বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৩০১৪০০ / ১,০৯৬

৩০১.
বায়ুর সমতলীয় চাপের পার্থক্যর প্রধান ফলাফল হলো- 
  1. বায়ুর আদ্রতা 
  2. বায়ু প্রবাহ
  3. আক্ষিক আদ্রতা 
  4. কুয়াশা 
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা

বায়ু প্রবাহ: 
- বায়ুপ্রবাহ হলো বায়ুর সমতলীয় চাপের পার্থক্য এর ফলাফল।

- বায়ু ও বাতাসের মধ্যে পার্থক্য আছে। চলমান বায়ু (Air) কে বাতাস (Wind) বলে। 
- ভূ-পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ু প্রবাহ।

• বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়-
- নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে বায়ুর গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
- এ কারণেই বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। একে ফেরেলের সূত্র বলা হয়।

• বায়ুপ্রবাহের নিয়ামক:
- পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি না থাকলে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ুর প্রবাহ সরল ও নিয়ত হত। বায়ুপ্রবাহের নিয়ামকগুলো নিম্নরূপ-
১. চাপের ক্রমাবনতি
২. কোরিওলিস প্রভাব
৩. কেন্দ্র বিমুখী বল
৪. ঘর্ষণ এবং
৫. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, প্রোগ্রাম. উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০২.
বাংলাদেশের জলবায়ু কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. তুন্দ্রা জলবায়ু
  2. নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
  3. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  4. নিরক্ষীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া:
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যধিক হওয়ায় বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৩.
নিম্নের কোনটি বিষমমণ্ডল (Hydrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. তাপমন্ডল 
  4. মেসোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
তাপমন্ডল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমন্ডল 
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য: 
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল ।
- উল্লিখিত স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere)।
- এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

• তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল বিষমমণ্ডল (Hydrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০৪.
বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. বায়ুর চাপ
  2. বায়ুর ঘনত্ব
  3. বায়ুর আর্দ্রতা
  4. বায়ুর প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
• বায়ুর আদ্রতা (Humidity):
- বায়ুতে জলায়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলায়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়।

উল্লেখ্য,
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার।
- যথা-পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপূক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৫.
বাংলাদেশ নিচের বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের কোন ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. বন্যা
  2. মরুকরণ
  3. ক ও খ 
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যা
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।

• ঝড়:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।

• মরুকরণ:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।

• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।

• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৬.
গ্রীন হাউস গ্যাসসমূহ নিঃসরণে নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তি ''the Kyoto Protocol'' জাতিসংঘ কর্তৃক কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ক) ১৯৯৭ সালে
  2. খ) ১৯৯৮ সালে
  3. গ) ১৯৯৯ সালে
  4. ঘ) ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
• কিয়ােটো প্রটোকল:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানাের উদ্দেশ্যে কিয়ােটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- এর অংশীদার মােট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
- ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটো শহরে এই চুক্তি প্রথম গৃহীত হয়।
- ওই সম্মেলনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ ১৯২টি দেশের মধ্যে কানাডা, দক্ষিণ সুদান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত ১৯১টি দেশ উপস্থিত ছিল।
- ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশ কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয় ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর এবং কার্যকর হয় ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।

সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
৩০৭.
ঢাকা শহর ও আমেরিকার টেক্সাস শহরের সময়ের পার্থক্য ১১ ঘণ্টা হলে, এই দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য কত?
  1. ১৪৫° দ্রাঘিমা
  2. ১৬৫° দ্রাঘিমা
  3. ১৫৫° দ্রাঘিমা
  4. ১৭৫° দ্রাঘিমা
সঠিক উত্তর:
১৬৫° দ্রাঘিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৫° দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে ১° ।
∴ ১১ ঘণ্টা (৬৬০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (৬৬০/৪)= ১৬৫° ।

অর্থাৎ ঢাকা শহর ও আমেরিকার টেক্সাস শহরের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৬৫°।

উত্তর: এই দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৬৫° দ্রাঘিমা।
৩০৮.
ক্রান্তীয় অঞ্চলের এক বৃহৎ অংশে তৃণভূমি ও তার মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাছ দেখা যায়। এই ধরনের তৃণভূমিকে বলে-
  1. ক) প্রেইরি তৃণভূমি
  2. খ) স্টেপ তৃণভূমি
  3. গ) সাভানা তৃণভূমি
  4. ঘ) পম্পাস তৃণভূমি
সঠিক উত্তর:
গ) সাভানা তৃণভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাভানা তৃণভূমি
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় অঞ্চলের এক বৃহৎ অংশে তৃণভূমি ও তার মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাছ দেখা যায়। এই ধরনের তৃণভূমিকে সাভানা তৃণভূমি বলে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৩০৯.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব?
  1. গাছপালা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. কল-কারখানা বৃদ্ধি পাওয়া
  3. লবণাক্ততা বৃদ্ধি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ততা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ততা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

 • জলবাযু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। 
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১০.
জাতিসংঘের মতে, পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের কত শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে?
  1. ৭ শতাংশ
  2. ১০ শতাংশ
  3. ১৪ শতাংশ
  4. ১৭ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
১৭ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (Impact of climate change in Bangladesh):
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস অর্থাৎ কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসগুলো নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তাতে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৩১১.
তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হলে কোন ফসলের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে? 
  1. সরিষা
  2. মসুর
  3. ছোলা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

শৈত্যপ্রবাহ: 
- বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে শীতকালের ব্যাপ্তি ও শীতের তীব্রতা দুইই কমে আসছে।
- বেশির ভাগ রবি ফসলেরই স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে ফলনের ওপর তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে।
- এ ছাড়া শীত মৌসুমে উষ্ণ প্রবাহ দেখা দিলে বেশি সংবেদনশীল ফসল যেমন গমের ফলন খুব কমে যায় এবং গম উৎপাদন অলাভজনক হয়।
- হঠাৎ তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হলে সরিষা, মসুর, ছোলা ইত্যাদি ফসলের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং এসব ফসলের পরাগায়ন ব্যাহত হয়ে ফলন খুব কমে যায়
- শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলে অনেক ফসল বিশেষ করে গমের পরাগায়ন (পলিনেশন) ও গর্ভধারণ (ফার্টিলাইজেশন) না হওয়ায় আংশিক বা সম্পূর্ণ ফসল চিটা হয়ে যায় এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়।

এছাড়াও,
- শৈত্যপ্রবাহের ফলে আমের মুকুল নষ্ট হয় ও নারিকেলের ফলধারণ ব্যাহত হয়।
- বদ্ধ জলাশয়ে কৃত্রিম প্রজনন সমস্যা হতে পারে ফলে সময়মতো পুকুরে ছাড়ার জন্য পোনা মাছ পাওয়া যাবে না।
- তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়ামের ওপরে হলে কিশোর চিংড়ির মৃত্যু হার বাড়বে।
- মাছ ও চিংড়ি প্রজননে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বা মাইগ্রেশন ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

উৎস: কৃষি সার্ভিস তথ্য।[লিঙ্ক]

৩১২.
পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী কোনটি?
  1. ক) আন্দিজ পর্বতমালা
  2. খ) হিমালয় পর্বতমালা
  3. গ) কারাকোরাম পর্বতমালা
  4. ঘ) রকি পর্বতমালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) রকি পর্বতমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রকি পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী হলো উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালা।
- এই পর্বতমালা ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
- কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়েছে।

• পর্বতমালা:

- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী হলো দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দেশজুড়ে বিস্তৃত।

- দৈর্ঘ্যে বিশ্বে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে  হিমালয় পর্বতমালা।
- তবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ হিমালয়ে অবস্থিত।
- কারাকোরাম পর্বত অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ায়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৩১৩.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার কারণসমূহ:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায় এবং কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: উচ্চ তাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস করে, খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে খরার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পানির স্তর নেমে যায় এবং পানি সংকট দেখা দেয়।
- আবহাওয়ার চক্র: মাটির আর্দ্রতা কম থাকায় রবি ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৪.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরকে স্ট্রাটোমণ্ডল বলা হয়?
  1. প্রথম স্তর
  2. দ্বিতীয় স্তর
  3. তৃতীয় স্তর
  4. চতুর্থ স্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O₃) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৫.
কোনটি দ্বারা কোনো স্থানের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের উপাত্ত প্রকাশ করা হয়?
  1. ক) আইসোহাইট
  2. খ) আইসোবার
  3. গ) আইসোথার্ম
  4. ঘ) আইসোহেলাইন
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোহাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোহাইট
ব্যাখ্যা
পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে। এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়। 

প্রাকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা।

সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):  ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা
হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে ।
সমচাপ রেখা (Isobar line):  ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।
সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line): সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে । সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
 
সমবর্ষণ রেখা (Isohyet Line) : ভূ-পৃষ্ঠের একই পরিমাণ বৃষ্টিপাত বিশিষ্ট স্থানসমূহকে যখন মানচিত্রে রেখা দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তখন তাকে বলা হয় সমবর্ষণ রেখা এবং যে মানচিত্রে এ রেখাগুলো দেখানো হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা মানচিত্র বলে। সমবর্ষণ রেখা দ্বারা কোনো স্থানের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের উপাত্ত ইঞ্চিতে প্রকাশ করা হয়। আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সমবর্ষণ রেখার মাধ্যমে দৈনিক বৃষ্টিপাতের পরিমাপের সাথে বিভিন্ন বছরের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাপের পার্থক্য অনুধাবন করা যায়। 
 
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১৬.
কত সালে 'বজ্রপাতকে' দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত:
- ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকতে কতগুলো সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার করবে মন্ত্রণালয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় এর আগে ১২টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ ছিল।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের বজ্রপাত হচ্ছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৩১৭.
অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু কোন বায়ুপ্রবাহের অংশ?
  1. ক) সাময়িক বায়ু
  2. খ) অনিয়মিত বায়ু
  3. গ) নিয়ত বায়ু
  4. ঘ) স্থানীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
গ) নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।

- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার।
• নিয়ত বায়ু
• সাময়িক বায়ু
• স্থানীয় বায়ু
• অনিয়মিত বায়ু

নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
বাংলাদেশের কৃষি কোন প্রকার? 
  1. ধান-প্রধান বাণিজ্যিক
  2. স্বয়ংভোগী মিশ্র
  3. ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
  4. শস্য চাষ ও পশুপালন ভিত্তিক
সঠিক উত্তর:
ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী প্রকারের।
• স্বয়ং ভোগী কৃষি ব্যবস্থা:
- শুধুমাত্র মানুষ নিজ নিজ প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে যে ব্যববস্থা করে থাকে তাকেই স্বয়ং ভোগী চাষ ব্যবস্থা বলে।
• ধান প্রধান নিবিড় কৃষি ব্যবস্থা:
- আর্দ্র মৌসুমী ভাবাপন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, ময়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান,  উত্তর ও দক্ষিন কোরিয়া প্রভৃতি দেশে নিবিড় কৃষি ব্যবস্থা চালু আছে।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৯.
দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. ফেব্রুয়ারি  
  2. এপ্রিল 
  3. জানুযারি
  4. নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
জানুযারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুযারি
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ গোলার্ধ:
- দক্ষিণ গোলার্ধ হল পৃথিবীর দক্ষিণ অংশ।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

অন্যদিকে,
- উত্তর গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জুলাই।
- উত্তর গোলার্ধে শীতলতম মাস জানুয়ারি।

উৎস: Britannica ও World atlas.

৩২০.
বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারন করে-
  1. মেসোমন্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. তাপমন্ডল
সঠিক উত্তর:
মেসোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোমন্ডল
ব্যাখ্যা
•মেসোমন্ডল (Mesosphere):
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে স্তর রয়েছে তাকে মেসোমন্ডল বা মেসোস্ফিয়ার বলে।
- এই মন্ডলের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উষ্ণতা দ্রুত কমতে থাকে।
- ৮০ কিলোমিটারের পরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে এবং এই অংশকে বলে মেসোপস বা মেসোবিরতি।
মেসোমন্ডলের বৈশিষ্ট্যগুলো :
ক) মেসোমন্ডলের উর্ধ্বসীমায় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ৬৫.৫° সেলসিয়াস।
খ) এ মন্ডলের বায়ুচাপ খুব কম।
গ) মেসোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারন করে।
ঘ) সাধারণত যে সব উল্কা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলো এই স্তরে এসে পড়ে যায়। উল্কাপতন এলাকাটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২১.
বায়ুর জলীয়বাষ্প সম্পৃক্ত অবস্থায় পৌছানোর পর কি সৃষ্টি হয়?
  1. ক) মেঘ
  2. খ) কুয়াশা
  3. গ) শিশির
  4. ঘ) বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
গ) শিশির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিশির
ব্যাখ্যা
শিশির: 

- নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্পের ধারণক্ষমতা নির্দিষ্ট। তাপমাত্রা কমলে বায়ুতে জলীয়বাষ্পের ধারণক্ষমতা হ্রাস পায় । 
- এই নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতার সম্পূর্ণটা থাকলেই তাকে সম্পৃক্ত বাষ্প বলে, তার কম থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত বাষ্প বলে। 
- কোনো কারনে বায়ুর জলীয়বাষ্প  সম্পৃক্ত অবস্থায় পৌছানোর পরে ধারনক্ষমতার অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প শিশির আকারে বিভিন্ন জায়গায় জমতে থাকে।

তথ্যসূত্র: একাদশ শ্রেনীর পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৩২২.
আকস্মিক বন্যার ফলে দেশের কোন জেলাসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. নীলফামারী
  3. নেত্রকোনা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

কৃষিতে বন্যার প্রভাব: 
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা এ ধরনের আকস্মিক বন্যার শিকার।
- মৌসুমি বন্যা উপকূলীয় এলাকায় সমস্যার সৃষ্টি করে না। কিন্তু বন্যাপ্রবণ এলাকায় এর প্রভাব খুব বেশি।
- ফসল ছাড়াও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে। জোয়ারজনিত বন্যা উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি করে।
- জমিতে লবণাক্ত পানির জলাদ্ধতার সৃষ্টি করে, যা ফসল চাষের জন্য অনুপযোগী।
- সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, নীলফামারী ইত্যাদি জেলা আকস্মিক বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস: কৃষি সার্ভিস তথ্য।[লিঙ্ক]

৩২৩.
ভূ-অভ্যন্তরের কত মিটার গভীরতায় ১° সে. তাপ বৃদ্ধি পায়?
  1. ২০ মিটার
  2. ২৫ মিটার
  3. ৩০ মিটার
  4. ৩৫ মিটার
সঠিক উত্তর:
৩০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ মিটার
ব্যাখ্যা
• ভূ-পৃষ্ঠের চাপের হ্রাস:
→ পৃথিবীর অভ্যন্তরের দিকে ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত প্রতি ৩০ মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
→ ভূ-অভ্যন্তরে ৯৬০ কি.মি গভীরতায় শিলাগুলো এত উত্তপ্ত হয় যে গলিত অবস্থায় থাকার পরিবেশ থাকলেও ভূ-পৃষ্ঠস্থ চাপের দরুণ স্থিতিস্থাপক অবস্থায় থাকে।

→ আবার ভূ-গর্ভের সঞ্চিত বাষ্পরাশি সর্বদা ভূ- পৃষ্ঠে আসতে চায়। ফলে ভূ-ত্বকের তলদেশে প্রবল ঊর্ধ্বচাপ পড়ে।
→ ঊধ্বচাপের প্রভাবে উপরিস্থিত ভূ-ত্বকের নিম্নস্থ কঠিন শিলার উপর চাপ বহুগুণে কমে যায়। ভূ-পৃষ্ঠের এই ধরনের চাপ হ্রাস অগ্ন্যুৎপাতে সহায়তা করে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৪.
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কবে বাংলাদেশে আঘাত হানে?
  1. ক) ৯ নভেম্বর
  2. খ) ১৯ নভেম্বর
  3. গ) ২৯ নভেম্বর
  4. ঘ) ৯ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
ঘূ্ণঝিড় বুলবুল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর আঘাত হানে। এটির নামকরণ করে পাকিস্তান। এ ঘূর্ণিঝড়ের সময় মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৩২৫.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ২৭.৫°
  2. ৬৯.৫°
  3. ৬৬.৫°
  4. ৭৩.৫°
সঠিক উত্তর:
৬৬.৫°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৬.৫°
ব্যাখ্যা
• দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি:
- প্রধানত পাঁচটি কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠে দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
- অর্থাৎ একটি দিবসে দিন ও রাত্রির সময়কাল সকল সময়ে এক হয় না।
- নিম্নোক্ত কারণে এইরূপ হয়ে থাকে।
১. পৃথিবীর আকার অভিগত গোলকের ন্যায়; 
২. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথটি, অর্থাৎ কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার (Elliptical);
৩. পৃথিবীর দুইটি গতি যেমন: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি;
৪. পৃথিবী আপন কক্ষপথে (Orbit) ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত এবং
৫. পৃথিবী নিজ অক্ষে (Axis) ২৩.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৬.
কোন স্থানীয় বায়ু আরব মরুভূমির বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত?
  1. সাইমুম
  2. টাইফুন
  3. খামসিন
  4. সিরোক্কো
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৭.
কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য হলো -
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) আবহাওয়া
  3. গ) বায়ুমন্ডল
  4. ঘ) বারিপাত
সঠিক উত্তর:
খ) আবহাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
• জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
• জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
২০২৩ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিলো?
  1. প্রকৃতির জন্য সময়
  2. প্লাস্টিক দূষণের সমাধান
  3. প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই জীবনযাপন
  4. গাছপালা পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক দূষণের সমাধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক দূষণের সমাধান
ব্যাখ্যা
• UNEP:
- জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP)
- UNEP-এর পূর্ণরুপ- United Nations Environment Programme 
- চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার প্রদান করে - UNEP
- সদর দপ্তর- নাইরোবি, কেনিয়া।
- ২০২৩ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় - প্লাস্টিক দূষণের সমাধান।
- প্রতিষ্ঠা লাভ করে- ৫ জুন, ১৯৭২ সালে।
- বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়-৫ জুন।
- সদস্য রাষ্ট্র- ১৯৩ টি।

তথ্যসূত্র: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (UNEP)
৩২৯.
জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. বায়ুর চাপ
  3. ভূমির ঢাল
  4. দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু (Climate):
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।
- অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত ইত্যাদি নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায়।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- দ্রাঘিমাংশ জলবায়ুর নিয়ামক নয়।

• নিম্নে জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১। অক্ষাংশ,
২। উচ্চতা,
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
৫। সমুদ্রস্রোত,
৬। ভূমির ঢাল,
৭। ভূ-প্রকৃতি,
৮। বায়ুপ্রবাহ,
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
কততম COP সম্মেলনে Green Climate Fund গঠিত হয়?
  1. ক) COP - 10
  2. খ) COP - 12
  3. গ) COP - 14
  4. ঘ) COP - 16
সঠিক উত্তর:
ঘ) COP - 16
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) COP - 16
ব্যাখ্যা
UNFCCC এর উদ্যোগে কপ - ১৬ সম্মেলনে ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে Green Climate Fund গঠিত হয়।
এর প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন শহরে অবস্থিত।
এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া উন্নয়নশীল বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশের জন্যেও GCF ফান্ড থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
উন্নত দেশসমূহ এ ফান্ডে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।
(সূত্রঃ Green Climate Fund ওয়েবসাইট)
৩৩১.
পৃথিবীর বারিমন্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ ভূগর্ভস্থ পানি ধারণ করে?
  1. ০.৩৭
  2. ০.৪৯
  3. ০.৬৮
  4. ০.৯১
সঠিক উত্তর:
০.৬৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৬৮
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর জলভাগের অবস্থানভিত্তিক বণ্টন:
- সমুদ্র : ৯৭.২৫ শতাংশ
- হিমবাহ : ২.০৫ শতাংশ
- ভূগর্ভস্থ পানি : ০.৬৮ শতাংশ
- হ্রদ : ০.০১ শতাংশ
- মাটির আর্দ্রতা : ০.০০৫ শতাংশ
- বায়ুমণ্ডল : ০.০০১ শতাংশ
- নদী : ০.০০০১ শতাংশ
- জীবমণ্ডল : ০.০০০০৪ শতাংশ।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৩২.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন প্রকার বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. সংঘর্ষ বৃষ্টি
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উল্লেখ্য,
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা, জলবায়ু ও অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।

⇒ পরিচলন বৃষ্টি:
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৩.
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ক) উষ্ণ ও আদ্র গ্রীষ্মকাল
  2. খ) শুষ্ক শীতকাল
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল, বৃষ্টিবহুল বর্ষাকাল এবং শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই (উন্মুক্ত)
৩৩৪.
কোনটি উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ু?
  1. এল নিনো
  2. লা নিনা
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এল নিনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এল নিনো
ব্যাখ্যা
এল নিনো:
- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- এল নিনো (El Nino) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে।
- ‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী।
- এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১৮ মাস।
- এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়।
- এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
- এল-নিনো সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।

⇒ লা নিনা :
- লা-নিনা (La Lina) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট মেয়ে।
- ‘লা-নিনা’ শীতল প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ।
- লা-নিনা’র সময় বেশি বৃষ্টি আর বেশি বন্যা দেখা যায় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
- দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় লা-নিনা।
- লা-নিনার স্থায়ীত্ব ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
- তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসতে পারে।
- সাধারণত এল নিনো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লা-নিনার গঠন শুরু হয়। 
- দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের জেলেরা প্রায় ১০০ বছর আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এটির নামকরণ করে।

উৎস: i) National Oceanic and Atmospheric Administration.
ii) BBC.
৩৩৫.
সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার জলবায়ু -
  1. সমভাবাপন্ন জলবায়ু
  2. মহাদেশীয় জলবায়ু
  3. চরমভাবাপন্ন জলবায়ু
  4. নিরক্ষীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন জলবায়ু
ব্যাখ্যা
জলবায়ু ও তাপমাত্রার উপর সমুদ্র উপকূল এর দূরত্বের প্রভাব
- সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয়, আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়।
- এ জন্য সমুদ্রতীর থেকে দূরবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই তীব্র বা চরম হয়।
- গ্রীষ্মকালে মহাদেশের মধ্য ভাগের তাপমাত্রা অনেক বেশী থাকে, আবার শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়।
- এ ধরনের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন বা মহাদেশীয় জলবায়ু বলে।

অন্যদিকে,
- সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম এবং দিনরাত্রির তাপমাত্রার তেমন পার্থক্য হয় না।
- এই ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

উল্লেখ্য,
- কোনো এলাকার প্রতি দিনের গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের তথ্যের ভিত্তিতে সামগ্রিক যে অবস্থা প্রকাশ পায় তাকেই সেই আবহাওয়া বলে।
- সাধারণত কোনো এলাকার ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়াজনিত অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- সাধারণত বৃহৎ এলাকাজুড়ে জলবায়ু পরিমাপ করা হয়ে থাকে।
- আবহাওয়া সম্পর্কীয় বিজ্ঞান মেটিওরোলজি (Meteorology) নামে পরিচিত।

উৎস- ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
জেট বিমান কোন স্তরে চলাচল করে?
  1. তাপমন্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
•স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য:
ক) এ স্তর  জলীয়বাষ্পবিহীন।
খ) এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
গ) এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
ঘ) স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
চ) এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩৩৭.
জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক রামসার কনভেনশন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. সৌদিআরব
  4. নেদারল্যান্ডস
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা
• রামসার কনভেনশন 
- ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জলাভূমি ও তার সম্পদের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার বিষয়ক রামসার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- রামসার কনভেনশন কার্যকর হয় ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর।
- রামসারের ডকুমেন্ট অনুসারে - Number of Contracting Parties: 171

• বাংলাদেশ ও রামসার
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১ মে ১৯৯২) ও টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস-  রামসার ওয়েবসাইট।
৩৩৮.
কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাসের গড় গতিবেগ ঘন্টায়-
  1. ১০ থেকে ২০ কিমি
  2. ৪০ থেকে ৬০ কিমি
  3. ১০০ থেকে ১৫০ কিমি
  4. ৮০ থেকে ১৪০ কিমি
সঠিক উত্তর:
৪০ থেকে ৬০ কিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০ থেকে ৬০ কিমি
ব্যাখ্যা

-  কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাসের গড় গতিবেগ ঘন্টায়-৪০ থেকে ৬০ কিমি।

কালবৈশাখী:

- কালবৈশাখী উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে ইংরেজিতে একে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ঝড় দেখা যায়। বাংলাদেশ এবং উত্তর–পূর্ব ভারতে মার্চ থেকে কালবৈশাখী শুরু হয়।
- গ্রীষ্ম ঋতুর সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এ ঝড়ের আগমন ঘটে। বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে কালবৈশাখীর মাত্রা ব্যাপক আকার ধারণ করে। ‌- - সাধারণত কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশিও হতে পারে।
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী সাধারণ বৈশাখ মাসে বেশি হয় ।
- সাধারণ এ ঝড়ের অনেক আগাম পূর্বাভাস বলা খুব কঠিন।
- খুব অল্প সময়েই সংঘটিত হয়ে থাকে। আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না বলে এ ঝড়ের ক্ষতির মাত্রা বেশি থাকে।।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো।[লিঙ্ক]

৩৩৯.
২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রী সেন্ট্রিগ্রেড বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হয়েছে?
  1. ক) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ২.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
  2. খ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ৩° সেন্ট্রেগ্রেড
  3. গ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
  4. ঘ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ৩.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
সঠিক উত্তর:
গ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শুধুমাত্র রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অনুভূত হতো।
• কিন্তু বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠেছে।
• ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করেছে। 

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
স্থলবায়ু বলতে নিচের কোনটিকে বোঝায়?
  1. দিনের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
  2. দিনের বেলায় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
  3. রাতের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
  4. রাতের বেলায় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
সঠিক উত্তর:
রাতের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
ব্যাখ্যা
সমুদ্র ও স্থলবায়ু (Sea and Land Breeze):
- দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়; কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপযুক্ত হয়।
- ফলে তখন জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে সমুদ্রবায়ু বলে।
- আবার রাত্রিকালে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ বেশি শীতল বলে স্থলভাগের বায়ু উচ্চচাপযুক্ত হয়।
- তখন স্থলভাগ থেকে জলভাগ বা সমুদ্রের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে স্থলবায়ু বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থানের কারণে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৪১.
নিচের কোনগুলো বায়ুমণ্ডলের উপাদান?
  1. বিভিন্ন প্রকার কঠিন পদার্থ
  2. ধূলিকণা, তরল পদার্থ, জলের কণা
  3. বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্প
  4. কঠিন পদার্থ, জলীয় বাষ্প ও ধুলা-বালি
সঠিক উত্তর:
বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪২.
মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়ায় কোন ধরনের জলবায়ু দেখা যায়?
  1. মৌসুমী জলবায়ু
  2. তুন্দ্রা ধরনের জলবায়ু
  3. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, কোস্টারিকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৩.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে কোন ধরনের বস্তু রয়েছে?
  1. ক) উল্কা
  2. খ) অ্যাস্টরয়েড
  3. গ) নক্ষত্র
  4. ঘ) ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যাস্টরয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যাস্টরয়েড
ব্যাখ্যা
• গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- সৌরজগতে মঙ্গল (Mars) ও বৃহস্পতি (Jupiter) এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ (১.৬-৮০৫ বর্গ কি. মি.আয়তন বিশিষ্ট) একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৪.
বায়ুমন্ডলের উপাদানের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে বায়ুমন্ডলকে কয়টি স্তরে ভাগ করা হয়?
  1. ২টি স্তরে
  2. ৩টি স্তরে
  3. ৪টি স্তরে
  4. ৫টি স্তরে
সঠিক উত্তর:
৫টি স্তরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি স্তরে
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য (Atmospheric Layers and Characteristics):
- বায়ুমন্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা-
i) ট্রপোমণ্ডল,
ii) স্ট্রাটোমণ্ডল,
iii) মেসোমণ্ডল,
iv) তাপমণ্ডল ও
v) এক্সোমন্ডল।
- উল্লিখিত স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৪৫.
কোনো স্থানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ- 
  1. কমে
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. বৃদ্ধি পায় 
  4. বিলুপ্ত হয়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

• বায়ুর আর্দ্রতা:
- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলা হয়। জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্প চাপ নামে পরিচিত।
- বায়ুতে উপস্থিত এই জলীয়বাষ্প নানা কারণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। যেমন-
১। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পায়।
২। চাপবৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প হ্রাস পায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৬.
বায়ুমন্ডলের কোন উপাদান অতি বেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) ওজোন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
খ) ওজোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওজোন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল। এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে। এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়। এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

৩৪৭.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে?
  1. তাপমণ্ডল
  2. ট্রপোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

 মেসোমন্ডল (Mesosphere):
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে স্তর রয়েছে তাকে মেসোমন্ডল বা মেসোস্ফিয়ার বলে।
- এই মন্ডলের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উষ্ণতা দ্রুত কমতে থাকে।
- ৮০ কিলোমিটারের পরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে এবং এই অংশকে বলে মেসোপস বা মেসোবিরতি।
- মেসোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারন করে।
- সাধারণত যে সব উল্কা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলো এই স্তরে এসে পড়ে যায়। 

​⇒ ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমন্ডল বলে।
- বায়ুমন্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- মূলত বায়ুমন্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য অর্থাৎ অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য বায়ুমন্ডলকে নানা স্তরে ভাগ করা যায়।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।
- বায়ুমন্ডলের এই স্তরসমূহ হলো: ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।

​উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪৮.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ু?
  1. পার্বত্য বায়ু
  2. স্থলবায়ু
  3. সমুদ্রবায়ু
  4. মেরু বায়ু
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য বায়ু
ব্যাখ্যা

♦ বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
• নিয়মিত বায়ু।
• স্থানীয় বায়ু।
• সাময়িক বায়ু।
• অনিয়মিত বায়ু।

♦ নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
• অয়ন বায়ু।
• মেরু বায়ু।
• পশ্চিমা বায়ু।

♦ সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
• মৌসুমি বায়ু।

♦ স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
• পার্বত্য বায়ু।
• উপত্যকা বায়ু।

♦ অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
• ঘূর্ণিবাত বায়ু।
• প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৯.
কোন বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  3. দক্ষিণ পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. উত্তর পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি বায়ু:
-মৌসুমি বায়ু এমন এক প্রকার আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহ যা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দিক পরিবর্তন করে।
-এর নামটি আরবি "মত্তসুম" শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ঋতু।
- বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (গ্রীষ্মকালীন): বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- অন্যদিকে বাংলাদেশে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু (শীতকালীন): শুষ্ক এবং ঠান্ডা।
- দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়

মৌসুমি বায়ুর বৈশ্বিক প্রভাব:
- বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক।
- শীতকালে শুষ্ক বায়ুর প্রভাব কৃষি ও পরিবেশে পরিবর্তন আনে।
- দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও জীবনযাত্রার উপর মৌসুমি বায়ুর বিশাল প্রভাব রয়েছে।
- এটি বৃষ্টি সরবরাহ করায় ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সহায়ক।
- দক্ষিণ এশিয়া ছাড়াও আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া মৌসুমি বায়ু প্রবাহ দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫০.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
  2. মহাশুন্যে অভিযান
  3. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  4. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
→ রোগব্যাধি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫১.
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে নিচের কোন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) কিয়োটো প্রটোকল
  2. খ) বাসেল কনভেনশন
  3. গ) অটোয়া চুক্তি
  4. ঘ) মন্ট্রিয়াল প্রটোকল
সঠিক উত্তর:
ক) কিয়োটো প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কিয়োটো প্রটোকল
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটো শহরে কিয়োটো প্রটোকল গৃহিত হয়।
• এর অংশীদার মোট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
• ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়। ২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হলে দোহা অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে এটির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

অন্যদিকে,
• বাসেল কনভেনশন হলো বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃরাষ্ট্রীয় চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি।
• মন্ট্রিয়াল প্রটোকল হলো ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস বিষয়ক প্রটোকল।
• অটোয়া চুক্তি হলো স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক চুক্তি।

তথ্যসূত্র:- UNFCCC ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৫২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল হলো-
  1. ক) মধ্যাঞ্চল
  2. খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  3. গ) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  4. ঘ) পশ্চিমাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলোঃ ১। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ - উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭) ২। মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ - মধ্যাঞ্চল (রিখতার স্কেলে তীব্রতা ৬) এবং ৩। কম ঝুঁকিপূর্ণ- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৩৫৩.
নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালে শুরুতে কোন ধরণের বৃষ্টিপাত হয়? 
  1. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  2. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  3. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:

- ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- বৃষ্টিপাতকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- পরিচলন বৃষ্টিপাত
- শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
- ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
- সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত

• পরিচলন বৃষ্টিপাত (Conventional Rainfall):
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়।
- এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত।
- পরিচলন বৃষ্টিতে বায়ুর তাপ হ্রাস পেয়ে যখন অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় তখন এ ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
- নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়।
- এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
- হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই বিকেলে ও সন্ধ্যায় এ ধরনের বৃষ্টি হয়।
- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।


৩৫৪.
নিম্নের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না?
  1. সমুদ্র স্রোত
  2. দ্রাঘিমারেখা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. জলীয়বাষ্প
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা

দ্রাঘিমারেখা কোনো অঞ্চল বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:
- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ:
- বায়ুমণ্ডলের তাদের উৎস সূর্য।
- অক্ষাংশ অনুযায়ী সর্যকিরণ কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়।
- নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা:
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতাও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- ফলে উচ্চতার ভিত্তিতে বায়ুর তাপমাত্রায় পার্থক্য দেখা যায়।
- একই অক্ষাংশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের উচ্চতানুযায়ী তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।

৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান:
- জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ স্থিতিশীল।
- তাই জল ও স্থলভাগের অবস্থানজনিত কারণে তাপের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।
- জলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের একটা অংশ বাষ্পীভবনে ব্যয় হয় কিন্তু স্থলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের খুব একটা অপচয় হয় না।
- ফলে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে।

৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান:
- পাহাড়-পবর্তের অবস্থান জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পাহাড়-পর্বত কোনো স্থানের তাপ ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বনভূমির অবস্থান:
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বনভূমি।
- গভীর বনাঞ্চলে সূর্যকিরণ প্রবেশ করতে না পারায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয় না বলে জলবায়ু আর্দ্র থাকে।

৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- কারণ জলভাগ অপেক্ষা সস্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়।
- পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে অধিক গরম এবং শীতকালে ব্যাপক শীত পড়ে।

৭. সমুদ্র স্রোত:
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর সমুদ্র স্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
 শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল এবং উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ হয়।

৮. বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
 সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ হ্রাস পায়।

৯. বৃষ্টিপাত:
- বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানে উত্তাপ হ্রাস পায়।
- কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে সেখানকার তাপমাত্রা উত্তপ্ত হয়ে যায়।

১০. ভূমির ঢাল:
- কোনো স্থানের জলবায়ুর ওপর ঢালের প্রভাব রয়েছে।
- যে ভূমির ঢাল সূর্যের দিকে থাকে তাতে সূর্যরশ্মি লম্বাভাবে পড়ে।
- ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়।
- আবার যে ভূমির ঢাল সূর্যের বিপরীতে থাকে, তাতে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না।

১১. জলীয়বাষ্প:
- জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
- বেশি জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণে বাধার সৃষ্টি করে।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি পরিমাণে থাকলে তা দিনে খুব উষ্ণ ও রাতে খুব শীতল হতে পারে না।

১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য:
- দিবাভাগে সূর্যের আলোতে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী শীতল হয়।
- দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ বেশি উত্তপ্ত হয় এবং ছোট রাতে তাপ বিকিরণের পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডল ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে।

১৩. বায়ুর আর্দ্রতা:
- যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করতে পারে।
- ফলে উক্ত এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে খুবই শীত পড়ে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৫.
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির প্রধান কারণ কি?
  1. ক) গাছপালা কমে যাওয়া
  2. খ) ভূ-পৃষ্ঠের কার্বনেট শিলার ভাঙন
  3. গ) যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি
  4. ঘ) ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
◉ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির প্রধান কারণ - ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

বিশুদ্ধ বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ শতকরা ০.০৩ ভাগ। তবে বায়ুর ৩.০ শতাংশ পর্যন্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড জীবের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুতে থাকলে মানুষের শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কোনো পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ শতকরা ২৫ শতাংশের বেশি হলে সেখানে মানুষসহ কোনো প্রাণির পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব:

- পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ কোটির অধিক লোকের বাস। এ হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১২০ কোটি পাউন্ড কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুতে মিশে যাচ্ছে।

- জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে কলকারখানা ও গাড়ি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়ে বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুতে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্বের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

- জনসংখ্যা অধিকহারে বৃদ্ধির ফলে তাদের বাসস্থান, আসবাবপত্র তৈরি ও কৃষি জমি বাড়াতে ব্যাপকহারে বনাঞ্চল ধ্বংস করতে হচ্ছে। ফলে উদ্ভিদের পরিমাণ কমে
যাচ্ছে। এর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

- বিজ্ঞানীদের এক হিসেবে জানা যায় ১৮৬০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ ১০০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ২৮৩ পি.পি.এম (প্রতি মিলিয়নে অংশ) থেকে ৩৩০ পি.পি.এম-এ বেড়ে যায়। এতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে। গত ৪০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়াতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার আরও বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

- মানুষ তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশন, এ্যারোসল ব্যবহার করে থাকে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এসমস্ত যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এসমস্ত যন্ত্র থেকে CFC (ক্লোরো ফ্লরো কার্বন) গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুমন্ডলের ওজোন (O3) স্তর ধ্বংসের সহায়ক।


সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
কোন স্তর থেকে ঝড়-বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. থার্মোস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না।
- ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

⇒ এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৭.
মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল কত ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ক) ২৫° - ৪০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ
  2. খ) ৪০° - ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ
  3. গ) ২৫°- ৭৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ
  4. ঘ) ১৫° - ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫° - ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫° - ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
১৫° হতে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল অবস্থিত। 

• মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল:

-  যে বায়ুর গতি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় বা বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে। 
- মৌসুমী বায়ু যেসব অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল বলে। 
- মহাদেশের পূর্বাঞ্চলসমূহ তথা কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির মধ্যবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 
- মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২৭-২০৩ সে.মি.।
 - তবে অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতিগত কারনে স্থানভেদে বৃষ্টিপাত ২৫১-২৭০ সে.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
 - গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা ২১°-৩২° সে. এবং শীতকালে গড় উষ্ণতা ১০°-২১° সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাণিজ্যিক ভূগোল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৫৮.
সমুদ্রতীরে কোনটির প্রাচুর্য থাকে?
  1. নাইট্রোজেন (Nitrogen)
  2. হাইড্রোজেন (Hydrogen)
  3. অক্সিজেন (Oxygen)
  4. ওজোন (Ozone)
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন (Nitrogen)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন (Nitrogen)
ব্যাখ্যা
• সাধারণভাবে বায়ুমন্ডলে-
- নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%,
- অক্সিজেন - ২০.৭১%,
- আর্গন - ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%, 
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড - ০.০৩% থাকে,
- এবং অন্য গ্যাসসমূহের পরিমাণ ০.০২%।

• সুতরাং বলা যায়,
সমুদ্রতীরের বাতাসে সামান্য হেরফের থাকলেও সেখানে নাইট্রোজেনেরই প্রাচুর্য থাকে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৯.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়
  2. চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়
  3. দিন-রাতের তাপমাত্রার অধিক পার্থক্য
  4. গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য
সঠিক উত্তর:
দিন-রাতের তাপমাত্রার অধিক পার্থক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিন-রাতের তাপমাত্রার অধিক পার্থক্য
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য নয়- দিন-রাতের তাপমাত্রার অধিক পার্থক্য। কারণ এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:

- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশসমূহ সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা এবং জলবায়ুর প্রভাবে চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।ই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে। শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
১. সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। দিনের ব্যাপ্তি সারা বছর একই থাকে এবং বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২১০-২৭০ সে.। স্থলভাগের বার্ষিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ৫০ সেলসিয়াসের কম। অত্যধিক সূর্য তাপ ও আর্দ্রতা এবং সামান্য মেঘাচ্ছন্নতার জন্য তাপমাত্রার পার্থক্য কম।
২. অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
৩. অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়। এই বনাঞ্চলে সেগুন, মেহগনি, রাবার ইত্যাদি গাছ জন্মে। গভীর এই বনাঞ্চলে সহজে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না বলে গাছগুলো সূর্যালোক পাওয়ার জন্য উঁচু হয়।
৪. অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং শাস্ত বলয় বিরাজমান থাকে। ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে পরবর্তীতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।
৫. এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬০.
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণয়ন হয়?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৬ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন:
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
-  পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
-  পরিবেশ অধিদপ্তর  প্রধান হবে-  একজন মহাপরিচালক৷
-  এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।

তথ্যসূত্র: Laws of Bangladesh

৩৬১.
'সুন্দা খাত' কোন সাগরের গভীরতম খাত?
  1. ক) প্রশান্ত মহাসাগর
  2. খ) আটলান্টিক মহাসাগর
  3. গ) বঙ্গোপসাগর
  4. ঘ) ভারত মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

- ভারত মহাসাগরের গভীরতম খাত 'সুন্দা খাত'।
- প্রশান্ত মহাসাগরে গভীর সমুদ্র খাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- সর্বাপেক্ষা গভীরতম সমুদ্র খাত মারিয়ানা খাত। এটি গুয়াম দ্বীপের ৩২২ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম খাত পোর্টেরিকো খাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬২.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নয় কোনটি?
  1. খরা
  2. বনাঞ্চল সৃষ্টি
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. বন্যা
সঠিক উত্তর:
বনাঞ্চল সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনাঞ্চল সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন হলো মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলের গঠনগত পরিবর্তন যা নির্দিষ্ট সময়কালে জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন ঘটায় এবং প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ভিন্নতা প্রদর্শন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং বিখ্যাত শহরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাংলাদেশও এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।
- এভাবে পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।
- গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক, প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা রকম অস্থিরতা তৈরি করবে। ফলে তৈরি হবে অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্যাভাব যা উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের জনগণকে করে তুলবে শরনার্থী।
- উন্নত বিশ্বের অধিবাসীরা যখন আর্থ- সামাজিক উন্নতির শিখরে অবস্থান করবে তখন অনেক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমষ্টি দারিদ্রসীমার নিচে মানবেতর জীবনযাপন করবে। উদাহরণসস্বরূপ বলা যায় একদিকে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার মত দেশে শীতকাল পূর্বের তুলনায় বর্ষাসিক্ত হওয়ায় শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৩.
'বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশন প্ল্যান' প্রণীত হয় -
  1. ক) ২০০৮ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১০ সালে
  4. ঘ) ২০১১ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ২০০৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশন প্ল্যান ২০০৯: 
- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু পরবর্তনজনিত বিপদাপন্ন দেশ হিসেবে স্বীকৃত।
- জলবায়ু পরিবর্তনের উর্দ্ধহার এবং এর প্রভাবে বিপদাপন্নতা আরও অনেকাংশে বেড়ে যাচ্ছে।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, শৈত্য প্রবাহ এবং খরার মতো আপদগুলো নানা মাত্রা নিয়ে এ দেশে আঘাত হানতে পারে ফলত: গত দশকগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচনের মতো পদক্ষেপগুলো হুমকির মুখে পড়বে এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে।
- এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০০৮ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা ২০০৯' প্রণয়ন করে।

• এ পরিকল্পনায় মোট ছয়টি বিষয়কে স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে, যেমন:
- খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রভাব থেকে রক্ষা করা,
- ক্রমবর্ধমান ও বার বার সংগঠিত হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রতি জোর দেওয়া,
- উপকূলীয় ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় অবকাঠামো, যেমনঃ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও বাঁধ নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা,
- গবেষণা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা,
- কার্বন নিঃসরণ ও প্রশমন,
- দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ।

সূত্র: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫।
৩৬৪.
বিশ্বব্যাংক জলবায়ু পরিবর্তনের কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে 

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। ’আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।

- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে যথা- বন্যা, ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা। এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকরী অভিযোজন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৫.
বার্ষিক গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতার সর্বোচ্চ মান কত?
  1. ক) ৭৮.১%
  2. খ) ৭১.৮%
  3. গ) ৭০.৫%
  4. ঘ) ৭৫.০%
সঠিক উত্তর:
ক) ৭৮.১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭৮.১%
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিসীমাটি হল কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৭৮.১% থেকে পাবনায় সবনিম্ন ৭০.৫% পর্যন্ত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩৬৬.
'তুন্দ্রা অঞ্চল' কোন জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. উষ্ণ অঞ্চল
  2. মেরু দেশীয় অঞ্চল
  3. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল
  4. পার্বত্য ও উচ্চভূমি অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
মেরু দেশীয় অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু দেশীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা অঞ্চল:
- তুন্দ্রা অঞ্চল মেরু দেশীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই তুন্দ্রা অঞ্চল অবস্থিত।
- দক্ষিণ গোলার্ধের এন্টার্কটিকা মহাদেশ; উত্তর গোলার্ধের সুইডেন, নরওয়ে, আলাস্কা, গ্রীনল্যান্ড, রাশিয়ার উত্তরাংশ, উত্তর কানাডা ইত্যাদি তুন্দ্রা অঞ্চলের অন্তর্গত।
- তুন্দ্রা অঞ্চল প্রায় সারাবছরই বরফাচ্ছন্ন থাকে। তাই হিমশীতল জলবায়ু এ অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট।
- এ অঞ্চলে বছরের অধিকাংশ সময়ই শীতকাল থাকে। আর গ্রীষ্মকাল হল ক্ষনস্থায়ী।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৭.
জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. বায়ু প্রবাহ
  3. বায়ুর আর্দ্রতা
  4. উষ্ণতা
সঠিক উত্তর:
উষ্ণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণতা
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামকসমূহ হলো:
- উষ্ণতা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয়।

- অক্ষাংশ,
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা,
- বায়ু প্রবাহ,
- সমুদ্র স্রোত,
- বৃষ্টিপাত,
- পাহাড় পর্বতের অবস্থান,
- ভূমির ঢাল,
- বনভূমির অবস্থান,
- মাটির প্রকৃতি,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব এবং
- বায়ুর আর্দ্রতা।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৮.
আগেকার দিনে বাণিজ্য জাহাজগুলো যে বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণ করে যাতায়াত করত তা হলো -
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. অয়ন বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. প্রত্যয়ন বায়ু
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা
• অয়ন বায়ু (The Trade Winds):
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু প্রায় ২২.৫৪ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
- তখন নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত একটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- এ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্ত বলয় (Doldrum) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৯.
সমুদ্র থেকে শীতল ও উচ্চচাপ বায়ু মূলভাগের দিকে প্রবাহিত, কারণ এটি -
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. সমুদ্র বায়ু
  3. স্থলবায়ু
  4. স্থানীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র বায়ু
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু:
- উপকূল এলাকায় সকালের সূর্যতাপ স্থানীয় ভূমির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি করে। এসময় সমুদ্রের কাছের শীতল বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় যাকে বলা হয় সমুদ্র বায়ু।
- সূর্যাস্তের পর সমুদ্রের চেয়ে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়। এ সময় স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- স্থলভাগের এই উচ্চচাপ থেকে তখন বায়ু সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় স্থলবায়ু।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭০.
বাংলাদেশে সরকারি নির্মাণে পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যমাত্রা কোন সালের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২০২৫ সাল
  2. ২০২৬ সাল
  3. ২০২৮ সাল
  4. ২০৩০ সাল
সঠিক উত্তর:
২০২৫ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২৫ সাল
ব্যাখ্যা
সরকারি নির্মাণে পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধ:
- পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। এটি বন্ধের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের নতুন ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।
- অন্যদিকে জেলাগুলোতে অবৈধভাবে স্থাপিত ইটভাটাকে জনস্বার্থে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ব্লক ইট তৈরির কাজে প্রয়োজনে প্রণোদনা দেবে সরকার। 

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সাল নাগাদ সকল সরকারি নির্মাণে পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধ হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক। 
৩৭১.
নিচের কোনটি সাময়িক বায়ু?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. পশ্চিমা বায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭২.
বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Atmospher
  2. Hydrosphere
  3. Biosphere
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Hydrosphere
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hydrosphere
ব্যাখ্যা
• বারিমণ্ডলের ধারণা:
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere. ‘Hydro‘ শব্দের অর্থ পানি এবং ‘sphere’ শব্দের অর্থ মন্ডল।
- পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমণ্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। যেমন - বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে।
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে।

- মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূ-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলে।
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূ-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা।
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা : ১. মহাসাগর (Ocean) ২. সাগর  (Sea) ৩. উপসাগর (Bay) ৪. হ্রদ (Lake)।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৩.
নিম্নের কোন অঞ্চলে ট্রপোমন্ডলের বিস্তৃতি সবচেয়ে কম?
  1. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. বিষুব অঞ্চলে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

মেরু অঞ্চলে ট্রপোমন্ডলের বিস্তৃতি সবচেয়ে কম।

ট্রপোমন্ডল:
- ট্রপোমন্ডল ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর।
- মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত সবই এই স্তরে ঘটে।
- তাই এই স্তরকে ক্ষুব্ধমন্ডলও বলা হয়।  
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ১৬-১৯ কিমি।
- মেরু অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ৮ কিমি।
- বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫% ই এই স্তর বহন করে। 
- এই স্তরের শেষ প্রান্তের নাম ট্রপোবিরতি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৪.
কোন স্থানের জলবায়ু নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটির কোন ভূমিকা নেই?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত
  2. খ) দ্রাঘিমারেখা
  3. গ) পর্বতের অবস্থান
  4. ঘ) উচ্চতা
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে দ্রাঘিমারেখা আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান বা নিয়ামক কোনটিই নয়। অর্থাৎ কোন স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্রাঘিমারেখার কোন ভূমিকা নেই।

যেসব ভৌগোলিক বিষয়ের তারতম্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় তাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক বলা হয়। আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো:
- অক্ষাংশ
- উচ্চতা
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব
- বায়ুপ্রবাহ
- সমুদ্রস্রোত
- পর্বতের অবস্থান
- ভূমির ঢাল
- মৃত্তিকার গঠন
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ:
- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৭৫.
কোনটি জলবায়ুর পরিবর্তন হ্রাস করে?
  1. কয়লা ও তেলের ব্যবহার
  2. সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি
  3. বনভূমি ধ্বংস
  4. প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
→ সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি।

• জলবায়ু পরিবর্তন:

- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হচ্ছে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ কমিয়ে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানো যায়। 
- এ জন্য কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে।
- নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড হ্রাস করতে পারি।
- দৈনন্দিন জীবনে শক্তির ব্যবহার কমিয়েও আমরা কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন কমাতে পারে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৬.
SPARRSO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) ১৯৭৭ সালে
  2. খ) ১৯৭৮ সালে
  3. গ) ১৯৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
• SPARRSO:
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: SPARRSO ওয়েবসাইট।
৩৭৭.
ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে কত সালে সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপের অর্ধেক অংশ এক দিনের মধ্যে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়?
  1. ১৮৮২ সালে
  2. ১৮৮৩ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৮৮৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৮৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় গহবর:
- আগ্নেয়গিরির ফলে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অংশ ধ্বসে গভীর গহবর সৃষ্টি করে।
- ১৮৮৩ সালে সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে একদিনের মধ্যে দ্বীপটির প্রায় অর্ধেক অংশ উৎক্ষিপ্ত হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং বাকী অংশে বৃহৎ একটি গহবর দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৮.
জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. ভূমিক্ষয়
  2. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য
  3. বনভূমির অবস্থান
  4. ভূমির ঢাল
সঠিক উত্তর:
ভূমিক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিক্ষয়
ব্যাখ্যা
ভূমিক্ষয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয়।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:

- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ:
- বায়ুমণ্ডলের তাদের উৎস সূর্য।
- অক্ষাংশ অনুযায়ী সর্যকিরণ কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়।
- নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা:
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতাও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- ফলে উচ্চতার ভিত্তিতে বায়ুর তাপমাত্রায় পার্থক্য দেখা যায়।
- একই অক্ষাংশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের উচ্চতানুযায়ী তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।

৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান:
- জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ স্থিতিশীল।
- তাই জল ও স্থলভাগের অবস্থানজনিত কারণে তাপের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।
- জলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের একটা অংশ বাষ্পীভবনে ব্যয় হয় কিন্তু স্থলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের খুব একটা অপচয় হয় না।
- ফলে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে।

৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান:
- পাহাড়-পবর্তের অবস্থান জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পাহাড়-পর্বত কোনো স্থানের তাপ ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বনভূমির অবস্থান:
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বনভূমি।
- গভীর বনাঞ্চলে সূর্যকিরণ প্রবেশ করতে না পারায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয় না বলে জলবায়ু আর্দ্র থাকে।

৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- কারণ জলভাগ অপেক্ষা সস্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়।
- পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে অধিক গরম এবং শীতকালে ব্যাপক শীত পড়ে।

৭. সমুদ্র স্রোত:
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর সমুদ্র স্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল এবং উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ হয়।

৮. বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ হ্রাস পায়।

৯. বৃষ্টিপাত:
- বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানে উত্তাপ হ্রাস পায়।
- কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে সেখানকার তাপমাত্রা উত্তপ্ত হয়ে যায়।

১০. ভূমির ঢাল:
- কোনো স্থানের জলবায়ুর ওপর ঢালের প্রভাব রয়েছে।
- যে ভূমির ঢাল সূর্যের দিকে থাকে তাতে সূর্যরশ্মি লম্বাভাবে পড়ে।
- ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়।
- আবার যে ভূমির ঢাল সূর্যের বিপরীতে থাকে, তাতে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না।

১১. জলীয়বাষ্প:
- জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
- বেশি জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণে বাধার সৃষ্টি করে।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি পরিমাণে থাকলে তা দিনে খুব উষ্ণ ও রাতে খুব শীতল হতে পারে না।

১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য:
- দিবাভাগে সূর্যের আলোতে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী শীতল হয়।
- দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ বেশি উত্তপ্ত হয় এবং ছোট রাতে তাপ বিকিরণের পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডল ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে।

১৩. বায়ুর আর্দ্রতা:
- যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করতে পারে।
- ফলে উক্ত এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে খুবই শীত পড়ে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৯.
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
  1. ১৭.৪৬%
  2. ২০.৭১%
  3. ২৮.৩১%
  4. ৩১.২৫%
সঠিক উত্তর:
২০.৭১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০.৭১%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ:
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ
- নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২%
- অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১%
- আর্গন ⇒ o.৮০%
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩%
- ওজোন ⇒ ০.০০০১%
- অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%
- জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১%
- ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১%

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮০.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও নিচের কোনটির জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. উচ্চতা
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
ব্যাখ্যা
উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৮১.
নিচের কোন বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. সাময়িক বায়ু
  2. অনিয়মিত বায়ু
  3. স্থানীয় বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• অয়ন বায়ু,
• পশ্চিমা বায়ু,
• মেরু বায়ু।

→ উল্লেখ্য:
- সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু।
- স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়প্রবাহ।
- অনিয়মিত বায়ু: কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়৷ এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮২.
চা চাষের জন্য বার্ষিক কত বৃষ্টিপাত প্রয়োজন?
  1. ৪৫০ সেমি
  2. ৫০০ সেমি
  3. ৩০০ সেমি
  4. ২৫০ সেমি 
সঠিক উত্তর:
২৫০ সেমি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫০ সেমি 
ব্যাখ্যা

• চা (Tea) 
- বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়। 
- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষহচ্ছে

- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। 
- ১৬° থেকে ১৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
- উর্বর লৌহ ও জৈব পদার্থ মিশ্রিত দোআঁশ মাটিতে চা চাষ ভালো হয়।

উৎস: ভূগোল পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৮৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে 'D-layer' থাকে?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল।
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
মেসোমণ্ডল (Termosphere):

- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে স্তর রয়েছে তাকে মেসোমণ্ডল বা মেসোস্ফিয়ার বলে।
- এই স্তরের উপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়। এই অংশকে বলে মেসোপস বা মেসোবিরতি।
- মেসোমণ্ডলে মূলত মেঘহীন ও জলীয়বাষ্পহীন।
- কিন্তু গ্রীষ্মকালে মেরু অঞ্চলে রাতে এই সব স্তরে মেঘ সদৃশ্য কিছু বস্তু দেখা যায় এগুলো হচ্ছে উল্কাপিন্ডের গ্যাস ও তার আবরনে জমাট বরফে আলোর প্রতিফলন মাত্র।
- সূর্যরশ্মির প্রভাবে অণুভেঙ্গে যখন আধানযুক্ত আয়ন গঠন করে যা Ionization নামে পরিচিত তার ফলে সৃষ্ট স্তরকে ডি-স্তর (D-layer) বলা হয়।
- ডি-স্তর বেতার তরঙ্গ প্রবাহে প্রতিবন্ধক তৈরী করে।
- মহাশূণ্যযানকে পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় মেসোমন্ডলের ডি-স্তরের বাঁধাকে কাটিয়ে আসতে হয়।

উৎস:-(পৃষ্ঠা নং ১১১) ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি এ /বি এস এস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
মৌসুমি জলবায়ুতে শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্য কতটুকু হয়?
  1. ক) ২°-৫° সে.
  2. খ) ৫°-১০° সে.
  3. গ) ১০°-১২° সে.
  4. ঘ) ১০°-১৫° সে.
সঠিক উত্তর:
খ) ৫°-১০° সে.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫°-১০° সে.
ব্যাখ্যা
• মৌসুমি জলবায়ু:
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু।
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- ’কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু।
- ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপসমূহের দেশগুলো, পূর্ব আফ্রিকা, পূর্ব ব্রাজিল, উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ চীন ও জাপান, থাইল্যান্ড, কম্পুচিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার অর্থাৎ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

এছাড়াও -
- মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, লাওস, মালাগাছি দ্বীপও এই জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত।

• মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য :

- মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অধিক গরম ও শীতকালে শীত পড়ে।
- জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি গরম ও জানুয়ারি মাসে বেশি শীত পড়ে।
- গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকাল শুষ্ক এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে যখন বৃষ্টিপাত বেশি হয় তখন তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
- গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা গড়ে ২৭° সে. এর বেশি থাকে এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ১° সে. থেকে ২২° সে. এর মধ্যে থাকে।
- শীত ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রার পার্থক্য ৫° সে.- ১০°সে. হয়

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৫.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. মৃত্তিকার গঠন
  4. নদীর দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
নদীর দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

⇒ 'নদীর দৈর্ঘ্য'- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হয় না।

আবহাওয়া ও জলবায়ু:

- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ:
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বায়ুপ্রবাহ,
- সমুদ্রস্রোত,
- পর্বতের অবস্থান,
- ভূমির ঢাল,
- ‍মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৬.
নিম্নের কোন দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) সোমালিয়া
  2. খ) নাইজেরিয়া
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) ইরিত্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) নাইজেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা

আফ্রিকা প্রচলিতভাবে পাঁচটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত - দক্ষিণ, উত্তর, মধ্য, পশ্চিম এবং পূর্ব আফ্রিকা।
- পূর্ব আফ্রিকা, যা আফ্রিকার পূর্ব বা পূর্ব আফ্রিকা নামেও পরিচিত, ১৮টি দেশ নিয়ে গঠিত বৃহত্তম অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি।
- পূর্ব আফ্রিকান অঞ্চলের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকা সম্প্রদায়, আফ্রিকান গ্রেট লেক অঞ্চল এবং হর্ন অফ আফ্রিকা সহ অন্যান্য উপ-অঞ্চল রয়েছে।

- হর্ন অফ আফ্রিকা হল - ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া এবং জিবুতি নিয়ে গঠিত মহাদেশের পূর্বতম সম্প্রসারণ যার সংস্কৃতি এবং ইতিহাস বিগত বছরগুলিতে সংযুক্ত রয়েছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩৮৭.
এল নিনো হলো -
  1. ক) সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়
  2. খ) অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
  3. গ) শীতল জলবায়ু
  4. ঘ) এক প্রকার উষ্ণ স্রোত
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক প্রকার উষ্ণ স্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক প্রকার উষ্ণ স্রোত
ব্যাখ্যা
এল নিনো:
- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- এল নিনো (El Nino) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- আবহাওয়া পরিবর্তনকারী এল নিনো আবারও প্রশান্ত মহাসাগরে।
- এর কারণে ২০২৪ হতে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর।
- এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে মধ্য ও পূর্ব গ্রীষ্মমন্ডলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বা গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বায়ুমণ্ডলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তাপ ঠেলে দেয়।
- এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
- তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১ বছর কখনো কখনো ১৮ মাস পর্যন্ত যখন, সমুদ্র পৃষ্ঠ’র তাপমাত্রা বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় ০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)। 
- এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়াতে খড়া দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবর্ষণ ও ভারতে বর্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- চলমান এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
- সাধারণত যে বছর এল নিনো শুরু হয়, তার পরের বছরটিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়।
- এর আগে ২০১৫ সালে এল নিনো হয়েছিল বলে ২০১৬ সালে বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল।

উৎস: National Geographic Society.
৩৮৮.
‘সাইমুম’ কোন অঞ্চলের স্থানীয় বায়ু?
  1. ক) উত্তর আফ্রিকা
  2. খ) মিশর
  3. গ) আরব মালভূমি
  4. ঘ) ভারতীয় উপমহাদেশ
সঠিক উত্তর:
গ) আরব মালভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরব মালভূমি
ব্যাখ্যা

কয়েকটি স্থানীয় বায়ুঃ

চিনুক - রকি পর্বতের পাদদেশ
মিস্ট্রাল - ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি
পম্পেরু - আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে
বোরা - আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূল
সিরক্কো - উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালি
সাইমুম - আরব মালভূমি
খামসিন - মিশর
লু - ভারতীয় উপমহাদেশ

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৯.
নিয়ত বায়ু কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু:
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার।যথা: পশ্চিমা বায়ু, অয়ন বায়ু , মেরু বায়ু।

পশ্চিমা বায়ু:
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমান বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি। এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।

অয়ন বায়ু:
 নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তা অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজসমূহ এই বায়ু অনুসরণ করে চলাচল করতো বিধায় এই বায়ুকে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়।
- অয়ন বায়ু এক প্রকার নিয়ত বায়ু যা সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে।

মেরু বায়ু :
- মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গেলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- এ প্রবাহদ্বয়কে উত্তর সুমেরু বায়ু ও দক্ষিণ কুমেরু বায়ু বলে।

তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯০.
বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর কোনটি? [জানুয়ারি,২০২৫]
  1. ২০১৫ সাল
  2. ২০২৪ সাল
  3. ২০২৫ সাল
  4. ২০২২ সাল
সঠিক উত্তর:
২০২৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২৪ সাল
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
-----------------
বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর: 
- ২০২৪ সাল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল।
- ২০২৪ সালের গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায়।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস) এই তথ্য জানিয়েছে।
- সিথ্রিএস বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি গরম হয়ে গেছে।
- ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সালের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ২০২৪ সালের গড় তাপমাত্রা ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
- ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়ানো যাবে না, তবে এখনো এই লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
- সিথ্রিএস পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো বলেছেন, আমরা এই প্রবণতা বদলাতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, 
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস) ২০২৪ সালকে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর বলে ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
৩৯১.
নিচের কোন বিষয়টির জন্য স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) মৃত্তিকার গঠন
  2. খ) সমুদ্রস্রোত
  3. গ) বনভূমির অবস্থান
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
কিছু ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়৷ এ বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
এগুলো হলোঃ
১) অক্ষাংশ
২) উচ্চতা
৩) সমুদ্র থেকে দূরত্ব
৪) বায়ুপ্রবাহ
৫) সমুদ্রস্রোত
৬) পর্বতের অবস্থান
৭) ভূমির ঢাল
৮) মৃত্তিকার গঠন
৯) বনভূমির অবস্থান
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৩৯২.
নিম্নের কোনটি উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নোয়াখালী
  2. চট্টগ্রাম
  3. রংপুর
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু অঞ্চলের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়।
- জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নিম্নোক্ত ছয়টি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়। যেমন-

১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চরের অন্তর্গত।

২. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সমগ্র চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তভুক্ত।

৩. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পটুয়াখালী, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকা, যশোরের পূর্বাংশ; ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্বাংশ ব্যতীত সমগ্র এলাকা; দক্ষিন-পশ্চিম ও পূর্ব সিলেট; পাবনা ও দক্ষিণ-পূর্ব বগুড়া নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।

৪. ক্রান্তীয় মৃদু আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পশ্চিম-দক্ষিণ বগুড়া ও পাবনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, সমগ্র রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এবং পশ্চিম-উত্তর যশোর অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু গঠিত। বাংলাদেশের মধ্যে এ অঞ্চলই সর্বাপেক্ষা শুষ্ক ও উষ্ণ।

৫. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দক্ষিণের সামান্য অংশ ব্যতীত সমস্ত এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। অর্থাৎ শীতের সময় অত্যধিক শীত এবং গ্রীষ্মের সময় অত্যধিক গরম পড়ে।

৬. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- সমগ্র সিলেট ও উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৩.
বর্ষাকালে কাপড় দেরিতে শুকায় তার প্রধান কারণ -
  1. ক) বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  2. খ) বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে
  3. গ) আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
  4. ঘ) রোদের অভাব
সঠিক উত্তর:
গ) আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
ব্যাখ্যা
বর্ষাকালে কাপড় দেরিতে শুকায়:
- বর্ষাকাল অপেক্ষা শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় ভিজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
- বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
- ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়।
- অন্য দিকে শীত কালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৪.
জাপান ও ভিয়েতনামে কোন বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) অয়ন বায়ু
  3. গ) মৌসুমি বায়ু
  4. ঘ) পশ্চিমা বায়ু
সঠিক উত্তর:
গ) মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- মৌসুমী বায়ু। 

সাময়িক বায়ু
:
- কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু।
- সাময়িক বায়ু দুই ধরনের। যথা- মৌসুমি বায়ু এবং স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।

মৌসুমি বায়ু:
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় “মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়। এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়।
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়। অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৫.
নিচের কোনটি মিঠা পানির উৎস?
  1. মহাসাগর
  2. উপসাগর
  3. ভূগর্ভস্থ পানি
  4. সাগর
সঠিক উত্তর:
ভূগর্ভস্থ পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূগর্ভস্থ পানি
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথাঃ লবণাক্ত ও মিঠা পানি।
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত‌।
- নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস।
- বারিমন্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন নিম্নরুপ-
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমন্ডল (০.০০০০৪%)।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯৬.
নদীর বড় বোঝা বা বোল্ডার কোন প্রক্রিয়ায় বহন করে থাকে?
  1. দ্রবণ প্রক্রিয়ায়
  2. আকর্ষণ বা টানের মাধ্যমে বহন
  3. লম্ফদান প্রক্রিয়ায় বহন
  4. ভাসমান অবস্থায় বহন
সঠিক উত্তর:
আকর্ষণ বা টানের মাধ্যমে বহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকর্ষণ বা টানের মাধ্যমে বহন
ব্যাখ্যা
• আকর্ষণ বা টানের মাধ্যমে বহন:
- নদীজ লোড বা বোঝার বড় আকৃতির পদার্থ যেমন- বোল্ডার থাকতে পারে যা ভাসমান অবস্থায় রাখা সম্ভব হয় না।
- এ ধরনের ভারী ও বড় পদার্থসমূহ হচ্ছে নদীর তলদেশীয় ভার।
- নদীবাহিত বিভিন্ন দ্রব্যসমূহ নদীর তলদেশ দিয়ে স্রোতের টানে বাহিত হয় বলে একে নদীগর্ভ বোঝা বা টান বা আকর্ষণ ভার বলা হয়।
- এই টান বা আকর্ষণের দ্বারাও নদী বহন করে থাকে।
- ধারণা করা হয়, নদীর তলদেশীয় ভার মোট ভারের শতকরা ১০ ভাগের বেশি হয় না।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৭.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় কত মিলিমিটার?
  1. ১০৫০ মি.মি.
  2. ১৫০০ মি.মি.
  3. ২০৩০ মি.মি.
  4. ২৫০০ মি.মি.
সঠিক উত্তর:
২০৩০ মি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩০ মি.মি.
ব্যাখ্যা

বৃষ্টিপাত:
- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আদ্র এবং সমভাবাপন্ন।
- বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।
- তবে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ভিন্ন হয়।
- উত্তর ও পশ্চিমের তুলনায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যেমন সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- দেশের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০% বর্ষাকালীন সময়ে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) ঘটে।
- সিলেটকে সাধারণত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতপ্রাপ্ত এলাকা হিসেবে ধরা হয়।
- বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়- লালখাল, সিলেটে।
- আর জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুসারে, সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়- শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারে।
- এছাড়া, বাংলাদেশে সর্বনিম্ম বৃষ্টিপাত হয়- লালপুর, নাটোরে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৩৯৮.
কোন সূত্র অনুসারে ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. নিউটনের গতি সূত্র
  2. বুইস ব্যালটের সূত্র
  3. ফেরেলের সূত্র
  4. হ্যাডলির সূত্র
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের সূত্র
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ (Movement of Wind): 
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়। 
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
- এ উভয় কারণে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীপৃষ্ঠে গতিশীল পদার্থ (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও জলস্রোত) সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
- ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৯৯.
কোনটি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত?
  1. ফকল্যান্ড স্রোত
  2. উত্তর স্রোত
  3. নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত
  4. সুমেরু স্রোত
সঠিক উত্তর:
ফকল্যান্ড স্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকল্যান্ড স্রোত
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত:
- বিষুবরেখা হতে দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের অধিকাংশ স্রোত প্রবাহিত হয়।
- দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোতগুলো নিম্নে দেওয়া হলো:

→ কুমেরু স্রোত বা পশ্চিমা স্রোত।
→ বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
→ দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত।
ফকল্যান্ড স্রোত

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০০.
কোন বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু হলে বর্ষাকাল আরম্ভ হয়?
  1. ক) পশ্চিমা বায়ু
  2. খ) নিয়ত বায়ু
  3. গ) মৌসুমি বায়ু
  4. ঘ) স্থানীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
গ) মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ - কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল। অর্থাৎ, গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বা বর্ষা ঋতু বলে।
এ সময়ের গড় তাপমাত্রা ২৭°C।
জুন মাসের প্রথম দিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যায়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি