বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

মোট প্রশ্ন৮০৫এই পাতা৯৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

PrepBank · পাতা / · ৭০১৭৯৪ / ৮০৫

৭০১.
"যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টা বেটাই চোর।" এখানে 'হারায়' কোন ধাতুর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) নাম ধাতু
  2. খ) ণিজন্ত ধাতু
  3. গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
  4. ঘ) প্রযােজক ধাতু
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
মৌলিক ধাতুর সঙ্গে আ প্রত্যয় যােগ করে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।
- এটি বাক্যে ব্যবহারের সময় বাক্যের ক্রিয়াপদকে অনুসরণ করে ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- দেখ + আ = দেখা, বাক্যে প্রয়ােগ- কাজটি ভালাে দেখায় না।
- হার + আ = হারা, বাক্যে প্রয়ােগ- যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টা বেটাই চোর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০২.
বিশেষণীয় বিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) সে খুব তাড়াতাড়ি হাটল
  2. খ) অতিশয় মন্দ কথা।
  3. গ) বাতাস ধীরে বইছে।
  4. ঘ) ধিক্ তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।
সঠিক উত্তর:
খ) অতিশয় মন্দ কথা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতিশয় মন্দ কথা।
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তা-ই ভাব বিশেষণ।
ভাব বিশেষণ চার প্রকার। যথা-

১. ক্রিয়ার বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।
যথা- বাতাস ধীরে বইছে। সে খুব তাড়াতাড়ি হাটল। পরে একবার এসাে।

২. বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন- সামান্য একটু দুধ দাও। অতিশয় মন্দ কথা। রকেট অতি দ্রুত চলে।

৩. অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন- ধিক্ তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।

৪. বাক্যর বিশেষণ: কখনাে কখনাে কোনাে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যে বিশেষণ বলা হয়। যেমন- দুর্ভাগ্যক্রমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়ােজন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭০৩.
'নিরপরাধী' - শব্দে কোন কারণে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সমাস ঘটিত
  2. সন্ধি বিষয়ক
  3. বাহুল্যজনিত
  4. 'তা' প্রত্যয়জনিত
সঠিক উত্তর:
সমাস ঘটিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস ঘটিত
ব্যাখ্যা

• 'নিরপরাধী' - শব্দে সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরপরাধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭০৪.
কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. যুবরাজা
  2. বলিষ্ঠতর
  3. সময়কাল
  4. মহিমময়
সঠিক উত্তর:
মহিমময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমময়
ব্যাখ্যা
• মহিমময় - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'মহিমময়' শব্দের অর্থ - মহিমাপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• 'যুবরাজা', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: যুবরাজ।

• 'সময়কাল', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল।

• 'বলিষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বলিষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭০৫.
'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।' বাক্যে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাচ্যজনিত ভুল 
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  3. লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
  4. বানানের অশুদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে শেষরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল। 

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

অশুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
শুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।

অশুদ্ধ: অশুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
শুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ।

৭০৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দোষে দুষ্ট নয়?
  1. অধীনস্ত
  2. শবদাহ
  3. আয়ত্তাধীন
  4. উৎকর্ষতা
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ-দোষে দুষ্ট নয় হচ্ছে - শবদাহ।

• 'শবদাহ' শব্দ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
- 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপােড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়ােগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ।

অন্যদিকে, 
- 'অধীনস্থ' এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - অধীন। 
- 'আয়ত্তাধীন' এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - আয়ত্ত / অধীন।
- ‘উৎকর্ষতা’ এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - উৎকর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৭০৭.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) শ্রেষ্ঠ
  2. খ) শ্রেষ্ঠতম
  3. গ) গরিষ্ঠতম
  4. ঘ) লঘিষ্ঠতম
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা : 
শব্দগুলো শুদ্ধরূপ হলো :
শ্রেষ্ঠতম- শ্রেষ্ঠ
গরিষ্ঠতম- গরিষ্ঠ
লঘিষ্ঠতম- লঘিষ্ঠ
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৭০৮.
নিচের কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. ক) ঐক্যতা
  2. খ) মহাত্ম
  3. গ) অধীন
  4. ঘ) জন্মবার্ষিক
সঠিক উত্তর:
গ) অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধীন
ব্যাখ্যা
-  প্রশ্নে উল্লেখিত 'অধীন' শব্দের শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘জন্মবার্ষিক’ শব্দটি অশুদ্ধ
- শুদ্ধ বানান হচ্ছে ‘জন্মবার্ষিকী’।
• ' ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
- শব্দটির সঠিক বানান হবে ঐক্য বা একতা।
• মহাত্ম' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ হবে মহত্ত্ব।

• অধীনস্থ শব্দটিতে অপ-প্ৰয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।

উৎস- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭০৯.
কোন বাক্যাংশটি গুরুচণ্ডালী দোষ যুক্ত?
  1. ঘােড়ার গাড়ি
  2. শবদাহ
  3. শবপোড়া
  4. মড়াপােড়া
সঠিক উত্তর:
শবপোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবপোড়া
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী দোষ : তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
‘গরুর গাড়ি’, ‘শবদাহ’, ‘মড়াপােড়া’ প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে ‘গরুর শকট’, ‘শবপােড়া’, ‘মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৭১০.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে বাক্য কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. দুর্বোধ্যতা-দোষে
  2. বাহুল্য-দোষে
  3. গুরুচণ্ডালী দোষে
  4. উপমার ভুল প্রয়োগ-দোষে
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে
ব্যাখ্যা
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপোড়া' প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে 'গরুর শকট', 'শবপোড়া', 'মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

------------------
• দুর্বোধ্যতা:

অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়। যেমন- তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছো। (চাতুরী বা মায়া অর্থে, কিন্তু বাংলা 'প্রপঞ্চ' শব্দটি অপ্রচলিত)।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
ঠিকভাবে উপমা অলংকার ব্যবহার না করলে যোগ্যতার হানি ঘটে।
যেমন:
- আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।
[বীজ ক্ষেতে বপন করা হয়, মন্দিরে নয়। কাজেই বাক্যটি হওয়া উচিত: আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।]

• বাহুল্য-দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।
যেমন:
- দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
['আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য-দোষ সৃষ্টি করেছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭১১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
  3. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই। 
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
সঠিক উত্তর:
তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 
ব্যাখ্যা

• উদ্দেশ/উদ্দেশ্য: 
উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য।
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. 'নদী ধায় সাগর উদ্দেশে'।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
শুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৭১২.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত' বাক্যটিতে কোন গুণটি নেই?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ)।
৭১৩.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. ইহার আবশ্যক নাই।
  3. রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো- 

• অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
• শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।

• অশুদ্ধ: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

• অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
• শুদ্ধ বাক্য: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭১৪.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. সমূলসহ
  2. নিরপরাধী
  3. দুরাদৃষ্ট
  4. লঘিষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
লঘিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লঘিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• 'লঘিষ্ঠ' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• 'দুরাদৃষ্ট' শব্দটির সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: দুরদৃষ্ট।

• 'নিরপরাধী'
- শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

• 'সমূলসহ'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: সমূল / মূলসহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭১৫.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একতা
  2. কৃপণতা
  3. দীনতা
  4. আলস্যতা
সঠিক উত্তর:
আলস্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলস্যতা
ব্যাখ্যা

• 'আলস্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: আলস্য, অলসতা।

• বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অধৈর্যতা-  অধৈর্য, ধীরতা। 
আলস্যতা-  আলস্য, অলসতা।
ঐক্যতা-  ঐক্য, একতা। 
দৈন্যতা-  দৈন্য, দীনতা। 
কার্পণ্যতা-  কার্পন্য, কৃপণতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭১৬.
তোমার তো সতের মাসে বছর, কোন কাজই তাড়াতাড়ি করতে পারো না। - এই বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত
  2. খ) পদবিন্যাসের ত্রুটি
  3. গ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. ঘ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত
ব্যাখ্যা

- তোমার তো সতের মাসে বছর, কোন কাজই তাড়াতাড়ি করতে পারো না। - এই বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

এর শুদ্ধরূপ হবেঃ তোমার তো আঠার মাসে বছর, কোন কাজই তাড়াতাড়ি করতে পারো না।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৭.
Question (11-20): Choose the correct answer.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. ক) উপলক্ষ্য
  2. খ) লক্ষ্যণীয়
  3. গ) সৌন্দর্যতা
  4. ঘ) সুবুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
ক) উপলক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপলক্ষ্য
ব্যাখ্যা
উপলক্ষ্য- শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 

• সৌন্দর্যতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধ রূপ: সৌন্দর্য, সুন্দরতা। 

লক্ষ্যণীয় বানানজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: লক্ষণীয়। 

সুবুদ্ধিমান- অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বুদ্ধিমান। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৭১৮.
নিচের কোন শব্দটিতে ‘বহুল’ এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কর্মবহুল
  2. ব্যয়বহুল
  3. বিলাসবহুল
  4. বহুলপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
'বহুলপ্রয়োগ' শব্দটিতে - 'বহুল' শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে।
• শুদ্ধ প্রয়োগ - বহুল প্রয়োগ।

‘বহুল’ শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭১৯.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) জাজ্বল্যমান
  2. খ) জন্মবার্ষিক
  3. গ) জ্ঞাতার্থে
  4. ঘ) অবগতির জন্য
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞাতার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞাতার্থে
ব্যাখ্যা
'জ্ঞাতার্থে' - অপপ্রয়োগ এর উদাহরণ।

এখানে,
জ্ঞাতার্থে শব্দটি বহুল প্রচলিত হলেও ব্যাকরণসম্মত নয়।
জ্ঞাত + অর্থে = জ্ঞাতার্থে; এভাবে নিষ্পন্ন হলে শব্দটি অর্থহীন হয়ে যায়। 
তাই অবগতির জন্য লিখতে হবে, জ্ঞাতার্থে নয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৭২০.
নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. অকিঞ্চন
  2. অধস্তন
  3. বাধ্যগত
  4. ন্যক্কারজনক
সঠিক উত্তর:
বাধ্যগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাধ্যগত
ব্যাখ্যা
• উত্তর: গ) বাধ্যগত।

• কারণ:
'বাধ্যগত' শব্দটি অশুদ্ধ।

• 'বাধ্য' বিশেষণবাচক শব্দের অর্থ - অনুগত। ফলে, 'বাধ্য' শব্দের সঙ্গে 'গত' যোগ করে নতুন করে বিশেষণ করার দরকার নেই। তাই, 'আপনার বাধ্যগত'- এর পরিবর্তে 'আপনার অনুগত' লেখা উচিত।
শুদ্ধ শব্দ হবে 'বাধ্য'।

• 'বাধ্যগত' বলে কোনো শুদ্ধ শব্দ বাংলা অভিধানে নেই।

• সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) বাধ্যগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ - ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭২১.
কোন বাক্যে 'মাথা' শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?
  1. ক) তিনিই সমাজের মাথা
  2. খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
  3. গ) লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
  4. ঘ) মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
সঠিক উত্তর:
খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
ব্যাখ্যা

তিনিই সমাজের মাথা-নেতা অর্থে
মাথা খাটিয়ে কাজ করবে- বুদ্ধি অর্থে
লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল-সম্মানহানি অর্থে
মাথা নেই তার মাথা ব্যথা- গুরুত্ব না দেয়া অর্থে
উৎসঃ ভাষা ও শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ।

৭২২.
কোন শব্দটির ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) দৌরাত্ম্য
  2. খ) উৎকর্ষতা
  3. গ) বিচিত্রতা
  4. ঘ) দরিদ্রতা
সঠিক উত্তর:
খ) উৎকর্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা

উৎকর্ষ একটি বিশেষ্য পদ। যার বিশেষণ হলাে উৎকৃষ্টতা যা দ্বারা বস্তুর, ভাবের বা রুচির উৎকর্ষ বুঝায়।
সুতারাং উৎকর্ষতা এখানে প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ রূপ হবে - উৎকর্ষ অথবা উৎকৃষ্টতা।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭২৩.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. দ্বৈত
  2. কার্পণ্যতা
  3. পৌরুষ
  4. গাম্ভীর্য
সঠিক উত্তর:
কার্পণ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্পণ্যতা
ব্যাখ্যা
• 'কার্পণ্যতা'- 'অপপ্রয়োগ'। 
- এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: কার্পণ্য। 

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য,
- পৌরুষ ও
- দ্বৈত।
শব্দ গুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭২৪.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি?
  1. অলসতা
  2. সৌজন্যতা
  3. চঞ্চলতা
  4. অধীরতা
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যতা
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ = সৌজন্যতা।
- শব্দটির শুদ্ধরূপ= সৌজন্য।

অন্যদিকে,
- অধীরতা, অলসতা, চঞ্চলতা, শুদ্ধ।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:
- অপপ্রয়োগ = প্রয়োগ
- দারিদ্র্যতা = দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা = সৌজন্য;
- বৈচিত্র্যতা = বিচিত্রতা / বৈচিত্র্য;
- দৈন্যতা = দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭২৫.
নিচের কোন বাক্যটিতে বাচ্যজনিত ভুল প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি
  2. খ) অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়
  3. গ) অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য
  4. ঘ) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা রূপ থাকলে কর্ম্বাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যুক্তি খন্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।

প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয় (বিশেষ্য -বিশেষণের ভুল প্রয়োগ)
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য (যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করার ভুল)
দশচক্রে ঈশ্বর ভূত (দশচক্রে ভগবান ভূত)
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭২৬.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ সঠিক?
  1. ক) ফনীভূষণ
  2. খ) নিরহঙ্কারী
  3. গ) অনটন
  4. ঘ) নিরপরাধী
সঠিক উত্তর:
গ) অনটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনটন
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'অনটন' শব্দটি সঠিক।
• ফনীভূষণ শব্দের সঠিক রূপ হবে ফণিভূষণ।
• নিরহঙ্কারী শব্দের সঠিক রূপ হবে নিরহঙ্কার।
• নিরপরাধী শব্দের সঠিক রূপ হবে নিরপরাধ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭২৭.
কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) পানিতে কুমির ডাঙায় বাঘ
  2. খ) কথাটা আমার স্মৃতিপটে জাগরূক আছে
  3. গ) সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে
ব্যাখ্যা
'সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে’ - বাক্যটি বহুবচনঘটিত বাক্যের শুদ্ধ প্রয়োগ। 

অন্যদিকে, 
⇒ পানিতে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ - বাক্যটিতে বাগ্‌ধারায় শব্দের পরিবর্তনজনিত ভুল হয়েছে।
এর শুদ্ধ রূপ - জলে কুমির ডাঙায় বাঘ

⇒  কথাটা আমার স্মৃতিপটে জাগরূক আছে - বাক্যে অসঙ্গতিপুর্ণ অশুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।
এর শুদ্ধ রূপ - কথাতা আমার স্মৃতিপটে অঙ্কিত আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭২৮.
স্ত্রীলিঙ্গ জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) ননদীনী
  2. খ) বিহঙ্গী
  3. গ) ত্রিনয়না
  4. ঘ) সুকেশী
সঠিক উত্তর:
ক) ননদীনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ননদীনী
ব্যাখ্যা
স্ত্রীলিঙ্গ জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ - বিহঙ্গী, ত্রিনয়না, সুকেশী, ননদ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৭২৯.
'দৌরাত্ম' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. প্রত্যয়
  2. সন্ধি
  3. বাহুল্য
  4. সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ:
→ দৌরাত্ম - দৌরাত্ম্য,
→ আবশ্যকীয় - আবশ্যক,
→ একত্রিত - একত্র,
→ পুজ্য - পূজ্য,
→ বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩০.
খণ্ড ত (ৎ) এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) বৎসর
  2. খ) বীভৎস
  3. গ) উৎসাহ
  4. ঘ) উচিৎ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচিৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচিৎ
ব্যাখ্যা
খণ্ড ত (ৎ) এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে - 'উচিৎ' শব্দে। 
শব্দের শেষে খণ্ড ত (ৎ) প্রয়োগ হয় না। 

সঠিক বানান = উচিত। 

উচিত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √উচ্‌+ত
অর্থ: যোগ্য, যথার্থ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭৩১.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  2. সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  3. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  4. সকল ছাত্রই পাঠে অমনোযোগী।
সঠিক উত্তর:
সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
• শুদ্ধ: সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
শুদ্ধ: সকল ছাত্রই পাঠে অমনোযোগী।
শুদ্ধ: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৭৩২.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. শকুনের দোয়ায় হাতি মরে না।
  2. শ্রবণের তর্জনগর্জন।
  3. বাজনার চেয়ে খাজনা বেশি।
  4. চোরে চোরে মাসতুত ভাই
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে মাসতুত ভাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে মাসতুত ভাই
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: খারপ লোকের সঙ্গে খারাপ লোকের সম্পর্ক।

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: লোভী বা স্বার্থান্বেষীর আশা সর্বদা পূরণ হয় না।

• খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি।

• আসারের তর্জনগর্জন।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩৩.
গুরুচণ্ডালী দোষ কখন ঘটে?
  1. ক) দেশীয় শব্দের সঙ্গে বিদেশী শব্দের মিলনে
  2. খ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তদ্ভব শব্দের মিলনে
  3. গ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে অর্ধতৎসম শব্দের মিলনে
  4. ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তিরস্কার
  2. পুরস্কার
  3. নমস্কার
  4. বহিস্কার
সঠিক উত্তর:
বহিস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিস্কার
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: বহিস্কার। 
শুদ্ধ: বহিষ্কার

---------------
বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার= বহিষ্কার)।

তবে স্ক/ স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প/ স্ত/ স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ /নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৩৫.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) সারল্য
  2. খ) সাদৃশ্য
  3. গ) সামর্থ্য
  4. ঘ) সৌজনতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৌজনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৌজনতা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা : সৌজন্য অথবা সুজনতা শুদ্ধ প্রয়োগ। 
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৭৩৬.
নিচের কোন শব্দে ৎ এর ব্যবহার সঠিক নয়?
  1. খৎনা
  2. দণ্ডবৎ
  3. অভিজিৎ
  4. কিঞ্চিৎ
সঠিক উত্তর:
খৎনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খৎনা
ব্যাখ্যা

খৎনা শব্দে ৎ এর ব্যবহার সঠিক নয়।
শুদ্ধ বানান: খতনা।
• ৎ এর সঠিক ব্যবহার:

• শব্দের শেষাংশে যদি কৃৎ/চিৎ/জিৎ/বিৎ (বিদ) অথবা অৎ/বৎ/সাৎ থাকে তাহলে খন্ড-ত (ৎ) ব্যবহৃত হবে।
যেমন: পথিকৃৎ, সুকৃৎ, কিঞ্চিৎ, ক্বচিৎ, অভিজিৎ, বিশ্বজিৎ, সত্যজিৎ, জগৎ, মহৎ, পুত্রবৎ, যাবৎ, দণ্ডবৎ, ধূলিসাৎ ইত্যাদি।

• শব্দের শেষেও হবেই এমন আরো কিছু শব্দ:

অকস্মাৎ, অর্থাৎ, ঈষৎ, কদাচিৎ, কিঞ্চিৎ, কিয়ৎ, ক্বচিৎ, ক্ষুৎ, যকৃৎ, ছুঁৎ, জগৎ, তড়িৎ, তৎ, তাবৎ, দৈবাৎ, নচেৎ, নস্যাৎ, পথিকৃৎ, পরভৃৎ, পশ্চাৎ, বৃহৎ, ভবিষ্যৎ, মরুৎ, মহৎ, যকৃৎ, যৎ, যাবৎ, যুগপৎ, শরৎ, সৎ, সংবিৎ, সাক্ষাৎ, হঠাৎ, হরিৎ ইত্যাদি।

• শব্দের মধ্যাংশে ৎ আছে এমন কিছু শব্দ:
অকিঞ্চিৎকর, অনুসন্ধিৎসা, উৎপাত, উৎস, উৎসব, উৎসাহ, ঔৎসুক্য, কুৎসা, কুৎসিত, গণৎকার, চমৎকার, চিকিৎসা, চিৎকার, তৎপর, তাৎক্ষণিক, তাৎপর্য, ফুৎকার, বৎস, বৎসর, বীভৎস, ভৎসনা, মৎস্য, মৃৎপাত্র, সৎকার, সাক্ষাৎকার, হৃৎপিণ্ড।
শব্দের প্রথমে উৎ-উপসর্গ যোগ করে তৈরি-হওয়া কিছু শব্দ আছে যেগুলোতে সন্ধির ফলে দ বাদ পড়ে যায়, সে উৎকট, উৎকণ্ঠা, উৎকর্ষ, উৎকলিত, উৎকীর্ণ, উৎকোচ, উৎক্ষিপ্ত, উৎখাত, উৎপত্তি, স্থানে ৎ চলে আসে। যেমন: উৎপাত, উৎপীড়ন, উৎসব, উৎসারণ, উৎসাহ, উৎসুক, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৭৩৭.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. একত্রিত
  2. অধীনস্থ
  3. করিতকর্মী
  4. ঘূর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য;
বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৩৮.
নিচের কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল রয়েছে?
  1. ক) যথোপযুক্ত
  2. খ) যথাযোগ্য
  3. গ) অশ্রুজল
  4. ঘ) অশ্রুমান
সঠিক উত্তর:
গ) অশ্রুজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অশ্রুজল
ব্যাখ্যা

অশ্রু (বিশেষ্য) - চোখের পানি; নয়ন জল; নেত্রবারি।
অশ্রুআঁখি, অশ্রুচোখ (বিশেষ্য) - অশ্রুপূর্ণ আঁখি বা চোখ।
অশ্রুমান (বিশেষ্য) - অশ্রুপূর্ণ; অশ্রুযুক্ত।

যথোপযুক্ত ও যথাযোগ্য - শব্দ দুটির প্রয়োগও শুদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৭৩৯.
'উৎকৃষ্টতা' শব্দটির বানান ভুল কেন?
  1. সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ
  2. সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ
  3. প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
  4. বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- 'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- যেমন: 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
এরকম- 
• 'উৎকৃষ্ট' বিশেষণ পদ। আর ‘তা’ প্রত্যয় যোগে 'উৎকৃষ্ট' শব্দের বিশেষ্য পদ ‘উৎকৃষ্টতা’ শব্দটি গঠিত হয়।এখানে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৭৪০.
সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. নিরভিমানী
  2. নিরহঙ্কার
  3. অর্ধরাত্র
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে ‘নিরভিমানী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরভিমান।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪১.
'বাহ্যিক' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বিভক্তিজনিত
  4. সন্ধিজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'বাহ্যিক' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের কারণে অশুদ্ধ।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ - শুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক।
• একত্রিত - একত্র।
• পুজ্য - পূজ্য।
বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪২.
“ইহা প্রমাণিত হয়েছে।” বাক্যটিতে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) বানান জনিত
  2. খ) প্রত্যয় জনিত
  3. গ) গুরুচন্ডালী দোষ
  4. ঘ) আসত্তি জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) গুরুচন্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুরুচন্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হবে - ইহা প্রমাণিত হইয়াছে৷ প্রশ্নোল্লিখিত বাক্যে সাধু এবং চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটানোয় গুরুচন্ডালী দোষ ঘটেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭৪৩.
'ওই পুকুরের মড়ার সাথে শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে ঠিক করলে!' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বাচ্যজনিত
  2. খ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন জনিত
  3. গ) যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করা
  4. ঘ) উপমার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
খ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন জনিত
ব্যাখ্যা
বাগধারা ভাষাবিশেষের ঐতিহ্য৷ এর যথেচ্ছ পরিবর্তন করলে শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- উপরের বাক্যে 'ঘাটের মড়া' (অর্থ- মৃত্যু আসন্ন যার/অকর্মণ্য বৃদ্ধ) এর পরিবর্তে 'পুকুরের মড়া' ব্যবহার করাতে বাগধারাটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - 'ওই ঘাটের মড়ার সাথে শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে ঠিক করলে!'
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. আবিষ্কার
  2. পুরষ্কার
  3. নিষ্কলঙ্ক
  4. নিষ্পাপ
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান: পুরষ্কার। 
শুদ্ধরূপ-  পুরস্কার। 

• বানানের নিয়ম:

বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার= বহিষ্কার)।

তবে স্ক/ স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প/ স্ত/ স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ /নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪৫.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. যুবরাজ
  3. মাতৃজাতি
  4. নিরভিমান
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘সুবুদ্ধিমান’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: সুবুদ্ধি।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- মাতাজাতি - মাতৃজাতি;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
- যুবরাজা - যুবরাজ;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪৬.
কোনটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. বিবিধপ্রকার
  2. বুদ্ধিমান
  3. বিপন্মুক্তি
  4. সর্বশ্রেষ্ঠ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ - বিবিধপ্রকার
 এর শুদ্ধ প্র্যয়োগ - বিবিধ।

অন্যদিকে,
- সর্বশ্রেষ্ঠ,
- বিপন্মুক্তি,
- বুদ্ধিমান।
শব্দগুলোর প্রয়োগ সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৪৭.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. পৌরুষত্ব
  2. স্বাতন্ত্র্যতা
  3. মিত্রতা
  4. মৌনতা
সঠিক উত্তর:
মিত্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিত্রতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’মিত্রতা’ একটি শুদ্ধ শব্দ।

- ’মিত্রতা’ শব্দের অর্থ,
- সখ্য, সৌহার্দ্য।

অন্যদিকে,
বাকি শব্দগুলো 'তা' এবং ত্ব প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল ।

অশুদ্ধশব্দ
- শুদ্ধশব্দ:
- মৌনতা - মৌন;
 পৌরুষত্ব - পৌরুষ বা পুরুষত্ব;
স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৪৮.
অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয় কোনটি?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. দিবারাত্রি
  3. মৈত্রতা
  4. বিপদুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
বিপদুদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদুদ্ধার
ব্যাখ্যা
• 'বিপদুদ্ধার' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'বিপদুদ্ধার' শব্দের অর্থ - বিপদ থেকে রক্ষা, বিপন্মুক্তি। 

অন্যদিকে,
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
- এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

• 'মৈত্রতা', প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: মিত্রতা/ মৈত্র।

• 'দিবারাত্রি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: দিবারাত্র। 

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৪৯.
কোন শব্দটিতে বানানজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তিরস্কার
  2. প্রতিযোগিতা
  3. অশ্রুতপূর্ব
  4. ঐক্যতা
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- ঐক্যতা। 
• ‘ঐক্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: ঐক্য, একতা।

• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধরূপ - শুদ্ধরূপ:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• স্বাতন্ত্র‌্যতা - স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• বৈশিষ্ট্যতা -বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• চাঞ্চল্যতা - চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা।

অন্যদিকে,
তিরস্কার, প্রতিযোগিতা ও অশ্রুতপূর্ব শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫০.
চন্দ্রবিন্দুর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) কাঁধ
  2. খ) সাঁকো
  3. গ) আঁকাবাঁকা
  4. ঘ) সাতাঁর 
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতাঁর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতাঁর 
ব্যাখ্যা
"সাঁতার" শব্দটি লিখতে চন্দ্রবিন্দু এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে। চন্দ্রবিন্দু 'স' এর উপর হবে, অপশনে 'ত' এর এর উপর দেয়া আছে।

সূত্র: বাংলা একাডেমি
৭৫১.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ?
  1. অধীরতা
  2. কার্পন্যতা
  3. অলসতা
  4. চঞ্চলতা
সঠিক উত্তর:
কার্পন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্পন্যতা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ = কার্পন্যতা।
শব্দটির শুদ্ধরূপ= কার্পন্য।

অন্যদিকে,
- অধীরতা, অলসতা, চঞ্চলতা, শুদ্ধ।
---------------------------------------
•প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:

• অপপ্রয়োগ =  প্রয়োগ
- দারিদ্র্যতা =  দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা =  সৌজন্য;
- বৈচিত্র্যতা =  বিচিত্রতা / বৈচিত্র্য;
- দৈন্যতা = দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫২.
'পাখিরাজি আকাশে উড়ে দেখিয়া হিংসায় পিপিলিকারা বিধাতার কাছে পাখা চায়' বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) প্রত্যয় জনিত
  2. খ) কারক জনিত
  3. গ) বচন জনিত
  4. ঘ) সন্ধি জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
ব্যাখ্যা
রাজি বহুবচন বোধক শব্দ শুধু অপ্রাণীবাচক শব্দের সাথে হয়। উন্নত প্রাণীবাচক শব্দের সাথে 'রা' বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়৷
এখানে শুদ্ধ বাক্যটি হবে 'পাখিরা আকাশে উড়ে দেখিয়া হিংসায় পিপিলিকারা বিধাতার কাছে পাখা চায়'।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৭৫৩.
'পরিত্যজ্য' শব্দে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সন্ধি
  2. সমাস
  3. বাহুল্য
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• 'পরিত্যজ্য' শব্দে প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - পরিত্যাজ্য। এর প্রকৃতি-প্রত্যয় - পরি + √ত্যজ।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক,
• একত্রিত - একত্র,
• পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫৪.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সকল বালিকা প্রভাতফেরিতে গেছে।
  2. যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।
  3. স্কুলে অনেক ছাত্রবৃন্দ এসেছে।
  4. সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
সঠিক উত্তর:
স্কুলে অনেক ছাত্রবৃন্দ এসেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কুলে অনেক ছাত্রবৃন্দ এসেছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: স্কুলে অনেক ছাত্রবৃন্দ এসেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: স্কুলে অনেক ছাত্র এসেছে।

• বানানের নিয়ম:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৫৫.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কোষ
  2. খষড়া
  3. কাষ্ঠ
  4. অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
খষড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খষড়া
ব্যাখ্যা
• ‘খষড়া’ শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।

• শুদ্ধ বানান: খসড়া,
- এটি আরবি শব্দ।
অর্থ: রচনা বা শিল্পকর্মের প্রাথমিক ছক, নকশা।

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

-----------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৫৬.
‘বৃক্ষটি স্বমূলে উৎপাটিত হইয়াছে।’ বাক্যটি অশুদ্ধ হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) অর্থগত ভুল
  3. গ) পদক্রম জনিত
  4. ঘ) কারক জনিত
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থগত ভুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থগত ভুল
ব্যাখ্যা
‘বৃক্ষটি স্বমূলে উৎপাটিত হইয়াছে।’ বাক্যটি অশুদ্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে অর্থগত। কারণ স্ব মানে নিজে, স মানে সহ। এখানে ‘বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হইয়াছে’ লিখলে সঠিক হতো।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭৫৭.
'মহিমামণ্ডিত' শব্দে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি
  2. সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি 
  3. সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি
  4. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ
নিরভিমানী - নিরভিমান। 
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র। 
মাতাজাতি - মাতৃজাতি। 
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত। 
ভ্রাতাবৃন্দ - ভ্রাতৃবৃন্দ। 
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার। 
অহোরাত্রি - অহোরাত্র। 
নির্দোষী - নির্দোষ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭৫৮.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. অর্ধরাত্রি
  2. নিরভিমান
  3. নির্দোষী
  4. পিতাহারা
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ- নিরভিমান। 

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:

সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন:
- নেই ধন যার = নির্ধন,
- নেই গুণ যার = নির্গুণ,
- নেই পাপ যার = নিষ্পাপ।
[নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।]

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫৯.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল
  2. খ) গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ
  3. গ) ইহার আবশ্যক নাই
  4. ঘ) ঘটনা বর্ণনা হয়েছে
সঠিক উত্তর:
ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে - ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
সঠিক রূপঃ ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ -গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ।
সঠিক রূপঃ গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন অতিষ্ঠ।
সঠিক রূপঃ ইহার আবশ্যকতা নাই (বিশেষ্য - বিশেষন জনিত ভুল)
সঠিক রূপঃ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে (বাচ্যজনিত)।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৬০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) দেশে বিভিন্ন পরিবারগুলো।
  2. খ) কতিপয় কর্মচারীদের দুর্নীতি। 
  3. গ) অনেক লোকেরা জমা হয়েছিল। 
  4. ঘ) ঘরে ঘরে ভাত নেই।
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘরে ঘরে ভাত নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘরে ঘরে ভাত নেই।
ব্যাখ্যা
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
দেশে বিভিন্ন পরিবার।
কতিপয় কর্মচারীর দুর্নীতি। 
অনেক লোক/লোকেরা জমা হয়েছিল। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৭৬১.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সকল বালিকা প্রভাতফেরিতে গেছে।
  2. যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।
  3. সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
  4. সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
সঠিক উত্তর:
সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সভায় অনেক গুণী ব্যক্তি এসেছে।

• নিয়ম:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৬২.
"গোরু মাংস খায়।" - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. আকাঙ্ক্ষার অভাব
  2. আসত্তির অভাব
  3. যোগ্যতার অভাব
  4. আসক্তির অভাব
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি - "গোরু মাংস খায়।"
- এখানে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
- "ছা্গল মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ - গোরু সাধারণত মাংস খায় না ।
• শুদ্ধ বাক্য: গোরু ঘাস খায়।

• বাক্যের যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়'।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে।
- কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৬৩.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অলসতা
  2. কৃপণতা
  3. ঐক্যতা
  4. ধীরতা
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
ব্যাখ্যা
• ‘ঐক্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: ঐক্য, একতা।

----------------
• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৬৪.
'সকল মানুষেরাই মরণশীল।' এই বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) লিঙ্গ জনিত
  2. খ) অনুসর্গ জনিত
  3. গ) বচন জনিত
  4. ঘ) কারক জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
ব্যাখ্যা
একই সঙ্গে দুইবার বহুবচনবাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না৷ সুতরাং এখানে হবে সকল মানুষই / মানুষ / মানুষেরা মরণশীল।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৭৬৫.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. জ্ঞানবান
  2. অধীন
  3. ঘূর্ণীয়মান
  4. করিতকর্মা
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণীয়মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণীয়মান
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ: ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘূর্ণায়মান।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- দোষণীয় - দূষণীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- পুজ্যনীয় - পূজনীয়;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৬৬.
নিচের কোন শব্দটিতে বানানজনিত অপ-প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রাণিবিদ্যা
  2. দুরবস্থা
  3. সহযোগীতা
  4. দারিদ্র্য
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে সহযোগীতা শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে।
- এর সঠিক প্রয়োগ হবে সহযোগী + তা = সহযোগিতা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৭৬৭.
কোনটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. মাতৃজনিত
  2. অদ্যবধি
  3. মহিমমণ্ডিত
  4. জ্যোতিরিন্দ্র
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ - অদ্যবধি
এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি।

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্র,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
 শব্দগুলোর প্রয়োগ সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৬৮.
'বিদ্যালয়ের সকল ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।' বাক্যটিতে যে ত্রুটি রয়েছে-
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) বহুবচনের দ্বিত্ব
  3. গ) আসত্তির অভাব
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বহুবচনের দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুবচনের দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যটিতে 'সকল ছেলেরা' বহুবচনে দ্বিত্ব হয়েছে। বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- বিদ্যালয়ের সকল ছেলে মাঠে ফুটবল খেলছে বা বিদ্যালয়ের ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
৭৬৯.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. শুধুমাত্র
  2. গাম্ভীর্যতা
  3. অর্ধরাত্রি
  4. মৈত্রতা
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা

• 'শুধুমাত্র' - শব্দটি অপপ্রয়োগ। এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ
- এখানে শুধু ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- তাই এখানে একই সাথে 'শুধুমাত্র' শব্দটি অশুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

• 'অর্ধরাত্রি' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র।

• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৭০.
নিচের কোন শব্দটি অপপ্রয়োগ?
  1. পিতৃহারা
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. নির্দোষ
  4. নীরোগ
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

• 'সুবুদ্ধিমান' - শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
- এটি সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি।

অন্যদিকে,
- নীরোগ, 
- পিতৃহারা,
- নির্দোষ। 
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৭১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ? 
  1. ক) লঘিষ্ঠ
  2. খ) শ্রেষ্ঠ
  3. গ) বলিষ্ঠতর
  4. ঘ) পাপিষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
গ) বলিষ্ঠতর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বলিষ্ঠতর
ব্যাখ্যা
শব্দটির শুদ্ধরূপ : বলিষ্ঠ 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৭৭২.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. কদাপি
  2. সমূলসহ
  3. রক্তিম
  4. বিপন্মুক্তি
সঠিক উত্তর:
সমূলসহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূলসহ
ব্যাখ্যা
• 'সমূলসহ', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ - সমূল / মূলসহ।

অন্যদিকে,
- রক্তিম,
- বিপন্মুক্তি,
- কদাপি।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৭৩.
গুরুচণ্ডালী সংক্রান্ত অপপ্রয়োগ ঘটেনি নিচের কোনটিতে?
  1. ক) মড়াদাহ
  2. খ) তাপদাহ
  3. গ) দাবদাহ
  4. ঘ) গরুর শকট
সঠিক উত্তর:
গ) দাবদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দাবদাহ
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ। এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷
গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ - এরকম হলে গুরুচণ্ডালী দোষ হবে না।
এদের গুরুচণ্ডালী ভুল গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৭৭৪.
'ঐক্যতা' শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. বিভক্তিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সমাসজনিত
  4. সন্ধিবিষয়ক
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
- শব্দটির সঠিক বানান হবে — ঐক্য বা একতা।

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
 • 'উৎকর্ষ' শব্দটি বিশেষ্য।
- ‘উৎকর্ষ' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। 

উৎস- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৭৫.
মূর্ধন্য-ষ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অনুষঙ্গ
  2. ধূলিষাৎ 
  3. ভবিষ্যৎ
  4. সুষমা 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধূলিষাৎ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূলিষাৎ 
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ষ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- ধূলিষাৎ শব্দে। 
- শুদ্ধ বানান- ধূলিসাৎ। 

--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৭৬.
অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  3. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

------------------------------
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।

প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো-

• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

• অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৭৭.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) নির্দোষ
  2. খ) অর্ধরাত্র
  3. গ) উৎকর্ষতা
  4. ঘ) নিরপরাধ
সঠিক উত্তর:
গ) উৎকর্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা
'উৎকর্ষতা '-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'উৎকর্ষ' 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 

 তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৭৭৮.
গুরুচণ্ডালী দোষজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) মড়াদাহ
  2. খ) শবদাহ
  3. গ) গরুর গাড়ি
  4. ঘ) দাবদাহ
সঠিক উত্তর:
ক) মড়াদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মড়াদাহ
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী দোষজনিত অপপ্রয়োগ হলো - মড়াদাহ৷
এর শুদ্ধরূপ: মড়াপোড়া৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭৯.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ?
  1. উৎকর্ষ
  2. চঞ্চলতা
  3. অধীরতা
  4. বৈচিত্র্যতা
সঠিক উত্তর:
বৈচিত্র্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈচিত্র্যতা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ = বৈচিত্র্যতা।
শব্দটির শুদ্ধরূপ= বৈচিত্র্য।

অন্যদিকে,
- অধীরতা,  চঞ্চলতা, উৎকর্ষ, শুদ্ধ বানান।
---------------------------------------
•প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:

• অপপ্রয়োগ =  প্রয়োগ
- দারিদ্র্যতা =  দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা =  সৌজন্য;
- উৎকর্ষতা =  উৎকৃষ্টতা/উৎকর্ষ;
- দৈন্যতা = দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সে সঙ্কট অবস্থায় পড়েছে।
  2. আমার এই বইয়ের কোনো আবশ্যকতা নেই।
  3. তাকে স্নেহাশীষ দিও।
  4. আমার আর বাচিঁবার স্বাদ নাই।
সঠিক উত্তর:
আমার এই বইয়ের কোনো আবশ্যকতা নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার এই বইয়ের কোনো আবশ্যকতা নেই।
ব্যাখ্যা
• 'আমার এই বইয়ের কোনো আবশ্যকতা নেই। '- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য:সে সঙ্কট অবস্থায় পড়েছে। 
- শুদ্ধ বাক্য:সে সঙ্কটজনক অবস্থায় পড়েছে। 

- অশুদ্ধ বাক্য:তাকে স্নেহাশীষ দিও।
- শুদ্ধ বাক্য: তাকে স্নেহাশিস দিও।

- অশুদ্ধ বাক্য:আমার আর বাচিঁবার স্বাদ নাই।
- শুদ্ধ বাক্য:আমার আর বাচিঁবার সাধ নাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮১.
কোনটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল?
  1. নিরপরাধ
  2. নির্দোষ
  3. অধীনস্থ
  4. একত্র
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনগুলোতে অধীনস্থ শব্দটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'অধীন'।
আরও কিছু শব্দ-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ----- নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮২.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. করিতকর্মা
  2. দুরাবস্থা
  3. নিরপরাধী
  4. বিবিধপ্রকার
সঠিক উত্তর:
করিতকর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করিতকর্মা
ব্যাখ্যা
করিতকর্মা - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'করিতকর্মা' শব্দের অর্থ - কর্মকুশল; কৃতী। 

অন্যদিকে,
• 'দুরাবস্থা', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: দুরবস্থা।

• 'নিরপরাধী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ। 

• 'বিবিধপ্রকার', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বিবিধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৮৩.
বানানজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি।
  2. ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
  3. গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
  4. রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন। 
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
ব্যাখ্যা
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।- প্রদত্ত বাক্যে 'লজ্জাস্কর' বানানটি অশুদ্ধ। 

• শুদ্ধবাক্য: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।

অপশনের অন্যান্য শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো- 
• আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি।
• গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
• রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৪.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
  2. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  3. একের বোঝা, দশের লাঠি।
  4. সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।
সঠিক উত্তর:
একের বোঝা, দশের লাঠি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একের বোঝা, দশের লাঠি।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: একের বোঝা, দশের লাঠি।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রবাদের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।]
 
শুদ্ধ: দশের লাঠি, একের বোঝা।

অন্যদিকে, 
---------------
• শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
• শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
• শুদ্ধ: সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।  

৭৮৫.
'উৎকর্ষতা' কি কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. উপসর্গজনিত
  4. বিভক্তিজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৬.
নিচের কোন বাক্যে বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি অপমানিত হয়েছি।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
  4. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
ব্যাখ্যা
- তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। - বাক্যে বাচ্যজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে।
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

বাচ্যজনিত ভুল:
- কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যেমন:

অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৭.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয়?
  1. কেবলমাত্র
  2. মহিমান্বিত
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. অতলস্পর্শী
সঠিক উত্তর:
মহিমান্বিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমান্বিত
ব্যাখ্যা
• 'মহিমান্বিত' - শব্দটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- 'কেবলমাত্র'- শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ। 
- এখানে কেবল ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- একই সাথে কেবলমাত্র তাই অশুদ্ধ। 

• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান।

• 'অতলস্পর্শী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
এর শুদ্ধরূপ: অতলস্পর্শ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
৭৮৮.
কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রাতরাশ
  2. মুখছবি
  3. উপর্যুক্ত
  4. মহিমমণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
মুখছবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখছবি
ব্যাখ্যা
• 'মুখছবি' শব্দটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে 'মুখচ্ছবি'।
- শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ - মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।

অন্যদিকে,
- উপর্যুক্ত,
- মহিমমণ্ডিত ,
- প্রাতরাশ।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৯.
নিচের কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. নির্দোষী
  2. দিবারাত্রি
  3. পিতাহারা
  4. অহর্নিশ
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশ
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশ' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

অন্যদিকে: 
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ,
- নির্দোষী = নির্দোষ।
- দিবারাত্রি = দিবারাত্র।
- পিতাহারা = পিতৃহারা।

• সমাস-ঘটিত কিছু অশুদ্ধি শব্দের শুদ্ধরূপ:
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- অহর্নিশি = অহর্নিশ
- নিরহঙ্কারী = নিরহঙ্কার।
- অর্ধরাত্রি = অর্ধরাত্র।
- নিরভিমানী = নিরভিমান।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৯০.
"অধৈর্যতা" শব্দে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সন্ধি বিষয়ক
  2. প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
  3. সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত
  4. সমাস-ঘটিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• ‘অধৈর্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: অধৈর্য, ধীরতা। 

নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৯১.
‘সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।’ বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে
  2. বাহুল্য দোষে
  3. দুর্বোধ্যতা দোষে
  4. বিদেশী শব্দ দোষে
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা
• "সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 
- শুদ্ধ বাক্যটি হবে: "সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত" অথবা "শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"।

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯২.
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অনটন
  2. অদ্যাবধি
  3. বিপদোদ্ধার
  4. বাগীশ্বরী
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
ব্যাখ্যা
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধিগুলো হলো-
শুদ্ধ  - অশুদ্ধ:
• অনটন - অনাটন।
• অদ্যাবধি - অদ্যবধি। 
• পৃথগন্ন - পৃথকন্ন। 
• বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী।
• বিপদুদ্ধার - বিপদোদ্ধার।  
• বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৯৩.
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) ঐক্যতা
  2. খ) মহাত্ম
  3. গ) জন্মবার্ষিকী
  4. ঘ) অধীনস্থ
সঠিক উত্তর:
গ) জন্মবার্ষিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন্মবার্ষিকী
ব্যাখ্যা
- জন্মবার্ষিকী শব্দের অপপ্রয়ােগ হয়নি।
- 'ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে। শব্দটির সঠিক বানান হবে ঐক্য বা একতা।
- মহাত্ম' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ হবে মহত্ত্ব।
- অধীনস্থ শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।

উৎস- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
৭৯৪.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. সর্বশ্রেষ্ঠ
  2. বিপন্মুক্তি
  3. সুস্বাগত
  4. বুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
ব্যাখ্যা
- 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত

অন্যদিকে,
- সর্বশ্রেষ্ঠ,
- বিপন্মুক্তি,
- বুদ্ধিমান।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।