বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

মোট প্রশ্ন৪৯৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৪৯৮

৩০১.
ভাষার কোন রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী?
  1. চলিত রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- ভাষার এ রীতি সর্বজনস্বীকৃত লেখ্যরূপে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০২.
চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সহজবোধ্য 
  2. তৎসম শব্দবহুল
  3. পরিবর্তনশীল
  4. এ রীতি সংক্ষিপ্ত
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দবহুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দবহুল
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য নয়- তৎসম শব্দবহুল। 

------------------
• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল।
- একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
- চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩০৩.
বাংলা ভাষায় লেখ্যরীতির কয়টি রূপ লক্ষ্য করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় লেখ্যরীতির ৩টি রূপ লক্ষ্য করা যায়।

অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০৪.
বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলের উপভাষা কোনটি?
  1. ক) বরেন্দ্রি
  2. খ) রাঢ়ি
  3. গ) ঝাড়খণ্ডি
  4. ঘ) বাঙ্গালি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলের উপভাষা হচ্ছে বাঙ্গালি।

• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়।
- নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা। ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
যেমন:
- বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলের উপভাষা- বাঙ্গালি।
- বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চলের উপভাষা- পূর্বি।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের উপভাষা- বরেন্দ্রি।
- বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের উপভাষা- কামরূপি।
- পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলের উপভাষা- রাঢ়ি।
- পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চলের উপভাষা- ঝাড়খণ্ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৩০৫.
কোন রীতি তদ্ভব শব্দবহুল?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. লেখ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ৷
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৩০৬.
'প্রমিত রীতির' অপর নাম কী?
  1. মান রীতি
  2. আদর্শ রীতি
  3. প্রচলিত রীতি
  4. সহজ রীতি
সঠিক উত্তর:
মান রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মান রীতি
ব্যাখ্যা

• প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়।
যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩০৭.
কত শতকে লেখ্য গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়?
  1. উনিশ শতকে
  2. একুশ শতকে
  3. বিশ শতকে
  4. শতের শতকে
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
লেখ্য ভাষা রীতি:
- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম 'চর্যাপদ'। প্রায় এক হাজার বছর আগে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়। বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই প্রমিত রীতিই লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০৮.
বাংলা ভাষার রীতি কয়টি?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩০৯.
'যাহা' - এর চলিত রূপ কোনটি?
  1. যারা
  2. যাহারা
  3. যাকে
  4. যা
সঠিক উত্তর:
যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত রীতি:
- সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পার্থক্য বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করে, তার নাম বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামের করিমগঞ্জ ও কাছাড়ের অধিবাসীদের একটি অংশের মাতৃভাষা বাংলা। বস্তুত, দেশ-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে বাঙালি জনসমাজে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে বাংলা ভাষা গঠিত। বাংলা ভাষা প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন রূপের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সব ভাষাতেই দুটো রূপ দেখা যায়।

সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

→ তাহারা-তারা, 
→ ইহারা-এরা, 
→ যাহা-যা, 
→ যাহারা-যারা, 
→ যাহাকে-যাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১০.
কোন শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ?
  1. বুনো, তুলো
  2. জুতো, হলেন
  3. শুষ্ক, সহিত
  4. দেখে, পেরিয়ে
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক, সহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক, সহিত
ব্যাখ্যা
• 'শুষ্ক, সহিত' - শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ। 

• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি, 
২. চলিত রীতি, 
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা। 

১. সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

২. চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত , 
জুতা ------------ জুতো,  
তুলা------------- তুলো,  
শুষ্ক/শুকনা ----- শুকনো,
বন্য ------------ বুনো, 
দেন নি -------- দেননি, 
পার হইয়া ----- পেরিয়ে, 
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো, 
করিয়া ----------- করে, 
পূর্বেই ---------- আগেই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
৩১১.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. আগুন
  2. বাঘ
  3. চাঁদ
  4. দন্ত
সঠিক উত্তর:
দন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অগ্নি - আগুন, 
→ কর্ণ - কান, 
→ চন্দ্র - চাঁদ, 
→ দন্ত - দাঁত, 
→ পক্ষী - পাখি, 
→ ব্যাঘ্র - বাঘ, 
→ মৎস্য - মাছ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩১২.
নিচের যে ভাষাগুচ্ছ একই পরিবারভুক্ত নয় -
  1. ক) বাংলা, ভোজপুরিয়া, মগহি
  2. খ) আসামি, তামিল, ওড়িয়া
  3. গ) হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি
  4. ঘ) পাঞ্জাবি, বাংলা, মারাঠি
সঠিক উত্তর:
খ) আসামি, তামিল, ওড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসামি, তামিল, ওড়িয়া
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাষাবংশের নাম ইন্দো -ইউরোপীয় ভাষাবংশ ।
'ইন্দো' মানে ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ ভাষা এই ভাষাবংশের অন্তর্গত ।
ইন্দো ইউরোপীয় ভাষাবংশ (৫০০০ খ্রিস্টপূর্ব) এর দুটি প্রধান শাখা ।
যথাঃ
কেতম ।
শতম ।
শতম ভাষা বিভিন্ন ভাবে ঘুরে এসে পোছায় গৌড় অপভ্রংশ(৪০০ - ৬০০ খ্রি.)যা থেকে পরে বাংলা ভাষা পাওয়া যায় ।
গৌড় অপভ্রংশ থেকে পাওয়া যায় তিনটি ভিন্ন ভাষা ।
বিহারি ।
প্রাচীন উড়িয়া ।
বঙ্গ-কামরূপি ।
আর বঙ্গ - কামরূপি ভাষা থেকে এসেছে বাংলা ও অসমিয়া ভাষা ।
সুতরাং বলা যায় আসামি, তামিল ও ওড়িয়া একই ভাষা গুচ্ছের নয় ।
উতসঃ ব্যবহারিক ব্যকরণ (তারিক মনজুর, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।)

৩১৩.
সাধু ভাষায় কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. এখানে সে ফিরে আসেনি
  2. সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
  3. তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন
  4. তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না
সঠিক উত্তর:
সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষায় শুদ্ধ বাক্যটি হল "সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না।"
যেমন এখানে 'আসিবে', 'বলিয়া', এবং 'করিতেছি' শব্দগুলো সাধু ভাষার উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- এখানে সে ফিরে আসেনি।
- তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন।
- তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো চলিত ভাষার বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণি।

৩১৪.
চলিত রীতি ভাষার শুদ্ধ বাক্য -
  1. ক) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।
  2. খ) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারিলাম না।
  3. গ) কতবার সেই ফুল ধরিতে চেষ্টা করিলাম-- পারলাম না।
  4. ঘ) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করিলাম-- পারিলাম না।
সঠিক উত্তর:
ক) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।
ব্যাখ্যা
- চলিত রীতি ভাষার শুদ্ধ বাক্যটি হচ্ছে কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।

• চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য:
ক) এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
খ) এ ভাষায় বক্তৃতা, আলাপ ও নাট্য আলাপের উপযোগী।
গ) চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
ঘ) চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
ঙ) চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের প্রচুর রূপ দেখা যায়।

 • চলিত রীতি ভাষার উদাহরণ:
- পুল পেরিয়ে সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়ল।
- বাকি রাতটা আমার নির্ঘুম কাটল।
- আমি এক সময় ভাবি, লেখার একটি স্কুল খুললে কেমন হয়।
- কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩১৫.
গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী ভাষা কোনটি?
  1. চলিত ভাষা
  2. সাধু ভাষা
  3. প্রমিত ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধুভাষা:
উনিশ শতকের শুরুতে সংস্কৃতানুসারী পন্ডিতদের উদ্যোগ আয়োজনে যে সাহিত্যিক গদ্য ভাষার উন্মেষ ঘটে, তাই সাধুভাষা।

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
• সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়। যেমন: তাহার, ইহার, কাহাকে, ইহাকে ইত্যাদি।
• সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: খাইতেছিলাম, করিতেছিল ইত্যাদি।
• সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ (যদিও তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। যেমন: চন্দ্র, অভ্যন্তর, অঙ্গ, সৌষ্ঠব, বৃন্ত, চর্ম, কাষ্ঠ, দর্পণ ইত্যাদি।
• সাধুভাষায় সন্ধি-সমাসের আধিক্য লক্ষ করা যায়। যেমন ইত্যাদি। কাষ্ঠাহরণে, রাজাজ্ঞা, রাজপুত্রহস্তে
• সাধুভাষায় বাক্যে পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ বাক্যে প্রথমে উদ্দেশ্য ও পরে বিধেয় থাকে এবং ক্রিয়াপদ সাধারণত বাক্যের শেষে থাকে। যেমন: সম্মুখে এক ক্ষুদ্র প্রান্তর দেখিতে পাইলাম। 
• সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে। তবে সাধুভাষায় একসময় ব্যবহৃত অনেক শব্দই বর্তমানে অপ্রচলিত। যেমন: অত্রত্য, অপার্যমানে, নিষণ্ণ।
• সাধুভাষায় অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : জন্য, হইতে, দ্বারা, দিয়া, অপেক্ষা।
• সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
• সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
• সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
• সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৬.
‘পাণিনি’ ছিলেন-
  1. নাট্যকার
  2. ব্যাকরণবিদ
  3. রাজা
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণবিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণবিদ
ব্যাখ্যা
পাণিনি:
- পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের বৈদিক যুগের একজন সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ।
- তিনি অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে। তবে খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩১৭.
কোন বাক্যটি চলিত ভাষায় লেখা?
  1. ক) সে কাজ করিয়া বাড়ি ফিরছিল
  2. খ) পড়ায় তাহার মন নেই
  3. গ) বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন
  4. ঘ) এতদ্দিন বহু স্থলে এইরুপ হইয়া থাকে
সঠিক উত্তর:
গ) বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন
ব্যাখ্যা
অপশন ‘গ’ এর বাক্যটি চলিত ভাষার বাক্য। বাক্যটির সাধু রূপ হলো- বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করিয়া দিলেন।
৩১৮.
সাধু ভাষা বাংলা ভাষার কোন রূপ?
  1. বিদেশি প্রভাবিত রূপ
  2. আধুনিক কথ্য রূপ
  3. আঞ্চলিক রূপ
  4. প্রাচীন লিখিত রূপ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন লিখিত রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন লিখিত রূপ
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা:
- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত। ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর। এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।
- সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩১৯.
বিভিন্ন অঞ্চলের মুখের ভাষাকে কী বলে?
  1. মিশ্র ভাষা
  2. সাধু ভাষা
  3. চলিত ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা:
উপভাষা প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষে জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
  1. জ, ঝ
  2. ফ, ত
  3. ঙ, হ
  4. ধ, ন
সঠিক উত্তর:
ফ, ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ, ত
ব্যাখ্যা
অঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- ক, খ, চ, ছ, প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ঘোষ ধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২১.
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত উপভাষার নাম কী?
  1. পশ্চিমী
  2. পূর্বী
  3. বরেন্দ্রি
  4. রাঢ়ি
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রি
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়।
- যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা।
- ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল)।
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল)।
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল)।
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল)।
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ)।
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি কয়েকটি উপভাষার নাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২২.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. আসিয়া
  2. মস্তক 
  3. শুষ্ক
  4. হলেন
সঠিক উত্তর:
হলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলেন
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য  ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

→  আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা
→  জুতা - জুতো;
→  তুলা -  তুলো;
→  শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
→  বন্য - বুনো;
→  তাঁহারা/উঁহারা -তাঁরা/ওঁরা;
→  তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
→  তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর;
→  পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন;
→  হইলেন - হলেন;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২১-সংস্করণ)।

৩২৩.
'চকিত হইয়া’-এর চলিত রূপ -
  1. ক) চকিত হয়ে
  2. খ) চকিত হইয়া
  3. গ) চকিতে
  4. ঘ) চমকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) চমকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চমকে
ব্যাখ্যা
চকিত হইয়া’ দুটি শব্দ হলেও চমকে শব্দটি দিয়ে দুটির শব্দের অর্থ পূরণ করতে পারছে। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩২৪.
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
  2. সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
  3. ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
  4. এই ভাষারীতি দুর্বোধ্য ও মন্থর।
সঠিক উত্তর:
ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়- ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:

১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।

অন্যদিকে,
চলিত ভাষারীতি বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩২৫.
'পার হইয়া' এর চলিত রূপ কী?
  1. পার হয়ে
  2. পারিয়ে
  3. পেরিয়ে
  4. পার হইয়ে
সঠিক উত্তর:
পেরিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিয়ে
ব্যাখ্যা

'পার হইয়া' এর চলিত রূপ হচ্ছে - 'পেরিয়ে'।

• সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ:
 - জুতা = জুতো,
- তুলা = তুলো,
- পড়িল = পড়ল/পড়লো,
- করিয়াছিলেন = করেছিলেন,
- করিলেন = করলেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ - সংস্কারণ)।

৩২৬.
বাংলা লিপির সুসংগঠন হয় কোন আমলে?
  1. সেন
  2. মৌর্য
  3. আর্য
  4. গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপির ইতিবৃত্ত:
- জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একটি হস্তলিখিত পুথি আছে যেখানে প্রাচ্যলিপির নমুনা পাওয়া যায়।
- ৭ম শতাব্দীর লিপির প্রমাণ মেলে আদিত্য সেন নামক এক মগধরাজের অনুশাসনকালে।
- পরে এ অঞ্চলের পালরাজাদের সময় লিপি ক্রমবিবর্তিত হয়ে বাংলা লিপির রূপ পরিগ্রহ করে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
- ৯ম শতাব্দীতে বাংলাদেশের পালবংশীয় রাজা নারায়ণ পালের তাম্রশাসনে বাংলা লিপির সুস্পষ্টরূপ পরিলক্ষিত হয়। আজকের বাংলা লিপি সেই ধারার পরবর্তী রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৭.
কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) মাগধী প্রাকৃত
  4. ঘ) আরবি
সঠিক উত্তর:
গ) মাগধী প্রাকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাগধী প্রাকৃত
ব্যাখ্যা
মাগধী প্রাকৃত থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩২৮.
চলিত রীতির শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) করবার
  2. খ) করার
  3. গ) করিবার
  4. ঘ) করে
সঠিক উত্তর:
গ) করিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করিবার
ব্যাখ্যা
'করিবার' শব্দটি হলো সাধুরীতির শব্দ।

এছাড়া আরও কিছু সাধুরীতির শব্দ হলো- তাঁহারা, পাইয়াছিলেন, আসিয়া ইত্যাদি।
সাধু ও চলিত রীতির বৈশিষ্ট
সাধু রীতি
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি

(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৯.
বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) ছয়
সঠিক উত্তর:
খ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার
ব্যাখ্যা
• উপভাষা
প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

• বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।

• বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা: ১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা; ২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা; ৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং ৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা।

• পশ্চিমবঙ্গের উপভাষাগুলি প্রধানত দু শ্রেণিতে বিভক্ত: ১. রাঢ়ী ও ঝাড়খন্ডী (দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধিকাংশ) এবং ২. বরেন্দ্রী ও কামরূপী (গোয়ালপাড়া থেকে পূর্ণিয়া পর্যন্ত)

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৩০.
নিচের কোনটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ?
  1. খাচ্ছিল
  2. খেয়েছে
  3. খাইতেছিল
  4. খেয়েছিলেন
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
ব্যাখ্যা
’খাচ্ছিল’ শব্দের সাধু রীতি = খাইতেছিল ।

অন্যদিকে,
’খেয়েছিলেন’ শব্দের সাধুরূপ = খাইয়াছিলেন।
’খাইয়াছে’ শব্দের সাধুরূপ = খেয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)
৩৩১.
মানুষের দেহের যে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাকে বলে?
  1. ক) বাক প্রত্যঙ্গ
  2. খ) অঙ্গধ্বনি
  3. গ) স্বরতন্ত্রী
  4. ঘ) নাসিকাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ক) বাক প্রত্যঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাক প্রত্যঙ্গ
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাদের বাক প্রত্যঙ্গ বলা হয়।
- বাক প্রত্যঙ্গগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় বাগযন্ত্র।
বাগযন্ত্রের মধ্যে আছে ফুসফুস, স্বরতন্ত্রী, গলনালি, জিভ, তালু, মাড়ি, দাঁত, ঠোঁট, নাক ইত্যাদি।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৩৩২.
উচ্চরণের একক কী?
  1. অক্ষর
  2. শব্দ
  3. ধ্বনি
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
ব্যাখ্যা

• অক্ষর (Syllable):
- অক্ষর (Syllable) বলতে বোঝায় কথার টুকরো অংশ।
- কথা বলার সময় আমরা এ-অংশই উচ্চারণ করি। একে উচ্চারণের একক (unit) ধরা হয়।
একে দল-ও বলে।
- অক্ষর অনুযায়ী যেসব ভাষা লেখার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাকে বলে অক্ষরভিত্তিক লিখনরীতি।
যেমন- জাপানি ভাষা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৩৩৩.
ভাষার কোন রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী?
  1. সাধুরীতি
  2. কথ্যরীতি
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩৪.
'The Origin and Development of Bengali Language' গ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং সকল পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- ১৯১৯ সালে তিনি ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে লন্ডন যান এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোনেটিক্সে ডিপ্লোমা ও ডিলিট (১৯২১) ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘Origin and Development of Bengali Language’। 
- তিনি তাঁর ‘Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)  নামক বিখ্যাত গ্রন্থে চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। 
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ‘Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL) এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

- তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- Bengali Phonetic Reader (১৯২৮),
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা (১৯২৯),
- পশ্চিমের যাত্রী (১৯৩৮),
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা (১৯৪৪),
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৪৫),
- ভারত সংস্কৃতি (১৯৫৭),
- সংস্কৃতি কী (১৯৬১),
- Languages and Literatures of Modern India (১৯৬৩),
- World Literature and Tagore (১৯৭১),
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩৫.
কোনটি ভাষা পরিবারের নাম নয়?
  1. ইন্দো-ইউরোপীয়
  2. অস্ট্রো-এশীয়
  3. আফ্রিকীয়
  4. ইন্দো-সেমীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
ব্যাখ্যা

• ভাষা-পরিবারের নাম নয় - ইন্দো-সেমীয়

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৩৩৬.
‘আমি অদ্য এ কার্যালয়ে যোগদান করেছি’ বাক্যে কোন শব্দটি ভুল ভাষা রীতিতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অদ্য
  2. যোগদান
  3. করেছি
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অদ্য,
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
 অর্থ:
- আজ, এখন, আজকের দিন।

- এখানে 'অদ্য' শব্দটি সাধু ভাষার শব্দ।
- 'অদ্য' চলিত রূপ হচ্ছে 'আজ / আজকের দিন'।
- তাই এখানে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ হয়েছে।
- বাক্যের শুদ্ধ রূপ নিম্নরূপ:
- ‘আমি আজ এ কার্যালয়ে যোগদান করেছি’।
৩৩৭.
বাংলা ছাড়াও বাংলা লিপিতে লেখা হয় কোন ভাষা?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) মৈথিলি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) মণিপুরি
সঠিক উত্তর:
ঘ) মণিপুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মণিপুরি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বােড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। 
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতাে।
- বাংলাদেশের জীবনযাত্রার প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক।
- এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা।।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩৮.
সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষারীতি কোনটি?
  1. চলিত রীতি
  2. আঞ্চলিক রীতি
  3. কাব্য রীতি 
  4. সাধু রীতি
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৩৯.
‘মান রীতি’ নামে পরিচিত ভাষারীতি কোনটি?
  1. প্রমিত রীতি
  2. কাব্য রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৪০.
'ঞ্জ' যুক্তবর্ণটি কোন বর্ণগুলো দিয়ে গঠিত?
  1. ক) ঞ্‌+জ
  2. খ) জ+ঞ্‌
  3. গ) ঞ্‌+চ
  4. ঘ) ঞ্‌+ছ
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্‌+জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্‌+জ
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা- স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ ও অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
৩৪১.
নিচের কোনটি লেখ্য ভাষা রীতি?
  1. আদর্শ কথ্য রীতি
  2. প্রমিত রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি-
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ )
৩৪২.
সাধু রীতির শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) ওটি
  2. খ) কাহাদের
  3. গ) করিও
  4. ঘ) আসিল
সঠিক উত্তর:
ক) ওটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওটি
ব্যাখ্যা
- 'ওটি' সাধু রীতির শব্দ নয়।
- 'উহা' এর চলিত রূপ হচ্ছে 'ওটি'/ও/ওটা।

অন্যদিকে,
'কাহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে কাদের।
'করিও' চলিত রূপ হচ্ছে করো।
'আসিল' চলিত রূপ হচ্ছে আসল, এলো।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৪৩.
বাঙালি জাতির মাতৃভাষা কোনটি?
  1. উর্দু
  2. ইংরেজি
  3. আরবি
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩৪৪.
নিচের কোনটি চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. এটি কৃত্রিম
  2. এটি কেবল পণ্ডিতদের ভাষা
  3. এটি সরল, সাবলীল ও পরিবর্তনশীল
  4. এটি ব্যাকরণের কঠোর নিয়ম মেনে চলে
সঠিক উত্তর:
এটি সরল, সাবলীল ও পরিবর্তনশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সরল, সাবলীল ও পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৪৫.
বর্তমানে লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ কোনটি?
  1. আঞ্চলিক ভাষা
  2. প্রমিত রীতি
  3. চলিত রীতি
  4. সাধু রীতি
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা

- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৪৬.
কোনটি সাধুরীতির ক্রিয়াপদ?
  1. খাইতেছিল
  2. করে
  3. এসে
  4. গেছিল
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদের রূপের পার্থক্য:
→ সাধু - চলিত,
→ আসিয়া - এসে,
→ করিয়া - করে,
→ করিয়াছে - করেছে,
খাইতেছিল - খাচ্ছিল,
→ গিয়াছিল - গেছিল,
→ ঘুমাইতেছে - ঘুমাচ্ছে,
→ চাহিয়া - চেয়ে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৪৭.
বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য ভাষাকে আর কী বলা হয়?
  1. চলিত ভাষা
  2. সাধু ভাষা
  3. উপভাষা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা:
- বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ নিজ নিজ অঞ্চলের ভাষায় কথা বলে। এগুলো আঞ্চলিক কথ্য ভাষা বা উপভাষা।

পৃথিবীর সব ভাষায়ই উপভাষা আছে। এক অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার সঙ্গে অপর অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। ফলে এমন হয় যে, এক অঞ্চলের ভাষা অন্য অঞ্চলের লোকের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণের কথ্য ভাষা দিনাজপুর বা রংপুরের লোকের পক্ষে খুব সহজবোধ্য নয়। এ ধরনের আঞ্চলিক ভাষাকে বলার ও লেখার ভাষা হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি দেওয়া সুবিধাজনক নয়। কারণ, তাতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাভাষীদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানে অন্তরায় দেখা দিতে পারে। সে কারণে, দেশের শিক্ষিত ও পণ্ডিতসমাজ একটি আদর্শ ভাষা ব্যবহার করেন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৮.
"পূর্বি" কোন অঞ্চলের ভাষা?
  1. বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল
  2. বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল
  3. বাংলাদেশের উত্তর
  4. বাংলাদেশের পশ্চিম অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়।
- যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা।
- ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল)।
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল)।
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল)।
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৪৯.
ভাষার মূল উপাদান কোনটি?
  1. বাক্য
  2. শব্দ
  3. ধ্বনি
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• ভাষার মূল উপাদান- 'ধ্বনি'।

• ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে। আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। 
এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মূল উপাদান হলো ধ্বনি।  

তাছাড়া, 
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫০.
ভাষা আন্দোলন চলাকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. নুরুল আমিন
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. ইস্কান্দার মির্জা
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৩৫১.
'অদ্য' শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?
  1. চলিত
  2. প্রাকৃত
  3. সাধু
  4. কোল
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' — শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ। 
এর চলিতরূপ: আজ।

• অদ্য (ক্রিয়াবিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: আজ, সম্প্রতি, এখন। 
----------------
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)। 
২) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
৩৫২.
চলিত ভাষায় নিচের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্য়য়
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।  অনুসর্গ অব্য়য়পদ হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া থেকেসৃষ্টি হওয়ায় চলিত ভাষায় অনুসর্গের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়।

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাসার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৩.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. শুকনো
  2. জুতা 
  3. এসে
  4. মাথা
সঠিক উত্তর:
জুতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুতা 
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

যেমন:
সাধু-চলিত:
→ আসিয়া - এসে,
→ মস্তক - মাথা,
জুতা - জুতো,
→ তুলা - তুলো,
→ শুষ্ক/শুকনা - শুকনো,
→ বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৫৪.
"উহা" শব্দের চলিতরূপ কোনটি?
  1. ওদের
  2. এরা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
সাধু - চলিত:
→ এই-এ,
→ ইহা-এ, 
→ ইহাকে-একে, 
→ ইহাদের-এদের,
→ ইহারা-এরা,
উহা-ও
→ উহাদিগের-ওদের, 
→ কাহাকে-কাকে, 
→ কেহ-কেউ, 
→ তাহা-তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণি।
৩৫৫.
‘আনন্দ’ কোন ধরণের বিশেষ্য ?
  1. ক) নাম-বিশেষ্য
  2. খ) জাতি - বিশেষ্য
  3. গ) গুণ - বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টি -বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) গুণ - বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুণ - বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

- গুণ-বিশেষ্য: গুনগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমনঃ-
- সরলতা
- দয়া
- আনন্দ 
- গুরুত্ব
- দীনতা
-ধৈর্য

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

৩৫৬.
কোন ভাষা থেকে সংস্কৃত ভাষাটি এসেছে?
  1. আর্য
  2. ভারতীয়
  3. প্রাচীন ভারতীয় আর্য
  4. প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য ভাষা থেকে সংস্কৃত ভাষাটি এসেছে।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।

বাংলা ভাষা বিবর্তনের রূপরেখা:



উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫৭.
ভাষার মূল উপকরণ কোনটি?
  1. বর্ণ
  2. বাক্য
  3. শব্দ
  4. ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা

• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার মূল উপকরণ:
- বাক্য।
- উপকরণ বলতে বোঝায় বৃহত্তম একক।
- ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে বড়ো/বৃহত্তম/ একক/বৃহত্তম একক বা অংশ হিসেবে পাওয়া যায় বাক্য; সুতরাং ভাষার উপকরণ বাক্য।
• ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উল্লেখ্য,
• ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
• ভাষার মূল উপাদান / ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি।
• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।
• শব্দের গঠনগত একক - বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৫৮.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. তৎসম শব্দের ব্যাপক ব্যবহার
  2. ভাষা চটুল ও জীবন্ত
  3. উচ্চারণ গুরুগম্ভীর
  4. কাঠামো অপরিবর্তনীয়
সঠিক উত্তর:
ভাষা চটুল ও জীবন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা চটুল ও জীবন্ত
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি।
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের।
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে।
৪. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া।
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল।
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত

অন্যদিকে,
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য - সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত। সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর। সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী। এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩৫৯.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. চাঁদ
  2. হস্তী
  3. মৎস্য
  4. অগ্নি
সঠিক উত্তর:
চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৬০.
কোন বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত?
  1. তাহারা রওয়ানা হলো।
  2. সে স্কুলে যাবে।
  3. তার বিবাহ হয় নাই।
  4. তাহার বাহিরে যাওয়ার সময় হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সে স্কুলে যাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে স্কুলে যাবে।
ব্যাখ্যা
• 'সে স্কুলে যাবে।' বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত।

• গুরুচণ্ডালী দোষ:

- একই রচনায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ অসংগত ও অশুদ্ধ। ভাষারীতির এ অশিষ্ট প্রয়োগকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।

- অশুদ্ধ: তাহারা রওয়ানা হলো। 
- শুদ্ধ: তারা রওনা হলো। 

- অশুদ্ধ:তার বিবাহ হয় নাই। 
- শুদ্ধ:তার বিয়ে হয়নি।

- অশুদ্ধ: তাহার বাহিরে যাওয়ার সময় হয়েছে।
- শুদ্ধ:তার বাইরে যাওয়ার সময় হয়েছে।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬১.
বাংলা ভাষার কোন রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে?
  1. ক) চলিত রীতি
  2. খ) লেখা রীতি
  3. গ) সাধু রীতি
  4. ঘ) কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
গ) সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য: 
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬২.
কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়
  2. সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত
  3. সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
  4. তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি।
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের।
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে।
৪. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া।
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল।
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত।
- সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর।
- সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
- এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৩৬৩.
নিচের কোন ভাষা নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী?
  1. সাধু
  2. কথ্য
  3. চলিত
  4. আঞ্চলিক
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৬৪.
কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. তারা
  2. গৃহিণী
  3. করে
  4. মাথা
সঠিক উত্তর:
গৃহিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহিণী
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর- খ) গৃহিণী।

খ) গিন্নি - এটি চলিত রীতির শব্দ।
- সাধু রীতিতে: "গৃহিণী"।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ:
- তাহারা - "তারা",
 - 'মস্তক' - 'মাথা',
- পার হইয়া - পেরিয়ে,
- করিয়া - করে,
- করিয়াছিলেন - করেছিলেন,
- করিলেন - করলেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৫.
কোনটি ভাষার মৌলিক অংশ নয়?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বাক্য
  3. গ) অর্থ
  4. ঘ) ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
প্রত্যেক ভাষারই মৌলিক অংশ ৪টি। সেগুলো হল - ধ্বনি, শব্দ, বাক্য এবং অর্থ। [উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৬৬.
'বন্য' শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
  1. বুন
  2. বুনো
  3. বন
  4. বূন
সঠিক উত্তর:
বুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুনো
ব্যাখ্যা

• বন্য’ শব্দের চলিত রূপ: 'বুনো'। 

• এরূপ আরো কয়েকটি সাধু ভাষার  চলিত রূপ:
- পেরিয়ে - পার হইয়া।
- পড়ল - পড়িল।
- করে - করিয়া।
- শুকনো - শুষ্ক। শুকনা।
- জুতোর - জুতার।
- ভেঙে - ভাঙ্গিয়া।
- যেতে লাগল - যাইতে লাগিল।
- বুনো - বন্য।
- জুড়ে - জুড়িয়া।
- তুলো - তুলা।
- ফুটে রয়েছে - ফুটিয়া রহিয়াছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬৭.
‘লম্ফ প্রদান করিল’-এর চলিত রূপ কোনটি?
  1. ক) লাফ দিল
  2. খ) লম্ফ দিল
  3. গ) লম্ফ প্রদান করল
  4. ঘ) লাফ প্রদান করল
সঠিক উত্তর:
ক) লাফ দিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাফ দিল
ব্যাখ্যা
‘লম্ফ প্রদান করিল’ - এর চলিত রূপ - লাফ দিলো।
৩৬৮.
বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ নয় কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা
• কিন্তু বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
যথা- 
ক. ধ্বনি;
খ. শব্দ;
গ. বাক্য;
ঘ. অর্থ।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ নয় — "বর্ণ"। 

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৯.
চলিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) বলবেন
  2. খ) বলিবেন
  3. গ) বলিয়াছিলেন
  4. ঘ) বলাইয়াছিলেন
সঠিক উত্তর:
ক) বলবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বলবেন
ব্যাখ্যা
- চলিত শব্দ: বলবেন।

• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

• সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
প্রদত্ত ‘বলিলেন’ এর চলিত রূপ - 'বললেন'।
এবং ‘বলিয়াছিলেন’ এর চলিত রূপ - 'বলেছেন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭০.
ভাষার কোন রীতিতে ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল থাকে?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. তৎসম রীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭১.
সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোনরূপে বিদ্যমান?
  1. ক) আঞ্চলিক
  2. খ) উপভাষা
  3. গ) লেখ্য
  4. ঘ) কথ্য
সঠিক উত্তর:
গ) লেখ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লেখ্য
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে 
- মৌখিক বা কথ্য 
- লৈখিক বা লেখ্য রূপ 

ভাষার মৌখিক রূপের আবার একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি আরেকটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি। 
বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও দুইটি রূপ আছে: একটি চলিত রীতি ও অপরটি সাধু রীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭২.
সাধু রীতিতে ক্রিয়াররূপ কেমন হবে?
  1. দীর্ঘতর 
  2. পরিবর্তন হয় না
  3. হ্রস্বতর
  4. সংক্ষিপ্ত হয়
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর 
ব্যাখ্যা

• সাধু রীতি: 
দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

• সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর হয়, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 

৩৭৩.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
  1. অক্ষর
  2. রূপমূল
  3. শব্দ
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রূপমূল।

----------------------
• শব্দ ও রূপমূল:

শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
 • ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।

- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩৭৪.
'করিয়াছিলেন' এর চলিত রূপ কী হবে?
  1. করেছেন
  2. করেছিলেন
  3. করিলেন
  4. করলেন
সঠিক উত্তর:
করেছিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করেছিলেন
ব্যাখ্যা

- 'করিয়াছিলেন' এর চলিত রূপ হচ্ছে- করেছিলেন।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ:
- 'পার হইয়া' এর চলিত রূপ হচ্ছে- পেরিয়ে,
- 'পড়িল' এর চলিত রূপ হচ্ছে- পড়ল/পড়লো,
- 'করিয়া' এর চলিত রূপ হচ্ছে - করে,
- 'করিলেন' এর চলিত রূপ হচ্ছে- করলেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৭৫.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কী?
  1. পালি ভাষা
  2. খাঁটি বাংলা ভাষা
  3. দেশি ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা।

• উপভাষা:
• উপভাষা হচ্ছে প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।

• প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

• বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।

• বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা: ১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা; ২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা; ৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং ৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা। 

• বাংলাদেশে উপভাষার বহুল ব্যবহারের জন্য উপভাষাভাষী ও প্রমিত ভাষাভাষীদের মধ্যে বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। বাংলা ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনটি ভাষারীতি সমানভাবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। সাধারণভাবে শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে লেখ্য ও কথ্যরূপে প্রমিত বাংলা, লিখিতরূপে ও পাঠ্যপুস্তকে সাধু/চলিত রীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষাভাষীদের মধ্যে মৌখিক ভাষারূপে উপভাষা ব্যবহূত হয়।

• বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ১৯৬৫ সালে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সম্পাদনায় বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• পালি প্রাচীন ভারতের একটি অন্যতম বড় ভাষা। ‘পালি’ শব্দটি ‘পাঠ’ (Sacred Text) অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ এ ভাষায় শিষ্যদের পাঠ বা উপদেশ দিতেন; তাই বুদ্ধবচনই হচ্ছে পালি (ইতি পি পালি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৭৬.
কোন ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়?
  1. সাধু ভাষা
  2. চলিত ভাষা
  3. আঞ্চলিক ভাষা
  4. প্রমিত ভাষা
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয় তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
৩৭৭.
ধ্বনির সৃষ্টি হয় কীসের সাহায্যে?
  1. কলমের সাহায্যে
  2. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে
  3. ঠোঁটের সাহায্যে
  4. বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ও বাগ্‌যন্ত্র: 
- ধ্বনির সৃষ্টি হয় — বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে।
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক্‌ প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগ্‌যন্ত্র।
- বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবােধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।

অন্যদিকে, 
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলাে 'ধ্বনি'।
- এটা ভাষার মৌলিক অংশ। ধ্বনিকে শব্দের ক্ষুদ্রতম এককও বলা হয়।
- ধ্বনির লিখিত রূপ হলাে বর্ণ।
- ধ্বনি চেনার স্মারক বা চিহ্ন বা প্রতীকই বর্ণ।
- শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ হলাে অক্ষর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩৭৮.
সংস্কৃত শব্দবহুল ভাষা রীতি কোনটি?
  1. আঞ্চলিক ভাষা রীতি
  2. চলিত ভাষা রীতি
  3. সাধু ভাষা রীতি
  4. উপভাষা ভাষা রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা রীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
• চলিত / প্রমিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়। যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা। ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে। বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল), পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল), বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল), কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল), রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ)। ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি কয়েকটি উপভাষার নাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
৩৭৯.
নিচের কোনটি সাধু ভাষায় ব্যবহার উপযোগী নয়?
  1. গল্প লেখা
  2. কবিতা লেখা
  3. প্রবন্ধ লেখা
  4. বক্তৃতা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা দেওয়া
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩৮০.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. বন্য
  2. মস্তক
  3. তুলো
  4. ঘৃত
সঠিক উত্তর:
তুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলো
ব্যাখ্যা

 সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য  ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

সাধু - চলিত
→  আসিয়া - এসে।
মস্তক- মাথা
→  জুতা- জুতো;
→  তুলা-  তুলো;
→  শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
→  বন্য - বুনো;
→  তাঁহারা/উঁহারা -তাঁরা/ওঁরা;
→  তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
→  তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর;
→  পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন;
→  হইলেন - হলেন;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮১.
নিচের কোনটি ভাষা-পরিবারের নাম নয়?
  1. সেমীয়-হেমীয়
  2. অস্ট্রো-এশীয়
  3. চীনা-তিব্বতীয়
  4. ইন্দো-সেমীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
ব্যাখ্যা
• ভাষা-পরিবারের নাম নয় - ইন্দো-সেমীয়।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩৮২.
সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় লিখতে পদ যুগলের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৮৩.
কোন ভাষা রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. কথ্য রীতি
  4. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা

সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

অন্যদিকে,
• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধুরীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৮৪.
চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
  2. চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  3. এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।
  4. এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
সঠিক উত্তর:
এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয়- এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।

----------------------
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৫.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. ওঁরা
  2. সাথে
  3. সহিত
  4. সঙ্গে
সঠিক উত্তর:
সহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহিত
ব্যাখ্যা
• ‘সহিত’ শব্দটি সাধুর ভাষার শব্দ।
- এর চলিত রূপ সাথে / সঙ্গে।

অন্যদিকে,
- ‘ওঁরা’ শব্দটি চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - তাহাঁরা / উহাঁরা।

সাধু ভাষা:
- বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

চলিতরীতি:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে - চলিতরীতি / চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৬.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. জুতা
  2. শুষ্ক
  3. বুনো
  4. সহিত
সঠিক উত্তর:
বুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুনো
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

 সাধু - চলিত:
আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
পড়িল - পড়ল/পড়লো;
করিয়া - করে;
ভাঙিয়া - ভেঙে;
যাইতে - যেতে;
ফুটিয়া -  ফুটে; 
সহিত - সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৮৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সাধু ভাষার ব্যবহার উপযোগী নয়?
  1. গদ্য 
  2. গল্পে 
  3. কথাবার্তায় 
  4. কবিতায় 
সঠিক উত্তর:
কথাবার্তায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথাবার্তায় 
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩৮৮.
সাধু ভাষারীতি কোথায় ব্যবহৃত হয়?
  1. বক্তৃতায়
  2. লেখায়
  3. নাটকের সংলাপে
  4. কথাবার্তায়
সঠিক উত্তর:
লেখায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখায়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৮৯.
ভাষার কোন রীতি কেবলমাত্র লেখ্যরূপে ব্যবহৃত হয়?
  1. কথ্য রীতি
  2. আঞ্চলিক রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
 • সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- ভাষার এ রীতি সর্বজনস্বীকৃত লেখ্যরূপে ব্যবহৃত হয়। 

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯০.
সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য কোন পদে বেশি পাওয়া যায়? 
  1. ক্রিয়া ও সর্বনাম
  2. বিশেষণ ও সর্বনাম 
  3. বিশেষণ ও ক্রিয়াবিশেষ্য
  4. বিশেষ্য ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে বেশি পাওয়া যায়।
-----------------------
• সাধু ভাষা:
- সাধু ভাষারীতি হলো সেই রীতি, যেখানে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর হয়।
- যেমন করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিবার।
- সর্বনামে হ যুক্ত থাকে।
- যেমন তাহারা, যাহা, তাহা, উহা, এবং রূপ অপরিবর্তনীয়, অঞ্চল বা সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় না।
- এতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি, যা ভাষায় আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য যোগ করে।
- সাধু রীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে, পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত থাকে। 
- এই ভাষা সাধারণত শুধু লেখায় ব্যবহৃত হয়, কথাবার্তা বা বক্তৃতার জন্য নয়।
- এছাড়াও, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এই ভাষায় পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়।

চলিত ভাষা:
- বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে সাধু রীতির স্থলে চলিত বা প্রমিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের শুরুতে এটি পরিচিত হয় প্রমিত রীতি বা নাম রীতি নামে।
- বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়। 
- যেমন করা ক্রিয়ার রূপ হলো করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করছিল, করব, করবে, করতে, করার ইত্যাদি।
- সর্বনামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ।
- প্রমিত রীতিতে শব্দের ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল;
- প্রয়োজনে তৎসম বা তদ্ভব উভয় ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়।
- যেমন বৎসর বা বছর, চন্দ্র বা চাঁদ।
- এছাড়া কথ্য রীতির কিছু শব্দ পরিবর্তিত হয়ে লেখায় ব্যবহৃত হয়।
- যেমন ধুলা → ধুলো, তুলা → তুলো, মুলা → মুলো, পুজো → পূজা, সবথেকে → সবচেয়ে।

- তাই সাধু ভাষা ও প্রমিত ভাষার পার্থক্য মূলত ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৩৯১.
'গৌড়ীয় ব্যকরণ' কার রচনা?
  1. ক) গোলকনাথ শর্মা
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং তা প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও লাল নীল দীপাবলি।
৩৯২.
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  2. এ ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
  3. এ ভাষা তৎসম শব্দবহুল।
  4. এ ভাষার গতি লঘু ও চঞ্চল।
সঠিক উত্তর:
এ ভাষার গতি লঘু ও চঞ্চল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ভাষার গতি লঘু ও চঞ্চল।
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৩.
প্রমিত রীতির ক্ষেত্রে কোনটি ভুল?
  1. ক্রিয়া হ্রস্বতর হয়।
  2. 'চন্দ্র'-ও লেখা যায়, 'চাঁদ'-ও লেখা যায়।
  3. সর্বনাম দীর্ঘতর হয়।
  4. অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম দীর্ঘতর হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম দীর্ঘতর হয়।
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
• প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন 'করা' ক্রিয়ার রূপ: করছে, করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করছিল, করেছিল, করব, করবে, করতে, করে, করলে, করার।
- সর্বনামের ক্ষেত্রে যেমন তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ ইত্যাদি।
- অনুসর্গের ক্ষেত্রে যেমন থেকে, হতে, সঙ্গে ইত্যাদি।

• প্রমিত রীতিতে শব্দ ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের উপরে নির্ভরশীল। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন তৎসম 'বৎসর'-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব 'বছর'-ও লেখা যায়। একইভাবে 'চন্দ্র'-ও লেখা যায়, 'চাঁদ'-ও লেখা যায়।

• প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়, যেমন 'ধুলো, তুলো, মুলো, পুজো, সবচে' ইত্যাদি না লিখে 'ধুলা, তুলা, মুলা, পূজা, সবচেয়ে' ইত্যাদি লিখতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩৯৪.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. করল
  2. আজি
  3. জোছনা
  4. আজ
সঠিক উত্তর:
আজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি
ব্যাখ্যা
• ‘আজ’ শব্দটি চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ অদ্য / আজি।

অন্যদিকে,
• ‘জোছনা’ চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ জ্যোৎস্না।
• ‘করল’ শব্দটিও চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ করিল।

=============
• সাধু ভাষা:  
- বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

• চলিতরীতি
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে - চলিতরীতি / চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৫.
কোনটি সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা
  2. পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
  3. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
  4. সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
সঠিক উত্তর:
সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর

অন্যদিকে,
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৯৬.
বাংলা ভাষার কতটি প্রধান রূপ রয়েছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. একটি
  4. দুটি
সঠিক উত্তর:
দুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার রূপ দুটি:
- মৌখিক রূপ,
- লৈখিক রূপ।

• ভাষার মৌখিক রূপের আবার দুটো রীতি রয়েছে,
যথা: আঞ্চলিক রীতি ও প্রমিত রীতি।

অপর দিকে,
•লৈখিক রূপেরও দুটো আলাদা রীতি আছে, যেমন: চলিত রীতি ও সাধু রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩৯৭.
বাংলা ভাষার উদ্ভব কোন শতকে ঘটেছে?​
  1. ৮ম শতক
  2. ৭ম শতক
  3. ৬ষ্ঠ শতক
  4. ৫ম শতক
সঠিক উত্তর:
৭ম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম শতক
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ:
- বাংলা ভাষা হাজার বছরের পুরনো। বাংলা ভাষার উৎসমূলে যে ভাষার সন্ধান পাওয়া যায়, তার নাম ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা।
- আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ইউরোপের মধ্যভাগ হতে দক্ষিণ-পূর্বাংশ ভূভাগে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা প্রচলিত ছিল। - এ ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষাই হলো বাংলা ভাষার আদি উৎস। তবে এ আদি উৎস থেকে বিবর্তনের পরবর্তী ধাপেই বাংলা ভাষার জন্ম হয়নি।
- ভাষার স্বাভাবিক পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় অনেক কাল ধরে অনেকগুলো স্তর পেরিয়ে সপ্তম শতকে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেছে। তবে বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল নির্ণয়ে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ। আর ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দকে বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩৯৮.
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
  2. সাধু ভাষারীতিতে সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি। 
  3. এই রীতি সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত।
  4. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।
সঠিক উত্তর:
এই রীতি সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই রীতি সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত।
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বক্তৃতা, সংলাপ ও আলাপ আলোচনার জন্য উপযোগী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯-সংস্করণ)।

৩৯৯.
সাধু ভাষার ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি অশুদ্ধ?
  1. সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
  2. সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।
  3. সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
  4. সাধু ভাষায় সন্ধি-সমাস বর্জনীয়।
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষায় সন্ধি-সমাস বর্জনীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষায় সন্ধি-সমাস বর্জনীয়।
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা ও এর বৈশিষ্ট্য:
উনিশ শতকের শুরুতে সংস্কৃতানুসারী পন্ডিতদের উদ্যোগ-আয়োজনে যে সাহিত্যিক গদ্য ভাষার উন্মেষ, তাই সাধুভাষা।

১. সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়। যেমন: তাহার, ইহার, কাহাকে, ইহাকে ইত্যাদি।
২. সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: খাইতেছিলাম, করিতেছিল ইত্যাদি।
৩. সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ (যদিও তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। যেমন: চন্দ্র, অভ্যন্তর, অভঙ্গ, সৌষ্ঠব, বৃত্ত, চর্ম, কাষ্ঠ। 

৪. সাধুভাষায় সন্ধি-সমাসের আধিক্য লক্ষ করা যায়। যেমন: কাষ্ঠাহরণে, রাজাজ্ঞা, রাজপুত্রহস্তে ইত্যাদি।

৫. সাধুভাষায় বাক্যের  পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ বাক্যে প্রথমে উদ্দেশ্য ও পরে বিধেয় থাকে এবং ক্রিয়াপদ সাধারণত বাক্যের শেষে থাকে। যেমন: সম্মুখে এক ক্ষুদ্র প্রান্তর দেখিতে পাইলাম। সর্বশেষে আসিল রাত্রির কৃষ্ণকায় পক্ষী তাহার পক্ষ মেলিয়া।

৬. সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে। তবে সাধুভাষায় একসময় ব্যবহৃত অনেক শব্দই বর্তমানে অপ্রচলিত। যেমন: অত্রত্য, অপার্যমানে, নিষণ্ণ।
৭. সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
৮. সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ বক্তৃতার অনুপযোগী।
৯. সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
১০. সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।

অন্যদিকে, 
• চলিত ভাষায় সন্ধি-সমাসের বর্জন বা সেগুলোকে ভেঙে সহজ করে লেখার বা তদ্ভব রূপ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যেমন: কাঠ আনতে, রাজার হুকুম, রাজপুত্তুরের হাতে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০০.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?
  1. মড়াদাহ
  2. শবমড়া
  3. শবদাহ
  4. শবপোড়া
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দ এবং দেশীয় শব্দের একসাথে ব্যবহার এর ফলে মাঝেমধ্যে গুরুচন্ডালী দোষ সৃষ্টি হয়। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে যে তৃতীয় রূপের প্রকাশ ঘটে তাকে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট বলে। 
যেমন, 
• শবপোড়া-শব (তৎসম শব্দ) + পোড়া (দেশি শব্দ), 
• মড়াদাহ- মড়া (দেশি শব্দ) + দহ (তৎসম শব্দ), 
• শবদাহ-শব (তৎসম শব্দ) + দাহ (তৎসম শব্দ)।

উল্লেখ্য,
• 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপােড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়ােগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
• সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ।