বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৫০১৬০০ / ১,০৯৬

৫০১.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত সংঘটিত হয় কবে?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২২ ডিসেম্বর
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২১ জুন
সঠিক উত্তর:
২২ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত  - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫০২.
বায়ুর ঘর্ষণ বলের মাত্রা কীসের উপর নির্ভরশীল?
  1. ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর
  2. কোরিওলিস প্রভাবের উপর
  3. বায়ুর গতির উপর
  4. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির উপর
সঠিক উত্তর:
ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণশক্তি:
- বায়ুপ্রবাহের গতিতে ঘর্ষণশক্তির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
- বায়ু যখন ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন অসমতল ভূমিরূপের কারণে সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের সৃষ্টি করে।
- ঘর্ষণ বলের মাত্রা ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর নির্ভরশীল। 

- আকাশচুম্বি অট্টালিকাসমৃদ্ধ নগরী অথবা পাহাড়ী অসমগঠনে ঘষর্ণ মাত্রা বেশি হয়।
- অন্যদিকে সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহ মসৃন তলের উপর কম ঘর্ষণের সৃষ্টি করে।
- এছাড়াও মাধ্যাকর্ষণ ও কেন্দ্রবিমুখী বলও বায়ুপ্রবাহের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৩.
নিচের কোনটি উঁচু উচ্চতার মেঘ?
  1. ক) অল্টোস্ট্রেটাস
  2. খ) স্ট্রেটাস
  3. গ) সিরোকিউম্যুলাস
  4. ঘ) কিউম্যুলাস
সঠিক উত্তর:
গ) সিরোকিউম্যুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিরোকিউম্যুলাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৫০৪.
বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ যন্ত্র-
  1. ব্যারোমিটার
  2. থার্মোমিটার
  3. হাইগ্রোমিটার
  4. অ্যানেমোমিটার
সঠিক উত্তর:
হাইগ্রোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity):
- জলীয়বাষ্প বায়ুর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প যখন একদম থাকে না, তাকে শুষ্ক বায়ু বলে।
- যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে, তাকে আর্দ্র বায়ু বলে।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ থাকে প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ।
- বায়ুর আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) দ্বারা পরিমাপ করা হয়।
- বায়ুর আর্দ্রতা দু'ভাবে প্রকাশ করা যায়।
- যথা- পরম আর্দ্রতা (Absolute humidity) ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative humidity)।

উল্লেখ্য, 
- ব্যারোমিটার বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- থার্মোমিটার তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- অ্যানেমোমিটার  বাতাসের গতি (speed) ও দিক (direction) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৫.
সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু কোন ধরনের জলবায়ু বলে?
  1. ক) সমভাবাপন্ন জলবায়ু
  2. খ) মৌসুমি জলবায়ু
  3. গ) শীতপ্রধান জলবায়ু
  4. ঘ) মহাদেশীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাদেশীয় জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাদেশীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা

সমুদ্র থেকে দূরত্ব - জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এসব এলাকায় শীতকালে তীব্র শীত এবং গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম অনুভূত হওয়ায় সমুদ্র থেকে দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
আবার,
জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু রাজশাহীর তুলনায় মৃদুভাবাপন্ন।
সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য হয় না বলে এ ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

৫০৬.
কোন স্তরে ওজোন (O3) গ্যাস বেশি পরিমাণে আছে?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere): 
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere): 
(ক) এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাস বেশি পরিমাণে আছে। এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
(খ) এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
(গ) প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০৭.
টর্নেডো শব্দটি এসেছে-
  1. ক) Toonida
  2. খ) Tunioda
  3. গ) Tonada
  4. ঘ) Tornada
সঠিক উত্তর:
গ) Tonada
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Tonada
ব্যাখ্যা
টর্নেডো শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ শব্দ 'Tonada'/Tronada থেকে, যার অর্থ হলো Thunder storm বা বজ্রঝড়।
According to Oxford Dictionary,
Mid 16th century (denoting a violent thunderstorm of the tropical Atlantic Ocean): perhaps an alteration of Spanish tronada thunderstorm’ (from tronar ‘to thunder’) by association with Spanish tornar to turn’.
-------------------
ঝড়ের বেগ ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি হলে এটাকে টর্নেডো বলা হয়।
- টর্নেডোর সবচেয়ে ক্ষতিকারক দিক হলো এটি হঠাৎ করে অল্প সময়ের মধ্যে প্রচন্ড ধ্বংসযজ্ঞ করে ফেলতে পারে৷

- স্মরণকালের ভয়াবহ টর্নেডোর মধ্যে একটি হলো ১৯৬৯ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা জেলার ডেমরা থানায়।
- ঐ টর্নেডোতে বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৬৪৪ কিলোমিটার।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম অধ্যায় ও Oxford Dictionary।

অপশনে Tronada না থাকায় বোর্ড বইয়ে প্রদত্ত শব্দ Tonada এখানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর।
৫০৮.
বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে নিম্নের কোনটি বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে?
  1. ওশেনিয়া
  2. দক্ষিণ এশিয়া
  3. সাব-সাহারান আফ্রিকা
  4. ল্যাটিন আমেরিকা
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ এশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ এশিয়া
ব্যাখ্যা

বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হবে দক্ষিণ এশিয়া:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে।
- ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এটি বলা হয়।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো।
- আর এর মধ্যেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। 
- বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানকে এর ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
- প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ গুরুতর বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে।
- উপকূলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

উৎস: i) বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট। [link]
ii) প্রথম আলো।

৫০৯.
কৃষিতে জলবায়ুর কোন উপাদানগুলি ফসলের বৃদ্ধি ও ফলনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে?
  1. তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত 
  2. সৌর বিকিরণ ও  আদ্রতা 
  3. সৌর বিকিরণ ও বৃষ্টিপাত
  4. দ্রাঘিমাংশ ও তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত 
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু এবং আবহাওয়ার প্রভাব:
-কৃষি কাজ মূলত মৌসুম, জলবায়ু এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
- কারণ, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতা ফসলের বৃদ্ধি, ফলন এবং কোন ধরনের ফসল ফলানো যাবে তা নির্ধারণ করে।
- জলবায়ুর যেকোনো পরিবর্তন, যেমন: খরা বা বন্যা, কৃষি উৎপাদনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
- কানাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কৃষি কাজের জন্য উপযোগী।
- জলবায়ুর মূল প্রভাব:
• তাপমাত্রা: প্রতিটি ফসল নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ভালো জন্মায়।
- তাপমাত্রা খুব বেশি বা কম হলে ফসলের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়।
- অতিরিক্ত তাপ গাছের সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত করে, ফলে ফলন হ্রাস পায়।
- অতিরিক্ত তাপে আমের মুকুলের মতো সংবেদনশীল ফসল সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

• বৃষ্টিপাত: অধিকাংশ বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য পরিমিত বৃষ্টিপাত দরকার।
- অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, ফলে বীজ পচে যেতে পারে এবং
- জমি প্রস্তুত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

• লবণাক্ততা ও পানিবদ্ধতা: উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জমিতে লবণাক্ততা বাড়ায়, যা জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয়।

অন্যদিকে,
• সৌর বিকিরণ: সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সেচ, শস্যকে অতিরিক্ত তাপ থেকে বাঁচানো (ছায়া দিয়ে), এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শস্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- এতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় ও কৃষকের আয় বাড়ে।
• আর্দ্রতা: অতিরিক্ত আর্দ্রতা রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ায়, যা ফসলের ক্ষতি করে।
• দ্রাঘিমাংশ: দ্রাঘিমাংশ সরাসরি না হলেও জলবায়ু ও আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে।
- এটি বায়ুপ্রবাহ, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও ঋতুর সময় নির্ধারণ করে।
- এর ফলে ফসল, সেচ ও মাটির উর্বরতা প্রভাবিত হয়।

উৎস :
১. প্রাকৃতিক ভূগোল,এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. কৃষি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১০.
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা -
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. ধ্রুব থাকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
• নিম্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১. অক্ষাংশ,
২. উচ্চতা,
৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৪. স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, 
৫. সমুদ্রস্রোত,   
৬. ভূমির ঢাল, 
৭. ভূ-প্রকৃতি, 
৮. বায়ুপ্রবাহ,  
৯. বায়ুর চাপ এবং
১০. বনভূমির অবস্থান।   

♣ উচ্চতা: 
• উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়। 
• সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
• উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়। 
• যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়।
• দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১১.
ক্যানারি স্রোত কোনদিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  3. ঘূর্ণন আকারে
  4. চক্রাকারে
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাঁটার দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাঁটার দিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

⇒ আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয।
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১২.
কোনটি বায়ুমণ্ডলে ভালো শোষক হিসেবে কাজ করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. জলীয় বাষ্প
  3. অক্সিজেন
  4. ধূলিকণা
সঠিক উত্তর:
জলীয় বাষ্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
- কিছু পদার্থ সহজে তাপ বিকিরণ করে, এদেরকে বলে বিকিরক। 
- বিকিরক পদার্থ তাপ বিকিরণ করে ঠাণ্ডা হয়ে যেতে চায়। বিকিরক পদার্থ তাপ শোষণও করে। 
- আবার কিছু পদার্থ তাপ শোষণ করে নেয়, তাদেরকে বলে শোষক। 
- শোষক তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয়। 
- তরল পানি, জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, কাঁচ, প্লাস্টিক এসব পদার্থ তাপ শোষণ করে নেয়।
 
উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
৫১৩.
সমুদ্রের নিকটবর্তী স্থানে দিন-রাত্রির তাপের পার্থক্য খুব কম কেন?
  1. ক) সূর্যের তীর্যক পতন
  2. খ) বায়ু প্রবাহ
  3. গ) সমুদ্র স্রোত
  4. ঘ) বেশি জলীয়বাষ্পের দরুন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেশি জলীয়বাষ্পের দরুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেশি জলীয়বাষ্পের দরুন
ব্যাখ্যা
জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে কারণ এই বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। সমুদ্রে উপকূলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এসব এলাকার তাপমাত্রা দিন-রাত কিংবা শীত-গ্রীষ্মে তেমন পার্থক্য হয় না। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৫১৪.
'জলবায়ুর' সংজ্ঞা হিসেবে কোনটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য?
  1. কোনো স্থানের দৈনন্দিন তাপমাত্রা
  2. কোনো স্থানের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত
  3. কোনো স্থানের মাসিক গড় তাপমাত্রা
  4. কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা
সঠিক উত্তর:
কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু:

- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৫.
নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত অঞ্চলকে বলা হয়-
  1. ক) গর্জনশীল চল্লিশ
  2. খ) অশ্ব অক্ষাংশ
  3. গ) ক্রান্তীয় শান্ত বলয়
  4. ঘ) নিরক্ষীয় শান্ত বলয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরক্ষীয় শান্ত বলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরক্ষীয় শান্ত বলয়
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত অঞ্চল নিরক্ষীয় শান্ত বলয় নামে পরিচিত। নিরক্ষরেখায় সূর্যতাপ অত্যধিক হওয়ায় ক্রান্তীয় উচ্চবলয় থেকে আগত অয়ন বায়ু এখানে তাপে হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। যার কারণে এখানে বায়ুর আনুভূমিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫১৬.
মেরু জলবায়ু কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
মেরু জলবায়ুসমূহ:
- এ জলবায়ুতে বছরের বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে থাকে।
- ফলে উদ্ভিজ্জের জন্ম ও বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্ব ও উত্তাপের প্রাচুর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- উষ্ণতম মাসের গড় তাপমাত্রা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা-
১. তুন্দ্রা অঞ্চল।
২. চিরস্থায়ী বরফের আচ্ছাদনজনিত জলবায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৭.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউস গ্যাসের উদাহরণ?
  1. ক) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  2. খ) নাইট্রাস অক্সাইড
  3. গ) মিথেন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট বলে।
• গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো - কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।       

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৫১৮.
বাংলাদেশের জলবায়ুর ধরন নিচের কোনটি?
  1. ক্রান্তীয় জলবায়ু
  2. উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  3. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  4. ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া:
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যধিক হওয়ায় বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৯.
পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহজনিত স্রোত প্রবাহিত হওয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  2. ঘূর্ণন আকারে
  3. চক্রাকারে
  4. পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহজনিত স্রোত প্রবাহিত
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয। যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২০.
বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় মানচিত্র তৈরি করেছিলেন কে?
  1. ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম, ১৯৮৯ সালে
  2. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৯ সালে
  3. চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৯ সালে
  4. খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৮ সালে
সঠিক উত্তর:
ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম, ১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম, ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৮৯ সালে ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসাের্টিয়াম বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় সম্বলিত মানচিত্র তৈরি করেন।
এতে ৩টি বলয় দেখানাে হয়েছে।
- প্রথম বলয়কে “প্রলয়ঙ্করী”;
- দ্বিতীয় বলয়কে ‘বিপজ্জনক’ এবং
- তৃতীয় বলয়কে ‘লঘু' বলে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: www.ittefaq.com.bd.
৫২১.
তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারা বছরকে ভাগ করা হয়-
  1. ক) ৩ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারা বছরকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা:
- গ্রীষ্মকাল,
- শরৎকাল,
- শীতকাল ও
- বসন্তকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২২.
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

 বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
• নিয়মিত বায়ু।
• স্থানীয় বায়ু।
• সাময়িক বায়ু।
• অনিয়মিত বায়ু।

♣ নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
• অয়ন বায়ু।
• মেরু বায়ু।
• পশ্চিমা বায়ু।

♣ সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
• মৌসুমি বায়ু।

♣ স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
• পার্বত্য বায়ু।
• উপত্যকা বায়ু।

♣ অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
• ঘূর্ণিবাত বায়ু।
• প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৩.
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি কেমন?
  1. নাতিশীতোষ্ণ
  2. সমভাবাপন্ন
  3. চরমভাবাপন্ন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া:
- কোনো স্থানের প্রতিদিনের গড় তাপমাত্রা, চাপ, আর্দ্রতাকে ঐ স্থানের আবহাওয়া বলে।
- বাংলাদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ।

জলবায়ু:
- কোনো স্থানের ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহওয়াকে জলবায়ু বলা হয়।
- বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল (১ম পত্র) বই।
৫২৪.
IPCC-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন কত শতাংশ হ্রাস পাবে?
  1. ১৫%
  2. ২০%
  3. ৩০%
  4. ৪০%
সঠিক উত্তর:
৩০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০%
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল প্রভাবগুলোর কারণে ও সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি বড় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নাজুক হয়ে ওঠেছে।
 - এখানকার ৬০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৫ মিটার উপরে।
 - 'Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০৮০ সালে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে। 
- ফলশ্রুতিতে, অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি এবং জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হবে। সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ঝড় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতেও থাকবে।
 - 'Inter-governmental Panel on Climate Change (IPCC)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের ভূমির ১৭ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হারিয়ে যাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। 

৫২৫.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে কোন ধরনের বস্তু রয়েছে?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) উল্কা
  3. গ) গ্রহাণুপুঞ্জ
  4. ঘ) নক্ষত্র
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রহাণুপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রহাণুপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- সৌরজগতে মঙ্গল (Mars) ও বৃহস্পতি (Jupiter) এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ (১.৬-৮০৫ বর্গ কি. মি.আয়তন বিশিষ্ট) একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৬.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে কোথায় বেশি বৃষ্টিপাত থাকে?
  1. বনভূমিতে
  2. সমুদ্র উপকূলে
  3. খোলা মাঠে
  4. পাহাড়ের কাছে
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলে
ব্যাখ্যা
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রিস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০০- ২৮০ সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৭.
বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল কোন জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল
  2. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল
  3. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল
  4. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ু অঞ্চলের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়।
- জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নিম্নোক্ত ছয়টি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়। যেমন-

১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চরের অন্তর্গত।

২. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সমগ্র চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তভুক্ত।

৩. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পটুয়াখালী, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকা, যশোরের পূর্বাংশ; ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্বাংশ ব্যতীত সমগ্র এলাকা; দক্ষিন-পশ্চিম ও পূর্ব সিলেট; পাবনা ও দক্ষিণ-পূর্ব বগুড়া নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 

৪. ক্রান্তীয় মৃদু আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পশ্চিম-দক্ষিণ বগুড়া ও পাবনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, সমগ্র রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এবং পশ্চিম-উত্তর যশোর অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু গঠিত। বাংলাদেশের মধ্যে এ অঞ্চলই সর্বাপেক্ষা শুষ্ক ও উষ্ণ। 

৫. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দক্ষিণের সামান্য অংশ ব্যতীত সমস্ত এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। অর্থাৎ শীতের সময় অত্যধিক শীত এবং গ্রীষ্মের সময় অত্যধিক গরম পড়ে। 

৬. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- সমগ্র সিলেট ও উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৮.
বাংলাদেশে বছরের শুষ্কতম মাস কোনটি?
  1. ক) এপ্রিল
  2. খ) মার্চ
  3. গ) ডিসেম্বর
  4. ঘ) জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
গ) ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর সাধারণ চিত্র:
- গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ২৬.১০ (৭৯° ফা.)।
- গড় তাপমাত্রার পার্থক্য (দিবারাত্রি) ৯° সে, 
- গড় মাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪°সে. (৯৩° ফা.) এপ্রিল মাসে; 
- গড় মাসিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ডিসেম্বরে ১৪° সে (৫৭° ফা.) 
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৮৭৫ মিলিমিটার;
- গড়ে বছরে ১৩৬ দিন ০.১ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয়;
- ডিসেম্বর বছরের শুষ্কতম মাস হিসাবে বিবেচিত (গড় বৃষ্টিপাত ৫ মিলিমিটার);
- সর্বাধিক আর্দ্র মাস হল আগস্ট (গড় বৃষ্টিপাত ৩৩৭ মিলিমিটার)
- গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫.৫%।
- গড় মাসিক আদ্রতা মার্চে ৪৫% জুন-জুলাইয়ে ৭৯% এর উন্নীত হয়;
- বাংলাদেশে বছরে কোনাে তুষার দিবস নেই।

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, দেশের শীতলতম মাস - জানুয়ারি।
৫২৯.
বিষমমণ্ডলের মধ্যে কোন স্তরগুলো অন্তর্ভুক্ত?
  1. ট্রপোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ:
- ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- মূলত বায়ুমণ্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য অর্থাৎ অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য বায়ুমণ্ডলকে নানা স্তরে ভাগ করা যায়।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরসমূহ হলো-ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল।

⇒ আবার এই সকল স্তরকেও প্রধানত দুইটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা- সমমণ্ডল বা হোমোস্ফিয়ার ও বিষমমণ্ডল বা হেট্যারোস্ফিয়ার।

সমমণ্ডল ও বিষমমণ্ডল:
- সমমণ্ডল বা হোমোস্ফিয়ার এর বৈশিষ্ট্য হলো যে এই মণ্ডলে ভূ-পৃষ্ঠ হতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুস্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় সমান থাকে।
- এই সমমণ্ডলের মধ্যেই বায়ুমণ্ডলের প্রথম তিনটি স্তর অর্থাৎ ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডল অন্তর্ভুক্ত।
- বিষমমণ্ডল এর মধ্যে বায়ুমণ্ডলের বাকী দুইটি স্তর অর্ন্তভুক্ত। এ স্তর দুটি হলো তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল। 
- মূলত এই মণ্ডলটি সমমণ্ডলের উপরে অবস্থিত। সমমণ্ডলের উপরের স্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত অসমান থাকে বলেই একে বিষমমণ্ডল বলা হয়।
- বিষমমণ্ডল প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩০.
বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. বায়ুর ঘনত্ব
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুর আর্দ্রতা
  4. সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
• বায়ুর আর্দ্রতা:
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। যথা- পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩১.
গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি কোনটি?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. কার্টাগোনা প্রটোকল
  4. বাসেল কনভেশন
সঠিক উত্তর:
কিয়োটো প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিয়োটো প্রটোকল
ব্যাখ্যা
• কিয়োটো প্রটোকল:
- জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক কিয়োটো প্রটোকল গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত একটি চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে।
- কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয় জাপানের কিয়োটোতে।
- কিয়োটো প্রটোকল কার্যকর হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে। 
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক  কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষর করে ১৯৯৮ সালে।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক  কিয়োটো প্রটোকল প্রত্যাহার করে ২০০১ সালে।
- জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষর করে ২০০১ সালে।

উতস : জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৫৩২.
'ইকোলজি' শব্দটি কিসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. অর্থনীতি
  2. পরিবেশ
  3. ঔষধ বিজ্ঞান
  4. জীববিদ্যা
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ
ব্যাখ্যা

• ইকোলজি: 
- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় ইকোলজি বা বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৩.
বায়ুমণ্ডলের উচ্চতম স্তর কোনটি?
  1. ওজোন স্তর
  2. স্ট্রাটোসফিয়ার
  3. এটমোসফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উচ্চতমস্তর আয়নোস্ফিয়ার।

আয়নোস্ফিয়ার/ তাপমন্ডল (Thermosphere) :
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে।

- তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো-
ক) তাপমন্ডলের বায়ু খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য।
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে আয়নমন্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়।
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে।
ঘ) এই স্তরে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০০ সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়।
৫৩৪.
হিমালয়ের অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় শীতের তীব্রতা—
  1. ইউরোপের মতোই
  2. ইউরোপের চেয়ে কম
  3. ইউরোপের চেয়ে বেশি
  4. একই রকম
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চেয়ে কম
ব্যাখ্যা

জলবায়ুতে ভূ-প্রকৃতির প্রভাব:
- পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে।
- যেমন- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়। - তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।
- হিমালয় পবর্তের অবস্থানের জন্য শীতল সাইবেরীয় বায়ুর প্রভাবে হিমালয়ের উত্তরাংশের চীন ভূ-খন্ডে উষ্ণতা-১০° সেলসিয়াস থেকে -৫০° -সেলসিয়াস এবং দক্ষিণে ভারতীয় উপমহাদেশে ২০° সেলসিয়াস থেকে ২৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
অতএব বলা যায় যে, ভূ-প্রকৃতির উপর আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভরশীল।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৫.
বাংলাদেশের কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান সামগ্রিক প্রভাব কোনটি?
  1. খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি
  2. ফসল উৎপাদন ব্যাহত
  3. কৃষিজমি সম্প্রসারণ
  4. সেচ নির্ভরতা হ্রাস
সঠিক উত্তর:
ফসল উৎপাদন ব্যাহত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসল উৎপাদন ব্যাহত
ব্যাখ্যা

∗ সেক্টরভিত্তিক আঞ্চলিক প্রভাব:
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামক হচ্ছে: 
- তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ও চরম আবহাওয়া।
- এসব নিয়ামক বাংলাদেশের কৃষিতে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলছে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
- এবং কৃষি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাব (সকল অঞ্চল): 
• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ফসলের উৎপাদনশীলতা কমছে; 
• বৃষ্টিপাতের অনিয়মে কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও খরা দেখা দিচ্ছে; 
• আর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহ কৃষিজীবন ও উৎপাদনকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
- একই সঙ্গে অনিয়মিত বৃষ্টি ও বন্যা ফসল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটিয়ে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

অন্যদিকে,
- জলবায়ু পরিবর্তনে খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ে না, বরং ঝুঁকি বাড়ে।
- লবণাক্ততা ও খরার কারণে কৃষিজমি সম্প্রসারিত হচ্ছে না।
- খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টির ফলে সেচের ওপর নির্ভরতা কমছে না, বরং বাড়ছে।
----------------------------------
উল্লেখ্য, 
- উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র খরার কারণে আমন, আউশ ও বোরো ধানসহ পাট, ডাল, তেলবীজ, আলু, আখ এবং শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশে-
• মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে;
• মিঠা পানির সংকট তৈরি হচ্ছে;
• এবং কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
- পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়াতে কৃষকদের দুর্যোগ-সহনশীল ফসলের জাত, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ (যেমন ফেরোমন ফাঁদ) এবং জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৫৩৬.
বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের?
  1. আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু
  2. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  3. উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু
  4. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- বাংলাদেশের মধ্যভাগে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অধিক হওয়ায় “ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ” বলা হয়।
- ঋতুভেদে উচ্চ তাপমাত্রা, ভারী বর্ষণ, অত্যাধিক আর্দ্রতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের জলবায়ুতে পরিলক্ষিত হয়।
- সার্বিক বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে প্রধানত তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়,
যথা  - শীতকাল, গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৭.
নিচের কোন বায়ুটি সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয়?
  1. মিস্ট্রাল বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. পশ্চিমা বায়ু
  4. পাম্পেরু বায়ু
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। যথা:
- অয়ন বায়ু
- পশ্চিমা বায়ু
- মেরু বায়ু।
অন্যদিকে,
- মৌসুমি বায়ু নির্দিষ্ট ঋতুতে প্রবাহিত হয়।
- মিস্ট্রাল ও পাম্পেরু হলো যথাক্রমে ফ্রন্সের মালভূমি এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাম্পেরু অঞ্চলে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ু।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৩৮.
কোনটির উপর সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. অক্ষরেখা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা:
- নিরক্ষরেখার (০°) উপর সূর্য সারা বছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধকে সমান দুই ভাগে বিভক্তকারী কাল্পনিক রেখা।
- এই রেখা বরাবর পৃথিবী আহ্নিক গতির বেগ সর্বাধিক থাকে, এবং সূর্যের রশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে।
- এর ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সর্বদা তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং উষ্ণতা বিরাজ করে।

উল্লেখ্য, 
- বিশেষ করে, ২১শে মার্চ এবং ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই দুই দিনে পৃথিবীর সব জায়গায় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়। এজন্য নিরক্ষরেখায় অধিক তাপমাত্রা অনুভূত হয় এবং এটি পৃথিবীর উষ্ণতম অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৯.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা ধরা হয়-
  1. মার্চ থেকে জুন
  2. মার্চ থেকে এপ্রিল
  3. মার্চ থেকে মে
  4. ফেব্রুয়ারী থেকে মে
সঠিক উত্তর:
মার্চ থেকে মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্চ থেকে মে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল (Summer Season):
- বাংলাদেশের উষ্ণতম ঋতু গ্রীষ্মকাল।
- মার্চ থেকে মে (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল ধরা হয়। 
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কালবৈশাখী ঝড়। কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলিপিডিয়া।
৫৪০.
জলবায়ু পরিবর্তন শিল্পখাতে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
  1. উৎপাদন ও কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করে
  2. শুধুমাত্র আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করে 
  3. শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করে  
  4. কোনো প্রভাব নেই 
সঠিক উত্তর:
উৎপাদন ও কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদন ও কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করে
ব্যাখ্যা

 ∗ জলবায়ু পরিবর্তন ও শিল্প:
- জলবায়ু পরিবর্তন শিল্পে সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।
- জলবায়ু পরিবর্তন শিল্পে উৎপাদন হ্রাস, খরচ বৃদ্ধি, আর্থিক ঝুঁকি এবং কর্মপরিবেশের সমস্যা সৃষ্টি করে।
- সরাসরি প্রভাব হলো:
• বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা দাবানলের কারণে কারখানা ও অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়া;
- এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া।

- পরোক্ষ প্রভাব হলো:
• কাঁচামাল সরবরাহে বাধা,
• উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি,
• পানির অভাব,
• কর্মীদের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস
• এবং নতুন নীতি ও প্রযুক্তি গ্রহণের কারণে আর্থিক ঝুঁকি।

উল্লেখ্য,
- বিভিন্ন শিল্পে জলবায়ুর প্রভাব ভিন্নভাবে দেখা যায়।
- বস্ত্র শিল্পে আর্দ্রতা অপরিহার্য, শুষ্ক আবহাওয়ায় সুতা ছিঁড়ে যায়।
- কৃষি-ভিত্তিক শিল্পে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সেচের পানির অভাব ও জমির উর্বরতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পায়।
- পর্যটন শিল্পে প্রাকৃতিক আকর্ষণ যেমন প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে পর্যটনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

উৎস: 
১. শিল্পোদ্যোগীয় পরিবেশ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. Britannica.

৫৪১.
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ কোনটি?
  1. শুক্র
  2. বুধ
  3. ইউরেনাস
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
বুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধ
ব্যাখ্যা

বুধ (Mercury):
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন। সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে আছে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪২.
শীতকালে বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা কত ভাগ থাকে?
  1. প্রায় ৪০ ভাগ
  2. প্রায় ৩৬ ভাগ
  3. প্রায় ৩০ ভাগ
  4. প্রায় ১৫ ভাগ
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৩৬ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৩৬ ভাগ
ব্যাখ্যা
 শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগ।

- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে। জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।
- উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে।
- দেশের উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে কখনো কখনো তীব্র শীতল বায়ু প্রবাহিত হওয়ার ফলে বেশ শীত অনুভূত হয়।
- উত্তরের হিমালয় পেরিয়ে আসা এই বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৪৩.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে বছরে গড়ে কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ১২০০-২৫০০ মি.মি.
  2. ১০০০-২১০০ মি.মি.
  3. ১৭০০-২৫০০ মি.মি. 
  4. ১৩০০-২৩০০ মি.মি.
সঠিক উত্তর:
১৭০০-২৫০০ মি.মি. 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭০০-২৫০০ মি.মি. 
ব্যাখ্যা

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্ক্যরে জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়। নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু। 

• নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে। শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
→ সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। দিনের ব্যাপ্তি সারা বছর একই থাকে এবং বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২১°- ২৭° সে.। স্থলভাগের বার্ষিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ৫০ সেলসিয়াসের কম। অত্যধিক সূর্য তাপ ও আর্দ্রতা এবং সামান্য মেঘাচ্ছন্নতার জন্য তাপমাত্রার পার্থক্য কম।

→ অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বছরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
→ এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৪.
যুক্তরাষ্ট্রের রকি পর্বত এলাকার মাঝামাঝি স্থানে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ু-
  1. সিরক্কো
  2. চিনুক
  3. সাইমুম
  4. খামসিন
সঠিক উত্তর:
চিনুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিনুক
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু (Local Wind):
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কিংবা তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের স্থানে স্থানে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।
- কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ হল:
- রকি পর্বতের চিনুক (Chinook),
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল (Mistral),
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু (Pampero),
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা (Bora),
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো (Sirocco),
- আরব মালভূমির সাইমুম (Simoom),
- মিসরের খামসিন (Khamsin) ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু (Loo)।



উৎস:- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী। এবং ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি এ /বি এস এস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৫.
উচ্চ উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. স্ট্রেটাস
  2. স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
  3. সিরাস
  4. অল্টোস্ট্রেটাস
সঠিক উত্তর:
সিরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস, 
- সিরোকিউম্যুলাস, 
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস, 
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
- নিম্বোস্ট্রেটাস।

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস, 
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৫৪৬.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবনের জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
  2. খ) সিলেট অঞ্চলের বনভূমি
  3. গ) উপকূলীয় বনভূমি
  4. ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি
সঠিক উত্তর:
ক) মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনভূমিকে প্রধানত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি, ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি ও গরান বা স্রোতজ বনভূমি (সুন্দরবন) এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গ কিলোমিটার।
- শাল জাতীয়
এক ধরনের গজারী এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ।
• পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
• উপকূলীয় অঞ্চল যেমন -  খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ বন বিভাগের ওয়েবসাইট।
৫৪৭.
বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত কোন বায়ুর প্রভাবে গঠিত?
  1. ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু
  2. পশ্চিমী বায়ু
  3. সমুদ্রবায়ু
  4. আদ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু 
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত সমভাবাপন্ন।
- এখানে গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র, শীতকাল শুষ্ক এবং চরমভাবে ঠাণ্ডা বা গরম হয় না।
- দেশের জলবায়ু মূলত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- গ্রীষ্মে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টি আনে।
- শীতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু জলবায়ুকে আরামদায়ক রাখে।
- দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ২০°৩৪´ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১´ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে, যা সমভূমি, পাহাড় ও বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।

- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি।
- তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, মেঘ ও বৃষ্টিপাতের ঋতুগত বৈচিত্র্য লক্ষ্যণীয়।
- শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমের বিপরীতমুখী বায়ু প্রবাহ দেশের বায়ুমন্ডলীয় বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে।
- শীতকালে উত্তরের উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়।
- আর গ্রীষ্মে পশ্চিম ভারতের নিম্নচাপ কেন্দ্র থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৫৪৮.
পৃথিবীতে কয়টি দেশ আছে যারা অপর দেশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৩টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে তিনটি দেশ আছে যারা অপর একটি দেশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত। দেশগুলো হলোঃ
১. লেসোথো,
২. সানমারিনো এবং
৩. ভ্যাটিকান সিটি।
৫৪৯.
কত সাল থেকে বাংলাদেশ এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়?
  1. ১৫৪৮ সাল
  2. ১৭৪৮ সাল
  3. ১৪৪৮ সাল
  4. ১৩৪৮ সাল
সঠিক উত্তর:
১৫৪৮ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৪৮ সাল
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূতাত্ত্বিক গঠনগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশেষত উত্তর ও পূর্ব দিক যথেষ্ট ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
- উত্তরে হিমালয় চত্বর এবং মালভূমি, পূর্বে মিয়ানমার আরাকান ইয়োমার অস্তিত্ব এবং উত্তর-পূর্বে নাগা-দিসাং-জাফলং অঞ্চলের সংশ্লিষ্টতা অনেক বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ করে তুলেছে।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগৃহীত শুরু হয়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র উপকেন্দ্রের সঙ্গে তিন ধরনের পরিমাপ সম্পর্কযুক্ত।
i) অগভীর কেন্দ্র (০-৭০ কিলোমিটার),
ii) মধ্য পর্যায়ের কেন্দ্র (৭০- ৩০০ কিলোমিটার) এবং
iii) গভীর কেন্দ্র (১,৩০০ কিলোমিটার)। 
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপকেন্দ্র না থাকলেও সংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশেও ভূকম্পন অনুভূত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫০.
নিচের কোন স্থানে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়?
  1. লালাখাল, সিলেট
  2. লালপুর, নাটোর
  3. মিঠাপুকুর, রংপুর
  4. শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
লালপুর, নাটোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালপুর, নাটোর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর পরিস্থিতি:
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস।
- গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার এবং এপ্রিল উষ্ণতম মাস।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: মেহেরপুর।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৫১.
নিম্নের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না?
  1. অক্ষরেখা
  2. দ্রাঘিমারেখা
  3. উচ্চতা
  4. সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখা কোনো অঞ্চল বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:
- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ:
- বায়ুমণ্ডলের তাদের উৎস সূর্য।
- অক্ষাংশ অনুযায়ী সর্যকিরণ কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়।
- নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা:
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতাও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- ফলে উচ্চতার ভিত্তিতে বায়ুর তাপমাত্রায় পার্থক্য দেখা যায়।
- একই অক্ষাংশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের উচ্চতানুযায়ী তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।

৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান:
- জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ স্থিতিশীল।
- তাই জল ও স্থলভাগের অবস্থানজনিত কারণে তাপের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।
- জলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের একটা অংশ বাষ্পীভবনে ব্যয় হয় কিন্তু স্থলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের খুব একটা অপচয় হয় না।
- ফলে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে।

৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান:
- পাহাড়-পবর্তের অবস্থান জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পাহাড়-পর্বত কোনো স্থানের তাপ ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বনভূমির অবস্থান:
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বনভূমি।
- গভীর বনাঞ্চলে সূর্যকিরণ প্রবেশ করতে না পারায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয় না বলে জলবায়ু আর্দ্র থাকে।

৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- কারণ জলভাগ অপেক্ষা সস্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়।
- পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে অধিক গরম এবং শীতকালে ব্যাপক শীত পড়ে।

৭. সমুদ্র স্রোত:
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর সমুদ্র স্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
 শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল এবং উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ হয়।

৮. বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
 সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ হ্রাস পায়।

৯. বৃষ্টিপাত:
- বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানে উত্তাপ হ্রাস পায়।
- কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে সেখানকার তাপমাত্রা উত্তপ্ত হয়ে যায়।

১০. ভূমির ঢাল:
- কোনো স্থানের জলবায়ুর ওপর ঢালের প্রভাব রয়েছে।
- যে ভূমির ঢাল সূর্যের দিকে থাকে তাতে সূর্যরশ্মি লম্বাভাবে পড়ে।
- ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়।
- আবার যে ভূমির ঢাল সূর্যের বিপরীতে থাকে, তাতে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না।

১১. জলীয়বাষ্প:
- জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
- বেশি জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণে বাধার সৃষ্টি করে।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি পরিমাণে থাকলে তা দিনে খুব উষ্ণ ও রাতে খুব শীতল হতে পারে না।

১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য:
- দিবাভাগে সূর্যের আলোতে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী শীতল হয়।
- দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ বেশি উত্তপ্ত হয় এবং ছোট রাতে তাপ বিকিরণের পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডল ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে।

১৩. বায়ুর আর্দ্রতা:
- যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করতে পারে।
- ফলে উক্ত এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে খুবই শীত পড়ে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫২.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউস গ্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. ওজোন
  2. নাইট্রোজেন
  3. জলীয় বাষ্প
  4. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন গ্রীন হাউস গ্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়। 

গ্রীন হাউস গ্যাস: 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে - 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry. 

৫৫৩.
স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট নয় কোনটি?
  1. জলীয়বাষ্পপূর্ণ।
  2. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
  3. ওজোন সমৃদ্ধ।
  4. এই স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে।
সঠিক উত্তর:
জলীয়বাষ্পপূর্ণ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলীয়বাষ্পপূর্ণ।
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমন্ডল।
- ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর ট্রপোমন্ডল এর পর ট্রপোবিরতি।
- ট্রপোবিরতি থেকে উপরে প্রায় ৫০ কিমি পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল বিস্তৃত।
- এই স্তর ওজোন সমৃদ্ধ বলে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
- জলীয়বাষ্পহীন বলে এই স্তর শুষ্ক ও শান্ত।
- এই কারণে এই স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে।

উল্লেখ্য, 
বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৪.
সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল থেকে সমুদ্রের তলদেশে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে কী বলে?
  1. দ্বীপ
  2. মহীঢাল
  3. মহীসোপান
  4. মহাসাগরীয় খাত
সঠিক উত্তর:
মহীসোপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহীসোপান
ব্যাখ্যা
• মহীসোপান (Continental Shelf):
- মহাদেশসমূহের চতুর্দিকের স্থলভাগের কিছু অংশ ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপ সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে সমুদ্রের তলদেশে ক্রমনি নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বা Continental Shelf বলে।

- এই অঞ্চলটি সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল হিসাবেও পরিচিত।
-  মহীসোপানের গড় সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটার এবং মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- মহাদেশের উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়।
- মহাদেশের উপকূল পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।

- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত। মহীসোপানকে সমুদ্রের অগভীর অঞ্চলও বলা হয়।
- মহীসোপান অঞ্চলের সামুদ্রিক সঞ্চয় বেশি আবার মহাদেশীয় ভূ-খন্ডের শেষ প্রান্তবা শেষ সীমাও বলা হয়।
- মহীসোপানকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যথা :
১.তটদেশীয় অঞ্চল 
২. ঝিনুক অঞ্চল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
পৃথিবীর মোট জলভাগের মধ্যে হিমবাহের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ০.৬৮ শতাংশ
  2. ০.৯৮ শতাংশ
  3. ২.০৫ শতাংশ
  4. ৫.৭১ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
২.০৫ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২.০৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর জলভাগের অবস্থানভিত্তিক বণ্টন:
- সমুদ্র : ৯৭.২৫ শতাংশ
- হিমবাহ : ২.০৫ শতাংশ
- ভূগর্ভস্থ পানি : ০.৬৮ শতাংশ
- হ্রদ : ০.০১ শতাংশ
- মাটির আর্দ্রতা : ০.০০৫ শতাংশ
- বায়ুমণ্ডল : ০.০০১ শতাংশ
- নদী : ০.০০০১ শতাংশ
- জীবমণ্ডল : ০.০০০০৪ শতাংশ।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৫৬.
কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নিম্নতাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. উচ্চচাপ 
  4. আর্দ্রতা
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies):
- বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো কালবৈখাশী ঝড়।
- এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে আসে এবং সেই সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হয়।
- এটিই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। 
- কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)।
- নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
- এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডাবাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়।
- ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৭.
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
  1. উত্তর-পশ্চিম
  2. দক্ষিণ-পূর্ব
  3. উত্তর-পূর্ব
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।

⇒ কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫৮.
’বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত’ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে সৃষ্টি হয়?
  1. মেসোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫৯.
বারিমন্ডলে সমুদ্রের পানির পরিমাণ কত?
  1. ক) ৭১.৩৭%
  2. খ) ৮৬.৯৭%
  3. গ) ৯৫.৯৬%
  4. ঘ) ৯৭.২৫%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৭.২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৭.২৫%
ব্যাখ্যা

বারিমন্ডলের পানির প্রধান উৎসসমূহঃ
সমুদ্র - ৯৭.২৫%
হিমবাহ - ২.০৫
ভূগর্ভস্থ পানি - ০.৬৮%
হ্রদ - ০.০১%
নদী - ০.০০০১%

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬০.
নিচের কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব নয়?
  1. সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
  2. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
  4. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব নয়। 

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:

- জলবায়ু পরিবর্তন।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
- মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
- সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
- রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬১.
পৃথিবীর প্রায় কত শতাংশ বারিমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিন চতুর্থাংশ
  2. দুই তৃতীয়াংশ
  3. দুই সপ্তমাংশ
  4. এক ষষ্টমাংশ
সঠিক উত্তর:
তিন চতুর্থাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর প্রায় তিন চতুর্থাংশ বারিমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
- বারিমন্ডল হলো ভূ-ত্বকের অবনমিত অংশে অবস্থিত বিশাল পানিরাশি।
- এই বিশাল পানিরাশির সবচেয়ে বড় আধার মহাসাগর এবং সাগর।
- এছাড়া রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী, হ্রদ, খাল, বিল ও জলাশয়।

বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন:
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬২.
কোন মাসে মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটে?
  1. জানুয়ারি
  2. মার্চ
  3. মে
  4. জুন
সঠিক উত্তর:
জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুন
ব্যাখ্যা
বর্ষাকাল:
- জুন হতে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত এদেশে বর্ষাকাল বিরাজমান থাকে।
- এটি গ্রীষ্ম ও শীতকালের মাঝামাঝি সময়।
- এ সময় সারা দেশেই কম বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
- জুন মাসের প্রথমার্ধে মৌসুমী বায়ুর আগমনের সাথে সাথে বর্ষা ঋতু শুরু হয়ে যায়।
- জুন মাসে সূর্য এদেশের ওপর অবস্থান করায় বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে।
- এ সময় উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু অন্তর্হিত হয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুতে পরিণত হয়।
- বর্ষা ঋতুর শেষে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬৩.
বাংলাদেশের কোন মাস শীতলতম বলে বিবেচিত?
  1. এপ্রিল
  2. জানুয়ারি
  3. ডিসেম্বর
  4. নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতলতম মাস: 
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।

- এই মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়ে থাকে।
- এই মাসে দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে, এবং দেশের শীতলতম জেলা সিলেট এবং শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হয়।

অন্যদিকে,
- এপ্রিল মাস উষ্ণতম মাস হিসেবে পরিচিত, এ সময় গড় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

সূত্র: বাংলিপিডিয়া।
৫৬৪.
বাংলাদেশের জলবায়ু সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র
  2. জলবায়ু সমভাবাপন্ন
  3. এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়
  4. বছরের উষ্ণতম মাস মার্চ
সঠিক উত্তর:
বছরের উষ্ণতম মাস মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বছরের উষ্ণতম মাস মার্চ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন।
- দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
- এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
- বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৬৫.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর গ্রীষ্মকালের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ঠান্ডা ও বৃষ্টিবহুল
  2. প্রচণ্ড তুষারপাত
  3. প্রবল ঘূর্ণিঝড়
  4. উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রিস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০০- ২৮০ সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৬.
ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি রয়েছে-
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সিলিকন
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৭.
সাহারা মরুভূমিতে কোন বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়?
  1. মেরু বায়ু 
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু (The Trade Winds):
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু প্রায় ২২.৫৪ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
- তখন নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত একটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- এ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্ত বলয় (Doldrum) বলে।
- পৃথিবীর বড় বড় মরুভূমি যেমন-সাহারা, কালাহারি মরুভূমিতে অয়ন বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৮.
যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না তাকে কী বলে?
  1. ক) পরিপৃক্ত বায়ু
  2. খ) শুষ্ক বায়ু
  3. গ) আর্দ্র বায়ু
  4. ঘ) সম্পৃক্ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
খ) শুষ্ক বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শুষ্ক বায়ু
ব্যাখ্যা
- যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না তাকে শুষ্ক বায়ু বলে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুকে আর্দ্র বায়ু বলা হয়।
- উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতাও ‍বৃদ্ধি পায়।
কোন নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে বায়ু আর জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। তখন এই বায়ুতে পরিপৃক্ত বা সম্পৃক্ত বায়ু বলে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৬৯.
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা?
  1. ক) UNFCCC
  2. খ) IPCC
  3. গ) UNESCO
  4. ঘ) WMO
সঠিক উত্তর:
খ) IPCC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) IPCC
ব্যাখ্যা

IPCC
IPCC - এর পূর্ণরূপ Intergovernmental Panel on Climate Change। এটি জাতিসংঘ এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অঙ্গ যার প্রধান উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তন, এর প্রভাব ও এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এবং এই ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে কর্মপন্থা - ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করে। বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতি বছর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নিবন্ধ (Scientific Article) প্রকাশ করে থাকে।
⤇ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (World Meteorological Organization - WMO), জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (United Nations Environment Programme - UNEP) এবং বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক কাউন্সিল (International Council of Scientific Unions) ১৯৮৫ সালে গ্রীণহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ক চলমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যবেক্ষণ ও এ সম্পর্কে মতামত (Recommendations) প্রদানের জন্য “Advisory Group on Greenhouse Gases” নামে একটি প্যানেল গঠন করে।
১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে IPCC - একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
উৎসঃ Live MCQ content (Upcoming) ও IPCC website.

৫৭০.
বায়ু প্রবাহের নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. চাপের ক্রমাবনতি
  2. কোরিওলিস প্রভাব
  3. কেন্দ্র বিমুখী বল
  4. ফেরেলের প্রভাব
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের প্রভাব
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহের নিয়ামক:
- বায়ুপ্রবাহ হলো বায়ুর সমতলীয় চাপের পাথর্য্যের ফল।
- পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি না থাকলে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ুর প্রবাহ সরল ও নিয়ত হত।
- বায়ুপ্রবাহের নিয়ামকগুলো নিম্নরূপ-
১. চাপের ক্রমাবনতি,
২. কোরিওলিস প্রভাব,
৩. কেন্দ্র বিমুখী বল,
৪. ঘর্ষণ এবং
৫. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭১.
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশে কী পরিমাণ মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হবে?
  1. ক) ১ কোটি
  2. খ) ২ কোটি
  3. গ) ৩ কোটি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ কোটি
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবঃ (বাংলাদেশ প্রেক্ষিত)
মানবসৃষ্ট নানা রকম কাজকর্ম যা পরিবেশের ক্ষতি করছে সেগুলোই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। এই সমস্ত কার্যক্রম যেমন শিল্পায়ন, বনাঞ্চল উজাড়, পারমানবিক পরীক্ষা, কৃষির সম্প্রসারণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, কাঠ-কয়লা পোড়ানো ইত্যাদি দ্বারা নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস গ্যাসই বিশ্ব উষ্ণায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। দিন দিন জলবায়ুপরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে এদেশের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বই

৫৭২.
বাংলাদেশের শীতলতম স্থান কোন জেলায়?
  1. মৌলভীবাজার
  2. পঞ্চগড়
  3. হবিগঞ্জ
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়া যুদ্ধ:
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৭৩.
Climate Vulnerable Forum গঠনে উদ্যোগী দেশ-
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
সঠিক উত্তর:
গ) মালদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
- বৈশ্বিক উষ্ণতার নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় Climate Vulnerable Forum।
- মালদ্বীপের উদ্যোগে ২০০৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর বর্তমান সদস্য ৫৫টি।
- Climate Vulnerable Forum এর বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ (২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত)।
- বাংলাদেশের পূর্বে সভাপতি ছিল মার্শাল আইল্যান্ড।
৫৭৪.
বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. মেসোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ট্রপোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৫.
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) ল্যানোস
  2. খ) প্রেইরি
  3. গ) তৈগা
  4. ঘ) সাহিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহিল
ব্যাখ্যা

সাহেল বা সাহিল (Sahel) অঞ্চল বলে অভিহিত পশ্চিম আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল।
এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হচ্ছে - মৌরিতানিয়া, মালি ও নাইজার প্রভৃতি।

- প্রেইরি (Prairie) - উত্তর আমেরিকার উর্বর তৃণভূমি।
- তৈগা (Taiga) - পূর্ব সাইবেরিয়া অঞ্চলের বনাঞ্চল। আবার উত্তর আমেরিকাতেও তৈগা ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- ল্যানোস (Llanos) দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত তৃণভূমি।

৫৭৬.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পেলে দেশের কোন কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) ময়মনসিংহ, জামালপুর ও গাজীপুর
  2. খ) কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী
  3. গ) বাগেরহাট, চাঁদপুর ও খুলনা
  4. ঘ) সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।
• এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭৭.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ?
  1. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  2. ভিয়েতনামের ঘূর্ণিবাত বায়ু
  3. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
  4. মিসরের খামসিন
সঠিক উত্তর:
মিসরের খামসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিসরের খামসিন
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৮.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) খরা
  3. গ) অগ্ন্যূৎপাত
  4. ঘ) নদীভাঙন
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্ন্যূৎপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্ন্যূৎপাত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বজ্রপাত এখানে নিয়মিত ঘটনা। এছাড়া ভূমিকম্প, খরা, ভূমিধ্বসও মাঝে মাঝে সংঘটিত হয়। কোন আগ্নেয়গিরি না থাকায় এখানে অগ্ন্যূৎপাত কিংবা দাবানল সংঘটিত হয় না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৫৭৯.
নিচের কোনটি বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে সংঘটিত হয়?
  1. ক) মাছের বংশ বৃদ্ধি
  2. খ) ভূমিতে জলীয়বাষ্প হ্রাস পাওয়া
  3. গ) শব্দ তরঙ্গ বেড়ে যাওয়া
  4. ঘ) ভূমিক্ষয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমিক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমিক্ষয়
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- ভূমিক্ষয়। 

বায়ুপ্রবাহ
:
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 
- বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়- 
(১) নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়।
(২) পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।

বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ:
• বায়ু এক প্রকার গতিশীল শক্তি যা পৃথিবীপৃষ্ঠ, তার আশেপাশে ও উর্ধ্বে সর্বদা প্রবাহমান। 
• বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়।
• এছাড়াও মানব সভ্যতার বিকাশ, ইতিহাস ও যুদ্ধ-বিগ্রহ, ক্ষমতার উৎস নির্ধারণ করা, পরিবহন, চিত্তবিনোদন, দৈনন্দিন জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি ইত্যাদির অগ্রগতিতে বায়ুপ্রবাহের প্রভাব সীমাহীন।
• বায়ুপ্রবাহের জন্যই ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা সৃষ্টি, জমির উর্বরতার হ্রাস-বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয়, জমির গঠন, বাস্তুসংস্থানের সক্রিয়তা, পানিচক্র বা খাদ্য চক্রের মত প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা রক্ষা ইত্যাদিতে পরিবর্তন ঘটে।
• বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহের ধরনের ভিন্নরূপের কারণে (ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী) পৃথিবীর সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তে আবহাওয়া ও জলবায়ুতে পার্থক্য তৈরি হয়।
• এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ।
- বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮০.
'জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ' SDG'র কত নং লক্ষ্যমাত্রায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ১৭ নং
  2. ৯ নং
  3. ১৩ নং
  4. ১৪ নং
সঠিক উত্তর:
১৩ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ নং
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):

- SDG - এর পূর্ণরূপ Sustainable Development Goals বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য।
- SDGs-এর মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল।
- এতে মোট ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্য (Goals) রয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রাসমূহ হলো:
১. দারিদ্র্য নির্মূল।
২. ক্ষুধামুক্তি।
৩. সুস্বাস্থ।
৪. মানসম্মত শিক্ষা।
৫. লিঙ্গ সমতা।
৬. বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন।
৭. সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
৮. উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো।
১০. বৈষম্য হ্রাস।
১১. টেকসই শহর ও জনগণ।
১২. পরিমিত ভোগ ও উৎপান।
১৩. জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ।
১৪. সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান।
১৫. স্থলভাগের জীবন।
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
১৭. অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।

উৎস: SDG অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫৮১.
আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু কোনটি?
  1. মিস্ট্রাল
  2. সাইমুম
  3. পাম্পেরু
  4. বোরা
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮২.
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার ফলে কোন ধরনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়? 
  1. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
  2. উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি 
  3. সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া 
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

লবণাক্ততার কারণ:
- সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি ও পানিতে লবণাক্ততার জন্য জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়।
- আর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করা হয়।

• প্রভাব লবণাক্ততার ফলে যেসব প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো-
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া;
. সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া;
৩. উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি;
৪. সম্পদহানি ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি;
৫. বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া;
৬. ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি;
৭. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস;
৮. গাছপালায় মড়ক লাগা ও ফসলের গোড়া পচে যাওয়া;
৯. সামাজিক বন্ধনে শিথিল হওয়া প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এসসি, উন্মুক্ত বিশ্বিবিদ্যালয়।

৫৮৩.
Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) কত সালে নোবেল পুরস্কার পায়?
  1. ক) ২০০৫
  2. খ) ২০০৮
  3. গ) ২০০৯
  4. ঘ) ২০০৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০০৭
ব্যাখ্যা
- Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)  জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি প্যানেল, জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) দ্বারা ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের প্যানেল।
- সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে ডব্লিউএমও-এর সদর দপ্তর, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি প্যানেল (IPCC)।
- ২০০৭ সালে (আইপিসিসি) মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়। 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে সম্পর্কিত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নির্ধারণের জন্য পিয়ার-পর্যালোচিত সাহিত্য এবং শিল্প অনুশীলনগুলি মূল্যায়ন করে।
- যদিও এটি নিজস্ব কোনো গবেষণা তৈরি করে না, এর সদস্যরা—তিনটি ওয়ার্কিং গ্রুপে বিভক্ত এবং একটি টাস্ক ফোর্স—বিশ্বব্যাপী শত শত বিজ্ঞানী এবং নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে।

উৎস:- ব্রিটানিকা।
৫৮৪.
জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. ভূমির ঢাল
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. অক্ষাংশ
  4. দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা

জলবায়ুর নিয়ামক:
- দ্রাঘিমাংশ জলবায়ুর নিয়ামক নয়। দ্রাঘিমাংশ দ্বারা কোন স্থানের সময় নির্ধারন করা হয়।

- পৃথিবীর সব স্থানের জলবায়ু একধরণের হয় না। কিছু ভৌগৌলিক কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয় গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
- জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হল-
• অক্ষাংশ,
• উচ্চতা,
• সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
• বায়ুপ্রবাহ,
• সমুদ্রস্রোত,
• পর্বতের অবস্থান,
• ভূমির ঢাল,
• মৃত্তিকার গঠন।
- বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি জলবায়ুর নিয়ামক।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৫.
ওজন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) CO2
  2. খ) SO2
  3. গ) CO
  4. ঘ) CFC
সঠিক উত্তর:
ঘ) CFC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) CFC
ব্যাখ্যা
- ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের মধ্যে CFC হলো প্রধান।
- সিএফসি হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরে পৌঁছে ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সিজেনে পরিণত করে। 
- এর ফলে ওজোনস্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়।
- এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।
- এছাড়াও N2O, NO, CH4, BCF, CH3Br, CCl4 ইত্যাদি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের অন্তর্ভূক্ত।

উৎস : উচ্চ-মাধ্যমিক রসায়ন ২য় পত্র।
৫৮৬.
আবহাওয়া বলতে কী বোঝায়?
  1. ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় তাপমাত্রা
  2. ৩০ থেকে ৪০ দিনের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের গড়
  3. একটি স্থানের দিনের বায়ু, তাপ, চাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদির অবস্থা
  4. একটি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
একটি স্থানের দিনের বায়ু, তাপ, চাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদির অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি স্থানের দিনের বায়ু, তাপ, চাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদির অবস্থা
ব্যাখ্যা

- আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, চাপ, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের সামগ্রিক অবস্থা।
- এটি প্রতিদিন পরিবর্তনশীল এবং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একেক রকম হতে পারে।
- আবহাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, কৃষিকাজ, ভ্রমণসহ নানা কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
- পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে পারি।
- আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে দীর্ঘ সময়ের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো অঞ্চলের জলবায়ু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৭.
স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে কী বলা হয়?
  1. ট্রপোবিরতি
  2. স্ট্রাটোবিরতি
  3. মেসোবিরতি
  4. থার্মোবিরতি
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোবিরতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোবিরতি
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

• স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এই ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮৮.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব বলে বিবেচিত?
  1. জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার
  2. বনভূমি এলাকায় দাবানল
  3. ওজোন স্তর ক্ষয়
  4. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন :
• কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে গড় আবহাওয়ার পরিবর্তনকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। 

♠ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: 
• জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে থাকে মূলত পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে।
• আর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো-
১. জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার;
২. শিল্প-কারখানার ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য;
৩. যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া যেমন- কার্বন মনোঅক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড;
৪. ব্যাপকহারে বনাঞ্চল ধ্বংস;
৫. তেজষ্ক্রিয় দূষণ;
৬. বনভূমি এলাকায় দাবানল; 
৭. ওজোন স্তর ক্ষয় এবং 
৮. মানুষের বিলাসবহুল জীবযাপনের জন্য প্রস্তুত বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন- এয়ারকন্ডিশনার) প্রভৃতি।

♣ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব: 
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।  
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে ।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। 
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৮৯.
নিচের কোনটি নিয়ত বায়ুপ্রবাহ?
  1. স্থলবায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. সমুদ্রবায়ু
  4. উপত্যকা বায়ু
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯০.
বায়ুপ্রভাবের ফলে কোন যন্ত্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়?
  1. ক) চাকাযন্ত্র
  2. খ) ঘূর্ণনযন্ত্র
  3. গ) তড়িৎযন্ত্র
  4. ঘ) সৌরযন্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণনযন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণনযন্ত্র
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রভাবের ফলে ঘূর্ণনযন্ত্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়।

• বায়ু প্রবাহ:

- বায়ুপ্রবাহের কারণে নানারকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি দ্বারাই বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র চালিত হয়। ফলে পৃথিবীব্যাপি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

এছাড়াও,
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যবহনকারী বিশাল জাহাজের পাওয়ার বা চলার শক্তি প্রদান করা হয়।
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্নোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে।

এছাড়াও,
- শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ।
- বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ু সঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯১.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে কোন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে?
  1. ভিয়েতনাম
  2. ফিজি
  3. কিরিবাতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
• সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন: 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিশর, ভিয়েতনাম, ফিজি, কিরিবাতি, টুভ্যালু প্রভৃতি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
- এছাড়া কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
• রোগব্যাধি: উষ্ণায়নের ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ যেমন-ম্যালেরিয়া, এজমা, এলার্জি প্রভৃতি রোগের বিস্তার ঘটছে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯২.
গভীর সমুদ্রের সমভূমির গড় গভীরতা -
  1. ক) ৩,০০০ মিটার
  2. খ) ৭,০০০ মিটার
  3. গ) ৫,০০০ মিটার
  4. ঘ) ৮,০০০ মিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ৫,০০০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫,০০০ মিটার
ব্যাখ্যা
• গভীর সমুদ্রে সমভূমি (Deep Sea Plains):
- মহাসাগরের তলদেশে মহীসোপান, মহীঢালের পরবর্তী বিস্তীর্ণ প্রায় সমতল অংশকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে।
- গভীর সমুদ্রের সমভূমির গড় গভীরতা ৫,০০০ মিটার
- এই সমভূমির মাঝে মাঝে বহু জলমগ্ন মালভূমি, অনুন্নত পর্বত শ্রেণি রয়েছে, যেমন আটলান্টিকের মধ্যস্থান দিয়ে বিস্তৃত সুদীর্ঘ মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা।
- আবার কোথাও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরিগুলি হতে উৎক্ষিপ্ত নানা প্রকার পদার্থ ও সূক্ষ্ম ভস্ম গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৩.
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের কোন ফসল প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়?
  1. ডাল
  2. তেলবীজ
  3. পাট
  4. পেঁয়াজ
সঠিক উত্তর:
পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে দু'ধরণের মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়।
যথা- 
দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু:
- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বঙ্গোপসাগর হতে উদিত হয়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এ বায়ুর প্রভাবে এ সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- এ বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান, পাট, ইক্ষু, চা প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়ে থাকে। - উপরন্ত গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের প্রভাবে বাংলাদেশে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা ইত্যাদি ফলের উৎপাদন হয়ে থাকে।

উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু:
- উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
- এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নানা ধরণের ডাল, তেলবীজ, গোল আলু, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া প্রভৃতি রবিশস্যের উৎপন্ন হয়।
- এ সকল শস্য অধিক বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে না বলেই এই রবি মৌসুম বা শীতকালে ফলন হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৪.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেতে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য জাতিসংঘে কয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন?
  1. ক) পাঁচ দফা
  2. খ) ছয় দফা
  3. গ) সাত দফা
  4. ঘ) আট দফা
সঠিক উত্তর:
ক) পাঁচ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাঁচ দফা
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেতে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রথম প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পৃথিবী ও নিজেদের রক্ষার জন্য আমি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবশ্যই জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরামর্শ দেব।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন, দুর্বল দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত তহবিল সরবরাহ করতে হবে।
চতুর্থ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, দূষণকারী দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশমন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের এনডিসি (জাতীয় নির্ধারিত অবদান) বাড়াতে হবে। পঞ্চম প্রস্তাবে তিনি বলেন, জলবায়ু শরণার্থীদের পুনর্বাসন একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট
৫৯৫.
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির ব্যাপকতা তুলে ধরার জন্য কোন দেশটি সমুদ্রের গভীরে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছে?
  1. ক) মালদ্বীপ
  2. খ) মালেয়েশিয়া
  3. গ) ফিজি
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
সঠিক উত্তর:
ক) মালদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের লক্ষ্যে সাগর জলের ছয় মিটার নিচে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয় মালদ্বীপ সরকার। এই বৈঠকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিশ্বব্যাপী ক্ষতিকর কার্বন উদিগরণের বিরুদ্ধে এক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
উৎসঃ prothom-alo.com
৫৯৬.
গ্রীনিচ মান মন্দির থেকে কোন স্থানের অবস্থান ৫০° পশ্চিম দ্রাঘিমায়। গ্রীনিচ মান মন্দিরে দুপুর ১২.০০টা বাজলে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় কত হবে?
  1. দুপুর ৩.২০টা
  2. সকাল ৯.২০টা
  3. সকাল ৮.৪০টা
  4. সকাল ৮.২০টা
সঠিক উত্তর:
সকাল ৮.৪০টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকাল ৮.৪০টা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
-আবার দ্রাঘিমার পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে গুণ করে স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়। ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে। তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

আমরা জানি, পৃথিবীতে প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
৫০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (৫০ × ৪)=২০০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট।

উল্লিখিত প্রশ্নমতে, স্থানটি যেহেতু গ্রীনিচ মান মন্দির থেকে ৫০° পশ্চিম অবস্থিত তাই ঐ স্থানের স্থানীয় সময় গ্রীনিচ মান মন্দির থেকে ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট কম হবে। 
অর্থাৎ গ্রীনিচ মান মন্দির স্থানীয় সময় থেকে ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট বাদ দিলে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় পাওয়া যাবে।

⇒( দুপুর ১২.০০টা বিয়োগ ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট )= সকাল ৮.৪০টা।

অর্থাৎ গ্রীনিচ মান মন্দিরে দুপুর ১২.০০টা বাজলে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় সকাল ৮.৪০টা হবে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৭.
বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ স্তর বহন করে -
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) মেসোমণ্ডল
  4. ঘ) তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
খ) ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল:
• প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমণ্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না।
- ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

• ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- ট্রপোমন্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম।
- এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে। এই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপ কমে যাওয়ার প্রবনতাকে বলা হয় স্বাভাবিক তাপ হ্রাস।
- ট্রপোমন্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।
- এ স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া সাধারণত ঘটে।
- ট্রপোমন্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৮.
সংঘর্ষ বৃষ্টিতে কোন দুটি বায়ু মুখোমুখি হয়?
  1. ক) শীতল ও নাতিশীতোষ্ণ
  2. খ) উষ্ণ ও শীতল
  3. গ) ঘন ও শিশিরাঙ্ক
  4. ঘ) বরফ কণা ও গরম বায়ু
সঠিক উত্তর:
খ) উষ্ণ ও শীতল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উষ্ণ ও শীতল
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- উষ্ণ ও শীতল। 

বৃষ্টিপাত

- বৃষ্টিপাত হলো কোনো অঞ্চলের আবহাওয়ার একটি অবস্থা যা নানা ধরনের আবহাওয়ার উপাদানসমূহের উপর নির্ভরশীল। 
- স্বাভাবিকভাবে মেঘ যখন আকাশে ভাসতে থাকে তখন তা ঘনীভূত হয়ে ফোঁটা ফোঁটা আকারে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হলে তাকে বলা হয় বৃষ্টিপাত (Rainfall

সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৯.
অক্ষাংশ হিসেবে "গর্জনশীল চল্লিশা" অবস্থান কোনটি?
  1. ৪০ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৪৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
  2. ৪০ ডিগ্রি উত্তর থেকে ৪৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ
  3. ৪১ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৫০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
  4. ৪৮ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৫০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
৪০ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৪৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৪৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
⇒ পশ্চিমা বায়ু:
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
⇒ উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু (Brave west winds) বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি। এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring forties) বলে।

সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৬০০.
জলীয়বাষ্প যখন বায়ুস্তরের ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঘনীভূত হয়ে ধোঁয়ার আকারে ভাসতে থাকে তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) শিশিরাংক
  2. খ) বায়ুর আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ুর প্রবাহ
  4. ঘ) কুয়াশা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুয়াশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুয়াশা
ব্যাখ্যা
• কুয়াশা: জলীয়বাষ্প যখন বায়ুস্তরের ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঘনীভূত হয়ে ধোঁয়ার আকারে ভাসতে থাকে তখন তাকে কুয়াশা বলে।

• কুয়াশার বৈশিষ্ট্য: বায়ুর তাপমাত্রা শিশিরাংকের নিচে নেমে গেলে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। বায়ুমন্ডলের বিকিরণ, তাপ পরিবহন এবং শীতল ও উষ্ণ বায়ুর সংমিশ্রণের ফলে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। কুয়াশা মানবজীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রকার প্রভাব বিস্তার করে । যেমন-

১। সামুদ্রিক জাহাজ, উড়োজাহাজ, সড়কপথে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।
২। কুয়াশার জলকণা ভূ-পৃষ্ঠের বিকীর্ণ তাপকে শোষণ করে বায়ুকে উষ্ণ রাখে। তবে শীতপ্রধান দেশে কুয়াশা জন্য শস্যের ক্ষতি হয়।
৩। কুয়াশা ঘন হয়ে ইলশেগুড়ির মত জলকণা বর্ষণ হলে তাকে বলা হয় কুঞ্জঝটিকা।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।