বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০১২০০ / ১,০৯৬

১০১.
বায়ু প্রবাহ সৃষ্টির কারণ-
  1. ক) বায়ুর চাপ
  2. খ) সমুদ্র স্রোত
  3. গ) বায়ুর তাপ
  4. ঘ) বায়ুর আর্দ্রতা
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ুর চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ুর চাপ
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেখানকার বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। এতে করে সেই স্থানে বায়ুর চাপ হ্রাস পায় বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
এর ফলে বায়ুর উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সেই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু দ্রুতগতিতে ছুটে আসে যা বায়ু প্রবাহ নামে পরিচিত।
অর্থাৎ বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১০২.
শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু
  4. আর্দ্র মহাদেশীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ (Wind movement):
- বায়ুপ্রবাহ কোনো এলাকার জলবায়ুর উপরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- যেমন- বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০৩.
নিম্নের কোনটি সমুদ্রস্রোতের কারণ?
  1. পৃথিবীর আবর্তন
  2. লবণাক্ততার তারতম্য
  3. বাষ্পীভবনের তারতম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
গ্রীষ্মকালীন বা খরিফ শস্যের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা কত?
  1. ১৫°-২০° সেলসিয়াস
  2. ২০°-২৫° সেলসিয়াস
  3. ৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
  4. ৩৫°-৪০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
→ উদ্যান ও মাঠ ফসলের উপর তাপমাত্রার প্রভাব:
- ফলের উৎপাদন তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।
- ফুল ও ফল ধারণের সময় সঠিক তাপমাত্রা না থাকলে ফলন কমে যায়।
- তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে শস্য দুই ভাগে বিভক্ত:
১) গ্রীষ্মকালীন বা খরিফ শস্য
২) শীতকালীন বা রবি শস্য

→ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন (খরিফ) ফসল:
- উপযোগী তাপমাত্রা: ৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
- উদাহরণ: আউশ ধান, পাট, সয়াবিন, জোয়ার ইত্যাদি গ্রীষ্মকালীন শস্য।

→ শীতকালীন (রবি) ফসল:
- উপযোগী তাপমাত্রা: ২০°-৩০° সেলসিয়াস
- উদাহরণ: আমন ধান, বোরো ধান, গম, যব, সরিষা, ছোলা, মটর, মসুর, তামাক।

→ উভয় মৌসুমের ফসল:
- তিল, চীনাবাদাম, তুলা, ভুট্টা— উভয় মৌসুমে চাষ করা যায়।
- আখ— রবি ও খরিফ উভয় মৌসুমের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসুত্র: কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  [লিঙ্ক]
১০৫.
বাংলাদেশে বর্ষাকালে কোন বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  3. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে বাংলাদেশে বর্ষাকালে ঘূর্ণিঝড় হয়। 

বর্ষাকাল:
- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালেও অধিক সূর্যতাপ থাকার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- তবে আকাশে মেঘ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা উপলব্ধি করা যায় না।
- বর্ষাকালে অধিক জলীয়বাষ্পের কারণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়।
- বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৬.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয় কোনটি?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত
  3. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. বায়ু প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র। 

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান :
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ:
- অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ,
- সমুদ্রস্রোত,
- বায়ু প্রবাহ,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বনভূমির অবস্থান,
- ভূমির বন্ধুরতা, ভূমির ঢাল কিংবা পর্বতের অবস্থান (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)।
- মৃত্তিকার গঠন,
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা (উপরের দিকে বায়ুর চাপ/তাপ পরিবর্তিত হয়)।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৭.
শীতকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা কত?
  1. ৫° - ১৫° সেলসিয়াস
  2. ১০° - ২০° সেলসিয়াস
  3. ২০° - ৩০° সেলসিয়াস
  4. ৩০° - ৩৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২০° - ৩০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০° - ৩০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
তাপমাত্রার প্রভাব:
- তাপমাত্রা শস্যের সার্বিক বৃদ্ধি সাধনে সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলে।
- এই তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শস্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- গ্রীষ্মকালীন বা খরিফ শস্য এবং শীতকালীন বা রবি শস্য।
- শীতকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ২০° - ৩০° সেলসিয়াস।
- গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ৩০° - ৩৫° সেলসিয়াস। 
- পাতা জাতীয় শাক সবজির অধিক তাপে পাতায় সঞ্চিত শর্করার পরিমান কম হয়।
- অতিরিক্ত তাপে লেটুস ও পালংশাক দ্রুত ফুল উৎপন্ন করে।
- গোল আলু, মিষ্টি আলু, গাজর, মূলা, শাল গম ইত্যাদিতে অতিরিক্ত তাপে শর্করার সঞ্চয়ের পরিমান কম হয় বলে ফলন কম হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৮.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ময়মনসিংহ
  3. টাঙ্গাইল
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু অঞ্চলের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়।

⇒ জলবায়ুর ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়।
১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চরের অন্তর্গত।
- বার্ষিক গড় উষ্ণতা গ্রীষ্ম ও শীতকালে যথাক্রমে ৩৩° সে. ও ১৩° সে. এর মধ্যে বিরাজ করে।
- চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৪৫ সে.মি. এর বেশি।
- তবে বরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনার উপকূলীয় এলাকায় গড়ে ২২৮-৩০৫ সেঃমিঃ বৃষ্টিপাত হয়।

২. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সমগ্র চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তভুক্ত।
- এ অঞ্চলের বার্ষিক গড় উষ্ণতা ৩৮° সে. এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৫৪ সে. মি. এর অধিক।

৩. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পটুয়াখালী, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকা, যশোরের পূর্বাংশ; ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্বাংশ ব্যতীত সমগ্র এলাকা; দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্ব সিলেট; পাবনা ও দক্ষিণ-পূর্ব বগুড়া নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২০৩ সেঃমিঃ।

৪. ক্রান্তীয় মৃদু আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পশ্চিম-দক্ষিণ বগুড়া ও পাবনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, সমগ্র রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এবং পশ্চিম-উত্তর যশোর অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু গঠিত।
- বাংলাদেশের মধ্যে এ অঞ্চলই সর্বাপেক্ষা শুষ্ক ও উষ্ণ। 
- গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধের ফলে এ অঞ্চলের আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

৫. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দক্ষিণের সামান্য অংশ ব্যতীত সমস্ত এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন।
- অর্থাৎ শীতের সময় অত্যধিক শীত এবং গ্রীষ্মের সময় অত্যধিক গরম পড়ে।
- এর দক্ষিণ দিকের তুলনায় উত্তরদিকে ক্রমশ অধিক বৃষ্টিপাত হয়।

৬. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- সমগ্র সিলেট ও উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩০৫ সে. মি. এর বেশি।
- উত্তর-পূর্ব দিকে ক্রমেই বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় চা বাগান সবচেয়ে বেশি?
  1. চট্টগ্রাম
  2. মৌলভীবাজার
  3. পঞ্চগড়
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

চা শিল্প:
- ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়।
- তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়।
- ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত।
- সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে।
- বর্তমানে দেশে চা বাগানের সংখ্যা ১৭০টি।[আগস্ট - ২০২৫]

উল্লেখ্য,
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। মৌলভীবাজার জেলায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

১১০.
বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় কেন?
  1. শুধুমাত্র আবহাওয়ার নিয়ামকের প্রভাবে 
  2. আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
  3. শুধুমাত্র স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থানের কারণে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল নিয়ামকগুলো প্রধানত আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধরনের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা 
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব 
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল 
৭। ভূ-প্রকৃতি 
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং 
১০। বনভূমির অবস্থান।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ যথা-বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বনভূমির অবস্থান, ভূ- প্রাকৃতিক অবস্থা, উচ্চতা, অক্ষাংশ, স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, ভূমির ঢাল ইত্যাদির প্রভাবে বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১১.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ- 
  1. পানামা
  2. হন্ডুরাস
  3. কোস্টারিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় জলবায়ু: 
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা,
- মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা,  নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র কয়টি?
  1. ক) ১৫ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১৮ টি
  4. ঘ) ১০ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ টি
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে বাংলাদেশে আবহাওয়া স্টেশন ৩৫টি।
- সাইক্লোন শেল্টার ১৮৪১টি।
- কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র ১২টি।
- আবহাওয়া কেন্দ্র ৪টি।
- রাডার স্টেশন ৫টি।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

১১৩.
বৃষ্টিপাত শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয় -
  1. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:
- চারটি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে একে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়।
যথা -
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rain)
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain)
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি (Cyclonic Rain)
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টি (Frontal Rain)
অর্থাৎ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি (Drizzling Rain) বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ নয়।

১) পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain): দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে নিনান হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

(২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain): জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায় তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়।এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

(৩) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain): শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে। বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।
- এ প্রকার বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

(৪) ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain): কোনো অঞ্চলে বায়ুমন্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৪.
জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে কয়টি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু অঞ্চলের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়।
জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নিম্নোক্ত ছয়টি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়। যেমন-

১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চরের অন্তর্গত।

২. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সমগ্র চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তভুক্ত।

৩. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পটুয়াখালী, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকা, যশোরের পূর্বাংশ; ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্বাংশ ব্যতীত সমগ্র এলাকা; দক্ষিন-পশ্চিম ও পূর্ব সিলেট; পাবনা ও দক্ষিণ-পূর্ব বগুড়া নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 

৪. ক্রান্তীয় মৃদু আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পশ্চিম-দক্ষিণ বগুড়া ও পাবনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, সমগ্র রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এবং পশ্চিম-উত্তর যশোর অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু গঠিত। বাংলাদেশের মধ্যে এ অঞ্চলই সর্বাপেক্ষা শুষ্ক ও উষ্ণ। 

৫. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দক্ষিণের সামান্য অংশ ব্যতীত সমস্ত এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। অর্থাৎ শীতের সময় অত্যধিক শীত এবং গ্রীষ্মের সময় অত্যধিক গরম পড়ে। 

৬. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- সমগ্র সিলেট ও উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। 

তথ্যসূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১১৫.
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কত?
  1. ০.০০৩%
  2. ০.২%
  3. ০.০৩%
  4. ০.০৫%
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- বায়ুমণ্ডল এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৬.
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা 
  2. বন্যা ও উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস
  3. লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তন ও মৎস্যখাত:
- জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্যখাতে স্থানীয়ভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
- বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ:
• তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
• বন্যা,
• লবনাক্ততা।
∗ তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে:
• মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
• ডিম ফোটা ও লার্ভা বিকাশে সমস্যা হয়।
• পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়।
• এবং হ্যাচারিতে pH এর ওঠানামা রোগ সৃষ্টি করে। 

∗ অনিয়মিত বৃষ্টি ও খরার কারণে নদীর পানির গভীরতা কমে যায়।
- মাছের আবাসস্থল সংকুচিত হয় এবং বন্যা ও খরা পোনা ধুয়ে নিয়ে যায়।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে, নতুন প্রজাতি আসছে এবং মাছের প্রাকৃতিক মাইগ্রেশন পথ পরিবর্তিত হচ্ছে।
- হঠাৎ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় পোনা ও খামার ধ্বংস করে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি করে।

∗ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীতে মা মাছের ডিম কমে যায়, লবণাক্ততা বেড়ে যায়।
- ফলে পানির স্তর ও গুণমান হ্রাস পায় যা প্রজনন ক্ষেত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ুর কারণে পানির গুণগত মান পরিবর্তিত হয়।
- প্ল্যাঙ্কটন উৎপাদন কমে যায়।
- অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি পায়।
- এবং পলি জমাট বাঁধার কারণে মাছের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ফলে মাছের উৎপাদন হ্রাস পায়, মৎস্যজীবীর আয় কমে যায় এবং স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
- এই প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য, যার জন্য গবেষণা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

উৎস:
১.বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. প্রথম আলো।

১১৭.
পানি দূষণ রোধের উপায় কোনটি?
  1. শিল্প-কারখানার পানি পরিশোধন
  2. পরিমিত সার ব্যবহার
  3. বর্জ্য সরাসরি পানিতে না ফেলা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় (Ways to Control Water Pollution):
- পানি দূষণ জীবজগতের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ। তাই পানি যেন দূষিত না হয় সেদিকে সচেতন থাকতে হবে এবং দূষিত পানিকে নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
গ্রহণ করতে হবে।

নিম্নে পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো তুলে ধরা হলো।
১. নদী, খাল, বিল, পুকুর, হ্রদসহ বিভিন্ন জলাশয়ের পানিতে সরাসরি আবর্জনা না ফেলা।
২. শিল্প-কারখানার পানি শোধন করে জলাশয়ে স্থানান্তর করা।
৩. পয়:নিষ্কাশনের নালা জলাশয়ে সরাসরি সংযুক্ত না করে পরিশোধন করা।
৪. কৃষিক্ষেত্রে পরিমিত মাত্রায় সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করা।
৫. জীবজন্তুর মৃতদেহ পানিতে না ফেলা।
৬. রোগাক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়-চোপড় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ধৌত করা।
৭. তেলবাহী জাহাজ যাতে দুর্ঘটনা কবলিত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকা।
৮. কল-কারখানা স্থাপনের পূর্বে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৯. পারমানবিক বর্জ্য সরাসরি পানিতে না ফেলা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৮.
তাপমন্ডলের নিস্ন অংশকে বলা হয়-
  1. মেসোবিরতি
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোবিরতি
  4. আয়নমন্ডল
সঠিক উত্তর:
আয়নমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নমন্ডল
ব্যাখ্যা
• তাপমন্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে। এ মন্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ।
- তাপমন্ডলের নিস্ন অংশকে বলা হয় আয়নমন্ডল।
• তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য -
ক) তাপমন্ডলের বায়ু খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য।
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে
আয়নমন্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়।
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে
আসে।
ঘ) এই স্তরে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০° সেলসিয়াসে এসে পৌঁছায়।

উৎস:  উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১১৯.
ভূ-পৃষ্ঠে তাপের পার্থক্য হয় কী ভেদে?
  1. ভূ-প্রাকৃতিক বিন্যাস ভেদে
  2. অক্ষাংশ ভেদে
  3. বায়ুমন্ডল ভেদে
  4. দ্রাঘিমা ভেদে
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ ভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ ভেদে
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠে তাপের পার্থক্য হয় - অক্ষাংশ ভেদে।

• বায়ুর চাপ ও চাপবলয়:
- বায়ুর নিজের ওজোন রয়েছে।
- বায়ুর এ ওজোনের জন্য যে চাপ তৈরি হয় তাকে বায়ুচাপ বলা হয়।
- বায়ুচাপ সর্বত্র সমান নয়। কারণ ভূ-পৃষ্ঠের একেক অক্ষাংশে একেক ধরনের তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যায়।
- বর্তুলাকার পৃথিবী যখন ক্রমাগত ঘুরতে থাকে তখন বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তরে যে চাপমন্ডল সৃষ্টি হয় সেগুলোকে বলা হয় চাপমন্ডল বা চাপবলয়।

- বায়ুর চাপবলয়গুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা- উচ্চচাপ বলয় এবং নিম্নচাপ বলয়।

- যে সকল অঞ্চলে বায়ুর চাপ বেশি সে অঞ্চলকে উচ্চচাপ বলয় এবং যে অঞ্চলে বায়ুর চাপ কম সে অঞ্চলকে নিম্নচাপ বলয় বলে।
- বায়ুর এ চাপ বলয়গুলো পৃথিবীর এক একটি অংশে ভূ-পৃষ্ঠকে বলয়ের ন্যায় পূর্ব-পশ্চিমে আবৃত করে অবস্থান করছে।
- এ ধরনের ৭টি চাপ বলয় রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নিম্নচাপ বলয় এবং চারটি উচ্চচাপ বলয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২০.
নিচের কোনটি অনিয়মিত বায়ু? 
  1. মেরু বায়ু 
  2. ঘূর্ণিবাত বায়ু 
  3. পশ্চিমা বায়ু 
  4. সাময়িক বায়ু 
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিবাত বায়ু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিবাত বায়ু 
ব্যাখ্যা

 অনিয়মিত বায়ু:
- কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।
- এই অনিয়মিত বায়ু মূলত দুই প্রকার যথা:
- ঘূর্ণিবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

অন্যদিকে,
- নিয়ত বায়ু: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।
- সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়।
- সাময়িক বায় দুই ধরনের যথা মৌসুমি বায়ু এবং স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২১.
'কোয়ার্টজাইট' কোন ধরনের শিলার উদাহরণ?
  1. স্তরীভূত শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. পাললিক শিলা
সঠিক উত্তর:
রূপান্তরিত শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণয়ন হয়?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
-  পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
-  পরিবেশ অধিদপ্তর  প্রধান হবে-  একজন মহাপরিচালক৷
-  এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।

উৎস: Laws of Bangladesh

১২৩.
নিচের কোন দেশ ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. পাকিস্তান
  2. মরক্কো
  3. ইসরাইল
  4. পর্তুগাল
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তান ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত দেশ।

ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়। ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- পশ্চিম এশিয়ার তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল; দক্ষিণ ইউরোপের পুর্তগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস; ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাস, চিলি, করসিকা, মালটা; আফ্রিকার তিউনেশিয়া, লিবিয়া, মরক্কো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই অঞ্চলের উদাহরণ।

বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল। 
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে
ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

উৎস: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে  জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে অতিরিক্ত মৃত্যুহার কত হতে পারে?
  1. ২.৫ লক্ষ
  2. ১ লক্ষ
  3. ৫ লক্ষ
  4. ১০ লক্ষ
সঠিক উত্তর:
২.৫ লক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২.৫ লক্ষ
ব্যাখ্যা

• স্বাস্থ্যখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন স্বাস্থ্যখাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
- স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবকাঠামোর ক্ষতি এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল দেশগুলোতে চাপের মুখে পড়ছে।
- তাপপ্রবাহ, বন্যা ও দাবানলের কারণে হিটস্ট্রোক, কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- খরা ও বন্যায় ফসলহানি, অপুষ্টি, এবং নিরাপদ পানির অভাবে ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের বিস্তার বাড়ছে।
- তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনে মশা (ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া), মাছি ও অন্যান্য রোগবাহকের বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমান করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও তাপজনিত কারণে প্রতি বছর প্রায় ২.৫ লক্ষ অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, 
- উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বায়ুদূষণকারী কণারমাত্রা বৃদ্ধি শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- বন্যা ও ঝড়ের কারনে ডুবে যাওয়া, জলবাহিত রোগের বিস্তার (কলেরা) ঘটছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বেগ, হতাশা, PTSD এবং অন্যান্য মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- খাতভিত্তিক প্রভাবে কৃষি ও খাদ্য খাতে ফসলের ফলন হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
- জল ও স্যানিটেশন খাতে নিরাপদ পানির অভাব এবং জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: 
1. World Health Organization Website;
2. The Daily Ittefaq;
3. কালের কন্ঠ।

১২৫.
কোনটি কোরিওলিসের প্রভাবে হয়?
  1. বায়ুর চাপ বৃদ্ধি
  2. বায়ুর গতি প্রবাহের পরিবর্তন
  3. বায়ুর নিরক্ষীয় এলাকার লম্বভাবে পতিত হওয়া
  4. বায়ুর দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
বায়ুর গতি প্রবাহের পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর গতি প্রবাহের পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
• কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের এই শক্তিকেই বলা হয় কোরিওলিস প্রভাব/শক্তি।
- গোলার্ধভিত্তিক এই পরিবর্তন কোনো প্রবাহিত চলমান বস্তুর উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাব বলে অনুমান করা যায়।
- এই দিক পরিবর্তনকারী শক্তি -
১. বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে যা সর্বদা লম্বভাবে ক্রিয়া করে।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিসের প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২৬.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. ভিয়েতনাম
  3. ফিলিপাইন
  4. ব্রুনাই
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - ভিয়েতনাম
• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
কোনটি অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলাফল?
  1. ক) আধুনিক যানবাহন
  2. খ) অধিক কৃষি ফলন
  3. গ) জলাবদ্ধতা
  4. ঘ) উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
গ) জলাবদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জলাবদ্ধতা
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য পরিবেশ ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
-যেমন- পরিবেশ দূষণ, বাসস্থান ও খাদ্যের অভাব, পরিবহন সংকট, যানবাহন সংকট ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব সমস্যা দেখা দেয়।
- ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে না চলার জন্য পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। 
- অপরিকল্পিত নগরায়ন যেমন- নগরবাসীর জন্য নিরাপদ বাসস্থানের সংকট তৈরি করছে।
- ঢাকা শহরে অপরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর ও স্থাপনা নির্মানের কারণই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।
- প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জানমালের রক্ষার দিকে সবার সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে।
- অপরিকল্পিত নগরায়ন নগরজীবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিবেশের মানকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

 উৎস:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ায় এল নিনো প্রধানত কোন প্রভাব ফেলে? 
  1. বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টিপাতে অনিয়ম সৃষ্টি হয় 
  2. গ্রীষ্মে তাপমাত্রা হ্রাস পায়
  3. ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে যায়
  4. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টিপাতে অনিয়ম সৃষ্টি হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টিপাতে অনিয়ম সৃষ্টি হয় 
ব্যাখ্যা

- এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।
 
• এল নিনো:
• এল-নিনো:
- এল নিনো (El Nino) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে।
- এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি জলবায়ু ঘটনা। 
- যা বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। 

- ‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী।
- এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১৮ মাস।
- বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব নিম্নরূপে বিশ্লেষণ করা যায়:
- এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়।
- এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
- এল-নিনো সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং  National Oceanic and Atmospheric Administration ও  BBC.

১২৯.
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয়-
  1. নিয়ত বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

• মৌসুমি বায়ুঃ 
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মওসুম" শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু।
- এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু। 
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তী অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চলে এই বায়ু প্রবাহের অন্তর্গত। 

- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়। - এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে। 
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়।
- ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে। 
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে। 
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১৩০.
বাংলাদেশের ভূমিরুপে কোনটির পরিমান বেশি?
  1. ক) প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ
  2. খ) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  3. গ) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারী পাহাড়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়,
- উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়।

বাংলাদেশের মোট ভূমির,
- ১২% টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- ৮% প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
- ৮০% সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
১৩১.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় কেন?
  1. আয়ন বায়ুর কারণে
  2. উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর কারণে
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর কারণে
  4. পশ্চিমা বায়ুর কারণে
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর কারণে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- সুতরাং ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।

⇒ বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক তাপের জন্য উত্তর গোলার্ধের কোন স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের তাপ কম বলে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়।
- তখন দক্ষিণের উচ্চ চাপ অঞ্চল হতে বায়ু উত্তরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে।
- কিন্তু শীতকালে এর বিপরীত অবস্থা ঘটে। শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।

উল্লেখ্য,
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩২.
কত মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ১৭৮৭ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পাল্টে যায়?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৭.৩
  3. গ) ৭.৮
  4. ঘ) ৮.৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮.৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮.৭
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাসমূহ ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩৩.
বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ স্থাপিত হয়-
  1. ক) আগারগাঁওয়ে
  2. খ) গাজীপুরে
  3. গ) রাঙামাটিতে
  4. ঘ) সিলেটে
সঠিক উত্তর:
গ) রাঙামাটিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাঙামাটিতে
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথাঃ
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী ও
- সিলেট
• বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
• এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

১৩৪.
বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে কোন ধরনের বৃষ্টি হয়?
  1. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
  2. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
  3. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  4. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
-মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
এই ৪টি প্রকার হলো:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত 
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত 
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং 
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: 
-জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি।
১৩৫.
নিচের কোন এলাকার জলবায়ু অধিক মৃদুভাবাপন্ন?
  1. কক্সবাজার
  2. চট্টগ্রাম 
  3. পটুয়াখালী
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the sea):
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। 
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানকার জলবায়ু রাজশাহীর তুলনায় বেশ মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার তাপমাত্রায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য হয় না। এ ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
- কিন্তু সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই চরম হয়। কারণ স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয়, আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়।
- এজন্য গ্রীষ্মকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগের এলাকা অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে, আবার শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়।
- এ ধরনের জলবায়ুকে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৬.
ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার উঁচু ভূমিকে কী বলা হয় ?
  1. ক) লালমাই পাহাড়
  2. খ) ভাওয়াল গড়
  3. গ) মধুপুর গড়
  4. ঘ) খ ও গ
সঠিক উত্তর:
গ) মধুপুর গড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মধুপুর গড়
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত - মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত ভাওয়াল গড়।
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।

- ভাওয়াল ও মধুপুর বনাঞ্চলের আয়তন - ৪,১০৩ বর্গকিঃমিঃ।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এর মাটির রং - লালচে ও ধূসর।
- প্রধান বৃক্ষ - শাল/গজারি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৭.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদি সৃষ্টি হয়?
  1. স্ট্রাটোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. মেসোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৮.
বাংলাদেশে গম চাষ করা হয় কোন মৌসুমে?
  1. বর্ষাকালে
  2. শীতকালে
  3. গ্রীস্মকালে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শীতকালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতকালে
ব্যাখ্যা
গম চাষ:
- গম চাষের জন্য শীতকাল বা রবি মৌসুম সবচেয়ে উপযুক্ত।
- এ সময়ে তাপমাত্রা ১৫-২০° সেন্টিগ্রেড থাকার কারণে গমের বৃদ্ধি ও বিকাশ ভালো হয়।
- শীতকালে পর্যাপ্ত শুষ্ক এবং রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ দানার গুণগত মান উন্নত করে।
- তাপমাত্রা ৩০-৩৫° সেন্টিগ্রেড ছাড়ালে গমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
- শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ সীমিত থাকলেও গম খরা সহিষ্ণু। তাই, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে শীতকালে গমের চাষ সবচেয়ে লাভজনক।

উল্লেখ্য:
- দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, জামালপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় বেশি চাষ হয়।
- বাংলাদেশে গমের অনেক উচ্চফলনশীল অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- তন্মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ, বিজয় ইত্যাদি জাত জনপ্রিয়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য পোর্টাল।
১৩৯.
নিচের কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব হিসেবে ধরা হয়?
  1. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  2. রোগব্যাধি বৃদ্ধি
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:
→ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন জলবায়ুর ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।
- জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে, যা মৌসুমী বৈচিত্র্য ও আবহাওয়ার চরম অবস্থা সৃষ্টি করে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন—ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা ও অতিবৃষ্টি বৃদ্ধি পায়।
- মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, যা উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়, কারণ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারায়।
- রোগব্যাধি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

→ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- কার্বন উৎপাদনের হার কমানো এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করা।
- যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা।
- জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা, যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জৈব গ্যাস।
- প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন করা, যাতে কার্বন শোষণের হার বৃদ্ধি পায়।
- পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করা, যা পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমাবে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ, যাতে সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসুত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্ট অঞ্চলের তাপমাত্রার পরিবর্তন
  2. পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হ্রাস
  3. পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  4. মহাকাশের তাপমাত্রার পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন: 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
- এগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ:
- ১৮০০ সালের প্রথম দিকে শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই কয়লা, তেল, গ্যাসোলিনের মত জ্বীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।
- ফলে বায়ুমন্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই- অক্সাইড বৃদ্ধি, বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়।
- কল-কারখানা ও যানবাহনের নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া, নগরায়ন, বাড়ি ঘরের অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য, অতিরিক্ত খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
মাঝারি উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. সিরোকিউমুলাস
  2. অল্টোকিউম্যুলাস
  3. স্ট্রাটাস
  4. স্ট্রাটো-কিউমুলাস
সঠিক উত্তর:
অল্টোকিউম্যুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্টোকিউম্যুলাস
ব্যাখ্যা

• উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

• মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

• নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

সূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 

১৪২.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ক) ২৮
  2. খ) ৩০
  3. গ) ৩২
  4. ঘ) ৩৩
সঠিক উত্তর:
গ) ৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩২
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- একটি ভারত এবং অপরটি মিয়ানমার।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ওয়েবসাইট।
১৪৩.
বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সঠিক অনুক্রম কোনটি?
  1. গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্ত, হেমন্ত, শীত ও শরৎ
  2. বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ও গ্রীষ্ম
  3. শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা
  4. গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সঠিক অনুক্রম হলো:
ঘ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
---------------------
বাংলাদেশ ষড়ঋতু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে ঋতুর আবির্ভাব ঘটে এবং সেগুলি পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
- ভৌগোলিক অবস্থানের দরুণ এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।
- যদিও বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত উপক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির তথা উষ্ণ ও আর্দ্র, তথাপি প্রচলিত বাংলা বর্ষপঞ্জিতে বছরকে ছয়টি ঋতুতে বিভক্ত করা হয়েছে।
- যথা: 
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
প্রতি দু মাস অন্তর ঋতু বদল হয়।
উল্লেখ্য যে,
সব সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঋতুপরিবর্তন সীমাবদ্ধ থাকে না, কখনও কখনও কোনো কোনো ঋতুর শুরু ও শেষ কিংবা ব্যাপ্তিতে পরিবর্তন ঘটে।

উৎস:
- বাংলাপিডিয়া।
১৪৪.
বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-প্রকৃতি এখানকার জলবায়ুর ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
- মৌসুমী বায়ুর অত্যধিক প্রভাবের দরুণ এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়।

এগুলো হলো:
• গ্রীষ্মকাল।
• বর্ষাকাল।
• শীতকাল।

সূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থানের নাম কী?
  1. লালখান
  2. লালপুর
  3. পুটিয়া
  4. চন্দ্রঘোনা
সঠিক উত্তর:
লালপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালপুর
ব্যাখ্যা

• লালপুর:
- নাটোর জেলা গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু এলাকায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের চরমভাবাপন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- আয়তনের দিক থেকে নাটোর জেলার ৩য় বৃহত্তম উপজেলা।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।
- লালপুর বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান।
- গ্রীষ্মকালে মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ও শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রেকর্ড হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৪৬.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. গ) আয়নোস্ফিয়ার
  4. ঘ) ওজোন
সঠিক উত্তর:
গ) আয়নোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
আয়নোস্ফিয়ার:
- মেসোস্ফিয়ার স্তরের শেষ সীমা হলো মেসোপজ।
- আর এই মেসোপজের ওপরে প্রায় ৫০০ কিমি. উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলের স্তরকে আয়নোস্ফিয়ার বলে।
- এই স্তরে গ্যাসীয় কণাগুলি তড়িৎ-আধানযুক্ত বা আয়নিত অবস্থায় থাকে বলে, এই স্তরটিকে আয়নোস্ফিয়ার বলা হয় ।
- তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে অর্থাৎ প্রতিফলিত হয়।

উৎস: Britannica.
১৪৭.
মৌসুমী বায়ু কোন বায়ুর অন্তর্গত?
  1. ক) সাময়িক বায়ু
  2. খ) অনিয়মিত বায়ু
  3. গ) স্থানীয় বায়ু
  4. ঘ) নিয়ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
ক) সাময়িক বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাময়িক বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমী বায়ু, সমুদ্র বায়ু, স্থলবায়ু, পার্বত্য বায়ু এবং উপত্যকা বায়ু সাময়িক বায়ুর অন্তর্গত। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
১৪৮.
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ? 
  1. ভূমিকম্প
  2. বন্যা
  3. সুনামি 
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা

খরা (Drought):
- খরা একটি প্রধান কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Agricultural Hazard).
- খরা হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের অভাব যা জলস্বল্পতার কারণে ঘটে।
- এটি কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর তীব্রতা, পুনরাবৃত্তি ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
- খরার কারণে মাটিতে এবং ভূ-পৃষ্ঠে জলের ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে ফসল ও পশুপালন ব্যাহত হয়।
- মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় শস্য উৎপাদন কমে যায়, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং কৃষকের আয় হ্রাস পায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় খরার প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
- দীর্ঘ অনাবৃষ্টি বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে:
•  মাটি ফেটে যায়,
• ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়,
• এবং ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলেও খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়।
- এছাড়া, তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস:
১. ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. প্রথম আলো। 

১৪৯.
জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° হলে এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ১.৫ ঘণ্টা
  2. ২.৫ ঘণ্টা
  3. ৩ ঘণ্টা
  4. ৩.৫ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
৩ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
-একই ভাবে দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্যের সাথে ৪ গুণ করে দুই স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, পৃথিবীতে প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
∴৪৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (৪৫ × ৪)=১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

অর্থাৎ জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

উত্তর: এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ৩ ঘণ্টা।
১৫০.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. ধূলিকণা ও কনিকা
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যার পরিমাণ প্রায় ৭৮.০২%।
- দ্বিতীয় প্রধান উপাদান হিসাবে সবচেয়ে বেশী রয়েছে অক্সিজেন। যার পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ।
- এ দুটি গ্যাসবায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যার পরিমাণ প্রায় ০.০১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫১.
নিচের কোনটি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. ক) বৃষ্টিপাত
  2. খ) আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ু প্রবাহ
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্রস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো:

- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।

অন্যদিকে,

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো:

- অক্ষাংশ
- উচ্চতা
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব
- বায়ুপ্রবাহ
- সমুদ্রস্রোত
- পর্বতের অবস্থান
- ভূমির ঢাল
- মৃত্তিকার গঠন
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৫২.
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ কোন উপাদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. গ্রাভিটি
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. পৃথিবীর চাপ বলয়
  4. পাহাড়ের উচ্চতা
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর চাপ বলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর চাপ বলয়
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই নিয়ত বায়ু বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

অয়ন বায়ু (The Trade Wind): 
- বিষুবীয় অঞ্চলে সূর্যকিরণ লম্বভাবে পতিত হয় বলে বায়ুর চাপ কম থাকে তাতে বায়ু উপরে উঠে ছড়িয়ে যায়। 
- এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়। 
- প্রায় ৩০° অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ুকেই বলা হয় অয়ন বায়ু। 
- উত্তর গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু বলা হয়। 
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুপ্রবাহ অনুসরণ করতো বলে একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের জলবায়ুর সাথে সম্পর্কিত?
  1. অতি উষ্ণ
  2. সমভাবাপন্ন
  3. শুষ্ক
  4. চরমবায়ু 
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের দীর্ঘমেয়াদী (৩০–৪০ বছর) আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
∗ জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে: 
- তাপমাত্রা,
- বায়ু চাপ,
- বায়ুপ্রবাহ,
- আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত।
- বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত।
- এতে উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল লক্ষ্য করা যায়।
- ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন, অর্থাৎ শীত বা গ্রীষ্ম চরম নয়।
• এর কারণ হলো:
- ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু এখানকার জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে,
- এই আর্দ্র মৌসুমি বায়ু উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতও নিয়ন্ত্রণ করে।
- অক্ষাংশের ক্রান্তীয় অঞ্চলের অবস্থিতি, এবং
- সমুদ্রের নৈকট্যবর্তী হওয়ায় তাপমাত্রার চরমভাবাপন্নতা হ্রাস পায়। 

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে।
- ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও খরার প্রকোপ বেড়েছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষি ও জনজীবনে ঝুঁকি তৈরি করছে।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যধিক হওয়ায় এটি ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামেও পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৪.
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) উষ্ণ ও আর্দ্র শীতকাল এবং শুষ্ক গ্রীষ্মকাল
  2. খ) উষ্ণ ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল এবং আদ্র শীতকাল
  3. গ) উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল।
বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন।
দেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
কিন্তু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
১৫৫.
বায়ুমণ্ডলের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?
  1. ০.০৩ শতাংশ
  2. ০.৪১ শতাংশ
  3. ০.৮০ শতাংশ
  4. ২০.৭১ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
০.০৩ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: ০.০৩ শতাংশ
- অন্যান্য গ্যাস : ০.০২ শতাংশ
- ধূলিকণা ও কণিকা : ০.০১ শতাংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।

১৫৬.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ কোন দুর্যোগের জন্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. ক) ঝড়
  2. খ) সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি
  3. গ) মরুকরণ
  4. ঘ) বন্যা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্যা
ব্যাখ্যা
• ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে।
• এগুলো হলো:- মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা।
• এর মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে। ঝড়ের ঝুঁকিতে ২ নম্বর এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১০ নম্বর।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৭.
SMOG কি? 
  1. সিগারেটের ধোঁয়া
  2. শিশির
  3. গাড়ির কালো ধোঁয়া
  4. দূষিত বাতাস
সঠিক উত্তর:
দূষিত বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূষিত বাতাস
ব্যাখ্যা

- SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস। 

• SMOG: 
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- ‘SMOG’ শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে। মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যান্সার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: National Geographic Society

১৫৮.
পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চল কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করে সমগ্র পৃথিবীকে যে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয় তাদের প্রত্যেকটিকে প্রাকৃতিক বা জলবায়ু অঞ্চল বলা হয়।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার জলবায়ু বিদ্যমান রয়েছে। 
- পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চল ৪টি।
- সেগুলো হলো: 
• উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল,
• নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল,
• মেরু দেশীয় অঞ্চল পার্বত্য ও
• উচ্চভূমি অঞ্চল।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
কোন স্তরে মেরুজ্যোতি (Aurora) দেখা যায়?
  1. মেসোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. ট্রপোমণ্ডল
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কি.মি পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলকে বলে তাপমণ্ডল।
- এই অঞ্চলে বায়ু অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ।
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ হলো আয়নমণ্ডল (Ionosphere)।

মেরুজ্যোতি বা অরোরা:
- অরোরা প্রধানত তাপমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ারে ঘটে।
- উচ্চ-শক্তির সৌর ফোটন থার্মোস্ফিয়ারের গ্যাস কণাগুলোর ইলেকট্রন ছিঁড়ে ফেলে, ফলে আধানযুক্ত পরমাণু ও অণু তৈরি হয়।
- মহাকাশ থেকে আসা আধানযুক্ত কণা (ইলেকট্রন, প্রোটন ও অন্যান্য আয়ন) উচ্চ অক্ষাংশে থার্মোস্ফিয়ারের পরমাণু ও অণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করে।
- ফলে এসব পরমাণু ও অণু উচ্চ শক্তির অবস্থায় উত্তেজিত হয়।
- এই অতিরিক্ত শক্তি নিঃসরণ করতে তারা আলোর ফোটন বিকিরণ করে।
- আমরা এই বিকিরণকে বর্ণিল অরোরার আলো হিসেবে দেখি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
Center for Science Education.
১৬০.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান কী?
  1. নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. অক্সিজেন ও ওজোন
  4. জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণা
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (N₂) ও অক্সিজেন (O₂)।
- এই দুটি গ্যাস মিলিয়ে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৭৩ শতাংশ গঠন করে।
- নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, এটি প্রায় ৭৮.০২ শতাংশ।
- অপরদিকে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ, এটি জীবজগৎ শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্বালনির জারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- বায়ুমণ্ডলে এই দুই গ্যাসের ভারসাম্য জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ হলো-
• নাইট্রোজেন (৭৮.০২%),
• অক্সিজেন (২০.৭১%),
• আর্গন (০.৮০%),
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড (০.০৩%),
• জলীয় বাষ্প (০.৪১%) ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মত শীতল হয় না জলবায়ুর কোন নিয়ামকটির জন্য?
  1. ক) পর্বতের অবস্থান
  2. খ) বনভূমির অবস্থান
  3. গ) সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  4. ঘ) সমুদ্রের অবস্থান
সঠিক উত্তর:
ক) পর্বতের অবস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর্বতের অবস্থান
ব্যাখ্যা
'পর্বতের অবস্থান (Location of Mountain)' জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক (Factor)।
উচ্চ পার্বত্যময় এলাকা বায়ুপ্রবাহের পথে বাধা হলে এর প্রভাব জলবায়ুর উপর পরিলক্ষিত হয়৷ যেমন- শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ু হিমালয় অতিক্রম করতে পারে না৷ তাই ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মত তত শীতল নয়৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
১৬২.
বাংলাদেশের বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের কতখানি বর্ষাকালে হয়ে থাকে?
  1. দুই-পঞ্চমাংশ
  2. তিন-পঞ্চমাংশ
  3. চার-পঞ্চমাংশ
  4. সম্পূর্ণ অংশ
সঠিক উত্তর:
চার-পঞ্চমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- জুন মাসের প্রারম্ভে বঙ্গোপসাগর থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় বাধাপ্রাপ্ত হলে বৃষ্টিপাত হয়।
- জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বত্র মৌসুমি বায়ু দ্বারা বৃষ্টিপাত ঘটে এবং তখনই এখানে বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালীন সময়ে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে প্রায়ই নিম্নচাপ (Depression) বা ঘূর্ণিবাতের (Cyclone) সংযোগ থাকে।
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের চার-পঞ্চমাংশ বর্ষাকালে হয়ে থাকে
- মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য বর্ষাকালে তাপমাত্রা গ্রীষ্মকাল অপেক্ষা কম থাকে।
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। এপ্রিল উষ্ণতম মাস।
- কিন্তু সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রার বিশেষ কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৬৩.
ভূমিক্ষয়ের একটি কারণ কোনটি?
  1. ঝড়
  2. টাইফুন
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. প্রবল বাতাস
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা

বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ:
- বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি।
- বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়।
- বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়।
- ক্ষমতাকেও এই বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত করে। যেমন- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র হাওয়া ও ভূমির তাপ শোষণ ক্ষমতায় বায়ু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণে নানারকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি দ্বারাই বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র চালিত হয়, ফলে পৃথিবীব্যাপি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্নোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে।
- এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৪.
গ্রিনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় কত ঘণ্টা আগে?
  1. ক) ৬ ঘণ্টা
  2. খ) সাড়ে ৫ ঘণ্টা
  3. গ) সাড়ে ৬ ঘণ্টা
  4. ঘ) ৫ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। অন্যদিকে, গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও ভূগোল ও পরিবেশ।
১৬৫.
গ্রিনিচ মান মন্দির সময় অপেক্ষা বাংলাদেশের সময় -
  1. + ৩ ঘণ্টা
  2. + ৫ ঘণ্টা
  3. - ৬ ঘণ্টা
  4. + ৬ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
+ ৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+ ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান সময়:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷ 
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়। 
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ +৬ ঘন্টা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা।
১৬৬.
মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৮০ সালে
  3. গ) ১৯৮৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

- মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO- Space Research and Remote Sensing Organisation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

উৎস: স্পারসোর ওয়েবসাইট।

১৬৭.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর দেশ নয় কোনটি?
  1. কোস্টারিকা
  2. ফিলিপাইন
  3. আলবেনিয়া
  4. ব্রুনাই
সঠিক উত্তর:
আলবেনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবেনিয়া
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।

⇒ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
১. সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
২. অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
৩. অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
৪. অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
৫. এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়।

অন্যদিকে,
⇒ ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রীস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
কোথায় জলভাগের পরিমান বেশি?
  1. ক) উত্তর গোলার্ধে
  2. খ) দক্ষিণ গোলার্ধে
  3. গ) পূর্ব গোলার্ধে
  4. ঘ) পশ্চিম গোলার্ধে
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণ গোলার্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণ গোলার্ধে
ব্যাখ্যা
কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু।
উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমান বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৯.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ কী?
  1. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার
  2. বন উজাড়
  3. গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়াই হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।

⇒ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ:
- ১৮০০ সালের প্রথম দিকে শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই কয়লা, তেল, গ্যাসোলিনের মত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।
- ফলে বায়ুমন্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি, বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়।
- সেই সাথে সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মিও পৃথিবী পৃষ্ঠে বসবাসরত জীবজগতের জীবনধারণে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।
- তাই বলা যায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি।

⇒ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
- মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
- সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
- রোগব্যাধি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
কোনটি দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলের বৈশিষ্ট্য?
  1. দক্ষিণে প্রচন্ড শীত
  2. সারা বছর মধ্যম উষ্ণতা থাকে
  3. মকরক্রান্তি থেকে কুমেরু পর্যন্ত সূর্যরশ্মি তির্যক বা লম্বভাবে পড়া
  4. কর্কটক্রান্তি থেকে সুমেরুবৃত্ত পর্যন্ত সূর্যালোক লম্বভাবে বা তির্যকভাবে পড়া
সঠিক উত্তর:
সারা বছর মধ্যম উষ্ণতা থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারা বছর মধ্যম উষ্ণতা থাকে
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল: দক্ষিণে ২৩১/২° হতে ৬৬১/২° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত এলাকাটি দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল বলে পরিচিত।
- এখানে সারা বছরই মধ্যম উষ্ণতা থাকে।
- এখানকার গড় তাপমাত্রা ০-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
বাংলাদেশের রেকর্ডকৃত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ক) -২.৬
  2. খ) -২.৫
  3. গ) ২.৫
  4. ঘ) ২.৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২.৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২.৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রেকর্ডকৃত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়াতে রেকর্ড করা হয়৷
Source: bbc.com>bengali
১৭২.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সে.মি. -
  1. ক) ৫ নিউটন
  2. খ) ১০ নিউটন
  3. গ) ১০ কি.মি
  4. ঘ) ৫ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতিবর্গ সেন্টিমিটারে ১০ নিউটন বা ৬.৪৫ বর্গ সেন্টিমিটারের বা ৬.৭ কেজি।
- ভূ পৃষ্ঠের প্রতি একক জায়গায় বায়ুর গ্যাসের অনুগুলোর সংঘর্ষের ফলে প্রদত্ত বলই হলো বায়ুর চাপ।

(উৎস : এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১৭৩.
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে?
  1. প্রায় নয় লাখ
  2. প্রায় নব্বই লাখ
  3. প্রায় ত্রিশ লাখ
  4. প্রায় পঞ্চাশ লাখ
সঠিক উত্তর:
প্রায় নয় লাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় নয় লাখ
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশে গত ৩০ বছর ধরে উপকূলবর্তী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি)-এর তথ্য অনুযায়ী,
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা বিপন্ন হওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় নয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
- এ কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ ডুবে যাওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা [৩০ জুন ২০২৪]
১৭৪.
'সমুদ্রস্রোত' সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
  1. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  2. পৃথিবীর আবর্তন
  3. সমুদ্রজলের লবণাক্ততার তারতম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৫.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য- 
  1. বৃষ্টিবহুল শীতকাল 
  2. বৃষ্টিবহুল গ্রীষ্মকাল
  3. সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার কম
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টিবহুল শীতকাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টিবহুল শীতকাল 
ব্যাখ্যা

- বৈশিষ্ট্য: ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।

ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল: 

- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রীস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।

• এর বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৬.
কোনটি কোনাে এলাকার জলবায়ুর উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত
  2. খ) পর্বতের অবস্থান
  3. গ) ভূমির ঢাল
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ কোনাে জায়গার জলবায়ুর উপরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনাে এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। যেমন- বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবার শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
১৭৭.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮° সে.
  2. ১৫°সে.
  3. ২১° সে.
  4. ২৩° সে.
সঠিক উত্তর:
২১° সে.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১° সে.
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ু প্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে ৩টি প্রধান ঋতুতে ভাগ করা যায়।
- যথা: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল 
• গ্রীষ্মকাল:
- মার্চ থেকে মে মাস (ফান্ডুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এ সময়কেই
গ্রীষ্মকাল ধরা হয়।
- গ্রীষ্মকালে গড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং
-সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস।
- গড় তাপমাত্রা মধ্য এপ্রিল ও মে মাসে সর্বাধিক বৃদ্ধি পায় যা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- গ্রীষ্মকালেই কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় দেখা যায়।
- মার্চ-এপ্রিল মাসের কালবৈশাখী অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এ সময় গড় বৃষ্টিপাত ৫১ সে.মি এবং বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের শতকরা ২০ ভাগ গ্রীষ্মকালে হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৮.
আর্দ্রতা শব্দটি বায়ুতে কিসের উপস্থিতির পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়-
  1. জলবায়ুর
  2. জলীয় বাষ্পের
  3. কুয়াশার
  4. ধূলিকণা ও শিশির বিন্দুর
সঠিক উত্তর:
জলীয় বাষ্পের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলীয় বাষ্পের
ব্যাখ্যা
আর্দ্রতা (Humidity):
- আর্দ্রতা শব্দটি বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- বায়ুতে অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অতি নগণ্য, আয়তন হিসাবে যা শূন্য থেকে শতকরা চার ভাগের ও কম হয়ে থাকে, কিন্তু আবহাওয়া তথা জলবায়ুতে এ সামান্য পরিমাণ জলীয় কণার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত (Saturation) অবস্থা বলে। জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্পচাপ নামে পরিচিত। 

- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। যেমন,
১. চাপবৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়;
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহ মূলত কোনগুলি?
  1. ক) জলীয়বাষ্প, কাঁচের কণা, তাপ, চাপ
  2. খ) বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, কণিকা
  3. গ) ধূলিকণা, তরল পদার্থ, জলের কণা
  4. ঘ) বিভিন্ন কঠিন পদার্থ, জলীয়বাষ্প ও ধূলা-বালি
সঠিক উত্তর:
খ) বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, কণিকা
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহ মূলত - বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, কণিকা।

• বায়ুমন্ডলের উপাদান:

- পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত। এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে।
- এই গ্যাসীয় মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।

- বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ। এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ (Aerosols)।
- বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই। তাই বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
- সুতরাং বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
লবণাক্ততার প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কোন ধরণের প্রতিকূলতা দেখা যাচ্ছে?
  1. জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে
  2. সুপেয় পানির অভাব দেখা দিচ্ছে
  3. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

লবণাক্ততা (Salinity):
- লবণাক্ততা বলতে মাটি ও পানিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বুঝায়।
- সাধারণত লবণাক্ততার মাত্রা পরিমাপ করা হয় Parts Per Thousand বা পিপিটি (PPT) দ্বারা।
- সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততার গড় মাত্রা ৩৫পিপিটি অর্থাৎ ১ কিলোগ্রাম পানিতে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- বঙ্গোপসাগরের পানি জোয়ারের সময় নদীর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিতে প্রবেশ করে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে।
- সাধারণত আগস্ট মাস থেকে লবণাক্ততা শুরু হয় এবং ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
- উপকূলীয় ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় লবণাক্ততা দেখা যায়।
- এর মধ্যে সর্বাধিক লবণাক্ততায় আক্রান্ত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা জেলা।
- এছাড়া বরিশাল, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, ফেনী প্রভৃতি জেলা লবণাক্ততায় আক্রান্ত।

লবণাক্ততার কারণ:
- সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি ও পানিতে লবণাক্ততার জন্য জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়।
- আর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করা হয়।

⇒ লবণাক্ততার প্রভাব -
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া;
২. সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া;
৩. উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি;
৪. সম্পদহানি ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি;
৫. বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া;
৬. ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি;
৭. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস;
৮. গাছপালায় মড়ক লাগা ও ফসলের গোড়া পচে যাওয়া;
৯. সামাজিক বন্ধনে শিথিল হওয়া প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮১.
বাংলাদেশে মোট কতটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।

দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ: রাঙামাটির বেতবুনিয়া উপগ্রহ:
- ১৯৭০ সনের ০৩ জানুয়ারী তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান, এইচপিকে, বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৪ জুন ১৯৭৫ সনে বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।

১৮২.
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় -
  1. ক) অয়ন বায়ু
  2. খ) মৌসুমী বায়ু
  3. গ) পশ্চিমা বায়ু
  4. ঘ) নিয়ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমী বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী জলবায়ু: মৌসুম একটি আরবী শব্দ যার অর্থ ঋতু। সুতরাং ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে। আর এই মৌসুমী বায়ু যে অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল বলে ।

• মৌসুমী বায়ুর উৎপত্তি:
- স্থলভাগ ও জলভাগের তাপমাত্রার তারতম্যের কারনে মৌসুমী বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমী বায়ু এক এক ঋতুতে এক এক দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিন-পূর্ব মৌসুমী বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এর প্রভাবে স্থলভাগে বৃষ্টিপাত হয়।
- আবার শীতকালে দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয় যা শুষ্ক থাকে এবং এই শুস্ক বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়।

• মৌসুমী বায়ুর অবস্থান: প্রধানত ১৫° হতে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল অবস্থিত। অর্থাৎ মহাদেশের পূর্বাঞ্চলসমূহ তথা কর্কটক্রান্তি ও মকর ক্রান্তির মধ্যবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।

সূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
উত্তর গোলার্ধে বায়ুপ্রবাহ ডান দিকে বেঁকে যায়, কারণ হলো-
  1. ক) পৃথিবীর আবর্তন
  2. খ) কেন্দ্রাতিগ বল
  3. গ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  4. ঘ) বায়ু তাপ ও চাপের জন্য
সঠিক উত্তর:
ক) পৃথিবীর আবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পৃথিবীর আবর্তন
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে বায়ুর গতিবিক্ষেপের ফলে নিয়ত বায়ুগুলো যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। বৈজ্ঞানিক ফেরেল সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে আবর্তন ঘটিত শক্তির প্রভাবেই বায়ুপ্রবাহের এরূপ দিক পরিবর্তন হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১৮৪.
কর্কটক্রান্তি রেখা পৃথিবীর কোন অক্ষাংশে অবস্থিত?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
  2. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  3. ২৩.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
  4. ২৩.৫° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর:
২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

• কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫০ উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।

• অক্ষ, অক্ষরেখা ও নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বলে।
- এ অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বলা হয়।
- পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে যে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন করা হয় তাকে অক্ষরেখা বলে।
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য এ রেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১৮৫.
দুর্যোগ চলাকালীন জরুরি সাহায্য ও উদ্ধার কার্যক্রম কোন ধাপের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. সাড়াদান 
  2. প্রস্তুতি 
  3. পুনরুদ্ধার
  4. উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান 
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের   ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
- এর ছয়টি ধাপ রয়েছে: প্রতিরোধ, প্রশমন, প্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, এবং উন্নয়ন।
- এই চক্রে ঝুঁকি হ্রাস থেকে শুরু করে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
- সাড়াদান ধাপে দুর্যোগ চলাকালীন খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, 
• প্রতিরোধ (Prevention): দুর্যোগ ঘটতেই না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন: বন্যাপ্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণ।
• প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের প্রভাব কমানোর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন তৈরি।
• প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, যেমন: মহড়া, ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রাখা, পরিকল্পনা তৈরি।
• সাড়াদান (Response): দুর্যোগ চলাকালীন বা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য প্রদান, যেমন: উদ্ধার, খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা।
• পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, যেমন: অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠন।
• উন্নয়ন (Development): ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হ্রাস ও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি, যা পরবর্তী চক্রের প্রস্তুতি ও প্রশমনে সাহায্য করে।
- এই ধাপগুলো চক্রাকারে চলতে থাকে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবন, সম্পদ রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
নিচের কোনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ-
  1. ক) লিপারী দ্বীপের ষ্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি
  2. খ) ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি
  3. গ) জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
  4. ঘ) ইরানের কোহিসুলতান আগ্নেয়গিরি
সঠিক উত্তর:
গ) জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন: সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং মৃত আগ্নেয়গিরি।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেই সব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের। যেমন- যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন: ভূ-মধ্যসাগরের লিপারী দ্বীপের ষ্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি, ক্যালিফোর্নিয়ার আগ্নেয়গিরি। অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি, সিসিলি আগ্নেয়গিরি। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সমূহ থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন : জাপানের ফুজিয়ামা। মৃত আগ্নেয়গিরিসমূহ থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না। যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি, ইরানের কোহিসুলতান, মেক্সিকোর পে্রিকোটিন আগ্নেয়গিরি। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম(উন্মুক্ত)।
১৮৭.
বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের কোন শহরটি অবস্থিত?
  1. ক) ডাউকি
  2. খ) করিমগঞ্জ
  3. গ) জাফলং
  4. ঘ) চেরাপুঞ্জি
সঠিক উত্তর:
ক) ডাউকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডাউকি
ব্যাখ্যা
গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা - তামাবিল।
- তামাবিল স্থল শুল্ক বন্দর দিয়েই ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হয়।
- তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের - ডাউকি বাজার।
- তামাবিল থেকে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সিলেট থেকে তামাবিলের দূরত্ব ৫৫ কি.মি.।

উৎস: গোয়াইনঘাট উপজেলা ওয়েবসাইট
১৮৮.
ট্রপোমন্ডল মেরু অঞ্চলে কত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত?
  1. ১৯ কিমি প্রায়
  2. ৮ কিমি প্রায়
  3. ১৬ কিমি প্রায়
  4. ৫ কিমি প্রায়
সঠিক উত্তর:
৮ কিমি প্রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ কিমি প্রায়
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল
- ট্রপোমন্ডল ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর।
- মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত সবই এই স্তরে ঘটে।
- তাই এই স্তরকে ক্ষুব্ধমন্ডলও বলা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ১৬-১৯ কিমি।
- মেরু অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ৮ কিমি।
- বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫% ই এই স্তর বহন করে। 
- এই স্তরের শেষ প্রান্তের নাম ট্রপোবিরতি। 

উল্লেখ্য, 
বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৯.
আফ্রিকার কোন অঞ্চল নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল?
  1. সাহারা মরুভূমি
  2. কালাহারি মরুভূমি
  3. কঙ্গো নদীর অববাহিকা
  4. মাগরেব অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
কঙ্গো নদীর অববাহিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্গো নদীর অববাহিকা
ব্যাখ্যা

- আফ্রিকার  কঙ্গো নদীর অববাহিকা নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:

- নিরক্ষীয় অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল উষ্ণ জলবায়ু।
- এই অঞ্চলের জলবায়ু  সবসময় জলবায়ু একই রকম থাকে।
- দিন রাত্রির মধ্যে তেমন পার্থক্য নাই।
- ঋতুর পরিবর্তন এই অঞ্চলে দেখা যায় না। ফলে সবসময় গ্রীষ্মঋতু পরিলক্ষিত হয়।
- দিনের প্রথমদিকে জলবায়ু আরামদায়ক।

বিশ্বের নিম্নোক্ত অঞ্চলের দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল: 

• দক্ষিণ আমেরিকা:
- দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূল। আমাজান নদীর অববাহিকা, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ার দক্ষিণাংশ এবং পেরুর উত্তর পশ্চিমাঞ্চল।

• মধ্য আমেরিকা:
- মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, নিকারাগুয়া, হুগুরাস, কোষ্টারিকা।

• আফ্রিকা:
- কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় অঞ্চল।

• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া:
- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইনের দক্ষিণ দ্বীপ পুঞ্জাঞ্চল।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯০.
পৃথিবীতে দিবারাত্রি সমান হয় কোন তারিখে?
  1. ২১ জুন ও ২৩ সেপ্টেম্বর 
  2. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২৩ এপ্রিল ও ২১ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর ও ১৭ মার্চ
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর দিন রাত:
- উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয়।
- ২২ ডিসেম্বর সূর্য এমনভাবে কোণ করে থাকে তাতে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হয়।
- ২২ এডিসেম্বর সূর্য দক্ষিণায়নের শেষ সীমায় পৌঁছায়, একে মকরসংক্রান্তি বলে।
- এ সময় সূর্যের রশ্মি ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ অর্থাৎ মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে পতিত হয়।
- ২৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় ২১ মার্চের মতো সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সেদিন সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে।
- ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে কিরণ বেশি দিতে থাকে।
- ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর এই দুদিন পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান হয়। সেদিনকে বিষুব (Equinox) বলে।
- ২১ মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল তাই একে বাসন্ত বিষুব (Vernal equinox) বলে।
- ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল। তাই ঐ দিনকে শারদ বিষুব (Autumnal equinox) বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৯১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলা হয়?
  1. প্রথম স্তর
  2. দ্বিতীয় স্তর
  3. তৃতীয় স্তর
  4. চতুর্থ স্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯২.
নিচের কোনটি বায়ুমন্ডলের তাপবলয় নয়?
  1. উষ্ণমন্ডল
  2. উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
  3. দক্ষিণ হিমমন্ডল
  4. অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

• তাপমন্ডল: বায়ুমন্ডলের তাপবলয়কে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। উষ্ণমন্ডল
২। উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৩। দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৪। উত্তর হিমমন্ডল এবং
৫। দক্ষিণ হিমমন্ডল।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- নিম্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা
। সমুদ্র থেকে দূরত্ব
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল
৭। ভূ-প্রকৃতি
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভুগোল ১ম পত্র,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৩.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সারা বছর তুষারপাত হয়
  2. সারা বছর গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়
  3. গ্রীষ্মে শুষ্ক ও শীতে বৃষ্টিপাত হয়
  4. তাপমাত্রার তারতম্য অনেক বেশি হয়
সঠিক উত্তর:
সারা বছর গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারা বছর গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।

⇒ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত। সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত। বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত। এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। অত্যধিক সূর্য তাপ ও আর্দ্রতা এবং সামান্য মেঘাচ্ছন্নতার জন্য তাপমাত্রার পার্থক্য কম। এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে। শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
১. সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
২. অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। দৈনিক প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, বিশেষ করে পরিচলন বৃষ্টি। 
৩. অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
৪. অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। 
৫. এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৪.
সমুদ্রের সম-লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখাকে কী বলা হয়?
  1. ক) আইসোহাইট
  2. খ) আইসোবার
  3. গ) আইসোথার্ম
  4. ঘ) আইসোহেলাইন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইসোহেলাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইসোহেলাইন
ব্যাখ্যা

- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোথার্ম : ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : ‍ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

১৯৫.
শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের আধিক্য রয়েছে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. আর্গন
  4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুক্র গ্রহ:
• সৌরজগতে মোট আটটি গ্রহ রয়েছে।
• এগুলো হলো: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, শনি, বৃহস্পতি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।
• এদের মধ্যে শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম ও পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ।
• শুক্র গ্রহকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরে পূর্ব আকাশে শুকতারা হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়।
• শুক্রের আকাশে বছরে দুইবার সূর্য উদিত ও অস্ত যায়।
• শুক্রের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের আধিক্যের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে।
• বুধ গ্রহের ন্যায় শুক্রেরও কোন উপগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য,
• সৌরজগতের গ্রহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রহ হলো বৃহস্পতি।
• সবচেয়ে ছোট গ্রহ বুধ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং নাসা।
১৯৬.
নিচের কোনটি এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী নয়? 
  1. কার্বন মনোঅক্সাইড
  2. সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন অক্সাইড
  4. সালফিউরিক এসিড 
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোঅক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

- কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী নয়। 

• এসিড বৃষ্টি: 

- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 

- এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ি দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পচন, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে।
- একইভাবে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বিশেষ করে কয়লা বা গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইট ভাটা, যানবাহন, চুলা ইত্যাদি উৎস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা এসিডে পরিনত হয় এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 

• এসিড বৃষ্টির কারণ: 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2). 
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3 এর) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়। 
 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
 
তথ্যসূত্র: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।  

১৯৭.
'সমুদ্রস্রোত' সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. পৃথিবীর আবর্তন
  3. সমুদ্রজলের লবণাক্ততার তারতম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒  'সমুদ্রস্রোত' সৃষ্টির প্রধান কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮.
নিচের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না?
  1. দ্রাঘিমারেখা
  2. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
  3. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান
  4. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা

• দ্রাঘিমারেখা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয়।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:
- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ,
২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা,
৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান,
৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান,
৫. বনভূমির অবস্থান,
৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৭. সমুদ্র স্রোত,
৮. বায়ুপ্রবাহ,
৯. বৃষ্টিপাত,
১০. ভূমির ঢাল, 
১১. জলীয়বাষ্প:
১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য,
১৩. বায়ুর আর্দ্রতা, 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৯.
২০১৫ সালের প্যারিস ‍চুক্তির সাথে সম্পর্কিত বিষয়বস্তু হলো -
  1. জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস
  2. সমুদ্র পরিবহন ব্যবস্থাপনা
  3. জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ
  4. জলবায়ু পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
জলবায়ু পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলবায়ু পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-২০১৫:
- প্যারিস চুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি ১২ ডিসেম্বর ২০১৫-এ ফ্রান্সের প্যারিসে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (COP21) গৃহীত হয়েছিল।
- এতে অংশগ্রহণকারী দেশ - ১৯৫টি এবং সংস্থা ১ টি (EU)।
- এটি ৪ নভেম্বর ২০১৬ এ কার্যকর হয়।

সূত্রঃ UNFCCC ওয়েবসাইট।
২০০.
নিরক্ষরেখায় সারা বছর কোন ঋতু থাকে?
  1. গ্রীষ্ম
  2. বর্ষা
  3. শরৎ
  4. শীত
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্ম
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

⇒  নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।