বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৬০১৭০০ / ১,২৯৫

৬০১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম বৈশিষ্ট্যের একটি-
  1. সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া
  2. দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন
  3. সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ
  4. সরকারি নীতিকে নিজেদের স্বার্থে প্রভাবিত করা
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতিকে নিজেদের স্বার্থে প্রভাবিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতিকে নিজেদের স্বার্থে প্রভাবিত করা
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য :
•  দলীয় সংগঠনবিহীন:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়।
- সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য।

• দলীয় কর্মসূচিবিহীন:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
- এটি নির্দলীয় সংগঠন।
- এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

•  নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
-তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। 

• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না।
- বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
- তবে পরোক্ষভাবে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। 

• বেসরকারি সংগঠন:
- চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক সরকারি স্বীকৃতিও সাধারণত থাকে না।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬০২.
'জুলাই জাতীয় সনদ' স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কয়টি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সনদে সই করেন?
  1. ২৩টি
  2. ২৪টি
  3. ২৫টি
  4. ২৬টি
সঠিক উত্তর:
২৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪টি
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ:
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
- এই সনদ বাস্তবায়নে মোট সাত দফা অঙ্গীকার করা হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়েছেন।

⇒ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ২৪টি রাজনৈতিক দলের ৪৮ জন প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সনদে সই করেন।
- গণফোরাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও সই করেনি সনদে। 
- এরপর সই করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কমিশনের সদস্যরা। 
- সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে প্রণীত ৪০ পৃষ্ঠার এই সনদের তিনটি ভাগের মধ্যে প্রথম ভাগে পটভূমি, দ্বিতীয় ভাগে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও তৃতীয় ভাগে সনদ বাস্তবায়নের সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে। এই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি ৩৭টি বিষয়কে ‘আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঐকমত্য কমিশন। জুলাই সনদের পটভূমি ব্যাখ্যা করে সংস্কারযজ্ঞ নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমসহ সংস্কারের ৮৪ দফা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো কী অঙ্গীকার করছে, তা উল্লেখ করার পর স্বাক্ষরের জায়গা রাখা হয়েছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) The Daily Star Bangla.

৬০৩.
গণতান্ত্রিক শাসনে ‘বিকল্প সরকার’ বলতে সাধারণত কোনটিকে বোঝায়?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় 'বিকল্প সরকার' বলতে বিরোধী দলকে বোঝানো হয়। 

• বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬০৪.
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার গঠন করতে কী প্রয়োজন?
  1. নির্বাচনের আগে জনমত সংগ্রহ
  2. সেনা শক্তির সমর্থন
  3. বিচার বিভাগের অনুমোদন
  4. রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক দল:
- গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। 
- গণতন্ত্রের সফলতার জন্য রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।
- কেননা রাজনৈতিক দলই জনগণের মতামতকে সুসংগঠিত করে এবং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়
- রাজনৈতিক দল এর সদস্য ও নেতাদেরকে গণতান্ত্রিক আচার-আচরণে অভ্যস্ত হতে শেখায়।
- জনগণের স্বার্থবিরোধী সরকারকে অপসারণ করে রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে।
- এমন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন পৃথিবী বিভিন্ন দেশে দেখা যায়।
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর ক্ষমতার পরিবর্তন হয়।
- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার গঠন করা হয়। রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া এ নির্বাচন সম্ভব নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০৫.
‘কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি’ গঠিত হয় কখন?
  1. ক) ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে
  2. খ) ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
  3. গ) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৫ সালের ২রা জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিপক্ষে একক প্রার্থী দাড় করানোর উদ্দেশ্যে তৎকালীন বিরোধীদলগুলো কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি (কপ) গঠন করে।
- কপে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- আওয়ামী লীগ
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)
- কাউন্সিল মুসলিম লীগ
- নেজামে ইসলাম প্রভৃতি।
- এই জোট থেকে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পদে ‘কপ’ এর প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ কে প্রার্থী করা হয়।
- কিন্তু মৌলিক গণতন্ত্রীদের সমর্থন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের কারসাজিতে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সহজেই জয় লাভ করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬০৬.
বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ১৯দফা কর্মসূচী প্রণয়ন করেছিলেন?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

জিয়াউর রহমান:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, সেই সাথে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- তিনি ছিলেন বীর উত্তম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
- জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
⇒ ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠন করেন।
- ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি ৩০০টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন। 
-  তিনি ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ওয়েবসাইট।

৬০৭.
নিচের কোনটি সরকার কাঠামোর অংশ নয়?
  1. ক) হাইকোর্ট বিভাগ
  2. খ) সামরিক বাহিনী
  3. গ) আইনসভা
  4. ঘ) সিভিল সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিভিল সোসাইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিভিল সোসাইটি
ব্যাখ্যা
সিভিল সোসাইটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার কাঠামোর অংশ নয়। সিভিল সোসাইটি হলো বেসরকারি স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী।
এই গোষ্ঠী সরকারি কাঠামোর বাহিরে অবস্থান করে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতি গ্রহণ, পরিচালনা ও নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে।
অন্যদিকে সামরিক বাহিনী, হাইকোর্ট এবং আইনসভা সরকার কাঠামোর অংশ।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৬০৮.
কাকে 'ক্যাবিনেট তোরণের স্তম্ভ' বলা হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
'ক্যাবিনেট তোরণের স্তম্ভ' বলা হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রী:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মধ্যমনি হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি কেবল মন্ত্রীসভার প্রধান নন; তার উপরই নির্ভর করবে সংসদের মেয়াদ।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কার্যত সংসদ ভেঙে যায়।
- প্রধানমন্ত্রীই অন্যান্য মন্ত্রী নির্বাচন করেন।
- মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা বিচার করে তিনি মন্ত্রীদের কার্যত পদত্যাগে বাধ্য করেন।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির তথা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছে।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী একাধারে সরকার প্রধান, জাতীয় সংসদের নেতা এবং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
- তার নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হয়।
- তিনি দেশ পরিচালনায় মন্ত্রীপরিষদকে নেতৃত্ব দেন।
- এছাড়াও মন্ত্রীসভার অধিবেশন আহ্বান, কার্যসূচী নির্ধারন, অধিবেশন সভা পরিচালনা, মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন, মন্ত্রীসভার কাজ তত্ত্বাবধান প্রভৃতি দায়িত্ব মূলত প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যস্ত।
- এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে 'ক্যাবিনেট তোরণের স্তম্ভ' (Keystone of the Cabinet arch) বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৯.
Which of the following is not one of the three leaders buried at the Tin Netar Mazar?
  1. A.K.Fazlul Huq
  2. Huseyn Shaheed Suhrawardy
  3. Khwaja Nazimuddin
  4. Abdul Hamid Khan Bhashani
সঠিক উত্তর:
Abdul Hamid Khan Bhashani
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Abdul Hamid Khan Bhashani
ব্যাখ্যা

⇒ 'তিন নেতার মাজার'-এর সাথে সংশ্লিষত ব্যক্তি নয় আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

তিন নেতার মাজার:
- রাজধানী ঢাকার দোয়েল চত্বরের কাছে অবস্থিত তিন নেতার মাজার বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন।
- বাংলাদেশের জাতীয় তিন নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং এ কে ফজলুল হক-এর সমাধির উপর ১৯৬৩ সালে স্থপতি মাসুদ আহমদ ও এস এ জহিরুদ্দিনের নকশায় তিন নেতার মাজার স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
- তিন নেতার মাজারের কাছেই রয়েছে হাইকোর্ট এবং শিশু একাডেমি।
- স্বাধীনতার পূর্ব সময়ে এই তিন মহান নেতাই তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন।
- বাংলার বাঘ খ্যাত শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী।
- ফজলুল হক ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
- খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৫১ সালে তাঁকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯২৪ সালে কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র হন এবং খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় তিনি শ্রমমন্ত্রী নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬১০.
নিচের কোনটি না থাকলে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে?
  1. বিরোধী দল
  2. সরকারি দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:

- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১১.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম কী ছিলো?
  1. জাতীয়তাবাদী গণমুক্তির দল
  2. জাতীয়তাবাদী গণ শক্তি
  3. জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ফোরাম
  4. জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল
সঠিক উত্তর:
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): 
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম  শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দল।
- বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। 
- ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠিত হয়।
- জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনকে অসামরিকীকরণের অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে একটি দল গঠন করেন।
- উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুল সাত্তার ছিলেন এর আহবায়ক।
- জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে, বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় রেখে ঢাকার রমনা ময়দানে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠনের ঘোষণা দেন।
- অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রথম মহাসচিব।
- জিয়াউর রহমান ছিলেন এর আহবায়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৬১২.
আলীগড় আন্দোলনের প্রবর্তক কে ছিলেন?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা

 আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- আলীগড় আন্দোলনের প্রবর্তক স্যার সৈয়দ আহমদ খান।

⇒ ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন,  ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে। পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।

উল্লেখ্য,
• স্যার সৈয়দ আহমদ খান:
- ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ভারতীয় মুসলমান সমাজের আধুনিকতামুখী অগ্রগতির অগ্রপথিক ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
- তিনি ১৮১৭ সালে ১৭ই অক্টোবর দিল্লি শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৭ সালে সৈয়দ আহমদ খান ভারতস্থ ব্রিটিশ সরকারের অধীনে সরকারী চাকুরীতে নিযুক্ত হন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে আলীগড়ে ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৩.
'খান বাহাদুর' উপাধি কার -
  1. ক) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. খ) শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) হাজী শরিয়ত উল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) নওয়াব আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- নওয়াব আব্দুল লতিফকে কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদরাসায় এ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
- তাঁর প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হলে মুসলমান ছাত্ররা সেখানে পড়ালেখার সুযোগ পায়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬১৪.
সর্বশেষ (২০২৪) কততম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. নবম
  2. দশন
  3. একাদশ
  4. দ্বাদশ
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
- সিইসি জানান, নির্বাচনী প্রচারণা চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।
- ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৭ জানুয়ারি রোববার।
- নির্বাচনের জন্য ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৫৯২ জন সহকারি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
- দেশের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৬২ হাজার বুথে এবার প্রায় ১১ কোটি ৯৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
৬১৫.
বিরোধী দলের কাজ নয় কোনটি?
  1. গঠনমূলক সমালোচনা
  2. সরকার গঠন
  3. গণতন্ত্র রক্ষা
  4. অধিকার বাস্তবায়ন
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
ব্যাখ্যা
⇒ সরকার গঠন বিরোধী দলের কাজ নয়।

বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৬.
জুলাই ঘোষণাপত্রে, ছাত্র ও জনতার ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে কী ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
  1. বিদেশি স্বীকৃতি
  2. সাংবিধানিক স্বীকৃতি 
  3. প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি
  4. সামরিক স্বীকৃতি
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক স্বীকৃতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক স্বীকৃতি 
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্রে, ছাত্র ও জনতার ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে ’সাংবিধানিক স্বীকৃতি’ দেওয়া হয়েছে।

• জুলাই ঘোষণাপত্র:

-জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি দফার সারাংশ:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ও গণপ্রতিরোধের ইতিহাস।
২. জাতীয় মুক্তির মূলনীতি - সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।
৩. ১৯৭২ সালের সংবিধানের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
৪. বাকশাল ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বর বিপ্লব।
৫. সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী ৯০’র গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব।
৬. ১/১১ ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হওয়া।
৭. বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের চিত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
৮. গণহত্যা, গুম-খুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং প্রতিষ্ঠান ধ্বংস।
৯. বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও মাফিয়া রাষ্ট্রে রূপান্তরের অভিযোগ।
১০. দুর্নীতি, ব্যাংক লুট ও পরিবেশবিনাশের চিত্র তুলে ধরা।
১১. জনগণের ওপর দীর্ঘ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম।
১২. বিদেশী আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন দমন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।
১৩. তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা।
১৪. বৈষম্যমূলক নিয়োগ নীতি ও তরুণদের প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ।
১৫. নিপীড়নের ফলে জনরোষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্থান।
১৬. কোটা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের ওপর বর্বরতা।
১৭. নারী-শিশুসহ এক হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ।
১৮. ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট।
১৯. গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা।
২০. ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আইনি ভিত্তি।
২১. ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ।
২২. সুশাসন, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক সংস্কারে জনগণের প্রতিশ্রুতি।
২৩. গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের ঘোষণা।
২৪. আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা ও শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা।
২৫. একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ।
২৬. জলবায়ু ও পরিবেশসহ টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
২৭. ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
২৮. এই ঘোষণাপত্রকে গণঅভ্যুত্থান বিজয়ের চূড়ান্ত দলিল হিসেবে ঘোষণা।

উৎস: জুলাই ঘোষণাপত্র।

৬১৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৬৩ সালে
  2. ১৯৬৪ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৮.
বাংলাদেশে নৃশংস জেলহত্যা সংঘটিত হয়েছিল কবে?
  1. ৪রা নভেম্বর, ১৯৭৬
  2. ৩রা নভেম্বর, ১৯৭৫
  3. ১৫ আগস্ট, ১৯৭৬
  4. ৩রা নভেম্বর, ১৯৭৬
সঠিক উত্তর:
৩রা নভেম্বর, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩রা নভেম্বর, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, 
- তাজউদ্দীন আহমদ, 
- এম মনসুর আলী,  এবং
- এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
এই হত্যাকাণ্ড ইতিাহসে জেলহত্যা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৩ নভেম্বর 'জাতীয় জেলহত্যা দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা রিপোর্ট।
৬১৯.
“যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) অ্যালান বল
  2. খ) জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. গ) স্যামুয়েল ফাইনার
  4. ঘ) হ্যারল্ড লাসওয়েল
সঠিক উত্তর:
খ) জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই”।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২০.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি.) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি.):
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী শরিক দল সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন. পি.) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঢাকার রমনা গ্রীনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি এ পর্যন্ত ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার পরিচালনা করে।
- দলটির বর্তমান সভাপতি বেগম খালেদা জিয়া।

⇒ বি.এন. পি'র দলীয় সংবিধান অনুযায়ী তাদের রাজনীতির মূলনীতি হল -
- সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস,
- জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্র,
- সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থে)। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২১.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা ছিল কার?
  1. ক) এ. কে. ফজলুল হকের
  2. খ) আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর
  3. গ) নবাব স্যার সলিমুল্লাহর
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব স্যার সলিমুল্লাহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব স্যার সলিমুল্লাহর
ব্যাখ্যা
- মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ভারতবর্ষের মুসলমান নেতৃবৃন্দ তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করেন। 
- ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর আগা খানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মুসলিম প্রতিনিধি দল লর্ড মিন্টুর নিকট 'পৃথক নির্বাচনের' দাবি জানালে তিনি তা নীতিগতভাবে মেনে নেন। এর ফলে মুসলিম নেতৃবৃন্দ উৎসাহিত হয়ে পড়েন। 
- ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ শিক্ষা সম্মেলনে বসে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রশ্নে মুসলমান নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। 
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নবাব ভিকারুল মুলকের সভাপতিত্বে এক বিশেষ অধিবেশনে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ একটি সর্বভারতীয় মুসলিম রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব রাখেন। এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। যার ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম লীগ।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬২২.
রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্রে আলোচনা করে তাকে কী বলা হয়?
  1. Sociology
  2. Stasiology
  3. Geology
  4. Astrology
সঠিক উত্তর:
Stasiology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Stasiology
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা মূলত শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
- রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তা 'Stasiology' নামে পরিচিত।
- ‘Stasis’ শব্দের অর্থ বিরোধীতার মনোভাব।
- এই শব্দটি গ্রিক থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- এসব সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে বলা যায়, বেশ কিছু সংখ্যক ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি বিশেষ সমস্যা সংক্রান্ত কতকগুলো মূল বিষয়ে সম-মতাবলম্বী হয় এবং মতাদর্শের মূলগত ঐক্যের ভিত্তিতে দেশের উন্নতি বিধানের জন্য শাসন পরিচালনার সুযোগ লাভের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে প্রচারকার্য চালিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে তবে সেই সংঘবদ্ধ ব্যক্তিদের সংগঠনটিকে রাজনেতিক দল বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৩.
এ.কে ফজলুল হকের  মন্ত্রিসভার ( ১৯৩৭-১৯৪১) সদস্য কত জন ছিল?
  1. ১১ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৫ জন
  4. ১৭ জন
সঠিক উত্তর:
১১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জন
ব্যাখ্যা
এ.কে ফজলুল হক:
এ.কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমস্ত্রী ।

এছাড়াও

- ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হন।
- তিনি কৃষক প্রজা পার্টি (১৯৩৬) সালে প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমস্ত্রী হন।
- তার মন্ত্রীসভা হক মন্ত্রীসভা নামে পরিচিত ।
- মন্ত্রীসভার সদস্য ছিল-১১ জন
- তার আমলের্ ঋণ সালিশি আইন” প্রণীত হয়।
- ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হন

উৎস
: বাংলাপিডিয়া।
৬২৪.
বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয় কোন রাজনীতিবিদকে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  4. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
৬২৫.
বেগম রোকেয়া মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশের উদ্দেশ্যে ১৯১৬ সালে কোন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. বঙ্গ মহিলা সমিতি
  2. নারী মুক্তি সমিতি
  3. আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
  4. মুসলিম নারী সংস্থা
সঠিক উত্তর:
আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সমাজসেবায় বেগম রোকেয়া:
- মুসলিম নারী জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠা লাভ করুক, আত্মনির্ভরশীল হয়ে মাথা তুলে দাড়াক, সামাজিক কর্মকান্ডে পুরুষের মত নারীও সমান অবদান রাখতে সক্ষম হোক এটা ছিল তাঁর স্বপ্ন।
- মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, স্বাবলম্বী মনোভাব সৃষ্টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বেগম রোকেয়া ১৯১৬ সালে "আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম" বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থার মাধ্যমে তিনি নারী মুক্তি আন্দোলন শুরু করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র- এইচএসসি প্রোগ্রাম-উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৬২৬.
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠার সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. আহসান মঞ্জিল
  2. রেসকোর্স মাঠ
  3. রোজ গার্ডেন
  4. কার্জন হল
সঠিক উত্তর:
রোজ গার্ডেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোজ গার্ডেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি:
⇒ সভাপতি - মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
• সহ-সভাপতি - আতাউর রহমান খান।
• সহ-সভাপতি - শওকত হোসেন।
• সহ-সভাপতি - আলী আহমদ খান।
⇒ সাধারণ সম্পাদক - শামসুল হক।
• যুগ্ম-সম্পাদক - শেখ মুজিবুর রহমান।
• যুগ্ম-সম্পাদক - খন্দকার মোশতাক আহমদ।
• যুগ্ম-সম্পাদক - এ.কে রফিকুল হোসেন।
⇒ কোষাধ্যক্ষ - ইয়ার মোহাম্মদ খান।

- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।
- ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬২৭.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুসারে, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলে কত শতাংশ নারীদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে?
  1. ৩৩ শতাংশ
  2. ৩৪ শতাংশ
  3. ৩৫ শতাংশ
  4. ৩৭ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
৩৩ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সবচাইতে আলোচিত পরিবর্তন আনা হয় আদেশ এর Chapter-VI-এ এর মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।
- নিবন্ধনের শর্তগুলোতে মহিলা নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারীদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)।
- ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো।
- বর্তমান কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার সময়সীমা ২০২০ এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব দিয়েছে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) BBC.
৬২৮.
বিকল্প নীতি প্রস্তাবের মাধ্যমে বিরোধী দল কী স্পষ্ট করতে পারে?
  1. বিচারব্যবস্থার অবস্থান
  2. সরকারের অবস্থান
  3. তাদের নিজস্ব অবস্থান
  4. আন্তর্জাতিক অবস্থান
সঠিক উত্তর:
তাদের নিজস্ব অবস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাদের নিজস্ব অবস্থান
ব্যাখ্যা

বিকল্প নীতি উত্থাপনঃ
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
- এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৯.
নিচের কোনটি সংবিধান প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপ?
  1. ক) বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
  2. খ) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি
  3. গ) সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
  4. ঘ) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন:
- বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম ও বহু তাজা প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার পর ঢাকা স্থানান্তরিত হয়।
- ঢাকায় এসে এ সরকার প্রকৃত শাসনভার গ্রহণ করে।
- প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন হয়ে ঢাকায় আসেন।
- তার পরের দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি "বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান অধ্যাদেশ" জারি করা হয়।
- এ আদেশ জারিই হল বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম পদক্ষেপ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশে একটি নতুন ও সময়োপযোগী সংবিধান প্রণীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩০.
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যটি সত্য নয়?
  1. রাজনৈতিক দলের সামনে বৃহৎ জাতীয় কল্যাণের লক্ষ্য থাকে, যা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে থাকে না।
  2. সাংগঠনিক দিক থেকে রাজনৈতিক দল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অপেক্ষা দুর্বল।
  3. রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের সরকারকে প্রভাবিত করা।
  4. রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে না।
সঠিক উত্তর:
সাংগঠনিক দিক থেকে রাজনৈতিক দল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অপেক্ষা দুর্বল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংগঠনিক দিক থেকে রাজনৈতিক দল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অপেক্ষা দুর্বল।
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- উল্লেখিত প্রশ্নে- সাংগঠনিক দিক থেকে রাজনৈতিক দল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অপেক্ষা দুর্বল তথ্যটি সত্য নয়।

⇒ রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকলেও উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। উভয়ের মধ্যে উৎপত্তি, লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
১. জাতীয় কল্যাণ : রাজনৈতিক দলের সামনে বৃহৎ জাতীয় কল্যাণের লক্ষ্য থাকে, যা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে থাকে না।
২. সাংগঠনিক পার্থক্য: সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
৩. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগত পার্থক্য: রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হলো সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করা।
৪. কাজকর্মের পদ্ধতি : রাজনৈতিক দলের কাজকর্ম প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কাজকর্ম সাধারণত গোপন বা অপ্রকাশ্য।
৫. প্রকৃতিগত পার্থক্য: রাজনৈতিক দল গঠিত হয় বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও পেশার লোকজন নিয়ে। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গঠিত হয় সমস্বার্থ ও সমমনোভাবাপন্ন লোকদের নিয়ে।
৬. নির্বাচনে অংশগ্রহণ : রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রথমপত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৩১.
সুশীল সমাজের কাজ কোনটি?
  1. সরকারের বিরোধিতা করা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  3. বিতর্ক সৃষ্টি করা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
ব্যাখ্যা

• সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৩২.
'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সি.আর. দাস
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সুভাষচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। 
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। 
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ। করেন। 
- ১৮২৯ সালে রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায়, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়।
- তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। 
- ১৮২৮ সালে তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন। 
- তাঁর ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। 
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ইংরেজি, আধুনিক বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা ছিল।
- ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৬৩৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৭৫
  2. খ) ৭৬
  3. গ) ৭৭
  4. ঘ) ৭৮
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৭
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। এ সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭৭ এ ন্যায়পাল পদ সৃষ্টি করা হয়। বাংলাদেশ সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ন্যায়পাল পদ সৃষ্টি। জাতীয় সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পাল পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন। ন্যায়পাল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের সমান ক্ষমতার অধিকারী হবেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৩৪.
নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে -
  1. ক) ধর্মীয় সংগঠন
  2. খ) সুশীল সমাজ
  3. গ) রাজনৈতিক দল
  4. ঘ) এনজিও
সঠিক উত্তর:
গ) রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল জনসমষ্টি, ঐক্যবদ্ধনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনের জন্য সংঘবদ্ধ।
- রাজনৈতিক দল মূলত একটি সংগঠন।
- রাজনৈতিক সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে দলীয় নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক দল ক্ষমতা দখল করতে প্রয়াসী হয়
- এছাড়া, পরাধীন দেশের রাজনৈতিক দল জনগণকে স্বাধীনতার প্রেরণা দান করে এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করে।

• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
১। রাজনৈতিক দল কিছু সংখ্যক মানুষের একটি রাজনৈতিক সংগঠন ।
২। রাজনৈতিক দলের সদস্যগণ কম-বেশি একইরূপ আদর্শ ও নীতির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একত্রিত হয় ।
৩। রাজনৈতিক দল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে ।
৪ । জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখে রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন ও প্রচার, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন এবং জয়লাভের চেষ্টা করে ।
৫। রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে থাকে ।
৬। রাজনৈতিক দল দলীয় নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করতে চায়।

• বস্তুত সংগঠন, কর্মসূচি ও ক্ষমতালাভ রাজনৈতিক দলের মূল বৈশিষ্ট্য ।

সূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক ফাইনার
  2. খ) অধ্যাপক মাইরন উহনার
  3. গ) এলান পটার
  4. ঘ) অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে,
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- এলান পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৬৩৬.
কয়টি রাজনৈতিক দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিলো?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৬ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি ।
এগুলো হলো -
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২. কৃষক প্রজাপার্টি (এ. কে. ফজলুল হক)
৩. নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী)
৪. গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)

- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩৭.
বাংলাদেশে মোট কতটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ২টি
  2. ১টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• গণভোট, ১৯৭৭:
সামরিক শাসনকে বৈধ করার লক্ষ্যে ৩০ মে, ১৯৭৭ বাংলাদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোটার অংশ এবং জিয়াউর রহমানের পক্ষে ৯৯ শতাংশ ভোট পরে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়।

• গণভোট ১৯৮৫:
প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে ।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।

• তৃতীয় গণভোট
সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৮.
এ কে ফজলুল হককে কারা ‘শের-ই-বাংলা’ উপাধি দেয়?
  1. লক্ষ্ণৌর জনগণ
  2. কলকাতার জনগণ
  3. বাংলার জনগণ
  4. পাঞ্জাবের জনগণ
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাবের জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাবের জনগণ
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

⇒ ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

এছাড়াও,
- তিনি জীবনে আরো অনেক উপাধি পেয়েছেন।
- ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) দেশ রুপান্তর।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৩৯.
'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক: 
- ব্রিটিশ শাসন এবং অবাঙালি নেতৃত্বের বিরোধিতা ছিল তাঁর চেতনামূলে।
- কৃষক-প্রজা সাধারণ মানুষ ছিল তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের কাছে সমান জনপ্রিয় ছিলেন এ কে ফজলুল হক।
- ১৯১৬ সালের হিন্দু-মুসলমান 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' সম্পাদনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ১৯১৮-১৯ সালে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯২৯ সালে তিনি 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন,
- ১৯৩৬ সালে যার নতুন নামকরণ হয় কৃষক-প্রজা পার্টি।

উল্লেখ্য
- ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আসীন ছিলেন।
- ১৯৪০ সালে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল।
- ১৯৪২ সাল থেকেই শেরেবাংলা সাম্প্রদায়িক "দ্বিজাতি তত্ত্বের" জোরালো বিরোধীতা শুরু করেন।
-  তিনি সাধারণ মানুষের জন্য 'ডাল-ভাত' কর্মসূচি প্রবর্তন করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই) সংগঠনটি বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. গণতন্ত্র রক্ষা পরিষদ
  2. নাগরিক অধিকার ফোরাম
  3. নাগরিক অধিকার আন্দোলন
  4. সুজন
সঠিক উত্তর:
সুজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুজন
ব্যাখ্যা

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক):
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি রয়েছে।
- সুজনের সভাপতি জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সম্পাদক ড: বদিউল আলম মজুমদার।

উল্লেখ্য,
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উৎস: সুজন ওয়েবসাইট।

৬৪১.
স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নেতারা ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী ও সুভাষ চন্দ্র বোস
  2. চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু
  3. লালা লাজপত রাই ও বাল গঙ্গাধর তিলক
  4. বীর সাভারকার ও মুজাফফর আহমদ
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
স্বরাজ পার্টি:
স্বরাজ পার্টি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ছিল, যা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি বিশেষত ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গঠিত হয়েছিল। পার্টির নামটি স্বরাজ শব্দটি থেকে নেওয়া হয়েছে , যার অর্থ "স্ব-শাসন", যা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠা:
- ১৯২৩ সালে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- প্রতিষ্ঠাতা: মতিলাল নেহেরু এবং চিত্তরঞ্জন দাস।

গঠনের পটভূমি:
- স্বরাজ পার্টির গঠন ছিল ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের প্রতিক্রিয়া।
- এই সংস্কারের মাধ্যমে ভারতে সীমিত স্ব-শাসন প্রবর্তিত হয়েছিল, কিন্তু ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা।
- মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার সীমিত স্ব-শাসন প্রদান করলেও, অনেক ভারতীয় নেতা এটিকে যথেষ্ট মনে করেননি, ফলে স্বরাজ পার্টির গঠন হয়েছিল।

স্বরাজ পার্টির উদ্দেশ্য:
- ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের অধীনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
- ভারতের প্রথম কংগ্রেসের বিপরীতে, যারা এই সংস্কারের অধীনে আইন পরিষদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, স্বরাজ পার্টির লক্ষ্য ছিল আইন পরিষদে প্রবেশ করে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং স্বশাসনের জন্য কাজ করা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা।
৬৪২.
কোন আন্দোলন ব্রিটিশ বিরোধী নয়?
  1. অসহযোগ
  2. খেলাফত
  3. ফরায়েজী
  4. আলীগড়
সঠিক উত্তর:
আলীগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলীগড়
ব্যাখ্যা
• আলীগড় আন্দোলন 
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।

- ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে যেসব মনীষী পশ্চাৎপদ মুসলমানদের অজ্ঞতা, অশিক্ষা, সামাজিক শোষণ, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং অথনৈতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে স্যার সৈয়দ আহমদ খান অন্যতম।
- তিনি তৎকালীন ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নবজাগরণের অন্যতম পথনির্দেশক ছিলেন।
- তাঁর পরিচালিত উত্তর ভারতের আলীগড়ভিত্তিক সংস্কার আন্দোলন ইতিহাসে আলীগড় আন্দোলন নামে পরিচিত।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খান ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় মুসলমানদের শোষণ, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবেলা করে অধপতিত মুসলমানদের মর্যাদা সহকারে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আলীগড় আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এটি ছিল প্রত্যক্ষসংগ্রামের পরিবর্তে ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে সহযোগিতাধর্মী সম্পর্ক স্থাপনের সংস্কার আন্দোলন।
- ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের কারণে ভারতের মুসলমানরা সে সময় চরম দুর্দিনের মধ্যে জীবনযাপন করতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪৩.
বিকল্প নীতি উত্থাপন করে -
  1. সরকারি দল
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সামরিক বাহিনী
  4. বিরোধী দল
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিকল্প নীতি উত্থাপন করে বিরোধী দল।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে, তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৪.
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় কোথায়?
  1. রোজ গার্ডেন
  2. রেইসকোর্স
  3. আরমানিটোলা
  4. টিকাটুলি
সঠিক উত্তর:
আরমানিটোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরমানিটোলা
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ
- নতুন দল গঠনের তৎপরতা ও প্রস্তুতির পর ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেন নামের একটি বাড়িতে কর্মী সম্মেলন হয়।
- ৩০০ জন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
- সভায় সর্বসম্মতভাবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সম্পাদক এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমদকে যুগ্ম সম্পাদক করে ৪০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ঢাকার আরমানিটোলায় ২৪শে জুন সদ্য গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। 
- ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে দলের নাম ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই দলটি বাঙালিদের প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৫.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ কোনটি?
  1. অসঙ্গত প্রভাব খাটানো
  2. ছদ্মবেশ ধারণ
  3. ঘুষ গ্রহণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

⇒ নির্বাচনের মূল ভিত্তি সংবিধান।
- সেই সংবিধানের অধীনেই করা হয়েছিলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (রিপ্রেজেন্টেটিভ পিপলস অর্ডার ১৯৭২) , যা এ পর্যন্ত অনেকবার সংস্কার হয়েছে।
- বিশেষ করে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।
- সবশেষ ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে।

⇒ আরপিওর ৭৩ থেকে ৯০ ধারা পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন অপরাধের জন্য কি কি শাস্তি আছে তার উল্লেখ আছে। 
- আদেশের ৭৩ ধারায় ৪৪-ক ও ৪৪-খ এর বিধান লঙ্ঘন, ঘুষ গ্রহণ, ছদ্মবেশ ধারণ, নির্বাচনে অসঙ্গত প্রভাব খাটানো, কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী সাফল্যে বিঘ্ন সৃষ্টি বা তার নিজস্ব বা আত্মীয়স্বজনের ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতিদান, কোনো প্রার্থীর প্রতীক বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতিদান, কোনো প্রার্থীর বিশেষ সামাজিক বা ধর্মীয় অবস্থানের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটদানের আহবান বা প্ররোচিতকরণ, ভোটার উপস্থিতিতে বা ভোটদানে বাধা দান এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘুষ গ্রহণকে দুর্নীতিমূলক অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। [link]
ii) BBC.
৬৪৬.
’গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ প্রণয়ন করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৪ সাল
  2. ১৯৭৩ সাল
  3. ১৯৭৫ সাল
  4. ১৯৭২ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সাল
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সবচাইতে আলোচিত পরিবর্তন আনা হয় আদেশ এর Chapter-VI-এ এর মাধ্যমে।
- নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।
- নিবন্ধনের শর্তগুলোতে মহিলা নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারীদের অন্তর্ভুুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)। ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো। বর্তমান কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার সময়সীমা ২০২০ এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব দিয়েছে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) BBC.

৬৪৭.
মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ক) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (তোয়াহা)
  2. খ) পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মতিন)
  3. গ) জামায়াতে ইসলামী
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (তোয়াহা)
- পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মতিন)
- জামায়াতে ইসলামী
- মুসলিম লীগ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৪৮.
বিকল্প নীতি উত্থাপন করে -
  1. শাসক দল
  2. স্পিকার
  3. বিরোধী দল
  4. সুশীল সমাজ
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিকল্প নীতি উত্থাপন করে বিরোধী দল।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে, তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৯.
CPD-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ড. আতিউর রহমান
  2. রেহমান সোবহান
  3. মুহিত কামাল
  4. উপরের কেউ নন 
সঠিক উত্তর:
রেহমান সোবহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেহমান সোবহান
ব্যাখ্যা
- প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান CPD প্রতিষ্ঠা করেন।

CPD:
- CPD-এর পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর সদর দপ্তর ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা। 

সূত্র: CPD ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।
৬৫০.
কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব 'নবযুগ তেভাগা খামার' প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  3. মাওনালা ভাসানী
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা
নবযুগ তেভাগা খামার:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস 'নবযুগ তেভাগা খামার' প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে।
- ১৯৭৪ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস 'নবযুগ তেভাগা খামার' প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটি মূলত একটি মাঠ গবেষণা ছিল।
- ওয়ে মাধ্যমে তিনি সমাজের দরিদ্র মানুষের জন্য ঋণ সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই করতে চেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ‘রুরাল ইকনোমিকস প্রোগ্রামের’ প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস তখন জোবরা এবং সংলগ্ন গ্রামগুলোতে শুরু করেছিলেন একটি মাঠ গবেষণা, যেখানে তিনি যাচাই করতে চেয়েছিলেন সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষের মধ্যে ব্যাংকঋণ সরবরাহের সম্ভাব্যতা।
- সেখানে শুরুতে তেভাগা পদ্ধতি কৃষকদের খামার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমের কার্যক্রম শুরু করেন অধ্যাপক ইউনূস। যার নাম ছিল নবযুগ তেভাগা খামার।
-পরে গ্রামের অবহেলিত নারী ও পুরুষদের নিয়ে একটা সমিতি শুরু করেন। সেই সমিতিতে সঞ্চয় করতো সবাই।
- এই কৃষকদের খামার থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে।
- পরবর্তীতে 'ক্ষুদ্রঋণ' নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারনা নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালের ২রা অক্টোবর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে আনুষ্ঠানিক জন্ম হয় গ্রামীণ ব্যাংকের।
- গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ভূমিহীন এবং দরিদ্র নারীদের পাঁচ জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে এবং এ ঋণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৫১.
ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' বা বিধর্মীর দেশ বলে ঘোষণা করেন -
  1. ক) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  2. খ) দুদু মিয়া
  3. গ) তিতুমীর
  4. ঘ) ইবনে বতুতা
সঠিক উত্তর:
ক) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
•ফরায়েজি মতবাদ:
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব’ অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি। 
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয়(ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি বিধর্মী বিজাতীয় শাসিত দেশে জুমা এবং দুই ঈদের নামাজ বর্জনের জন্য মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।নুন-ভাতের দাবিও উত্থাপন করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
-  ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫২.
'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' -এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সৈয়দ আমির আলি
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আমির আলি:
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে
- গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ, ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ সালে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। 
- বাংলা তথা ভারতে তিনিই প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়ার
- প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেন।
- ফলে ১৮৮৫ সালে সরকার মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ কারণে
- তিনি ১৮৮৪ সালে কোলকাতায় মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা এবং করাচিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ 'The Spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'-এ

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫৩.
রাজনৈতিক দল কীসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে?
  1. আন্তর্জাতিক চাপ
  2. সরকারি নীতি
  3. ব্যক্তিস্বার্থ
  4. দলীয় মতাদর্শ
সঠিক উত্তর:
দলীয় মতাদর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দলীয় মতাদর্শ
ব্যাখ্যা
• মতাদর্শের পার্থক্য:
- রাজনৈতিক দল ব্যাপক মতাদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। মতাদর্শগত অঙ্গীকার পূরণের জন্য রাজনৈতিক নানাবিধ কর্মসূচি প্রণয়ন করে।
- কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অঙ্গীকার সাধারণত স্বার্থের প্রতি, রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি নয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
কোন মতবাদের ভিত্তিতে হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন?
  1. মনরো মতবাদ
  2. ওয়াহাবি মতবাদ
  3. দার্শনিক মতবাদ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি মতবাদ
ব্যাখ্যা

হাজী শরীয়তুল্লাহ্:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ্ ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮১ সালে।
- শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে। 
- দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে তিনি ওয়াহাবি মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।
- ওয়াহাবি মতবাদের ভিত্তিতেই হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন।
- অত্যাচারী জমিদারদের শোষণ হতে কৃষকদের মুক্ত করার লক্ষ্যে তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরিচালিত হয়। 
- হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলন পরবর্তীতে ’ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়।
- ১৮৪০ সালে শরীয়তুল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে, পুত্র দুদুমিয়া ফরায়েজিদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৫.
বাকশালে জাতীয় দলের জন্য কত সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছিল?
  1. ১০ জন
  2. ১৫ জন
  3. ২০ জন
  4. ২৫ জন
সঠিক উত্তর:
১৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল): 

- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৫৬.
মুসলমান নারী কর্তৃক লিখিত প্রথম বাংলা সাহিত্যকর্ম ‘রূপজালাল’–এর লেখক –
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নুরুন্নেসা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- অবিভক্ত ভারতীয় রক্ষণশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে এক উজ্জল নক্ষত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা সততা, মহানুভবতা, সাহিত্য সাধনা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৮৩৪ সালে ত্রিপুরা জেলার (বর্তমানে কুমিল্লা) লাকসাম থানার পশ্চিমগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বীয় প্রতিভা বলে দ্রুত বিদুষী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- দানবীর হাজী মোঃ মুহসীনের জনহিতকর কার্যবলীর সাথে তাঁর দানশীলতাকে তুলনা করা যেতে পারে।
- তিনিই এক মাত্র ভারতীয় মহিলা যিনি ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতীয়দের জন্য দেওয়া শ্রেষ্ঠতম সম্মান নওয়াব উপাধি লাভ করেন।

তাঁকে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বলা যায়:
- নারী শিক্ষার জন্য নিজ গ্রামে এম. ই. স্কুল, কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল ও একটি পাঠশালা, পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপনেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়ায়।

সহিত্য সাধনা:
- তাঁর সাহিত্য কর্মের অন্যতম নিদর্শণ রূপজালাল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন মুসলমান মহিলা প্রকাশিত ১৮৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৭.
'Transparency International Bangladesh (TIB)' কী ধরনের সংগঠন?
  1. সুশীল সমাজের অংশ
  2. সরকারি প্রতিষ্ঠান
  3. রাজনৈতিক দল
  4. উন্নয়ন সংস্থা
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজের অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজের অংশ
ব্যাখ্যা
- 'Transparency International Bangladesh (TIB)' সুশীল সমাজের অংশ। 
- টিআইবি একটি নির্দলীয়, অলাভজনক এবং স্বাধীন সংস্থা যা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিবেদিত যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা, নাগরিক সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবন থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে।
- টিআইবি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কল্পনা করে।
- এটি সচেতনতা বৃদ্ধি, সততা বৃদ্ধি এবং উন্নত সমাজের জন্য নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি অর্জনের চেষ্টা করে।
- টিআইবি নাগরিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে, পদক্ষেপ নিতে এবং সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে সক্ষম করার জন্য গবেষণা তথ্য, অ্যাডভোকেসি রিসোর্স এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা ব্যবহার করে।

উৎস: TIB Website
৬৫৮.
পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন 'BELA' এর পূর্ণরূপ-
  1. Bangladeshi Environmental Legal Alliance
  2. Bangladesh Ecology and Legal Association
  3. Bangladesh Environmental Lawyers Association
  4. Bangladesh Environmental Legal Association
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Environmental Lawyers Association
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Environmental Lawyers Association
ব্যাখ্যা
BELA:
- পূর্ণরূপ: Bangladesh Environmental Lawyers Association.
- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (BELA) একটি পরিবেশ বিষয়ক আইনজীবীদের সংগঠন।
- এটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন ফারুক এবং বর্তমান নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- BELA প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশ আইনের বাস্তবায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করা।
- BELA টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরনের কারণে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করে।

উৎস: বেলা ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট। 
৬৫৯.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপির বর্তমান চেয়ারপার্সন কে? (জুন-২০২৫)
  1. জনাব তারেক রহমান
  2. বেগম খালেদা জিয়া
  3. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
  4. জোবাইদা রহমান
সঠিক উত্তর:
বেগম খালেদা জিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম খালেদা জিয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দলটির অন্যতম মূলনীতি।
- বিএনপির বর্তমান চেয়ারপার্সন : বেগম খালেদা জিয়া। (জুন-২০২৫)
- মহাসচিব : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

উৎস: বিএনপি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬৬০.
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে সংসদ নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পেতে হয়?
  1. ৩%
  2. ৫%
  3. ৭%
  4. ১০%
সঠিক উত্তর:
৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫%
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে। 
- আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও BBC.

৬৬১.
'রাজনৈতিক দল হলো এমন একটি সংগঠন যা নির্বাচনে কর্মসূচি স্থির করে এবং প্রার্থী দাঁড় করায়' কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  2. আর এম ম্যাকাইভার
  3. এলান বল
  4. এডমন্ড বার্ক
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড লাসওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড লাসওয়েল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল সম্পর্কিত সংজ্ঞা:
⇒ হ্যারল্ড লাসওয়েল এর মতানুসারে- 'রাজনৈতিক দল হলো এমন একটি সংগঠন যা নির্বাচনে কর্মসূচি স্থির করে এবং প্রার্থী দাঁড় করায়'।

⇒ অধ্যাপক আর এম ম্যাকাইভার তাঁর ‘দ্য মডার্ণ স্টেট’ গ্রন্থে রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেন, 'যারা কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে তৎপর হয়, তাদেরকে রাজনৈতিক দল বলা হয়'।

⇒ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্ক রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'রাজনৈতিক দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬২.
বিরোধী দলের কাজ কোনটি?
  1. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. অধিকার বাস্তবায়ন
  3. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
জাতীয় সংসদ ভবন কত একর জমির উপর অবস্থিত?
  1. ক) ২১২ একর
  2. খ) ২৫০ একর
  3. গ) ২১৫ একর
  4. ঘ) ২২৫ একর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১৫ একর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১৫ একর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আইনসভা কমপ্লেক্স।
- এটির স্থপতি এস্তোনীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লুই আই কান।
- জাতীয় সংসদ ভবন ২১৫ একর জমির উপর অবস্থিত।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে এবং উদ্বোধন করা হয় ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি।
- এই ভবনে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে ১৯৮২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
৬৬৪.
“গণতন্ত্রের মানসপুত্র” বলা হয় কোন রাজনীতিবিদকে?
  1. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  2. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- তিনি ছিলেন রাজনীতিক, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন।
- তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেছেন।
- সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী,
- ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী,
- ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী,
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৫.
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)
  3. জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা গ্রুপ)
  4. ইউপিডিএফ
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস):
- পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংগঠন। পাহাড়িদের দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে সংগঠনটি বিশ শতকের সত্তরের দশকে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করে। ১৯৭৩ সালে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার কিছুকাল পর থেকে জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। তখন থেকে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও শান্তি বাহিনী দীর্ঘকাল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।

⇒ পাকিস্তান আমলে ১৯৫৬ সালে পাহাড়ি ছাত্রদের দাবি আদায় সংক্রান্ত একটি সংগঠন হিল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। ১৯৬৬ সালের ডিসেম্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন অনন্ত বিহারী খীসা ও জে বি লারমা। এ সমিতির সমর্থনে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

⇒ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণেতাদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ মোট চার দফা দাবি পেশ করেন। চার দফা দাবিও সরকার কর্তৃক প্রত্যাখাত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং জুম্ম জাতীয়তাবাদ ও জুম্মল্যান্ড ধারণা জন্ম নেয়। পাহাড়িদের স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আদর্শ ও উদ্দেশ্য ছিল: মানবতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং চাকমা, মারমা (মগ), ত্রিপুরা, বম, মুরং, পাঙ্খো, খুমি, চাক, খিয়াং, লুসাই প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার অর্জন। সমিতির সহযোগী সংগঠন ছিল এর সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী, গ্রাম পঞ্চায়েত, যুব সমিতি ও মহিলা সমিতি।

⇒ ১৯৯৬ সালের ১৪ অক্টোবর ১১-সদস্য বিশিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। একদিকে জনসংহতি সমিতির দাবিদাওয়া ও পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের ইতিবাচক মূল্যায়ন এবং অন্যদিকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক সমাধানে জনসংহতি সমিতির আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষ শান্তিচুক্তি স্থাপনে ঐক্যমতে পৌঁছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান ঘটে। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর জনসংহতি সমিতি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৬৬.
বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন কে জারি করে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. জেনারেল শফিউল্লাহ
  4. উপরের কেউই না
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয় ১৯৭৫ সালে।
- বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করে খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনাবসান ঘটে।
- খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে একটি সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, দেশে সামরিক আইন জারি করা হয়।

⇒ ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেড় দশক কাল বাংলাদেশে সামরিক শাসন চলেছিল।
- এ সামরিক শাসন ছিল কখনো প্রত্যক্ষ কখনো পরোক্ষ।
- সামরিক শাসন কালে সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে বেসামরিক রাজনৈতিক কর্তৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হয় নি।
- ১৯৭৫ সালে প্রথম সামরিক সরকারের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বসহ সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামরিকায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- জেনারেল এরশাদের আমলে এ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৭.
হেনরি লুই ডিরোজিওর জন্ম সাল কোনটি?
  1. ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
 
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৮.
ঢাকা কত সালে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়?
  1. ১৮৬৪ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি (পৌরসভা) গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে এটিকে টাউন কমিটিতে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে একে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে সিটি কর্পোরেশন রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৯৪ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে মোহাম্মদ হানিফ মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ২০০২ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ভেঙে ২টি পৃথক সিটিকর্পোরেশন করা হয়।

সেগুলো হচ্ছে -
১. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও
২. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

সূত্র:- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৬৬৯.
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে নারী সদস্যদের ন্যূনতম অংশগ্রহণ কত শতাংশ হতে হবে? 
  1. ৩৩%
  2. ৪০%
  3. ৫০%
  4. ৫৫%
সঠিক উত্তর:
৩৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩%
ব্যাখ্যা

• গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সবচাইতে আলোচিত পরিবর্তন আনা হয় আদেশ এর Chapter-VI-এ এর মাধ্যমে। 
- নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। 

- নিবন্ধনের শর্তগুলোতে মহিলা নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারীদের অন্তর্ভুুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)।
- ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
- কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো।
- বর্তমান কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার সময়সীমা ২০২০ এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট ও বিবিসি। 

৬৭০.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ক) ১০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ১২ টি
  4. ঘ) ১৩ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দুই ধরনের নির্বাচন বিদ্যমান। যেমন- প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচন।
প্রত্যক্ষ নির্বাচন: যখন জনগণ সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচন করে তখন তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলে। যেমন- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

পরোক্ষ নির্বাচন: জনগণ ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বা একটি মধ্যবর্তী সংস্থা নির্বাচিত করেন। জনপ্রতিনিধিগণ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি বা সংসদের সংরক্ষিত আসনের (৫০ জন মহিলা) সদস্য নির্বাচিত করেন। এভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে। যেমন- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। আবার ইলেক্টরাল কলেজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন।

- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১১ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে
- বাংলাদেশে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়- ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে।
- সর্বশেষ নির্বাচন হচ্ছে- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- নির্বাচনে জয় লাভ করে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২২ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।
- বাংলাদেশে ৫ বছর পর পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  

 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিক, একাদশ-দাদ্বশ শ্রেণি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৬৭১.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
  2. আইন, বিচার ও সংসদ
  3. পররাষ্ট্র
  4. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
ব্যাখ্যা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

⇒ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সেই উপদেষ্টা পরিষদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৯৯০ সালে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কার্যকাল, পদ্ধতি ও সাংবিধানিকতার বিচারে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ না হলেও বাস্তবে সেটিই ছিল প্রথম নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তিভূমি ও পথনির্দেশক।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
iii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭২.
যদি একটি দল টানা দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে কী হবে?
  1. সতর্কবার্তা দেওয়া হবে
  2. নিবন্ধন স্থগিত হবে
  3. নিবন্ধন বাতিল হবে 
  4. আর্থিক জরিমানা হবে
সঠিক উত্তর:
নিবন্ধন বাতিল হবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিবন্ধন বাতিল হবে 
ব্যাখ্যা
- টানা দুইটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের কারণ:
- কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৬৭৩.
মুসলিম লীগ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. লাহোর
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. আলীগড়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ:
- মুসলিম লীগ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল,
- এর প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশের ঢাকায়।
- ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজিত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশনে এ দলের সূচনা ঘটে।
- শুরুতে আগা খানের নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পরিচালিত মুসলিম লীগ মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টিতে মূল নেতৃত্ব দেয়।
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগ সাফল্য অর্জন করে।
- একই বছরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগদান করলে তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা কার্যত মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভায় রূপান্তরিত হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৭৪.
'জাতীয় নাগরিক পার্টি' কত তারিখে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  2. ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  4. ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ব্যাখ্যা
জাতীয় নাগরিক পার্টি:
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
- জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এ দলটি গঠিত হয়।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি'র প্রতীক শাপলা।

উৎস: প্রথম আলো।
৬৭৫.
সোহরাওয়াদী কোন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা?
  1. কংগ্রেস
  2. আওয়ামী লীগ
  3. মুসলিম লীগ
  4. কৃষক-প্রজা পার্টি
সঠিক উত্তর:
আওয়ামী লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

⇒ ১৯২১ সনে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবার পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর স্বদেশপ্রেম দ্বারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গীয় আইন পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসন অবসানের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর নেতৃত্বে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

⇒ ১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- পাকিস্তানে ১৯৫৬ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন হয় তার পিছনেও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৬.
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাজ কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল গঠন করা
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ভোটার তালিকা প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোটার তালিকা প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের কাজ:
 
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে।
- রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে।
- সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করবে।
- এলাকা ভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন।
- সংবিধানের বিধান সাপেক্ষে নির্বাচন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করতে পারবে।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৭.
কোনটি আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি?
  1. পেশাজীবী সংঘঠন
  2. সুশীল সমাজ
  3. আমলাতন্ত্র
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্রের অপর নাম সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন।
- জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।" তাই গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।

•  গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিম্নরূপ-
১ । জনমত গঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা দান।
২। সরকার গঠন।
৩। আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ ।
৪। শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন।
৫। বিরোধী বিকল্প পক্ষ।
৬। ভিন্নমুখী মতামত একত্রীকরণ।
৭। সংসদীয় সরকারের উপযোগী ।

উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৮.
বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন কে জারি করেন?
  1. ক) জিয়াউর রহমান
  2. খ) ফখরুদ্দিন আহমেদ
  3. গ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  4. ঘ) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
সঠিক উত্তর:
গ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতাসীন হয়ে দেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন। 
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দ্বিতীয়বারের মতো দেশে সামরিক আইন জারি করেন যা ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর প্রত্যাহার করা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬৭৯.
'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সৈয়দ আহমদ খান
  3. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
  4. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
- মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ড. এ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন।
- তাঁদের লক্ষ্য ছিল, কাউন্সিলে থেকে ধারাবাহিক প্রতিবন্ধকতার নীতি অনুসরণের মাধ্যমে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে প্রবর্তিত দ্বৈত শাসন-ব্যবস্থার অবসান ঘটানো।
- ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া
৬৮০.
’এক ব্যক্তি এক ভোট’ কী?
  1. প্রতিপাদ্য বিষয়
  2. দলীয় কর্মসূচী
  3. নির্বাচন পদ্ধতি
  4. নির্বাচনের স্লোগান
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• এক ব্যক্তি এক ভোট :
- নির্বাচনপদ্ধতির মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে 'এক ব্যক্তি, এক ভোট' পদ্ধতি। '
- এক ব্যক্তি, এক ভোট' বর্তমানে সর্বত্র গৃহীত নীতি।
- এ পদ্ধতিতে একটি আসনের জন্য যেকোনো সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
- একজন ভোটার কেবল তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোট দিবেন।
- প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যিনি বেশি ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬৮১.
রাজনৈতিক দলের মুখ্য উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. জনগণের সেবা করা
  2. রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন করা
  3. উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা
  4. সমাজে সংস্কার আনা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন করা
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল: 
- রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে এবং নিজেদের কর্মসূচি ও মতাদর্শ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। 
- ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দল নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকে। 
- অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো শাসক দলের ব্যর্থতা তুলে ধরে জনমত গঠন করে এবং দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা চালায়। 
- এভাবেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮২.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. বেগম খালেদা জিয়া
  2. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. জিয়াউর রহমান
  4. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
মেজর জিয়াউর রহমান:
- ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তারিখে জিয়াউর রহমান ব্রিটিশ বেঙ্গলের বগুড়া জেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৩ সালে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।
- ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক।
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত হন।
- ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন জিয়াউর রহমান ।
- তিনি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়।
- প্রথমে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ৮ম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। 
- ১৯৮১ সালের ৩০ মে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন ক্ষণজন্মা সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৮৩.
নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অবদান কী ছিল?
  1. সিপাহী বিদ্রোহে নেতৃত্ব
  2. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
  3. মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি প্রতিষ্ঠা
  4. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• নবাব স্যার সলিমুল্লাহ:
- ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে খাজা সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম নবাব খাজা আহসানউল্লাহ।
- নবাব পরিবারের মধ্যে সলিমুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
- যৌবনকালে তিনি কিছুকাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরি করলেও পরে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০১ সালে তাঁর পিতার মৃত্যু হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি নবাবের পদসহ পারিবারিক কর্তত্ব লাভ করেন।
- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, সাহসী ও ধার্মিক ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ নানামুখী অবদান রাখেন।
- নবাব সলিমুল্লাহ ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৪.
'অপারেশন উত্তরণ' কোথায় বাস্তবায়িত হয়?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) কুড়িগ্রামে
  3. গ) কুষ্টিয়ায়
  4. ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা
'অপারেশন উত্তরণ' হলো তিন পার্বত্য জেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত অভিযান।
৬৮৫.
’গণ ফোরাম‘-র প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. তৌহিদুল ইসলাম খান
  4. ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ড. কামাল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
• গণ ফোরাম :
-  প্রখ্যাত আইনজীবী ড.কামাল হোসেন ১৯৯২ সালে গণ ফোরাম গঠন করেন।
- ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এটি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল।
- দলটি একটি শক্তিশালী সিভিল সমাজ এবং সমতার ভিত্তিতে সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী।

উৎস : বাংলাপিডিয়া
৬৮৬.
রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন কে?
  1. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  2. রাজা পঞ্চম জর্জ
  3. সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন।
- তিনি হিন্দি ও তাঁর মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও যেমন সংস্কৃত, আরবি ও ফারসিতে উল্লেখযোগ্য ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।
- একেশ্বরবাদ বানী প্রচারে রামমোহন রায় আত্মীয় সভা গঠন করেন ।
- ১৮২২ সালে অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট 'দ্বিতীয় আকবর' রাজা রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- তাকে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮৭.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কে অবদান রেখেছিলেন?
  1. নবাব সলিমুল্লাহ
  2. নবাব খাজা আলীমুল্লাহ
  3. নবার সিরাজউদ্দৌলা
  4. নবাব আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ:
- ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে খাজা সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম নবাব খাজা আহসানউল্লাহ। খাজা সলিমুল্লাহ নবাবী পরিবারের বিত্ত-বৈভবের মধ্যে বেড়ে উঠলেও চিন্তা-চেতনায় ছিলেন আলাদা।
- নবাব পরিবারের মধ্যে সলিমুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
- যৌবনকালে তিনি কিছুকাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরি করলেও পরে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আত্মনেয়োগ করেন।
- মুসলিম স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জন্য নবাব সলিমুল্লাহ সকল প্রদেশের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে, সংস্থায়, আইনসভায় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন দাবি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ নানামুখী অবদান রাখেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য কী?
  1. সরকারি ক্ষমতা দখল করা
  2. সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করা
  3. নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা
  4. জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা।
- তারা রাজনৈতিক দলের মতো সরাসরি সরকারি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে না।
- বরং তারা সরকারের গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের পক্ষে প্রভাবিত করতে চায়।
- এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় বা পেশাগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠিত হয় এবং তারা সংঘবদ্ধভাবে সেই স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করে।
- অ্যালান বল, এইচ জিগলার ও অ্যালমন্ড-পাওয়েল প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই গোষ্ঠীগুলোর সংজ্ঞায় একমত যে, এগুলো সংগঠিত এবং লক্ষ্য-সচেতন।
- তাই বলা যায়, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নীতিনির্ধারক মহলে চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করা।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৮৯.
নিচের কোনটি বিরোধী দলের কাজ?
  1. গণতন্ত্র রক্ষা
  2. অধিকার বাস্তবায়ন
  3. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯০.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী ছিলেন কে?
  1. মুহিতুল ইসলাম
  2. শেখ রেহেনা
  3. তোফায়েল আহমেদ
  4. এম আর আক্তার মুকুল
সঠিক উত্তর:
মুহিতুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহিতুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার:
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
- ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৷
- ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১২ আসামিকে মৃত্যদন্ড প্রদান করে আদালত রায় প্রদান করে।
- অবশেষে হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে ৷
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে৷
- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ‍পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দকে।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সময় ঢাকা সেনানিবাসে লেফট্যানেন্ট কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৬৯১.
বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন -
  1. কমরেড মণি সিংহ
  2. কমরেড তোহা খান
  3. কমরেড ফরহাদ
  4. কমরেড মহিউদ্দীন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
কমরেড মণি সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমরেড মণি সিংহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ:
- উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মণি সিংহ।

⇒ কমরেড মণি সিংহ ছিলেন উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, অন্যতম স্থপতি।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সপিবি) প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ।
- মার্ক্সবাদী বিপ্লবী আদর্শই ছিল তাঁর জীবনাদর্শ।
- ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ’, তথা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল তাঁর আমৃত্যু সংগ্রামী প্রয়াস। 
- তিনি সব সময় ‘বিপ্লবী মানবতাবাদের’ কথা প্রচার করতেন।
- কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। 

উৎস: প্রথম আলো। 

৬৯২.
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৯৫
  2. খ) ২০০৯
  3. গ) ২০০০
  4. ঘ) ২০১৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০১৬
ব্যাখ্যা
জেলা পরিষদ
⇨ জেলা পরিষদ এ দেশের তিনস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর।
⇨ ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল লোকাল সেল্ফ গভর্মেন্ট এ্যাক্টের মাধ্যমে যে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়েছিল তারই পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত রূপ আজকের এই জেলা পরিষদ।
⇨ ২০০০ সালে জেলা পরিষদ এ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয় এবং ২০১৬ সালে এই আইনের কিছু সংশোধনী করা হয়। এই সংশোধিত আইনানুসারেই জেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে।
⇨ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মত এই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
⇨ একটি ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ২১ জন সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়।
⇨ একটি জেলার অন্তর্গত সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটার।
⇨ আইনানুসারে প্রতি পাঁচ বছর পরপর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 
⇨ চেয়ারম্যান জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী।
⇨ জেলা পরিষদ তার কাজের সুবিধার্থে আইন—শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোর মত বিষয়ের উপর একটি করে স্ট্যান্ডিং কমিটি করে থাকে। জেলা পরিষদের সদস্যের একজন একটি স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৩.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় কয় বার?
  1. ক) ১ বার
  2. খ) ২ বার
  3. গ) ৩ বার
  4. ঘ) ৪ বার
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ বার
ব্যাখ্যা
ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন।
- কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে। - বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

দ্বিতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন অধ্যাদেশ,বিধি-নির্দেশ ইত্যাদিকে ও বৈধতাদানের উদ্দেশ্য ২য ইনডেমিনিটি বিলটি' ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।

• তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ ক. সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৯৪.
সেনাবাহিনী কবে প্রথম বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে?
  1. ক) ১৯ জুলাই, ১৯৭৭
  2. খ) ১০ জুন, ১৯৭৮
  3. গ) ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেড় দশক কাল বাংলাদেশে সামরিক শাসন চলেছিল। এ সামরিক শাসন ছিল কখনো
প্রত্যক্ষ কখনো পরোক্ষ।
• সামরিক শাসন কালে সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একে সহায়তা করেছে বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিক চক্র। সামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে বেসামরিক রাজনৈতিক কতৃর্ত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট প্রথম সামরিক সরকারের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় কতৃর্ত্বসহ সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামরিকায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়। জেনারেল এরশাদের আমলে এ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। 

তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী কে ছিলেন?
  1. ডা. হোসনেয়ারা বেগম
  2. ডা. জোহরা বেগম কাজী
  3. ডা. ফিরোজা বেগম
  4. ডা. মমতাজ বেগম কাজী
সঠিক উত্তর:
ডা. জোহরা বেগম কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডা. জোহরা বেগম কাজী
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী:
- উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী।

⇒ তিনি ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লির 'লেডি হাডিং মেডিকেল কলেজ' থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন।
- এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক।
- ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন।
- ১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন।
- পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
- তার কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।

⇒ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘকাল মানবতার সেবায় নিঃস্তার্থ কর্মকান্ডের স্তীকৃতিস্তরূপ ডাঃ জোহরা কাজীকে তমঘা-ই-পাকিস্তান (১৯৬৪), বেগম রোকেয়া পদক (২০০২) এবং একুশে পদক (২০০৮) প্রদান করা হয়।
- তিনি ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলপিডিয়া।
৬৯৬.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  2. মুহসিন উদ্দিন দুদুমিয়া
  3. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের উপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- তিনি ইসলাম ধর্মকে এসব কুসংস্কার আর অনৈসলামিক অনাচার মুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে তিনি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে এক ধর্মীয় সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৭.
ঢাকা জেলায় সংসদীয় আসন সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১৩ টি
  3. গ) ১৫ টি
  4. ঘ) ২০ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর সংখ্যা ২০ টি।
সূত্র: parliament.gov.bd
৬৯৮.
কততম সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০টি করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্দশ
  2. খ) পঞ্চদশ
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) সপ্তদশ
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বর্তমানে মোট আসন সংখ্যা ৩৫০ টি। এর মধ্যে ৩০০ টি আসন জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫টি থেকে ৫০টি করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯৯.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের প্রস্তাব করেন কে?
  1. খাজা নিজামুদ্দিন
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. নবাব খাজা সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
নবাব খাজা সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব খাজা সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

 • মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গের গোঁড়াসমর্থক ঢাকার নওয়াব  খাজা সলিমুল্লাহ কংগ্রেস সমর্থকদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি এ সভায় একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করেন।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এভাবে সর্ব ভারতীয় মুসলিম লীগ সৃষ্টি হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। 
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭০০.
ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ক) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৪২০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ঢাকায় সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় ১৬১০ সালে। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবাবাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণি সমাজ বই।