বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ২০১৩০০ / ১,০৯৬

২০১.
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা কোনটি?
  1. UNOCC
  2. SANDEE
  3. IPCC
  4. IUCN
সঠিক উত্তর:
IPCC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IPCC
ব্যাখ্যা
• IPCC:
→ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা - IPCC.
→ এর পূর্ণরুপ - The Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC).
→ WMO এবং UNEP এর সমন্বয়ে IPCC গঠিত হয়।
→ প্রতিষ্ঠা লাভ করে - ১৯৮৮ সালে।
→ সদর দপ্তর - জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
→ সদস্য সংখ্যা - ১৯৫ টি।
→ নোবেল পুরস্কার লাভ করে - ২০০৭ সালে।

তথ্যসূত্র: IPCC ওয়েবসাইট।
২০২.
কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. বারিপাত
  2. বায়ুর আর্দ্রতা
  3. ভূমির ঢাল
  4. বায়ুর উষ্ণতা
সঠিক উত্তর:
ভূমির ঢাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমির ঢাল
ব্যাখ্যা

• কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
• কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
• কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলোঃ
- বায়ুর উষ্ণতা,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ুর আর্দ্রতা ও
- বারিপাত।

• জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হলোঃ
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বায়ুপ্রবাহ,
- সমুদ্রস্রোত,
- পর্বতের অবস্থান,
- ভূমির ঢাল,
- মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৩.
নিম্নের কোন ধরনের বৃষ্টিপাত সাধারনত দীর্ঘস্থায়ী হয়?
  1. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  2. পরিচলন বৃষ্টি
  3. ঘূর্ণি বৃষ্টি 
  4. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণি বৃষ্টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণি বৃষ্টি 
ব্যাখ্যা

-  ঘূর্ণি বৃষ্টি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

• ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain):

- কোনো অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে।
- শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে।
- জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে।
- ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে।
- এই বৃষ্টিপাত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে এরূপ বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায়, তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে। 

• বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain): 
- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৪.
কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশ অতিক্রম করে -
  1. পূর্ব-পশ্চিম বরাবর
  2. উত্তর- দক্ষিণ বরাবর
  3. দক্ষিণ-পূর্ব বরাবর
  4. উত্তর- পশ্চিম বরাবর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-পশ্চিম বরাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-পশ্চিম বরাবর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু
- বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।
- বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর কর্কটক্রান্তি রেখা চলে গেছে।
-এই জন্য বাংলাদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তিয় মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- এই জলবায়ুর বৈশিষ্ট হচ্ছে ঋতুবৈচিত্র ।
- বাংলাদেশে এপ্রিল উষ্ণতম মাস এবং জানুয়ারি শীতলতম মাস ।
- এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেমি ।
- বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬º সেলসিয়াস ।

- মৌসুমি বায়ূপ্রবাহ , বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে । যথা-
১. গ্রীষ্মকাল,
২. বর্ষাকাল, 
৩. শীতকাল।

তথ্যসূত্র – বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ( নবম দশম শ্রেণি)।
২০৫.
নিচের কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব?
  1. সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
  2. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
- মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
- সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
- রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৬.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যস্থির করা হয়?
  1. ক) ২ ডিগ্রি
  2. খ) ৪ ডিগ্রি
  3. গ) ৩ ডিগ্রি
  4. ঘ) ৫ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
ক) ২ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
• ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হওয়া ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’তে প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় ২১০০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যস্থির করা হয়।
• সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
• এজন্যে উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যে দায়ী কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়।

তথ্যসূত্র:- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।
২০৭.
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় কোন অঞ্চলে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) পটুয়াখালী
  4. ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর:
খ) রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টিপাত সবচেয়ে কম। এখানে ২৫ সেন্টিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২০৮.
ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত কী নামে পরিচিত?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।
স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere)
(ক) এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে। এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪০ সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
(খ) এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
(গ) প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২০৯.
নদীর ক্ষয়কার্য সাধারণত কতটি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• নদীর ক্ষয়কার্য (Erosion of the River):
- নদী তার ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে নানা ধরনের ভূমিরূপ গঠন করে।
- নদীর এ ক্ষয়কার্য রাসায়নিক ও যান্ত্রিক উপায়ে সংঘটিত হয়।
- ক্ষয়কার্য সাধারণত চারটি প্রক্রিয়ার দ্বারা হয়ে থাকে।
- যথা- ১. পানি প্রবাহ ক্ষয়, ২. কর্ষণ, ৩.ঘর্ষণ এবং ৪. দ্রবণ।
২১০.
জলবায়ু সমভাবাপন্ন বা চরমভাবাপন্ন হয় কোন নিয়ামকের প্রভাবে?
  1. অক্ষাংশ
  2. উচ্চতা
  3. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  4. বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র থেকে দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র থেকে দূরত্ব
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব এর প্রভাবে জলবায়ু সমভাবাপন্ন বা চরমভাবাপন্ন হয়। 

সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the sea):

- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানকার জলবায়ু রাজশাহীর তুলনায় বেশ মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার তাপমাত্রায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য হয় না।
- এ ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
- কিন্তু সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই চরম হয়।
- কারণ স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয়, আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়।
- এজন্য গ্রীষ্মকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগের এলাকা অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে, আবার শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়।
- এ ধরনের জলবায়ুকে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২১১.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এদের জলবায়ু ভিন্ন হওয়ার কারণ কী?
  1. উচ্চতা
  2. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. মৃত্তিকার গঠন
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
ব্যাখ্যা
উচ্চতা (Altitude): সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু সম্পন্ন হয়।

- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।


তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২১২.
ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তরকে নিয়মিতভাবে মেঘচিত্র সর্বরাহ করে পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণে সহায়তা করে কোন সংস্থাটি?
  1. ক) স্পারসো
  2. খ) আর্সা
  3. গ) নাসা
  4. ঘ) ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন
সঠিক উত্তর:
ক) স্পারসো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্পারসো
ব্যাখ্যা
মহাকাশ গবেষণার সরকারি প্রতিষ্ঠান স্পারসো ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তরকে নিয়মিতভাবে মেঘচিত্র সর্বরাহ করে পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণে সহায়তা করে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
২১৩.
বায়ুমণ্ডলে আর্গনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. o.০৮%
  2. o.৮০%
  3. o.০০৩%
  4. o.০০১%
সঠিক উত্তর:
o.৮০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
o.৮০%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান:
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত।
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে।

বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও এর শতকরা সংযুক্তি:
১. নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২%,
২. অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১%,
৩. আর্গন ⇒ o.৮০%,
৪. কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩%,
৫. ওজোন ⇒ ০.০০০১%,
৬. অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%,
৭. জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১% এবং
৮. ধূলিকণা ও কনিকা ⇒ ০.০১%।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৪.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কোনটি ঘটে?
  1. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  2. খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
  3. গাছপালা বৃদ্ধি
  4. কল-কারখানা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে  খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ঘটে থাকে। 

জলবাযু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়?
  1. বাম দিকে
  2. পশ্চিম দিকে
  3. পূর্ব দিকে
  4. ডানদিকে
সঠিক উত্তর:
ডানদিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডানদিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

⇒ একটি অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে একটি কেন্দ্রাভিমুখী ঘূর্ণায়মান প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী অর্থাৎ উত্তরাভিমুখী এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সাধারণত কোন প্রকার বৃষ্টিপাত দেখা যায়?
  1. ঘূর্ণি বৃষ্টি
  2. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  3. পরিচলন বৃষ্টি
  4. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
ব্যাখ্যা

◉ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সাধারণত বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain) দেখা যায়, এটি শীতল ও উষ্ণ বায়ুর সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়।  

বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain):

- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়।
- ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।
- এ প্রকার বৃষ্টিপাত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain):
- কোনো অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে। 

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায়, তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে। 

পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠেযায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।

২১৭.
নিরক্ষীয় শান্ত বলয় এর অবস্থান কোনটি?
  1. নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৩° অক্ষাংশ পর্যন্ত
  2. নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশ পর্যন্ত 
  3. নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত 
  4. নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ১৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত 
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত 
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু (The Trade Winds):
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু প্রায় ২২.৫৪ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
- তখন নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত একটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- এ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্ত বলয় (Doldrum) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৮.
কোন ধরনের বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. অয়ন বায়ু 
  2. পশ্চিমা বায়ু 
  3. মেরু বায়ু
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

নিয়ত বায়ু (Planatary Winds):
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা-অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু ।

অয়ন বায়ু (The Trade Wind):
- বিষুবীয় অঞ্চলে সূর্যকিরণ লম্বভাবে পতিত হয় বলে বায়ুর চাপ কম থাকে তাতে বায়ু উপরে উঠে ছড়িয়ে যায়।
- এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়।
- প্রায় ৩০০ অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুকেই বলা হয় অয়ন বায়ু। উত্তর গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু বলা হয়। 

পশ্চিমা বায়ু:
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ৩০০ অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেষে মেরুর দিকে ৬০০ অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত
শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।

মেরু বায়ু:
- মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এদের উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত বায়ুকে সুমেরু বায়ু বা উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু বলা হয়।
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে প্রবাহিত হয় যে বায়ু তাকে বলা হয় কুমেরু বায়ু বা দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু।
- মূলত এভাবেই নিয়ত বায়ু প্রবাহসমূহ বিষুবরেখা ও মেরুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং পৃথিবী উষ্ণ ও শীতল এলাকার মধ্যে তাপের ভারসাম্য রক্ষা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৯.
বায়ুমণ্ডলের উপাদান নয় কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. জলীয় বাষ্প
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (N₂) ও অক্সিজেন (O₂)।
- এই দুটি গ্যাস মিলিয়ে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৭৩ শতাংশ গঠন করে।
- নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, এটি প্রায় ৭৮.০২ শতাংশ।
- অপরদিকে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ, এটি জীবজগৎ শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্বালনির জারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- বায়ুমণ্ডলে এই দুই গ্যাসের ভারসাম্য জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- ফসফরাস বায়ুমণ্ডলের উপাদান নয়।

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ হলো-
• নাইট্রোজেন (৭৮.০২%),
• অক্সিজেন (২০.৭১%),
• আর্গন (০.৮০%),
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড (০.০৩%),
• জলীয় বাষ্প (০.৪১%) ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২০.
পরিচলন বৃষ্টি সাধারণত কোথায় বেশি দেখা যায়?
  1. মেরু অঞ্চল
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চল
  3. মরুভূমি অঞ্চল
  4. তুন্দ্রা অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা

পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- পরিচলন বৃষ্টি সাধারণত নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) বেশি দেখা যায়।
- কারণ, এই অঞ্চলে সূর্যের কিরণ সারাবছর সরাসরি পড়ে এবং জলাভূমির বিস্তৃতি বেশি হওয়ায় বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণও বেশি থাকে।
- দিনের বেলায় সূর্যের তাপে পানি দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে এবং উপরিভাগে থাকা শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে মেঘ তৈরি করে বৃষ্টিতে পরিণত হয়।
- ফলে প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যায় এই অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- এছাড়া, নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলেও গ্রীষ্মের শুরুতে এধরনের বৃষ্টি হতে দেখা যায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।

২২১.
মৌসুমি জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. গ্রীষ্মে শুষ্ক, শীতকালে আর্দ্র
  2. গ্রীষ্মে আর্দ্র, শীতকালে শুষ্ক
  3. সব ঋতুতে সমান তাপমাত্রা
  4. সব ঋতুতে সমান বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মে আর্দ্র, শীতকালে শুষ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মে আর্দ্র, শীতকালে শুষ্ক
ব্যাখ্যা

মৌসুমি জলবায়ু:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু।
- ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপসমূহের দেশগুলো, পূর্ব আফ্রিকা, পূর্ব ব্রাজিল, উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ চীন ও জাপান, থাইল্যান্ড, কম্পুচিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত। এছাড়াও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, লাওস, মালাগাছি দ্বীপও এই জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
- মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অধিক গরম ও শীতকালে শীত পড়ে। জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি গরম ও জানুয়ারি মাসে বেশি শীত পড়ে। গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকাল শুষ্ক এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা গড়ে ২৭° সে. এর বেশি থাকে এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ১০ সে. থেকে ২২° সে. এর মধ্যে থাকে। শীত ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রার পার্থক্য ৫° সে. থেকে ১০° সে. হয়।

- আবার শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তির নিকট অবস্থান করায় সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। উত্তর গোলার্ধের স্থলভাগ শীতল হওয়ার জন্য সেস্থানে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়। উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু দক্ষিণে নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই তাকে বলা হয় উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু এবং স্থলভাগে প্রবাহিত হয় বলে এই বায়ু জলীয়বাষ্পহীন।

- মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত বেশি হয় কিন্তু শীতকাল শুষ্ক থাকে। গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১২৫ সে.মি. থেকে ২০০ সে.মি.। তবে অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাও এই জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায়। কখনো কখনো পর্বতের ঢালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বায়ু উপরে উঠে যায় ফলে বৃষ্টিপাত হয়।

- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়। কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

- এই জলবায়ু অঞ্চলে উর্বর ভূমি ও পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য উপকারী। উর্বর মাটি ও বৃষ্টিপাত, পর্যাপ্ত সূর্যালোক মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে পর্ণমোচী ও চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমির বিস্তার ঘটায়। চিরহরিৎ বৃক্ষের বনাঞ্চলে ২০০ সে.মি এর বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং তৃণভূমি অঞ্চলে ৫° সে.মি থেকে ১০০ সে.মি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২২.
শীতকালে বাংলাদেশের কিছু পাহাড়ি অঞ্চলে অল্প বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রভাবে
  2. সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে
  3. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রভাবে
  4. নিরক্ষীয় বায়ুর প্রভাবে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রভাবে
ব্যাখ্যা
• শীতকালে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু:
- সাধারণত বাংলাদেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
- শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে,
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।


তথ্যসূত্র:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৩.
অয়ন বায়ুর অপর নাম কী?
  1. মেরু বায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. বানিজ্য বায়ু
  4. মৌসুমী বায়ু
সঠিক উত্তর:
বানিজ্য বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানিজ্য বায়ু
ব্যাখ্যা
• অয়ন বায়ু: 
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- নিয়ত বায়ু পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বছরের সকল সময় একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ু তিন প্রকারের। যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৪.
কলকারখানার ধোঁয়া থেকে নির্গত হয়-
  1. ক) মিথেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের প্রধান উৎস কলকারখানা, যানবাহন। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২২৫.
মৌসুমি জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. বায়ুর তাপমাত্রা সব সময় সমান থাকে
  2. বায়ুর চাপ সবসময় স্থির থাকে
  3. কোনো ঋতুতে বৃষ্টি হয় না
  4. ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর প্রবাহ দিক পরিবর্তন হয়
সঠিক উত্তর:
ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর প্রবাহ দিক পরিবর্তন হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর প্রবাহ দিক পরিবর্তন হয়
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ু: 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু। 
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। 
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু। 

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। 
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়, কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৬.
কোন প্রক্রিয়ায় উত্তাপের কারণে পানি জলীয়বাষ্প হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. শৈলোৎক্ষেপ
  2. সাইক্লোনিক
  3. পরিচলন
  4. বায়ুপ্রাচীরজনিত
সঠিক উত্তর:
পরিচলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন
ব্যাখ্যা
- পরিচলন প্রক্রিয়ায় উত্তাপে পানি জলীয়বাষ্প হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এবং সেখানে জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সারাবছরই সকালে অথবা সন্ধ্যায় নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২২৭.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস -
  1. মে
  2. জুন
  3. মার্চ
  4. এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস - এপ্রিল।

গ্রীষ্মকাল:

- বাংলাদেশে মার্চ হতে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল।
- এ ঋতুতে সূর্যের উত্তরায়নের ফলে উত্তাপের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল হতে উত্তরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
- আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু হিসেবে পরিচিত।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস।
- এপ্রিল উষ্ণতম মাস।
- এ মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- এ সময় সমুদ্র উপকূল থেকে দেশের অভ্যন্তরে অর্থাৎ উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে।
- এ সময় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে শুষ্ক ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৮.
পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
  2. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল
  3. মেরু দেশীয় অঞ্চল
  4. পার্বত্য ও উচ্চভূমি অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
জলবায়ু অঞ্চল
- ভূপৃষ্ঠের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলি প্রায় একই প্রকৃতির, ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানের জলবায়ুর প্রধান উপাদানসমূহ এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য; যেমন- উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ, বায়ুর বেগ, মেঘ, বাষ্পীভবন প্রভৃতি প্রায় একই ধরনের, সেইসব স্থানকে একত্রে জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চল ৪ টি।
- সেগুলো হলো:
১. উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল,
২. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল,
৩. মেরু দেশীয় অঞ্চল,
৪. পার্বত্য ও উচ্চভূমি অঞ্চল।

অন্যদিকে, 
- নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 5°-10° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে বিস্তৃত অঞ্চলের জলবায়ুর প্রধান উপাদানগুলির বৈশিষ্ট্য একইরকম হওয়ায় এই অঞ্চলকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- কিন্তু নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল পৃথিবীর ৪টি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস- ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৯.
একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে মোট কত শতাংশ অধিবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে?
  1. ক) প্রায় ৩০ শতাংশ
  2. খ) প্রায় ২০ শতাংশ
  3. গ) প্রায় ১০ শতাংশ
  4. ঘ) প্রায় ৪০ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রায় ২০ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রায় ২০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- প্রায় ২০ শতাংশ। 

জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব
:
- জলবায়ু পরিবর্তন হলো মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলের গঠনগত পরিবর্তন যা নির্দিষ্ট সময়কালে জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন ঘটায় এবং প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ভিন্নতা প্রদর্শন করে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। 
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।
- বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় বলেছেন গ্রীনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। যেমন- রাশিয়া, নরওয়ে, কানাডা, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ইত্যাদি। এই সকল এলাকার জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষযোগ্য হয়ে উঠছে।
- কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র অধিবাসীরা এই গ্রীনহাউসের প্রভাবে নানা রকম দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং বিখ্যাত শহরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাংলাদেশও এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।
- পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩০.
নিরক্ষরেখার অন্তর্গত দেশগুলোতে কোনটি মাটি ক্ষয়ের কারণ?
  1. অধিক বনাঞ্চল
  2. ঊর্ধ্বমুখী বায়ু প্রবাহ
  3. মেরু বায়ু
  4. অধিক তাপ
সঠিক উত্তর:
অধিক তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিক তাপ
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষরেখার অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।
- অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত তহবিলের নাম কি?
  1. ক) Bangladesh Climate Change Resilience Fund
  2. খ) Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
  3. গ) Climate Change Trust Fund
  4. ঘ) National Adaptation Plan
সঠিক উত্তর:
ক) Bangladesh Climate Change Resilience Fund
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Bangladesh Climate Change Resilience Fund
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও অভিযোজন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার “Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), 2009” প্রণয়ন করে এবং নিজস্ব অর্থায়নে ‘জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল’ গঠন করে।
• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় “জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড নীতিমালা” ও “জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইন, ২০১০” প্রণয়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহোযোগীদের সহায়তায় “Bangladesh Climate Change Resilience Fund (BCCRF)” গঠন করা হয়।  

তথ্যসূত্র:- Bangladesh Climate Change Resilience Fund।
২৩২.
আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু কোনটি?
  1. খামসিন
  2. সিরাক্কা
  3. বোরা
  4. সাইমুম
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৩.
বাংলাদেশে বছরের কোন মাসের দিনগুলো সবচেয়ে বড় দিন হয়?
  1. ক) মে
  2. খ) জুন
  3. গ) জুলাই
  4. ঘ) ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জুন
ব্যাখ্যা
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে জুন মাসের দিনগুলো দীর্ঘতম হয়৷
২৩৪.
বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের?
  1. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  2. আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু
  3. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
ব্যাখ্যা

জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থা।
- অর্থাৎ জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল নয়।
- আবহাওয়ার থেকে জলবায়ুর পার্থক্য হলো আবহাওয়া কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- জলবায়ু বলতে কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- বাংলাদেশের ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ জলবায়ুর দেশ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৫.
নিচের কোনগুলো গ্রীনহাউস গ্যাস?
  1. পানি ও তাপ
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
  3. অক্সিজেন ও ধূলিকণা
  4. নাইট্রোজেন ও পানি
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন:
- সাধারণভাবে আবহাওয়ার উপাদানসমূহের দীর্ঘমেয়াদে গড় অবস্থার পরিবর্তনকে বুঝায় জলবায়ু।
- বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- বায়ুমন্ডল হলো গ্রীনহাউস বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদ।
- এবং সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
- মিথেন, ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড  গ্রীনহাউস গ্যাস।
- বায়ুমন্ডলে তাই গ্রীনহাউস গ্যাসের পুরু চাদর তৈরি হয়েছে।
- কারণ এই সব গ্যাস আর ফিরে যেতে পারে না।
- এই তাপ শোষণের মাত্রা যত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা ততই বাড়বে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রীনহাউস প্রভাব। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৬.
বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা - গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল ও শীতকাল।
- বাংলাদেশে মার্চ-মে (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল।
- জুন-অক্টোবর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল এবং
- নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কালকে শীতকাল বলা হয়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
২৩৭.
চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল ও শীতকালে উষ্ণ থাকে-
  1. ক) মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
  2. খ) সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
  3. গ) স্থল বায়ুর প্রভাবে
  4. ঘ) আয়ন বায়ুর প্রভাবে
সঠিক উত্তর:
খ) সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক বায়ু:

- চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল ও শীতকালে উষ্ণ থাকে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
- সামুদ্রিক বায়ু একটি স্থানীয় বায়ু ব্যবস্থা যা দিনের বেলা সমুদ্র থেকে স্থলভাগে প্রবাহ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
- সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় সমুদ্রবায়ুর প্রবাহ বেশি দেখা যায়। 
- সমুদ্রবায়ু জলভাগ থেকে আসে বলে আর্দ্র প্রকৃতির হয়
- সমুদ্র বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সময় সমুদ্রের ওপর উচ্চ চাপ ও স্থলভাগের ওপর নিম্ন চাপ অবস্থান করে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২৩৮.
নেপালের জলবায়ুতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য বিবেচনায় স্পষ্টত কয়টি ঋতু পরিলক্ষিত হয়?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
নেপালের জলবায়ু: 
- নেপালের জলবায়ুতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য বিবেচনায় স্পষ্টত দুটি ঋতু পরিলক্ষিত হয়।
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকে।
- এজন্য এ সময়কালকে বর্ষাকাল হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
- জুলাই মাসে কাঠমন্ডুর তাপমাত্রা থাকে ২৪.৪ ডিগ্রি সে.।
- অন্যদিকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় অত্যন্ত শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে।
- এ সময় তাপমাত্রাও বেশ কম থাকে বলে একে শীতকাল হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
- জানুয়ারিতে কাঠমন্ডুর তাপমাত্রা থাকে প্রায় ১০ ডিগ্রি সে.।
- উঁচু পার্বত্য এলাকা হওয়ায় নেপালের কোনো অংশের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় না এবং শীত-গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্যও খুব বেশি অনুভূত হয় না।
- নেপালের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৪৫ সে.মি. যার প্রায় পুরোটাই সংঘটিত হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩৯.
বাংলাদেশে প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. ক) বেতবুনিয়া
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) মহাখালী
  4. ঘ) তালিবাবাদ
সঠিক উত্তর:
ক) বেতবুনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেতবুনিয়া
ব্যাখ্যা
• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী
- সিলেট
- বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
২৪০.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে সমুদ্র স্রোত কোন দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়?
  1. বাম দিকে
  2. ডান দিকে
  3. সরলরেখায়
  4. উল্লম্বভাবে
সঠিক উত্তর:
ডান দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডান দিকে
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয।
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

⇒ একটি অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে একটি কেন্দ্রাভিমুখী ঘূর্ণায়মান প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী অর্থাৎ উত্তরাভিমুখী এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪১.
নিয়ত বায়ু কয় প্রকারের?
  1. ২ প্রকারের
  2. ৩ প্রকারের
  3. ৪ প্রকারের
  4. ৫ প্রকারের
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকারের
ব্যাখ্যা
চাপ বলয় (Pressure Belts):
- ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অক্ষাংশের তাপের পার্থক্য এবং গোলাকার পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুমণ্ডলে কয়েকটি চাপমন্ডলের সৃষ্টি হয়:
(১) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
(২) ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়,
(৩) উপ-মেরুবৃত্তের নিম্নচাপ বলয় এবং
(৪) মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয়।

নিয়ত বায়ু (Planetary Winds): 
- নিয়ত বায়ু পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বছরের সকল সময় একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ু তিন প্রকারের। যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২৪২.
চা চাষের উপযোগী তাপমাত্রা হচ্ছে -
  1. ৬° থেকে ৭° সেলসিয়াস
  2. ১৬° থেকে ১৭° সেলসিয়াস
  3. ২৬° থেকে ২৭° সেলসিয়াস
  4. ২০° থেকে ৩৭° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
১৬° থেকে ১৭° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬° থেকে ১৭° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
চা (Tea):
- অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত চা-এর কিছু অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়।
- চা চাষের জন্য ছায়া প্রয়োজন তাই বাগানের মাঝে মাঝে ছায়াবৃক্ষ রয়েছে।
- বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়াও চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ করা হয়।

নিয়ামক :
- তাপমাত্রা: চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। ১৬° থেকে ১৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা চা চাষের উপযোগী।
- বৃষ্টিপাত: চা চাষের জন্য ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
- মৃত্তিকা: উর্বর লৌহ ও জৈব পদার্থ মিশ্রিত দোঁআশ মাটিতে চা চাষ ভালো হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৩.
‘সেফ অপারেটিং স্পেস’ বা নিরাপদ পানি সীমা বলতে কী বোঝায়?
  1. পরিবেশের জন্য নিরাপদ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার সীমা
  2. পানির মাত্রা যেখানে বন্যার ঝুঁকি থাকে না
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ সীমা
  4. একটি নির্দিষ্ট নদীর পানি প্রবাহের ন্যূনতম পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট নদীর পানি প্রবাহের ন্যূনতম পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি নির্দিষ্ট নদীর পানি প্রবাহের ন্যূনতম পরিমাণ
ব্যাখ্যা
সেফ অপারেটিং স্পেস (এসওএস) বা নিরাপদ পানি সীমা: 
- একটি নির্দিষ্ট নদীর পানি প্রবাহের ন্যূনতম পরিমাণ, যা পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
- এটি এমন একটি মানদণ্ড, যা নির্ধারণ করে নদীটির দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পানির স্তর নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা।
- আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘আইওপি সায়েন্স’এ ‘আ সেইফ অপারেটিং স্পেস ফর দ্য মেজর রিভার্স ইন দ্য বাংলাদেশ ডেল্টা’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

ন্যূনতম পানির ভিত্তিতে নদীগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে:

নিরাপদ (Safe): যেসব নদী ন্যূনতম পানি প্রবাহ বজায় রাখতে সক্ষম।
সতর্কতা (Cautious): যেসব নদীতে ন্যূনতম পানি প্রবাহ রয়েছে, কিন্তু পানির প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন (২০% বা তার বেশি) ঘটেছে।
বিপজ্জনক (Dangerous): যেসব নদী ন্যূনতম পানি প্রবাহও পাচ্ছে না।

বাংলাদেশের ১০টি প্রধান নদীর মধ্যে:
বিপজ্জনক: গঙ্গা, গড়াই, হালদা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র।
সতর্কতা: যমুনা, তিস্তা, আত্রাই, সুরমা, কুশিয়ারা, ইছামতী।
নিরাপদ: কোনো নদী এই ক্যাটাগরিতে নেই।

- এই গবেষণা বাংলাদেশের নদীগুলোর পরিবেশগত সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরে।

উৎস: বিবিসি বাংলা [২৫ নভেম্বর ২০২৪]
২৪৪.
এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) হাইল হাওড়
  2. খ) হাকালুকি
  3. গ) চলনবিল
  4. ঘ) হালদা নদী
সঠিক উত্তর:
ঘ) হালদা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হালদা নদী
ব্যাখ্যা
• হালদা নদী:
- হালদা নদী বাংলাদেশের পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার একটি নদী। 
- বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো হালদা নদী।
- ডিম ছাড়ার বিশেষ সময়কে তিথি বলা হয়ে থাকে।
- ডিম ছাড়ার তিথির পূর্বেই স্থানীয় জেলে এবং ডিম সংগ্রহকারীরা নদীতে অবস্থান নেন এবং ডিম সংগ্রহ করেন।
- সংগৃহীত ডিমগুলি ফোটানোর জন্য নদীর তীরে কৃত্রিম ছোট মাটির কুয়ায় নেয়া হয় এবং কার্প পোনা উৎপাদন করা হয়।
- এটি একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সরকার হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।

উৎস: মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট ও হাটহাজারী উপজেলা ওয়েবসাইট।
২৪৫.
সৌরপর্দা বলা হয় কোন স্তরকে?
  1. ওজোন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হিলিয়াম
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ওজোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজোন
ব্যাখ্যা

• সৌরপর্দা বলা হয় ওজোনস্তরকে।

ওজোনস্তর:

- স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (Ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত।
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে।
- জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর।
- তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 

- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। 
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
 - স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 
স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৪৬.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী কোনটি বায়ুপ্রবাহের দিক?
  1. উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  4. দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে ও উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
ব্যাখ্যা
⇒ কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের এই শক্তিকেই বলা হয় কোরিওলিস প্রভাব/শক্তি।
- গোলার্ধভিত্তিক এই পরিবর্তন কোনো প্রবাহিত চলমান বস্তুর উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাব বলে অনুমান করা যায়।
- এই দিক পরিবর্তনকারী শক্তি -
১. বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে যা সর্বদা লম্বভাবে ক্রিয়া করে।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিসের প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

⇒ পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয।
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৭.
কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) চুনাপাথর
  3. গ) গ্রানাইট
  4. ঘ) ল্যাকোলিথ
সঠিক উত্তর:
খ) চুনাপাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা।
- এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
- পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পাললিক শিলার উদাহরণ: চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।
- অপরদিকে, গ্রানাইট ও ল্যাকোলিথ আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
- গ্রাফাইট রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৮.
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্রভাব নিচের কোন দেশে সাফল্য বয়ে আনবে?
  1. মালদ্বীপ
  2. নরওয়ে
  3. বাংলাদেশ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
নরওয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরওয়ে
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশে যথা-কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ আমেরিকা প্রভৃতি দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
- এ কারণে ঐসব অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
- অন্যদিকে দুর্ভোগ বাড়বে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার দরিদ্র অধিবাসীদের।
- কারণ গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বিখ্যাত শহর হবে ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৪৯.
এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে?
  1. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
  3. গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কমায়
  4. ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা

◉ এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।

- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কমানোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক এল নিনোর সাথে পাওয়া যায় না।
- এল নিনো সাধারণত বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ায় না, বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি ঘূর্ণিঝড়ের ফ্রিকোয়েন্সি বা তীব্রতা কমাতে পারে। - এল নিনো সাধারণত শীতকালীন তাপমাত্রার উপর সরাসরি বা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। 
- এর প্রভাব বেশি দেখা যায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত এবং সামগ্রিক জলবায়ু প্যাটার্নে। 
- শীতকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এল নিনোর সাথে সরাসরি যুক্ত নয় এই অঞ্চলে।
 
• এল নিনো:

- এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি জলবায়ু ঘটনা,
- যা বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। 
- বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব নিম্নরূপে বিশ্লেষণ করা যায়:
- এল নিনোর সময় উষ্ণ সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড় গঠনের জন্য অনুকূল পরিবেশ কমিয়ে দেয়। 
- তবে, এটি সম্পূর্ণরূপে ঘূর্ণিঝড় বন্ধ করে না; শুধু তাদের ধরন বা সময় পরিবর্তন করতে পারে।
∴ সুতরাং সঠিত উত্তর  বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এবং NOAA ওয়েবসাইট।

২৫০.
জুলাই মাসে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণ -
  1. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে
  2. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে জলীয়বাষ্প কম থাকে
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- সুতরাং ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- বায়ুর এ রূপ উৎপত্তির কারণ পানি এবং জলের উষ্ণতার তারতম্য।
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক তাপের জন্য উত্তর গোলার্ধের কোন স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের তাপ কম বলে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়।
- তখন দক্ষিণের উচ্চ চাপ অঞ্চল হতে বায়ু উত্তরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে।
- কিন্তু শীতকালে এর বিপরীত অবস্থা ঘটে।
- শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।
- অর্থাৎ ঋতুভেদে বায়ুচাপের পরিবর্তন দেখা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

⇒ বর্ষাকাল:
- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালেও অধিক সূর্যতাপ থাকার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- তবে আকাশে মেঘ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা উপলব্ধি করা যায় না।
- বর্ষাকালে অধিক জলীয়বাষ্পের কারণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়।
- বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫১.
বাংলাদেশে শীতকাল হলে অস্ট্রেলিয়ায় কোন ঋতু বিরাজ করবে?
  1. শরৎকাল
  2. গ্রীষ্মকাল
  3. বসন্তকাল
  4. শীতকাল
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মকাল
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে  ঋতু:
- উত্তর গোলার্ধে  গ্রীষ্মকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
- উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
- উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।

⇒ সূর্যের উত্তরায়ণের ফলে ২১শে জুনের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে মোট তিন মাস উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
⇒ যেহেতু বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত এবং অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত তাই বাংলাদেশে শীতকাল হলে অস্ট্রেলিয়া গ্রীষ্মকাল বিরাজ করবে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
২৫২.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. পাথর ও ইট
  2. বালি ও কাদা
  3. চুনাপাথর ও গ্রানাইট
  4. শেল ও কর্দম
সঠিক উত্তর:
শেল ও কর্দম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেল ও কর্দম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৩.
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কত মিটারের মধ্যে নিচু আকাশের মেঘ গঠিত হয়?
  1. ক) ৩,০০০ মিটার
  2. খ) ২,০০০ মিটার
  3. গ) ৬,০০০ মিটার
  4. ঘ) ৫,০০০ মিটার
সঠিক উত্তর:
খ) ২,০০০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২,০০০ মিটার
ব্যাখ্যা
মেঘের প্রকারভেদ (Types of Couds) : 
উচ্চতা অনুসারে মেঘকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা:
ক. উঁচু মেঘ
খ. মধ্যম উঁচু মেঘ এবং
গ. নিচু মেঘ ।

ক. উঁচু মেঘ (High Cloud) : উঁচু মেঘের উচ্চতা সাধারণত ৬,০০০ মিটার হতে ১২,০০০ মিটার ।
খ. মধ্যম উঁচু মেঘ (Medium High Cloud) : এ মেঘ ২,০০০ হতে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় উৎপন্ন হয়। 
গ. নিচু আকাশের মেঘ (Low Colud) : ভূ-পৃষ্ঠের নিকটবর্তী অঞ্চলে ২,০০০ মিটারের মধ্যে এ জাতীয় মেঘ গঠিত হয়। এটি অপেক্ষাকৃত ভারী বলে আকাশের নিচে ভেসে বেড়ায় ।
 
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৫৪.
সাময়িক বায়ুর অন্তর্গত কোনটি?
  1. ক) মৌসুমী বায়ু
  2. খ) সমুদ্র বায়ু
  3. গ) স্থলবায়ু
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
মৌসুমী বায়ু, সমুদ্র বায়ু, স্থলবায়ু, পার্বত্য বায়ু এবং উপত্যকা বায়ু সাময়িক বায়ুর অন্তর্গত। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২৫৫.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃত?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  4. মধ্যবর্তী অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিবহুল অঞ্চল:
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
- সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায়
- বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর- পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৬.
পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা কোন স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে?
  1. Thermosphere
  2. Troposphere
  3. Exosphere
  4. Mesosphere
সঠিক উত্তর:
Thermosphere
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Thermosphere
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহ:
- ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমন্ডল বলে।
- বায়ুমন্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।

⇒ বায়ুমন্ডলের এই স্তরসমূহ হলো: ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।

• তাপমন্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে।
- তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়।
- এই জন্য একে আয়নমন্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়।
- পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে।
- এই স্তরে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০° সেলসিয়াসে এসে পৌঁছায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৭.
নিচের কোনটি নিম্ন উচ্চতার মেঘ?
  1. ক) স্ট্রেটাস
  2. খ) সিরোকিউম্যুলাস
  3. গ) নিম্বোস্ট্রেটাস
  4. ঘ) সিরাস
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেটাস
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
২৫৮.
প্রকৃতি অনুযায়ী অভিবাসনকে কয় ভাগে বিভক্ত করা হয়?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগে
ব্যাখ্যা
• অভিবাসন:
- প্রকৃতি অনুযায়ী অভিবাসনকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. অবাধ অভিবাসন:
- নিজের ইচ্ছায় বাসস্থান ত্যাগ করে আপন পছন্দমতো স্থানে বসবাস করাকে অবাধ অভিবাসন বলে।
২. বলপূর্বক অভিবাসন:
- প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক চাপের মুখে কিংবা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টির ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে যে অভিগমন করে তাকে বলপূর্বক অভিবাসন বলে।

• অভিবাসনের কারণসমূহ:
- মানুষ প্রাকৃতিক,
- অর্থনৈতিক,
- রাজনৈতিক ও
- সামাজিক।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৯.
অতিরিক্ত লবণাক্ততার প্রভাব কোনটি?
  1. শহরে বনাঞ্চল বৃদ্ধি
  2. মাছ চাষ বৃদ্ধি
  3. কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
  4. শহরে অভিগমন
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
ব্যাখ্যা
লবণাক্ততা (Salinity):
- লবণাক্ততা বলতে মাটি ও পানিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বুঝায়।
- সাধারণত লবণাক্ততার মাত্রা পরিমাপ করা হয় Parts Per Thousand বা পিপিটি (PPT) দ্বারা।
সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততার গড় মাত্রা ৩৫পিপিটি অর্থাৎ ১ কিলোগ্রাম পানিতে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ থাকে।

⇒ লবণাক্ততার প্রভাব -
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া;
২. সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া;
৩. উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি;
৪. সম্পদহানি ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি;
৫. বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া;
৬. ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি;
৭. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস;
৮. গাছপালায় মড়ক লাগা ও ফসলের গোড়া পচে যাওয়া;
৯. সামাজিক বন্ধনে শিথিল হওয়া প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
নিচের কোনটি বায়ুর চাপ নির্ধারণকারী রেখা নির্দেশ করে?
  1. আইসোহাইট রেখা
  2. আইসোবার রেখা
  3. আইসোথার্ম রেখা
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আইসোবার রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার রেখা
ব্যাখ্যা
♣ সমচাপ রেখা (Isober Line):
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের বায়ুর চাপ নির্ধারণ করে যখন মানচিত্রে প্রকাশ করা হয় তাকে সমচাপ রেখা মানচিত্র এবং রেখাসমূহকে সমচাপ রেখা বলে। 

সমতাপ রেখা (Isotherm line): 
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থান বা দেশের সমান বায়ুতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহকে মানচিত্রের উপর সাবলীল বক্ররেখা দ্বারা সংযুক্ত করে যে মানচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে সমতাপ রেখা মানচিত্র বলে এবং সমান রেখাসমূহকে বলা হয় সমতাপ রেখা।

♣ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet Line): 
ভূ-পৃষ্ঠের একই পরিমাণ বৃষ্টিপাত বিশিষ্ট স্থানসমূহকে যখন মানচিত্রে রেখা দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তখন তাকে বলা হয় সমবর্ষণ রেখা এবং যে মানচিত্রে এ রেখাগুলো দেখানো হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা মানচিত্র বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬১.
IPCC এর তথ্য অনুসারে, এশিয়ায় পানির স্বল্পতার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে কত কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
  1. প্রায় ১ কোটি
  2. প্রায় ১০ কোটি
  3. প্রায় ৫০ কোটি
  4. প্রায় ১০০ কোটি
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০০ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০০ কোটি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় -১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC)-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৬২.
বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কোন সময় প্রবাহিত হয়?
  1. জুন থেকে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর 
  2. মার্চ থেকে মে/এপ্রিল 
  3. নভেম্বর থেকে জানুয়ারি
  4. ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি 
সঠিক উত্তর:
জুন থেকে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুন থেকে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর 
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু: 
- বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত সমভাবাপন্ন।
- বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নির্ধারিত হয়।
- বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু জুন-সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে প্রবাহিত হয়।
- এই সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বায়ু নিয়ে আসে।
- সেই বায়ু দেশে প্রবেশ করলে বৃষ্টি হয় এবং জলবায়ু শীতল ও আর্দ্র অনুভূত হয়।
- মৌসুমি বায়ুটি মূলত সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত বয়ে আনে।
- শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বয়ে আনে শুষ্ক এবং আরামদায়ক পরিবেশ। 

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু (Tropical Monsoon Climate) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
- বাংলাদেশট কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থিত।
- এখানে প্রধানত তিনটি ঋতু দেখা যায়:
• গ্রীষ্মকাল (মার্চ-জুন),
• বর্ষাকাল (জুন-অক্টোবর),
• এবং শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি)।
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষত সিলেট এলাকায় সবচেয়ে বেশী বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৬৩.
কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত খরার ধরন কোনটি?
  1. ভূমিকম্পজনিত
  2. আবহাওয়াজনিত
  3. জ্যোতিষ্ক
  4. বন্যাপ্রবণ
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়াজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়াজনিত
ব্যাখ্যা

→ খরা ও  কৃষি:
- কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত খরা প্রধানত চার ধরনের হয়:
• আবহাওয়াজনিত;
• কৃষিজ;
• জলতাত্ত্বিক;
• সামাজিক-অর্থনৈতিক।
- এই ধরণের খরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে রূপান্তরিত হতে পারে।
- সাধারণভাবে, আবহাওয়াজনিত খরা প্রথমে শুরু হয়, পরে কৃষিজ ও জলতাত্ত্বিক খরা সৃষ্টি হয় এবং সবশেষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব দেখা দেয়।
- উদাহরণস্বরূপ, বৃষ্টি কমলে আবহাওয়াজনিত খরা শুরু হয়, যা পরে কৃষি এবং জলসম্পদকে প্রভাবিত করে। 

উল্লেখ্য,
• আবহাওয়াজনিত খরার কারণ হলো:
- নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে কম বৃষ্টি হওয়া, যা শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া তৈরি করে;
- এবং অন্যান্য খরার সূচনাকারী কারণ হিসেবে কাজ করে।

• কৃষিজ খরা হয়:
- মাটির আর্দ্রতার অভাবে, যা ফসলের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত জল সরবরাহে বাধা দেয়;
- ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায় এবং খাদ্য নিরাপত্তা প্রভাবিত হয়।

• জলতাত্ত্বিক খরা হয়:
- দীর্ঘমেয়াদী বৃষ্টিপাতের অভাবে;
- নদী, হ্রদ, জলাধার ও ভূগর্ভস্থ জলস্তরের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণেও হয়;
- এর ফলে সেচ, পানীয় জল এবং শিল্পে সংকট সৃষ্টি হয়।

• সামাজিক-অর্থনৈতিক খরা জল সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়;
- এর ফলে খাদ্য ও জলের দাম বৃদ্ধি পায়, কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি হয় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

উৎস:
1.Britannica;
2. বাংলাপিডিয়া।

২৬৪.
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় কত অংশ সংঘটিত হয়?
  1. ক) এক-পঞ্চমাংশ
  2. খ) এক-চর্তুথাংশ
  3. গ) এক- তৃতীয়াংশ
  4. ঘ) এক-দশমাংশ
সঠিক উত্তর:
ক) এক-পঞ্চমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় এবং টর্নেডো অন্যতম। কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 
• সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যাওয়ায় একে কালবৈশাখী ঝড় বলে। 
• মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এ ঝড়ই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। 
• এ সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়। অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে। দেশের পূর্বাঞ্চলে এ ঝড় অধিক হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৬৫.
নিচের কোন উপাদানটি বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে কম?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. ধূলিকণা ও কনিকা
  3. জলীয়বাষ্প
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
ধূলিকণা ও কনিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূলিকণা ও কনিকা
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল:
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যার পরিমাণ ৭৮.০২%।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যার পরিমাণ ০.০১%।
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, সেই আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলা হয়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডল এর প্রধান উপাদান দুটি-
- নাইট্রোজেন ও
- অক্সিজেন।

• উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন: ৭৮.০২ শতাংশ।
- অক্সিজেন: ২০.৭১ শতাংশ।
- আর্গন: ০.৮০ শতাংশ।
- জলীয়বাষ্প: ০.৪১ শতাংশ।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: ০.০৩ শতাংশ।
- অন্যান্য গ্যাস: ০.০২ শতাংশ।
- ধূলিকণা ও কণিকা: ০.০১ শতাংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।

২৬৬.
নিম্নের কোনটি গ্রিন হাউজ গ্যাস নয়?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. নাইট্রাস অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

’নাইট্রোজেন’ গ্রিন হাউজ গ্যাস নয়।

গ্রিন হাউস:
- গ্রিন হাউস হচ্ছে এক ধরনের কাচের ঘর।
- নির্দিষ্ট মাত্রায় তাপ ধরে রেখে বা সৃষ্টি করে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও শাকসবজি জন্মাবার জন্যেই এটা তৈরি করা হয়।
- প্রধানত শীতপ্রধান দেশে এবং ইদানিং মরুময় তেল প্রধান দেশে এ ধরনের ঘর তৈরি করা হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাধা সৃষ্টি করে বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো: কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরো ফ্লরো কার্বন।
- ‘গ্রিন হাউস ইফেক্ট' কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন সুইডিস রসায়নবিদ সোভানটে আরহেনিয়াস।

⇒ গ্রিন হাউস ইফেক্ট:
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস ইফেক্ট বলে।
- গ্রিন হাউস ইফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো: কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন।
- বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের ক্রমাগত বৃদ্ধি বৈশ্বিক পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে এবং বিশ্ব উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করছে।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পরিবেশের যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তাকে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া বলে।
- গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ায় কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে।
- ফলশ্রুতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- এছাড়াও গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ায় কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী থেকে বহুপ্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৭.
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিতে বায়ু প্রথমে কী হয়?
  1. পর্বতের ঢাল বেয়ে নিচে নামে
  2. সমান্তরালে প্রবাহিত হয়
  3. পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরে উঠে
  4. শীতল হয়ে থেমে যায়
সঠিক উত্তর:
পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরে উঠে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরে উঠে
ব্যাখ্যা

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে।
- ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৮.
ওজোন রক্ষায় স্বাক্ষরিত চুক্তি কোনটি?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. কার্টাগেনা প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- এটি হলো বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তর রক্ষা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বা প্রটোকল, যার পুরো নাম Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer।
- ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, কানাডার মন্ট্রিলে প্রটোকলটি গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি। 
- মন্ট্রিল প্রটোকলের লক্ষ্য হলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন স্তরের ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।
- প্রাথমিকভাবে, প্রটোকলটিতে ৪৬টি দেশ স্বাক্ষর করে, এই চুক্তিতে এখন পর্যন্ত বর্তমানে দুইশর কাছাকাছি দেশ এই প্রোটোকলের সাথে চুক্তিবদ্ধ আছে।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট মন্ট্রিল প্রটোকল অনুস্বাক্ষর করে।
এছাড়া, 
- কিয়োটো প্রটোকল একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের উপস্থিতি হ্রাস করা সম্পর্কিত।
- জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তি কার্টাগেনা প্রটোকল।
- নাগোয়া প্রটোকল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক।

উৎস: এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা। [লিঙ্ক]
২৬৯.
মেরুজ্যোতি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায় ?
  1. এক্সোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই স্তরের বাতাস অত্যন্ত হালকা ও ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডল নিচের দিক থেকে আয়নোস্ফিয়ার, এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নামক তিনটি স্তরে বিভক্ত।
- তাপমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে মেরুজ্যোতি(Aurora) তৈরি হয়।
- পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় রাতের আকাশে মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
- আয়নোস্ফিয়ারে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।

উল্লেখ্য,
বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটানিকা।
২৭০.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল অধিক খরা প্রবণ?
  1. উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
  3. দক্ষিন-পূর্ব অঞ্চল
  4. দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
ব্যাখ্যা

• খরা প্রবণ অঞ্চল:
- খরা দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ গরমের সময় রাজশাহী এবং বিশেষ করে নাটোর জেলার লালপুরে তাপমাত্রা ৪৫° সেন্টিগ্রেড বা তারও বেশি হয়। 
- আর শীতকালে দিনাজপুর ও রংপুরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা এমনকি ৫° সেন্টিগ্রেডেরও নিচে নেমে যায়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২৭১.
বিশ্বব্যাংক এর মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য  ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটি?
  1. মরুকরণ
  2. ঝড়
  3. খরা
  4. বন্যা
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক এর মতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ - খরা।

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। ’আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।

• ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে: 
যথা-
→ বন্যা,
→ ঝড়,
→ মরুকরণ,
→ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
→ কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭২.
বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে কোন ধরনের বন্যার প্রকোপ বেশি?
  1. ক) আকস্মিক বন্যা
  2. খ) নদীসৃষ্ট বন্যা
  3. গ) উপকূলীয় বন্যা
  4. ঘ) বৃষ্টিজনিত বন্যা
সঠিক উত্তর:
ক) আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
২৭৩.
বাংলাদেশে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয়-
  1. নিরক্ষীয় নিম্ন ও উচ্চচাপ বলয়ের জন্য
  2. চাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য
  3. তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য
  4. বায়ুর গতিপথে পর্বতের অবস্থানের জন্য
সঠিক উত্তর:
তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয় তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য।

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু:
- উপকূল এলাকায় সকালের সূর্যতাপ স্থানীয় ভূমির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে।
- এসময় সমুদ্রের কাছের শীতল বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় যাকে বলা হয় সমুদ্রবায়ু।
- সূর্যাস্তের পর সমুদ্রের চেয়ে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়। এ সময় স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- স্থলভাগের এই উচ্চচাপ থেকে তখন বায়ু সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় স্থলবায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৪.
জলবায়ু পরিবর্তনের মানবসৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি 
  3. পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
  4. মহাদেশীয় ড্রিফট
সঠিক উত্তর:
বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণসমূহ ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
১. প্রাকৃতিক কারণসমূহ
২. মনুষ্য সৃষ্ট কারণসমূহ

প্রাকৃতিক কারণসমূহ:
ক. মহাদেশীয় ড্রিফট
খ. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
গ. পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
ঘ. সামুদ্রিক স্রোত
ঙ. ঘূর্ণিঝড়

মনুষ্য সৃষ্ট কারণসমূহ:
ক. কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি /কার্বন নিঃসরণ 
খ. খনিজ জ্বালানি ব্যবহার 
গ. বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি 
ঘ. পাহাড় নিধন 
ঙ. বন্যভূমি উজাড়

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৭৫.
জলবায়ুর তথ্য সাধারণত কত বছরের গড় আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়?
  1. ১০-১৫ বছর
  2. ২০-২৫ বছর
  3. ৩০-৪০ বছর
  4. ৫০-৬০ বছর
সঠিক উত্তর:
৩০-৪০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০-৪০ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু:
- কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান বলতে তার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশভিত্তিক অবস্থানকে বোঝায়।
- বাংলাদেশ ৮৮° ০১′ থেকে ৯২° ৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- তাই বাংলাদেশ ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ জলবায়ুর দেশ।
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলসীমান্ত ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।

জলবায়ু ও আবহাওয়া:
- জলবায়ু বলতে কোনো অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের গড় আবহাওয়া বোঝায়, সাধারণত এটি ৩০ থেকে ৪০ বছরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
- অন্যদিকে, আবহাওয়া হলো স্বল্পমেয়াদি বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিবর্তনশীল হতে পারে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
নিচের কোনটি বিষমমন্ডল এর অন্তর্ভূক্ত?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. এক্সোমন্ডল
  4. মেসোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস:
- ট্রপোমন্ডল।
- স্ট্রাটোমন্ডল।
- মেসোমন্ডল।
• প্রথম ৩ টি স্তর সমমন্ডলের অন্তর্ভূক্ত।
- তাপমন্ডল।
- এক্সোমন্ডল।
• পরবর্তী ২ টি স্তর বিষমমন্ডলের  অন্তর্ভূক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৭৭.
চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীর জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. নিয়তভাবাপন্ন
  2. ক্রান্তীয়ভাবাপন্ন
  3. চরমভাবাপন্ন
  4. মৃদুভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
• মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

• অন্যদিকে -
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
কোন নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে তাকে কী বায়ু বলে?
  1. পরিপৃক্ত বায়ু
  2. শুষ্ক বায়ু
  3. আর্দ্র বায়ু
  4. অসম্পৃক্ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
পরিপৃক্ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপৃক্ত বায়ু
ব্যাখ্যা
- কোন নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে বায়ু আর জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। তখন এই বায়ুতে পরিপৃক্ত বা সম্পৃক্ত বায়ু বলে।
- যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না তাকে শুষ্ক বায়ু বলে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুকে আর্দ্র বায়ু বলা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২৭৯.
ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO) মতে, বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণায়ন হচ্ছে কোন মহাদেশ বা অঞ্চল? [অক্টোবর,২০২৫]
  1. আফ্রিকা মহাদেশ
  2. এশিয়া মহাদেশ
  3. ইউরোপ মহাদেশ
  4. দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ
সঠিক উত্তর:
এশিয়া মহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এশিয়া মহাদেশ
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে এশিয়া মহাদেশ বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ উষ্ণ হচ্ছে।
- ২০২৪ সাল ছিল এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ অথবা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর।
- এ সময়ে দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহ এবং ভয়াবহ সমুদ্র তাপমাত্রার কারণে এ অঞ্চলের অর্থনীতি, বাস্তুতন্ত্র ও সমাজে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
- এশিয়ায় ভূমির পরিমাণ বিশাল এবং তা আর্কটিক পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হারও বেশি।
- স্থলভাগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সাধারণত সমুদ্রের চেয়ে বেশি হয়, ফলে মহাদেশটি দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে।
- ২০২৪ সালে এশিয়ার সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা ছিল রেকর্ড পরিমাণ।
- এ সময় সমুদ্রপৃষ্ঠ প্রতি দশকে ০.২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।
- বিশেষ করে উত্তর ভারত মহাসাগর ও পূর্ব চীন সাগরসহ সমুদ্রের বিস্তীর্ণ অংশে এই উষ্ণতা লক্ষ করা গেছে।
- এতে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড মেটোরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন।[লিঙ্ক]

২৮০.
গ্রীনহাউস গ্যাস কোনগুলো?
  1. নাইট্রোজেন ও পানি
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
  3. পানি ও তাপ
  4. অক্সিজেন ও ধূলিকণা
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
ব্যাখ্যা
গ্রীনহাউস গ্যাস:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warning) এর হার বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- আমরা জানি, যে বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এ ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রীনহাউস বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদ এবং সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
- মানুষ যখন গাছ-পালা কেটে, কাঠ-কয়লা পুড়িয়ে, কারখানার ধোঁয়া ইত্যাদির দ্বারা মিথেন, ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস তৈরি করছে তখন তাকে বলা হয় গ্রীনহাউস গ্যাস।
- বায়ুমন্ডলে তাই গ্রীনহাউস গ্যাসের পুরু চাদর তৈরি হয়েছে কারণ এই সব গ্যাস আর ফিরে যেতে পারে না।
- এই তাপ শোষণের মাত্রা যত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা ততই বাড়বে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রীনহাউস প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮১.
পরিচলন বৃষ্টি (Conventional Rainfall) বেশি হয় কোন অঞ্চলে?
  1. শীতপ্রধান অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• পরিচলন বৃষ্টিপাত (Conventional Rainfall):
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে
মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত।
- পরিচলন বৃষ্টিতে বায়ুর তাপ হ্রাস পেয়ে যখন অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় তখন এ ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।

উল্লেখ্য: 
- নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়।
- এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই বিকেলে ও সন্ধ্যায় এ ধরনের বৃষ্টি হয়।
- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮২.
বাংলাদেশের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় কখন?
  1. ক) শীতকালে
  2. খ) গ্রীষ্মকালে
  3. গ) বর্ষাকালে
  4. ঘ) সবগুলোতে
সঠিক উত্তর:
ক) শীতকালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শীতকালে
ব্যাখ্যা
উত্তর-পূর্ব দিকে থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে এবং এসময় বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২৮৩.
আমাজন বেসিনের ক্রান্তীয় অতিবৃষ্টি বনাঞ্চল (Tropical Rainforest) কী নামে পরিচিত?
  1. Savanna
  2. Prairies
  3. Selvas
  4. Pampas
সঠিক উত্তর:
Selvas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Selvas
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য - ৬৪০০ কি.মি।
- এটি দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- আমাজন নদী ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর অংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এই নদীটি পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- আমাজন বেসিনের ক্রান্তীয় অতিবৃষ্টি বনাঞ্চল স্থানীয়দের কাছে "Selvas" নামে পরিচিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা & Center for International Earth Science Information Network.
২৮৪.
মরু এলাকায় কীসের দ্বারা সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষয়ীভবন হয়ে থাকে?
  1. বৃষ্টিপাতের
  2. সূর্যরশ্মি
  3. বায়ুপ্রবাহের
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহের
ব্যাখ্যা
• ক্ষয়ীভবন:
- ভূ-ত্বকের উপরের শিলারাশি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে অবিরত ক্ষয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্ষয়জাত পদার্থ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবাহিত ও স্থানান্তরিত হয়। এভাবে প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ভূ-ত্বকের শিলারাশির ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে।
- সূর্যরশ্মি, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি ক্ষয়ীভবনের প্রাকৃতিক নিয়ামক।

• বায়ুপ্রবাহ:
- মরু এলাকায় বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সর্বাধিক ক্ষয়ীভবন হয়।
- মরুভূমিতে গাছপালা না থাকায় মৃত্তিকা ও শিলারাশির দৃঢ়তা খুবই কম। যার দরুণ ভূ-ত্বকের উপরিভাগ থেকে শিলারাশি ও মৃত্তিকা বায়ুর সাথে অন্যত্র চলে যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৫.
মৌসুমী বায়ুর অগ্রদূত বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) টর্নেডো
  2. খ) কালবৈশাখী
  3. গ) বসন্তকাল
  4. ঘ) শীতকাল
সঠিক উত্তর:
খ) কালবৈশাখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
জুন মাসে মৌসুমী বায়ুর আগমনের সাথে সাথে কালবৈশাখী ঝড় অন্তর্হিত হয়। এজন্য একে মৌসুমী বায়ুর অগ্রদূত বলা হয়ে থাকে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২৮৬.
দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবলভাবে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুর জন্য এই অঞ্চলকে কী বলা হয়?
  1. Horse Latitude
  2. Roaring Forties
  3. Trade Winds
  4. Doldrums
সঠিক উত্তর:
Roaring Forties
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Roaring Forties
ব্যাখ্যা

পশ্চিমা বায়ু:
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ৩০ অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেষে মেরুর দিকে ৬০অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়।
- এসময় অপেক্ষাকৃতি উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল।
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ু প্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু।
- ৪০থেকে ৪৭ দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)।
- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০থেকে ৫০ উত্তর ও দক্ষিণঅক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে।
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে অনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না।
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত।
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো।
- এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০ থেকে ৩৫ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৭.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটির নাম কী?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. আয়নোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):

- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে।

উল্লেখ্য,
- তাপমাত্রার তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা - ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল এবং এক্সোমণ্ডল।
- ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর অর্থাৎ ভূ-সংলগ্ন স্তর।
- এক্সোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৮.
বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু ঝুঁকি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০-২০৩৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কত হতে পারে?
  1. ২৫.৭১°C
  2. ২৬.০৩°C
  3. ২৬.৫৯°C
  4. ২৭.৩০°C
সঠিক উত্তর:
২৬.০৩°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬.০৩°C
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
বর্ণনা: বাংলাদেশ একটি আর্দ্র, গরম, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল, যেখানে গড় তাপমাত্রা ২৫.৭১°C এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২,১৭৪.১০ মিমি। দেশটির জলবায়ু এল নিনো সাউদার্ন অসসিলেশন (ENSO) এবং ইন্ডিয়ান ওশান ডিপোল (IOD) দ্বারা প্রভাবিত হয়। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে ০.১৬°C বৃদ্ধি পায়।

প্রক্ষেপিত তাপমাত্রা: SSP3-7.0 মডেলের অধীনে, ২০২০-২০৩৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ০.৪১°C বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.০৩°C এবং ২০৪০-২০৫৯ সাল পর্যন্ত ০.৮৯°C বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.৫৯°C হতে পারে। 

তীব্র তাপমাত্রার ঝুঁকি: মধ্য শতাব্দী নাগাদ বাংলাদেশে তাপমাত্রার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতার কারণে তাপমাত্রা অনুভূত হবে আরো বেশি। ২০৪০-২০৫৯ সালের মধ্যে তাপমাত্রার সূচক ৩৫°C অতিক্রম করা দিনগুলির সংখ্যা বছরে প্রায় ১৩৩.৪৭ দিন হতে পারে।

আপেক্ষিক বৃষ্টিপাত: ১৯৭১-২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মৌসুমে এবং অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগগুলো বিশেষ করে বসন্তকালে শুষ্ক হয়ে পড়েছে, এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগগুলো বছরের অধিকাংশ সময় বৃষ্টিপাতের মুখে রয়েছে।

প্রক্ষেপিত বৃষ্টিপাত: SSP3-7.0 মডেলের অধীনে ২০৪০-২০৫৯ সালের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে বসন্তকালে বৃষ্টিপাত কমবে, এবং উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে গ্রীষ্ম মৌসুমে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে।

জলবায়ু সম্পর্কিত বিপদ: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বন্যা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষয় বাড়বে। এছাড়া, দেশটির প্রধান নদী সিস্টেমে বন্যার প্রাবল্য এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে খরা বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের সিসমিক ঝুঁকিকে আরও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব সীমান্ত এলাকায় ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

উৎস: Bangladesh Climate Risk Country Profile, World Bank Climate Change Portal.
২৮৯.
'এল নিনো' কোন মহাসাগরের জলতাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে ঘটে?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

- এল নিনো হলো সাউদার্ন অসকিলেশন (ইএনএসও) নামক আবহাওয়ার ধরনের দুটি অংশ, যা ক্রান্তীয় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর বাতাসের ধরন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি অনিয়মিত কিন্তু পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন।
- এল নিনো বলতে ইএনএসওর উষ্ণায়ন পর্যায়কে বোঝায়।

অন্যদিকে,
- লা নিনা বোঝায় এর শীতলকরণ পর্যায়কে।
- এল নিনোর বছরগুলোতে তাপমাত্রা প্রায় শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
- লা নিনার সময়ে প্রায় একই পরিমাণে হ্রাস পায়। 
- দুই প্যাটার্নের ওঠানামার ঘটনাটি প্রায়ই একটি নিরপেক্ষ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়।

উৎস: প্রথম আলো।

২৯০.
গ্রিন-হাউজ ইফেক্ট বলতে বুঝায়-
  1. সূর্যালোকের অভাবে সালোক সংশ্লেষণে ঘাটতি
  2. তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  3. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা
  4. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন
সঠিক উত্তর:
তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- গ্রিন হাউজ হলো এমন একটি কাঁচের ঘর যেখানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গাছপালা জন্মানোর জন্য উপযোগী আবহাওয়া তৈরিকরা হয়।
- সূর্যের আলো যখন এই কাঁচের ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে তখন ভিতরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- পৃথিবীও গ্রিন হাউজের মত এমন একটি আবাসস্থল যেখানে প্রতিদিনই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা পৃথিবী হতে দূরীভূত হচ্ছে না।
- গ্রিন হাউজের তাপমাত্রা ধরে রাখার প্রক্রিয়াটি বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- এ কারণেই গ্রিন হাউজ এর সাথে মিল রেখে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়। এগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯১.
পৃথিবীতে ছুটে আসা উল্কার বেশির ভাগই কোন স্তরে এসে পুড়ে যায়?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. এক্সোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteors & Meteoroids):
- উল্কা মহাশূন্যে বিচরণরত ক্ষুদ্রাকৃতি বিশিষ্ট কঠিন বস্তু।
- ক্ষুদ্রায়তনের এই উল্কাপিন্ড একত্রে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে বাতাসের সাথে সংঘর্ষে প্রজ্জ্বলিত হয়ে তুষারপাতের মতো ঝরে পড়তে থাকে।
- একে উল্কাবৃষ্টি বলে।
- উল্কা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে পতিত হলে, তাকে উল্কাপিন্ড বলে।
- মহাকাশ থেকে প্রবেশ করলে উল্কা গুলো বায়ুমন্ডলের মেসোমন্ডল স্তরে পুড়ে যায়।

⇒ মেসোমন্ডল (Mesosphere):
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে স্তর রয়েছে তাকে মেসোমন্ডল বা মেসোস্ফিয়ার বলে।
- এই মন্ডলের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উষ্ণতা দ্রুত কমতে থাকে।
- ৮০ কিলোমিটারের পরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে এবং এই অংশকে বলে মেসোপস বা মেসোবিরতি।

⇒ মেসোমন্ডলে বৈশিষ্ট্যসমূহ
ক) মেসোমন্ডলের উর্ধ্বসীমায় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ৬৫.৫° সেলসিয়াস।
খ) এ মন্ডলের বায়ুচাপ খুব কম।
গ) মেসোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারন করে।
ঘ) সাধারণত যে সব উল্কা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলো এই স্তরে এসে পড়ে যায়। উল্কাপতন এলাকাটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।

২৯২.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কতটি দিককে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি 
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। ’আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।

• ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে: 
যথা-
→ বন্যা,
→ ঝড়,
→ মরুকরণ,
→ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
→ কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৩.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?
  1. স্ট্রাটোমন্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. তাপমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাস:
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন স্তরে স্তরে সজ্জিত।
- বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর থেকে উপরের দিকে ক্রমশ লঘু হয়।
- উলম্বভাবে (Vertically) বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-


• ট্রপোমন্ডল: 
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৪.
দেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) উত্তরাঞ্চলে
  2. খ) পশ্চিমাঞ্চলে
  3. গ) পূর্বাঞ্চলে
  4. ঘ) দক্ষিণাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
খ) পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বৃষ্টিপাত ক্রমেই বেশি হয়ে থাকে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২৯৫.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনটি?
  1. গাছপালা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া
  3. কল-কারখানা বৃদ্ধি পাওয়া
  4. খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন হলো মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলের গঠনগত পরিবর্তন যা নির্দিষ্ট সময়কালে জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন ঘটায় এবং প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ভিন্নতা প্রদর্শন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং বিখ্যাত শহরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাংলাদেশও এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।
- এভাবে পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।
- গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক, প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা রকম অস্থিরতা তৈরি করবে। ফলে তৈরি হবে অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্যাভাব যা উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের জনগণকে করে তুলবে শরনার্থী।
- উন্নত বিশ্বের অধিবাসীরা যখন আর্থ- সামাজিক উন্নতির শিখরে অবস্থান করবে তখন অনেক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমষ্টি দারিদ্রসীমার নিচে মানবেতর জীবনযাপন করবে। উদাহরণসস্বরূপ বলা যায় একদিকে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার মত দেশে শীতকাল পূর্বের তুলনায় বর্ষাসিক্ত হওয়ায় শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া কোন দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন?
  1. বাংলাদেশ
  2. মালদ্বীপ
  3. কানাডা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাডা
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- বিশ্বের আবহাওয়া ও ঋতুগত ধরন দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কোনো ঋতুতেই এখন আর আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না। বৃষ্টির সময়ে অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, গরমের সময় ঠান্ডা হাওয়া, আর শীতকালে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে একটি এলোমেলো আবহাওয়া আজ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কিছু অঞ্চলের জন্য সুফল বয়ে আনবে। যেমন: কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে।
- কিন্তু এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সমান সুফল আনবে না। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাবে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশসহ বহু দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সমুদ্র উপকূলবর্তী বহু বিখ্যাত শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯৭.
বর্ষাকালে বাংলাদেশে কোন মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকে?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. উত্তর-পূর্ব
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
বর্ষাকালে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু:
- জুন মাসে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বৃষ্টিপাত-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বর্ষার আগমন হয়।
- এ ঋতুতে উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ পশ্চিম বানিজ্য বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপাসগরে পৌঁছে।
- এই উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু পরিচলন প্রক্রিয়ার সাহায্যে কিছুটা উর্ধ্বে উঠে আরও উত্তর ও উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হতে থাকে।
- এই আর্দ্র বায়ু মায়ানমার সীমান্তে আরাকান-ইয়োমা পর্বত, উত্তরে মেঘালয় মালভূমি এবং হিমালয় পর্বত গাত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- দেশের পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশঃ হৃাস পেতে থাকে, যেমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯৮০ মিলিমিটার, ঢাকা ১৮৩০ মি.মি. এবং পাবনায় ১৫০০ মি.মি. (চৌধুরী, ১৯৯৫)।
- এ সময়ে পর্বতের পাদদেশে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় সর্বাধিক বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
- উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজারে ৩৫৫৬ মি.মি. এবং সিলেটে ৩৯৮৮ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের পাঁচ ভাগের চারভাগ বৃষ্টিপাত বর্ষাকালে সংঘটিত হয়।
- এ সময়ে বায়ুর আর্দ্রতা শতকরা ৮০ ভাগের উর্ধ্বে থাকে।
- বর্ষাকলে প্রবাহিত দক্ষিণ পশ্চিম বাণিজ্য বায়ুর অপর নাম মৌসুমী বায়ু (South-West Trades)।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এ সময়ে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয় বলে এই সময়ের জলবায়ুকে মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ভূগোল ও সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূগোল, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৮.
এশিয়ার কোন দেশে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান?
  1. মঙ্গোলিয়া
  2. আফগানিস্তান
  3. ব্রুনাই
  4. বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ব্রুনাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রুনাই
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুঃ নিরক্ষরেখার আশেপাশের অঞ্চল সমূহে অত্যধিক আদ্রতার কারণে যে ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া সারা বছর ধরে বিদ্যমান থাকে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে। পৃথিবীর মধ্যভাগে বিষুবরেখার আশেপাশে ৯৬৫ কি.মি এলাকা জুড়ে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বিদ্যমান।
ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, আফিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এই ধরনের জলবায়ু বিদ্যমান। এশিয়ার কয়েকটি দেশ যেমন - মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় এই ধরনের জলবায়ু বিদ্যমান।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল প্রথম পত্র বই (উন্মুক্ত)
২৯৯.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডল এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%। 
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%। 
- বায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে।
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০০.
জলবায়ু পরিবর্তনের মানব সৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. ক) সামুদ্রিক স্রোত
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
ঘ) খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: 

» প্রাকৃতিক কারণসমূহ: 
ক. মহাদেশীয় ড্রিফট
খ. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
গ. পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
ঘ. সামুদ্রিক স্রোত
ঙ. ঘূর্ণিঝড়

» মানব সৃষ্ট কারণসমূহ: 
ক. কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি /কার্বন নিঃসরণ
খ. খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
গ. বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি
ঘ. পাহাড় নিধন
ঙ. বনভূমি উজাড়

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন