বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৮০১৯০০ / ১,২৯৫

৮০১.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলতে কাদের কে বুঝায়?
  1. সরকারি দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. বিরোধী দল
  4. আমলাদের
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিম্নরূপ-

জনমত গঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা দান: গণতন্ত্র জনমত দ্বারা পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা। বক্তৃতা, বিবৃতি, জনসভা এবং নির্বাচনী প্রচারাভিযানের মাধ্যমে দলীয় কর্মীবৃন্দ জনসাধারণের সামনে দলের কর্মসূচি, আদর্শ ও বক্তব্য তুলে ধরে। এতে জনসাধারণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয় এবং সুষ্ঠু জনমত প্রদানে সক্ষম হয়। লোয়েলের মতে, "জনমতকে সবার সামনে উত্থাপন করে গণরায় আদায়ের জন্য উপযুক্ত কর্মসূচি প্রণয়ন করা রাজনৈতিক দলের অন্যতম লক্ষ্য।"

সরকার গঠন: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচি প্রকাশ করে। জনগণ এ থেকে সবচেয়ে কল্যাণকর ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি সম্পন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা ও সমর্থন দান করে। দলীয় ভিত্তিতে জনগণ ভোট প্রদান করে সরকার গঠনে সহায়তা করে। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সরকার গঠনে রাজনৈতিক দল জনগণকে সাহায্য করে। রাজনৈতিক দল সরকার ও জনগণের মধ্যে মিলনের সেতু নির্মাণ করে।

আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ অনেকটাই রাজনৈতিক দলেরই কাজ। কেননা রাজনৈতিক দলই জনমত নির্ণয় করে আবার দলের মাধ্যমেই জনগণ সরকার গঠন, ভাঙন এবং সরকারকে সমর্থন জানাতে পারে। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

⇒  শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন: রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনে সাহায্য করে। সরকার পরিবর্তনের জন্য বিপ্লব বা বিদ্রোহের প্রয়োজন হয় না।

বিরোধী বিকল্প পক্ষ: প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যেন গণবিরোধী কাজে লিপ্ত না হয়, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেদিকে বিরোধী দলগুলো সতর্ক দৃষ্টি রাখে। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে বিরোধী দলই 'বিকল্প সরকার'।

⇒  ভিন্নমুখী মতামত একত্রীকরণ: সাধারণত জনগণ কোন বিষয়ে সহজে একমত হতে পারে না। অধ্যাপক ফাইনারের মতে, "জনগণের মতামত অত্যন্ত ভিন্নমুখী ও বিক্ষিপ্ত।" ভিন্নমুখী ও বিক্ষিপ্ত মতামতকে একমাত্র রাজনৈতিক দলই সংগঠিত করতে পারে। এজন্যই প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সফলতা নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের উপর। তাই রাজনৈতিক দলকে 'স্বার্থ একত্রীকরণ' বলা হয়ে থাকে।

সংসদীয় সরকারের উপযোগী: সংসদীয় সরকার মূলত দলীয় সরকার। দলীয় শৃঙ্খলাই সংসদীয় সরকারকে আইন প্রণয়ন ও শাসন পরিচালনায় দৃঢ় ভূমিকা পালনে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০২.
‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (NAP)’–এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কে ছিলেন?
  1. শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেখ আব্দুল মতিন
সঠিক উত্তর:
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

ন্যাপ:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)  বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।

- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৩.
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাত পর্যন্ত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?
  1. ক) মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান
  2. খ) মেজর জেনারেল মঞ্জুর
  3. গ) মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ
  4. ঘ) মেজর জেনারেল এইচ এম এরশাদ
সঠিক উত্তর:
গ) মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাত পর্যন্ত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ। 

- কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লা যিনি কে এম শফিউল্লাহ নামেও পরিচিত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার।
- তিনি ৩নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং এস ফোর্সের প্রধান হিসেবে হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।
- তিনি ৭ এপ্রিল ১৯৭২ থেকে ২৪ আগস্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবিহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। 

উৎস: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওয়েবসাইট।
৮০৪.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে 'বিকল্প নীতি' উত্থাপন করে কে?
  1. বিরোধী দল
  2. সরকারি কর্মকর্তা
  3. সরকারি দল
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিকল্প নীতি উত্থাপন করে বিরোধী দল।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে, তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৫.
কার প্রচেষ্টায় ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদিত হয়?
  1. এ.কে.ফজলুল হক
  2. আবুল কালাম আজাদ
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. অরবিন্দ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশের উপাধি 'দেশবন্ধু' ।
- সি.আর দাশ নামে সমধিক পরিচিত।
- হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জ্বলন্ত অগ্রদূত ছিলেন।
- তার প্রচেষ্টায় ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮০৬.
নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রথম কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৫ম
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম
  4. ৮ম
সঠিক উত্তর:
৫ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ম
ব্যাখ্যা
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-১৯৯১:
- স্বাধীনতা-উত্তর একমাত্র পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি পরিচালিত হয় একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বতীকালীন সরকারের অধীনে।
- ফলে নির্বাচনী ফলাফলে দলীয় কোন প্রভাব পড়েনি।
- এই নির্বাচন ছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র রক্ষার ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের ফসল।
- নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রথম ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যদিও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন সংবিধানের অংশ ছিল না, কিন্তু সবগুলো রাজনৈতিক দলের সম্মতির ভিত্তিতে সেটি করা হয়েছিল।
- ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষে সুপ্রীমকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন এবং তিন জোটের মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য হতে ১৭ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন।
- এই নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি।
- ১৯৯১ সালের ২০শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে খালেদা জিয়া।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৭.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ ‘না ভোট’ কোন ক্ষেত্রে পুনরায় চালু করা হয়েছে?
  1. সকল আসনে
  2. শুধুমাত্র স্থানীয় নির্বাচনে
  3. একক প্রার্থীর আসনে 
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
সঠিক উত্তর:
একক প্রার্থীর আসনে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক প্রার্থীর আসনে 
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- 'গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫'-এ ‘না ভোট’ বা 'No Vote' অপশনটি একক প্রার্থী বা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে পুনরায় চালু করা হয়েছে।
- প্রার্থী একক হলে, তার প্রাপ্ত ভোট যদি 'না ভোট' অপেক্ষা বেশি হয় তবেই তিনি নির্বাচিত হবেন, অন্যথায় পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

• গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ  নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করাসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
- নভেম্বর ৪, ২০২৫ তারিখে আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে।
- ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

⇒ মূল সংশোধনীসমূহ:
- জোটগত নির্বাচনে প্রতীক: নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হলেও প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। জোটের কমন প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত/বাতিল।
- ‘না ভোট’ পুনরায় চালু: একক প্রার্থীর আসনে ভোটাররা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন, যাতে অবাধ/অপ্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন এড়ানো যায়।
- আদালত কর্তৃক ঘোষিত পলাতক বা ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না।
- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান, কোস্ট গার্ড) কে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছে।
- সমান ভোটের ক্ষেত্রে: লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- নির্বাচনী জামানত: ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 
- আচরণবিধি লঙ্ঘন: সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অপব্যবহার (যেমন ফেক নিউজ/ডিপফেক)-কে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য; প্রার্থীর আয়-সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক; ইভিএম ব্যবহার বাতিল; প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের বিধান (পরবর্তী সংশোধনীতে আরও স্পষ্ট)।

উৎস: i) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 

৮০৮.
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কত সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিলো?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২:
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো। 
- ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। 

⇒ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১(এ) ধারায় বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না, তাহলে যে কোনো ভোটকেন্দ্র বা সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
ii) বিবিসি।
৮০৯.
তিতুমীর কোন আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. ফরায়েজী
  2. ওয়াহাবি 
  3. সিপাহী
  4. সন্ন্যাসী 
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি 
ব্যাখ্যা

ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
আন্দোলনের উদ্দেশ্য -
-  তিতুমীরের পরিচালিত তাহরিক-ই-মুহাম্মদীয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার।
- পরবর্তিতে এটি একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- যা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়।  
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন।
- নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা। 
- ইংরেজ সরকার, জমিদার নীলকরদের ঐক্যবদ্ধ আক্রমণের মুখে তিতুমীর ও তার বাহিনী পরাজিত হয়।
- এ আন্দোলন ব্যর্থ হলেও পরবর্তিকালে স্বাধীনতা আন্দোলনে এই সংগ্রাম প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১০.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে কত সালে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৮১১.
নিম্নের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়?
  1. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  2. এফবিসিসিআই
  3. সুশাসনের জন্যে নাগরিক
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি দমন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

⇒ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকার কাঠামোর অংশ। এগুলো চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১২.
সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. চিত্তরঞ্জন দাস
  4. এ.কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৩.
১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের দশম কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন কে?
  1. ক) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  2. খ) আবদুল মালেক
  3. গ) আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
আওয়ামী লীগের সভাপতিবৃন্দ : 

- আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল (সিআরআই) সূত্রে জানা যায়, দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন। 
 
এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত। 
 
ওই বছর ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। 
 
১৯৭৪ সালে দশম কাউন্সিলে সভাপতি হন এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি। 
এরপর ১৯৭৮ সালে কাউন্সিলে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন। 
 
১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম কাউন্সিলে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
 
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসেন।
- তার আগেই ১৯৮১ সালের ১৪ - ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
 
উৎস: প্রথম আলো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৮১৪.
মওলানা ভাসানীর জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. পাবনা
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী:
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১৮৮০-১৯৭৬) একজন বিখ্যাত  রাজনীতিক।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মওলানা ভাসানী নামে সমধিক পরিচিত।
- তিনি ছিলেন একজন স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তি।
- তাঁর জীবন ছিল গ্রাম ভিত্তিক, মতবাদ উগ্র এবং ঔপনিবেশিক রীতিনীতির প্রতি আস্থাহীন।
- সারা রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রচুর প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন এবং বেশ কিছু সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিলেন; তবে কখনও ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন নি।
- তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক শ্রমিক জনসাধারণ, যাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে গেছেন।
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮১৫.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘বিকল্প সরকার’ শব্দটি কোনকে নির্দেশ করে?
  1. সামরিক সরকার
  2. বিরোধী দল
  3. সাময়িক তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  4. ক্যাবিনেট
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় 'বিকল্প সরকার' বলতে বিরোধী দলকে বোঝানো হয়। 

• বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮১৬.
কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লিখিত পত্রাবলি নিয়ে সংকলিত গ্রন্থ -
  1. ক) চিঠিপত্র:শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) বঙ্গবন্ধুর চিঠি:শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) একাত্তরের চিঠি:শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) ডাকবাক্সের খোঁজে:শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) চিঠিপত্র:শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চিঠিপত্র:শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- কারাগার থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লিখিত ৩৫টি চিঠি নিয়ে সংকলিত গ্রন্থ: 'চিঠিপত্র: শেখ মুজিবুর রহমান'
- বইটির ইংরেজি সংস্করণ: Letters of Sheikh Mujibur Rahman।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার; ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
৮১৭.
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. প্রচারণা মাইক ব্যবহারের সময়কাল দুপুর ২টা - রাত ৮টা
  2. মাইকে শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলে রাখতে হবে
  3. ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫:
- ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংশোধন সাপেক্ষে, নির্বাচন কমিশন ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (পি.ও নং ১৫৫ অফ ১৯৭২)’ এর আর্টিকেল ৯১বি এর আলোকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর একটি খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
- ২৯ জুন, ২০২৫ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮’-এর আলোকে এ খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেখানে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ কেমন হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযোজন করেছে কমিশন।

• মাইকে গণসংযোগের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলে রাখতে হবে। প্রচারণার সময় তিন সপ্তাহ থাকছে। টিভিতে সংলাপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
• যেসব প্রার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা সদস্য হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন বা মনোনীত হয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর সেখান থেকে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।
•  নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনে যে নরমাল শাস্তি ছিল, ছয় মাস কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, এবার জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার প্রস্তাব রয়েছে।
• নির্বাচনি প্রচারণায় অপচনশীল দ্রব্য যেমন- রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিকসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোন উপাদানে তৈরি কোন নির্বাচনি প্রচারপত্র, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। 
• নির্বাচনে প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চালাতে পারবে না। তবে প্রার্থী বা তার এজেন্টের অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করতে হবে।
• প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণায় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ৩টির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবে না।
• মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। 

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। [link]
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

৮১৮.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে কোন উপাদানটি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. ব্যবসায়ী সংগঠন
  3. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ছাত্র সংগঠন
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলির ব্যাপারে রাজনৈতিক দল গুলি নিজ-নিজ দলীয় মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে সেসব সমস্যার সমাধানকল্পে নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করে।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল রাজনৈতিক দল।
- নির্ধারিত নীতি ও কর্মসূচির স্বপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য কাজ।
- প্রতিটি দল সভা-সমিতি, পত্র-পত্রিকা, পুস্তক-পুস্তিকা, রেডিও-টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচির সমর্থনে জনমত গঠনের চেষ্টা করে।
- আধুনিক গণতন্ত্রে প্রতিটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করা।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র সরকারি ক্ষমতা করায়ত্ব করে নিজ নীতি ও আদর্শকে বাস্তবে রূপায়িত করা।
- নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন পেলে সেই উদ্দেশ্যকে সফল করে তোলার সুযোগ উপস্থিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৯.
’ফরায়েজি আন্দোলনের’ সূত্রপাত করেছিলেন কে?
  1. দুদুমিয়া
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. পীর মুহসীনউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা , নবম দশম শ্রেণি।

৮২০.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রকৃতি কীরূপ?
  1. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা
  3. বহুদলীয় ব্যবস্থা
  4. একদলীয় ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা লগ্নেই এ দেশে বহু দলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
- ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় প্রয়োজনে ‘বাকশাল’ নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় যা ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে সংবিধান থেকে ‘বাকশাল’ ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮২১.
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. Banking with the Poor
  2. Voice of the Poor
  3. Grameen and the Poor
  4. Banker to the Poor
সঠিক উত্তর:
Banker to the Poor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Banker to the Poor
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা জীবনের শুরুতে তিনি গ্রামের “মহাজন ফকিরের স্কুল” নামে একটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন।
- মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬তম স্থান অর্জন করেন।
- ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই বিএ ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। স্নাতকোত্তর শেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ব্যুরো অব ইকোনমিক্স-এ গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরে, ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

- ১৯৬৫ সালে ড. ইউনূস ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। - ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

- গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পটি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার 'জোবরা' গ্রামে একটি অ্যাকশন গবেষণা পাইলট প্রকল্প হিসাবে শুরু হয়েছিল।
- ১৯৮৩ সালে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পটি একটি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়।
- তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি এবং গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই Banker to the Poor বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
- পরবর্তীকালে, তিনি ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

সূত্র: ইউনুস সেন্টার ঢাকা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮২২.
রাজনৈতিক দল কীভাবে জনমত গঠন করে?
  1. পেশী শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে
  2. টাকার মাধ্যমে
  3. প্রচারণার মাধ্যমে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
প্রচারণার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রচারণার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল জনমত গঠন করে বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে। যেমন- বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি।

• রাজনৈতিক দলের ভূমিকা:


⇒ নেতৃত্ব তৈরি: 
- রাজনৈতিক দলের যিনি প্রধান তিনিই হলেন দলের নেতা। দলের নেতৃত্ব যেমন জাতীয় পর্যায়ে থাকে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়েও থাকে। আবার আজকে যারা স্থানীয় পর্যায়ের নেতা, আগামীতে তাঁরা যে জাতীয় পর্যায়ের নেতা হতে পারবেন না, তা নয়। এই নেতা তৈরির কাজটি করে রাজনৈতিক দল ও জনগণ।

⇒ সরকার গঠন:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ হচ্ছে সরকার গঠন করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সেই দলই সরকার গঠন করে।

⇒ জনমত গঠন:
- রাজনৈতিক দলের একটি অন্যতম কাজ হচ্ছে তার আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে।

⇒ রাজনৈতিক শিক্ষাদান:
রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করা। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে এবং অন্যান্য দলের কাজের সমালোচনা করে। জনগণ বিভিন্ন দলের মতামত, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অনেক বিষয় জানতে পারে।

⇒ গঠনমূলক বিরোধিতা:
- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।

উৎস:  পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৮২৩.
হিন্দু সমাজের সংস্কারের উদ্দেশ্যে রামমোহন রায় কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
  1. ইয়ং বেঙ্গল
  2. সংস্কার মেলা
  3. তত্ত্ববোধিনী সভা
  4. আত্মীয় সভা
সঠিক উত্তর:
আত্মীয় সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মীয় সভা
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় বাংলার নবজাগরণের স্রৃষ্টা।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।
- বেদান্তসূত্র, বেদান্তসার ও বিভিন্ন উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা সহ নানা কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করেন। 
- হিন্দুধর্ম সংস্কারের জন্য ‘আত্মীয় সভা’ নামে সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তিনি ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বে বিশ্বাস করতেন।
- ১৮২৩ সালে সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- ১৮২২ সালে কোলকাতায় অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮২৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য কোনটি?
  1. ক্ষমতা লাভ
  2. দেশের উন্নয়ন
  3. গোষ্ঠী স্বার্থ সংরক্ষণ
  4. নির্বাচন অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠী স্বার্থ সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠী স্বার্থ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য :
•  দলীয় সংগঠনবিহীন:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়।
- সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য।

• দলীয় কর্মসূচিবিহীন:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
- এটি নির্দলীয় সংগঠন।
- এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

•  নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
-তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। 

• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না।
- বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
- তবে পরোক্ষভাবে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। 

• বেসরকারি সংগঠন:
- চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক সরকারি স্বীকৃতিও সাধারণত থাকে না।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮২৫.
রাষ্ট্র গঠনে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান উপাদান কোনটি?
  1. ক) সরকার
  2. খ) নির্দিষ্ট ভূখন্ড
  3. গ) জনসমষ্টি
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্বভৌমত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র গঠনে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান উপাদান হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। 

- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয়সমূহের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
- যে চারটি উপাদানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র গঠিত, তাদের মধ্যে সার্বভৌমত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযােগ্য উপাদান।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও স্বরূপ বহুলাংশে সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকৃতি ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
- সরকারকে যদি রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক বলে উল্লেখ করা হয় তাহলে সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের প্রাণ।
- সার্বভৌমিকতা বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা কে বোঝায়।
- এই সার্বভৌমিকতার নির্দেশে-ই হলো আইন, যাকে আমরা অমান্য করতে পারবোনা।
- সার্বভৌমিকতা হল রাষ্ট্রের চরম অসীম অবিভাজ্য ও অহস্তান্তরযোগ্য ক্ষমতা।

সূত্র- রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৬.
ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে-
  1. ক্ষমতাসীন দল
  2. বিরোধী দল
  3. সরকারি কর্মকর্তা
  4. সুশীল সমাজ
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজঃ
- সচেতনতা সৃষ্টি ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে সুশীল সমাজ।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে।
- বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় সক্রিয় থাকে এই সুশীল সমাজ।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান- ১. বহুদলীয় গণতন্ত্র, ২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা, ৩. গোপনীয়তা ও ৪. বৈধতা।
- সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি ঐচ্ছিক সংঘ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর।

৮২৭.
বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক দল কোনটি? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
  1. বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি
  2. গণঅধিকার পরিষদ
  3. নাগরিক ঐক্য
  4. গণসংহতি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি
ব্যাখ্যা
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল:
- বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪৯টি।
- সর্বশেষ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি' নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন লাভ করে।

⇒ 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি' দলের প্রতীক ফুলকপি।
- নিবন্ধন নং: ৫৪।
- চেয়ারম্যান: অ্যাড. এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।

অন্যদিকে,
- রাজনৈতিক দল 'গণসংহতি আন্দোলন'-এর নিবন্ধন নং: ৫৩ এবং প্রতীক: মাথাল, নিবন্ধনের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪।
- রাজনৈতিক দল 'গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)'-এর নিবন্ধন নং: ৫১ এবং প্রতীক: ট্রাক, নিবন্ধনের তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪।
- রাজনৈতিক দল 'নাগরিক ঐক্য'-এর নিবন্ধন নং: ৫২ এবং প্রতীক: কেটলি, নিবন্ধনের তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৮.
কোনটি ছাড়া গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অর্থহীন?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. নির্বাচন কমিশন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের প্রহরী:
- গণতন্ত্র বা Democracy শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Demos’ এবং ‘Kratia’ শব্দদ্বয় থেকে উদ্ভত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনগণ এবং Kratia শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা।
- শব্দগত বা উৎপত্তিগতঅর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের শাসন বা ক্ষমতা।
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা রাজনৈতিক দল ছাড়া অর্থহীন
- এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে কাজ করে।

এছাড়াও,
- রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যূসহ সকল বিষয়ে রাজনৈতিক দল সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে থাকে।
- সাধারণ জনগণ  রাজনৈতিক জ্ঞান অর্জন করে এবং রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের লক্ষ্য অর্জিত হয়। 
- গণতন্ত্র আধুনিক বিশ্বব্যস্থায় সর্বাধিক জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। 

উৎস: :পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৯.
নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'পিআর' পদ্ধতির সুবিধা হচ্ছে -
  1. শক্তিশালী একদলীয় শাসন গঠন করে
  2. ছোট দলগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে
  3. নির্বাচনী খরচ কমায়
  4. দ্রুত সরকার গঠনে সাহায্য করে
সঠিক উত্তর:
ছোট দলগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট দলগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে
ব্যাখ্যা
নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'পিআর' পদ্ধতির সুবিধা হচ্ছে ছোট দলগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। 

পিআর নির্বাচন পদ্ধতি:
- আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর হচ্ছে নির্বাচনি ব্যবস্থার এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আসন বণ্টন হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে।
- এ পদ্ধতিতে একটি নির্বাচনে দেওয়া প্রত্যেকটি ভোট কাজে লাগে এবং প্রতিটি ভোট সংসদে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। তাছাড়া একটি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ও হারের ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি ১০% ভোট পায়, তাহলে সংসদে তাদের আসনও হবে প্রায় ১০% হারে।
- আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটের আগে প্রতিটি দল ক্রম ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তার প্রাপ্ত ভোটের হার অনুসারে আসন সংখ্যা পাবে।

⇒ পিআর পদ্ধতির ধরন:
১. মুক্ত তালিকা পদ্ধতি: দলগুলো ভোটের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে আসন পায়।
২. বদ্ধ তালিকা পদ্ধতি: দল ঠিক করে দেয় কে হবেন সংসদ সদস্য।
৩. মিশ্র পদ্ধতি: কিছু আসনে প্রতীকভিত্তিক, কিছু আসনে পিআর ভিত্তিতে নির্বাচন হয়।

⇒ বাংলাদেশসহ অনেক দেশে বর্তমানে প্রচলিত ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (FPTP) পদ্ধতিতে যে দল বেশি আসনে জয় পায়, তারা সরকার গঠন করে, ভোটের মোট শতাংশ নয়।
- বর্তমান বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় ৩০০টি আসনে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো।

উৎস: BBC.
৮৩০.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের কেমন সমালোচনা করে?
  1. স্বাভাবিক
  2. হিংসাত্মক
  3. আক্রমণাত্মক
  4. গঠনমূলক 
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক 
ব্যাখ্যা

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা :
- গঠনমূলক সমালোচনা: 
- অধিকার বাস্তবায়ন: 
- গণতন্ত্র রক্ষা: 
- বিকল্প নীতি উত্থাপন,
- সমস্যা চিহ্নিত করা: 
- জনমত গঠন
- প্রার্থী মনোনয়ন,
- পারস্পরিক সম্পর্ক
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন;
 - রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ;
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩১.
কোন দেশগুলোতে ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  2. ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
  3. চীন, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া
  4. সোমালিয়া, ইরিথ্রিয়া ও নাইজেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
ব্যাখ্যা
ডমিনো তত্ত্ব:
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জন্য 'ডমিনো তত্ত্বটি' প্রযোজ্য ছিল।
- স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকটি পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করেছিল, তার মধ্যে 'ডমিনো তত্ত্ব' অন্যতম।

⇒ ডমিনো তত্ত্বে বলা হয়েছে, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।

⇒ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান এই তত্ত্বের উদ্যোক্তা হলেও তার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম এই অঞ্চলে প্রয়োগ করেন।
- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।
- তিনি এন্টি-কমিউনিস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারকে সহায়তা করেন।
- ডমিনো তত্ত্বটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- ১৯৫০-৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তত্ত্বটি প্রচার করেছিল।

উৎস: History.com
৮৩২.
রাজনৈতিক দলের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন
  2. নির্বাচনি প্রচার
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. ভোটারদের প্রভাবিত করা
সঠিক উত্তর:
ভোটারদের প্রভাবিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোটারদের প্রভাবিত করা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
• সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি।

• ক্ষমতা লাভ:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

• সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- আদর্শের দিক থেকে কোনো দল ধর্মভিত্তিক আবার কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষ হয়।
- অন্যদিকে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায়ও দল ভিন্ন হতে পারে।।

• প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নেতৃত্ব:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে।
- কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের শাখা বিস্তৃত থাকে।
- এছাড়া প্রত্যেক দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি থাকে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা দল পরিচালিত হয়।

• নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৮৩৩.
দেশের আর্থ সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়কে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল কি করে?
  1. জনমত গঠন 
  2. নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. সরকার গঠন 
সঠিক উত্তর:
নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

• নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন-
⇒ দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো, সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই নিজস্ব দলীয় কর্মসূচি ও নীতি নির্ধারণ করে।

রাজনৈতিক দলের অন্যান্য কার্যাবলী
• সমস্যা নির্ধারণ।
• জনমত গঠন।
• প্রার্থী মনোনয়ন।
• সরকার গঠন।
• বিরোধী দলের ভূমিকা পালন।
• জনমতের বাস্তব রূপ প্রদান।
• শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে ক্ষমতা পরিবর্তন।
• সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সংযোগ সাধন।
• জাতীয় ঐক্যবোধ সৃষ্টি।
• স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান।
• সরকারের সমালোচনা।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৪.
নিচের কোন জেলায় জাতীয় সংসদের কেবল একটি আসন রয়েছে?
  1. ক) বরগুনা
  2. খ) মুন্সিগঞ্জ
  3. গ) মেহেরপুর
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।

বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।

জাতীয় সংসদের ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১ এবং ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
৮৩৫.
বাংলাদেশের কোন জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. নড়াইল
  2. ঝালকাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি।
- এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন ৩০০টি।
- ১নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- ৩০০নং আসন হলো বান্দরবান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

৮৩৬.
‘নীল কমিশন’ কত খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়?
  1. ১৮২৮
  2. ১৮৪৯
  3. ১৮৬০
  4. ১৮৭৭
সঠিক উত্তর:
১৮৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬০
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আবদুল লতিফ:
- আবদুল লতিফ যখন সাতক্ষীরায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তখন তিনি সেখানকার কৃষকদের উপর নীলকর সাহেবদের
অত্যাচারের কথা সরকারকে অবহিত করেন এবং সুবিচারের জন্য অনুরোধ জানান।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে নীল কমিশন গঠিত হলে এর সুপারিশ অনুসারে নীলচাষ কৃষকদের ইচ্ছাধীন করা হয়। ফলে বাংলার কৃষকরা নীলকরদের হাত থেকে রেহাই পায়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম  পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৭.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ কবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  2. ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  3. ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  4. ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ নামের এক প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করা হয়েছে।
- ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এর ঘোষণা দেওয়া হয়।
- মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আহ্বায়ক, আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব এবং সামান্তা শারমিনকে মুখপাত্র করে মোট ৫৫ সদস্যের এই জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।   
৮৩৮.
বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণীত হয়-
  1. ক) ১৯৭৪ সালে
  2. খ) ১৯৮৫ সালে
  3. গ) ১৯৯৩ সালে
  4. ঘ) ২০০৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইন জারি করা হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু কার্যকলাপ প্রতিহত করা এবং কিছু গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
আইনটি নিরাপত্তা আইন ১৯৫২, জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ এবং বাংলাদেশ তফসিলী অপরাধ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫০) এর ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৮৩৯.
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে কত দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন?
  1. ৭ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ১৭ দফা
  4. ১৯ দফা
সঠিক উত্তর:
১৯ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ দফা
ব্যাখ্যা

জিয়াউর রহমান:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম (১৯৩৬-১৯৮১) ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
- তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, সেই সাথে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 

⇒ ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠন করেন।
- ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি ৩০০টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। 

⇒ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন। এগুলো হলো:
১. সর্বতোভাবে দেশের স্বাধীনতা, অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
২. শাসনতন্ত্রের চারটি মূলনীতি, অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি সর্বাত্মক বিশ্বাস ও আস্থা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ,সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সমাজতন্ত্র জাতীয় জীবনে সর্বাত্মক প্রতিফলন।
৩. সর্ব উপায়ে নিজেদেরকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসাবে গঠন করা।
৪. প্রশাসনের সর্বস্তরে, উন্নয়ন কার্যক্রমে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৫. সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এর ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়ন এর মাধ্যমে গ্রামীন তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা।
৬. দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে তা নিশ্চিত করা।
৭. দেশে কাপড় এর উৎপাদন বাড়িয়ে সকলের জন্য অন্তত মোটা কাপড় নিশ্চিত করা।
৮. কোন নাগরিক যেন গৃহহীন না থাকে তার যথাসম্ভব গৃহায়ণ ব্যবস্থা করা।
৯. দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।
১০. সকল দেশবাসীর জন্য নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
১১. সমাজে নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং যুবসমাজকে সুসংহত করে জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।
১২. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় উৎসাহ প্রদান দান।
১৩. শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
১৪. সরকারী চাকরিজীবীদের মধ্যে জনসেবা ও দেশ গঠনের মনোবৃত্তি উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করা।
১৫. জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ করা।
১৬. সকল বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং মুসলিম দেশ গুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা।
১৭. প্রশাসন এবং উন্নয়ন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা।
১৮. দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়নীতি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
১৯. ধর্ম, গোত্র ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ণ সংরক্ষণ করা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ওয়েবসাইট।

৮৪০.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো- 
  1. রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার
  2. নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা
  3. রাষ্ট্রীয় স্বার্থ উদ্ধার
  4. সরকারি স্বার্থ উদ্ধার
সঠিক উত্তর:
নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এক প্রকার সুসংবদ্ধ স্বার্থকামী গোষ্ঠী।
- এদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
- সরকারের সকল বিভাগ ও রাজনৈতিক দলের উপর চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।
- তবে শাসন বিভাগে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব সর্বাধিক।
- নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে এরা সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকেও প্রভাবিত করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪১.
রাজা রামমোহন রায় 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন কত সালে?
  1. ১৮২৬ সালে
  2. ১৮২৭ সালে
  3. ১৮২৮ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:

- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রামমোহন রায় উনিশ শতকের একজন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- রামমোহন রায় সংবাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- ১৮২১ সালে
- পরের বছর ফারসি ভাষায় আরেকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- এর নাম ছিল মিরাত উল আখবার।
- তিনি ১৮২৮ সালে 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কোম্পানির শাসকদের প্রাভাবিত করতে থাকেন।
- তার প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪২.
২০২৫ সালে কততম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ৩৬তম
  2. ৩৮তম
  3. ৩৯তম
  4. ৪২তম
সঠিক উত্তর:
৩৮তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৮তম
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন:
- ২০২৫ সালে ৩৮তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এ. এফ. রহমানের উদ্যোগে তিন আবাসিক হলে (মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল) ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় পরে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের 'দ্বিতীয় সংসদ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান কিংবা নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে।

⇒ স্বাধীনতার পর ডাকসুর প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট। 
ii) The Daily Star Bangla.

৮৪৩.
বাংলাদেশের ১৩তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কে?
  1. ক) কে এম নুরুল হুদা
  2. খ) কাজী হাবিবুল আউয়াল
  3. গ) কাজী রকিবুদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী হাবিবুল আউয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী হাবিবুল আউয়াল
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল
- তিনি ১৩ তম নির্বাচন কমিশনার। তিনি নিয়োগ পান, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে। 

অপরদিকে, 
-  কাজী রকিবুদ্দিন আহমদ  ১১ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 
- কে এম নুরুল হুদা ১২ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন  কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনে। 

রেফারেন্সঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
৮৪৪.
রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে মোট ৩টি শর্তের কয়টি শর্ত পূরণ করতে হয়?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ১ নং শর্ত ও বাকি যেকোনো ১টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে।
- আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও BBC.
৮৪৫.
ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে -
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) উপজাতি
  3. গ) রাজনৈতিক নেতা
  4. ঘ) গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
ক) সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
- সুশীল সমাজ হচ্ছে রাজনীতি সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
- সুশীল সমাজ হল একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
 -সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
 -সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৪৬.
কী ধরনের শাসনব্যবস্থায় 'রাজনৈতিক জোট' গড়ে উঠার প্রবণতা দেখা যায়?
  1. বহুদলীয় ব্যবস্থায়
  2. দ্বিদলীয় ব্যবস্থায়
  3. একদলীয় ব্যবস্থায়
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় ব্যবস্থায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় ব্যবস্থায়
ব্যাখ্যা
বহুদলীয় ব্যবস্থা:

- 'রাজনৈতিক জোট' গড়ে উঠার প্রবণতা দেখা যায় বহুদলীয় শাসনব্যবস্থায়।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুইটির বেশি দল রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লড়াইয়ে কার্‍্যকর ভূমিকা পালন করে তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।
- বহু দলীয় ব্যবস্থায় মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা থাকে।
- জনগণ ইচ্ছামত যেকোনো দলকে সমর্থন করে তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, মোজাম্মেল হক।
৮৪৭.
নির্বাচন কমিশনে পরপর কত বছরের তথ্য না দিলে কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হবে?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত হতে হলে প্রথমত, স্বাধীনতার পর থেকে যে কোনো নির্বাচনে ন্যূনতম একটি আসন পাওয়া; দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের যে কোনো একটিতে অংশগ্রহণ করে, অংশগ্রহণ করা আসনের প্রদত্ত মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়া; এবং তৃতীয়ত, ন্যুনতম ১০ জেলা ও ৫০ উপজেলায় কমিটিসহ দলের অফিস থাকতে হবে।
- ২০০৯ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত দলের শর্তে বলা হয়েছে, ন্যুনতম এক-তৃতীয়াংশ জেলা (২১ জেলা) ও ১০০ উপজেলায় অফিস থাকতে হবে।

⇒ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত পরিপালন সম্পর্কে সময়ে সময়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে। নতুন কমিটি গঠন এবং দলীয় অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন সম্পর্কিত তথ্য কমিশনকে জানাবে।
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী, কোনো দল পরপর তিন বছর তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। [link]
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৪৮.
বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন কে?
  1. ক) লর্ড বেন্টিংক 
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায় 
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
•হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন:
- লর্ড ডালহৌসি পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন। 
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহন রায় প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে (১৮৪৩ খ্রিঃ) দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেবতার নামে শিশু হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
কোন ব্যবস্থায় একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচি ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি?
  1. সমাজতান্ত্রিক
  2. রাজতান্ত্রিক
  3. গণতান্ত্রিক
  4. স্বৈরতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচি ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা:
- রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের আবশ্যকীয় একটি প্রতিষ্ঠান।
- রাজনৈতিক দল বিভিন্ন নীতি ও আদর্শ দ্বরা পরিচালিত হয়।
- এ দলগুলো জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং নীতি-নির্ধারণ করে জনগণের কল্যাণের জন্য সরকার পরিচালনা করে থাকে।
- তবে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব ও সুষ্ঠুভাবে প্রশাসন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যাবশ্যক।
- এ ধরনের নির্বাচন কেবল দক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দিয়েই সম্ভব নয়।
- সে জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল ও জনগণের ইচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫০.
‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করা হয় -
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৮ সালে
  3. ১৯২৯ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• রাজনীতিতে শেরে বাংলার অবদান:
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণার পর পূর্ব বাংলার মানুষ যখন চরম হতাশাগ্রস্থ তখন তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- উল্লেখ্য যে নবাব স্যার সলিমুল-াহ ফজলুল হককে বিশ্বস্তু যোগ্য ও শক্তিশালী সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে তিনি বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।

- ১৯১৫ সালে তিনি কৃষক-প্রজা আন্দোলনে যোগদান করেন।
- ১৯১৬ সালে স্বাক্ষরিত লৌক্ষ্ম প্যাক্ট ফজলুল হকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।
- ১৯১৮ সালে তিনি একদিকে মুসলিম লীগের সভাপতি অন্যদিকে নিখিল ভারত কংগ্রেসের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ অলংকৃত করেন।
- এ সময় তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে ঐক্য স্থাপনে প্রচেষ্টা চালান।
- ১৯২৯ সালে তিনি ‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করেন।

- একে ফজলুল হক একজন অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংকট মিমাংসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে শেরে বাংলা ভারতের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে প্রজ্ঞা প্রদীপ্ত সুপারিশ করেছিলেন তার মধ্যে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে ফজলুল হকের অসাধারণ নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীকারের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
- এরই সূত্র ধরে পূর্ব বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে।

সূত্র: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫১.
সম্প্রতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি'র প্রতীক কী? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
  1. ফুলকপি
  2. মাথাল
  3. কেটলি
  4. ট্রাক
সঠিক উত্তর:
ফুলকপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলকপি
ব্যাখ্যা
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: 
- বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪৯টি। [৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
- সর্বশেষ দল: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি
- প্রতীক: ফুলকপি
- নিবন্ধন তারিখ: ০২/০২/২০২৫

উৎস: Bangladesh Election Commission.
৮৫২.
কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে কিন্তু সরকার গঠনে সচেষ্ট নয়?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সাধারণ জনগণ
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

⇒ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৩.
আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুসারে, জোটগত নির্বাচনে প্রার্থীকে কোন প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে?
  1. জোটের কমন প্রতীক
  2. নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রতীক
  3. নিজ দলের প্রতীক
  4. কোনো বিধান নেই
সঠিক উত্তর:
নিজ দলের প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজ দলের প্রতীক
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর গেজেট জারি করেছে সরকার।
- এতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করাসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
- নভেম্বর ৪, ২০২৫ তারিখে আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে।
- ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

⇒ মূল সংশোধনীসমূহ:
- জোটগত নির্বাচনে প্রতীক: নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হলেও প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। জোটের কমন প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত/বাতিল।
- ‘না ভোট’ পুনরায় চালু: একক প্রার্থীর আসনে ভোটাররা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন, যাতে অবাধ/অপ্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন এড়ানো যায়।
- আদালত কর্তৃক ঘোষিত পলাতক বা ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না।
- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান, কোস্ট গার্ড) কে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছে।
- সমান ভোটের ক্ষেত্রে: লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- নির্বাচনী জামানত: ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 
- আচরণবিধি লঙ্ঘন: সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অপব্যবহার (যেমন ফেক নিউজ/ডিপফেক)-কে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য; প্রার্থীর আয়-সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক; ইভিএম ব্যবহার বাতিল; প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের বিধান (পরবর্তী সংশোধনীতে আরও স্পষ্ট)।

উৎস: i) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 

৮৫৪.
কোন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন পদক পান?
  1. মানবাধিকার
  2. নারীর ক্ষমতায়ন
  3. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  4. মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাস
সঠিক উত্তর:
নারীর ক্ষমতায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীর ক্ষমতায়ন
ব্যাখ্যা
◉ নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পদক পান।

প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন:
→ নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
→  গ্লোবাল পার্টনারশিপস ফোরাম-এর পক্ষ থেকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন-উইম্যান-এর পক্ষ থেকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
→  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মালটার প্রেসিডেন্ট ম্যারি লুইস কোলেইরো প্রেকা এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের স্ত্রী বান সুন-তায়েকও ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
→  পুরস্কার গ্রহণের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য,
→  শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে বাংলাদেশ 'পলিসি লিডারশিপ' ক্যাটাগরিতে 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ' পুরস্কার লাভ করে।
 
উৎস: যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ মিশনের ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬।
৮৫৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কত অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ১১৮
  2. খ) ১২২
  3. গ) ১২৫
  4. ঘ) ১১৯
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১৯
ব্যাখ্যা
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই নির্বাচনী সংস্থা থাকে। এই নির্বাচনী সংস্থা স্বাধীন, স্বতন্ত্র অথবা শাসন বিভাগের অধীনও হতে পারে। সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্থা একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংস্থা অন্যদিকে ফ্রান্সের নির্বাচনী সংস্থা শাসন বিভাগের অধীন।

• সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কর্তব্য এবং ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত অনুচ্ছেদ রয়েছে।
অনুচ্ছেদগুলো -
১১৮। নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা
১১৯। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব
১২০। নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ
১২১। প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা
১২২। ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
১২৩। নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়
১২৪। নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
১২৫। নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা
১২৬। নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় পত্র, এস এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৮৫৬.
কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সৈয়দ আমীর আলী ব্যারিস্টার হন?
  1. ইননার টেম্পল
  2. লিঙ্কন্স ইন
  3. মিডল টেম্পল
  4. কেমব্রিজ ইন
সঠিক উত্তর:
লিঙ্কন্স ইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিঙ্কন্স ইন
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আমীর আলী:
→ সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী। 
→ তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন। 
→ তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন। 
→ ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের 'লিঙ্কন্স ইন' থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন। 
→ তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। 
→ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৭.
আওয়ামী ‍মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন না কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. আব্দুস সালাম খান
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সহ সভাপতি : আব্দুস সালাম খান ও আতাউর রহমান খান
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক আওয়ামী লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন না।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৫৮.
‘মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ’ জারি করা হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর
  2. খ) ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর
  3. গ) ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯৫৯ সালের ২৯ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কাদার মির্জাকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- নিজের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভিত্তি সুদৃঢ় ও সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হলাে “মৌলিক গণতন্ত্র" নামে এক নতুন পদ্ধতি ।
- এ পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল ও ১ মে করাচিতে গভর্নরদের সম্মেলনে। সামরিক বিধি জারি করে প্রচলিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বাতিল করেন।
- ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি ‘মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ’ জারি করেন।

- এ অধ্যাদেশবলে তিনি যে স্থানীয় সরকারের পরিকল্পনা করেন তার নামকরণ করা হয় 'Basic Democracy’’ বা ‘মৌলিক গণতন্ত্র।'
- এই কাঠামোর আওতায় স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় পুরো পাকিস্তানে ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রীর বিধান করা হয়। এসব মৌলিক গণতন্ত্রীরা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করতেন।
- মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে’ ৪ স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন গড়ে তােলার কথা বলা হয়। 

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৯.
বাকশাল গঠনের মাধ্যমে কোন শাসন ব্যবস্থা চালু হয়?
  1. বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  2. একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  3. সংসদীয় শাসিত ব্যবস্থা
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
বাকশাল:
- বাকশাল ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।
- বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।

⇒ ১৯৭৪ সালের জুন মাসে জাসদ 'বিপ্লবী গণবাহিনী' নামে একটি সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা' নামে একটি সেল গঠন করে।
- এসকল কারণে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল সমূহের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান বিঘ্নিত হয়।
- ১৯৭৪ সালে সরকার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
- ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়।
- এর সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
- বাকশাল পদ্ধতি পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বাসভবনে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন।
- ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাকশাল পদ্ধতি যেমন কার্যকর হয় নি, তেমনি রহিত করাও হয় নি।
- এরপর বহুদলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে সংবিধান থেকে বাকশাল পদ্ধতি অপসারণ করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬০.
জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব কী?
  1. ক) সংসদ আহ্বান করা
  2. খ) বিল পাস করা
  3. গ) শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  4. ঘ) স্পিকারের সাহায্য করা
সঠিক উত্তর:
গ) শৃঙ্খলা রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শৃঙ্খলা রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

- জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব হলো শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
- সংসদের হুইপকে ‘সচেতক’ বলা হয়।
- সরকারি ও বিরোধী উভয় দলেই একজন করে চীফ হুইপ থাকেন।
- তাঁদের সহায়তা করার জন্য আরও কয়েকজন হুইপ থাকেন।
- সরকারি ও বিরোধী দলের চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের পারস্পরিক সমঝোতা ও সুসম্পর্ক সংসদের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র- জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

৮৬১.
সংসদীয় ব্যবস্থায় ‘আস্থা ভোট’ মূলত কোন বিষয়ের প্রতি সমর্থন পরীক্ষা করে?
  1. জনগণের প্রতি আস্থা যাচাই
  2. রাষ্ট্রপতির প্রতি আস্থা যাচাই
  3. বিরোধীদলের সমর্থন যাচাই
  4. সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন যাচাই
সঠিক উত্তর:
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন যাচাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন যাচাই
ব্যাখ্যা

- সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় "আস্থা ভোট" বলতে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন যাচাই বোঝায়। 

• আস্থা ভোট:
- সংসদীয় ব্যবস্থায় "আস্থা ভোট" (Vote of Confidence) বলতে বোঝায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা সরকারের প্রতি তাদের আস্থা আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট দিয়ে থাকেন।
- যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, তাহলে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকে; কিন্তু যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।

⇒ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা (এমপি) নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না। তাতে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো। 

৮৬২.
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েলের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে ‘স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তি সমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।’ তাদের মতে স্বার্থগোষ্ঠী বা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার প্রকার। এগুলো হলো: স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থগোষ্ঠী, সংগঠনভিত্তিক স্বার্থগোষ্ঠী, অসংগঠিত স্বার্থগোষ্ঠী এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠী।
(সূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী)
৮৬৩.
ভারতে প্রথম মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন কে?
  1. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. সৈয়দ আমির আলি
  3. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. মাওলানা উসমান গণি
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ আমির আলি:
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে
- গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ, ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ সালে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। 
- বাংলা তথা ভারতে তিনিই প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়ার
- প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেন।
- ফলে ১৮৮৫ সালে সরকার মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ কারণে
- তিনি ১৮৮৪ সালে কোলকাতায় মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা এবং করাচিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ 'The Spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'-এ

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮৬৪.
কোন শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে ‘বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন’ শুরু হয়-
  1. ক) মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  2. খ) শরিফ শিক্ষা কমিশন
  3. গ) কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  4. ঘ) হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
খ) শরিফ শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শরিফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
-১৯৫৯ সালের প্রথম দিকে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে সামরিক আইন জারি থাকায় তখন আন্দোলন তেমন জোরদার হতে পারেনি।
-১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
-আন্দোলনের ফলে শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ) এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
৮৬৫.
কার প্রচেষ্টায় হিন্দু বিধবা-বিবাহ আইন পাস হয়?
  1. অমর্ত্য সেন
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১ খ্রি.): 
- বিদ্যাসাগর ছিলেন একাধারে দার্শনিক, শিক্ষানুরাগী, শিক্ষক, লেখক, অনুবাদক, মুদ্রাকর, প্রকাশক, সমাজ সংস্কারক এবং ব্যাকরণবিদ।
-  সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য বিদ্যাসাগর নিজের পুত্রকেও একজন বিধবার সাথে বিয়ে দেন। 
- বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে। 
- ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন।
- বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান।

- পান্ডিত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করে- কোলকাতার সংস্কৃত কলেজ।
- সংস্কৃত কলেজে সহকারী সেক্রেটারি পদে যোগদান করেন-১৮৪৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত করেজের অধ্যক্ষ হন- ১৮৫১ সালে।
- তিনি নিজ অর্থ ব্যয়ে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৬.
কোনো সমস্যা সমাধানে সুশীল সমাজের উদ্যোগকে কী ধরনের কূটনীতি বলা হয়?
  1. ট্র্যাক ওয়ান কূটনীতি
  2. ট্র্যাক টু কূটনীতি
  3. ট্র্যাক থ্রি কূটনীতি
  4. মাল্টি ট্র্যাক কূটনীতি
সঠিক উত্তর:
ট্র্যাক টু কূটনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্র্যাক টু কূটনীতি
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

⇒ ট্র্যাক টু কূটনীতি:
- ট্র্যাক টু কূটনীতি বলতে বোঝায় একদেশের সুশীল সমাজ বা মিডিয়া তথা কোনো সমস্যা সমাধানে প্রভাব ফেলে তাকে।
- ট্র্যাক টু কূটনীতির ধারণাটি ১৯৭০ দশকে উদ্ভূত হয়েছিল।
- ট্র্যাক II কূটনীতিকে ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি ও বলা হয়ে থাকে।
- বিশ্বের যে কোন বিবাদ মীমাংসায় সুশীল সমাজের উদ্যোগকে ট্র্যাক টু কূটনীতি বলা হয়।
- যেমন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের ট্রাক টু ডিপ্লোমেসি গ্রহন।

এছাড়াও,
- কোন সরকারের পক্ষে বা সরকারের জন্য অন্যদেশের নীতি নির্ধারনের উপর দাতা গোষ্ঠির প্রভাবকে ট্র্যাক থ্রী কূটনীতি বলে।
- পাবলিক কূটনীতি: বিদেশী জনসাধারণের সাথে সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকার স্পন্সরকৃত প্রচেষ্টা।
- একইসাথে বিভিন্নমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগকে বিভিন্ন ট্র্যাকে একই সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হয়, তাকে মাল্টি ট্র্যাক কূটনীতি বলে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৮৬৭.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. মতিচুর
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. পদ্মগোখরো
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরো
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- মুসলমান মেয়েদের বন্দিদশা থেকে যিনি মুক্তির ডাক দিলেন, তাঁর নাম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যাকে সবাই বেগম রোকেয়া নামে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
- ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তার সাহিত্যচর্চার বিষয়বস্তু ছিল নারী সমাজকে নিয়ে।
- তিনি সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা-বঞ্চনার করুণ চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন।
- যা উপলব্ধি করেছেন, তা-ই তিনি তাঁর লেখার মধ্যে তুলে ধরেছেন।
- সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন নারীদের করুণ দশা, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা।
- তাঁর 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'মতিচুর', 'সুলতানার স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে সে চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৬৮.
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্ম কোন জেলায়?
  1. কুমিল্লা
  2. রাজশাহী
  3. চট্টগ্রাম
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- তিনি বঙ্গবীর নামেও পরিচিত।
- ১৯১৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- যদিও তাদের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ থানায় যা এখন ওসমানী নগর।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মা (মিয়ানমার) রণাঙ্গনে ব্রিটিশ বাহিনীর একটি ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন।
- ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন ১৯৪৭ সালে।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনী থেকে অবসরগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে তিনি যুগপৎ সংসদ সদস্য পদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ত্যাগ করেন।
- ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জাতীয় জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ওসমানী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) The Daily Star Bangla.
৮৬৯.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক
  2. খ) মওলানা আবুল কালাম আজাদ
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর:
গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
- শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭০.
নিচের কোনটি সুশীল সমাজের মৌলিক উপাদান?
  1. গোপনীয়তা
  2. একদলীয় গণতন্ত্র
  3. মত প্রকাশের পরাধীনতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গোপনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপনীয়তা
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।

সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উৎস: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, যুগান্তর।
৮৭১.
নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অবদান কোনটি?
  1. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা
  2. মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি প্রতিষ্ঠা
  3. নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
নবাব সলিমুল্লাহ:
- ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ১৮৭১ সালের ৭ জুন নবাব সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা এবং পিতামহের নাম যথাক্রমে নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহ ও নওয়াব স্যার খাজা আব্দুল গণি।
- ১৮৯৩ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি নেন।
- ১৯০১ সালে পিতার মৃত্যুর পর জীবিত জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি ঢাকা নওয়াব এস্টেট এর কর্তৃত্ব লাভ করেন।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নওয়াব সলিমুল্লাহর প্রস্তাবনায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়।
- তিনি এর সহ-সভাপতি এবং গঠনতন্ত্র তৈরি কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
- লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি তাঁর কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।
- সেদিনই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জন্য একজন শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি অকাতরে দান করতেন।
- ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার চৌরঙ্গীর বাসভবনে নওয়াব সলিমুল্লাহর মৃত্যু হয়।

তথসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮৭২.
সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করে কোনটি?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. এলিট শ্রেণি
  3. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. সচিব
সঠিক উত্তর:
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৩.
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ জরিমাণা কত?
  1. ৫০ হাজার টাকা
  2. ৮০ হাজার টাকা
  3. ১ লক্ষ টাকা
  4. ১.৫ লক্ষ টাকা
সঠিক উত্তর:
১.৫ লক্ষ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.৫ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫:
- ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংশোধন সাপেক্ষে, নির্বাচন কমিশন ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (পি.ও নং ১৫৫ অফ ১৯৭২)’ এর আর্টিকেল ৯১বি এর আলোকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর একটি খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
- ২৯ জুন, ২০২৫ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮’-এর আলোকে এ খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেখানে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ কেমন হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযোজন করেছে কমিশন।

• মাইকে গণসংযোগের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলে রাখতে হবে। প্রচারণার সময় তিন সপ্তাহ থাকছে। টিভিতে সংলাপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
• যেসব প্রার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা সদস্য হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন বা মনোনীত হয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর সেখান থেকে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।
•  নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনে যে নরমাল শাস্তি ছিল, ছয় মাস কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, এবার জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার প্রস্তাব রয়েছে।
• নির্বাচনি প্রচারণায় অপচনশীল দ্রব্য যেমন- রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিকসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোন উপাদানে তৈরি কোন নির্বাচনি প্রচারপত্র, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। 
• নির্বাচনে প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চালাতে পারবে না। তবে প্রার্থী বা তার এজেন্টের অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করতে হবে।
• প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণায় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ৩টির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবে না।
• মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। 

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

৮৭৪.
মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত কে?
  1. আয়েশা রহমান
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত।

বেগম রোকেয়া:
- ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর পিতার নাম জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ বাহাতননেসা সাবেরা চৌধুরী।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
- বিবাহিত জীবনে তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জ্ঞান চর্চায় উৎসাহ লাভ করেছিলেন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময় নারী শিক্ষা আর সমাজসেবায় ব্যয় করেন।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- মুসলমান নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার মনে নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিল তীব্র বিদ্রোহের সুর।
- তিনি তাঁর কর্মের মধ্যে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী নারী কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৫.
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র টিকে রাখার জন্যে প্রয়োজন-
  1. সুশীল সমাজ
  2. শিক্ষক সমাজ
  3. চাপসৃষ্টিকারী দল
  4. বিরোধী দল
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়।
- একটি আদর্শ বিরোধী দল কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে না।
- বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মাফিক সরকারকে পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে।

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

• বিকল্প নীতি উত্থাপনঃ
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা:
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
- এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

• জনমত গঠন:
- রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহৃিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
- বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৬.
সতীদাহ প্রথা প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের রচিত পুস্তক হলো-
  1. দোলন চাঁপা
  2. পথে হলো দেখা
  3. পথের পাঁচালী
  4. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
সঠিক উত্তর:
প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

সতীদাহ প্রথার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থ:
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ
রচনা করেন।
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
২. গোস্বামীর সহিত বিচার।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-
• বেদান্তগ্রন্থ,
• বেদান্তসার,
• ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
• গোস্বামীর সহিত বিচার,
• সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
• গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৭৭.
উপমহাদেশের প্রথম নোবেল বিজয়ী কে?
  1. আব্দুস সালাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অমর্ত্য সেন
  4. অভিজিত ব্যানার্জী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন বাঙালি কবি , ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার এবং চিত্রশিল্পী।
- তিনি  বাংলা সাহিত্যে নতুন গদ্য ও পদ্যের রূপ এবং কথ্য ভাষার ব্যবহার প্রবর্তন করেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত প্রথম উপমহাদেশীয় এবং অ-ইউরোপীয়। 
- ১৯১৫ সালে ঠাকুরকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করা হয়, কিন্তু ১৯১৯ সালে অমৃতসর (জালিয়ানওয়ালাবাগ) গণহত্যার প্রতিবাদে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

• উপমহাদেশীয় নোবেল বিজয়ী:
- সাহিত্য (১৯১৩) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- পদার্থ (১৯৩০) – স্যার চন্দ্র শেখর ভেঙ্কট রমন (সিভি রমন)। 
- পদার্থ (১৯৭৯) – আব্দুস সালাম।
- পদার্থ (১৯৮৩) - সুব্রামানিয়াম চন্দ্রশেখর ।
- রসায়ন (২০০৯) – ভি. রামকৃষ্ণ ।
- চিকিৎসা (১৯৬৮) – এইচ জি খোরানা। 
- অর্থনীতি (১৯৯৮) – অমর্ত্য সেন। 
- অর্থনীতি (২০১৯) – অভিজিত ব্যানার্জী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮৭৮.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সমজাতীয় মনোভাব
  2. সরকারি নীতিকে প্রভাবিত না করা
  3. দলীয় সংগঠনবিহীন
  4. সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতিকে প্রভাবিত না করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতিকে প্রভাবিত না করা
ব্যাখ্যা

→ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় সরকারি নীতিকে প্রভাবিত না করা।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন,
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
• সমজাতীয় মনোভাব,
• বেসরকারি সংগঠন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৯.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী'- এই মতবাদ প্রচার করেন কে?
  1. তিতুমীর
  2. দুদুমিয়া
  3. ফকির মজনু শাহ
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
সঠিক উত্তর:
দুদুমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদুমিয়া
ব্যাখ্যা
জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী এই মতবাদ প্রচার করেন দুদুমিয়া।

দুদু মিয়া:
- দুদু মিয়া হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র।
- তাঁর আসল নাম মুহসীনউদ্দীন, ‘দুদু মিয়া’ ছিল তাঁর ডাক নাম।
- ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলন এর নেতৃত্ব লাভ করেন।
- দুদু মিয়ার নেতৃত্বেই ফরায়েজি আন্দোলন অনেক বেশি শক্তিশালী রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনের চরিত্র লাভ করে।

⇒ তিনি উপলব্ধি করেন যে, সমাজের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং দরিদ্রদেরকে শোষণ ও নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।
- দুদু মিয়া মনে করতেন, বিশ্বের মালিক ও প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ্। সুতরাং ভূসম্পত্তিসহ সকল প্রকার পার্থিব সম্পত্তি ও সম্পদের মালিকও আল্লাহ্। তাই কর বা খাজনা যদি দিতে হয়, তবে তা আল্লাহ্ পথে দিতে হবে, কোন ব্যক্তিকে নয়। তিনি ঘোষণা করেন ‘জমির মালিকানা কৃষকের’।
- সে সময়কার জমিদারেরা রায়তদের ওপর যে সমস্ত খাজনা ও কর আরোপ করেছিল, দুদু মিয়া সেগুলোকে বেআইনি ও নীতি-বিরুদ্ধ বলে ঘোষণা দেন।
- নিপীড়িত রায়ত ও চাষীদেরকে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য দুদু মিয়া বাংলার পুরনো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেন।

উল্লেখ্য,
- দুদু মিয়াকে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব এর পর সরকার বন্দি করে।
- ১৮৬১ সালে মুক্তির পূর্বপর্যন্ত কলকাতার নিকটবর্তী আলীপুর জেলে তাঁকে আটক রাখা হয়।
- ১৮৬২ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮০.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদে মোট কয়টি আসনে জয়লাভ করেছিলেন?
  1. ক) ২৯০ টি
  2. খ) ২৯৫ টি
  3. গ) ২৯৮ টি
  4. ঘ) ৩০০ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৯৮ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৯৮ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ৩১০টি আসনের মধ্যে ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট ২৯৮টি আসনে জয়লাভ করেছিলেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৮১.
'অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল' কি ধরনের সংস্থা?
  1. ক) অর্থনীতি সম্পর্কিত
  2. খ) সাহিত্য সম্পর্কিত
  3. গ) আইন সম্পর্কিত
  4. ঘ) মানবাধিকার সম্পর্কিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানবাধিকার সম্পর্কিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানবাধিকার সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (ইংরেজি: Amnesty International) একটি মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার বিষয়ের উত্তরণ ও মর্যাদা রক্ষায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত সার্বজনীন মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে সংস্থাটি একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে স্থাপিত হয়। এর সদর দপ্তর লন্ডনে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠাতা: পিটার বেনেনসন। সংস্থাটিকে ১৯৭৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পুরস্কার দেওয়া হয়।
৮৮২.
বিকল্প নীতি উত্থাপন করে -
  1. সরকারি দল
  2. আমলা
  3. বিরোধী দল
  4. সামরিক বাহিনী
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিকল্প নীতি উত্থাপন করে বিরোধী দল।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে, তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৩.
নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সর্বপ্রথম কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়? 
  1. তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  2. পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  3. চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  4. ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা

• নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থা: 
- ১৯৯১ সালে নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থায় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা সূচিত হয়।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের কৃতিত্ব অর্জন করে।
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন  করা হয়। 

উল্লেখ্য, 
• তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা: 
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আমরা যথাক্রমে দুই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও লতিফুর রহমান এবং ২০০৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন হয়।
- সাংবিধানিক অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে সপ্তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে  আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং জাতীয় পার্টি ও জাসদ (রব) এর সমর্থন লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করে।
- আইন অনুযায়ী  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে একটি স্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
- এ আইন অনুসারে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া বা মেয়াদ অতিক্রমের ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার (১ জন প্রধান উপদেষ্টা ও সর্বোচ্চ ১০ জন অন্যান্য উপদেষ্টা) নিযুক্তির বিধান করা হয়। 
- নিয়োগপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্ব সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনা করা।
- বিধান অনুসারে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল থাকবে। 
- ২০১১ সালে  তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন,এইচএসএসএল, উন্মুুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৪.
জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়বার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে?
  1. ক) ১ বার
  2. খ) ২ বার
  3. গ) ৩ বার
  4. ঘ) ৪ বার
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বার
ব্যাখ্যা
• জাতীয় পার্টি:
- তৎকালীন সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
- মূলত সামরিক ক্ষমতার বেসামরিকীকরণের অংশ হিসেবে তিনি দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি দুই বার (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ দু’টি নির্বাচনই বর্জন করে।
- ১৯৯০ সালে অন্যান্য রাজনৈতিকগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনে জাতীয় পার্টি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
- জাতীয় পার্টির নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ স্বৈরাচার হিসেবে আখ্যায়িত হন।
- ২০০০ সালে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে জাতীয় পার্টি তিনটি অংশে ভাগ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৮৮৫.
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন -
  1. ক) এম. মনসুর আলী
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. ঘ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ 
▪ বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
▪ সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন।
▪ বাকশালের চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম. মনসুর আলী
▪ এছাড়া জাতীয় কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় মহিলা লীগ, জাতীয় যুবলীগ ও জাতীয় ছাত্রলীগ নামে দলের পাঁচটি অঙ্গ সংগঠনকে মনোনয়ন দান করা হয়।
▪ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগের অধিকারী ছিলেন।
▪ উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বশেষ স্তর দেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে গণমুখী করার লক্ষ্যে ঢেলে সাজানোই ছিল বাকশাল পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
▪ বাকশাল ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮৮৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ
  2. দলীয় সংগঠন নেই
  3. গোষ্ঠীর স্বার্থ বা দাবি আদায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়।
- সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৭.
কার উদ্যোগে 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি:
- মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি একটি সামাজিক সংগঠন।
- ১৮৬৩ সালে নওয়াব আবদুল লতিফ কর্তৃক কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত।
- সোসাইটির সেক্রেটারি আবদুল লতিফের কলকাতার ১৬নং তালতলার বাসভবনে সোসাইটির সদর দপ্তর ছিল।
- সোসাইটির কমিটির মোট ১২ জন সদস্য ছিলেন। বাংলার ছোটলাটকে সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছিল।
- সমগ্র ভারতবর্ষের পাঁচ শ’রও বেশি মুসলমান সোসাইটির সাধারণ সদস্যভুক্ত ছিল।
- আবদুল লতিফের ভাষায় ‘মুসলমানদের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং সামাজিক আচরণ ও আদান-প্রদানে শিক্ষিত হিন্দু ও ইংরেজদের সমকক্ষ করে তোলাই ছিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮৮৮.
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে কত সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯৮১ সালে 
  2. ১৯৮৬ সালে 
  3. ১৯৯১ সালে 
  4. ১৯৯৬ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে 
ব্যাখ্যা

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-১৯৯১:
- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যদিও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন সংবিধানের অংশ ছিল না, কিন্তু সবগুলো রাজনৈতিক দলের সম্মতির ভিত্তিতে সেটি করা হয়েছিল।
- ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষে সুপ্রীমকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন এবং তিন জোটের মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য হতে ১৭ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন।
- এই নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি। 
- ১৯৯১ সালের ২০শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে খালেদা জিয়া।

এছাড়াও,
- স্বাধীনতা-উত্তর একমাত্র পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি পরিচালিত হয় একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বতীকালীন সরকারের অধীনে। ফলে নির্বাচনী ফলাফলে দলীয় কোন প্রভাব পড়েনি।
- এই নির্বাচন ছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র রক্ষার ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের ফসল।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৯.
রাজা রামমোহন রায় কোন শতকের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন?
  1. সতেরো শতক
  2. ষোল শতক
  3. উনিশ শতক
  4. বিশ শতক
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। 
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী রামমোহন, বিশেষ করে আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।

- তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী', ‘মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।
 
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে বলা যায়,
রাজা রামমোহন রায় - উনিশ শতকের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন।

------------------------
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম - গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান । 
- সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে 'গোস্বামীর সহিত বিচার' ও 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯০.
কত সালে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোট চালু করা হয়?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৬ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

‘না’ ভোট:
- ২০০৮ সালে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোট চালু করা হয়।

⇒ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে 'না' ভোট দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল।
- নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সেবার সারা দেশে না-ভোট পড়েছিল মোট ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯২৪টি, যা মোট ভোটারের শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ।
- তবে সেবার কোনো আসনেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার 'না' ভোট দেয়নি।
- আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে 'না' ভোটের বিধান বাতিল করেছিল।

উৎস: i) The Daily Star Bangla.
ii) বাংলাদেশ নির্বান কমিশন ওয়েবসাইট।

৮৯১.
'গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫'-প্রণয়নের জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার উৎস হলো সংবিধানের -
  1. অনুচ্ছেদ ১২(২)
  2. অনুচ্ছেদ ৯৩(১)
  3. অনুচ্ছেদ ৫০(১)
  4. অনুচ্ছেদ ১০১(৩)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৩(১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৯৩(১)
ব্যাখ্যা

গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে 'গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ। এটি অধ্যাদেশ নম্বর- ৬৭। 
- গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫, সংবিধানের ৯৩(১) নং অনুচ্ছেদের অধীনে জারি করা হয়েছে।

⇒ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে এটি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে, তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেন। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশনে না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, যা সংসদের আইনের মতোই কার্যকর। এই অধ্যাদেশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে পেশ করা হলে, সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে তা আইনে পরিণত হয় এবং অনুমোদিত না হলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার (সাধারণত ৩০ দিন) পর এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

এছাড়া,
- ব্যালট বাক্স বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবরাহকৃত ব্যালট বাক্স ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহার করতে হবে।
- তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সরবরাহকৃত একই ব্যালট বাক্স গণভোটের ব্যালট বাক্স হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারবে।
- রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট বাক্স সরবরাহ করবেন।

উৎস: গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫। 

৮৯২.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের প্রধান ভূমিকা কী?
  1. সরকারের সকল নীতির বিরোধিতা করা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  3. শুধু হরতাল ও বিক্ষোভ করা
  4. শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করা
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা। 

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা: 

- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে। নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়। একটি আদর্শ বিরোধী দল কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে না। বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মাফিক সরকারকে পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে।  

- গঠনমূলক সমালোচনা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

- অধিকার বাস্তবায়ন: জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

- গণতন্ত্র রক্ষা: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই”।

- বিকল্প নীতি উত্থাপন: বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা। এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

- সমস্যা চিহ্নিত করা: রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯৩.
বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ কবে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ২০২০ সালে
  2. ২০২১ সালে
  3. ২০২২ সালে
  4. ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ:
- গণঅধিকার পরিষদ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল।
- ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর এই দলটি আত্মপ্রকাশ করে।
- ড. রেজা কিবরিয়া এর আহ্বায়ক এবং নুরুল হক নূর এই দলটির সদস্য সচিব।
- নুরুল হক নূর কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে খ্যাতি পান। পরে তিনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
BBC বাংলা। 
৮৯৪.
রাজনৈতিক দল জনসাধারণের মধ্যে কী প্রস্তুত করে?
  1. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
  2. আইনি কাঠামো
  3. মতৈক্যের ভিত্তি
  4. অর্থনৈতিক নীতি
সঠিক উত্তর:
মতৈক্যের ভিত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতৈক্যের ভিত্তি
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল: 
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সাথে জনসাধারণের সংযোগ রক্ষা করে।
- সরকারি নীতির স্বপক্ষে ও বিপক্ষে প্রচারকার্য চালিয়ে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ।
- রাজনৈতিক দল জনসাধারণের মধ্যে মতৈক্যের ভিত্তি প্রস্তুত করে।
- জনসাধারণের বৃহত্তর আস্থা ছাড়া কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব নয়।
- রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের বোধ সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দলের নানাবিধ কার্যক্রম দ্বারা জাতি, বর্ণ কিংবা ধর্মগত সংকীর্ণতা দূর হয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীর মধ্যে স্বদেশ প্রেম জাগ্রত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯৫.
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ কত সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
- ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ওই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 
- উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে যথাক্রমে প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও লতিফুর রহমান এবং ২০০৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেখা যায়।
- ১৯৯০ সালে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কার্যকাল, পদ্ধতি ও সাংবিধানিকতার বিচারে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ না হলেও বাস্তবে সেটিই ছিল প্রথম নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তিভূমি ও পথনির্দেশক।

উৎস: প্রথম আলো।

৮৯৬.
'ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' কবে পালিত হয়?
  1. ৪ নভেম্বর
  2. ৫ নভেম্বর
  3. ৬ নভেম্বর
  4. ৭ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
৭ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস:
- 'ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' ৭ নভেম্বর পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন।
- নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করে করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন খালেদ। 
- প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান।
- ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- সিপাহি-জনতার মিলিত সেই বিপ্লবে বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান।
- পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। 

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
৮৯৭.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কি?
  1. ক) যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যাবলী সম্পর্কে একমত পোষণ করে
  2. খ) যারা সরকারের নীতি নির্ধারণ করে
  3. গ) যারা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে
  4. ঘ) যারা রাজনৈতিক একক হিসেবে কাজ করে
সঠিক উত্তর:
গ) যারা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যারা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
 - চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলেও অভিহিত করেন।

• অধ্যাপক মাইনর ওয়েনারের মতে, “চাপ সৃষ্টিকারী বা স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলতে এমন এক গোষ্ঠীকে বুঝায় যা স্বেচ্ছামূলক ভাবে সংগঠিত, যা সরকারি কাঠামোর বাইরে অবস্থান করে, সরকারি নীতিমালা গ্রহণ, পরিচালনা ও নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট থাকে।”

• আলফ্রেড গ্রজিয়ার মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে, এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী; যা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।”

 • চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ তাদের পছন্দের দল বা ব্যক্তিকে অর্থ ও যানবাহন দিয়ে, প্রচারকাজে সাহায্য করে। তাদের পছন্দনীয় দল বা ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে আইন প্রণয়ন ও শাসন কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে থাকে।
- প্রয়োজনবোধে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী মিটিং, মিছিল ও শোভাযাত্রার সাহায্যে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে থাকে ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৮.
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. জনমত গঠন
  4. সরকার গঠন
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি বহুমুখী।

• অন্যান্য নানাবিধ কার্যাবলি-
- রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব সংরক্ষণ।
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- রাজনৈতিক নিয়োগ।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।
- সমস্যা নির্বাচন ও সমস্যা সমাধান।
- জনমত গঠন ও প্রার্থী মনোনয়ন ইতাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৮৯৯.
সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় কত বার?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. ৪ বার
সঠিক উত্তর:
৩ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বার
ব্যাখ্যা
সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- প্রত্যক্ষ বা সরাসরি ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিনটি।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
- বাকি দুজন হলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- এই তিনজন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

⇒ ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- তবে এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।
৯০০.
পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদে আওয়ামী লীগের সদস্য সংখ্যা কত ছিল? 
  1. ৮০ জন
  2. ৪০ জন 
  3. ১৬ জন 
  4. ১২ জন
সঠিক উত্তর:
১২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ জন
ব্যাখ্যা
-  গভর্নর জেনারেল গােলাম মোহাম্মদ ১৯৫৫ সালে এক অধ্যাদেশ বলে পাকিস্তানের দ্বিতীয়   গণপরিষদ গঠন করেন। 
- দ্বিতীয় গণপরিষদ মােট ৮০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। 
   পূর্ব পাকিস্তান -  ৪০ জন 
   পশ্চিম পাকিস্তান- ৪০ জন
- পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদে আওয়ামী লীগের সদস্য সংখ্যা ছিল - ১২ জন 
- যুক্তফ্রন্ট - ১৬ জন
- কংগ্রেস - ৪ জন 

 তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক