বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ৮০১৯০০ / ৩,০২৪

৮০১.
"হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।" — এই বাক্যে ব্যবহৃত আবেগ শব্দটি কোন শ্রেণির?
  1. বিস্ময় আবেগ
  2. সিদ্ধান্ত আবেগ
  3. আতঙ্ক আবেগ
  4. বিরক্তি আবেগ
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
ব্যাখ্যা
সিদ্ধান্ত আবেগ:
- এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।

যেমন:
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক ।

অন্যদিকে,
বিরক্তি আবেগ - ছি ছি!, জ্বালা!।
আতঙ্ক আবেগ - উহ্, বাপরে বাপ!।
বিস্ময় আবেগ - আরে!, আহ্,।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮০২.
নিচের কোনটি ঘটমান অতীত?
  1. পৌঁছেছিলাম
  2. পড়ছিলাম
  3. গেল
  4. উঠতাম
সঠিক উত্তর:
পড়ছিলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পড়ছিলাম
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 

অন্যদিকে
সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল

পুরাঘটিত অতীত:

অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 

নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮০৩.
'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ'- যৌগিক ক্রিয়া উদাহরণ।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: তাগিদ দেয়া অর্থে- ঘটনাটা শুনে রাখ,
কার্যসমাপ্তি অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। 
প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
'মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'করাচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 

সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
৮০৪.
কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. হাফিজ চিঠি লিখছে। 
  2. মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  3. হাসিব স্কুলে যায়।
  4. সাইরেন বেজে উঠল।
সঠিক উত্তর:
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন

অন্যদিকে,
- সাইরেন বেজে উঠল। - যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- হাফিজ চিঠি লিখছে। - সমকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- হাসিব স্কুলে যায়। - সমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮০৫.
নিচের কোন অনুসর্গটি বিভক্তিরূপেও ব্যবহৃত হয়?
  1. বিহনে
  2. ভিতর
  3. অপেক্ষা
  4. পক্ষে
সঠিক উত্তর:
অপেক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপেক্ষা
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে এগুলো হলো:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮০৬.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া অকর্মক?
  1. নাছরিন খেলা করছে।
  2. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
  3. বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।
  4. মেয়েটি হাসে।
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি হাসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি হাসে।
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়ার ক্রিয়া পদটিকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া না।
যেমন:
- মেয়েটি হাসে।
এখানে, 'কী হাসে' বা 'কাকে হাসে' প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই 'হাসে' ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮০৭.
"এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• "এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' বিশেষ্য পদ। 



বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৮০৮.
অনুসর্গকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ভাগে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। যেমন-
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০২৪ সংস্করণ)।
৮০৯.
'ইত্তেফাক' - শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮১০.
'ঐকতান' বোঝায়-
  1. ক) সমস্বর
  2. খ) ঐক্য
  3. গ) সমবেদনা
  4. ঘ) বংশীধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ক) সমস্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমস্বর
ব্যাখ্যা
ঐকতান (বিশেষ্য) 
অর্থ: সম্মিলিত সুর, বৃন্দবাদন, একাধিক কণ্ঠে সমস্বরে গায়ন।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮১১.
"আমার কথা শুনে সে আকাশ থেকে পড়লো।" বাক্যে অনুসর্গ হচ্ছে-
  1. ক) সে
  2. খ) শুনে
  3. গ) থেকে
  4. ঘ) পড়লো
সঠিক উত্তর:
গ) থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) থেকে
ব্যাখ্যা
"আমার কথা শুনে সে আকাশ থেকে পড়লো।" বাক্যে অনুসর্গ হচ্ছে- 'থেকে'।

ব্যুৎপত্তি অনুসারে অনুসর্গ গুলিকে দুটিভাগে ভাগ করা যায়- 
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি হয় তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে হতে ইত্যাদি।
ক্রিয়াজাত কিছু অনুসর্গের প্রয়োগ- উদাহরণ:
- করে : কাপড়্গুলো ভালোকরে পরিষ্কার করো। 
- থেকে: আমার কথা শুনে সে আকাশ থেকে পড়লো।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা উচিত। 
- বলে: আপনি সাহায্য করেছেন বলেই কাজটা হলো।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি অভিধান।
৮১২.
"আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!" - এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. প্রশংসা আবেগ
  2. করুণা আবেগ
  3. বিস্ময় আবেগ
  4. আতঙ্ক আবেগ
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১৩.
‘তিনি রোজ সকালে দুই কিলোমিটার হাঁটতেন’ -এ বাক্যে ক্রিয়ার কাল কোনটি?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমন করতাম। 

এরূপ, তিনি রোজ সকালে দুই কিলোমিটার হাঁটতেন।- বাক্যে নিত্যবৃত্ত অতীত কালের ক্রিয় রয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮১৪.
যে পদ দ্বারা কোনো এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বুঝায়, তাকে বলে -
  1. ভাববাচক বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. জাতিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন-
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮১৫.
কোন ধরনের বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. বিধেয় বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষণ
  4. বর্ণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর। 
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[ এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।]

---------------------
• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘লােকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘােলা’ – বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ কবা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে নীল, সবুজ বা ললি’ হলাে বর্ণবাচক বিশেষণ।


• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

৮১৬.
‘আনন্দ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. আবেগ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘আনন্দ’ গুণবাচক বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

--------------------------
• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১৭.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. সে এখন যাবে না।
  2. যথাসময়ে সে হাজির হয়েছে।
  3. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  4. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়েছে।
ব্যাখ্যা

• 'যথাসময়ে সে হাজির হয়েছে।'- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যথাসময়ে’ কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

অন্যদিকে,
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: 
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- সে এখন যাবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৮১৮.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চিরন্তন
  2. চিরনিদ্রা
  3. চিরতুষার
  4. চিরদারিদ্র্য
সঠিক উত্তর:
চিরন্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরন্তন
ব্যাখ্যা


• বিশেষণ পদ:

যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- চিরন্তন, চিরঞ্জীবী, চিরতরুণ, চিরদীন, চিরবাঞ্চিত।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- চিরনিদ্রা, চিরদৈন্য, চিরতুষার, চিরদারিদ্র্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮১৯.
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. সমষ্টি-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
সমষ্টি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমষ্টি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।

১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন –
ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।


৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি। 

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৮২০.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. অভিমুখিতা
  2. চিরন্তন
  3. গতকল্য
  4. গতিবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
চিরন্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরন্তন
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - চিরন্তন। 
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- নিত্য; চিরকালীন,
- দীর্ঘকালব্যাপী; অবিনশ্বর।

বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।

বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- গতিবিদ্যা, গতকল্য, অভিমুখিতা, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮২১.
'বাতি নিভে গেল'- বাক্যটিতে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সাধারণ অতীত কাল
  2. খ) সাধারণ বর্তমান কাল
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত: অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
- ‘বাতি নিভে গেল’ - সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন: আমি রোজ সকালে বেরাতে যাই। 

নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- আমরা তখন রোজ সকালে গ্রামের নদী তীরে বেড়াতাম।

পুরাঘটিত অতীত: অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম - পুরাঘটিত অতীত কাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮২২.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়া?
  1. ক) আমি খাই।
  2. খ) করিম করিমাকে ভালোবাসে। 
  3. গ) তারা ফুটবল খেলে।
  4. ঘ) সে গান করে।
সঠিক উত্তর:
ক) আমি খাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমি খাই।
ব্যাখ্যা
আমি খাই - এ বাক্যের ‘খাই’ ক্রিয়ার কোনো কর্মপদ নেই। বাকি বাক্যগুলো কর্মপদ আছে।  

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮২৩.
নিচের কোনটি ঐতিহাসিক বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. আমি রোজ সকালবেলা  ব্যায়াম করি 
  2. মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অবসরের পর আউরঙ্গজেব সিংহাসনে বসেন
  3. চিন্তা করো না কালই আসছি 
  4. তিনে তিনে ছয় হয়
সঠিক উত্তর:
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অবসরের পর আউরঙ্গজেব সিংহাসনে বসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অবসরের পর আউরঙ্গজেব সিংহাসনে বসেন
ব্যাখ্যা

⇔ ঐতিহাসিক বর্তমান কালের উদাহরণ: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অবসরের পর আউরঙ্গজেব সিংহাসনে বসেন।

• বর্তমান কাল:
- বর্তমান কাল হলো সেই ক্রিয়ার কাল যা বর্তমানে ঘটছে, নিয়মিত ঘটছে বা একটি সাধারণ সত্যকে বোঝায়।
- বর্তমান কাল ৩ প্রকার:
১) সাধারণ বর্তমান কাল বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান:

∗ সাধারণ বর্তমান কাল: 
- যে কাজ বর্তমান সময়ে নিয়মিত বা সাধারণভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
- উদাহরণ:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

∗ নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: 
- যে কাজ নিয়মিত, অভ্যাসগত বা স্বভাবগতভাবে ঘটে, তাকে নিত্যবর্তমান কাল বলা হয়।
- উদাহরণ: 
- সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠে। (স্বভাবগত সত্য)।
- আমি রোজ সকালবেলা ব্যায়াম করি। (অভ্যাস)।
∗ নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(ক) স্বাভাবিক সত্য প্রকাশ: যেসব সত্য সবসময় একই থাকে।
- উদাহরণ: তিনে তিনে ছয় হয়।
(খ) ঐতিহাসিক বর্তমান:  ঐতিহাসিক বর্তমান হলো সাধারণ বর্তমান কালের একটি অংশ, যা অতীতের কোনো ঘটনা বর্ণনা করতে বর্তমান কালের ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে।
- এতে ঘটনা আরও জীবন্ত এবং তাৎক্ষণিক মনে হয়। 
- উদাহরণস্বরূপ: "মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অবসরের পর আউরঙ্গজেব সিংহাসনে বসেন।"
- এখানে “বসেন” বর্তমান কালে -এ থাকলেও বাক্যটি প্রকৃতপক্ষে অতীতের ঘটনা প্রকাশ করছে।
-------------------------------------
২) ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখন চলছে, সে কাজ বুঝানর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
- ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
 ক) ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: চিন্তা করো না কালই আসছি ।
৩) পুরাঘটিত বর্তমান কাল: 
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখন ও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: এতক্ষন আমি পড়াশুনা করেছি। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৮২৪.
”টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।”- বাক্যে ”টিপ টিপ” কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ”টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।”- বাক্যে ”টিপ টিপ” ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। 
• ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৮২৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) ত্রিনয়ণ
  2. খ) দুর্ণিবার
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) নিপুন
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন- নিপুণ, মাণিক্য, বাণিজ্য, লবণ, মণ, কল্যাণ, গুণ, বিপণি, পাণি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৬.
কর্তা নিজেই কোন কাজ করেছে, তা বোঝাতে কোন সর্বনাম হয়?
  1. নির্দেশক
  2. ব্যক্তিবাচক
  3. আত্মবাচক
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝাতে আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 
নিজে (সে নিজে অঙ্কটি করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
-------------- 
নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
- দূর নির্দেশক:  ও, ওই, ওরা, উনি।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮২৭.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া সকর্মক?
  1. ক) শিশুটি কাঁদে
  2. খ) মাসুদ সারাদিন খেলেছিল
  3. গ) চুপ করে থাক
  4. ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
ব্যাখ্যা

সকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তা-ই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্মপদ।
কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

অকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা-ই অকর্মক ক্রিয়া।
যেমন: মেয়েটি হাসে।
‘কী হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। এজন্য ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

প্রশ্নের বাক্যগুলোর মধ্যে শুধু "আকাশে চাঁদ দেখা যায়" বাক্যের ক্রিয়াপদটি সকর্মক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৮২৮.
বাংলায় বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন ব্যাকরণিক উপাদান কোনটি?
  1. বচনচিহ্ন
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে- প্রভৃতি অনুসর্গগুলো বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

-----------------------
• অনুসর্গ:

যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।=

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৮২৯.
নিচের কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ নয়?
  1. ক) আজ যদি সুমি আসত, কেমন মজা হতো।
  2. খ) সাতাশ যদি হত একশ সাতাশ।
  3. গ) সুমন রোজ সকালে ব্যায়াম করত।
  4. ঘ) আবির রোজ সকালে নদীতে গোসল করে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবির রোজ সকালে নদীতে গোসল করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবির রোজ সকালে নদীতে গোসল করে।
ব্যাখ্যা

যে অভ্যাস বর্তমানে আছে, বা যে কাজ সাধারণত করা হয় তা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল হয়।
যেমন :
আমি নিয়মিত ব্যয়াম করি।
আমরা রোজ সকালে নদীতে গোসল করি।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৮৩০.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মানদী পার হতে হয়।
  2. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  3. হারানো ঘড়িটার জন্যে অনেক কেঁদেছি।
  4. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
সঠিক উত্তর:
ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মানদী পার হতে হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মানদী পার হতে হয়।
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন:
উপরে- মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে- হারানো ঘড়িটার জন্যে অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে-মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
থেকে- ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মানদী পার হতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৮৩১.
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। এখানে 'ঝির ঝির' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তিঃ
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে : সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা : ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

৮৩২.
'সরে দাঁড়ানো' - কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।

​যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো

​অন্যদিকে,
​সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৩৩.
"সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে।” - এ বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ:
যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৩৪.
"সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।" - বাক্যটি কোন অতীত কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত
  2. পুরাঘটিত
  3. ঘটমান
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৩৫.
আক্ষেপ প্রকাশে অতীতের স্থলে কোন কাল ব্যবহৃত হয়?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  3. সাধারণ বর্তমান কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া পরে বা অনাগত কালে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন :
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
- আমরা মাঠে খেলতে যাব।

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ক. আক্ষেপ প্রকাশে অতীতের স্থলে ভবিষ্যৎ কাল ব্যবহার হয়।
যেমন:
কে জানত, আমার এমন ভাগ্য হবে?
সেদিন কে জানত যে ইউরোপে আবার মহাযুদ্ধের ভেরি বাজবে?

খ. অতীতের কালের ঘটনা সম্পর্কিত যে ক্রিয়াপদে সন্দেহের ভাব বর্তমান থাকে, তার বর্ণনায় সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ব্যবহার হয়।
যেমন:
তোমরা হয়তো ‘বিশ্বনবি’ পড়ে থাকবে।
ভাবলাম, তিনি এখন বাড়ি গিয়ে থাকবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩৬.
'সীমার মাঝে তুমি অসীম।' - বাক্যে ‘মাঝে’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মধ্যে
  2. নিকটে
  3. সঙ্গে
  4. ন্যায়
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
ব্যাখ্যা
• 'সীমার মাঝে তুমি অসীম।' - বাক্যে ‘মাঝে’ শব্দটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:

- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩৭.
"ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
- স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
- ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮৩৮.
পক্ষ বা পুরুষ আছে কোন পদের?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• পক্ষ বা পুরুষের প্রকারভেদ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতকগুলো সর্বনাম বিভিন্ন পক্ষ বা পুরুষ বুঝিয়ে থাকে। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পক্ষ বা পুরুষ আছে। অন্য পদের পক্ষ বা পুরুষ নেই। পক্ষ বা পুরুষ অনুযায়ী এ সর্বনামগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন-
১. বক্তা পক্ষ বা উত্তম পুরুষ,
২. শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ এবং
৩. অন্য পক্ষ বা নামপুরুষ।

• বক্তা পক্ষ বা উত্তম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বাক্যের বা উক্তির বক্তা নিজেকে কিংবা বক্তার দলের সবাইকে বোঝায় এমন সর্বনাম শব্দ বা পদ হচ্ছে বক্তা পক্ষ বা উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি, আমাকে, আমার, আমরা, আমাদের।

• শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা শ্রোতা কিংবা শ্রোতার দলের সবাইকে বোঝায় তাকে শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তোমাকে, তোমার, তোমরা, তোমাদের। 

শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষের ব্যবহারের বেলায় ঘনিষ্ঠতা বা সম্মান বোঝাতে তারতম্য প্রকাশ পায়। যেমন: সাধারণভাবে 'তুমি', 'তোমরা' ব্যবহৃত হয়। অতি তুচ্ছতা বা ঘনিষ্ঠতা বা আদর বোঝাতে 'তুই', 'তোরা' এবং সম্মানার্থে 'আপনি', 'আপনারা' ব্যবহৃত হয়। সুতরাং শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ তিন ধরনের:

(ক) সাধারণ: তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের।
(খ) সম্ভ্রমসূচক: আপনি, আপনারা, আপনাকে, আপনার, আপনাদের।
(গ) তুচ্ছার্থক: তুই, তোরা, তোকে, তোর, তোদের।

• অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষ বা নামপুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষ বা নামপুরুষ বলে। 'আমি' ও 'তুমি' এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষ।
যেমন:
সর্বনাম: সে, তাকে, তার, এ, একে, এর, তারা, তাদের।
বিশেষ্য পদ: সুমন, পান্না, রহিম, করিম ইত্যাদি।

অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষের বেলায় সাধারণ এবং সম্ভ্রমাত্মক বোঝাতে দু ধরনের সর্বনাম ব্যবহার হয়:
(ক) সাধারণ: সে, তার, তাকে, তারা, তাদের, এ, ও, একে, ওকে ইত্যাদি।
(খ) সম্ভ্রমসূচক : তিনি, তাঁর, তাঁকে, তাঁরা, তাঁদের, ঐ, ওঁ, এঁকে, ওঁকে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৩৯.
'ফুল' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৪০.
রকেট অতি দ্রুত চলে —বাক্যে 'অতি' হলো-
  1. ক) নাম-বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম
  4. ঘ) পরিমাণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।

নাম-বিশেষনের বিশেষণঃ
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণঃ
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।

৮৪১.
"শুধু তোমার মুখের পানে চাহি বাহির হনু।" - এখানে 'পানে' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. কাছে
  2. মত
  3. প্রতি
  4. সহায়
সঠিক উত্তর:
প্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি
ব্যাখ্যা

• 'পানে' অনুসর্গের ব্যবহার:
- প্রতি, দিকে অর্থে – ঐ তো ঘর পানে ছুটেছেন। শুধু তোমার মুখের পানে চাহি বাহির হনু।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৪২.
ক্রিয়া সংঘটনের ধরন বা রীতিকে কী বলে?
  1. ক্রিয়ার ভাব
  2. ক্রিয়ার বাচ্য
  3. ক্রিয়ার অনুজ্ঞা
  4. ক্রিয়ার কাল
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার ভাব
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার ভাব:
- ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
- ক্রিয়ার ভাব ৪ প্রকার।
যথা -

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
যথা:
- তারা বাড়ি যাবে।

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো, মিথ্যা বলবে না, ডেকে দেয় পাষণ্ড!

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদের বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যথা:
- সে যাক, বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৪৩.
কোনটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম?
  1. ক) পর
  2. খ) সমস্ত
  3. গ) কোথাও
  4. ঘ) সে
সঠিক উত্তর:
গ) কোথাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোথাও
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনামঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
• আত্মবাচক সর্বনামঃ স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
নির্দেশক সর্বনাম:
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
• অনির্দষ্ট সর্বনাম: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
• প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
• সাপেক্ষ সর্বনাম: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
• পারস্পারিক সর্বনাম: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
• সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
• অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: নবম - দশম শ্রেণীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
৮৪৪.
'তুমি বিনে আমার কেউ নেই।'- এখানে 'বিনে' কী?
  1. যোজক
  2. ক্রিয়া
  3. অনুসর্গ
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'তুমি বিনে আমার কেউ নেই।'- এখানে 'বিনে' শব্দটি 'অনুসর্গ' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

---------------- 
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কীত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ: 
প্রতি, বিনা/বিনে, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য। - 'নিমিত্তে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে। - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ। - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৪৫.
"হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।" বাক্যে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
. সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

• সমুচ্চয়ী অব্যয় ৪ প্রকারের।

- সংকোচক অব্যয়, 
- বিয়োজক অব্যয়, 
- সংযোজক অব্যয়,
- অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়,

• বিয়োজক অব্যয়:

"হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।"
এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।

অন্যদিকে,

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।

• অনুসর্গ অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যথা: ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।

• সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮৪৬.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীতের উদাহরণ?
  1. প্রদীপ নিভে গেল। 
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
  3. আমি সমিতিতে ২৫ টাকা চাঁদা দিয়েছিলাম।
  4. স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
সঠিক উত্তর:
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

অন্যদিকে,
প্রদীপ নিভে গেল।- সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
'আমি সমিতিতে ২৫ টাকা চাঁদা দিয়েছিলাম।' এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল। - পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮৪৭.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) আমি যাই।
  2. খ) তুমি যাও।
  3. গ) আপনি যান।
  4. ঘ) সে যায়।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে যায়।
ব্যাখ্যা
সে যায়- নাম পুরুষের ব্যবহার হয়েছে। 

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ। যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৮.
কোন বাক্যে দাগাঙ্কিত শব্দটি বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) তোমার এ পূণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক হোক।
  2. খ) এ এক বিরাট সত্য
  3. গ) মন্দ কথা বলতে নেই
  4. ঘ) নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
সঠিক উত্তর:
খ) এ এক বিরাট সত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ এক বিরাট সত্য
ব্যাখ্যা
'এ এক বিরাট সত্য।' বাক্যে 'সত্য' বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'সত্য পথে থেকে সত্য কথা বলবে।' বাক্যে সত্য বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে

'মন্দ কথা বলতে নেই'
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।'
'তোমার এ পূণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক হোক।'
উপরোক্ত বাক্য তিনটিতে, 'মন্দ', 'নিশীথ' এবং 'পূণ্য' বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
নিচের কোনটি বৈকল্পিক যোজক?
  1. যেহেতু
  2. অথচ
  3. তবু
  4. কিন্তু
সঠিক উত্তর:
অথচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অথচ
ব্যাখ্যা

• যোজক শব্দের কাজ একাধিক পদ, খণ্ডবাক্য কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। অর্থ ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী যোজক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে।
যেমন:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের শব্দশ্রেণি দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। সাধারণ যোজক শব্দ হলো- এবং, ও, আর। যেমন : মিমিয়া আর আলিয়া দু বোন। সুখ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে না। স্কুলে যাও এবং পঠ মন দাও।

• বৈকল্পিক যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ। যেমন- সাদা বা কালো। তিনি হয় রিকশায় না হয় হেঁটে যাবেন। সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

• বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে। বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু। যেমন: তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। এই বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।

• কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। কারণবাচক যোজক হলো– কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব। যেমন: জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট। যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপুরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলে যথা... তথা, যত .... তত, যখন ... তখন, যেমন তেমন, যেরূপ সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৫০.
করেছে, করেছো, করেছেন- বাংলা ক্রিয়ার এ’ তিনটি রূপ কেন ব্যবহৃত হয়?
  1. লিঙ্গভেদের কারণে
  2. মর্যাদাভেদের কারণে
  3. কারকবিভক্তির কারণে
  4. সমাসের কারণে
সঠিক উত্তর:
মর্যাদাভেদের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্যাদাভেদের কারণে
ব্যাখ্যা
• করেছে, করেছো, করেছেন- বাংলা ক্রিয়ার এ’ তিনটি রূপ মর্যাদাভেদের কারণে ব্যবহৃত হয়।

ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে অর্থাৎ মর্যাদাভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষে হয় না)।
যেমন -
পুরুষ .................. সাধারণ .............. সম্ভ্রমাত্মক ........... তুচ্ছার্থক / ঘনিষ্ঠার্থক
উত্তম পুরুষ ....... আমি করি ........ ------------ ......... ------------
মধ্যম পুরুষ ....... তুমি করেছো ... তিনি করেছেন ....... তুই কর।
নাম পুরুষ ........... সে করেছে ...... তিনি করেছেন ...... এটা করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫১.
'একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।' - বাক্যটিতে 'না' কোন প্রকার ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।' - বাক্যটিতে 'না' পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- বা: কখনো বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে
- তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৫২.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. বৈশাখ
  2. ছাগল
  3. ইত্তেফাক
  4. গীতাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাগল
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - বৈশাখ, ইত্তেফাক, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৫৩.
নিচের কোনটি নামক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  2. সাঁতার কাটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
  3. তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন
  4. ছেলেরা মাঠে খেলছে
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
ব্যাখ্যা

• নামক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। যেমন: বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; 
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া: একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা; কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা; হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া; ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা; পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া; খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া; মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৮৫৪.
“কেউ-কোথাও” কোন ধরনের সর্বনাম পদের উদাহরণ?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. পারস্পরিক সর্বনাম
  3. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  5. সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি। 

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫৫.
বাংলা ব্যাকরণে 'বাক্যের বর্গ' এর নাম হয় -
  1. বাক্য অনুযায়ী
  2. পদ অনুযায়ী 
  3. ধ্বনি অনুযায়ী
  4. ভাষা অনুযায়ী
সঠিক উত্তর:
পদ অনুযায়ী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ অনুযায়ী 
ব্যাখ্যা

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গ হলো ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কীত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক।
মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন,
মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সমানে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।

• কোনো একটি বর্গ বাক্যের মধ্যে যে পদের মতো আচরণ করে, সেই পদের নাম অনুযায়ী বর্গের নাম হয়।
উদাহরন অনুযায়ী 'মালা ও মায়া' ও 'স্কুল-বাসে' হলো বিশেষ্যবর্গ; 'বাড়ির সামনে থাকা' হলো বিশেষণবর্গ, 'খুব সকালে' ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ এবং 'উঠে পড়লো' হলো ক্রিয়াবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৫৬.
'হাসান বই পড়ছে।'—বাক্যটিতে 'পড়ছে' ক্রিয়াটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান কাল
  2. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  3. ভবিষ্যৎ কাল
  4. ঘটমান বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা

ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়,

যথা:
- হাসান বই পড়ছে।
- তাহিয়া গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৫৭.
নিচের বাক্যগুলোতে কোনটি দ্বিকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সে বই পড়ছে।
  2. খ) তিনি বই দিলেন।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
  4. ঘ) সে ঘুৃমায়।
সঠিক উত্তর:
গ) শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
ব্যাখ্যা

বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
- 'শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন' এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্যকর্ম ( বই ) 
- আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ( শিক্ষক )

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

৮৫৮.
"বিষয়টা জেনে রাখো।" - এ বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. প্রযোজক
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. সরল 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• "বিষয়টা জেনে রাখো।"- এখানে 'জেনে রাখো'- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তাগিদ দেয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৫৯.
‘শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।’ বাক্যে ‘সহিত’ অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সহগামিতা
  2. তুলনায়
  3. বিরুদ্ধগামিতা
  4. সমসূত্রে
সঠিক উত্তর:
সমসূত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমসূত্রে
ব্যাখ্যা
• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমন:
১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৬০.
সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. ক) যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  2. খ) মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।
  3. গ) তাড়াতাড়ি কাজ করো।
  4. ঘ) আমরা রোজ সকালে হাঁটতে যেতাম।
সঠিক উত্তর:
ক) যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
ব্যাখ্যা
যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম- সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ ঘটেছে।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ।

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল- ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।
- যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম- ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৬১.
কোনটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বিশিষ্ট বাক্য?
  1. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  2. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  3. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ব্যাখ্যা
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে - একটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
• উদাহরণ
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
• উদাহরণ
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
• উদাহরণ
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:

- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
• উদাহরণ
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৬২.
বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে বলে-
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. সমধাতুজ ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে সমধাতুজ ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে? ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৮৬৩.
'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ কোনটি?
  1. সার্বজনীয়
  2. সর্বজনীনতা
  3. সার্বজনীন
  4. সর্বজনীয়
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
• 'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ — 'সার্বজনীন'।

• 'সর্বজন' - শব্দের অর্থ:
- সকল নরনারী।

অন্যদিকে, 
সর্বজনীন (বিশেষ্য) - সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৬৪.
জিন্নাত কুমিল্লা থাকে। - এ বাক্যে ‘কুমিল্লা’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বোঝায় তাকে স্থানজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন : 
আমার সামনে দাঁড়াও। 
এখানে বসো। 
কল্যাণী গাজীপুর থাকে। 
চশমাটা কোথায় রেখেছি বলতে পারছি না। 
মামুন আমেরিকা থাকে।
জিন্নাত কুমিল্লা থাকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮৬৫.
'চলন্ত ট্রেন' - এখানে 'চলন্ত' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ভাববাচক বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে:
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৬৬.
"বাজারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।" - এখানে 'গিয়ে কোন ক্রিয়া?
  1. প্রযোজক
  2. দ্বিকর্মক
  3. অসমাপিকা
  4. সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
বাজারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। (এখানে 'গিয়ে অসমাপিকা ক্রিয়া)

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৮৬৭.
সর্বনাম পদ কে কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৭
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
সর্বনামকে নয় টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথা: 
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
২. আত্নবাচক সর্বনাম
৩. নির্দেশক সর্বনাম
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম
৭. পারস্পরিক সর্বনাম
৮. সকলবাচক সর্বনাম
৯. অন্যবাচক সর্বনাম

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৮.
'যথা ধর্ম তথা জয়' - এটি কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বাক্যালংকার অব্যয়
  2. নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন: যথা-তথা, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।
উদাহরণ-
- যথা ধর্ম তথা জয়।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়:
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়।
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যেমন:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বাতাসের ধ্বনি - শনশন।
নূপুরের আওয়াজ - রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৬৯.
ক্রিয়ার ভাব বা ধরন কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
গ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার-
ক. নির্দেশক ভাব
খ. সাপেক্ষ ভাব
গ. অনুজ্ঞা ভাব
ঘ. আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৮৭০.
দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মপদটিকে কী বলে?
  1. গৌণ কর্ম
  2. উদ্দেশ্য কর্ম
  3. মুখ্য কর্ম
  4. সমধাতুজ কর্ম
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্ম
ব্যাখ্যা

• বাক্যে দুইটি কর্ম থাকলে বস্তুবাচক কর্মটিকে প্রধান বা মুখ্য কর্ম ও ব্যক্তিবাচক কর্মটিকে গৌণ কর্ম বলে।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।]

অন্যদিকে,
সমধাতুজ কর্ম:
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাতুর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন -
→ আর কত খেলা খেলবে।
মূল 'খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ 'খেলবে' এবং কর্মপদ 'খেলা' উভয়ই গঠিত হয়েছে। তাই 'খেলা' পদটি সমধাতুজ বা ধাতুর্থক কর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৭১.
'মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ।' -বাক্যে 'মরি মরি' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. অনুসর্গ
  2. অনন্বয়ী
  3. অনুকার
  4. পদান্বয়ী
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা

• 'মরি মরি ! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ।'- এ বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়। 

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৮৭২.
ছেলেটি চালাক। - এ বাক্যে ‘চালাক’ কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. ভাববাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ছেলেটি চালাক/ চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৭৩.
নিচের কোনটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) হারানাে মোবাইলটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
  2. খ) তার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. গ) ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
  4. ঘ) মাথার উপরে নীল আকাশ।
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
ব্যাখ্যা
• যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ।
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলােকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
করে: ভালাে করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৭৪.
নিচের কোনটি ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গান করলে তার মন ভালো হয়।
  2. ভালো করে পড়াশোনা করবে
  3. আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়।
  4. ইলমি নাচ শিখতে রাজশাহী যায়।
সঠিক উত্তর:
আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন -
রাজীব খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড় + ই = পড়ি, পড় + এ = পড়ে, পড় + ছে = পড়ছে, পড় + বে = পড়বে।
- পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন -
পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করবে

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে ।
যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

- অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা
যথা:
ভূত অসমাপিকা: আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়
ভাবী অসমাপিকা: ইলমি নাচ শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৭৫.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. অথবা
  2. যেরূপ-সেরূপ
  3. শন শন
  4. অধিকন্তু
সঠিক উত্তর:
যেরূপ-সেরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেরূপ-সেরূপ
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যেরূপ-সেরূপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অধিকন্তু - সংযোজক অব্যয়।
- অথবা - বিয়োজক অব্যয়।
- শন শন - অনুকার দ্বিরুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮৭৬.
'কেউ' কোন ধরনের সর্বনাম? 
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. পারস্পরিক সর্বনাম
  3. সকলবাচক সর্বনাম
  4. অন্যবাচক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

• সকলবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়।
যেমন- সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

• অন্যবাচক সর্বনাম:
- নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন - অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮৭৭.
'ঠান্ডা হাওয়া' এখানে 'ঠান্ডা'কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. বর্ণবাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা

• নাম-বিশেষণ:
যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে, তাকে নাম-বিশেষণ বলে।
নাম-বিশেষণ নিম্নলিখিত কয়েক প্রকারের হতে পারে।
যেমন:
• বর্ণবাচক: বিশেষিত পদের বর্ণ বা রং নির্দেশ করে।যেমন: সবুজ মাঠ, নীল আকাশ, কালো মেঘ ইত্যাদি।
• গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
• অংশবাচক: বিশেষিত পদের অংশ প্রকাশ করে। যেমন: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
• অবস্থাবাচক: বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা নির্দেশ করে। যেমন: হাজার লোক, দশ টাকা, শ টাকা, সাত দিন।
• ক্রমবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা ক্রমিক অবস্থা নির্দেশ করে। যেমন: দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
• পরিমাণবাচক: বিশেষিত পদের পরিমাণ বা মাত্রা নির্দেশ করে। যেমন: বিষাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, এক কেজি চাল ইত্যাদি।
• উপাদানবাচক: বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
• প্রশ্নবাচক: প্রশ্নবাচক পদের জবাব বিশেষণ হয়। যেমন: কত দূর পথ? কেমন অবস্থা? কতক্ষণ সময়?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৭৮.
'ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত ভবিষ্যৎ
  4. ঘটমান অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।

যেমন :
বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮৭৯.
আমি বলি কী, পরীক্ষাটা এবার দিয়ে দাও।। - এ বাক্যে ‘কী’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
যে সর্বনাম দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটায় তাকে সংযোগবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন : 
- কলেজে গিয়ে দেখি যে, ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। 
- আমি বলি কী, পরীক্ষাটা এবার দিয়ে দাও।

উৎস : মাধ্যমিক ব্যাকরণ (নতুন) এবং বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
৮৮০.
অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. থেকে
  2. চেয়ে
  3. দ্বারা
  4. অতি
সঠিক উত্তর:
অতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি
ব্যাখ্যা
• ‘অতি’ তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
থেকে, চেয়ে, দ্বারা - অনুসর্গের উদাহরণ।

​অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৮১.
'পাহাড়' বিশেষ্য পদের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. পাহাড়িয়া
  2. পাহাড়ে
  3. পাহাড়ী
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পাহাড়'- বিশেষ্য পদ। 

অন্যদিকে,
পাহাড়িয়া- বিশেষণ পদ।
পাহাড়ে- বিশেষণ পদ। 

• পাহাড়ি শব্দটি পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষ বোঝালে বিশেষণ হবে।
পাহাড়ি (বিশেষণ)  শব্দের অর্থ- পাহাড়নিবাসী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৮২.
যে অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের বলে-
  1. ক) বাক্যালংকার অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) অনুকার অব্যয়
  4. ঘ) পদান্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদান্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন- ধন অপেক্ষা মান বড় (‘অপেক্ষা’ অনুসর্গ অব্যয়)। ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না (‘দিয়ে’ অনুসর্গ অব্যয়)। অনুসর্গ অব্যয় দুই প্রকার। যথা- বিভক্তিসূচক অব্যয় এবং বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত অনুসর্গ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৮৮৩.
কখনও বা দেখা হবে। - এ বাক্যে ‘বা’ কোন ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) সময়বাচক
  2. খ) ধরনবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) পদাণু
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদাণু
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও  কি, যে, বা, না, তো প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন :
কি : আমি কি যাব?
যে : খুব যে বলেছিলে আসবেন!
বা : কখনও বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮৮৪.
ছেলেরা মাঠে খেলছে। - বাক্যে কোন ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সরল ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৮৫.
'এবার মা খেতে ডেকেছেন।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮৮৬.
বেশ ঘুম ঘুমিয়েছি - কোন কর্মের উদাহরণ?
  1. ক) সমধাতুজ
  2. খ) মুখ্য
  3. গ) গৌণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সমধাতুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমধাতুজ
ব্যাখ্যা
• বেশ ঘুম ঘুমিয়েছি -সমধাতুজ কর্মের উদাহরণ।
- কারণে এখানে ক্রিয়া ও কর্মপদ  একই ধাতু থেকে এসেছে।
• বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
- যেমন- আর কত খেলা খেলবে।
- মূল 'খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ 'খেলবে' এবং কর্মপদ 'খেলা' উভয়ই গঠিত হয়েছে।
- তাই 'খেলা' পদটি সমধাতুজ বা ধাত্বৰ্থক কর্ম।
- সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমন-
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৮৮৭.
কোন বাক্যে ঘটমান অতীত কালের ক্রিয়া আছে?
  1. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
  2. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  3. আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
  4. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
সঠিক উত্তর:
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন

অন্যদিকে, 
পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৮৮৮.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) অনুসর্গ শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে না, পৃথক শব্দ হিসেবে বসে।
  2. খ) অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
  3. গ) অনুসর্গের অর্থবাচকতা নেই।
  4. ঘ) অনুসর্গ পদের পরে বসে।
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসর্গের অর্থবাচকতা নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসর্গের অর্থবাচকতা নেই।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ সাধারণভাবে অব্যয় হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া থেকে সৃষ্টি হয়।
- অনুসর্গ পদের পরে বসে।
- অনুসর্গ শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে না, পৃথক শব্দ হিসেবে বসে।
- অনুসর্গ কারকের ধারণা দেয়।
- অনুসর্গের স্বতন্ত্র ব্যবহার আছে।
- অনুসর্গের অর্থবাচকতা আছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
৮৮৯.
বাক্যের অন্তর্গত পদকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৯০.
'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল।' বাক্যটি কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল।' বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কাল নির্দেশ করছে।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:

- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?

- অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল। আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
- অতীতে সংঘটিত ক্রিয়ার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়। যেমন-বৃষ্টি শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮৯১.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. থেকে
  2. দ্বারা
  3. দিয়ে
  4. বলে
সঠিক উত্তর:
দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বারা
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
থেকে: ঢঅকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৯২.
ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. আবার দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। 
  2. সে খেলতে বলল।
  3. পরিশ্রম করলে ফল ভালো হবে। 
  4. পড়ে সে ঘুমিয়ে পড়ল
সঠিক উত্তর:
সে খেলতে বলল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে খেলতে বলল।
ব্যাখ্যা

ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ- সে খেলতে বলল। 
----------------------- 
• ভাব প্রকাশের ধরন, বাক্যে কাজের উপস্থিতি ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ক্রিয়াকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।
- ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া প্রধানত দুই প্রকার—

১. সমাপিকা ক্রিয়া—
- সমাপিকা ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়াপদ, যার মাধ্যমে বাক্যের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় এবং বাক্যটি শেষ বা পূর্ণতা লাভ করে। 
- উদাহরণ:
- আমরা সিনেমা দেখলাম (এখানে দেখলাম সমাপিকা ক্রিয়া)।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া— 
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বরং কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
- যেমন :
- আমি ভাত খেয়ে...,
- সে নিয়মিত পড়াশোনা করতে করতে...,
- সকালে সূর্য উঠলে...।
--------------------------------- 
• অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকারভেদ:

- অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত—
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া;
- ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া; 
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া। 

• ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া:
- • ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে হতে পারে এমন কোনো কাজ বা সম্ভাবনার কথা বোঝায়, কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়া অন্য একটি সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তবেই বাক্যের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ- 
- সে খেলতে বলল—এখানে খেলতে হলো ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বলল সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ পূর্ণ করছে।
----------------------------- 
অন্যদিকে,
• ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়াগুলো বাক্যের ভাব অসম্পূর্ণ রাখে এবং যখন সেই ক্রিয়াগুলো অতীতকাল নির্দেশ করে, তখন সেগুলোকে ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া বলা হয়।
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে অতীতকাল নির্দেশ করে;
- কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না। 
- এগুলো পরবর্তী সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে। 

- যেমন: 
- খেয়ে সে বাড়ি গেল—এখানে খেয়ে অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্য শেষ করেছে গেল সমাপিকা ক্রিয়া। 
- আবার দেখে আমি মুগ্ধ হলাম—এখানে দেখে অতীতকে নির্দেশ করছে, কিন্তু বাক্যের অর্থ মুগ্ধ হলাম ক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়। 
- পড়ে সে ঘুমিয়ে পড়ল বা কাজটি করতে আমার দেরি হয়ে গেল—এগুলোতে পড়ে ও করতে ক্রিয়াগুলো অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের জন্য সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। 

• শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে কোনো শর্ত বা আবশ্যকতা নির্দেশ করে, কিন্তু একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়াগুলো অন্য কোনো সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে।
- যেমন: 
- পরিশ্রম করলে ফল ভালো হবে—এখানে করলে শর্ত বোঝাচ্ছে, এবং মনোযোগ দিলে তুমি পাস করবে—এখানে দিলে শর্তসূচক।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৯৩.
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে সেসব শব্দ কোন পদের অন্তর্ভুক্ত হয়?
  1. ক) সংযোজক
  2. খ) যোজক
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
খ) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোজক
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে - বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৮৯৪.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
  2. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. মাথার উপরে নীল আকাশ।
সঠিক উত্তর:
সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
→ সাধারণ অনুসর্গ ও
→ ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন -
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্য: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন -
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
৮৯৫.
বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে বলে-
  1. ক) অকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) সমধাতুজ ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) সমধাতুজ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমধাতুজ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে সমধাতুজ ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে? ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৬.
‘শন শন করে বাতাস বইছে।’- এ বাক্যে ‘শন শন’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) কালবাচক
  2. খ) স্থানবাচক
  3. গ) নেতিবাচক
  4. ঘ) ভাবজ্ঞাপক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
- শন শন করে বাতাস বইছে।
- টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
- লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
• কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৯৭.
'তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।' - এখানে 'সহ' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. বিরুদ্ধগামিতা
  2. সঙ্গে
  3. সমসূত্রে
  4. সহগামিতা
সঠিক উত্তর:
সহগামিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহগামিতা
ব্যাখ্যা
• 'তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।' - এখানে 'সহ' অনুসর্গটি সহগামিতা অর্থ প্রকাশ করছে।

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
→ সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
→ সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
→ সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
→ সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৯৮.
নিচের কোনটি সামীপ্যবাচক সর্বনাম পদ?
  1. ঐসব
  2. ইহারা
  3. সমুদয়
  4. নিজে নিজে
সঠিক উত্তর:
ইহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহারা
ব্যাখ্যা
সর্বনাম পদ: 
বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। 
যেমন,
- রাহাত ভালো ছেলে, সে নিয়মিত স্কুলে যায়। 
- উপরোক্ত উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘সে' শব্দটি রাহাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ‘সে’ হলো সর্বনাম পদ। 

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 
• ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা ইত্যাদি। 
• আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ইত্যাদি। 
• সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। 
• দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব ইত্যাদি। 
• সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি। 
• প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ইত্যাদি। 
• অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি। 
• ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি। 
• সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি। 
• অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৯৯.
কাজটি চলছে এখনও শেষ হয়নি, - এমন বোঝাতে কোন বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

বর্তমান কাল চার প্রকার,
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

ঘটমান বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন,
- আমি স্কুলে যাচ্ছি
- আমাদের পরীক্ষা চলছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯০০.
'পরিশ্রমীরা উন্নতি করে' - বাক্যে 'পরিশ্রমীরা' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. রূপবাচক বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. গুণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- সততা একটি মহৎ গুণ। বিশেষণ করিম সৎ তাই সে মহৎ।
- তাহলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?
- উভয়ের দুটি উদাহরণ লক্ষ করা যাক- প্রথম বাক্যে সততা হলো সৎ ব্যক্তির গুণ অর্থাৎ যাদের মধ্যে সৎ গুণ রয়েছে তারাই 'সততা'র অন্তর্ভুক্ত।
- তাহলে সততা' একটি বিশেষ গুণের নামকেই প্রকাশ করছে, সুতরাং 'সততা' শব্দটি গুণবাচক বিশেষ্য হবে।
- অপর পক্ষে দ্বিতীয় বাক্যটিতে 'করিম' সম্পর্কে গুণ প্রকাশ করা সম্পর্কে যদি গুণ প্রকাশ করা হয় তবে তা হবে বিশেষণ।

একইভাবে,
• সাহসী হওয়া ভাল - 'সাহসী' বিশেষণ।
• তার সাহস আছে - 'সাহস' গুণবাচক বিশেষ্য।
• পরিশ্রমীরা উন্নতি করে - 'পরিশ্রমীরা' গুণবাচক বিশেষ্য।
• সে পরিশ্রমী - 'পরিশ্রমী' বিশেষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।