বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

মোট প্রশ্ন৪৯৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৪৯৮

১০১.
প্রত্যেক ভাষারই মৌলিক অংশ কয়টি?
  1. ক) চারটি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) ছয়টি
  4. ঘ) সাতটি
সঠিক উত্তর:
ক) চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চারটি
ব্যাখ্যা
প্রত্যেক ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে। সেগুলো হলো- ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১০২.
কোন চলিত রূপ?
  1. আসিয়া
  2. চলল
  3. গিয়াছিল
  4. চলিল
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
চলল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলল
ব্যাখ্যা
• চলিত রূপ - চলল
- এর সাধু রূপ - চলিল।

ক্রিয়াপদের রূপের পার্থক্য:

→ সাধু - চলিত,
আসিয়া - এসে, 
→ করিয়া - করে, 
→ করিয়াছে - করেছে, 
→ খাইতেছিল - খাচ্ছিল, 
গিয়াছিল - গেছিল, 
→ ঘুমাইতেছে - ঘুমাচ্ছে, 
→ চাহিয়া - চেয়ে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১০৩.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. তুলো
  2. জুতা
  3. শুষ্ক
  4. মস্তক
সঠিক উত্তর:
তুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলো
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১০৪.
সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
  2. তৎসম শব্দবহুল।
  3. সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে। 
  4. বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 
ব্যাখ্যা

• সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয়- বক্তৃতা ও আলাপ-আলোচনার উপযোগী। 

সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

------------------
• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০৫.
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের রূপ প্রাচীনরীতি অনুসারী এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই হলো -
  1. উপভাষা রীতি
  2. চলিত ভাষারীতি
  3. সাধু ভাষারীতি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের রূপ প্রাচীনরীতি অনুসারী এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন:
'এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'
এই রীতি শুধু লিখিত গদ্যে পরিদৃষ্ট হয়।
------------------ 
• সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
১০৬.
বর্তমানে লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতিকে বলে-
  1. সাধুরীতি
  2. লেখ্যরীতি
  3. প্রমিতরীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর:
প্রমিতরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিতরীতি
ব্যাখ্যা
প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।
- বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১০৭.
কোন রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. প্রমিত রীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়।
- এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
- এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে।
- প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।
- বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি'।
- এটি ‘মান রীতি' নামেও পরিচিত।
- বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১০৮.
চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) গুরুগম্ভীর
  2. খ) পরিবর্তনশীল
  3. গ) সর্বজনস্বীকৃত
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ বহুল
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুগম্ভীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুগম্ভীর
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা  বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং  চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায়  তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

অপরদিকে, 
বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৯.
পৃথিবীর বৃহত্তম ভাষাগোষ্ঠী কোনটি ?
  1. ক) অস্ট্রো - এশীয় 
  2. খ) চীনা - তিব্বতি
  3. গ) সেমীয় - হেমীয়
  4. ঘ) ইন্দো - ইউরোপীয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইন্দো - ইউরোপীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইন্দো - ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠী রয়েছে। বাংলা ভাষা পৃথিবীর বৃহত্তম ভাষাগোষ্ঠী ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শতম শাখা থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
এই ভাষাবংশ খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ইউরোপে, এশিয়ার ইরান ও ভারতের বিভিন্ন 
অঞ্চলে বিকাশ লাভ করে। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
চলিত ভাষায় কোন শব্দের ব্যবহার একেবারেই অচল?
  1. দুরূহ তৎসম
  2. দেশি 
  3. তদ্ভব
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
দুরূহ তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরূহ তৎসম
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বিশ শতকের শুরুতে প্রমথ চৌধুরীর 'সবুজপত্রে'র আহবানে ভাগীরথী নদীর দুতীরবর্তী অঞ্চলের ভাষাকে ভিত্তি করে যে মৌখিক ভাষা সাহিত্যিক গদ্য ভাষার মর্যাদা লাভ করে, তা-ই চলিত ভাষা।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের সংক্ষিপ্ত রূপ গৃহীত হয়। যেমন: তার, এর, কাকে, একে ইত্যাদি।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদগুলো সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: খাচ্ছিলাম, করছিল ইত্যাদি।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি-বিদেশি ইত্যাদি শব্দের প্রাধান্য (যদিও তৎসম শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। যেমন: চাঁদ, ভিতর, শরীর, গঠন, বোঁটা, চামড়া, কাঠ, আয়না ইত্যাদি।
- চলিত ভাষায় সন্ধি-সমাসের বর্জন বা সেগুলোকে ভেঙে সহজ করে লেখার বা তদ্ভব রূপ দেওয়ার "প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যেমন: কাঠ আনতে, রাজার হুকুম, রাজপুত্তুরের হাতে ইত্যাদি।
- চলিত ভাষায় পদস্থাপনের রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয় এবং বাক্যে ক্রিয়াপদের ব্যবহারে অনেক স্বাধীনতা রয়েছে। যেমন: দেখতে পেলাম সামনে এক ছোট্ট মাঠ; সবশেষে এল রাতের কালো পাখি তার ডানা মেলে।
- চলিত ভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার একেবারেই অচল। যেমন: এখানের, অক্ষমতার কারণে না পারলে বা না পারায়, অবস্থিত।
- চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: জন্য, হতে / থেকে, দিয়ে, চেয়ে।
- চলিত ভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য রয়েছে। যেমন: হনহন, গনগনে, ঝনঝন ।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, আলাপচারিতা ও নাট্যসংলাপে বেশি উপযোগী।

১১১.
চলিত রীতির নতুন নাম -
  1. মান রীতি
  2. প্রমিত রীতি
  3. কথ্য রীতি
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
 প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
- প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।
- বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি'। এটি ‘মান রীতি' নামেও পরিচিত।
- বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১২.
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. রামমোহন রায় 
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী।

প্রমথ চৌধুরীর চলিত ভাষা নিয়ে গবেষণা:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী। বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।

- 'বীরবলেন হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা। প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাএবং বাংলাপিডিয়া।

১১৩.
চলিত রীতির শব্দ কোনটি?
  1. তাঁহারা
  2. শুষ্ক
  3. মস্তক
  4. পেয়েছিলেন
সঠিক উত্তর:
পেয়েছিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেয়েছিলেন
ব্যাখ্যা
• চলিত রীতির শব্দ- 'পেয়েছিলেন'। এর সাধুরূপ - পাইয়াছিলেন।

অন্যদিকে,
তাঁহারা, শুষ্ক, মস্তক - সাধু রীতির শব্দ।

এখানে, 
• 'তাঁহারা' এর চলিত রীতি 'তাঁরা'।
• 'শুষ্ক' এর চলিত রীতি 'শুকনো'।
• 'মস্তক' এর চলিত রীতি 'মাথা'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৪.
সাধু ও চলিতরীতি ভেদে অপরিবর্তিত শব্দ কোনটি?
  1. যাইতেছিস
  2. যাও
  3. গিয়াছে
  4. যাস
সঠিক উত্তর:
যাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাও
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিতরীতি ভেদে অপরিবর্তিত শব্দ- যাও। 

অন্যদিকে, 
যাইতেছিস - যাচ্ছিস। 
যাইস - যাস। 
গিয়াছে - গেছে। 

------------
• সাধু ও চলিতরূপ ভেদে ভাষার ক্রিয়া বিভক্তির পরিবর্তন হয়। যেমন-

সাধু - চলিত:
• যায়, যান, যাও, যাইস, যাই - যায়, যান, যাও, যাস, যাই।
• যাইতেছে, যাইতেছেন, যাইতেছ, যাইতেছিস, যাইতেছি - যাচ্ছে, যাচ্ছেন, যাচ্ছ, যাচ্ছিস, যাচ্ছি।
• গিয়াছে, গিয়াছেন, গিয়াছ, গিয়াছিস, গিয়াছি - গেছে (গিয়েছে), গিয়েছেন (গেছেন), গিয়েছ (গেছ), গিয়েছিস (গেছিস), গিয়েছি (গেছি)।
• যাউক (যাক), যান, যাও, যা - যাক, যান, যাও, যা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১১৫.
বাংলা ভাষার প্রাচীন লিখিত রূপ কোনটি?
  1. উপভাষা
  2. প্রমিত ভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. তদ্ভব ভাষা
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা:
- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ। সাধু ভাষা সংস্কৃত বা তৎসম শব্দবহুল।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন।
 -১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।
- সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'

- বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তোলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে, 
• চলিত ভাষা তদ্ভব এবং দেশি-বিদেশী শব্দবহুল। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১১৬.
কোনটি ভাষার মৌলিক অংশ নয়?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বচন
  4. বাক্য
সঠিক উত্তর:
বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচন
ব্যাখ্যা

• প্রত্যেক ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে। যথা-
- ধ্বনি,
- শব্দ,
- বাক্য ও
- অর্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৭.
'শুষ্ক' শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
  1. শুকনা
  2. শুকনো
  3. শুষ্কো
  4. শুষ্কা
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
সাধুচলিত
মস্তক ⇒ মাথা;
জুতা ⇒ জুতো;
তুলা ⇒ তুলো;
শুষ্ক / শুকনা ⇒ শুকনো;
বন্যবুনো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৮.
বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কোনটি?
  1. ব্রাহ্মসমাজ
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
সঠিক উত্তর:
আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা), 
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ)।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
চলিত ভাষায় নিচের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়। এবং অনুসর্গ অব্য়য় হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া থেকেসৃষ্টি হওয়ায় চলিত ভাষায় অনুসর্গের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়।

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল
- চলিত ভাসার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১২০.
সাধু ভাষা কোন ক্ষেত্রে অনুপযোগী?
  1. কাব্যে
  2. গদ্যে
  3. গানের কলিতে
  4. বক্তৃতায়
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতায়
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা:
- এ ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১২১.
‘বাংলা ও পুর্তগিজ ভাষার শব্দকোষ : দুই ভাগে বিভক্ত’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. গ) মনোয়েল দ্যা আসসম্পুসাঁউ
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়।
সঠিক উত্তর:
গ) মনোয়েল দ্যা আসসম্পুসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনোয়েল দ্যা আসসম্পুসাঁউ
ব্যাখ্যা

- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পুর্জগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।
- উল্লেখ্য, গ্রন্থটি ২ অংশে বিভক্ত ছিলো।

- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি (নাথায়িল ব্রাসি) হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)

- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।

১২২.
'আমি যদি কবি হতুম, তাহলে আর যে বিষয়েই হোক, বর্ষার সম্বন্ধে কখনো কবিতা লিখতুম না' সাধু ভাষায় এ বাক্যে ভুলের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নোক্ত বাক্যটি চলিত ভাষার। কিন্তু সাধু ভাষার ক্ষেত্রে বাক্যটিতে ০৪টি ভুল রয়েছে। যেমন: হতুম, তাহলে, হোক, লিখতুম।

• সাধু ভাষা  -  চলিত ভাষা:
» হতুম  - হইতাম।
» তাহলে  - তাহা হইলে।
» হোক  - হউক।
» লিখতুম  - লিখিতাম।

• বাক্যটি সাধু ভাষায় রূপান্তর করলে -
- আমি যদি কবি হইতাম, তাহা হইলে আর যে বিষয়েই হউক, বর্ষার সম্বন্ধে কখনো কবিতা লিখিতাম না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২৩.
কোনটি চলিত ভাষার বিশেষ বৈশিষ্ট্য?
  1. ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়
  2. তৎসম শব্দবহুল
  3. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
  4. এই ভাষা পরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
এই ভাষা পরিবর্তনশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই ভাষা পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের। 
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৪.
‘আসিয়া’ - এই ক্রিয়াপদটির চলিত রূপ কী হবে?
  1. আসতে
  2. আসুক
  3. এসে
  4. আসলো
সঠিক উত্তর:
এসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসে
ব্যাখ্যা

• ‘আসিয়া’  ক্রিয়াপদটির চলিত রূপ - এসে।

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

সাধু - চলিত:
আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
পড়িল - পড়ল/পড়লো;
করিয়া - করে;
ভাঙিয়া - ভেঙে;
যাইতে - যেতে;
ফুটিয়া -  ফুটে; 
সহিত - সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২৫.
কোনটি সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম
  2. সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
  3. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
  4. পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা রীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম

অন্যদিকে,
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১২৬.
'কৃত্রিম' ভাষারীতি বলা হয় কোনটিকে?
  1. চলিত রীতি
  2. প্রমিত রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

----------------
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১২৭.
কোনটি সাধুরীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
  2. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
  3. জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল
  4. পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
সঠিক উত্তর:
জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

অন্যদিকে,
- জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল চলিতরীতির বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২৮.
চলিত ভাষায় কোন কোন পদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. সর্বনাম, ক্রিয়া, অব্যয়
  2. অব্যয়, সমাস, সন্ধি
  3. শুধুই বিশেষণ
  4. বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম, ক্রিয়া, অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম, ক্রিয়া, অব্যয়
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১২৯.
বাংলা ভাষার নিকট-আত্মীয় কোনটি?
  1. ওড়িয়া
  2. হিন্দি
  3. সিংহলি
  4. মাগধি
সঠিক উত্তর:
ওড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওড়িয়া
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- ইংরেজি, জার্মান, ফারসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফরাসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। 
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩০.
চলিত ভাষার রীতি সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. শুধুমাত্র সাহিত্যিকদের জন্য
  2. পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত
  3. কঠিন ও ধীর
  4. অপরিবর্তনীয় ও কৃত্রিম
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩১.
ভারতের কোন প্রদেশের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা ?
  1. ক) বিহার 
  2. খ) আসাম 
  3. গ) ত্রিপুরা
  4. ঘ) ওড়িশা 
সঠিক উত্তর:
গ) ত্রিপুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কথা বলে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ। এর মধ্যে বাংলাদেশে ষোলো কোটি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দশ কোটি মানুষের বাস। 
এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশাসহ ভারতের অন্যান্য প্রদেশে প্রায় তিন কোটি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরো প্রায় এক কোটি বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে।
বাংলাদেশের জীবন যাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক ।
এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
১৩২.
উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয় কত বছর আগে?
  1. ক) প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
  2. খ) প্রায় এক হাজার বছর আগে
  3. গ) প্রায় দুই হাজার বছর আগে
  4. ঘ) প্রায় দেড় হাজার বছর আগে
সঠিক উত্তর:
ক) প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
ব্যাখ্যা
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৩৩.
পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায় কয়টি রীতি লক্ষ করা যায়?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩৪.
নিচের কোনটি ভাষার চলিত রূপ?
  1. ক) আসিয়াছেন
  2. খ) পারতাম
  3. গ) উহা
  4. ঘ) ইহা
সঠিক উত্তর:
খ) পারতাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পারতাম
ব্যাখ্যা
- 'পারিতাম' এর চলিত রূপ: 'পারতাম'। 

অন্য অপশনে, 
- 'ইহা' এর চলিত রূপ: 'এ/এটা/এটি'। 
- 'উহা' এর চলিত রূপ: 'ও/ওটা/ওট'। 
- 'আসিয়াছেন'- এর চলিত রূপ: 'এসেছেন'। 


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩৫.
সাধু রীতিতে কোন ধরনের শব্দের ব্যবহার অধিক দেখা যায়?
  1. তৎসম শব্দ
  2. বিদেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. খাঁটি বাংলা
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৬.
কোনটি সাধুরীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. পরিবর্তনশীল
  2. জীবন্ত
  3. কৃত্রিম
  4. চটুল
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম

অন্যদিকে,
- চটুল। জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল চলিতরীতির বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩৭.
ভাষার প্রাণ কী?
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. ভাব
  4. ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা
ভাষা:

- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি;
- ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি;
- ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ;
- ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য;
- ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৮.
সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন-
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক
  4. অক্ষয় কুমার দত্ত
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতি:
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন: ‘এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'

- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
- ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়ােজন দেখা দেয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে তারা মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।
- এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।

সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন - রাজা রামমোহন রায়।
⇒ সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'
⇒ 'সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।'- ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
⇒ 'বাংলা ভাষার সংস্কৃত শব্দ-সম্পদ ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ এবং ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করিয়া ইংরেজি গদ্য-সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুসরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাহাকে বাংলা সাধু ভাষা বলে।- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক।

⇒ বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমােহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তােলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩৯.
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা কয়টি?
  1. ৯টি
  2. ১১টি
  3. ৮টি
  4. ৭টি
  5. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা - ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন।
আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তুম (Centum)।
- কেন্তুম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করে।
- এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।
- অ্যাসকোলির ধারণা- কেন্তুম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের।

ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখা-উপশাখা:
ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা হলো গ্রিক। ইন্দো-ইরানীর শাখার (অর্থাৎ আর্য শাখার)-আবেস্তীয় ও সংস্কৃত। ইতালিক শাখার-ল্যাটিন। জার্মানিক শাখার- গথিক ভাষা। এই গোষ্ঠীর কয়েকটি আধুনিক সমৃদ্ধ ভাষা হলো-

* ইন্দো-ইরানী শাখার: ফারসি, বাংলা, হিন্দি।
* বালতো-স্লাভিক শাখার: রুশীয় (বালটিক্ থেকে এসেছে-লিথুয়ানিয়া ও ল্যাটভিয়ার ভাষা; স্লাভিক্ থেকে এসেছে-সার্বিয়ান, বুলগেরিয়াল, চেক, রাশিয়ান, পোলিশ ইত্যাদি)।
* গ্রিক শাখার: আধুনিক গ্রিক।
* ইতালিক শাখার: ফরাসি, ইতালীয়, স্পেনীয়।
* জার্মানিক শাখার: ইংরেজি, জার্মান।

উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
১৪০.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম -
  1. কথ্যভাষা
  2. চলিত ভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা:
- আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা।
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪১.
কোনটি সাধু রীতির বিশেষ্যপদ?
  1. হাতি
  2. মৎস্য
  3. চাঁদ
  4. আগুন
সঠিক উত্তর:
মৎস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৎস্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪২.
লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ -
  1. ক) সাধু রীতি
  2. খ) আঞ্চলিক রীতি
  3. গ) প্রমিত রীতি
  4. ঘ) আদর্শ কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
গ) প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
- লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ - প্রমিত রীতি

- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৪৩.
চলিত ভাষা কী?
  1. শুধুমাত্র সরকারি ভাষা
  2. শুধুমাত্র সাহিত্যিক ভাষা
  3. মুখের ভাষার লিখিত রূপ
  4. আঞ্চলিক ভাষার একটি রূপ
সঠিক উত্তর:
মুখের ভাষার লিখিত রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখের ভাষার লিখিত রূপ
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষা:
- কোনো একটি প্রধান ভাষার আওতাভুক্ত সমগ্র ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন কথ্যরূপ বা মৌখিক ভাষা ব্যবহৃত হয়।
- মুখের ভাষাকে লিখিত ভাষায় ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে চলিত ভাষার প্রচলন হয়। তবে সবার মুখের ভাষাই চলিত ভাষা নয়, কারণ মুখের ভাষা অঞ্চলভেদে পরিবর্তন হয়। তাই নির্দিষ্ট অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষিত ও শিষ্টজনের মৌখিক ভাষাকে মান চলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- উল্লেখ্য, ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং কলকাতার ভদ্র ও শিক্ষিত সমাজে ব্যবহৃত মৌখিক ভাষাটিকে অল্প-বিস্তর পরিমার্জিত করে একটি সর্বজনবোধ্য আদর্শ কথ্য ভাষা গড়ে তোলা হয়। এটাই হলো বাংলার আদর্শ চলিত ভাষা।
- বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষিত জনগণ এ আদর্শ ভাষাতেই পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদান করে থাকে। চলিত ভাষা বর্তমানে একাধারে লেখার ভাষা ও মুখের ভাষা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৪৪.
চলিত রীতির শব্দ কোনটি?
  1. যাহা
  2. ওঁরা
  3. কেহ
  4. তাহা
সঠিক উত্তর:
ওঁরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওঁরা
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
-  এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
-  সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।
- সাধু রীতির কিছু শব্দ হলো- পড়লো, পেরিয়ে, দেননি, আগেই, মাথা, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো, তাঁরা/ওঁরা, তাকে/ওকে। 

• সাধু রীতি:
-  বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৪৫.
ভাষার চরিত রূপ কোনটি?
  1. এই
  2. উহা
  3. তাহাদের
  4. ওদের
সঠিক উত্তর:
ওদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওদের
ব্যাখ্যা
• 'উহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - ওদের

অন্যদিকে,
- 'উহা' চলিত রূপ হচ্ছে - ও।
- 'তাহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - তাদের।
- 'এই' চলিত রূপ হচ্ছে - এ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৬.
বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে কী বলে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. সাধুচণ্ডালী দোষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

১৪৭.
সাধু ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য?
  1. গুরুগম্ভীর
  2. দুর্বোধ্য
  3. অবোধ্য
  4. গুরুচণ্ডালী
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য হবে গুরুগম্ভীর। 

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)। 
২) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
১৪৮.
বিশুদ্ধ চলিত ভাষা কোনটি?
  1. ক) সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়ল।
  2. খ) সামনে কতিপয় বাঁশ বাগান পড়ল।
  3. গ) সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়িল।
  4. ঘ) সম্মুখে একটা বাঁশ বাগান পড়িল।
সঠিক উত্তর:
ক) সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়ল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়ল।
ব্যাখ্যা
 অপশনগুলো লক্ষ করলে দেখা যাবে প্রথম অপশন ছাড়া অন্যগুলোতে সাধু ভাষার ক্রিয়াপদ বা শব্দ আছে। যেমন : কতিপয়, পড়িল। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৪৯.
'প্রাতে দেখে তারে প্রাণ জুড়িয়া গেল।' বাক্যে কয়টি সাধু ভাষার শব্দ রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
• এখানে প্রাতে ও জুড়িয়া সাধু ভাষার শব্দ। সুতরাং, উপড়ে উল্লেখিত বাক্যে ২টি সাধু ভাষার শব্দ রয়েছে। 

• 'প্রাতে' শব্দের চলিত রূপ - সকালে। 
• 'জুড়িয়া' শব্দের চলিত রূপ - জুড়ে। 

অন্যদিকে,
- 'দেখে' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - দেখিয়া।  
- 'তারে' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - তাহারে।
- 'প্রাণ' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - পরাণ। 
- 'গেল' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - গিয়াছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫০.
বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপি ‘ব্রাহ্মী লিপি‘ কোথায় পাওয়া গেছে?
  1. উয়ারী বটেশ্বর
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. বীরভূম
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপির সৃষ্টি:
- এই উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনের সময়ের।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে উভয় প্রাপ্ত লিপির সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে।
- ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে। যথা:
১. সারদা (কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ),
২. নাগর (রাজস্থান ও মালব; গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ) ও
৩. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)।
- বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপির এই কুটিল রূপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫১.
ভাষাভাষী জনসংখ্যার বিচারে বাংলা পৃথিবীর কত তম ভাষা?
  1. ক) ৫ম
  2. খ) ৭ম
  3. গ) ৬ষ্ঠ
  4. ঘ) ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪র্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪র্থ
ব্যাখ্যা
ভাষাভাষী জনসংখ্যার বিচারে বাংলা পৃথিবীর ৪র্থ বৃহত্তম ভাষা। প্রায় ত্রিশ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ত্রিপুরা, বিহার, উড়িষ্যা এবং আসামে বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের নানা প্রান্তে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাভাষী অভিবাসী রয়েছে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৫২.
সরল, পরিবর্তনশীল ও সাবলীল ভাষারীতি কোনটি?
  1. কাব্য রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. চলিত রীতি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

----------------
• সাধু ভাষারীতি বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
-সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৩.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. বুনো
  2. জুতা
  3. তুলো
  4. মাথা
সঠিক উত্তর:
জুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুতা
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষার শব্দ 'জুতা' এর চলিত রূপ - জুতো।

এরূপ আরো কয়েকটি:
- মস্তক (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - মাথা।
- বন্য (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - বুনো।
- তুলা (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - তুলো।
- শুষ্ক/শুকনা (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - শুকনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৫৪.
সাধু রীতি অনুযায়ী অশুদ্ধ কোনটি?
  1. ক) সহিত
  2. খ) তুলা
  3. গ) মাথা
  4. ঘ) শুষ্ক
সঠিক উত্তর:
গ) মাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাথা
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশন সমূহের মধ্যে সহিত, তুলা এবং শুষ্ক হলো সাধু ভাষা রূপ, যাদের চলিত রূপ হলো যথাক্রমে তুলো, শুকনো এবং সঙ্গে বা সাথে। অন্যদিকে মাথা হলো চলিত রূপ যার সাধু রূপ হলো মস্তক। সাধু ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলে। এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৫৫.
সাধু ভাষা রীতির ব্যবহার কোন ক্ষেত্রে অনুপযোগী?
  1. নাটকের সংলাপে 
  2. কাব্য রচনায় 
  3. গদ্য-সাহিত্যে 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপে 
ব্যাখ্যা

• প্রখ্যাত বৈয়াকরণ ও ভাষাতত্ত্ববিদ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, "সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।"
সুতরাং, বাংলা গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত শব্দবহুল সুষ্ঠু, মার্জিত, সর্বজনবোধ্য, অথচ নিয়মবন্ধ ও কৃত্রিম ভাষারূপ হলো সাধুভাষা

• বক্তৃতা, নাটক ও আলাপচারিতার অনুপযোগী বলে এই ভাষা কৃত্রিম, এবং শুধু লেখ্য ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'যাহাকে তাহাকে মারিতে যাওয়া তোমার উচিত হয় নাই'। এখানে 'যাহাকে', 'তাহাকে' সর্বনাম পদ; 'মারিতে'-ক্রিয়া পদ এবং 'নাই'-নঞর্থক অব্যয় (যোজক) পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়েছে। সাধুভাষা কঠোর ব্যাকরণের রীতিতে নিয়ন্ত্রিত।

• উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন পদ-বিশেষত ক্রিয়া, সর্বনাম ও নঞর্থক অব্যয় পদের পূর্ণরূপ বজায় রেখে-সহজ, সরল, তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের সমাবেশে হালকা রীতিতেও সাধু ভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণi (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫৬.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. যদিও
  2. নতুবা
  3. আজও
  4. কখনো
সঠিক উত্তর:
নতুবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুবা
ব্যাখ্যা

• সাধুরীতির শব্দ - নতুবা। এবং এর চলিতরূপ - নইলে।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ যদ্যপি - যদিও

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৫৭.
এক বা একাধিক ধ্বনির সমষ্টি কোনটি?
  1. বর্ণ
  2. বাক্য 
  3. শব্দ
  4. ভাষা
সঠিক উত্তর:
শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে। 
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৮.
ভাষার কোন রূপ ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে?
  1. আঞ্চলিক
  2. চলিত
  3. প্রাকৃত
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষা আঞ্চলিক প্রভাব থেকে মুক্ত।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধুরীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫৯.
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক। 
  2. তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
  3. গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  4. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬০.
ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে কী গঠিত হয়?
  1. অর্থ
  2. শব্দ
  3. ভাষা
  4. বাক্য
সঠিক উত্তর:
শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তার মনের মধ্যে সব সময়ই নানা বুদ্ধি বা ভাবের আনাগোনা চলে। সেই বুদ্ধি বা ভাব ইশারায়, নানা অঙ্গভঙ্গি করে, ছবি ও নাচের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে।
- সাধারণ কথায় 'ভাষা' বলতে বোঝায়, মানুষের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অর্থপূর্ণ কতকগুলো আওয়াজ বা ধ্বনির সমষ্টি। এই অর্থপূর্ণ ধ্বনিই হলো ভাষার প্রাণ।
- ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে। মানুষের গলনালি, দাঁত, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, নাক ইত্যাদির সহযোগ হলো বাগ্যন্ত্র।
- ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে গঠিত হয় শব্দ। আর একাধিক শব্দের সমন্বয়ে অর্থের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় বাক্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৬১.
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ব্যাকরণের নাম কী?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
  3. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  4. আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
সঠিক উত্তর:
ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬২.
কোন শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ?
  1. পড়িল, পেরিয়ে
  2. তুলা, সহিত
  3. বুনো, তুলো
  4. জুতো, করে
সঠিক উত্তর:
তুলা, সহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলা, সহিত
ব্যাখ্যা
'তুলা, সহিত' - শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ।
- 'তুলা' এবং 'সহিত' এর চলিতরূপ হচ্ছে - তুলো এবং সঙ্গে/সাথে।

সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত ,
জুতা ------------ জুতো,
তুলা------------- তুলো,
শুষ্ক/শুকনা ----- শুকনো,
বন্য ------------ বুনো,
দেন নি -------- দেননি,
পার হইয়া ----- পেরিয়ে,
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো,
করিয়া ----------- করে,
পূর্বেই ---------- আগেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১৬৩.
সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য- 
  1. নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
  2. গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
  3. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে। এবং অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬৪.
বাংলা একাডেমি কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৫৫
  2. খ) ১৯৩৫
  3. গ) ১৯৫২
  4. ঘ) ১৩৫২
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ১ ডিসেম্বর মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮২) একাডেমীর প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক প্রফেসর মাযহারুল ইসলাম (১৯৭২ সাল)।
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৬৫.
কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. করলে
  2. যাইও
  3. করতাম
  4. হয়ে
সঠিক উত্তর:
যাইও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাইও
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি - যাইও।
- চলিত রীতির শব্দ - যেয়ো/যেও।

সাধু রীতি - চলিত রীতি:
→ যাইবে - যাবে, 
→ বলিব - বলব, 
→ করিলে - করলে, 
→ যাইও - যেয়ো/যেও, 
→ করিতাম - করতাম, 
→ হইয়া - হয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৬.
কোনটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ?
  1. করতে
  2. করিল
  3. করলাম
  4. করবে
সঠিক উত্তর:
করিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করিল
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর,
 যেমন:
- ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।

(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে,
যেমন:
- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬৭.
‘দেখিয়া’ শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
  1. ক) দেখে
  2. খ) দেখিল
  3. গ) দেখিয়াছি
  4. ঘ) দেখাইয়া
  5. ঙ) কোনকিছু নয
সঠিক উত্তর:
ক) দেখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেখে
ব্যাখ্যা
‘দেখিয়া’ শব্দের চলিত রূপ “দেখে”। এরকম আরো কিছু উদাহরনঃ করিয়া-করে; আসিয়া-এসে; হইলেন-হলেন; করিলেন-করলেন ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৬৮.
প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি বলা হয় কোন রীতিকে?
  1. কাব্য রীতি
  2. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. আদর্শ কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কথ্য ভাষা রীতি ও লেখ্য ভাষা রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে। যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• কথ্য ভাষা রীতি:
কথ্য ভাষা রীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

• আদর্শ কথ্য রীতি:
আদর্শ কথ্য রীতি হলো বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় রেডিও টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে, সংবাদ উপস্থাপনায় সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃতিতে এই রীতির প্রয়োগ দেখা যায়। এই রীতিই প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি। তবে বক্তার সামাজিক অবস্থান, জীবিকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভেদে আদর্শ কথ্য রীতিতে কমবেশি তফাত থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৯.
’সাধু ভাষা’ পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন -
  1. ক) রাজা মনি মোহন রায়
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) অক্ষয় কুমার দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন: ‘এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'

- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
- ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়ােজন দেখা দেয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে তারা মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।
- এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।

সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন - রাজা রামমোহন রায়।

সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'
'সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।' — ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
'বাংলা ভাষার সংস্কৃত শব্দ-সম্পদ ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ এবং ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করিয়া ইংরেজি গদ্য-সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুসরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাহাকে বাংলা সাধু ভাষা বলে। — ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক।

বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমােহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তােলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস:
১. ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২. বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৭০.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার বিশেষ বৈশিষ্ট্য?
  1. ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়
  2. তৎসম শব্দবহুল
  3. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
  4. এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী
সঠিক উত্তর:
এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭১.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. জুতা
  2. মাথা
  3. তুলা
  4. বন্য
সঠিক উত্তর:
মাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথা
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার শব্দ- মাথা।

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৭২.
বাংলালিপি জন্মলাভ করেছে কোন লিপি থেকে?
  1. সারদা লিপি
  2. ব্রাহ্মী লিপি
  3. খরোষ্ঠী লিপি
  4. তাম্র লিপি
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী লিপি
ব্যাখ্যা
• ব্রাহ্মী লিপি:
ব্রাহ্মী থেকেই জন্মলাভ করেছে বাংলালিপি। ব্রাহ্মী ভারতবর্ষের প্রাচীনতম ও বহুল প্রচলিত লিপি। কখন উদ্ভব হয়েছিল এ লিপির, তা সঠিক জানা যায়নি। অনেকে সিন্ধু লিপির সঙ্গে এ লিপির যোগসূত্র খোঁজার প্রয়াস পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ ভারতবর্ষের বাইরে থেকে এ লিপি আমদানি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে অনুমান-নির্ভর এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক সাক্ষ্য-প্রমাণ মেলেনি। বলা যেতে পারে, এ লিপি ভারতীয়দের নিজস্ব উদ্ভাবন। এ লিপির নাম কেন ব্রাহ্মী হল, তাও সঠিক বলা যায় না। কারও কারও ধারণা, ব্রাহ্মণদের লিপি বলেই এ লিপি ব্রাহ্মী সংজ্ঞা পেয়েছে।

ব্রাহ্মীর প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে নেপালের তরাই অঞ্চলের পিপ্রাবা থেকে। পিপ্রাবা লিপিটি একটি পাত্রের উপর খোদিত। এ পাত্রে বুদ্ধদেবের অস্থি রক্ষিত ছিল। এ থেকেই ধারণা করা হয়, এ লিপিটি বুদ্ধের নির্বাণকাল খ্রি. পৃ. ৪৮৭ এর কিছু পরেই উৎকীর্ণ।

ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি।

• ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে। যথা:
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৩.
কোন জেলার ভাষারীতি পরবর্তীতে সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে প্রসার লাভ করে?
  1. খুলনা
  2. নদীয়া
  3. যশোহর
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
ব্যাখ্যা
- রাঢ়ি উপভাষাকে সাহিত্য অঙ্গনে ও শিষ্ট সমাজে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- বাংলা ভাষায় এ উপভাষাকে আদর্শ কথ্য ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।
- কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, হুগলি, হাওড়া প্রভৃতি অঞ্চলে এ উপভাষা প্রচলিত।
- নদীয়া, যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত, ঐতিহাসিকভাবে বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতির একটি কেন্দ্রস্থল ছিল।
- চৈতন্যের অনুসারী এবং সমসাময়িক কবি-সাধকরা নদীয়ার ভাষারীতিতে অসংখ্য ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্য ও ভাষার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- অন্যদিকে, কুমিল্লা, খুলনা, এবং যশোহর জেলাগুলিও তাদের আঞ্চলিক ভাষারীতি ও সংস্কৃতি দ্বারা সাহিত্যে অবদান রাখে, কিন্তু নদীয়ার মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গভীর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৪.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. হস্তী
  2. কান
  3. মৎস্য
  4. দন্ত
সঠিক উত্তর:
কান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কান
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার শব্দ - কান
- এর সাধুরূপ - কর্ণ।

• বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৭৫.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁও
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁও
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ:
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। 
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। তাঁর বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৭৬.
সাধু রীতি কোন নিয়ম অনুসরণ করে চলে?
  1. সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম
  2. প্রচলিত রীতি
  3. উপভাষার নিয়ম
  4. কথ্যরীতি
সঠিক উত্তর:
সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম
ব্যাখ্যা
সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৭.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. দন্ত
  2. বাঘ
  3. কান
  4. হাতি
সঠিক উত্তর:
দন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত
ব্যাখ্যা

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৭৮.
চলিত ভাষারীতির সম্পর্কে সঠিক নয় কোনটি?
  1. এই রীতিতে অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়। 
  2. সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
  3. এই রীতি নাটকের সংলাপের উপযোগী।
  4. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল। 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতির সম্পর্কে সঠিক নয় - সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
শুদ্ধ- সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।

চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৭৯.
বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা কোনটি?
  1. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  2. আদর্শ কথ্য রীতি
  3. উপভাষা রীতি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কথ্য ভাষা রীতি ও লেখ্য ভাষা রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে। যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• কথ্য ভাষা রীতি:
কথ্য ভাষা রীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়। যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা। ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে। বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল), পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল), বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল), কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল), রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ)। ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি কয়েকটি উপভাষার নাম।

• আদর্শ কথ্য রীতি:
আদর্শ কথ্য রীতি হলো বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় রেডিও টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে, সংবাদ উপস্থাপনায় সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃতিতে এই রীতির প্রয়োগ দেখা যায়। এই রীতিই প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি। তবে বক্তার সামাজিক অবস্থান, জীবিকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভেদে আদর্শ কথ্য রীতিতে কমবেশি তফাত থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮০.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. দৈ
  2. অগ্নি
  3. চাঁদ
  4. পাখি
সঠিক উত্তর:
অগ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি
ব্যাখ্যা
কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
দধি - দই, দৈ।
ছত্র - ছাতা।
বাহিরে - বাইরে।
অগ্নি - আগুন,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত - দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৮১.
'শুকনা' এর চলিতরূপ কোনটি?
  1. শুষ্ক
  2. শুকানো
  3. শুকনো
  4. শুকনা
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
- সাধু ⇒ চলিত
- মস্তক ⇒ মাথা;
- জুতা ⇒ জুতো;
- তুলা ⇒ তুলো;
- শুষ্ক / শুকনা ⇒ শুকনো;
- বন্য ⇒ বুনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮২.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
'ব্যাকরণ কৌমুদী':
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ। তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - ব্যাকরণ মঞ্জুরী।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- মুনীর চৌধুরী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৩.
সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য কোন কোন পদে বেশি?
  1. ক্রিয়া ও সর্বনাম
  2. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. বিশেষ্য ও ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া ও বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদ দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৮৪.
'যাহা' শব্দটির চলিত রূপ কোনটি?
  1. যাহারা
  2. যা
  3. যারা
  4. যাকে
সঠিক উত্তর:
যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:
→ তাহারা-তারা, 
→ ইহারা-এরা, 
→ যাহা-যা, 
→ যাহারা-যারা, 
→ যাহাকে-যাকে ইত্যাদি।

সাধু ও চলিত রীতি:

- সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পার্থক্য বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করে, তার নাম বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামের করিমগঞ্জ ও কাছাড়ের অধিবাসীদের একটি অংশের মাতৃভাষা বাংলা। বস্তুত, দেশ-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে বাঙালি জনসমাজে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে বাংলা ভাষা গঠিত। বাংলা ভাষা প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন রূপের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সব ভাষাতেই দুটো রূপ দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৮৫.
কোনটি সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর
  2. উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
  3. সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে।
  4. তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
সঠিক উত্তর:
তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর,
 যেমন:
- ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।

(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে,
যেমন:
- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৮৬.
নিচের কোন শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী ?
  1. শুকনো
  2. সাথে
  3. জুতা
  4. বুনো
সঠিক উত্তর:
জুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুতা
ব্যাখ্যা
- 'জুতা' শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী।


- সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়।

- বাংলা লেখ্য সাধু‌ রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।

- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী।

- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৭.
‘ব্রজবুলি’ কী ধরনের ভাষা?
  1. প্রাকৃতিক ভাষা
  2. কৃত্রিম ভাষা 
  3. উপভাষা
  4. ব্রজধামের আদি ভাষা
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম ভাষা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম ভাষা 
ব্যাখ্যা

‘ব্রজবুলি’ এক ধরনের কৃত্রিম ভাষা। 

ব্রজবুলি
- ব্রজবুলি
একটি কৃত্রিম বা artificial ভাষা।
- এ ভাষায় কেউ কোনো দিন কথা বলে নি।
- মৈথিলি ভাষার সঙ্গে অবহটঠ বা বাংলা ভাষার বিশেষ রূপের সংমিশ্রণে এই কৃত্রিম ভাষা তৈরি করেন কতিপয় লেখক।
- এই ভাষা ব্রজধামের ভাষা নয়। ব্রজধামের ভাষার নাম 'ব্রজভাষা'।
- তবে এই করিছ ভাষায় শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় তা ব্রজবুলি নামকরণ হয়।

ব্রজবুলির বৈশিষ্ট্য:
- এই ভাষা অভিনদ কোমল, মধুর ও কাব্যিক।
- মৈথিলি ও বাংলার সঙ্গে এখানে বেশ কিছু হিন্দি শব্দের মিশ্রণ আছে।
- এই ভাষা চতুর্দশ শতাব্দীর মৈথিলি কবি বিদ্যাপতির কল্যাণে বাংলায় ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করে।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা এই ভাষায় যেরূপ মোহনীয়ভাবে প্রকাশিত হয়, অন্য ভাষাতে তেমন নয় বলে অনেকে মনে করেন।
- বিদ্যাপতির সঙ্গে মিথিলার কবি উমাপতি উপাধ্যায় এমন কি আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পর্যন্ত এই ভাষা ব্যবহার করেন।
- 'ব্রজবুলি' ভাষা হিসেবে প্রচারিত থাকলেও শব্দটির লিখিত ব্যবহার ঈশ্বর গুপ্তের রচনার আগে বাংলায় দেখা যায় না।

ব্রজবুলির উদাহরণ:
- 'গাগরি বারি ঢারি করি পীছল / চলতহি অঙ্গুলি চাপি / মাধব তুয়া অভিসারক লাগি।' - গোবিন্দ্র দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৮.
ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে কয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন?
  1. ৯টি
  2. ২টি
  3. ৭টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন। আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

- ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন। একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেস্তম (Centum)।
- কেন্তম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে। এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।

- অ্যাসকোলির ধারণা কেন্তম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের। বর্তমানকালে হিত্তি বা হিত্তিক (Hittic) ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর দশম শাখা হিসেবে পরিচিত।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এশিয়া মাইনরে প্রায় দেড় হাজার খ্রিস্টপূর্বে হিত্তি (হিত্তিক) ভাষা প্রচলিত ছিল। এবং তোখারিক (তুখারিক) ভাষা মধ্য এশিয়ায় খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক পর্যন্ত জীবিত ছিল।

- কোনো কোনো পণ্ডিত হিত্তিকে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষার সমগোত্রীয় এবং সমান স্তরের ভাষা বলে অভিহিত করেছেন। ড. সুকুমার সেন এ মতকে সমর্থন করে হিত্তির হিত্তির মূল ভাষার নাম 'ইন্দো-হিট্টীয়' বলে বলে উল্লেখ উল্লেখ করেছেন। হিত্তি এবং তোখারীয় ভাষা আবিষ্কারের পর ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা বিভাগের কিছুটা পরিবর্তন ঘটলেও প্রাথমিক দুটি বিভাগ (কেন্তুম্ ও শতম) অস্বীকার করা যায় না। আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিকগণ কেন্তুম এবং শতম্ এ দুটি বিভাগকে স্বীকার করেই ভাষার বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে নিয়োজিত হয়েছেন। সুতরাং হিত্তি এবং তুখারীয় ভাষা আবিষ্কারের পরেও কেন্তুম ও শতমের নামকরণের গুরুত্ব ও সার্থকতা রয়েছে।




উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
১৮৯.
নিচের কোন বাক্যটি মিথ্যা?
  1. গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা।
  2. চলিত ভাষা সর্বদাই নতুন নতুন ধ্বনি পরিবর্তন করে।
  3. চলিত ভাষায় স্বরসংগতি ও অভিশ্রুতির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
  4. জমির দলিলে এখনো সাধু ভাষা দেখতে পাওয়া যায়। 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

অপশনের সবগুলো উক্তিই সঠিক। তাই, সঠিক উত্তর- কোনোটিই নয়।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে,
‘সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।’
এছাড়াও তিনি এ ভাষাকে সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

চলিত ভাষা সর্বদাই নতুন নতুন ধ্বনি পরিবর্তন করে। কিন্তু সাধু ভাষায় শব্দের রূপান্তর তেমন দেখা যায় না। যেমন, চলিত ভাষায় স্বরসংগতি ও অভিশ্রুতির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কিন্তু সাধু ভাষায় তেমনটা দেখা যায় না। চলিত ভাষা অপেক্ষাকৃত চটুল এবং সাধু ভাষা গম্ভীর; তবে ব্যঙ্গরচনা বা রম্যরচনায় চলিত ভাষার মতো সাধু ভাষারও সফল ব্যবহার হতে পারে। তবে সাধু ভাষায় আছে একধরনের স্বাভাবিক আভিজাত্য ও ঋজুতা। 
- জমির দলিলে এখনো সাধু ভাষা দেখতে পাওয়া যায়। 

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট - "বাংলা ভাষার বিকৃতি আর কত কাল চলবে?"

১৯০.
চলিত রীতির শব্দ নয় কোনটি?
  1. তুলো
  2. জুতা
  3. মাথা
  4. শুকনো
সঠিক উত্তর:
জুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুতা
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি:
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।

-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

সাধু - চলিত:
• মস্তক - মাথা;
• জুতা - জুতো;
• তুলা - তুলো;
• বন্য - বুনো;
• শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
• তাঁহারা/উঁহারা - তাঁরা/ওঁরা;
• তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
• তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৯১.
ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্যাকরণ:
যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

• প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে।
যেমন-
১. ধ্বনি (Sound),
২. শব্দ (Word),
৩. বাক্য (Sentence),
৪. অর্থ (Meaning),

• সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology),
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology,
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax),
৪. অর্থতত্ব (Semantics)।

এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৯২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ - এর মতে বাংলা ভাষা কোন প্রাকৃত রূপ থেকে এসেছে?
  1. ক) মাগধী
  2. খ) প্রাচ্য
  3. গ) গৌড়ীয়
  4. ঘ) শৌরসেনি
সঠিক উত্তর:
গ) গৌড়ীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গৌড়ীয়
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে।
অর্থাৎ বাংলা ভাষার উৎপত্তি - গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।
কিন্তু ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন মগধ জনপদের মানুষের মুখের ভাষা
অর্থাৎ মগধ অঞ্চলের প্রাকৃজনের ভাষা বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৯৩.
'উহা' এর চলিতরূপ কোনটি?
  1. ওদের
  2. তাদের
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• 'উহা' চলিত রূপ হচ্ছে - ও।

অন্যদিকে,
- 'উহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - ওদের।
- 'তাহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - তাদের।
- 'এই' চলিত রূপ হচ্ছে - এ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৪.
সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য কোন পদে বেশি?
  1. বিশেষ্য ও ক্রিয়া পদে
  2. বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে
  3. বিশেষ্য ও সর্বনাম পদে
  4. ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
- সাধুভাষায় পূর্ণ রূপ ব্যবহৃত হয় আর চলিত ভাষায় সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা তৎসম শব্দ বেশি আর চলিত ভাষায় অতৎসম শব্দ বেশি।
---------------------

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।

• সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদ দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯৫.
বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  2. শূন্যপুরাণ
  3. চর্যাপদ
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। 
- বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।

• এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে,
সেগুলো হলো:
- ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয়→  ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১৯৬.
চলিত ভাষারীতির সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. এটি পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত
  2. এটি সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে
  3. এতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
  4. এটি চটুল, সরল ও সাবলীল
সঠিক উত্তর:
এটি সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির সম্পর্কে সঠিক নয় - এটি সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে

চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৯৭.
নিচের কোনটি চলিত ভাষারীতির উদাহরণ?
  1. ক) গতকাল খেলা দেখিয়াছিলাম
  2. খ) রাত্রি হইয়াছে
  3. গ) তোকে দেখে খুশি হয়েছি
  4. ঘ) করিম তাহাকে দেখেছে
সঠিক উত্তর:
গ) তোকে দেখে খুশি হয়েছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তোকে দেখে খুশি হয়েছি
ব্যাখ্যা
• চলিতরীতি: 
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

• সাধু ও চলিত রীতির কিছু শব্দ: 

সাধু রীতি------------চলিত রীতি
- দেখিয়াছিলাম------দেখেছিলাম, 
- হইয়াছে-------------হয়েছে,
- তাহাকে-------------তাকে, 
- করিবার-------------করবার,
- বন্য------------------বুনো,
- তাঁহারা--------------তাঁরা,
- পাইয়াছিলেন--------পেয়েছিলেন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) ও (২০২২ সংস্করণ)।  
১৯৮.
কোনটি চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
  2. চটুল, সরল ও সাবলীল
  3. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
  4. সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য - গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর

চলিত ভাষারীতি:

১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
২. চলিত ভাষা সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৯৯.
কথাবার্তা, বক্তৃতা ও ভাষণের উপযোগী নয়-
  1. কথ্য ভাষা
  2. চলিত ভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. আঞ্চলিক ভাষা
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
• চলিত ভাষারীতি:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
২০০.
চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় -
  1. উপভাষা
  2. প্রমিত ভাষা
  3. আঞ্চলিক ভাষা
  4. সাধু ভাষা
সঠিক উত্তর:
প্রমিত ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার রীতি:
- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।