বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

মোট প্রশ্ন১,৩৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৫০১৬০০ / ১,৩৩৮

৫০১.
বর্তমান বরিশাল জেলা প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. বরেন্দ্র
  4. চন্দ্রদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’।
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।

অন্যদিকে -
• বঙ্গ জনপদ: বৃহত্তম ঢাকা ও ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর আগে বঙ্গ জনপদের অধীনে ছিল।
• বরেন্দ্র জনপদ: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।
• পুণ্ড্র জনপদ: এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
• গৌঢ় জনপদ: ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমানের কিছু অংশ আগে গৌঢ়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
• সমতট জনপদ: বর্তমানের কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল।
• হরিকেল জনপদ: শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত হরিকেল জনপদের সীমানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০২.
প্রাচীন সমতট জনপদের অবস্থান বাংলাদেশের বর্তমান কোন জেলায় বিস্তৃতি ছিল?
  1. নোয়াখালী
  2. সিলেট 
  3. চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

⇒ সমুদ্রগুপ্তের সময় থেকে (চতুর্থ শতাব্দী) এর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
- লালমাই-ময়নামতীকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- চন্দ্রবংশীয় রাজা ভবদেবের আমলে (সপ্তম শতাব্দী) ময়নামতীতে শালবন বিহার তৈরি হয়।
- বিভিন্ন সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন লিপিতে ‘দেবপর্বত’কে সমতটের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- সাত শতকে সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা। 

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫০৩.
চন্দ্রবংশের প্রথম শক্তিধর রাজা কে ছিলেন?
  1. শ্রীচন্দ্র
  2. কল্যাণচন্দ্র
  3. ত্রৈলোক্যচন্দ্র
  4. গৌবিন্দচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ত্রৈলোক্যচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রৈলোক্যচন্দ্র
ব্যাখ্যা

চন্দ্র রাজবংশ:
- খ্রিস্টীয় দশম শতকের শুরুতেই চন্দ্রবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড়শ বছর এই বংশ শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়।
- চন্দ্রবংশের রাজাদের ধর্মও ছিল বৌদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- এই বংশের প্রথম শক্তিধর রাজার নাম ত্রৈলোক্যচন্দ্র। তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। শক্তিধর ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল ও চন্দ্রদ্বীপ দখল করেছিলেন। একে একে তাঁর অধিকারে আসে বঙ্গ ও সমতট। ত্রৈলোক্যচন্দ্র প্রায় ত্রিশ বছর শাসন করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর রাজা হন শ্রীচন্দ্র। তিনি বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে রাজধানী গড়ে তোলেন। তাঁর উপাধি ছিল 'পরমেশ্বর' 'পরম ভট্টারক' 'মহারাজাধিরাজ'। শ্রীচন্দ্র প্রায় পয়তাল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।
- এর পর সিংহাসনে বসেন শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র। কল্যাণচন্দ্রের পুত্র লড়হচন্দ্রের রাজত্বকালেও এই গৌরব ম্লান হয়নি।
- শেষ চন্দ্ররাজা ছিলেন গৌবিন্দচন্দ্র।
- চোল সম্রাট রাজেন্দ্রচোল ও কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করলে চন্দ্রবংশের পতন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৪.
পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে কোন শতকে?
  1. ষষ্ঠ শতক
  2. সপ্তম শতক
  3. অষ্টম শতক
  4. নবম শতক
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতক
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে ৮ম শতকের মাঝামাঝি সময়ে (আনুমানিক ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে)।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ একশ বছরের (মাৎস্যন্যায়) অরাজকতা দূর করতে গোপাল এই বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই রাজবংশ ৮ম থেকে ১২শ শতক পর্যন্ত বাংলা ও বিহার শাসন করেছিল। 
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৫.
প্রাচীন মিশরের প্রথম নরপতি কে?
  1. ক) মেনেস
  2. খ) নেকতাবেনো
  3. গ) খুফু
  4. ঘ) আখেমেনিডস
সঠিক উত্তর:
ক) মেনেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মেনেস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশ যা আমাদের কাছে পরিচিত ইজিপ্ট বা মিশর নামে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত সময়ে নীলনদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- সে সময়টা প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে প্রাক-রাজবংশীয় যুগ বলে পরিচিত।
- এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে।
- প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ থেকে। তখন থেকে মিশরের ঐতিহাসিক যুগের শুরু।
- একই সময়ে নিম্ন ও উচ্চ মিশরকে একত্রিত করে ‘নারমার’ বা ‘মেনেস’ একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরােহিত হন।
- তিনি প্রথম ফারাও এর মর্যাদাও লাভ করেন। এরপর থেকে ফারওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেখযােগ্য অবদান রাখতে শুরু করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৬.
'তবকত-ই-নাসিরীর' বর্ণনায় গঙ্গার দক্ষিণে কোন জনপদের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. রাঢ়
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
ব্যাখ্যা
রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৭.
বাংলার প্রাচীন আদি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোন নরগোষ্ঠীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল?
  1. ককেশীয়
  2. নিগ্রীয়
  3. মঙ্গোলীয়
  4. অষ্ট্রেলীয় 
সঠিক উত্তর:
অষ্ট্রেলীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্ট্রেলীয় 
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতি:
- বাঙালি জাতি একটি মিশ্রিত জাতি, যা নানা যুগে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর মেলবন্ধনের ফলে গঠিত হয়েছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলায় পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর (নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়) শাখার আগমন ঘটেছে।
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাচীন সময়ে আদি অষ্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী—যেমন সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী—এ অঞ্চলে বাস করত। 
- পরবর্তীতে আর্য, পারস্য-তুর্কিস্তান, গুপ্ত, সেন, বর্মণ, তুর্কি, আফগান, মুগল, ইংরেজ, আর্মেনীয় প্রভৃতি বহু জাতির আগমন বাঙালি রক্তে নতুন মিশ্রণ ঘটায়।
- এমনকি পাকিস্তান যুগ ও বর্তমান বিশ্বায়নের সময়েও এই শংকর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
- সুতরাং, বাঙালি জাতি ইতিহাসভিত্তিক ও বৈচিত্র্যময় রক্তের মিশ্রণের ফলশ্রুতিতে একটি শংকর জাতি হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিংক]।

৫০৮.
পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত পূজা কোনটি?
  1. পত্যেন পূজা
  2. খোজিং পূজা
  3. লুসেই পূজা
  4. পুথিয়ান পূজা
সঠিক উত্তর:
খোজিং পূজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোজিং পূজা
ব্যাখ্যা

⇒ পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত খোজিং পূজা।

পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫০৯.
'পাঙন' উপজাতির মূল বসবাস কোথায়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) নেত্রকোনা
সঠিক উত্তর:
খ) মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র মুসলিম উপজাতি গোষ্ঠী পাঙন।
- এদের বসবাস মৌলভীবাজার জেলায়।
উৎসঃ মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট।
৫১০.
নিচের কোনটি বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৫১১.
দিল্লি সালতানাতের প্রথম স্বাধীন সুলতান কে?
  1. গিয়াস উদ্দিন খলজি
  2. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. মুহাম্মাদ ঘুরি
  4. কুতুবুদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
কুতুবুদ্দিন আইবেক: 
- কুতুবুদ্দিন দিল্লি সালতানাতের প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- মুহাম্মাদ ঘুরির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করেন।
- সুলতান হওয়ার পর অবশ্য তিনি আর কোন নতুন অঞ্চল জয় করতে পারেন নি।
- তবে পূর্ব অধিকৃত অঞ্চলে তিনি শান্তি কায়েম করতে সক্ষম হন। তিনি সুশাসন প্রবর্তন করেন। বলা হয় তাঁর কঠোর শাসনে মেষ ও নেকড়ে বাঘ একঘাটে পানি পান করতো। দেশে চুরি-ডাকাতি ছিল না বললেই চলে। নব বিজিত দেশে এ'রকম আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কম কৃতিত্বের কথা নয়।

উল্লেখ্য: 
- কুতুবউদ্দীন ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। তাঁকে 'লাখ-বশ' বলা হতো। বিখ্যাত দাতা হাতেম তাঈ-র সাথে তাঁকে তুলনা করা হতো। তিনি ধর্মভীরু মুসলমান ছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় কারণে কোন হিন্দুকে তিনি উৎপীড়ণ করেন নি। তিনি বহু হিন্দুকে রাজকাজে নিয়োগ করেন। জ্ঞানী-গুণীগণ তাঁর দ্বারা সমাদৃত হতো। তিনি বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। তিনি স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

- দিল্লীর "কুয়ত- উল-ইসলাম” এবং আজমীরের "আড়াই-দিনকা-ঝোঁপড়া” নামক মসজিদ দুটি তাঁর শাসনামলে নির্মিত হয়। বিখ্যাত কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজও তাঁর সময়ই শুরু হয়। যদিও এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় তাঁর জামাতা ইলতুতমিসের শাসনামলে। 

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১২.
প্রাচীন সমতটের রাজধানী-
  1. সুবর্ণপুর
  2. বড় কামতা
  3. মহাস্থানগড়
  4. কর্ণসুবর্ণ
সঠিক উত্তর:
বড় কামতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড় কামতা
ব্যাখ্যা
• সমতট:
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
বর্তমানে নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫১৩.
পরী বিবি কে ছিলেন?
  1. ক) আওরঙ্গজেবের কন্যা
  2. খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. গ) মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. ঘ) সিরাজউদ্দৌলার মাতা
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
ব্যাখ্যা
• বিবি পরী বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খানের কন্যা ও বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজমের স্ত্রী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫১৪.
বিখ্যাত ইতিহাস বিষয়ক বই ‘তবকাত-ই-নাসিরী’-এর রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কাশিম ফিরিস্তা
  2. কুতুব উদ্দিন আইবেক
  3. মিনহাজ-ই-সিরাজ
  4. বখতিয়ার খলজি
সঠিক উত্তর:
মিনহাজ-ই-সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিনহাজ-ই-সিরাজ
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত ইতিহাসবিষয়ক বই ‘তবকাত-ই-নাসিরী’-এর রচয়িতা মিনহাজ-ই-সিরাজ।

তবকাত-ই-নাসিরী:
- তবকাত-ই-নাসিরী মিনহাজ-ই-সিরাজ জুর্জানি রচিত মধ্যযুগের সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ।
- এ গ্রন্থে ইসলামের বিভিন্ন নবী-রসুলের ইতিহাস থেকে শুরু করে মিনহাজ তাঁর নিজের সময় পর্যন্ত ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন।
- বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্য এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ।
- বাংলা মুলুকে মুসলিম শাসনের প্রথম ৫০ বছরের ইতিহাস একমাত্র এ গ্রন্থেই পাওয়া যায়।
- ১২৬০ সালে মিনহাজ-ই-সিরাজ (মিনহাজউদ্দীন আবু ওমর বিন সিরাজউদ্দীন আল-জুযানী) ২৩ খণ্ডে এই বইটি লেখা শেষ করেন।
- মামলুক সালতানাতের অষ্টম সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের নামে ফারসি ভাষায় লেখা এ বইয়ের নামকরণ হয়।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় থেকে ১২৫৯ সাল পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হলো তবকাত-ই-নাসিরী।

উল্লেখ্য,
- মিনহাজ-ই-সিরাজ ছিলেন দিল্লির কাজি।
- কর্মসূত্রে সুলতানি আমলের বাংলায় এসে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করার পর দিল্লি ফিরে রচনা করেন এই বই।
- দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে খলজিদের বিদ্রোহ, বখতিয়ার খলজির নেতৃত্বে বাংলায় তুর্কি অধিকার, ব্যর্থ তিব্বত অভিযান ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বাংলার ৫৪ বছরের একমাত্র ইতিহাস এই বই।

এছাড়াও,
- সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমল থেকে মুইজ উদ্দিন কায়কোবাদ সময়কাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
- এ ছাড়া কুতুবুদ্দিন আইবেক, সাইফুদ্দিন সুরী, চেঙ্গিস খানসহ সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি ও নানা ইতিহাস তুলে ধরা হয় বইটিতে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১৫.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদ ‘দণ্ডভুক্তি’ নামে পরিচিত ছিলো?
  1. সমতট
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. তাম্রলিপ্ত
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
তাম্রলিপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে তাম্রলিপ্ত অন্যতম। এই জনপদের অবস্থান ছিলো হরিকেল ও রাঢ়ের দক্ষিণে।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুক এলাকা ছিলো তাম্রলিপ্ত জনপদের কেন্দ্রস্থল। তাম্রলিপ্ত প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত বন্দর ছিলো।
- সপ্তম শতক হতে তাম্রলিপ্ত জনপদ ‘দণ্ডভুক্তি’ নামে পরিচিত হতে থাকে। দণ্ড মানে হলো পথ আর ভুক্তি অর্থ প্রদেশ। সেই সময় উৎকলে যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় এই প্রদেশের নাম হয় ‘দণ্ডভুক্তি’।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং আনন্দবাজার পত্রিকা)
৫১৬.
সম্রাট অশোক মৌর্য বংশের কততম সম্রাট ছিলেন?
  1. চতুর্থ
  2. প্রথম
  3. তৃতীয়
  4. দ্বিতীয়
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- সম্রাট অশোক ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন।
- এর তের বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে অশোক পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ভয়াবহ কলিঙ্গ ‍যুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
- এ ভয়াবহতা সম্রাট অশোকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- এতে করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৭.
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর অরাজকতার সময়কালকে কার তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. গোপাল
  2. রামপাল
  3. ধর্মপাল
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়: 
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর এক'শ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না।
- ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজমান ছিল।
- একদিকে হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের আক্রমণ অন্যদিকে ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে।
- কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো তখন কেউ ছিল না।
- এ অরাজকতার সময়কালকে ধর্মপালের 'খালিমপুর' তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে 'মাৎস্যন্যায়'।
- শব্দটি প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- বাংলার সবল অধিপতিরা 'মাৎস্যন্যায়'-এর মতো ছোট রাজ্যগুলোকে গ্রাস করছিলেন।
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি এ অরাজকতার অবসান ঘটে পাল রাজাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১৮.
অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান কোনটি?
  1. চট্রগ্রাম
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
• দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, অতীশ
- অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮০-১০৫৩) বৌদ্ধ পন্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক।
- দশম-একাদশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পন্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা কল্যাণশ্রী এবং মাতা প্রভাবতী দেবী। তাঁর বাল্যনাম ছিল চন্দ্রগর্ভ।
- মায়ের নিকট এবং স্থানীয় বজ্রাসন বিহারে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি বিখ্যাত বৌদ্ধ গুরু জেতারির নিকট  বৌদ্ধধর্ম ও শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
- এ সময় তিনি সংসারের প্রতি বিরাগবশত গার্হস্থ্যজীবন ত্যাগ করে ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের সঙ্কল্প করেন।
- এ উদ্দেশ্যে তিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গিয়ে রাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন,
- বৌদ্ধশাস্ত্রের আধ্যাত্মিক গুহ্যবিদ্যায় শিক্ষালাভ করে ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহাসাংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের নিকট দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর নতুন নামকরণ হয় ‘দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান’।
- একত্রিশ বছর বয়সে তিনি আচার্য ধর্মরক্ষিত কর্তৃক সর্বশ্রেষ্ঠ ভিক্ষুদের শ্রেণিভুক্ত হন।
- পরে দীপঙ্কর মগধের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আচার্যদের নিকট কিছুকাল শিক্ষালাভ করে শূন্য থেকে জগতের উৎপত্তি এ তত্ত্ব (শূন্যবাদ) প্রচার করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১৯.
কাকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র‘ হিসেবে অবিহিত করা হয়?
  1. ক) সৈয়দ আমীর আলীকে
  2. খ) এ কে ফজলুল হককে
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে
  4. ঘ) নওয়াব আব্দুল লতিফকে
সঠিক উত্তর:
গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী:
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত
- রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও মেধার গুনুত্ব বিবেচনায় তিনি কোন আপোস করেন নি।
- দেশপ্রেম, মানব-কল্যাণ ও গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী এ দেশের রাজনীতিতে ধ্রুবতারার জ্যোতি নিয়ে বিরাজ করতে থাকবেন।

সূত্র: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২০.
বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্কের রাজধানী নাম কী?
  1. চন্দ্রনগর
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. গৌড়
  4. পুন্ড্রনগর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- সময়কাল: সপ্তম শতকের শুরু। 
- স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা: আনুমানিক ৬০৬ খ্রি.।
- রাজ্য: গৌড় রাজ্য।
- রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাংশ, বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত।
- রাজধানী: কর্ণসুবর্ণ। 
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- শশাঙ্ক ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২১.
কলিঙ্গ যুদ্ধের ফলে কোন রাজার রাজ্য শাসন নীতির পরিবর্তন ঘটে?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. সম্রাট অশোক
  3. সমুদ্র গুপ্ত
  4. বল্লাল সেন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়।
- যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
- এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান।
- অশোকের প্রচারিত ধর্ম বৌদ্ধ ধর্ম ছিল না। তাঁর প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২২.
নীল নদের উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ক) ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  2. খ) কুনকুন পর্বত
  3. গ) পামির মাল্ভূমি
  4. ঘ) আন্দিজ পর্বতমালা
সঠিক উত্তর:
ক) ভিক্টোরিয়া হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিক্টোরিয়া হ্রদ
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে মিশরের নীল নদের উৎপত্তি। 
- এটি বিভিন্ন দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূ-মধ্যসাগরে এসে পড়েছে। 
- ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বলেছেন- মিশর হচ্ছে ‘নীল নদের দান’, এই নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। 
- মিশরের অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর।
- প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল যা ‘নোম’ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫২৩.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে কৌটিল্য ছিলেন-
  1. ক) অর্থমন্ত্রী
  2. খ) সেনাপতি
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) পরিব্রাজক
সঠিক উত্তর:
গ) প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
আলেকজান্ডারের মৃত্যুর অব্যহিত পরেই একের পর এক গ্রিক অধিকৃত অঞ্চলসমূহ জয়লাভ করেন মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তার নামানুসারে ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মৌর্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। চাণক্য ছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্য কৌটিল্য ছদ্মনামে ‘অর্থশাস্ত্র’ নামে এক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সারসংক্ষেপ হচ্ছে এই গ্রন্থ। [সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া]
৫২৪.
৩৬৫ দিনে বছর কোন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান?
  1. ক) গ্রিক সভ্যতা
  2. খ) সিন্ধু সভ্যতা
  3. গ) মিশরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) রোমান সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর।
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্য, পানি প্রবাহের মাপ, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অঙ্কশাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ।
- মিশরীয়রা অঙ্কশাস্ত্রের দুইটি শাখা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের প্রচলন করেন।
- তারা যোগ, বিয়োগ ও ভাগেরও ব্যবহার করতে পারত ।
- মিশরীয়রা ৪২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করেন এবং ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসেবও তাদের আবিষ্কার
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্যঘড়ি, ছায়াঘড়ি ও জলঘড়ি আবিষ্কার করে। 

- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল।
- তারা পরলোক বিশ্বাস করত এবং ফারাওরা পরবর্তী জন্মেও রাজা হবেন এই বিশ্বাস তাদের ছিল।
- তাই তারা ফারাওদের দেহ তাজা রাখার পদ্ধতি আবিষ্কার করে  ও মমি তৈরি শুরু করে। 
- চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৫.
বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর কোন বংশের শাসনের সূচনা হয়?
  1. দেব
  2. সেন
  3. গুপ্ত
  4. মৌর্য
সঠিক উত্তর:
সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:
- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন।
- বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৬.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা ছিল কে?
  1. ক) কৈবর্ত
  2. খ) অশোক
  3. গ) দিব্য
  4. ঘ) কানু কৈবর্ত
সঠিক উত্তর:
গ) দিব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দিব্য
ব্যাখ্যা
রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (৯৯৫-১০৪৩) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়। অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৫২৭.
কোন শাসক ভারতে মুসলিম শাসন স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) মুহম্মদ বিন কাসিম
  2. খ) সুলতান মাহমুদ গজনী
  3. গ) মুহম্মদ ঘুরী
  4. ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
কুতুবইদ্দিন আইবেক মুহম্মদ ঘুরীর একজন ক্রীতদাস হিসেবে জীবন শুরু করেন। তিনি ঘুরীর অনুমতিক্রমে ভারত বিজয়ের পর দিল্লিতে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক। দানশীলতার জন্য তাকে ‘লাখবক্স’ বলা হত।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৫২৮.
সমুদ্রতীরে গড়ে উঠেছে কোন সভ্যতা?
  1. ক) চীন সভ্যতা
  2. খ) মিশরীয় সভ্যতা
  3. গ) মেসােপটেমীয় সভ্যতা
  4. ঘ) গ্রীক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রীক সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রীক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- পুরাে গ্রিসে একক কোনাে রাজ্য বা সাম্রাজ্য গড়ে উঠেনি।
- উঁচু উঁচু পাহাড়ের মধ্যে এক একটি নগর তৈরি হয়েছিল।
- এজন্য প্রতিটি নগর পরিণত হয় পৃথক রাষ্ট্রে।
- এ কারণে গ্রিসের রাষ্ট্রগুলােকে বলা হয় নগররাষ্ট্র।
- নদী না থাকায় কৃষি জমি ছিল না তেমন।
- তাই সমুদ্রের তীরে বিকাশ ঘটা নগররাষ্ট্রগুলাের প্রধান আয় ছিল বাণিজ্য। বাণিজ্য করতে গিয়ে তারা অনেক দেশ দখল করে নেয়।
- গ্রিসে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দে।
- গ্রিসের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ নগররাষ্ট্রের একটি এথেন্স আর অন্যটি স্পার্টা। দুইটি নগররাষ্ট্রের কাঠামাে ছিল আলাদা।
- এথেন্সে গড়ে উঠেছিল গণতন্ত্র। আর স্পার্টায় সামরিকতন্ত্র। ধর্ম, স্থাপত্য, ভাস্কর্য নির্মাণ, দর্শন ও বিজ্ঞান সকল ক্ষেত্রেই গ্রিস বিশেষ করে এথেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫২৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিহার কোনটি?
  1. সোমপুর বিহার
  2. শালবন বিহার
  3. আনন্দ বিহার
  4. সীতাকোট বিহার
সঠিক উত্তর:
সীতাকোট বিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীতাকোট বিহার
ব্যাখ্যা
সীতাকোট বিহার:
- সীতাকোট বিহার একটি বৌদ্ধ বিহার।
- বিহারটি দিনাজপুর জেলার নওয়াবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।
- বিহারটিতে মোট কক্ষের সংখ্যা ৪১টি।
- এখানে পাহাড়পুর, শালবন বিহার এবং আনন্দ বিহারের মত ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক দেখা যায়না।
- তবে আকার আয়তনের দিক থেকে এই বিহারের সংগে বগুড়ায় অবস্থিত ভাসু বিহার এর অনেক মিল রয়েছে।
- সীতাকোট বিহার থেকে প্রাপ্ত দুইটি ব্রোঞ্জ মূর্তির গঠন শৈলী থেকে অনুমান করা যায় যে, এগুলি ৭ম-৮ম শতাব্দীতে তৈরী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিহার।

অন্যদিকে -
- শালবন বিহার দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে।
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- অষ্টম শতকে দেবরাজা আনন্দদেব 'আনন্দ বিহার' নির্মাণ করেন।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৩০.
বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. বিজয় সেন
  2. সামন্ত সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
হেমন্ত সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা

সেন বংশ:
- বাংলার পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়।
- তারা এদেশে ছিলেন বহিরাগত।
- সেনদের পূর্বপুরুষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণ্যাত্যের কর্নাটে।
- বাংলায় সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- তিনি শেষ বয়সে কর্নাট থেকে এসে রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন।
- তিনি পাল রাজা রাম পালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩১.
পুণ্ড্র জনপদের বর্তমান অবস্থান কোনটি?
  1. ওয়ারী-বটেশ্বর
  2. ময়নামতি
  3. মহাস্থানগড়
  4. সোমপুর বিহার
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

⇒ মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।
৫৩২.
'বঙ্গ' জনপদের অবস্থান নিচের কোনটি?
  1. ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী এলাকা
  2. বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বাংশ
  3. মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চল
  4. পদ্মা পূর্ববর্তী অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী এলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী এলাকা
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৩.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের মাধ্যমে কয়টি স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় প্রায় ৪ শতকের শুরুতে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মগধ বা বরেন্দ্রের অধিপতি ছিলেন গুপ্তদের আদিপুরুষ শ্রীগুপ্ত।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একে একে সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য, ১ম কুমারগুপ্ত মহেন্দ্রাদিত্য, স্কন্ধগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের প্রবল পরাক্রান্ত শাসন লক্ষ করা যায়।
- তবে পরবর্তীকালের গুপ্ত শাসকগণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিলেন।
- তারপর হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৪.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের মাধ্যমে কতটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটেছে?
  1. ৩টি
  2. ২টি
  3. ৫টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় প্রায় ৪ শতকের শুরুতে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মগধ বা বরেন্দ্রের অধিপতি ছিলেন গুপ্তদের আদিপুরুষ শ্রীগুপ্ত।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একে একে সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য, ১ম কুমারগুপ্ত মহেন্দ্রাদিত্য, স্কন্ধগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের প্রবল পরাক্রান্ত শাসন লক্ষ করা যায়।
- তবে পরবর্তীকালের গুপ্ত শাসকগণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিলেন।
- তারপর হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৫.
উয়ারি-বটেশ্বর কত বছর পূর্বের প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন ও প্রাচীন দুর্গ?
  1. ক) ১০০০ বছর
  2. খ) ১৫০০ বছর
  3. গ) ২০০০ বছর
  4. ঘ) ২৫০০ বছর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫০০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫০০ বছর
ব্যাখ্যা
উয়ারি-বটেশ্বর:
⇒ অবস্থান: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে নরসিংদী জেলার বেলাব ও শিবচর উপজেলার ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে উয়ারি এবং বটেশ্বর গ্রামের অবস্থান। উয়ারি ও বটেশ্বর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ভিন্ন গ্রাম হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দেশন হিসেবে একসাথে উচ্চারণ করা হয় । গ্রাম দু'টি আশে-পশের সমতল ভূমি থেকে একটু উঁচু। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র এবং আড়িয়াল খাঁ নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে কয়রা নদীর দক্ষিণ তীরে উয়ারি এবং বটেশ্বর গ্রামের অবস্থান। সম্প্রতি আবিষ্কৃত হলেও এটি ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

⇒ উৎপত্তি:
নব্যপ্রস্তর যুগের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নগর সভ্যতার গোড়াপত্তন হতে থাকে। মিশর, মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু সভ্যতা অনুরূপ নগর সভ্যতা হিসেবে স্বীকৃত। মহাস্থানগড় এবং উয়ারি-বটেশ্বর হচ্ছে এর পরবর্তী প্রজন্মের নগর সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দে একটি দুর্গ নগর হিসেবে উয়ারি-বটেশ্বরের আত্মপ্রকাশ ঘটে বলে ধারণা করা হয়। গ্রিকো- রোমান গণিতবিদ টলেমি (Claudius Ptolemy, ১০০-১৭০খ্রি.) তাঁর Geographia গ্রন্থে উয়ারি-বটেশ্বরকে ‘সোনাগড়া’ বলে উল্লেখ করেছেন । তিনি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডেও অনুরূপ কিছু প্রাচীন বাণিজ্যিক নগরীর উল্লেখ করেছেন। 
 
মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্গত এই জনপদে ২৫০০ বছর পূর্বে সমৃদ্ধ সংস্কৃতির স্ফূরণ ঘটেছিল। কিন্তু এ সভ্যতা আধুনিক গ্রামীণ সভ্যতার নিচে চাপা পড়েছিল দীর্ঘকাল ।
 
উৎস : সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৬.
'মাৎস্যন্যায়' কী?
  1. অরাজকতার যুগ
  2. কুশাসনের সময়
  3. অসময়
  4. সুশাসনের সময়
সঠিক উত্তর:
অরাজকতার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরাজকতার যুগ
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
ওলন্দাজরা কোন দেশের অধিবাসী?
  1. ক) আইসল্যান্ড
  2. খ) নিউজিল্যান্ড
  3. গ) হল্যান্ড
  4. ঘ) ইংল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
গ) হল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ ও দিনেমার:-
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০২খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া, বাকুড়া, বলাসোর, কাশিমবাজার এবং বরানগরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- কিন্তু অপর ইউরোপীয় শক্তি ইংরেজদের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ শুরু হয় এবং একই সঙ্গে তারা বাংলার শাসকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
- ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে।
- ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে তারা দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুর এবং ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার শ্রীরামপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- কিন্তু এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করে। 

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৩৮.
মহাস্থবীর শিলভদ্র কোন মহাবিহারের আচার্য ছিলেন?
  1. আনন্দ বিহার
  2. নালন্দা বিহার
  3. গোসিপো বিহার
  4. সোমপুর বিহার
সঠিক উত্তর:
নালন্দা বিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নালন্দা বিহার
ব্যাখ্যা
◉ মহাস্থবীর শিলভদ্র নালন্দা মহাবিহারের আচার্য ছিলেন।

নালন্দা মহাবিহার:
- প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা বৌদ্ধ মহাবিহার নালন্দা।
- নালন্দা মহাবিহার সাত শতকে প্রসিদ্ধি অর্জনকারী বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সম্রাটরা এ মহাবিহারের নির্মাতা।
- পঞ্চম শতাব্দী থেকে ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত এটি ছিল একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র।
- বিহার প্রদেশের পাটনা থেকে ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিহার শরিফ শহরের কাছে এর অবস্থান।
- বিহারটি সম্পর্কে জানা যায় পর্যটক জুয়ান জাং ও ইজিংয়ের লেখা ভ্রমণ-বিবরণী থেকে।
- তাঁরা সপ্তম শতাব্দীতে নালন্দায় ভ্রমণ করেন।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং পড়াশোনার জন্য এখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন।
- নালন্দার পন্ডিতগণ ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দায় ছিলেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- শীলভদ্র সমতটের প্রথম প্রধান দার্শনিক।
- শীলভদ্র সন্ন্যাস জীবন শুরুর পূর্বেই যুক্তিবিদ্যা, ভাষাতত্ত্ব, সাংখ্যদর্শন ও ধর্মশাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন।
- শীলভদ্র ছিলেন সর্বপ্রথম বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক যিনি বাংলার বাইরে এরূপ দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বিহারটি ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৩৯.
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. মির্জা মুহাম্মদ হাকিম
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
সঠিক উত্তর:
জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা - জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

• জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর:
- জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (১৪৮৩-১৫৩০)  ভারতে মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- পিতার দিক থেকে আমীর তৈমুর (১৩৩৬-১৪০৫ খ্রি.) এবং মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিজ খানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
- ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাবুর তুর্কিস্তানের খোকন্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা উমর শেখ মির্জা ফরগানার অধিপতি ছিলেন।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর বাবুর অল্প বয়সে ক্ষমতা লাভ করেন।
- বারবার রাজ্যহারা হয়ে তিনি মধ্যএশিয়া ত্যাগ করেন এবং ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল দখল করেন।
- ১৫০৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাদশাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
- ১৫১১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাবুর প্রায় সমগ্র মধ্য এশিয়ার শাসকে পরিণত হন।
- ১৫২৬ সালের এপ্রিল মাসে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- তবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য স্থিতিশীলতা লাভ করে সম্রাট আকবরের শাসনামলে।
- দুইশ বছরের অধিক সময় ধরে মুঘলরা ভারতবর্ষ শাসন করে।
- সর্বশেষ মুঘল সম্রাট হলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪০.
বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের সূচনা কে করেন?
  1. ক) আলী মর্দান খলজি
  2. খ) তুঘরিল খান
  3. গ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  4. ঘ) ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা
বখতিয়ার খলজী তের শতকের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। [সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণী]
৫৪১.
কত সালে মহাস্থানগড়কে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ২০১৩
  2. ২০১৪
  3. ২০১৫
  4. ২০১৬
সঠিক উত্তর:
২০১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৬
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ বগুড়ার মহাস্থানগড়কে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়া হয় ২০১৬ সালে।
- ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থান গড় সুমহান ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। 
- ২০১৫ সাল থেকে সার্ক কালচারাল সেন্টার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোনো একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলকে সার্কের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে আসছে।
- সার্কভুক্ত দেশগুলোর ইংরেজি নামের আদ্যক্ষরের ভিত্তিতে দেশগুলোর স্থান বেছে নেওয়া হয়।
- এ জন্য আফগানিস্তানের বামিয়ানকে ২০১৫ সালে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো। [লিঙ্ক]
৫৪২.
সুলতানি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান কে ছিলেন?
  1. ক) ফিরুজ শাহ্
  2. খ) মোবারক শাহ্
  3. গ) ইলিয়াস শাহ্
  4. ঘ) হোসেন শাহ্
সঠিক উত্তর:
খ) মোবারক শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোবারক শাহ্
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ - ১৫৩৮):
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল প্রায় ২০০ বছর বিদ্যমান ছিলো। এই সময় দিল্লীর সুলতানগণ বাংলাকে তাঁদের শাসনের অধীন রাখতে পারেন নি।

- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা করেছিলেন - ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসনের গোড়াপত্তন করেন।

- পরবর্তীতে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলা একত্রিত করে এক রাজ্যে পরিনট করেন।
- তাই তাকে বাংলায় সুলতানি শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

- বাংলার সুলতানদের মধ্যে শেষ প্রভাবশালী শাসক ছিলেন - আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।
- হুসেন শাহের পুত্র নুসরত শাহের শাসন আমলে প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর বাংলা অভিযানে সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। তাঁর আমল থেকেই সুলতানি শাসনের পতন শুরু হয়।
- ১৫৩১ সালে নুসরত শাহের মৃত্য হলে তাঁর ছেলে আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ সিংহাসনে বসেন। কিন্তু ১ বছর পরেই নুসরত শাহের ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ  আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেন। তাঁর ৫ বছরের শাসন-ই বাংলায় শেষ সুলতানি সময়।
- ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় দখল করে নিলে বাংলায় ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমলের অবসান হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৩.
অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা কী?
  1. জৈন ধর্মগ্রন্থ
  2. বৌদ্ধ পুঁথি
  3. হিন্দু ধর্মগ্রন্থ
  4. কাব্য পুঁথি
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ পুঁথি
ব্যাখ্যা
পুঁথি:
- প্রজ্ঞাপারমিতা মহাযান পন্থায় বোধিসত্ত্বের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।
- একে অবলম্বন করে মহাযানী বৌদ্ধদের পবিত্র গ্রন্থ প্রজ্ঞাপারমিতাসূত্র রচিত হয়েছে। 
- অষ্টসাহসিকা প্রজ্ঞাপারমিতার হচ্ছে -  বৌদ্ধ পুঁথি।
- অষ্টসাহসিকা প্রজ্ঞাপারমিতার অধ্যায় - ৩২টি। 
- গ্রন্থটিতে ছয়টি পারমিতার মধ্যে প্রজ্ঞাপারমিতা সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে। 
- প্রধান বক্তা বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্য সারিপুত্র ও সুভূতি প্রশ্নকর্তা।
- এতে প্রধানত মহাযানী দার্শনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- বিখ্যাত দার্শনিক নাগার্জুনের শূন্যবাদ দর্শন এর ওপর ভিত্তি করেই প্রবর্তিত।
- ১৫৯ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি চীনা ভাষায় অনূদিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
কে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন?
  1. ক) দেবপাল
  2. খ) ইন্দ্রগুপ্ত
  3. গ) নারায়ণগুপ্ত
  4. ঘ) বিগ্রহ পাল
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
- দেবপাল বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ পণ্ডিতগণ  তাঁর রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় তখন সমগ্র এশিয়ায় বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। 

-  বৌদ্ধশাস্ত্রে পারদর্শী ইন্দ্রগুপ্ত নামক ব্রাহ্মণকে তিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বা অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেছিলেন। এ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই তার শাসন আমলে উত্তর-ভারতে প্রায় হারিয়ে যাওয়া বৌদ্ধধর্ম পুনরায় সজীব হয়ে ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৫.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ক) ১৭৬১
  2. খ) ১৫২৬
  3. গ) ১৫৫৬
  4. ঘ) ১৫৬১
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৬১
ব্যাখ্যা
পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। যথা:

• পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:

- সময়কাল-১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ- বারব বনাম ইব্রাহিম লোদী
- ফলাফল- ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।
- এই যুদ্ধের ফলে ভারতে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং দিল্লি সালতানাতের পতন হয়।

• পানিপথের ‍দ্বিতীয় যুদ্ধ: 

 - সময়কাল-১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ 
- পক্ষ - আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল - হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:

- সময়কাল - ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।

- ফলাফল - মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৬.
কার সময়ে সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বিজয় সেন
  3. বল্লাল সেন
  4. কেশব সেন
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
ব্যাখ্যা

বিজয় সেন:
- বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। 
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বিজয় সেন সম্ভবত পালরাজা রামপালের রাজত্বকালে রাঢ় অঞ্চলে প্রথমে সামন্তরাজা ছিলেন।
- বিজয় সেন পালরাজা রামপালকে বরেন্দ্র উদ্ধারে সাহায্য করেছিলেন।
- বিজয়সেন প্রায় সমগ্র বাংলা জয় করে সেনদের ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন।
- এভাবে বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বকালে বহু যুদ্ধে জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- বিজয় সেন একজন প্রতিভাবান রাজা ছিলেন।
- সামান্য একজন সামন্তরাজ হিসেবে জীবন শুরু করে তিনি নিজ প্রতিভা বলে বাংলার সার্বভৌম রাজার স্থান অধিকার করেছিলেন এবং প্রায় সারা বাংলাদেশে নিজ আধিপত্য সুপতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- পালবংশের শাসনাবসানে বাংলাদেশে যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দিয়েছিল তা থেকে তিনি বাংলা এবং এর অধিবাসীকে রক্ষা করেছিলেন।
- তিনি একজন বীরযোদ্ধা ছিলেন যার সাহস ছিল অপরিসীম; সামরিক দূরদর্শিতা ছিল অতুলনীয়।
- তিনি পরমেশ্বরও ও মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন। 
- কবি উমাপতিধর বিজয় সেনের চারিত্রিক গুণাবলির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৪৭.
সেন বংশের সর্বশেষ স্বাধীন রাজা ছিলেন-
  1. লক্ষণ সেন
  2. কেশব সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:
- সেন বংশের রাজত্ব কাল ছিল→ ১০৭০- ১২৩০ সাল পর্যন্ত।
- সেন রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন→ সামন্ত সেন।
- বাংলার সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা→ হেমন্ত সেন।
- বাংলার সর্বপ্রথম একক শাসনাধীন আসে→ বিজয় সেনের সময়।
- সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা→ বিজয় সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ রাজা→ লক্ষণ সেন।
- বাংলার শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজা → লক্ষণ সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসনকর্তা → কেশব সেন।

উল্লেখ্য,
- লক্ষণ সেনের সময় রাজধানী ছিল নদীয়া বা  নবদ্বীপ।
- লক্ষণসেনের উপাধি ছিল গৌড়েশ্বর।
- কৌলীন্য প্রথার প্রবর্তক বল্লাল সেন।
- দান সাগর ও অদ্ভুত সাগর নামে দুটি গ্রন্থ লিখেছেন বল্লাল সেন।
- লক্ষণ সেনের রাজসভার কবি ছিলেন জয়দেব, ধোয়ি, হলায়ুধ মিশ্র।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
৫৪৮.
বাংলার স্বাধীন সুলতানী যুগের প্রকৃতি প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. খ) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. ঘ) মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
১৩৩৮ সালে সোনারগাওঁয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানী যুগের সূচনা করেন।

- তবে, শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলা একত্র করে বৃহত্তর বা অখণ্ড স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন। যার কারণে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.) বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী বাঙালি নামে পরিচিত পায়। তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তার উপাধি ছিলো শাহ-ই বাঙালা ও শাহ-ই বাঙালিয়ান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৪৯.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় আফগান শাসনের অবসান ঘটে?
  1. তুকারয়ের যুদ্ধ
  2. সুরজগড়ের যুদ্ধ
  3. রাজমহলের যুদ্ধ
  4. চৌসার যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

আফগান শাসন: 
- বাংলায় আফগান শাসনের অবসান ঘটে ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলের যুদ্ধে। 
- এটি মুগল সেনাপতি খান-ই-জাহান (হোসেন কুলি খান) ও আফগান শাসক দাউদ খান কররানী-এর মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এর আগে ১৫৭৫ সালে তুকারয় যুদ্ধে একবার সন্ধি হলেও, দাউদ সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় মুগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- মুনিম খানের মৃত্যুর পর নতুন মুগল শাসক হোসেন কুলি খান চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেন।
- রাজমহলে সংঘটিত এই যুদ্ধটি ছিল দাউদের জন্য চূড়ান্ত ধাক্কা।
- তিনি পরাজিত হন, বন্দি অবস্থায় পড়েন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫৫০.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ কোন শতকে সমতট পরিদর্শন করেছিলেন?
  1. ৭ম শতকে
  2. ৮ম শতকে
  3. ৫ম শতকে
  4. ৬ষ্ঠ শতকে
সঠিক উত্তর:
৭ম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম শতকে
ব্যাখ্যা
সমতট জনপদ:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫১.
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. অশোক
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. বিক্রমাদিত্য
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম বৃহৎ সাম্রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫২.
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ কোনটি?
  1. হরিকেল
  2. গৌড়
  3. পুণ্ড্র
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

প্রাচীন জনপদ: 
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখণ্ড রাষ্ট্র ছিলো না। সমগ্র বাংলা তখন কতগুলো ছোট ছোট অংশে বিভক্ত ছিলো। এসব ছোট ছোট অংশ 'জনপদ' নামে পরিচিত।
- প্রাচীন বাংলার জনপদ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- বঙ্গ, বরেন্দ্র, সমতট, হরিকেল, রাঢ়, চন্দ্রদ্বীপ, তাম্রলিপ্ত, গঙ্গারিডাই, গৌড় প্রভৃতি।
- এগুলোর মধ্যে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুন্ডুই সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত জনপদ গুলোর মধ্যে পুণ্ড্র  এটি প্রাচীনতম।
- বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো এর রাজধানী ছিলো-পুন্ড্রনগর।

উল্লেখ্য,
-  হরিকেল জনপদ বিস্তৃতি ছিল সিলেট, চট্টগ্রাম।
- সমতট জনপদ,কুমিল্লা, নোয়াখালী অংশ।
- গৌড় বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৫৫৩.
কোন আইন ডিউটোরোনোমিক কোড নামে পরিচিত?
  1. ক) রোমান আইন
  2. খ) হাম্বুরাবী আইন
  3. গ) হিব্রু আইন
  4. ঘ) চৈনিক আইন
সঠিক উত্তর:
গ) হিব্রু আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিব্রু আইন
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতায় তৈরি আইন ডিউটোরোনোমিক কোড নামে পরিচিত। এই আইন ব্যাবলনীয় আইনের অনুকরণে তৈরি। এই আইনে হাম্বুরাবি আইনের প্রভাব বিদ্যমান থাকলেও হিব্রু আইন ছিলো অনেক পরিশুদ্ধ।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৫৫৪.
ময়নামতি বৌদ্ধ বিহারের আনুমানিক নির্মাণকাল কোন শতাব্দীতে?
  1. ৬ষ্ঠ শতাব্দী
  2. ৭ম শতাব্দী
  3. ৮ম শতাব্দী
  4. ৯ম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
৮ম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ম শতাব্দী
ব্যাখ্যা

ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার:
- লালমাই ময়নামতি গিরি শ্রেণীর মধ্যবর্তী স্থানে এই বিহারটি অবস্থিত।
- এই বিহারটির প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট।
- চারটি বাহুতে মোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ আছে যাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস করতেন।
- এর মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে বিশাল প্রবেশ দ্বার।
- উম্মুক্ত চত্বরে ক্রশাকৃতির প্রধান মন্দির।
- মূল বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে।
- শালবন বিহার খনন করে অসংখ্য মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব আবিস্কার করা হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে আছে ৮টি তাম্রলিপি, ১৮টি স্বর্ণ ও ৩৫০টি রৌপ্য মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, নানা ধরণের মূর্তি, পোড়ামাটির বিএফলক, সীল ও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

৫৫৫.
সোমপুর বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. রাজশাহী
  3. নওগাঁ
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা

সোমপুর বৌদ্ধ বিহার:
- নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সোমপুর বিহার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
- ইংরেজ প্রত্নতাত্ত্বিক বুকানন হামিলটন যখন পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন (১৮০৭-১৮১২) তখন তিনি পাহাড়পুরের এই সূতপকে বৌদ্ধ বিহার বলে অনুমান করেন।
- ১৯২৩ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যমত্ম এর খনন কাজ চলে।
- খনন কালে মাটির একটি সিল থেকে জানা যায় যে, এটি সোমপুর বিহার।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট।
- মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৮০০ জন ভিক্ষুর বাসপোযোগী ছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৫৬.
ওয়ারী বটেশ্বর কিসের জন্য প্রসিদ্ধ?
  1. ক) মন্দির
  2. খ) প্রত্নস্থান
  3. গ) প্রাচীন বিহার
  4. ঘ) মসজিদ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্নস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্নস্থান
ব্যাখ্যা
নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলায় উয়ারি ও বটেশ্বর নামের দুটি গ্রামে আবিষ্কৃত প্রত্নতত্ত্ব আনুমানিক ২৫০০ বছর আগেরকার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ১৯৩০ সালে একজন স্কুল শিক্ষক কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। ১৯৯৬ সালে জরিপ কাজ শেষে ২০০০ সাল থেকে এখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নিয়মিত খনন কাজ শুরু করে।
(সূত্র: নরসিংদী জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
৫৫৭.
গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
  1. ক) সুলতান সিকান্দার শাহ
  2. খ) ফখরুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
• হোসেন শাহী বংশ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন। তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন। যে কারণে তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।

- আলাউদ্দীন হুসেন শাহের রাজত্বকালে নির্মিত মসজিদসমূহের মধ্যে গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।
- ড. আবু মুহাম্মদ হবিবুল্লাহ-এর মতে মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৮.
কার বিবরণের মাধ্যমে জানা যায়, 'কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট'?
  1. হিউয়েন সাঙ
  2. বাণভট্ট
  3. কৌটিল্য
  4. কালিদাস
  5. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাঙ
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ। তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- একেবারে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৯.
বাংলার সবচেয়ে 'সমৃদ্ধ জনপদ' হিসাবে পরিচিত কোনটি?
  1. বঙ্গ 
  2. হরিকেল
  3. পুণ্ড্র
  4. গৌড় 
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

• পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

৫৬০.
বাংলায় কোন শতকে পাল শাসনের সূচনা ঘটে?
  1. সপ্তম শতাব্দী
  2. অষ্টম শতাব্দী
  3. নবম শতাব্দী
  4. দশম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতাব্দী
ব্যাখ্যা
- পাল বংশ প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ। পালরা প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে।
- অষ্টম শতাব্দীতে ৭৫০ সালে গোপাল মাৎস্যনায় অবস্থার অবসান ঘটিয়ে পাল শাসনের সূত্রপাত করেন। গোপাল ৭৫০ খ্রি. থেকে ৭৮১ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় (৭৮১-৮২১ খ্রি.) ৪০ বছর বাংলা শাসন করেন। তার উপাধি ছিলো পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি।
- পাল বংশের সর্বশেষ শাসক হলেন মদনপাল (১১৪৩-১১৬১ খ্রি.)।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৬১.
মেসোপটেমীয়া বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) বিরোধপূর্ণ অঞ্চল
  2. খ) দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
  3. গ) সভ্যতার তীর্থভূমি
  4. ঘ) প্রাচীন ভাষা
সঠিক উত্তর:
খ) দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অবস্থান খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখন্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়। 
- প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার জন্ম টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস দুই নদীর মধ্যবর্তী উর্বর সমতল অঞ্চলে।
- এই অঞ্চল আরো পাঁচটি সভ্যতার জন্মস্থান।
- যে সভ্যতাগুলো বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানামুখি অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬২.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কি?
  1. ক) সুবর্নগ্রাম
  2. খ) পুন্ড্রবর্ধন
  3. গ) চন্দ্রদ্বীপ
  4. ঘ) সিংহজানী
সঠিক উত্তর:
খ) পুন্ড্রবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুন্ড্রবর্ধন
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন নগরী। প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল।
প্রাচীন নগরী পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী মহাস্থানগড় বগুড়ায় অবস্থিত করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫৬৩.
শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. ঢাকা
  3. মহাস্থানগড়
  4. শাহজাদপুর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

শাহ সুলতান বলখীর মাজার:
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ ও বিখ্যাত সাধক ছিলেন।
- উপাধি ও ইতিহাস: বলা হয় তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন, এজন্য তাকে বলখী বলা হয়। তাঁর জীবনের বিস্তারিত ইতিহাস অস্পষ্ট।
- অবস্থান: মাজারটি মহাস্থানগড়, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

ঊল্লেখো, 
- মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এটি করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এবং বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি উত্তরে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২–১১২৫) গৌড়ের রাজা ছিলেন, সেই সময় মহাস্থানগড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগর কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৬৪.
কোন শাসক বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন?
  1. বল্লাল সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিশ্বরূপ সেন
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:

- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন।
- বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৫.
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কে আবিষ্কার করেন?
  1. ইবনে বতুতা
  2. স্যার কানিংহাম
  3. হিউয়েন সাং
  4. ফা হিয়েন
সঠিক উত্তর:
স্যার কানিংহাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার কানিংহাম
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। 
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)-এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৬৬.
ফিস-প্লেট' শব্দটি নিচের কোনটির সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ক) মাছের জাল
  2. খ) সুস্বাদু খাবার
  3. গ) রেললাইন
  4. ঘ) মাছের প্লেট
সঠিক উত্তর:
গ) রেললাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেললাইন
ব্যাখ্যা
- ফিস-প্লেট' শব্দটির সাথে সম্পৃক্ত - রেললাইন।
- ফিস প্লেট হলো রেললাইনের দুটি বিট জোড়া দেয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার পাত বিশেষ।
- রেলগাড়ি চলার সময় এটি মাছের ন্যায় উপর - নিচ হয় বিধায় এরূপ নামকরণ।

• রেললাইন:

- ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসি’র সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- এর পরের বছর হাওরা থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথম দর্শনা থেকে জগতী পর্যন্ত ৫৩ কি.মি. রেললাইন উদ্বোধন করা হয়।
- জর্জ স্টিফেনসনের যুগান্তকারী প্রচেষ্টায় ১৮২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বে প্রথম ইংল্যান্ডে রেললাইন উদ্বোধন হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা ।

৫৬৭.
'বর্গী' নামে পরিচিত ছিলো কারা?
  1. ক) পর্তুগিজ জলদস্যু
  2. খ) দিনেমার
  3. গ) আরাকানের জলদস্যু
  4. ঘ) মারাঠা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারাঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারাঠা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় ‘বর্গী’ নামে পরিচিত ছিলো।
মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা ‘বরগি’ নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালায়।
অন্যদিকে,
- পর্তুগিজ জলদস্যু : ফিরিঙ্গি
- আরাকানের জলদস্যু : মগ
- ডেনমার্কের অধিবাসীরা : দিনেমার।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫৬৮.
ফা হিয়েন কত শতকে বাংলায় আসেন?
  1. ৩য় শতকে
  2. ৪র্থ শতকে
  3. ৫ম শতকে
  4. ৬ষ্ঠ শতকে
সঠিক উত্তর:
৫ম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ম শতকে
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি পঞ্চম শতকের সূচনায় বাংলায় আসেন।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া। 
৫৬৯.
ঐতিহাসিক ‘নাচোল বিদ্রোহ’ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৭
  2. ১৯৫০
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
১৯৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০
ব্যাখ্যা

• নাচোল বিদ্রোহ :
- নাচোল বিদ্রোহ  ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার  সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ।

- সে সময়কার তেভাগা, নানকার এবং টঙ্ক আন্দোলনের মতোই নাচোল বিদ্রোহটিও সংগঠিত করেন কম্যুনিস্ট পার্টির কর্মীরা।
- তাঁরা বাংলায় সমাজ বিপ্লব সাধনের লক্ষ্যে নাচোলের সাঁওতাল কৃষকদের বৈপ্লবিক সংঘটনার একটি জনগোষ্ঠি হিসেবে চিহ্নিত করেন। - একই জমি বংশপরম্পরায় চাষাবাদ করা সত্ত্বেও অধিকাংশ সাঁওতালের ঐ জমির ওপর কখনও কোন স্বত্বাধিকার স্বীকৃত হয় নি।
- জোতদারগণ ফসলের মাধ্যমে খাজনা আদায় করত। 
- স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী ফসল কাটার সময় ক্ষেতে কর্মরত প্রতিটি সাঁওতাল কৃষক প্রতি কুড়ি আড়ি ফসল কাটার বিনিময়ে তার ভাগ  অনুযায়ী তিন আড়ি ধান পেত, যা তাদের নিজেদের অথবা কামলাদের মাধ্যমে পরে মাড়াই করতে হতো।

- আধিয়ার (ভাগ চাষি) উপজাতসহ তাদের উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক জোতদারদের দিতে হতো। কম্যুনিস্ট কর্মীরা এই শোষণ ও চাষিদের অধিকার সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৭০.
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার স্বাধীন রাজ্য হিসেবে দেব বংশের উত্থান ঘটে কোন শতকে?
  1. নবম শতক
  2. অষ্টম শতক
  3. দশম শতক
  4. সপ্তম শতক
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতক
ব্যাখ্যা
• দেব বংশ:
- অষ্টম শতকের শুরুতে  দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার স্বাধীন রাজ্য হিসেবে বৌদ্ধধর্মালম্বী দেব বংশের উত্থান ঘটে।
- এ বংশের চারজন রাজার নাম পাওয়াযার।
- এরা হলেন শ্রী শান্তিদেব, শ্রী বীরদেব, শ্রী আনন্দদেব ও শ্রী ভবদেব।
- দেব রাজারা শক্তিধর ছিলেন। তাঁদের নামের সাথে যুক্ত থাকতো বড় বড় উপাধি। যেমন- পরম সৌগত, পরম ভট্টারক, পরমেশ্বর, মহারাজাধিরাজ ইত্যাদি।
- তাঁদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
- কুমিল্লার নিকট ময়নামতীর কাছে ছিল এ দেবপর্বত।
- দেবদের রাজত্ব বিস্তৃত ছিল সমগ্র সমতট এলাকায়। আনুমানিক ৭৪০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দেব রাজারা শাসন করেন।
- পাল রাজাদের মতো দেব রাজারাও ছিলেন বৌদ্ধ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৭১.
বরিশালের পূর্ব নাম কি ছিল ?
  1. চন্দ্রদ্বীপ
  2. বাকলা
  3. ইসমাইলপুর
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রাচীনকালে বরিশাল পরিচিত ছিল চন্দ্রদ্বীপ, বাকলা, ইসমাইলপুর নামে।

- চন্দ্রদ্বীপ মুগল-পূর্ব যুগের একটি ক্ষুদ্র রাজ্য এবং মুগল যুগের একটি বড় জমিদারি। 
- মধ্যযুগের শেষ দিকে বাখরগঞ্জ জেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ব্যাপী চন্দ্রদ্বীপ জমিদারি বিস্তৃত ছিল।
- ''সরকার বাকলার'' নামানুসারে অনেক সময় একে বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ বলা হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৫৭২.
The most ancient historical place of Bangladesh is-
  1. ক) Paharpur
  2. খ) Mohasthangarh
  3. গ) Sonar Gaon
  4. ঘ) Moynamoti
সঠিক উত্তর:
খ) Mohasthangarh
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Mohasthangarh
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:

- বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান হল মহাস্থানগড়।
- করতোয়া নদীর তীরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুন্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য , গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হুয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫৭৩.
What was the capital of Shashank?
  1. Bakla
  2. Tomluk
  3. Borkamta
  4. Karna-Suborno
সঠিক উত্তর:
Karna-Suborno
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Karna-Suborno
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৪.
মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি কোন জনপদের নিদর্শন?
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. তাম্রলিপ্ত
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি:
- মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি প্রাচীন বাংলার পুণ্ড্র জনপদের নিদর্শন। 
- মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি (আনু. ৩য় খ্রি.পূ.)  ব্রাহ্মী রীতিতে উৎকীর্ণ একটি খন্ডিত শিলালিপি।
- এ শিলালিপি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার মহাস্থানে পাওয়া গেছে। এটি হচ্ছে বাংলার প্রাচীনতম লিপিতাত্ত্বিক দলিল।
- এ শিলালিপিতে ‘পুডনগল’-এ (বাংলাদশের উত্তরাঞ্চলের পুন্ড্রনগর> মহাস্থান) কর্তব্যরত মহামাত্রের নিকট জারিকৃত জনৈক শাসকের একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করা হয়। এতে সংবঙ্গীয় নামে পরিচিত শহর ও শহরতলীর অধিবাসীদের দুর্দশা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- এ শিলালিপির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এখানে যে, এটি পুন্ড্রবর্ধন অঞ্চলে মৌর্য শাসনের প্রাচীনতম সাক্ষ্য বহন করছে। এ শিলালিপি বাংলার যে কোন অঞ্চলের মধ্যে প্রথম নগরায়ণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেয়।

• পুন্ড্র:
- বাংলার প্রাচীনতম স্থান বা নগরকেন্দ্র হলো বগুড়া জেলায় অবস্থিত মহাস্থানগড় যা প্রাচীনকালে 'পুণ্ড্রনগর' বা 'পুন্ড্রবর্ধন' নামে পরিচিত ছিল। - বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল। পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- গুপ্ত যুগে পুন্ড্রনগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৫.
প্রাচীন প্রত্নস্থল ’ওয়ারী বটেশ্বর’ এর অবস্থান কোথায়?
  1. বগুড়া
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. নওগাঁ
  4. নরসিংদী 
সঠিক উত্তর:
নরসিংদী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরসিংদী 
ব্যাখ্যা

ওয়ারী বটেশ্বর       

উয়ারী- বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবিস্থত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম

- হানিফ পাঠান উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসংগ্রহের  সূচনা করে গেছেন।
- সেই পথ ধরেই বর্তমানে তাঁর বংশধর সকল প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণ সংরক্ষন করেছেন।
- সে জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথা বললেই ঠিকানা বলা হয় ‘‘ হানিফ পাঠানের বাড়ি’’।
- বেলাব সদর উপজেলা থেকে উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থলটি ৪ কিলোমিটার দূরে। প্রথমে হানিফ পাঠান এই গ্রামগুলোতে কিছু প্রাচীন ছাপাংকিত রৌপ্য মুদ্রা খুজে পান এবং সন্দেহ করেন তা মৌর্য সভ্যতার সময়কার খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে  খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী পর্যন্ত।

- হানিফ পাঠান ও হাবিবুলস্না পাঠান এই কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে।
- ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি মিউজিয়াম গড়ে তুলেছেন। বশত বাড়ীর একটি ঘরের এক পাশে কাচ দিয়ে ঘেরা কতগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন রয়েছে যথাক্রমে: ছাপাংকিত রৌপ্য মুদ্রা, ১৯৯৭ সালে প্রাপ্ত ১৫-১৬ শতক আগের ব্রেঞ্জ মূর্তি, ১৯৯৭ সালের পুকুর খননকালে প্রাপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ১-২ শক আগের প্রাচীন মৃৎপাত্র, ১৯৮৮ সালের প্রাপ্ত ১৯ শতক আগের ব্রোঞ্জের ১০০০ শতকের লৌহ-কুঠার ও প্রসত্মরীভূত কাঠ ইত্যাদি, ১৭ শতকের মনসা মঙ্গল কাব্য, ১৯ শতকের হসত্ম লিখিত সবচেয়ে ক্ষুদ্র কোরআন শরীফ, মিশরের প্যাপিরাস (সংযুক্ত প্যাপিরাস শিল্পকর্মটি প্রাচীন মিশরীয়গন যে পদ্ধতিতে প্যাপিরাস তৈরি করতো সেই পদ্ধতিতে তৈরি)। ২/১ টি ছড়া বেশিরভাগ প্রত্নবসত্মই, এই উয়ারী-বটেশ্বর থেকে প্রাপ্ত।

- মূলত ২০০০ সালের এপ্রিল মাসেই প্রথমবারের মতো খনন কাজ করা হয়।
- তখন থেকেই নগর বৈশিষ্ট্যের ধারণাটি নিশ্চিত হতে থাকে।
- নেদারল্যান্ডে কার্ব-১৪ টেষ্টে তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে উয়ারী-বটেশ্বর গ্রাম দুটি দেশের সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীনস্থান।
- এতে যে সকল নিদর্শন পাওয়া গিয়াছে সেগুলো ২৪৫০ বছর  আগের অর্থাৎ খিস্টের জন্মের ৪৫০ বছর আগের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তখন ছিল মৌর্যবংশের রাজত্বকাল।

- এরপর ২০০২ সালের জুন মাসে দ্বিতীয়বারের মতো  খনন কাজ করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ছাড়াই এ অঞ্চল থেকে ভূ-পৃষ্ট সংগ্রহ হিসেবে উয়ারী বটেশ্বর অঞ্চল থেকে এক হাজার লৌহ নিদর্শন, কয়েক হাজার ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা এবং প্রচুর সংখ্য স্বল্পমূল্যবান প্রসত্মরের পূজি সংগৃহীত হয়েছে। 

- হাবিবুল্লা পাঠানের মতে এখানে নব্যপ্রস্তর যুগ ও মৌর্য যুগের  নির্দশন পাওয়া গেলেও একটা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের পর শুধু পাল সময়কার নিদর্শন পাওয়া যায়।
- কিন্তু মাঝামাঝি সময়টাতে আসলে কি ঘটেছিল, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানতে পারা যায় নি।
- তরে তাঁর মতে এই এলাকার সাথে রোম কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারও তখন জলপথে যোগাযোগ ছিল।
- কারণ বর্তমানে গ্রামের পাশের যে শুকিয়ে যাওয়া কয়ড়া নদীটি আছে, এটা একসময় ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত ছিল।
- আর অতীতেই শুধু নয় এখনও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বাণিজ্য এলাবা গড়ে উঠে। উয়ারী-বটেশ্বরের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই ঘটেছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৭৬.
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ ছিলো কোনটি?
  1. ক) খড়গ বংশ
  2. খ) দেব বংশ
  3. গ) চন্দ্র বংশ
  4. ঘ) বর্ম বংশ
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্র বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্র বংশ
ব্যাখ্যা
- সপ্তম থেকে এগারো শতক সময়ের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা একাধিক স্বাধীন রাজবংশের অধীনে ছিলো।
এ সময়ের রাজবংশসমূহ হলো:
- খড়গ বংশশ (সপ্তম শতক)
- দেব বংশ (অষ্টম শতক)
- কান্তিদেব বংশ (নবম শতক)
- চন্দ্র বংশ (দশম শতক)
- বর্ম বংশ (এগারো শতক)।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ ছিলো চন্দ্র বংশ। দশম শতকের শুরু থেকে এগারো শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় দেড়শ বছর চন্দ্র বংশের রাজত্ব বিদ্যমান ছিলো।
- চন্দ্র বংশের প্রথম স্বাধীন নৃপতি ত্রৈলোক্যচন্দ্র। শ্রেষ্ঠ নৃপতি ছিলো শ্রীচন্দ্র।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৭৭.
বাংলাদেশকে 'বুলগাকপুর' নামে অভিহিত করেন কে?
  1. আবুল ফজল
  2. ইবনে বতুতা
  3. জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. তানসেন
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা

বাংলায় তুর্কি শাসন: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক,
- আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৮.
জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. আগ্রাবাদ
  2. পাহাড়পুর
  3. সোনারগাঁও
  4. ময়নামতি
সঠিক উত্তর:
আগ্রাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্রাবাদ
ব্যাখ্যা
• জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর:
- বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬৫ সালে।
- জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি। 
- এই জাদুঘরে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জাতি তাত্ত্বিক সামগ্রী প্রদর্শিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (১৯১০)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭৯.
বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. গৌড় 
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন জনপদ: 
- প্রাচীন বাংলায় কোন কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিলো না। বাংলা তখন ছোট ছোট কতগুলো অঞ্চলে বিভক্ত ছিলো। এসব অঞ্চল জনপদ নামে পরিচিত। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাচীন বাংলায় মোট ১৬টি জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে বর্তমান বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল প্রাচীন সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
- সমতটের রাজধানী ছিলো বড়কামতা।

অপরদিকে,
- বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চল।
- হরিকেল জনপদের অন্তর্গত ছিলো বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল
- বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহীর অংশবিশেষ নিয়ে প্রাচীন গৌড় জনপদ গঠিত ছিলো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮০.
সম্রাট অশোক কোন যুদ্ধের পর যুদ্ধবিজয় নীতি পরিত্যাগ করেন?
  1. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  2. তক্ষশীলা যুদ্ধ
  3. মগধ যুদ্ধ 
  4. উজ্জয়িনী যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গ যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।

উল্লেখ্য,
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর দেবনামপিয় পিয়দসি (পিয়দসি, অর্থাৎ দেবতাদের প্রিয়জন) শীর্ষক ধর্ম- রাজকীয় উপাধি গ্রহণ করেন এবং নিজেকে শান্তি ও মানবজাতির কল্যাণের কাজে নিবেদিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮১.
'উয়ারী বটেশ্বর' কী?
  1.  প্রাচীন বৃক্ষ
  2. প্রাচীন গ্রন্থ
  3. প্রাচীন মন্দির
  4. প্রাচীন জনপদ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন জনপদ
ব্যাখ্যা

→ 'উয়ারী বটেশ্বর' প্রাচীন জনপদ।

উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৮২.
পালপূর্ব যুগে বাংলায় অরাজক পরিস্থিতি কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. কৈবর্ত বিদ্রোহ
  2. মাৎস্যন্যায়
  3. বর্গী হানা
  4. শতবর্ষের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
মাৎস্যন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাৎস্যন্যায়
ব্যাখ্যা

- পালপূর্ব যুগে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় এক অরাজক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনি শক্তিশালীরা দুর্বলদের উপর অত্যাচার করত। এই অবস্থাকে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়। 

পাল বংশ:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ ছিলেন- গোপাল।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ।
- বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে খ্যাত।
- মাত্ন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি। অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৩.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে কে কাকে পরাজিত করেন?
  1. ক) আকবর হিমুকে
  2. খ) বাবর ইব্রাহিম লোদীকে
  3. গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
  4. ঘ) আকবর রানা প্রতাপকে
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
ব্যাখ্যা

- পানিপথের (বর্তমানে হরিয়ানা, ভারত) তৃতীয় যুদ্ধ ১৪ই জানুয়ারি ১৭৬১ সালে দিল্লির ৯৭ কিলোমিটার উত্তরে পানিপথ নামক স্থানে মারাঠাদের সাথে দোয়াবের আফগান রোহিলা ও আয়ুব এর সম্রাট সুজা-উদ-দৌল্লার যৌথ সমর্থনে আফগানিস্থানের সম্রাট আহমেদ শাহ আবদালির মধ্যে সংঘটিত হয়।

- এছাড়া ১৫২৬ সালে বাবুর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ । এবং
- ১৫৫৬ সালে আকবরের সেনাপতি বৈরাম খান ও আফগান নেতা হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৫৮৪.
ভ্রমণ সংক্রান্ত বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাবুল রেহালা'র রচয়িতা -
  1. ক) মা হুয়ান
  2. খ) মেগাস্থিনিস
  3. গ) ইবনে বতুতা
  4. ঘ) হিউয়েন-সাং
সঠিক উত্তর:
গ) ইবনে বতুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা (মরক্কো)
• ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ২১ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
• তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
• ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
• ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের আমলে।
• বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
• গ্রন্থ- ইবনে জুযাই, কিতাবুল রেহালা

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫৮৫.
”শশাঙ্ক” প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজা ছিলেন?
  1. গৌড়
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. পুণ্ড্র
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

• গৌড়: 
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়। 
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান। 
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫৮৬.
কণিষ্ক শকাব্দ প্রবর্তন করেন কবে?
  1. ৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ৭৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ৮৪ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১০১ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৭৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

⇒ কণিষ্ক শকাব্দ প্রবর্তন করেন ৭৮ খ্রিস্টাব্দে।

কুষাণ যুগ:

- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন ৭৮ খ্রিস্টাব্দে। 
- কণিষ্ক একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন।
- যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।
- এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কণিষ্কের রাজধানী ছিল - পুরুষপুর (বর্তমান পেশোয়ার)।
- এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যথা-
• 'মহাযান' ও
• 'হীনযান'।
- কণিষ্ক ২৩ বছর রাজত্ব করেন।
- তিনি ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৭.
নিচের কোন প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ ছিলেন শীলভদ্র?
  1. ক) বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) তক্ষশিলা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) সোমপুর বিহার
  4. ঘ) নালন্দা মহাবিহার
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালন্দা মহাবিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালন্দা মহাবিহার
ব্যাখ্যা
নালন্দা মহাবিহার 
- ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। এটিকে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় বিবেচনা করা হয়।
- বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত শীলভদ্র ৬৩৫ সালে নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণের ৩০ বছরের মধ্যে ই-ৎসিঙ (৬৭৫ থেকে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এখানে শিক্ষাগ্রহণ করেন) সহ কমপক্ষে ১১ জন কোরীয় ও চৈনিক তীর্থযাত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা নালন্দা ভ্রমণ করেন বলে জানা যায়।
- বারো শতকের দিকে নালন্দা তার গুরুত্ব হারায়। 

অন্যদিকে, 
- বিক্রমশিলা মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ম্লান হয়ে আসার সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভব ঘটে।  বর্তমান বিহারের ভাগলপুর জেলার কাছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- তক্ষশিলা ছিল প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বৈদিক যুগে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা হলেও এটি বৌদ্ধযুগ পর্যন্ত স্থায়িত্ব লাভ করেছিল। এই  বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাওয়ালপিণ্ডির নিকটবর্তী অঞ্চলে। 

রেফারেন্স:  বাংলাপিডিয়া
৫৮৮.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) পুন্ড্রনগর
  2. খ) ময়নামতি
  3. গ) পাহাড়পুর
  4. ঘ) সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
ক) পুন্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পুন্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
• পুন্ড্রনগর: 
- পুন্ড্রনগর  বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র, এর প্রাচীনত্ব খ্রিস্টপূর্ব চার শতকের বলে ধরে নেওয়া হয়।
- এ নগরের সর্বপ্রথম উল্লেখ পাওয়া গেছে মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনের ফলে এ স্থানের প্রাচীনত্বের নিঃসন্দেহ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে বগুড়া জেলার মহাস্থান-এ আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে।
- সেন আমল পর্যন্ত না হলেও মৌর্য যুগ হতে পাল আমলের শেষ অবধি পুন্ড্রবর্ধন বিভাগের প্রশাসনিক সদর দফতর হিসেবে পুন্ড্রবর্ধনের অবস্থান অব্যাহত ছিল।

- গুপ্তযুগে বাংলায় এটি ছিল তাদের শাসনের কেন্দ্র এবং  পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তির রাজধানী।
- করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুন্ড্রনগরের সঙ্গে জল ও স্থল পথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সংযোগ ছিল এবং সমগ্র প্রাচীন যুগে এটি ব্যবসায়-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে সমৃদ্ধ ছিল।
- মুসলিম যুগের প্রথম দিকেও বিখ্যাত দরবেশ শাহ সুলতান বলখী অথবা মাহীসওয়ার-এর বাসস্থান হিসেবে এ নগরের গুরুত্ব অব্যাহত ছিল।
- শাহ সুলতান বলখী প্রাচীন নগরের দক্ষিণ-পূর্বাংশে তাঁর খানকাহ নির্মাণ করেছিলেন।
- নগরটি তখন সম্ভবত প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় ছিল। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫৮৯.
সম্রাট নেবুচাঁদনেজার কোন রাজবংশের ছিলেন?
  1. ক) সুমেরীয়
  2. খ) এ্যাসিরীয়
  3. গ) ক্যালডীয়
  4. ঘ) আক্কাদীয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা
নেবুচাদনেজার (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬৩০ — ৫৬১):
- ব্যাবিলনিয়ার ক্যালডিয়ান রাজবংশের দ্বিতীয় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- তিনি প্রশাসক হিসেবে তাঁর সামরিক জীবন শুরু করেন (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬১০)
- মিশরের (৬০৫ খ্রিস্টপূর্ব) থেকে সিরিয়া জয় করার পরই তাঁর পিতার মৃত্যুতে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ৫৯৭ খ্রীস্টপূর্বাব্দে জেরুজালেম দখল করেন এবং ৫৮৬/৮৭ খ্রীস্টপূর্বাব্দে এটি পুনরুদ্ধার করেন এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের ব্যাবিলনে নির্বাসন দেন।
- তিনি ব্যাবিলন পুনরুদ্ধার, রাস্তা পাকা, মন্দির পুনর্নির্মাণ, এবং খাল খননের জন্য সময় এবং শক্তি ব্যয় করেছিলেন। 
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নির্মাণের কৃতিত্ব তার।

উৎস: Britannica.
৫৯০.
কুমিল্লার পূর্বনাম কী?
  1. ক) নাসিরাবাদ
  2. খ) ত্রিপুরা
  3. গ) সুধারাম
  4. ঘ) সুবর্ণগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিপুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
কুমিল্লার পূর্বনাম - ত্রিপুরা।

এছাড়াও -
বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানের পূর্বনামঃ
- মুন্সীগঞ্জের পূর্বনাম - বিক্রমপুর।
- বগুড়ার পূর্বনাম - পুণ্ড্রনগর।
- বাগেরহাটের পূর্বনাম - খলিফাবাদ।
- খুলনার পূর্বনাম - জাহানাবাদ।
- বরিশালের পূর্বনাম - চন্দ্রদ্বীপ/ ইসমাইলপুর।
- চট্টগ্রামের পূর্বনাম - ইসলামাবাদ।
- ময়মনসিংহের পূর্বনাম - নসিরাবাদ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৯১.
শশাঙ্ক কত খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গৌড় রাজ্যের অধিপতি ছিলেন?
  1. ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬২০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে উত্তর বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ এবং মগধ গৌড় জনপদ রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন পরবর্তী বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ গ্রহণ করে শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে গৌড় অঞ্চল অধিকার করে ‘স্বাধীন গৌড় রাজ্য’ স্থাপন করেন।
- তার রাজধানী ছিলো কর্ণসুবর্ণ।
- ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড় রাজ্যের অধিপতি ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৯২.
জাতিগতভাবে বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় কী?
  1. ক) কৃষ্ণকায়
  2. খ) দ্রাবিড়ীয়
  3. গ) অস্ট্রেলীয়
  4. ঘ) সংকর জাতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকর জাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকর জাতি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের প্রাক-ইতিহাস যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সমর্থিত নয়। 
- আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবে জীবাশ্মবিজ্ঞানের গবেষণা এখানে তেমন হয়নি। আর সেকারণেই বাংলাদেশের মানুষের আদি পরিচয় ও জন্ম-উৎস এখনো অনেকটা অমীমাংসিত ।
- এ অঞ্চলে প্রথম অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর লোকরা আসে এবং সেটি সম্ভবত পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে। 
- এরপর একে একে দ্রাবিড়, আর্য, মঙ্গোল, শক, সেন, বর্মণ, তুর্কি, পাঠান, ইরানি, আরবীয়, আবিসিনীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ, মগ, ওলন্দাজ, আলপাইন প্রভৃতি ধারার মানুষদের আগমন ঘটে। 
- এসব নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মিলন-মিশ্রণে বাঙ্গালীরা একটি সংকর জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। 
- অনেকের মতে সংকর জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও বাঙ্গালীদের দেহবৈশিষ্ট্যে আদি অস্ট্রেলীয় বা অস্ট্রিক তথা ভেড্ডিড জনগোষ্ঠীর দৈহিক বৈশিষ্ট্য বেশি প্রকট।
 
উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৯৩.
ঋণ সালিশী বোর্ড গঠন করেন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা ফজলুল হক: 
- এ.কে ফজলুল রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র ১৯৩৫ সালে
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩)।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ১৯৫৪ সালে।
- পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ‘Bengal Agricultural Debtors' Act’ ১৯৩৮ কার্যকর করেন। 
- তিনি বাংলার সব এলাকায়  ঋণ সালিশি বোর্ডও স্থাপন করেছিলেন।

এছাড়াও, 
-হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। 
- স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৯৪.
নিচের কোন অঞ্চলটি হরিকেল জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. ঢাকা
  2. দিনাজপুর
  3. ফরিদপুর
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার জনপদ:
- হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অপরদিকে,
- সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট।
- কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা এর রাজধানী ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৫.
ধোলাই খাল কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. আত্রাই
  2. করতোয়া
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. মেঘনা
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা
ব্যাখ্যা
ধোলাই খাল
- ধোলাই খাল পুরানো ঢাকায়  বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক-আবাসিক এলাকা।
- অতীতে ধোলাই খাল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং ঐতিহাসিক  লালবাগ দুর্গ,  আহসান মঞ্জিল ও  বড় কাটরা এবং  ছোট কাটরাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এর চারপাশে গড়ে ওঠে।
- ঢাকার প্রথম মুগল সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক ১৬০৮-১৬১০ খ্রিস্টাব্দে খননকৃত একটি খালের নামানুসারে এলাকাটির নামকরণ করা হয়।
- ১৮৩২ সালে মি. ওয়াল্টার নামে ঢাকার একজন কালেক্টর নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের সুবিধার্থে খালটির উপর একক স্প্যানের একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন।
- এটি ছিল সে সময়ের প্রকৌশল সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
- ১৮৬৭ সালে খালে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আরোপ করা হয়।
- ঢাকা মিউনিসিপালিটির অংশ হিসেবে এখনকার ধোলাই খাল এলাকার আয়তন মাত্র ৫৫০ বর্গগজ।
- এর উত্তরে টিপু সুলতান রোড, দক্ষিণে ভিক্টোরিয়া পার্ক, পূর্বে নারিন্দা এবং পশ্চিমে ইংলিশ রোড। 

উৎস:- বাংলাপিডিয়া। 
৫৯৬.
কোন শাসককে পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয়?
  1. মহীপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল
  4. রামপাল
সঠিক উত্তর:
রামপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপাল
ব্যাখ্যা

পাল বংশের ইতিহাস:
- রামপালকে পাল বংশের ‘শেষ মুকুট’ বলে অভিহিত করা হয়।
- পাল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে দুঃসময়ে বিগ্রহপালের পর তাঁর পুত্র মহীপাল ৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতায় আরোহণ করেন।
- তিনি কম্বোজ এবং চন্দ্রবংশের হাত থেকে ‘অনাধিকৃত বিলুপ্ত' পিতৃরাজ্য যেমন বিহার, উত্তর বাংলা পুনরুদ্ধার করেন।
- মহীপালের মৃত্যুর পর পাল রাজ্যে আবার অশান্তি সৃষ্টি হয়।
- রামপালের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র তৃতীয় গোপাল ও কিছু সময় বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তারা ছিলেন দুর্বল ও অযোগ্য।
- ফলে বার শতকের শেষ দিকে সেন বংশের উত্থানের ফলে পাল রাজত্বের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৭.
কত সালে বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু হয়?
  1. ১৭৯০ সালে
  2. ১৭৯১ সালে
  3. ১৭৯২ সালে
  4. ১৭৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার কৃষকরা জমির উপর তাদের মালিকানা হারায়।
- ১৯৫০ সালের ‘পূর্ববঙ্গ জমিদার অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে’র ফলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার বিলুপ্তি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৮.
হরিকেল জনপদের বিস্তার কোন অঞ্চল থেকে কোন অঞ্চল পর্যন্ত ছিল?
  1. ঢাকা থেকে খুলনা
  2. সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী থেকে সিলেট
  4. চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৯.
বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে কোথায়?
  1. ক) সোনাগাঁও
  2. খ) লালমাই
  3. গ) পাহাড়পুর
  4. ঘ) মহাস্থানগড়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম পুণ্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন ।
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- এটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।

এছাড়াও প্রাচীন বাংলার আরো জনপদ সমূহ হচ্ছে:
- বঙ্গ
- বরেন্দ্র
- সমতট
- হরিকেল
- রাঢ়
- চন্দ্রদ্বীপ
- তাম্রলিপ্ত
- গঙ্গারিডাই
- গৌড় প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী; বাংলাপিডিয়া; সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০০.
মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান কোন রাজ বংশ?
  1. ক) মৌর্য
  2. খ) পাল
  3. গ) সেন
  4. ঘ) খিলজি
সঠিক উত্তর:
খ) পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাল
ব্যাখ্যা
• ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
• পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
• ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। 
• ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)