বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৬০১৭০০ / ১,০৯৬

৬০১.
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
বেলা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (Bangladesh Environmental Lawyers Association) সংক্ষেপে বেলা।
- বাংলাদেশের একটি বেসরকারি আইনজীবী সংগঠন।
- ১৯৯২ সালে পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংগঠনটি বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরিবেশ রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
- আইনজীবী জনাব মহিউদ্দিন ফারুক বেলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২০০৩ সালে, এটি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) 'গ্লোবাল ৫০০ রোল অফ অনার'-এ স্থান পায়।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন বাপা।
- বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রিজিলিয়েন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) একটি মাল্টি-ডোনার ট্রাস্ট ফান্ড যা বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অভিযোজন তহবিল সংগ্রহ এবং বিতরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
- বাংলাদেশ পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের নাম বিইএমএফ।

উৎস: Bangladesh Environmental Lawyers Association এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬০২.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর অতিক্রম করা রেখাটি কী নামে পরিচিত?
  1. ক) কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. খ) মকরক্রান্তি রেখা
  3. গ) ৯০ ডিগ্রি দক্ষিণ-পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  4. ঘ) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
• সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) দেশের মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর অতিক্রম করেছে।
• রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৩.
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন কত সালে কার্যকর করা হয়?
  1. ২০১৬ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭:
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭ জারী করা হয়েছে।
- ৩০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ থেকে তা কার্যকর হয়েছে।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য জীববৈচিত্র্য বিষয়ক জাতীয় কমিটি থেকে ইউনিয়ন জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- বিগত ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে উক্ত আইনের আওতায় গঠিত কমিটিগুলোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

জাতীয় পরিবেশ নীতি, ২০১৮:
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮ চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। 
- ২০১৯ সালে তা প্রকাশিত হয়।
- নতুনভাবে গৃহীত জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮-তে পূর্বের ১৫টি খাতসহ আরও ৯টি খাত/ক্ষেত্রের মধ্যে পাহাড় প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং জীবনিরাপত্তা, প্রতিবেশবান্ধব পর্যটন, ইত্যাদি খাতসমূহকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩
৬০৪.
নিচের কোন স্তরটি ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone) নামে পরিচিত? 
  1. কেন্দ্রমন্ডল
  2. গুরুমণ্ডল
  3. অশ্বমন্ডল 
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
গুরুমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুমণ্ডল
ব্যাখ্যা
ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone): 

- কেন্দ্র মন্ডলের বহিঃভাগ থেকে অশ্বমন্ডলের (ভূ-ত্বকের) নিম্ন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে। 
- এটি পৃথিবীর আয়তনের শতকরা ৮২ ভাগ এবং ওজনের শতকরা ৬৮ ভাগ দখল করে আছে। 
- গুরুমন্ডলের স্তরটি প্রায় ২.৮৮৫ কি.মি. পুরু। 
- সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি ভারী ধাতুগুলোর সংমিশ্রণেই এই মন্ডলটি গঠিত।
- এর উপরের অংশের ১৪৪৮ কি.মি. (৯০০ মাইল) ব্যাসল্ট জাতীয় উপাদানে গঠিত। 
- এই জন্যই গুরুমণ্ডলের স্তরকে ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone) বলা হয়। 
- সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা এই মন্ডলটি গঠিত বলে একে সিমা (Sima) ও বলা হয়।

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৬০৫.
ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Inter-tropical Circulation Zone
  2. Intra-tropical Cyclone Zone
  3. Inter-tropical Convergence Zone
  4. International Tropical Climate Zone
সঠিক উত্তর:
Inter-tropical Convergence Zone
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Inter-tropical Convergence Zone
ব্যাখ্যা
ITCZ:
- ITCZ-এর পূর্ণরূপ: Inter-tropical Convergence Zone.
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য বায়ুর মিলন অঞ্চলকে আন্তঃক্রান্তীয় মিলন অঞ্চল বা ITCZ বলে।
- এটি পৃথিবীর নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি নিম্নচাপের অঞ্চল।
- এই বায়ু একত্রিত হওয়ার ফলে উষ্ণ এবং আর্দ্র বাতাস উপরে উঠে যায় যা ঘন ঘন বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি করে।

⇒ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- এটি সূর্যের অবস্থান অনুসারে ঋতুভিত্তিকভাবে সরে যায়।
- এখানে আয়ন বায়ুর অভিসরণ ঘটে, শক্তিশালী ঊর্ধ্বগামী বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয় এবং ভারী বৃষ্টিপাত হয়। 
- এই অঞ্চলটি পৃথিবীর বেশ কিছু ট্রপিক্যাল এলাকায়, যেমন আফ্রিকা, এশিয়া, ও লাতিন আমেরিকাতে, বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং এটি গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

উৎস: i) Britannica.
ii) National Oceanic and Atmospheric Administration (.gov).
৬০৬.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে?
  1. ক) ট্রপোমন্ডল (Troposphere)
  2. খ) স্ট্রেটোমন্ডল (Stratosphere)
  3. গ) মেসোমন্ডল (Mesosphere)
  4. ঘ) তাপমন্ডল (Thermosphere)
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রেটোমন্ডল (Stratosphere)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রেটোমন্ডল (Stratosphere)
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
- ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

 

৬০৭.
কোন অঞ্চলে সাধারণত সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়? 
  1. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়

নিরক্ষীয় অঞ্চল: 

- নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
- এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমন্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
- নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ যথেষ্ট উত্তপ্ত হলেও উপরের বায়ুমন্ডল বেশ শীতল থাকে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠের জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে পতিত হয়।

উৎস: ভগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৬০৮.
হিমালয় পর্বতমালার উদ্ভব কোন দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে হয়েছে?
  1. ইউরেশিয়ান ও আফ্রিকান
  2. ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান
  3. আমেরিকান ও ইউরেশিয়ান
  4. প্যাসিফিক ও ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান
সঠিক উত্তর:
ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান
ব্যাখ্যা

◉ হিমালয় পর্বতমালার উদ্ভব ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে হয়েছে।

• ইউরেশিয়ান প্লেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটিনেন্টাল প্লেট, যা ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
• ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান প্লেট (বা ইন্ডিয়ান প্লেট) ভারতীয় উপমহাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া অন্তর্ভুক্ত করে। 
- এটি উত্তর দিকে চলমান হয়ে ইউরেশিয়ান প্লেটের সাথে সংঘর্ষ করে, যা হিমালয় গঠনের প্রধান কারণ।

• আমেরিকান ও ইউরেশিয়ান':
- আমেরিকান' বলতে সম্ভবত নর্থ আমেরিকান (North American) বা সাউথ আমেরিকান (South American) প্লেট বোঝানো হয়েছে। 
- নর্থ আমেরিকান প্লেট উত্তর আমেরিকা এবং আটলান্টিকের অংশ কভার করে, যখন সাউথ আমেরিকান প্লেট দক্ষিণ আমেরিকা।
- হিমালয়ের সাথে এদের কোনো যোগ নেই।

• প্যাসিফিক ও ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান:
- প্যাসিফিক প্লেট প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে অবস্থিত ।
- 'রিং অফ ফায়ার'-এর জন্য দায়ী, যেখানে সাবডাকশনের ফলে আন্দিজ (Andes) বা জাপানের পর্বত গঠিত হয়। 
- ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সাথে এর সীমান্তে জাভা ট্রেঞ্চ (Java Trench) আছে, যা ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির কারণ, কিন্তু কোনো পর্বতমালা গঠন হয়নি। 

- আফ্রিকান প্লেট ইউরেশিয়ানের সাথে সংঘর্ষ করে মরক্কো থেকে ইউরোপীয় পর্বত গঠন করে, কিন্তু হিমালয়ের জন্য নয়।

∴ সুতরাং সঠিক উত্তর: ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান।

সোর্স: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা।

৬০৯.
জাতিসংঘের মতে, পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কত ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে?
  1. ১ ফুট
  2. ৩ ফুট
  3. ৫ ফুট
  4. ৭ ফুট
সঠিক উত্তর:
৩ ফুট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ফুট
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস অর্থাৎ কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসগুলো নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তাতে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। 
- এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে।
- অন্যান্য দেশ এ ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ে গেছে।
- আগামী দিনগুলোতে এর মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬১০.
বাংলাদেশের জলবায়ু কোন ধরনের হিসেবে পরিচিত?
  1. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  2. মেরুক্ষেত্রীয় জলবায়ু
  3. উপসাগরীয় জলবায়ু
  4. শীতপ্রধান জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
ব্যাখ্যা

জলবায়ু (Climate)
- বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন।
- দেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রমকরায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
- কিন্তু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।

- মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব।
 - এ বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য হয়।
- কিন্তু কোনো সময়ই শীতপ্রধান ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো চরমভাবাপন্ন হয় না।
- উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলাদেশে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১° সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(ক) গ্রীষ্মকাল,
(খ) বর্ষাকাল ও
(গ) শীতকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬১১.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের অগ্রাধিকার খাত-
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- ১৪-১৮ মার্চ, ২০১৫ সালে জাপানের সেন্দাই শহরে সেন্দায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত। এর পুরো নাম The Sendai Framework for Disaster Risk Reduction।

- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের অগ্রাধিকার খাত ৪টি। যথাঃ
১. দুর্যোগ ঝুঁকি বুঝতে পারা।
২. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থা জোরদার করা।
৩. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে বিনিয়োগ।
৪. দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি।

- এর লক্ষ্য ৭টি।
৬১২.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।
• এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৩.
কোন বায়ু শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. শুষ্ক মৌসুমি বায়ু
  2. সমুদ্র বায়ু
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  4. ক্রান্তীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

⇒ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে। ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৪.
অতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলাফল কোনটি?
  1. শহরে অভিগমন
  2. মাছ চাষ বৃদ্ধি
  3. শহরে বনাঞ্চল বৃদ্ধি
  4. কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
ব্যাখ্যা
অতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলাফল হচ্ছে - কৃষি জমি নষ্ট হওয়া।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
- নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।
→ উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
→ অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
→ দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
→ ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
→ আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
→ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
→ যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
→ এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
→ বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৫.
বাংলাদেশে শীতকালের সময়কাল -
  1. ক) কার্তিক - অগ্রহায়ণ
  2. খ) ভাদ্র - পৌষ
  3. গ) আশ্বিন - ফাল্গুন
  4. ঘ) কার্তিক - ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্তিক - ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্তিক - ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
সাধারণত বাংলাদেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস।
জানুয়ারি শীতলতম মাস এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৬.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব নয় কোনটি?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন
  2. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
  3. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  4. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:
জলবায়ু পরিবর্তন
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬১৭.
গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. এপ্রিল
  2. মে
  3. জুন
  4. জুলাই
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
ব্যাখ্যা

• গ্রীষ্মকাল:
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। এটিই দেশের উষ্ণতম ঋতু।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- গড় হিসেবে উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- এ সময়ে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে।
- গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর
দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে।
- একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এর ফলে একধরনের ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখি (North Westerlies) বলা হয়।
- এছাড়া এপ্রিল ও মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপসমূহের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায়শ বিভিন্ন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝাড়ে আক্রান্ত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম  ও দশম শ্রেণি।

৬১৮.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ?
  1. ১৮.৭১%
  2. ২০.৭১%
  3. ২১%
  4. ২২.১০%
সঠিক উত্তর:
২০.৭১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০.৭১%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডল এর প্রধান দুটি উপাদান।
- বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%।
- এ দুটি গ্যাস বায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১৯.
যে বায়ু ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে তাকে কী বলে?
  1. মৌসুমী জলবায়ু
  2. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  3. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু
  4. মহাদেশীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমী জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমী জলবায়ু
ব্যাখ্যা

• মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল:
- আরবী ভাষায় মৌসুম শব্দের অর্থ ঋতু।
- তাই যে বায়ুর গতি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় বা বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- আর এই মৌসুমী বায়ু যেসব অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল বলে। 
- গ্রীষ্মকালে অধিক তাপ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং শীতকালে বৃষ্টিহীন ও শুষ্কতাই এ জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট।
- প্রধানত: ১৫০ হতে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল অবস্থিত। 
- মহাদেশের পূর্বাঞ্চলসমূহ তথা কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির মধ্যবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২০.
বায়ুমন্ডলের কত ভাগ উপাদান ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ?
  1. প্রায় ৯০ ভাগ
  2. প্রায় ৯৫ ভাগ
  3. প্রায় ৯৭ ভাগ
  4. প্রায় ৯৯ ভাগ
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৯৭ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৯৭ ভাগ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত।
- বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ
- তাই মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি।
- বায়ুমণ্ডল প্রধানত তিন প্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। যেমন- বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা ও কণিকা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২১.
বায়ুমণ্ডলের স্তর কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ঠ্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২২.
বিশুদ্ধ বায়ুর প্রায় ৯৯% কোন দুটি গ্যাস দ্বারা গঠিত?
  1. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল (Atmosphere):
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় বায়ুমণ্ডলের ১০,০০০ কি. মি. পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।
- পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব এবং পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্য বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচ্য ইউনিটে বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- বায়ুমণ্ডল জলীয় বাষ্প, ধুলিকণা এবং বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বিশুদ্ধ বায়ুর ৯৯ শতাংশই নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত।
- বায়ুর বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর পরিমাণ ০.০০৩ শতাংশ হলেও এটি বায়ুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- এর মূল কারণ পৃথিবী থেকে বিকিরণকৃত তাপশক্তি শোষণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে।


তথ্যসূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৩.
কোরিওলিস প্রভাব কোন দিকে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে?
  1. পৃথিবীর অক্ষের দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধে বাম দিকে
  3. দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
ব্যাখ্যা
কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনকারী শক্তিকেই কোরিওলিস প্রভাব বা কোরিওলিস শক্তি বলা হয়।
- এটি পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের কারণে কোনো চলমান বস্তুর ওপর সৃষ্ট দিক পরিবর্তন, যা গোলার্ধভিত্তিক পরিবর্তন ঘটে।
- কোরিওলিস প্রভাবের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
১. এটি বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে এবং সর্বদা লম্বভাবে কার্যকর।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিস প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

পৃথিবীর আবর্তন:
- পৃথিবী তার আহ্নিক গতি অনুযায়ী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এই ঘূর্ণনের ফলে সমুদ্রের পানিরাশি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোত তৈরি হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, সমুদ্র স্রোতও পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাবে:
- উত্তর গোলার্ধে স্রোত ডান দিকে (ঘড়ির কাঁটার দিকে) বেঁকে প্রবাহিত হয়, যেমন উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে স্রোত বাম দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে) প্রবাহিত হয়, যেমন ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৪.
এক্সোমন্ডলে কোন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়?
  1. মিথেন ও হিলিয়াম
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
  4. আর্গন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

এক্সোমন্ডল (Exosphere):
- বায়ুমন্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। 
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমন্ডল । 
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমন্ডল বলে।
- এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।

এক্সোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য- 
(ক) এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
(খ) এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
(গ) এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২৫.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পূবার্ঞ্চলে
  2. উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৬.
আরব মরুভূমিতে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ু কোনটি?
  1. সিরোক্কো
  2. খামসিন
  3. টাইফুন
  4. সাইমুম
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৭.
‘মহাবিষুব’ বলা হয় কোন দিনটিকে?
  1. ২১ সেপ্টেম্বর
  2. ২১ মার্চ
  3. ২২ জুন
  4. ২৩ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
ব্যাখ্যা
মহাবিষুব:
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়।
- বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ শে মার্চ দিনটিকে উত্তর গোলার্ধে মহাবিষুব বলে।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৮.
কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. উচ্চতা
  2. ভূমির ঢাল
  3. মৃত্তিকার গঠন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর নিয়ামক:
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরে গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- আবহাওয়া অফিস গুলোতে অনেকদিনের আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান গুলোকে পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ু সম্পর্কে ধারনা করা হয়।
- পৃথিবীর সব স্থানের জলবায়ু একধরণের হয় না। কিছু ভৌগৌলিক কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয় গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হল - 
- অক্ষাংশ, 
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব, 
- বায়ুপ্রবাহ, 
- সমুদ্রস্রোত, 
- পর্বতের অবস্থান, 
- ভূমির ঢাল, 
- মৃত্তিকার গঠন, 
- বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি জলবায়ুর নিয়ামক।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৯.
কোন কারণে বাংলাদেশেকে “ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ” বলা হয়?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে
  2. মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অধিক হওয়া
  3. ক এবং খ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু: 
 - বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজমান।
- কিন্তু মৌসুমী বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর ওপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু 'ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু' নামে পরিচিত।

- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয়, তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- আর এ বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলের জলবায়ুকে বলে মৌসুমী জলবায়ু।
- ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর প্রভাব সর্বাধিক বলে এ জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুও বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩০.
পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে কী বলা হয়?
  1. স্বাভাবিক বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. মৌসুমী বন্যা 
  4. জোয়ার-ভাঁটা জনিত বন্যা
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।

• বন্যা:
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। অধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
- ২০০৭ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদসহ মোট ৫০০ লোকের প্রাণহানি হয়।

- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।
- বাংলাদেশে বিগত শতাব্দীতে বড় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
- এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২৮) মূল ফোকাস ছিল -
  1. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাসকরণ
  2. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক
  3. ওজোনস্তর ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক
  4. মরুকরণ প্রক্রিয়া হ্রাসকরণ
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাসকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাসকরণ
ব্যাখ্যা
কপ-২৮ এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাস বিষয়ে দুবাই জলবায়ু সম্মেলনে একমত হয়েছে প্রায় ২০০ দেশ। কপ-২৮ এর মূল ফোকাস ছিল এটি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২৯) মূল ফোকাস ছিল জলবায়ু অর্থায়ন। 

জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৮:
- ৩০ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে ২৮তম জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৮ অনুষ্ঠিত হয়।
- স্থান: আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- কপ-২৮ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে সরে আসার আহবান জলবায়ু সম্মেলনে।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP):
- COP এর পূর্ণরূপ: Conference of the parties.
- ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা।
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

⇒ ২০২২ সালের নভেম্বরে মিশরে 'কপ-২৭' অনুষ্ঠিত হয়।
- 'কপ-২৯' আয়োজিত হয়েছে আজারবাইজানে।
- ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর আয়োজন করবে ব্রাজিল।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট। 
ii) প্রথম আলো।
৬৩২.
ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে যে নিম্নচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় তাঁর পুরােভাগে যে বায়ু থাকে তাকে কোন বায়ু বলে?
  1. ক) মিস্ট্রাল
  2. খ) ফন
  3. গ) সিরক্কো
  4. ঘ) খামসিন
সঠিক উত্তর:
গ) সিরক্কো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিরক্কো
ব্যাখ্যা
ফ্রান্সের রােন নদীর উপত্যকা দিয়ে শীতকালে যে বায়ু দক্ষিণে সমভূমি ও দ্বীপ এলাকার দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে মিস্ট্রাল বলে। পার্বত্য অঞ্চলের যে শীতল বায়ু পাহাড়ের উপত্যকার মধ্য দিয়ে সমভূমিতে প্রবাহিত হয়, তাকে ফন বলে। (রেফারেন্সঃ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেনীর ভূগোল)
৬৩৩.
আবহাওয়া বলতে কী বুঝায়? 
  1. একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী গড় অবস্থা 
  2. একটি নির্দিষ্ট দিনের বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, চাপ ইত্যাদি অবস্থা
  3. ২০-৩০ বছরের গড় তাপমাত্রা
  4. ৪০ -৫০ বছরের গড় তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট দিনের বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, চাপ ইত্যাদি অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট দিনের বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, চাপ ইত্যাদি অবস্থা
ব্যাখ্যা

- আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, চাপ, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের সামগ্রিক অবস্থা।
- এটি প্রতিদিন পরিবর্তনশীল এবং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একেক রকম হতে পারে।
- আবহাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, কৃষিকাজ, ভ্রমণসহ নানা কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
- পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিনের - আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে পারি।
- আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে দীর্ঘ সময়ের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো - অঞ্চলের জলবায়ু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- জলবায়ু বলতে কোনো স্থানের দীর্ঘকালীন আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে বোঝায়, যা তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহের মতো উপাদানের ওপর নির্ভর করে।
- এটি একটি ধীর ও চলমান প্রক্রিয়া যা ৩০ থেকে ৩৫ বছরের আবহাওয়ার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। জলবায়ু

৬৩৪.
সীমান্ত বৃষ্টি বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  2. খ) ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
  3. গ) সংঘর্ষ বৃষ্টি
  4. ঘ) পরিচলন বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
গ) সংঘর্ষ বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংঘর্ষ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
যখন শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হয়ে একে অপরের বিপরীত দিকে পাশাপাশি চলতে থাকে তখন শীতল বায়ুর আঘাতে উষ্ণ বায়ু ঊর্ধ্বে উঠতে থাকে। ঊর্ধ্বে ওঠার ফলে উষ্ণ বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে উভয় বায়ুর সীমান্ত বরাবর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এ জাতীয় বৃষ্টিপাতকে সংঘর্ষ বা সীমান্ত বৃষ্টি বলা হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৬৩৫.
বাংলাদেশে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে কত সালে? 
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ২০১৬ সালের ১৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

• বজ্রপাত:
- প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হয় তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, নদীভাঙন, তুষারপাত, ঘূর্ণিঝড়, খরা, বজ্রপাত ইত্যাদি।
- প্রাকৃতিক কারণেই বজ্রমেঘের সৃষ্টি এবং বজ্রমেঘ থেকেই হয় বজ্রপাত। 'কিউমুলোনিম্বাস' মেঘ থেকে সাধারণত বজ্রপাতের সৃষ্টি।
-দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল তুলনায় বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রবণতা অনেক বেশি।
- আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান।
- ২০১৬ সালের ১৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়।

৬৩৬.
তাপমাত্রা নির্ভরশীল নয়-
  1. সমুদ্র স্রোতে উপর
  2. উচ্চতার উপর
  3. দ্রাঘিমার উপর
  4. ভৌগোলিক অবস্থানের উপর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমার উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমার উপর
ব্যাখ্যা
তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রক (Controls of Temperature):

- তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রক হচ্ছে সেই সব নিয়ামক যাদের উপর ভিত্তি করে এক অবস্থান থেকে অন্য স্থানের তাপমাত্রা ভিন্ন হয়।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ ভিন্ন মাত্রায় সূর্যালোক পেয়ে থাকে, অক্ষাংশভেদে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে।
- কোন স্থানের তাপমাত্রা যে সমস্ত বিষয়ের উপর নির্ভরশীল তা নিম্নরূপ:
১. স্থল এবং জলভাগের ভিন্ন ধর্মী তাপ গ্রহণ (Differential heating of land and water);
২. সমুদ্র স্রোত (Ocean Currents);
৩. উচ্চতা (Altitude);
৪. ভৌগোলিক অবস্থান (Geographic Location)।

কিন্তু দ্রাঘিমার উপর কোন স্থানের তাপমাত্রা নির্ভরশীল নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৭.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন ধরনের বৃষ্টি হয়ে থাকে?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণি বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। 

- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
- এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমন্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
- নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ যথেষ্ট উত্তপ্ত হলেও উপরের বায়ুমন্ডল বেশ শীতল থাকে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠের জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে পতিত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৩৮.
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত প্রধানত কোন ধরনের ঢালে দেখা যায়?
  1. প্রতিবাত
  2. প্রতিপদ
  3. অনুপাদিত
  4. অনুবাত
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাত
ব্যাখ্যা

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে। ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৯.
মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির মূল কারণ কোনটি?
  1. আহ্নিক গতি
  2. বায়ুচাপের পার্থক্য
  3. বার্ষিক গতি
  4. উত্তর আয়ন ও দক্ষিণ আয়ন
সঠিক উত্তর:
উত্তর আয়ন ও দক্ষিণ আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আয়ন ও দক্ষিণ আয়ন
ব্যাখ্যা

• মৌসুমি বায়ু এবং ঋতু পরিবর্তন:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে ও সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- এই তারতম্যের কারণে মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হয়, যা বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বত্র মৌসুমি বায়ু দ্বারা বৃষ্টিপাত ঘটে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪০.
ভূগোলের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. ক) প্রকৃতি
  2. খ) পরিবেশ
  3. গ) সমাজ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভূগোল শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Geography যা geo ও graphy শব্দ দুটোর সমন্বয়ে গঠিত। এদের মধ্যে Geo অর্থ পৃথিবী এবং graphy অর্থ বর্ণনা। তাই Grography অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা। ভূগোল একদিকে যেমন প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অন্যদিকে তা পরিবেশ ও সমাজ বিজ্ঞান। যার কারণে ভূগোলের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো প্রকৃতি, পরিবেশ ও সমাজ। (সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৪১.
"ক" তার বাবার সঙ্গে সিলেট জয়ন্তিয়া পাহাড় দেখতে গেল। দূর থেকে দেখল পাহাড়ের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু অনুবাত ঢালে বৃষ্টি হচ্ছে না। "ক" কোন ধরনের বৃষ্টিপাত দেখেছিল?
  1. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  2. সংঘর্ষ বৃষ্টি
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায় তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

⇒ ""ক" তার বাবার সঙ্গে সিলেট জয়ন্তিয়া পাহাড় দেখতে গেল। দূর থেকে দেখল পাহাড়ের  প্রতিবাত ঢালে  বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু অনুবাত ঢালে বৃষ্টি হচ্ছে না।  "ক" শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি দেখেছিল। 



উল্লেখ্য,
- বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:
চারটি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে একে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়।
যথা -
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rain)
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain)
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি (Cyclonic Rain)
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টি (Frontal Rain)

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪২.
বাংলাদেশে সর্বাধিক আর্দ্র মাস কোনটি?
  1. ডিসেম্বর
  2. সেপ্টেম্বর
  3. আগস্ট
  4. জুলাই
সঠিক উত্তর:
আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগস্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর সাধারণ চিত্র:
- গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ২৬.১০ (৭৯০ ফা.)।
- গড় তাপমাত্রার পার্থক্য (দিবারাত্রি) ৯০ সে, 
- গড় মাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪০ সে. (৯৩০ ফা.) এপ্রিল মাসে; 
- গড় মাসিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ডিসেম্বরে ১৪০ সে (৫৭০ ফা.) 
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৮৭৫ মিলিমিটার;
- গড়ে বছরে ১৩৬ দিন ০.১ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয়;
- ডিসেম্বর বছরের শুষ্কতম মাস হিসাবে বিবেচিত (গড় বৃষ্টিপাত ৫ মিলিমিটার);
- সর্বাধিক আর্দ্র মাস হল আগস্ট (গড় বৃষ্টিপাত ৩৩৭ মিলিমিটার)
- গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫.৫%।
- গড় মাসিক আদ্রতা মার্চে ৪৫% জুন-জুলাইয়ে ৭৯% এর উন্নীত হয়;
- বাংলাদেশে বছরের কোনাে তুষার দিবস নেই।

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৩.
বায়ুমন্ডলে আর্গনের পরিমাণ কত?
  1. ০.০৩%
  2. ০.৪১%
  3. ০.৮১%
  4. ০.৮০%
সঠিক উত্তর:
০.৮০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৮০%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন উপাদানের তালিকা: 
- নাইট্রোজেন (N₂) - ৭৮.০২%।
- অক্সিজেন (O₂) - ২০.৭১%।
- আর্গন (A₂) - ০.৮০%।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) -০.০৩%।
- অন্যান্য গ্যাসমূহ (ওজোন, মিথেন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম ও - ০.০২%।
- জলীয়বাষ্প - ০.৪১%। 
- ধূলিকণা ও কণিকা -  ০.০১%।

উৎস:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬৪৪.
নিচের কোন অঞ্চলটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. নিকারাগুয়া
  2. কোস্টারিকা
  3. পানামা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্য্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক নয়?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. ভূ-প্রকৃতি
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বনভূমির অবস্থান
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় জলবায়ুর নিয়ামক নয়। 

জলবায়ু (Climate):

- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়। অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত ইত্যাদি নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায়।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।

⇒ আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ -
১। অক্ষাংশ,
২। উচ্চতা,
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
৫। সমুদ্রস্রোত,
৬। ভূমির ঢাল,
৭। ভূ-প্রকৃতি,
৮। বায়ুপ্রবাহ,
৯। বায়ুর চাপ এবং,
১০। বনভূমির অবস্থান

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৬.
পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহজনিত স্রোত প্রবাহিত হয় -
  1. চক্রাকারে
  2. ঘূর্ণন আকারে 
  3. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  4. ঘড়ির কাঁটার দিকে
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of the Earth):
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয। যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।


তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৭.
কখন উত্তর গোলার্ধে ‘বাসন্ত বিষুব’ ঘটে?
  1. ২১শে মার্চ
  2. ২১শে জুন
  3. ২৩শে সেপ্টেম্বর
  4. ২২শে ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১শে মার্চ
ব্যাখ্যা

• বাসন্ত বিষুব ও শারদ বিষুব: 
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০০) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। একে বিষুব বলা হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব' নামে অভিহিত।
- অপরদিকে, ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব 'শারদ বিষুব' নামে অভিহিত হয়।

প্রকৃতপক্ষে, 
- বাসন্ত বিষুব ও শারদ বিষুব উভয় গোলার্ধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- একটি গোলার্ধে বিষুব অবস্থা চলাকালীন যে ঋতু বিরাজ করে, উক্ত ঋতু অনুসারে ঐ গোলার্ধে বাসন্ত বা শারদ বিষুব হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৮.
রোয়ারিং ফর্টিস অঞ্চলে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. প্রত্যয়ন বায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রোয়ারিং ফর্টিস ও প্রত্যয়ন বায়ু 
- প্রত্যয়ন বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে পুর্ব দিকে যায়।
- এই জন্য এই বায়ুকে পশ্চিমা বায়ুও বলা হয়।
- প্রত্যয়ন বায়ুর প্রবাহের দিক একই থাকে বলে এটি নিয়ত বায়ুর অন্তর্ভুক্ত।
- রোয়ারিং ফর্টিস বা গর্জনশীল চল্লিশ অঞ্চলে প্রত্যয়ন বা পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়; যা একপ্রকার নিয়ত বায়ু।
- দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০ থেকে ৪৭০ দক্ষিণ অক্ষাংশে প্রত্যয়ন বায়ুর গতিবেগ সর্বোচ্চ।
- তাই এই অঞ্চলকে রোয়ারিং ফর্টিস বা গর্জনশীল চল্লিশ বলে।

উল্লেখ্য, 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত ৪ প্রকার। যথা - 
১. নিয়ত বায়ু,
২. সাময়িক বায়ু,
৩. স্থানীয় বায়ু, 
৪. অনিয়মিত বায়ু।

- নিয়ত বায়ু আবার ৩ প্রকার। যথা -
ক. অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু,
খ. প্রত্যয়ন বায়ু বা পশ্চিমা বায়ু,
গ. মেরু বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৯.
বিশ্বব্যাংকের মতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ কোনটি?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) জাপান
  3. গ) ফিলিপাইন
  4. ঘ) সুদান
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
এগুলো হলো মরূকরণ, বন্যা, ঝড়, সসমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ হলো বাংলাদেশ।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৬৫০.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে নিচের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. রংপুর
  2. ঠাকুরগাঁও
  3. বগুড়া
  4. নোয়াখালি
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালি
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া:
- বিশ্বে অতিরিক্ত শিল্পায়নের কারণে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলো আমাদের দেশের সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে,
- সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালি জেলার অনেক অংশ সমুদ্রের জলমগ্ন হয়ে পড়বে।
- এছাড়া ভূনিম্নস্থ পানিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে।
- ফলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫১.
নিচের কোনটি বায়ুমন্ডলের উপাদান নয়?
  1. ক) ধূলিকণা
  2. খ) বিভিন্ন প্রকার গ্যাস
  3. গ) কাঁচের কণা
  4. ঘ) জলীয়বাষ্প
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁচের কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁচের কণা
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান
• পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত। এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। এই গ্যাসীয়
মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।
• বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ। এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ।
• বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই। তাই বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
• সুতরাং বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫২.
সিলেটের কোথায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়?
  1. জকিগঞ্জ
  2. গোয়াইনঘাট
  3. লালাখালে
  4. কোম্পানীগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
লালাখালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালাখালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত: 
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অঞ্চলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়।
- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার। 
- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।

উল্লেখ্য, 
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৩.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো কী কী?
  1. বায়ুর তাপমাত্রা, উচ্চতা, বনভূমি, মাটি
  2. বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ
  3. বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল
  4. অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বনভূমি
সঠিক উত্তর:
বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া:
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নিদিষ্ট সময়ের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তুষারপাত, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। আবহাওয়া সবসময়ই পরিবর্তনশীল।

জলবায়ু:
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে। পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়। 

আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো:
- বায়ুপ্রবাহ,
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ুর আর্দ্রতা ও
- বারিপাত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৪.
সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় কোন জেলায়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) নাটোর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাটোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাটোর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হলো ২০৩ সেন্টিমিটার।
- মাস অনুসারে জুলাই মাসে সর্বাধিক (৫২৩.০ মি.মি.) এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন (৯ মি.মি.) বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।

তাছাড়া, 
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা - রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা - সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান - লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান - শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস - এপ্রিল।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস - জানুয়ারি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৫.
উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানির অনুপ্রবেশের কারণে কী ধরনের ফসল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. বাদাম
  2. পাট
  3. মুগডাল
  4. ধান ও শাকসবজি
সঠিক উত্তর:
ধান ও শাকসবজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান ও শাকসবজি
ব্যাখ্যা

• লোনা পানির অনুপ্রবেশ:
- কৃষিতে লোনা পানির অনুপ্রবেশ ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি বাংলাদেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সমস্যা।
- লবণাক্ততা মাটির উর্বরতা নষ্ট করে।
- pH পরিবর্তন করে এবং উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ বাধাগ্রস্ত করে।
- এর ফলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায় বা ফসল নষ্ট হয়ে যায়। 
- তবে কিছু লবণ-সহনশীল ফসল যেমন- স্থানীয় ধান, বাদাম, সূর্যমুখী বা মুগ ডাল টিকে থাকতে পারে।
- উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানির অনুপ্রবেশের কারণে মিঠা পানির উপর নির্ভরশীল ফসলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে:
ধান (বিশেষত উচ্চ ফলনশীল জাত),
• শীতকালীন সবজি, 
• ভুট্টা,
• গম,
• সয়াবিন,
• আলু,
• টমেটো,
• পেঁয়াজ।

উল্লেখ্য, 
- লোনা পানির অনুপ্রবেশে ক্ষতির মূল কারণ হলো:
• পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি,
• মাটির রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন,
• এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে পানি শোষণ বাধাপ্রাপ্ত হওয়া।
- অভিযোজন হিসেবে- লোনা পানির ক্ষতি কমাতে কৃষকরা এমন ফসল চাষ করতে পারেন যা লবণযুক্ত মাটিতেও ভালো জন্মায়।
- যেমন, তারা লবণ-সহনশীল ধান, বাদাম, সূর্যমুখী বা মুগ ডাল চাষ করতে পারেন।
- এছাড়া, লবণ-সহনশীল ঘাস (coastal panic grass) চাষ করে তারা বায়োমাস বা জ্বালানির কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

উৎস:
১. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর;
২. Britannica.

৬৫৬.
সাধারণত কোন মাসে আউশ ধান রোপণ করা হয়?
  1. জুলাই-আগস্ট
  2. মে-জুন
  3. মার্চ-এপ্রিল
  4. সেপ্টেম্বর-অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
মার্চ-এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্চ-এপ্রিল
ব্যাখ্যা
আউশ ধান:
- বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের তিনটি মৌসুমের মধ্যে আউশ অন্যতম।
- আউশ ধান খরিফ-১ মৌসুমের ফসল।
- আউশ ধান বর্ষা মৌসুমে আবাদ করা হয়।
- ফলে আউশ ধান চাষের পানি সেচের প্রয়োজন হয় না।
- বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ মাসে আউশ ধানের চারা রোপণ করা হয়।
- শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে আউশ ধান কাটা হয়।

উল্লেখ্য,
- আউশ ধান রোপনের সময়: মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল,
- আউশ ধান উত্তোলনের সময়: মধ্য জুলাই – মধ্য আগস্ট।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৬৫৭.
জোয়ার-ভাটায় মরা কটাল (Neap Tide) কখন হয়?
  1. অষ্টমীতে
  2. দশমী
  3. পঞ্চমীতে
  4. অমাবস্যায়
সঠিক উত্তর:
অষ্টমীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টমীতে
ব্যাখ্যা

মরা কটাল (Neap Tide):
- সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে না।
- এ সময় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- এই সময় তারা পৃথিবীকে আড়াআড়ি আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বেগ কম হয়।
- এ সময় চন্দ্রের আকর্ষণে চন্দ্র ও তার বিপরীত দিকে জোয়ার হয়।
- কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণ সূর্য হতে বেশি বলে সূর্য ও তার বিপরীত দিকে ভাঁটা হয়।
- সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে জোয়ারের তীব্রতা সবচেয়ে কম থাকায় এইরূপ জোয়ারকে বলা হয় মরা কটাল। 

এছাড়াও,
- চন্দ্রের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে মুখ্য ও গৌণ জোয়ার হয়। অন্যদিকে পানির উচ্চতার উপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয় মরা কটাল এবং ভরা কটাল। মুখ্য জোয়ারকে বলা হয় প্রত্যক্ষ জোয়ার এবং চন্দ্রের বিপরীতে সৃষ্ট জোয়ারকে বলা হয় গৌণ জোয়ার। পূণির্মা ও অমাবস্যায় চন্দ্রের আকর্ষণের ভরা কটাল সংঘটিত হয়। আবার সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে মরা কটাল সংঘটিত হয়। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৫৮.
গত এক শতাব্দীতে বায়ুমন্ডলে শতকরা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে-
  1. ক) ২.৫ ভাগ
  2. খ) ২.০৫ ভাগ
  3. গ) ২৫ ভাগ
  4. ঘ) ১৭ ভাগ
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
বায়ুর মূল উপাদান হলো অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন। এছাড়া বায়ুতে সামান্য পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অস্কাইড আছে। আছে জলীয় বাষ্প ও ওজন গ্যাস। গত এক শতাব্দীতে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে শতকরা ২৫ ভাগ।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ঃ অষ্টম শ্রেণি
৬৫৯.
২১ শে মার্চ দক্ষিণ গোলার্ধে কোন ঋতু বিরাজ করে?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. বর্ষাকাল
  3. শরৎকাল
  4. বসন্তকাল
সঠিক উত্তর:
শরৎকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎকাল
ব্যাখ্যা
⇒ ২১ শে মার্চ দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হওয়ায় দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।

 উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- ২২শে ডিসেম্বরের পর পৃথিবী নিজ কক্ষপথে অগ্রসর হতে থাকে।
- ২১শে মার্চ পৃথিবী এমন অবস্থানে পৌঁছায় যখন সূর্যের রশ্মি নিরক্ষরেখা বরাবর লম্বভাবে পড়ে।
- ২১শে মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়।
- জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- একই সময় (জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে) দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।

অন্যদিকে,
উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল:
- ২১শে জুনের পর পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে দক্ষিণ মেরু সূর্যের নিকটবর্তী হতে থাকে।
- ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্যের রশ্মি নিরক্ষরেখা বরাবর লম্বভাবে পড়ে।
- এই দিনে মেরুদেশীয় অঞ্চল ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান থাকে।
- জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- এই দুই ঋতুতে তাপমাত্রা মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে, যা আরামপ্রদ আবহাওয়া সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬০.
বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর অবক্ষয়ের জন্য কোন গ্যাসের ভূমিকা সর্বোচ্চ?
  1. ক) সিএফসি
  2. খ) মিথেন
  3. গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ক) সিএফসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিএফসি
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর অবক্ষয়ের জন্য সিএফসি গ্যাসের ভূমিকা সর্বোচ্চ। 

- CFC-এর পূর্ণরূপ হলো ক্লোরো-ফ্লুরো-কার্বন। মূলত মিথেন বা ইথেনের ক্লোরিন ও ফ্লোরিনের জাতকসমূহকে সিএফসি বলা হয়।
- গন্ধহীন, অদাহ্য, অবিষাক্ত এবং নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট এসব যৌগের বাণিজ্যিক নাম ফ্রেয়ন।

সিএফসি (CFC) এর ব্যবহার- 
১। কীটনাশক ও পােকামাকড় দমনের জন্য বিষাক্ত দ্রবণ তৈরিতে দ্রাবক হিসাবে CFC ব্যবহার করা হয়।
২। শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইনহেলার, মেডিক্যাল স্প্রে-প্রভূতি ক্ষেত্রে CFC ব্যবহার করা হয়।
৪। সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে CFC ব্যবহার করা হয়।
৫। CFC এর ফুটনাংক কম হওয়ায় বিভিন্ন ধরণের রেফ্রিজারেশন এবং শীতাতাপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়।
৬। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে CFC যৌগের ব্যবহার রয়েছে।

সূত্র: United States Environmental Protection Agency [লিঙ্ক]
৬৬১.
কোন প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে?
  1. ক) পরিবহন
  2. খ) বিকিরণ
  3. গ) পরিচলন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিকিরণ
ব্যাখ্যা

- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য।
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে।
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে।
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি।
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া।
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬২.
সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয় -
  1. নিয়ত বায়ু
  2. অনিয়মিত বায়ু
  3. সাময়িক বায়ু
  4. স্থানীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

অন্যদিকে -
- সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু।
- স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়প্রবাহ।
- অনিয়মিত বায়ু: কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন- 
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন 
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২৩ জুন
সঠিক উত্তর:
২১ জুন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ জুন 
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলাধে শীতকাল:
- ২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে।
- এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে সূর্যকর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ এ জুন উত্তর গোলার্ধে বড় দিন এবং ছোট রাত হয়।
- ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে।
- দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয়।
- এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায় অর্থাৎ শীতকাল অনুভূত হয়।
- এ সময় সূর্য হেলে থাকার কারণে এ গোলার্ধে সূর্য কম সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে দিন ছোট এবংরাত বড় হয়।
- দিনে ভূপৃষ্ঠ যতটুকু উত্তপ্ত হয়, রাতে তাপ বিকিরণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে যায়।
- এখানে তখন শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এ সময়কে শীতকাল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬৬৪.
SPARSO এর পূর্ণ রূপ কোনটি?
  1. ক) Space Resource and Remote Sensing Organisation
  2. খ) Special Resource and Remote Sensing Organisation
  3. গ) Space Research and Regulatory Sensing Organisation
  4. ঘ) Space Research and Remote Sensing Organisation
সঠিক উত্তর:
ঘ) Space Research and Remote Sensing Organisation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Space Research and Remote Sensing Organisation
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

উৎস: SPARSO ওয়েবসাইট।
৬৬৫.
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত সাধারণত কোন অঞ্চলে দেখা যায়?
  1. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  2. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. পার্বত্য অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain):
- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়।
- ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।
- এ প্রকার বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৬৬.
পরিবেশ অধিদপ্তর সম্প্রতি কোন উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছে?
  1. দোহার, ঢাকা
  2. সাভার, ঢাকা
  3. ধামরাই, ঢাকা।
  4. কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।
সঠিক উত্তর:
সাভার, ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাভার, ঢাকা
ব্যাখ্যা

• ডিগ্রেডেড এয়ারশেড:
- পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১৭ আগস্ট, ২০২৫ (রোববার) এক পরিপত্রে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছে।
- বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫-এর ক্ষমতাবলে সমগ্র সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হয়েছে।
- বিধি ৫ অনুযায়ী, কোনো এলাকার বায়ুমান নির্দিষ্ট মানমাত্রা অতিক্রম করে মারাত্মক দূষিত এলাকায় পরিণত হলে এলাকাটিকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা যাবে।

• কেন 'ডিগ্রেডেড এয়ারশেড' ঘোষণা করা হয়?
- বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়মিতভাবে জাতীয় মান অতিক্রম করলে কোনো এলাকাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হয়।
- এই ঘোষণার পর এলাকাটিতে বিশেষ পরিবেশ আইন ও বিধি প্রযোজ্য হয়।
- শিল্পকারখানা ও প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়।
- পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাভারের বায়ুর বার্ষিক মানমাত্রা জাতীয় বার্ষিক নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় তিন গুণ অতিক্রম করেছে।
- জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর এই মাত্রাতিরিক্ত দূষিত বায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা মারাত্মক বায়ুদূষণযুক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে।

- বায়ুদূষণের একটি বড় উৎস ইটভাটা।
- পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সাভার উপজেলায় ১০৭টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট তৈরি করা হয়।
-  পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৩ সালে সাভার উপজেলায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৬৪ দিনের বায়ু ছিল মানমাত্রা–বহির্ভূত। আর ঢাকার বায়ু মাত্রা–বহির্ভূত ছিল ১৫৬ দিন। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। লিংক

৬৬৭.
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. মার্চ
  3. এপ্রিল
  4. মে
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকাল:
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল চলে মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত।
- এই সময় সূর্যের উত্তরায়নের কারণে উত্তাপের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং তাপমাত্রা দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরের দিকে বাড়তে থাকে।
- গ্রীষ্মকালকে বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু হিসেবে পরিচিত।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস থাকে।
- এপ্রিল মাস হল উষ্ণতম মাস, যেখানে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস থাকে।
- সমুদ্র উপকূল থেকে দেশের অভ্যন্তরে, বিশেষত উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
- গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে।
- এ সময় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে শুষ্ক এবং আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৮.
বায়ু দূষণের মানবসৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. শিল্পকারখানার ধোঁয়া
  3. দাবানল ও ধূলিঝড়
  4. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ
সঠিক উত্তর:
শিল্পকারখানার ধোঁয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্পকারখানার ধোঁয়া
ব্যাখ্যা
বায়ু দূষণের কারণ:
বায়ু দূষণের কারণ দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: ১. প্রাকৃতিক কারণ এবং ২. মানবসৃষ্ট কারণ। 

১.প্রাকৃতিক কারণ:
- অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ু দূষণ ঘটায়।
- জৈব ও অজৈব পদার্থ: প্রাকৃতিক পচন প্রক্রিয়ায় নির্গত গ্যাস বায়ুকে দূষিত করে।
- দাবানল ও ধূলিঝড়: বনাঞ্চলে দাবানল বা মরু অঞ্চলে ধূলিঝড় বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে।
- গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে নির্গত গ্যাস বায়ু দূষিত করে।

২.মানবসৃষ্ট কারণ:
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ: যুদ্ধ বা পারমাণবিক দুর্ঘটনা থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ বায়ু দূষিত করে (যেমন ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক বিস্ফোরণ)।
- জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো: জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, তেল ইত্যাদি পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষণ ঘটে।
- শিল্পকারখানার ধোঁয়া: শিল্প কারখানাগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে।
- পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থের দহন: পরিত্যক্ত বর্জ্য পোড়ানোও বায়ু দূষণ করে।
- বন উজাড়: বনভূমি ধ্বংসের ফলে বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পায়।
- ইটভাটা ও কীটনাশক: ইটভাটার ধোঁয়া ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বায়ু দূষিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
মহীঢালের গড় গভীরতা কত?
  1. ক) ১০০-১৫০ মিটার
  2. খ) ২০০-৩০০০ মিটার
  3. গ) ৩০০-৯৫০ মিটার
  4. ঘ) ৪০০-৪০০০ মিটার
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০-৩০০০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০-৩০০০ মিটার
ব্যাখ্যা
• মহীঢাল (Continental Slope):
- মহীসোপানের পরবর্তী অংশ যা খাড়া ঢালু অবস্থায় গভীর সমুদ্রে নেমে যায় তাকে মহীঢাল বলে।
- এই খাড়া ঢাল এত অধিক হয় যে কখনও দুই হতে পাঁচ ডিগ্রি কৌণিকভাবে, আবার কখনও বা সম্পূর্ণ খাড়া অবস্থায় সমুদ্রতলে নেমে যায়।
- মহীঢালের গড় গভীরতা সমুদ্রে ২০০-৩,০০০ মিটার
- ঢাল অধিক খাড়া হওয়ার জন্য খুব প্রশস্ত নয়। গড়ে মাত্র ১৬ থেকে ৩২ কিলোমিটার প্রশস্ত।
- মহীঢালের উপরিভাগ সমান নয়। খুবই বন্ধুর প্রকৃতির।
- স্থলভাগের পার্বত্য অঞ্চলে যেমন বিভিন্ন ধরনের ক্যানিয়ন থাকে তেমনি সমুদ্রতলে মহীঢালেও অসংখ্য আন্ত:সাগরীয় গিরিখাতের অবস্থান দেখা যায়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭২ সে.মি.
  2. ৭৬ সে.মি.
  3. ৭৫ সে.মি.
  4. ৭৬০ সে.মি.
সঠিক উত্তর:
৭৬ সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৬ সে.মি.
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ:
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ হল নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপরে থাকা সম্পূর্ণ বায়ুর স্তম্ভ দ্বারা প্রতি একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রয়োগ করা বল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপের জন্য পারদ বারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এটি পারদের একটি স্তম্ভের উচ্চতা দেখায়, যা নির্দিষ্ট অঞ্চলের বায়ুস্তম্ভের ওজনের সমান ভারসাম্য বজায় রাখে।
- এছাড়াও অ্যানেরয়েড ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এতে একটি ফাঁপা ধাতব চাকতি থাকে, যা বায়ুর চাপের পরিবর্তনের সাথে সংকুচিত বা প্রসারিত হয় এবং একটি কলম ও ঘড়ি-চালিত ড্রামের সাহায্যে রেকর্ড করা হয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ:
- ৭৬০ মি.মি. বা ৭৬ সে.মি. (২৯.৯২ ইঞ্চি) পারদ

উৎস: Britannica.

৬৭১.
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য -
  1. ক) ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  2. খ) শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল
  3. গ) উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- মৌসমী জলবায়ুর প্রভাব এদেশের জলবায়ুর উপর অধিক বলে সামগ্রিকভাবে এর জলবায়ু “ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু” নামে পরিচিত।
- শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল এবং উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান  বৈশিষ্ট্য।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই
৬৭২.
বাংলাদেশে কখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. এপ্রিল - আগস্ট
  2. মার্চ - মে
  3. জুন - সেপ্টেম্বর
  4. অক্টোবর - নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
জুন - সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুন - সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
 
উৎস: www.bmd.gov.bd
৬৭৩.
কোনো স্থানের বায়ুচাপ কমে গেলে কী হয়?
  1. বায়ুপ্রবাহ কমে যায়
  2. বায়ুপ্রবাহ বেড়ে যায়
  3. বায়ুপ্রবাহ অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
• কোনো স্থানের বায়ুচাপ হঠাৎ কমে গেলে ওই এলাকায় নিম্নচাপ (Low Pressure) সৃষ্টি হয়। নিম্নচাপের দিকে আশেপাশের উচ্চচাপ এলাকা থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে,

- বায়ুপ্রবাহের গতি বেড়ে যায়।
- কখনও কখনও এটি ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়েরও কারণ হতে পারে।
- নিম্নচাপ কেন্দ্রে উঠে যাওয়া বায়ু শীতল হয়ে মেঘ ও বৃষ্টির সৃষ্টি করতে পারে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৬৭৪.
কোনটি জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণ?
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রমুখী বল
  2. বৃষ্টিপাত
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল
  4. বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটার:
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো- 
(১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং 
(২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।

উল্লেখ্য,
⇒ জোয়ার ও ভাটা (High Tide and Low Tide): সমুদ্র এবং উপকূলবর্তী নদীর জলরাশি প্রতিদিনই কোনো একটি সময়ে ঐ জলরাশি ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে এবং কিছুক্ষণ পরে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
- জলরাশির এরকম নিয়মিত স্ফীতি এবং ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
৬৭৫.
হিমশৈল কোথায় থাকে?
  1. উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোতে
  2. শীতল সমুদ্রস্রোতে
  3. উষ্ণ সমুদ্রস্রোতে
  4. সমুদ্রের তলদেশে
সঠিক উত্তর:
শীতল সমুদ্রস্রোতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতল সমুদ্রস্রোতে
ব্যাখ্যা
হিমশৈল:
⇒ শীতল সমুদ্র স্রোতে ভেসে আসা বিশাল বরফ খন্ড হল হিমশৈল। 
- শীতল সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে যেসব হিমশৈল (Iceberg) ভেসে আসে সেগুলোর কারণে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
- অনেক সময় হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে।
- যেমন- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ১৯১২ সালে প্রথম যাত্রাতেই হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য
⇒ শীতল সমুদ্রস্রোত অপেক্ষা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতে জাহাজ ও নৌচলাচলের সুবিধা বেশি।
- উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক জাহাজ যাতায়াত করে।
- শীতল স্রোতের গতিপথে তীব্র শীত ও হিমশৈলের জন্য জাহাজ চলাচলের অসুবিধা দেখা যায়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৬.
গ্রিনহাউজ প্রভাব নিচের কোন দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) সুইডেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রভাব কানাডা, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, দক্ষিণ আমেরিকা প্রভৃতি দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে ঐসব অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৬৭৭.
গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণ কী? 
  1. ভূমির ঢাল নেই বলে
  2. বায়ুপ্রবাহ হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়
  3. বায়ুর চাপ নিম্নাঞ্চলে বেশি হওয়ায়
  4. সমুদ্র পৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়ায়
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি:
- পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে।
- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়।
- তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৮.
পরিবেশ দূষণের কৃত্রিম কারণ কোনটি?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. পাহাড় কর্তন
সঠিক উত্তর:
পাহাড় কর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাহাড় কর্তন
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ দূষণ (Environment Pollution):
→ পরিবেশে জীবের স্বাভাবিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিতে সক্ষম ক্ষতিকর অবস্থার নাম দূষণ।
→ অন্যদিকে পানি, বাতাস, মৃত্তিকা বা পরিবেশের কোনো উপাদানের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনই প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ।
→ মানুষের বহুমুখী কর্মকান্ডই পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ।

• প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণ:
→ প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা-
ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

→ প্রাকৃতিক কারণ:
১. বন্যা ও খরা 
২. ভূমিকম্প 
৩. ঘূর্ণিঝড় 
৪. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত

→ মানবসৃষ্ট কারণ:
১. গাছপালা নিধন।
২. পাহাড় কর্তন।
৩. অপরিকল্পিত নগরায়ন।
৪. কীটনাশক ব্যবহার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৯.
পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে খুব বেশী শীত বা গরম আবহাওয়া থাকে না, তাকে বলে -
  1. ক) উষ্ণ জলবায়ু
  2. খ) মেরু দেশীয় জলবায়ু অঞ্চল
  3. গ) পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চল
  4. ঘ) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চলকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা হয় - উষ্ণ অঞ্চল, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল, মেরুদেশীয় অঞ্চল এবং পার্বত্য অঞ্চল।
- এসব শ্রেণী বিভাগকে আরও কতকগুলো উপশ্রেণীতে ভাগ করা হয়।

১। নিরক্ষ রেখার উভয় পাশে ৫º-৩০° উত্তর ও দক্ষিন অক্ষাংশের মধ্যে উষ্ণ জলবায়ু দেখা যায়। এ জলবায়ু অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ২১° সে.। পৃথিবীর মোট ভূ-ভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
২। পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে খুব বেশী শীত বা গরম আবহাওয়া থাকে না তাকে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল বলে । এ অঞ্চলকে মৃদু উষ্ণ, মৃদু শীতল ও শীত প্রধান নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
৩। পৃথিবীর উভয় মেরু অঞ্চলের জলবায়ুকে মেরু দেশীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে। এ অঞ্চলে বছরের অধিকাংশ সময়ই শীত পড়ে এবং বরফ দ্বারা ঢাকা থাক।
৪। পৃথিবীর বিভিন্ন উচ্চভূমি ও পার্বত্য অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতিগত কারনে যে মিশ্র ধরণের জলবায়ু পরিদৃষ্ট হয় তাকে পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চল বলে।

সূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৮০.
ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ কোনটি?
  1. চিনুক
  2. খামসিন
  3. লু
  4. সাইমুম
সঠিক উত্তর:
লু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লু
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু (Local Wind):
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কিংবা তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের স্থানে স্থানে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।

কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ
- রকি পর্বতের চিনুক (Chinook),
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল (Mistral),
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু (Pampero),
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা (Bora),
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো (Sirocco),
- আরব মালভূমির সাইমুম (Simoom),
- মিসরের খামসিন (Khamsin) ও
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু (Loo)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬৮১.
কোন স্থানের জলবায়ু কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:
- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ:
- বায়ুমণ্ডলের তাদের উৎস সূর্য।
- অক্ষাংশ অনুযায়ী সর্যকিরণ কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়।
- নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

২. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা:
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতাও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- ফলে উচ্চতার ভিত্তিতে বায়ুর তাপমাত্রায় পার্থক্য দেখা যায়।
- একই অক্ষাংশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের উচ্চতানুযায়ী তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।

৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান:
- জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ স্থিতিশীল।
- তাই জল ও স্থলভাগের অবস্থানজনিত কারণে তাপের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।
- জলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের একটা অংশ বাষ্পীভবনে ব্যয় হয় কিন্তু স্থলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের খুব একটা অপচয় হয় না।
- ফলে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে।

৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান:
- পাহাড়-পবর্তের অবস্থান জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পাহাড়-পর্বত কোনো স্থানের তাপ ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বনভূমির অবস্থান:
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বনভূমি।
- গভীর বনাঞ্চলে সূর্যকিরণ প্রবেশ করতে না পারায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয় না বলে জলবায়ু আর্দ্র থাকে।

৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- কারণ জলভাগ অপেক্ষা সস্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়।
- পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে অধিক গরম এবং শীতকালে ব্যাপক শীত পড়ে।

৭. সমুদ্র স্রোত:
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর সমুদ্র স্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল এবং উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ হয়।

৮. বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ হ্রাস পায়।

৯. বৃষ্টিপাত:
- বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানে উত্তাপ হ্রাস পায়।
- কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে সেখানকার তাপমাত্রা উত্তপ্ত হয়ে যায়।

১০. ভূমির ঢাল:
- কোনো স্থানের জলবায়ুর ওপর ঢালের প্রভাব রয়েছে।
- যে ভূমির ঢাল সূর্যের দিকে থাকে তাতে সূর্যরশ্মি লম্বাভাবে পড়ে।
- ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়।
- আবার যে ভূমির ঢাল সূর্যের বিপরীতে থাকে, তাতে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না।

১১. জলীয়বাষ্প:
- জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
- বেশি জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণে বাধার সৃষ্টি করে।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি পরিমাণে থাকলে তা দিনে খুব উষ্ণ ও রাতে খুব শীতল হতে পারে না।

১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য:
- দিবাভাগে সূর্যের আলোতে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী শীতল হয়।
- দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ বেশি উত্তপ্ত হয় এবং ছোট রাতে তাপ বিকিরণের পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডল ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে।

১৩. বায়ুর আর্দ্রতা:
- যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করতে পারে।
- ফলে উক্ত এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে খুবই শীত পড়ে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
ভূমিক্ষয়ের একটি কারণ-
  1. প্রবল বাতাস
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. টাইফুন
  4. ঝড়
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ: 
- বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি।
- বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়।
-বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়।
 - ক্ষমতাকেও এই বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত করে। যেমন- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র হাওয়া ও ভূমির তাপ শোষণ ক্ষমতায় বায়ু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণে নানারকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি দ্বারাই বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র চালিত হয়,ফলে পৃথিবীব্যাপি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্নোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে।
- এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৩.
সাধারণত বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় হ্রাস পায় -
  1. ৪° সেলসিয়াস
  2. ৬° সেলসিয়াস
  3. ৮° সেলসিয়াস
  4. ৭° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• উচ্চতা :
- উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন: দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়। দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৪.
'নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্ৰা ক্ৰমশ কমার' প্রধান নিয়ামক -
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. উচ্চতা
  4. অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
♣ জলবায়ুর নিয়ামক:  
• পৃথিবীর সব অঞ্চলের জলবায়ু একই রকম নয়।
• এর কোনো অঞ্চল উষ্ণ এবং কোনো অঞ্চল শীতল।
• আবার কোনো স্থান বৃষ্টিবহুল এবং কোনো স্থান বৃষ্টিহীন।
• কিছু ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর এরকম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
• এই বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
• যথা: 
- অক্ষাংশ, 
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, 
- সমুদ্রস্রোত,   
- ভূমির ঢাল,   
- ভূ-প্রকৃতি, 
- বায়ুপ্রবাহ,  
- বায়ুর চাপ এবং 
- বনভূমির অবস্থান।   
 
♣ অক্ষাংশ (Latitude):  
• সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়।
• নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
• নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
• এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্ৰা ক্ৰমশ কমতে থাকে।   

উৎস:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৮৫.
জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় _______।
  1. প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়
  2. প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়
  3. চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর থাকে
  4. মহাদেশীয় জলবায়ুর বিরাজ করে
সঠিক উত্তর:
প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ (Wind movement):
- বায়ুপ্রবাহ কোনো এলাকার জলবায়ুর উপরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- যেমন- বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবার শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
 
উল্লেখ্য
⇒ জলবায়ুর নিয়ামক (Factors of Climate)
- পৃথিবীর সব অঞ্চলের জলবায়ু একই রকম নয়। এর কোনো অঞ্চল উষ্ণ এবং কোনো অঞ্চল শীতল।
- আবার কোনো স্থান বৃষ্টিবহুল এবং কোনো স্থান বৃষ্টিহীন।
- কিছু ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর এরকম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
- এই বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
- কিছু জলবায়ুর নিয়ামকের নাম হল-
- অক্ষাংশ (Latitude),
- উচ্চতা (Altitude),
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the sea),
- বায়ুপ্রবাহ (Wind movement),
- সমুদ্রস্রোত (Ocean currents),
- পর্বতের অবস্থান (Location of the mountains),
- ভূমির ঢাল (Slope of the land),
- মৃত্তিকার গঠন (Composition of the soil),
- বনভূমির অবস্থান (Location of the forest) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হয়? 
  1. দক্ষিণ অঞ্চলে 
  2. পশ্চিম অঞ্চলে 
  3. উত্তর অঞ্চলে 
  4. পূর্বা অঞ্চলে 
সঠিক উত্তর:
উত্তর অঞ্চলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর অঞ্চলে 
ব্যাখ্যা

শীতকাল:
- বাংলাদেশে নভেম্বর মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময় শীতকাল।
- এই সময় তাপমাত্রা কমতে থাকে। জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
- শীতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯০ সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস।
- শুষ্ক শীতকাল এবং উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত এই দেশের শীতকালের বৈশিষ্ট্য।
- দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হয়।
- এসময় বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগ থাকে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৭.
পজিটিভ ও নেগেটিভ আয়ন সৃষ্টি হয় বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা

তাপমণ্ডল: 
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলা হয়।
- এটি মেসোবিরতির উপরের তাপমণ্ডলের অংশ, যেখানে তীব্র সৌর বিকিরণ বায়ুর অণু ও পরমাণুকে আঘাত করে তাদের আয়নে পরিণত করে।
- এই স্তরে বায়ু আয়নিত থাকে, অর্থাৎ এতে পজিটিভ ও নেগেটিভ আয়ন সৃষ্টি হয়।
- আয়নমণ্ডল মূলত তাপমণ্ডলের ৬০ কিলোমিটার থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনে সহায়তা করে বলে রেডিও যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- আয়নমণ্ডল সৌর রশ্মি ও মহাকাশীয় বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে আংশিকভাবে রক্ষা করে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৮.
জুম চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশের কোন জেলায় দেখা যায়?
  1. রাজশাহী
  2. রাঙামাটি
  3. সাতক্ষীরা
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
জুম চাষ:
- জুমচাষ (Shifting cultivation) পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি পাহাড়ী মিশ্র কৃষি চাষ পদ্ধতি।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।
- জুম চাষিদের জুমিয়া বলা হয়।
- জুম চাষ পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
- বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ভূমি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়।
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।
- জুম চাষের বিকল্প পদ্ধতি হচ্ছে সল্ট।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) কালের কন্ঠ।
৬৮৯.
নিম্নের কোনটি উঁচু উচ্চতার মেঘ?
  1. কিউম্যুলাস
  2. নিম্বাস
  3. স্ট্রেটাস
  4. সিরাস
সঠিক উত্তর:
সিরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাস
ব্যাখ্যা

মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

• উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

• মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

• নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

সূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 

৬৯০.
The key factor in determining the weather is the quantity of ____  in the atmosphere.
  1. ক) Water vapor
  2. খ) Oxygen
  3. গ) Carbon Dioxide
  4. ঘ) Hydrogen
সঠিক উত্তর:
ক) Water vapor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Water vapor
ব্যাখ্যা
• Humidity, the amount of water vapour in the air. It is the most variable characteristic of the atmosphere and constitutes a major factor in climate and weather.
 
Source: Britannica
৬৯১.
জোয়ার-ভাটার মরা কটাল কখন হয়?
  1. পঞ্চমীতে
  2. অষ্টমীতে
  3. সপ্তমীতে
  4. অমাবস্যায়
সঠিক উত্তর:
অষ্টমীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টমীতে
ব্যাখ্যা
• মরা কটাল (Neap Tide):
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না।
- এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে। 
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে জোয়ার-ভাটার মরা কটাল হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯২.
নিচের কোনটি ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর তথ্য অনুসারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নয়?
  1. ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে
  2. এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে
  3. ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে
  4. প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৯৩.
হেমন্ত ঋতু কোন কোন মাস নিয়ে গঠিত?
  1. ক) বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
  2. খ) আষাঢ়-শ্রাবণ
  3. গ) ভাদ্র-আশ্বিন
  4. ঘ) কার্তিক-অগ্রহায়ণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্তিক-অগ্রহায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্তিক-অগ্রহায়ণ
ব্যাখ্যা
হেমন্ত ঋতু কার্তিক-অগ্রহায়ণ, শরৎ ঋতু ভাদ্র-আশ্বিন মাস নিয়ে গঠিত।
৬৯৪.
বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো -
  1. মেসোমন্ডল
  2. ট্রপোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• ট্রপোমন্ডল
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

সূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM) এর মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কত মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে?
  1. ১৩.৩ মিলিয়ন 
  2. ২৫ মিলিয়ন
  3. ১০ মিলিয়ন
  4. ১৫ মিলিয়ন
সঠিক উত্তর:
১৩.৩ মিলিয়ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩.৩ মিলিয়ন 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তন: 
- বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত।
- ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM) এর মতে, জলবায়ু সংক্রান্ত প্রভাবের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১৩.৩ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
- এই ক্রমবর্ধমান সংকট সত্ত্বেও, জলবায়ু-প্ররোচিত বাস্তুচ্যুতদের স্বীকৃতি দেয় বা তাদের অধিকার রক্ষা করে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি বা নীতি কাঠামো নেই।

উৎস: ডেইলি স্টার। [লিঙ্ক]

৬৯৬.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী কোনটি বায়ুপ্রবাহের দিক?
  1. দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে ও উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, "বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।"
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৯৭.
বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় মোট বৃষ্টিপাতের-
  1. ৫০%
  2. ৬০%
  3. ৭০%
  4. ৮০%
সঠিক উত্তর:
৮০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮০%
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।
- জুন থেকে অক্টোবর মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় ৭০ থেকে ৮০%
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৮.
দিনের কোন নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা বছরের কোন নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জলভাগ ও স্থলভাগের তাপের তারতম্যের জন্য সৃষ্টি হয় তাকে বলে-
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) সাময়িক বায়ু
  3. গ) স্থানীয় বায়ু
  4. ঘ) অনিয়মিত বায়ু
সঠিক উত্তর:
খ) সাময়িক বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাময়িক বায়ু
ব্যাখ্যা
দিনের কোন নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা বছরের কোন নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জলভাগ ও স্থলভাগের তাপের তারতম্যের জন্য সৃষ্টি হয় তাকে সাময়িক বায়ু বলে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৬৯৯.
ট্রপোমণ্ডলে সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় কত তাপমাত্রা হ্রাস পায়?
  1. ৪.৫° সেলসিয়াস
  2. ৬.৫° সেলসিয়াস
  3. ৭.৫° সেলসিয়াস
  4. ৫.৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬.৫° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬.৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডল: 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
(ক) ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়
(খ) উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়।
(গ) নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
(ঘ) ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমন্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।
(ঙ) যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা-৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭০০.
সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয় নিচের কোনটি?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা

'এক্সোমন্ডল' সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাস:

- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন স্তরে স্তরে সজ্জিত।
- বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর থেকে উপরের দিকে ক্রমশ লঘু হয়।
- উলম্বভাবে (Vertically) বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- ট্রপোমন্ডল,
- স্ট্রাটোমন্ডল,
- মেসোমন্ডল,
- তাপমন্ডল ও
- এক্সোমন্ডল।

উল্লেখ্য,
- বায়ুমন্ডলের উপরিউক্ত স্তরগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি (ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডল) সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
- শেষের দুইটি (তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল) বিষমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।