থাকে। 
- বিশেষ স্বার্থযুক্ত এই গোষ্ঠীসমূহ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশে রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে। 
- সেজন্য দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনসাধারণের বিভিন্ন রকম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, বৃত্তিগত প্রভৃতি স্বার্থকে কেন্দ্র করে এই গোষ্ঠীসমূহের সৃষ্টি হয়। 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর নামকরণ ও সংজ্ঞা সম্পর্কে কিছু সমস্যা আছে। অনেকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure group), স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী (Interest group), লবি (Lobby), মনোভাব কেন্দ্রিক গোষ্ঠী (Attitude group) এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে (Political group) সমার্থক শব্দরূপে গণ্য করেন।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৮০.
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ কে ছিলেন?
  1. তোহা খান
  2. মণি সিংহ
  3. মহিউদ্দীন আহমেদ 
  4. সি আর দাস
সঠিক উত্তর:
মণি সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণি সিংহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ:
- উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মণি সিংহ।

⇒ কমরেড মণি সিংহ ছিলেন উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, অন্যতম স্থপতি।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সপিবি) প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ।
- মার্ক্সবাদী বিপ্লবী আদর্শই ছিল তাঁর জীবনাদর্শ।
- ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ’, তথা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল তাঁর আমৃত্যু সংগ্রামী প্রয়াস। 
- তিনি সব সময় ‘বিপ্লবী মানবতাবাদের’ কথা প্রচার করতেন।
- কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

উৎস: প্রথম আলো। 

৭৮১.
নওয়াব আব্দুল লতিফ সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য
  2. 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন
  3. 'নীল কমিশন' গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল
  4. মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি
সঠিক উত্তর:
বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- তিনি ছিলেন মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ১৮৭৭ সালে তাঁকে 'খান বাহাদুর', ১৮৮০ সালে 'নওয়াব', ১৮৮৩ সালে সি.আই.ই. এবং ১৮৮৭ সালে উচ্চতর সম্মানের প্রতীক 'নওয়াব বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক 'নীল কমিশন গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।
- এ কমিশনের সুপারিশ অনুসারে নীল চাষে কৃষকদের স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে,
- বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন সৈয়দ আমির আলী।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮২.
নওয়াব ফয়জুন্নেসার প্রধান সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. অবরোধ বাসিনী
  2. সোনালী কাবিন
  3. রূপজালাল
  4. মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপজালাল
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- অবিভক্ত ভারতীয় রক্ষণশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে এক উজ্জল নক্ষত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা সততা, মহানুভবতা, সাহিত্য সাধনা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৮৩৪ সালে ত্রিপুরা জেলার (বর্তমানে কুমিল্লা) লাকসাম থানার পশ্চিমগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বীয় প্রতিভা বলে দ্রুত বিদুষী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- তিনিই এক মাত্র ভারতীয় মহিলা যিনি ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতীয়দের জন্য দেওয়া শ্রেষ্ঠতম সম্মান নওয়াব উপাধি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের সরকার ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

⇒ সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান: সমাজসেবা, দানশীলতা, ও জনহিতকর কাজের মাধ্যমে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হচ্ছে- রাস্তাঘাট, সেতু, কার্লভাট প্রভৃতি নির্মাণ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করণের জন্য দিঘী, জলাশয়, কুপ খনন, চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন, মুসাফির খানা নির্মাণ, মক্কা শরীফে মাদ্রাসায় সাওলাতিয়া প্রতিষ্ঠা, মসজিদ ও উপাসনালয় স্থাপন ইত্যাদি।

⇒ তাঁকে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বলা যায়: নারী শিক্ষার জন্য নিজ গ্রামে এম. ই. স্কুল, কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল ও একটি পাঠশালা, পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপনেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়ায়।

⇒ সহিত্য সাধনা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান সাহিত্যিক হিসেবে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে কৃতিত্ব দেয়া হয়। তার লেখা পদ্য ও গীতি আলেখ্য 'রূপজালাল' প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে। বলা হয়ে থাকে এটি বাংলায় কোন নারী মুসলমান লেখকের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 'রূপজালাল' বস্তুত রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এরপরেও আরো দুইটি কবিতার বই প্রকাশিত হয় তার, 'সঙ্গীত লহরী' এবং 'সঙ্গীতসার'।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.
৭৮৩.
স্বত্ববিলোপ নীতি আরোপ করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
• স্বত্ববিলােপ নীতি
ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যেসব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য হল স্বত্ববিলােপ নীতি।

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তক ও প্রবর্তনকাল 
বড়োলাট লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন ।
 
• স্বত্ববিলোপ নীতির মূল বক্তব্য 
- লর্ড ডালহৌসির উল্লেখযােগ্য সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি ছিল স্বত্ববিলােপ নীতি ।
- তিনি এক ঘােষণায় বলেন যে , কোনাে ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে ।
- এই নীতি স্বত্ববিলােপ নীতি নামে পরিচিত।

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ পদ্ধতি 
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়ােগ করার আগে দেশীয় রাজ্যগুলিকে তিনভাগে ভাগ করেন –
(ক) স্বাধীন দেশীয় রাজ্য
(খ) কোম্পানির সৃষ্ট রাজ্য
(গ) কোম্পানির আশ্রিত বা কোম্পানির অধীনস্থ রাজ্য

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ 
- স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ডালহৌসী প্রথমেই ব্রিটিশ প্রভাবাধীন সাতারা রাজ্যটি দখল করেন ১৮৪৮ খ্রিঃ,
- এরপর ১৮৫৩ সালে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসীর যুক্তি ছিল যে, নাগপুর রাজ্যটি নাকি ইংরেজরাই সৃষ্টি করেছিল।
- ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর প্রয়াণ হলে ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করা হল।
- এছাড়া ভগৎপুর, করৌলী, সম্বলপুর, উদয়পুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।

উৎস: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ১ম পত্র বই।
৭৮৪.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
৭৮৫.
বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নিচের কোনটি সৃষ্টি হয়?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সামরিক বাহিনী
  3. আমলাগণ
  4. সুশীল সমাজ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৬.
বিরোধী দলের কাজ কোনটি?
  1. গঠনমূলক সমালোচনা
  2. অধিকার বাস্তবায়ন
  3. গণতন্ত্র রক্ষা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৭.
কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব 'খাল খনন কর্মসূচী' চালু করেছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. জিয়াউর রহমান
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

খাল খনন কর্মসূচী:
- 'খাল খনন কর্মসূচী' চালু করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
- ওই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সহজ যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশের মডেল তৈরি করা।
- ওই মডেলকে মানুষ ‘জিয়া মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করে।
- ওই কর্মসূচি ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ মডেলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল যাতে গ্রামের মানুষ খাদ্য বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিনিময়ে খাল খননের কাজে অংশগ্রহণ করেছিল।

উৎস: প্রথম আলো।

৭৮৮.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. আট ধরনের
  2. পাঁচ ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. তিন ধরনের
সঠিক উত্তর:
চার ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ধরনের
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত।

এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,

সূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৯.
দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় কে?
  1. বিরোধী দল
  2. সামরিক বাহিনী
  3. চাপ সৃষ্ঠিকারী গোষ্ঠী
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন:

- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- বিরোধী দলসমূহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যূত করতে চায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯০.
শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৫৪
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৫৫
  4. ১৯৪৯
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
ব্যাখ্যা
১৯৫৩
- ৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে শেখ মুজিব দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়।
- এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৯৫৪
- ১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন।
- বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।
- ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়।
- ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫৫
- ৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়।
- ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।

- ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট
৭৯১.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী -
  1. আশালতা সেন
  2. ইলা মিত্র
  3. লীলা নাগ
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
লীলা নাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলা নাগ
ব্যাখ্যা
লীলা নাগ:
- লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
- তিনি একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও আন্দোলনকারী।
- তিনি শিক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।
- কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য (তিনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন) তাঁকে ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নারীশিক্ষা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি 'দীপালি সংঘ' নামে নারীদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- দীপালি সঙ্ঘের সাহায্য নিয়ে তিনি দীপালি স্কুল নামে একটি স্কুল ও অন্য বারোটি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি নারীশিক্ষা মন্দির ও শিক্ষাভবন নামে পরিচিত অন্য দুটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯২৫ সালে শ্রীসঙ্ঘ নামে অভিহিত একটি বিপ্লবী দলের তিনি সদস্য হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৯২.
কার প্রস্তাবনায় ‘All India Muslim League’ গঠিত হয়?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. নবাব সলিমুল্লাহ
  3. খাজা আব্দুল গণি
  4. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নবাব সলিমুল্লাহ:
- ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ১৮৭১ সালের ৭ জুন নবাব সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা এবং পিতামহের নাম যথাক্রমে নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহ ও নওয়াব স্যার খাজা আব্দুল গণি।
- ১৮৯৩ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি নেন।
- ১৯০১ সালে পিতার মৃত্যুর পর জীবিত জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি ঢাকা নওয়াব এস্টেট এর কর্তৃত্ব লাভ করেন।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নওয়াব সলিমুল্লাহর প্রস্তাবনায় ‘All India Muslim League’ গঠিত হয়।
- তিনি এর সহ-সভাপতি এবং গঠনতন্ত্র তৈরি কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
- লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি তাঁর কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।
- সেদিনই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জন্য একজন শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি অকাতরে দান করতেন।
- ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার চৌরঙ্গীর বাসভবনে নওয়াব সলিমুল্লাহর মৃত্যু হয়।

তথসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭৯৩.
বাংলাদেশের কয়টি জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি সংসদীয় আসনের মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে। 
- জেলাগুলো হল রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি। 

উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
৭৯৪.
“রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।” - কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সংজ্ঞাটি প্রদান করেন?
  1. ক) অধ্যাপক সুম্পিটার
  2. খ) অধ্যাপক ফাইনার
  3. গ) অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার
  4. ঘ) অধ্যাপক গেটেল
সঠিক উত্তর:
ক) অধ্যাপক সুম্পিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধ্যাপক সুম্পিটার
ব্যাখ্যা
▪ অধ্যাপক সুম্পিটার রাজনৈতিক দলের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।”
▪ অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার - এর মতানুসারে, “বিভিন্ন মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল রাজনৈতিক দলই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দ্বারা নির্বাচকমন্ডলীর সমর্থন পেতে সচেষ্ট হয়।”
▪ অধ্যাপক গেটেল বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিকভাবে এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।
▪ অধ্যাপক ফাইনার বলেন, “আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৫.
কৃষক প্রজা পার্টি কার নেতৃত্বে গড়ে উঠে? 
  1. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক 
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক 
ব্যাখ্যা

কৃষক-প্রজা পার্টি:
- শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক এর নেতৃত্বে 'কৃষক প্রজা পার্টি' গড়ে উঠেছিল।
- কৃষক প্রজা পার্টি আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি সম্বলিত একটি রাজনৈতিক দল।
- দলটি ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃষক প্রজা পার্টি ছিল নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির ফসল।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মুসলমান নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৯ সালে।
- স্যার আব্দুর রহিম এ সমিতির সভাপতি এবং আরও পাঁচজন সহ-সভাপতি ছিলেন।
- এ.কে ফজলুল হক ছিলেন এ পাঁচজনের মধ্যে প্রথম সহ-সভাপতি।
- ১৯৩০ দশকের মন্দার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বঙ্গের প্রায় সকল জেলায় প্রজা সমিতি গঠিত হয়।
- এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব বাংলায় তার সমর্থকদের নিয়ে প্রজা সমিতি ত্যাগ করলেন এবং ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কৃষক-প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৯৬.
শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক নিচের কোন পদে দায়িত্ব পালন করেন নি?
  1. কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  2. বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
  3. গভর্নর পূর্ব পাকিস্তান
  4. বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক: 
- উপাধি: শেরে বাংলা। 
- পেশা: রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক।
- জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩, সাটুরিয়া, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
- মৃত্যু: ২৭ এপ্রিল ১৯৬২ সালে।
- ১৯০৬: মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (ঢাকা) সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
- ১৯১৩: বঙ্গীয় আইন পরিষদ সদস্য (ঢাকা বিভাগ)।
- ১৯১৬-১৯২১:  সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ সভাপতি। 
- ১৯৩৫: মেয়র কলকাতা।
- ১৯৩৭–১৯৪৩: মুখ্যমন্ত্রী অবিভক্ত বাংলা।
- ১৯৫৪: মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব বাংলা।
- ১৯৫৫: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান।
- ১৯৫৬–১৯৫৮: গভর্নর পূর্ব পাকিস্তান।
- ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যু, তিন নেতার মাজারে সমাহিত।
- তিনি  বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭৯৭.
দেশের প্রথম পূর্ণমেয়াদকালীন জাতীয় সংসদ কোনটি?
  1. ক) প্রথম সংসদ
  2. খ) পঞ্চম সংসদ
  3. গ) ষষ্ঠ সংসদ
  4. ঘ) সপ্তম সংসদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সপ্তম সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সপ্তম সংসদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণমেয়াদকালীন সংসদ হলো সপ্তম জাতীয় সংসদ।
- দেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ হলো ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ (মাত্র ১২ দিন)।
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- চতুর্থ সংসদে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত কোন আসন ছিলো না।
- বর্তমান সংসদ দেশের ১১তম সংসদ।



(তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
৭৯৮.
মাওলানা ভাসানী কবে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন?
  1. ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ই এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।

- এজন্য ১৬ই মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৯৯.
লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক কে?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমউদ্দিন
  4. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ,
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮০০.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সর্বাধিক কোন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে?
  1. শাসন বিভাগে
  2. জাতীয় কল্যাণে
  3. রাজনৈতিক দলে
  4. আইন বিভাগে
সঠিক উত্তর:
শাসন বিভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসন বিভাগে
ব্যাখ্যা

শাসন বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়।

• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইন পরিষদকে প্রভাবিত করে থাকে।
- চাপ প্রয়োগকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দ আইন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের কাছে তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরে এবং তাদের অনুকূলে আইন পাশ করার ব্যবস্থা করে। 
- স্বার্থকামী গোষ্ঠীগুলো মন্ত্রিপরিষদকেও প্রভাবিত করে। 
- এমন কি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শাসন বিভাগের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। 

তথ্যসূত্র:  রাষ্টবিজ্ঞান-৩, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।