সরল বাক্য :
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন :
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
=======
যৌগিক বাক্য : পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য : যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন – ত্যাগ এবং জ্ঞান মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে। এখানে দুটি বাক্য আছে। যেমন :
- ত্যাগ মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে।
- জ্ঞান মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে।
- বাক্য দুটির সংযোজক অব্যয় ‘এবং’।
=======
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।
শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।
সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে।
এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি।
মা ছিল না। বলে। কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে।
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়।
এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না।
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না।
এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো।
অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই।
[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]
কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
সূত্র : মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ