বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০০ / ১,০৯৬

.
জাতিসংঘের মতে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু শরণার্থী হবে -
  1. ক) ২ কোটি
  2. খ) ১ কোটি
  3. গ) ৩ কোটি
  4. ঘ) ৪ কোটি
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ কোটি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘের মতে ২০৫০ সালে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৩ ফুট।
• বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ভূমি ডুবে যাবে ১৭%।
• বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থী হবে আনুমানিক ৩ কোটি

তথ্যসূত্র:- জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
.
'এল নিনো’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
  1. ছোট ছেলে
  2. বড় ছেলে
  3. ছোট মেয়ে
  4. বড় মেয়ে
সঠিক উত্তর:
ছোট ছেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট ছেলে
ব্যাখ্যা
এল-নিনো  (El Nino) 
‘এল-নিনো’একটি স্প্যানিশ শব্দ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে। 
‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী। এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১২ মাস। 
এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়। এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।  
এল-নিনো সাধারণত প্রতি চার থেকে সাত বছরে একবার দেখা যায়।

অপরদিকে,   
লা-নিনা (La Lina)
‘লা-নিনা’ও একটি স্প্যানিশ শব্দ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট মেয়ে। 
‘লা-নিনা’  শীতল প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ। 
লা-নিনা’র সময় বেশি বৃষ্টি আর বেশি বন্যা দেখা যায় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে  কমে যায়। 
দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় লা-নিনা।  এর স্থায়ীত্ব ১-৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
দুই থেকে সাত বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসতে পারে।সাধারণত এল নিনো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লা-নিনার গঠন শুরু হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের জেলেরা প্রায় ১০০ বছর আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এটির নামকরণ করে।  

সূত্র: National Oceanic and Atmospheric Administration  
.
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় Green Climate fund বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কি পরিমাণ অর্থ মঞ্জুর করেছে?
  1. ক) ৮০ বিলিয়ন ডলার
  2. খ) ১০০ বিলিয়ন ডলার
  3. গ) ১৫০ বিলিয়ন ডলার
  4. ঘ) ২০০ বিলিয়ন ডলার
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০ বিলিয়ন ডলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

UNFCCC এর উদ্যোগে কপ - ১৬ সম্মেলনে ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে Green Climate Fund গঠিত হয়।

2009: The general concept for GCF is first proposed at the Conference of the Parties (COP) to the UNFCCC in Copenhagen, Denmark (COP 15).
2010: The COP in Cancun, Mexico (COP 16), decides to establish GCF.
Source:
https://www.greenclimate.fund/about/timeline

এর প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন শহরে অবস্থিত।
এর আকার হবে - ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা সরবরাহ করবে বিশ্বের উন্নত দেশ সমূহ এবং এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকিতে থাকা দরিদ্র্য ও উন্নয়শীল দেশ সমূহকে অর্থসংস্থান করা হবে।
এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া উন্নয়নশীল বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশের জন্যেও GCF ফান্ড থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
উন্নত দেশসমূহ এ ফান্ডে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।
(সূত্রঃ Green Climate Fund ওয়েবসাইট)

In 2009 at COP 15 in Copenhagen, in decision 2/CP.15, in the context of meaningful mitigation actions and transparency on implementation, developed countries decided to commit to a goal of mobilizing jointly USD 100 billion dollars a year by 2020 to address the needs of developing countries. Parties decided that this funding would come from a wide variety of sources, public and private, bilateral and multilateral, including alternative sources of finance, and that new multilateral funding for adaptation would be delivered through effective and efficient fund arrangements, with a governance structure providing for equal representation of developed and developing countries.
Source: un.org

.
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব কোনটি?
  1. উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
  2. খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
  3. পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা:
- দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় জেলা।
- খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।

অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব: 
- বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে,
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে,
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়,
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়,
- খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
ii) বিবিসি বাংলা [৩০ জুন ২০২৪]
.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ প্রধানত কোন জলবায়ুর অর্ন্তগত?
  1. ভূমধ্যসাগরীয় 
  2. মৌসুমী 
  3. নিরক্ষীয় 
  4. মহাদেশীয় 
সঠিক উত্তর:
মৌসুমী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমী 
ব্যাখ্যা

• মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের বর্ণনা:
- মৌসুমী বায়ু দ্বারা সৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত জলবায়ুকে মৌসুমী জলবায়ু বলে।
- বিশ্বের যেসব অঞ্চল দিয়ে মৌসুমী জলবায়ু প্রবাহিত হয় সেসব অঞ্চলকে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- মৌসুমী অঞ্চলের জলবায়ু মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের গতি প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে।

• অঞ্চল ও দেশ সমূহ:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মায়ানমার (বার্মা), থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, কম্পুচিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন, জাপান ও ফিলিপাইনের অংশ বিশেষে এ জলবায়ু বিরাজ করে।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. নিয়ত বায়ু
  2. অসাময়িক বায়ু
  3. সাময়িক বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
সঠিক উত্তর:
অসাময়িক বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসাময়িক বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহ (Movement of Wind): 
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়। 
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল।
- নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
- ঘূর্ণায়মান পৃথিবীপৃষ্ঠে গতিশীল পদার্থ (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও জলস্রোত) সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
- ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।

• বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা-
- নিয়ত বায়ু,
- সাময়িক বায়ু,
- স্থানীয় বায়ু
- অনিয়মিত বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়?
  1. ক) মেসোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) এক্সোমন্ডল
  4. ঘ) স্ট্রাটোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
খ) ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল
• বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
• এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়
• ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
• ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
• ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।      
.
ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধানত দায়ী কোনটি?
  1. সালফার ডাই অক্সাইড
  2. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  3. নাইট্রিক অক্সাইড
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের মধ্যে CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন হলো প্রধান।
 
- ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলেরই অংশ। ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার ওপর থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এ স্তরের বিস্তৃতি।
- ওজোন স্তর সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে আটকে দেয়। তাই মানুষসহ পৃথিবীতে প্রাণ টিকে থাকার জন্য ওজোন স্তর খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৮৫ সালে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন, পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের ওজোন স্তরে বড় ধরনের ছিদ্র তৈরি হচ্ছে। তখন পৃথিবীতে সিএফসি বা ক্লোরোফ্লোরোকার্বনের (CCl2F2) ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
- সূর্যের আলোয় সিএফসি এর অণু ভেঙে ক্লোরিন আলাদা হয়ে যায়। মুক্ত ক্লোরিন তখন ওজোন গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়ায় ক্লোরিন মনোঅক্সাইড (ClO) ও অক্সিজেন অণু (O2) তৈরি করে। 
- এর ফলে ওজোন স্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়। এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।
- এছাড়াও N2O, NO, CH4, BCF, CH3Br, CCl4 ইত্যাদি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের অন্তর্ভূক্ত।
 
উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিশ্বব্যাংক চিহ্নিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. মরুকরণ
  2. ভূমিকম্প
  3. বন্যা
  4. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো- মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান কোনটি?
  1. বারিপাত
  2. বায়ুর আর্দ্রতা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু:
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
 
জলবায়ু:
 - কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো:
- বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা ও বারিপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১.
নীল নদ কোন সাগরে পতিত হয়ছে? 
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. আরব সাগর
  3. লোহিত সাগর
  4. কৃষ্ণ সাগর
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা

• নীল নদ:
- নীল বিশ্বের দীর্ঘতম নদী।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে মিশরের নীল নদের উৎপত্তি। 
- এটি বিষুবরেখার দক্ষিণ থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়।
- মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার (৪,১৩২ মাইল)।
- নীল অববাহিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশ:তানজানিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।
- নীল নদের সর্বাধিক দূরবর্তী উৎস হল কাগেরা নদী, যা বুরুন্ডিতে অবস্থিত।
- নীল নদ আফ্রিকার অর্থনীতি ও কৃষিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে, বিশেষত মিশরের সভ্যতার বিকাশে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-‘মিশর নীল নদের দান’ বলেছেন - ইতিহাসের জনক ‘হেরোডোটাস’।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।  

১২.
বাংলাদেশে কোন সালে 'পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ আইন' প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৬ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০২ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ:
- ২০০২ সালে প্রণীত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন অনুযায়ী দেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২ অনুযায়ী -
- সকল বা যে কোন প্রকার পলিথিন শপিং ব্যাগ, বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরী অন্য কোন সামগ্রী বা অন্য যে কোন সামগ্রী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সমগ্র দেশে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এইরূপ সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানী, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করিবার বা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শতাধীনে ঐ সকল কার্যক্রম পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশ জারী করিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি বাধ্য থাকিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২।

১৩.
কখন সমুদ্রবায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) রাত্রিতে
  2. খ) মধ্যাহ্নে
  3. গ) অপরাহ্ণে
  4. ঘ) সকালে
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণে
ব্যাখ্যা

- দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত হয়। ফলে এ সময় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে সমুদ্রবায়ু বলে।
- এ বায়ু সকাল ১০টা থেকে প্রবাহিত হতে থাকে।
- বিকালে (অপরাহ্ণে) এ বায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।
- রাত ৩টায় স্থলবায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কত?
  1. ১০০০-২১০০ মি.মি.
  2. ১২০০-২৫০০ মি.মি.
  3. ১৭০০-২৫০০ মি.মি.
  4. ১৩০০-২৩০০ মি.মি.
সঠিক উত্তর:
১৭০০-২৫০০ মি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭০০-২৫০০ মি.মি.
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশসমূহ সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা এবং জলবায়ুর প্রভাবে চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য :
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়। এই বনাঞ্চলে সেগুন, মেহগনি, রাবার ইত্যাদি গাছ জন্মে।
গভীর এই বনাঞ্চলে সহজে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না বলে গাছগুলো সূর্যালোক পাওয়ার জন্য উঁচু হয়।
- অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং শান্ত বলয় বিরাজমান থাকে। ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে পরবর্তীতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।
- এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব কোন দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে? 
  1. নরওয়ে
  2. ফিনল্যান্ড
  3. সুইডেন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশে যথা-কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ  আমেরিকা প্রভৃতি দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
- এসব অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে, এটা তাদের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- তবে বিপরীতভাবে, এই পরিবর্তন পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
- বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উপকূলবর্তী বহু দেশে ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের অনেক বিখ্যাত উপকূলবর্তী শহর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- ফলে জলবায়ু পরিবর্তন একদিকে কিছু দেশের জন্য উপকার আনলেও, অধিকাংশ দেশের জন্য এটি গুরুতর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১৬.
সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি বায়ুমণ্ডেলের কোন স্তরে শুষে নেয়?
  1. মেসোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
•এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
• এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet rays) শুষে নেয়।
• ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
• এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
• ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
•  প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৭.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ২৯° এবং ১১°
  2. ৩৪° এবং ২১°
  3. ২৭° এবং ২০°
  4. ৩২° এবং ১১°
সঠিক উত্তর:
৩৪° এবং ২১°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৪° এবং ২১°
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
→ বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° এবং ১১° সেলসিয়াস।
→ এদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা ২৭° থেকে ৩২.২° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন গড় উষ্ণতা ১৩.২° থেকে ২১° সেলসিয়াস।
→ বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. বায়ু প্রবাহ
  2. বায়ুর আর্দ্রতা
  3. বায়ুর তাপ
  4. বায়ু চাপ
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ: 
- বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি।
- বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়।
-বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহের ধরনের ভিন্নরূপের কারণে (ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী) পৃথিবীর সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তে আবহাওয়া ও জলবায়ুতে পার্থক্য তৈরি হয়।
- একেক স্থানের বায়ুপ্রবাহের একেক মাত্রার জলীয়বাষ্পের উপস্থিতির কারণেই বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশার মত ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থারও তারতম্য দেখা যায়। সূর্যের তাপ বিকিরণ, তাপ বিচ্ছুরন ও জমি বা মাটির তাপ শোষণ - ক্ষমতাকেও এই বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত করে। যেমন- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র হাওয়া ও ভূমির তাপ শোষণ ক্ষমতায় বায়ু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণে নানা রকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি দ্বারাই বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র চালিত হয়,ফলে পৃথিবীব্যাপি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্নোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে।
- এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেন গ্যাস (Hydrogen Gas) :
- হাইড্রোজেন গ্যাস বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
- এটি সবচেয়ে হালকা মৌল একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত।
- NASA-এর Universe Glossary অনুসারে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সাধারণ পদার্থের (ordinary matter) প্রায় ৭৪% হাইড্রোজেন এবং ২৪% হিলিয়াম দিয়ে গঠিত। বাকি সব মৌল (অক্সিজেন, কার্বন, আয়রন ইত্যাদি) মিলিয়ে মাত্র ২%।
- মহাবিস্ফোরণ (Big Bang)-এর প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বেশিরভাগ হাইড্রোজেন সৃষ্টি হয়।
- সকল নক্ষত্রের (সূর্যসহ) মূল জ্বালানি হাইড্রোজেন। নক্ষত্রের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পরমাণু ফিউশনের মাধ্যমে হিলিয়ামে পরিণত হয়ে বিপুল শক্তি, আলো ও তাপ উৎপন্ন করে।
- আমাদের সূর্যেরও প্রায় ৭৪% উপাদান হাইড্রোজেন।
- ছায়াপথ (Milky Way), নীহারিকা, আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম ও পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্র হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য।
- হাইড্রোজেন না থাকলে কোনো নক্ষত্র জ্বলতে পারত না, আলো-তাপের সৃষ্টি হতো না, ছায়াপথ গঠিত হতো না এবং জীবনের কোনো সম্ভাবনাই তৈরি হতো না।

উৎস : NASA Science - Universe Glossary.

২০.
ওজোন স্তর সুরক্ষা এবং সংরক্ষণ বিষয়ক কনভেনশন -
  1. ক) মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. খ) বাসেল কনভেনশন
  3. গ) ভিয়েনা কনভেনশন
  4. ঘ) রামসার কনভেনশন
সঠিক উত্তর:
গ) ভিয়েনা কনভেনশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভিয়েনা কনভেনশন
ব্যাখ্যা

১৯৮৯ সালের ২২শে মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে ওজোন স্তর সুরক্ষা এবং সংরক্ষণে ভিয়েনা কনভেনশন গৃহীত হয়।
মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোন স্তর বিনষ্টকারী ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ কমানোর জন্য গৃহীত হয়৷
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

২১.
আলোক বর্ষ কোন ভৌত রাশির একক?
  1. আলোর তীব্রতা
  2. দূরত্ব
  3. সময়
  4. দ্রুতি
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
ব্যাখ্যা
• আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
২২.
বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় -
  1. ক) ৫ জুন
  2. খ) ১১ জুলাই
  3. গ) ১০ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৬ সেপ্টেম্বর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫ জুন
ব্যাখ্যা
• UNEP:
- জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP)
- UNEP-এর পূর্ণরুপ- United Nations Environment Programme 
- চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার প্রদান করে - UNEP
- সদর দপ্তর- নাইরোবি, কেনিয়া।

- প্রতিষ্ঠা লাভ করে- ৫ জুন, ১৯৭২ সালে।
- বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়-  ৫ জুন।
- সদস্য রাষ্ট্র- ১৯৩ টি।
- UNEP পরিবেশগত মাইলফলকের  ৫০ তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে- ২০২২ সালে।
-জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) নির্বাহী পরিচালক- ইঙ্গার অ্যান্ডারসন।

তথ্যসূত্র: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (UNEP)
২৩.
বাংলাদেশের জলবায়ু কি নামে পরিচিত?
  1. উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
  2. ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
  3. আদ্র মৌসুমী জলবায়ু 
  4. ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- সুতরাং ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- বায়ুর এ রূপ উৎপত্তির কারণ পানি এবং জলের উষ্ণতার তারতম্য।
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক তাপের জন্য উত্তর গোলার্ধের কোন স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের তাপ কম বলে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়।
- তখন দক্ষিণের উচ্চ চাপ অঞ্চল হতে বায়ু উত্তরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে।
- শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।
- অর্থাৎ ঋতুভেদে বায়ুচাপের পরিবর্তন দেখা হয়।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. বরিশাল
  2. দিনাজপুর
  3. রংপুর
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া:
→ বিশ্বে অতিরিক্ত শিল্পায়নের কারণে গ্রিনহাউস প্রুতিক্রিয়ার ফলো আমাদের দেশের সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালি জেলার অনেক অংশ সমুদ্রের জলমগ্ন হয়ে পড়বে।
→ এছাড়া ভূনিম্নস্থ পানিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫.
কোন জলবায়ু অঞ্চলকে বিশ্বের ফলের ঝুড়ি হয়?
  1. ক) তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল
  2. খ) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল
  3. গ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল
  4. ঘ) ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের উদ্ভিজ্জ এর জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল থাকে। 
- গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুস্ক থাকায় শীতকালের বৃষ্টির পানি গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত খাদ্য হিসেবে ধরে রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন বৃক্ষ ও ঝোপঝাড় এ অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিজ্জ। 
- এ অঞ্চলের গাছগুলোর কোনটির মূল দীর্ঘ, গাছের ছাল মোটা ও পুরু, কোন গাছের পাতা কন্টকাবৃত্ত, আবার কোন কোন গাছের পাতা তৈলাক্ত ও ভারি হয়।
- এ অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য উদ্ভিজ্জগুলোর মধ্যে জলপাই, নিম, চেষ্টনাট, ওক, পাইন, সিডার, কর্ক, তুত গাছ ইত্যাদি। 
- তবে কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে ছোট লতাগুল্ম ও ঝোপঝাড় ইত্যাদি বেশী জন্মায়। 
- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে এত বেশী ফল জন্মায় যে একে বিশ্বের ফলের ঝুড়ি (Fruits Basket of the World) বলা হয়। 
- উল্লেখযোগ্য ফলগুলো হলো আপেল, আঙ্গুর, কমলালেবু, ডুমুর, পীচ, বাদাম, আখরোট, খুবানী, জলপাই নাসপাতি ইত্যাদি ।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৬.
কোন বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. বাণিজ্য বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. অয়ন বায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-প্রকৃতির উপর আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভরশীল।
- পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে।
- যেমন- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়।
- তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।
- হিমালয় পবর্তের অবস্থানের জন্য শীতল সাইবেরীয় বায়ুর প্রভাবে হিমালয়ের উত্তরাংশের চীন ভূ-খন্ডে উষ্ণতা-১০° সেলসিয়াস থেকে -৫° সেলসিয়াস এবং দক্ষিণে ভারতীয় উপমহাদেশে ২০° সেলসিয়াস থেকে ২৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ কোন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে?
  1. মেসোমন্ডল
  2. আয়নমণ্ডল
  3. এক্সোমণ্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
আয়নমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বলা হয়।
- এই স্তরে বায়ু অত্যন্ত হালকা এবং বায়ু চাপ অত্যন্ত ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলা হয়।

তাপমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ১৪৮০° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
- তাপমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রা প্রায় স্থির থাকে।
- তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
২৮.
ফেরেলের সূত্রানুযায়ী দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ু কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ডাক দিকে
  2. বাম দিকে
  3. উপরের দিকে
  4. নিচের দিকে
সঠিক উত্তর:
বাম দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাম দিকে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে উৎপন্ন কোরিওলিস বলের প্রভাবে উচ্চতা অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু সোজা পথে না প্রবাহিত হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
 - বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা-নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
বাংলাদেশ ডেল্টাপ্লান- ২১০০ বাস্তবায়নে সহায়তাকারী দেশ কোনটি?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) জার্মানি
  4. ঘ) নেদারল্যান্ডস
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেদারল্যান্ডস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ঃ 
বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’।
-বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এটি।
-এই পরিকল্পনা ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।
-এই পরিকল্পনার মেয়াদ ১০০ বছর।
-এটি প্রণয়নে সহায়তা করছে নেদারল্যান্ডস।

উৎসঃ পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো।
৩০.
নিচের কোন জেলাগুচ্ছ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঢাকা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর
  2. বরিশাল, পটুয়াখালী, চাঁদপুর
  3. কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান
  4. রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এই অঞ্চলে খরার কারণগুলো নিম্নরূপ:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: এই অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায় এবং কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস পায় এবং খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: এই অঞ্চলে নদীপ্রবাহের পরিমাণ কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়, যার ফলে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংকট দেখা দেয়।
- আবহাওয়ার চক্র: এই অঞ্চলের আবহাওয়ার চক্রের কারণে খরার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম থাকে, যার ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণী ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
নিচের কোনটি জলবায়ুর প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত?
  1. অক্ষাংশ
  2. উচ্চতা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থা।
- অর্থাৎ জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল নয়।
- আবহাওয়ার থেকে জলবায়ুর পার্থক্য হলো আবহাওয়া কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- জলবায়ু বলতে কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- বাংলাদেশের ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ জলবায়ুর দেশ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
সিলেট এলাকায় কোন প্রকারের বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ঘূর্ণিবাত
  2. পরিচলন
  3. শৈলোৎক্ষেপ
  4. সংঘর্ষ
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ
ব্যাখ্যা

বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
- বৃষ্টিপাতের ৪টি প্রকারভেদ হলো: পরিচলন বৃষ্টিপাত, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত, সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।
​ 
⇒ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
​ 
এছাড়াও
​- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালেও অধিক সূর্যতাপ থাকার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে আকাশে মেঘ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা উপলব্ধি করা যায় না।
- বর্ষাকালে অধিক জলীয়বাষ্পের কারণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়।
- বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
বাংলাদেশে 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করেছিল - 
  1. যুক্তরাজ্য
  2. রাশিয়া
  3. ভারত
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে এবং এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা।
৩৪.
পৃথিবীতে কয়টি উচ্চচাপ বলয় আছে?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
বায়ুচাপ বলয়:
- ভূ-পৃষ্ঠে নানা প্রকার ও আকৃতির বায়ুচাপ বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপৃষ্ঠে প্রধানত ৭টি চাপ বলয় রয়েছে।
- এদের ৩টি নিম্নচাপ বলয় ও ৪টি উচ্চচাপ বলয়।

• এগুলো হলো:
১.নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২.উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৩.দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৪. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৫.মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৬.উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
৭.দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৩৫.
বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে কতটি ভাগে ভাগ করা করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের উপাদান:
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমন্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%।
- অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমন্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমন্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমন্ডল (Heterosphere) বলে।

• বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা করা যায়। যথা-
ক. গ্যাসীয় উপাদান (Composition of Gases):
খ. জলীয়বাষ্প (Water Vapour):
গ. ধূলিকণা (Dust):



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
কত বছরের গড় আবহাওয়াকে কোনো অঞ্চলের জলবায়ু বলে?
  1. ১০-২০ বছর
  2. ২০-৩০ বছর
  3. ২৫-৪০ বছর
  4. ৩০-৪০ বছর
সঠিক উত্তর:
৩০-৪০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০-৪০ বছর
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু:
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।
- অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত  ইত্যাদি নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায়।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ :
১. অক্ষাংশ ২. উচ্চতা ৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব ৪. স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান ৫. সমুদ্রস্রোত ৬. ভূমির ঢাল ৭. ভূ-প্রকৃতি ৮. বায়ুপ্রবাহ ৯. বায়ুর চাপ এবং ১০. বনভূমির অবস্থান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
পৃথিবীতে কয়টি উচ্চচাপ বলয় রয়েছে? 
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

চাপ বলয়:
- পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি।
- এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।
• এগুলো হলো:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়;
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়;
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়;
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়;
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়;
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. আহ্নিক গতি
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. বার্ষিক গতি
  4. বায়ুর ঘনত্ব
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
• জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো-
- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি ৷

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. মিথেন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ হিসেবে বলা হয় যে, মানুষের নেতিবাচক কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহের উপস্থিতির মাত্রার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যাকে আমরা গ্রিনহাউস প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করি।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাসগুলো হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন ও ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- শিল্পায়ন, যানবাহনের সংখ্যাগত বৃদ্ধি, বনাঞ্চল উজাড় ও কৃষির সম্প্রসারণ ইত্যাদি কর্মকান্ডের কারণে উল্লিখিত গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশে অধিক বৃষ্টিপাত, ব্যাপক বন্যা, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়, খরা প্রভৃতি জলবায়ুগত পরিবর্তন সাধিত হতে পারে।
- পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল পৃথিবী ও তার পরিবেশকে এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মতো দেশসমূহকে এর বিশ্ব উষ্ণায়নের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪০.
কোন মৌসুমে গমের চাষ ভালো হয়?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. শীতকাল
  3. বর্ষাকাল
  4. বসন্তকাল
সঠিক উত্তর:
শীতকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতকাল
ব্যাখ্যা
গম চাষ: 
- গম চাষের জন্য শীতকাল বা রবি মৌসুম সবচেয়ে উপযুক্ত।
- এ সময়ে তাপমাত্রা ১৫-২০° সেন্টিগ্রেড থাকার কারণে গমের বৃদ্ধি ও বিকাশ ভালো হয়।
- শীতকালে পর্যাপ্ত শুষ্ক এবং রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ দানার গুণগত মান উন্নত করে।
- তাপমাত্রা ৩০-৩৫° সেন্টিগ্রেড ছাড়ালে গমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
- শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ সীমিত থাকলেও গম খরা সহিষ্ণু। তাই, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে শীতকালে গমের চাষ সবচেয়ে লাভজনক।

উল্লেখ্য: 
দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, জামালপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় বেশি চাষ হয়।
- বাংলাদেশে গমের অনেক উচ্চফলনশীল অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- তন্মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ, বিজয় ইত্যাদি জাত জনপ্রিয়।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য পোর্টাল।
৪১.
বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত কোথায় হয়?
  1. শ্রীমঙ্গল
  2. লালাখাল
  3. লালপুর
  4. নানিয়ারচর
সঠিক উত্তর:
লালপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত:
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: নাটোর জেলার লালপুর।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত: সিলেট জেলার লালাখাল।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত: ২০৩ সেন্টিমিটার।
- বৃষ্টিপাতের তারতম্য: দেশের পূর্বাঞ্চলে বেশি এবং পশ্চিমাঞ্চলে কম বৃষ্টিপাত হয়।
- বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ গ্রীষ্মকালে হয়, আর শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান:
- উষ্ণতম স্থান: নাটোর জেলার লালপুর।
- শীতলতম স্থান: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম-দশম শ্রেণি) এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪২.
মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার কারণ কী?
  1. ক) বৃষ্টিহীনতা
  2. খ) উন্মুক্ত প্রান্তর
  3. গ) অত্যধিক তাপমাত্রা
  4. ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকার গঠন বা বুনট সূর্যতাপ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
প্রস্তর বা বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম। এজন্য তা দ্রুত উত্তপ্ত এবং দ্রুত শীতল হয়। তাই মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৪৩.
কোন অঞ্চলে সাধারণত সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  4. ভূমধ্যস্থলীয় অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়

• নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে  মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমন্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
- নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ যথেষ্ট উত্তপ্ত হলেও উপরের বায়ুমন্ডল বেশ শীতল থাকে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠের জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে পতিত হয়।

উৎস: ভগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৪৪.
নিচের কোনটির দ্বারা ‍ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. অগ্ন্যূৎপাত
  4. সুনামি
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। যে সমস্ত কার্যাবলির কারণে প্রাকৃতিকভাবে ‍ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূ-প্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ধীর ও আকস্মিক দুভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে।

ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন যেসব শক্তির দ্বারা সংঘটিত হয়, সেগুলো হলো:
- সূর্যতাপ
- বায়ুপ্রবাহ
- বৃষ্টিপাত
- নদী
- হিমবাহ প্রভৃতি।
ধীর পরিবর্তন সাধারণত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি কারণে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সাধিত হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৫.
কক্সবাজারের জলবায়ু কীরূপ জলবায়ু?
  1. ক) মৃদুভাবাপন্ন
  2. খ) চরমভাবাপন্ন
  3. গ) অনিয়তভাবাপন্ন
  4. ঘ) নিয়তভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
ক) মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
মৃদুভাবাপন্ন :
- কক্সবাজারের জলবায়ুকে বলা হয় মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু।
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন ।
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয় ৷
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয় ৷
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
ভূগোলের কোন শাখায় বায়ুর গঠন, বায়ুপ্রবাহ, আবহাওয়া ও জলবায়ু ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়?
  1. Geographic Information System
  2. Bio-Geography
  3. Geomorphology
  4. Climatology
সঠিক উত্তর:
Climatology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Climatology
ব্যাখ্যা
ভূগোলের শাখা: 
- ভূগোলের প্রধান দুইটি শাখা রয়েছে। 
• প্রাকৃতিক ভূগোল ও মানব ভূগোল।

i) প্রাকৃতিক ভূগোল: 
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে। 
- প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ - 

১। ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): 
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে। 

২। জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): 
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। 

৩। সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): 
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র। এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। 

৪। মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): 
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে। 

৫। জীব ভূগোল (Bio-Geography): 
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে। 

৬। গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): 
- গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমণ্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ু?
  1. অয়ন বায়ু
  2. উপত্যকা বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. পশ্চিমা বায়ু
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

​নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

​সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

​স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

​অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায় বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা

এক্সোমন্ডল : 
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এক্সোমন্ডল স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
- এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- স্ট্রাটোমণ্ডলে ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯.
আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. অক্ষাংশ
  2. উচ্চতা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক নয়- জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

∗ সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক:
- আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- ভূমির ব্যবহার যেমন: কৃষি ও বনভূমি স্থানীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাকে প্রভাবিত করে।
- বন উজাড় হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, আর বন ও জলাভূমি কার্বন শোষণ করে পরিবেশকে তুলনামূলক শীতল রাখে।
- শহুরে এলাকায় ভবন, রাস্তা ও কংক্রিট কাঠামো তাপ ধরে রাখে।
- এর ফলে শহরে তাপমাত্রা বেশি থাকে—যাকে নগর তাপ দ্বীপ প্রভাব বলা হয়।
- পরিবহন ব্যবস্থা ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্রিনহাউস গ্যাস স্থানীয় বায়ুর গুণমান ও তাপমাত্রা বাড়ায়।
- নদী, জলাভূমি ও জলাধারের মতো প্রাকৃতিক জলসম্পদ বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা আঞ্চলিক জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- এছাড়া সাধারণ ভৌগোলিক নিয়ামকও গুরুত্বপূর্ণ-
• অক্ষাংশ সূর্যের তাপ প্রাপ্তির তারতম্য ঘটায়।
• উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে যায়।
• আর সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় জলবায়ু সাধারণত মৃদু হয়।
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: 
১. ভূগোল ১ম পত্র,  এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান এবং শক্তিশালী ঝড়-বৃষ্টির জন্য পরিচিত বায়ু কোনটি?
  1. অয়ন বায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3.  ঘূর্ণিবাত
  4. মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
 ঘূর্ণিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ঘূর্ণিবাত
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিবাত :
- ঘূর্ণিবাত হল স্থানীয় বায়ুর একটি প্রকারভেদ।
- ঘূর্ণিবাত হলো নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান একটি শক্তিশালী বায়ু;
- যা শীতল বা শুষ্ক অঞ্চল থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- বাতাস কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর উপরের দিকে উঠে যায়।
- উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিবাত ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং
- দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।
- শীতল ও ঘন বায়ু উষ্ণ ও হালকা বায়ুর দিকে প্রবাহিত হলে নিম্নচাপ তৈরি হয়;
- যা এই ঘূর্ণায়মান বায়ুকে আরও শক্তিশালী করে এবং তীব্র ঝড় ও বৃষ্টির কারণ হয়।

উৎস :
Britannica.
ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১.
স্ট্রাটোমন্ডলের উচ্চতা কত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত?
  1. ৫০ কিলোমিটার
  2. ৭০ কিলোমিটার
  3. ৯০ কিলোমিটার
  4. ১০০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৫০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O₃) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২.
বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের মধ্যে নিচের কোনটির উপস্থিতি সর্বোচ্চ?
  1. অক্সিজেন
  2. আরগন
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয়বাষ্প
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর।
- এর গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।
- বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় এটাও উল্লেখ করেন যে এই বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- বায়ুমন্ডলের একটির উপর আরেকটি পর্যায়ক্রমে অবস্থিত। সাধারণত উপরের স্তরের বায়ু নিচের বায়ুস্তরে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
- বায়ুর এই চাপের জন্যই পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে।
- তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব সব থেকে বেশি দেখা যায়।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ,
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ,
- আরগন: ০.৮০ শতাংশ,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ০.০৩ শতাংশ,
- অন্যান্য গ্যাস ০..০২ শতাংশ,
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ শতাংশ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩.
নিচের কোন দেশটিতে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. সিঙ্গাপুর
  3. মালয়েশিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্য্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ কত সালে প্রকাশ হয়?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০১ সালে
ব্যাখ্যা
ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ:
- প্রতি মাসের এবং বছরের গড় আবহাওয়া এবং শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও শুষ্কতার মাত্রার উপর ভিত্তি করে ভ্লাদিমির কোপেন ১৯০১ সালে প্রথম পৃথিবীর জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ প্রকাশ করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে সংশোধনের পর চূড়ান্তভাবে এই শ্রেণিবিভাগ প্রকাশিত হয়।
- প্রাকৃতিক উদ্ভিদকে সামগ্রিক জলবায়ুর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরে এই শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
- গড় মাসিক তাপমাত্রা ও প্রধান উদ্ভিজ্জ অঞ্চলকে মূল্যায়ন করে কোপেন জলবায়ু অঞ্চলকে ৫ ভাগে ভাগ করে ইংরেজি বর্ণমালার A থেকে E পর্যন্ত নাম দেন।

তথ্যসূত্র: (পৃষ্ঠা নং ১৪৯) ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
IFRC এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের ১৭৩টি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) অষ্টম
  2. খ) ষষ্ঠ
  3. গ) নবম
  4. ঘ) সপ্তম
সঠিক উত্তর:
ক) অষ্টম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অষ্টম
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক নিয়মে প্রতিনিয়ত আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন হয়। কিন্তু যখন আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের স্থায়ী পরিবর্তন হয়, তখন তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে।
• বিশ্বের সামগ্রিক পরিবেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
• আইএফআরসি এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট, ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের ১৭৩টি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। যেমন- 
১। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হার ও মাত্রা বৃদ্ধি পাছে।
২। আকস্মিক বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে।
৩। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে খরা দেখা যাচ্ছে।
৪। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

তথ্যসূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
নিচের কোনটি মৌসুমি বায়ুর ক্ষেত্রে সত্য? 
  1. সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয়
  2. প্রতিদিন দিক পরিবর্তন করে
  3. ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে
  4. কেবল সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় 
সঠিক উত্তর:
ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা

- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে মৌসুমি বায়ু। 

মৌসুমি বায়ু (Monsoon Wind):
- আরবি ভাষায় 'মওসুম' শব্দের অর্থ ঋতু।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে। সেজন্য মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়। 
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এর ফলে কর্কটক্রান্তি অঞ্চলের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত, মধ্য এশিয়া প্রভৃতি স্থানের স্থলভাগ অতিশয় উত্তপ্ত হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়।
- এ বায়ুকে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু বলে।
- নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। - এজন্য গ্রীষ্মের এ বায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী।

৫৭.
জোয়ার-ভাটার কারণ কোনটি?
  1. সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহ
  2. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
  3. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব।
  4. 'খ' এবং 'গ' উভয়
সঠিক উত্তর:
'খ' এবং 'গ' উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'খ' এবং 'গ' উভয়
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটার:
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো- 
(১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং 
(২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।

উল্লেখ্য,
⇒ জোয়ার ও ভাটা (High Tide and Low Tide): সমুদ্র এবং উপকূলবর্তী নদীর জলরাশি প্রতিদিনই কোনো একটি সময়ে ঐ জলরাশি ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে এবং কিছুক্ষণ পরে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
- জলরাশির এরকম নিয়মিত স্ফীতি এবং ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮.
দেশজ উপাদান ব্যবহার করে আর্সেনিক মুক্ত করার পদ্ধতির আবিষ্কারক কে?
  1. ক) ড. এম.এ.বাশার
  2. খ) ড. আজাদ
  3. গ) ড. ইউনুস
  4. ঘ) ড. আবুল হুসসাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. আবুল হুসসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. আবুল হুসসাম
ব্যাখ্যা
ভূগর্ভস্থ আর্সেনিকযুক্ত পানি পরিশোধন যন্ত্র 'সনো ফিল্টার' আবিষ্কার করেন ড. আবুল হুসসাম। উৎসঃ প্রথম আলো
৫৯.
বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
  1. মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্রে বায়ুর অস্তিত্ব
  2. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর প্রবাহ মাত্রা
  3. ভূ-পৃষ্ঠ ও তার চারিদিকের বায়বীয় আবরণ
  4. বায়ুর উর্ধ্বমুখী চাপ
সঠিক উত্তর:
ভূ-পৃষ্ঠ ও তার চারিদিকের বায়বীয় আবরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূ-পৃষ্ঠ ও তার চারিদিকের বায়বীয় আবরণ
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত আছে তাকে বায়ুমন্ডল বলে।
- বায়ুমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।
বায়ুমণ্ডলের একটির উপর আরেকটি স্তর আছে। ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি বা সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব বেশি ও উর্ধ্বদিকে এই ঘনত্ব কমতে থাকে।

- বায়ুমণ্ডলের উপাদান মূলত বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণ।
- বায়ুমণ্ডলের এই সব গ্যাসীয় উপাদানের মধ্যে শুদ্ধ উপাদান হলো অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন, বাকী উপাদান হলো কৃত্রিম বা অশুদ্ধ উপাদান।
- এই সব গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকাসমূহ বায়ুমন্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
'SPARRSO' কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?
  1. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  2. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

• SPARRSO:
- SPARRSO এর পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organization.
- স্পারসো হলো একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা যা জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণা এবং বাংলাদেশে মহাকাশ প্রযুক্তির প্রয়োগের সাথে জড়িত।
- স্পারসো পরিবেশগত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণায় JAXA, NASA এবং ESA-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
- স্পারসো হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংস্থা।
- এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কোম্পানিটি ল্যান্ডস্যাট এবং এনওএ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে ভূমি জরিপ চালায়।
- বাংলাদেশের স্যাটেলাইট চিত্র স্পারসো-এর তত্ত্বাবধানে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬১.
'তাকলামাকান মরুভূমি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) চীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
তাকলামাকান মরুভূমি মধ্য এশিয়ার অন্তর্গত চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে অবস্থিত এবং বিশ্বের বৃহত্তম বালুকাময় মরুভূমিগুলির মধ্যে অন্যতম।
•বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান।
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৬২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম আদ্রতার স্থান কোনটি?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) নাটোর
  3. গ) পাবনা
  4. ঘ) পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর:
গ) পাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাবনা
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিসীমাটি হল কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৭৮.১% থেকে পাবনায় সবনিম্ন ৭০.৫% পর্যন্ত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬৩.
ভ্লাদিমির কোপেন জলবায়ু অঞ্চলকে কয়টি ভাগে ভাগ করেন?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ:
- প্রতি মাসের এবং বছরের গড় আবহাওয়া এবং শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও শুষ্কতার মাত্রার উপর ভিত্তি করে ভ্লাদিমির কোপেন ১৯০১ সালে প্রথম পৃথিবীর জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ প্রকাশ করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে সংশোধনের পর চূড়ান্তভাবে এই শ্রেণিবিভাগ প্রকাশিত হয়।
- প্রাকৃতিক উদ্ভিদকে সামগ্রিক জলবায়ুর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরে এই শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
- গড় মাসিক তাপমাত্রা ও প্রধান উদ্ভিজ্জ অঞ্চলকে মূল্যায়ন করে কোপেন জলবায়ু অঞ্চলকে ৫ ভাগে ভাগ করে ইংরেজি বর্ণমালার A থেকে E পর্যন্ত নাম দেন।

তথ্যসূত্র: (পৃষ্ঠা নং ১৪৯) ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪.
আবহাওয়ার উপাদান নয় কোনটি?
  1. বারিপাত
  2. বায়ুর তাপ
  3. বায়ুর চাপ
  4. সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো: 
- বায়ুর তাপ, 
- বায়ুর চাপ, 
- বায়ু প্রবাহ, 
- বায়ুর আর্দ্রতা, 
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।

অন্যদিকে,
- সমুদ্রস্রোত ও ভূমির ঢাল আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৫.
কোন ধরনের বৃষ্টিপাতের কারণে তিব্বতের মালভূমি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণি বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায়, তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়।
- তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- পর্বত অতিক্রম করে ঐ বায়ু যখন পর্বতের অপর পার্শ্বে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে (Leeward slope) এসে পৌঁছায়, তখন জলীয়বাষ্প কমে যায়।
- এছাড়া নিচে নামার ফলে ঐ বায়ু উষ্ণ ও আরও শুষ্ক হয়। এ দুটো কারণে এখানে বৃষ্টি বিশেষ হয় না।
- এরূপ প্রায় বৃষ্টিহীন স্থানকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain-shadow region) বলে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাধা পেয়ে আসাতে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- কিন্তু তার উত্তর দিকে অবস্থিত তিব্বতের মালভূমিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৬.
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের শীতলতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. জুন 
  3. জুলাই
  4. ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

মৌসুমি জলবায়ু:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু।
- ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপসমূহের দেশগুলো, পূর্ব আফ্রিকা, পূর্ব ব্রাজিল, উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ চীন ও জাপান, থাইল্যান্ড, কম্পুচিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার অর্থাৎ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, লাওস, মালাগাছি দ্বীপও এই জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
- মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অধিক গরম ও শীতকালে শীত পড়ে। জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি গরম ও জানুয়ারি মাসে বেশি শীত পড়ে। গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকাল শুষ্ক এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা গড়ে ২৭° সে. এর বেশি থাকে এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ১০ সে. থেকে ২২° সে. এর মধ্যে থাকে। শীত ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রার পার্থক্য ৫° সে. থেকে ১০° সে. হয়।

- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়। কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

- আবার শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তির নিকট অবস্থান করায় সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। উত্তর গোলার্ধের স্থলভাগ শীতল হওয়ার জন্য সেস্থানে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়। উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু দক্ষিণে নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই তাকে বলা হয় উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু এবং স্থলভাগে প্রবাহিত হয় বলে এই বায়ু জলীয়বাষ্পহীন।

- মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত বেশি হয় কিন্তু শীতকাল শুষ্ক থাকে। গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১২৫ সে.মি. থেকে ২০০ সে.মি.। তবে অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাও এই জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায়। কখনো কখনো পর্বতের ঢালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বায়ু উপরে উঠে যায় ফলে বৃষ্টিপাত হয়।

- এই জলবায়ু অঞ্চলে উর্বর ভূমি ও পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য উপকারী। উর্বর মাটি ও বৃষ্টিপাত, পর্যাপ্ত সূর্যালোক মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে পর্ণমোচী ও চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমির বিস্তার ঘটায়। চিরহরিৎ বৃক্ষের বনাঞ্চলে ২০০ সে.মি এর বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং তৃণভূমি অঞ্চলে ৫° সে.মি থেকে ১০০ সে.মি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭.
বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
  1. ১০৩ মিলিমিটার
  2. ২০৩ মিলিমিটার
  3. ১০৩ সেন্টিমিটার
  4. ২০৩ সেন্টিমিটার
সঠিক উত্তর:
২০৩ সেন্টিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলাদেশে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১° সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (ক) গ্রীষ্মকাল, (খ) বর্ষাকাল ও (গ) শীতকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৮.
‘সেক্সট্যান্ট’ যন্ত্রের সাহায্যে নিচের কোনটি পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) দ্রাঘ্রিমাংশ
  2. খ) গ্রহ থেকে গ্রহের দূরত্ব
  3. গ) সূর্যের উন্নতি কোণ
  4. ঘ) সমুদ্রের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
গ) সূর্যের উন্নতি কোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সূর্যের উন্নতি কোণ
ব্যাখ্যা

সেক্সট্যান্টঃ
যে যন্ত্রের সাহায্য সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে।
সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

৬৯.
মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব কোথায় সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া
  2. খ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
  3. গ) মধ্য এশিয়া
  4. ঘ) উত্তর-পূর্ব এশিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশের কোন না কোন অংশে মৌসুমী জলবায়ু পরিদৃষ্ট হলেও এশিয়ার দক্ষিন-পূর্বাংশেই এর প্রভাব বেশী পরিদৃষ্ট হয়। 
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মায়ানমার (বার্মা), থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, কম্পুচিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন, জাপান ও ফিলিপাইনের অংশ বিশেষে এ জলবায়ু বিরাজ করে।
- এছাড়া আফ্রিকার সোয়াজিল্যান্ড, মালাগাছি ও মোজাম্বিক; উত্তর ও মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো; যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল, জ্যামাইকা, বাহামা, হাইতি, কিউবা, পানামা, কোষ্টারিকা, নিকারাগুয়া, গুয়েতেমালা ও এলসালভেদরেও এ জলবায়ু পরিদৃষ্ট হয়।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল, দক্ষিন আমেরিকার ব্রাজিল ও উরুগুয়ের পূর্বাংশ এবং কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলার
উত্তরাংশে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল পরিদৃষ্ট হয়।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭০.
বাংলাদেশে কোন মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শীতকাল শুষ্ক এবং ঠান্ডা হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  3. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  4. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ু এমন এক প্রকার বায়ু যা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে দিক পরিবর্তন করে।
- এর নামটি আরবি "মত্তসুম" শব্দ থেকে এসেছে, যার মানে ঋতু।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক এবং ঠান্ডা হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু (শীতকালীন) প্রভাবে শীতকাল শুষ্ক এবং ঠান্ডা হয়।

উল্লেখ্য, 
- বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে। কিন্তু শীতকালে এর বিপরীত অবস্থা ঘটে।
- শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

এছাড়াও, মৌসুমি বায়ুর বৈশ্বিক প্রভাব:
- বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক।
- শীতকালে শুষ্ক বায়ুর প্রভাব কৃষি ও পরিবেশে পরিবর্তন আনে।
- দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও জীবনযাত্রার উপর মৌসুমি বায়ুর বিশাল প্রভাব রয়েছে।
- এটি বৃষ্টি সরবরাহ করায় ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সহায়ক।
- দক্ষিণ এশিয়া ছাড়াও আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া মৌসুমি বায়ু প্রবাহ দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি) প্রোগ্রাম।
৭১.
বাংলাদেশের উষ্ণতাম মাস কোনটি?
  1. এপ্রিল
  2. মার্চ
  3. মে
  4. জুন
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ু :
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- এ জলবায়ু 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু' নামে পরিচিত।
• শীতকাল:
- প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতকাল।
• গ্রীষ্মকাল:
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল।
- এটিই দেশের উষ্ণতম ঋতু।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- গড় হিসেবে উষ্ণতম মাস এপ্রিল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭২.
পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে কী বলা হয়?
  1. কক্ষপথ
  2. বিষুবরেখা
  3. দ্রাঘিমা রেখা
  4. প্রান্তরেখা
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা
ব্যাখ্যা
• বিষুবরেখা/ নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত।
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। অর্থাৎ পৃথিবীর মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত এর মান ০°।
- তাহলে আমরা বলতে পারি যে, পৃথিবীর ০ ডিগ্রি অক্ষাংশকে মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত বলা হয়।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩.
যে তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু এর মধ্যে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় সেই তাপমাত্রাকে কী বলে?
  1. হিমাঙ্ক
  2. গলনাঙ্ক
  3. শিশিরাঙ্ক
  4. কুরী তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
শিশিরাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশিরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু সর্বাধিক যে পরিমান জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে তাকেই সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প বলে।

অসম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু সর্বাধিক যে পরিমান জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে তার থেকে কম থাকলে তাকেই অসম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প বলে।

শিশিরাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারাই সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক।
যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪.
নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে কখন পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়?
  1. শীতকালের শুরুতে
  2. গ্রীষ্মকালের শুরুতে
  3. বর্ষাকোলের শুরুতে
  4. শরৎকালের শুরুতে
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মকালের শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মকালের শুরুতে
ব্যাখ্যা

- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

পরিচলন বৃষ্টিপাত (Conventional Rainfall):

- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায় ।
- এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে।এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত।
- পরিচলন বৃষ্টিতে বায়ুর তাপ হ্রাস পেয়ে যখন অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় তখন এ ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
- নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়।
- এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই বিকেলে ও সন্ধ্যায় এ ধরনের বৃষ্টি হয়।
- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম প্রত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫.
জলীয়বাষ্প একদম থাকে না কোন বায়ুতে?
  1. আর্দ্র বায়ু
  2. শুষ্ক বায়ু
  3. পশ্চিমা বায়ু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity):
- জলীয়বাষ্প বায়ুর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প যখন একদম থাকে না, তাকে শুষ্ক বায়ু বলে।
- যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে, তাকে আর্দ্র বায়ু বলে।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ থাকে প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ।
- বায়ুর আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) দ্বারা পরিমাপ করা হয়।
- বায়ুর আর্দ্রতা দু'ভাবে প্রকাশ করা যায়।যথা-
- পরম আর্দ্রতা (Absolute humidity) ও 
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative humidity)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬.
বাংলাদেশে কোন সময়ে 'আশ্বিনের ঝড়' সংঘটিত হয়ে থাকে?
  1. গ্রীষ্মের শুরুর দিকে
  2. গ্রীষ্মের শেষের দিকে
  3. বর্ষার শুরুর দিকে
  4. বর্ষার শেষের দিকে
সঠিক উত্তর:
বর্ষার শেষের দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষার শেষের দিকে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রাবাহ:
- বর্ষার শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরে মাঝে মাঝে ঝড়ের উৎপত্তি হয় এবং ঘূর্ণিঝড় উত্তর ও উত্তর-পূর্বদিক হতে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশের উপকূল ভাগে আঘাত হানে।
- এ ঝড়ের গতিবেগ প্রায় ১০০ মাইলেরও অধিক।
- ফলে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত এলাকার ব্যাপক অবর্ণনীয় ক্ষতি সাধন হয়।
- বাংলাদেশে এ সময়ের ঝড়কে 'আশ্বিনের ঝড়' বলে এবং এ ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি হয়। 

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. রাশিয়া
  3. ফিলিপাইন
  4. মালয়েশিয়া
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা
• 'রাশিয়া' - নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয়।
------------------------ 
• নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের অবস্থান ও দেশসমূহ:
নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত। সূর্যের উত্তরায়ণ ও
দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
এছাড়াও,
নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা কতবার বাংলার রাজধানী ছিল?
  1. ৩ বার
  2. ৪ বার
  3. ৫ বার
  4. ৬ বার
সঠিক উত্তর:
৪ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বার
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ সালে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
-  ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
-  ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

অর্থাৎ,
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০ সাল, ১৬৬০ সাল, ১৯০৫ সাল ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানী ছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৯.
আইসোহাইট কী?
  1. ক) ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
  2. খ) সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা
  3. গ) ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
  4. ঘ) ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
সঠিক উত্তর:
গ) ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
ব্যাখ্যা
• আইসোহাইট: ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
• আইসোহেলাইন: সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
• আইসোথার্ম: ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা। 
• আইসোবার: ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা। 

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
কোন মাসে বাংলাদেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে?
  1. নভেম্বর
  2. ডিসেম্বর
  3. জানুয়ারি
  4. ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে দেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।

তাপমাত্রা:
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

বায়ু প্রবাহ:
উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালের বাতাসের আদ্রতা অত্যন্ত কম থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আদ্রতা - ৩৬ ভাগ।

বৃষ্টিপাত:
শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে উত্তর - পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।
-  এর পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের অধিক নয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
৮১.
বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) জলীয়বাষ্প
  4. ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুর উপাদানের শতকরা হার

⇒ নাইট্রোজেন - ৭৮.০২
⇒ অক্সিজেন - ২০.৭১
⇒ কার্বন ডাই-অক্সাইড - ০.০৩
⇒ অন্যান্য গ্যাসমূহ  - ০.০২
(ওজোন, মিথেন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম ও ক্রিপটন)
⇒ জলীয়বাষ্প - ০.৪১
⇒ ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায় বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল : 
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।

• ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম।
- এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
- ট্রপোমন্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায় কোনটির জন্য?
  1. মৃত্তিকার গঠন
  2. ভূমির ঢাল
  3. উচ্চতা
  4. মেঘ
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর একটি নিয়ামক হলো উচ্চতা।
উচ্চতা:
- উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়। 
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬°/৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়।
দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. ক) স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
  2. খ) স্ট্রেটাস
  3. গ) নিম্বোস্ট্রেটাস
  4. ঘ) সিরাস
সঠিক উত্তর:
গ) নিম্বোস্ট্রেটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিম্বোস্ট্রেটাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৮৫.
নিয়ত বায়ু কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
 • নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় নিয়ত বায়ু।

- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। যথা:
• অয়ন বায়ু,
• পশ্চিমা বায়ু ও
• মেরু বায়ু।
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে সদা প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয়- অয়ন বায়ু।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬.
কোন অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) মধ্যপ্রাচ্য
  2. খ) দূরপ্রাচ্য
  3. গ) আমেরিকা
  4. ঘ) দক্ষিণ এশিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমেরিকা
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ‘সাইক্লোন’ নামে পরিচিত।
- তবে, দূরপ্রাচ্যে ‘টাইফুন’ নামে এবং আমেরিকা অঞ্চলে ‘হ্যারিকেন’ নামে পরিচিত।
- ঘূর্ণিঝড় হলো ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি, বজ্র ও প্রচন্ড ঘূর্ণি বাতাস সংবলিত আবহাওয়ার একটি নিম্ন-চাপ প্রক্রিয়া।
- ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা)
৮৭.
মৌসুমী স্রোত কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
ক) ২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী স্রোত (Monsoon Current):
- উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী স্রোত বলে।
- গ্রীষ্মকালে এটি পশ্চিম হতে পূর্বদিকে এবং শীতকালে একই পথে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাই মৌসুমী স্রোত দু’প্রকার, যেমন- গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমী স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮.
বাংলাদেশে খরা প্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. দক্ষিণাঞ্চল
  2. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর - পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর - পূর্বাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর - পশ্চিমাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর - পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা

খরা প্রবণ অঞ্চল:
- খরা দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ গরমের সময় রাজশাহী এবং বিশেষ করে নাটোর জেলার লালপুরে তাপমাত্রা ৪৫° সেন্টিগ্রেড বা তারও বেশি হয়।
- আর শীতকালে দিনাজপুর ও রংপুরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা এমনকি ৫° সেন্টিগ্রেডেরও নিচে নেমে যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৯.
বাংলাদেশে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয় কেন?
  1. বায়ুর গতিপথে পর্বতের অবস্থানের জন্য
  2. তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য
  3. চাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য
  4. নিরক্ষীয় নিম্ন ও উচ্চচাপ বলয়ের জন্য
সঠিক উত্তর:
তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০.
বায়ুর চাপ বলয়ের উৎপত্তি হয়-
  1. ক) কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে
  2. খ) উষ্ণতা ও জলীয়বাষ্পের তারতম্যের প্রভাবে
  3. গ) পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
উষ্ণতা ও জলীয়বাষ্পের তারতম্য এবং পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে বায়ুর চাপ বলয়ের উৎপত্তি হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৯১.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. রংপুর
  2. বগুড়া
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. সাতক্ষীরা
সঠিক উত্তর:
সাতক্ষীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া:
- বিশ্বে অতিরিক্ত শিল্পায়নের কারণে গ্রিনহাউস প্রুতিক্রিয়ার ফলো আমাদের দেশের সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালি জেলার অনেক অংশ সমুদ্রের জলমগ্ন হয়ে পড়বে।
- এছাড়া ভূনিম্নস্থ পানিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে।
- ফলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২.
বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম মাস - 
  1. জানুয়ারি ও এপ্রিল 
  2. মার্চ ও ডিসেম্বর
  3. এপ্রিল ও জানুয়ারি
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল ও জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল ও জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান:
- উষ্ণতম স্থান: নাটোর জেলার লালপুর।
- শীতলতম স্থান: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৩.
বাংলাদেশ কোন ধরনের জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?  
  1. ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  2. উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  3. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 

• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
- বাংলাদেশের জলবায়ু "ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু" নামে পরিচিত।
- এটি মূলত কর্কটক্রান্তি রেখা দ্বারা মধ্যভাগে অতিক্রমিত হওয়ার কারণে এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে গঠিত হয়।
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমী স্রোত এদেশের দক্ষিণ-প্রান্তবর্তী বঙ্গোপসাগর দিয়ে অতিক্রম করে এখানে।
- মৌসুমি বায়ুর কারণে এখানে তিনটি প্রধান ঋতু দেখা যায়: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল।
- শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল এবং উষ্ণ ও আদ্রগ্রীষ্মকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ঠ্য।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪.
ভূ-পৃষ্ঠ হতে কত কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে?
  1. ক) ৭০ কিলোমিটার
  2. খ) ৮০ কিলোমিটার
  3. গ) ৯০ কিলোমিটার
  4. ঘ) ১০০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
খ) ৮০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
• সমমন্ডল ও বিষমমন্ডল:
- সমমন্ডল বা হোমোস্ফিয়ার এর বৈশিষ্ট্য হলো যে এই মন্ডলে ভূ-পৃষ্ঠ হতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুস্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় সমান থাকে।
- এই সমমন্ডলের মধ্যেই বায়ুমন্ডলের প্রথম তিনটি স্তর অর্থাৎ
ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডল অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য ফলাফল?
  1. ক) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা হ্রাস
  2. খ) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি
  3. গ) নদী নাব্যতা কমে যাওয়া
  4. ঘ) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
খ) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সমূহ জলমগ্ন হবে।
• ফলাফল স্বরূপ এই অঞ্চলের মানুষদের বৃহৎ অংশ উস্বাস্তুতে পরিণত হবে।
• বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও জনসংখ্যার আধিক্য থাকায় এই উদ্বাস্তু সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব হবে না। ফলস্বরূপ এটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় রূপ নেবে।    

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা। 
৯৬.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. শীতল ও ভারী
  2. উষ্ণ ও হাল্কা
  3. উষ্ণ ও ভারী
  4. শীতল ও হাল্কা
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ ও হাল্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ ও হাল্কা
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হাল্কা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও হালকা বলে সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
নিচের কোনটি ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় বায়ু?
  1. লু
  2. সাইমুম
  3. বোরা
  4. পাম্পেরু
সঠিক উত্তর:
লু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লু
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু (Local Wind):
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কিংবা তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের স্থানে স্থানে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।

কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ: 
- রকি পর্বতের চিনুক (Chinook),
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল (Mistral),
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু (Pampero),
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা (Bora),
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো (Sirocco),
- আরব মালভূমির সাইমুম (Simoom),
- মিসরের খামসিন (Khamsin) ও
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু (Loo)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৮.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের জন্য কী করতে হয়?
  1. ১ দিন যোগ
  2. ১ দিন বিয়োগ
  3. ২ দিন যোগ
  4. কোনো পরিবর্তন নেই
সঠিক উত্তর:
১ দিন যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ দিন যোগ
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা: 
- ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই। একেই বলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন যোগ এবং পূর্বগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন বিয়োগ হবে।

• মূল মধ্যরেখা: 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০° দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়। 

তথ্যসূত্র: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি। 

৯৯.
ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মতো শীতল হয় না কেন?
  1. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে
  2. শীতকালে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়
  3. হিমালয় পর্বতের কারণে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
হিমালয় পর্বতের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমালয় পর্বতের কারণে
ব্যাখ্যা
পর্বতের অবস্থান (Location of the mountains):
- উচ্চ পার্বত্যময় এলাকা বায়ুপ্রবাহের পথে বাধা হলে এর প্রভাব জলবায়ুর উপর পরিলক্ষিত হয়।
- যেমন- মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত হিমালয় পর্বতে বাধা পাওয়ায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ু হিমালয় অতিক্রম করতে পারে না।
- তাই ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মতো তত শীতল হয় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০০.
The humidity of air measured in percentage is called -
  1. ক) Absolute humidity
  2. খ) Specific humidity
  3. গ) Relative humidity
  4. ঘ) None of these
সঠিক উত্তর:
গ) Relative humidity
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Relative humidity
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক আর্দ্রতা
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোন স্থানের বায়ুকে ঐ তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন হয় এবং বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে তার অণুপাত।
- আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় রিলেটিভ হিউমিডিটিতে।
- উষ্ণ বায়ু ঠান্ডা বাতাসের চেয়ে বেশি জলীয় বাষ্প (আর্দ্রতা) ধারণ করতে পারে.
- তাই একই পরিমাণ নির্দিষ্ট আর্দ্রতার সাথে, বাতাস শীতল হলে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি হবে এবং বায়ু উষ্ণ হলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম হবে।

অন্যদিকে -
- আমরা বাইরে যা 'অনুভূত' করি তা হল বাতাসে আর্দ্রতার প্রকৃত পরিমাণ (পরম আর্দ্রতা)।

উৎস: Discussion on Humidity - National Weather Service, National Weather Service (gov).