বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন১,০৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০১২০০ / ১,০৯৫

১০১.
নিম্নের কোন রোগের টিকা EPI কর্মসূচির আওতাভুক্ত?
  1. ম্যালেরিয়া
  2. যক্ষা
  3. এইডস
  4. ডেঙ্গু
সঠিক উত্তর:
যক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যক্ষা
ব্যাখ্যা

• যক্ষা রোগের টিকা EPI কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

• বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization – WHO):
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর অধীনে পরিচালিত Expanded Program on Immunization (EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হয়।

• বর্তমানে বাংলাদেশে EPI-তে মোট টিকার সংখ্যা ১২ টি।
- যক্ষ্মা
- ডিফথেরিয়া
- হুপিং কাশি
- ধনুষ্টংকার
- পোলিওমাইলাইটিস
- হাম
- হেপাটাইটিস–বি জনিত রোগ
- হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ–বি জনিত রোগ
- রুবেলা
- নিউমোনিয়া
- জরায়ুমুখ ক্যান্সার
- টাইফয়েড

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, WHO website, প্রথম আলো এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

১০২.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে কয়টি ডাক্তারি ভিজিট জরুরি?
  1. ৮টি
  2. ৪টি
  3. ১০টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে ৪টি ডাক্তারি ভিজিট জরুরি।
সেগুলো হলোঃ ০-১৬ সপ্তাহে ১ টি, ২৪-২৮ সপ্তাহে ১টি, ৩২ সপ্তাহে ১টি এবং ৩৬ সপ্তাহের পর অর্থাৎ ৩৭ সপ্তাহ থেকে প্রসব না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০৩.
T2 ভাইরাসের দেহকে কয়টি অংশে ভাগ করা হয়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
T2 ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের গঠন: 
- প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যে সকল ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে T2 ব্যাকটেরিওফায সবচেয়ে পরিচিত ভাইরাস। 
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। 
- তাই এর নাম ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণকারী। 
- এটি সর্বাধিক পরিচিত ব্যাঙাচি আকৃতির একটি DNA ভাইরাস। 
- বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি ১৯১৭ সালে ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ফায ভাইরাস নাম দেন। 
- T2 ভাইরাসের দেহকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয়। যথা- 
১। মাথা ও ২। লেজ। 

মাথা: 
- মাথাটি স্ফীত ও ষড়ভূজাকৃতির এবং প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত। 
- এর দৈর্ঘ্য ৯৩-১০০ nm (ন্যানোমিটার) এবং প্রস্থ ৬৫ nm। 
- মাথার স্ফীত অংশের ভেতরে রিং আকৃতির দ্বিসূত্রক একটি DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। 
- ৬০,০০০ জোড়া নিউক্লিয়োটাইড দিয়ে DNA গঠিত। 
- এতে প্রায় ১৫০টি জিন থাকে। 
- মাথার অধিকাংশ স্থানই ফাঁপা বলে মনে হয়। 

লেজ: 
- মাথার পরবর্তী লম্বা সরু অংশটিকে বলা হয় লেজ। 
- লেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫-১১০ nm এবং ব্যাস প্রায় ১৫-২৫ nm। 
- লেজের উপরিভাগে সুস্পষ্ট চাকতির ন্যায় একটি কলার আছে এবং লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের ন্যায়। 
- এর অভ্যন্তরে কোন DNA থাকে না। 
- লেজের নিচের দিকে ১টি বেসপ্লেট, কাঁটার মত স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্ত্র থাকে। 
- লেজ, কলার, বেসপ্লেট, স্পাইক এবং স্পর্শক তন্ত্র সবই প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
- এতে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে যা পোষক কোষের আবরণ বিনষ্ট করতে পারে। 
- স্পর্শক তন্ত্রর সাহায্যে ভাইরাস পোষকের দেহে অবস্থান করে এবং কাঁটা দিয়ে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা যাচাই করার জন্য কোন রশ্মি প্রয়োগ করা হয়?
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি 
  3. আলফা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• মূল্যবান ধাতুর (যেমন: সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম) বিশুদ্ধতা এবং ভেতরের উপাদানের অনুপাত নির্ণয় করার জন্য রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করা হয়।
- বিশেষ করে XRF (X-ray Fluorescence) নামক পদ্ধতিতে ধাতুর কোনো ক্ষতি না করেই তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
- আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি এই কাজে ব্যবহৃত হয় না কারণ এদের ভেদন ক্ষমতা এবং আয়নন ক্ষমতা হয় খুব বেশি নতুবা খুব কম, যা নিখুঁত ও নিরাপদ বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী নয়।

 
• এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার: 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 

১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৩। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৫.
ভয় পেলে গায়ের লোম খাঁড়া হয় নিম্নের কোন হরমোনের প্রভাবে?
  1. অ্যাডরেনালিন
  2. থাইরক্সিন
  3. ইনসুলিন
  4. ক্যালসিটোনিন
সঠিক উত্তর:
অ্যাডরেনালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাডরেনালিন
ব্যাখ্যা
- ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় অ্যাড্রেনালিন হরমোনের প্রভাবে।|
- থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন মানুষের বৃদ্ধি এবং বিকাশে ভূমিকা রাখে। 
- প্যানক্রিয়াস একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। এটি গুরুত্বপুর্ন দুইটি হরমোন ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন নিঃসরণ করে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
- ক্যালসিটোনিন হরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।


উৎসঃ অক্সফোর্ড এবং নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
১০৬.
বাংলাদেশে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত হয় -
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
নিপাহ ভাইরাস:
- নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ।
- কাঁচা খেজুরের রসে বাদুড়ের বিষ্ঠা ও লালা মিশ্রিত হয় এবং ওই বিষ্ঠা ও লালাতে নিপাহ ভাইরাসের জীবাণু থাকে।
- ফলে খেজুরের কাঁচা রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। 
- এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ।
- মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে।
- বাংলাদেশে ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় নিপাহ ভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত হয়।
- লক্ষণগুলো হলো : জ্বর, মাথা ব্যথা, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি।

উৎস: i) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো। 
         ii) ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
১০৭.
গর্ভাবস্থায় মায়ের পরিচর্যায় পালনীয় বিষয়-
  1. ক) পুষ্টিকর খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা
  2. খ) পরিমিত বিশ্রামের ব্যবস্থা
  3. গ) ভারী কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লিখিত সবগুলো অপশনই গর্ভাবস্থায় মায়ের পরিচর্যায় পালনীয় বিষয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১০৮.
মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত কত ধরনের অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১৫
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২৮
সঠিক উত্তর:
গ) ২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০
ব্যাখ্যা

- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে।
- ২০টি অ্যামাইনাে এসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনাে এসিডকে (লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসােলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইনকে) অপরিহার্য অ্যামাইনাে এসিড বলা হয়।
- এই আটটি অ্যামাইনাে এসিড ছাড়া অন্য সবগুলাে অ্যামাইনাে এসিড আমাদের শরীর সংশ্লেষ করতে পারে। প্রাণিজ প্রােটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনাে এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৫।

১০৯.
থাইরয়েড ক্যান্সারের জন্য অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপিতে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়? 
  1. আয়োডিন 
  2. কার্বন 
  3. ফসফরাস 
  4. স্ট্রনশিয়াম 
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন 
ব্যাখ্যা

রেডিওথেরাপি: 
- রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজী 'Radiation Therapy' শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। 
- এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগ যেমন- ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যাধির চিকিৎসা করা হয়। 
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। 
- এটি টিউমার কোষের অভ্যন্তরস্থ ডিএনএ (DNA)-কে ধ্বংসের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি করার ক্ষমতা বিনষ্ট করে ফেলে। 

- রেডিওথেরাপি দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) বাহ্যিক রেডিওথেরাপি: 
- বাহ্যিক রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে শরীরের বাহির থেকে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে, কোবাল্ট বিকিরণ, ইলেকট্রন বা প্রোটন বীম ব্যবহার করা হয়। 
- শরীরের যে স্থানে টিউমারটি অবস্থিত, সেই দিকে তাক করে বীমটি প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় অল্প সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 
- তবুও এর মূল উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে যত বেশি সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজে থেকে এই ক্ষতি মেরামত করে ফেলে। 

(২) অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপি: 
- অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে রোগীকে শরীরের ভেতর থেকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। 
- এ প্রক্রিয়ায় রোগী তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর দেহে তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। 
- রক্তের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এ তরল পদার্থে তেজস্ক্রিয় ফসফরাস, হাড়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় স্ট্রনশিয়াম এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১০.
জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. ক) বনভূমির অবস্থান
  2. খ) মৃত্তিকার গঠন
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) সমুদ্র থেকে দূরত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) বারিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বারিপাত
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর নিয়ামক গুলো হচ্ছে - অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল, মৃত্তিকার গঠন, বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আদ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
১১১.
নিচের কোনটি ভাইরাসের নাম -
  1. ক) এইডস
  2. খ) জিকা
  3. গ) জলাতঙ্ক
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) জিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিকা
ব্যাখ্যা

জিকা ভাইরাস ( ইংরেজি Zika virus) হচ্ছে ফ্ল্যাভিভাইরিডি পরিবারের ফ্ল্যাভিভাইরাস গণের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের অন্যান্য ভাইরাসের মত এটি আবরণযুক্ত ও আইকসাহেড্রাল আকৃতির একসূত্রক RNA ভাইরাস।

এইডস ভাইরাসের নাম নয়। এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে নিরাময়হীন অবস্থায় নিয়ে যায়, যা এইডস নামে পরিচিত।

জলাতঙ্ক ভাইরাসঘটিত একটি রোগ যা লিসা ভাইরাসের কারণে ঘটে থাকে।

unicef.org

১১২.
মানুষের কোন অঙ্গটি হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়?
  1. যকৃত
  2. কিডনি
  3. ফুসফুস
  4. প্লীহা
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা
হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। 
- হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে। 
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

উৎস: NIH ওয়েবসাইট।
১১৩.
মস্তিষ্কের ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে কোন রোগ হয়?
  1. পক্ষাঘাত
  2. এপিলেপ্‌সি
  3. কোয়াশিওরকর
  4. পারকিন্‌সন
সঠিক উত্তর:
পারকিন্‌সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারকিন্‌সন
ব্যাখ্যা

• যে রোগে মস্তিষ্কের ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তা হলো পারকিনসন রোগ। এই রোগে প্রধানত মধ্যমস্তিষ্কের substantia nigra অংশের ডোপামিন সৃষ্টিকারী সেলগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়। ডোপামিন একটি গুরুত্বপূর্ণ न्यরোট্রান্সমিটার, যা শরীরের স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডোপামিনের অভাবে রোগীর হাতে ও পায়ে কাঁপুনি, চলাফেরায় ধীরগতি, পেশীর জড়তা, ভারসাম্যহীনতা এবং মুখের অভিব্যক্তি কমে যাওয়া লক্ষ্য করা যায়। পারকিনসন সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি, তবে জিনগত ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।

- উত্তর: ঘ) পারকিন্‌সন। 
 
• পারকিন্‌সন রোগ:
- এ রোগ মস্তিষ্কে এমন এক অবস্থা যাতে হাতে ও পায়ের কাঁপুনী হয় এবং আক্রান্ত রোগী নড়াচড়া, হাঁটাহাটি করতে অপারগ হয়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পক্ষাঘাত:
- শরীরের কোনো অংশের মাংস পেশির কার্য ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে পক্ষাঘাত বলে।
- সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
- আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস হতে পারে, যাতে শরীরের এক পাশের কোনো অঙ্গ বা উভয় পাশের অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
যেমন- দু'হাত ও পায়ের পক্ষাঘাত।

• এপিলেপ্‌সি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ। এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে। অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়। অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোনো কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে ৫ থেকে ২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

• কোয়াশিওরকর:
- প্রোটিন বা আমিষের অভাবে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
- কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৪.
কোন রোগের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই?
  1. ক) নিউমোনিয়া
  2. খ) যক্ষ্মা 
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) ক্যান্সার 
সঠিক উত্তর:
গ) এইডস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এইডস
ব্যাখ্যা
এইডস রোগের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই। 

এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে নিরাময়হীন অবস্থায় নিয়ে যায়, যা এইডস নামে পরিচিত।

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome/AIDS) এইচআইভি (Human Immuno-deficiency Virus/HIV) নামক ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, লোপ বা ধ্বংস অবস্থা। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেলস-এ সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত করা হয়। এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৯৮৪ সালে প্রথম এইডস লক্ষ্য করা যায় এবং মায়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯৮৬ সালের মধ্যেই এর প্রাদুর্ভাব ঘটে।

২০০৭ সালে পৃথিবীতে এইডস রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৩.২ মিলিয়ন, আর মারা যায় ২.১ মিলিয়ন যাদের মধ্যে ৩,৩০,০০০ জন ছিল নিরপরাধ শিশু। বাংলাদেশী জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এইডস বিস্তার রোধের সহায়ক।

সূত্র: World Health Organization & বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১১৫.
মানুষের চোখের রং নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ডিএনএ
  2. আরএনএ
  3. সেন্ট্রোমিয়ার
  4. নিউক্লিওলাস
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
ব্যাখ্যা
নিউক্লিক এসিড: 
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) এবং RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)। 
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। 
- বংশগতি ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA ও RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- সাধারণত ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো বহুন করে। 
- তাই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এর অংশকে জিন নামে অভিহিত করা হয়। 
সুতরাং, DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ। 
- যেসব জীবে DNA থাকে না কেবল RNA থাকে সে ক্ষেত্রে RNA জিন হিসেবে কাজ করে। 
যেমন- তামাক গাছের মোজাইক ভাইরাস (TMV)। 

- জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটিমাত্র জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই DNA বা জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলোও তাদের ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- ক্রোমোজোম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসাবে কাজ করে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। 
- মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা বংশগতির এ ধারা অব্যাহত থাকে। 
- ক্রোমোজোম বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতাপিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১১৬.
স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত রোগ কোনটি?
  1. ক) পারকিনসন রোগ
  2. খ) কোভিড-১৯
  3. গ) পোলিও
  4. ঘ) কোয়াশিওরকর
সঠিক উত্তর:
ক) পারকিনসন রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পারকিনসন রোগ
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগ হচ্ছে স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত রোগ।

- পারকিনসন মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাত ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। 
- পারকিনসন রোগ সাধারণত ৫০ বছরের অধিক বয়সীদের মাঝে দেখা যায়। 
- পারকিনসন রোগ এক প্রকার নিউরো ডিজেনারেটিভ বা স্নায়ুর অধঃপতনজনিত রোগ।
- লক্ষণসমূহ-
১) হাত,পা,মাথা এবং মুখের থুতনি ও চোয়াল কেঁপে ওঠা। 
২) ধীরে ধীরে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৩) হাত পা ও শরীরের মাংস পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। ফলে, শরীরের যেকোনও অংশ নড়াচড়া করতে কষ্ট হয়, যেমন- হাত ঘোরাতে বেশ কষ্ট অনুভূত হয়।
৪) হাঁটাচলা ক্রমশ ধীরগতি হয় এবং জড়তা দেখা দেয়।

সূত্র- WHO Website [লিঙ্ক]
 
১১৭.
মানব মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত?
  1. ১০ মিলিয়ন
  2. ১০ বিলিয়ন
  3. ১০ ট্রিলিয়ন
  4. ১০ কোয়াড্রিলিয়ন
সঠিক উত্তর:
১০ বিলিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা

- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একক হলো নিউরন। মানব মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি নিউরন থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১১৮.
ভিটামিন ‘ই’ -এর কাজ কি?
  1. দেহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা
  2. প্রজননে সহায়তা করা
  3. হার্ট এটাক প্রতিরোধ করা
  4. রক্তজমাট বাঁধাকে দ্রুত দূরীভূত করা
সঠিক উত্তর:
প্রজননে সহায়তা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজননে সহায়তা করা
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ই (Vitamin E):
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে ।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র - গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৯.
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে থাকে -
  1. ক) সাইটোপ্লাজম
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) প্লাজমিড
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষের গঠন:
ব্যাকটেরিয়ার গঠন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলাে থাকে তা হলাে -
(ক) ফ্ল্যাজেলা
(খ) ক্যাপসিউল
(গ) কোষ প্রাচীর
(ঘ) প্লাজমামেমব্রেন
(ঙ) মেসােসােম
(চ) সাইটোপ্লাজম
(ছ) ক্রোমােসােম এবং
(জ) প্লাজমিড

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১২০.
কোনটি পানিবাহিত রোগ?
  1. ক) বসন্ত
  2. খ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  3. গ) সর্দি-কাশি
  4. ঘ) জন্ডিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) জন্ডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জন্ডিস
ব্যাখ্যা

- যে সব রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়ায় তাদেরকে পানিবাহিত রোগ বলে।
পানিবাহিত অনুজীবসমূহ মূলত দেহের পাকস্থলিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে অভীষ্ট অঙ্গে বা অন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়।
পানিবাহিত রোগসমূহের মধ্যে - ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, পোলিও, হেপাটাইটিস (জন্ডিস) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

- যে সকল রোগ হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় বায়ুতে জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হয় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে।
যেমনঃ সোয়াইন ফ্লু, হাম, গুটিবসন্ত, যক্ষা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা।

উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি ,বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া

১২১.
কোন হরমোনের অভাবে গলগন্ড রোগের সৃষ্টি হয়?
  1. থাইরক্সিন
  2. ইনিসুলিন
  3. গ্লুকাগন
  4. করটিসোল
সঠিক উত্তর:
থাইরক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা
- থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে গলগণ্ড হতে পারে। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি থাইরক্সিন (thyroxine - T4) এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন(triiodothyronine -T3) নামক হরমোন তৈরি করে, যা বিপাক এবং শক্তি উৎপাদন সহ - অনেক শারীরিক ক্রিয়াকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গলগন্ড প্রায়শই থাইরয়েড হরমোনের অত্যধিক বা কম উৎপাদনের কারণে থাকে ।

উৎস : www.moh.gov.sa
১২২.
জ্যাঙ্ক ফুডে নিচের কোন দ্রব্যের আধিক্য থাকে?
  1. ক) চর্বি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) শর্করা
  4. ঘ) আমিষ
সঠিক উত্তর:
ক) চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চর্বি
ব্যাখ্যা
- জাঙ্ক ফুড হচ্ছে একধরনের খাদ্য, যাতে চর্বি, লবণ, কার্বনেট প্রভৃতি ক্ষতিকারক দ্রব্যের আধিক্য থাকে।
- ফাস্টফুড অসম্পৃক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ। এ ধরনের চর্বি রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিয়ে ধমনিতে ব্লক সৃষ্টি করে।
-  পাশাপাশি উচ্চমাত্রার লবণ, টেস্টিং সল্ট বা মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট ও কৃত্রিম রং থাকায় ফাস্টফুড উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। সমান ঝুঁকি থাকে ডুবো তেলে ভাজা ফাস্টফুডেও।
-  ওজন বাড়ার সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, পেটের সমস্যাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির প্রধান কারণ ফাস্টফুড। 
 
উৎস : প্রথম আলো  
১২৩.
মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে কোনটি?
  1. ক) বায়ু দূষণ
  2. খ) পানি দূষণ
  3. গ) শব্দ দূষণ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দ দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দ দূষণ
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ:

- অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
- উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে।
- অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
- পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
- সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১২৪.
আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে গ্রহণ করে-
  1. ক) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
  2. খ) অক্সিজেন ও রক্তের আমিষ
  3. গ) ইউরিয়া ও গ্লুকোজ
  4. ঘ) এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
রক্তের হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ফুসফুস হতে কোষে এবং রক্তের মাধ্যমে গ্লুকোজ সমস্ত দেহে পরিবাহিত হয়। যা পরবর্তীতে দেহকোষ গ্রহণ করে নেয়।

উৎসঃ ৭ম শ্রেণি বিজ্ঞান বই।
১২৫.
রক্তে প্লেইটলেট এর প্রধান কাজ কি?
  1. ক) O2 পরিবহন
  2. খ) রোগ প্রতিরোধ করা
  3. গ) রক্ত তঞ্চন করা
  4. ঘ) CO2 পরিবহন
সঠিক উত্তর:
গ) রক্ত তঞ্চন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্ত তঞ্চন করা
ব্যাখ্যা
Platelets play an important role in the formation of a blood clot by aggregating to block a cut blood vessel and provide a surface on which strands of fibrin form an organized clot, by contracting to pull the fibrin strands together to make the clot firm and permanent, and, perhaps most important, by providing or mediating a series of clotting factors necessary to the formation of the clot. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১২৬.
পোলিও রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকার নাম কী? 
  1. DPT
  2. TT
  3. BCG
  4. OPV
সঠিক উত্তর:
OPV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
OPV
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম: 
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকার আবিষ্কার এবং এর প্রচলন মানুষের জন্য আশীর্বাদ। 
- টিকার মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে চূড়ান্তভাবে নির্মূলের পূর্বে গুটি বসন্ত এককভাবে পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০ কোটি মানুষের প্রাণ হরণ করেছে। 
- আবিষ্কৃত পোলিও ভ্যাকসিন OPV এবং এর ব্যবহার দ্বারা বাংলাদেশ বর্তমানে পোলিও রোগ মুক্ত। 
- এই টিকা বা ভ্যাকসিনের জন্যই রুবেলা, হাম, মাম্পস, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, পারটুসিস, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ, যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্মসূচীতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়- 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
এমআরআই পরীক্ষায় কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. তড়িৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. প্রতিধ্বনি
  4. আলোর প্রতিসরণ
সঠিক উত্তর:
চৌম্বকক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বকক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
এমআরআই: 
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। 
- এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে -
  1. ক) লিগামেন্ট
  2. খ) ফাইবার
  3. গ) কানেক্টিভ জয়েন্ট
  4. ঘ) টেনডন
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেনডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেনডন
ব্যাখ্যা
টেনডন:
- টেনডন হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত একটি শক্ত ফিতা বিশেষ যা পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে।
- টেনডন পেশির ফাইবার হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের ফাইবারের সাথে পারস্পরিক শক্ত বুনন কাঠামো তৈরি করে, তাই সহজে পেশি থেকে হাড় বা হাড় থেকে পেশি বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
- টেনডন বেশ শক্ত, সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে যায় না।

লিগামেন্ট:
- লিগামেন্ট হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত নমনীয় বন্ধনী যা দুটি হাঁড়কে একত্রে বেঁধে রাখে।
- অস্থিসন্ধির হাড়সমূহকে যার যার অবস্থানে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখে লিগামেন্ট।
- লিগামেন্টের ফাইবারসমূহ হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের বর্ধিত অংশ। লিগামেন্ট ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, আর ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে ইলাস্টিক তন্তু গঠিত।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই।
১২৯.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কবে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে?
  1. ১১ মার্চ ২০২০
  2. ১৩ মার্চ ২০২০
  3. ১৮ মার্চ ২০২০
  4. ২২ মার্চ ২০২০
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ২০২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ২০২০
ব্যাখ্যা
COVID-19 অতিমারী বা মহামারি:
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
১৩০.
জন্মের এক মাসের মধ্যে শিশুকে কোন টিকা দেওয়া হয়?
  1. DPT - I
  2. DT
  3. BCG
  4. TT - 1
সঠিক উত্তর:
BCG
উত্তর
সঠিক উত্তর:
BCG
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কিছু রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদি এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে-


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
ডেঙ্গু সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ
  2. খ) এর ভাইরাসের নাম ফ্লাভিভাইরাস
  3. গ) এর বাহক Aedes aegypti
  4. ঘ) উপরের সবগুলো সঠিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- এর ভাইরাসের নাম ফ্লাভিভাইরাস।
- এর ভাইরাস RNA ভাইরাস।
- এর বাহক Aedes aegypti.
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২৫।]
১৩২.
লসিকায় কোন উপাদানের পরিমাণ সবেচেয়ে বেশি?
  1. পানি
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহ পদার্থ
  4. কার্বোহাইড্রেট
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩৩.
রিকেটস রোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) মস্তিষ্ক
  3. গ) হাড়
  4. ঘ) কিডনি
সঠিক উত্তর:
গ) হাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাড়
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rickets)
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রােগ হয়। অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শােষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়ােজন।
- সুতরাং, রিকেটস্‌ রোগের ফলে হাড়ের গঠন ব্যাহত হয়।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন "ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।

১৩৪.
করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেন____
  1. ক) উইলিয়াম কেলি
  2. খ) কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
  3. গ) রোনাল্ড কচ
  4. ঘ) প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয় নি
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয় নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয় নি
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি চীনে ভয়াবহ আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের প্রতিষধক আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো এর যথাযথ কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয় নি।।করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে - জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, পেটে জ্বালাপোড়া, পাতলা পায়খানা।মারাত্মক লক্ষণ সমূহের মধ্যে রয়েছে - নিউমোনিয়া, সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপেটরি সিনড্রোম, কিডনি বিকল, মৃত্যু।
১৩৫.
হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে কোন রোগ সৃষ্টি হয়?
  1. হার্ট অ্যাটাক
  2. হার্ট ব্লক
  3. হার্ট ফেইলিউর
  4. সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
সঠিক উত্তর:
হার্ট অ্যাটাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্ট অ্যাটাক
ব্যাখ্যা
হার্ট ব্লক:
- হৃদপিন্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃদ অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে ।

হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে।

হার্ট ফেইলিউর:
- হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিওর বলে।
 
তথ্যসূত্র - হৃদপিণ্ডের যত কথা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
গর্ভাবস্থায় নিম্নের কোন ঔষধটি অত্যাবশ্যকীয়?
  1. ক) কৃমির ওষুধ
  2. খ) বমির ওষুধ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) এন্টাসিড
সঠিক উত্তর:
গ) ফলিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফলিক এসিড
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড গ্রহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) যেমন- স্পাইনাল কর্ড (Spina Bifida) ও ব্রেইনের (anencephaly) জন্মগত ত্রুটি প্রতিরােধে সাহায্য করে।
নিউরাল টিউব হলাে ভূনের একটি অংশ যা থেকে মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের গঠন হয়।
১৩৭.
নিচের কোন পদ্ধতিতে Bacteria এর Spore ধ্বংস হয়?
  1. Boiling
  2. Fumigation
  3. Cidex solution
  4. Autoclave
সঠিক উত্তর:
Autoclave
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Autoclave
ব্যাখ্যা
Autoclave:
একটি অটোক্লেভ হল জীবাণুমুক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং পরীক্ষাগার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি বিশেষ সরঞ্জাম। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং স্পোর সহ অণুজীবকে হত্যা বা নিষ্ক্রিয় করতে উচ্চ-চাপের বাষ্প ব্যবহার করে।

Boiling:
ফুটানো হল জীবাণুমুক্তকরণ এবং জীবাণুমুক্ত করার একটি পদ্ধতি যাতে একটি তরল, সাধারণত জল, তার স্ফুটনাঙ্কে, যা 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস (212 ডিগ্রি ফারেনহাইট) আদর্শ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে গরম করা জড়িত। 

Fumigation:
ফিউমিগেশন হল একটি প্রক্রিয়া যা একটি এলাকা বা বস্তুকে বায়বীয় রাসায়নিক বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে এনে জীবাণুমুক্ত বা জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিটি প্রায়শই বদ্ধ স্থানে কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় বা অণুজীব দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যেমন ভবন, স্টোরেজ এলাকা বা সরঞ্জাম।

Cidex solutio:
সিডেক্স হল একটি উচ্চ-স্তরের জীবাণুনাশক দ্রবণের একটি ব্র্যান্ড নাম যা প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা সেটিংসে চিকিৎসা যন্ত্র এবং সরঞ্জামগুলিকে জীবাণুমুক্ত এবং জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১৩৮.
Exclusive breast feeding কয়মাস পর্যন্ত করানো হয়?
  1. ৬ মাস
  2. ১২ মাস
  3. ৪ মাস
  4. ১৮ মাস
সঠিক উত্তর:
৬ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ মাস
ব্যাখ্যা
- Exclusive breast feeding হল শিশুদের জন্য একটি খাওয়ানোর অভ্যাস যেখানে তাদের জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, পানি সহ অন্য কোন খাবার বা তরল না দিয়ে।
- প্রথম ছয় মাসের পর, মা ও শিশুর  ইচ্ছা অনুযায়ী শিশুর কমপক্ষে দুই বছর বা তার বেশি বয়স না হওয়া পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের সাথে breast feeding অব্যাহত থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১৩৯.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
সঠিক উত্তর:
জন্ডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ডিস
ব্যাখ্যা

• যকৃতের রোগ হচ্ছে - জন্ডিস। 

জন্ডিস: 

- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪০.
বাণিজ্যিকভাবে অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন উৎপাদনের জন্য কোন ছত্রাক ব্যবহৃত হয়?
  1. Penicillium notatum
  2. Penicillium griseofulvum
  3. Penicillium chrysogenum
  4. Rhizopus stolonifer
সঠিক উত্তর:
Penicillium chrysogenum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Penicillium chrysogenum
ব্যাখ্যা

• বাণিজ্যিকভাবে অধিক ও উন্নত মানের পেনিসিলিন Penicillium chrysogenum থেকে উৎপাদিত হয়।

• অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাকের ব্যবহার:

- গ্রাইসিওফুলভিন প্রস্তুতকরণ:
- Penicillium griseofulvum নামক ছত্রাক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিওফুলভিন নামক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
- এই ঔষধ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দাদ ও ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

- পেনিসিলিনের আবিষ্কার ও উৎপাদন:
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রথমে Penicillium notatum ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন প্রস্তুত করেন।

- বাণিজ্যিক উৎপাদন:
- পরবর্তীতে Penicillium notatum থেকে উৎপাদন কম হওয়ায়,
- Penicillium chrysogenum থেকে উচ্চ মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪১.
টিকা সাধারণত কী দিয়ে তৈরি করা হয়?
  1. সম্পূর্ণ সক্রিয় জীবাণু
  2. নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবাণু
  3. অ্যান্টিবডি
  4. এনজাইম
সঠিক উত্তর:
নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবাণু
ব্যাখ্যা

• টিকা তৈরিতে মৃত বা দুর্বলকৃত অণুজীব ব্যবহৃত হয়।

• প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা:

• টিকার উৎপত্তি ও অর্থ:
- ভ্যাকসিন শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকসিনা (vaccinus) থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ হলো গরু থেকে প্রাপ্ত।

• টিকার আবিষ্কার:
- ড. এডওয়ার্ড জেনার (Dr. Edward Jenner) ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম বসন্ত রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
- পরবর্তীকালে বহু বছর গবেষণার মাধ্যমে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়।

• টিকার সংজ্ঞা:
- টিকা হলো দেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত রূপ, যা দেহে প্রবেশ করিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা হয়।

• টিকার গঠন ও প্রকার:
- টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত অণুজীব (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) হতে পারে—
- জীবিত কিন্তু দুর্বলকৃত, অথবা
- সম্পূর্ণ মৃত।

• টিকার কার্যপ্রণালি:
- টিকা দেহে প্রবেশ করলে এটি অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে, ফলে দেহে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- এর মাধ্যমে দেহ ভবিষ্যতে একই রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে।

• টিকার উৎস:
 - অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকা ভাইরাস থেকে প্রস্তুত করা হয়।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
নিচের কোন টেলিস্কোপটি সম্প্রতি ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সমর্থ হয়েছে?
  1. ক) ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ
  2. খ) হাবল টেলিস্কোপ
  3. গ) জেমস-ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ
  4. ঘ) স্পিটজার টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর:
ক) ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
A black hole and its shadow have been captured in an image for the first time, a historic feat by an international network of radio telescopes called the Event Horizon Telescope (EHT).
Source: NASA
১৪৩.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) অনুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) রক্তরস
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেতকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা।
- এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
১৪৪.
মস্তিষ্কের ডোপামিন তৈরির কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলে কী রোগ হয়?
  1. এপিলেপসি
  2. কোয়াশিয়রকর
  3. প্যারালাইসিস
  4. পারকিনসন
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগ:
- মস্তিস্কে স্নায়ু কোষ বা নিউরন শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার (এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ) নষ্ট হয়ে যায় অথবা এর ঘাটতি দেখা দেয়।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মস্তিস্কে ব্যাজাল গ্যাংলিয়া নামের একটি অংশ মানুষের চলাফেরা এবং গতির সমন্বয় করে থাকে।
- ডোপামিনের অভাবে সেই সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
- তখন মানুষ পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়।

এই রোগের উপসর্গ:
- হাত এবং পায়ে কাঁপুনি হয়।
- শরীরের একপাশের হাত এবং পা স্বাভাবিকের তুলনায় শক্ত হয়ে যায়।
- চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যায়।

অন্যদিকে -
- এপিলেপসি বা মৃগীরোগ হলো এক ধরণের স্নায়বিক ব্যাধি যা একজন ব্যক্তির বারবার খিঁচুনি ঘটায়। 
- কোয়াশিয়রকর হলো প্রোটিনের তীব্র অপুষ্টিজনিত রোগ যাতে শোথ এবং ফ্যাটি লিভার হয়।
- প্যারালাইসিস হলো একটা অবস্থা যেখানে শরীরের কিছু বা সমস্ত অঙ্গের সাময়িক বা সম্পূর্ণ সঞ্চালণ বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: ১৩ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
১৪৫.
শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয় -
  1. বছরে একবার
  2. বছরে দুইবার
  3. বছরে তিনবার
  4. এর কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বছরে দুইবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বছরে দুইবার
ব্যাখ্যা
- শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে হয় বছরে দুইবার। 
- ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। 
- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। 
- ভিটামিন-এ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশে নেমে এসেছে। 

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১৪৬.
চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে যে রোগ হয় তার নাম কী?
  1. ক) দীর্ঘদৃষ্টি
  2. খ) হ্রসদৃষ্টি
  3. গ) গ্লোকোমা
  4. ঘ) পুঞ্জাক্ষি
সঠিক উত্তর:
ক) দীর্ঘদৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দীর্ঘদৃষ্টি
ব্যাখ্যা
হ্রস্বদৃষ্টি বা ক্ষীণদৃষ্টি (Myopia)
- যখন  চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখা পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে হ্রস্বদৃষ্টি বলে।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী দূরত্ব বেড়ে গেলে বা ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে।
- কোন কারনে চোখের অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেলে।
প্রতিকার: অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia)
- যখন কোন চোখ দূরের বস্তু দেখে কিন্তু কাছের বস্তু দেখতে পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বলে।
- সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ত্রুটি দেখা যায়।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে অথবা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে।
- কোন কারণে অক্ষি-গোলকের ব্যাসার্ধের কমে গেলে। 
প্রতিকার: উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৪৭.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাবে মানবদেহে কোন জটিলতা সৃষ্টি হয়?
  1. রাতকানা রোগ হয়
  2. রক্তাল্পতা দেখা দেয়
  3. জয়েন্টে ব্যথা হয়
  4. ডায়রিয়া হয়
সঠিক উত্তর:
রক্তাল্পতা দেখা দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাল্পতা দেখা দেয়
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।

রক্তশূন্যতা (Anemia)
- রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
- খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রোগ দেখা যায়।
- লৌহের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৪৮.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. লুই পাস্তুর
  3. এহরেনবার্গ
  4. রবার্ট কচ
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় কোন রোগের বিরুদ্ধে?
  1. যক্ষ্মা
  2. হুপিং কাশি
  3. রুবেলা
  4. নিউমোনিয়া
সঠিক উত্তর:
হুপিং কাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুপিং কাশি
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
- বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।
- পিসিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে।

সূত্র: www.dghs.gov.bd ওয়েবসাইট
১৫০.
প্রোটিনের অভাবে মানুষের কী রোগ হয়?
  1. কোয়াশিয়রকর
  2. মেরাসমাস
  3. বেরিবেরি
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা

প্রোটিনের অভাবজনিত রোগঃ
খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে 'মেরাসমাস' ও 'কোয়াশিয়রকর' নামক দুটি রোগ হয়।
 - মেরাসমাস রোগে পেশী ও মেদ ক্ষয় হয় ও চামড়া কুচকে যায়, দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়, কম বয়সে এ রোগ হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
- সাধারণত ২ - ৪ বছর বয়সে শিশুদের খাদ্যে আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এ রোগে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, পেশী ক্ষয় হতে থাকে, পানি জমে শরীর ফুলে যায়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)

১৫১.
কেমোথেরাপি কী ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাঁপানি
  2. ক্যান্সার
  3. হৃদরোগ
  4. ডায়াবেটিস
সঠিক উত্তর:
ক্যান্সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যান্সার
ব্যাখ্যা
কেমোথেরাপি: 
- ক্যান্সারে শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। 
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক চিকিৎসা, যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। 
- কেমোথেরাপি হলো ক্যান্সারের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। 
- প্রতিটি জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত যে কোষ বৃদ্ধি পায় বা বিভাজিত হয়। 

- জীবদেহের এই কোষ বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত হয়েছে। 
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। 
- কোষ বিভাজনের কোন ধাপে কী প্রয়োগ করা হবে তার ওপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধগুলো ঠিক করা হয়। 
- এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে। যেমন: প্রতিদিনে ১ বার, সপ্তাহে ১ বার বা মাসে ১ বার ইত্যাদি। সাধারণত এভাবে প্রায় ৬ বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। 
- কেমোথেরাপির বিশেষ ঔষধ ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অন্য কোষও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫২.
কোনটির সংক্রমণে যক্ষ্মা রোগ হয়?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটেজোয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা সাধারণত Mycobacterium Tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয়।
এটি জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগ TB নামেও পরিচিত।

যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ। সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়।

এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে।
শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়। এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। রোগটি অন্যদের তুলনায় একই পরিবারের লোকদের মধ্যে অধিক পরিমাণে সংক্রমিত হয়ে থাকে, কেননা এক পরিবারের সদস্যরা একই বাড়িতে বসবাস করে, একই টেবিলে খাবার খায় ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে, তবে যক্ষ্মা বংশানুক্রমিক নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১৫৩.
মানুষের হৃদপিণ্ডে কয়টি অলিন্দ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। এর মাঝে রয়েছে দুইটি অলিন্দ এবং দুইটি নিলয়।
১৫৪.
ডেঙ্গু ভ্যাকসিন 'কিউডেঙ্গা' কোন দেশের তৈরি?
  1. ফ্রান্স
  2. জাপান
  3. চীন
  4. উত্তর কোরিয়া
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
কিউডেঙ্গা:
- প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগের একমাত্র বাহক এডিস মশা।
- জরুরি প্রয়োজনে জাপানের তৈরি ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
- জাপানের ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
- এর আগে জরুরি প্রয়োজনে ওই কোম্পানির টিকাকে ছাড়পত্র দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল।
- জাপানের ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারী কোম্পানি তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ তৈরি করেছে।
- ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন অঞ্চলগুলোয় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে জাপানের তৈরি টিকা ব্যবহার করা যাবে। 

উল্লেখ্য,
- প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউভিএম) লার্নার কলেজ অব মেডিসিনের গবেষকরা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনের বিরুদ্ধে উপযোগী টিকা নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
- আইসিডিডিআর,বি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক ডোজের ডেঙ্গু টিকা টিভি-০০৫ মূল্যায়ন করে দেখা যায়, এটি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োগে নিরাপদ।

উৎস: ৪ অক্টোবর, ২০২০, যুগান্তর। [link]
১৫৫.
মৃত জীবাণু ভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা কোনটি?
  1. পোলিও
  2. কলেরা
  3. BCG
  4. হাম
সঠিক উত্তর:
কলেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলেরা
ব্যাখ্যা
• মৃত জীবাণু ভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা হলো কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা। 

• নিষ্প্রাণ টিকা তৈরি করা হয় মৃত বা নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু দিয়ে, যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে না কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে।

• মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন।
 এগুলো হলো-
- নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine)- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।
- মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine)- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন।
- নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine)- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।
- দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু (Surface chemical molecule)- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।
- ডিএনএ টিকা (DNA vaccine)- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
মানবদেহে কোষের Chromosome এর সংখ্যা-
  1. ক) ২২ জোড়া
  2. খ) ২৩ জোড়া
  3. গ) ২৪ জোড়া
  4. ঘ) ১৩ জোড়া
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ জোড়া
ব্যাখ্যা

মানবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া।এর মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোসোম এবং ২২ জোরা অটোসোম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান।

১৫৭.
MRI যন্ত্রে প্রধানত কোন দুটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গামা রশ্মি ও এক্স-রে
  2. রেডিও তরঙ্গ ও আলোক তরঙ্গ
  3. এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ড
  4. শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

- এমআরআই (Magnetic Resonance Imaging) স্ক্যানার মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির বিস্তারিত চিত্র তৈরি করতে দুটি প্রধান শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র শরীরের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনগুলোকে একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে সারিবদ্ধ করতে বাধ্য করে। আবার রেডিও তরঙ্গ যখন সারিবদ্ধ প্রোটনগুলোতে প্রয়োগ করা হয়, তখন তারা শক্তি শোষণ করে এবং পরবর্তীতে সেই শক্তি সংকেত হিসাবে নির্গত করে, এই সংকেতগুলো একটি কম্পিউটার দ্বারা প্রক্রিয়া করে বিস্তারিত ছবি তৈরি করা হয়। 

এমআরআই(MRI): 

- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৫৮.
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) কান
  2. খ) নাক
  3. গ) গলা
  4. ঘ) পাকস্থলী
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মারাত্মক রোগ যা গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- Corynebacterium diphtheriae নামক ব্যাকটেরিয়া ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী।
- এই রোগে গলার নিম্নাংশে পুরু পর্দার আচ্ছাদন (ডিপথেরিক মেমব্রেন) পড়ে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
- এই রোগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, প্যারালাইসিস, কিডনি নষ্ট হতে পারে এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণসমূহ-
১) ঠান্ডা লাগা। 
২) জ্বর। 
৩) গলায় প্রচন্ড ব্যাথা ও কাশি। 
৪) মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া। 
৫) শ্বাস নিতে অসুবিধা। 
৬) খাবার গিলতে সমস্যা। 
৭) কথা বলার মধ্যে জড়তা। 
৮) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। 
৯) দুর্বলতা। 
১০) প্রচন্ড মাথা ব্যথা। 

সূত্র- Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
১৫৯.
নিচের কোনটি কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত সংবহনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হেপাটিক ধমনি
  2. খ) ফুসফুসীয় ধমনি
  3. গ) পালমােনারি শিরা
  4. ঘ) ফিমোরাল ধমনি
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুসীয় ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুসীয় ধমনি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
সাধারণত ধমনি সংবহনে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
যেমন মহাধমনি, হেপাটিক বা যকৃত ধমনি, ফিমোরাল ধমনি ইত্যাদি প্রায় সকল ধমনি সংবহনেই অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকের

কেবল ফুসফুসীয় ধমনির সংবহনে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
- ফুসফুসীয় ধমনির উদ্ভব হয় ডান নিলয় থেকে।
- হৃদপিণ্ডের ডান নিলয়ের সংকোচনের ফলে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত তথা অক্সিজেনরিক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

করােনারি ধমনি: অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করােনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।

ইনমিনেট ধমনি: এটি একটি খাটো ও মােটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারােটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমােনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমােনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
ডেঙ্গু যে ধরণের ভাইরাস -
  1. ক) DNA
  2. খ) DNA + RNA
  3. গ) RNA
  4. ঘ) mRNA
সঠিক উত্তর:
গ) RNA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) RNA
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- এর ভাইরাসের নাম Dengue virus(DENV)
- ইহা একটি RNA ভাইরাস।
- এর বাহক Aedes aegypti.

তথ্যসূত্র: জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট।
১৬১.
হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরের স্তর কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট - 

- এপিকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।
- মায়োকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- এন্ডোকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায় ।

অন্যদিকে -
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬২.
Species Plantarum বইটি রচনা করেন কে?
  1. ক) অ্যারিস্টটল
  2. খ) থিয়োফ্রাস্টাস
  3. গ) রবার্ট হুক
  4. ঘ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species Plantarum বইটি রচনা করেন। এই বইটির প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৬৩.
লিসমেনিয়া ((Leishmania) নামক পরজীবীর আক্রমণে মানবদেহে কোন রোগের সংক্রমণ দেখা দেয়?
  1. ডেঙ্গু জ্বর
  2. কালাজ্বর
  3. ফাইলেরিয়া জ্বর
  4. কুষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
কালাজ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালাজ্বর
ব্যাখ্যা

লিসমেনিয়া (Leishmania) নামক পরজীবীর আক্রমণে মানবদেহে কালাজ্বর (Leishmaniasis বা Kala-azar) নামক সংক্রামক রোগ দেখা দেয়।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া এলাকা হলো সর্বাধিক কালাজ্বর প্রবণ এলাকা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়া সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়।
- আর ঠাকুরগাঁও সহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলাগুলো হলো ফাইলেরিয়া প্রবণ এলাকা।
সূত্র: Encyclopedia Britannica থেকে বঙ্গানুবাদ ও সহজীকৃত.

১৬৪.
নিচের কোনটি ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ নয়?
  1. ক) জ্বর হওয়া
  2. খ) পেশীতে ব্যথা অনুভব করা
  3. গ) মাথাব্যথা
  4. ঘ) উচ্চ রক্তচাপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চ রক্তচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চ রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপ ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ নয়। 

লক্ষণ- 
- ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ২-২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে, গড়ে ৭-১০ দিন।
- প্রাথমিকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জ্বর, ক্ষুধামন্দা, গা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশি ইত্যাদি দেখা দেয়।
- এর পরে বমি, পাতলা পায়খানা এবং ত্বকে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- নাক, মাড়ি, চোখ, বমিতে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- ত্বকে রক্তক্ষরণের কারণে এক ধরনের ছোপ ছোপ লালচে ক্ষত দেখা দেয়, কাশি এবং মলেও রক্তক্ষরণ হয়।
- শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ হতে থাকে, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে।
- এ রোগের কিছু লক্ষণ ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুজ্বরের মতো মনে হতে পারে। ৮-১২ দিনের মধ্যে মৃত্যু হয়ে থাকে।
-দুর্বলতা এবং অস্থি জোড়ার ব্যথা রোগ প্রশমনের দীর্ঘকাল পরও পরিলক্ষিত হয়। 

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
১৬৫.
সর্বপ্রথম পোলিওমাইলিটিস কে আবিষ্কার করেন?
  1. সার্জন জ্যাকব হেইন
  2. সার্জন রজার পাওয়েল
  3. সার্জন হেইরী কেইন
  4. সার্জন জ্যাকলিন হ্যারিস
সঠিক উত্তর:
সার্জন জ্যাকব হেইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্জন জ্যাকব হেইন
ব্যাখ্যা
পোলিও:

- পোলিও এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের পুরো নাম পোলিওমাইলাইটিস।
- ১৮৪০ সালে জার্মান অর্থোপেডিক সার্জন জ্যাকব হেইন সর্বপ্রথম পোলিওমাইলিটিস আবিষ্কার করেন।
- মানুষ হচ্ছে পোলিও ভাইরাসের একমাত্র প্রাকৃতিক পোষক।
- পোলিও ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে অন্য সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে।
- ভাইরাসটি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে এবং মাংসপেশিকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকোষকে আক্রান্ত করে। এর ফলে ব্যক্তির শরীর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়।
- আক্রান্ত স্থানটি সাধারণত পায়ে হয়ে থাকে।
- পোলিও শিশুদেরই অধিক আক্রান্ত করে, তাই এটি অপরিপক্ব পক্ষাঘাত নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৯ জুন, ২০২২।
১৬৬.
শরীর হতে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়-
  1. ক) ফুসফুস
  2. খ) কিডনী
  3. গ) হৃৎপিণ্ড
  4. ঘ) যকৃত
সঠিক উত্তর:
খ) কিডনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কিডনী
ব্যাখ্যা

আমাদের দেহের বিপাকক্রিয়ায় তৈরি সব বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে কিডনি বা বৃক্কের মাধ্যমেই বের হয়ে যায়।

একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৫০০ মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে।
মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত পদার্থ থাকে। এগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
এসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃক্ক মানবদেহের সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
তা ছাড়া মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৭.
অটিজম কী?
  1. ক) চোখের সমস্যা
  2. খ) বিকাশের সমস্যা
  3. গ) দাঁতের সমস্যা
  4. ঘ) কথায় জড়তা
সঠিক উত্তর:
খ) বিকাশের সমস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিকাশের সমস্যা
ব্যাখ্যা
• অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শিশুদের স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা,
যেখানে
- শিশুর সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অসুবিধা,
- আশেপাশের পরিবেশ ও ব্যক্তির সাথে মৌলিক ও ইশারা ইংগিতের মাধ্যমে যোগাযোগের সমস্যা
- এবং আচরণের পরিবর্তন দেখা যায়।

সূত্র: নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ সরকার।
১৬৮.
যক্ষ্মার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. ছত্রাক
  4. কৃমি
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

মানুষের যক্ষ্মার জন্য দায়ী হলো Mycobacterium tuberculosis নামক এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
গরু-ছাগলের যক্ষ্মার জন্য দায়ী Mycobacterium bovis নামক এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৬৯.
শরীরের কোন অঙ্গে যক্ষ্মার জীবাণু সাধারণত আক্রমণ করে না?
  1. অস্থি
  2. মস্তিষ্ক
  3. ক্ষুদ্রান্ত্র
  4. হৃদপেশি
সঠিক উত্তর:
হৃদপেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃদপেশি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যক্ষ্মা হলো Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত একটি রোগ। সাধারণত মানব শরীরে এমন কোনো অঙ্গ নেই - যেখানে যক্ষ্মা হতে দেখা যায় না। ফুসফুস, ক্ষুদ্রান্ত্র, ত্বক, লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হলো সাধারণ কিছু অঙ্গ যেখানে যক্ষ্মা বেশি আক্রমণ করে।
তবে অস্থি, মস্তিষ্ক, ফুসফুসের আবরণী, হৃদপিণ্ডের আবরণী, বৃক্ক, যকৃত ইত্যাদি অঙ্গেও যক্ষ্মা হতে দেখা যায়।
থাইরয়েড গ্রন্থি এবং হৃদপেশিতে সাধারণত যক্ষ্মার জীবাণু আক্রমণ করে না৷

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৭০.
বাংলাদেশে তৈরি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ওষুধের নাম-
  1. ক) সিভ্যাক
  2. খ) ন্যাসভ্যাক
  3. গ) জেসিভ্যাক
  4. ঘ) হ্যাসভ্যাগ
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যাসভ্যাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যাসভ্যাক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে তৈরি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ওষুধের নাম - ন্যাসভ্যাক
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’ উদ্ভাবক দেশের দুই বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর ও অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস লিভার প্রদাহের মুখ্য কারণ। 
- পরীক্ষায় দেখা গেছে ‘নাসভ্যাক’ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।
১৭১.
পরপর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল কোনটি?
  1. কোষদেহ
  2. ডেনড্রাইট
  3. অ্যাক্সন
  4. সিন্যাপস
সঠিক উত্তর:
সিন্যাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
নিউরন:
- নিউরনই প্রকৃতপক্ষে স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক।
- একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে। 
যথা: 
(ক) কোষ দেহ, 
(খ) প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ:
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষ দেহ নামে পরিচিত।

প্রলম্বিত অংশ: 
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে।
- প্রলম্বিত অংশ দু'ধরনের। 
যথা: 

১. ডেনড্রাইট: কোষ দেহের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রাইট এর সংখ্যা শূন্য থেকে কয়েকটি হতে পারে।

২. অ্যাক্সন:
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট বেশ লম্বা শাখাহীন তন্তুটির নাম অ্যাক্সন।
- এর চারদিকে পাতলা আবরণকে নিউরিলেমা বলে।
- নিউরিলেমা পরিবেষ্টিত অ্যাক্সনকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
- নিউরিলেমা ও অ্যাক্সন এর মধ্যবর্তী অংশে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়োলিন সিথ বলে।

- একটি নিউরনের অ্যাক্সনের সাথে দ্বিতীয় একটি নিউরনের ডেনড্রাইট যুক্ত থাকে।
- এ সংযুক্ত বিন্যাসকে সিন্যাপস (Synapse) বলে।
- পরপর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল হলো সিন্যাপস।
- সিন্যাপস এর মধ্যদিয়ে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ু তাড়না প্রবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
শিশুর বয়স কত হলে পেন্টাভ্যালেন্ট ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হয়?
  1. ক) ৪৯ দিন
  2. খ) ৬০ দিন
  3. গ) ৪২ দিন
  4. ঘ) ৫৬ দিন
সঠিক উত্তর:
গ) ৪২ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪২ দিন
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই। 
- সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১-৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 
১৭৩.
শিশুদের বাচ্চার কত বছর থেকে মায়ের বুকের দুধের সাথে অন্যান্য খাবার খেতে দিতে হয়?
  1. ক) ১২ মাস 
  2. খ) ৬ মাস
  3. গ) ১৮ মাস
  4. ঘ) ২৪ মাস
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ মাস
ব্যাখ্যা
শিশুদের বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের বুকের দুধের সাথে অন্যান্য খাবার দিতে হয়। 

পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে।

একেই বলে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো। এর মধ্য দিয়ে শিশু শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া থেকে পারিবারিক খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং এমন একটি সময়ে এটা হয় যখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ। 
১৭৪.
'টিবি' রোগের জন্য দায়ী
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে যক্ষা বা টিবি হয়।
তবে Mycobacterium গণভুক্ত আরও কিছু ব্যাকটেরিয়া যক্ষা সৃষ্টি করতে পারে। 

- যক্ষা রোগের ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে প্রবেশ করে শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে।
- যক্ষা রোগের জীবাণুর প্রথম আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কচ।
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, অপুষ্টিকর ও অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ এবং অধিক পরিশ্রমে এই রোগ হয়।
- যক্ষা রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রত্যেক শিশুকে দেওয়া হয় বিসিজি টিকা।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান
১৭৫.
মুক্তা হলো ঝিনুকের-
  1. ক) খোলসের টুকরা
  2. খ) চোখের মণি
  3. গ) জমাট হরমোন
  4. ঘ) প্রদাহের ফল
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রদাহের ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রদাহের ফল
ব্যাখ্যা
মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল। ঝিনুক হলো এক ধরনের দুই খোলক বিশিষ্ট জলজ প্রাণী।
১৭৬.
পোলিওর জন্য ব্যবহৃত টিকার নাম কী?
  1. পিভিসি
  2. ডিপিটি
  3. ওপিভি
  4. বিসিজি
সঠিক উত্তর:
ওপিভি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওপিভি
ব্যাখ্যা

• পোলিও রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত টিকার সঠিক নাম হলো ওপিভি (OPV – Oral Polio Vaccine), অর্থাৎ  অপশন গ)। এই টিকা মুখের মাধ্যমে খাওয়ানো হয় এবং শিশুদের শরীরে পোলিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। ওপিভি সহজে প্রয়োগযোগ্য, কম খরচের এবং গণটিকাদান কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল অভিযানে এই টিকার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পিভিসি কোনো টিকা নয়, ডিপিটি ডিপথেরিয়া, পারটুসিস ও টিটেনাসের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বিসিজি যক্ষ্মা প্রতিরোধে দেওয়া হয়।

• ওপিভি (Oral Polio Vaccine):
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন।
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ:
- মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
- জ্বর থাকে।
- শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়।
- শিশু দাঁড়াতে চায় না।
- উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে।
- দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না।
- শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকার নাম ডিপিটি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বাংলাপিডিয়া।

১৭৭.
কোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করে 'ন্যাসভ্যাক'?
  1. ক) করোনা
  2. খ) হেপাটাইটিস-বি
  3. গ) এম এম আর
  4. ঘ) নিপাহ
সঠিক উত্তর:
খ) হেপাটাইটিস-বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেপাটাইটিস-বি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে তৈরি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ওষুধের নাম - ন্যাসভ্যাক
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’ উদ্ভাবক দেশের দুই বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর ও অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস লিভার প্রদাহের মুখ্য কারণ। 
- পরীক্ষায় দেখা গেছে ‘নাসভ্যাক’ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট। 
১৭৮.
মানবদেহের রাসায়নিক গবেষণাগার কোনটি?
  1. ক) অগ্ন্যাশয়
  2. খ) গ্যাস্টিক গ্রন্থি
  3. গ) লালাগ্রন্থি
  4. ঘ) যকৃৎ
সঠিক উত্তর:
ঘ) যকৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যকৃৎ
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিক গ্রন্থি (Digestive glands): যেসব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাকগ্রন্থি বা পৌষ্টিকগ্রন্থি বলে। মানবদেহে পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলো হলো:
• লালাগ্রন্থি
• যকৃৎ
• অগ্ন্যাশয়
• গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
• আন্ত্রিক গ্রন্থি

যকৃৎ (Liver):
• মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
• এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
• যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
• যকৃতে পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
• পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন।
• যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৭৯.
এইচআইভি কী?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
গ) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• এইচআইভি একটি ভাইরাস।

• HIV এর পূর্ণ রূপ: 
H = Human (মানুষ)
I = Immuno-deficiency (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস)
V = Virus (জীবাণু)
HIV কে সম্প্রসারণ করলে দাঁড়ায় Human Immunodeficiency Virus যার বাংলা অর্থ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী জীবাণু। 
এই ভাইরাস কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে পরিণামে তার এইডস হয়।

• আমাদের প্রত্যেকের শরীরে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকার কারণে কোনো রোগের জীবাণু প্রবেশ করলে সহজে শরীরের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এমন কিছু ভাইরাস আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আস্তে আস্তে দুর্বল করে। এক সময় তা সম্পূর্ণভাবেই নিঃশেষ করে ফেলতে পারে। এইচআইভি এমনই একটি ভাইরাস।
- এইচআইভি মানুষের শরীরে উৎপন্ন তরল পদার্থ যেমন- রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধ ইত্যাদিতে থাকে।
- এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির এই তরল পদার্থগুলো (রক্ত, বীর্য, যোনিরস) বিভিন্নভাবে সুস্থ লোকের শরীরে প্রবেশ করলে এবং সংক্রমিত মায়ের দুধ সুস্থ শিশু পান করলে তার শরীরেও এইচআইভির সংক্রমণ ঘটবে।


উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
মানুষের শরীরে কত ধরনের রক্ত কণিকা আছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে৷ যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা, 
৩. অনুচক্রিকা।

• লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
• শ্বেত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ৷
• অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। এতে নউক্লিয়াস থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮১.
মানবদেহের কোথায় লোহিত রক্ত কণিকা সঞ্চিত থাকে? 
  1. ফুসফুসে
  2. প্লীহায়
  3. বৃক্কে
  4. হৃৎপিণ্ডে
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্ত কণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্ত কণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১-৯২% পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- রক্ত কণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
১। লোহিত রক্ত কণিকা, 
২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
৩। অণুচক্রিকা। 

লোহিত রক্ত কণিকা: 

- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮২.
ভাইরাস সৃষ্টির সর্বশেষ ধাপ কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) নিউক্লিক এসিড
  3. গ) নিউক্লিওপ্রোটিন
  4. ঘ) প্রোটোভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রোটোভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রোটোভাইরাস
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সমন্বয়ে নিউক্লিওপ্রোটিন তৈরি হয়।
নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস তৈরি হয় এবং
সবশেষে প্রোটোভাইরাস থেকে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১৮৩.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. ক) হাইপো-থাইরয়ডিজম
  2. খ) রাতকানা
  3. গ) এনিমিয়া
  4. ঘ) কোয়াশিয়রকর
সঠিক উত্তর:
ক) হাইপো-থাইরয়ডিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাইপো-থাইরয়ডিজম
ব্যাখ্যা
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম হয়। সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস।
- ''Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism.''
Source: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health
১৮৪.
মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
সঠিক উত্তর:
গ) হাইপোথ্যালামাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক)
-  সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ কর
- মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। 

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোলাগা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে

মেসেনসেফানল (মধ্যমস্তিষ্ক)
- অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের যোগসূত্র রচনা করে।
- দর্শন ও শ্রবণ তথ্যের সমন্বয় ঘটায় এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক)
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
১৮৫.
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ কত বছর করে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১০ বছর
সঠিক উত্তর:
৯ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ বছর
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত বা International Court of Justice (ICJ) জাতিসংঘের ছয়টি মূলসংস্থার একটি।
- এটি ১৯৪৫ সালের জুন মাসে জাতিসংঘ সনদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কার্যক্রম শুরু করে ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে।
- মোট ১৫ জন বিচারক নিয়ে ICJ গঠিত।
- বিচারকদের পদের মেয়াদ ৯ বছর করে।
- এদের মধ্য থেকে ৩ বছরের জন্যে একজন করে সভাপতি নির্বাচিত হয়।
- বর্তমান সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের জোয়ান ই. ডনোহু।
(তথ্যসূত্র: ICJ ওয়েবসাইট)
১৮৬.
গর্ভকালীন সময়ে বিপদসংকেত কোনটি নয়?
  1. ক) পাফুলা
  2. খ) রক্তপাত
  3. গ) জ্বর
  4. ঘ) ওজন বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওজন বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওজন বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
পাফুলা, রক্তপাত, জ্বর, হাঁপানি ইত্যাদি গর্ভকালীন সময়ে বিপদসংকেত। কিন্তু ওজন বৃদ্ধি সাধারণত প্রত্যেক মহিলারই হয়।
১৮৭.
কিডনি রোগের চিকিৎসা যে ডাক্তার করেন তাকে কী বলা হয়?
  1. Cardiologist
  2. Nephrologist
  3. Neurologist
  4. Pathologist
সঠিক উত্তর:
Nephrologist
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nephrologist
ব্যাখ্যা
নেফ্রোলজিস্ট:
- নেফ্রোলজিস্টরা হলেন মেডিক্যাল ডাক্তার যারা কিডনি-সম্পর্কিত রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ।
- তারা কিডনি রোগ, কিডনিতে পাথর এবং উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এর মতো অবস্থা পর্যালোচনা করে যা কিডনিকে প্রভাবিত করতে পারে।

নিউরোলজিস্ট:
- নিউরোলজিস্টরা হলেন ডাক্তার যারা স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাধিগুলির নির্ণয় এবং চিকিত্সার উপর পর্যবেক্ষণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং স্নায়ু।
- তারা মৃগীরোগ, স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং পারকিনসন রোগের মতো অবস্থার সাথে মোকাবিলা করে।

প্যাথলজিস্ট:
- প্যাথলজিস্ট হলেন চিকিৎসা পেশাদার যারা টিস্যু, কোষ এবং শারীরিক তরল পরীক্ষা করে রোগগুলি অধ্যয়ন করে এবং নির্ণয় করে।
- প্রায়শই ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে রোগের কারণ শনাক্ত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

কার্ডিওলজিস্ট:
একজন কার্ডিওলজিস্ট হলেন একজন চিকিত্সক যিনি হৃদরোগ এবং রক্তনালী সম্পর্কিত অবস্থার রোগ নির্ণয়, চিকিত্সা এবং প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ। তারা প্রায়ই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিথমিয়াসের মতো অবস্থার সাথে মোকাবিলা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১৮৮.
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
- রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (Institute of Epidemiology, Disease Control and Research-IEDCR) ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ সরকারের একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যা বাংলাদেশে মহামারী ও সংক্রামক ব্যাধি গবেষণা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয় নিয়ে কাজ করে।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত।
- বর্তমান পরিচালক প্রফেসর ডা. তাহমিনা শিরিন।
(তথ্যসূত্র: IEDCR ওয়েবসাইট)
১৮৯.
গ্লুকোজ কীসের উদাহরণ?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) স্নেহ
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
ব্যাখ্যা
- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ হলো এক শর্করা পুষ্টি উপাদান। মধু ও ফলের রসে পাওয়া যায়।
- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ হলো দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান। চিনি ও দুধে পাওয়া যায়।
- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন হলো বহু শর্করা পুষ্টি উপাদান। চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি প্রভৃতিতে পাওয়া যায়।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১৯০.
মানবদেহে এ পর্যন্ত কতটি মৌল পাওয়া গেছে?
  1. ক) ১১৮ টি
  2. খ) ২৬ টি
  3. গ) ৯৮ টি
  4. ঘ) ৪২ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৬ টি
ব্যাখ্যা
এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ১১৮ টি। মানবদেহে প্রাপ্ত মৌলের সংখ্যা ২৬ টি।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১৯১.
কার্ডিয়াক চক্র কয় ধাপে সম্পন্ন হয় ?
  1. ২ ধাপে
  2. ৩ ধাপে
  3. ৪ ধাপে
  4. ৫ ধাপে
সঠিক উত্তর:
৪ ধাপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ধাপে
ব্যাখ্যা
কার্ডিয়াক চক্র ৪ ধাপে সম্পন্ন হয় :

(ক) অলিন্দের ডায়াস্টোল:
এ সময় অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। ফলে সারা শরীরের যুক্ত রক্ত ঊর্ধ্ব এবং নিম্ন মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে এবং ফুসফুস থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি  শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে প্রবেশ করে।

(খ) অলিন্দের সিস্টোল:
অলিন্দ দুটি রক্তপূর্ণ হলে এ দুটি সংকুচিত হয়। ডান অলিন্দ থেকে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয় এবং বাম অলিন্দ থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে আসে।

(গ) নিলয়ের সিস্টোল:
নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ অবস্থায় সংকুচিত হয়। এ সময় ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা বন্ধ থাকে এবং সেমিলুনার কপাটিকা খোলা থাকে। নিলয়ের সিস্টোলের সময় কপাটিকাগুলো বন্ধের সময় হৃৎস্পন্দনের প্রথম যে শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে ‘লাব’ বলে। 

(ঘ) নিলয়ের ডায়াস্টোল:
নিলয়ে সিস্টোলের পর পরই নিলয়ের ডায়াস্টোল শুরু হয়। এই সময় আবার অলিন্দ থেকে রক্ত এসে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিলয় পূর্ণ হতে থাকে। এই সময় এখানকার সেমিলুনার ভালভ বন্ধের সময় যে দ্বিতীয় শব্দের সৃষ্টি হয় তাকে ‘ডাব’ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করা হয় কোন যন্ত্রে?
  1. ক) ইসিজি
  2. খ) সিটি স্ক্যান
  3. গ) এন্ডোস্কোপি
  4. ঘ) এনজিওগ্রাফি
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোস্কোপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোস্কোপি
ব্যাখ্যা
চিকিৎসার কারণে দেহের ভেতরের কোনো অঙ্গকে বাইরে থেকে সরাসরি দেখার প্রক্রিয়ার নাম এন্ডোস্কোপি৷ এন্ডোস্কোপি যন্ত্রে অপটিকাল ফাইবার ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৯৩.
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক কত কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ক) ১৫০০ কিলোক্যালরি
  2. খ) ২০০০ কিলোক্যালরি
  3. গ) ২৫০০ কিলোক্যালরি
  4. ঘ) ৩৫০০ কিলোক্যালরি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫০০ কিলোক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫০০ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
- একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত ৪ : ১ : ১
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ২৫০০ কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
- একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর দৈনিক ২০০০ কিলোক্যালরির সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১৯৪.
কোনটি পেটের আলসার নির্ণয়ের অন্যতম একটি উপায়?
  1. ক) কোমোথেরাপি
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) এন্ডোসকপি
  4. ঘ) রেডিও থেরাপি
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোসকপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোসকপি
ব্যাখ্যা
এন্ডোসকপি যন্ত্র সাধারণত একটি বাঁকানো টেলিস্কোপ। এই যন্ত্রের দুটি নল থাকে, এদের একটির মধ্যদিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়।
আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহব্বরে প্রবেশ করে।
এই আলো ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত
আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষণীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে-তা দেখতে পারেন।

এন্ডোসকপির মাধ্যমে চিকিৎসকগন শরীরের অভ্যন্তরে বিশেষ করে পাকস্থলীতে যে কোনো ধরনের অস্বস্থিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন।  পেটে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রনালী, স্ত্রী প্রজননতন্ত্র প্রভৃতির সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এন্ডোসকপি ব্যবহার নির্ধারণ করেন। এছাড়া পেটের আলসার নির্ণয়ে এন্ডোসকপি করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১৯৫.
স্পাইনাল নার্ভ কয় জোড়া?
  1. ৩০ জোড়া
  2. ৩১ জোড়া
  3. ৩২ জোড়া
  4. ৩৫ জোড়া
সঠিক উত্তর:
৩১ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জোড়া
ব্যাখ্যা
- সুষুম্না কান্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ।
- Spinal Cord বা স্নায়ু রজ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদন্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা।
- এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal Nerve) উৎপন্ন হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৬.
প্রাণীদেহে শুষ্ক ওজনের শতকরা কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. প্রায় ২০%
  2. প্রায় ২৫%
  3. প্রায় ৪০%
  4. প্রায় ৫০%
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৫০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৫০%
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 

প্রাণিজ উৎস: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।

উদ্ভিজ উৎস: 

- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৭.
ডেঙ্গু জ্বরে শরীরে -
  1. হিমোগ্লোবিন কমে যায়
  2. Pletalet বেড়ে যায়
  3. Platelet কমে যায়
  4. হিমোগ্লোবিন বেড়ে যায়
সঠিক উত্তর:
Platelet কমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Platelet কমে যায়
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকা(Platelet) এর মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।
১৯৮.
যক্ষ্মা রোগের টিকা কোনটি?
  1. এম এম আর
  2. টিটি
  3. ডিপিটি
  4. বিসিজি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা রোগের টিকা:
- Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মা রোগের টিকা।
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).

অপরদিকে,
- হাম রোগের টিকা এমএমআর।
- ডি.পি.টি. ভ্যাকসিনের লক্ষ্য হলো-হঠাৎ শিশু মৃত্যু(ডিপথেরিয়া, পারটুসিস ও টিটেনাসের কারণে), মস্তিষ্কের গোলযোগ, অটিজম, অন্ধত্ব, মৃগি জনিত মৃত্যু প্রতিহত করা।
-  টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)  শিশুকে ধনুষ্টঙ্কার থেকে বাঁচতে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের এ টিটি টিকা নিতে হয়। 

উৎস: Britannica.
১৯৯.
প্রথম গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. ড. এডওয়ার্ড সক 
  2. লুই পাস্তুর
  3. রবার্ট কচ 
  4. ড. এডওয়ার্ড জেনার 
সঠিক উত্তর:
ড. এডওয়ার্ড জেনার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. এডওয়ার্ড জেনার 
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশ চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানী ড. এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে গুটিবসন্ত রোগের প্রথম সফল টিকা আবিষ্কার করেন।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা: 

- ভ্যাকসিন শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকসিনাস (vaccinus) থেকে এসেছে যার আক্ষরিক অর্থ হলো from cow বা 'গরু থেকে প্রাপ্ত'। 
- ড. এডওয়ার্ড জেনার (Dr. Edward Janner) ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন। 
- গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কারের অনেক বছর পর লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 
- অ্যান্টিবডি রোগের জীবাণুর বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং স্থায়ী কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। 
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকা ভাইরাস থেকে তৈরি করা হয়। সাধারণত কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দিয়েই ওই রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
- টিকা প্রবেশ করালে প্রাণিদেহে ওই একই জীবাণু বা নিকট সম্পর্কিত রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে। 
- দেহে টিকা দেওয়া মানে হলো ওই রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশে করানো। কিন্তু যেহেতু এ জীবাণুগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় থাকে সেহেতু এরা জীবদেহে কোনো রোগ সৃষ্টি না করে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি প্রয়োগ করে বর্তমানে পোলিও, টিটেনাস, হাম্পস, ডিপথেরিয়া, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, টাইফয়েড, হেপাাইটিস ইত্যাদি রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- কিন্তু মরণব্যাধি এইডস (AIDS) এর ভাইরাস HIV কিংবা হেপাইটিস-সি ভাইরাসের প্রতিষেধক কোনো টিকা আজও আবিষ্কার হয়নি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০০.
কিসের অভাব থাকলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়?
  1. ক) অক্সিহিমোগ্লোবিন
  2. খ) হিমোগ্লোবিন
  3. গ) গ্লোবিউলিন
  4. ঘ) অ্যালবুমিন
সঠিক উত্তর:
খ) হিমোগ্লোবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা

লােহিত কণিকার কাজঃ

১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
৩. হিমােগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

- লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে।

- রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 

উৎসঃ জীববিজ্ঞান ও বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি