বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন১,০৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ১১ · ২০১৩০০ / ১,০৯৫

২০১.
নিচের কোন শর্করাটি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া যায় না?
  1. সেলুলোজ
  2. গ্লাইকোজেন
  3. গ্লুকোজ
  4. শ্বেতসার
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 

শ্বেতসার বা স্টার্চ: 
- ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। 
- এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 

সেলুলোজ: 
- বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 

সুক্রোজ: 
- আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 

ফ্রোক্টোজ: 
- আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে।

গ্লুকোজ: 
- এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। 
- এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 

ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: 
- গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 

গ্লাইকোজেন: 
- পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০২.
RT - PCR stands for -
  1. Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction
  2. Reverse Time Palhogene Chain Reaction
  3. Real Time Chain Reaction
  4. Real Time Critical Reaction
সঠিক উত্তর:
Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction
ব্যাখ্যা
RT - PCR:
- RT - PCR এর পূর্ণরূপ: Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction.
- আরটি-পিসিআর করোনাকালের বহুল পরিচিত একটি পরিভাষা।
- মূলত কোভিড-১৯ ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা এটি।
- সবেচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাপদ্ধতি হিসেবে বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়।
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে দেহের ভেতরে ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরি করা যায়।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সক্রিপশন।
- আবার এর বিপরীত ঘটনাও ঘটানো সম্ভব।
- অর্থাৎ আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি করা যাকে বলা হয় রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন।
- আরটি-পিসিআরের প্রথম অংশ আরটি রিভার্স ট্রান্সক্রিপশনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- পিসিআর মেশিনের সাহায্যে একটি ডিএনএ থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি, চারটি থেকে আটটি।
- এভাবে আনুপাতিক হারে অণুর সংখ্যা লাখো কোটি গুণ বাড়ানো যায়।
- সংখ্যা বাড়ানোর এই প্রক্রিয়াকেই বলে পলিমারেজ চেইন রি-অ্যাকশন বা পিসিআর।

উৎস: ৩১ জানুয়ারি ২০২২, প্রথম আলো।
২০৩.
‘চিকনগুনিয়া’ কিসের মাধ্যমে ছড়ায়?
  1. ক) এডিস মশার মাধ্যমে
  2. খ) পানির মাধ্যমে
  3. গ) বানরের মাধ্যমে
  4. ঘ) বাতাসের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
ক) এডিস মশার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এডিস মশার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
এডিস মশা (Aedes aegypti) দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর, চিকনগুনিয়া (Chikungunya virus) রোগ ছড়ায়।
Source: cdc.gov, who.int
২০৪.
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন?
  1. ক) ৪ ঘণ্টা
  2. খ) ৬ ঘণ্টা
  3. গ) ১০ ঘণ্টা
  4. ঘ) ১২ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
একজন মানুষের দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। 

বিশ্রামের গুরুত্ব : শরীর চর্চার পাশাপাশি শারীরিক বিশ্রামও অত্যন্তপ্রয়োজন। এছাড়া মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের পরই বিশ্রাম প্রয়োজন। ঘুমানো, শুয়ে থাকা ইত্যাদি বিশ্রামের অংশ। বিশ্রামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পুনঃশক্তি সঞ্চয় হয় এবং স্নায়ুবিক শক্তি উজ্জীবিত হয়। কর্মে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষম করে তোলে । একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম বা ঘুমানো আবশ্যক।

সূত্র: ৬৬ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৫.
লোহিত রক্তকণিকা কোথায় থেকে তৈরি হয়?
  1. বৃক্কে
  2. হৃৎপিণ্ডে
  3. প্লীহায়
  4. অস্থিমজ্জায়
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

২০৬.
হৃদপিণ্ডের কোন স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে?
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
এপিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০৭.
নিম্নের কোন রোগটি Vertical Transmission এর মাধ্যমে ছড়ায়?
  1. Hepatitis B
  2. Diphtheria
  3. Typhoid
  4. Malaria
সঠিক উত্তর:
Hepatitis B
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hepatitis B
ব্যাখ্যা
Vertical Transmission বলতে পিতামাতা থেকে তাদের সন্তানদের মধ্যে ভাইরাসের প্রজন্মগত সংক্রমণকে বোঝায়।
hepatitis B মূলত Vertical Transmission এর মাধ্যমে ছড়ায়। 
 
গর্ভবতী মা যদি হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হয়, সেক্ষেত্রে জন্মের পর পরই নবজাতককে হেপাটাইটিস বি ইমিউন গ্লোবুলিন ও হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন উভয়ই দেওয়া হয়।

উৎস:  www.urmc.rochester.edu, sciencedirect.com
২০৮.
ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ফসফেট
  2. আয়োডিন
  3. টেকনেশিয়াম
  4. ইরিডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনেশিয়াম-99 আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৯.
করোনা ভাইরাসের পিল 'প্যাক্সলোভিড' উদ্ভাবন করে নিচের কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ফাইজার
  2. মডার্না
  3. অ্যাস্ট্রাজেনেকা
  4. মার্ক অ্যান্ড কো.
সঠিক উত্তর:
ফাইজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইজার
ব্যাখ্যা
- করোনা ভাইরাসের পিল 'প্যাক্সলোভিড' উদ্ভাবন করে ফাইজার। 
- করোনা চিকিৎসায় ফাইজারের পিল ৮৯ শতাংশ কার্যকর। 
উৎস : পত্রিকা রিপোর্ট
২১০.
পেপটিক আলসার হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) প্রোটোজোয়া
  4. ঘ) খাদ্যে অনিয়ম
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবিন ওয়ারেন (1951-বর্তমান) ও ব্যারি মার্শালের (1937-বর্তমান) গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপােড়া খাবার খাওয়া, বিষন্নতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া।
এজন্য তাঁরা 2005 সালে যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন। আগে ভাবা হতাে, পাকস্থলীর তীব্র হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে (pH 1.5-3.5) কোনাে ব্যাকটেরিয়া টিকতে পারে না। তাঁর ধারণা প্রমাণ করার জন্য ব্যারি মার্শাল নিজে H. pylori ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত দ্রবণ পান করে পেপটিক আলসারে ভুগেছিলেন!

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
২১১.
মানুষের মুখে ছেদন দন্ত কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৬ টি
  4. ঘ) ৮ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
ব্যাখ্যা

মানুষের মুখে চার ধরনের দাঁত রয়েছে। এগুলো হলোঃ
১) Incisor( কর্তন)
২) Canine( ছেদন)
৩) Premolar ( অগ্রপেষণ)
৪) Molar ( পেষণ)।
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ৩২ টি দাঁতের মধ্যে উপরের পাটিতে থাকে ১৬ টি আর নিচে থাকে ১৬ টি।
প্রতি পাটিতে ১৬ টি দাঁতের মধ্যে সামনের ৪ টি Incisor বা কর্তন দাঁত। তার পরেই যে সুচালো দাঁতটি রয়েছে সেটি হলো Canine বা ছেদন। মাংসাশী প্রানীদের এই দাঁত অনেক লম্বা থাকে। তার পরে দুটি (এক পাশে) অগ্রপেষণ। সবার শেষে আক্কেল দাঁতসহ তিনটি (এক পাশে) দাঁত হলো পেষণ দাঁত যা আমাদের চিবানোর কাজে লাগে।
অর্থাৎ মানুষের মোট ৩২ টি দাঁতের মধ্যে কর্তন দাঁত ৪+৪= ৮ টি। ছেদন ২+২= ৪ টি। অগ্রপেষণ ৪+৪ =৮ টি এবং পেষণ দাঁত ৬+৬ = ১২ টি।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান; নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রাণীবিজ্ঞান।

২১২.
জলাতঙ্ক রোগের প্রধান কারণ কী?
  1. অ্যামিবা
  2. প্রটোজোয়া
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
২১৩.
ভায়াগ্রা কী?
  1. একটি জলপ্রপাত
  2. নতুন একটি ওষুধ
  3. সাড়া জাগানো চলচ্চিত্রের নাম
  4. নতুন জাহাজের নাম
সঠিক উত্তর:
নতুন একটি ওষুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন একটি ওষুধ
ব্যাখ্যা
- ভায়াগ্রা হলো একটি ওষুধ যা পুরুষদের যৌনক্ষমতা বাড়ায়।
- ভায়াগ্রা ১৯৯৮ সালে বিক্রি শুরু হয় এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই একটি সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ওষুধে পরিণত হয়।
- প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ওষুধ কোম্পানি ফাইজার।
- ভায়াগ্রা হলো ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ শিথিলতার চিকিৎসার জন্য ইতিহাসে প্রথম অনুমোদিত ওষুধ।
- ২০০৮ সালে এর বার্ষিক বিক্রি প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে। যা এক বছরে ওষুধ বিক্রির শীর্ষে ছিল।

উৎস: বিবিসি নিউজ রিপোর্ট। [লিঙ্ক]
২১৪.
দেহ বৃদ্ধিকারক হরমোন কোনটি?
  1. থাইরক্সিন
  2. প্রোল্যাকটিন
  3. এড্রিনালিন
  4. সোমাটোট্রফিন
সঠিক উত্তর:
সোমাটোট্রফিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমাটোট্রফিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০ টি অ্যামিনো এসিডে গঠিত। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 
- মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে এটি উৎপন্ন হয়।
-  বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। 
- পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়। 
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে, শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে। 
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে।
 
উৎস: প্রাণী বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
নিচের কোন অজৈব পদার্থটি রক্তরসে বিদ্যমান?
  1. বিলিরুবিন
  2. ইউরিক এসিড
  3. লৌহ
  4. ক্রিয়েটিনিন
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
♦ রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ।

অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন এবং O, CO, এবং N, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।

জৈব পদার্থগুলো হলো:
• খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
• রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি।
• প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি।
• প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যাগ্লুটিনিন ইত্যাদি।
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন।
• কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
২১৬.
কোনটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ নয়?
  1. টিকা প্রদান
  2. বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ
  3. রক্তপরীক্ষা
  4. কসমেটিক সার্জারি
সঠিক উত্তর:
কসমেটিক সার্জারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমেটিক সার্জারি
ব্যাখ্যা
• প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হলো এমন একটি মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, যা জনগণের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য রক্ষায়, রোগ প্রতিরোধে ও দ্রুত চিকিৎসা প্রদানে সহায়ক।
এটি সাধারণত সরকার বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও কার্যকর হয়ে থাকে।

• প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ- 
⇒ টিকা প্রদান (Vaccination):
  - শিশুদের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে দেওয়া হয় (যেমন: পোলিও, হাম, ডিপথেরিয়া)।
  -  এটি একটি প্রধান প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা।

⇒ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ:
- পানিবাহিত রোগ যেমন কলেরা, টাইফয়েড প্রতিরোধে অপরিহার্য।

⇒ রক্তপরীক্ষা (Blood test):
- বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে সহায়ক যেমন: ডায়াবেটিস, অ্যানিমিয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
কসমেটিক সার্জারির বৈশিষ্ট্য হলো
- এটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্গত নয়।
- এর উদ্দেশ্য শরীরের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা, যেমন: নাক সোজা করা, ত্বক টানটান করা ইত্যাদি।
- এটি বিশেষায়িত চিকিৎসা (Specialized care) এবং অনেক ক্ষেত্রে ঐচ্ছিক (Elective Procedure) হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ। 
- World Health Organization (WHO): What is Primary Health Care.
২১৭.
কোন রোগ প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা দেওয়া হয়? 
  1. টাইফয়েড 
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
  3. জলাতঙ্ক 
  4. ধনুষ্টংকার 
সঠিক উত্তর:
ধনুষ্টংকার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনুষ্টংকার 
ব্যাখ্যা

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকার প্রকারভেদ নিম্নরূপ: 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা: 
- এতে কালচার করা জীবাণুদের ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করা হয়। 
উদাহরণ: BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি এই টিকা। 
উদাহরণ: ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু: 
- সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৮.
শুক্রাশয় থেকে কোন হরমোন নি:সৃত হয়?
  1. ক) ইস্ট্রোজেন
  2. খ) প্রোজেস্টেরন
  3. গ) অ্যান্ড্রোজেন
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যান্ড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যান্ড্রোজেন
ব্যাখ্যা
আমাদের শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে:
• পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland)
• থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland)
• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland) (iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis)
• ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary)
• অমরা (Placenta ) 

পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন ধরনের বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন এবং উৎপাদক হরমোন নিঃসৃত হয়। এ হরমোনগুলো জননগ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ এবং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, মাতৃদেহে স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি এবং দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। এ হরমোন দৈহিক এবং মানসিক বৃদ্ধি, যৌনলক্ষণ প্রকাশ এবং বিপাকে সহায়তা করে।

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কিছু হরমোন যৌনাঙ্গ বৃদ্ধি ও যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

শুক্রাশয় থেকে নিঃসৃত টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেন শুক্রাণু উৎপাদন, দাড়ি-গোঁফ গজানো, গলার স্বর পরিবর্তন ইত্যাদি যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন মেয়েদের নারীসুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ, অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
২১৯.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হলো?
  1. ভিটামিন -এ
  2. ভিটামিন -সি
  3. পটাশিয়াম
  4. লৌহ
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
- কচুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। 
- কচুর মূল উপাদান হলো আয়রন (Fe), যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রেখে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক রাখে।
- কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া চোখসম্পর্কিত জটিলতা কমায়।
- কচুশাকে থাকা স্যাপোনিনস, টেনিনস, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্লাভোনয়েড উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
-  কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, তাই গরমের সময় কচুর ডাঁটা রান্না করে খেলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়।
- নিয়মিত কচুশাক খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কমে।
- কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, এ কারণে এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে কচুশাক। নিয়মিত শাকটি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।
- এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
- অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে।

অর্থাৎ কচুতে আয়রন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি সবই থাকে। কিন্তু কচুশাকের প্রধান উপাধান বলা হলে তা হলো লৌহ।

উৎস: 
প্রথম আলো( ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১)।
২২০.
White Blood Cell নামে পরিচিত কোনটি?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. অনুচক্রিকা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
মানুষের করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা -
  1. ১২টি
  2. ২৪টি
  3. ৩১টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
২৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪টি
ব্যাখ্যা
যেসব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি হয়ে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বেরিয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় সেগুলোকে করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের মস্তিষ্কে ১২ জোড়া অর্থাৎ ২৪টি করোটিক স্নায়ু আছে।
- সম্মুখ অংশ থেকে পরপর এদের রোমান সংখ্যা দিয়ে সূচিত করা হয়।
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়।

- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২২২.
নিম্নের কোন রােগটি DNA ভাইরাসঘটিত?
  1. ডেঙ্গুজ্বর
  2. স্মলপক্স
  3. কোভিড-১৯
  4. পােলিও
সঠিক উত্তর:
স্মলপক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মলপক্স
ব্যাখ্যা
- স্মলপক্স রোগটি DNA ভাইরাসঘটিত।
- ভেরিওলা ভাইরাস মানবদেহে স্মলপক্স বা গুটি বসন্ত সৃষ্টি করে।
- ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA ও RNA থাকে।
- অন্যান্য জীবদেহে DNA ও RNA একই সাথে অবস্থান করলেও ভাইরাসে DNA ও RNA একই সাথে অবস্থান করতে পারেনা।

• DNA ভাইরাসঘটিত রোগ:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- হার্পিস সিমপ্লেক্স (মানব), Tipula irridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), ভেরিওলা (মানব), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic ও Adenoassociaed ইত্যাদি।

• RNA ভাইরাসঘটিত রোগ:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (মানব), পোলিও (মানব), রুবেলা (মানব), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), মাম্পস (মানব), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17কলিফাজ ইত্যাদি।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৩.
রুবিওলা ভাইরাসের পোষক-
  1. ক) মানুষ
  2. খ) গরু
  3. গ) বাদুড়
  4. ঘ) পাখী
সঠিক উত্তর:
ক) মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানুষ
ব্যাখ্যা
রুবিওলা ভাইরাসের পোষক হচ্ছে মানুষ। 

- রুবিওলা ভাইরাস হাম নামক রোগ সৃষ্টি করে। 
- হাম ভাইরাসজনিত একটি রোগ। জার্মান মিজলস নামেও পরিচিত হাম।
- সাধারণত শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়।
- হাঁচি-কাশির মাধ্যমে হামের জীবাণু ছড়িয়ে থাকে। 

- লক্ষণসমূহ- 
১. শিশুদের ক্ষেত্রে শুরুতে জ্বর, সর্দিভাব, শুকনো কাশি দেখা দেয়।
২. শিশুর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে।
৩. গালের ভেতরের দিকে লালচে হয়ে যায়।
৪. লালচে ভাবের মধ্যে সাদা দানা জাতীয় ক্ষত দেখা যায়।
৫. শিশুর দেহে হামের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লালচে দাগ বা মর্বিলি ফর্ম র‌্যাশ হয়।
৬. এই দাগ মাথা থেকে শুরু করে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র- ৯৭ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং WHO Website [লিঙ্ক]
২২৪.
শ্বেতকণিকা বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতার চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়? 
  1. কোবাল্ট-60 
  2. টেকনেশিয়াম-99m 
  3. ফসফরাস-32
  4. আয়োডিন-131 
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস-32
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস-32
ব্যাখ্যা

- ফসফরাস-32 লিউকেমিয়া বা শ্বেতকণিকা বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতার (polycethemia vera) চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 

- শরীরের কোনো স্থানে কোনো ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা তার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এই তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করতে সহায়তা করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কী কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- হার্টে পেইসমেকার বসাতে প্লুটোনিয়াম-২৩৮ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
মানবদেহের দীর্ঘতম মাংসপেশি কোনটি?
  1. ফিমার
  2. বাইসেপস ফিমোরিস
  3. পেকটোরালিস মেজর
  4. সারটোরিয়াস
সঠিক উত্তর:
সারটোরিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারটোরিয়াস
ব্যাখ্যা

- The longest muscle in human body is the sartorius, a long thin muscle that runs down the length of the upper thigh, crossing the leg down to the inside of the knee.
- The primary functions of the Sartorius are knee flexion and hip flexion and adduction.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

২২৬.
এক্স রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কেমন? 
  1. আলোর চেয়ে অনেক ছোট
  2. আলোর চেয়ে অনেক বড়
  3. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গের মতো
  4. আলোর সমান
সঠিক উত্তর:
আলোর চেয়ে অনেক ছোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর চেয়ে অনেক ছোট
ব্যাখ্যা
এক্স-রশ্মির ধর্ম: 
- এক্স রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
- এক্স রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্স রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্স রশ্মি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
- এক্স রশ্মির তরঙ্গ তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্স রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এক্স রশ্মি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স রশ্মি আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটায়। 
- এক্স রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্স-রে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্স-রে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
- এক্স রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্স অদৃশ্য রশ্মি, সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
জন্মের সময় বাচ্চার ওজন কত কেজির কম হলে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়?
  1. ২ কেজি
  2. ২.৫ কেজি
  3. ৩ কেজি
  4. ৩.৫ কেজি
সঠিক উত্তর:
২.৫ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২.৫ কেজি
ব্যাখ্যা
Low birth weight:

Low birth weight is a term used to describe babies who are born weighing less than 5 pounds, 8 ounces (2,500 grams).
An average newborn usually weighs about 8 pounds. A low-birth-weight baby may be healthy even though they are small.
But a low-birth-weight baby can also have many serious health problems.

Source:urmc.rochester.edu

২২৮.
Dengue fever is spread by-
  1. Aedes aegypti mosquito
  2. Common House flies
  3. Anopheles mosquito
  4. Rats and squirrels
সঠিক উত্তর:
Aedes aegypti mosquito
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aedes aegypti mosquito
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু জ্বর: 
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ। 
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। 
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। 
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি। 
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। 
- সেখান থেকে জানা যায়, চীনে এই রোগটি ৯৯২ খৃষ্টাব্দে শনাক্ত করা হয়েছিল। 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মহামারী আকারে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৫০ সালের দিকে ফিলিপিন্স এবং থাইল্যান্ডে। 
- বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৬০ সালে। 
- প্রথমে এই জ্বরটি ঢাকায় একসঙ্গে অনেকের হয়েছিল বলে এর নাম হয়ে যায় 'ঢাকা ফিভার'। 
- ২০০০ সালে বাংলাদেশে এটি প্রথম মহামারী আকারে দেখা যায়। 
 
উৎস: World Health Organization ওয়েবসাইট।
২২৯.
ডায়াস্টোল (Diastole) কী বোঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
  2. হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  4. ধমনীতে রক্তের চাপ বৃদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
ব্যাখ্যা

- ডায়াস্টোল বলতে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোর শিথিলকরণ বা প্রসারণের পর্যায়কে বোঝায়, যে সময়ে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি রক্তে পূর্ণ হয়। এই পর্যায় চলাকালীন ধমনীতে রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, যা ডায়াস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩০.
কলেরা ও ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন কোন ধরনের টিকা? 
  1. DNA টিকা
  2. মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা 
  3. নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা 
  4. নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা 
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা 
ব্যাখ্যা

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা: 
- ভ্যাকসিন শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকসিনাস (vaccinus) থেকে এসেছে যার আক্ষরিক অর্থ হলো from cow বা 'গরু থেকে প্রাপ্ত'। 
- ড. এডওয়ার্ড জেনার (Dr. Edward Janner) ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন। 
- তার অনেক বছর পর লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 
- অ্যান্টিবডি রোগের জীবাণুর বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং স্থায়ী কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকা ভাইরাস থেকে তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দিয়েই ওই রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
- আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি প্রয়োগ করে বর্তমানে পোলিও, টিটেনাস, হাম্পস, ডিপথেরিয়া, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, টাইফয়েড, হেপাইটিস ইত্যাদি রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- কিন্তু মরণব্যাধি এইডস (AIDS) এর ভাইরাস HIV কিংবা হেপাইটিস-সি ভাইরাসের প্রতিষেধক কোনো টিকা আজও আবিষ্কার হয়নি। 

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine): 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine): 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine): 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত (Surface chemical molecule): 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine): 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩১.
লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে কোন রোগটি হয়?
  1. পলিসাইথিমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. লিউকেমিয়া
  4. লিউকোসাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমিয়া
ব্যাখ্যা
পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়া।
অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া।
লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০ ৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়।
 
উৎস: ৯ম-১০ম শ্রেণি, বিজ্ঞান। 
২৩২.
‘H5N2’ কোন ভাইরাসের ধরণ?
  1. বার্ড ফ্লু
  2. করোনা
  3. ডেঙ্গু
  4. চিকুনগুনিয়া
সঠিক উত্তর:
বার্ড ফ্লু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ড ফ্লু
ব্যাখ্যা
বার্ড ফ্লু ভাইরাসের নতুন ধরণ ‘‘H5N2’
- মেক্সিকোতে বার্ড ফ্লু ভাইরাসের এইচ৫এন২ ধরণে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 
- বিশ্বে কোনো মানুষের এইচ৫এন২ ধরনে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। 
- ডব্লিউএইচও বলেছে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উৎস কী, তা অজানা।
- যদিও মেক্সিকোতে খামারগুলোতে এইচ৫এন২-এর সংক্রমণ দেখা গেছে।

সূত্র- WHO ওয়েবসাইট।
২৩৩.
অ্যানিমিয়া রোগ হয়-
  1. লৌহের অভাবে
  2. ক্যালসিয়ামের অভাবে
  3. আয়োডিনের অভাবে
  4. খাদ্য লবণের অভাবে
সঠিক উত্তর:
লৌহের অভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহের অভাবে
ব্যাখ্যা
- আয়রন ও জিংক শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এক খনিজ উপাদান। 
- শারীরবৃত্তীয় অনেক কার্যক্রম পরিচালনায় আয়রন ও জিংকের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। 
- এগুলো রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করে। 
- আয়রন ও জিংক এর অভাবে স্মরণশক্তি হ্রাস পায়। 
- শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতেও রয়েছে জিংকের বিশেষ ভূমিকা। 
- জিংককে বলা হয়ে থাকে শরীরের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- শিশুদের ক্ষেত্রে মনোযোগে সমস্যা দেখা দেয়। 
- বয়স্কদের মাঝেই অমনোযোগিতার প্রভাব দেখা দেয়। 

এছাড়াও,
- শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে দুর্বল ও ক্লান্ত লাগার পাশাপাশি মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
- সাধারণত শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের আয়রনের ঘাটতি জনিত অ্যানেমিয়া হয়ে থাকে। 

উৎস: Association of Zinc Deficiency with Iron Deficiency- NCBI, National Institutes of Health (.gov).
২৩৪.
নিচের কোনটি শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত রোগ?
  1. ক) ডায়রিয়া
  2. খ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  3. গ) কোয়াশিওরকর
  4. ঘ) রিকেটস
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াশিওরকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা
কোয়াশিওরকর হচ্ছে শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত রোগ। 

- বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়।
- এ রোগের উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে অস্পষ্ট ধরনের জড়তা বা নিষ্ক্রিয়তা এবং খিটমিটে ভাব; পরবর্তী পর্যায়ে ডায়রিয়া, রোগ সংক্রমণ প্রবণতা, শরীরে পানি জমা, ত্বকের প্রদাহ এবং যকৃতের স্ফীতি দেখা দেয়।
- চুলের রং ক্রমে লালচে হয়ে যায়।
- রোগ গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি কখনই সম্পূর্ণ হয় না।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।  
২৩৫.
শ্বেতসার পরিপাকে কোন এনজাইম সাহায্য করে?
  1. লাইপেজ
  2. অ্যামাইলেজ
  3. ট্রিপসিন
  4. ল্যাকটেজ
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
• অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে সরল শর্করায় পরিণত করে।

- যকৃৎ থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়। এটি অম্লীয় অবস্থায় খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে তোলে। পিত্ত-লবণ স্নেহপদার্থের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে পানির সাথে মিশতে সাহায্যে করে। পিত্ত-লবণ পিত্তরসের অন্যতম উপাদান।

- লাইপেজ নামক এনজাইমের কাজ যথাযথ সম্পাদনের জন্য পিত্ত-লবণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ লবণের সংস্পর্শে স্নেহপদার্থ সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত হয়। স্নেহবিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারলে পরিণত করে।

- অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে। আন্ত্রিক রসে আন্ত্রিক অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ ও সুক্রেজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে।

- আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।

- অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে সরল শর্করায় পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৬.
কোনটির অভাবে গলগণ্ড হয়?
  1. ক) ভিটামিন 'এ'
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়।
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
যেমন- ধান।
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই।
যেমন- পাতাশেওলা।
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
২৩৭.
পোলিও রোগে শরীরের কোন অংশ প্রধানত আক্রান্ত হয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. ফুসফুস
  3. স্নায়ুতন্ত্র
  4. ত্বক
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• পোলিও একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা Poliovirus দ্বারা হয়ে থাকে।

- এই ভাইরাস প্রধানত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। 
- এটি মস্তিষ্কের এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ু কোষগুলোর ওপর আক্রমণ করে, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে বা সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। এই কারণে পোলিওকে নিউরো-ভাইরাসজনিত রোগ বলা হয়। 
- এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তাই একে "শিশুদের পক্ষাঘাত রোগ" নামেও অভিহিত করা হয়।

প্রধান লক্ষণ: 
- পেশির দুর্বলতা। 
- হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া। 
- পক্ষাঘাত
-  জ্বর
-  মাথাব্যথা

প্রতিরোধ
- পোলিও প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো পোলিও টিকা গ্রহণ।
- বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পোলিও টিকা প্রদান করা হয়।

পোলিও নির্মূলে গৃহীত পদক্ষেপ
 - ১৯৮৮ সালে WHO, UNICEF এবং অন্যান্য সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী Polio Eradication Initiative শুরু হয়।
- বাংলাদেশ এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং পোলিও নির্মূলের দিক থেকে অনেকটাই অগ্রগতি সাধন করেছে।

তথ্যসূত্র: 
- সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
২৩৮.
ওরাল পোলিও প্রতিষেধক আবিষ্কারক-
  1. ক) রস
  2. খ) জেনার
  3. গ) কচ
  4. ঘ) সাবিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাবিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাবিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জোনাস স্যাক পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
- ১৯৬১ সালে আলবার্ট সাবিল মুখে খাওয়ার উপযোগী ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন।
২৩৯.
পোলিও ভাইরাসের প্রকৃতি কোনটি?
  1. DNA ভাইরাস
  2. RNA ভাইরাস
  3. রেট্রোভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিওফাজ
সঠিক উত্তর:
RNA ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
RNA ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• পোলিও একটি RNA ভাইরাস।

• RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ- HIV, TMV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস এবং নভেল করোনা ভাইরাস। 

• পোলিও (Poliomyelitis) একটি সংক্রামক রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সৃষ্ট।
- এই ভাইরাসটি Enterovirus গণভুক্ত এবং এটি Picornaviridae পরিবারভুক্ত।
- Poliovirus মানুষের অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে পঙ্গুত্ব ঘটাতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা। 
২৪০.
অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে রোগী কীভাবে তেজস্ক্রিয় পদার্থ গ্রহণ করে?
  1. বাহ্যিক বীমের মাধ্যমে
  2. পানীয় বা ইনজেকশনের মাধ্যমে
  3. শ্বাসের মাধ্যমে
  4. চুলের মধ্যে প্রয়োগ করে
সঠিক উত্তর:
পানীয় বা ইনজেকশনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানীয় বা ইনজেকশনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

রেডিওথেরাপি: 
- রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজী 'Radiation Therapy' শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। 
- এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগ যেমন- ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যাধির চিকিৎসা করা হয়। 
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। 
- এটি টিউমার কোষের অভ্যন্তরস্থ ডিএনএ (DNA)-কে ধ্বংসের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি করার ক্ষমতা বিনষ্ট করে ফেলে।
- রেডিওথেরাপি দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) বাহ্যিক রেডিওথেরাপি: 
- বাহ্যিক রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে শরীরের বাহির থেকে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে, কোবাল্ট বিকিরণ, ইলেকট্রন বা প্রোটন বীম ব্যবহার করা হয়। 
- শরীরের যে স্থানে টিউমারটি অবস্থিত, সেই দিকে তাক করে বীমটি প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় অল্প সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 
- তবুও এর মূল উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে যত বেশি সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজে থেকে এই ক্ষতি মেরামত করে ফেলে। 

(২) অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপি: 
- অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে রোগীকে শরীরের ভেতর থেকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। 
- এই প্রক্রিয়ায় রোগী তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর দেহে তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। 
- রক্তের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তরল পদার্থে তেজস্ক্রিয় ফসফরাস, হাড়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় স্ট্রনশিয়াম এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪১.
EPI এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Extended Program of Immunity 
  2. Exclusive Program of Infection 
  3. Expanded Program on Immunization 
  4. Essential Program on Immunization 
সঠিক উত্তর:
Expanded Program on Immunization 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Expanded Program on Immunization 
ব্যাখ্যা

- EPI এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Expanded Program on Immunization.

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expanded Program on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি -এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪২.
WBC দ্বারা কোন রক্তকণিকাকে বোঝানো হয়?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

অণুচক্রিকা:
• অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট ইংরেজিতে এদেরকে প্লেইটলেট (Platelet ) বলে।
• এগুলো গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে।
• এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না।
• অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
• পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরো বেশি হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৩.
পলিসাইথেমিয়া বলতে কি বুঝায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  2. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়া
  3. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  4. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২৪৪.
মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) জ্যাকব হেইনার
  2. খ) কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
  3. গ) জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌
  4. ঘ) আলবার্ট সাবিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলবার্ট সাবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলবার্ট সাবিন
ব্যাখ্যা
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন।
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও ‍মুক্ত ঘোষণা করে।
২৪৫.
আমাশয় রোগ প্রতিরোধের উপায় কী?
  1. ক) হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করা
  2. খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
  3. গ) মাদকদ্রব্য সেবন পরিহার করা
  4. ঘ) অনিরাপদ যৌনসংসর্গ এড়িয়ে চলা
সঠিক উত্তর:
খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
ব্যাখ্যা

আমাশয় রোগটি ব্যাকটেরিয়া কিংবা পরজীবী উভয় কারণে হতে পারে। দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ ও বিশুদ্ধ পানি পানের মাধ্যমে আমাশয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৪৬.
মানবদেহে কোন অ্যান্টিবডির পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে?
  1. IgG
  2. IgM
  3. IgE
  4. IgA
সঠিক উত্তর:
IgE
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgE
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৭.
Bery Bery রােগ কোন Vitamin এর অভাবে হয়-
  1. ক) Thiamine
  2. খ) Ascorbic acid
  3. গ) Nicotinic acid
  4. ঘ) Folic Acid
সঠিক উত্তর:
ক) Thiamine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Thiamine
ব্যাখ্যা

ভিটামিন-বি১(B1) বা Thiamine এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এছাড়া ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি; ভিটামিন-ডি(D) এর অভাবে রিকেটস; এবং ভিটামিন-এ(A) এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স।

২৪৮.
গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের টিকার নাম কী?
  1. বঙ্গভ্যাক্স
  2. বাংলা ভ্যাকসিন
  3. গ্লোবভ্যাক্স
  4. ভ্যাকশিল্ড
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভ্যাক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভ্যাক্স
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক টিকা হলো বঙ্গভ্যাক্স।
- শুরুতে এটির নাম ছিলো ব্যানকোভিড (ডি৬১৪জি ভেরিয়েন্ট এমআরএনএ)।
- গত ২ জুলাই ২০২০ গ্লোব বায়োটেক এই টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৫ অক্টোবর ২০২০ টিকাটিকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
- বর্তমানে টিকাটি মানবদেহে ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে।
গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের অপর দুটি টিকা হলো হলো:
- ডিএনএ প্লাসমিড
- এডিনোভাইরাস টাইপ৫ ভেক্টর।
(তথ্যসূত্র: গ্লোব বায়োটেক ও সমকাল)
২৪৯.
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে কোন রোগটি ছড়ায়?
  1. ক) ফুসফুসের ক্যান্সার
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) চিকুনগুনিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যক্ষ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে যক্ষ্মা নামক রোগটি ছড়ায়। 

যক্ষ্মা  Mycobacterium tuberculosis নামের জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগ TB নামেও পরিচিত। যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ। সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়। এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে। শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়। এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। রোগটি অন্যদের তুলনায় একই পরিবারের লোকদের মধ্যে অধিক পরিমাণে সংক্রমিত হয়ে থাকে, কেননা এক পরিবারের সদস্যরা একই বাড়িতে বসবাস করে, একই টেবিলে খাবার খায় ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে, তবে যক্ষ্মা বংশানুক্রমিক নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
২৫০.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ?
  1. ইনফ্লুয়েঞ্জা
  2. ডেঙ্গু
  3. যক্ষ্মা
  4. ম্যালেরিয়া
সঠিক উত্তর:
যক্ষ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
• যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যা Mycobacrterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- যে সকল রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয় সেগুলোকে বলা হয় ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। 
→ মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগগুলোই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস, হুপিংকাশি , মেনিনজাইটিস, লেপরসি (কুষ্ঠ রোগ), আনডিউলেটেড ফিভার ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। এ ছাড়াও ইত্যাদি রোগও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে।

• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। 
- যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে, অপুষ্টিতে ভোগে অথবা যক্ষ্মা রোগীর সাথে বসবাস করে, তারা এ রোগে সহজে আক্রান্ত হয়।

• রোগের কারণ:
- সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।

• যক্ষ্মার লক্ষণ:
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি (তিন সপ্তাহ বা তার বেশি), বুকে ব্যথা, কফ বা শ্লেষ্মা বের হওয়া,  দুর্বলতা বা ক্লান্তি,  ওজন হ্রাস, খিদে কমে যাওয়া। 

• প্রতিকার:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করা।
- এ রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। ডাক্তারের পরামর্শঅনুযায়ী রোগ নিবারণের নিয়মগুলো কঠিনভাবে মেনে চলা।
- প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে বা স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো।
- রোগীর ব্যবহারের সবকিছু পৃথক রাখা।
- রোগীর কফ বা থুতু মাটিতে পুঁতে ফেলা।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২৫১.
ডেঙ্গু হলে রক্তের কোন উপাদানটি পরিবর্তন হয় সবচেয়ে বেশি?
  1. Platelet
  2. Neutrophil
  3. Lymphocyte
  4. Basophil
সঠিক উত্তর:
Platelet
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Platelet
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু
- ডেঙ্গু, যাকে ব্রেকবোন ফিভার বা ড্যান্ডি ফিভারও বলা হয়, তীব্র সংক্রামক মশাবাহিত জ্বর যা সাময়িকভাবে অক্ষম কিন্তু খুব কমই মারাত্মক।
- জ্বর ছাড়াও, এই রোগটি জয়েন্টগুলিতে প্রচণ্ড ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়া (তাই নাম "ব্রেকবোন ফিভার") দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (DHF) নামে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। 

- ডেঙ্গু সংক্রমণের সময়, একটি উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা উদ্বেগের মধ্যে একটি হল প্লেটলেট সংখ্যা হ্রাস, একটি অবস্থা যা থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া নামে পরিচিত।
- প্লেটলেট হল রক্তের কোষ যা রক্ত ​​জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত রক্তপাত প্রতিরোধ করে। ডেঙ্গু জ্বরে, ভাইরাসটি প্লেটলেটের মাত্রা হ্রাসের কারণ হতে পারে, যা সহজে ক্ষত, মাড়ি থেকে রক্তপাত, নাক থেকে রক্তপাত এবং গুরুতর ক্ষেত্রে এমনকি অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের মতো লক্ষণগুলির কারণ হতে পারে।

- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেটলেটের মাত্রা নিরীক্ষণ করা এবং প্লেটলেটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তাররা এই অবস্থা পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনে শিরায় তরল এবং রক্ত ​​সঞ্চালন সহ সহায়ক যত্নের সুপারিশ করতে পারেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৫২.
সবচেয়ে বেশি পটাশিয়াম পাওয়া যায়-
  1. ক) পেয়ারায়
  2. খ) পাকা কলায়
  3. গ) আমে
  4. ঘ) ডাবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডাবে
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম (k):
- খেজুর, পালং শাক, গাজর, বিট, ডাবের পানি ইত্যাদি পটাশিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস।
- পটাশিয়াম দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। কোষের ভেতরে পানির চাপ, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। পেশি ও স্নায়ুর উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। হৃৎপিন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখে ।
- পটাশিয়ামের অভাবে দেহের পানির সমতা বিনষ্ট হয়। হৃদস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত হয়। মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান- ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৩.
মানুষের মুখে কর্তন দন্ত কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৬ টি
  4. ঘ) ৮ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ টি
ব্যাখ্যা

মানুষের মুখে চার ধরনের দাঁত রয়েছে। এগুলো হলোঃ
১) Incisor( কর্তন)
২) Canine( ছেদন)
৩) Premolar ( অগ্রপেষণ)
৪) Molar ( পেষণ)।
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ৩২ টি দাঁতের মধ্যে উপরের পাটিতে থাকে ১৬ টি আর নিচে থাকে ১৬ টি।
প্রতি পাটিতে ১৬ টি দাঁতের মধ্যে সামনের ৪ টি Incisor বা কর্তন দাঁত। তার পরেই যে সুচালো দাঁতটি রয়েছে সেটি হলো Canine বা ছেদন। মাংসাশী প্রানীদের এই দাঁত অনেক লম্বা থাকে। তার পরে দুটি (এক পাশে) অগ্রপেষণ। সবার শেষে আক্কেল দাঁতসহ তিনটি (এক পাশে) দাঁত হলো পেষণ দাঁত যা আমাদের চিবানোর কাজে লাগে।
অর্থাৎ মানুষের মোট ৩২ টি দাঁতের মধ্যে কর্তন দাঁত ৪+৪= ৮ টি। ছেদন ২+২= ৪ টি। অগ্রপেষণ ৪+৪ =৮ টি এবং পেষণ দাঁত ৬+৬ = ১২ টি।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান; নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রাণীবিজ্ঞান।

২৫৪.
রক্তের PH কত?
  1. ক) 7.35-7.45
  2. খ) 5.55- 5.65
  3. গ) 6.50-6.70
  4. ঘ) 4.79-5.00
সঠিক উত্তর:
ক) 7.35-7.45
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 7.35-7.45
ব্যাখ্যা

আমাদের ধমনীর রক্তের pH প্রায় ৭.৪। এর সামান্য হেরফের হলে (~ ০.৪) মারাত্বক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

২৫৫.
নিম্নের কোন রোগটি আয়োডিনের অভাবে হয়?
  1. ক) রিকেটস
  2. খ) রাতকানা
  3. গ) গলগন্ড
  4. ঘ) রক্তশূন্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) গলগন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গলগন্ড
ব্যাখ্যা
গলগন্ড (Goitre) :
গলগন্ড থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ।
খাবারে আয়োডিনের অভাব থাকলে থাইরয়েডের গ্রন্থির আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গলগন্ডের সৃষ্টি করে। 
গলগন্ড দু'প্রকার। যথা—

(ক) সরল গলগন্ড : আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিদ্বয় অথবা যে কোনো একটি ফুলে যায়। ফলে গলার কিছু অংশ ফুলে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে। এটিই সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।
লক্ষণ- আলসেমি বা কুঁড়েমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, পড়াশুনায় অমনোযোগী হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি গলগন্ড রোগ রোগের লক্ষণ।
প্রতিরোধ- যে অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে সে অঞ্চলের খাওয়ার পানির সাথে অতি সামান্য মাত্রায় আয়োডিন মেশানো যেতে পারে । আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা।

(খ) টক্সিক গলগন্ড : অতিমাত্রায় থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণের ফলে এ রোগ দেখা দেয়।
লক্ষণ- হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়পড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া ইত্যাদি।
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন ব্যবহার করার মাধ্যমে এ গ্রন্থির বৃদ্ধি রোধ করা যায়। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, ইত্যাদি খাওয়া।
২৫৬.
'হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি' রোগের টিকা শিশুর জন্মের কয় সপ্তাহ পর দিতে হয়?
  1. ক) ৬ সপ্তাহ
  2. খ) ৬ মাস
  3. গ) ৯ সপ্তাহ
  4. ঘ) ৯ মাস
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা

রোগের নাম - যক্ষা
টিকার নাম - বিসিজি
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - জন্মের পর থেকে

রোগের নাম - ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি
টিকার নাম - পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব)
ডোজের সংখ্যা - ৩
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - নিউমোকক্কাল নিঊমোনিয়া
টিকার নাম - পিসিভি ভ্যাকসিন
ডোজের সংখ্যা - ৩
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - পোলিওমাইলাইটিস
টিকার নাম - ওপিভি
ডোজের সংখ্যা - ৪*
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - হাম ও রুবেলা
টিকার নাম - এমআর টিকা
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে

রোগের নাম - হাম
টিকার নাম - হামের টিকা
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

২৫৭.
রক্তের প্রধান অংশ গঠনকারী উপাদান কোনটি?
  1. রক্তরস
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শ্বেত রক্তকণিকা
  4. অণুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
রক্তরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরস
ব্যাখ্যা

রক্তে রক্তরসের পরিমাণ ৫৫% আর রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
রক্তকণিকা আবার তিন রকমের-
- লোহিত রক্তকণিকা,
- শ্বেত রক্তকণিকা ও
- অণুচক্রিকা।
অর্থাৎ রক্তের প্রধান অংশই গঠন করে রক্তরস।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৫৮.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে?
  1. ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. খ) কার্বন মনোক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রিক অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড:
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে।
- কার্বন মনোক্সাইড ইংরেজিতে Carbon Monoxide (রাসায়নিক সংকেত: CO) হল একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম।
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

• কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, ক্ষুধা, মাথা ব্যাথা, অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website. 
২৫৯.
নিম্নের কোন রোগের টিকা Killed vaccine শ্রেণিভুক্ত?
  1. হাম
  2. মাম্পস
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা
  4. যক্ষ্মা
সঠিক উত্তর:
ইনফ্লুয়েঞ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনফ্লুয়েঞ্জা
ব্যাখ্যা

• ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি।

• টিকার প্রকারভেদ:
মানবদেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। প্রধান টিকার প্রকারভেদগুলো হলো—

• নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবন্ত টিকা (Attenuated Live Vaccine):
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবন্ত জীবাণু দিয়ে এ ধরনের টিকা তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ: BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, গুটিবসন্ত, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের টিকা।

• মৃত জীবাণুবিশিষ্ট নিষ্ক্রিয় টিকা (Killed Vaccine):
- মৃত জীবাণু ব্যবহার করে এ ধরনের টিকা প্রস্তুত করা হয়।
- উদাহরণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি রোগের টিকা।

• নিষ্ক্রিয় রাসায়নিক টিকা (Toxoid Vaccine):
- জীবাণু নিঃসৃত বিষাক্ত টক্সয়েডকে নিষ্ক্রিয় করে এ ধরনের টিকা তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ: ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশির টিকা।

• দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু টিকা (Surface Chemical Molecule Vaccine):
- সংক্রামক জীবাণুর দেহ তল থেকে নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান, সাধারণত প্রোটিন অংশ, পৃথক করে টিকা তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ: হেপাটাইটিস-B টিকা, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) টিকা।

• ডিএনএ টিকা (DNA Vaccine):
- রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে DNA ব্যবহার করে এ ধরনের টিকা তৈরি করা হয়।
- এটি আধুনিক জিন প্রকৌশলভিত্তিক টিকা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬০.
রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
ব্যাখ্যা
লৌহ রক্তের একটি প্রধান উপাদান৷ লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করা৷ হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬১.
মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুবিধার প্রচারাভিযান লোগো-
  1. ক) রংধনু
  2. খ) সবুজ ছাতা
  3. গ) ক্রস চিহ্ন
  4. ঘ) সূর্যের হাসি
সঠিক উত্তর:
খ) সবুজ ছাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সবুজ ছাতা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আর এর অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
গঠন করা হয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (যার প্রধান একজন - মহাপরিচালক) এবং জাতীয় জনসংখ্যা কাউন্সিল(যার প্রধান - প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং)।
১৯৭৬ সালে গৃহীত হয় জাতীয় জনসংখ্যা নীতি।যার স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- দুটি সন্তানের বেশি নয়,একটি হলে ভাল হয়।

এছাড়া স্বাস্থ্য সেবাকে জনপ্রিয় করতে বেছে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন লোগো ও প্রতীক।
যেমন- সবুজ ছাতাকে বেছে নেয়া হয়েছে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুবিধার প্রচারাভিযান লোগো হিসেবে এবং রংধনুকে চিহ্নিত করা হয়েছে স্বাস্থ্য সেবার প্রতীক হিসেবে।

২৬২.
কলেরা রোগ সৃষ্টি করে নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) Salmonella typhosa
  2. খ) Bacillus dysenteri
  3. গ) Vibrio cholerae
  4. ঘ) Clostridium tetani
সঠিক উত্তর:
গ) Vibrio cholerae
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Vibrio cholerae
ব্যাখ্যা
• কলেরা সৃষ্টি করে Vibrio cholerae ব্যাকটেরিয়া।

• মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। যেমন:
- কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Vibrio cholerae.
- টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Salmonella typhosa.
- আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus dysenteri.
- ধ্নুষ্টংকার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
এক্স-রে রশ্মি জীবন্ত কোষের উপর কী প্রভাব ফেলে? 
  1. উত্তেজিত করে
  2. বিকশিত করে
  3. রক্ষা করে
  4. ধ্বংস করে
সঠিক উত্তর:
ধ্বংস করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বংস করে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে রশ্মির ধর্ম: 
- এক্স-রে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্স-রে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্স-রে রশ্মি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
- এক্স-রে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্স-রে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্স-রে রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এক্স-রে রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্স-রে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্স-রে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
মানুষের স্থায়ী দাঁত কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) দুই
সঠিক উত্তর:
খ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার
ব্যাখ্যা
মানুষের স্থায়ী চার ধরনের দাঁত রয়েছে।

যথা-
১. কর্তন দাঁত- এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। 
২. ছেদন দাঁত- খাবার ছেঁড়া হয়।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত- এই ধরনের দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ, উভয়ের কাজ করা হয়। 
৪. পেষণ দাঁত- এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণের কাজ করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৬৫.
ভাইরাসের দেহে কী থাকে?
  1. কোষঝিল্লি
  2. এনজাইম
  3. আমিষ
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
২৬৬.
ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে কোনটি থাকে?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) জিন
  4. ঘ) থাইমিন
সঠিক উত্তর:
খ) আরএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরএনএ
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid।
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৬৭.
নিচের কোনটি হৃদরোগ ?
  1. ক) প্যরালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) এনজাইনা
  4. ঘ) পারকিনসন
সঠিক উত্তর:
গ) এনজাইনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এনজাইনা
ব্যাখ্যা
- স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস, এপিলেপসি প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
- নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২৬৮.
হামের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন নিচের কোনটি?
  1. এমআর ভ্যাকসিন
  2. পিসিভি ভ্যাকসিন
  3. বিসিজি ভ্যাকসিন
  4. ডিপিটি ভ্যাকসিন
সঠিক উত্তর:
এমআর ভ্যাকসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমআর ভ্যাকসিন
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
- বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।
- পিসিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে।

সূত্র: www.dghs.gov.bd
২৬৯.
ফাইলেরিয়া জীবানু বহনকারী মশার নাম-
  1. ক) এডিস
  2. খ) অ্যানোফিলিস
  3. গ) কিউলেক্স
  4. ঘ) ম্যানসোনাইড
সঠিক উত্তর:
গ) কিউলেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কিউলেক্স
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ইত্যাদির বাহক এডিস মশা। ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা। আর ফাইলেরিয়ার বাহক হল কিউলেক্স মশা।
২৭০.
মানুষের সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১২টি
  2. খ) ২৪টি
  3. গ) ৩১টি
  4. ঘ) ৬২টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬২টি
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া বা ২৪টি।
- মানুষের সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া বা ৬২টি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭১.
কলেরা অথবা ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগীকে স্যালাইন খেতে দেয়া হয় কেন ?
  1. ক) বমি বন্ধ হওয়ার জন্য
  2. খ) দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
  3. গ) পায়খানা বন্ধ হওয়ার জন্য
  4. ঘ) দেহ বর্ধনের জন্য
সঠিক উত্তর:
খ) দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
ব্যাখ্যা
কলেরা অথবা ডায়ারিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ ও পানি বের হয়ে যায়।
দেহের পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য আক্রান্ত রোগীকে স্যালাইন খেতে দেয়া হয়।

ডায়রিয়ার ব্যাপ্তি কমিয়ে আনার জন্য জিংক চমৎকার কাজ করে। তাই এখন স্যালাইনের পাশাপাশি জিংকও ডায়রিয়ার জরুরি পথ্য। 
তবে কোন বয়সি রোগী কতটা জিংক গ্রহণ করবেন সেটার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

স্যালাইন জীবন রক্ষাকারী হিসাবে যেমন কাজ করে, তেমনি এটি সঠিক নিয়মে না খাওয়ালে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত সবার।
সেলাইন খাওয়ার সঠিক নিয়ম - [লিংক]
২৭২.
লিথাল জিনের কারণে কোন রোগ হয়?
  1. হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া
  2. থ্যালাসেমিয়া ও বর্ণান্ধতা
  3. বর্ণান্ধতা ও রাতকানা
  4. রাতকানা ও হিমোফিলিয়া
সঠিক উত্তর:
হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া
ব্যাখ্যা

লিথাল জিন (Lethal gene):
- লিথাল জিন হলো এমন জিন, যার প্রভাবে জীবের মৃত্যু ঘটে বা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না।
- সাধারণত এই জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে।
- এর ফলে ভ্রূণ অবস্থাতেই বা অল্প বয়সে জীবের মৃত্যু হতে পারে।
- তাই লিথাল জিন দ্বারা সৃষ্ট রোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির হয়।

থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia):
- থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তজনিত রোগ।
- হোমোজাইগাস অবস্থায় (থ্যালাসেমিয়া মেজর) এটি লিথাল হিসেবে বিবেচিত।
- রোগীর শরীরে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না।
- চিকিৎসা না হলে অল্প বয়সেই রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
- তাই থ্যালাসেমিয়া লিথাল জিন দ্বারা সৃষ্ট রোগ।

হিমোফিলিয়া (Hemophilia):
- হিমোফিলিয়া একটি এক্স-লিঙ্কড বংশগত রোগ।
- এতে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যায়।
- এটি গুরুতর হলেও সাধারণভাবে লিথাল জিন দ্বারা সৃষ্ট নয়।
- যথাযথ চিকিৎসায় রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

বর্ণান্ধতা ও রাতকানা:
- বর্ণান্ধতা এবং রাতকানা উভয়ই দৃষ্টিজনিত বংশগত সমস্যা।
- এ রোগগুলোতে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না।
- তাই এগুলো লিথাল জিনের উদাহরণ নয়।

সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে লিথাল জিনের কারণে সৃষ্ট রোগ হিসেবে পাঠ্যবই অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য উত্তর হলো —
সঠিক উত্তর: ক) হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া। 

সূত্র - sciencedirect journal.

২৭৩.
সংক্রামক ব্যাধি কালাজ্বরের বাহক কোনটি?
  1. ক) লিশম্যানিয়া নামক বিশেষ ধরনের পরজীবী
  2. খ) এডিস মশকী
  3. গ) এক ধরনের উকুন
  4. ঘ) বেলেমাছি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলেমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলেমাছি
ব্যাখ্যা

কালাজ্বর বাংলাদেশের একটি এন্ডেমিক সংক্রামক রোগ। Leishmania donovani নামক এক বিশেষ পরজীবীর সংক্রমণের কারণে কালাজ্বর হয়ে থাকে। অর্থাৎ কালাজ্বরের কারণ হলো এই বিশেষ ধরনের পরজীবী।
Leishmania donovani নামক এই বিশেষ পরজীবী Phlebotomas নামক বিশেষ ধরনের বেলেমাছি বা Sand fly এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কালাজ্বরের বাহক হলো বেলেমাছি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

২৭৪.
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত লিটার পানি পান করা প্রয়োজন?
  1. ক) ১-২ লিটার
  2. খ) ৪-৫ লিটার
  3. গ) ২-৩ লিটার
  4. ঘ) ৫-৬ লিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ২-৩ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২-৩ লিটার
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%- ৭৫% হচ্ছে পানি। 
- আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 

- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- পানি দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৭৫.
মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ কত?
  1. ৩-৪ লিটার
  2. ১-২ লিটার
  3. ৪-৫ লিটার
  4. ৫-৬ লিটার
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
ডাউন সিন্ড্রোম রোগের ফলে কী হয়?
  1. ক) বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়।
  2. খ) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
  3. গ) চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে যায়।
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
ডাউন সিন্ড্রোম- ট্রাইসোমি ২১ নামেও পরিচিত।
এটি একটি জেনেটিক রোগ যেখানে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান।
এই রোগে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে।
২৭৭.
ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করেন কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. এহরেনবার্গ
সঠিক উত্তর:
এহরেনবার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এহরেনবার্গ
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
জেরপথ্যালমিয়া রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন A এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
  2. খ) ভিটামিন C এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
  3. গ) ভিটামিন E এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
  4. ঘ) ভিটামিন D এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন A এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন A এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে - এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে।
এ রোগ হলে একজন মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভিটামিন এ এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। অনেক সময় সর্দি, ঘা, কাশি, গলাব্যাথা হয়। 

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
২৭৯.
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) ফিনলে
  2. খ) লিউয়েন হুক
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) জোনাস সাল্ক
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হার্ভে। 

১৬২৮ সালে ৫০ বছর বয়সে হার্ভে প্রকাশ করলেন তাঁর অবিস্মরণীয় গ্রন্থ ‘Exercitatio Anatomica de Moto Cordis er Sanguinis in Animalibus’। বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘প্রাণীজগতের রক্ত এবং হৃৎপিন্ডের গতি সম্বন্ধীয় পর্যবেক্ষণ’, যা সূচনা করলো এক বৈপ্লবিক চেতনার। হার্ভেই প্রথম সঠিক এবং বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করলেন যে রক্ত হৃৎপিন্ড থেকে ফুসফুসে যায় এবং পরে ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে এসে তা আবার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২৮০.
ভাইরাসের দেহে কয়টি কোষ থাকে?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) একটিও নাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটিও নাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটিও নাই
ব্যাখ্যা
ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮১.
নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়?
  1. ক) জন্ডিস
  2. খ) অ্যাজমা
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যাজমা
ব্যাখ্যা

ভাইরাসজনিত রোগগুলো হলো - এইডস,ডেঙ্গু জ্বর, পোলিও, হাম, জন্ডিস, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, মাম্পস, সারস, ইবোলা, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু ইত্যাদি।
অ্যাজমা বা হাঁপানি ছোঁয়াচে নয়, জীবাণুবাহিত রোগও নয়।

২৮২.
ডোপামিনের অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. এপিলেপ্সি
  2. স্ট্রোক
  3. পারকিনসন
  4. মেনিনজাইটিস
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন
ব্যাখ্যা
স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৮৩.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 40°C হলে ফারেনহাইট স্কেলে তা কত হবে?
  1. ক) 40°F
  2. খ) 104°F
  3. গ) 102°F
  4. ঘ) 72°F
সঠিক উত্তর:
খ) 104°F
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 104°F
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 
C/5 = (F-32)/9
বা, 40/5 = (F-32)/9
বা, (F-32)/9 = 8
বা, (F-32) = 72
বা, F = 72+32
∴ F = 104
২৮৪.
প্লেগরোগের ব্যাকটেরিয়ার নাম কি?
  1. ক) Plagie vincenna
  2. খ) Yarsenia indinna
  3. গ) Yersenia pestis
  4. ঘ) Plagia tropica
সঠিক উত্তর:
গ) Yersenia pestis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Yersenia pestis
ব্যাখ্যা

- প্লেগ একটি জীবনঘাতী রোগ যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট।
- এই ব্যাকটেরিয়াটি ফ্রান্স-সুইস ব্যাকটেরিওলজিস্ট আলেকজেন্ডার ইরসিন কর্তৃক আবিস্কৃত।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

২৮৫.
বিএমআই এর মান কত হলে ওজন বেশি বিবেচনা করা হয়?
  1. ক) 15.00-18.40
  2. খ) 18.50-24.90
  3. গ) 25.00-29.90
  4. ঘ) 30.00-35.00
সঠিক উত্তর:
গ) 25.00-29.90
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 25.00-29.90
ব্যাখ্যা
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঠিক বিএমআই হওয়া উচিত ১৮.৫০ থেকে ২৪.৯০ এর মধ্যে। ১৮.৫ এর কম হলে ওজন কম এবং ২৫-২৯.৯ হলে ওজন বেশি ধরা হয়। বিএমআই এর মান ৩০ এর বেশি হলে স্থুলাকায় বলা হবে সেই ব্যক্তিকে।
উৎসঃ বিজ্ঞা্‌ন নবম-দশম শ্রেণী
২৮৬.
বার্ড ফ্লু রোগটি প্রথম কোন দেশে শনাক্ত করা হয়?
  1. ক) জাপান
  2. খ) থাইল্যান্ড
  3. গ) চায়না
  4. ঘ) নাইজেরিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) চায়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চায়না
ব্যাখ্যা
বার্ড ফ্লু রোগটির অস্তিত্ব প্রথম চায়নায় পাওয়া যায়।  

- বার্ড ফ্লু একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় রোগ এটি।
- এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে বার্ড ফ্লু মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে।
- ভাইরাসটি সাধারণত পাখির শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত পাখিরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজেই চলে যায় বলে রোগটিও দ্রুত ছড়ায়।
- বার্ড ফ্লু বায়ুবাহিত রোগ হিসেবে বিবেচিত।

লক্ষণসমূহ-
১. এ ভাইরাস সংক্রমণের পর রোগীর দেহে প্রাথমিকভাবে জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
২. জ্বরের পাশাপাশি শরীর ব্যথা, ঠান্ডা লাগা, হাঁচি, কাশি, মাথা ব্যথা, মাংসপেশী ব্যথা, বমি, পেট খারাপ- এ ধরনের উপসর্গ থাকে।
৩. অনেক সময় ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে মারাত্মক নিউমোনিয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং এআরডিএস অর্থাৎ অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেসের ঝুঁকি থাকে।
৪. এনসেফেলাইটিস, হৃদপিণ্ডের সংক্রমণ, মায়োসাইটিস হয়। 

সূত্র: Centers for Disease Control & Prevention [লিঙ্ক]
২৮৭.
মানব দেহের রক্তে রক্তকণিকা ও রক্তরসের অনুপাত -
  1. ক) ৯ : ১১
  2. খ) ৫ : ৪
  3. গ) ৪ : ৩
  4. ঘ) ৯ : ৭
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ : ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ : ১১
ব্যাখ্যা
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং 
- নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 
 
 উৎস: প্রাণী বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৮৮.
কোন পদ্ধতিতে এইডস রোগ ছড়ায় না?
  1. অনিরাপদ রক্তসঞ্চালনের মাধ্যমে
  2. অনিরাপদ যৌনসংসর্গের মাধ্যমে
  3. শিরাপথে মাদক গ্রহণের মাধ্যমে
  4. দূষিত বাতাসের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
দূষিত বাতাসের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূষিত বাতাসের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
HIV বহনকারী কোনো ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য কোনো ব্যক্তির শরীরে HIV প্রবেশ করালেই কেবল এইডস ছড়াতে পারে। HIV বহনকারী ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য স্বাভাবিক কোনো ব্যক্তির শরীরে HIV প্রবেশের কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে-
১। HIV বহণকারী ব্যক্তির সঙ্গে অরক্ষিত অবস্থায় অনিরাপদ যৌনসংসর্গের মাধ্যমে।
২। HIV বহনকারী ব্যক্তির শরীরের রক্ত অন্য কোনো শরীরে প্রবেশ করালে।
৩। HIV বহনকারী ব্যক্তির ইনজেকশনের সিরিঞ্জ যা এইচআইভি বহণ করছে তা ব্যবহার করলে।
৪। HIV বহনকারী মা যখন সন্তান সম্ভবা হন অথবা সন্তান জন্মদানের সময়ে অথবা সন্তানকে দুধ পান করানোর মাধ্যমে শিশুর শরীরে HIV অনুপ্রবেশ করতে পারে।
৫। HIV বহনকারী কোনো ব্যক্তির ব্যবহৃত কোনো জিনিসপত্রে যদি সংক্রামক রক্ত লেগে থাকে এবং তা ব্যবহারের ফলে যদি শরীরের উন্মুক্ত বা কাটাছেড়া ত্বকের সংস্পর্শে আসে।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
২৮৯.
অ্যান্টিবায়োটিক কেন ভাইরাসজনিত রোগ নিরাময়ে কার্যকর নয়?
  1. অ্যান্টিবায়োটিক যথেষ্ট শক্তিশালী নয়
  2. ভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন নেই
  3. ভাইরাস আকারে খুব ছোট বলে
  4. ভাইরাস দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করে
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন নেই
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবায়োটিক মূলত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর, প্রোটিন উৎপাদন বা বিপাক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে। ভাইরাসের কোনো কোষপ্রাচীর বা নিজস্ব বিপাক প্রক্রিয়া নেই। বরং তারা জীবিত প্রাণীর কোষে প্রবেশ করে সেই কোষের উপাদান ব্যবহার করে নিজেদের সংখ্যা বাড়ায়। ফলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কার্যকারিতা ভাইরাসে দেখা যায় না, কারণ টার্গেট করার মতো কোনো গঠন ভাইরাসের নেই।

ভাইরাস:
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস হলো অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।

উৎস:
১। World Health Organization (WHO) ওয়েবসাইট। 
২। উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৯০.
বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীতে নিচের কোন রোগটির বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. এনথ্রাক্স
  2. কলেরা
  3. জলবসন্ত
  4. হাম
সঠিক উত্তর:
হাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাম
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (Expanded Program on Immunization সংক্ষেপে EPI) হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচি যার লক্ষ্য সারা পৃথিবীর সকল শিশুকে এ কর্মসূচির অধীন নিয়ে আসা।
- এটি জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলিতে শিশুদের সংক্রামক রোগগুলির বিরুদ্ধে টিকাদানের মাধ্যমে শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত একটি চলমান কর্মসূচি।
- ৭ এপ্রিল ১৯৭৯ বাংলাদেশে ১ বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের বহুল পরিচালিত সংক্রামক রোগ- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হাম, পোলিও এবং মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার বিষয়ে কাজ শুরুকরে।
- পরবর্তীকালে এর অধীনে ২০০৩ সাল থেকে হেপাটাইটিস রোগের টিকা, ২০০৯ সাল থেকে হিমোফাইলাস রোগের টিকা এবং ২০১৫ সাল থেকে নিউমোনিয়ার (ফুসফুস প্রদাহ) টিকা দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
২৯১.
মানবদেহে পানির পরিমাণ-
  1. ক) ৫০%
  2. খ) ৭০%
  3. গ) ৩০%
  4. ঘ) ২৬%
সঠিক উত্তর:
খ) ৭০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭০%
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২০ঃ ৫০ - ৬৫%
সাধারণ বিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২০ঃ ৬০ - ৭৫%
মূল পরীক্ষায় নিজের বিবেচনা থেকে উত্তর করুন।
জীববিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২০ঃ ৫০ - ৬৫% এটাকে বেস্ট অপশন ধরা যায় মনে হচ্ছে।
২৯২.
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে বলা হয়-
  1. ক) হার্ট অ্যাটাক
  2. খ) হার্ট ফেলিওর
  3. গ) হার্ট ব্লক
  4. ঘ) হার্ট এরর
সঠিক উত্তর:
গ) হার্ট ব্লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হার্ট ব্লক
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃত অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
২৯৩.
পোলিও ভাইরাস দেহে কীভাবে প্রবেশ করে?
  1. ক) দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা
  2. খ) লালা গ্রন্থির দ্বারা
  3. গ) মশা কামড়ালে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা
ব্যাখ্যা
• পোলিও ভাইরাস দেহে দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা প্রবেশ করে।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- পোলিও ভাইরাস একটি আরএনএ এন্টারো ভাইরাস।
- অন্যান্য ভাইরাসের মত এরও কোনো বিপাকীয় এনজাইম নেই।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৯৪.
হাইপোগ্লাইসেমিয়া কিসের অভাবে হয়? 
  1. ভিটামিন-ই
  2. ক্যালসিয়াম
  3. রক্তের গ্লুকোজ
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
রক্তের গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তের গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ: 
- ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কাছে হাইপো (হাইপোগ্লাসেমিয়া) একটি প্রচলিত শব্দ, বিশেষ করে টাইপ-১ বা ইনসুলিন-নির্ভরশীল রোগীদের ক্ষেত্রে। 
- মূলত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ করে ইনসুলিন নিতে হয় এমন রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়। 
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। 
- স্বাভাবিক মাত্রা হলো খালি পেটে ৬.১ মিলিমোল প্রতি লিটারে এবং খাবারের ২ ঘণ্টা পর ৭.৮ মিলিমোল প্রতি লিটারে থাকা উচিত। 
- রক্তের শর্করা ঘন ঘন কমে গেলে বা বেশি হলে দেহ ও মনের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। 
- খুব বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। 
- গ্লুকোজ  হচ্ছে আমাদের জীবনীশক্তি বা ফুয়েল, যা প্রতিটি কোষে শক্তি সরবরাহ করে। 
- এই গ্লুকোজ বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গেলে এক এক করে বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম কমে যেতে থাকে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হচ্ছে গ্লুকোজ। 
- সে কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে রোগী অচেতন হয়ে পড়েন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। 

হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগের কারণ: 
- ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা বা ওষুধের মাত্রা বেশি এবং খাবার কম হলে, অর্থাৎ খাবার ও ওষুধের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে। 
- সময় না মেনে দেরিতে খাবার খেলে। 
- দীর্ঘক্ষণ কঠোর ব্যায়াম করলে। 
- অসুস্থতার পর খাবার খেতে না পারলে বা খাবার কম খেলে। 
- অত্যধিক মদ্যপান করলে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল ও যুগান্তর পত্রিকা।
২৯৫.
CT Scan- এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Computed Treatment Scan
  2. Computed Tomography Scan
  3. Computer Therapy Scan
  4. Computed Tomology Scan
সঠিক উত্তর:
Computed Tomography Scan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Computed Tomography Scan
ব্যাখ্যা
সিটি স্ক্যান (CT scan):
- সিটিস্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan).
 - যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে ৷
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক ।
- সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনি, ফুসফুস, ব্রেন ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিউরোলজি বা স্নায়ুবিজ্ঞান শাখায় সবচেয়ে বেশী CT scan ব্যবহার করা হয়ে থাকে যায়।
- যকৃৎ, ফুসফুস এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়।
- সিটিস্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পার্শ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে।
- মাথার সিটিস্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়।
- সিটিস্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কিনা তাও জানা যায়৷
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না।

Hounsfield unit:
- ‘Hounsfield unit’ বা ‘হাউনস ফিল্ড ইউনিট’ CT scan-এ Radiodensity বা তেজস্ক্রিয় ঘনত্বের একটি পরিমাপ যা বিভিন্ন টিস্যুতে তাদের এক্স-রে তীব্রতা হ্রাসের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সংখ্যায় মান প্রকাশ করা যায়।
- Hounsfield unit বিভিন্ন টিস্যুর তেজস্ক্রিয় ঘনত্বের পরিমাপ এবং পার্থক্য করতে CT scan এ ব্যবহৃত হয়।
- Hounsfield unit কোন টিস্যুর বিস্তারিত Cross-sectional চিত্র তৈরিতে কাজ করে।
- CT scan এর আবিষ্কারক Sir Godfrey Hounsfield এর নামানুসারেই ‘Hounsfield unit’ রাখা হয়েছে।

উৎস: 
১) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) Title: "Bushberg's Physics of Medical Imaging"
Authors: Stewart C. Bushberg, John M. Boone, Edwin M. Leidholdt Jr., and J. Anthony Seibert
Publisher: Wolters Kluwer
Edition: 4th Edition (2018)
২৯৬.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় কোন রোগে?
  1. ক) লিউকোমিয়া
  2. খ) এনিমিয়া
  3. গ) সিরোসিস
  4. ঘ) ব্লাড ক্যান্সার
সঠিক উত্তর:
খ) এনিমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এনিমিয়া
ব্যাখ্যা
যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। কিন্তু এ অবস্থাকে রক্তশূন্যতা বলে না।
এনিমিয়া হলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় বলে রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণও কমে যায়।
থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের বংশগত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলেও রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতার সৃষ্টি হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৯৭.
ইউরাসিল কোথায় পাওয়া যায়?
  1. ক) ডি এন এ
  2. খ) জিন
  3. গ) লোকাস
  4. ঘ) আর এন এ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আর এন এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আর এন এ
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
• RNA হলো রাইবোনিউক্লিক এসিড (Ribonucleic Acid)।
• অধিকাংশ RNA-তে একটি পলিউক্লিওটাইডের সূত্র থাকে। এতে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেন  বেস (এডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন এবং ইউরাসিল) থাকে।
• RNA ভাইরাসের ক্রোমোজোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA পাওয়া যায়।
• কিন্তু কিছুসংখ্যক ভাইরাসের ক্ষেত্রে (যেমন— TMV, Tobacco Mosaic Virus) DNA অনুপস্থিত। অর্থাৎ যে সমস্ত ভাইরাস DNA দিয়ে গঠিত নয় তাদের নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে RNA । এসব ক্ষেত্রে RNA-ই বংশগতির বস্তু হিসেবে কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৯৮.
বাংলাদেশে প্রথম এইডস রোগী চিহ্নিত করা হয়-
  1. ক) ১৯৮১ সালে
  2. খ) ১৯৮৫ সালে
  3. গ) ১৯৮৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
৫ জুন ১৯৮১ সালে বিশ্বের প্রথম এইডস রোগী চিহ্নিত করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে প্রথম এইডস রোগী চিহ্নিত করা হয় ১৯৮৯ সালে।
২৯৯.
'আলট্রাসনোগ্রাফি' হচ্ছে-
  1. শক্তিশালী শব্দ নিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
  2. শরীরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
  3. শরীরের অভ্যন্তরের শব্দ বিশ্লেষণ
  4. নতুন ধরনের এক্সরে
সঠিক উত্তর:
শরীরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
ব্যাখ্যা
আল্ট্রাসনোগ্রাফি:

- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ দেন কে?
  1. ক) ল্যামার্ক
  2. খ) ডারউইন
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) এম্পেডোক্লিস
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যামার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদকে ল্যামার্কিজম বলে। এই মতবাদ দেন জ্যা বাপ্টিস্ট ল্যামার্ক৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই