• সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে বেশি পাওয়া যায়।
-----------------------
• সাধু ভাষা:
- সাধু ভাষারীতি হলো সেই রীতি, যেখানে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর হয়।
- যেমন করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিবার।
- সর্বনামে হ যুক্ত থাকে।
- যেমন তাহারা, যাহা, তাহা, উহা, এবং রূপ অপরিবর্তনীয়, অঞ্চল বা সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় না।
- এতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি, যা ভাষায় আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য যোগ করে।
- সাধু রীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে, পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত থাকে।
- এই ভাষা সাধারণত শুধু লেখায় ব্যবহৃত হয়, কথাবার্তা বা বক্তৃতার জন্য নয়।
- এছাড়াও, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এই ভাষায় পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়।
• চলিত ভাষা:
- বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে সাধু রীতির স্থলে চলিত বা প্রমিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের শুরুতে এটি পরিচিত হয় প্রমিত রীতি বা নাম রীতি নামে।
- বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
- যেমন করা ক্রিয়ার রূপ হলো করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করছিল, করব, করবে, করতে, করার ইত্যাদি।
- সর্বনামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ।
- প্রমিত রীতিতে শব্দের ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল;
- প্রয়োজনে তৎসম বা তদ্ভব উভয় ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়।
- যেমন বৎসর বা বছর, চন্দ্র বা চাঁদ।
- এছাড়া কথ্য রীতির কিছু শব্দ পরিবর্তিত হয়ে লেখায় ব্যবহৃত হয়।
- যেমন ধুলা → ধুলো, তুলা → তুলো, মুলা → মুলো, পুজো → পূজা, সবথেকে → সবচেয়ে।
- তাই সাধু ভাষা ও প্রমিত ভাষার পার্থক্য মূলত ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।