বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৭০১৮০০ / ১,০৯৬

৭০১.
পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটে তাকে কী বলে? 
  1. ঘূর্ণি বৃষ্টি
  2. পরিচলন বৃষ্টি
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. মৌসুমি বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায়, তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

• বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain):
- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।

• ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain):
- কোনো অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল  - বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে।
-  বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে।
- জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে।
- ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে।
- এই বৃষ্টিপাত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে এরূপ বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০২.
নিচের কোন স্থানীয় বায়ুটির উৎপত্তি আরব মালভূমি থেকে?
  1. ক) বোরো
  2. খ) খামসিন
  3. গ) সাইমুম
  4. ঘ) চিনুক
সঠিক উত্তর:
গ) সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাইমুম
ব্যাখ্যা
- কোন স্থানের তাপ ও চাপের পার্থক্যের কারণে স্থানীয়ভাবে যে বায়ু প্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে স্থানীয় বায়ু বলে।
বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় বায়ু:
- সাইমুম : আরব মালভূমি থেকে উৎপন্ন স্থানীয় বায়ু।
- চিনুক : রকি পর্বতের মাঝামাঝি এলাকায় প্রবাহিত
- খামসিন : মিশরীয় স্থানীয় বায়ু
- সিরক্কো : সাহারা ও লিবিয়া
- বোরো : আড্রিয়াটিক সাগর।
- লু : ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় বায়ু।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭০৩.
জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু সুরক্ষার জন্য প্রতিবছর কত অর্থ সংগ্রহ (mobilise) করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
  2. ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
  3. ১.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
  4. ১.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
সঠিক উত্তর:
১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা

• COP:
- COP এর পূর্ণরূপ Conference of the Parties.
- জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের রূপরেখা।
- COP সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন UNFCCC এর দেশগুলো।
- COP-28 অনুষ্ঠিত হয় ৩০ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এ ।
-  COP-29 অনুষ্ঠিত হয় আজারবাইজানের বাকু তে ১১ নভেম্বর - ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ।
- সর্বশেষ, COP-30 অনুষ্ঠিত হয়েছে বেলেম, ব্রাজিল(১০-২১ নভেম্বর, ২০২৫ সাল)।
- ২০২৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।

• জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর অর্জন ও লক্ষ্যমাত্রা:
- বৃহৎ অর্থায়ন: জলবায়ু রক্ষায় ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জোগাড় করা।
- অভিযোজন খাতে সহায়তা: জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য অর্থায়ন ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তিনগুণ করা।
- নতুন উদ্যোগ: জলবায়ু লক্ষ্য বাস্তবায়নে গতি আনতে Global Implementation Accelerator এবং Belém Mission to 1.5°C নামে নতুন উদ্যোগ শুরু করা।
- Belém Gender Action Plan গৃহীত: জলবায়ু সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
- Tropical Forests Forever Fund: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, ৫৩টি দেশ এতে যুক্ত হয়েছে, এবং মোট তহবিলের ২০ শতাংশেরও বেশি সরাসরি আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কমিউনিটির জন্য বরাদ্দ।

উৎস:
i) UN News. 
ii) UNFCCC website.

৭০৪.
খরা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের কৃষি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. উত্তর পশ্চিমাঞ্চল 
  2. পূর্ব দক্ষিণাঞ্চল
  3. পশ্চিম দক্ষিণাঞ্চল
  4. মধুপুর অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর পশ্চিমাঞ্চল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর পশ্চিমাঞ্চল 
ব্যাখ্যা

ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব:
- বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে খরা অন্যতম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
- ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ে গড় বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটিতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- কম বৃষ্টিপাত ও অধিক হারে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে খরার প্রভাব দেখা দেয়।
- দেশে প্রতি বছর ৩০-৪০ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার খরায় কবলিত হয়ে থাকে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশে তীব্র খরা প্রবণ এলাকা।
রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার কিছু অংশ মাঝারি খরাপ্রবণ এলাকা।
তবে বর্তমানে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা অববাহিকায় খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৭০৫.
রুই জাতীয় মাছ কোন সময় হালদা নদীতে ডিম পাড়ে?
  1. ভাদ্র মাসে প্রচন্ত গরমের সময়
  2. বর্ষাকালে
  3. বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি হলে
  4. শীতের প্রারম্ভে
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি হলে
ব্যাখ্যা
মৎস্য ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব:
- পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে দ্রুত পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মৎস্য চাষের সময়কাল কমে যায় এবং মাছের আকার ছোট হয়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতের ফলে পুকুরের পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছ সহজে রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং মাছের মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস হওয়ার কারণে মৎস্য পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় মৎস্য চাষে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় এলাকার স্বাদু পানির মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে।
- বৈশাখ মাসে বাংলাদেশে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি শুরু হলে রুই জাতীয় মাছ হালদা নদীতে ডিম পাড়ে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে একদিকে ডিমের পরিপক্কতার সময় এগিয়ে আসছে অন্যদিকে বৃষ্টিপাতে দেরি হওয়ায় মাছের শরীরবৃত্তীয় অবস্থায় পরিবর্তনে মাছের ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৬.
ট্রপোমণ্ডলে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা কত হ্রাস পায়?
  1. ৪.৫° সেলসিয়াস
  2. ৬.৫° সেলসিয়াস
  3. ৭.৫° সেলসিয়াস
  4. ৯.৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬.৫° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬.৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Troposphere): 
(ক) ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
(খ) উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়।
(গ) নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
(ঘ) ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমন্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।
(ঙ) যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা-৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭০৭.
পরপর দুটি জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
  1. প্রায় ৬ ঘণ্টা
  2. প্রায় ৮ ঘণ্টা
  3. প্রায় ১২ ঘণ্টা
  4. প্রায় ১৪ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১২ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়।
- এর কারণ মূলত দুটি।
- যথা: চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হলো প্রায় ১২ ঘণ্টা। 
- জোয়ারের ৬ ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৮.
কোন জলবায়ু অঞ্চলকে আমাজানীয় জলবায়ু বলা হয়?
  1. ক) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল
  2. খ) ক্রান্তীয় সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল
  3. গ) ক্রান্তীয় মহাদেশীয় জলবায়ু অঞ্চল
  4. ঘ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার উভয় পার্শ্বে ৫° উত্তর ও দক্ষিন অক্ষাংশের মধ্যে যে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে।
- আর পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে এ জলবায়ু বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এ জলবায়ু দেখা গেলেও আমাজান নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এ জলবায়ুর প্রভাব বেশী দেখা যায় বলে একে আমাজানীয় জলবায়ু ও বলে।
- সাধারনত: নিরক্ষ রেখার উভয় আর্শ্বে পৃথিবীর মধ্যভাগের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৯.
জলবায়ুর নিয়ামক কোনটি নয়?
  1. অক্ষাংশ
  2. বায়ুর চাপ
  3. উচ্চতা
  4. পর্বতের অবস্থান
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর নিয়ামক (Factors of Climate):
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্রস্রোত,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- ভূমির ঢাল,
- পর্বতের অবস্থান প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো:
- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৭১০.
বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যের মধ্যবর্তী রেখাটির নাম কী?
  1. বিষুবরেখা
  2. ট্রপোপজ
  3. কারমান লাইন
  4. কলোরাডো লাইন
সঠিক উত্তর:
কারমান লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারমান লাইন
ব্যাখ্যা

• কারমান লাইন:
- কারমান লাইন হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং মহাশূন্যের মধ্যে কাল্পনিক সীমারেখা।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার (৫০ থেকে ৬২ মাইল) উপরে অবস্থিত।
- এই রেখা হল বায়ুমণ্ডলের উপরের সীমা, যার ওপরে বিমান চলাচল কার্যকরভাবে সম্ভব নয় এবং সেখানে মহাকাশের শর্ত প্রাধান্য পায়।
- এই ধারণাটি হাঙ্গেরীয় আমেরিকান প্রকৌশলী এবং পদার্থবিদদের কাছ থেকে উদ্ভূত হয়েছিলতাই তার নামে এটার নামকরণ করা হয়েছে।
 
অন্যদিকে,
• বিষুবরেখা:
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা (Equator) হলো পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে সমান দূরত্বে অবস্থিত ০° অক্ষাংশের একটি কাল্পনিক রেখা, যা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি সমান গোলার্ধে ভাগ করে।

• ট্রপোপজ:
- ট্রপোপজ (Tropopause) হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোস্ফিয়ার এবং এর উপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী একটি পাতলা ট্রানজিশনাল বা সীমানা স্তর।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭১১.
সংক্ষিপ্ত পথে চলতে হলে জাহাজের চালককে অনুসরণ করতে হবে-
  1. ক) বায়ু প্রবাহের দিক
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) সমুদ্রস্রোত
  4. ঘ) ধ্রুব নক্ষত্র
সঠিক উত্তর:
গ) সমুদ্রস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ।
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে।

- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে।
- তাই সংক্ষিপ্ত পথে চলতে হলে জাহাজের চালককে সমুদ্রস্রোত অনুসরণ করতে হবে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই।

৭১২.
অয়ন বায়ু কোন ধরনের বায়ু?
  1. মৌসুমী বায়ু
  2. মেরু বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. স্থলবায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু:
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার।যথা: পশ্চিমা বায়ু, অয়ন বায়ু , মেরু বায়ু।

উল্লেখ্য
⇒ নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তা অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজসমূহ এই বায়ু অনুসরণ করে চলাচল করতো বিধায় এই বায়ুকে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়।
- অয়ন বায়ু এক প্রকার নিয়ত বায়ু যা সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয়
⇒ অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে।

তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
৭১৩.
কোনটিকে জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. বায়ুর তাপ
  2. মৃত্তিকার গঠন
  3. বৃষ্টিপাত
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকার গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকার গঠন
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকার গঠন আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক, উপাদান নয়।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো:

- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো:
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বায়ুপ্রবাহ,
- সমুদ্রস্রোত,
- পর্বতের অবস্থান,
- ভূমির ঢাল,
- ‍মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
৭১৪.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- মানবসৃষ্ট নানা রকম কাজকর্ম যা পরিবেশের ক্ষতি করছে সেগুলোই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী।
- এই সমস্ত কার্যক্রম যেমন শিল্পায়ন, বনাঞ্চল উজাড়, পারমানবিক পরীক্ষা, কৃষির সম্প্রসারণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, কাঠ-কয়লা পোড়ানো ইত্যাদি দ্বারা নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস গ্যাসই বিশ্ব উষ্ণায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে। যথা- বন্যা, ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৫.
মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. ১-৭৫ ডেসিবল
  2. ৭৫-১০০ ডেসিবল
  3. ১০০-১৩০ ডেসিবল
  4. ১৩০-১৫০ ডেসিবল
সঠিক উত্তর:
১-৭৫ ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-৭৫ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
• শব্দ দূষণ (Sound Pollution):
- শব্দ দূষণ অনুযায়ী আমাদের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। উক্ত মাত্রার উপরের শব্দ মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
- সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতায় ঊর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।

  তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৬.
প্রবল জোয়ারের কারণ, এ সময়-
  1. ক) সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণ করে থাকে
  2. খ) চন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে
  3. গ) পৃথিবীর সূর্যর সবচেয়ে কাছে থাকে
  4. ঘ) সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরল রেখায় থাকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরল রেখায় থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরল রেখায় থাকে
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়৷ এগুলো হলো-
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং
২. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি৷

সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না।
তবে চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে অধিকমাত্রায় জোয়ারের ফলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং জানমালের ক্ষতি হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বোর্ড বই
৭১৭.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় কোন সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে?
  1. বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে
  2. বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে
  3. মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে
  4. হিমবাহ গলার কারণে পাহাড় ধস হচ্ছে
সঠিক উত্তর:
মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় এলাকায় প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে।
- এর ফলে উপকূলীয় এলাকাগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।
- বিশেষ করে, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।
- যখন সমুদ্রের পানি উপকূলের দিকে চলে আসে, তখন এটি মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে, যা কৃষিজমি এবং অন্যান্য ভূমির জন্য ক্ষতিকর।
- এই লবণাক্ততা কৃষির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট করে।
- এছাড়া, ঘূর্ণিঝড় এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বাড়ছে, যার ফলে মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায়।

অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
৭১৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের পাহাড়গুলো স্থানীয় ভাবে টিলা নামে পরিচিত?
  1. ক) উত্তর
  2. খ) দক্ষিণ
  3. গ) পূর্ব
  4. ঘ) পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
ক) উত্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়গুলো স্থানীয় ভাবে টিলা নামে পরিচিত।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 
পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ : ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭১৯.
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তার করেনা কোনটি?
  1. লবণাক্ততা
  2. পৃথিবীর আবর্তন
  3. সমুদ্রের গভীরতা
  4. সূর্যরশ্মি
সঠিক উত্তর:
সূর্যরশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যরশ্মি
ব্যাখ্যা
সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উল্লেখ্য,
- সূর্যরশ্মি সমুদ্রস্রোত সৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তার করেনা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২০.
বায়ুমন্ডলে নিচের কোন উপাদানটি সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. ক) জলীয়বাষ্প
  2. খ) ধূলিকণা ও কণিকা
  3. গ) আর্গন
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) আর্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আর্গন
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ৭৮.০১%।
এছাড়া,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩%।
- অন্যান্য গ্যাস ০.০২% ও
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১% থাকে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

অপশনগুলোর মধ্যে বায়মন্ডলে আর্গন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে।

৭২১.
কৃষি ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হয়েছে?
  1. রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে
  2. একই জমিতে সারা বছর চাষ হচ্ছে
  3. ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• কৃষি উন্নয়ন (Agricultural Development):
- আগেকার দিনে সনাতন পদ্ধতিতে অর্থাৎ গরু, লাঙল ইত্যাদি দিয়ে চাষাবাদ করা হতো।
- উন্নতমানের সার, কীটনাশক, উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার তেমন ছিল না। এর ফলে অধিক জমিতে আবাদ করেও ফসল উৎপাদিত হতো অল্প।
- বিশ শতকের ষাটের দশকে কৃষি ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব শুরু হয়।

- এরপর থেকে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- বর্তমানে জমিতে বিভিন্ন ধরনের সার, কীটনাশক, পানি সেচ, উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহারের ফলে অল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদিত হয়।
- এছাড়া সারা বছর ধরে একাধিক ফসল ফলানো হয়। এতে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২২.
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত দেখা যায়?
  1. ক) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  2. খ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  3. গ) ঘূর্ণি বৃষ্টি
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিঃ
শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের সৃষ্টি করে।
বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায়; ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে যে ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটে তাকে বায়ুপ্রাচীর জনিত বৃষ্টি বলে।
সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এ ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটে। গ্রীষ্মকালে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিও হয়।

আবার, নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।
মধ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে ঘূর্ণি বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি

৭২৩.
জলবায়ুর নিয়ামকসমূহের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে সাধারণত কয়টি ঋতুতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-প্রকৃতি এখানকার জলবায়ুর ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
- মৌসুমী বায়ুর অত্যধিক প্রভাবের দরুণ এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো:
১) গ্রীষ্মকাল।
২) বর্ষাকাল।
৩) শীতকাল।

উল্লেখ্য, 
- বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ুর নিয়ামক।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৪.
'আবহাওয়া'র বৈশিষ্ট্য -
  1. ক) বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের দীর্ঘকালীন সামগ্রিক অবস্থা
  2. খ) বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের দৈনন্দিন অবস্থা
  3. গ) ঋতুভেদে পরিবর্তন হয়
  4. ঘ) প্রতিদিনের ব্যবধানে পরিবর্তিত হয় না
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের দৈনন্দিন অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের দৈনন্দিন অবস্থা
ব্যাখ্যা
• আবহাওয়া:
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর উষ্ণতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি উপাদানের দৈনন্দিন অবস্থাই আবহাওয়া।
- আবহাওয়া হলো বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের দৈনন্দিন অবস্থা।
- স্থানভেদে আবহাওয়া সহজেই পরিবর্তিত হয়।
- কোনো স্থানের আবহাওয়া প্রতিদিন, এমনকি প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হয়।

• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো বিস্তৃত অঞ্চলের কমপক্ষে ৩০-8০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- জলবায়ু হলো বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের দীর্ঘকালীন সামগ্রিক অবস্থা।
- জলবায়ুর পরিবর্তন হয় স্থানভেদে ও ঋতুভেদে।
- প্রতিদিনের ব্যবধানে কোনো অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তিত হয় না।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৫.
IPCC-এর মতে কত সালের মধ্যে বাংলাদেশের নদীপ্রবাহ কমে যাবে?
  1. ২০৫০ সাল
  2. ২০৪৫ সাল
  3. ২০৩৫ সাল
  4. ২০৩০ সাল
সঠিক উত্তর:
২০৩০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩০ সাল
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস অর্থাৎ কার্বন ডাইঅক্সাইড মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসগুলো নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়ল বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- IPCC-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়াও,
- এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (ADB)-এর মতে উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
- এ শতকের শেষ নাগাদ বিশ্বে চাষাবাদ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি (MIT) অর্থনীতিবিদদের নতুন গবেষণা অনুসারে বিশ্ব উষ্ণায়ন ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২৬.
'পশ্চিমা বায়ু' দক্ষিণ গোলার্ধে প্রধানত কোন দিক থেকে বয়ে আসে? 
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. পূর্ব-পশ্চিম
  4. উত্তর-পূর্ব
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা

• নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

• পশ্চিমা বায়ু (The Westerlies):

- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু (Brave west winds) বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৭২৭.
কীসের প্রভাবে ’ঋতু পরিবর্তন’ ঘটে?
  1. আহ্নিক গতি
  2. ঘূর্ণন গতি
  3. পর্যায়বৃত্ত গতি
  4. বার্ষিক গতি
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক গতি
ব্যাখ্যা

• বার্ষিক গতি :
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে।
পৃথিবীর এই গতিকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে।

• বার্ষিক গতির ফল (The results of Revolution):বার্ষিক গতির ফল হলো-
- দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
- ঋতু পরিবর্তন।

• ঋতু পরিবর্তন:
- তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বছরকে চারটি ঋতুতে ভাগ করা হয়—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত, বসন্ত ও হেমন্ত। তবে সাধারণভাবে চারটি মৌলিক ঋতু হচ্ছে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত।
- পৃথিবীকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধ।
- নিরক্ষরেখার উপরে উত্তর গোলার্ধ আর নিচে দক্ষিণ গোলার্ধ।
- উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্ম, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীত।
- আবার উত্তর গোলার্ধে যখন শীত, দক্ষিণে তখন গ্রীষ্ম।
- বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
- তাই এখানে জুন মাসে গ্রীষ্ম থাকে, আর তখন দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল চলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি

৭২৮.
ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. লু
  2. সাইমুম
  3. খামসিন
  4. মিস্ট্রাল
সঠিক উত্তর:
মিস্ট্রাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিস্ট্রাল
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৯.
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয় কোথায়?
  1. ক) সিলেট এলাকায়
  2. খ) নেত্রকোণায়
  3. গ) বরেন্দ্র অঞ্চলে
  4. ঘ) উপকূলীয় জেলায়
সঠিক উত্তর:
ক) সিলেট এলাকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিলেট এলাকায়
ব্যাখ্যা
• শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orogaphic Rainfall):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- তবে পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কম থাকে।
- ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠায় ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না। এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain-Shadow Region)।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩০.
কোনটি আহ্নিক গতির ফলাফল নয়?
  1. ঋতু পরিবর্তন
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. দিবা-রাত্রির সংঘটন
  4. সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
ঋতু পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋতু পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'ঋতু পরিবর্তন' আহ্নিক গতির ফলাফল নয়।

⇒ পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারপাশে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়, যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে প্রতি ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তিত হয়।
- এই সময়কে সৌরদিন এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো: পৃথিবীর আবর্তন ও পৃথিবীর আকৃতি।
- পৃথিবীর আকৃতি পুরোপুরি গোলাকার নয়। এটি নিরক্ষরেখার কাছে কিছুটা স্ফীত এবং মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সবচেয়ে বড় হওয়ায় এখানে আহ্নিক গতির গতি সর্বোচ্চ। এই গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- আহ্নিক গতি পৃথিবীর দিন ও রাতের পরিবর্তন এবং সময়ের পার্থক্য সৃষ্টি করে, যা আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

⇒ আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
- দিবা-রাত্রির সংঘটন,
- জোয়ার-ভাটা,
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি।

⇒ ঋতু পরিবর্তন হলো বার্ষিক গতির ফলাফল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩১.
জোয়ার-ভাটার তেজকটাল কখন হয়?
  1. পূর্ণিমাতে
  2. অমাবস্যায়
  3. অষ্টমীতে
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটার তেজকটাল:
- পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের জন্য জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে ওঠে। ফলে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় একে তেজকটাল বলে।

অন্যদিকে,
- অষ্টমীর তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়। চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি। কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩২.
পৃথিবীর পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা কত?   
  1. ৯০টি 
  2. ১২০টি
  3. ১৮০টি
  4. ৩৬০টি 
সঠিক উত্তর:
৩৬০টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬০টি 
ব্যাখ্যা

• ১৮০° দ্রাঘিমারেখা:
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
- পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমারেখা।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমারেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- এই মূল মধ্যরেখাটির মান ০° ধরে নেয়া হয় এবং প্রতি ১০ অন্তর অন্তর একটি করে দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা বরাবর সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- অপরদিকে মূল মধ্য রেখা থেকে পশ্চিমে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- পৃথিবী পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা ৩৬০টি।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ার ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা মূলত একই মধ্যরেখার পড়ে।
- এই ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৩৩.
নিচের কোনটি আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু?
  1. সায়মুম
  2. সাহারা
  3. সিরক্কো
  4. খামসিন
সঠিক উত্তর:
সায়মুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সায়মুম
ব্যাখ্যা
• স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও তাপমাত্রার তারতম্যের ফলে সৃষ্ট বায়ু স্থানীয় বায়ু নামে পরিচিত।
স্থানীয় বায়ুসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সায়মুম : আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু
- খামসিন : মিশর
- চিনুক : রকি পর্বত
- সিরক্কো : উ. আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালি
- মিস্ট্রাল : ফ্রান্সের মালভূমি
- পাম্পেরু : আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে
- লু : ভারত প্রভৃতি।


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা।
৭৩৪.
পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা -
  1. ১৫০ - ৩০° সেলসিয়াস
  2. ১৫০ - ৩৩° সেলসিয়াস
  3. ১৬০ - ২৮° সেলসিয়াস
  4. ১৮০ - ৩৩° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
১৮০ - ৩৩° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০ - ৩৩° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

পাট চাষ:
- উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- তবে বেলে ও এঁটেল মাটি ছাড়া সব জমিতেই পাট চাষ করা যায়।
- তবে যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম।
- তোষা পাট উঁচু জমিতে এবং দেশী পাট উঁচু ও নিচু দু'ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়।
- পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা ১৮০ - ৩৩° সেলসিয়াস

⇒ পাট আঁশপ্রধানত দুটি প্রজাতি, সাদাপাট (Corchorus capsularis) ও তোষাপাট (Corchorus olitorius) থেকে উৎপন্ন হয়।
- ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।
- ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, যশোর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুর অঞ্চলে পাট চাষের পরিমান বেশি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৫.
নিচের কোনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়?
  1. ক) ২১ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২২ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখায় সূর্যের গমনকে বিষুব বলা হয়।
২৩শে সেপ্টেম্বর দক্ষিণায়নের অংশ হিসেবে সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে ২৩শে সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। এই দিনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়।

সূর্যের উত্তরায়ণের সময় ২১শে মার্চ সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে করে ২১শে মার্চও পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান থাকে। এই দিনটিকে মহাবিষুব বলা হয়।
আবার এইদিন (২১ মার্চ) থেকে উত্তর গোলার্ধে বসন্ত শুরু হয় বিধায় একে বাসন্ত বিষুব বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
৭৩৬.
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথম বৃদ্ধি পায়, পরে কমে
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

উচ্চতা:
- উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়।
- দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা 
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব 
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল 
৭। ভূ-প্রকৃতি 
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং 
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৭.
মেরু জলবায়ু অঞ্চলকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা
মেরু জলবায়ুসমূহ:
→ এ জলবায়ুতে বছরের বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে থাকে। ফলে উদ্ভিজ্জের জন্ম ও বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্ব ও উত্তাপের প্রাচুর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
 → উষ্ণতম মাসের গড় তাপমাত্রা ১০° সে. এর কম থাকে।
→ এই জলবায়ু মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা: ১. তুন্দ্রা অঞ্চল এবং ২. চিরস্থায়ী বরফের আচ্ছাদনজনিত জলবায়ু।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৮.
নিচের কোনটি গ্রিন হাইজ গ্যাস?
  1. ক) হাইড্রোজেন সালফাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) নাইট্রাস অক্সাইড
  4. ঘ) অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রাস অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা
⇨ হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
⇨ গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।   

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৩৯.
নিচের কোনটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) মাওনাকেয়া
  2. খ) ফুজিয়ামা
  3. গ) কোহিসুলতান
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) মাওনাকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাওনাকেয়া
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. সক্রিয় আগ্ন্যেয়গিরি - হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া, মাওনাকেয়া।
২. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি - জাপানের ফুজিয়ামা
৩. মৃত আগ্নেয়গিরি - ইরানের কোহিসুলতান

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

৭৪০.
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে কোন সময় বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) জুলাই থেকে অক্টোবর
  2. খ) মে থেকে অক্টোবর
  3. গ) জুন থেকে সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) জুন থেকে অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জুন থেকে অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জুন থেকে অক্টোবর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু
⇨ বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন।
⇨ দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
⇨ এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়
⇨ বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
⇨ বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল।  
⇨ এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
⇨ জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪১.
সাধারণত সারা বছর বৃষ্টিপাত হয় -
  1. ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  2. খ) বিষুবীয় অঞ্চলে
  3. গ) মেরু অঞ্চলে
  4. ঘ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে। ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ু সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকাল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৪২.
জাতিসংঘের কোন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এই শতাব্দীর শেষে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২°C'র মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) প্যারিস
  2. খ) কোপেনহেগেন
  3. গ) স্টকহোম
  4. ঘ) কার্টাগেনা
সঠিক উত্তর:
খ) কোপেনহেগেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কোপেনহেগেন
ব্যাখ্যা

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ২০০৯ সালে জাতিসংঘের বিশ্বজলবায়ু সম্মেলনে তিন পৃষ্ঠার অঙ্গীকারনামাকে একটি নোট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- এতে এই শতাব্দীর শেষে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২° সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। Copenhagen Accord

- উল্লেখ্য, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২° সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে। সেটা ১.৫° সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা জোর দেওয়া হয়েছে।
এখানে লিংক দেওয়া হলো Paris Accord on Climate change

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি ও UNFCCC ওয়েবসাইট।

৭৪৩.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ?
  1. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
  2. আরব মালভূমির সাইমুম
  3. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  4. ভিয়েতনামের ঘুর্ণিবাত বায়
সঠিক উত্তর:
আরব মালভূমির সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরব মালভূমির সাইমুম
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।

• কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ-
- রকি পবর্তের চিনুক,
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল,
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু,
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা,
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা,
- আরব মালভূমির সাইমুম,
- মিসরের খামসিন ও
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু।

• উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু:
- দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়।
- দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়।
- এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে।
- এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে।
- এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৪.
বজ্রপাত কোন স্তরে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) মেসোমন্ডল
  3. গ) ট্রপোমন্ডল
  4. ঘ) আয়নমন্ডল
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা:
• ট্রপোমন্ডল,
• স্ট্রাটোমন্ডল,
• মেসোমন্ডল,
• তাপমণ্ডল ও
• এক্সোমণ্ডল।
 ট্রপোমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তর ট্রপোমন্ডল।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৫.
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি হয় কেন?
  1. বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির কারণে
  2. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির কারণে
  3. বায়ুমণ্ডলে CFC গ্যাস বৃদ্ধির কারণে
  4. বায়ুমণ্ডলেকার্বন মনো অক্সাইড গ্যাস বৃদ্ধির কারণে
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির কারণে
ব্যাখ্যা

• এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2). 
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3 এর) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়। 
 
• কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
 
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

৭৪৬.
বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী খরায় কবলিত হয় কখন?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4.  ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯৯৪-৯৫ বাংলাদেশে সমসাময়িক কালের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী খরা, ব্যাপক শস্যহানি ঘটে।

ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব:
- বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে খরা অন্যতম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ে গড় বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটিতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
কম বৃষ্টিপাত ও অধিক হারে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে খরার প্রভাব দেখা দেয়। দেশে প্রতি বছর ৩০-৪০ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার খরায় কবলিত হয়ে থাকে।
খরাপ্রবণ এলাকায় ফসলের ফলন নির্ভর করে খরার তীব্রতা, খরার স্থিতিকাল এবং ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ের উপর।
ফসলে ক্ষতির মাত্রার উপর নির্ভর করে খরাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-
১। তীব্র খরা (৭০-৯০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়)
২। মাঝারি খরা (৪০-৭০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়)
৩। সাধারণ খরা (১৫-৪০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়)

ফসল উৎপাদন মৌসুমের উপর ভিত্তি করে খরাকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন- রবি খরা, খরিপ-১ খরা ও খরিপ-২ খরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৭৪৭.
কোন বায়ু বানিজ্য বায়ু নামে পরিচিত?
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. মেরু বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু: 
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- নিয়ত বায়ু পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বছরের সকল সময় একই দিকে প্রবাহিত হয়।
• এই বায়ু তিন প্রকারের। যথা-
- অয়ন বায়ু,
- পশ্চিমা বায়ু ও
- মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪৮.
'চট্টগ্রাম' অঞ্চলের জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. ক) চরমভাবাপন্ন
  2. খ) সমভাবাপন্ন
  3. গ) মৃদুভাবাপন্ন
  4. ঘ) নিয়তভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
গ) মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। 
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৪৯.
শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে কারণ -
  1. সূর্য বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে
  2. স্থলভাগের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়
  3. দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাব
  4. আকাশ মেঘমুক্ত থাকে
সঠিক উত্তর:
স্থলভাগের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থলভাগের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়
ব্যাখ্যা

শীতকাল:
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এদেশে শীতকাল বিরাজ করে।
- এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে বলে বাংলাদেশে এর রশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়। ফলে তাপমাত্রার পরিমাণ কম থাকে।
- কখনও শিশির এবং কুয়াশা পড়তে দেখা যায়।

⇒ এ ঋতুতে বাংলাদেশের আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক, শীতল ও আরামদায়ক থাকে বলে সবচেয়ে সুন্দর ও উপভোগ্য ঋতু বলতে এ ঋতুকে বোঝায়।
- শীতকালে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° সে. ও ১১° সে. এবং গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৭.৭° সে.।

⇒ এসময় দক্ষিণাংশ থেকে উত্তরদিকে ক্রমশ তাপমাত্রা কম থাকে।
- এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। এ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে।
- তবে হিমালয় পর্বতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তুষারকণা হতে সামান্য পরিমাণে জলীয়বাষ্প বহন করে।
- এ বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলের পর্বতসমূহ বাধা পেয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- কোন কোন বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগর হতে আগত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়।
- শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫০.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে নিচের কোনটি দায়ী নয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) নাইট্রাস অক্সাইড
  4. ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
যেসব গ্যাস পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে তাদের গ্রিনহাউজ গ্যাস বলা হয়।
- কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ফ্লোরোনেইটেড গ্যাসসমূহ প্রভৃতি প্রধান গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসেবে বিবেচিত। এসব গ্যাসের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কার্বন ডাই অক্সাইড প্রধানত দায়ী।
- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যে দায়ী নয়।

(তথ্যসূত্র: মার্কিন পরিবেশ রক্ষা এজেন্সি)
৭৫১.
পৃথিবীর ০ ডিগ্রি অক্ষাংশকে বলা হয়-
  1. বিষুবরেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিষুবরেখা/ নিরক্ষরেখা/মহাবৃত্ত:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত। অর্থাৎ পৃথিবীর মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত এর মান ০°।
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- তাহলে আমরা বলতে পারি যে, পৃথিবীর ০ ডিগ্রি অক্ষাংশকে বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা এবং মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত বলা হয়।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫২.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭৬ সে.মি.
  2. ৩০.৯২ ইঞ্চি
  3. ৭৬ মি.মি.
  4. ৭৬০ সে.মি
সঠিক উত্তর:
৭৬ সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৬ সে.মি.
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ হল নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপরে থাকা সম্পূর্ণ বায়ুর স্তম্ভ দ্বারা প্রতি একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রয়োগ করা বল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপের জন্য পারদ বারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এটি পারদের একটি স্তম্ভের উচ্চতা দেখায়, যা নির্দিষ্ট অঞ্চলের বায়ুস্তম্ভের ওজনের সমান ভারসাম্য বজায় রাখে।
-এছাড়াও অ্যানেরয়েড ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এতে একটি ফাঁপা ধাতব চাকতি থাকে, যা বায়ুর চাপের পরিবর্তনের সাথে সংকুচিত বা প্রসারিত হয় এবং একটি কলম ও ঘড়ি-চালিত ড্রামের সাহায্যে রেকর্ড করা হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ:
- ৭৬০ মি.মি. বা ৭৬ সে.মি. (২৯.৯২ ইঞ্চি) পারদ
- ১৪.৭০ psi
- ১,০১৩.২৫ × ১০³ ডাইন/বর্গ সেন্টিমিটার
- ১,০১৩.২৫ মিলিবার
- ১ atm
- ১০১.৩২৫ কিলোপ্যাস্কেল

উৎস: Britannica.

৭৫৩.
ই-৮ পৃথিবীর কোন ধরনের ৮ টি দেশকে নির্দেশ করে ?
  1. সবচেয়ে দরিদ্র ৮ টি দেশ
  2. সবচেয়ে শিল্পোন্নত ৮ টি দেশ
  3. সবচেয়ে উন্নত ৮ টি দেশ
  4. সবচেয়ে পরিবেশ দূষণকারী ৮ টি দেশ
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে পরিবেশ দূষণকারী ৮ টি দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে পরিবেশ দূষণকারী ৮ টি দেশ
ব্যাখ্যা
- 'ই - ৮' হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিবেশ দূষণকারী আটটি দেশ। এক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের নাম সর্বাগ্রে। 
- অন্যদিকে-
'ডি - ৮' উন্নয়নশীল ৮টি দেশের জোট।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
৭৫৪.
বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কত?
  1. ৪,৫৯৬ টি
  2. ৪,৬৬০ টি
  3. ৪,৩০২ টি
  4. ৪,৩২১ টি
সঠিক উত্তর:
৪,৫৯৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪,৫৯৬ টি
ব্যাখ্যা
• বায়ুর উপাদানের শতকরা হার শতকরা:
- নাইট্রোজেন (N₂) = ৭৮.০২%।
- অক্সিজেন (O2)= ২০.৭১%।
-  আর্গন (A₂) = ০.৮০%।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) = ০.০৩%।
- অন্যান্য গ্যাসমূহ (ওজোন, মিথেন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম) = ০.০২%।
- জলীয়বাষ্প = ০.৪১%।
- ধূলিকণা ও কণিকা= ০.০১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৫.
ইক্ষু উৎপাদনের জন্য কত সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন?
  1. ১১০ সেন্টিমিটার
  2. ১৫০ সেন্টিমিটার
  3. ১৩০ সেন্টিমিটার
  4. ১২০ সেন্টিমিটার
সঠিক উত্তর:
১৫০ সেন্টিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

ইক্ষু (Sugarcane): 
- চিনি ও গুড় উৎপাদনের জন্য ইক্ষু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ফসল।
- ইক্ষু চাষের জন্য সমতলভূমি প্রয়োজন। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহ ইক্ষু চাষের প্রধান অঞ্চল।
- ইক্ষু উৎপাদনের জন্য ১৯০ থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং কমপক্ষে ১৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।
- বেলে দোআঁশ ও কর্দমময় দোআঁশ মাটিতে ইক্ষু চাষ ভালো হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫৬.
নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায় সূর্যকিরণ ততই
  1. লম্বভাবে পড়তে থাকে
  2. তির্যকভাবে পড়তে থাকে
  3. খাঁড়াভাবে পড়তে থাকে
  4. একইভাবে পড়তে থাকে
সঠিক উত্তর:
তির্যকভাবে পড়তে থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তির্যকভাবে পড়তে থাকে
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ (Latitude):
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়।
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- আর নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে।
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৭৫৭.
কর্কট ক্রান্তি ও মকর ক্রান্তির মধ্যবর্তী অঞ্চলের জলবায়ুর নাম -
  1. ক) উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল
  2. খ) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল
  3. গ) মরু দেশীয় অঞ্চল
  4. ঘ) পার্বত্য ও উচ্চভূমি অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
ক) উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল:
- কর্কট ক্রান্তি ও মকর ক্রান্তির মধ্যবর্তী অঞ্চলকে উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল বলা হয়।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫-৩০° উত্তর এবং দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে উষ্ণ জলবায়ু দেখা যায়।
- পৃথিবীর মোট ভূখন্ডের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এর গড় তাপমাত্রা প্রায় ২১° সে. এর উপরে।

সূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৫৮.
জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. ভূমির ঢাল
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. অক্ষাংশ
  4. বারিপাত
সঠিক উত্তর:
বারিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারিপাত
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর নিয়ামক:
- বারিপাত জলবায়ুর নিয়ামক নয়।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরে গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- আবহাওয়া অফিস গুলোতে অনেকদিনের আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান গুলোকে পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ু সম্পর্কে ধারনা করা হয়।
- পৃথিবীর সব স্থানের জলবায়ু একধরণের হয় না। কিছু ভৌগৌলিক কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয় গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
- জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হল-
• অক্ষাংশ,
• উচ্চতা,
• সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
• বায়ুপ্রবাহ,
• সমুদ্রস্রোত,
• পর্বতের অবস্থান,
• ভূমির ঢাল,
• মৃত্তিকার গঠন।
- বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি জলবায়ুর নিয়ামক।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৯.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কত মিলিমিটার?
  1. ২,১০০
  2. ২,২৫০
  3. ২০৩০
  4. ২,৪০০
সঠিক উত্তর:
২০৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩০
ব্যাখ্যা

বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত:
- বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০৩০ মিমি।
- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশে শীতলতম মাস - জানুয়ারি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৬০.
শীতকালে বাংলাদেশের কোনটি সবচেয়ে শীতলতম জেলা?
  1. দিনাজপুর
  2. বগুড়া
  3. শেরপুর
  4. গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
- অপশন অনুযায়ী, শীতকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতলতম জেলা- দিনাজপুর। 

শীতকাল: 

- শীতকাল আমাদের দেশে ঠান্ডার সময় হিসেবে পরিচিত।
- এ সময় তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১১° সেলসিয়াস।
- জানুয়ারি মাসে গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস এবং এটি শীতলতম মাস।
- এ সময় দক্ষিণাঞ্চল অপেক্ষা উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে।
- ১৯০৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ১° সেলিসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যা এদেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা ।
- শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬১.
প্রত্যয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে _____ দিক থেকে ____ দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. পূর্ব, পশ্চিম
  2. দক্ষিণপশ্চিম, উত্তরপূর্ব 
  3. উত্তর, দক্ষিণ
  4. উত্তর, পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণপশ্চিম, উত্তরপূর্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণপশ্চিম, উত্তরপূর্ব 
ব্যাখ্যা

পশ্চিমা বায়ু বা প্রত্যয়ন বায়ু :
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়।
 - ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়।
- এসময় অপেক্ষাকৃতি উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল।
 - আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ু প্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties) ।
 - নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে।
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে অনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না।
 - প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত।
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো।
 - এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে।
 - উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়।

উল্লেখ্য,
মেরু বায়ু: মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে অতিশীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
অয়ন বায়ু: উত্তর গোলার্ধে উত্তর পূর্ব দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, ওপেন স্কুল।

৭৬২.
বায়ুমন্ডলের স্তরগুলোর মধ্যে কতটি সমমণ্ডল এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য: 
- বায়ুমন্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- উল্লিখিত স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৭৬৩.
হাইগ্রোমিটার দ্বারা কি পরিমাপ করা হয়?
  1. বায়ুর চাপ
  2. গ্যাসের চাপ
  3. তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা

Humidity বা বায়ুর আর্দ্রতা :
- বায়ুর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান জলীয়বাষ্প।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প যখন একদম থাকে না, তাকে শুষ্ক বায়ু বলে।
- যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে, তাকে আর্দ্র বায়ু বলে।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ থাকে প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ।
- বায়ুর আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) দ্বারা পরিমাপ করা হয়।
- বায়ুর আর্দ্রতা দু'ভাবে প্রকাশ করা যায়।
- যথা- পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।

অন্যদিকে,
- হাইড্রোমিটার- তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব পরিমাপক যন্ত্র।
- ব্যারোমিটার- বায়ুর চাপ মাপক যন্ত্র।
- ম্যানোমিটার- গ্যাসের চাপ মাপক যন্ত্র।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬৪.
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয়-
  1. হ্যারিকেন
  2. টাইফুন
  3. সাইক্লোন
  4. উইলি উইলি
সঠিক উত্তর:
টাইফুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফুন
ব্যাখ্যা

• টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অন্যদিকে,
- উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন বলা হয়।
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের ঘূর্ণিঝড়কে উইলি উইলি বলা হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট ও Redcross ওয়েবসাইট।

৭৬৫.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জুন
  2. মে
  3. এপ্রিল
  4. মার্চ
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকাল:
- আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু হিসেবে পরিচিত।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস।
- এপ্রিল উষ্ণতম মাস।
- এ মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- এ সময় সমুদ্র উপকূল থেকে দেশের অভ্যন্তরে অর্থাৎ উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- উদাহরণস্বরূপ এপ্রিল মাসে যখন কক্সবাজারে ২৭.৬৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রা তখন রাজশাহীর তাপমাত্রা প্রায় ৩০° সেলসিয়াস।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৬.
ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা কোনটি?
  1. আইসোহেলাইন
  2. আইসোথার্ম
  3. আইসোহাইট
  4. আইসোবার
সঠিক উত্তর:
আইসোথার্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোথার্ম
ব্যাখ্যা
- আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ব. এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট)
৭৬৭.
বাংলাদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের কারণ কোনটি?
  1. মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও নদী প্রবাহ
  2. ভৌগোলিক প্রকৃতি ও বনভূমিধ্বস 
  3. মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ভৌগোলিক প্রকৃতি
  4. ভৌগোলিক প্রকৃতি ও শিল্পায়ন
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ভৌগোলিক প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ভৌগোলিক প্রকৃতি
ব্যাখ্যা

বৃষ্টিপাতের কারণ: 
- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে।
- বাংলাদেশের সিলেট বিভাগ চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ঘটে।
- বিশেষ করে জুড়ি, শ্রীমঙ্গল, এবং গোয়াইনঘাট এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতেও যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়।
- এই বিভাগের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, এবং খাগড়াছড়ি এলাকায়ও প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের কারণ হচ্ছে- মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ভৌগোলিক প্রকৃতি।
- এছাড়া বেশি বৃষ্টিপাতের আরেকটা কারণ হলো মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, যা বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বায়ু নিয়ে আসে।
- এছাড়া, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় সিলেটের দিকে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় এবং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়। 
-  সিলেটের লালাখাল এলাকায় সর্বাধিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
- আর সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নাটোরের লালপুরে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৬৮.
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার জলবায়ু -
  1. মৃদুভাবাপন্ন
  2. মহাদেশীয়
  3. সমভাবাপন্ন
  4. চরমভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

• মৃদুভাবাপন্ন:
- কক্সবাজারের জলবায়ুকে বলা হয় মৃদুভাবাপন্ন।
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
-  সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত হতে যে পরিমাণ তাপের দরকার হয় তার সমপরিমাণ মাটি উত্তপ্ত হতে তার থেকে কম তাপ দরকার হয়।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে। এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়। ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৯.
বায়ু প্রবাহের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) আর্দ্রতার তারতম্য
  2. খ) তাপের তারতম্য
  3. গ) চাপের তারতম্য
  4. ঘ) অক্ষাংশের ভিন্নতা
সঠিক উত্তর:
গ) চাপের তারতম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাপের তারতম্য
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেখানকার বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। এতে করে সেই স্থানে বায়ুর চাপর হ্রাস পায় বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এতে করে বায়ুর উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সেই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু দ্রুতগতিতে ছুটে আসে যা বায়ু প্রবাহ নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৭০.
২০২১ সালের টেকসই উন্নয়ন সূচকে শীর্ষদেশ কোনটি?
  1. আইসল্যান্ড
  2. সুইডেন
  3. ডেনমার্ক
  4. ফিনল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ফিনল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন্স নেটওয়ার্ক প্রকাশিত টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০২১ অনুসারে,
- প্রথম : ফিনল্যান্ড
- দ্বিতীয় : সুইডেন
- তৃতীয় : ডেনমার্ক
- চতুর্থ : জার্মানি
- বাংলাদেশের অবস্থান : ১০৯তম
- সর্বনিম্ন দেশ (১৬৫তম) : মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র।
(তথ্যসূত্র: এসডিজি ইনডেক্স ওয়েবসাইট)
৭৭১.
এক্সোমন্ডলে কোন গ্যাসের আধিক্য রয়েছে? 
  1. ওজোন (O3) গ্যাস
  2. হিলিয়াম গ্যাস
  3. হাইড্রোজেন গ্যাস
  4. খ + গ
সঠিক উত্তর:
খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ + গ
ব্যাখ্যা

এক্সোমন্ডল (Exosphere):
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
- এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির  কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

অপরদিকে,
• স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere): 
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।
- এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭২.
নদ-নদী, সমুদ্রের পানি থেকে কোন প্রক্রিয়ায় জলীয়বাষ্প সৃষ্টি হয়?
  1. ঘনীভবন
  2. বাষ্পীভবন
  3. বারীপাত
  4. তুষারপাত
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
• বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে শীতল হয়ে যায় ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এই মেঘের মধ্যে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা থাকে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়।
- মূলত পানির কণাগুলো যখন বড় বড় কণায় পরিণত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে তাকেই বলা হয় বৃষ্টিপাত।
- সমুদ্র, নদ-নদী, জলাশয়, উদ্ভিদ প্রভৃতি থেকে পানি জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়।
- বাষ্পীভবন (Evaporation) প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা নির্দিষ্ট।
- যেমন- ১০° সেলসিয়াস উত্তাপে প্রতি ঘনমিটার বায়ু ৯.৪১ গ্রাম বাষ্প ধারণ করে এবং এই অবস্থাকে বলা হয় বায়ুর সম্পৃক্ত।
- বায়ুর তাপমাত্রা ১০° সেলসিয়াস থেকে কম হলে তার জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতাও হ্রাস পায়।
- এই ধরনের ঘনীভবনের (Condensation) সাহায্যে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- বৃষ্টিপাত কঠিন ও তরল দুই ধরনেরই হতে পারে।
- জলীয়বাষ্পের শিশিরাংক যদি শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা হিমাংকের নিচে নেমে যায় তখন জলীয়বাষ্প তুষার ও বরফরূপে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়।
- আবার হিমাংক শিশিরাংকের ওপর থাকলে ঘনীভবনের মাধ্যমে শিশির, কুয়াশা বা বৃষ্টি আকারে পৃথিবী পৃষ্ঠে নেমে আসে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৩.
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান প্রভৃতি জেলার পর্বতে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে?
  1. ক) পরিচলন বৃষ্টি
  2. খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. গ) ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
  4. ঘ) সংঘর্ষ বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান প্রভৃতি জেলার পর্বতে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৭৭৪.
বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব-
  1. মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  3. কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:

• জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৭৫.
‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০২১’ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কততম?
  1. সপ্তম
  2. অষ্টম
  3. চতুর্থ
  4. নবম
সঠিক উত্তর:
সপ্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তম
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘জার্মান ওয়াচে’ প্রকাশিত,
- ‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০২১’ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
- জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখনই কমানো না গেলে বিশ্ববাসীকে খুব শিগ্গির এর খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
- সেদিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা মোটেই সুবিধাজনক নয়।
- বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, পৃথিবীর মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের মাত্র শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ নিঃসরিত হয় বাংলাদেশে।
- মূলত ভৌগোলিকভাবে এ দেশের অবস্থান, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও সামাজিক সুরক্ষার অপর্যাপ্ততা বাংলাদেশকে আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
- উন্নত দেশগুলো ৮৬ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। 

উৎস:  দৈনিক যুগান্তর।
৭৭৬.
গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে অস্ত যায়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. পশ্চিম
  4. উত্তর- পূর্ব
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
২১শে জুন উত্তর গোলার্ধে ও দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের অবস্থান:
- সূর্যের চর্তুদিকে পৃথিবীর পরিভ্রমণের সময় পৃথিবী ২১ শে জুন তারিখে পৃথিবীর কক্ষপথের এমন এক স্থানে এসে পৌঁছে, যখন উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সর্বাপেক্ষা বেশি (২৩.৫০) ঝুঁকে থাকে।
- অর্থাৎ কর্কটক্রান্তি রেখায় সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- ২১ শে জুন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের নিকটতম স্থানে অবস্থান করে।
- তখন উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
- যার ফলে গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে দেশগুলোতে সূর্য উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে উদিত হয় এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে দিয়ে অস্ত যায়।
- অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।

- যার ফলে দেখা যায়, ২১ শে জুন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত্রি সবচেয়ে ছোট হয়।

অপরদিকে,
- বিপরীতক্রমে এই সময়ে দক্ষিণ মেরু বা মকর ক্রান্তিতে পৃথিবী সূর্য হতে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে থাকে।
- দক্ষিণ গোলার্ধে, এই দিনটি সবচেয়ে ছোট এবং রাত্রি সবচেয়ে বড় হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হওয়ার কারণ এই দিনে সূর্য ও দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৭.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. ক) সিরাস
  2. খ) অল্টোস্ট্রেটাস
  3. গ) স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
  4. ঘ) স্ট্রাটাস
সঠিক উত্তর:
খ) অল্টোস্ট্রেটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অল্টোস্ট্রেটাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৭৭৮.
কোনটি জলবায়ু অভিবাসনের “ধাক্কা” (Push Factor) হিসেবে বিবেচিত?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  2. উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা
  3. শহরের বাণিজ্যিক সুযোগ
  4. ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু অভিবাসন:
- জলবায়ু অভিবাসন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- জলবায়ু পরিবর্তন মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে অভিবাসনের দিকে ধাবিত করছে, 
- জলবায়ু অভিবাসন যেভাবে প্রভাবিত করে:
• বাস্তুচ্যুতি ও স্থানচ্যুতি:
- হঠাৎ বা ধীরে ধীরে ঘটে যাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ যেমন: ঘূর্ণিঝড়, দীর্ঘস্থায়ী খরা, মরুকরণ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে হয়।
- বিশেষ করে উপকূলীয় এবং কৃষিনির্ভর এলাকায় এটি বেশি দেখা যায়।।

• অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ‘ধাক্কা’ এবং ‘টান’ দু’টি উপাদান কাজ করে।
- প্রতিকূল জলবায়ু যেমন: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে (ধাক্কা);
- আর উন্নত সুযোগ-সুবিধা মানুষকে অন্য স্থানে টানে (টান)।
- ফলে শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং শহুরে পরিষেবার ওপর চাপ বাড়ে।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অভিবাসনের একটি বড় কারণ।

উল্লেখ্য, 
• অর্থনৈতিক প্রভাব ও জীবিকা হ্রাস:
- কৃষি-নির্ভর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যার ফলে মানুষের আয় কমে যায়।
• সম্পদের অভাব এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপর্যয়:
- এই বিপর্যয় অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত করে, যা মানুষকে কাজের সন্ধানে স্থানান্তরিত হতে প্ররোচিত করে।
• খাদ্য ও জল নিরাপত্তা: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্য ও জলের অভাব দেখা দেয়, যা মানুষের ফসলের ক্ষতি ও সম্পদের অভাব মানুষের আয় কমিয়ে দেয়।
- এবং খাদ্য ও পানীয় জলের নিরাপত্তা হ্রাস করে।
- এই পরিস্থিতি মানুষকে নতুন কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবন খোঁজার জন্য বাধ্য করে।

উৎস: 
১. ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. Britannica.
৩. কালের কন্ঠ। 

৭৭৯.
পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধে বাম দিকে
  3. দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

⇒ আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। 
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

⇒ একটি অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে একটি কেন্দ্রাভিমুখী ঘূর্ণায়মান প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী অর্থাৎ উত্তরাভিমুখী এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮০.
ভূপৃষ্ঠের সমচাপ সম্পন্ন স্থানসমূহ যোগকারী রেখাকে বলা হয়-
  1. আইসোথার্ম
  2. আইসোবার
  3. আইসোহাইট
  4. আইসােমার
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
ব্যাখ্যা
- আইসোথার্ম - সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার - সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহাইট - সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।

(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৮১.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে কোথায় বেশি বৃষ্টিপাত থাকে?
  1. খোলা মাঠে
  2. পাহাড়ের কাছে
  3. সমুদ্র উপকূলে
  4. বনভূমিতে
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র উপকূলে
ব্যাখ্যা
• ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরোক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮২.
'SPARRSO' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) মহাখালী
  4. ঘ) আগারগাঁও
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
ব্যাখ্যা

- SPARRSO এর পূর্ণরূপ- Space Research and Remote Sensing Organisation (মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র)।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।
উৎসঃ স্পারসোর ওয়েবসাইট।

৭৮৩.
স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাক কী নামে পরিচিত?
  1. ট্রপোবিরতি
  2. স্ট্রাটোবিরতি
  3. মেসোবিরতি
  4. থার্মোবিরতি
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোবিরতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোবিরতি
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere): 
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

উল্লেখ্য, 
- এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮৪.
কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি
  2. খ) ওজোন সূর্যরশ্মির প্রখরতা নষ্ট করে
  3. গ) বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্প থাকে বলেই মেঘের উদ্ভব হয়
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৭৮৫.
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. মহাদেশীয় বায়ুপ্রবাহ
  2. উত্তরের বাতাস
  3. কালবৈশাখী ঝড়
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী ঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী ঝড়
ব্যাখ্যা
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
- বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কালবৈশাখী ঝড়।
- এসময় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয় এবং গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৫১ সেন্টিমিটার।
- এ ঋতুতে বাংলাদেশের দক্ষিণ দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ অধিক উত্তাপের ফলে উপরে উঠে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়ে বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি হয় যা কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- উত্তরের বাতাস ও মহাদেশীয় বায়ুপ্রবাহ বাংলাদেশের শীতকালীন আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৬.
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ কত?
  1. ০.৪১%
  2. ০.০৩%
  3. ২০.৭১%
  4. ৭৮.০২%
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (N₂) ও অক্সিজেন (O₂)।
- এই দুটি গ্যাস মিলিয়ে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৭৩ শতাংশ গঠন করে।
- নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, এটি প্রায় ৭৮.০২ শতাংশ।
- অপরদিকে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ, এটি জীবজগৎ শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্বালনির জারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- বায়ুমণ্ডলে এই দুই গ্যাসের ভারসাম্য জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ হলো-
• নাইট্রোজেন (৭৮.০২%),
• অক্সিজেন (২০.৭১%),
• আর্গন (০.৮০%),
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড (০.০৩%),
• জলীয় বাষ্প (০.৪১%) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৭.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) কার্বন মনোক্সাইড
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বড় ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রিনহাউসের বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদের মত।
পৃথিবীতে আসা সূর্যালোক ভূপৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত করে৷ মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ যেমন- কাঠ কয়লা পোড়ানো, গাছ কাটা, কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
এ গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রিনহাউস গ্যাস।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৭৮৮.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে- 
  1. আবাদী জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া
  2. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে না নামা 
  3. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস 
  4. বিশুদ্ধ খাবার পানি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস 
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তন:
- বাংলাদেশের উপর প্রভাব জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
- নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৯.
কক্সবাজারের জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. চরমভাবাপন্ন
  2. অনিয়তভাবাপন্ন
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. নিয়তভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

• সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত হতে যে পরিমাণ তাপের দরকার হয় তার সমপরিমাণ মাটি উত্তপ্ত হতে তার থেকে কম তাপ দরকার হয়।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়। ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯০.
জানুয়ারি মাসের বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সে.?
  1. ২০.৩ ডিগ্রি সে.
  2. ১৭.৭ ডিগ্রি সে.
  3. ১৮.৩ ডিগ্রি সে.
  4. ১৬.৬ ডিগ্রি সে.
সঠিক উত্তর:
১৭.৭ ডিগ্রি সে.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭.৭ ডিগ্রি সে.
ব্যাখ্যা
⇒ শীতকাল: প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতকাল।
- এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকায় বাংলাদেশে এর রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়।
- শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমাণ যথাক্রমে ২৯ ডিগ্রি সে. ও ১১ ডিগ্রি সে.।
• জানুয়ারি মাস বাংলাদেশের শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রি সে.
-  এ সময়ে দক্ষিণে সমুদ্র উপকূল থেকে উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কম হয়ে থাকে।
- সমতাপ রেখাগুলো অনেকটা সোজা হয়ে পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থান করে।

তাছাড়াও
• জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা চট্টগ্রামে প্রায় ২০ ডিগ্রি,
- দিনাজপুরে ১৬.৬ ডিগ্রি সে.।
- তবে কোনো কোনো সময় উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কম হয়ে থাকে।
• বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
• বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত।
- তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়।
- এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল। 
• বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এপ্রিলের গড় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সবচেয়ে শীতল তম মাস জানুয়ারির গড় তাপমাত্রা ১৭.৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯১.
শীতকালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ২৯° সেলসিয়াস
  2. ৩০° সেলসিয়াস
  3. ৩১° সেলসিয়াস
  4. ৩২° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২৯° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

শীতকাল:
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এদেশে শীতকাল বিরাজ করে।
- এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে বলে বাংলাদেশে এর রশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়।
- ফলে তাপমাত্রার পরিমাণ কম থাকে।
- কখনও শিশির এবং কুয়াশা পড়তে দেখা যায়।

⇒ এ ঋতুতে বাংলাদেশের আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক, শীতল ও আরামদায়ক থাকে বলে সবচেয়ে সুন্দর ও উপভোগ্য ঋতু বলতে এ ঋতুকে বোঝায়।
- শীতকালে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° সে. ও ১১° সে. এবং গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৭.৭° সে.।

⇒ এসময় দক্ষিণাংশ থেকে উত্তরদিকে ক্রমশ তাপমাত্রা কম থাকে।
- এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে।
- তবে হিমালয় পর্বতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তুষারকণা হতে সামান্য পরিমাণে জলীয়বাষ্প বহন করে।
- এ বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলের পর্বতসমূহ বাধা পেয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- কোন কোন বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগর হতে আগত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়।
- শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯২.
কোনটি তাপের প্রধান উৎস?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. বায়ুর চাপ
  3. সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি
  4. সূর্যালোক
সঠিক উত্তর:
সূর্যালোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যালোক
ব্যাখ্যা
• তাপবলয়:
- সূর্য থেকে আসা সৌররশ্মিই তাপের প্রধান উৎস।
- তাপবলয় বা তাপমণ্ডল মূলত ৫ টি ভাগে বিভক্ত।
- সমোষ্ণরেখা দ্বারা কোনো স্থানের তাপের বিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য জানা যায়।

এগুলো হলো-
→ উষ্ণমণ্ডল,
→ উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
→ দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
→ উত্তর হিমমণ্ডল এবং
→ দক্ষিণ হিমমণ্ডল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৩.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ২৯° সেলসিয়াস
  2. ৩৪° সেলসিয়াস
  3. ২৭° সেলসিয়াস
  4. ৩২° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
→ বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° এবং ১১° সেলসিয়াস।
→ এদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা ২৭° থেকে ৩২.২° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন গড় উষ্ণতা ১৩.২° থেকে ২১° সেলসিয়াস।
→ বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৪.
ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. বায়ুর উষ্ণতা দ্রুত বৃদ্ধি
  2. বেতার তরঙ্গের প্রতিফলন
  3. অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ
  4. উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপের হ্রাস
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপের হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপের হ্রাস
ব্যাখ্যা

• ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভুপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। 
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। 
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। 
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯৫.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে কতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা

• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন’ একটি বৈশ্বিক চুক্তি, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে দুর্যোগ পরিকল্পনা, মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে সহায়তার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।
- এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে বিপর্যয়ের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তর (ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন-ইউএনডিআরআর)।

উৎস: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয় ও UNDP ওয়েবসাইট।

৭৯৬.
পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্র স্রোত প্রবাহিত হয়-
  1. উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে
  2. দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে
  3. পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে
  4. পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে
ব্যাখ্যা
• নিয়ত বায়ু:
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার।যথা-

১. পশ্চিমা বায়ু:
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্র স্রোত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমান বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি। এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।

২. অয়ন বায়ু:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তা অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজসমূহ এই বায়ু অনুসরণ করে চলাচল করতো বিধায় এই বায়ুকে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়।
- অয়ন বায়ু এক প্রকার নিয়ত বায়ু যা সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে।

৩. মেরু বায়ু :
- মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গেলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- এ প্রবাহদ্বয়কে উত্তর সুমেরু বায়ু ও দক্ষিণ কুমেরু বায়ু বলে।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৭.
২১শে জুন সূর্য কোন অক্ষাংশে বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. ০° অক্ষাংশে
  2. ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
  3. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  4. ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফল ও দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি:
⇒ পৃথিবী নিজ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ২১শে জুন তারিখে এমন অবস্থানে আসে যে, ঐ দিন উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর সূর্য রশ্মি লম্বভাবে পতিত হয়।
- অর্থাৎ সূর্য ২১শে জুন তারিখে ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- ২১ শে জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা বড় দিন (১৪ ঘণ্টা) ও সর্বাপেক্ষা ছোট (১০ ঘণ্টা) রাত হয়ে থাকে।
- সূর্যের এই অবস্থানকে সূর্যের উত্তরায়ণ বলে।
- এ সময়ে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকায় দীর্ঘ দিবাভাগ ও অপেক্ষাকৃত কম দীর্ঘ রাত্রি সংঘটিত হয়।
- এ সময়ে সূর্যের কিরণ দীর্ঘ সময় যাবৎ ভূ-পৃষ্ঠ ও তৎসংলগ্ন বায়ুস্তরকে অত্যন্ত উত্তপ্ত করে তোলে।
- ফলে এপ্রিল মাসের প্রথম ভাগ থেকে জুন মাসের শেষ ভাগ পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
- অপরদিকে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে অধিক দূরত্বে অবস্থান করায় সে সময়ে ঐ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
- সূর্য উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা পর্যন্ত লম্বভাবে কিরণ দিতে পারে।
- অতএব ২১ শে জুন ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখায় সূর্যের উত্তরায়ণকে কর্কট সংক্রান্তি বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৮.
আরব মরুভূমিতে প্রবাহিত বায়ুর নাম-
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) খামসিন
  3. গ) সাইমুম
  4. ঘ) সিরোক্কো
সঠিক উত্তর:
গ) সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাইমুম
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে উৎপত্তি হয় স্থানীয় বায়ুর।
• কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ:
- আরব মরুভূমিতে সাইমুম।
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু।
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো।
- মিশরের খামসিন।
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯৯.
গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ফলে কী কী হতে পারে?
  1. ক) মেরু অঞ্চলের বরফ গলবে
  2. খ) কৃষি জমির উর্বরতা বিনষ্ট হবে
  3. গ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে।
যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার ফলে খরা দেখা দিবে। সমুদ্রের পানির কারণে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হবে।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)।
৮০০.
নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে কী ধরনের সমভূমি বলা হয়?
  1. ক) উপকূলীয়
  2. খ) সামুদ্রিক
  3. গ) হিমবাহ
  4. ঘ) ব-দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব-দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব-দ্বীপ
ব্যাখ্যা
নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় ব-দ্বীপ সমভূমি বলা হয়।

• ব-দ্বীপ:

- নদীর গতিপথের সর্বশেষ পর্যায়ে অর্থাৎ সমুদ্রে পতিত হওয়ার পূর্বে নদীর গতি সর্বাধিক মন্থর থাকে এবং পানিতে পলির পরিমাণ থাকে সর্বাধিক। ফলে নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়।
- এ পলি সঞ্চিত হতে হতে বাংলা মাত্রাহীন ‘ব’ এর মতো যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে ব-দ্বীপ বলে
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, পাকিস্তানের সিন্ধু, মিশরের নীল, ব্রহ্মদেশের ইরাবতী, চীনের ইয়াংসি, হোয়াংহো, উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি, ইতালির পো প্রভৃতি নদীর মোহনায় বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।