বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

মোট প্রশ্ন৪৯৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৪৯৮

২০১.
বাংলা ভাষার কোন রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে?
  1. সাধু রীতি
  2. লেখ্য রীতি
  3. কথা রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
২০২.
বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা কত?
  1. ৪৫
  2. ৫০
  3. ৩৯
  4. ২৭
সঠিক উত্তর:
৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০
ব্যাখ্যা

- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে।
- এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি – স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা লিখতে এক সময়ে অন্য লিপির পাশাপাশি বাংলা লিপিও ব্যবহৃত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২০৩.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. নাই
  2. দিয়ে
  3. সেই
  4. তাহাকে
সঠিক উত্তর:
দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিয়ে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর- খ) দিয়ে।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"দিয়ে" - চলিত রীতির শব্দ:
- এটি আধুনিক বাংলায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়
- সাধু রীতিতে এর রূপ "দিয়া"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) নাই - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "নেই"।

গ) সেই - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "সে"।

ঘ) তাহাকে - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "তাকে"।

অর্থ্যাৎ,
সাধু রীতি: তাহাকে, সেই, দিয়া
চলিত রীতি: তাকে, সে, দিয়ে।

সুতরাং "দিয়ে" শব্দটি চলিত রীতির প্রমিত শব্দ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৪.
প্রমিত রীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া দীর্ঘতর হয়।
  2. প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।
  3. প্রমিত রীতিতে তদ্ভব শব্দের ব্যবহার রয়েছে।
  4. প্রমিত রীতিতে অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া দীর্ঘতর হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া দীর্ঘতর হয়।
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতির বৈশিষ্ট্য নয়: প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া দীর্ঘতর হয়।

• প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘নাম রীতি’ নামেও পরিচিত।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২০৫.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা চিহ্নিত করুন :
  1. ক) পালি
  2. খ) প্রাকৃত
  3. গ) বৈদিক
  4. ঘ) ভোজপুরী
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৈদিক
ব্যাখ্যা

ভারতীয় আর্য ভাষার বিকাশের তিনটি স্তর পাওয়া যায়।
(ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা।
(খ) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা ও
(গ) আধুনিক ভারতীয় আর্য ভাষা।

- প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সময়কাল ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ পর্যন্ত বলে পণ্ডিতেরা নির্ধারণ করেছেন।

- আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে আর্যভাষাভাষী একটি জনগােষ্ঠী ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। তাদের ভাষার সাথে স্থানীয় ভাষার শব্দও মেশে। প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষাতেই আমরা বৈদিক সাহিত্য পাচ্ছি। অন্য কথায়, বৈদিক সাহিত্যই প্রাচীন
ভারতীয় আর্যভাষার একমাত্র নিদর্শন।

- বেদে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এর প্রচলিত নাম বৈদিক ভাষা৷

উৎসঃ হিন্দু ধর্ম বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৬.
বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য নয় -
  1. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
  2. কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করছে
  3. বক্তৃতার অনুপযোগী
  4. সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে
সঠিক উত্তর:
কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করছে
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে

অন্যদিকে,
চলিত রীতি - কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

২০৭.
সাধু রীতির বহু সর্বনামে কী যুক্ত থাকে?
  1. ‘ক’-বৰ্ণ
  2. ‘চ’-বৰ্ণ
  3. ‘হ’-বৰ্ণ
  4. ‘ট’-বৰ্ণ
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
‘হ’-বৰ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
‘হ’-বৰ্ণ
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর,
 যেমন:
- ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।

(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে,
যেমন:
- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২০৮.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. করে
  2. পূর্বেই
  3. আগেই
  4. সঙ্গে
সঠিক উত্তর:
পূর্বেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বেই
ব্যাখ্যা
সাধু - চলিত:
→ পড়িল-পড়ল/পড়লো, 
→ করিয়া-করে, 
→ ভাঙিয়া যাইতে লাগিল-ভেঙে যেতে লাগল, 
→ ফুটিয়া রহিয়াছে-ফুটে রয়েছে, 
পূর্বেই-আগেই, 
→ সহিত-সঙ্গে/সাথে ইত্যাদি।

সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৯.
কোন ভাষারীতিতে লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান?
  1. সাধু ভাষারীতি
  2. আঞ্চলিক ভাষারীতি
  3. উপভাষা ভাষারীতি
  4. চলিত ভাষারীতি
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
• চলিত / প্রমিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

---------------
অপরদিকে,
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

• আঞ্চলিক ভাষা / উপভাষা: 
উপভাষা প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষে জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহৃত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া; অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
২১০.
ভাষার কোন রীতি ভাষণের উপযোগী নয়?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. প্রমিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।

২১১.
ভাষার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে-
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ব্যাকরণ
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। 
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১২.
বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি?
  1. সংস্কৃত ভাষা
  2. পালি ভাষা
  3. অহমিয়া ভাষা
  4. আর্য ভাষা
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
আর্য ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য ভাষা
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি। যথা: কেন্তুম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। কেন্তুম শাখার সাথে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই।

- ভারতে আর্য জাতির আগমন ঘটে আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। তাদের ভাষা ছিল মূল আর্যভাষা। বৈদিক ভাষা এর প্রাচীনতম র‌ূপ। বাংলা ভাষার মূল উৎস আর্যভাষা বা বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২১৩.
সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত ভাষারীতি কোনটি?
  1. আঞ্চলিক রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. সাধুরীতি
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২১৪.
কোন ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে?
  1. চলিত রীতি
  2. উপভাষা
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. সাধু রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২১৫.
শাক শব্দটি কোন ভাষার?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) তুকি
  5. ঙ) দেশি
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
শাক শব্দটি সংস্কৃত ভাষার। এরূপ আরো ভবন, নক্ষত্র, সূর্য, গৃহিণী শব্দগুলোও সংস্কৃত। সবজি, দফতর, খোদা প্রভৃতি ফারসি শব্দ। মহকুমা, বাকি, গায়েব, উকিল আরবি শব্দ। কুলা, ঢেঁকি, চোঙ্গা টোপর প্রভৃতি দেশি শব্দ। বাবা, খোকা, দারোগা তু্র্কি ভাষার শব্দ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২১৬.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. যদিও
  2. নতুবা
  3. কখনো
  4. নইলে
সঠিক উত্তর:
নতুবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুবা
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
নতুবা - নইলে,
→ প্রায়শ - প্রায়ই,
→ যদ্যপি - যদিও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২১৭.
ভাষার মূল রূপ কোনটি?
  1. লেখ্য ভাষারীতি
  2. কথ্য ভাষারীতি
  3. সাধু ভাষারীতি
  4. কাব্য ভাষারীতি
সঠিক উত্তর:
কথ্য ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথ্য ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
• কথ্য ভাষারীতি:
কথ্য ভাষারীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

অন্যদিকে, 
• দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।

• সাহিত্যিক ভাষার বাক্যরূপ এবং অর্থ প্রায়ই সাধারণ ভাষা রীতি থেকে আলাদা হয়। কবিতার ভাষায় এ পার্থক্যের পরিমাণ খুবই বেশি। বাংলা কাব্য রীতি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: পদ্য কাব্য রীতি ও গদ্য কাব্য রীতি। পদ্য কাব্য রীতি বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরনো রীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২১৮.
বাংলা আদি অধিবাসীগণ কোন ভাষাভাষী ছিলেন?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. হিন্দি
  4. অস্ট্রিক
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা

জাতিতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর প্রতিটির কোনো না কোনো শাখার আগমন ঘটেছে বাংলায়। নরগোষ্ঠীগুলি হলো নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়।
- মনে করা হয় যে, বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি।

[সূত্র: বাংলাপিডিয়া]

২১৯.
সাধু রীতি বাংলা ভাষার লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে ছিলো কত সময় ব্যাপী?
  1. ক) পঞ্চাশ দশক
  2. খ) একশ দশক
  3. গ) এক শতাব্দী
  4. ঘ) দুই শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই শতাব্দী
ব্যাখ্যা
সাধু রীতি
দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২২০.
কোন ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. মিশ্র রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. চলিত রীতি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
• চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
• এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
• চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
• বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা,ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
• চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই (২০২৫ সালের সংস্কার)।
২২১.
বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা কে?
  1. ক) মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. খ) নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
-  মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২২.
সাধু রীতির শব্দ কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. কান
  3. আগুন
  4. পক্ষী
সঠিক উত্তর:
পক্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষী
ব্যাখ্যা

"পক্ষী" শব্দটি তৎসম এবং সাধু রীতির শব্দ। এটি সাধারণত লেখ্য ভাষায় ব্যবহার হয়। চলিত রীতিতে এর পরিবর্তে "পাখি" শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অগ্নি - আগুন,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত- দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
হস্তী - হাতি।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২৩.
সাধু ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের ব্যবহারে কোন বৈশিষ্ট্যটি লক্ষ্য করা যায়?
  1. নতুন রূপ
  2. পূর্ণরূপ
  3. সংক্ষিপ্ত রূপ
  4. অপূর্ণ রূপ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণরূপ
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২২৪.
ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) চলিত ভাষারীতিতে
  2. খ) সাধু ভাষারীতিতে
  3. গ) সমাজ উপভাষায়
  4. ঘ) আঞ্চলিক উপভাষায়
সঠিক উত্তর:
খ) সাধু ভাষারীতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাধু ভাষারীতিতে
ব্যাখ্যা
সাধু রীতি
দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৫.
'পূর্বেই' শব্দটির চলিত রূপ কোনটি?
  1. পূর্বে
  2. পূর্ব
  3. পুব
  4. আগেই
সঠিক উত্তর:
আগেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগেই
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বেই' এর চলিত রূপ হচ্ছে - আগেই

চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
- এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
- চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৬.
চলিত ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-
  1. ক) একটি উপভাষা
  2. খ) তৎসম শব্দবহুল ভাষা
  3. গ) একটি ভাষারীতি
  4. ঘ) সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
গ) একটি ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একটি ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
বাংলাভাষার একটি বিশেষ ভাষারীতি হলো চলিত। এটি কোন ভাষা নয় বরং ভাষার একটি রূপমাত্র। এটির বৈশিষ্ট্য হলো এটি সহজ, সরল, সংক্ষিপ্ত এবং গতিশীল ভাষারীতি। এতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রুপ ব্যবহৃত হয়। বাংলা ভাষায় প্রথম চৌধুরী চলিত ভাষারীতির প্রবর্তক। তার সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকা এ রীতি প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘বীরবলের হালখাতা’ চলিত ভাষারীতিতে লিখিত প্রথমগ্রন্থ। (সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
২২৭.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. মাথা
  2. শুকনা
  3. জুতা
  4. সহিত
সঠিক উত্তর:
মাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথা
ব্যাখ্যা

• চলিতরীতির শব্দ - মাথা
- এর সাধুরূপ - মস্তক।

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

সাধু - চলিত:
আসিয়া-এসে, 
জুতা-জুতো, 
→ তুলা-তুলো, 
→ শুষ্ক/শুকনা-শুকনো, 
​→ সহিত-সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২২৮.
সাধু ভাষার সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ কেমন?
  1. অসম্পূর্ণ
  2. পূর্ণরূপ
  3. মৌখিক
  4. সংক্ষিপ্ত
সঠিক উত্তর:
পূর্ণরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণরূপ
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২২৯.
সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ ---------
  1. দীর্ঘতর হয়
  2. হ্রস্বতর হয়
  3. পরিবর্তন হয় না
  4. সংক্ষিপ্ত হয়
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর হয়
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি: 
দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

• সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর হয়, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২৩০.
বাংলা ভাষার প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায়-
  1. ক) মহাভারতে
  2. খ) মঙ্গলকাব্যে
  3. গ) চর্যাপদে
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলিতে
সঠিক উত্তর:
গ) চর্যাপদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চর্যাপদে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। 
- ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষা ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। 
- যেসব বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয়→ ইন্দো-ইরানীয়→ ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। 
- বাংলাভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
২৩১.
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপিকে বলা হয়-
  1. কুটিল লিপি
  2. বাংলা লিপি
  3. অহমিয়া লিপি
  4. বোড়ো লিপি
সঠিক উত্তর:
বাংলা লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা লিপি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপিকে বাংলা লিপি বলা হয়।
• বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• প্রায় আড়াই বছর আগে উপমহদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে রেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

২৩২.
উইলিয়াম কেরি কত সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ১৮০১ সালে
  2. ১৮০৭ সালে
  3. ১৮১৭ সালে
  4. ১৭৮৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা

• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

• এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।

• ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

• উইলিয়াম কেরির ইংরেজি ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengalee Language' (১৮০১)। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন।

• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩৩.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. হস্ত
  2. মস্তক
  3. ধোয়া
  4. ঘৃত
সঠিক উত্তর:
ধোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোয়া
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার - ধোয়া।

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:

১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি। 
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের। 
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে। 
৪. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া। 
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল। 
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল। 
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ পূর্ণাঙ্গ। যেমন: করিয়াছি, গিয়াছি। 
২. সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ পূর্ণাঙ্গ। যেমন: তাহার, তাহারা, তাহাদের। 
৩. সাধু ভাষায় অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হইতে, দিয়া। 
৪. সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত। 
৫. সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর। 
৬. সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী। এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়। 
৭. সাধু ভাষা বক্তৃতা ও নাট্য সংলাপের অনুপযোগী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২৩৪.
ব্রাহ্মী লিপির রূপ নয় কোনটি?
  1. সারদা
  2. বোড়ো
  3. নাগর
  4. কুটিল
সঠিক উত্তর:
বোড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোড়ো
ব্যাখ্যা
• ব্রাহ্মী লিপির রূপ নয়- বোড়ো। 

• বাংলা লিপির উৎপত্তি ও বিকাশ:

প্রায় আড়াই বছর আগে উপমহদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

• বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে।
- তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি। 

• ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৫.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. তাহাতে
  2. তাদের
  3. ইহারা
  4. তাহার
সঠিক উত্তর:
তাদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাদের
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:
সাধু - চলিত:
তাহার-তার, 
→ তাহাদের-তাদের
তাহাতে-তাতে, 
→ তাহারা-তারা, 
→ তাহাকে-তাকে, 
ইহারা-এরা, 
→ ইহাদের-এদের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৩৬.
কোনটি সাধুরীতির অব্যয়পদ?
  1. প্রায়ই
  2. তবুও
  3. অদ্য
  4. নইলে
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ প্রায়শ - প্রায়ই,
→ যদ্যপি - যদিও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৩৭.
প্রমিত রীতির সূচনা হয় কত শতকে?
  1. আঠারো শতকে
  2. উনিশ শতকে
  3. বিশ শতকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি 'মান রীতি’ নামেও পরিচিত। সুতরাং, প্রমিত রীতির সূচনা হয় বিশ শতকে।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৩৮.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. অদ্য
  2. নইলে
  3. যদিও
  4. প্রায়ই
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ প্রায়শ - প্রায়ই,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ যদ্যপি - যদিও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৩৯.
চলিত ভাষায় কীসের ব্যবহার রয়েছে?
  1. অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির
  2. অপিনিহিতি ও অসমীকরণের
  3. অভিশ্রুতি ও অন্তর্হতির
  4. অপিনিহিতি ও অন্তর্হতির
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৪০.
কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. গুরুগম্ভীর ও দুর্বোধ্য
  2. সহজবোধ্য ও সাবলীল
  3. শুধুমাত্র তৎসম শব্দবহুল
  4. শুধুমাত্র আঞ্চলিক শব্দবহুল
সঠিক উত্তর:
সহজবোধ্য ও সাবলীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজবোধ্য ও সাবলীল
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল। চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৪১.
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য, মন্থর
  2. তৎসম শব্দের আধিক্য
  3. পদবিন্যাস সুনির্দিষ্ট
  4. চটুল, সরল ও সাবলীল
সঠিক উত্তর:
চটুল, সরল ও সাবলীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চটুল, সরল ও সাবলীল
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

অন্যদিকে,
পদবিন্যাস সুনির্দিষ্ট, তৎসম শব্দের আধিক্য, গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য, মন্থর - সাধুরীতির বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৪২.
কোনটি বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ নয়?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) ছন্দ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) অর্থ
সঠিক উত্তর:
খ) ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছন্দ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
ক. ধ্বনি
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. অর্থ
---------------
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ - ২ টি।
ক. লৈখিক
খ. মৌখিক


উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।

২৪৩.
কোন শাসকের অনুশাসনের সময় এ উপমহাদেশে আর্যভাষার প্রাচীনতম বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. খ) সম্রাট আশোক
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট আশোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট আশোক
ব্যাখ্যা
- মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ( ২৬৯ থেকে ২৩২ অব্দ)।
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে।
- তার পিতার নাম বিন্দুসার।
- সম্রাট অশোক সিংহাসনে আরোহণের অষ্টম বছরে কলিঙ্গ যুদ্ধে জয়ী হন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অহিংস বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম রাজধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তার শাসনকাল ছিল প্রায় ৪০ বছর। 
- তার সময়ে উপমহাদেশে আর্যভাষার প্রাচীনতম বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায়।

এছাড়া,
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য: মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তাঁর রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
-  খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
২৪৪.
ভাষার কোন রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে?
  1. সাধুরীতি
  2. লেখ্য রীতি
  3. কথারীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৫.
‘বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ’ গ্রন্থের রচয়িতার নাম-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ইংরেজিতে একটি বই লিখেন 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' নামে।
- ইংরেজিতে এই গ্রন্থটির নাম হলো : 'The Origin and Development of the Bengali Language'।
- সংক্ষেপে এটিকে বলা হয় ODBL এবং এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ

২৪৬.
বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ কোনটি?
  1. আঞ্চলিক ভাষা
  2. উপভাষা
  3. চলিত ভাষা
  4. সাধু ভাষা
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা
ব্যাখ্যা
• চলিত / প্রমিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

অপরদিকে,
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

• আঞ্চলিক বা উপভাষা:
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষে জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত কিছু আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

• আঞ্চলিক ভাষা অঞ্চলভেদে ও কালক্রমে পরিবর্তনশীল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
২৪৭.
কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) সংস্কৃত শব্দের বহু ব্যবহার
  2. খ) সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়
  3. গ) সহজবোধ্যতা
  4. ঘ) সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত শব্দের বহু ব্যবহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত শব্দের বহু ব্যবহার
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় - সংস্কৃত শব্দের বহু ব্যবহার।

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল
- চলিত ভাসার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৮.
কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) গাম্ভীর্য
  2. খ) প্রমিত উচ্চারণ
  3. গ) তৎসম শব্দের বহুল ব্যবহার
  4. ঘ) ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে
সঠিক উত্তর:
খ) প্রমিত উচ্চারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রমিত উচ্চারণ
ব্যাখ্যা
প্রমিত রীতি
বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়।
- এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
- এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে। প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।
- বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি'।
- এটি ‘মান রীতি নামেও পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪৯.
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন -
  1. আবদুল হামিদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. আবদুল কাদের
  4. গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীউল হক
ব্যাখ্যা

একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক। 
- বক্তব্য রাখেন শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ ও আবদুল মতিন।
-  সভাপতি ১০ জন করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নির্দেশ দেন।
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।

২৫০.
নিচের কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. খোলস
  2. বুনো
  3. পেরিয়ে
  4. শুকনো
সঠিক উত্তর:
খোলস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোলস
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
-  এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
-  সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।
- চলিত রীতির কিছু শব্দ হলো- পড়লো, খোসা, পেরিয়ে, দেননি, আগেই, মাথা, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, তাঁরা/ওঁরা, তাকে/ওকে। 

-----------------
• সাধু রীতি:
-  বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ। 
- সাধু রীতির কিছু শব্দ হলোখোলস, জুতা, তুলা, তাহারই, তারই, পূর্বেই, সহিত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২৫১.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. ওদের
  2. এই
সঠিক উত্তর:
এই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই
ব্যাখ্যা
সর্বনামপদের রূপের পার্থক্য:

যেমন:
সাধু-চলিত:
এই - এ, 
→ ইহা - এ, 
→ ইহাকে - একে, 
→ ইহাদের - এদের, 
→ উহা - ও, 
→ উহাদিগের - ওদের, 
→ কাহাকে - কাকে, 
→ কেহ - কেউ, 
→ তাহা - তা, 
→ তাহার - তার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৫২.
সাধুরীতির জন্ম হয় কত শতকে?
  1. চতুর্দশ শতক
  2. ষোড়শ শতক
  3. উনিশ শতক
  4. একুশ শতক
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
ব্যাখ্যা
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৩.
বাংলা প্রমিত রীতি অনুসারে কোন শব্দটি সঠিক?
  1. করেছিল
  2. করার
  3. করলাম
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
(ক) প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
• ক্রিয়ার ক্ষেত্রে, 
 যেমন:
- 'করা' ক্রিয়ার রূপ: করছে, করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করবে, করছিল, করেছিল, করব, করতে, করে, করলে, করার

• সর্বনামের ক্ষেত্রে,
 যেমন:
- তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ ইত্যাদি।

• অনুসর্গের ক্ষেত্রে,
 যেমন:
- থেকে, হতে, সঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫৪.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. নইলে
  2. আজও
  3. অদ্য
  4. যদিও
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা

• সাধুরীতির শব্দ - অদ্য। এবং এর চলিতরূপ - আজ।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ যদ্যপি - যদিও

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৫৫.
কোনটি সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়।
  2. অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
  3. এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  4. ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
সঠিক উত্তর:
ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়।
- অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে।
- এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।
- তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। 
- গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) বাংলাপিডিয়া। 
৩) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।

২৫৬.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫৭.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. কদাচ
  2. নইলে
  3. সেই
  4. তথাপি
সঠিক উত্তর:
নইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নইলে
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতির শব্দ - নইলে। 
- এর সাধুরূপ - নচেৎ।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু-চলিত:
→ অদ্য-আজ,
→ অদ্যাপি-আজও,
কদাচ-কখনো,
সেই - "সে"।
তথাপি-তবুও,
→ নতুবা-নইলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৫৮.
বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি?
  1. ক) পালি
  2. খ) প্রাকৃত
  3. গ) অপভ্রংশ
  4. ঘ) সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাকৃত
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা দিনে দিনে বদলে এক সময় হয়ে ওঠে বাঙলা ভাষা।
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা একদিন পরিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় ‘পালি’ নামক এক ভাষায়। পালি ভাষায় বৌদ্ধরা তাদের ধর্মগ্রন্থ ও অন্যান্য নানা রকমের বই লিখেছে।
- পালি ভাষা ক্রমে আরাে পরিবর্তিত হয়; তার উচ্চারণ আরাে সহজ সরল রূপ নেয়, এবং জন্ম নেয় প্রাকৃত ভাষা। এ-বদল একদিনে হয় নি, প্রায় হাজার বছরেরও বেশি সময় লেগেছে এর জন্যে।
- প্রাকৃত ভাষা আবার বদলাতে থাকে, অনেক দিন ধরে বদলায়। তারপর দশম শতকের মাঝভাগে এসে এ-প্রাকৃত ভাষার আরাে বদলানাে একটি রূপ থেকে উদ্ভূত হয় একটি নতুন ভাষা, যার নাম বাঙলা।

• ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।

 

২৫৯.
অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে কোন ভাষারীতির পরিবর্তন হয় না?
  1. প্রমিত ভাষারীতি
  2. সাধু ভাষারীতি
  3. আঞ্চলিক ভাষারীতি
  4. মান্য ভাষারীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -২০২১ সংস্করণ)।

২৬০.
প্রমিত ভাষার ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. এ ভাষা সহজ-সরল
  2. এ ভাষা সবাই বুঝো 
  3. এ ভাষা দুর্বোধ্য
  4. এ ভাষা বিভিন্ন আদলের
সঠিক উত্তর:
এ ভাষা সহজ-সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ভাষা সহজ-সরল
ব্যাখ্যা

প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘নাম রীতি’ নামেও পরিচিত।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।
- প্রমিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য, সহজ, স্পষ্ট এবং সরল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৬১.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. যদিও
  2. প্রায়শ
  3. নইলে
  4. তবুও
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ
ব্যাখ্যা

• সাধুরীতির শব্দ - প্রায়শ
- এবং এর চলিতরূপ - প্রায়ই।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:

সাধু - চলিত:
→ অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ যদ্যপি - যদিও

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৬২.
‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’- কার লেখা?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৬৩.
কোনটি চলিতরীতির শব্দ?
  1. অদ্য
  2. নতুবা
  3. নইলে
  4. নচেৎ
সঠিক উত্তর:
নইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নইলে
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অদ্য-আজ,
→ অদ্যাপি-আজও,
→ কদাচ-কখনো,
→ তথাপি-তবুও,
→ নচেৎ-নইলে,
→ নতুবা-নইলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৬৪.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. অদ্য
  2. যদিও
  3. তথাপি
  4. নতুবা
সঠিক উত্তর:
যদিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদিও
ব্যাখ্যা

• অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:

সাধু - চলিত:
→ অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ যদ্যপি - যদিও

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৬৫.
নাটক ও সংলাপের জন্য কোন ভাষারীতিটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী?
  1. সাধু ভাষা
  2. প্রাচীন বাংলা
  3. কাব্য ভাষা
  4. চলিত ভাষা
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৬৬.
বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন হয় না নিম্নোক্ত কোন উপায়ে?
  1. ক) সমাস দ্বারা
  2. খ) লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
  3. গ) উপসর্গ যোগে
  4. ঘ) ক, খ, ও গ তিন উপায়েই হয়
সঠিক উত্তর:
খ) লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দ গঠনের কয়েকটি উপায় হলো:
- সন্ধির মাধ্যমে
- সমাসের মাধ্যমে
- বহুবচনের মাধ্যমে
- উপসর্গ যোগে
- প্রত্যয় সহযোগে ইত্যাদি।

উৎসঃবাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৭.
চলিত ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য কী?
  1. সব সময় কঠিন তৎসম শব্দ ব্যবহার করে
  2. সহজবোধ্য, সাবলীল ও চটুল
  3. সবসময় ব্যাকরণের নিয়মে চলে
  4. শুধুমাত্র লিখিত ভাষায় ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
সহজবোধ্য, সাবলীল ও চটুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজবোধ্য, সাবলীল ও চটুল
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৬৮.
ভারতীয় আর্যের কোন অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. প্রচীন ভারতীয় আর্য
  2. মধ্য ভারতীয় আর্য
  3. অন্ত্য-মধ্য ভারতীয় আর্য
  4. নব্য ভারতীয় আর্য
সঠিক উত্তর:
নব্য ভারতীয় আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্য ভারতীয় আর্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান

উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
২৬৯.
মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিসমষ্টিকে কী বলে?
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) ভাষা
  3. গ) ধ্বনি
  4. ঘ) অক্ষর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা
ব্যাখ্যা
ভাষার সংজ্ঞা:
- ভাষা মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
- ভাষাবিদগণ একে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিচে এর কয়েকটি উল্লেখ করা হলো- 
১. ‘মনের ভাব প্রকাশের জন্য, বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন, কোনও বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত, তথা বাক্যে প্রযুক্ত শব্দসমষ্টিকে ভাষা বলে' (সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়)। 
২.মানুষ তাহার মনের ভাব প্রকাশ করিবার জন্য কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, ওষ্ঠ, দন্ত, নাসিকা, মুখবিবর প্রভৃতি বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে অপরের বোধগম্য যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির উচ্চারণ করিয়া থাকে, সেই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলা হয়' (মুহাম্মদ এনামুল হক)। 
অর্থাৎ ভাষা হলো মানুষের মুখ-নিঃসৃত অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টি, যা মনের ভাব অন্যের শ্রবণপথে পৌঁছে সেই ভাবের প্রতিবিধান নিশ্চিত করে। 

ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- উপরে উল্লিখিত সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা ভাষার কিছু বৈশিষ্ট্য পাই- 
১. ভাষা হচ্ছে মানুষের বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিসমষ্টি
২. ভাষা অর্থবহ ধ্বনির সমষ্টি
৩. ভাষার ধ্বনিসমূহ অন্যের বোধগম্য
৪. ভাষার সাহায্যে মানুষ মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে
৫. ভাষা মানুষের সমাজ-নির্ভর। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭০.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. নতুবা
  2. প্রায়ই
  3. আজও
  4. নইলে
সঠিক উত্তর:
নতুবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুবা
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্য - আজ, 
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো, 
→ তথাপি - তবুও, 
→ নচেৎ - নইলে, 
নতুবা - নইলে
→ প্রায়শ - প্রায়ই
→ যদ্যপি - যদিও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৭১.
তৎসম শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশী হয়?
  1. চলিতরীতি
  2. সাধুরীতি
  3. মিশ্ররীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
ব্যাখ্যা

• সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। 

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭২.
অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দকে কী শব্দ বলে?
  1. দেশি শব্দ
  2. বিদেশি শব্দ
  3. তৎসম শব্দ
  4. বাংলা শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
দেশি শব্দ:
- বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দকে - দেশি শব্দ বলা হয়।

- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ।
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।
- দেশী শব্দের উদাহরণ-
পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৭৩.
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত।
  2. এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। 
  3. শুধুমাত্র লেখায় ব্যবহার হয়।
  4. ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ সহজতর রূপ লাভ করে।
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র লেখায় ব্যবহার হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র লেখায় ব্যবহার হয়।
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়- শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।

• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

 অপরদিকে,
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।

২৭৪.
বাংলা ভাষার কোন রীতিকে সর্বজনীন কথ্য ভাষা হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  2. আদর্শ কথ্য রীতি
  3. প্রমিত লেখ্য রীতি
  4. সাহিত্যিক রীতি
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• কথ্য ভাষা রীতি:
কথ্য ভাষা রীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

• আদর্শ কথ্য রীতি:
আদর্শ কথ্য রীতি হলো বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় রেডিও টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে, সংবাদ উপস্থাপনায় সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃতিতে এই রীতির প্রয়োগ দেখা যায়। এই রীতিই প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি। তবে বক্তার সামাজিক অবস্থান, জীবিকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভেদে আদর্শ কথ্য রীতিতে কমবেশি তফাত থাকে।

প্রতিটি বাঙালি শিশুর মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা হলো তার আঞ্চলিক ভাষা। আদর্শ্য কথ্য বা লেখ্য প্রমিত তার কাছে দ্বিতীয় ভাষা।

সুতরাং, বলা চলে কথ্যরীতি বা কথা বলার রীতি হলাে ভাষার মৌলিক রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৫.
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ - ২ টি।
ক. লৈখিক
খ. মৌখিক

কিন্তু বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
ক. ধ্বনি
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. অর্থ

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।

২৭৬.
কোনটি চলতিরীতির শব্দ?
  1. করেছে
  2. গিয়াছিল
  3. চাহিয়া
  4. আসিয়া
সঠিক উত্তর:
করেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করেছে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত,
→ আসিয়া - এসে,
→ করিয়া - করে,
→ করিয়াছে - করেছে,
→ খাইতেছিল - খাচ্ছিল,
→ গিয়াছিল - গেছিল,
→ ঘুমাইতেছে - ঘুমাচ্ছে,
→ চাহিয়া - চেয়ে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৭৭.
গৌড়ীয় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছেন—
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ।
- রচয়িতা রাজা  রামমোহন রায়।
-  প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

- গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচিত হয় তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায়ে এবং ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি। মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৮.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. কান
  2. অগ্নি
  3. পক্ষী
  4. মৎস্য
সঠিক উত্তর:
কান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কান
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার শব্দ - কান। এর সাধুরূপ - কর্ণ।

বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু-চলিত:
অগ্নি - আগুন,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৭৯.
চলিত ভাষারীতির সম্পর্কে সঠিক তথ্য নয় কোনটি?
  1. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
  2. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
  3. চলিত ভাষারীতি ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে প্রচলিত লেখার ভাষা। 
  4.  চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষারীতি ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে প্রচলিত লেখার ভাষা। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষারীতি ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে প্রচলিত লেখার ভাষা। 
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতির সম্পর্কে সঠিক নয়- চলিত ভাষারীতি ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে প্রচলিত লেখার ভাষা। 

চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৮০.
নিচের কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. খোসা
  2. সঙ্গে
  3. জুতা
  4. বুনো
সঠিক উত্তর:
জুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুতা
ব্যাখ্যা

• সাধু রীতি:
-  বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
- সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
- সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ। 
- সাধু রীতির কিছু শব্দ হলো- খোলস, জুতা, তুলা, তাহারই, তারই, পূর্বেই, সহিত ইত্যাদি।

-----------------
• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
-  এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
-  সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।
- চলিত রীতির কিছু শব্দ হলো- পড়লো, খোসা, পেরিয়ে, দেননি, আগেই, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, তাঁরা/ওঁরা, তাকে/ওকে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮১.
বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল কবে?
  1. সপ্তম শতাব্দী
  2. অষ্টম শতাব্দী
  3. নবম শতাব্দী
  4. দশম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
দশম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশম শতাব্দী
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উৎপত্তির সময়:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন - সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ পণ্ডিত বলেছেন - দশম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

তাই অধিকাংশ পণ্ডিতগণের মতামতের উপর ভিত্তি করে সঠিক উত্তর 'দশম শতাব্দী' গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮২.
বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরনো কাব্য রীতি কোনটি?
  1. গদ্য কাব্য রীতি
  2. পদ্য কাব্য রীতি
  3. লোককাব্য রীতি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পদ্য কাব্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্য কাব্য রীতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা কাব্য: 
- বাংলা কাব্য রীতি ২ ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
১। পদ্য কাব্য রীতি,
২। গদ্য কাব্য রীতি।

• পদ্য কাব্য রীতি:
- পদ্য কাব্য রীতিতে ছন্দ এবং মিল থাকে।
- ফলে তা ভাষার সাধারণ বাক্যগঠন থেকে আলাদা হয়।
- পদ্য কাব্য রীতি বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরনো রীতি।
- বাংলা সাহিত্যের বহু অমর কাব্য এই রীতিতে রচিত।

• গদ্য কাব্য রীতি:
- পদ্য কাব্য রীতির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় গদ্য কাব্য রীতিও রয়েছে।
- গঠন বিবেচিনায় গদ্য কাব্য রীতির বাক্য সাধারণ বাক্যের চেয়ে আলাদা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)। 
২৮৩.
ভাষা হলো -
  1. ক) উচ্চারণের প্রতীক
  2. খ) ভাব প্রকাশের মাধ্যম
  3. গ) কণ্ঠের উচ্চারণ
  4. ঘ) ধ্বনির সমষ্টি
সঠিক উত্তর:
খ) ভাব প্রকাশের মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাব প্রকাশের মাধ্যম
ব্যাখ্যা
 ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, তবে কণ্ঠ নিঃসৃত অর্ধবোধক ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলে। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২৮৪.
বাঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) নন্দীয়া
  2. খ) ত্রিপুরা
  3. গ) পুরুলিয়া
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।

বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা:
১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা;
২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা;
৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং
৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা।

পশ্চিমবঙ্গের উপভাষাগুলি প্রধানত দু শ্রেণিতে বিভক্ত:
১. রাঢ়ী ও ঝাড়খন্ডী (দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধিকাংশ) এবং ২. বরেন্দ্রী ও কামরূপী (গোয়ালপাড়া থেকে পূর্ণিয়া পর্যন্ত)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া 


সাধারণত একটি ভাষার অনেক উপভাষা থাকে। বাংলা ভাষারও তেমনি অনেকগুলি উপভাষা আছে। উপভাষা হল সেই ভাষার আঞ্চলিক রূপ। ঝাড়খণ্ড থেকে শুরু করে কামরূপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের কথ্য ভাষা বাংলা।
১) ঝাড়খণ্ডী উপভাষা
২) রাঢ়ী উপভাষা
৩) সমতট উপভাষা
৪) বরেন্দ্রী উপভাষা
৫) কামরূপী উপভাষা

সমতট উপভাষা আবার দুটো অংশে বিভক্ত। - ১) রাঢ়ী উপভাষার মত এই উপভাষার প্রচলনও এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। এর আবার দুটি ভাগ আছে। একটি বিশুদ্ধ সমতটী বা বঙ্গালী ভাষা। এটি ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোহর অঞ্চলে প্রচলিত।
এবং ২) অন্যটি চাটিগ্রামী যা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সন্দীপ, শ্রীহট্ট, কাছাড়, ত্রিপুরা ও চাকমা অঞ্চলে প্রচলিত।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ''বরিশাল''ই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত উত্তর হবে।

২৮৫.
কোন ভাষার সাহিত্যে গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়?
  1. কথ্য ভাষায়
  2. আঞ্চলিক ভাষায়
  3. সাধু ভাষায়
  4. চলিত ভাষায়
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষায়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস: অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
২৮৬.
কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. চেয়ে
  2. তথাপি
  3. গিন্নি
  4. তারা
সঠিক উত্তর:
তথাপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তথাপি
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর- খ) তথাপি।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"তথাপি" - সাধু রীতির শব্দ:
- চলিত রীতিতে এর রূপ "তবুও"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) চেয়ে - এটি চলিত রীতির শব্দ।
সাধু রীতিতে: "অপেক্ষা"।

খ) গিন্নি - এটি চলিত রীতির শব্দ।
- সাধু রীতিতে: "গৃহিণী"।

গ) তাহারা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "তারা"।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৭.
দেশি ও তৎসম শব্দের মিশ্রণকে কি বলে?
  1. ক) বাহুল্য দোষ
  2. খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. গ) দুর্বোধ্যতা
  4. ঘ) উপমার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।
- অর্থাৎ তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন-
• অশুদ্ধ- গরুর শকট (দেশি + তৎসম),
• শুদ্ধ- গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি),
• অশুদ্ধ- মড়াদাহ (দেশি + তৎসম),
• শুদ্ধ- শবদাহ (তৎসম + তৎসম),
• শুদ্ধ- মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
২৮৮.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. জুতা
  2. বন্য
  3. তুলা
  4. এসে
সঠিক উত্তর:
এসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসে
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য  ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

→  আসিয়া - এসে।
→ মস্তক = মাথা
→  জুতা- জুতো;
→  তুলা-  তুলো;
→  শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
→  বন্য - বুনো;
→  তাঁহারা/উঁহারা -তাঁরা/ওঁরা;
→  তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
→  তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর;
→  পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন;
→  হইলেন - হলেন;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৯.
সর্বনামপদের চলিতরূপ কোনটি?
  1. ইহা
  2. এই
  3. তাহা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• সর্বনামপদের চলিতরূপ - এ।
- এর সাধুরূপ - এই, ইহা।

সর্বনামপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ ইহাকে-একে,
→ ইহাদের এদের,
→ উহা-ও,
→ উহাদিগের-ওদের,
→ কাহাকে-কাকে,
→ কেহ-কেউ,
→ তাহা-তা,
→ তাহার-তার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৯০.
মান্দারিন কোন দেশের ভাষা?
  1. ক) চীন
  2. খ) জাপান
  3. গ) থাইল্যান্ড
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
সঠিক উত্তর:
ক) চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চীন
ব্যাখ্যা
চীনের ভাষা - মান্দারিন।
থাইল্যান্ডের ভাষা - থাই৷
ভিয়েতনামের ভাষা - ভিয়েতনামিজ৷
জাপানের ভাষা - জাপানিজ৷
উৎসঃ ব্রিটানিকা।
২৯১.
নিচের কোনটি ভাষা-পরিবারের নাম নয়?
  1. অস্ট্রো-এশীয়
  2. চীনা-তিব্বতীয়
  3. সেমীয়-দ্রাবিড়ীয়
  4. সেমীয়-হেমীয়
সঠিক উত্তর:
সেমীয়-দ্রাবিড়ীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমীয়-দ্রাবিড়ীয়
ব্যাখ্যা
• ভাষা-পরিবারের নাম নয়: সেমীয়-দ্রাবিড়ীয়

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯২.
নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. খোলস
  2. জুতা
  3. শুকনো
  4. তুলা
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
-  এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
-  সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।
- চলিত রীতির কিছু শব্দ হলো- পড়লো, খোসা, পেরিয়ে, দেননি, আগেই, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, তাঁরা/ওঁরা, তাকে/ওকে। 

-----------------
• সাধু রীতি:
-  বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
- সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
- সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ। 
- সাধু রীতির কিছু শব্দ হলো- খোলস, জুতা, তুলা, তাহারই, তারই, পূর্বেই, সহিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯৩.
বাংলা ব্যাকরণ প্রথম কোন ভাষায় রচিত?
  1. পর্তুগিজ
  2. ফারসি
  3. ইংরেজি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
-  কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।

উল্লেখ্য:
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি নাথিনিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।
- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৪.
কোনটি চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি
  2. অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম
  3. তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
  4. পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
সঠিক উত্তর:
তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৯৫.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. যাহা
  2. যাঁদের
  3. যাহাকে
  4. যাঁহাদিগকে
সঠিক উত্তর:
যাঁদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাঁদের
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার শব্দ - যাঁদের। 

------------------
• সাধু ও চলিত ভাষা ভেদে সর্বনাম পদের রূপগত পার্থক্য:

সাধু ভাষার পূর্ণাঙ্গ সর্বনাম পদ চলিত ভাষায় সংক্ষিপ্তাকারে ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ই ধ্বনি লোপ পেয়েছে।
যেমন-
সাধু ভাষা  - চলিত ভাষা:
যাহা - যা;
যাহাকে - যাকে;
যাহার -  যার;
যাঁহাদিগকে - যাঁদের;
যাঁহাদের - যাঁদের;
তাহাকে - তাকে;
ইহার - এর;
ইহা - এ;
ইহাকে - একে;
ইহাদিগের - এদের;
তাঁহাকে - তাঁকে;
তাহার - তার;
তাঁহার - তাঁর;
তাহাদিগকে - তাদের;
উহা - ও;
উহার - ওর;
উহাদের - ওদের। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে কোন শতাব্দীতে?
  1. সপ্তম শতাব্দী
  2. দশম শতাব্দী
  3. অষ্টম শতাব্দী
  4. নবম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতাব্দী
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-বংশের অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আদি আর্য ভাষা। 
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে। তাঁর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে দশম শতাব্দীতে। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে। এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে সপ্তম শতাব্দীতে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৭.
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতি প্রচলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে কোন পত্রিকা?
  1. ক) সংবাদ প্রভাকর
  2. খ) বঙ্গদর্শন
  3. গ) সবুজপত্র
  4. ঘ) কালি ও কলম
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

- মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- এই পত্রিকা সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৯৮.
নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী ভাষারীতি কোনটি?
  1. উপ কথ্য রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

অন্যদিকে, 
-------------------
• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
সব ভাষারই আঞ্চলিক রূপের বৈচিত্র্য থাকে, বাংলা ভাষারও তা আছে। বিভিন্ন অঞ্চলে কথিত রীতির বিভিন্নতা লক্ষিত হয়; আবার কোথাও কোথাও কারো কারো উচ্চারণে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষার মিশ্রণও লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ
২৯৯.
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি কোনটি?
  1. ব্রাহ্মী
  2. কুটিল
  3. খরোষ্টি
  4. বাংলা
  5. প্রাকৃত 
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি - বাংলা লিপি।

• বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩০০.
কোনটি সাধুরীতি'র বৈশিষ্ট্য?
  1. আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী
  2. নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী
  3. পরিবর্তনশীল
  4. এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী
ব্যাখ্যা
সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

অন্যদিকে,
চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।